এসএসসির নতুন সূচি প্রকাশ

ঢাকা অফিস \ ঢাকা সিটি কারপোরেশন নির্বাচনের ভোটের তারিখ পেছানোয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দুদিন পিছিয়ে দিয়ে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করেছে সরকার। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে সংশোধিত পরীক্ষা সূচি প্রকাশ করেছে।

আগামী ১ ফেব্র“য়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও সিটি ভোটের কারণে এখন তা ৩ ফেব্র“য়ারি থেকে শুরু হবে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৩ থেকে ২৭ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত এসএসসির তত্ত¡ীয় বিষয়ের পরীক্ষা হবে। আর ২৯ ফেব্র“য়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নিতে হবে। সূচি পরিবর্তনে সব পরীক্ষায়ই পিছিয়েছে, ইংরেজি ও গণিত পরীক্ষার আগে বিরতিও থাকছে। আগের সূচিতে ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং গণিত পরীক্ষার আগে একদিন করে বিরতি ছিল। নতুন সূচিতে অন্য দুটিতে একদিন হলেও ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের আগে দুই দিন বিরতি থাকছে। এ বছর তিন হাজার ৫১২টি কেন্দ্রে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেবে। সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর দুদিন আগে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণের দিন ঠিক করে ইসি। কিন্তু ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা থাকায় দেখা দেয় জটিলতা। পূজার কারণে তফসিল ঘোষণার পরপরই তার বিরোধিতা করেছিল পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও ভোটের দিন পরিবর্তনের দাবি জানায়। কিন্তু তা আমলে নেয়নি ইসি। এরমধ্যে ভোটের তারিখ পরিবর্তনে হাই কোর্টে রিট আবেদন হলে তা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ইসি ৩০ জানুয়ারি ভোট করার বিষয়ে আরও শক্ত অবস্থান নেয়। ইসির পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছিল, ৩০ জানুয়ারিই ভোটগ্রহণের জন্য ‘উপযুক্ত’ দিন। কারণ তার পরের দিন ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার বলে সেদিন ভোটগ্রহণের নজির নেই। এরপর ১ ফেব্র“য়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে বলে প্রায় এক মাস আর ভোট করা যাবে না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী অনশন শুরু করলে এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কর্মসূচি ঘোষণা করলে ভোটের দিন বদলের দাবি জোরাল হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলো জানায়, ভোটের তারিখ পরিবর্তনে তাদের আপত্তি নেই। প্রধান প্রধান প্রার্থীরাও ভোটের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে ইসিকে আহŸান জানায়। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক বললেও তাদের পক্ষে জনমত জোরাল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে শনিবার আকস্মিকভাবে জরুরি বৈঠকে বসে ইসি। তারমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ভোট পেছানো হয়।

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ৬ জনের জামিন শুনানি আজ

ঢাকা অফিস \ প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ৬ জনের জামিন শুনানি আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে তাদের গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার এ আদেশ দেন। এর আগে সকালে তারা হাইকোর্টে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তারা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১৬ জানুয়ারি প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এ পরোয়ানা জারি করেন। ঘটনাটি তদন্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়-কিশোর আলো কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যু হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১ নভেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর একটি অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠানে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার। এ ঘটনায় আয়োজকদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে নাইমুলের বাবা মো. মজিবুর রহমান মামলা করেন।

বাগদি স¤প্রদায়কে উচ্ছেদের পাঁয়তারা প্রভাবশালী মহলের 

কুমারখালীতে অসহায় বাগদি স¤প্রদায়ের আবাস রক্ষায় পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় সাংসদ জর্জ

কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সরকারি জমি থেকে বাগদি স¤প্রদায়কে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। উচ্ছেদের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে যুগের পর যুগ কুমারখালীতে বাস করা ক্ষুদ্র এ স¤প্রদায়ের মানুষ। তবে তাদের অধিকার রক্ষায় স্থাণীয় সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ একাত্মতা প্রকাশ করে প্রভাবশালী গোষ্ঠির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন। একই সাথে বাগদি স¤প্রদায়ের জন্য আরো জমি বন্দোব¯Í দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। সাংসদের সহমর্তিতা পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। অভিযোগ ওঠে গত বুধবার কুমারখালী মহিলা কলেজের বাণিজ্য বিভাগের প্রভাষক ও স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন বিশ^াস পৌরসভার বুজরুক দুর্গাপুর মৌজার বাগদি স¤প্রদায়ের আদি ভিটার জমি দখলের চেষ্টা করে। বাগদি স¤প্রদায় শতাধিক মানুষ প্রতিবাদ করে। তারা কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়কে মানববন্ধন শেষে প্রায় তিনঘণ্টা ধরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে ও উপজেলা সহকারি কমিশার (ভূমি) অফিসের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান নেয়। তারা ধারাবাহিক নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে। উপজেলা ভূমি কার্যালয় ও ভুক্তোভোগি আদিবাসী পরিবার সূত্র জানায়, বছরের পর বছর ধরে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ট সংলগ্ন বুজরুখ দুর্গাপুর মৌজায় কয়েক বিঘা জমির ওপর অন্তত ৪০০ আদিবাসী বাগদি স¤প্রদায়ের পরিবার বসবাস করে আসছে। সরকার অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট জায়গা লীজ দিয়েছে। এদিকে আদিবাসীদের জায়গার পাশে তুহিন বিশ^াস নামে এক ব্যক্তির ব্যক্তিমালিকানা জমি রয়েছে। স¤প্রতি তিনি দাবি করেন- আদিবাসীদের জায়গাটাও তার মালিকানাধীন। এ ব্যাপারে মামলাও করেছেন তিনি। উচ্চ আদালতের দেওয়া একটি রায় উল্লেখ করে তিনি আদিবাসীদের জায়গাটি নিজের দাবি করে উচ্ছেদের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে আদিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গত বুুধবার সকালে তুহিন বিশ্বাস তার লোকজন নিয়ে বসতি উচ্ছেদ করতে গেলে আদিবাসী স¤প্রদায়ের লোকজন প্রতিবাদ করে। দখল করতে যাওয়াদের ধাওয়া করে। এসময় সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। আদিবাসী পরিবারের ছোট থেকে বড় নারী -পুরুষ সবাই সড়কে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া আদিবাসী পরিবারের সদস্য প্রীতম সরদার অভিযোগ করে বলেন, বাসস্ট্যান্ডের পাশের (পশ্চিম) দুর্গাপুর মৌজার সরকারি জমিতে তাদের পূর্ব পুরুষেরা প্রায় শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে। প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে ওই জমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাদের নামে লীজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স¤প্রতি দুর্গাপুর গ্রামের তুহিন বিশ্বাস নিজের জমি দাবি করে ওই জমিতে বিপনী বিতান নির্মাণসহ জলাশয় ভরাট শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার তুহিন বিশ্বাস তাদের বসতভিটার মধ্যেও তার জমি রয়েছে বলে দাবি করে আদিবাসী স¤প্রদায়ের টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে। অভিযোগের ব্যাপারে তুহিন বিশ্বাস বলেন,‘আদিবাসীদের বসতভিটা ও আমার নিজস্ব জমির দাগ নম্বর ও মৌজা আলাদা। সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তির জন্য কয়েক মাস আগে পৌরসভার মেয়র ও সার্ভেয়ারের উপস্থিতে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমি আমার নিজের কেনা জমিতেই মার্কেট নির্মাণ করেছি। জমি দখল করার অভিযোগ সত্য নয়। চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গত শনিবার সকালে বাগদি পল্লীতে যান স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার  সেলিম আলতাফ জর্জ। এসময় তার সাথে কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন খান তারেক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আক্তারুজ্জামান নিপুন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ, পৌরসভার ৫নং কাউন্সিলর এস এম রফিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ তাদের আশ্বস্থ করে বলেন, ‘তাদের (বাগদি) পূর্বপুরুষ হতে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে এখানে। তারা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে একবিন্দু বঞ্চিত হবে না। কেউ তাদের ভূমি বেদখল করার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা  নেওয়া হবে।’ আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দারা সাংসদকে কাছে পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাংসদ তাদের সাথে প্রায় ঘন্টাব্যাপী কথা বলেন। তারা জমি রক্ষাসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বাগদি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মদন সাংসদকে কাছে পেয়ে বলেন- তাদেরকে উচ্ছেদের যে পায়ঁতারা করা হচ্ছে  সেটা মোকাবেলায় যেন জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। না হলে তারা মাথা গোজার মত কোন ব্যবস্থা থাকবে না।’ এ বিষয়ে সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের সাথে কথা হলে বলেন- বাগদি স¤প্রদায়ের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে। তারা যেভাবে সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়ে বাস করে আসছে তাদের জায়গায় কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না। স্থায়ী একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর তাদের দিকে দখলের চোখে তাকাতে না পারে। প্রয়োজনে আরও জমি দেওয়া যায় কি না সেটাও দেখা হবে। চক্রান্তকারীদের সনাক্ত করে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

গালফ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে প্রয়োজন ছিল না

ঢাকা অফিস \ নাগরিকত্ব আইন সংশোধন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও এর কোনো প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স¤প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করে আসা শেখ হাসিনা গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদপত্রটির অনলাইন সংস্করণে শনিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। ভারতের বিতর্কিত আইনটি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না, কেন এটা করা হল। এর কোনো প্রয়োজন ছিল না।” ভারত সরকার স¤প্রতি নাগরিকত্ব আইন (সিএএন) সংশোধন করে বাংলাদেশ, পাকি¯Íান ও আফগানি¯Íানের হিন্দুসহ কয়েকটি ধর্মাবলম্বীদের তাদের দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এই সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হিন্দুসহ এসব ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশ, পাকি¯Íান ও আফগানি¯Íানে বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। তার আগে আসামে নাগরিকপঞ্জি প্রণয়ন করা হয়, যাতে ভারতের বাংলাদেশ লাগোয়া রাজ্যটিতে নাগরিকের তালিকা থেকে বাদ পড়েন বহু মানুষ। আসামের অনেকের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে গিয়ে অনেকে ওই রাজ্যে আবাস গড়েছেন। নাগরিকত্ব আইন সংশোধন ও নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে; বিভিন্ন রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় বেকায়কায় রয়েছে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলাদেশে ১ কোটি ৬০ লাখ হিন্দু (মোট জনসংখ্যার ১০.৭ শতাংশ) থাকার তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করেন।

নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পর ভারত থেকেও বাংলাদেশে কেউ আসছে না জানালেও তিনি বলেন, “তবে ভারতের মধ্যেই মানুষকে অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।” এনিয়ে  বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ এটাই বলে আসছে যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন কিংবা নাগরিকপঞ্জি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারত সরকারও বলে আসছে। “গত বছরের অক্টোবরে আমার নয়া দিল্লি সফরের সময়ও নরেন্দ্র মোদী আমাকে আশ্ব¯Í করেছেন যে এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।” বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ মাত্রায় আছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটা নানা ক্ষেত্রে আরও প্রসারিত হচ্ছে। সাক্ষাৎকার রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যার শুরুটা যেহেতু মিয়ানমারে, সেহেতু তাদেরই সমাধান করতে হবে। মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থেকে তারা ফিরতে চাইছে না। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসান না হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। বাংলাদেশ কয়লা বিদ্যুতের দিকে মনোযোগ বাড়ালেও এক্ষেত্রে পরিবেশের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ এতদিন গ্যাসের উপর নির্ভর করত। কিন্তু গ্যাস ফুরিয়ে আসায় উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এখন কয়লাসহ অন্য উৎসের দিকে নজর দিতে হচ্ছে। বিশাল জনসংখ্যার দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেই সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কীভাবে উন্নয়ন করে যাচ্ছেন, তাও গালফ নিউজকে তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাতকারে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মাইল ফলক উন্নয়ন চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবো

সুজন কর্মকার \ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেছেন, ইতোমধ্যে গ্রাম পর্যায়ে শতশত কিলোমিটার রা¯Íা ও কালভার্ট কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। উপজেলার ভিতরেও উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। সদর উপজেলা এখন এগিয়ে যাওয়ার পথে। ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকার এডিবি নিজস্ব তহবিল থেকে কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। কাজের টেন্ডারও হয়েছে। আন্দোলনের বাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে  বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুষ্টিয়ার জন্য ইতোমধ্যে একনেকে ৫৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। কুষ্টিয়ায় ৪ লেন ও ডিভাইডারসহ শডিয়াম বাল্ব এর কাজ হবে। ৪ লেন কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। উপজেলা থেকে শুরু করে ভেড়ামারা বারো মাইল পর্যন্ত কাজ হবে। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়ায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ শেখ রাসেল সেতু, বাইপাস সড়ক, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, শিল্পকলা একাডেমি, মন্দির, মসজিদসহ অশংখ্য কাজ করেছেন। সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ এর সূচিন্তাধারায় আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশাকরি অচিরেই কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মাইল ফলক উন্নয়ন চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারবো।

বইমেলা শুরু ২ ফেব্রয়ারি

ঢাকা অফিস \ অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রতিবছর ১ ফেব্র“য়ারি শুরু হলেও এবার শুরু হবে ২ ফেব্র“য়ারি। এ বছরের ১ ফেব্র“য়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে বিধায় বইমেলার আয়োজন পিছিয়ে দেয়া হয়। গতকাল রোববার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি ও লেখক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে ১ ফেব্র“য়ারির পরিবর্তে ২ ফেব্র“য়ারি বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইমেলার উদ্বোধন করবেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও তৎসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবছর বসে বইমেলা। এ মেলায় নতুন বই প্রকাশের পাশাপাশি জমে লেখক, সাহিত্যিক, পাঠক ও প্রকাশকদের মিলনমেলা।

বুধবার থেকে ই-পাসপোর্ট

ঢাকা অফিস \ দীর্ঘ প্রতীক্ষার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পেতে যাচ্ছেন দেশের নাগরিকরা। তবে আপাতত শুধু ঢাকার আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে এটি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার  বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সর্বপ্রথম ই-পাসপোর্ট পাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই এ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবে। “প্রথমে উত্তরা, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ী থেকে ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কার্যক্রম চালু হবে। এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের মধ্যেই সারাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরতরাও পর্যায়ক্রমে ই-পাসপোর্ট পাবেন। পাশাপাশি এমআরপি পাসপোর্ট কার্যকর থাকবে বলে জানান আসাদুজ্জামান খাঁন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ই-পাসপোর্ট হবে ৪৮ ও ৬৪ পাতার। আর মেয়াদ হবে পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদী। ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী সাধারণ পাসপোর্টের (১৫ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে) এর জন্য ফি লাগবে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। আর সাতদিনের মধ্যে (জরুরি) পেতে হলে ৫ হাজার ৫০০ টাকা ও দুইদিনে (অতি জরুরি) পাওয়ার জন্য খরচ করতে হবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সংখ্যক পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য পাঁচ হাজার, জরুরি সাত হাজার ও অতি জরুরির জন্য নয় হাজার টাকা হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করতে লাগবে যথাক্রমে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি সাত হাজার ৫০০ টাকা ও অতি জরুরি ১০ হাজার ৫০০ টাকা। ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করতে লাগবে যথাক্রমে সাত হাজার (সাধারণ), নয় হাজার (জরুরি) ও ১২ হাজার (অতি জরুরি) টাকা। ই-পাসপোর্ট এর আবেদন অনলাইনে অথবা পিডিএফ ফরমেট ডাউনলোড করে পূরণ করা যাবে। এতে কোনো ছবির প্রয়োজন হবে না; কাগজপত্র সত্যায়নও করতে হবে না। ই-পাসপোর্ট চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের ১১৯তম দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে নানা জটিলতায় কয়েক দফা পেছাতে হয়েছে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরুর দিন তারিখ। বাংলাদেশে হাতে লেখা পাসপোর্ট থেকে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট বা এমআরপি প্রবর্তনের পর এক দশকও পার হয়নি। কিন্তু এমআরপির ডেটাবেইজে ১০ আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এক ব্যক্তির নামে একাধিক পাসপোর্ট করার ঘটনা দেখা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিক ভোগান্তি কমাতে এবং একজনের নামে একাধিক পাসপোর্ট করার প্রবণতা বন্ধ করতে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) চালু করতে উদ্যোগী হয় সরকার। ২০১৮ সালের ২১ জুন প্রকল্পটি একনেকের সায় পায়। প্রকল্পটি বা¯Íবায়নে ওই বছরের জুলাইয়ে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসের সঙ্গে চুক্তি করে পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদপ্তর। সোয়া তিন হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশকে ই-পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করছে তারা। ই-পাসপোর্ট নামে পরিচিত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টে স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে মাইক্রোপ্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এ পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাসপোর্টের ডেটা পেইজ এবং চিপে সংরক্ষিত থাকে।

সহযোদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে ১২১ মুক্তিযোদ্ধার গণস্বাক্ষর, প্রতিবাদ

পাঁচ মাস ধরে কুষ্টিয়ায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ঝুলছে তালা

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম আজো দখল পাননি তাঁরই মালিকানাধীন কুষ্টিয়া শহরের এনএসরোডস্থ শুকরিয়া টেলিকম নামক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ৩৮বছর যে প্রতিষ্ঠানটি টানাপড়েন সংসারের নিয়ামক হয়ে আসছিল অথচ সেই প্রতিষ্ঠানটিই কিনা জবর দখল করেছেন তারই সহদর মতিউর রহমান ও ছেলে শহিদুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ সর্বোপরি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও তার সুরাহা হয়নি আজো। প্রায় ৫মাস ধরে জবর দখলে নেয়া ওই প্রতিষ্ঠানের দখল বুঝে না পেয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানী আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় প্রশাসন তাঁর প্রতি সুবিচার না করলেও তাঁর পাশে ঠিকই দাঁড়িয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। কুষ্টিয়ার ১২১ জন মুক্তিযোদ্ধা এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এজন্য তারা গণস্বাক্ষর করে দোষি ভুমি দস্যূদের শা¯িÍও দাবী করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কমান্ডার মোশাররফ হোসেন জানান বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের যোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবমুল্যায়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তাঁর এবং তাঁর সরকারের। অথচ আমাদের কুষ্টিয়ার একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম লাঞ্ছনার শিকার হবেন, তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভূমিদস্যূরা জবর দখল করবে এমনটি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। তাই আমরা মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে ওই ভূমিদস্যূদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভব জানিয়ে গণস্বাক্ষর করেছি। অনতিবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দখলমুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসনের হ¯Íক্ষেপও কামনা করেন তিনি। উল্ল¬খ্য দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম তাঁর পরিবার পরিজন নিয়ে ওই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানেরও ওপর ভিত্তি করে দিনাতিপাত করে আসছিলেন। কিন্তু গত ৫মাস ধরে তাঁরই ভাই মতিউর রহমান ও ভায়ের ছেলে শহিদুর রহমান জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানে তালা মেরে দখলে নেয়। অথচ ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। এর স্বপক্ষে প্রমাণাদী উপস্থাপন করা হলেও তার কোন মুল্যায়ন করা হয়নি। প্রশাসনের সহায়তা চেয়েও কাঙ্খিত সহায়তা পাননি তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে

আরিফ মেহমুদ \ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, প্রত্যেকটি উন্নয়নমুৃল কাজে সঠিকভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখবেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ শেষ করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারনে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ। এসব কাজ বা¯Íবায়নে আপনার সমস্যা যদি আপনিই সৃষ্টি করেন তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগের অগ্রাধিকার ভিত্তিক যে সব কাজ এখনো চলমান আছে তা অতি দ্রুত শেষ করতে হবে। কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। কাজের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাড়াতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে  জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকটি উন্নয়নমুলক কাজে সঠিকভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাঁড়াতে হবে। কাজের নামে অকাজ করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। তিনি সড়ক ও জনপথ কুষ্টিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর উদ্দেশ্যে বলেন, কুমারখালী-রাজবাড়ী সড়ক প্রসস্থকরণ কাজের অগ্রগতিতে জনগণ উপকৃত হলেও কাজ শেষ হতে না হতেই রা¯Íার ধারে অনেক ধস দেখা দেয়ায় জনঅসন্তুষ্টি বাড়ছে।  জনভোগান্তি বাড়ার আগেই দ্রুত এসব ধস ঠেকাতে কাজ শেষ করতে হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।  কোন কাজেই গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না। জেলাব্যাপী ব্যাপকহারে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ভংগুর পরিস্থিতি বার বার জনগণের মুখোমুখি করলেও আজকে সেই অবস্থা আর নেই। দ্রুত রা¯Íা মেরামত, নির্মাণ, সড়ক প্রসস্থ করনের কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই যোগাযোগ ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি কমে আসবে। তিনি গণপূর্ত কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীকে মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার কুষ্টিয়ার বড় বাজারের পিছনে বধ্যভূমির সঠিক জায়গা চিহ্নিত করে খুব দ্রুত সেখানে ভিত্তিপ্র¯Íতরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। যা খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ ৭১-এর স্মৃতি বিজড়িত বধ্যভূমির ভিত্তিপ্র¯Íতর করবেন। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকেল এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। যে এলাকার যত বেশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সেই এলাকা তত বেশি উন্নত। আমরা যারা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট তারা যদি দেশের জন্য এ জেলার জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে ছোট্ট ছোট্ট পরবির্তন আনতে পারি তাহলেই আমাদের উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরন হবে। তবেই তো এগিয়ে যাবে দেশ। আর এক্ষেত্রে সবার আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নিজেকে একজন দেশ প্রেমিক হিসেবে মানসিকভাবে তৈরী হতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কুষ্টিয়া পিছিয়ে থাকতে পারে না। যে কাজ করবেন সেটি যেন দেশের উন্নয়নে ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়। কুষ্টিয়া জেলার উন্নয়নে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য সরকারী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানগুলো  যেন কোনভাবেই অনিয়ম না করতে পারে এবং জনগনকে সঠিকভাবে যথাসময়ে সেবা প্রদান করতে পারে সে জন্য সরকারী সব কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। বিগত মাসের বি¯Íারিত তুলে ধরে তাকে সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ¦ রবিউল ইসলাম, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ^াস, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরিন কান্তা, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম মারুফ আল ফারুকী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক মুনতাকিম মোঃ ইব্রাহিম, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এটিএম জালাল উদ্দিন, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান প্রমুখ।

 

৪টি পদক্ষেপে বদলে গেছে মাদকের জেলা কুষ্টিয়ার চিত্র

অনেক মাদক ব্যবসায়ী এখন আলোর পথে

মাদকের বিরুদ্ধে অন্য রকম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত

বিশেষ প্রতিনিধি \ সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে যে কোন ভাল কাজ বা¯Íবায়ন করা যায় তার নজির স্থাপন করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। আগে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা মাদক নির্মূলের জন্য ঢাকঢোল পিটিয়ে মাঠে নামলেও কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি। ওইসব কর্মকর্তারা যখন ব্যর্থ সেখানে মাত্র দেড় বছরেরও কম সময়ে মাদক প্রবণ কুষ্টিয়া জেলাকে অনেকটা মাদকমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন এ কর্মকর্তা। তার নেয়া কয়েকটি উদ্যোগের ফলে বদলে গেছে চিত্র। সুযোগ পেয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে অনেকেই এখন সৎভাবে উপার্জন করছে অন্য পেশায়। শুধু মাদক ব্যবসায়ীদেরই নয় নিজের ঘরকেও পরিশুদ্ধ করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর উদ্যোগ সাড়া ফেলেছেন জেলা জুড়ে।

মাদকের জেলা ও রুট হিসেবে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের নাম আসে প্রথমেই। দেশের যে কয়েকটি সীমান্তবর্তি জেলা রয়েছে তার অন্যতম কুষ্টিয়া। এখানে জেলার দৌলতপুর উপজেলার সাথে প্রায় ৪৫ কিলোমিটারের বেশি সীমানা রয়েছে পার্শবর্তি দেশ ভারতের। ৮০’র দশক থেকেই দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্রসহ চোরাচালান বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ফেনসিডিল আসতে থাকে বানের পানির মত। উপজেলার সীমান্তবর্তি তিনটি ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষ জড়িয়ে পড়ে মাদক কারবারে। উপার্জনের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে মাদক। এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়িত মাদকের চালান দেশে আসে। এখান থেকে সারা জেলাসহ সবখানে ছড়িয়ে পড়ে। একটা সময় দৌলতপুর থানায় বসেই এক সময় চোরাচালানের জন্য টোকেন দেয়া হতো। থানা পুলিশের আয় ছিল মাসে লাখ লাখ টাকা। এ থানায় ওসির পোষ্টিং পেতে লাখ লাখ টাকার ঘুষ দিয়ে আসতে হতো কয়েক বছর আগেও। তবে গত দেড় বছরে ভিন্ন চিত্র। এখন আর এ থানায় কেউ চাকুরি করতে চাই না। কারন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে মাদক কারবার।

গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, এ চিত্র বদলে যেতে শুরু করে ২০১৮ সালের শেষ দিক এসে। ২০১৮ সালে এসএম তানভীর আরাফাত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেয়ার পর পরই জেলার মাদক নির্মুলের ওপর বিশেষ নজর দেন। আগে নিজের দপ্তর থেকে শুরু করেন শুদ্ধি অভিযান। দৌলতপুরসহ জেলার ৭টি থানার দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্টপোষকতা করেন এমন অফিসার  ও সদস্যদের গোপনে তালিকা করে তাদের একে একে সরিয়ে দেন। অনেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এমনকি ওসিদেরও সরিয়ে দেয়া হয় বেশ কয়েকটি থানা থেকে। এরপর নামেন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানে। দৌলতপুর থেকে শুরু করে ইবি থানা পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করেন। এরপর গ্রেফতার হতে থাকে বড় বড় রাঘব বোয়ালরা। এর মধ্যে শীর্ষ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এরপর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে  জেলার মাদক দুনিয়ায়। পালিয়ে অনেকেই ভারতে চলে যায়। অনেকেই পুলিশের মাধ্যমে আত্মসমর্পন করে।

দৌলতপুর থানা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান,‘ বর্তমান পুলিশ সুপারের (তানভীর আরাফাত) নেয়া কয়েকটি পদক্ষেপের ফলে বদলে গেছে চিত্র।

প্রথমত পুলিশ সুপার প্রতিটি এলাকায় সব শ্রেণীর পেশার মানুষদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা করেন। সেখানে মাদক কারবারীদের উদ্দেশ্য করে কঠোর হুশিয়ারি দেন। সময় বেঁধে দেন আত্মসমর্পনের। এরপরেই বদলে যেতে শুরু করে চিত্র।

দ্বিতীয়ত, পুলিশের অসৎ কর্মকর্তা যাদের সাথে মাদক কারবারিদের আঁতাত ছিল তাদেরকে চিহিৃত করার ওপর জোর দেন। যাতে অভিযান হলে মাদক ব্যবসায়ীরা খবর না পান। এমন অনেকের নাম আসে তালিকায়।

তৃতীয়ত, যেসব মাদক ব্যবসায়ী আলোর পথে আসতে চাই তাদের তালিকা করে কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য কাজের সুযোগ করে দেয়া ছিল অন্যতম।

চতুর্থ, এছাড়া মাদক মামলায় দ্রুত চার্জশীট প্রদান করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন। যাতে ভয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা আর ও পথে পা না বাড়ায়। গত এক বছরে মাদক মামলার রায়ে অনেকের যাবজ্জীবন দন্ড হয়েছে। গত এক বছরে দায়ের হওয়া প্রায় সব মামলার চার্জশীট দ্রুত সময়ের মধ্যে দেয়া হয়েছে আদালতে। শুরু হয়েছে এসব মামলার বিচার কাজ। এছাড়াও জনসাধারন ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ধারাবাহিক প্রচার-প্রচারনা অব্যাহত রাখার ফলেই এমন ফল মিলেছে বলে মনে করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন বলেন,‘ দৌলতপুর উপজেলার নাম আসতেই মাদকের বিষয়টি চলে আসে। বছর দুয়েক আগেও মাদকের বি¯Íার ছিল। তবে বর্তমান পুলিশ সুপারে সময় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পন করে আলোর পথে ফিরে এসেছে। এরপর দৃশ্যপট বদলে গেছে অনেকখানি। পুলিশ ইচ্ছা করলে যে কোন ভাল কাজ করতে পারে তার নজির স্থ্াপন হয়েছে। এটা ধরে রাখতে হবে।’ দৌলতপুর থানার বর্তমান ওসি আরিফ আহমেদ। তার আগে গত এক বছরে দুইজন ওসিকে বদলি করা হয় এ থানা থেকে। তাদের বিরুদ্ধে ছিল নানা অভিযোগ। এরপর তরুণ অফিসার আরিফকে আনা হয় এ থাকায় মাদক নির্মূল করার জন্য।

গত এক বছরে পুলিশের হিসাব মতে জেলায় মাদক মামলা দায়ের হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৭টি। এর মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ৩৭১জন। উদ্ধার করা হয়েছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিপুল সংখ্যক মাদক। এর মধ্যে ৮ শতাধিকের বেশি মামলার চার্জশীট দেয়া হয়েছে আদালতে। তবে গতবছর এক থানা হিসেবে দৌলতপুরে সব থেকে বেশি মাদক মামলা ও গ্রেফতার হয়েছিল আসামী। ৩১০টি মামলা হয় এ থানায়। গ্রেফতার করা হয় ৪০৭জনকে।

সর্বশেষ গত বছরের মাঝামাঝি পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের আহবানে সাড়া দিয়ে জেলার প্রায় ২ শতাধিক মাদক কারকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পন করে শপথ পাঠ করেন। এর মধ্যে ২৫ নারী মাদক ব্যবসায়ী ছিল। মাদক নির্মুলে ভূমিকা রাখায় স¤প্রতি রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ হয়েছে কুষ্টিয়া।

দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের সাজিদ মালিথা ও একই ইউনিয়নের ময়রামপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ছিলেন এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। এসপির আহবানে সাড়া দিয়ে তারা গত বছর আত্মসমর্পন করেন। এরপর সাজিদ কৃষি কাজ ও রবিউল মুদি দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের মত অনেকেই এখন আলোর পথে এসেছেন।

রবিউল ও সাজিদ বলেন,‘ তারা দীর্ঘ সময় ধরে মাদকের কারবারে ছিলেন। এ কারনে সমাজের মানুষের কাছে ঘৃর্ণীত হয়ে থাকতে হয়েছে। তাই পুলিশ সুপারের আহবানে আমরা সাড়া দিয়ে শপথ নিয়ে এখন সৎভাবে উপার্জন করে সংসার চালাচ্ছি। আমরাও এখন মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি। সমাজ থেকে মাদক নির্মুল না হলে আমাদের ছেলে-মেয়েরাও ধবংস হয়ে যাবে, এটা বুঝতে পেরেছি।’

প্রাগপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন,‘ মাদক আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যারা ব্যবসা করতো তারাও এখন পেশা বদল করেছে পুলিশের আহবানে সাড়া দিয়ে। দু’একজন যারা পলাতক আছে তারাও ভাল রা¯Íায় আসার চেষ্টা করছে।’

সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম টুকু বলেন,‘ কুষ্টিয়া তথা এ অঞ্চলে মাদকের একটি রুট রয়েছে। সহজলভ্য হওয়ায় অনেকেই এ কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন। আগে হাত বাড়ালেই পাড়ায় পাড়ায় ফেনসিডিল ও হেরোইন পাওয়া যেত। তবে সেই চিত্র এখন নেই বললেই চলে। এটা পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ ও জনসচেতনতার ফলেই সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো শতভাগ সাফল্য আসেনি। তাই কাজ এখনো অনেক বাকি।’

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ জেলায় যোগ দেয়ার পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষনা করি। আমার নিজের ঘর থেকেই সেই অভিযান শুরু করেছিলাম। অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, বাঁধা এসেছে। তবে কোন আপোষ করিনি। অভিযানের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের আলোর পথে আনার চেষ্টা করেছি। অনেকেই সেই আহবানে সাড়া দিয়ে ভাল পথে এসেছে। আবার মাদক মামলায় যাতে দ্রুত সাজা হয় সেই লক্ষ্যে চার্জশীট দিতে কাজ করেছি। সাধারন মানুষসহ সংবাদকর্মিদের ব্যাপক সহযোগিতা পেয়েছি বলেই অনেকটা সফল হতে পেরেছি। পুরোপুরি মাদক নির্মুল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। যতদিন এ জেলায় থাকবো মাদক নির্মুলে কাজ করে যাব।’

কুষ্টিয়ায় সেভ লাইফ ফাউন্ডেশনের কম্বল বিতরণকালে আতা

সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ লাইফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে শহরের ১৯নং ওয়ার্ডের চৌড়হাস পশ্চিমপাড়ায় এই কম্বল বিতরণ করা হয়। সেভ লাইফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন নজুর সভাপতিত্বে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেভ লাইফ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার গৌরব চাকী। ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবু’র সার্বিক তত্ত¡াবধায়নে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক, মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর পারভীন হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা এ্যাড. শীলা বসু, ১৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইন্তাজুল হক, সহ-সভাপতি সাইদ হোসেন চিকু ও সেভ লাইফের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস হোসেন। অনুষ্ঠানে সেভ লাইফের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন এ্যাড আশুতোষ পাল, নুরুজ্জামান বিশ্বাস জনি, এ্যাড কৌশিক পাল, পরিতোষ দাস, ইয়ামিন রহমান, নাইমূল ইসলাম শিপন,মানব চাকী, রাজীব সাহা, নজরুল ইসলাম শাওন, সবুজ বিশ্বাস, জয় ঘোষ, রিংকু কর্মকার, সীমান্ত সাহা, স্বপ্ন প্রমুখ। প্রধান অতিথি আতাউর রহমান আতা তার বক্তব্যে সেভ লাইফের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সেভ লাইফ কর্মকান্ডের ন্যায় বিত্তবান মানুষদের সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

দৌলতপুরে স্বাধীনতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় মথুরাপুর ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন

দৌলতপুর প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ২২তম স্বাধীনতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় মথুরাপুর ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে দৌলতপুর সরকারী পাইলট হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় কামালপুর ফুটবল একাদশকে ৪-০ গোলে হারিয়ে মথুরাপুর ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের খেলোয়ারদের হাতে ট্রফি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. মা. সরওয়ার জাহান বাদশা। স্বাধীনতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সভাপতি আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে খেলায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড, এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ও দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন প্রমুখ।

আনিসুর রহমান’র সম্মাননার একলক্ষ টাকা শিক্ষাবৃত্তির জন্য প্রদান

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফাউন্ডেশন’র সম্মাননার একলক্ষ টাকা শিক্ষা অনুদানের জন্য মেয়র আনোয়ার আলী’র নিকট প্রদান

কুষ্টিয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে গত ১২ জানুয়ারী আনন্দঘন পরিবেশে শহরের মিলপাড়াস্থ লেগর লজে (কুষ্টিয়া কুঠিবাড়ী) ২০১৭ সালের সম্মাননা ও পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছিল দেশ ও বিদেশের দুজন পন্ডিত ও গুণীজনকে। তাঁরা হলেন পশ্চিমবঙ্গ ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. পবিত্র সরকার এবং বাংলাদেশের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ ও বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক ড. আনিসুর রহমানকে। এই দুই গুণীজনকে সম্মাননা স্মারকসহ নগদ এক লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছিল। প্রফেসর ড. আনিসুর রহমান এই নগদ অর্থমূল্য পুরষ্কারের একলক্ষ টাকা দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরনের জন্য রবীন্দ্রনাথ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও কুষ্টিয়া পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী’র নিকট প্রদান করেন। এবিষয়ে কুষ্টিয়া জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী বলেন,  শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারেনা। আর এজন্য আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যক্তিগত ভাবে ও পৌরসভার সহযোগিতায় পৌরএলাকায় দারিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করে আসছি। এই শিক্ষা বৃত্তি প্রাপ্তিরা অনেক গড়ীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী। যারা কিনা আর্থিক সংকটের কারনে তাদের স্বপ্ন পূরন করতে পারছিল না। আমি সেই সব ছাত্রছাত্রীদেরকে তাদের স্বপ্ন পূরনের জন্য ঐসব ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করে থাকে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সহ জেনারেল শিক্ষায় দেশের লেখাপড়ার শেষ করেছে। আবার অনেকে লেখাপড়া শেষ করে চাকরিরত আছে। মেয়র আরো বলেন, গত বছরে এই শিক্ষাখাতে প্রায় আশি লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই শিক্ষাবৃত্তির বিষয়ে জানতে পেরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর ড. আনিসুর রহমান খুবই আনন্দিত হয়েছেন। আর এজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফাউন্ডেশন হতে সম্মাননার সেই একলক্ষ টাকা দারিদ্র ও মেধাবী  শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরনের জন্য আমার কাছে প্রদান করেন। ড. আনিসুর রহমানের  এই মহতি উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানায় ও তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সাহায্য সংস্থা সাদাকা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

নিজ সংবাদ \ যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সাদাকা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩০জন গরীব ও দুস্থ্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরে অবস্থিত প্রতীতি বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলার ও প্যানেল মেয়র সাইফ উল হক মুরাদ। প্রতীতি বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কলামিষ্ট প্রফেসর ড. ইকবাল হোছাইন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলাম ও ভাইস প্রিন্সিপাল আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগান্তর পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আবু মনি জুবায়েদ রিপন ও দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আ.ফ.ম নুরুল কাদের। ৩০জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এই শিক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়। শিক্ষা সামগ্রীর মধ্যে ছিল ১টি করে স্কুল ব্যাগ, ১০টি করে লেখার খাতা, ১২টি কলম, ১টি রাবার,১টি কাটার মেশিন, ১টি স্কেল এবং ১টি পেন্সিল বক্স।

সাধারণ মানুষ একেবারেই সাধারণ হয়ে গেছে ঃ ফখরুল

ঢাকা অফিস \ শাসকগোষ্ঠী সচেতনভাবে বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল শনিবার এক আলোচনা সভায় দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্র আমরা তৈরি করেছি সেই রাষ্ট্রের মানুষের কোনো অধিকার নেই, সাধারণ মানুষ একেবারেই সাধারণ হয়ে গেছে। “যে চিন্তা নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছি ১৯৭১ সালে, সেই চিন্তা-চেতনা, সেই ধারণাগুলো সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আজকে যারা শাসকগোষ্ঠি, তারা অত্যন্ত সচেতনভাবে এই রাষ্ট্রকে অকার্য্কর রাষ্ট্রে পরিণত করছে।” ভিন্নমতের ওপর সরকারের দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে দুঃখ হয় যখন দেখি যে, আমাদের গুণী মানুষ যারা রয়েছেন তাদেরকে শুধু কথা বলার কারণে কারাগারে পাঠানো হয়। যদিও তারা রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকেন না। “যারা লেখেন, কথা বলেন বা যারা শুভ চিন্তা ও সত্যকে সামনে নিয়ে আসতে চান তাদেরকেও এখন একইভাবে পর্যুদ¯Í করা হচ্ছে, নিপীড়ন করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে।” সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনিরুজ্জামান তালুকদার স্মরণে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর অ্যাপেলো হাসপাতালে মারা যান তালুকদার মনিরুজ্জামান । গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ফখরুল সম্প্রতি প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদাহরণ টানেন। মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে গত ১ নভেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় নবম শ্রেণির ছাত্র আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি এই পরোয়ানা জারি করে আদালত। মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সাহেব। আপরাধ কী? অপরাধ যে মাঝে মাঝে তিনি কিছু লিখতেন, তার পত্রিকায় কিছু সত্য কথা বেরুতো। এজন্য একটি হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত করা হয়েছে, তাকে প্রধান আসামি করে প্রথম আলোর নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। “ঠিক একইভাবে মাহমুদুর রহমান সাহেবের (দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক) পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং তাকে দীর্ঘকাল কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। যে-ই ভিন্নমত পোষণ করতে চায়, ভিন্ন কথা বলতে চায়, এখন তাকে নিশ্চিহ্ন করা, নির্মূল করা অথবা ¯Íব্ধ করে দেয়ার কাজ চলছে।” মির্জা ফখরুল বলেন, “এর মধ্যে উঠে দাঁড়াতে হবে, এর মধ্যেই তো কথা বলতে হবে। প্রফেসর তালুকাদার মনিরুজ্জামান সাহেব সেই কথাটি আমাদেরকে শিখিয়েছেন, পড়িয়েছেন যে, কখনো দ্বিমত না করা, লড়াই করে যাওয়া, সংগ্রাম করে যাওয়া। অবশ্যই আমরা জয়ী হব। এদেশের মানুষ সংগ্রাম করেই জয়ী হয়েছে।” তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলী খান বলেন, “বাংলাদেশে আদর্শ শিক্ষক বলতে যা বোঝায় তালুকদার মনিরুজ্জামান ছিলেন তা। গবেষণা কর্মে তিনি সবসময় সম্পৃক্ত ছিলেন কিন্তু তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের পেছনে দৌড়াননি, তিনি প্রক্টর হতে চাননি। তিনি হয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক, এই অধ্যাপনাই ছিল তার নেশা, তার পেশা এবং আমি মনে করি যে, বাংলাদেশের শিক্ষকরা যদি তালুকদার মনিরুজ্জামানকে অনুসরণ করে তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আরো অনেক উন্নতি হওয়ার সম্ভব।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভা সঞ্চালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম। আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউলøাহ, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি জাফরুলøাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন হ এহছানুল হক মিলন প্রমুখ তালুকদার মনিরুজ্জামানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেনসহ ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও আলোচনা সভায় অংশ নেন।

প্রবীণ হিতৈষী সংঘ কুষ্টিয়ার শীতবস্ত্র বিতরণ

বাংলাদশে প্রবীণ হতিষৈী সংঘ কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে দুঃস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার  সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া বোধোদয় কার্যালয়ে।  এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি এড. আব্দুল জলিল, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মোজাফফর রহমান, সামাজ সেবা অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরচিালক মোঃ নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খাদিমুল ইসলাম, এড. সামছুল হক লালিম, ডাঃ আমিনুল হক রতন, এড. গোলাম মোওলা. আব্দুল রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুর সাত্তার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, চৌধুরী মুরশেদ আলম মধু, নির্বাহী সদস্য মাহাতাব উদ্দিন, আলহাজ্ব আঃ রাজ্জাক, নিত্য  গোপাল বিশ্বাস, হাজী আব্দুল কাশেম, মিজানুর রহমান মির্জা, আবু বকর সিদ্দিক রন্টু, হাবিবউল্লাহ, জি এম গোলাম মোস্তফা, মাহাতাব উদ্দীন আহাম্মেদ, খন্দকার রেজাউল হক বাবু, জহুরুল হক চৌধুরী রনজু প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড কম – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস \ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড কম বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। শনিবার সকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও তথ্য কমিশন আয়োজিত তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ ও অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেম অবহিতকরণ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড চায় না মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐ নিয়ে অসত্য তথ্য ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মত উন্নত দেশের তুলনায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাÐের সংখ্যা বাংলাদেশে অনেক কম। দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড হাতে গোনা কয়েকটি হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যম বাড়তি তথ্য দিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, অনেক সংবাদমাধ্যমেও অসত্য তথ্য প্রচার হচ্ছে। কিন্তু তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে সঠিক তথ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ বা¯Íবায়নে এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। সরকার একটিও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেসব হত্যাকাÐের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো সঠিক নয়। সরকার কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড চায় না। কর্মশালায় প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস \ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার দেশে মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়া সম্ভব। শনিবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ‘স্প্রিং-২০২০’ সেমিস্টারের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনওয়া প্রেফন্টেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা লায়ন বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. ইসমাইল হোসেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও অভিভাবকসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। আনিসুল হক বলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকমÐলী, ছাত্র-ছাত্রীসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বিশেষ অবস্থান অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ১০ বছরের শিক্ষাজীবন শেষ করে একজন শিক্ষার্থী কলেজ ও এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানার্জন জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞানসৃষ্টির প্রতিষ্ঠান। জীবনে সফল হতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়গুলোকে জ্ঞানার্জন জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞানসৃষ্টিতে কাজে লাগোতে হবে। জীবনে সফলতা-স্বপ্নপূরণে প্রত্যেককে অদম্য ইচ্ছাশক্তি অধ্যবসায়ী হতে হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, আজকের ছাত্র-ছাত্রীরা আগামীদিনে দেশ পরিচালনা করবে। সেজন্য তাদেরকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের প্র¯Íুত করতে হবে। দেশে সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যাতে করে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠি, ধনী-দরিদ্র সকলে সমমানের শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে ওঠে। আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ। সেলক্ষ্য পূরণে সরকার কাজ করছে।

 

বিএনপির গণজোয়ার ‘দিবাস্বপ্ন’ – কাদের

ঢাকা অফিস \ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে- দলটির নেতাদের এমন দাবিকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “সাত আসন পাওয়ার আগে তো জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শুনেছিলাম তাদের গণজোয়ার হয়েছে। ফলাফলে তো তারা তার কোনো প্রমাণ রাখতে পারেননি। “বিএনপি সব সময়ই দিবাস্বপ্ন দেখে। গণজোয়ারও তাদের একটা দিবাস্বপ্ন, যা দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।” গতকাল শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি ইভিএমের নিয়ে বিষোদাগার করছে বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। “আমাদের মনে হয়ছে, নির্বাচন হওয়ার আগেই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য বিএনপি নানা ধরনের টালবাহানা করছে। আসলে ইভিএমটা টার্গেট নয়। এটার ছুতো ধরেই তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।” ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ঢল নেমেছে দাবি করে কাদের বলেন, “আমরা ক্লিন ইমেজের দুজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছি। আজকে জনমতের যে দৃশ্যপট, তাতে জনগণ স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীকেই ভোট দিতে চায়।” ‘ভোটের দিন পরিবর্তনে সমস্যা নেই’ সরস্বতী পূজার জন্য ঢাকা সিটি ভোটের দিন পরিবর্তনে নিজেদের অনাপত্তির কথাও বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পূজার জন্য ভোটের দিন বদলের দাবি জোরাল হয়ে ওঠায় নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসার আগে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এই অবস্থান জানালেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে কাদের বলেন, “সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন। এটা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানে পৌঁছাতে পারেন। “আমরা বলেছি, এখানে তারিখ পরিবর্তনও যদি হয়, আগে বা পরে, আমাদের সরকার বা দলের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি করব না। আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি, তারিখ পরিবর্তন করলে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই।” ভোটের তারিখ নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, ইসি তার বা¯Íবসম্মত সমাধান দেবে বলে আশা করেন মন্ত্রী কাদের। ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন রেখে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই তার বিরেধিতা করেছিল পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও ভোটের দিন পরিবর্তনের দাবি জানায়। কিন্তু এসব আবেদনে ইসি সাড়া না দেওয়ায় এক আইনজীবী রিট আবেদন করেন হাই কোর্ট। তবে আদালত তা খারিজ করে দেওয়ায় ৩০ জানুয়ারিই ভোট করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে ইসি। এদিকে ভোটের তারিখ বদলানোর দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী বসেন অনশনে; হিন্দু মহাজোট নামে একটি সংগঠন সিটি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণাও দেয়। হিন্দু মহাজোটের ঘোষণার বিষয়ে কাদের বলেন, “হিন্দু মহাজোট কারা আপনারা ভালো করেই জানেন। এরকম অনেক সংগঠন আমাদের দেশে আছে। হিন্দু মহাজোট হিন্দু সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে না। এরা একটি ক্ষুদ্র অংশ। “তাহলে গয়েশ্বর রায়ও তো বিএনপি করে। এখন গয়েশ্বর রায়ের কথায় কি হিন্দু সমাজ ভোট দেবে?” ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সুর নরম করলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, “বিদ্রোহীদের জন্য আওয়ামী লীগ শেষ ও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, এমন তো না। এটা হয়েই আসছে। “আমরা ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় আছি, এত বড় দলে বিদ্রোহী প্রার্থীর মতো বিষয়গুলো থাকে। আমরা নির্বাচন করছি, এসব ছোটখাট সমস্যাকে নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা নির্বাচনেও বিজয়ী হচ্ছি এবং বিরোধী দলের চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করছি।” এটা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্তব্য করে কাদের বলেন, “এটা আমাদের উপর ছেড়ে দিন না। আমরা আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি বা না পারি তাতে আপনাদের অসুবিধা কী? এখানে বিদ্রোহী থাকলে আপনাদের অসুবিধা কী?” তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বসাতে দলের দায়িত্বশীল নেতারা সক্রিয় আছেন বলে জানান কাদের। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, দপ্তর সম্পাদক বিপ¬ব বড়ুয়া ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিতি ছিলেন।

অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের সাথে ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাত

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি, কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান  প্রফেসর ড. আবুল বারকাতের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ। গতকাল শনিবার রাতে ড. আবুল বারকাতের কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর বাসভবনে এ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল আরফিনের নেতৃত্বে পরিষদের নেতৃবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাত শেষে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ আলমঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া, ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ বকুল, যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন স্বপন, মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক ড. শিপন মিয়া, প্রচার সম্পাদক মোঃ রাশিদুজ্জামান খান (টুটুল), নির্বাহী সদস্য প্রফেসর ড. সুজিত কুমার মন্ডল, প্রফেসর ড. গৌতম কুমার দাস, ড. আমানুর আমান, আবুল কাউসার, গোলাম আযম বিশ^াস পলাশ, আজিজুর রহমান জালাল, মাসুদ পারভেজ, জাহাঙ্গীর আলম শিমুল, আরিফুল হক, মনিরুল ইসলাম, নজরুল ইসলামসহ প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বগুড়ার এমপি মান্নান আর নেই

ঢাকা অফিস \ লাইফ সাপোর্টে থাকা বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান মারা গেছেন। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মান্নান এক সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করে। মান্নানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক জানিয়েছেন। মান্নানের বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তার পৈতৃক বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হিন্দুকান্দি এলাকায়। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল মান্নানকে। অবস্থার অবনতি ঘটলে ওই রাতেই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শনিবার সকালে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, “আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আব্দুল মান্নান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।” মান্নানের মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। সোমবার সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প¬াজায় জানাজা নামাজ শেষে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন রাজনৈতিক সহকর্মীরা। পরে হেলিকপ্টারে করে বগুড়ার সোনাতলায় নিয়ে যাওয়া হবে লাশ। এরপর গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। গত শতকের ৮০ দশকে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মান্নান। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (বাকসু) ভিপি ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মান্নান। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও নির্বাচিত হন তিনি। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতাকে হারালো। তার অভাব কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।” শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “তার মতো একজন রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন দক্ষ সংগঠক ও একনিষ্ঠ কর্মীকে হারাল।” পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে মান্নানের ভূমিকা স্মরণ করে শোকবার্তায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, “৭৫ পরবর্তী কঠিন সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বা¯Íবায়নে নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও কষ্ট করে যাওয়া আব্দুল মান্নানকে জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।” মান্নানের মৃত্যুতে দলের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদেরও শোক জানিয়েছেন। শোকবার্তা পাঠিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া ও চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।