প্রতিদিন গড়ে ট্রলি প্রতি লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায়

দৌলতপুরে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন

বিশেষ প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে একটি প্রভাবশালী মহল। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচরের নীচে পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলি বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এরফলে বন্যার সময় হুমকির মুখে পড়বে রায়টা-মহিষকুন্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। সেই সাথে ধ্বস নামতে পারে ফিলিপনগর-ইসলামপুর ব্লক দিয়ে নির্মিত স্থায়ী বাঁধে। এলাকাবাসী সূত্র জানিয়ছে, বৈরাগীরচর রিফুজিপাড়ার হাম্বার খা এবং বৈরাগীরচর পূর্বপাড়ার নাসির উদ্দিন মেম্বর ও শাহীন আলীসহ ১৫-২০জন স্থানীয় প্রভাবশালী বৈরাগীরচরের আবু বক্কর হাজীর বাড়ির নীচে ও ভাদুশাহ্র মাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী  থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলি অবৈধভাবে এ বালি উত্তোলন করে থাকেন। অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকারীদের নিষেধ ও সতর্ক করেন। প্রশাসনের নিষেধ ও সতর্কতা অমান্য করে ওই প্রভাবশালী মহল পদ্মনদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। ট্রলি প্রতি ২০০ টাকা চাঁদা নিয়ে ওই প্রভাবশালী মহল প্রতিদিন শত শত ট্রলি বালি উত্তোলন করে থাকে। গড়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা ট্রলি প্রতি চাঁদা আদায় করে ওই প্রভাবশালী মহল। কেউ মুখ খুললেই তাদের বিরুদ্ধে নেমে আসে খড়গ ও দেওয়া হয় নানা ধরনের হুমকি। বালি উত্তোলনে চাঁদা আদায়কারী ওই মহল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা বালি উত্তোলন করছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন সুধীজন জানিয়েছেন। তবে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট গত ২০ জানুয়ারী পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং অন্তত ৫টি বালি ভর্তি ট্রলির ইঞ্জিনের ফিতা কেটে দেন। সেইসাথে ট্রলির যন্ত্রাংশ জব্দ করেন। এরপরও থেমে নেই ওই প্রভাবশালী মহলের অবৈধভাবে পদ্মা নদীর তীরবর্তী ও বসতি এলাকায় অবৈধভাবে বালি উত্তোনের কাজ। বিষয়টি অতি দ্রুততার সাথে আমলে নিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধে বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।

কুষ্টিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী প্রতিবেশী কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায়  বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষনের দায়ে এক বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুর ১টায় কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সী মোঃ মশিয়ার রহমান আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় দেন।  দন্ডিত ব্যক্তি হলেন- কুমারখালী উপজেলার হোগলা বাড়ি গ্রামের মো. আনসার আলী (৭০)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্র“য়ারী দুপুরে উপজেলার হোগলাবাড়ি মাঠে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই কিশোরী মসুর ক্ষেতে ছাগল তাড়াতে গেলে আসামী আনসার আলী প্রলোভন দেখিয়ে জোর পূর্বক গম ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষন করে। এই এঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় আনসার আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৯ মে আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ। কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের সরকারী কৌশুলী (পিপি) আব্দুল হালিম বলেন, কুমারখালী থানার এই ধর্ষণ মামলাটিতে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে চার্জগঠন পূর্বক দীর্ঘ স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ৫০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সাজার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দৌলতপুরে গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শিখা খাতুন (২৭) নামে এক গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহবধু উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর রিফুজিপাড়া গ্রামের সোহেল হোসেনের স্ত্রী। সে দুই সন্তানের জননী ছিল।

স্থানীরা জানায়, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে গতকাল বিকেলে সোহেল তার স্ত্রী শিখা খাতুনকে শ^াসরোধ করে হত্যা শেষে তার মৃতদেহ ঘরের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ঘরের মধ্যে শিখা খাতুনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ নিহত গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়। গৃহবধু শিখা খাতুনের মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানান, নিহতের গলায় দাগ রয়েছে। হত্যা না আত্মহত্যা এ মুহুর্তে কিছু বলা যা্েচ্ছ না। ময়না তদন্তের জন্য নিহত গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হবে। ময়না তদন্তের পর জানা যাবে।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙা শুরু

ঢাকা অফিস \ রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ভবন ভাঙার কাজের উদ্বোধন করেন। মন্ত্রী নিজ হাতে মেশিনের যাহায্য বিজিএমইএ ভবনের নিচ তলার ফ্লোরের কিছু অংশ উপড়ে দেন। ভাঙার কাজ চালু করে দেওয়া হলেও শ্রমিকদের নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু হবে আগামী সোমবার। এদিন ভবন ভাঙার কাজ পুরোদমে শুরুর পরিকল্পনা না থাকলেও রাজউকের ৪/৫টি এক্সক্যাভেটর এনে রাখা হয়েছে বিজিএমইএ ভবনের কাছে। উদ্বোধনী শেষে সেগুলো আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্বোধন শেষে গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, সুন্দর ঢাকার দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলের ওপরে অপরিকল্পিতভাবে এবং বেআইনিভাবে বিজিএমইএর এই ভবন গড়ে উঠেছিল। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই ভবন অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো আইনগত ত্রুটি যাতে না থাকে সেজন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে ভাঙার ব্যবস্থা করা হয়েছে। “সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রথমে যাকে পেয়েছিলাম তিনি কারিগরি কারণে পরে অপারগতা জানিয়েছেন। সে কারণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে দিয়ে এই ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।” ভবনটি ভাঙার ক্ষেত্রে যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে একাধিক সরকারি কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী। “ছয় মাসের ভেতরে ভবন অপসারণ করা হবে। কাজটি দেখভালের জন্য বুয়েট, সেনাবাহিনী, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এমনকি ইমারত বিশারদদের প্রতিনিধি যুক্ত করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিকভাবে এই কাজ তদারকি করবেন। কোনোভাবেই যাতে র‌্যাংগস ভবনের মতো কোনো বিপর্যয় বা প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” প্রথমে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ভবন ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বিবেচনায় সরকার সেই পথ থেকে সরে আসে। “প্রথমে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ভাঙার কথা ভাবা হলেও পরে দেখা গেছে পাশে একটি ফাইভ স্টার হোটেলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আছে। ওই জাতীয় কাজ করতে গেলে এর গতিবেগ ও শক্তিতে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ক্ষতিগ্র¯Í হবেন। সবদিকে ধুলা ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশেরও ক্ষতি হবে। সেজন্য যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়েছে।” ভবন ভাঙার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবগত আছেন বলেও জানান মন্ত্রী। ভবন ভাঙার কাজ পাওয়া ফোর স্টার গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও পরিচালক নসরুল্লাহ খান এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে নসরুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, মূলত আগামী সোমবার থেকে ভবন ভাঙার মূল কাজ শুরু হবে। এদিকে ভবন ভাঙা প্রসঙ্গে বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি রুবানা হক বলেন, ভবনটি উচ্ছেদে আদালতের রায়ের প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। “তবে এতো বড় স্থাপনা উচ্ছেদে যুক্ত শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি যেন সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়- মালিকদের পক্ষ থেকে সেই দাবি থাকবে।” বিজিএমইএ ভবনকে হাতিরঝিল প্রকল্পের ‘ক্যান্সার’ আখ্যায়িত করে হাই কোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে ইমারতটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। পরে আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে। সর্বোচ্চ আদালত বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায় দেওয়ার পর কয়েক দফায় সময় নিয়েছিল তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা। সবশেষ আদালতের দেওয়া সাত মাস সময়সীমা গত ১২ এপ্রিল শেষ হয়।

জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপির আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল

বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়। উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনা দোয়া করা হয় এবং নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করা হয়। সেই সাথে অসুস্থ থাকা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর রোগমুক্তি কামনা করেও দোয়া করা হয়। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড.শামীম উল হাসান অপু, যুব বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু, জেলা কৃষকদলের সভাপতি এসএম গোলাম কবির, সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন মোকা, যুগ্ম সম্পাদক ডিউক, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার শামসুজ্জোহা লাল্টু,  জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সহ-সভাপতি ইকবাল মাহামুদ এডিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুল আলী, সদস্য দেবোত্তম বিশ্বাস, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রাসেল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের  প্রবক্তা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তাঁর জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে  দেশের সকল সঙ্কটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বার বার অবতীর্ণ হয়েছেন।  দেশকে সংকট থেকে মুক্ত করেছেন। তিনি স্বাধীনতার  ঘোষণা দিয়েছেন আবার অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। তাঁর স্বল্পকালীন শাসনকার্য পরিচালনায় তিনি যে গভীর দেশপ্রেম, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা আজও কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। এমনকি তার রাজনৈতিক বিরোধীরাও মৃত্যুর পর তাঁর সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারেনি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ কারণেই এ দেশের সর্ব¯Íরের জনগণের অন্তরে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কালুখালীতে বাটাহাম্বারের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

কালুখালী প্রতিনিধি \ গতকাল বুধবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে বাটাহাম্বারের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী শিমুল (২৪) নিহত হয়েছেন। নিহত শিমুল উপজেলার মৃগী ইউপির শিকজান গ্রামের ইউপি সদস্য শাজাহান মন্ডলের পুত্র। ঘটনার বিবরণে জানাযায়, সকাল ১০টার দিকে শিমুল বাড়ী থেকে ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল (মাগুরা-ল-১১-০৪৭৭) নিয়ে পাংশার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে খরখরিয়া নামক স্থানে যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান এর বাড়ীর সামনে পাকা রা¯Íায় বিপরিত দিক থেকে আসা বেপড়োয়া বাটাহাম্বারের চাপায় ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। এসময় স্থানীয়রা এসে বাটাহাম্বারের নিচ থেকে শিমুলকে উদ্ধার করে পরে তাকে তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত শিমুলকে এক নজর দেখার জন্য মৃগী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান সাগর, মৃগী ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ বদর উদ্দিন সরদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাদশা, মৃগী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি সহ স্থানীয় স্বজনের ভির জমে। জানা গেছে দুর্ঘটনাজনিত বাটাহাম্বার ও মোটরসাইকেল মৃগী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে  হেফাজতে রাখা হয়েছে।

নির্বাচনের সময় আমরা জনদরদির মতো অভিনয় করি – কাদের

ঢাকা অফিস \ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা রাজনীকিতরা নির্বাচনের সময় মানুষকে কাছে টানি। প্রতিশ্রুতির রঙিন ফানুস ওড়াই। জনদরদির মতো আমরা অভিনয় করি, নির্বাচনের পর সত্যিকারের বিষয়টা মানুষ বুঝতে পারে। নির্বাচন চলে গেলে আমরা অবলিলায় সবকিছু ভুলে যাই। প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যাই।’ গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন (বীর বিক্রম) স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় প্রধান অথিতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ দেশে অনেক জনপ্রতিনিধি আছে। জনগণের সাথে যাদের যে সম্পর্ক, তা যখন ভাবি, মনে হয় আমাদের সব জনপ্রতিনিধি জনগণকে ভালোবাসে না। জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ দরকার। সেই সোনার মানুষের বড় অভাব রাজতৈক অঙ্গনে। জয়নাল আবেদীন সৈনিক হয়েও তিনি ছিলেন আলাদা একজন মানুষ। একজন জনপ্রতিনিধির চাইতেও জনগণের সাথে তার সম্পর্ক ছিল আরও গভীর এবং নিবিড়।’ তিনি বলেন, ‘এই গ্রামে এলে বোঝা যায়, একজন মানুষ শেকড়ের টানে, তার জন্মভূমির জন্য কী দিতে পারেন। এ অন্ধকার গ্রাম, এ গ্রামকে আলোকিত করেছেন জেনারেল আবেদীন। এ অন্ধকার গ্রামে বিদ্যুতের আলো, শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন জেনারেল আবেদীন। আমি কাছ থেকে দেখেছিলাম, তার যে জীবন, তার যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, তার যে প্রজ্ঞা, তার যে কমিটমেন্ট।’ ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে, জেনারেল আবেদীনের আহŸানে এই চুনতি গ্রামে আমি এসেছিলাম। এই যে রা¯Íা, জেনারেল আবেদীনের উদ্যোগে হয়েছিল। তার শুভ উদ্বোধন আমি করেছিলাম। রা¯Íা ছিল না, রা¯Íা তিনি করেছেন। বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরে যে সাধারণ মানুষ, তাদের জন্য তিনি হাসপাতালের ব্যবস্থা করেছে ’,- বলেন ওবায়দুল কাদের। জেনারেল জয়নুল আবেদীন প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতীক ছিলেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তাকে আমি দেখেছি নেত্রীর আশপাশে সব সংকটে। ক্রাইসিসে আবেদীন ছুটে আসতেন। নেত্রীর একটা কথা মনে পরে, ‘আমাকে যদি কখনও না পাও। টেলিফোনেও যদি না পাও। আবেদীনের কাছে মেসেজ রেখে যেও। সময়মতো আমাকে জানাবে।’ কোনো খবর নেত্রীকে দিতে হলে, নেত্রীকে না পেলে আবেদীনের কাছে যেতাম। সেই আবেদীন আজ আর নেই।” জেনারেল আবেদীন গণভবনের সঙ্গে জনগণের সেতুবন্ধন রচনা করেছিলেন উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে গণভবনের সেতুবন্ধন রচনা করেছিলেন জেনারেল আবেদীন। অহংকার কখনও দেখিনি। তিনি সৈনিক হয়েও, তিনি তার গন্ডি পেড়িয়ে জনগণের সাথে অবাধে মিশে যেতে পারতেন।’ প্রয়াত সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের বড় ভাই ইসমাইল মানিকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোসলেম উদ্দিন আহমদ, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল প্রমুখ।

কুষ্টিয়া জেলা তথ্য অফিসের শিশু মেলা

গতকাল কুষ্টিয়া জেলা তথ্য অফিসের আয়োজেনে শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে দুই দিনব্যাপী শিশু মেলা দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে শুরু হয়েছে। সিনিয়র তথ্য অফিসার মোঃ তৌহিদুজ্জামনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিশু মেলার উদ্বোধন পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন শারমিন আক্তার উপজেলা নির্বাহী অফিসার দৌলতপুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোখলেসুর রহমান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মুনতাকিমুর রহমান, আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক প্রমূখ।  মেলার দশটি স্টলে শিশু অধিকার, বাল্য বিবাহ, যৌতুক, মাদক ও জাঙ্গীবাদ প্রতিরোধ, নিরাপদ মাতৃত্ব, শিশুর টিকা, শিশুর পানিতে ডুবা রোধ, অটিজম ও মানসিক বিকাশ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের প্রদর্শণীর ব্যবস্থা রয়েছে।  শিশু মেলাতে দিনব্যাপী শিশুদের জন্য কবিতা আবৃত্তি, রচনা লিখন, চিত্রাংকন, কুইজ, বালতিতে বল নিক্ষেপ প্রভৃতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যায় চলচ্চিত্র প্রদর্শণের মাধ্যমে মেলার প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। আজ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে মেলার সমাপ্তি হওয়ার কথা রয়েছে।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গাংনীতে গ্রাম পুলিশের উপর হামলা

গাংনী প্রতিনিধি \ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি গ্রামে ট্যাক্স আদায় করতে গেলে গ্রাম পলিশের (চৌকিদার) উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার উপজেলার মটমুড়া ইউপির গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) রবিউল ইসলাম চেয়ারম্যানের নির্দেশে কোদাইল কাটি গ্রামে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করতে যান। চৌকিদার রবিউল ইসলাম ট্যাক্সের টাকা দাবি করলে কোদাইলকাটি গ্রামের বাদলের ছেলে শহিদুল ইসলাম সেন্টু চৌকিদারকে বেধড়ক মারপিট করে এবং পুলিশের পোশাক ছিড়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে গ্রামের ইউপি সদস্য বজলুর রহমান জানান, গ্রাম পুলিশকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে সেন্টু অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন। আমরা চেষ্টা করছি সেন্টু ও তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে আপোষ মিমাংসার। সেন্টু বর্তমানে পলাতক রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ জানান, আমি  মেম্বর মারফত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসবো।  এ ব্যাপারে গাংনী  থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান জানান, আমি এখনও বিষয়টি জানতে পারিনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস \ বিরোধী দলের অভিযোগের মধ্যেও গণতন্ত্র সূচকে আরো এগিয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সর্বশেষ গণতন্ত্র সূচকে (২০১৯ সালের) ৫ দশমিক ৮৮ স্কোর নিয়ে আট ধাপ এগিয়ে ৮০তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এর আগের বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৫৭, আর অবস্থান ছিল ৮৮তম। ইআইইউর সূচকে দেখা গেছে, তালিকার উপর এবং নীচের দিক খুব একটা পরিবর্তন না হলেও বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের অবস্থানের ‘ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। আট ধাপ এগোলেও সূচকে এখনো প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। যদিও নতুন সূচকে ভারতের ১০ ধাপ পিছিয়ে ৫১তম অবস্থানে (৬ দশমিক ৯০ স্কোর) রয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভারতের এই পতনের পেছনে ক্ষয়িষ্ণু নাগরিক স্বাধীনতাকে প্রাথমিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হচ্ছে, ভারতে নাগরিকদের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হওয়ার বিষয়টি মূলত সামনে এসেছে গতবছর জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর। এছাড়া আসামের নাগরিকপঞ্জীও (এনআরসি) এতে ভূমিকা রেখেছে। চূড়ান্ত তালিকা থেকে রাজ্যটির যে ১৯ লাখ নাগরিক বাদ পড়েছে, তাদের অধিকাংশই মুসলিম। ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের দাবি, বাদপড়াদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি অভিবাসী। যদিও বাংলাদেশ শুরু থেকেই ভারতের দাবি নাকচ করে আসছে। এরপর নতুন নাগরিকত্ব আইন দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠির ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। যার প্রভাবে ভারতের সা¤প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির শঙ্কা দেখা এবং কয়েকটি শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভও হয়। নতুন গণতন্ত্র সূচকে একেবারে তলানীর দিকে রয়েছে চীন। সংখ্যালঘুদের দমনের মাত্রা বাড়তে থাকা দেশটির অবস্থান ১৫৩ স্থানে (স্কোর ২. ২৬)।  সংখ্যালঘু মুসলিম নাগরিকদের ধরপাকড় আর নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করার মতো ঘটনার ব্যাপকতার কারণে চীনের পয়েন্ট কমাতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছে ইআইইউ। আর ২০১৯ সালে সার্বিকভাবে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকের স্কোরও কমেছে। ২০১৮ সালে এই স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৪৮, ২০১৯ সালে তা কমে ৫ দশমিক ৪৪ হয়েছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, ২০০৬ সালে সূচক প্রকাশের পর থেকে এটাই সবচেয়ে বাজে স্কোর।

ঢাবিতে শিবির সন্দেহে ৪ ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে দিল ছাত্রলীগ

ঢাকা অফিস \ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে চার শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে স্ট্যাম্প ও রড দিয়ে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা ও কর্মী। এরপর অবস্থার অবনতি হলে হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। ঘটনার পর সকালে শিক্ষার্থীদের থানা থেকে নিয়ে আসেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। চার ছাত্র হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুকিম চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেন, একই বর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে জহুরুল হক হলের গেস্টরুমে ছাত্রলীগের তথাকথিত গেস্টরুম চলাকালে মো. মুকিম চৌধুরীকে শিবির সন্দেহে ডেকে আনা হয়। সেখানে হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা তাদের অনুসারীদের নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মানসিক টর্চার করতে থাকে। পরে শিবির সংশ্লিষ্টতা স্বীকার না করায় লাঠি, স্ট্যাম্প ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। মুকিমকে নির্যাতনে কোন কাজ না হওয়ায় পরে তার ফোনের কললিস্ট দেখে সানওয়ার হোসেনকে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে তাকেও বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগের নেতারা। এরপর মিনহাজ উদ্দীন এবং আফসার উদ্দীনকে গেস্টরুমে নিয়ে আসে ছাত্রলীগ নেতারা। তাদেরও রাত আড়াইটা পর্যন্ত নির্যাতনের পরে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ। হল সংসদের ভিপি সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্ত, হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা সাংবাদিকদের বলেন, ওই চার ছাত্রের শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছিলেন। প্রমাণগুলো তাঁরা পুলিশকে দিয়েছেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ না পাওয়ায় ওই চার ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শিবির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ওসি। এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান বলেছেন, তিনি জানতে পেরেছেন যে শিবিরসংশ্লিষ্টতা থাকায় চার ছাত্রকে থানায় দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মারধর করা হয়েছে কি না, তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, কারও ওপর শারীরিক আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেন, ছাত্রলীগ হামলা করার জন্য নানা ধরনের অজুহাত সৃষ্টি করে। কখনো তারা বহিরাগত ট্যাগ দেয় কখনো বিতর্কিত নানা ধরনের ট্যাগ দিয়ে দেয়। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ের বিচার না করায় ক্রমাগত এসব ঘটনা বাড়ছে। ভিপির উপর হামলা করে বলে জামাত-শিবির। এখন তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম কঠোর হ¯েÍ দমন করতে হবে।

কুষ্টিয়ার আব্দালপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

নিজ সংবাদ \ গতকাল বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নের দেড়িপাড়ার মাঠ থেকে রেজাউল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্যবসায়ী যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  নিহত রেজাউল ইসলাম আব্দালপুর গ্রামের মসলেম হকের ছেলে। তার শরীরে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায় রেজাউল ইসলাম গাছ কেনা  বেচার ব্যবসা করতেন। মঙ্গলবার ব্যবসা শেষে রাতে  সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য স্থানে যোগাযোগ করেও তার সন্ধান পায়নি। ব্যবসায়ীক কাজে অন্য কোথায় যেতে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা ছিল। কিন্তু গতকাল বুধবার দিন শেষে  লোক মারফত তার মৃত্যুর সংবাদ পায়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এক পথচারী গতকাল বিকেল ৪টার দিকে আব্দালপুর ইউনিয়নের দেড়িপাড়ার মাঠে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার চেচামেচি করতে থাকে। সেখানে লোক জড়ো হতে শুরু করে। সংবাদ দেয়া হয় ইবি থানা পুলিশকে। সংবাদ পেয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই মাঠ থেকে পুলিশ এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে হত্যা করা রেজাউলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।  পুলিশ জানায়, তার দুই পায়ের রগ কেটে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে যখম করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কেন, কে বা কারা হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে তা বলতে পারেনি পুলিশ।

এসকে সিনহাকে আদালতে হাজির হতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের

ঢাকা অফিস \ দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাসহ ১১ জনকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগরের বিশেষ সিনিয়র জজ কে এম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন। আদালত বলছে, এর আগে ৫ জানুয়ারি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আজ ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তামিল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। পুলিশ প্রতিবেদনে আদালতকে জানায়, এস কে সিনহাসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরে আদালত ওই প্রতিবেদন দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন ও মামলার শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে আগামী ২০ ফেব্র“য়ারি। দুদকের করা মামলায় আসামিরা হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীম, ব্যাংকটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ক্রেডিট প্রধান গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. জিয়া উদ্দিন আহমেদ, গুলশান শাখার ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎফুল হক, এস কে সিনহার কথিত পিএস রণজিৎ চন্দ্র সাহা, রঞ্জিতের স্ত্রী সান্ত্রী রায় (সিমি), টাঙ্গাইলের মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা।

তাবিথের ওপর হামলার ঘটনা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত – কাদের  

ঢাকা অফিস \ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার ঘটনা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। পাশাপাশি এরকম হামলার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকেও নজর দিতে হবে। তিনি গতকাল বুধবার সকালে লিংরোড-লবণী পয়েন্ট চারলেন সড়কের কাজ পরিদর্শন শেষে এ মন্তব্য করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুকে সরকার খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছে বিষয়টি উল্লেখ সেতুমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে উদ্যোগ নেয়া হবে। সেই লক্ষ্যে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে চাপ অব্যাহত রাখছে সরকার। বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সম্পাদক বলেন, রাজনীতির মাঠে এখন নালিশ পার্টির উপাধি পেয়েছে বিএনপি। তারা শুধু বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করছে। জনসমর্থন হারিয়ে তারা এখন দেউলিয়া হয়েছে। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উলøাহ রফিক, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ কানিজ ফাতেমা আহমেদ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো¯Íাক আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মো¯Íফা, সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান প্রমুখ। পরিদর্শন শেষে ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতিতে প্রয়াত সামরিক কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব জয়নাল আবেদীনের চেহলামে যোগ দিতে রওয়ানা দেন। সেখান থেকে ফিরে বিকেলে চকরিয়া সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তিনি।

কুষ্টিয়াতে আন্তঃবিদ্যালয় বিজ্ঞান মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণকালে ড. সেলিম তোহা

উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেছেন, ২০৪১ সালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার মানুষ গড়তে আমাদের দক্ষ প্রযুক্তি সম্পন্ন মানব সম্পদ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় বিজ্ঞান পড়তে ছাত্র-ছাত্রীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। যা আমাদের দুর্ভাগের বিষয়। ড. তোহা বলেন, আমি মনেকরি আজকের এই বিজ্ঞান মেলার গুরুত্ব অনেক। এ মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হবে এবং তারা বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হবে। এজন্য ফেয়ারকে জানাই ধন্যবাদ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে অবশ্যয় তোমরা প্রযুক্তির ব্যবহার করবে, তবে কোন অবস্থাতেই প্রযুক্তির অপব্যবহার করবেনা। তিনি বলেন, তোমরা বিজ্ঞান শিক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধের চর্চা করে জীবনবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে এই প্রত্যাশা করি। গতকাল বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া সিরাজুল হক মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে কুষ্টিয়া ফেয়ারের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দিনব্যাপী আন্তঃবিদ্যালয় বিজ্ঞান মেলা ২০২০ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. সেলিম তোহা এসব কথা বলেন। ফেয়ার’র চেয়ারম্যান সামসুন নাহার সিমু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জায়েদুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটার অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী। ফাতেমাতুর জোহুরা সানভী’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা হিউম্যান ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাসনিম হাসান হাই,  ফেয়ারের প্রধান উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম, মেলা আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও চাঁদ সুলতানা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিরা নাসরিন, কুষ্টিয়া কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেব-উন-নিসা সবুজ এবং কুষ্টিয়া রনজিতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেয়ার পরিচালক দেওয়ান আখতারুজ্জামান। এর আগে সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিনব্যাপী এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান আতা। এ মেলায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৩০টি স্কুলের বিজ্ঞান ক্লাব অংশগ্রহণ করে। আলোচনাসভা শেষে অতিথিবৃন্দ শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান ক্লাব, ষ্টল, বিজ্ঞান প্রজেক্ট, কুইজ ও দেয়াল পত্রিকা মোট ৫ ক্যাটাগরীতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

কুষ্টিয়ায় জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যান্সার সনাক্তকরন বিষয়ক সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ \ ”ছেলে হোক ,মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে  গতকাল বেলা ১০টায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যলয় কুষ্টিয়া সদরের উদ্দ্যোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, দহকুলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্র, আলামপুর ইউনিয়নে জরায়ু মুখ ও ¯Íন ক্যান্সার সনাক্তকরন বিষয়ক সচেতনতা ক্যাম্পেন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে চিকিৎসা বিহীন ভাবে আর কোনো মায়ের জাতি যেন এই  সম¯Í ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা না যায়, সেদিকে আমাদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে । অন্যান্যের  মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা: নওয়াব আলী, এসিটেন্ট মেডিকেল অফিসার ডা: ফেরদৌসী সুলতানা, মো: আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস, মো: মিরাজ উদ্দিন শেখ, আব্দুল হান্নান প্রমুখ। উপস্থাপনা করেন পরিবার পরিকল্পনা অফিসার  মো: ওমর ফারুক। অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও  সাধারন মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর – সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস \ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবে সঠিক বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে সুবিচার নিশ্চিত করা এবং বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৩ (স›দ্বীপ) আসনের এমপি মাহফুজুর রহমানের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য সরকার যথাযথ আইন সংস্কার ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। শোষণ-বঞ্চনামুক্ত ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও সুবিচার নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আধুনিক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মাঝে উপলব্ধি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যে- সব নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং কোনো অপরাধী অপরাধ করে পার পাবে না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ৭৫এর পরবর্তী সময়ে এদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় সংসদে তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ যাবৎ ৪৪টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ৯টি মামলার চূড়ান্ত রায় হয়েছে। ৬টি মামলায় আসামিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২টি মামলা আসামিদের মৃত্যুজনিত কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করা হয়েছে। একটি মামলায় আসামির আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে মাদক সমস্যা সমাজে একটি বিষফোড়া। আমাদের সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বর্তমানে আমরা নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধ বিচারের লক্ষ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছরের বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র সংক্রান্ত মামলা, সিলেটে চাঞ্চল্যকর জোড়া শিশু হত্যা মামলা, নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের মামলা এবং জাপানি নাগরিক কুনিও হোশির হত্যা মামলাসহ চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার শেষ হয়েছে। ‘দল-মত নির্বিশেষে সন্ত্রাসী ওয়ারেন্টভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেফতার করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যসহ সব ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধার করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ ‘কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠী বা দল যাতে গুজব বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করবে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে না পারে সে লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’ ‘সড়ক মহাসড়কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার, চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি রোধকল্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিক যথাক্রমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ সন্ত্রাসী কর্মকাÐের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধী শনাক্ত ও তাদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

‘ই-পাসপোর্ট কর্মসূচি এবং স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ই-পাসপোর্ট জাতির জন্য ‘মুজিব বর্ষের’ উপহার 

ঢাকা অফিস \ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কর্মসূচি এবং স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন করে বলেছেন, এটা (ই-পাসপোর্ট) জাতির জন্য ‘মুজিব বর্ষে’ একটি উপহার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুজিব বর্ষে দেশের জনগণের হাতে ই-পাসপোর্ট তুলে দিচ্ছি। এটি একটি বিশেষ বছর এবং ঘটনাক্রমে জাতি এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছে।’ তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে যে কোন দেশে প্রবেশ এবং বহির্গমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী নাগরিকের ঝামেলামুক্ত চলাচল নিশ্চিত হবে এবং ই-গেটের সর্বাধিক সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ই-পাসপোর্ট কর্মসূচি এবং স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এবং বিশ্বে ১১৯ তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ই-পাসপোর্ট এবং স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা সন্দেহাতীতভাবে ডিজিটাল বিশ্বে বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদা আরো সমুন্নত করবে এবং বাংলাদেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ই-পাসপোর্টে এমবেডেড ইলেকট্রনিক মাইক্রো প্রসেসর চিপ থাকবে। যেখানে পাসপোর্ট গ্রহিতার সকল তথ্য, স্বাক্ষর, ছবি, চোখের কর্ণিয়া এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট সিল্ড অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘অতীতে একটা সমস্যা ছিল পাসপোর্ট নিয়ে। একসময় গলাকাটা পাসপোর্টও দেশে প্রচলিত ছিল, সেটা আর কখনো হবে না। মানুষ আর ধোঁকায় পড়বে না। স্বচ্ছতার সাথে চলবে’,বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোল্টস অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বহির্গমন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো.শহিদুজ্জামান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তাঁর ই-পাসপোর্টটি হ¯Íান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ই-পাসপোর্ট ভবনের ফলক উন্মোচন করেন এবং এনরোলমেন্ট বুথ পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা প্রবর্তন বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্র্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি আধুনিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং ইমিগ্রেশন পদ্ধতি সহজীকরণ করবে বলে গত মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট’কে (এমআরপি) আরও অধিকতর নিরাপত্তা সম্বলিত করার জন্য ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট এবং অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বা¯Íবায়ন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।’ তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের আওতাধীন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএমবিএইচ কর্তৃক ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বা¯Íবায়ন করছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫শ ৬৯ কোটি টাকা। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ থেকে ১০ বছর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ডিআইপি তাদের আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ি এবং উত্তরা কার্যালয় থেকে এই পাসপোর্ট ইস্যু করবে। পর্যায়ক্রমে এ বছর থেকেই দেশের সবখান থেকে এই পাসপোর্ট ইস্যু করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম এই পাসপোর্ট লাভ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রয়োজনে ২৫ হাজার পাসপোর্ট ইস্যু করা সম্ভব হবে। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য মতে, ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৩,৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫,৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭,৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫,০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭,০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯,০০০ টাকা। নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরিতে ৩ দিনে, জরুরিতে ৭ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়দোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতীব জরুরি পাসপোর্ট ২ দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে। আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার। ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই সংশ্লিষ্ট তথ্য হিসেবে উল্লেখ করতে হবে। উল্লেখ্য, ই-পাসপোর্ট চালু হলে সমগ্র ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াটি অন-লাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরই তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ‘সেই নির্বাচনী ইশতেহারেই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। কারণ কম্পিউটার শিক্ষা বা ডিজিটাল ডিভাইস যেন বাংলাদেশের মানুষ ব্যবহার করতে পারে। ’৯৬ সালে কিছু উদ্যোগ নিলেও তা সম্পূর্ণ করে যেতে পারিনি তাই ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসেই সেই উদ্যোগটা নেই।’ ‘দেশের স্কুল, কলেজ, অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত-সকল ক্ষেত্রেই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি, কম্পিউটার-ল্যাপটপ জনগণের কাছে সহজলভ্য করার জন্য এসব যন্ত্রাংশ থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করি। যার সুফল আজকে আমরা পাচ্ছি। দেশে একটা ডিজিটাল বিপ্লব সাধিত হয়েছে, ’বলেন তিনি। ইন্টারনেটের জন্য সাড়ে ৩ হাজার ইউনিয়নে সাবমেরিন কেবল সুবিধা পৌঁছে দেয়া, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে জনগণকে পরিচয় করিয়ে দেয়ায় তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। স্বল্পতম সময়ে ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ গ্রহণে এবং এরআগে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু করায় ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একেকবার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছি এবং সেটা যে তারা কার্যকর করতে পারছেন এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ ‘বাংলাদেশকে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্য’ নিয়ে তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ই-পাসপোর্ট প্রসংগে বলেন, ‘একটি আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন পদ্ধতি আমরা গ্রহণ করেছি। যার সুযোগটা দেশের মানুষ পাবে।’ তিনি বলেন, বিশ্বে ১১৯ তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে আমরা সেটা চালু করতে পেরেছি এবং আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। ফরেন রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নে কাজে লাগায় সেই প্রবাসীদের দেশ-বিদেশে যাতায়াত সহজীকরণের লক্ষ্যে তাঁর সরকারের এই উদ্যোগ একথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে ৬৪টি জেলায় ৬৯টি পাসপোর্ট অফিস, ৩৩টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, বিদেশে অবস্থিত ৭৫টি বাংলাদেশ মিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন সেবাকে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি।’ তিনি বলেন,উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন সেবাকে যুগোপযোপী করতে ই-পাসপোর্ট প্রদান করতে যাচ্ছি। যাতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা আর হয়রানির শিকার না হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ই-পাসপোর্টের সঙ্গে ই- গেটও সংযোজিত হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট ও ই-গেট সংযোজিত হলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সেবা সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।’ জনসেবাকে ত্বরান্বিত করতে তাঁর সরকার পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল বৃদ্ধিসহ যুগের সংগে তাল মেলাতে এর আধুনিকায়নে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পেরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাতেই তাঁর সরকার দেশের উন্নয়ন করতে পেরেছে এবং ২০২০ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের সুযোগ পেয়েছে। যার ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জণগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তাঁরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, বিশ্বাস রেখেছেন, ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাঁদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্ব¯Í সদ্য স্বাধীন দেশকে পুনর্গঠনে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণকালে ১৯৭৩ সালে তিনি পূর্নাঙ্গ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর জাতির ভাগ্যাকাশে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থেমে গিয়ে হত্যা ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়, বলেন তিনি। তাঁর সরকার প্রতিশ্র“ত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারায় বর্তমানে জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ ভাগে উন্নীত হয়েছে এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে।’ দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং একে আরো কমিয়ে এনে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্য বা¯Íবায়নেই তাঁর সরকারের সকল কর্মসূচি আবর্তিত হচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, সকল উন্নয়ন কাজের সময় আমরা একটা বিষয় মাথায় রাখি, এর সুফল যেন একেবারে গ্রামের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছায়। তিনি সরকারের এসডিজি বা¯Íবায়নের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, ‘জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য যা যা প্রযোজ্য সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমরা বা¯Íবায়নেও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেইসাথে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কিভাবে এগিয়ে যাবে সে পদক্ষেপও তাঁর সরকার নিয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এবং ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত গৃহীত প্রেক্ষিত পরিকল্পনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বা¯Íবায়নের উদ্যোগ ও তুলে ধরেন তিনি। ‘যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এইসব পরিকল্পনা যুগোপযোগীকরণ করতে হবে’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি লক্ষ্য স্থির করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই পরিকল্পনা মাফিক তাঁর সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।’

কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতি চত্বরে ইউলার লাইভ পিঠা উৎসব

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়া জেলার আইনাঙ্গন, জেলা আইনজীবী সমিতি চত্বর গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী মেতে উঠেছিল আনন্দ উৎসবে। সকাল থেকেই কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী চত্বর সেজেছিল নবরুপে, স্পটে তৈরী হচ্ছে হরেক রকমের পিঠা,  পিঠার সেই মৌ মৌ গন্ধে সর্বস্তরের আইনজীবীরা  মেতে উঠেছিলো পিঠা উৎসবের আনন্দ আয়োজনে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ‘ল’ এল্যামনাই এসোসিয়েশন (ইউলা) এর আয়োজনে মঙ্গলবার দিনব্যাপী লাইভ পিঠা উৎসবের  উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী। পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সবচেয়ে সিনিয়র আইনজীবী এনামুল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক এড. শেখ মো: আবু সাঈদ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল’ এল্যামনাই এসোসিয়েশন (ইউলা) এর দায়িত্বে থাকা সিনিয়র এডভোকেট ও অতিরিক্ত পিপি এড. সামস তানিম মুক্তি, এড. হাফিজুল ইসলাম মুনির, এড. রেজাউল করিম, এড. শাতিল মাহমুদ, এডভোকেট ও অতিরিক্ত পিপি নিজাম উদ্দিন, এড. আল মুজাহিদ হোসেন মিঠুসহ ইউলার সদস্যরা  ব্যাস্ত  সময় পার করেছেন সর্বস্তরের আইনজীবীদের ফ্রি পিঠা আপ্যায়নে। প্রথম বারের মত জেলা আইনজীব সমিতি চত্বরে আয়োজিত পিঠা উৎসব, আমার কাছে খুব ভালো লাগছে, এ উৎসবে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত, আইনজীবী দের উৎসবে সবার সঙ্গে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। পিঠা  খেতে খেতে বলছিলেন সমিতির সবচেয়ে সিনিয়র আইনজীবী এনামুল হক। আনিজীবীদের তিনি নিয়মিত এমন আনন্দ আয়োজনের আহবান জানান। আয়োজক কমিটির অন্যতম একজন এড. সামস তানিম মুক্তি বলেন আজকের পিঠা উৎসবে সর্বস্তরের আইনজীবীদের উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রানিত করেছে, সকল আইনজীবীদের  পিঠা খাওয়াতে  পেরে আমরা আনন্দিত, প্রতি বছর এমন উৎসব আয়োজন করবেন বলেও তিনি জানান। পিঠা উৎসবের  ভাপা, চিতই, পাকান, কুলশি পিঠা, দুধপুলি,  ঝাল পিঠা, নারকেল পিঠা,  কালাই রুটি হরেক রকমের ভর্তাসহ পিঠা খেতে খেতে সিনিয়র আইনজীবী মঞ্জুরী বেগম বলছিলেন আজ  বেগম সুফিয়া কামালকে মনে পড়ছে- পৌষ মাসের পিঠা খেতে বসে, খুশিতে বিষম খেয়ে/আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে, মায়ের বকুনি পেয়ে। বড়দের কথাই বলা হলো। নতুনরা, নতুন প্রজন্ম! না, অমৃতের স্বাদ তাদের জিহŸায়। অজস্র তৃপ্তি তাদের। আকাশছোঁয়া আনন্দ। আনিজীবীদের এই উল্লাস বহাল থাকুক। পৌষ পার্বণ জ্বলজ্বল করুক সবার অন্তরে।

কুমারখালীতে উন্মুক্তভাবে ভাতাভোগী বাছাই সম্পন্ন

কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালী বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এই ভাতাভোগী বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ সময় কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান খান, সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও পৌরসভার মেয়র মো. সামছুজ্জামান অরুণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী, উপজেলা প্রকল্প বা¯Íবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নওশের আলী বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্তভাবে ভাতাভোগী বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান জানান, বয়স্ক, বিধবাসহ স্বামী পরিত্যাক্তা দু:স্থ মহিলা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী বাছাইয়ের লক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে তাদেরকে আসতে বলা হয়েছে। ভাতাভোগী বাছাইয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মানুযায়ী আগতদের ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে উপযুক্ত ভাতাভোগীদের বাছাই করে নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, নন্দলালপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে ৮৭ জন বয়স্ক, ৬৩ জন বিধবা ও ১৬৯ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী বাছাই করা হয়েছে।

তাবিথের উপর হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে – ইসি

ঢাকা অফিস \ গাবতলীতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হামলার ঘটনার পর বিকালে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব মো. আলমগীর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে ইসির ৫৮তম  বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। জ্যেষ্ঠ সচিব আলমগীর বলেন, “প্রচারে হামলার বিষয়ে কমিশনের কাছে বিএনপি অভিযোগ করেছে। কমিশন বিষয়টি শুনেছে এবং তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্যে রিটার্নিং অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” ধানের শীষের প্রার্থী তাবিথ অভিযোগ করেছেন, বেলা পৌনে ১২টার দিকে গাবতলীর পর্বতার কলাবাজার এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগে নামলে পুলিশের উপস্থিতিতে তার উপর হামলা হয়। হামলার জন্য ঢাকা উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ঠেলাগাড়ি প্রতীকের মুজিব সারোয়ার মাসুমের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেছেন তাবিথ। গাবতলীতে মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারে হামলা চালায় একদল যুবক। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক বলে বিএনপির অভিযোগ। গাবতলীতে মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারে হামলা চালায় একদল যুবক। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক বলে বিএনপির অভিযোগ। এদিকে দারুস সালাম থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, “ওইখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। দুইপক্ষ মিছিল করার সময় হাল্কা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে দুই পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” বিকাল ৪টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বেরোনোর সময় ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেছিলেন, “বিএনপি মেয়র প্রার্থীর প্রচারে হামলার বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি।” তাবিথ ইসিতে অভিযোগ দেবেন জানালেও নির্বাচন পরিচালনাকারী এই সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “তারা বলবেন, প্রমাণ আনেন, ফুটেজ আনেন। কিন্তু সব জমা দেওয়ার পরেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলেই পরিস্থিতি আবার অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে।” বেলা ১১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম-৮ আসনে পুনর্নির্বাচন ও ঢাকার দুই ভাগে ইভিএম ব্যবহারের বন্ধের দাবি জানিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন তারা ঢাকায় তাদের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের প্রচারে হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেছিলেন। বিএনপির দাবির বিষয়ে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি প্রতিনিধিরা কিছু অভিযোগ করেছেন। কমিশন  ধৈর্যের সঙ্গে শুনেছে। কমিশন বলেছে, ভোটের গেজেট হয়ে গেলে তা কমিশনের হাতে থাকে না, এ বিষয়ে (চট্টগ্রাম উপনির্বাচন) আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।” ঢাকার দুই সিটির ভোট ইভিএমে করার সিদ্ধান্ত থেকেও ইসি পিছু হটছে না। আলমগীর বলেন, “ব্যালেটে ভোট হওয়ার সুযোগ নেই। ইভিএমের প্রতি কেন্দ্রে কারিগরি সহায়তার জন্য সেনাসদস্য থাকবে।” দুই সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে রাখা হবে না বলেও জানান তিনি।