এবারের ঈদে সজলের ১১ নাটক

বিনোদন বাজার ॥ ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুন নূর সজল। ঈদ উপলক্ষে পুরো রমজান মাস শুটিং নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। প্রতি ঈদে সজল অভিনীত অন্তত এক থেকে দুই ডজন নাটক টিভিতে প্রচার হয়। কিন্তু করোনার তা-বে দীর্ঘ দিনের সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। ঈদুল ফিতরের নাটক-টেলিফিল্মের শুটিং করতে না পারায় এবারের ঈদে সজল অভিনীত মোট ১১টি নাটক বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হবে। এসব নাটক-টেলিফিল্মের কাজ এই সংকটময় পরিস্থিতির আগেই শেষ করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে বৈশাখী টিভিতে ঈদের দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে প্রচার হবে ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’, ঈদের তৃতীয় দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাছরাঙা টিভিতে প্রচার হবে বিশেষ টেলিফিল্ম ‘মেঘডুবি’, ঈদের চতুর্থ দিন রাত ৯টায় মাছরাঙা টিভিতে প্রচার হবে ‘যদি আরেকটু সময় পেতাম’, ঈদের পঞ্চম দিন রাত ৯টায় গাজী টিভিতে দেখা যাবে ‘অন্তর্নিহিত ভালোবাসা’, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাছরাঙা টিভিতে প্রচার হবে বিশেষ টেলিফিল্ম ‘মনে মনে’। ঈদের ষষ্ঠ দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে বৈশাখী টিভিতে দেখা যাবে ‘গোধূলি লগ্নে’, একই দিন রাত ৮টায় আরটিভিতে প্রচার হবে ‘খোলস ভাঙ্গার গল্প’, ঈদের সপ্তম দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে বৈশাখী টিভিতে প্রচার হবে ‘শেষ হয়েও হল না শেষ’, এটিএন বাংলায় ‘সবুজ রঙের স্বপ্ন’সহ ‘কাগজের বউ’ ও ‘স্পর্শে আছো তুমি’ শিরোনামের আরো দুটি নাটক প্রচার হবে এবারের ঈদে।

 

এবার শাহরুখের নায়ক হলেন মেডিকেল কলেজের ছাত্র

বিনোদন বাজার ॥ মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তবে মাথায় ছিলো অভিনয়ের পোকা। আর অভিনয়ের প্রতি সেই প্রেম তাকে নিয়ে এসেছে শাহরুখ খানের কাছে। ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে সামনে এগিয়ে চলার রাস্তা। কথা হচ্ছে শাহরুখ খান প্রযোজিত নতুন ওয়েব সিরিজের নায়ক বিনীত কুমার সিংকে নিয়ে। বিনীত কুমার মুম্বাই শহরে পা রেখেছিলেন রিয্য়ালিটি শো-এর সূত্রে। এরপর পরিচালক মহেশ মঞ্জরেকরের নজরে আসেন তিনি। এ ছাড়া বলিউডে অনুরাগ কাশ্যপের ‘মুক্কাবাজ’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে নজর কাড়েন ২০১৮ সালে। শাহরুখ প্রযোজিত ‘বেতাল’ নামের একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছেন বিনীত। গোটা দেশ যখন করোনার ভয়ে কাঁপছে, তখন এক হরর-থ্রিলার নিয়ে আসছেন শাহরুখ। বিনীত বলেন, ‘ভারতে হরর নিয়ে এমন কাজ হয়তো হয়নি। খুব ভালো একটা কাজ হচ্ছে। এই ওয়েব সিরিজে কাজ করতে গিয়ে ‘শাহরুখ স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে কয়েকবার। তার জীবন একটা বইয়ের মতো। শুনতে শুরু করলে মাসের পর মাস কেটে যেতে পারে। একদিন এডিটে দু’ ঘণ্টা ছিলেন শাহরুখ। আমাকে ডেকে বললেন, ‘তুই অভিনয়টা দুর্দান্ত করিস’। ভালো লাগছিল শুনে।’ সামনে শ্রীদেবীর মেয়ে জাহ্নবী কাপুরের সঙ্গে বিনীতের ‘গুঞ্জন সাক্সেনা’ ও সুমন ঘোষের হিন্দি ছবি ‘আধার’ মুক্তির অপেক্ষায় আছে।

এবার করোনা সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনে মৌসুমী

বিনোদন বাজার ॥ প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে মুগ্ধ করেছেন ভক্তদের। একাধিকবার তার হাতে উঠেছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন তিনি। করোনা দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছেন এ অভিনেত্রী। এবার করোনা সতর্কতায় নির্মিত বিজ্ঞাপনে কাজ করবেন মৌসুমী। লকডাউন পরবর্তী করণীয় কী? এমন স্লোগান নিয়ে বিজ্ঞাপণচিত্রের চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে। আগামী ২৮-৩০ মে মৌসুমী হাউস, নাসা টাওয়ার, ডি কোর ফার্নিচার, শিল্পকলা একাডেমি এবং সেগুন বাগিচা মহিলা বারডেম হাসপাতালে শুটিং হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে। মৌসুমী ছাড়াও এতে আরো থাকবেনÑকাজী হায়াৎ, সৈয়দ হাসান ইমাম, কণ্ঠশিল্প রফিকুল আলম, ক্রিকেটার রকিবুল হাসান, আইসিসি আম্পায়ার নাদির শাহ, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ভাস্কর্য রাসা, অধ্যাপক ডা. সালাম, পীর মাসায়েক খন্দকার গোলাম মওলা নকশেবন্দি, সিনহা, লাকি হামিদ, বন্যা, আক্তার সোনিয়া, রিপা আক্তার, নাঈম, অঙ্কিতা ও রোজি। রফিকুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনায় এর চিত্রগ্রহণ করবেন শফিকুল আলম মিলন। সম্পাদনা করবেন আরিফুর রহমান নিয়াজ। জনস্বার্থে: বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।

দীপিকা যে অভিনেতার পোস্টারে চুমু খেয়ে ঘুমাতে যেতেন

বিনোদন বাজার ॥ জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। ভালোবেসে বিয়ে করেছেন অভিনেতা রণবীর সিংকে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে গাঁটছড়া বাঁধেন এই জুটি। তবে কৈশোরে দীপিকার স্বপ্নের নায়ক ছিলেন অন্য কেউ, যার পোস্টারে চুমু খেয়ে ঘুমাতে যেতেন এই অভিনেত্রী ও তার বোন আনিশা পাড়ুকোন। দীপিকার প্রিয় এই নায়ক আর কেউ নন, ‘টাইটানিক’ সিনেমাখ্যাত অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এ প্রসঙ্গে দীপিকা পাড়ুকোন বলেন, ‘আমার বোন ও আমি একই ঘরে ঘুমাতাম। আমরা প্রতিদিন সোফায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেলতাম। আমাদের ঘরের দেওয়ালে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর কয়েকটি পোস্টার ছিল। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আমরা তার পোস্টারে চুমু খেয়ে শুভরাত্রি জানাতাম।’ এদিকে লকডাউনের এই সময়ে ঘরের কাজ, গাছের পরিচর্যা ও স্বামী রণবীর সিংয়ের সঙ্গে সিনেমা দেখে সময় পার করছেন দীপিকা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি বলব, এই পরিস্থিতিতে রণবীরের সঙ্গে সময় কাটানো সবচেয়ে সহজ। সে দিনে ২০ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকে, আর আমি এই সুযোগে আমার ইচ্ছে মতো সব কাজ করতে পারি। বাকি চার ঘণ্টা সে হয় সিনেমা দেখে, খাওয়া-দাওয়া অথবা ব্যায়াম করে। তার সঙ্গে খুবই ভালো সময় কাটছে। কোনো চাওয়া নেই, ঝামেলা নেই। সে খুব নির্ভেজাল।’ এই অভিনেত্রীর পরবর্তী সিনেমা ‘৮৩’। কবির খান পরিচালিত সিনেমাটির গল্প তৈরি হয়েছে ১৯৮৩ সালে ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বিজয় নিয়ে। এতে সেই সময় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কপিল দেবের ভূমিকায় দেখা যাবে রণবীর সিংকে। আর তার স্ত্রী রোমি দেবের চরিত্রে পর্দায় হাজির হবেন দীপিকা পাড়ুকোন। এ ছাড়া সকুন বাত্রার একটি সিনেমায় অভিনয় করবেন তিনি। পাশাপাশি হলিউডের ‘দ্য ইন্টার্ন’ সিনেমার হিন্দি রিমেকে দীপিকাকে দেখা যাবে।

ভক্তদের হতাশ করবেন না চঞ্চল

বিনোদন বাজার ॥ ঈদ মানেই বিশেষ ক’জন তারকার নাটক-টেলিফিল্ম। তাদের মধ্যে অন্যতম চঞ্চল চৌধুরী। কিন্তু কােভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘ দিন ধরে শুটিং বন্ধ রয়েছে। অন্য তারকাদের মতো তিনিও ঘরবন্দি সময় পার করছেন। এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অনুষ্ঠান সাজানোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। কিন্তু এবার নতুন নাটক-টেলিফিল্মের সংকট রয়েছে। এজন্য অধিকাংশ তারকার নতুন নাটক কম প্রচার হবে। তবে লকডাউনের আগে যেসব তারকা ঈদের নাটকের শুটিং করেছিলেন, তাদের বেশ কিছু নাটক টিভিতে প্রচার হবে। এ তালিকায় রয়েছেন চঞ্চল চৌধুরীও। এই সংকটকালেও ভক্তদের হতাশ করবেন না তিনি। ঈদুল ফিতরে তার অভিনীত ৪টি নাটক প্রচার হবে বলে জানিয়েছেন এ অভিনেতা। নাটকগুলো হচ্ছেÑ‘দূরত্বের গুরুত্ব’, ‘সুন্দর আলী অপেরা’, ‘বক্কর এখন ব্যাংকার’ ও নাম ঠিক না হওয়া আরেকটি নাটক। সমসাময়িক গল্পে ‘দূরত্বের গুরুত্ব’ নাটকটি নির্মাণ করেছেন বরেণ্য নির্মাতা হানিফ সংকেত। এটি এটিএন বাংলায় ঈদের দিন রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রচার হবে। এ ছাড়া গোলাম সোহরাব দোদুলের পরিচালনায় ‘সুন্দর আলী অপেরা’ দেখা যাবে দীপ্ত টিভিতে। ঈদের চতুর্থ দিন আরটিভিতে প্রচার হবে সকাল আহমেদের পরিচালনায় নাটক ‘বক্কর এখন ব্যাংকার’। এ ছাড়া মাসুদ সেজান পরিচালিত একটি নাটক প্রচার হবে। তবে আরো বেশ কিছু পুরাতন নাটক বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হতে পারে বলে জানিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী।

আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত টলিউড অভিনেতার বিলাসবহুল বাড়ি

বিনোদন বাজার ॥ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তা-বে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল একেবারে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে যেমন অবরুদ্ধ হয়ে আছে, তেমনি বহু এলাকা পানিবন্দি। কলকাতা শহরের অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে, আবার অনেক স্থানে বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আম্ফানের এই তা-ব থেকে রক্ষা পায়নি টলিউড অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরার বিলাসবহুল বাড়িও। তার বাড়ির মেঝেতে পানি থই থই করছিল। জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছে। বাথরুমের ফলস সেলিং খসে পড়েছে। এসবের বেশ কিছু ছবি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে এ তথ্য জানিয়েছেন অঙ্কুশ। ক্যাপশনে লিখেছেনÑসাইক্লোন নাকি ভূমিকম্প? আমাদের মতো মানুষেরা কিছুটা হলেও এই ক্ষতি সামাল দিতে পারবে। কিন্তু সেই সব মানুষেরা? যারা সব হারালেন? আমরা সবাই একটু তাদের পাশে দাঁড়াই। অঙ্কুশের বাড়ির এসব ছবি দেখে নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেনÑবিত্তবান মানুষদের বাড়ির যদি এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উপকূলবর্তী মানুষদের না জানি কী অবস্থা!

 

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সচেতনতামূলক গানে কণ্ঠ দিলেন রবি চৌধুরী  

বিনোদন বাজার ॥ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। একসময় সংগীতাঙ্গন দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। এখন তিনি অনিয়মিত। অনেকটা বিরতির পর এবার উগ্রবাদ প্রতিরোধে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় একটি সচেতনতামূলক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ‘উগ্রবাদ প্রতিরোধে চলো হাতে রাখি হাত/ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে গড়ি প্রতিবাদ’Ñএমন কথার গানটি লিখেছেন আশিক বন্ধু। গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন রবি চৌধুরী। ইউএসএআইডির সহযোগিতায় এবং জাগো নারী উন্নয়ন সংগঠনের পরিবেশনায় তৈরি হয়েছে গানটি। সম্প্রতি রবি চৌধুরীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে এটি। রবি চৌধুরী বলেনÑআমাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ আছে, তাই উগ্রবাদ প্রতিরোধে এই গানটি গেয়ে বেশ শান্তি লাগছে। সমাজের মানুষ গানে গানে সচেতন হোক এটাই আশা করি সবসময়। গানটির গীতিকার আশিক বন্ধু বলেনÑউগ্রবাদ প্রতিরোধে গানটি লিখতে পেরে ভালো লাগছে। কারণ সচেতনতামূলক একটি কাজে নিজেকে যুক্ত রাখতে পারার আনন্দ অনেক।

নিজ নিজ বাসা থেকে ইকরি-হালুমদের শুটিং

বিনোদন বাজার ॥ আসছে ঈদে প্রচার হবে সিসিমপুরের ৩ পর্বের বিশেষ অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে নাম রাখা হলো, ‘ঘরে ঘরে ঈদ, ঘরে থেকে ঈদ’। নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পর্বগুলোর শুটিংয়ে সিসিমপুরের ইকরি-হালুমসহ জনপ্রিয় চরিত্রগুলো তাদের নিজ নিজ বাসা থেকেই অনুষ্ঠানটির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছে! কারণ, চলছে এখন করোনাকাল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঈদ অনুষ্ঠানমালায় ঈদের প্রথম দিন, দ্বিতীয় দিন ও তৃতীয় দিন বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে বিশেষ এই সিসিমপুর। ২০১৫ সাল থেকে প্রতি ঈদে শিশুদের জন্য বিশেষ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে সিসিমপুর। বিশেষ এই অনুষ্ঠানের কনটেন্ট সম্পর্কে সিসিমপুরের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘সারা বিশ্ব এখন বিশেষ সময় পার করছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের শিক্ষা ও নিরাপত্তায় আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। ঈদের বিশেষ এই অনুষ্ঠানটিও সেভাবে সাজানো হয়েছে।’ এই আয়োজনে শিশুদের প্রিয় চরিত্রগুলো বিনোদনের মধ্য দিয়ে শিশুদের জানাবে কীভাবে ঘরে থেকেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করা যায়। আরও শেখানো হবে পুষ্টিকর খাবার, প্রচুর পানীয় আর স্বাস্থ্যকর অভ্যাস পালনের মাধ্যমে কীভাবে সুস্থ থাকা যায়। আর এসবের মাধ্যমে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত করোনাভাইরাস থেকে সচেতন থাকার বিষয়টিও উঠে আসবে অনুষ্ঠানজুড়ে। বিশেষ এই অনুষ্ঠানটি দেখা যাবে সিসিমপুরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজেও।

ঈদেও বন্ধ থাকবে সিনেমা হল

বিনোদন বাজার ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও সিনেমা হল খুলতে একাট্টা হয়েছিলেন মালিকপক্ষের একাংশ। এ নিয়ে দফায় দফায় তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। সর্বশেষ প্রদর্শক সমিতির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক আবদুল আউয়ালের সঙ্গে আলোচনাও হয়। সরকারের কাছে জানানো হয়, পুরনো ছবি হলেও সিনেমা হল চালু রাখতে চান তারা। তবে সরকারের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ঈদেও বন্ধ থাকবে প্রেক্ষাগৃহ। বিষয়টিনিশ্চিত করেছেন প্রদর্শক সমিতির সাবেক নেতা ও মধুমিতা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। জানা যায়, মধুমিতার অফিসে রবিবারে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- প্রশাসক আবদুল আউয়াল, ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, আতিকুর রহমান লিটন, সিরাজুল ইসলাম বাদল (বর্ষা), পাপ্পু (নন্দিতা হলের ভাড়া মালিক), আলীক আকবর (মনিহারের ভাড়া মালিক), কালাম (এশিয়ার ভাড়া মালিক), মুবিন (চিত্রমহলের ভাড়া হল মালিক), আলীম সরদার (বুকিং এজেন্ট), শহীদুল হক মাস্টার (বুকিং এজেন্ট) এবং অজিৎ নন্দী (ভাড়া হল মালিক)। তাদের দাবি ছিল, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে হল চালু রাখার। নওশাদ বলেন, ‘ঈদটাই হলো হল মালিকদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। অনেক মালিকই এখন প্রায় নিঃস্ব। তাই আমরা চেয়েছিলাম, পুরনো ছবি হলেও হলটা যেন চালু থাকে। তবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের তরফ থেকে বন্ধ রাখার নির্দেশ এসেছে। আমরা সে সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। তাই এবার বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতরে সব হল বন্ধ থাকছে।’ বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। শনাক্তের ১৮ দিনের মাথায় ২৬ মার্চ লকডাউন শুরু হয়। কার্যত তখন থেকেই সব হল বন্ধ আছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নির্মিত ‘বিলেটেড লাভ’

বিনোদন বাজার ॥ সারা বাড়িতে হইচই। একটু পরেই পাত্র পক্ষ আসবে। কিন্তু সেই মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে চায় না রঞ্জন। খবর পেয়ে কণা রঞ্জনের ঘরে আসে। বলে, চলো আমরা পালিয়ে যাই। রঞ্জন রাজী হয় না। বরং এমন পাগলামি করতে বারণ করে। কণা বলে, বেশ! তবে তুমিও বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না। তুমি না থাকলে আমি বিয়ের আসরে ঝামেলা করব। সুতরাং তুমি থাকবে। আমি দেখতে চাই, তোমার চোখের সামনে আমাকে পর হতে দেখলে তোমার কেমন লাগে! দৃশ্যটি বাস্তব জীবনের নয়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নির্মিত ‘বিলেটেড লাভ’ নামে একটি একক নাটকের। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন রাকেশ বসু। এতে কণা চরিত্র রূপায়ন করেছেন মৌসুমী হামিদ, রঞ্জনের চরিত্রে দেখা যাবে এফ এস নাঈমকে। গল্প প্রসঙ্গে নির্মাতা রাকেশ বসু  বলেনÑমিষ্টি একটা প্রেমের গল্প নিয়ে নাটকটির কাহিনি। একই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকে মৌসুমীরা। নাঈম ভাইয়ের বাবা আর মৌসুমীর বাবা একই অফিসের সহকর্মী ছিলেন। সে হিসেবে ছোটবেলা থেকেই একসাথে বেড়ে উঠে নাঈম-মৌসুমী। দুষ্টুমি খুনসুটিতে ওদের দিন চলে যায়। মৌসুমীর বিয়ের প্রস্তাব আসে। ছেলে দেশের বাইরে থাকে। মেয়ে দেখার জন্য ছেলেরা রেস্টুরেন্টে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। ওইদিন সকালবেলায় মৌসুমীকে দেখে নাঈমের কিছু একটা ফিল হয়, মৌসুমীও তেমনটা অনুভব করে। পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলে, যা এতোদিন হয়নি। গল্পের টানাপোড়েন এখান থেকেই শুরু। কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে এ নির্মাতা বলেনÑকাজটা একেবারে নতুন টিম নিয়ে করা। টিমের প্রধান অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ছিল লরিন খান। ওরা অনেক শ্রম দিয়ে কাজটি শেষ করেছে। আর অভিনয়শিল্পী সবাই তাদের সেরাটা দিয়ে কাজ করেছেন। নাটকটি দেখলেই দর্শক তা অনুধাবন করতে পারবেন। নাটকটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑকেয়া আক্তার পায়েল, শিল্পী সরকার অপু, শেকানুল শাহী, তামান্না রহমান প্রমুখ। ঈদুল ফিতরের সপ্তম দিন রাত সাড়ে ৮টায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত টিভিতে নাটকটি প্রচার হবে।

 

৩ লাখ টাকা অনুদান দিলেন সালমান শাহর নায়িকা

বিনোদন বাজার ॥ ‘প্রিয়জন’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘শেষ প্রতীক্ষা’, ‘মুক্তি চাই’, ‘লাভলেটার’, ‘বীর সন্তান’, ‘মিথ্যার মৃত্যু’, ‘দোস্ত আমার দুশমন’, ‘গৃহবধূ’, ‘কে আমার বাবা’, ‘রাজপথের রাজা’, ‘শক্তের ভক্ত’, ‘সুজনবন্ধু’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমার নায়িকা শিল্পী। তবে ‘প্রিয়জন’ সিনেমায় সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন নায়িকা শিল্পী। নব্বই দশকের জনপ্রিয় এই নায়িকা হঠাৎ করে চলচ্চিত্রাঙ্গন থেকে সরে দাঁড়ান। ২০০০ সালের পর তাকে আর কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি। মহামারি করোনার সংকটে অসচ্ছল শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন নায়িকা শিল্পী। ঈদুল ফিতরে ৩ লাখ টাকার আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন তিনি। অসচ্ছল শিল্পীদের জন্য ২ লাখ টাকা শিল্পী সমিতিতে অনুদান হিসেবে দিয়েছেন। আর চলচ্চিত্রের বিভিন্ন পেশাজীবীদের জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনের মাধ্যমে আরো ১ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে  জানান এই নায়িকা। এ প্রসঙ্গে শিল্পী বলেন, ‘চলচ্চিত্রে এখন কাজ না করলেও এখানকার মানুষদের জন্য সবসময় মন কাঁদে। যতটুকু পারি এখানকার মানুষকে সহযোগিতা করি। চলচ্চিত্রের মানুষ হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে কাজটি করে যাচ্ছি।’ শিল্পী আরো বলেন, ‘শিল্পী সমিতির বর্তমান নেতৃত্বে যারা আছেন তারা বেশ ভালো কাজ করছেন। শিল্পীদের খোঁজ-খবর রাখেন, তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তাই তাদের মাধ্যমেই কয়েক বছর ধরে শিল্পীদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। তারা খোঁজ-খবর করে যার সাহায্য প্রয়োজন তাকে দিচ্ছেন। সবার জন্য ভালোবাসা রইলো। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’

কানাডায় নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে বাবর

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেতা-নির্মাতা কামাল হোসেন বাবর। করোনার এই সংকটকালে কানাডায় অবস্থান করছেন তিনি। সম্প্রতি সেখানে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। ‘ব্রোকেন ফ্যামিলি’ নামে এ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে টরন্টো বিডি নেটওয়ার্কের ব্যানারে। এরইমধ্যে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কানাডা থেকে মুঠোফোনে  কামাল হোসেন বাবর বলেনÑটরন্টোতে আসার পরে এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা করি। যাতে করে শুধু টরন্টো প্রবাসী ছেলে-মেয়ে এতে অভিনয় করতে পারে। শিল্পী নির্বাচন করতে গিয়ে এ প্রজন্মের অনেক ছেলেমেয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের অনেকের প্রমিত বাংলা ও বাংলা সংস্কৃতির প্রতি প্রবল আগ্রহ রয়েছে। তাদের উৎসাহের ফলশ্রুতিতেই চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলচ্চিত্রটির গল্প প্রসঙ্গে এ নির্মাতা বলেনÑপারিবারিক গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে চলচ্চিত্রটির কাহিনি। কানাডা অনেক ব্যয়বহুল একটি দেশ। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে এখানে যারা আসেন তারাও অর্থনৈতিকভাবে সফল পরিবারের সন্তান। দেশে থাকতে বাড়িতে হয়তো গৃহপরিচারিকা সমস্ত কাজ করে দিতো। কিন্তু কানাডা আসার পর বিপাকে পড়ে যান তারা। কারণ রান্না-বান্না, গাড়ি পরিষ্কার, ময়লা ফেলা থেকে শুরু করে সমস্ত কাজ নিজেকে করতে হয়। এজন্য শুরুতে অনেকে এই পরিবেশের সঙ্গে মিলাতে পারেন না। এসব নিয়ে পরিবারে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। আর এই দ্বন্দ্বের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑটরন্টো প্রবাসী একঝাঁক বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী। এ তালিকায় রয়েছেন, শফিয়ুল মাজনবী রাদ, নাওমী তালুকদার, ইফ্ফাত শাওন চৌধুরী, ব্যারিস্টার কামরুল হাফিজ, শহিদুল হক স্বপন, এনামুল হক হিমু, রিমা, আনুসা, কামাল হোসেন বাবর প্রমুখ। এ চলচ্চিত্রের সব অভিনয় শিল্পী নতুন। এ প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বাবর বলেনÑকমিউনিটির লোকদের নিয়ে কাজটি করেছি। তাদের কেউ কেউ মঞ্চে কাজ করেছেন। তবে অধিকাংশ নিউ কামার। কিন্তু তাদের অভিনয় দেখে মনে হয়নি তারা নতুন। সবাই চমৎকার অভিনয় করেছেন। খুব শিগগির কানাডার স্থানীয় প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সিনেমা হলে প্রদর্শনীর বিষয়ে কথা বলছেন নির্মাতা। পরবর্তীতে এটি ইউটিউবে মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন বাবর।

চঞ্চল-তিশা ঈদের সাত পর্বের ধারাবাহিকে

বিনোদন বাজার ॥ সুন্দর আলী শ্যাম নগর গ্রামের বিখ্যাত একজন পালাকার। তার অভিনয়ের সুনাম অত্র এলাকায় পূর্ণিমার আলোর মত ছড়িয়ে পড়েছে। মামা রমিজ সরকার ভাগিনার প্রতিভায় মুগ্ধ। নতুন পালার রির্হাসেল নিয়ে ব্যস্ততা চলছে সুন্দও আলীর নাটকের দলে। এমন সময় পালার নাইকা ডালিয়া এসে জানায় সে আর অভিনয় করবে না। সুন্দর আলী বিপাকে পড়ে যায়। ঠিক এই সময়ে সুন্দর আলীর জীবনে সেফালী আসে নাটকের নাইকা হয়ে। সেফালী তার অভিনয় দিয়ে সুন্দর আলীর মন জয় করে নেয়। এমনই গল্পনিয়ে নির্মিত হয়েছে ঈদের সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘সুন্দর আলীর অপেরা’। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন গোলাম সোহরাব দোদুল। এতে পালাকারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও সেফালী চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন কচি খন্দকার, কেয়া আক্তার পায়েল, নিকুল মন্ডল প্রমুখ। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীপ্ত টিভিতে সাত পর্বের বিশেষ ধারাবাহিকটি প্রচারিত হবে ঈদের ১ম দিন থেকে ঈদের ৭ম দিন পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টায়।

ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করলে আইনি ব্যবস্থা

বিনোদন বাজার ॥ ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও মডেল-অভিনেত্রী তানজিন তিশা। নাজিয়া হাসানের সঙ্গে ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন অপূর্ব। রোববার এ খবর নিশ্চিত করেন এই দম্পতি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপূর্ব-অদিতির বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে অভিনেত্রী তানজিন তিশার নাম ভেসে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দেশের বেশ ক’টি সংবাদমাধ্যম খবরও প্রকাশ করে। মূলত সেই খবরের সূত্র ধরেই অপূর্ব-তিশা এই হুঁশিয়ারি দেন। অপূর্ব তার ফেসবুকে লিখেনÑঅত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমি এবং অদিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানের মধ্য দিয়ে আইনগতভাবে আমাদের সম্পর্কের ইতি টেনেছি। কোন সংবাদমাধ্যম এই ব্যাপারটিতে তৃতীয় কাউকে জড়িয়ে কোনো ধরনের ভুল সংবাদ প্রকাশ করলে আমি তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেব। এরইমধ্যে প্রকাশিত কিছু সংবাদের লিংক সংগ্রহ করেছি। সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে অপূর্ব লিখেনÑব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গসিপ করা, তীর্যক, মিথ্যা বানোয়াট মন্তব্য করে তাদের কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়ার মতো খারাপ কাজগুলো থেকে সবাই বিরত থাকবেন। এর মধ্যে রসালো কোনো গল্প তৈরি করে সংবাদ করার চেষ্টা করবেন না, প্লিজ। অন্যদিকে অপূর্ব-অদিতির বিবাহবিচ্ছেদের সঙ্গে নিজের নাম জড়ানোর খবরে বিস্মিত হয়েছেন তিশা। এ বিষয়ে তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ভক্ত ও শুভাকাক্সক্ষীদের উদ্দেশ্যে এ অভিনেত্রী লিখেনÑদয়া করে এমন খবরে বিশ্বাস করবেন না, কারণ এর কোনো সত্যতা নেই। আমি আপনাদের সকলকে অনুরোধ করছি, এই মিথ্যা গুজব না ছড়ানোর। ভুয়া খবর ছড়িয়ে দেওয়াও একটি সাইবার অপরাধ। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিশা লিখেনÑআমি অনুরোধ করছি, এই ধরনের ভিত্তিহীন গল্পে আমার নাম উল্লেখ না করার। যারা এই কাজটি চালিয়ে যাবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর নাজিয়া হাসান অদিতির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অপূর্ব। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। এ সংসারে জায়ান ফারুক আয়াশ নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে। এর আগে জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অপূর্ব। ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট একটি নাটকের শুটিং করতে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। কিন্তু রাজিব নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রভার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে ২০১১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এ সংসারের ইতি টানেন অপূর্ব।

ঈদ উপহার দিলেন ওমর সানি-মৌসুমী দম্পতি

বিনোদন বাজার ॥ করোনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে চলচ্চিত্রের সকল কাজ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ঈদুল ফিতর কড়া নাড়ছে দরজায়। এ পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠন চলচ্চিত্র ফিল্ম ক্লাবের সদস্যদের ঈদ উপহার দিলেন ওমর সানি-মৌসুমী দম্পতি। এ প্রসঙ্গে ওমর সানি বলেন, ‘ফিল্ম ক্লাবের কিছু সদস্যকে ঈদ উপহার পাঠিয়ে আমরা আমাদের মনটা হালকা করতে পারি। আমি মেম্বার অ্যাডমিন। সভাপতি অমিত আমার বন্ধু। কমিটির সবার সঙ্গে রয়েছে আমার সু-সম্পর্ক। আমার এমন প্রস্তাবে কেউ-ই আপত্তি করবে না। অমিত শুনেই রাজি। অন্যরাও উৎফুল্ল। শুধু বাধা দিলো আমার স্ত্রী মৌসুমী। তার দাবি, ক্লাবের কোনো অর্থে নয়, এই উপহার পুরোটাই সে দেবে।’ মৌসুমীর সৌজন্যে ফিল্ম ক্লাব লি. যে ঈদ উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছে বা পাঠাচ্ছে সদস্যদের কাছে তাতে রয়েছেÑপোলাওয়ের চাল, চিনি, তেল, সেমাই, গুঁড়ো দুধ প্রভৃতি। এর আগে ওমর সানি-মৌসুমী দম্পতি একাধিকবার উপহার দিয়েছেন অসচ্ছল শিল্পীদের।

 

 

ফের বন্ধ হলো নাটকের শুটিং

বিনোদন বাজার ॥ রোববার থেকে শর্ত সাপেক্ষে নাটকের শুটিং করার অনুমতি দিয়েছিল টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট আন্তঃসংগঠন। কিন্তু অনুমতি দেওয়ার একদিন না পেরুতেই আবারো নাটকের সব ধরনের শুটিং বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনটি। রোববার বিকালে এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। আন্তঃসংগঠন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছেÑসরকার দোকানপাট সীমিত আকারে চালু এবং লকডাউন সাময়িক শিথিল করায় আমরাও সাময়িক শিথিলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। একই সঙ্গে জানানো হয়েছিল, শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া এই সিদ্ধান্তসমূহ যেকোনো সময় বাতিল হতে পারে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারন করছে, তাই আন্তঃসংগঠন তাদের স্ব স্ব সংগঠনের সদস্যদের সুচিন্তিত মতামত ও জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িক শিথিল অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সকল সংগঠনের সদস্য ও উপদেষ্টা ম-লীর মতামতের ভিত্তিতে সব ধরনের শুটিং কার্যক্রম স্থগিত রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যারা শুটিংয়ের অনুমতি পেয়ে শুটিং কার্যক্রম শুরু করেছেন, তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। রোববার বিকালের জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেনÑসাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, আবুল হায়াত, অভিনেত্রী ও সাংসদ সুবর্ণা মুস্তাফাসহ সংগঠন সমূহের উপদেষ্টা ম-লীর সদস্যবৃন্দ। এর আগে ২২-৩১ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের টিভি নাটকের শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সংগঠনগুলো। এরপর কয়েক দফায় সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে শুটিং বন্ধের সময় বাড়ানো হয়েছে। সবশেষ ১৬ মে পর্যন্ত তা বাড়ানো হয়। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সরকারের ঘোষণার সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তঃসংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হবে।

শিমলা কয়টা বিয়ে করেছেন?

বিনোদন বাজার ॥ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী শিমলা। ১৯৯৯ সালে ‘ম্যাডাম ফুলি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন তিনি। চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিয়ে করে সংসারি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে গত বছর একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার মধ্য দিয়ে তার বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন শিমলা। এ সময় উপস্থাপক তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। সঞ্চালক জানতে চানÑআপনি কয়টা বিয়ে করেছেন? জবাবে শিমলা বলেন, ‘মোটামুটি ৩০-৩৫টি!’ পর মুহূর্তে সঞ্চালক বলেন, আপনি দুষ্টুমি করে বলছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে দুষ্টুমি করে আর কয়টা বিয়ে করবেন? উত্তরে শিমলা বলেন, ‘হান্ড্রেড, সেঞ্চুরি করতে চাই। যুবরাজ সিং ক্রিকেট খেলে সেঞ্চুরি করেছেন। আমি বিয়ে করে সেঞ্চুরি করব।’ ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর এক পরিচালকের জন্মদিনে পলাশ আহমেদের সঙ্গে পরিচয় হয় শিমলার। ২০১৮ সালের ৩ মার্চ পলাশ আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শিমলা। একই বছরের ৬ নভেম্বর পলাশকে ডিভোর্স দেন এই অভিনেত্রী। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় নিহত হন চিত্রনায়িকা শিমলার এই প্রাক্তন স্বামী। গত বছরের শুরুর দিকে দেশ ছেড়ে ভারতে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন শিমলা। শুরুর দিকে কয়েকমাস কলকাতায় কাটিয়ে বর্তমানে মুম্বাইয়ের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে বাস করছেন তিনি। মাঝেমধ্যে দেশে আসেন। সেখানে অভিনেতা গোবিন্দর নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

১০ লাখ নয়, ভক্তদের ২০ লাখ টাকা দেবেন অনন্ত জলিল

বিনোদন বাজার ॥ রুপালি পর্দায় তিনি নায়ক। অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে চলেন চিত্রনাট্যের বুননে। পর্দার বাইরেও তিনি মানবিক একজন মানুষ। বিপদে আপদে ছুটে যান মানুষের পাশে। এবার নিজের ভক্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এই অভিনেতা-প্রযোজক। গত ১৬ মে তার ৫০০ জন ভক্তকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগামী ২০ মে (২৬ রোজায়) অনন্ত তার যাকাত ফান্ড থেকে এই অর্থ প্রদান করবেন বলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান। এবার জানা গেল, ভক্তদের আগ্রহ দেখে টাকার পরিমাণ আরও ১০ লাখ বাড়ানো হয়েছে। কথা ছিলো অনন্ত জলিল ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী বর্ষার ফেসবুকে পেজের মাধ্যমে ভক্তরা এই যাকাতের অর্থের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেখান থেকে ৫০০ জনকে দেয়া হবে ১০ লাখ টাকা৷ কিন্তু ১৭ মে আবেদন ছাড়িয়েছে ৬৫০০ জনে। এত আবেদন দেখে তাই টাকার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন অনন্ত। তিনি ১৭ মে রাতে এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘যাকাতের ফান্ড থেকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার একটা ভিডিও বার্তা দিয়েছিলাম। সেটি দেখে ১৭ মে বিকেল পর্যন্ত ৬৫০০ জনের আবেদন হাতে পেয়েছি। এ কারণে আমি যাকাত ফান্ড থেকে আমার ভক্তদের জন্য ১০ লাখের পরিবর্তে ২০ লাখ টাকা ঘোষণা করলাম।’ তবে কতজনের মধ্যে এই ২০ লাখ টাকা ভাগ করে দেয় হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি এই ব্যবসায়ী অভিনেতা। বিস্তারিত জানতে অনন্ত জলিল ও বর্ষার ফেসবুক পেজে চোখ রাখতে হবে। এদিকে সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে অনন্ত জলিলের সিনেমা ‘দিন-দ্য ডে’ সিনেমা। এটি নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনায়। হলিউডি একশন ধাঁচের এ সিনেমায় তার সঙ্গে দেখা যাবে বর্ষাসহ ইরান-বাংলাদেশের অনেক শিল্পীদের।

পরিবারসহ কোয়ারেন্টাইনে নওয়াজউদ্দিন

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ও তার পরিবারকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মুজাফফরনগরের বুধানায় নিজ গ্রামে যান নওয়াজ। এই অভিনেতার সঙ্গে তার মা,ভাই,ভাবিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন। ব্যক্তিগত গাড়িতে সেখানে যান তারা। এরপর তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।  জানা গেছে, ইতোমধ্যে এই অভিনেতাসহ পরিবারের সদস্যদের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে। তবে সবার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। তবুও তাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী অভিনীত পরবর্তী সিনেমা ‘ঘুমকেতু’। এতে আরো অভিনয় করছেন অনুরাগ কাশ্যপ, ইলা অরুণ, রাঘুবীর যাদব, স্বনান্দ কিরকিরে, রাগিনি খান্না প্রমুখ। সিনেমাটিতে অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে অমিতাভ বচ্চন, রণবীর সিং ও সোনাক্ষী সিনহাকে। প্রেক্ষাগৃহের পরিবর্তে আগামী ২২ মে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘জি ফাইভ’-এ সিনেমাটি মুক্তি পাবে।

ঈদের তৃতীয় দিন শবনম ফারিয়ার জরুরী ডিভোর্স

বিনোদন বাজার ॥ এই সময়ের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ও জয়া আহসান প্রযোজিত ‘দেবী’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। আসছে ঈদে বেশ কিছু টিভি চ্যানেলে প্রচার হবে তার অভিনীত নাটক। করোনায় লক ডাউন শুরুর আগেই এই নাটকগুলোতে অভিনয় করেছেন শবনম ফারিয়া। খবর হলো, ঈদের তৃতীয় দিন দর্শকরা দেখতে পাবেন শবনম ফারিয়ার ‘জরুরী ডিভোর্স’। শিরোনাম দেখেই চোখ কপালে তুলেছেন হয় তো। আসল ব্যপারটি হলো শবনম ফারিয়া এই নামে একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান। মেজাবাহ উদ্দিন সুমনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন মিলন ভট্টাচার্য্য। জানা গেছে, ‘জরুরী ডিভোর্স’ নাটকটি আরটিভিতে প্রচারিত হবে ঈদের তৃতীয় দিন রাত ৮টায়। ২০১৭ সালে ‘জরুরি বিবাহ’ নামে একটি টেলিছবিতে অভিনয় করেছিলেন জাহিদ হাসান ও শবনম ফারিয়া। মেজাবাহ উদ্দিন সুমনের রচনায় টেলিফিল্মটিও পরিচালনা করেছিলেন মিলন ভট্টাচার্য্য। ঈদের বিশেষ আয়োজনে প্রচারিত হয়েছিলো টেলিছবিটি। তার তিন বছর পর এবার আসছে ‘জরুরী ডিভোর্স’ নাটকটি।

যে কারণে শ্রীদেবীকে ট্রাক ভর্তি গোলাপ পাঠিয়েছিলেন অমিতাভ?

বিনোদন বাজার ॥ প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবী। তাকে বলা হয় ভারতের প্রথম নারী সুপারস্টার। অভিনয় দিয়ে রুপালি জগতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি পর্দার বাইরেও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা তাকে যথেষ্ট সমীহ করতেন। কারণ ব্যক্তিত্বের দিক থেকেও শ্রীদেবী ছিলেন অন্যান্যের চেয়ে আলাদা। ‘বলিউডের শাহেনশাহ’খ্যাত অমিতাভের সঙ্গে ‘ইনকিলাব’, ‘আখেরি রাস্তা’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শ্রীদেবী। নব্বইয়ের দশকে অমিতাভ যখন অভিনয় ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো সময় পার করছিলেন তখন শ্রীদেবীই একমাত্র অভিনেত্রী যিনি এই অভিনেতার সমপরিমাণ পারিশ্রমিক দাবি করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় অমিতাভের বিপরীতে অভিনয় না করার সাহসও দেখিয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনা বলিউডে তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখে। মিডিয়া শ্রীদেবীকে ‘নারী বচ্চন’ উপাধি দেয়। এরপর তিনি যখন অমিতাভের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় বন্ধ করে দেয় বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করে। ফিল্ম ফেয়ার তো শিরোনামই করে ফেলেছিল, ‘আউট অব রিচ’ অর্থাৎ ‘ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’ পরবর্তী সময়ে অমিতাভ ও শ্রীদেবীকে নিয়ে ‘আজুবা’ সিনেমা নির্মাণ করতে চাইলেন শশী কাপুর। কিন্তু চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় রাজি হননি শ্রীদেবী। এ ছাড়া বাজেটও বড় একটি কারণ ছিল। এরপর রমেশ সিপ্পি ‘রাম কি সীতা শ্যাম কি গীতা’ সিনেমায় এই জুটিকে নিতে চাইলেন। কিন্তু সিনেমাটির কাজ আর আগায়নি। মজার বিষয়, জনপ্রিয় ‘জুম্মা চুম্মা’ গানটি এই সিনেমার জন্যই তৈরি হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে কোরিওগ্রাফার সরোজ খান বলেন, ‘দৃশ্যটি ভাবা হয়েছিল, অমিতাভ পুলিশ কর্মকর্তা আর তিনি পকেটমার শ্রীদেবীকে হাতে নাতে ধরবেন। এরপর শ্রীদেবী তাকে ঘুষ দিতে চাইলে অমিতাভ চুম্মা চাইবেন।’  কিন্তু পরবর্তী সময়ে গানটি ‘হাম’ সিনেমায় ব্যবহার হয়। এভাবে চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় অমিতাভের সঙ্গে একের পর এক সিনেমা ফিরিয়ে দিতে থাকেন শ্রীদেবী। এরপর প্রযোজক মনোজ দেশাই  এবং পরিচালক মুকুল আনন্দ বিগ বাজেটের ‘খুদা গাওয়া’ সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করেন, যার প্রেক্ষাপট হবে আফগানিস্তান। অমিতাভ আগে থেকেই নায়ক হিসেবে নির্ধারিত ছিলেন। নির্মাতারা নায়িকা হিসেবে শ্রীদেবীকে চাইছিলেন। কিন্তু কীভাবে রাজি করাবেন বুঝতে পারছিলেন না। তবে তাদের কাছে একটি সুযোগ ধরা দিল। ওই সময় সিনেমা মুক্তির আগে নির্মাতা ও মিডিয়াকে সিনেমার দৃশ্য দেখানো হতো। বনি কাপুর এবং সতীশ কৌশিক তেমনি একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে ‘রূপ কি রানি চোরো কা রাজা’ সিনেমার ‘দুশমন দিল কা’ গানটি দেখানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ। বলার অপেক্ষা রাখে না, শ্রীদেবীর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। এই অভিনেতা এতটাই মুদ্ধ হন পরদিন শ্রীদেবীর জন্য এক ট্রাক গোলাপ পাঠিয়ে দেন। এতে মন গলে শ্রীদেবীর। মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়। ঘটনাটি নিয়ে এবার ফিল্মফেয়ার পত্রিকায় লেখা হলোÑ ‘যেভাবে শ্রীদেবীর মন জয় করলেন অমিতাভ।’ এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সরোজ খান বলেন, ‘আমরা একটি সিনেমার শুটিং করছিলাম তখনই ট্রাক এলো। তারা শ্রীদেবীকে এর পাশে দাঁড়াতে বললেন। এরপর ট্রাক থেকে তার মাথায় ফুল পড়তে শুরু করল। দেখার মতো দৃশ্য ছিল।’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাবে রাজি হন শ্রীদেবী। তবে রাজি হলেও কিছু শর্ত জুড়ে দিলেন। আর তা হলোÑ অমিতাভের স্ত্রী ও মেয়ে দুই চরিত্রেই অভিনয় করবেন তিনি। কিন্তু সেই সময় এটি ছিল অকল্পনীয়। কারণ এর আগে কোনো নায়িকা অমিতাভের সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেননি। কিন্তু শ্রীদেবী তার মূল্য ঠিকই জানতেন। অমিতাভও শ্রীদেবীর সঙ্গে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। অগত্যা রাজি হন। কয়েক বছর আগে ‘আখেরি রাস্তা’ সিনেমায় একটি ছোট চেির্ত্র অভিনয় করেন শ্রীদেবী, এখন সেই অমিতাভের সিনেমাতেই দ্বৈত চরিত্রে হাজির হন তিনি। শ্রীদেবীই একমাত্র নায়িকা যিনি বিগ বি অমিতাভের সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন। বলিউড সিনেমা বিশ্লেষক ভরদ্বাজ রঞ্জন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এর আগে কখনো কি এরকম হয়েছে? শ্রীদেবী হিরোর ভূমিকায় এসে শুধু বলিউডের সংজ্ঞাটাই পরিবর্তন করেননি, তিনি হিরো নিয়ে ধারণা অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তার দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় প্রমাণ করে ইন্ডাস্ট্রিতে তার প্রভাব কতটুকু ছিল।’