সততার পরিচয়…

সাহাজুল সাজু ॥ প্রবাদ আছে যে, টাকা দেখলে কাঁঠের পুতুলও হাঁসে করে। কিন্তু অন্যের ব্যক্তির হারানো প্রায় ২ লক্ষ টাকা পেয়েও এ প্রবাদের ভিন্নতা দেখিয়ে সততার পরিচয় দিলেন এক কাউন্টার মাস্টার। জানা যায়, মেহেরপুর সদর উপজেলার উত্তর শালিকা গ্রামের মৃত ইয়ার আলীর ছেলে হায়দার আলী (৫২) ও কুলবাড়িয়া গ্রামের হারেজ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৫০) চট্টগ্রামে তাদের সবজি বিক্রি শেষে গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হানিফ এন্টার প্রাইজ নামক দূরপাল্লার বাসে গাংনী উপজেলা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসটি গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের হানিফ কাউন্টারে পৌঁছায়। এ সময় হায়দার ও হাবিবুর সবজি বিক্রয়ের ১লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা একটি ব্যাগে করে বাসের ছিটে রেখে ল্যাট্রিনে যান। তারা ল্যাট্রিন থেকে ফেরার আগেই বাসটি গাংনী কাউন্টারের উদ্দেশে রওনা হয়। বাসটি ঘণ্টাখানেক পর গাংনী কাউন্টারে পৌঁছায়। বাসটির সুপারভাইজার লক্ষ্য করেন যে, বাসের ছিটে মানুষ না থাকলেও ২টি ব্যাগ রাখা আছে। এ সময় সুপারভাইজার ব্যাগ দুটো কাউন্টার মাস্টার মোকাদ্দেস আলীর কাছে দেন। কাউন্টার মাস্টার কৌতুহলবশত ব্যাগ দুটো খুলে দেখে যে, ওই ব্যাগে টাকা ভর্তি রয়েছে। এদিকে সবজি ব্যবসায়ী হায়দার ও হাবিবুর তাদের হারানো টাকা খুঁজতে গাংনী হানিফ কাউন্টারে আসেন। এ সময় কাউন্টার মাস্টার তাদের হারানো টাকা পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন। এবং প্রমাণ সাপেক্ষে গাংনী বাজার কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান স্বপনের মাধ্যমে দু’জনের ১ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে সততার পরিচয় দিলেন।

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিল উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ৩৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মহিষকুন্ডি বিওপি’র টহল দল উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

ইবির ইংরেজি বিভাগে পিএইচ.ডি সেমিনার

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ‘ইমপ্লিমেন্টিং ক্রিটিক্যাল থিংকিং ইন দ্যা টারশিয়ারী লেভেল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাসরুম’স ইন বাংলাদেশ’ ও ‘এ্যাপলিকেশন অব টেকনোলজি ইন ইএফএল ক্লাসরুম’স: এ্যান ওভারভিউ’ শীর্ষক পিএইচ.ডি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের ২০১ নং কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ। ইংরেজি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. সালমা সুলতানার সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন পিএইচ.ডি গবেষণার তত্বাবধায়ক প্রফেসর ড. মেহের আলী, প্রধান আলোচক ছিলেন প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ ও সেমিনার সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রদীপ কুমার অধিকারী। এসময় ‘ইমপ্লিমেন্টিং ক্রিটিক্যাল থিংকিং ইন দ্যা টারশিয়ারী লেভেল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাসরুম’স ইন বাংলাদেশ’ ও ‘এ্যাপলিকেশন অব টেকনোলজি ইন ইএফএল ক্লাসরুম’স: এ্যান ওভারভিউ’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ ও অনুষদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ। পিএইচ.ডি গবেষক মারিয়াম জামিলা ‘দ্যা রুল অব ডিজিটাল টেকনোলজি ইন প্রোমোটিং ক্রিটিক্যাল থিংকিং এ্যাট দ্যা টারশিয়ারী লেভেল এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ে গবেষণা করছেন। ‘ইমপ্লিমেন্টিং ক্রিটিক্যাল থিংকিং ইন দ্যা টারশিয়ারী লেভেল ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাসরুম’স ইন বাংলাদেশ’ এটি প্রথম ও ‘এ্যাপলিকেশন অব টেকনোলজি ইন ইএফএল ক্লাসরুম’স: এ্যান ওভারভিউ’ তার ২য় পিএইচ.ডি সেমিনার।

স্থপতি রবিউল হুসাইনের ইন্তেকাল

কুষ্টিয়া পৌর মেয়র আনোয়ার আলী’র শোক

কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী এক শোকবার্তায় বলেন, কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান জাতীয় কবিতা পরিষদের সাবেক সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কিশোর সংসদের উপদেষ্টা, বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন গত ২৪ নভেম্বর ভোরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। তার মৃত্যুতে গভীর  শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেয়র আনোয়ার আলী।  প্রেরিত শোকবার্তায় মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন অসংখ্য শহীদ মিনার ও স্মৃতি স্তম্ভের ডিজাইন করেছেন। এছাড়ার তিনি কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্তরের ডিজাইন করেছিলেন ও এই নির্মানে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি অসুস্থ শরীরে লিখে গেছেন কুষ্টিয়ার উন্নয়নের ১০ বছর গ্রন্থের ভূমিকা। মেয়র মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

‘কারাগারেই মরতে হবে অ্যাসাঞ্জকে’

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থায় অনিয়ম-দুর্নীতির গোপন নথি ফাঁস করে আলোচনায় আসা উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম সম্পাদক কারাবন্দি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে কারাগারেই মারা যেতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৬০ চিকিৎসক এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সোমবার যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে চিকিৎসকদের ওই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। খবর স্কাই নিউজের। এদিকে ওই চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অ্যাসাঞ্জ বিষন্নতাসহ কিছু জটিল ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তারা অতিদ্রুত অ্যাসাঞ্জকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন। এর আগে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ নাকচ করে দেয় সুইডেনের কর্তৃপক্ষ। উইকিলিকসের পক্ষ থেকে সুইডেনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।প্রসঙ্গত বেলমার্শের কারাগারে বন্দি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কিনা, এ সংক্রান্ত একটি শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০ সালের ফেব্র“য়ারিতে।সেখানে পেন্টাগনের কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার ১৮টি অভিযোগে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে।

 

চীনে উইঘুর মুসলিমদের ‘মগজ ধোলাই’

ঢাকা অফিস ॥ চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশের কয়েকটি ক্যাম্পে কঠোর নিরাপত্তা আর গোপনীয়তার মধ্যে উইঘুর মুসলিমদের জন্য ‘মগজ ধোলাই’ করছে দেশটির সরকার। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো ফাঁস হওয়া কিছু নথি ও ছবি থেকে বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। খবর বিবিসি। যদিও চীনের দাবি, ওই ক্যাম্পগুলোতে স্বেচ্ছায় শিক্ষা আর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন অংশগ্রহণকারীরা। কিন্তু বিবিসি প্যানারোমার হাতে আসা ওই ক্যাম্পের কিছু অফিসিয়াল নথি ও ছবি থেকে দেখা গেছে, উইঘুর মুসলিমদের ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের সেখানে আটকে রেখে শাস্তি দেয়ার নামে চালানো হচ্ছে শারীরিক নির্যাতন। তবে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ওইসব ফাঁস হওয়া নথি ও ছবিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসসহ (আইসিআইজে) আরও ১৭টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের ওই গোপন ক্যাম্পগুলোতে অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সঙ্গে বিবিসি এবং দ্য গার্ডিয়ানেরও অংশীদারিত্ব ছিল। তারাই চীনের ‘মগজ ধোলাই’ ক্যাম্পের নথি ও ছবি ফাঁস করে। এই তদন্তে উঠে আসা প্রামাণ্য দলিলের ভিত্তিতে জানা যায়, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় তিন বছর ধরে ওই নির্যাতন ক্যাম্পগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে মৌলবাদবিরোধী শিক্ষা কার্যক্রমের নামে বিনাবিচারে কয়েক লাখ মানুষকে আটক রাখা হয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশ উইঘুরের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। ফাঁস হওয়া চীনের সরকারি নথিগুলোকে আইসিআইজের পক্ষ থেকে ‘দ্য চায়না ক্যাবলস’ নামে বলা হচ্ছে। চায়না ক্যাবলসের মধ্যে একটি ৯ পাতার নির্দেশনা রয়েছে। যা ২০১৭ সালে ঝু হাইলুন নামে একজন জিনজিয়াং প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ডেপুটি সেক্রেটারি ও ওই অঞ্চলের প্রথম সারির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছেন। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে ক্যাম্পগুলো কীভাবে চালাতে হবে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে মুসলিমদের কারাগারে রাখতে হবে, কঠোর শৃঙ্খলা ও শাস্তির ব্যবস্থা রাখার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যেন কেউ পালাতে না পারে।

একটি কমিক্স বইয়ের দাম ১৩ লাখ ডলার!

ঢাকা অফিস ॥ একটি বইয়ের দাম ১২ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এ কথা শুনে কার না চোখ কপালে ওঠবে? যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা মারভেল কমিক্স এমনটিই জানিয়েছে। তাদের প্রকাশিত প্রথম কমিক্স বইটি নিলামে ১২ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে বলে হেরিটেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে৷ খবর ডয়েচে ভেলের। অকশন হাউসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এড জাস্টার বলেন, এটি ঐতিহাসিক কমিক বাইয়ের ঐতিহাসিক কপি, যা ১৯৩৯ সালে ‘টাইমলি কমিক্স’ প্রকাশ করেছিল, পরে যা ‘মার্ভেল’ হয়ে ওঠে৷ প্রশ্নাতীতভাবে এটি সব মার্ভেল কমিক্সের দাদা, যা ছাড়া আজ আমরা আমাদের কমিক্স এবং ফিচার ফিল্মগুলোর চরিত্র এবং গল্প উপভোগ করি না৷

মার্ভেল কমিক্সের প্রথম সংখ্যাটি ১৯৩৯ সালে ১০ সেন্টে বিক্রি হয়েছিল; গত বৃহস্পতিবারের নিলামে যা ১২ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়৷ চিত্রনাট্যকার স্টান লির পরিচালনায় ১৯৬০-এর দশকে মার্ভেল এমন সুপারহিরো তৈরি করেছিল, যা আজ আইকনিক হয়ে উঠেছে এবং চলচ্চিত্রে সেসব চরিত্র গ্রহণ করায় বিশ্বব্যাপী তা বক্স অফিস জয় করে৷ প্রকাশনা সংস্থা মারভেল কমিক্স থেকে স্পাইডারম্যান, এক্সম্যান এবং দ্য অ্যাভেনজারসের মতো বই প্রকাশিত হয়েছে৷

পোড়াদহে কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহে বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমিতির পোড়াদহ আঞ্চলিক শাখার আয়োজনে গতকাল সোমবার দুপুর ১২ টার সময় অনন্য প্রি-ক্যাডেট স্কুলে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস সমিতির পোড়াদহ আঞ্চলিক শাখার সভাপতি খন্দকার মেহেদী হাসান সোহেল। সমিতির সাধারন সম্পাদক মীর এহতেশামুল হক বাচ্চুর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, বিসিডিএস-এর মিরপুর উপজেলা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি নজরুল করিম, কুষ্টিয়া জেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবু আজম, পোড়াদহ পল্লী চিকিৎসক সমিতির সাধারন সম্পাদক আমির আলী, পল্লী চিকিৎসক মোজাফফর হোসেন, মিরপুর উপজেলা বিসিডিএস-এর  যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির, বিসিডিএস-এর পোড়াদহ আঞ্চলিক শাখার সাংগাঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম প্রমুখ। সভায় এমআরপি অনুযায়ী ঔষধ বিক্রয় করাসহ সমিতির বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হয়।

ইলিয়াস কাঞ্চনকে অপমানের প্রতিবাদে রাস্তায় চলচ্চিত্রের ১৮ সংগঠন

ঢাকা অফিস ॥ অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে অপমান ও হামলার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মাঠে নামলো চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮টি সংগঠন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় এফডিসির সামনের রাস্তায় মানবন্ধন করেন তারা। নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন কার্যকরের পর ধর্মঘটকারী বাস -ট্রাকের শ্রমিকরা ইলিয়াস কাঞ্চনের কুশপুত্তলিকা দাহ করে। শুধু তাই নয়, ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোাগান দেয়াসহ তার ছবি অসম্মানজনকভাবে রাস্তায় ঝুলিয়ে রাখতেও দেখা যায়। যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে। ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে এক হতে পারলো ধর্মঘটকারী বাস-ট্রাকের শ্রমিকরা, অথচ এই দুর্দিনে কেন তার পাশে নেই চলচ্চিত্রের মানুষেরা? সোশাল মিডিয়ায় এমন প্রশ্ন উঠার পর প্রথমবার তার পক্ষ হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানালো চলচ্চিত্রের সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের সামনে মানবন্ধন করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, অভিনয়শিল্পী সমিতিসহ এফডিসি কেন্দ্রিক ১৮টি সংগঠন। ইলিয়াস কাঞ্চনকে অপমানের প্রতিবাদের এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন, নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান, শাহ আলম কিরণ, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, অরুনা বিশ্বাস, অঞ্জনা, আলেকজান্ডার বো, চিত্রনায়ক ইমন, সাংবাদিক ও সংগঠক লিটন এরশাদসহ অনেকেই। মানববন্ধনে পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে যে নতুন আইন হয়েছে এটা শ্রমিকদেরই নিরাপত্তা দিবে। কিন্তু তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়েছে একটি স্বার্থান্বেষি মহল। আমরা কারো বিপক্ষে নই, বরং যারা ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা চাই, নতুন যে আইনটি হয়েছে এটি শিগগির পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হোক। সড়কে মানুষের জীবন নিরাপদ থাকুক। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এলোমেলো হয়ে যায় নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবন। কারণ এ বছরের ২২ অক্টোবর তার একটি ছবির শুটিং দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। শোকার্ত ইলিয়াস কাঞ্চন এরপর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর সিনেমাও করবেন না! কিন্তু সব ভেবে রিলের নায়ক থেকে রিয়েল লাইফের প্রতিবাদী নায়ক হয়ে দাঁড়িয়ে যান রাস্তায়! গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নামের সংগঠন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখা। “ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ- ‘আসুন এ অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়াস্থ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি ফাতেমা বেগম। বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তসলিমা খানম লতা, সাংগঠনিক সম্পাদক শেফালি আক্তার, সহ-সভাপতি শাসসুন নাহার, লিগ্যাল এইড সম্পাদক নিলুফা বেগম রীনা, সম্মিলিন সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়ার সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক শরীফ মাহমুদ, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক সুজন কর্মকারসহ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি ফাতেমা বেগম নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুমারখালিতে নারী ও কন্যাদের অধিকার উন্নয়নের লক্ষে সমন্বয় সভা

সোহেল হাবিব ॥ নারী ও কন্যাদের অধিকার উন্নয়ন এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিকরনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার শহরের নূর কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করে মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা। এতে সভাপতিত্ব করেন সোস্যাল সাপোট গ্র“পের সভাপতি মেরিনা আক্তার মিনা। সংশ্লিস্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফেরদৌস নাজনীন, মুক্তির প্রকল্প সমন্বয়ক জায়েদুল হক মতিনসহ আরো অনেকে। বক্তারা যৌতুক বিহীন বিবাহ, দেনমোহর আদায়, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান প্রধানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অসুস্থ শিশুদের সমন্বিত চিকিসা ব্যবস্থায় (আইএমসিআই) পাল্স অক্সিমিটার সংযোজনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আইসিডিডিআর, বি’র গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দিকনির্দেশনায় এবং ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গ এর রেসপায়ার গ্র“পের কারিগরী সহায়তায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)/ কলেরা হাসপাতাল, কুষ্টিয়া জেলার সকল উপজেলার বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দুই বছর মেয়াদী একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাল্স অক্সিমিটার সংযোজনের মাধ্যমে  ছোট শিশুদের (২-৫৯ মাস) সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার (আইএমসিআই) মান উন্নয়নের কার্যকারিতা যাচাই করা এই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্প কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৮ নভেম্বর কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে একটি উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাঃ নুরুন নাহার বেগম, উপ-পরিচালক, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল; মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, কুষ্টিয়া; ডাঃ জহুরুল ইসলাম, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার, এমএনএইচ এন্ড আইএমসিআই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ডাঃ সুপ্রিয় সরকার, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার, হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ডাঃ জিয়াউল আহসান, সদস্য, এনটিডব্লিউসি-এনএইচ এবং আইএমসিআই টেকনিক্যাল কমিটি; জ্যানেট পারকিন্স, পিএইচডি গবেষক, এবং ডাঃ আহমেদ এহসানুর রহমান, সহযোগী বিজ্ঞানী, আইসিডিডিআর,বি এবং সদস্য, এনটিডব্লিউসি-এনএইচ ও আইএমসিআই টেকনিক্যাল কমিটি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সকল উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ, মেডিকেল অফিসার- মা ও শিশু স্বাস্থ্য (প:প:), আইসিডিডিআর,বি’র কর্মকর্র্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ। সভাপতি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অত:পর, ডাঃ জিয়াউল আহসান কুষ্টিয়ায় বাস্তবায়িত ‘সিএনসিপি মডেল’ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করেন। উক্ত মডেল থেকে উদ্ভাবিত ‘সংক্রমণ ব্যবস্থাপনার মূলনীতি’ জাতীয় পর্যায়ের আইএমসিআই গাইডলাইনে অন্তর্ভূক্তকরণের পর্যায়, কর্মকান্ড এবং অর্জন সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন ডাঃ জহুরুল ইসলাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০১৪ সালে দুই মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিউমোনিয়া ব্যবস্থাপনা গাইডলাইনে পাল্স অক্সিমিটারের অন্তর্ভূক্তকরণের পরামর্শ প্রদান করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পাল্স অক্সিমিটার ব্যবহারের যথাপযুক্ততা, গ্রহণযোগ্যতা এবং কার্যকরী প্রতিবন্ধকতাসমূহ যাচাই করা, এবং একটি ‘বাস্তবায়নযোগ্য মডেল’ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়াকে মডেল হিসেবে বিবেচনা করার কারণ এবং কর্মপরিকল্পনা আলোচনা করেন ডাঃ আহমেদ এহসানুর রহমান। পাল্স অক্সিমিটার ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ নিরূপণের ক্ষেত্রে তিনটি দৃষ্টিকোণ (স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, স্বাস্থ্যসেবাগ্রহণকারী এবং পরিচর্যাকারীর) থেকে নিরীক্ষা করা হবে বলেও তিনি উপস্থাপন করেন যাতে করে এটিকে জাতীয় পর্যায়ে উন্নীত করা যায়। তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে উপস্থিত সকলে তাদের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। উক্ত লক্ষ্য অর্জনকল্পে প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে তাঁরা আইসিডিডিআর, বি-কে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ^াস প্রদান করেন। সভাপতি উদ্বোধনী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং গবেষণা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর

আফতাব উদ্দিন খানের নেতৃত্বে শেরপুরে সম্মুখ যুদ্ধে ৬০ পাক সেনা নিহত হয়

আমলা অফিস ॥  ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় সর্ববৃহৎ গেরিলা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল জেলার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের শেরপুর মাঠে। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন কুষ্টিয়া ই-৯ এর গ্র“প কমান্ডার  আফতাব উদ্দিন খান ও ডেপুটি কমান্ডার জলিলুর রহমান। ২৫ নভেম্বর রাতে ই-৯ এর গ্র“প কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান প্রায় ১শ’ জন সুসজ্জিত মুক্তিবাহিনীর একটি দল নিয়ে শেরপুরে সেনপাড়ায় অবস্থান করেন। বিষয়টি পাকবাহিনীরা আঁচ করতে পেরে মধ্য রাতে শেরপুরে আগুন ধরিয়ে বেপরোয়াভাবে গুলি বর্ষণ করে। মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর অবস্থান জানতে পেরে মিরপুর ও দৌলতপুর থানার মধ্যবর্তী স্থান সাগরখালী নদীর তীরে তাদের অবস্থান তড়িৎ সুদৃঢ় করেন। রাত ৩টায় তারা পাকবাহিনীর মোকাবেলার জন্য ক্রমান্নয়ে অগ্রসর হতে থাকে। ২৬ নভেম্বর ভোর ৫টায় উভয় পক্ষ পরস্পর মুখমুখি হয়ে ৬ ঘন্টা ব্যাপী তুমুল যুদ্ধের পর পাকবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ যুদ্ধে ৬০ জন পাক সৈন্য নিহত এবং শেরপুর গ্রামের মৃত হাজী মেহের আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান নামে এক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এ ছাড়াও একই গ্রামের মৃত পঁচা বিশ্বাসের ছেলে হিরা ও মৃত আবুল হোসেন বিশ্বাসের ছেলে আজিজুল নামের দু’মুক্তিযোদ্ধা গুরুতর এবং মঈন উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আব্দুর রশিদ ও হায়দার আলীসহ ২০ জন আহত হন। কুষ্টিয়া জেলায় সংঘটিত সর্ব বৃহৎ এ গেরিলা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় এবং ক্ষয়-ক্ষতির কারণে দৌলতপুর ও মিরপুর থানার একটা বিরাট এলাকা মুক্তি বাহিনীর অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয়। এর ফলে মুজিব বাহিনীর কমান্ডার নাজুমুল করিম সুফি, গ্র“প কমান্ডার হাবিবুর রহমান ও ইদ্রিস আলীর সহযোগিতায় পাহাড়াপুর পুরাতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিবাহিনীর একটি শক্তিশালী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। কুষ্টিয়া সাব সেক্টর কমান্ডার তৎকালীন লেঃ খন্দকার নুরুন্নবী এই ক্যাম্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনুমোদন প্রদান করে। শেরপুর যুদ্ধের পরে এলাকায় প্রচার ছিল সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১ হাজার মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান করছে। ৭ ডিসম্বের ভোরে আফতাব উদ্দিন খানের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী আমলাকে মুক্ত করেন এবং ওই দিন সন্ধ্যার পর আফতাব উদ্দিন খানের নেতৃতে মুক্তিযোদ্ধারা সুলতানপুর গ্রামের জিকে ক্যানালের পশ্চিম পাশে মৃত আবুল হোসেন জোয়ার্দ্দারের বাড়ী সংলগ্ন স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন। তৎকালীন মিরপুর থানা কাউন্সিল বর্তমান উপজেলা পরিষদ ভবন এলাকায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ২৫০ জন পাকবাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাটি ছিলো। পাকবাহিনীর এ ঘাটি হতে মুক্তিবাহিনীর অবস্থান ছিল খুব সন্নিকটে। পাকবাহিনী মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে থাকে। পালিয়ে যাওয়ার সময় মিরপুর থানার (পুলিশ ফাঁড়ি) সমস্ত কাগজ পত্র পুড়িয়ে দেয়। যার ফলে ৮ ডিসেম্বর ভোরে ই-৯ এর গ্র“প কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান ১শ’ ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে মিরপুর থানায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গান স্যালুটের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। এর পর ৬৫ জন পাকহানাদার বাহিনীর দোসর ও রাজাকার পাহাড়পুর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে আত্মসমর্পন করেন। এ ভাবেই কুষ্টিয়া জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় সুচিত হয়।

গাংনীতে বিএনপি নেতা আব্দাল হকের বাবার ইন্তেকাল – দাফন সম্পন্ন

গাংনী প্রতিনিধি ঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দাল হকের বাবা সাত্তার আলী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল সোমবার ভোররাত ৩টা ২৫ মিনিটের সময় বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি হাসপাতাল (ঢাকা)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন রোগে ভূগছিলেন। এদিকে সাত্তার আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মেহেরপুর  জেলা বিএনপির সভাপতি ও মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  ও মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য  আমজাদ হোসেন, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীবৃন্দ। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার সময় নিজ গ্রাম গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে মরহুম সাত্তার আলীর জানাজা নামাজ শেষে স্থানীয় গোরস্থান ময়দানে দাফন্ন  সম্পন্ন হয়। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  ও মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য  আমজাদ হোসেন, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোরাদ আলী, সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল, গাংনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নবীরুদ্দীন, রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন ছেপু, গাংনী উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি ও ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান, গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ নাসির উদ্দীন, গাংনী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী শফি কামাল পলাশ, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তার, বিএনপি নেতা ইনসারুল হক ইন্সু, বিএনপি নেতা ও গাংনী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল্লাহেল মারুফ পলাশ, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, মনিরুজ্জামান গাড্ডু, জামাল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুল হান্নান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসন রাজা সেন্টু, সাবেক ছাত্রদল নেতা চপল বিশ্বাস, কাউছার আলী, কামরুজ্জামান, জাহিদুর রহমান।

কালুখালীর কালীকাপুর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম

ফজলুল হক ॥ গতকাল সোমবার রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালীকাপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শেখ নুরুল আলম, সহকারী কমিশনার রাজবাড়ী মোঃ কামরুল হাসান সোহাগ, উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আতিউর রহমান নবাব, উপজেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন এছাড়াও ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন, গোলাম মস্তফা, আব্দুল জব্বার জুলু, মোনোয়ার হোসেন ও আনোয়ার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক প্রথমে বেলা ১২টার দিকে পরিষদ ভবনে ফিতা কেটে নিরাপদ মাতৃদুগ্ধ পান কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এরপর ডিজিটাল সেন্টার ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যবেক্ষন করে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাঝে ট্যাক্স আদায় এস.এস.এফ তালিকা, স্ট্যান্ডিং কমিটির সভার কার্যবিবরণী, মাসিক সভার রেজুলেশন ও গ্রাম আদালত ভিত্তিক শালিসি কার্যক্রম মিমাংশা করার পরামর্শ প্রদান করেন। এরপর বেলা ১টার দিকে ইউনিয়নের সাতটা-২ গ্রামে আমার বাড়ী আমার খামার প্রকল্পের উঠান বৈঠকের প্রকল্পের সদস্যদের উপস্থিতে সঞ্চয় ঋণ আদায়সহ বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয় আলোচনা করেন। এসময় পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন আমার বাড়ী আমার খামার প্রকল্পের সমন্বয় কারী মনিকা শুভেচ্ছা সরকার, সামিম হোসেন, মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সবশেষ তিনি ইউনিয়নের কালীকাপুর কালীবাড়ী হইতে চন্দনা নদী পর্যন্ত অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান ও কর্মসূচি (ইজিপিপি) রাস্তা সংস্কার পরিদর্শন করেন এবং কর্মরত শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালনের লক্ষে কুমারখালি মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুমারখালি সাংগঠনিক জেলা শাখার উদ্যোগে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ^ মানবাধিকার দিবস পালন উপলক্ষে সাংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে সংগঠনের কুমারখালি কার্যালয়ে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও কুমারখালি শাখার সহসভাপতি হোসনেয়ারা রুবি। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহ-সাধারণ ইশরাত জাহান। এসময় সংগঠনের সহ-সভাপতি চম্পা নজরুল, সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা নীলা, সাংগঠনিক সম্পাদক শামিমা পারভিনসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদ সম্মেলনে ২৫ নভেম্বর হতে আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নানাবিধ জনসচেতনতা মূলক কর্মসূচি পালনের সময়সূচি ঘোষনা করা হয়।

পাথরঘাটায় বিস্ফোরণ গ্যাসের লিকেজ থেকে – তদন্ত কমিটি

ঢাকা অফিস ॥ চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় যে বিস্ফোরণে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে গ্যাস লাইনে কোনো ত্রুটি ছিল না বলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি দাবি করলেও ভিন্ন কথা বলছে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রধান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম শরীফুল ইসলাম গতকাল রোববার গণমাধ্যমকে বলেছেন, “রাইজার থেকে গ্রাহকের পাইপ লাইনের অংশে লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ হয়েছে।” প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি এদিন তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। ১৩  পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিরোধে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়। গত ১৭ নভেম্বর সকালে নগরীর পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে বড়ুয়া ভবনের নিচ তলায় বিস্ফোরণে সাতজন নিহত হন। নিহতরা সবাই ওই বাসার ও পথচারী। বিকট ওই বিস্ফোরণে বড়ুয়া ভবনের নিচতলার দেয়াল ও সীমানাপ্রাচীর ধসে রাস্তার উপর পড়ে। বড়ুয়া বিল্ডিংয়ের আশেপাশের কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিস্ফোরণে। দুর্ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে যাওয়া ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও পুলিশ এ দুর্ঘটনার জন্য গ্যাস লাইন লিকেজকে দায়ী করেছিল। তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের   (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা দাবি করছিলেন, তাদের গ্যাস লাইনে কোনো ত্রুটি ছিল না। কেজিডিসিএল চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে। ওই কমিটি ঘটনার দিন তাদের প্রতিবেদন দিয়ে একই দাবি করে। কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খায়ের আহমেদ মজুমদার তখন বলেছিলেন, “আমরা গ্যাসের রাইজার, ওই বাড়ির চুলা এবং গ্যাস লাইন অক্ষত পেয়েছি। রান্নাঘরেও কোনো সমস্যা হয়নি। এ থেকে আমরা নিশ্চিত, দুর্ঘটনা গ্যাসের কারণে হয়নি।” তবে প্রশাসনের তদন্তে ভিন্ন চিত্র উঠে এল। সিটি করপোরেশন, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল।

জনগণকে জিম্মি করে বিএনপি রাজনীতি করতে পারে না – হাছান

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি সবসময় জনগণকে জিম্মি করে রাজনীতি করে। তিনি গতকাল রোববার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি সব সময় জনগণকে জিম্মি করে রাজনীতি করেছে- এ কারণেই এটি একটি জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে।’ মন্ত্রী বলেন, বিএনপি যদি রাজনীতিতে অব্যাহতভাবে ভুল পথ অনুসরণ করে এবং সাধারণ মানুষের বিপক্ষে দাঁড়ায় ও তাদের ওপর আক্রমণ চালায় তাহলে এই দলটি একটি ‘জনবিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা’ হবে। এর আগে ওমানের রাষ্ট্রদূত তায়ীদ সেলিম আব্দুল্লাহ আল আলাবি তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে না। সাধারণ মানুষের জন্য নয়, কেবল নিজেদের স্বার্থেই তারা রাজনীতি করে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি অসুস্থ রাজনীতি করছে। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘জনসাধারণ, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে। কিন্তু বিএনপি সাধারণ মানুষের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের রাজনীতি করে।’ যুবলীগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তার প্রতিফলন আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও থাকবে বলে মনে করছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ক্যাসিনোকান্ডে সমালোচিত যুবলীগের ভার নতুন নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া শনিবার সংগঠনের কংগ্রেসে। যার হাতে গড়ে উঠেছিল যুবলীগ, সেই শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে পান সভাপতির দায়িত্ব। আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল। আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও এমন প্রতিফলন থাকবে কিনা জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি আমি বলতে পারব না, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি এটা বলতে পারবেন। তবে নিশ্চয়ই এখানে যে প্রক্রিয়া সেই প্রক্রিয়ার বাইরে তো আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে না বা থাকবে না।” যুবলীগের নতুন কমিটির বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় হাছান মাহমুদ বলেন, “প্রথমত এটি একটি চমৎকার কমিটি হয়েছে। নানা কারণে যুবলীগকে নিয়ে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল, কিছু নেতৃত্বের কারণে। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির সন্তানের হাতে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত সুশিক্ষিত ও মার্জিত একজন মানুষ।” “সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তিনিও অত্যন্ত ভদ্র ও ভালো। যুবলীগের নানা নেতাদের নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও তাকে নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো প্রশ্ন সেই। তিনি ভালো, সৎ ও নিষ্ঠাবান একজন মানুষ।” সম্প্রতি প্রতিটি সম্মেলনের মাধ্যমে যাদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে তারা সবাই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, “এটির মাধ্যমে রাজনীতিকে যারা কলুষিত করতে চান এবং রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের যে প্রক্রিয়া জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন, খালেদা জিয়া ও এরশাদ যেটির ষোলকলা পূর্ণ করেছিলেন, সেই চক্র থেকে বের করে এনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির শিক্ষিত মানুষের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে। এটি রাজনীতি ও দেশের জন্য মঙ্গল।” অন্য দলগুলো এটা থেকে শিক্ষা নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক। বিএনপি নেতারা বলেছেন তারা হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচিতে যেতে চাচ্ছেন, বিষয়টি সরকার কীভাবে দেখছে এবং কী প্রস্তুতি রয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘমেয়াদী হরতাল অবরোধ মানে জনগণকে জিম্মি করার রাজনীতি। জনগণকে জিম্মি করার রাজনীতি অনুসরণ করার কারণে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাজনীতি তো জনগণকে জিম্মি করার জন্য নয়, জনগণের কল্যাণের জন্য। “প্রতিবাদের ভাষা দিনের পর দিন জনগণকে জিম্মি করা নয়। এটি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি করেছে। প্রতিবাদের ভাষা মানুষের ওপর বোমা নিক্ষেপ নয়।” আগের ভুল পথ আবার অনুসরণের চেষ্টা করলে জনগণ সুযোগ দেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “এরপরও যদি তারা চেষ্টা করে এখন যে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তারা জনবিচ্ছিন্ন নির্জন দ্বীপের বাসিন্দা হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে রাজনীতির মাঠে।” ওমানের রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকের বিষয়ে তথ্যমস্ত্রী বলেন, “ওমানে প্রায় ২০ লাখ বিদেশি আছে, এর মধ্যে প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি তার ভাষ্য অনুযায়ী। অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশিরা সেখানে কাজ করছে। তিনি সেটার প্রশংসা করেছেন।” রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে তিনি (রাষ্ট্রদূত) সেই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ওমানের বিনিয়োগ যাতে বাংলাদেশে আসে, সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।”

গাংনীতে পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে মতবিনিময় সভা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা অবহিত করার লক্ষ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে সুন্দর ও অবৈধ কার্যকলাপ থেকে নিবৃত থাকতে ইউএনওর উদ্যোগকে শিক্ষকবৃন্দ সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুল বাসার, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম, শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার এসএম মাসুম। এ সময় উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশে সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানালে শিক্ষকবৃন্দ তা সাদরে গ্রহণ করেন।  শেষে পরীক্ষায় অবৈধ কার্যকলাপের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হ্যান্ডনোট সকল শিক্ষকবৃন্দকে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সকল বিদ্যালয়ে আগামী ১ ডিসেম্বর তারিখে অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করতে দিন ধার্য করা হয়।

ঝিনাইদহে মাদার তেঁরেসা স্বর্ণপদক অর্জনে রাবেয়া (প্রাঃ) হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক সোহেল রানা’কে সংবর্ধনা প্রদান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে চিকিৎসা ও মানব কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য মাদার তেঁরেসা স্বর্ণপদকে ভূষিত হওয়ায় রাবেয়া হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক সোহেল রানাকে সংবর্ধনা প্রদান করেন ঝিনাইদহের স্বপ্নতরু পরিবার। শনিবার ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এ শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বপ্নতরু পরিবার’র সভাপতি কাজী মোহাম্মদ আলী পিকুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ ও মাগুরা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সভাপতি এম রায়হান, প্রসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও স্বপ্নতরু পরিবারের উপদেষ্টা কে এম সালেহ, সিও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সামসুল আলম দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও স্বপ্নতরু পরিবারের উপদেষ্টা সুলতান আল একরাম, ডাঃ মনজুরুল হক, ডাঃ ফয়জুন নেছা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংবর্ধীত সোহেল রানাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। আলোচনা শেষে স্বপ্নতরু পরিবারের পক্ষ থেকে সোহেল রানাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্বপ্নতরু পরবারের সাধারণ সম্পাদক তারেক হোসেন পল্লব।

জানাযায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাসহ বিশিষ্টজনের অংশগ্রহণ

পোড়াদহের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমির হোসেন আর নেই

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ পুরাতন বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজি আমির হোসেন আর নেই। গতকাল রবিবার সকাল ৮টার সময় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি……রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫বছর। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। পোড়াদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটদহ গ্রামের মৃতঃ আওলাদ হোসেনের ছেলে  এবং ফ্রেশ এগ্রো ফুড ও ওয়াদী জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুকের শ্বশুর হাজি আমির হোসেন তার নিজ বাড়িতে গত শনিবার  রাত সাড়ে নয়টার দিকে স্ট্রোক করে। তাৎক্ষনিক তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গতকাল সকাল ৮ টার সময় হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মরহুমের নামাজে জানাযা বাদ মাগরিব তার নিজ গ্রাম দক্ষিণ কাটদহ গোরস্থান মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং এখানেই তাকে দাফন করা হয়। জানাযায় অংশগ্রহণ করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। এ সময়, দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করে । অপরদিকে মরহুম হাজি আমির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা  জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ। মরহুমের নামাযের জানাযা পূর্বে এক বক্তব্যে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা এ তথ্য জানান ।