করোনা মোকাবেলায় জাতীয় কমিটি চান মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জাতীয় কমিটি গঠন করা উচিত মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ কথাটা বার বার বলেছি, আমরা কখনোই সমালোচনার জন্য সমালোচনা করছি না, সরকারকে সাহায্য করতে চেয়েছি। আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। সোমবার দুপুরে নিজের উত্তরার বাসায় কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত একটি জাতীয় কমিটি হয়নি। যেটা করা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ তো একশ ৬০ মিলিয়নের দেশ। এখানে একেবারের নিচের দিককার অর্থনীতি। সেখানে এই ধরনের সংকট মোকাবেলার ক্ষেত্রে যদি একটি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা যায়; সেটাই হবে দেশের জন্য ভালো কাজ। তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, এখনও সময় আছে জাতীয় কমিটি করার, এটা গঠন করা উচিত। কীভাবে এই কমিটি হতে পারে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা আমি আগেও বলেছি। প্রধানমন্ত্রীকেই উদ্যোগ নিতে হবে, আপনার পলিটিক্যাল পার্টি, সিভিল সোসাইটি..। নট দ্যাট, এগুলোকে নিয়ে একখানে বসে মিটিং করতে হবে- তা বলছি না। ঘোষণা করে আপনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই এটা করতে পারেন। ‘তখন সবার মধ্যে একটা ধারণা আসবে-‘উই আর ওয়ান’। আমরা এক। দে কেন ডু। অথবা ওইভাবে সব নিরাপত্তা রেখে যদি সভা করতে চান; তাও পারেন।’ এই মহামারীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ঘরবন্দি মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজনের জন্য খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজ করছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। দেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা দাঁড়াচ্ছে, সেটা হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষজনের অর্থনৈতিক সমস্যা। তার মতে, বাংলাদেশে বেশিভাগ মানুষই এখন দিন আনে দিন খায়- এই বিশাল একটা অংশ তারা কিন্তু কয়েকদিন ধরে কোনো আয় করতে পারছেন না এবং এটা একটা টার্নিং পজিশনে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ‘সেই মানুষগুলোর জন্য যদি ইমিডিয়েটলি উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যায়; তাহলে কিন্তু একটা বড় রকমের বিপর্য্য় দেখা দেবে। যেটা আমরা ১৯৭৪ সালে দেখেছি, এই ধরনের বিপর্য দেখা দেবে। এই বিষয়গুলো সরকারের দেখতে হবে।’ বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমি যেটা মনে করি, সেনাবাহিনীকে যদি সেই কাজে লাগানো যায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা আছেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বর যারা আছেন, তাদের সম্পৃক্ত করে যদি সেই কাজগুলো করা যায়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে যদি সম্পৃক্ত করা যায়, তাদেরকে একসঙ্গে করা যায়- অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। সেক্ষেত্রে বরাদ্দ থাকতে হবে, তার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী থাকতে হবে। হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য কোনো রোগে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে। আজকের পত্রিকায় আছে যে, একজন এপেনডিসাইটিজের রোগী ৮টা হাসপাতালে ঘুরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে পারছেন না। আমরা যে কারণে বার বার বলেছি, বিষয়টাকে পুরোপুরি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে মানবিক দিক থেকে দেখে এই জাতিকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, এটা অস্তিত্বের প্রশ্ন। সেই অস্তিত্বের জন্য এখন সরকারকে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। বিষয়টার দায় সরকারের, দায়িত্ব সরকারের। ‘তাকেই উদ্যোগটা নিতে হবে- বিরোধী দলকে কীভাবে কাজে লাগাবে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কীভাবে কাজে লাগাবে, পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি করবে। এখানে সমস্যা অনেক। আমরা মনে করি, সরকারের অনেক অনেক বেশি দায়িত্ব, তাদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।’ সরকারের একটা ভুলের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি, এটা বড় ভুল হয়েছে যে, ছুটি ঘোষণা করে তার দুদিন পর পর্যন্ত গণপরিবহন চালু রাখা। এতে করে সমস্ত মানুষ ছড়িয়ে গেছে সারাদেশে। মির্জা ফখরুল বলেন, সমস্যাগুলো প্রথম থেকে তারা (সরকার) দেখলে এটা প্রকট আকার ধারণ করত না। লকডাউন যেটাকে বলে, তা সেভাবে হয়নি। যার ফলে দেখা গেছে, প্রথম দু-একদিন কক্সবাজারে পর্যন্ত মানুষ বেড়াতে গেছে, ছুটি কাটাতে সিলেটে গেছে। আমাদের দেশে সবাই তো সচেতন না, অনেকে বুঝতে পারেনি।

 

কুমারখালীতে মানুষকে ঘরে ফেরাতে প্রশাসনের ততপরতা অব্যাহত

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাজারে এসে আড্ডা দেওয়া ও মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ানো মানুষকে ঘরে ফেরাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল দুপুর ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সচেতনতা কর্মসূচীর পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বাটিকারা, তারাপুর মোড়, মহেন্দ্রপুর বাজার ও হাশিমপুর বাজার এলাকার রাস্তায় রাস্তায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামুলক প্রচারনা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাজরের দোকান খোলা রাখায়, মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানোয় এবং গণজমায়েত করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৬টি মামলায় প্রায় তিন হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।  অন্যদিকে, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) এম, এ মুহাইমিন আল জিহানের নেতৃত্বে নন্দলালপুর, কয়া ও শিলাইদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা কর্মসূচীর আওতায় রাস্তায় রাস্তায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত প্রচারণা কার্যক্রম ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় গণজমায়েত, পাড়া-মহল্লার দোকানে আড্ডা, মাঠে শিশু-কিশোরদের ক্রিকেট খেলা, মোটর সাইকেলে অতিরিক্ত যাত্রী আরোহন ও পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে যাত্রীদের চলাচল করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রামের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া ও চায়ের দোকান খোলা রাখায় ছয়’শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় সহকারি কমিশনার (ভুমি) বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, তাহলেই করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পাবে।

দৌলতপুরে দানাদার বিষ খেয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হালিমা খাতুন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা দানাদার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। সে প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি ডাকপাড়া এলাকার মৃত ইমদাদুল ডাকের স্ত্রী। পারিবারিক কলোহের জের ধরে বৃদ্ধা হালিমা খাতুন সোমবার রাতে বাড়িতে থাকা দানাদার বিষ খায়। বিষ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়রে তাকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেওয়া গতকাল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হলে বিকেলে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

গাংনীর ধর্মচাকী গ্রামে ভ্যান চালককে  কুপিয়ে হত্যা – হত্যাকারীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

গাংনী প্রতিনিধি ঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটী ইউনিয়নের ধর্মচাকী  গ্রামে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওমর আলী (৩৭) নামের এক ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় ওমর আলীর স্ত্রী ঠেকাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। নিহত ওমর আলী ধর্মচাকী গ্রামের মৃত মজের আলীর ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার  রাত  দশটার দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান,ধর্মচাকী গ্রামের ওমর আলীর ছেলে ও প্রতিবেশী কুদ্দুছ আলীর ছেলে গ্রামের মাঠে গমের খড় (নাড়া) কুড়িয়ে একই গ্রামের বুলু আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলামের গাড়ী ভাড়া করে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করে আসছিল। বিক্রিত টাকা গাড়ি চালক জাহিদ আত্মসাত করেন। এনিয়ে জাহিদুল ইসলামের কাছে গতরাতে ওমর আলী টাকা চাইতে গিয়েছিলেন। এসময় জাহিদ টাকা দেবোনা বলে ওমর আলীকে গালিগালাজ করেন। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জাহিদ ও তার বাবা বুলু ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওমর আলীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এসময় ওমরের স্ত্রী স্বামীকে বাঁচাতে আসলে,তাকেও কুপিয়ে একটি হাতের আঙ্গুল কর্তন করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লে্েক্স নিলে,কর্তব্যরত চিকিৎসক ওমর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে উত্তেজিত জনতা বুলুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে বামন্দী ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটিদল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে খবর পেয়ে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান ও তদন্ত ওসি সাজেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। হত্যাকারীরা পলাতক রয়েছে। তাদের অতি দ্রুত সময়ে আটক করা হবে।

গাংনীতে ১২০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী দিলো ইয়ূথ ইউনিট

গাংনী প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারীভাবে ঘোষিত লকডাউনে থাকা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অসহায়-কর্মহীন ১২০টি পরিবারের মাঝে এক সপ্তাহের জন্য খাদ্য সামগ্রী করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালের দিকে কাথুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গাঁড়াবাড়িয়া গ্রাম ইয়ূথ ইউনিটের সদস্যদের উদ্যোগে এসব খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়াও জীবাণুমুক্ত থাকার জন্য স্থানীয়দের হাত ধোয়ার কৌশল শেখানো হয়। এবং সাবান প্রদান করা হয়। স্থানীয় ইয়ূথ ইউনিটের সদস্যরা কর্মহীনদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর গাংনী উপজেলা সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দীন, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের মেহেরপুর জেলা ইউনিটের সমন্বয়কারী ফিরোজ আহমেদ পলাশ প্রমুখ।

আলমডাঙ্গায় মেহেরপুর পবিসের সভাপতি জিনারুল ইসলাম বিশ্বাসের নিজ অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা হাট বোয়ালিয়া ও নগর  বোয়ালিয়ায় নিজ অর্থায়নে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি হাটবোয়ালিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি জিনারুল ইসলাম বিশ্বাস খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। গতকাল সকাল ১০ টায় ২১৫ জনকে নিজ অর্থায়নে কর্মহীন গরীব অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। মরণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ ঘরমুখো বেকার হয়ে পড়েছে শ্রমিক শ্রেনীর মানুষ। এইসব মানুষ দুমুঠো ভাত সংগ্রহে দিশেহারা। এক দিকে কর্ম নাই অন্যদিকে করোনার কারণে রাস্তায় বের হতে পারছে না। ঘরবন্দী এ সব মানুষে মানুষের কথাচিন্তা করে আপদকালীন সময়ের কথা চিন্তা করে তিনি এই চাউল ও আলু বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আসাবুল হক ঠান্ডু, বিল্লাল হোসেন কালু মন্ডল, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোয়েব উদ্দিন, আব্দুল মালেক, ইকরামুল হক বুড়ো বিশ্বাস, আশরাফুজ্জামান নান্নু বিশ্বাস, আজাদ আলী বিশ্বাস, টাইগার, ইকলাছউদ্দীন,আক্তার, লালু প্রমুখ।

প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ব্রয়লার-সোনালী মুরগীর বিকল্প নেই

কুমারখালীতে পোল্ট্রি খামারিদের ব্যবসা ভয়াবহ বিপর্যয় মুখে

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমন আতঙ্কে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাল্ট্রি খামারি ও ডিলারদের ব্যবসা। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে হাট-বাজারে না যাওয়ার ঘোষনার কারণে বাজারে মানুষের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যাচ্ছে। জরুরী প্রয়োজনে অনেকেই বাজারে আসলেও প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী কিনে নিয়েই চলে যাচ্ছেন। কিন্তু কেউই যেন মুখ ফিরে তাকাচ্ছেন না জীবন্ত মুরগীর দোকানের দিকে। তাই ব্যাপক হারে কমেছে জীবন্ত মুরগী বেচাকেনা। গতকাল সরেজমিনে কুমারখালী পৌর বাজারে গিয়ে দেখাযায়, জীবন্ত মুরগী বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে নেই কোন মানুষের আনাগোনা। ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে রেখেছে ঠিকই কিন্তু ক্রেতা নেই। এ সময় জীবন্ত মুরগী বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন জানান, আগে প্রতিদিন ৪০/৫০ হাজার টাকা বেচাকেনা করতাম। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ ১০ হাজার টাকাও বেচাকেনা হচ্ছেনা। জীবন্ত মুরগীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিদিনই খাবার দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। দুর্গাপুর এলাকার পোল্ট্রি খামারী (ব্রয়লার) শাওন জানান, ব্রয়লার মুরগী নিয়ে খুবই বিপাকে আছি। বাজারের লোকজনের আনাগোনা নেই। তাই জীবন্ত মুরগীর বেচাকেনাও কম। আবার এক শ্রেণীর মানুষ করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগী খেতে চাচ্ছেন না। তাই আমরা কুমারখালী উপজেলার সকল খামারীরা চরম বিপর্যয়ের মুখে আছি। মুরগীগুলো সব বিক্রি করার উপযোগী হয়ে গেছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। পাইকারি কিংবা খুচরা বিক্রেতাদের কেউই নিতে চাচ্ছেন না। তাহলে আর কতোদিন খাওয়ার দিয়ে এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখবো। আর কবেই বা বিক্রি করতে পারবো এবং পূঁজি ফেরত পাবো, জানিনা। তবে এই খামারি মানুষ যেন ব্রয়লার এবং সোনালী মুরগী খেতে আগ্রহী হয় সে জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন। তিনি বলেন, যদি প্রশাসন শহর ও গ্রামাঞ্চলের মাইকিং করার অনুমতি দিতেন তাহলে হয়তো আমরা কিছুটা হলেও উপকৃত হতাম। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা পোল্ট্রি ফিড ডিলার সমিতির উদ্যোগে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। জেলার কোথাও কোথাও মাইকিং করা হয়েছে কিন্তু কুমারখালীতে এখনো পর্যন্ত মাইকিং করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন বলেন, মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয়  প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য নিয়মিত মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও ভিটামিন সি খাওয়ার প্রয়োজন। আর প্রোটিনের ঘাটতি পূরণের জন্য ব্রয়লার, সোনালী মুরগী ও ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই।  অন্যদিকে, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমাদের দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণের অন্যতম উপাদান হচ্ছে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগী (পোল্ট্রি)। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ভয়ে বর্তমানে অনেকেই ব্রয়লার ও সোনালী মুরগী খেতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে এই পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িতরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। পোল্ট্রি শিল্পকে বাঁচাতে ও কম দামে মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য ব্রয়লার ও সোনালী মুরগীর বিকল্প নেই।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশন নামক একটি সংস্থা কুমারখালীতে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন ও বাজারজাত করণে খামারীদের প্রশিক্ষণসহ খামার পরিচালনায় নানাধরণের সহযোগীতা দিয়ে আসছেন। এ ছাড়াও সংস্থাটি স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন মানুষকে নিয়ে ভোক্তা কমিটি গঠন করে নিয়মিত বাজার মনিটরিংসহ নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন ও বাজারজাত করণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দৌলতপুরে তাছের পীরের বাহিনী আগুন দিল অভিযোগকারীর বাড়ীতে ; ৩টি ঘর পুড়ে ভস্মিভূত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চরদিয়ার পূর্বপাড়া এলাকার কথিত পীর তাছেরের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল দখলের অভিযোগ উঠেছিল। গত ২৯ মার্চ জাতীয় দৈনিকে “দৌলতপুরে কথিত ভন্ড পীর তাছেরের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল দখলের অভিযোগ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় কথিত তাছের পীরের বাহিনী গত ৩০ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে আস্তানা সংলগ্ন অভিযোগকারী করিম খানের বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিলে ৩টি ঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয় । এতে অভিযোগকারীর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগকারী করিম খান সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন যাবত পীরের লোকজন নানাভাবে আমাদের এখান থেকে বাড়ী উচ্ছেদের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। গত ২৭ মার্চ ভেকু দিয়ে হিসনা নদী থেকে মাটি উত্তোলন করে নদীর পাড় বাধতে থাকলে উপজলো প্রশাসনকে জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছে দেখে তাৎক্ষনিক মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়।  এ ঘটনার জের ধরে গত ৩০ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার সময় তাছের পীরের বাহিনী উপজেলার বাগোয়ান এলাকার শুকুরের ছেলে সুজন, চরদিয়াড় গ্রামের সাজানের ছেলে শামীম, তাজপুর এলাকার কামাল ও আমদহ এলাকার ছালাম আমার বসত বাড়েিত আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন-দরবার শরীফের আশপাশের যে জমি পীরের লোকদের পছন্দ হবে সেই জমি প্রকৃত মালিকদের নানাভাবে হয়রানী নামমাত্র টাকা দিয়ে রেজিষ্ট্রি করে নেয় যার নজীরও রয়েছে অনেক।  এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন বাড়ী পোড়ানোর বিষয়টি শুনেছি এবং তাৎক্ষনিক আমার পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছিলাম। ঘটনাটি তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাংনীতে  থানার নির্দেশ অমান্য লাঠিয়াল নিয়ে ক্রয়কৃত জমি জবরদখল

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের চাঁন্দামারী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রভাশালী প্রতিপক্ষের ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে  আজুব্বর হোসেন ও তার ছেলে সাবান আলীর ক্রয়কৃত জমি জবর দখলের ঘটনা ঘটেছে। ৫ গ্রামের ভাড়াটে দাঙ্গাবাজ, লাঠিয়াল নিয়ে আদালতে বিচারাধীন জমি দখল করে পাট বীজ বপন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ আপোষ মিমাংসা করতে সম্প্রতি গাংনী থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় মুচলেকা নেয়া হয়। তারপরও প্রতিপক্ষ আব্দুল আলীম নামের জনৈক ব্যক্তি আইন অমান্য করে লোকজন নিয়ে জমি জবরদখল করেছে।এই বিরোধ পূর্ণ জমি নিয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যার নং- ২৮/১৮ ।    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁন্দামারী গ্রামের আজুব্বর হোসেন ও তার ছেলে সাবান আলী  ৬০ এর দশকে হিন্দু সম্পত্তি তৎকালীন মনি মোহন সাহার ছেলে মেলেন্দু কান্তি সাহা ও তার দুই বোনের নিকট থেকে জমি ক্রয় করেন। সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার শানঘাট মৌজার অন্তর্গত আর,এস খতিয়ান নং-৪৮৮, এস,এ খতিয়ান নং-৩০৪ দাগ নং-৫২৭০, ৫৪৩২, ৫৪৩৪, ৫৪৩৫, ৫৪৩৬, ৫৪৫৪। অন্য খতিয়ান আর,এস-৪৮৮ এবং এসএ-২৯৫ খতিয়ানভুক্ত ৫২৮৩ দাগ মিলে ১.৩৩ শতক জমি ক্রয করা হয়েছে।  ক্রয় সূত্রে জমি যথারীতি ভোগদখল করে আসছিলেন। অন্যদিকে  গ্রামের  ছমিরউদ্দীনের ছেলে প্রভাবশালী আব্দুল আলীম পার্শ্ববর্তী শানঘাট গ্রামের আব্দুল রহমান মহুরার ছেলে সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের নামে হিন্দুদের সম্পত্তি পাওয়ার অফ এটর্নি করার ভূয়া কাগজপত্র  দেখে ভূয়া দলিল করে ক্রয় করে জবর দখল করেছেন। দীর্ঘদিন জমি ওহিদের দখলে থাকলেও আব্দুল আলীম তার ভাড়াটে দাঙ্গাবাজ, লাঠিয়াল বাহিনী শানঘাটের মুন্তাজ আলীর ছেলে আব্দুর রহমান, চান্দামারীর গোলাপ বিশ্বাসের ছেলে সোহরাব আলী, ফকির মহাম্মদের ছেলে পাঁচু, হাপানিয়া গ্রামের ছমিরউদ্দীনের ছেলে আঃ আওয়াল, আফছার আলীর ছেলে আঃ রশিদ ও আঃ হান্নান, মকছেদ আলীর ছেলে সামসুল হক, খেলাফতের ছেলে আঃ মজিদ,খেজমতের ছেলে বনি ইয়ামিনসহ আরও কয়েকজন  সম্প্রতি মাঠে মহড়া দিয়ে জমি জবরদখল করেছে। এনিয়ে ওহিদ আলী জানান, আমার বাবা আজুব্বর হোসেন হিন্দুদের সম্পত্তি ক্রয় সূত্রে দলিল করে ভোগ দখল করে আসছি। আমরা দলিল মোতাবেক খারিজ করে খাজনা দিয়ে আসছি।তবে আমাদের নামে আরএস রেকর্ড  না হয়ে মূল মালিকের নামে হয়েছে। পক্ষান্তরে গ্রামের একদল ভূমি গ্রাসী আমাদের জমি জবর দখল করেছে। তারা যে ভূয়া কাগজ দেখিয়ে খারিজ করেছিল তা বাতিল হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে দেঃ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছ্।ে দাঙ্গাবাজরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। প্রতিপক্ষ আব্দুল আলীম জানান, আমরা শানঘাট গ্রামের রহমান মহুরার ছেলে হাফিজুর রহমানের নিকট থেকে আড়াই বিঘা জমি ক্রয় করেছ্ ি।আমাদেরও দলিল রয়েছে। তবে আমাদের নামে আরএস রেকর্ড বা খারিজ খাজনা হয়নি।   এব্যাপারে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, চান্দামারী গ্রামের  পক্ষ থেকে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঝিনাইদহে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে গৃহবধুর মৃত্যু, আহত-২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাকোইল গ্রামে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে টুকটুগি বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ জন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নাকোইল গ্রামের জোয়ার্দ্দার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, নাকোইল গ্রামের স্বপন জোয়ার্দ্দারের স্ত্রী টুকটুকি বেগম রান্না ঘরে রান্না করছিল। হঠাৎ সেখানে আগুন ঘরে যায়। মুহুর্তের মধ্যে তা আশপাশের বাড়ী ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ততক্ষনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় গৃহবধু টুকটুকি। দগ্ধ হয় টুকটুকি বেগমের মা শিউলি বেগম ও স্থানীয় চনের উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। পুড়ে যায় ৫টি বাড়ি ঘর। আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দিলীপ কুমার সরকার জানান, আগুনে স্বপন জোয়ার্দ্দার, চনের উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, এমদাদুল জোয়ার্দ্দার, নজির উদ্দিন জোয়ার্দ্দার ও উসমান জোয়ার্দ্দেরের বাড়ি পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্টিকের কারণেই এ অগ্নিকান্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

করোনা সংক্রমন রোধে কুমারখালীতে জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটানো হয়

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জীবাণুনাশক ¯েপ্র করা হয়েছে। উপজেলার মহেন্দ্রপুর যুব সংঘের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে মহেন্দ্রপুর বাজারে এই জীবণুনাশক ¯েপ্র কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ খান। এ সময় মহেন্দ্রপুর যুব সংঘের সদস্যদের মধ্যে মো. রাহাত খান (মৃদুল), প্রভাষক সুলতান সরদার, শিহাব মাহমুদ হেলাল, রাসেল মাহমুদ, শহিদুল আলম সেলিম, জিন্নাহ সরদার, মুন্সী রূপম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।  মহেন্দ্রপুর যুব সংঘের অন্যতম সদস্য মো. রাহাত খান মৃদুল জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমরা নিজস্ব অর্থায়ণে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গ্রামের রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ ও বিভিন্ন বাজারে জীবাণুনাশক ¯েপ্র করা হচ্ছে। সেই সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খেটে খাওয়া অসহায় ও দুস্থ মানুষদের মাঝে প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে ৪ বাড়ি ভষ্মিভূত : ব্যাপক ক্ষতি

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকান্ড ঘটে ৫ বাড়ি ভষ্মিভূত হয়েছে। আগুনে ৫পরিবারের ১০টি ঘর পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরসোনাতলা এলাকায় অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, চরসোনাতলা এলাকার সিকবলের রান্না ঘরের চুলা থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হলে মুহুর্তের মধ্যে আগুন নিজ বাড়িসহ আশপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রন হলে আগুনে ভষ্মিভূত হয় সিকবল, জহির উদ্দিন, চাহার উদ্দিন, আনন্দ ও রুসনা’র বাড়ির সব ঘর। আগুনে ৫ পরিবারের নগদ টাকা, খাদ্য শস্য. আসবাবপত্রসহ প্রায় ১২ লক্ষ টাকার সম্পদ ভষ্মিভূত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

ধুবইল ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্দ্যোগে করোনা ভাইরাস রোধে অসহায়দের মাঝে মাস্ক, সাবান হ্যান্ড স্যানেটাইজার,  জীবানুনাশক উপকরন বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্দ্যোগে  দেশব্যপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া গরীব, অসহায় ও দিন মজুর দুস্থ পরিবারের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সাবান ও জীবানুনাশক ¯েপ্র বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ সব উপকরন বিতরণের উদ্বোধন করেন, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস। উপজেলা ভাইস  চেয়ারম্যান কাশেম জোয়ার্দার ও ধুবইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সজল হোসেনের নেতৃত্বে দিনব্যাপি শতাধিক পবিবারের মাঝে এসব উপকরন বিতরণ করা হয়। এসময়  করোনা ভাইরাস রোধে কি করনীয় এ বিষয়ে ইউনিয়নবাসীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ধুবইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সভাপতি মাহাবুর রহমান মামুন ও সাধারন সম্পাদক মিজান মোল্লাহসহ, ধুবইল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃবৃন্দ মুকুল (মাষ্টার), রনী আহাম্মেদ, মামুনুর রহমান, ইউনুচ আলী, রাসেল রানা, হাসান আলী, শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুরে এসএসসি ৯৭ ব্যাচের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন মানুষের মধ্যে এসএসসি ৯৭ ব্যাচের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। সোমবার বেলা ১১টয় মিরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসএসসি ৯৭ ব্যাচের মিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার হালদার, এসএসসি ৯৭ ব্যাচের মিরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল বিন সাদিক রাব্বী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জয়শ্রী পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সদস্য আরিফুল ইসলাম সুমন, নাসির উদ্দিন, মিরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আছাদুর রহমান বাবু, সাবেক আহবায়ক হুমায়ূন কবীর হিমু, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম হীরা, সাংবাদিক আলম মন্ডল, জাহিদ হাসান প্রমুখ। প্রধান অতিথি লিংকন বিশ্বাস বলেন, করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। অসহায় মানুষদের প্রতি সমাজের ধনী ব্যক্তিদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। এসএসসি ৯৭ ব্যাচের মিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার জানান, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন মানুষের মধ্যে আমাদের এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। তিনি দেশের ক্রান্তিকালে দুঃস্থদের পাশে দাড়াতে বৃত্তবানদের প্রতি উদ্যাত্ব আহ্বান জানান।

আলমডাঙ্গায় যুবককে কুপিয়ে জখম

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় অভ্যন্তরীন বিষয়কে কেন্দ্র করে ফাহিম নামের একজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে আলমডাঙ্গা ফলবাজারের ফাহিমের বকালের দোকানে তাকে কুপিয়ে জখম করে। ফাহিমের স্বজনদের সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামের ঠান্ডুর ছেলে ফাহিম (২৫) দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা বাজারে বকালের ব্যবসা করে আসছে। অভ্যন্তরিন বিষয় নিয়ে উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সাদ্দামের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাদ্দাম প্রথমে ফাহিমেকে হাতুরি ও রড দিয়ে মারধর করে। কিছুক্ষন পর সাদ্দাম ফাহিমকে দেশী অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে ফাহিমকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সাদ্দাম জানায়, ফাহিম পুর্বের বিষয় কেন আমাকে  জিজ্ঞাসা করতে গেলে সে আমাকে রড দিয়ে মারধর করে। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন শেষে বাড়িতে চলে আসছি।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে শহরের রাস্তা ও আশপাশে জীবানু নাশক ছিটানো হয়েছে

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে সোনা পটি, চারতলার মোড় হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ব্লিচিং পাউডার ¯েপ্র করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী, প্যানেল  মেয়র সদর উদ্দিন ভোলা, কাউন্সিলর জহুরুল ইসলাম স্বপন, আব্দুল গাফ্ফার, আলাল উদ্দিন, প্রেসক্লাব সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজমসহ সেনাবাহিনির সদস্যবৃন্দ। পৌর মেয়র বলেন আমরা পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন একত্রে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকাকে পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে বদ্ধ পরিকর, এ ছাড়াও  ¯েপ্র করে ব্লিচিং পাওডার দিয়ে জীবানুনাশ করতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন আপনারা যারা শহরে বসবাস করেন তাদের কাছে অনুরোধ আপনাদের বাড়ীর আঙ্গিনা, আশপাশসহ খানা খন্দ পরিস্কার পরিছন্ন করে রাখবেন। এ ছাড়াও আমরা উপজেলা প্রশাসন ও  পৌরসভা সার্বক্ষনিক আপনাদের পাশে আছি। যারা নিম্নআয়ের মানুষ তাদের তালিকা করে আমরা যতদুর সম্ভব তাদের বাসায় খাবার পৌছে দেব। ভ্যান চালক, কাজের মানুষ, হোটেল শ্রমিক, পাউরুটির দোকানের শ্রমিক, বেকারি শ্রমিক, জোন খাটা, দিনআনা দিন খাটা মানুষের তালিকা তৈরি করুন। সেনা বাহিনির সদস্যগন প্রশাসনের সাথে সহযোগীতা করে চলেছে।

প্রয়োজনে স্টেডিয়ামে হাসপাতাল বানানো যাবে- ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে দেশের সব স্টেডিয়ামকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তটির কথা জানানো হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, “ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব স্টেডিয়াম বিশেষ করে ইনডোর স্টেডিয়ামসমূহ প্রয়োজনে করোনাভাইরাসের রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। “আমরা ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগরীরসহ দেশের প্রধান প্রধান স্টেডিয়াম সমূহে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছি।” ঢাকা মহানগরীতে অবস্থিত স্টেডিয়াম ও জেলার স্টেডিয়ামসহ মোট ৮০টি ও ১২৫টি উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের খেলাধুলা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০টি ইভেন্টের আয়োজন করা হলেও সেগুলো সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস অনেক বছর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল – গবেষণা

ঢাকা অফিস ॥ বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস অনেক বছর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার পাঁচজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ। তাদের দাবি, বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক ধরেই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। গবেষণাটি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিপস রিসার্চ ইন্সটিটিটের ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসন, স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্র– র‌্যামবাউট, নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ান লিপকিন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডওয়ার্ড হোমস এবং নিউ অরলিন্সের তুলানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট গ্যারি। গত ১৭ মার্চ তাদের গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল নেচার মেডিসিনে প্রকাশিত হয়। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। গবেষকরা জানিয়েছেন, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হওয়ার বহু আগ থেকেই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। গবেষণায় ওই বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, চীনের উহানে প্রথম শনাক্তকরণের অনেক আগে থেকেই প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে ছড়াচ্ছিল এ প্রাণঘাতী ভাইরাস। তবে অন্য আশংকাও থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, করোনভাইরাস একটি অনন্য মিউটেশন (জিনম সিক্যুয়েন্স) বহন করে, যা সন্দেহজনক প্রাণী হোস্টে পাওয়া যায়নি। কিন্তু মানুষের মধ্যে বারবার ও ছোট-গুচ্ছে সংক্রমণের সময় মিউটেশন বহন করতে পারে। তাই তাদের ধারণা, এ ভাইরাসটি হয়তো বহু বছর আগ থেকেই মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের পরিচালক ড. ফ্রান্সিস কলিন্স বলেন, ‘গবেষণায় একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বা দৃশ্যের কথা বলা হচ্ছে। বলা হয়, করোনাভাইরাসটি মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হওয়ার আগেই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছিল। তারপর বছরের পর বছর বা সম্ভবত কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে ক্রমবিকাশের মাধ্যমে ভাইরাসটি শেষ পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ভয়াবহ প্রাণহানিকর রোগে পরিণত হয়।’ বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে তার একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এদিকে ইতালির এক গবেষকের দাবি, গত বছরেই চীনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। মিলানের মারিও নেগরি ইন্সটিটিউট ফর ফার্মাকোলজিক্যাল রিসার্চের পরিচালক গুয়েসেপ্পে রেমুজ্জি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে বলেন, গত বছরের নভেম্বরে ‘খুবই আশ্চর্য ধরনের নিউমোনিয়া’ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে। কীভাবে ইতালিতে এ ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তার ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। রেমুজ্জি বলেন, ‘যে রোগের কোনো অস্তিত্ব নেই তার বিরুদ্ধে লড়াই করা খুবই কঠিন। বর্তমানে করোনা সংক্রমিত শহর লম্বার্ডিতে নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্যে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। যে সময়ে উহানের মানুষও এ ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হয়নি।’ ৩১ ডিসেম্বর উহানের ডাক্তাররা রহস্যময় নিউমোনিয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। উহান ইন্সটিটিউট অব ভিরোলজির প্রধান শাই ঝেংলি ও তার দলের বিশেষজ্ঞরা জানান, চীন-মিয়ানমার সীমান্তের একটি পাহাড়ি গুহায় পাওয়া বাদুড় থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। চীনের গোয়াংঝউ ও হংকংয়ের পৃথক বিশেষজ্ঞ দলের দাবি, প্যাঙ্গোলিন নামের এক ধরনের প্রাণী থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. টমি ল্যাম বলেছেন, চীনে পাচার হওয়া মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের মধ্যে এমন দুই ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে, যা মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সরাসরি ‘হোস্ট’ হিসেবে প্যাঙ্গোলিনের ভূমিকা আরও নিশ্চিত হওয়ার দরকার আছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

কুষ্টিয়ায় সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হওয়া দুস্থ ও অসহায় মানুষের সহযোগীতায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ। সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল সোমবার দুপুর একটায় কোর্টপাড়া নারিকেল তলায় রিকশা চালক ও দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের এ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু এসব অসহায় ও দুস্থদের মাঝে চাউল, আলু ও নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন। এ সময় এ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিত্তবানদের যার যার অবস্থান থেকে সমাজের দুস্থসহ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে করোনাভাইরাস – রুহানি

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। পাশাপাশি করোনা মোকাবেলায় তার দেশের গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। রোববার ইরানের মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রুহানি এসব মন্তব্য করেন। খবর ইরনার। তিনি বলেন, ইরানি জাতি যখন নানা ভোগান্তি এবং কষ্টের মোকাবেলা করছ তখন করোনাভাইরাস ঐক্যের এক নতুন সফলতা বয়ে এনেছে যা আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে। ভোগান্তি এবং সমস্যা থাকা সত্ত্বে একটি যুগান্তকারী ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছে। রুহানি আরও বলেন, এ ঐক্যে আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং তা কোনোভাবেই হাত ছাড়া করা যাবে না। আমরা এমন একটি মূল্যবান সামাজিক সম্পদ খোঁজে পেয়েছি যার মাধ্যমে সবাই উপকৃত হতে পারি। করোনাভাইরাসে ইরানে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২৩৪ জনের। হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে। এমতাবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ মার্কিন আইনপ্রণেতারা তেহরানকে করোনা মহামারী মোকাবেলায় সহায়তা করার প্রস্তাব দেন। এর জবাবে দেশটির নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই।

দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে ৬ বাড়ি ভষ্মিভূত : আহত-৪

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকান্ড ঘটে ৬ বাড়ি ভষ্মিভূত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে ৪জন আহত হয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আগুনে ৬পরিবারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড় কলোনিপাড়া এলাকায় অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, কালদিয়াড় কলোনিপাড়া এলাকার সমিনের রান্না ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহুর্তের মধ্যে আগুন প্রতিবেশীদের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রন হলে আগুনে ভষ্মিভূত হয় মহসিন আলী, হায়দার আলী, মাহাবুল হোসেন ও মমিন আলীসহ ৬ জনের বাড়ি। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয় সুনেরা খাতুন (৪০), আসুরা (১৩), লুৎফর (২২) ও সায়েম (৫৫)। আগুনে ৬ পরিবারের প্রায় ১২ লক্ষ টাকার সম্পদ ভষ্মিভূত হয়েছে।