স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চযাত্রা নিরাপদ করার চেষ্টা চলছে – নৌ-প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে লঞ্চের ডেকে যাত্রীদের মার্কিং মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের দেশে লঞ্চের স্বাভাবিক নকশা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এজন্য করোনা এবং বন্যার মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চযাত্রা স্বস্তিদায়ক এবং নিরাপদ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দপ্তর ও সংস্থাসমূহের মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিপত্র (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। লঞ্চে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরাতো কখনও কল্পনা করিনি এ ধরনের ছোঁয়াচে রোগ আসবে। এখন বিভিন্ন লঞ্চ টার্মিনালে আমরা জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করেছি, যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লঞ্চ মালিকরাও বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে সব থেকে বড় কথা হচ্ছে আমাদের লঞ্চগুলোর নকশা করোনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ভবিষ্যতে যখন নতুন লঞ্চের অনুমোদন দেওয়া হবে তখন এ বিষয়গুলো দেখা হবে। আমরা যাত্রীদের বিনীত অনুরোধ করবো, বিশেষ করে ডেকের যাত্রীদের জন্য যে মার্কিং করে দেওয়া হবে, তারা যেন সেটা মেনে চলেন। বন্যা আরও বেশি হলে নৌ চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যত বেশি পানি হবে নৌকা তত ভাসবে। তবে তীর ভাঙা বা কোনো কারণে ফেরি চলাচলে সাময়িক অসুবিধা হলে তা দ্রুত ঠিক করা হবে।

দেশকে গরু-ছাগলের খোঁয়াড়ের মতো বানানো হয়েছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেছেন, সারাদেশকে গরু-ছাগলের খোঁয়াড়ের মতো বানানো হয়েছে, যেন কেউ প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে না পারে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২০ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকালে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরের আড়িয়াল বিলে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল মুন্সিগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে মৎস্য অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা করে, যা সে লিখে বা বলে প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশের মানুষকে গরু-ছাগলের খোঁয়াড়ে পরিণত করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন, এই ঘরের মধ্যে মানুষ বন্দি থাকলে আমার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলবে না। তিনি দিনের ভোট রাতে করেন। তিনি জনপ্রতিনিধি কাকে বানাবেন, সেটা আগেই ঠিক করে রাখেন। নির্বাচনের নামে সেটি ঘোষণা দেন মাত্র। প্রকৃত ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। সরকারের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম করছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করছে। এটি আজকে বর্তমান সরকার কেড়ে নিয়েছে। আজকে যদি আপনারা মতপ্রকাশের জন্য ফেসবুকে কিছু লেখেন, দিনে রাতে যে কোনো সময় সাদা পোশাকধারীরা আপনাকে তুলে নিয়ে যাবে। আজকে ভোটের অধিকার নেই। আজকে কথা বলার অধিকার নেই। মানুষের গণতান্ত্রিক যে অধিকারগুলো রয়েছে, সব কেড়ে নেয়া হয়েছে। সেটি ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে লড়াই করছি। এই লড়াই করতে গিয়ে আমি আপনিই শুধু কারাগারে যাইনি। দেশের কোটি কোটি মানুষের যিনি আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় দুই বছরের অধিককাল কারাগারে বন্দী করে রেখেছিলো। সরকারের রোষানলে পড়ে আজকে দেশছাড়া হয়েছেন সারাদেশে কোটি মানুষের নয়নের মণি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কথা বলেছেন বলেই তিনি আসলে দেশ ছাড়া। রিজভী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন আজকে যারা ক্ষমতায় আছেন তাদেরই পূর্বপুরুষেরা। তারা সেই সময়ে এই কাজগুলো করেছিলেন। সংবাদপত্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা। কয়েকটি পত্রিকা ছাড়া কোনো পত্রিকা চলতে দেননি। কথা বলা যাবে না। এক দল এক নেতা। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে এগুলো চালু করে দিয়েছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। বিএনপির এ সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমানের আরও একটি কাজ ছিল উন্নয়ন এবং উৎপাদনের রাজনীতি। দুই-একটা ফ্লাইওভার করে আওয়ামী লীগের নেতারা পকেট ভারী করে কানাডায় বাড়ি বানাবেন, সেকেন্ড হোম করবেন মালয়েশিয়ায়, এটা জিয়াউর রহমানের নীতি ছিল না। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মৎসজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাব, সদস্য সচিব আবদুর রহিম, মৎস্যজীবী দল মুন্সিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন সামি প্রমুখ।

সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানের হবে শাহজালাল বিমানবন্দর – কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানের একটা বিমানবন্দর করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল ভবনের ফাউন্ডেশনের স্টিল পাইলের পরিবর্তে বোর্ড পাইলস ব্যবহারের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি নির্মাণ হলে সারা বিশ্বের কাছে বলতে পারবো আমাদেরও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর আছে। গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ-সংক্রান্ত দুটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের বাইরে থাকায় সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে জুম প্লাটফর্মের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দুইটি প্রস্তাবের মধ্যে একটি হলো, কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের লক্ষ্যে ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবটি অনেক বড় একটি প্রস্তাব। আমাদের প্রাধিকার প্রকল্পের একটি। প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তর করে পর্যটকদের আকষর্ণের স্থান হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য ১৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫০ টাকার একটি প্রকল্পে সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ঠিকাদারির কাজটি পেয়েছে চায়নার সিআরসি কোম্পানি। বৈঠকে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হচ্ছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৩য় টার্মিনাল ভবনের ফাউন্ডেশনের স্টিল পাইলের পরিবর্তে বোর্ড পাইলস ব্যবহারের ভেরিয়েশন বা কার্যবিধি পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের অহংকারের একটি প্রকল্প। আমরা চাচ্ছি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানের একটা বিমানবন্দর হোক। এই বিমান বন্দরটির ৩য় টার্মিনালটি নির্মাণ হলে সারা বিশ্বের কাছে বলতে পারবো আমাদেরও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর রয়েছে। জানা গেছে, ২০১৫ সালে শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টার প্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যায়। ২০১৭ সালে ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। নির্মাণ কাজে অর্থায়ন করবে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এ ছাড়া সব ধরনের সাপোর্ট দেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ৪ বছর। থার্ড টার্মিনালের ভবন হবে তিন তলা। ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই ভবনটির নকশা করেছেন স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনি এনওসিডি-জেভি জয়েন্ট বেঞ্চার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন (প্রাইভেট) লিমিটেডের (সিঙ্গাপুর) স্থপতি। থার্ড টার্মিনালের বহির্গমনের জন্য ১৫টি সেলফ সার্ভিস (স্ব-সেবা) চেক ইন কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার থাকবে। এছাড়া, ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ মোট ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে। আগমনীর ক্ষেত্রে ৫টি স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট এবং ১৯টি চেক-ইন অ্যারাইভেল কাউন্টার থাকবে। টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে। অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য ৪টি পৃথক বেল্ট স্থাপন করা হবে। তৃতীয় টার্মিনালে সঙ্গে বর্তমান টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে প্রকল্পের প্রথম ধাপে কোনও যোগযোগ ব্যবস্থা থাকবে না। তবে প্রকল্পের ২য় ধাপে কানেকটিং কোরিডোরের মাধ্যমে পুরোনো টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তৃতীয় টার্মিনালে সঙ্গে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং বিল্ডিং ভবন নির্মাণ করা হবে, সেখানে ১ হাজার ৪৪টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে ভিভিআইপিদের জন্য শাহজালালে পৃথক ভিভিআইপি কমপ্লেক্স রয়েছে, সেটি ভেঙে ফেলা হবে। তবে, তৃতীয় টার্মিনালে পৃথকভাবে স্বতন্ত্র কোনো ভিভিআইপি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে না। তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের অভ্যন্তরে দক্ষিণ পাশে সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ভিভিআইপি স্পেস থাকবে।

সুন্দরবন রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই – পরিবেশমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বাঘ সুন্দরবনের রক্ষক। এই বাঘের উপস্থিতির কারণেই সুন্দরবন এত বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয়। সুন্দরবনে বাঘ না থাকলে সেখানকার সামগ্রিক ইকোসিস্টেম ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা তথা ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে দেশকে বাঁচাতে সুন্দরবনের বিকল্প নেই। কাজেই সুন্দরবন তথা বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে বাঘ সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সুন্দরবনে বাঘের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার ‘বাঘ বাড়াতে করি পণ, রক্ষা করি সুন্দরবন’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২০ উপলক্ষে অনলাইন আলোচনা সভায় সরকারি বাসভবন হতে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে প্রায় ১১৪টি বাঘ রয়েছে। বন উজাড় ও অবৈধ শিকারের ফলে বাঘ বিশ্বে ‘বিপদাপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রকৃতিতে বিদ্যমান বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৮৯০টি। বাঘ বিশেষজ্ঞদেরর মতে, বাঘের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার এই প্রবণতা চলমান থাকলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে বাঘ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবাসস্থলের উন্নয়ন ও নিয়মিত টহল প্রদান করে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যথোপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার বাঘের আবাসস্থল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে সুন্দরবনের প্রায় ৫২% এলাকা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উভয় সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ, বাঘ ও শিকারী প্রাণী পাচার বন্ধ, দক্ষতা বৃদ্ধি, মনিটরিং ইত্যাদির জন্য ২০১১ সালে একটি সমঝোতা স্মারক এবং একটি প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী বাঘ ও হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর শিকারীদের শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে। সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে টাইগার কোঅর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণে জানমালের ক্ষতিগ্রস্ত ৫৯টি পরিবারের মধ্যে ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। শাহাব উদ্দিন বলেন, বাঘ সংরক্ষণের জন্য দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৮-২০২৭ প্রণয়ন করেছে। লোকালয়ে বাঘ আসামাত্র খবরাখবর আদান-প্রদান ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুন্দরবনের চারপাশের গ্রামগুলোতে বনবিভাগ ও স্থানীয় জনসাধারনের সমন্বয়ে টাইগার রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে নিয়মিত স্মার্ট প্যাট্রোলিং কার্যক্রম চলছে। বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. মো. বিল্লাল হোসেন। উল্লেখ্য, বাঘ টিকে আছে বিশ্বে এমন ১৩টি দেশে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে গত ৩ বছরে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে ১১৪টি হয়েছে। অর্থাৎ ৩ বছরে সুন্দরবনের বাঘ বেড়েছে ৮টি। গত বছরের ২২ মে সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে ১১৪টি বাঘ রয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাকিং জরিপের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হয় বন বিভাগ। বিগত সময়ের থেকে বর্তমানে সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য কমে যাওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি তাদের। বাংলাদেশে বাঘের একমাত্র আবাসস্থল সুন্দরবনকে দিনের পর দিন অরক্ষিত করে ফেলায় চরম হুমকির মধ্যে ছিল দেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার। যদিও বর্তমানে এই অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অথচ রাশিয়ার সেন্টপিটার্সবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে প্রেক্ষিতে সুন্দরবন সন্নিহিত জেলা বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্গত সুন্দরবনে বসবাসকারী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা তেমনটি বাড়েনি। সর্বশেষ বাঘ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে ১১৪টি বাঘ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সুন্দরবনের ঘনত্ব অনুযায়ী কমপক্ষে ২০০টি বাঘ থাকার কথা। মানুষের তৎপরতা তথা অবৈধ শিকার, খাবারের অভাব ও প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগসহ সুন্দরবনের ভেতরে নদীতে নৌযান চলাচল এবং বনের পাশে শিল্প অবকাঠামো নির্মাণ বাঘের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ‘বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই প্রকাশিত ক্যামেরা পদ্ধতীতে বাঘ গণনার জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ওই সময় ভারত-বাংলাদেশ মিলে পুরো সুন্দরবন জুড়ে বাঘের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছিল ১৭০টি যা এর আগের শুমারি থেকে ২৭০টি কম। অথচ ২০০৪ সালে বন বিভাগ এনএনডিপির সহায়তায় প্রথমবারের মতো বাঘের পায়ের ছাপ গুণে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করেছিল ৪৪০টি। দু’বছর পর ২০০৬ সালে ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করে এর সংখ্যা নির্ধারণ করে ২০০টি। ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। গত বছরের ২২ মে সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে ১০৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বন বিভাগের হিসেবে ৫৩টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে মাত্র ১৫টি। লোকালয়ে ঢুকে পড়া ১৪টি বাঘকে পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা, একটি নিহত হয়েছে ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে ও বাকি ২৫টি বাঘ হত্যা করেছে চোরা শিকারিরা। অধিক মুনাফার আশায় বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, চামড়া, হাড়, দাঁত, নখ পাচার ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। আর এটি দেশ ও দেশের বাইরে চলে যেত চোরকারবারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। তবে আশার খবর হচ্ছে সুন্দরবনে একের পর এক বনদস্যুদের আত্মসমর্পণে বাঘ নিধন কমে এসেছে। সুন্দরবনে চোরা শিকারির পাশাপাশি বাঘের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে বাঘ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এ অবস্থায় হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ২০৭০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বাঘের জন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা থাকবে না। কেননা বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধিসহ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সুন্দরবনে টিকে থাকা কয়েকশ বাঘ বিলীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই অবস্থায় সুন্দরবনে বাঘের আবাসভূমি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

জনগণ বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল থেকে পরিত্রাণ চায় – ন্যাপ

ঢাকা অফিস ॥ বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে ধরনা দিয়েও গ্রাহকরা ভুতুড়ে বিলের বিষয়ে সঠিক সমাধান পাচ্ছেন না। ফলে দুর্ভোগ তাদের পিছু ছাড়ছে না। জনগণ বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল থেকে পরিত্রাণ চায়। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন। নেতৃদ্বয় বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভোগান্তি চলছে করোনাকাল শুরুর পর থেকে। পরপর দুই মাস বিদ্যুতের মিটার রিডাররা গ্রাহকদের বাসায় যাননি। ঘরে বসেই আনুমানিক বিল করেছেন। অবশ্য পরে এগুলো সমন্বয় করা হলেও আবারও বহু গ্রাহক নতুন করে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তারা বলেন, সরকারের নানা ঘোষণা, তদন্ত কমিটি, গণশুনানি কোনো কিছুতেই ভুতুড়ে বিল থেকে নিস্তার মিলছে না। অভিযোগের পর বিতরণ কোম্পানি কিছু গ্রাহকের বিল সমন্বয় করলেও দুর্ভোগের শেষ নেই। সারাদেশে বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের ওপর মনগড়া ভুতুড়ে বিল চাপিয়ে দেয়ায় মধ্য দিয়ে জনগণকে দুঃসহ কষ্টের মধ্যে নিপতিত করছে। নেতৃদ্বয় বলেন, করোনাকালে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ প্রায় আয়হীন। অনেক চাকরিজীবী তাদের কর্ম হারিয়েছেন নতুবা পূর্বের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অধিকাংশ মানুষের সাধারণ জীবনযাপনেও নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর অব্যাহত এ আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়।

আলমডাঙ্গায় নেতাকর্মিদের মতবিনিময় সভায় এমপি ছেলুন

প্রত্যেক ইউনিয়ন নেতাকর্মিদের মাঝে মাস্ক ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরণ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন আলমডাঙ্গা উপজেলা ও  পৌর আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। গতকাল  বেলা ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনুর  সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছেলুন এমপি বলেন- দেশে দিনকে দিন করোনার প্রকোপ বেড়েই চলেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরসহ সকল উপজেলা রেড জোন ঘোষনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বৃহত্তর আলমডাঙ্গা উপজেলায় করোনা সংক্রমন বেড়েই চলেছে, এরই মাঝে প্রায় ৫/৬ জন মৃত্যুবরন করেছে, সরকার করোনা মোকাবেলায় সবদিক দিয়ে প্রস্তুত আছে। যারা ইতোমধ্যে মৃত্যুবরন করেছেন, তাদের আত্বার শান্তি কামনা করছি। প্রায় সাড়ে চার মাস আমাদের সকলে করোনার কারনে অস্বাভাবিক জীবন কাটাতে হচ্ছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা সকলে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলুন, মুখে মাস্ক ব্যবহার করবেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচক্ষনতার সাথে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন। সামনে পবিত্র কোরবানীর ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে বহু মানুষ গরু, ছাগল ক্রয় করতে পশু হাটে যাবেন, সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হবে,তাই সকলকে সাবধান থাকতে হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জেলায় অনলাইনের মাধ্যমে গরু বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়াও পশু হাট খোলা থাকলে আপনারা বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন। সভায় প্রধান অতিথি এমপি ছেলুন উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি, সম্পাদকদের হাতে ৫শ’ মাস্ক ও ১ শ করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করেন। সভায় বিশেষ অতিথি অতিথি ছিলেন,  জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যাবসায়ি আলহাজ্ব লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, খন্দকার শাহ আলম মন্টু, হামিদুল ইসলাম, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, কাজী খালেদুর রহমান, আতিয়ার রহমান, পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য আবু মুছা, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আবু হোসেন আবু, মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু, জেলা পরিষদ সদস্য আসাবুল হক ঠান্ডু, মকবুল হোসেন মাষ্টার, মাসুদ রানা তুহিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা দিদার আলী, রাহাব আলী, আব্দুর রাজ্জাক, ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ পিন্টু, আসিকুর রহমান ওল্টু, তরিকুল ইসলাম, শামিম আহম্মদ, হাফিজুর রহমান বাবলু, ডাঃ অমল কুমার বিশ্বাস, নুরুল ইসলাম দিপু, সোনা উল্লাহ, খন্দকার মজিবুল, আক্তারুজ্জামান ঠান্ডু, আব্দুল হান্নান, মাসুদ রানা তুহিন, এমদাদ  হোসেন, মাহমুদ হাসান চঞ্চল, কামাল উদ্দিন, পরিমল কুমার ঘোষ, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ  নেতা, জয়নাল আবেদিন, পৌর আওয়ামীলীগের, ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল হক তবা, সাংবাদিক, প্রশান্ত বিশ্বাস, শরিফুল, ছাত্রলীগ নেতা মিজান, সাকিব, হাসান, রকি, বাদশা প্রমুখ।

মেহেরপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু – যুবক আহত

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের মাঠে বজ্রপাতে একরামুল হক (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় পলাশ হোসেন (২৫) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। নিহত একরামুল রাজনগর গ্রামের এনার আলীর ছেলে। আহত পলাশ একই গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজনগর গ্রামের বেলের মাঠে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।  স্থানীয়রা জানান বিকেলে আকাশে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সময় একরামুল তার মরিচের ক্ষেতে কীটনাশক (বিষ) দিচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি বজ্রপাত তার শরীরে আঘাত করলে, সে গুরুতরভাবে আহত হন। ওই সময়ে পাশের ক্ষেতে পলাশ নামের এক যুবক কাজ করার সময় বজ্রপাতে সেও আহত হয়। মাঠের অন্যান্য কৃষকরা আহত দু’জনকে উদ্ধার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে,কর্তব্যরত চিকিৎসক একরামুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পলাশ হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন। মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

করোনাকালীন শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে সেনাবাহিনী

করোনাকালীন কোন জনসমাগম নয়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন গৃহবন্দী জীবন যাপনে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২৯ জুলাই সেনাসদস্যরা নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্থানীয় বাজার/বিপনী বিতানগুলোতে মাইকিং এর মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। শেষ মুহুর্তে কোরবানির পশুর হাটে জনসমাগম বেশি হওয়ায়  সেনাসদস্যরা সেখানেও তাদের নজরদারি বৃদ্ধি এবং হাঁটে আসা ক্রেতা/বিক্রেতাদেরকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড  গ্লোবস এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও গণপরিবহন মনিটারিং, অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ, নগদ আর্থিক সহায়তা ও বীজ বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত  রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ নানাবিধ জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। যশোর সেনানিবাস সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় নয়, জাতীয় যে কোন দুর্যোগ  মোকাবেলায় সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে মানবিক হৃদয় দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মেহেরপুরে হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়ের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে (তৃতীয় লিঙ্গ) হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়ের দুস্থ্যদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এলাকার অর্ধ শতাধিক মানুষের মাঝে এসব বিতরণ করা হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে মেহেরপুর পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। মেহেরপুর পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) ও জেলা পুলিশ -এর উদ্যোগে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর পুনাক সভাপতি ও পুলিশ সুপারের পতœী তাহেরা রহমান। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মোরাদ আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুনাক সদস্যবৃন্দ।

আমাকে কেউ পছন্দ করে না – ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচির উচ্চ জনসমর্থন হারের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, এরপর রসিকতা করে বলেছেন ‘আমাকে কেউ পছন্দ করে না’। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রতি নিজের সমর্থনের পক্ষে কথা বলার সময় ফাউচির প্রসঙ্গ আসে। ফাউচি ট্রাম্পের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের অন্যতম সদস্য। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং সংক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষায় অনেক আমেরিকান তার পরামর্শ আন্তরিকতার সঙ্গে অনুসরণ করে।  অপরদিকে ট্রাম্প মহামারী যেভাবে সামলানোর চেষ্টা করেছেন তা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এতে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন তিনি। ভোটারদের মধ্যে নিজের অবস্থানের উন্নতি ঘটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। করোনাভাইরাস চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মত অধিকাংশ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের, কারণ এই ওষুধ ব্যবহারে হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশ কিছু গবেষণার ফলাফলে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন গত মাসে জরুরিক্ষেত্রে ওষুধটি ব্যবহারের অনুমোদন বাতিল করেছে। তারপরও ট্রাম্প বলেছেন, তিনি অনুভব করেছেন ওষুধটি করোনাভাইরাস সংক্রমণের ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’ কাজ করে। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ও তার প্রশাসন যেভাবে করোনাভাইরাসের মোকাবেলা করছেন তাতে তাদেরও প্রশংসা পাওয়া উচিত, শুধু ফাউচি বা টাস্ক ফোর্সের অপর বিশিষ্ট সদস্য ডেবরা বার্ক্সের নয়। “তিনি আমাদের প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছেন আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা অনেক বেশি করেছি, সে এবং অন্যরা, ড. বার্ক্স এবং অন্যরা, তারা চমৎকার, অনুমোদন করছি; আর উচ্চ জনসমর্থন পেলেন তিনি। তাই কেন ভাইরাসের বিবেচনায় আমার ও প্রশাসনের উচ্চ জনসমর্থন নেই? আমাদের অনেক উচ্চ (জনসমর্থন) থাকা উচিত,” বলেন ট্রাম্প। “তাই এই বিষয়টি কৌতুহলজনক, একজন ব্যক্তি আমাদের জন্য কাজ করলেন আর এখন সবাই তাদের নিয়ে ভাবে আর আমাকে কেউ পছন্দ করে না। এটি কেবল আমার ব্যক্তিত্বের জন্য হতে পারে,” বলেন তিনি। সম্প্রতি করোনাভাইরাস মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রে ফের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এতে সংকটের সর্বোচ্চ পর্যায় দেশটি পার করে এসেছে এমন আশা মিইয়ে গেছে। করোনাভাইরাস সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং লাখ লাখ লোক বেকার হয়ে পড়েছেন মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় চারটি রাজ্য রেকর্ড সংখ্যক দৈনিক মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। মহামারীতে পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিষয়ে সহতম ও কোন বিষয়ে তার দ্বিমত আছে, তা খোলাখুলি বলে আসছেন ড. ফাউচি। এ কারণে হোয়াইট হাউসের ভিতরে তাকে নিয়ে বিতর্ক আছে।

ঝিনাইদহে ভিজিএফ চালের স্লিপ জাল করে ধরা খেল ইউপি মেম্বর

মেহেদী হাসান কনক ॥ হতদরিদ্র সাগরী খাতুন ভিজিএফ চালের স্লিপ পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে চাল নিতে আসেন ঝিনাইদহ সদরের হলিধানী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে। তিনি তার কার্ডটি প্রদর্শন করা মাত্রই তা জাল বলে প্রমানিত হয়। সাগরী খাতুনের বাড়ি ওই ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে। এ রকম একাধিক দরিদ্র মানুষকে জাল স্লিপ দেওয়ার কারণে তারা চাল পাননি। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন হলিধানী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। তিনি জানান আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে সরকার প্রদত্ত ১০ কেজি ভিজিএফ চালের স্লিপ ইউপি মেম্বরদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার হলিধানী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে এ রকম কিছু জাল ভিজিএফ স্লিপ ধরা পড়ে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। তিনিও ঘটনার সত্যতা পান। ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বর গোলাম কিবরিয়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানান, তিনি মাত্র ৬টি এ রকমন জাল স্লিপ দিয়েছেন। কিবরিয়া মেম্বর এও উল্লেখ্য করেন জাল স্লিপের কারণে চালের কমতি হলে তিনি কিনে দিবেন। অভিযোগ উঠেছে গোলাম কিবরিয়া মেম্বরের সাথে হলিধানী বাজারের কিছু অসাধু কম্পিউটারের দোকানদার এই জাল স্লিপ তৈরীর সাথে জড়িত। তাদের সাথে যোগসাজস করে এ রকম স্লিপ বিতরণ করা হয়েছে। এলাকাবাসি আরো জানায়, বাজারে এ ধরণের কাজ করার জন্য একটি চক্র গড়ে উঠেছে। অনেকের অভিযোগ স্থানীয় সংসদ ডিজিটাল স্টুডিওর মালিক আব্দুল হান্নানের দোকান থেকে এ সব জাল স্লিপ তৈরী করা হয়েছে। তবে হান্নান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে ইউপি মেম্বর গোলাম কিবরিয়া নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার কারণে চালের ঘাটতি দেখা দিলে আমি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে চাল কিনে দিতে চেয়েছি।

স্মাইল ফর অল সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

আল-মাহাদী ॥ বৃক্ষরোপণ হোক সামাজিক আন্দোলন এই  স্লোগানে তৃতীয় বারের মতো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সিজন ৩ এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীক সংগঠন স্মাইল ফর অল এসএফএ। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের বৃক্ষ সহযোগিতায় এবারের ফলজ, বনজ ও ভেষজ মিলিয়ে বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজারটি চারা। এদিকে গত ২৬ জুলাই সংগঠনটি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ইউনিয়ন ভিত্তিক শাখা দৌলতপুর ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণের শুভ উদ্বোধন করে৷ উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মহিউল ইসলাম,  দৌলতখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতি সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল আযম (বিকো), উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ডেসকো ও বিশিষ্ট সমাজসেবী ইঞ্জিঃ মোঃ শাকিল খান এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর তানজিন হাসান শাহিন, দৌলতপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক মোঃ খাইরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন স্মাইল ফর অল এর প্রতষ্ঠাতা ও পরিচালক আকাশ বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এসএফএ’র কেন্দ্রীয় শাখার সহ-সভাপতি আল বুখারী অনিক, সাধারণ সম্পাদক টুটুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অন্তর,  পিয়ারপুর ইউনিয়ন জোনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা, মরিচা ইউনিয়ন জোনের আহ্বায়ক জীবন হোসেন। দৌলতপুর শাখা আহ্বায়ক মো. মাহাবুল আলম তামিম  যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদ মাহমুদ শিমুল, শাহেদ, সোহানুর রহমান, তাজনিন নাহার তন্নি, মাহমুদ, শিবুল, রেখা, তারিক, তানিম,  সেলিম, মনিরুল, মাহমুদুল হাসান রনিসহ শাখার একাধিক সদস্য  স্বেচ্ছাসেবক স্বেচ্ছাসেবক ও সদস্য। ইতিমধ্যে সংগঠনটি কুষ্টিয়া জেলার  ভেড়ামারা, মিরপুর ও দৌলতপুর উপজেলার মোট সাতটি ইউনিয়নে স্থানীয় সুধিজনদের উপস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ শুরু করেছে। এদিকে ভেড়ামারা ও মিরপুর ইউনিয়ন থেকে এসএফএ’র সাথে বৃক্ষরোপণে একত্মা প্রকাশ করে বৃক্ষরোপণ করেছে দুইটি পৃথক সংগঠন প্রতিধ্বনি ও স্বপ্ন সিড়ি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন৷ বৃক্ষরোপণ শেষে গাছ গুলি রক্ষণাবেক্ষণ এর জন্য বেড়ার ব্যবস্থা করেছে প্রতিটি শাখা।

ভেড়ামারায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ১২ মাইলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় সিএনজি ও ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ১জন নিহত হয়েছে। গুরুতরভাবে ৪ জন আহত হয়েছেন।

মর্মান্তিক এই দূর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে সিএনজি ড্রাইভার হাবিবুর রহমান তুহিন।  সে মিরপুর উপজেলার বহুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেব নগর গ্রামের মৃত আলী আনছার’র ছেলে। ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস এর সদস্যরা আহত ৪ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এই মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে  ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে যানজট’র সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজালাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং যানজটমুক্ত করেন। আহতরা ব্যক্তিরা হলেন আশরাফুল, কামাল, করিম দেওয়ান, আলিম কাজি, বাবু। প্রত্যেকের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাঁচনেয়া গ্রামে।

করোনাকালীন বহুমূখী কার্যক্রমে যশোর সেনানিবাস

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিটি জেলা-উপজেলাসহ গ্রামপর্যায়েও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন।  এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২৮ জুলাই মঙ্গলবার করোনা মোকাবেলায় বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সেনাসদস্যদের জনসচেতনতামূলক সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম চোখে পড়ে। এদিকে করোনার প্রভাবে থমকে যাওয়া অসহায় মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, খাদ্য সংকট মোকাবেলায় বীজ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয়সহ সকল প্রকার জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের সকল  কার্যক্রমে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত  রেখেছে সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায়  বেড়িবাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ নানাবিধ জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা।

 

বাংলাদেশের অর্থায়নে নেপালে নির্মিত হবে বৌদ্ধ মন্দির

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের অর্থায়নে নেপালের লুম্বিনীতে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করা হবে। এ লক্ষ্যে নেপালের লুম্বিনীর ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মন্ত্রিসভার সংশ্লিষ্ট সদস্যরা এ সময় যুক্ত ছিলেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এটি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে এসেছে। লুম্বিনী ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট গৌতম বুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা। এই স্থানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের সঙ্গে একটি যোগসূত্র রয়েছে। সেখানে একটা আশ্রম বা প্যাভিলিয়ন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ থেকে আবেদন করার পর তারা একটা প্লট দিয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এটি প্রসেস হয়েছে। বাংলাদেশের বৈধ আশ্রম নির্মাণ, প্যাভিলিয়নের খরচ বহন করতে হবে এই শর্তে দেওয়া হয়েছে। এজন্য মোট ৫১ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫২৭ টাকার প্রয়োজন হবে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লুম্বিনী ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট ডিজাইনসহ সব কার্যক্রমে রাজি হয়েছে এবং অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু এটা অন্য দেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সে কারণে মন্ত্রিসভায় এসেছে এবং মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।

সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছে না সরকার – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ ভারতীয় সীমান্তে প্রতিদিন বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করা হলেও সরকার প্রতিবাদ জানাতে সাহস পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে (অনলাইন) তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, একদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে, অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্রমাগত বাংলাদেশের মানুষ চরম দুর্ভোগে। একদিকে করোনা মোকাবিলায় সরকারের চরম ব্যর্থতা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলেছে অন্যদিকে ভারতের উজান থেকে বন্যার পানি নেমে আসাতে মানুষের সম্পদ, বাড়ি-ঘর ভেঙে যাওয়া, গবাদিপশুর মৃত্যু, ফসলহানি, দেশের মানুষ সীমাহীন কষ্ট ও অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের মধ্যে ফেলেছে। তিনি বলেন, ভারত অভিন্ন নদীগুলোর সকল বাঁধ ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ায় উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি, বাংলাদেশে ব্রক্ষ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, মহানন্দ, পদ্মা, তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় ৩৪টি জেলা ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি জেলায় এক মাসের মধ্যে ২/৩ বার বন্যার পানি উজান থেকে এসে বাড়ি-ঘর, ফসলের ক্ষেত ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ভারতের সঙ্গে যে অভিন্ন নদী প্রায় ১৫৪টি একমাত্র পদ্মার ফারাক্কা বাঁধ ব্যতীত কোনোটারই কোনো পানি বণ্টন চুক্তি ভারতের অনীহার কারণে সম্পন্ন হয়নি। তিস্তা চুক্তির কথা এই সরকার ফলাও করে প্রচার করলেও গত এক দশকে কোনো চুক্তিই করতে সক্ষম হয়নি। অথচ একের পর এক ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার, বিদ্যুৎ ক্রয়সহ অসংখ্য অসমচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অন্যদিকে সীমান্তে প্রায় প্রতিদিন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করছে। সে বিষয়েও সরকার কোনো কার্যকরী প্রতিবাদ জানাতে সাহস পায়নি। এই সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রায় প্রতি বছর বাংলাদেশের নদী অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষেরা এই বন্যায় আক্রান্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ভারত বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়েছে।

আগামীকাল নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত অর্থনীতি। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে বেসরকারি ঋণ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগামীকাল বুধবার ২০২০-২১ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারের মুদ্রানীতিকে বলা হবে প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতি সহায়ক। মহামারির কারণে এবার ভার্চুয়ালি মুদ্রানীতি ঘোষণা হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগে বছরে দুইবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করত। ছয় মাস অন্তর এই মুদ্রানীতি একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি জানুয়ারি মাসে। কিন্তু গত বছর থেকে অর্থবছরের সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য বছরে দুবার নয়, একবার মুদ্রানীতি ঘোষণার নিয়ম চালু করা হয়েছে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এদিকে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরইমধ্যে নানা কর্মসূচি নিয়েছে। বিশেষ করে প্রণোদনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প, বড় শিল্প ও সেবা খাত, রফতানি ও কৃষিসহ সব পর্যায়ে উৎপাদন ঠিক রাখতে ঋণ জোগান বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় কম সুদে ঋণের জন্য কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। এসব তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান ঠিক রাখা অন্যতম লক্ষ্য। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার নির্ধারিত ৮ দশমিক ২০ শতাংশের কাছাকাছি জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন এবং মূল্যম্ফীতি ৫ দশমিক ৪০ শতাংশে সীমিত রাখার লক্ষ্যকে সামনে রেখে মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর প্রাক্কলন করা হবে নতুন মুদ্রানীতিতে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। কিন্তু তা অর্জন হয়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হয় ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগের অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

স্বাস্থ্যখাতে বাইরের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বেশি – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্যখাতে বাইরের পদক্ষেপ ও হস্তক্ষেপ বেশি বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সঙ্গে অধীনস্থ দফতর ও সংস্থার বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) শেষে বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, যেখানে আমরা অন্যায় দেখছি, সেখানে আমরা ছাড় দিচ্ছি না, এটা আপনারাও দেখছেন। দুটি প্রতিষ্ঠান অন্যায় করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যেখানে এটা দেখা দেবে সেখানেই আইনের আওতায় আনা হবে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের নজরে এসেছিল, আমরা সেখানে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলেছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে যেটা দেখা যাবে অন্যায়… আমরা চেষ্টা করব… এটা একবারে ফেরানো যায় না…গোটা সমাজের দায়িত্ব আছে। সমস্যা এক জায়গায় না, সমস্যা সব জায়গায় রয়েছে। সব জায়গায় শুদ্ধ হওয়া দরকার। তিনি বলেন, যে সাপ্লাইয়ার তারও অনেস্ট (সৎ) হওয়া উচিত। যে বায়ার (ক্রেতা) তারও অনেস্ট হওয়া উচিত। আমরা যারা বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করি, তাদেরও আমি বলবো ইন্টারফেয়ারেন্সটা (হস্তক্ষেপ) কম করা। জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যখাতে বাইরের হস্তক্ষেপ, বাইরের ইনফ্লুয়েন্সটা (প্রভাব) অনেক বেশি। এটা কমাতে হবে। এটা কমানো হলে আমরা আরো ভালোভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবো।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। গতকাল সোমবার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডির-৩২ নম্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবেক লীগের সভাপতি নিমল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, সংগঠেনর নেতা গাজ মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ম. জাহাঙ্গীর, আবদুল আলিম, এ কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল প্রমুখ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতারা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি জাতির পিতার সমাধি সৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের প্রেসিডেন্ট মনিরা রওশন ইকবাল। পরে তারা সূরা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার, বিএনএফডব্লিউএ খুলনা শাখার চেয়ারম্যান ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে নৌপ্রধান জাতির পিতার স্থানীয় বাড়ি, জাদুঘর ও লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে ২৫ জুলাই তাকে নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর

বন্যা শেষে কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচি নেয়ার নির্দেশ 

ঢাকা অফিস ॥ চলমান বন্যা শেষে সময়মতো কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচি নেয়ার উপর সংশ্লিষ্টদের জোর দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে বন্যা নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নির্ধারিত বিষয়ে বন্যা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উনি আমাদের জানিয়েছেন বন্য যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, সম্ভাবনা আছে, সেক্ষেত্রে আমরা কীভাবে এটাকে মোকাবিলা করব। এজন্য ফিল্ড লেভেলে ইন বিল্ড (মাঠ পর্যায়ে তৈরিই আছে) একটা ম্যাকানিজম আছে তারপরও একটা এক্সট্রা এফোর্ড দেয়া হচ্ছে, বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া আছে, কারণ হলো- একটা অ্যাপ্রিহেনশন (উদ্বেগ) আছে যে পানি নামতে একটা দেরি হতে পারে। যদিও এখন পানি নেমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেডিকশন আছে যে, বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের দৃশ্যপট আছে তাতে বঙ্গোপসাগরসহ কতগুলো সাগরের কথা বলেছে, সেখানে পানির উচ্চতা এই সময়টাতে বেড়ে যাচ্ছে। সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে সেক্ষেত্রে পানি নামার ফ্লো কমে যাবে। ভাদ্র মাসের প্রথম থেকে হয়তো একটু লংগার পিরিওড পানি স্ট্যাগার হয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের প্রিপারেশন রাখতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন দিয়ে দিয়েছেন, যত রকমের সাহায্য সহযোগিতা মানুষের দরকার সবগুলো করতে হবে। কোভিডের এই সময় যেহেতু বন্যা তাই একটু বেশি কেয়ারফুল থাকতে হবে। অলরেডি প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ে যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করেন তারা অবশ্যই সেখানে থাকবেন। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পুনর্বাসন প্রোগ্রামগুলো যেন খুব ভালো হয়, খুব এফেকটিভলি হয়, টাইমলি হয়- সেটার বিষয় মন্ত্রিসভা বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী জোর দিতে বলেছেন। বন্যায় আমনের ক্ষতি হলেও পলির কারণে বন্যার পরের সুফলটা নিতে কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজারদের নির্দেশনা দেয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, উঁচু এলাকায় আমনের ফলন ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী মহোদয় এটা ডিটেইলস এক্সপ্লেইন করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে ইন্সট্রাকশন দিয়েছেন, রোপা আমনে যেন আমরা খুব অ্যাটেনটিভ থাকি। এর পুরো সুযোগটা যদি আমরা নিতে পারি তবে বোরোতে যে এক্সেস প্রোডাকশন হয়ে গেছে, আশা করা যাচ্ছে আমন ও রোপা আমন মিলে আমাদের উৎপাদন ভালো হলে সেক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটা বড় হাতিয়ার হবে। খাদ্যদ্রব্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ আছি। যেখানে যেখানে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র পর্যাপ্ত নয় সেখানে আমি নিজে নির্দেশনা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেও দিয়েছেন ওই এলাকাতে স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় লোকজন আশ্রয় নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বিশেষ করে করে গরু বাছুরকে যে ভ্যাকসিন দেয়ার সেগুলো যেন সব রেগুলার দেয়া হয়। এগুলো অলরেডি সুপারভিশন করা হচ্ছে, ইন্সট্রাকশন দেয়া হচ্ছে। কোভিডের কারণে ত্রাণ সরবরাহের জন্য সরকারের প্রস্তুতি ছিল জানিয়ে খন্দকার আনোয়ার বলেন, সবকিছু ওপেন করে দেয়ায় ত্রাণের চাহিদা কমে গেছে। ভালো একটা রিলিফ আমাদের কাছে মজুত আছে। ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বন্যায় ৩১ জেলার প্রায় ৪০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।