নতুন যুদ্ধের ‘জিম্মি’ রাখাইনের রোহিঙ্গারা

ঢাকা অফিস ॥ গত মাসে মিয়ানমারের কর্মকর্তারা যখন বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঘুরে ঘুরে রোহিঙ্গাদের মাঝে হিজাব পরিহিত নারীদের টহল চৌকি পেরোনো এবং খুশির সঙ্গে পরিচয় পত্র নেওয়ার কার্টুন সম্বলিত প্রচারপত্র বিলি করছিলেন, তখনও তারা তাদের দেশে চলা নতুন যুদ্ধের বিষয়ে টু শব্দ করেননি। গত বছর থেকেই রাখাইনের আদিবাসী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির (এদের অধিকাংশ সদস্যই স্থানীয় বৌদ্ধ) সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তুমুল লড়াই চলছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে উত্তরপশ্চিম মিয়ানমারে হওয়া সেনা অভিযানের ধাক্কায় স্থানীয় রোহিঙ্গা অধিবাসীর অধিকাংশই প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও সম্প্রদায়টির রয়ে যাওয়া দুই লাখের মতো সদস্য এখন এ নতুন যুদ্ধের কারণে ‘জিম্মি’ অবস্থায় দিন পার করছে বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আটকে পড়া এ রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মি উভয় দিক থেকেই হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে গ্রামগুলোর একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন। “আমরা তাদের যুদ্ধের মাঝে আটকে গেছি। গত দুই বছর ধরে আমাদের জীবনযাপনে কোনো উন্নতি নেই, খালি অবনতি। কেবলই সমস্যা,” বলেছেন বুথিয়াডং টাউনশিপের একটি গ্রামের বাসিন্দা টিন শয়ে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে লড়াই করা সরকারি বাহিনী উত্তর রাখাইনের বিভিন্ন মুসলমান অধ্যুষিত গ্রামে অবস্থান নিয়েছে বলে পাঁচ জন গ্রামবাসী নিশ্চিত করেছেন। সরকারি সেনারা তাদের জন্য জ্বালানি কাঠ ও খাবার নিয়ে আসতে কিংবা আরাকার আর্মির অবস্থান দেখিয়ে দিতে গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের নির্দেশ দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। “যদি তারা বলে তারা থাকবে, আমাদের তা মেনে নিতে হচ্ছে,” বলেন নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রথেডং টাউনশিপের এক বাসিন্দা। বুথিয়াডং টাউনশিপের আরেক বাসিন্দা জানান, শুদ্ধ বার্মিজ ভাষায় দক্ষতা থাকায় সৈন্যরা তাকে তাদের পথপ্রদর্শক হওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর অজ্ঞাত এক নম্বর থেকে তার কাছে আসা ফোনে তাকে সৈন্যদের পথপ্রদর্শক হওয়ার ব্যাপারে সাবধান করে বলা হয়, যারাই সেনাবাহিনীকে সহায়তা করবে, তাদেরই ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। “অপরপ্রান্তের ওই ব্যক্তি আমাকে বলেন- আমরা তোমাকে মেরে ফেলবো, তোমার গ্রাম জ্বালিয়ে দেবো,” বলেন বুথিয়াডং টাউনশিপের এ বাসিন্দা। আগস্টের শুরুতে সৈন্যদলকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া রথেডং টাউনশিপের সিন খোনে তাইং গ্রামের দুই রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে স্থানীয় পাঁচ ব্যক্তি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে গ্রামটির কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। “আমরা জিম্মি, দুই পক্ষের মাঝে অবরুদ্ধ হয়ে আছি। আমরা নিরাপদ নই। জুনের পর থেকে গ্রাম থেকে তিনবার পালিয়েছি। সরকারের হাতে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেই,” বলেন গ্রামটি থেকে পালিয়ে আসা এক মুসলিম ব্যক্তি। আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিনে তু কা বেসামরিক হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে এসব ঘটনার জন্য মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীকে দোষারোপ করেছেন।

“আমরা আমাদের বেসামরিকদের এভাবে হত্যা করি না। যতখানি শুনেছি, বার্মিজ সেনাবাহিনীই তাদের নিয়ে যায় ও মেরে ফেলে। এ ধরনের অনেক ঘটনাই আছে,” বলেছেন তিনি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রাখাইনের উত্তরাঞ্চল সাংবাদিক ও বেশিরভাগ মানবিক সাহায্য সংস্থার জন্যই বন্ধ করে রেখেছে। অস্থিরতা এড়াতে জুন থেকে ওই অঞ্চলে ‘ইন্টারনেট ব¬্যাকআউট’ও চলছে। এসব বিধিনিষেধের কারণে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন হলেও রয়টার্স মিয়ানমারের রাজধানী ও উত্তর রাখাইনে থাকা একাধিক রোহিঙ্গার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছেন। তারা বলছেন, মুসলিম গ্রামগুলোতে এখন হরহামেশাই ভূমিমাইন বিস্ফোরিত হচ্ছে ও শেল পড়ছে। গ্রামগুলো এখন দুই পক্ষের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দুই রোহিঙ্গা অধিবাসী জানিয়েছেন, সুযোগ থাকলে তারাও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে পালিয়ে যেতেন; কিন্ত আগে যে পথ দিয়ে সীমানা পেরোনো যেত, সংঘাতের কারণে সেগুলো অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত নতুন এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা। এ তালিকায় ভারত থেকে আসা রোহিঙ্গারাও আছে; ভারত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবৈধ রোহিঙ্গা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোয় তার ধাক্কা এসে পড়ছে বাংলাদেশে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র লুইস ডনোভান বলছেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা সেখান থেকে চলে আসার কারণ হিসেবে সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মির সংঘাত ও জীবনযাপনের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। সংঘাতের কারণে ওই এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে। ২০১২-র দাঙ্গার পর যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারাও নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

রয়টার্স বলছে, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা অনেক রোহিঙ্গা দেশে ফিরতে চাইলেও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সুবিধা এবং মিয়ানমারে থাকা রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নতির শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। শরণার্থী শিবিরে থাকা অনেকেই এতদিন টেলিফোনে রাখাইনে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাও সম্ভব হচ্ছে না। রাখাইনের কোনো রোহিঙ্গাই এখন আর শরণার্থী আত্মীয়কে দেশে ফিরতে বলতেও পারছেন না। “নিরাপত্তা নেই দেখে এখান থেকেই সবাই পালিয়ে যেতে চায়। যা কিছু রোহিঙ্গা আছে সরকার তাদেরই সাহায্য করতে পারছে না। তারা যে (বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে থাকা) লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে সাহায্য করবে কীভাবে মানুষ তা বিশ্বাস করবে,” প্রশ্ন বুথিয়াডংয়ের টিন শয়ের।

আলমডাঙ্গায় যৌন নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে যৌন নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রতিরোধ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কাজী, ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারি, জাইকা প্রতিনিধি এনায়েত উল্লাহ, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান। উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার ইমরুল হকের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন কাজী মওঃ মনিরুজ্জামান, কাজী আব্দুস সালাম সালেহীন, শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক আহসান হাবিব, সাবলুর রহমান, আব্দুস সালাম, আকরাম আলী, রফিকুল আনোয়ার, সাজ্জাদ হোসেন, শিরিনা আক্তার, আরশাদুল আলম, মোছাঃ মেসকাত আরা, রহিমা খাতুন, কাকলী রানি, আসমা খাতুন, আক্তারুজ্জামান, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

কাশ্মীরে বিধিনিষেধ

‘বিব্রত’ ভারতীয় কর্মকর্তার পদত্যাগ

ঢাকা অফিস ॥ জম্মু ও কাশ্মীরের লাখ লাখ মানুষের ‘মৌলিক অধিকার’ খর্ব করায় ‘বিব্রত’ এক ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা (আইএএস) কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের লোকদের ‘মৌলিক অধিকার’ খর্ব করা তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে জানিয়েছেন আইএএস কমকর্তা কান্নান গোপীনাথন। এনডিটিভিকে তিনি বলেন, “আমার পদত্যাগের কারণে কোথাও কোনো প্রভাব পড়বে না, কিন্তু আমার মনে হয় নিজের বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকা উচিত।” ভারতের কেন্দ্রশাসিত দাদরা ও নগর হ্যাভেলির কয়েটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সচিব ৩৩ বছর বয়সী গোপীনাথন। তিনি লোকসানে থাকা একটি সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। গত বছর কেরালার ভয়াবহ বন্যার সময় পরিচয় গোপন রেখে টানা আট দিন বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি, বন্দর থেকে ত্রাণসামগ্রী নামিয়ে মাথায় করে তা ত্রাণ শিবিরে বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে পরিচয় প্রকাশ হওয়ার পর খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি। গোপীনাথন বলেন, “কাশ্মীরে ২০ দিন ধরে লাখ লাখ মানুষের মোলিক অধিকার স্থগিত করে রাখা হয়েছে, আর ভারতের অনেকের কাছেই এটি ঠিক আছে বলে মনে হচ্ছে। ২০১৯ সালে ভারতে এটি ঘটছে। আর্টিকেল ৩৭০ বা এটি রদ করা ইস্যু না, কিন্তু নাগরিকদের এটি নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার দেওয়া হচ্ছে না, এটাই প্রধান ইস্যু। “এ সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানাতে পারে বা এর প্রতিবাদ করতে পারে, এটিই তাদের অধিকার।” এই বিষয়টিই তাকে পদত্যাগ করার মতো যথেষ্ট ‘বিব্রত’ করেছে বলে এনডিটিভিকে জানিয়েছেন তিনি।

সাত বছর ধরে আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালন করা গোপীনাথন ২১ আগস্ট পদত্যাগ পত্র পেশ করেছেন। “এমনকি যখন একজন সাবেক আইএএস কর্মকর্তাকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হলো, সিভিল সোসাইটির কেউ কোনো প্রতিক্রিয়াও জানালো না। এই দেশের অধিকাংশের কাছেই এটি ঠিক আছে বলে মনে হচ্ছে,” বলেন তিনি। এ বক্তব্যে তিনি দিল্লির জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে সিভিল সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করে অধিকার আন্দোলনকারীতে পরিণত হওয়া শাহ ফয়সালের বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। বিদেশে যাওয়ার জন্য ফয়সাল দিল্লি বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় তাকে আটক করে শ্রীনগরে ফেরত পাঠানো হয়। ৩৭০ ধারা রদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হওয়ার তাকে কাশ্মীরে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, মোদী সরকারের সঙ্গে নির্বাচনের সময়ও বিরোধ হয়েছিল গোপীনাথনের। মোদী সরকার ক্ষমতায় ফেরার পর তাকে তুচ্ছ কারণে শোকজ নোটিস দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তার পদত্যাগ পত্র এখনও গৃহীত হয়নি। তবে সেটা নিছকই ‘পদ্ধতিগত বিষয়’ বলে মনে করছেন তিনি। সিস্টেমে থেকেই সিস্টেম বদলাতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোপীনাথন।

নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ইরানের

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ডসের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ব্যবস্থা পরীক্ষার ক্ষেত্রের মধ্যেই রয়েছে। আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এটা একটা অব্যাহত প্রক্রিয়া। গত বছর ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির সই হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর তেহরানের অর্থনৈতিক শক্তিকে পঙ্গু করে দিতে দেশটির বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে দুই দেশের মধ্যে হুমকি-ধমকি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। জুনে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি মার্কিন সামরিক নজরদারি ড্রোন গুলি করে ধ্বংস করে ইরানি বাহিনী। পরবর্তী সময়ে ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েও শেষ মুহূর্তে সরে আসেন তিনি। ইরান বলছে, ওই ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। যদিও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায়ই অবস্থান করছিল তাদের ড্রোন।

 

নড়াইলে মাশরাফির উদ্যোগে ৫০ টাকায় চিকিৎসা!

ঢাকা অফিস ॥ মাশরাফি বিন মুর্তজা নড়াইলবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্যের অনুরোধে ৫০ টাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে সম্মত হয়েছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির পরামর্শে এর আগে নড়াইল সদর হাসপাতালে নতুন ৪ চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়। নড়াইলের সর্বস্তরের জনগণের কল্যাণার্থে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন গঠন করেছিলেন মাশরাফি। তার সেই ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় মাত্র ৫০ টাকার ফি নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা দেবেন। এমনটি জানিয়ে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মির্জা নজরুল ইসলাম জানান, মহিষখোলায় অবস্থিত শরীফ আব্দুল হাকিম ডায়াবেটিক হাসপাতালে গাইনী, স্ত্রী ও প্রসূতি, শিশু, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চারজন ডাক্তার নিয়মিত রোগী দেখেন। এ ছাড়া বিশেষ বিশেষ দিনে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এনে চিকিৎসা দেয়া হয়। গত ১৪ আগস্ট নড়াইলবাসীর জন্য ৫০ টাকা ফিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবার উদ্বোধন করেন নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাশরাফি বিন মর্তুজা। স্বল্প খরচে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা পেয়ে খুশি নড়াইলের বিভিন্ন পেশার মানুষ।

মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করায় সংকটের সুরাহা হচ্ছে না – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমারের ইচ্ছা পূরণে ‘সরকার কাজ করছে’ বলেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শনিবার দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের এই অবস্থান জানান। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে, তারা (মিয়ানমার) যে ফর্মুলা দিয়েছে সেই ফর্মুলার কাছে তারা নতি স্বীকার করছে। সর্বশেষ যে, সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরাণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলে তার সমাধান হয়নি অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া, তাদের সম্পত্তির মালিক হওয়া-এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা চলে যায়নি। এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজ না করে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মিয়ানমারের যে ফর্মুলা, তাদের যে ইচ্ছা সেটাকে পূরণ করবার জন্য সরকার কাজ করছে বলে আমরা মনে করি।” রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কীভাবে আসতে পারে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা আগে বলেছিলাম যে, এই সমস্যার সমাধানে প্রথম হচ্ছে অলপার্টি ডায়ালগ করা। একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে ওইখান থেকে বেরিয়ে আসত আমাদের কী করতে হবে। “প্রথমে দরকার ছিল সরকার প্রধানের সেই সমস্ত রাষ্ট্র সফর করা, হেড অব দ্য স্টেটের সাথে দেখা করা, যারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেটা সরকার করে নাই, এখন পর্যন্ত তারা করে নাই। এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সফর বাংলাদেশের সরকার প্রধান বা বাংলাদেশের সরকারের কোনো প্রতিনিধি দল করেন নাই। মিয়ানমার যে ফর্মুলাগুলো দিচ্ছে সেগুলো তারা নিচ্ছেন। এখানে বোঝা যায় তারা বাংলাদেশের ইন্টারেস্টা সেভাবে দেখতে ব্যর্থ হচ্ছে।” ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কর্মসূচি। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বসতভিটাসহ সম্পদ ফেরত ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমাের্ ফিরে যাবে না বলে আগের অবস্থানেই অনঢ় রয়েছে। ২১ আগস্টের হামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ দাবি করে করে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন যে র‌্যালি হওয়ার কথা ছিল তা পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। ১ সেপ্টেম্বর বিকালে আলোচনা সভা হবে। বৈঠকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে মহাসচিব ছাড়া খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

 

মিরপুরে প্রীতি ফুঠবল খেলা অনুষ্ঠিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিরপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে গতকাল রোববার বিকেলে স্থানীয় ফুটবল মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় মিরপুর খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি ৩-২ গোলে পোড়াদহ শফি স্মৃতি সংঘকে পরাজিত করনে। খেলাটি পরিচালনা করেন ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মোহাম্মদ রফিক। তাকে সহযোগিতা কারেন মিরপুর মাহমুদা চৌধুরী কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক শরিফুল ইসলাম ও সুলতানপুর সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক সাইদুল ইসলাম। খেলাটি উদ্বোধন করেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। এ সময়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন পন্ডিত, মিরপুর খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি সভাপতি রেজাউল করিম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য হীরক জোয়ার্দ্দার, আব্দুল বারী, আশরাফুল আলম হীরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দুই দলকে ফুটবল প্রদান করেন জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার।

ভিডিও ভাইরাল

জামালপুরের ডিসি ওএসডি, তদন্ত কমিটি

ঢাকা অফিস ॥ এক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে জামালপুর থেকে বদলি করে ‘বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ (ওএসডি) হিসেবে পাঠানো হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। জামালপুরের ডিসির দায়িত্ব পেয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক, যিনি পরিকল্পনা মন্ত্রীর একান্ত সচিবের (পিএস) দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার এই বদলির আদেশ জারি করেছে। আর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠন করেছে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) মুশফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে রয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখার উপসচিব কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠপ্রশাসন অনুবিভাগ) আ. গাফ্ফার খান বলেছেন, কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি ফেইসবুকে ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড এবং ২৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একজন পুরুষ ও একজন নারীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ফেইসবুকে আলোচনা চলছে। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে ওই ভিডিও জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর তার অফিসের বিশ্রাম কক্ষের। পুরুষটি জেলা প্রশাসক নিজে এবং অন্যজন ওই অফিসেরই একজন সহকর্মী। সময় টেলিভিশন শুক্রবার এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করে, সেখানে বলা হয়, ডিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে ওই নারী কর্মী অফিসের সবার ওপর ‘খবরদারি’ চালাতে শুরু করেছিলেন। এ কারণে অফিসের কেউ ওই কক্ষে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে দেন। ফেইসবুকে আসা ভিডিও ওই ক্যামেরাতেই তোলা। তবে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ওই ভিডিওর পুরুষটি তিনি নন। এটি একটি ‘সাজানো ঘটনা’। এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) থেকে ওএসডি হওয়া আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে ‘উদাহরণ সৃষ্টির মত’ শাস্তির ব্যবস্থা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “অবশ্যই উদাহরণ সৃষ্টি করার মত পানিশমেন্ট তার হবে। আমাদের চাকরির বিধানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়ে গেছে। সেটিই হবে। আমরা খুব দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারব।”প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে কী ঘটেছে, কতটুকু ‘অনৈতিকতা’ সেখানে হয়েছে, সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। আর তার ভিত্তিতেই সরকার ব্যবস্থা নেবে। বিষয়টি অনেকের ‘দৃষ্টিগোচর’ হয়েছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটি অনৈতিক কর্মকান্ড। একজন ডিসি হিসাবে তার যে দায়দায়িত্ব আছে, সেখান থেকে সরে গিয়ে যে অনৈতিক কর্মকান্ডের কথা আমরা দেখেছি…। এটি আমাদের কাছে লিখিত এসেছে এবং আমরা খুব তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমরা তাকে ওএসডি করেছি। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আমরা সেটি করেছি আপাতত।” এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখানে যারা আছে, তারা সরকারের চাকরি যদি করে থাকেন, সরকারি কর্মচারী হয়ে থাকেন, তাদের উভয়ের বিচার হবে, উভয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।” ডিসির বিশ্রাম কক্ষে ক্যামেরা গেল কীভাবে- এ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আসলে সিসিটিভি থাকার কথা না কোনোভাবে। কিন্তু তার কর্মকান্ড তো এটা হওয়ার কথা না, এটাই বড় কথা। “সে কী ধরনের কর্মকান্ড করবে, তাদের কোড অব ম্যানার্স আছে, এথিকস আছে। সেগুলো অনুযায়ী কিন্তু আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদেরকে চলতে হয়।” অনেক কর্মকর্তার জন্য ব্যক্তিগত বিশ্রাম কক্ষ থাকবে কিনা- সে বিষয়েও এখন সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিষয়গুলো যাতে আরো পরিচ্ছন্ন থাকে, কারণ সাধারণত এ ধরনের ঘটনা ঘটে না। এ ধরনের ঘটনা সত্যিই আমাদের ব্যুরোক্রেসিতে যথেষ্ট পরিমাণে অস্বস্তি এনেছে।” সম্প্রতি আহমেদ কবীরের পাওয়া শুদ্ধাচার সার্টিফিকেট প্রত্যাহার করা হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই সেটি প্রত্যাহার করা হবে।”

আলমডাঙ্গা থানার আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নে ওপেন হাউজ ডে ও মতবিনিময় সভা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা থানা চত্বরে রবিবার বিকালে আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন বিষয়ে ওপেন হাউজ ডে ও এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷ আলমডাঙ্গা থানা আয়োজিত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাইলাল সরকার৷ আলমডাঙ্গা থানা আয়োজিত  ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে পুলিশের আচার-আচরন, তাদের ভূমিকা, এলাকাবাসীর সুবিধা-অসুবিধাসহ বিভিন্ন অভিযোগের উম্মুক্ত মতামত শুনার পরে সুন্দরভাবে সমাধান তুলে ধরেন আলমডাঙ্গা থানার ওসি আসাদুজ্জামান।  আলমডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত শেখ মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কানাইলাল সরকার বলেন মদ-গাঁজা-হিরোইন-ইয়াবার মতো মরণনেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়েই ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এর মত ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে ৷ তাই যারা মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত, তাদের আপনারা ধরিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন আপনাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ কারও নামে হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা করলে সেটা মিথ্যা প্রমানিত হলে শাস্তি প্রদান করা হবে ৷ বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে পিতা-মাতার সচেতনতা বাড়াতে হবে৷ ইভটিজিং বিষয়ে অভিভাবকেরা নিজেদের বিপদগামী সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে৷ সন্তানদের আবদার রাখতে দামী দামী এন্ড্রোয়েট ফোন কিনে দিয়ে তাদের সর্বনাশ করবেন না ৷ এদানিং  অত্রাঞ্চলে আত্মহত্যার প্রবনতা লক্ষনীয় ৷ আত্মহত্যা মহাপাপ এবং বড় ধরনের অপরাধ৷ আইনে আছে আত্মহত্যা করতে গিয়ে কেউ বেঁচে গেলে তার ৩ বছরের জেল হবে ৷ এছাড়াও তিনি বলেন বাংলাদেশ পুলিশ যদি জঙ্গিবাদ দমন করতে পারে, তাহলে মাদক, সন্ত্রাস চুরি, ছিনতাই ঘটনাকেও রোধ করতে পারবে । আইনশৃঙ্খলার অবনতি কোন ক্রমেই ঘটতে দেওয়া যাবেনা । আর এই জন্য সকলকে সচেতন হয়ে এক সাথে মিলে-মিশে কাজ করতে হবে । অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আলমডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র আলহাজ্ব হাসান কাদীর গনু,  জেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি হারদী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি কাউছার আহম্মদ বাবলু, সম্পাদক নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শফিউর রহমান জোয়ার্দার, সাবেক পৌর কমান্ডার আলহাজ্ব শেখ নুরমোহাম্মদ জকু, ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম মন্টু, লুৎফর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম আজম ৷ এ ছাড়াও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু মুছা, সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য আসাহাবুল হক ঠান্ডু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃশাহাবুদ্দিন, এ্যাডঃ নাশির উদ্দিন মঞ্জু, নাজিম উদ্দিন, শওকত আলী, আব্দুল জব্বার, মনিন্দ্র নাথ দত্ত, ওমর ফারুক, ওয়াজেদ আলী মাষ্টার, ইমদাদুল হক, আইনদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মন্ডল, আবু তাহের আবু, নবনির্বাচীত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বিপ¬ব, মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু, আমিনুল ইসলাম রোকন, বিআরডিবি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মুহিত, আবু সাইদ পান্টু, আওয়ামীলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান চঞ্চল, পরিমল কুমার ঘোষ কালু, জেলা যুবলীগের সদস্য পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি নয়ন সরকার, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

শেষ রক্ত দিয়েও লড়াইয়ে প্রস্তুত আদিবাসীরা

ঢাকা অফিস ॥ শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও নিজেদের আবাসভূমি আমাজন রেইনফরেস্ট রক্ষায় লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন আদিবাসীরা। চলতি সপ্তাহে মাথায় কমলা রঙের কাপড় বেঁধে হাতে ধনুক উঁচিয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি জানান দিয়েছেন তারা। ‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত আমাজনে আগুন লাগানোর ঘটনায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন আদিবাসীরা। তবে তারা কাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এটা স্পষ্ট করেননি। আমাজনের মুরা সম্প্রদায়ের নেতারা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে এ অগ্নিকান্ডের জন্য দায়ী করছে। মুরা জনগোষ্ঠীর নেতা ৭৩ বছর বয়সী রাইমুন্ডু প্রাইরা বেলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের ভূমি ও আমাদের গাছ নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও রক্ষা করব। এই আমাজন জঙ্গলে প্রায় ১৮ হাজার মুরা জনগোষ্ঠীর লোকের বসবাস। মুরা ছাড়াও এখানে আরও ৪০০ প্রকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন আছে। তারা সবাই মিলে তাদের আবাসভূমি রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত।’ রাইমুন্ডু তার জীবনের পুরো সময়টাই এ বনে বাস করেছেন। আরেক নেতা হান্দারস ওয়াকানা মুরা বলেন, ‘প্রতিদিন অতিবাহিত হচ্ছে আর আমাদের আবাসভূমি পুড়ে ছাই হচ্ছে। ভূমি দখল, গাছ উজাড় করায় কাঠ ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়েই চলেছে। আমরা খুবই মর্মাহত। কারণ আমাদের বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমরা অনুভব করছি। এ সময় বিশ্বের জন্য বন খুবই প্রয়োজন।’ আমাজনের বৃহত্তম রাজ্য আমাজোনাসে বসবাস করেন মুরা সম্প্রদায়ের লোকেরা। রয়টার্সের প্রতিনিধিদের তারা ফুটবল মাঠের সমান কয়েকটি গ্রাম দেখিয়েছেন। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) বলছে, এ বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই ১০ হাজারটি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় দাবানলের সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ শতাংশ। গত বছর প্রায় ৪০ হাজারটি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুমন্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎস বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট আমাজন। এটি বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতিকে শ্লথ রেখেছে। এ কারণেই একে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়। পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বনটি উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছেন। এমনকি অভিযোগের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। মুরা জাতিগোষ্ঠীও বলসোনারোকে দায়ী করছেন। ওয়াকানা মুরা বলেন, ‘বনে উন্নয়নের ছোঁয়া দেয়ার নামে বন উজাড় করছেন প্রেসিডেন্ট।’ কিন্তু ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলছেন, তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ায় এনজিওগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে এ আগুন দিচ্ছে।

 

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জনতা ব্যাংক সিবিএ কুষ্টিয়া এরিয়া আলোচনা সভা ও দোয়া মহফিল

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু মানে মানচিত্র। যদি  বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানা যায় তবে  বাংলাদেশ সম্পর্কেই জানা হয়ে যাবে। গতকাল রবিবার বিকেলে জনতা ব্যাংক লিঃ কুষ্টিয়া এরিয়া চত্বরে অনুষ্ঠিত ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তরা এসব কথা বলেন। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু না থাকলে এদেশ হতো না। তার ডাকে এসেছে স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাকে আনতে বঙ্গবন্ধুকে ১৪ বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে।  সারাটা জীবন তিনি বাংলার মানুষদের জন্য ব্যয় করেছেন। জনতা ব্যাংক গণতান্ত্রিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) কুষ্টিয়া এরিয়া কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সংগঠনের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল হক,  জনতা ব্যাংক লিঃ এরিয়া অফিস কুষ্টিয়া এরিয়া ইনচার্জ সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক মোঃ মিনাজ উদ্দিন, কর্পোরেট শাখা কুষ্টিয়া সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক ধীরাজ কুমার সাহা । প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা শ্রমিকলীগ কুষ্টিয়া সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আমজাদ আলী খান। বক্তব্য রাখেন জনতা ব্যাংক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহির রায়হান, কার্যকরী সভাপতি মোঃ আব্দুল মোতালেব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জনতা ব্যাংক স্বাধীনতা ব্যাংর্কাস পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি ও রামচন্দ্র রায় ষ্ট্রীট শাখার ব্যবস্থাপক সাজ্জাউল করিম, চৌড়হাস শাখার ব্যবস্থাপক আবু তাহের, খাজানগর বাজার শাখার ব্যবস্থাপক  জাহিদ হোসেন, কুমারখালী শাখার ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ জনতা ব্যাং লিঃ কুষ্টিয়া এরিয়ার সকল শাখা ব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ইবি ভিসির শোক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) এক শোকবার্তায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. মোসাঃ সৈয়দা সিদ্দিকা’র পিতা সৈয়দ আহমেদ এর মৃত্যুতে এবং আইন বিভাগের ১৯৯৯-২০০০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আতিয়ার রহমানের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রেরিত শোকবার্তায় তিনি,  মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। অপর পৃথক পৃথক শোকবার্তায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. মোসাঃ সৈয়দা সিদ্দিকা’র পিতা সৈয়দ আহমেদ এর মৃত্যুতে এবং আইন বিভাগের ১৯৯৯-২০০০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আতিয়ার রহমানের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। তাঁরা  মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইতালির পালেরমো আওয়ামীলীগের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইতালি আওয়ামী লীগ পালেরমো শাখার উদ্যোগে স্থানীয় বিডি রেস্টুরেন্ট ও পার্টি সেন্টারে আলোচনা অনুষ্ঠান ও  দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, পালেরমো আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসানউল্লাহ হাসান সিকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, পালেরমো আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এজাজ আল মাসুম। প্রধান অতিথি ছিলেন পালেরমো আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মহসিন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন- পালেরমো আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা রহম আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন সিসিলি আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, পালেরমো আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল হক আঁখি, সাংগঠনিক সম্পাদক মজনু আলী, ইতালি আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান সর্দার, পালেরমো আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি হাবিব আহসান ইমন সহ আরও অনেকে। বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবনী আলোচনা করেন এবং সকল স্তর থেকে আওয়ামীলীগে লুকিয়ে থাকা মোস্তাকদের চিহ্নিত করে তাদের দল থেকে বহিস্কার করার অনুরোধ করেন জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে। কারণ এই মোস্তক পাকিচক্ররাই দেশে-বিদেশে দলের মধ্যে কোন্দল ও মারামারি সৃষ্টি করছে। সবশেষে জাতির পিতাসহ পরিবারের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আলম।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে জেলাবাসীর স্বার্থে ৭ দফা দাবি জানালেন বিএনএফ নেতৃবৃন্দ

জেলাবাসীর স্বার্থে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে ৭ দফা দাবি জানালেন বিএনএফ নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) কুষ্টিয়া জেলা শাখার চীফ কো-অডিনেটর বিশিষ্ট সাংবাদিক শামসুল আলম স্বপন, বিএনএফ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোশাররফ হোসেন হুজুর, বিএনএফ’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক, সহ-প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক কাজী সোহান শরীফের নেতৃত্বে বিএনএফ’র একটি  প্রতিনিধি দল গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করে জেলাবাসীর স্বার্থে ৭ দফা দাবি নামা পেশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আজাদ জাহান, ডিডি এলজি মৃণাল কান্তি, এনডিসি এ বি এম আরিফুল ইসলাম। ৭ দফা দাবি পড়ে জেলা প্রশাসক বিএনএফ নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন- প্রতিটি দাবি ন্যায় সংগত । তিনি পর্যায়ক্রমে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্র“তি দেন। বিএনএফ নেতৃবৃন্দও জেলা প্রশাসকসহ তার সংশ্লিদের ধন্যবাদ জানান। বিএনএফ’র ৭ দফা দাবি : ১. কুষ্টিয়া ২৫০ বেড হাসপাতালের রুগী ও আগত মানুষের সুপেয় পানির জন্য একটি বিশুদ্ধ পানির “ওয়াটার প্লান্ট” স্থাপন করতে হবে। ২. কুষ্টিয়া জেলখানা মোড়ের পশ্চিম পার্শ্বে হর্টিকালচার সেন্টারের সামনে ভিআইপি সড়ক থেকে ডাষ্টবিন অপসারণ করতে হবে। ৩. অবৈধ কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে হবে। ৪. সরকার ইন্টারনেটের বিল অর্ধেক করলেও কুষ্টিয়ার ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা আগের মতই গ্রাহকদের কাছ থেকে জোর পূর্বক পুরা বিল আদায় করছে। জনস্বার্থে ওই সব ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। ৫. সন্ধ্যার পর কোন শিক্ষার্থী যাতে লেখাপড়া ফাঁকি দিয়ে পাড়ায়-মহল্লায় আড্ডা না দিতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। ৬. যে সকল ছেলে-মেয়েরা  স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে জেলার দর্শনীয় স্থান ও পার্ক সমুহে আড্ডা কিংবা অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয় জনস্বার্থে সেই সব ছেলে- মেয়েদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ৭. কুষ্টিয়াকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত করতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ পৌর এলাকার মথুরাপুর এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের মথুরাপুর মোড় থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় ফেন্সিডিল। আটককৃতরা হলো-চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদা উপজেলার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রহমান (২৫) ও মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে জেবুল হোসেন (২৬)। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে চুয়াডাঙ্গা থেকে মাদকের একটি বড় চালান ঝিনাইদহে আসছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ মথুরাপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এসময় চুয়াডাঙ্গা থেকে ঝিনাইদহগামী একটি মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে তল্লাসী শুরু করলে আরোহী ২ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে মামুনুর রহমান ও জেবুল হোসেন নামের ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬৬ বোতল ফেন্সিডিল ও জব্দ করা হয় মাদক বহনকারী মোটর সাইকেল। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনে প্রস্তাব জিএম কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংরক্ষণে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। জিএম কাদের বলেন, দেশে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় বা সংখ্যালঘু কমিশন থাকতে পারে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংরক্ষণ হবে, তারা এগিয়ে যেতে পারবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি সব সময় সংখ্যালঘুদের পাশে ছিল। আগামী দিনগুলোতেও আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে থাকব। তাদের যৌক্তিক সব দাবিতে সংসদে ও রাজপথে ভূমিকা রাখবে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, পৃথিবীর সব ধর্মই শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলেছে। সব ধর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই। সব ধর্মই ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে। তাই এক ধর্মের সঙ্গে অন্য ধর্মের কোনো বিভেদ থাকতে পারে না। জিএম কাদের বলেন, মাত্র পাঁচ শতাংশ মানুষ ধর্মকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত স্বার্থে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। তাদের এ দেশের মানুষ কখনোই গ্রহণ করেননি। ‘বাংলাদেশের বড় দলগুলোও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জন্মাষ্টমীর দিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন এবং হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছেন। হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় এরশাদ সব সময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ‘পল্লীবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় পার্টি সব সময় সংখ্যালঘুদের পাশে থাকবে।’ শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘের আহ্বায়ক নকুল চন্দ্র শাহার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সুজন দের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, সংখ্যালঘু বিষয়ক উপদেষ্টা সোমনাথ দে, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাপস পাল, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ঢাকা মহানগরের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন দাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ৬৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিক ও অধ্যাপক এস এম রায় সমর। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আহসান শাহজাদা, যুগ্ম দফতর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান, কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদ আলম, আবু তৈয়ব, হাজি সিরাজ, মমতাজ, নুরুল হক নুরু, যুব নেতা মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

 

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র সবই করবে – মিলার

ঢাকা অফিস ॥ ‘রোহিঙ্গাদের সম্মানের সঙ্গে ও নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য আমেরিকা ও জাতিসংঘের অন্যান্য রাষ্ট্র মিলে যা যা করা দরকার তা সবই করবে। বাংলাদেশ উদারতার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে সেটা প্রশংসার দাবিদার। রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের পাশে আছে, সব সময় থাকবে।’ গতকাল শনিবার সকালে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরে অবস্থিত নটারকান্দি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার এ সব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বন্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার জনগণ ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য ১ লাখ ডলার প্রদান করবে। এতে ১ হাজার ২শ’ পরিবারের ৪ হাজার ৯০০ মানুষ সহায়তা পাবে। শনিবার এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। চিলমারীর নটারকান্দি হাইস্কুল মাঠে ত্রাণ বিতরণের আগে চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় এই চরাঞ্চলের শতাধিক পরিবারকে নগদ ৪ হাজার ৫শ’ টাকা, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এ ছাড়া ১০টি প্রতিবন্ধী পরিবারের মাঝে নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চর ও রমনা ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়ন। আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছে এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সলিডারিটি। ত্রাণ বিতরণের সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান, ইউএসএইড বাংলাদেশের মিশন ডিরেক্টর ডেরিক ব্রাউন, কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়া চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী বীরবিক্রম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা, সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশীদ লাল প্রমুখ। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় সি-প্লেনে কুড়িগ্রাম চিলমারী বন্দরে ব্রহ্মপুত্র নদে অবতরণ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার। এরপর তিনি স্পিডবোটে নটারকান্দি চরে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তিনি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আবার সি-প্লেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেই হবে – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেই হবে।’ শনিবার সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা তৈরি করতে পারেনি বলেই তারা তাদের দেশে ফিরতে রাজি হচ্ছে না। তবে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তাদের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেই হবে। আর তাদেরও ফিরে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতার দায় মিয়ানমারের। আমরা মিয়ানমারকে আগেই প্রস্তাব দিয়েছিলাম রোহিঙ্গাদের ১০০ জন নেতাকে সেখানে নিয়ে যেতে। তাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য সেখানে কি কি করা হয়েছে সেগুলো দেখে এসে তারা অন্যদের বোঝাবে। সেখানে চীন ১০০টি এবং ভারত ২৫০ বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে। সেগুলো দেখে এসে তারা যখন অন্য রোহিঙ্গাদের বলতো তখন তারা আশ্বস্ত হতো। প্রত্যাবর্তনে রাজি হতো। কিন্তু মায়ানমার সেটা করেনি। তাই প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থতার দায় তাদেরই।’ পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার্থে আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এই অনুষ্ঠানে ড. মোমেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ‘মানবিক উন্নয়ন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তায় নানামুখী কর্মসূচির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। তিনি চান না সমাজ থেকে একটি মানুষও ঝরে পড়ুক।’ তাই, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এসব অর্থ কোনভাবে যেন বেহাত না হয় সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত, নেপালসহ অনেক দেশে উন্নয়নের পাশাপাশি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য অনেক বেশি। বাংলাদেশে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ধনী-দরিদ্রের ফারাক সেভাবে বাড়েনি।’ সিলেট জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কবি নজরুল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা পরিচালক সন্দ্বীপ কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা  সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, সিলেট জেলা সমাজসেবা অফিসার নিবাস রঞ্জন দাস উপস্থিত ছিলেন।

অচলাবস্থা উপেক্ষা করে কাশ্মীরের ‘গাজায়’ বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ অধিকৃত কাশ্মীরে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও বিক্ষোভ চলছে। শুক্রবারে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের বাতিলের প্রতিবাদে কাশ্মীরের গাজাখ্যাত সৌরাপাড়ায় গত তিন সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা। উপত্যকাটিতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এই পাড়াটিকে।-খবর রয়টার্স। শত শত স্থানীয় যখন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন, তখন পুলিশ সেখানে ঢোকার চেষ্টা করলে রুখে দেয়া হয়। চলতি সপ্তাহে ভারত ও পাকিস্তানের জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর (ইউএনএমওজিআইপি) কার্যালয়ের দিকে বিক্ষোভের আহ্বান করে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। ভারত থেকে কাশ্মীরকে আলাদা করতে চাওয়া বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই প্রথম কোনো এমন আহ্বান। কাশ্মীর নিয়ে দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ হয় ১৯৪৯ সালে। এরপরেই ইউএনএমওজিআইপি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ধাতুর পাত ও পাথর স্তূপ করে সৌরাপাড়ার সরু গলি বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার জুমার পর স্থানীয় মসজিদ এলাকায় তারা বিক্ষোভ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে প্রতিবাদ জানান তারা। পুলিশও টিয়ার গ্যাস ও মরিচের গুঁড়ার গ্রেনেড(চিলি গ্রেনেড) নিক্ষেপ করে। কিন্তু প্রতিরোধের মুখে পড়ে পিছু হটে। ছররা গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা বাহিনী বারবার সৌরাপাড়ার ভেতরে ঢুকতে চেয়েছে। তারা টিয়ার গ্যাস ও ছররা গুলি ব্যবহার করেছ। রৌফ নামের এক কাশ্মীরি বলেন, আমরা বাড়িতে কিংবা বাইরে-কোথাও নিরাপদ না। টিয়ার গ্যাসের ঝাঁজ থেকে রক্ষা পেতে তিনি নাকে-মুখে লবণ ঘষছিলেন। শুক্রবার সকালে পাড়াটি শান্তই ছিল। দুপুরে নারী ও পুরুষরা দলবেঁধে স্থানীয় সবচেয়ে বড় মসজিদটিতে জুমা পড়তে যান। এরপর শুরু হয় বিক্ষোভ।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণজাগরণ গড়ে তুলুন – জাসদ

ঢাকা অফিস ॥ দেশে লুটপাট, সম্পদপাচার, নারী নির্যাতন, বেপরোয়া হত্যাকান্ড, উন্মত্ত গণপিটুনি প্রতিরোধে ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ সারাদেশে গতকাল (শনিবার) মানববন্ধন, জমায়েত, আলোচনাসভার মাধ্যমে গণজাগরণ দিবস পালন করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, মনজুর আহমেদ মনজু, নাসিরুল হক নওয়াব, সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমেদ তফছির, জাতীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ জাসদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আবদুস সালাম খোকন, ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি আসাদুজ্জামান জাকির, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি আলমগির হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল সাধারণ সম্পাদক গৌতম শীল প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তব্য দেয়ার আগে যুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা বাংলাদেশ ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, দেশে উন্নয়নের আড়ালে এক লুটেরাচক্র গড়ে উঠেছে। এই লুটেরাচক্র অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। দুদক বড়দের কাছে যেতে পারছে না, ছোটদের নিয়ে টানাটানি করছে। আবার সরল বিশ্বাসের দুর্নীতির প্রতি দুদক নমনীয় হয়ে পড়েছে। এখন দরকার উন্নয়নের সঙ্গে জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন মানুষের নৈতিকতার ধস নামিয়ে দিয়েছে। এ জন্য দুর্নীতি, ধর্ষণ, সন্ত্রাস প্রভৃতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নির্বাচিত নেতৃত্ব, মন্ত্রী, মেয়রদের আচার-আচরণে দায়িত্বশীলতা প্রতিফলিত হয় না। ধানের দাম, চামড়ার দাম, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে সেসব স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হতো। এখন চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে ঠিকই কিন্তু তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিনিয়োগ নেই। কত দামে মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে চায় সরকার তা জনগণকে জানানো উচিত।

 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলার নজির নেই – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলার নজির নেই। গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। সমন্বিত ও সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতি তদারকি করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রথম দিকে প্রক্রিয়া ধীরগতি হলেও বর্তমানে সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এক মুহূর্তের জন্যও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো শাখা কোনো প্রতিষ্ঠান শৈথিল্য প্রকাশ প্রদর্শনের নজির নেই।’ পাশাপাশি ‘বিআরটিসির অনিয়ম দুনীতি বন্ধ করে এই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে সরকার কঠিন হতে যাচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বিআরটিসির ব্যাপারে কঠিন হতে চলেছি। বিআরটিসি থেকে দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা হবে। নতুন গাড়িগুলো এসে বহর আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। আপনারা সহযোগিতা করলে বিআরটিসিকে লাভবান করা সম্ভব। এই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুনীতিমুক্ত না হলে বিআরটিসি লাভের মুখ দেখবে না। লাভের গুড় এখানে পিপড়ায় খেয়ে ফেলে। লাভের গুড় যখন পিপড়ায় খেয়ে ফেলে তখন লোকসান ছাড়া লাভ হবে না। বিআরটিসিকে লাভজনক করতে হবে।’ বিআরটিসি শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। বক্তব্য রাখেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভুইয়া, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, অর্থ সম্পাদক সুলতান আহমদ।