ঢাকায় করোনায় মৃত ব্যক্তির আলমডাঙ্গায় দাফন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ ঢাকায় বসবাসকারি এমদাদুল হক লাল মিয়া (৫৮) মৃত্যুর পর তার নিজ বাড়ী আলমডাঙ্গায় নিয়ে এসে দাফন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০ টার দিকে স্বাস্থ্যবিধি  মেনে পুলিশের উপস্থিতিতে আলমডাঙ্গা পৌর জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। গত ৩০ মে রাত ১১ টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে তার লাশ জন্মস্থান আলমডাঙ্গায় নিয়ে আসা হয়। মৃত এমদাদুল হক লাল মিয়া আলমডাঙ্গা শহরের এরশাদপুর চাতাল মোড়ের মৃত আবুল  হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর আগে স্বপরিবারে আলমডাঙ্গা ছেড়ে ঢাকার উত্তরায় স্থায়ী বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবির জানান- গতকাল সকালে বাংলাদেশ ইসলামি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় একটি এ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ আলমডাঙ্গায় নিয়ে আসা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প,প কর্মকর্তা ডাঃ হাদী জিয়াউদ্দিন আহম্মেদের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিধি  মেনে তাঁর পৌর জান্নাতুল কবর স্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

মুরগির খামার থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে, দাবি বিজ্ঞানীর

ঢাকা অফিস – পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাস নিয়ে নাজেহাল। অর্থনীতি থেকে উৎসব সব কিছুতেই মরণকামড় বসিয়েছে করোনা। এরইমধ্যে সকলকে সতর্ক করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানী মাইকেল গ্রেগর। তিনি জানিয়েছেন, মুরগির খামার থেকেও এমন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা কিনা করোনার চেয়েও ভয়ঙ্কর মহামারির সৃষ্টি করতে পারে। বিজ্ঞানী মাইকেল গ্রেগর তার নতুন বই ‘হাউ টু সারভাইভ এ প্যান্ডামিক’এ বলেছেন, বেশি পরিমাণে মুরগি খামার তৈরি হওয়ার ফলে সংক্রমণ বেড়ে গেছে। তিনি মানুষকে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তার দাবি, এই ভাইরাস এতটা বিপজ্জনক যে অর্ধেক পৃথিবী বিপদের মুখে পড়তে পারে। নজরে রাখার বিষয় হল মাইকেল গ্রেগরের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ সম্পর্কিত কোনও প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, বা অন্য কোনও বিজ্ঞানীও তার দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি। কিন্তু মাইকেল গ্রেগের দাবি, অন্য জীবের সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জেরেই মানুষ বিপদে পড়তে পারে। এখন অবধি পাওয়া তথ্য স্পষ্ট বলেছে, বাদুড় বা অন্য কোনও প্রাণীর দেহ থেকে করোনা মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছে। এই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশ চীনের উহানের প্রাণী বাজারকেই দায়ী করছে। মাইকেল গ্রেগর বলছেন, মাংস খাওয়ার কারণে মানুষ মহামারিতে আক্রান্ত হয়। তবে বিশ্বের অন্যান্য বিজ্ঞানীরা মুরগি খামার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলেননি। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের পরে অনেক দেশের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বন্য প্রাণীর বাজার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। অনেক দেশ চীনের কাছে পশুর বাজার বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে। জানা গেছে, চীনও বন্যপশু হত্যা করে তা বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে।

ছামিয়া তহমিনা বর্ষা গোল্ডেল এ-প্লাস পেয়েছে

ছামিয়া তহমিনা বর্ষা ২০২০ সালে সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেল এ-প্লাস পেয়েছে। বর্ষার বাবা সংবাদপত্র কর্মী বাহারুল ইসলাম বাহার এবং মাতা গৃহবধূ শামীমা পারভীনের ২য় কন্যা। বর্ষার সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বার ১০৭২। বর্ষা সবার কাছে দোয়া প্রার্থী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুর সীমান্তে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ – গুলিবিদ্ধসহ আহত-২

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর হোসেন (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধসহ ২জন গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটারপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত আলমগীর হোসেন মুন্সিগঞ্জভাঙ্গাপাড়া গ্রামর মৃত শুকুর আলীর ছেলে। বর্তমানে সে কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুলিতে আহত জাহাঙ্গীর নামে অপর মাদক চোরাকারবারী গোপনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দৌলতপুর সীমান্তে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালালেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ডাংয়েরপাড়া এলাকার বচ্চন আলীর কাছে বিপুল পরিমাণ মাদক লেনদেনের টাকা পেতো। টাকা চাওয়া নিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। দ্বন্দ্বের জের ধরে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঠোটারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে সশস্ত্র অবস্থায় উভয় পক্ষ জড়ো হয়। মাদক লেনদেনের পাওনা টাকা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বন্দুকযুদ্ধ বাঁধে। বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর গ্র“পের আলমগীর, হেলাল, বাবু, মানিক, জাহাঙ্গীর, রাকিব, আশিক, এরশাদ, শামিম ও সুকচান এবং বচ্চন গ্র“পের বচ্চন, স্বাধীন, ইমন, সজিব, মিঠুন, মিলন ও রাকিব অংশ নেয়। বন্দুযুদ্ধের আগে বিপুল পরিমান ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার টাকা নিয়ে বচ্চন ও হেলালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উভয়পক্ষ বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। বন্দুকযুদ্ধে উভয়পক্ষের মধ্যে ৫-৭ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। গুলির শব্দে স্থানীয় ক্যাম্পের বিজিবি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গুলিবিদ্ধ জাহাঙ্গীরসহ বন্দুকযুদ্ধে অংশ নেওয়া মাদক চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আলমগীরকে উদ্ধার হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এবিষয়ে  সেসময় রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেনকে কেন্দ্র করে বচ্চন আলীর গুলিতে প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেন পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   খবর পেয়ে ভেড়ামারা সার্কেলের এডিশনাল এসপি আল বেরুনী ও দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘটনা তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে সেসময় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানান। এ ঘটনার জের ধরে পরদিন বৃহস্পতিবার সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রক ও গডফাদার থানার চিহ্নিত দালালকে জানিয়ে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশ বিশেষ চালায়। তবে অভিযানের আগে ওই গডফাদার সীমান্তে অভিযানের খবর মাদক চোরাকারবারী ও ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দিলে পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা গা ঢাকা দেয়। পুলিশের সাড়াঁশি অভিযানে কেউ গ্রেফতার না হলেও বন্দুকযুদ্ধে অংশ নেওয়া বচ্চন গ্রুপের প্রধান বচ্চনের বাড়ি তছনছ ও রান্নার চুলা ভাংচুর করেছে পুলিশ। অপরদিকে বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ আলমগীরের পেট থেকে অপরেশন করে গুলি বের করা হয় এবং আলমগীরের ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানাগেছে।

৪ সংসদীয় আসন ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

ঢাকা অফিস ॥ দেশের ৪টি সংসদীয় আসন শূন্য। এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিনক্ষণ পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কখন এইসব নির্বাচন হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। এ ব্যাপারে আজ সোমবার আলোচনার জন্য করোনাকালের মধ্যে কমিশন বৈঠক ডেকেছে ইসি। সোমবার বিকেল ৪ টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এটি নির্বাচন কমিশনের ৬৩তম বৈঠক। ইসি উপসচিব (সংস্থাপন-২) মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য পাওয়া যায়। চিঠিতে বৈঠকে আলোচনার জন্য ৬টি আলোচ্যসূচি রয়েছে। এগুলো হলো : ক. প্রতিনিধিত্ব আইন, ২০১০ এর খসড়া বিল অনুমোগম। খ. রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন প্রণয়ন। গ. নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত আইন বাংলা প্রণয়ন; ঘ. জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের স্থগিত নির্বাচনের উপর আলোচনার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ; ঙ. সংসদীয় আসনের নির্ধারণ আইন আইন ২০১০, এবং বিবিধ। বগুড়া-১, যশোর-৬, পাবনা-৪ ও ঢাকা-৫ সংসদীয় আসন শূন্য। আর চট্টগ্রাম সিটির ভোট নিয়েও বৈঠক করা জরুরি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং বগুড়া-১, যশোর-৬ সংসদীয় আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২৯ মার্চ। কিন্তু দেশে করোনা হানা দেয়ার পর ব্যাপাক সমালোচনার মুখে তা স্থগিত করে ইসি। সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বগুড়া-১, যশোর-৬ সংসদীয় আসনে সেটা মানা সম্ভব হয়নি। তবে সংবিধানে এও বলা আছে ‘দৈব-দূর্বিপাকের কারণে’ উপনির্বাচন করার জন্য আরো ৯০ দিন পাওয়া যাবে। নির্বাচন কমিশন এখন সেই সুযোগ নিচ্ছে। এরপরও করোনার কারণে নির্বাচন করতে না পারলে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে ইসি। অন্যদিকে জুলাইয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ঢাকা-৫, পাবনা-৪ শূন্য আসনে উপনির্বাচনে এখনও যথেষ্ট সময় আছে। প্রসঙ্গত, গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে বগুড়া-১ এবং ২১ জানুয়ারি সংসদ সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে যশোর-৬ আসন শূন্য হয়। পাবনা-৪ আসনের (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) সংসদ সদস্য সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২ এপ্রিল। ঢাকা-৫ আসনের (ডেমরা-দনিয়া-মাতুয়াইল) সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৬ মে।

সাংবাদিক পুত্র আমিনুল ইসলাম ইমনের সাফল্য

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ছাত্র আমিনুল ইসলাম ইমন ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকল বিষয়ে এ-প¬াস পেয়েছে। আমিনুল ইসলাম ইমন কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক মাটির পৃথিবী পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এম.এ.জিহাদ এবং দিশা সংস্থার সিনিয়র হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা আমেনা খাতুন এর কনিষ্ঠ পুত্র। ভবিষ্যতে আমিনুল ইসলাম ইমন চিকিৎসক হতে চাই। সে সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।

আলমডাঙ্গায় পানিতে ডুবে শিক্ষিকার শিশুপুত্রের করুণ মৃত্যু

আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি ॥ আলমডাঙ্গার বৈদ্যনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার শিশুপুত্রের পানিতে ডুবে করুণ মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র পুত্রের এ অকাল মৃত্যুতে মা পাগলপ্রায়। তার আর্তনাদে এলাকার আকাশ-বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠেছে। শিশুর মরদেহ দেখার জন্য প্রচুর মানুষের ভীড়। দেখে কেউই  চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। সহকর্মীর ছেলের মৃত্যুতে মাসুম শিশুর আত্মার শান্তি কামনা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন শিক্ষক রবিউল আওয়াল, জামিরুল ইসলাম খান জামিল। পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে,আলমডাঙ্গার বৈদ্যনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস ও মোস্তকিন দম্পতির একমাত্র শিশু পুত্র আদিব (৪) গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ খালেকের বাড়ি হাটবোয়ালিয়া হাসপাতালপাড়ায় খাওয়া শেষ করে প্রতিবেশি শিশু ইরানের সাথে খেলতে বাড়ির পাশে মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি করে না  পেয়ে দিশেহারা হয়ে যায়। বেশকিছুক্ষন পর এক প্রতিবেশি শিশুর ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার করে স্থানীয় লোকজন জড়ো করে। অবশেষে মরদেহও আদিবের বলে শনাক্ত হয়ও তার স্বজনরা লাশ বাড়ি নিয়ে গেলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা সৃষ্টি হয়। পড়ে যায় বুক ফাটা আহাজারি আর কান্নার রোল। এ যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মত। এ খবর বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভীড় জমে যায়। আদিবের নানি, মামা ঢাকা থেকে আসার পর দাফন করা হতে পারে।

পরিবহন ভাড়া বাড়ানো যাত্রীদের সঙ্গে প্রহসন – যাত্রী অধিকার আন্দোলন

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ যখন চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে তখন গণপরিবহণে ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে প্রহসন উল্লেখ করে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়েছে যাত্রী অধিকার আন্দোলন নামের একটি সংগঠন। গতকাল রোববার সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক অন্তু মুজাহিদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা পূর্ববর্তী সময়ে প্রতিটি পরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা হত। বাসগুলো সিটিং নাম দিয়ে ভাড়া বাড়ালেও ঠিকই কয়েকগুণ বেশি যাত্রী বহন করে আসছিল। সরকারের পক্ষ থেকে যত্রযত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বরাবরই উপেক্ষিত ছিল গণপরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাছে। যাদের দিয়ে আগে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করা যায়নি তাদের দিয়ে শারীরিক দূরত্ব কতটুকু নিশ্চিত করা যাবে তা অবশ্যই সন্দেহের। নিয়ম অনুযায়ী মিনিবাসে ৩০ এবং বড় বাসে ৫১টি আসন থাকার কথা। সে হিসেবে ২০ শতাংশ সিট ফাঁকা ধরেই ভাড়া নির্ধারণ করেছিল সরকার। কিন্তু ঢাকার প্রতিটি বাস-মিনিবাসে ১০ থেকে ১৫টি অতিরিক্ত আসন সংযোজন করেছেন মালিকরা। সে হিসেবে বিদ্যমান বাস-মিনিবাসের ৫০ শতাংশ ফাঁকা রাখলেও লোকসান হওয়ার কথা নয়। তারপরও যাত্রীদের কথা না ভেবে একতরফা পরামর্শে কেন ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন যাত্রী অধিকার আন্দোলনের নেতারা। পূর্বে নানা অযুহাতে ভাড়া বাড়ালেও কমানোর নজির নেই বলে দাবি করে করোনা পরিস্থিতির মাঝে যাত্রীদের সঙ্গে মহা অন্যায় করা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অনতিবিলম্বে গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করা, প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় ভূর্তুকি যুক্ত করা, তেলের দাম কম রাখা, পরিবহনের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা নিশ্চিতের পরামর্শ দেয়া হয় বিবৃতিতে।

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় ৮৩৮০ রোগী শনাক্তের রেকর্ড

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৩৮০ জন, যা একদিন সর্বোচ্চ। এ সময়ের মধ্যে এ রোগে মারা গেছেন ১৯৩ জন। রোববার  ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় এনডিটিভি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ হাজার ১৬৪ জন। ভারতে এ প্রথম একদিনে ৮ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হলো। গত তিনদিন ধরেই রেকর্ডসংখ্যক রোগী শনাক্ত হওয়া অব্যাহত রয়েছে। রোগীসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে নবম স্থানে রয়েছে ভারত। করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি, গুজরাট, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রে মোট শনাক্ত ৬৫ হাজার ১৬৮ জন, যা সর্বাধিক। এদিকে দু’মাসের লকডাউনের পর জুন থেকে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।

থানায় মারপিটের মামলা

দৌলতপুরে মাদক ব্যবসা নিয়ে যুবক অপহরণের অভিযোগ : দু’লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিজয় (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী যুবক অপহরণ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলে অপহরণ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য অপহরণকারীরা পুলিশকে ম্যানেজ করতে দালালের মাধ্যমে চালাচ্ছে অর্থবানিজ্য। তবে থানায় মারপিটের মামলা হলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি।

অপহৃত পরিবার ও দৌলতপুর থানা পুলিশ জানায়, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর গ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কামাল, মমিন, শাওন, সুমন ও কদম ২৬ মে সন্ধ্যায় অপর মাদক ব্যবসায়ী বিজয়কে মোবাইল ফেনে ডেকে নেয়। মথুরাপুর থেকে বিজয় সীমান্ত সংলগ্ন মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় গেলে কামাল, মমিন, শাওন, সুমন ও কদম তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরন করে জামালপুর গ্রামে নিয়ে একটি বাড়িতে আটকিয়ে রাখে। অপহরকারীদের দাবি তাদের ১০০ বোতল ফেনসিডিল কৌশলে গায়েব করেছে বিজয়। এরই জের ধরে অপহরণকারীরা বিজয়কে অপহরণ করে মোবাইল ফোনে অপহৃত বিজয়ের স্ত্রী তুলিয়ারা খাতুনের কাছে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। মুক্তিপনের দাবির প্রেক্ষিতে তুলিয়ারা খাতুন দৌলতপুর থানায় স্বামী অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে। পরে অপহৃত মাদক ব্যবসায়ী বিজয় ২৭ মে রাতে অপহরণকারীদের কবল থেকে কৌশলে পালিয়ে আসলে গোড়ারপাড়ার মিস্ত্রিপাড়া এলাকার মাঠ থেকে পুলিশ রাত ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে। এদিকে অপহরণ মামলা থেকে বাঁচতে অপহরণকারী মাদক ব্যবসায়ী কামাল, মমিন, শাওন, সুমন ও কদম পুলিশকে ম্যানেজ করার জন্য স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন করেছে। সম্পর্ক না থাকলেও বিজয়ের শ^শুর আমিনুল ইসলাম এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান অপহরণের ঘটনা অস্বীকার করে বলেছেন, অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটলে সেসংক্রান্ত মামলা হয়েছে। উভয়ই পক্ষের লোকজনই খারাপ। বিজয়ের নামেও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। এখানে অপহরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। বিজয় নিজ বাড়িতেই রয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে ব্যবস্থা – নৌ-প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নৌ যোগাযোগে স্বাস্থ্যবিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির অবহেলার জন্য ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে না। বাংলাদেশকে আমাদের নিরাপদ রাখতে হবে। গতকাল রোববার রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চ চলাচল ও যাত্রী সুরক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ এবং জীবাণুনাশক টানেল উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিআইডব্লিউটিএর অধীনে একটি কমিটি কাজ করছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের বিষয়টি আমরা অনুভব করি। এভাবে সীমিত পরিসরে যাত্রী পরিবহন করলে আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হবো কি-না সেটাও বিবেচনায় আছে। সরকারেরও দায়িত্ববোধ আছে তাদের বিষয়টি দেখার। কমিটির সুপারিশ যথাযথ হলে বিবেচনা করা হবে। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কিছুটা ঝুঁকির কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সময়ে যাত্রী পরিবহনে কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে এটাই শেষ সিদ্ধান্ত নয়। সরকার ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে। জনগণ ও দেশের কথা চিন্তা করে, সব বিশ্লেষণ করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ সময় গত মার্চ থেকে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম তুলে ধরেন তিনি। এর আগে জীবাণুনাশক টানেল উদ্বোধন করে লঞ্চের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান খাজা মিয়া, নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

 

খুলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশজুড়ে চলছে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি। সরকারি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ও শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলছে বিচার কার্যক্রম। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিরাপত্তাকর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে লকডাউন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। এর আগে গত ১২ মে পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের গেট খোলা ছিল। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। তাদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২২ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গত ১২ মে লকডাউন ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে ট্রাইব্যুনালের গেটে ধোয়ামোছার কাজ করতে দেখা গেছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, লকডাউন চলাকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দফায় দফায় বৈঠক করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের সভাপতিত্বে একবার ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে ট্রাইব্যুনালের একজন সদস্য বিচারপতি অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসা নেয়ার জন্য এয়ারঅ্যাম্বুলেন্সে ভারতে গেছেন। এখন সীমিত পরিসরে ভার্চুয়ালে নাকি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল খোলা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সূত্রে জানা গেছে। টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সাধারণ ছুটি শেষে গতকাল রোববার থেকে খুলেছে সরকারি-আধা সরকারি অফিস ও আদালত। চালু হচ্ছে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে ট্রেনও। আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত সরকারি অফিস ও গণপরিবহন চালানোর জন্য নির্দেশনাও জারি করেছে সরকার। সরকারের আদেশের প্রেক্ষিতে করোনা সংক্রমণ রোধে ও শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১১টি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় ট্রাইব্যুনাল কোন প্রক্রিয়ায় চালু হচ্ছে। এর আগে গত ১২ মে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ২২ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল লকডাউন করা হয়েছিল। সে দিন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের অন্যতম সদস্য প্রসিকিউটর (প্রশাসন) জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি বলেন, এক এক করে ট্রাইব্যুনালের দুটি ব্যারাকে থাকা এপিবিএনের প্রায় ২২ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখনও প্রায় ১৭ জন সদস্য ট্রাইব্যুনালের ভেতরে অবস্থান করছেন। এ কারণে পুরো ট্রাইব্যুনাল লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এদিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। জোয়াদ আল মালুম জানান, ট্রাইব্যুনালের যাবতীয় রেকর্ডপত্রসহ পুরো ভবনের নিরাপত্তার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। তারা এরইমধ্যে বাইরে থেকে ট্রাইব্যুনাল এলাকা কর্ডন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে দায়িত্ব দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার, প্রসিকিউশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এর আগে গত ২৪ এপ্রিল ব্যারাকের এক সদস্য করোনায় আক্রান্ত হন। গত ২৭ এপ্রিল নতুন করে আরও দুই এপিবিএন সদস্য করোনা শনাক্ত হয়। এরপর সেখানে দায়িত্বে থাকা সবমিলিয়ে ২২ সদস্য করোনা শনাক্ত হলে ট্রাইব্যুনাল এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়। লকডাউন খুলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন তথা ধোয়ামোছার কাজ চলছে।

দেশের দীর্ঘতম মানব দৌলতপুরের সুবোল বাঁচতে চাই সকলের সহযোগিতায়

শরীফুল ইসলাম ॥ দেশের দীর্ঘতম মানব সম্ভবত কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সুবোল আলী। বর্তমান বয়স তার ২২ বছর। এই বয়সেই সুবোলের উচ্চতা ৮ফুট। তবে রোগে শোকে তিনি কাতর হয়ে পড়েছেন। ভুগছেন শারীরিক নানা সমস্যায়। ব্রেন টিউমার ছাড়াও তার শরীরে ফোলা রোগ রয়েছে। যার কারণে ঠিকমত চলাফেরা করতে পারেন না। দু’হাতে দুই লাঠিতে ভর দিয়ে চলেন  কোনরকম। সোজা হয়ে ঠিকমত দাঁড়াতেও পারেন না। সমস্যায় পড়েন ঘরে ঢুকতে ও বের হতে। সহায় সম্বল বেঁেচ দরিদ্র পিতা মাতা সন্তানের চিকিৎসা করিয়েছেন। আর কুলিয়ে উঠতে না পেরে সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন তারা।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামে সুবোল আলীর বাড়ি। সুবোলের বাবা ইউনুস আলী পেশায় একজন কৃষক। দরিদ্র কৃষক হওয়ার কারনে আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ঠিকমত চিকিৎসা করতে পারেননি সুবোলের। যেটুকু করেছেন তাও সহায় সম্বল বেঁেচ। ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন, যা দরিদ্র বাবার পক্ষে সে অর্থ জোগাড় করা দূরহ। তাই মনকে বুঝ মানাতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিয়ে ছেলেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন ৩বছর। ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন সুবোলের বাবা মা।

সুবোলের বাবা ইউনুস আলী জানান, ১২-১৩বছর পর্যন্ত সুবোলের উচ্চতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছিল। এরপর পরের ৮-৯ বছরে সে অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে। এখন তার বয়স ২২ বছর। উচ্চতা প্রায় ৮ফুট। শারীরিক সমস্যার কারণে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ার পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি সুবোলের। তিনি আরো জানান, সুবোলরা দুই ভাই এক বোন। বোন সবার বড়। সুবোল মেজ। অন্য ভাই বোনের কোন সমস্যা নেই। তারা স্বাভাবিক এবং তাদের উচ্চতাও স্বাভাবিক। সুবোল এতটাই লম্বা যে লাঠিতে ভর দিয়ে ছাড়া চলাফেরা করতে পারে না। ঘরে ঢুকতে ও বেরুতে ঘরের চালা মাথা বেঁধে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অর্থের অভাবে কিছু করতে না পেরে ছেলের জন্য কষ্ট হয়। তাই ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন সুবোলের বাবা।

সুবোলের মা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, চিকিৎসার অভাবে সুবোল ৩বছর অসুস্থ হয়ে ঘরের বিছানায় শুইয়ে থাকে। কোনরকম হোমিও ও গাছগাছড়া চিকিৎসা দিয়ে ছেলেকে বাঁচিয়ে রেখেছি। চলাফেরা করতে পারেনা। লাঠিতে ভর দিয়ে কোনরকম চললেও বেশী সময় দাড়াতে পারেনা। তিনি ছেলেকে বাঁচাতে মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়েছেন। সুবোল জানান, আমি হাটতে পারতাম, চলতেও পারতাম। ২০১৩ সালে রোগ ধরা পড়ার পর আস্তে আস্তে মাথায় ও পায়ে সমস্যা হয়। এরপর ২০১৮ সাল থেকে হাটতে ও চলতে পারিনা। দু’হাতে লাঠিতে ভর দিয়ে কোনরকম চলি। ঘরে ঢুকতে ও বের হতে সমস্যা হয়। আবার লাঠিতে ভর দিয়ে ছাড়া বেশি সময় দাঁড়াতেও পারি না। পা ফুলে যাচ্ছে। ওষুধ খেয়ে মাথার সমস্যা একটু কম হলেও শরীরের অন্যান্য সমস্যার কারনে চলতে ফিরতে কষ্ট হয়। বাঁচার জন্য সুবোল সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। সুবোলের প্রতিবেশীরাও চায় সুবোলের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন। তারাও সুবোলের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে। এদিকে সুবোলের উচ্চতার কারণে তাকে দেখতে প্রতিদিন মানুষের ভিড় জমে সুবোলের বাড়িতে। আর সে ভিড়ের মাঝে সুবোল বাঁচার আশার আলো দেখলেও তা তার জন্য হয়ে উঠে কষ্টের ও দূর্বিসহ। সুবোল যদি দেশের দীর্ঘতম মানব হয়ে থাকে তা’হলে সে দীর্ঘ মানবের সুচিকিৎসার মানবিক দায়িত্ব সরকার ও দেশের বিত্তবানদের। এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় যশোর সেনানিবাস

করোনার ও আম্ফানের ভয়াল থাবায় যখন বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জীবন ঠিক তখনই বরাবরের মতো চোখে স্বপ্ন আর বুকে প্রত্যয় নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রতিটি সদস্য। করোনা পরিস্থিতিতে বৃহত্তর যশোর অঞ্চল চরম ঝুঁকিতে থাকলেও কোন রকমের আতঙ্ক নেই সাধারণ মানুষের মাঝে। এদিকে অর্থনীতির চাঁকা সচল রাখতে সরকার ইতোমধ্যে সকল সরকারী- বেসরকারী অফিস আদালতের পাশাপাশি মার্কেট/শপিংমলগুলো খুলে গেছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে ক্রয়/বিক্রয় করতে মার্কেট এলাকায় প্রতিনিয়ত জনসচেতনতা সৃষ্টি মূলক মাইকিং এবং প্রেষণা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। এছাড়াও যশোর সেনানিবাসের মেডিকেল টিম কর্তৃক অসহায় মানুষদের মাঝে ফ্রী চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ ছাড়াও গণপরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ত্রাণ বিতরণ, অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয় এবং দুস্থ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শস্য/সবজি বীজ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মোঃ মোফাজ্জেল হক

জাতি আজও মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যাকান্ডের বিচারের অপেক্ষায়…

একাত্তরে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। তার ৯ দিন আগেই যশোর সেনানিবাসের পতন হয়েছিল ৭ তারিখে যশোর সেনানিবাসের পাকিস্তান ট্যাংক রেজিমেন্টের একটি দল আত্মসমর্পণ না করে খুলনার শিরোমনিতে পজিশন নেয়। তারা ৭ম  নৌবহরের আশায় খুলনা হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে সরে যাচ্ছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণের মুখে পাকবাহিনীর ট্যাংক  রেজিমেন্টের ওই দলটি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। ওই অপারেশনটির নাম ‘ব্যাটল অব শিরোমনি’ এবং অপারেশনের কমান্ডার যিনি দুই হাতে দুই এসএলআর উঁচিয়ে ফায়ার করতে করতে ট্যাংকের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন ৮ নং  সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল) এমএ মঞ্জুর, বীরউত্তম। আজ পয়লা জুন ১৯৮১ সালের এই দিনে মেজর জেনারেল এমএ মঞ্জুর বীর উত্তম, লে. কর্নেল মতিউর রহমান বীর উত্তম, লে কর্নেল মাহবুবুর রহমান বীর উত্তমকে হত্যা করা হয়। জিয়া হত্যার কলঙ্ক মাথায় নিয়ে তারা চলে যেতে বাধ্য হলেন এই দুনিয়া থেকে। যে দেশের স্বাধীনতার জন্য তারা জীবন বাজি রেখে  সেই দেশের জনগন আজও জানে না তাদের কপালে সাড়ে তিন হাত মাটি জুটেছিল কিনা, কোথায় তাদের কবর? ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পর এর দায় পড়ে সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুরের ওপর। পুলিশের হাতে জেনারেল মঞ্জুর গ্রেপ্তার হওয়ার পর সেই সময়ের সেনাপ্রধান  লে. জেনারেল এরশাদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে পরামর্শ দেন মঞ্জুরকে সেনা হেফাজতে দিতে। রাষ্ট্রপতির নির্দেশ পেয়ে চট্টগ্রামের কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে  জেনারেল মঞ্জুরকে সেনা হেফাজতে দেয় পুলিশ। তবে সেনা  হেফাজতে নেওয়ার পরের দিনই জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়। জিয়া হত্যাকান্ড এবং সেনা বিদ্রোহে জেনারেল মঞ্জুরকে দায়ী করে তাকে হত্যা করে তার অনুগতদের ফাঁসি দেওয়া হলেও আসলেই জেনারেল মঞ্জুর দায়ী ছিলেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত অনেক সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, সামরিক বিশ্লেষক এবং গবেষক। অধ্যাপক নাদির জুনাইদ একটি প্রবন্ধে লিখেছেন: সার্কিট হাউসে হামলার ব্যাপারে মঞ্জুর আগে জানতেন না এ ব্যাপারে একটি ধারণা পাওয়া যায় মেজর রেজাউল করিমের বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে। জিয়া হত্যাকান্ড ঘটে যাওয়ার পর, ৩০ মে সকালে  জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে মেজর রেজাউল করিমের যখন প্রথম দেখা হয়; তখন মঞ্জুর রেজাকে প্রশ্ন করেন সার্কিট হাউসে গিয়ে রেজা কী কী  দেখেছেন তা নিয়ে। মেজর রেজা জিয়াউর রহমানসহ অন্যদের মৃতদেহের কথা জিওসিকে জানালে মঞ্জুর দুবার বলেন, “ওহ্, হোয়াট দে হ্যাভ ডান! হোয়াট দে হ্যাভ ডান!” মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি রচিত “একাশির রক্তাক্ত অধ্যায়” থেকে জানা যায়, মঞ্জুর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এই তথ্য জানার পর তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরুদ্দিন সেনাপ্রধান এরশাদকে বলেছিলেন মঞ্জুরকে  কোনোভাবেই হত্যা না করতে। মঞ্জুরের হত্যার পর এরশাদ সদরুদ্দিনকে জানান, একদল উচ্ছৃঙ্খল সৈন্য মঞ্জুরকে হত্যা করেছে। সদরুদ্দিন তখন ক্ষুব্ধকন্ঠে এরশাদকে বলেছিলেন, “এই গল্প অন্য কাউকে বলুন। অ্যাট লিস্ট ডোন্ট আস্ক মি টু বিলিভ ইট।” এর কদিন পরই মুক্তিযোদ্ধা অফিসার সদরুদ্দিনকে বিমান বাহিনী প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। লেখক সাংবাদিক আনোয়ার কবিরের “সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা: ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১” বইতে তিনি লিখেছেন: মেজর রেজাউল করিমের বক্তব্য  থেকে একটি তথ্য জানা যায়; তা হল, মতিউর রহমান জিয়া হত্যাকান্ডের অল্প কদিন আগে ঢাকায় আর্মি হেড কোয়ার্টারে গিয়েছিলেন। সেখানে সেনাপ্রধান এরশাদসহ অনেকের সঙ্গেই নাকি তিনি কথা বলেছিলেন (কবির, পৃষ্ঠা ১৮৭)। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তখন কী আলোচনা করেছিলেন তা জানা যায়নি। অথচ তিনিই পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করেন। লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান তার ‘রণ থেকে জন’ নাম আত্মজীবনীতে লিখেছেন: মঞ্জুরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ, তিনি বেঁচে থাকলে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারী কে তা উদঘাটিত হয়ে যেত। জেনারেল মঞ্জুরকে গ্রেপ্তার করেছিলেন যে পুলিশ কর্মকর্তা তার নাম ছিল সম্ভবত কুদ্দুস। এরশাদের আমলে তিনি অল্প দিনের মধ্যেই প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন। তার প্রতি এরশাদের বহু পৃষ্ঠপোষকতা নানা কথা ও সন্দেহের জন্ম  দেয়। মঞ্জুর যদি জিয়াকে জোরপূর্বক বন্দি বা হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন সে ক্ষেত্রে এটাই ভাবা স্বাভাবিক যে, মঞ্জুরকে অন্য অনেক ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সমর্থন করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল। কিন্তু জিয়া হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুত মঞ্জুরসহ চট্টগ্রাম সেনানিবাসের অন্য মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যাকান্ডে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়। মঞ্জুরকে বিচারের মুখোমুখি করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়নি যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। জিয়া হত্যাকান্ড এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা পর্যালোচনা করলে বুঝা যাই যে, ষড়যন্ত্রটি (জিয়া হত্যার) হয়েছিলে চট্টগ্রামের বাইরে ঢাকায়। জিয়া হত্যার পর বিদ্রোহীদের দায় তার (মঞ্জুরের) ওপর আসে; যা তিনি নিতে ইচ্ছুক ছিলেন না কিন্তু নিয়েছিলেন। ষড়যন্ত্রটা কোথায় তা তিনি (মঞ্জুর) জানতে পেরেছিলেন সে জন্য ঢাকা থেকে এক ব্রিগেডিয়ারকে পাঠিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। মঞ্জুরকে তিনি আখ্যা দিয়েছিলেন ‘ধ পড়ঁঢ় ষবধফবৎ নু ফবভধঁষঃ.’ পুলিশের হেফাজত থেকে জেনারেল মঞ্জুরকে  সেনাবাহিনী তাদের জিম্মায় নিয়ে আসার পর যখন মঞ্জুরকে হত্যা করা হল, সেটিতে জড়িতদের শনাক্ত করে অবশ্যই বিচার করা দরকার ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। বিচারের পর সেনাবাহিনী  থেকে অনেক মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকেও বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়। মঞ্জুর নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধারাই দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছিলেন। সে সময়ের ঘটনাসমূহ পর্যবেক্ষণ করলে যে প্রশ্নসমূহ উঠে আসে তা নিয়ে তদন্তের উদ্যোগও নেই। কিন্তু সেই ঘটনাসমূহ ভুলে যাওয়া বা ঢেকে রাখার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সত্য অনুসন্ধান সব সময় প্রয়োজন, দেরিতে হলেও।

লেখক ঃ সাবেক সদস্য তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও সভাপতি,  বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা।

ডিসেম্বরেই আসতে পারে করোনার ‘অ্যান্টিডোট’, দাবি চীনের

ঢাকা অফিস ॥ উহানের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস এবং বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট যৌথভাবে করোনাভাইরাসের ‘অ্যান্টিডোট’ আবিষ্কার করেছে, যেটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষের শরীরে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ভ্যাকসিনটি বাজারে আসতে পারে বলে দাবি করেছে চীন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উহান ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস এবং বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টের আবিষ্কৃত অ্যান্টিডোটটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। বছরের শেষের দিকে অথবা ২০২১ সালের শুরুতে এটি বাজারজাত করা যেতে পারে। গত শুক্রবার চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে দেশটির সরকারি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি সিনোফার্মের সহযোগী এ দুই প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে এ ঘোষণা দেয় এসএএসএসি। এসএএসএসি দাবি করেছে, বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বেইজিং ইনস্টিটিউট অফ বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের।

পঙ্গপালের হানায় বিপর্যস্ত ভারত-পাকিস্তান

ঢাকা অফিস ॥ ফসলখেকো পঙ্গপালের হানায় বিপর্যস্ত ভারত ও পাকিস্তান। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ দুটিতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পতঙ্গের আক্রমণ। ঝুঁকিতে পড়েছে শত শত কোটি ডলারের ফসল। কীটনাশক ছিটিয়ে ও ঢাক ঢোল পিটিয়ে করা হচ্ছে প্রতিরোধের চেষ্টা। কোটি কোটি পতঙ্গের ঝাঁক মুহূর্তেই খেয়ে ফেলছে সবুজ ঘাস, ফসল, সবজি ও গাছ। ভেঙে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা। ফসল রক্ষা করতে না পারায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটের শঙ্কা। লে. জেনারেল মোহাম্মদ আফজাল বলেন, পঙ্গপালের হানা থেকে ফসল রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। ৫ হাজার সেনা সদস্য কাজ করছেন। সেনাবাহিনীর ৫টি হেলিকপ্টারসহ ৯টি উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। আরো ৬টি যুক্ত করার প্রক্রিয়া রয়েছে। কীটনাশক ছিটানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ১৫টি গাড়ি। ফসল রক্ষায় কৃষকরা আওয়াজ সৃষ্টি করছেন ও কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। আক্রান্ত অঞ্চলে বসতবাড়ি দেয়ালও ছেয়ে গেছে পঙ্গপালে। পাকিস্তানের অন্তত ৫০টি জেলায় এবং ভারতের ৫টি রাজ্যে হানা দিয়েছে পতঙ্গরা। ভারতে রাজস্থান, পাঞ্জাব, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশ এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশসহ ভারত সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে তারা। একজন বলেন, পঙ্গপালের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে আমরা নানাভাবে চেষ্টা করছি। ড্রাম বাজিয়ে, কীটনাশক ছিটিয়ে নির্মুলের চেষ্টা করছি। সবজির বাগানগুলো ঢেকে রাখছি। ফসল রক্ষা করতে না পারলে আমার না খেয়ে থাকা লাগবে। এরই মধ্যে ভারতে অন্তত ৩৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ধংস হয়েছে। পাকিস্তানে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। ঝুঁকিমুক্ত নয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতেও। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর ৭০টিরও বেশি দেশে এরইমধ্যে হানা দিয়েছে পঙ্গপাল। এ বছরের শেষ নাগাদ পৃথিবীর অন্তত ১০ শতাংশ মানুষের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

মাস্ক পরা দেখে সাংবাদিকরা মজা নিক, চান না ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারির চরম হানা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই ছিলেন মাস্ক পরার বিরোধী। শেষপর্যন্ত কাছের মানুষজন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় কিছুটা ‘সোজা হয়েছিলেন’ তিনি। হোয়াইট হাউসে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করেছিলেন মাস্ক ব্যবহার। তবে সময়ে সময়ে সেই বাধ্যবাধকতা মানছেন না নিজেই। বৃহস্পতিবার মিশিগানে সাংবাদিকদের সামনে গিয়ে মাস্ক খুলে ফেলেন ট্রাম্প। জানালেন, মুখ ঢেকে এভাবে ছবি তোলা পছন্দ নয় তারা। এ ছাড়া মাস্ক পরা দেখে সাংবাদিকরা মজা নিক, তাও চান না তিনি। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির। বৃহস্পতিবার মিশিগানে গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফোর্ডের কারখানা পরিদর্শনে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফোর্ডের এ কারখানায় এখন করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ব্যবহার হবে এমন ভেন্টিলেটর তৈরি করছেন শ্রমিকরা। কারখানাটি পরিদর্শনের সময়ে ট্রাম্প মাস্ক পরলেও সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাস্ক খুলে হাতে নেন তিনি। সাংবাদিকেরা তার মুখে মাস্ক না থাকার কারণ জানতে চাইলে প্রকাশ্যে এই মাস্ক ব্যবহারের পেছনে আজব যুক্তি দেখান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি এটা পরেছিলাম। পেছনের জায়গাগুলো ঘুরে দেখা সময় পরেছিলাম।’ ট্রাম্প বলেন, ‘করোনাভাইরাস ঠেকাতে অবশেষে আমি মাস্ক বিদ্বেষ কাটিয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু আমি মাস্ক পরে মিডিয়ার সামনে যেতে চাই না। ছবি তুলতে চাই না। আমি চাইনি সাংবাদিকরা এটি পরা দেখে মজা নিক।’ এ সময় নিজের হাতে থাকা কালো রঙের একটি মাস্ক  সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে আমার মাস্ক। এটি আমি বেশ পছন্দ করেছি। সত্যি বলতে কি, আমি মনে করি মাস্ক পরলে আমাকে আরও ভালো দেখায়। তবে আমি এখন যেহেতু মিডিয়ার সামনে কথা বলতে এসেছি, তাই এটা পরিনি। আমার ধারণা, আপনারা অনেকে এর ছবিও তুলেছেন।’ এই পরিদর্শনে আসার আগে অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাম্পকে মাস্ক পরতে অনুরোধ করেছিলেন। তাছাড়া ফোর্ডের চেয়ারম্যান বিল ফোর্ডও তাকে কারখানার ভেতরে জোরাজুরি করে মাস্ক পরিয়েছেন। বিষয়টি স্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে এটি পরতে বলা হয়েছিল। আমি এটি পরেও ছিলাম। মাস্ক বেশ ভালো। পরা থাকলেও ভালো লাগে।’ প্রসঙ্গত, হোয়াইট হাউসে করোনা নিয়ে ব্রিফিংয়ের সময়ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাস্ক পরেন না। তাকে সমর্থনকারী কট্টরপন্থী আমেরিকানরাও ট্রাম্পের দেখাদেখি মাস্ক পরতে অনীহা দেখান। করোনায় বিশ্বে শীর্ষ আক্রান্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত এবং ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

 

তালবাড়িয়ায় দুঃস্থদের মাঝে আরিফুল ইসলামের উদ্দ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

নিয়ামুল হক ॥ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দুস্থ গরিব অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও তালবাড়িয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তালবাড়িয়ার নিজস্ব বাসভবনের সামনে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৩শতাধিক দুস্থ গরিব অসহায় পরিবারের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। সমাজসেবক আরিফুল ইসলাম জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরে সবাই আসা করে নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদ করতে তাই কিছু অসহায় মানুষের বস্ত্রের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। এর আগে করোনা পরিস্থিতে না খাওয়া প্রায় ১২শত মানুষের মাঝে ৪র্থ দফায় খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। এরপরেও সামর্থ অনুযায়ী মানুষের সেবাই থাকব ইনশাআল্লাহ। বস্ত্র বিতরণের সময় সমাজ সেবক ময়েন সর্দ্দার, আমতুল সর্দ্দারসহ সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বেঁচে থাকলে ঈদ উদযাপনের অনেক সুযোগ আসবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ ঈদ উদযাপনের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে অসহায় গরিব মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণের আগে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে একথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার এক ভিন্ন বাস্তবতায় ঈদ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঈদ উদযাপনের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে আমরা সবাই ঈদ উদযাপনের অনেক সুযোগ পাবো। তিনি বলেন, করোনাবিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন করি, স্থানান্তর না করি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে চলছে ঘূর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্বাসন কাজ। দুর্যোগ মোকাবিলায় অতীতের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষতার সাথে সাফল্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কোনও দুর্যোগে থেমে থাকেনি বাংলাদেশ, প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে মর্যাদার সাথে মাথা তুলে দাঁড়ানো এক দেশ বাংলাদেশ। করোনা সংকটে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ত্রাণ তৎপরতায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাটি ও মানুষের এ দল অতীতেও মানুষের সাথে ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। পরে অসহায় গরীবদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

করোনায় এক অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ ব্যাচের ছাত্র, অতিরিক্ত সচিব (পিআরএল ভোগরত) কৃষিবিদ তৌফিকুল আলম (৫৯) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের মহাসচিব কৃষিবিদ মো. খায়রুল আলম প্রিন্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এছাড়াও সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ জন মারা গেছেন। ফলে করোনায় মোট ৪৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৬৯৪ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০ হাজার ২০৫ জনে।