যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সন্ত্রাস, দুর্নীতিতে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না

ঢাকা অফিস ॥ যুবকদের বিশেষ করে নেতা-কর্মীদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, অনিয়মকারীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিন-রাত দেশের মানুষের জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছি। চলার পথে কেউ যদি বিপথে যায় এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিতে জড়ায়, সে যেই হোক আমি তাদের ছাড়ব না। তাদের প্রতি আমার কোন সহানুভূতি থাকবে না। শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, এই দেশ জাতির পিতা শুধু স্বাধীন করেই যান নাই। এর আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি বুকের রক্তও দিয়ে গেছেন। সেকথা সবাইকে স্মরণ রাখার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই দেশ কখনো ব্যর্থ হতে পারে না, এদেশকে আমরা সফল করে তুলেছি এবং সেই সফলতার পতাকা নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাব এবং একদিন স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে যে মর্যাদা পেয়েছিল সেই মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরন করবো।’ এদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেজন্য তাঁর সরকার শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। আদর্শের মধ্যদিয়েই একটি সংগঠন যেমন গড়ে ওঠে তেমনি দেশকেও কিছু দেওয়া যায়। সেই কথাটাই সবসময় মাথায় রাখতে হবে।’ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক চয়ন ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ এবং সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন শোক প্রস্তাব পাঠ করেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদ, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ সকল গণআন্দোলনের শহীদ এবং ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেস থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শাহাদৎ বরণকারী নেতা-কর্মীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সারারদশের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা থেকে ২৮ হাজারেরও বেশি কাউন্সিলর যুবলীগের এই ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। বিকালে তাঁরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতা নির্বাচন করবেন। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের ৬ষ্ট জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী যুবলীগ বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন যা ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর জাতির পিতার নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হত্যাকা-ের শিকার বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে দৈনিক বাংলার বাণী সম্পাদক শেখ ফজলুল হক মনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যুবলীগ সংগঠনের যেন কোনরকম বদনাম না হয়। তাঁরা যেন সম্মান নিয়ে চলতে পারে এবং আদর্শ নিয়ে চলে দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই সংগঠনটাকে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, এই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে। কোন উড়ে এসে জুড়ে বসা এবং ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগীদের মাধ্যমে এই সংগঠন গড়ে ওঠে নাই। তিনি বলেন, ‘এ সংগঠন গড়ে উঠেছে নির্যাতিত, শোষিত, বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করবার লক্ষ্য নিয়ে। সেই সাথে সাথে আওয়ামী লীগের প্রতিটি সহযোগী সংগঠনও এদেশের মানুষের কল্যাণ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই গড়ে তোলা হয়েছে।’ ‘সেই আদর্শ থেকে কখনও যদি কেউ বিচ্যুত হয়ে যায় তাহলে সেদেশকে কিছু দিতে পারে না। ’৭৫ এর ১৫ আগষ্টের পর ক্ষমতা দখলকারীরাও মানুষের কল্যাণে কিছু করতে পারে নি। তারা নিজস্ব বিত্তবৈভব অর্জনে ব্যস্ত থেকেছে’, যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা এদেশকে স্বাধীন করে গেছেন কাজেই কারো কাছে হাত পেতে চলবো না, মাথা উঁচু করে চলবো। কারো কাছে ধার করে ঘি খাবো না, নিজেদের নূন ভাত খাবো তাও ভাল কিন্তু নিজেদের অর্থায়নে নিজেরা চলবো, মর্যাদা নিয়ে চলবো।’ ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণে কতটুকু কাজ করতে পারলাম সেই মনভাব নিয়েই সকলকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে আমরা যদি সংগঠন গড়তে পারি তাহলে এই বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেভাবেই এগিয়ে যাবে।’ আর যেন কেউ বাংলাদেশের মানুষের ওপর শোষণ, অত্যাচার, নির্যাতন করতে না পারে। তৃণমূল পর্যায় থেকে যেন মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি হয়, সেই জন্য একেবারে গ্রামের মাঠ পর্যায় থেকে তাঁর সরকার সকল আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কাজ করে অনেকে টাকা বানাতে পারে। এই টাকা দিয়ে হয়তো জৌলুস করতে পারে, চাকচিক্য বাড়াতে পারে, আন্তর্জাতিক বড় বড় ব্র্যান্ডের জিনিস পরতে পারে, কিন্তু তাতে সম্মান পাওয়া যায় না।’ তিনি বলেন,‘ এতে হয়তো নিজের ভোগের ভেতর দিয়ে একটা আত্মতুষ্টি পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু দেশের মানুষের কাছে মর্যাদা পাওয়া যায় না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।’ দেশ গড়ার জন্য যুব সমাজের মেধা ও মননকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীকে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীমূলক লেখা ‘কারাগারের রোজ নামচা’ এবং ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ মনোযোগ দিয়ে পাঠ করে লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে ওঠে কীভাবে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করা যায়, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কী করতে পারলাম সেই চিন্তা যাদের মাথায় থাকে তারা রাজনীতিতে সফল হতে পারেন।’ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুব সমাজকে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা নিয়ে তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের যুবশক্তিই পারে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে দিতে। সে জন্য যুব সমাজের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে রাজপথে শহিদ নূর হোসেন, বাবুল, ফাত্তাহ এবং শুক্রাবাদের মিলনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘প্রত্যেকটি আন্দোলন-সংগ্রামে আমি দেখেছি যুবলীগ অগ্রণী ভ’মিকা নিয়েছে। আবার মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই যুবকরাই জাতির পিতার আহবানে সাড়া দিয়ে অস্ত্র তুলে নিয়ে নিজের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।’ তিনি বলেন,‘কাজেই সেই যুবসমাজকে আমরা চাই একটা আদর্শ হিসেবে। নিজেদের তাঁরা গড়ে তুলবে।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিগত প্রায় ১০ বছরে বাংলাদেশে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের ওপরে অনেকে বদনাম দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি কারণ সততার শক্তি হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।’ তিনি এ সময় নাম উল্লেখ না করে ড.ইউনুস এবং সংশ্লিদের পদ্মা সেতুর বিদেশি সাহায্য বন্ধের চক্রান্তের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের দেশেরই কিছু স্বনামধন্য লোক যাদের একসময় ব্যবসা দিয়ে ফুলে ফেঁপে উঠতে আমিই সাহায্য করেছি। তারা সে সময় আন্তর্জাতিক সম্মাননা নিয়ে আসলো অথচ দেখা গেল বয়স হয়েছে কিন্তু একটা ব্যাংকের এমডি’র পদ ছাড়তে পারে না।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এদিকে নোবেল প্রাইজ পায় কিন্তু একটি ব্যাংকের এমডি’র পদ ছাড়ে না।’ তিনি বলেন, ‘সেই পদ কেন বয়সের কারণে ছাড়তে হলো সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পদ্মা সেতু বন্ধে আমেরিকা গিয়ে ধর্ণা দিল এবং তারা আমাদের ওপর দোষ দিল দুর্ণীতির।’ প্রধানমন্ত্রী সে সময় চ্যালেঞ্জ নিলে ওয়াল্ড ব্যাংক দুর্ণীতি প্রমানে ব্যর্থ হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘তারা যখন দুর্ণীতি খুঁজতে গেছে তখন খালেদা জিয়া তারেক রহমান এবং কোকো’র দুর্ণীতিই বেরিয়েছে, আরো অনেকেরটা বেরিয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের কোন দুর্ণীতি পায়নি। বরং আমাদের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা নিজন্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে যাচ্ছি।’ দক্ষিণ আফ্্িরকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকার ঘটনার সাদৃশ্য খুঁজে বেড়ানো বিএনপি নেতৃবৃন্দের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যিনি বিএনপি নেত্রী, যিনি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেন, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে। তার তুলনা করে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে। তার তুলনা করে কার সঙ্গে? আমি তো মনে করি, এটা করে নেলসন ম্যান্ডেলাকে অপমান করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘নেলসন ম্যান্ডেলা তার জাতির স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে কারাগারে ছিলেন। দুর্নীতি করে কারাগারে যাননি।’ খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময়ে তাঁকে হত্যার প্রচেষ্টায় আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেনেড হামলা করে হত্যা এবং একাধিকবার হত্যা প্রচেষ্টার ও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ আমরা যে মহাজোট গড়ে তুলি, আমরা বিপুল ভোটে জয় লাভ করি। সে সময় বিএনপি জামায়াত জোট, তারা কী পেয়েছিল? তারা মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘২০০৮-এর নির্বাচন নিয়ে তো কেউ কথা বলেনি। বিএনপি যদি এতই জনপ্রিয় সংগঠন হয়ে থাকতো, তাহলে মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল কেন? তারা মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল এ কথাটা অনেকে ভুলে যায়।’

শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ – রাষ্ট্রপতি

ঢাকা অফিস ॥ গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ উচ্চশিক্ষা যাতে কোনোভাবেই সার্টিফিকেটসর্বস্ব না হয় সেদিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ত্রয়োদশ সমাবর্তনে এ আহ্বান জানান জানান। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, যুগের চাহিদাকে ধারণ করে বর্তমানে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারি বেসরকারি মিলে বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৮টি। এ ছাড়াও তিনটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। “বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা। কারণ গুণগত শিক্ষা ছাড়া শিক্ষা মূল্যহীন। তাই উচ্চশিক্ষা যাতে কোনক্রমেই সার্টিফিকেটসর্বস্ব না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।” সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “শুধু পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়নে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না। পাঠ্যবিষয়ের সাথে সাথে বহির্জগতের জ্ঞানভাইমবার হতে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। নিজেকে কর্মী ও জ্ঞানী করে তোলাই হবে তোমাদের মূল লক্ষ্য। তোমাদের উচিত ত্যাগ ও সত্যের অভিমুখী হওয়া। সেই সাথে হতে হবে সুস্থ ও সবল মনের অধিকারী। উচ্চ চিন্তা ও সহজ জীবনাচরণ তোমাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।” শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আপনারা উন্নত জাতি তৈরির মহান কারিগর। আপনাদের হতে হবে নৈতিকভাবে বলিষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী। আপনাদের হতে হবে নিরপেক্ষ, অকুতোভয়, সত্যবাদী।” “অভিভাবকবৃন্দের প্রতি অনুরোধ, আপনারা আপনাদের সন্তানদের প্রতি যতœশীল হোন। এই সন্তানরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। সবসময় মনে রাখবেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতাকামী জনগণ প্রাণের বাজি রেখে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছে। ত্যাগের এই অগ্নিশিখা নিজেদের মাঝে প্রজ্জ্বলিত রাখতে হবে। আমাদের রয়েছে গর্ব করার মতো ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এই গর্বের গাথা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য।” উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “জাতির উন্নয়ন, উন্নত সমাজ গঠন ও বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সচেতন। দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। “ইতিমধ্যে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে মাথায় রেখে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ন্যানো টেকনোলোজি, রোবটিক্স, যমঠক চেইন ম্যানেজমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সরকার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে।” অনুষ্ঠানে কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষা জীবন শেষ করার জন্য চারজন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্ত ছিলেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন তামারা হোসেন আবেদ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ভিনসেন্ট চ্যাং।

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মোকামে নজরদারী গোয়েন্দা পুলিশের

দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থা

কুষ্টিয়া জেলার ৪৬ অটো মিল মালিকের কব্জায় চালের বাজার

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সারা দেশের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে কুষ্টিয়া জেলার ৪৬ অটো চালকল মালিক। প্রতি বছর এ সিন্ডিকেট নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়ে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থা আর নানা সুযোগে তারা চালের বাজারকে অস্থির করে তুলছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে কুষ্টিয়া মোকামে সব ধরনের চালে কেজিতে এক টাকা বেড়েছে। আড়তে চাল সংকট দেখিয়ে অনেক মিল মালিক দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অথচ কুষ্টিয়া মোকামে গত এক সপ্তাহে ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল মজুদ আছে বলে তথ্য রয়েছে মিল মালিক ও জেলা প্রশাসনের কাছে। তারপরও দাম বাড়ানোর বিষয়টি পুরোপুরি অযৌক্তিক বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধানের দাম বৃদ্ধি ও মোকামে চাল সংকটের অজুহাতে নতুন করে সব ধরনের চালে কেজিতে এক টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে মিল মালিকরা। অথচ ধানের দাম গত এক সপ্তাহে নতুন করে বাড়েনি বলে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। নতুন ধান ওঠায় কোন কোন জাতের ধানের দাম কমেছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট চলায় কুষ্টিয়া মোকাম থেকে চাল সরবরাহ নিন্ম পর্যায়ে চলে আসে। এই কারনে অটো ও হাসকিং চালকলগুলোতে প্রচুর চাল জমে যায়। যার পরিমান ১০ হাজার টনের বেশি। এ চাল শুক্রবার থেকে সরবরাহ শুরু হয়েছে দেশের বড় বড় আড়তে।

এই যখন অবস্থা ঠিক সেই সময় চালের দাম মোকামে অর্থাৎ মিল গেটে এক টাকা বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে ভোক্তাকে আরো তিন টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হবে।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারের সব থেকে বড় খুচরা ও পাইকারি চালের ব্যবসায়ী শাপলা ট্রেডার্সের মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, চালের বাজার কয়েকদিন ধরে স্থিতিশীল ছিল। নতুন করে আজ (শনিবার) সকাল থেকে মিল গেটে ফের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ১ টাকা করে। তিনি বলেন, মিলের লোক এসেছিল। নতুন দাম নির্ধারন করে লিখে দিয়ে গেছে। নতুন করে মিনিকেট ১ টাকা বেড়ে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ২ হাজার ৩০০ টাকা, বাসমতি ১ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা, কাজললতা ১ হাজার ৮৫০ টাকা, আঠাশ ১ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই চাল গত কয়েকদিন ধরে মিনিকেট মিলগেটে ৪৫ টাকা, বাসমতি ৪৯ টাকা, কাজললতা ৩৬ টাকা ও আঠাশ ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল। কোন কোন চালে দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

জেলায় অটো চালকলের সংখ্যা বর্তমানে ৪৬টি। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৪৩টি, দৌলতপুরে ২টি ও কুমারখালীতে ১টি। কুষ্টিয়ায় সদর উপজেলাতে দেশের বড় মোকামগুলোর অবস্থান। এছাড়া দৌলতপুরেও প্রচুর চাল উৎপাদন হয় দুটি মিল থেকে।

হাসকিং মিল মালিকদের অভিযোগ চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ অটো মিল মালিকদের হাতে। তারা দাম বাড়িয়ে দিলে বাজারে দাম  বেড়ে যায়। নতুন ধান ওঠার এ সময় চালের দাম বাড়ার নজির সাধারনত নেই। তারপরও দাম বেড়ে যাচ্ছে কেন তা অটো মিল মালিকরা বলতে পারবেন।

লিয়াকত রাইস মিলের মালিক লিয়াকত হোসেন বলেন,‘ হাসকিং মিল মালিকদের হাতে চালের ব্যবসা নেই। অটো মিল মালিকরা সব চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কোটি কোটি টাকা মুনাফা করছে। অথচ হাসকিং মিল মালিকরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, দেউলিয়া হয়ে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। এখন নতুন ধান উঠছে, তাতে বাজার বাড়ার কথা না।’

কয়েক বছর আগে দেশের বাজারে চালের বাজার অনেক বেড়ে যায়। সে সময় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ ওঠে কুষ্টিয়ার রশিদ এগ্রো ফুডসহ জেলার অটো চালকল মালিকদের বিরুদ্ধে। সে সময় অভিযান চালিয়ে রশিদের গোডাউনে প্রচুর ধান ও চালের মজুদ পাওয়া যায়। এছাড়া অন্য কয়েকটি মিলেও প্রচুর ধান ও চাল মজুদের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে।

রশিদ এক সময় বিএনপি করলেও এখন আওয়ামী লীগের লোক। দলে যোগ দিয়েছেন। এ কারনে তার মিলে মনিটরিং চালাতে ভয় পান প্রশাসনের লোকজন। রশিদ ছাড়াও আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার কজ্বায় রয়েছে চালের বাজার। তারা ইচ্ছামত চালের বাজার বাড়িয়ে দেন। তবে দেশে রশিদ এগ্রোফুড দাম বাড়িয়ে দিলে অন্যরা বাড়িয়ে দেয় এমন নজির রয়েছে। অন্যদের তুলনায় রশিদের চালের দাম বেশি। তার চালের মান ভাল হওয়ায় অন্যদের তুলনায় সব সময় কয়েক টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়।

এবারো আমন মৌসুমে চালের দাম বাড়ার পর জেলা প্রশাসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে জোরদার কোন অভিযান দেখা যায়নি। এর মাঝে জেলা প্রশাসন সব চালকল মালিকদের ডেকে চালের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ করে। তবে মিল মালিকরা দাম না বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও এর মাঝে অনেক মিল মালিক দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না  করার শর্তে একজন অটো মিল মালিক বলেন,‘ সারা দেশে অটো মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা যোগাযোগ করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এবার এ সময়ে ধানের দাম অল্প বেড়েছে। তবে যে দাম বেড়েছে তাতে চালের বাজার প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বাড়ার কথা নয়। জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকের পর অনেকেই দাম বাড়ায়নি। তবে কেউ কেউ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলার ৪৬টি অটো মিলের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ থেকে ১০জন ব্যবসায়ী চালের বাজারে কারসাজি করে। তারা সবার সাথে কথা বলে দাম বাড়িয়ে দেয়। তাই ধান কেনা থেকে শুরু করে মিলে নিয়ে আসা ও চাল তৈরি পর্যন্ত খরচ ও বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চালকল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন,‘ পরিবহন এক সপ্তাহ বন্ধ থাকায় চাল সরবরাহ বন্ধ ছিল। শুক্রবার থেকে ফের পরিবহন শুরু হয়েছে। সারা দেশে চাল যাচ্ছে। মোকামে প্রচুর চাল রয়েছে। নতুন করে দাম বাড়ানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।’

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ সুপার নিজেও এবার চালের বাজারের ওপর নজরদারি শুরু করেছে। সাদা পোশাকে পুলিশের লোকজন মোকামে মনিটরিং করছে।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, নতুন ধান কাটা চলছে। ধান বাজারেও আসতে শুরু করেছে। ধানের বাজার কিছুটা বাড়লেও সহনীয় রয়েছে। আর কৃষকের ঘরে পর্যাপ্ত ধান নেই এখন। ফড়িয়াড়ের মজুদ করা ধান বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর ধানের দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও চালের বাজার সহনীয় পর্যায়ে থাকার কথা। সরকার এ বছর ৬ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কিনবে। এতে কৃষক ন্যায্যেমূল্য পাবে বলে আশা করছি।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আফারাত বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর পুলিশ মাঠে নেমেছিল। লবন গুজবের মাঠে ছিল। এবার চালের বাজারেও মনিটরিং করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে মিলে অভিযান চালানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, মিল মালিকদের ডেকে চালের দাম না বাড়াতে অনুরোধ করা হয়েছি। যৌক্তিক কোন কারণ না থাকলেও তারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অটো মিল মালিকরা এ কাজটি করছে। তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালন করা হবে। মোকামে ধান ওচালের মজুদের বিষয়টি নজরদারিতে আছে। এছাড়া তারা অন্যখানে গোডাউনে কোন মুজদ করেছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আতাউর রহমান আতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা অব্যাহত

সুজন কর্মকার ॥ নব-নির্বাচিত কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়া অব্যাহত রেখেছেন নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ মাঠে শহর আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। সম্মেলন শেষ হবার সাথে সাথে শতশত নেতা-কর্মী আতাউর রহমান আতাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সেই থেকে হাজারো নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। ২২ নভেম্বর শুক্রবার রাত ৮ টায় কুষ্টিয়া শহর ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আতাউর রহমান আতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। কুষ্টিয়া শহর ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম বাদল এবং সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি’র নেতৃত্বে ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ নব-নির্বাচিত কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকেও আতাউর রহমান আতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতার পক্ষ থেকে সকলকে মিষ্টি মুখ করানো হয়। আতাউর রহমান আতা সকলকে দেশ ও জাতির কল্যাণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুঁকে ধারণ করে কাজ করার আহবান জানান। সেই সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহবান জানান।

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির নবনিযুক্ত ট্রেজারারের যোগদান

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির নবনিযুক্ত ট্রেজারার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ও নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল প্রফেসর সুধীর কুমার পাল গতকাল ২১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ট্রেজারার মহোদয়কে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এক সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে ট্রেজারার মহোদয়কে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। বক্তব্যের শুরুতেই ট্রেজারার মহোদয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। অতঃপর নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগদানের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্বদ্যিালয়সমূহের চ্যান্সেলর মহোদয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি বিশ^বিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তালুকদার আব্দুল খালেক ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নব প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় তিনি ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন। ট্রেজারার মহোদয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগত জানিয়ে ও অভিনন্দন জ্ঞাপনের মাধ্যমে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বক্তব্য রাখেন বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. তারাপদ ভৌমিক, সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর ড. মোঃ নওশের আলী মোড়ল, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ শহীদুল ইসলাম প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, শিক্ষকবৃন্দ, প্রক্টর শেখ মারুফুর রহমান, সহকারি প্রক্টর, মোঃ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) জনাব রবীন্দ্রনাথ দত্ত, সহকারি রেজিস্ট্রার কাজী মোঃ আহসানউল্লাহ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে নবাগত ট্রেজারার মহোদয় তাঁর দক্ষতা, সততা, জ্ঞান, বিচক্ষণতা ও বাস্তবমূখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক শৃংখলা সংরক্ষণ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন-সভায় উপস্থিত সকলে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রতিবন্ধী শিশু আহত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় সুমাইয়া খাতুন (৯) নামে এক প্রতিবন্ধী আহত হয়েছে। তাকে দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার হোগবাড়িয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গা চামনাই গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটে। আহত পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলাম (৪৫) ও রোকেয়া খাতুনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নজরুল ইসলাম রোকেয়া খাতুনের ওপর হামলা চালায়। এসময় নজরুল ইসলামের ছোড়া ইটের আঘাতে প্রতিবন্ধী সুমাইয়া খাতুন মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছে সুমাইয়া খাতুনের পরিবার।

সড়ক আইনের বিধি হচ্ছে, সঙ্কট থাকবে না – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিধি হয়ে গেলেই আর কোনো সমস্যা থাকবে না। তাছাড়া আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। নতুন আইনটি সংশোধনের দাবিতে মালিক-শ্রমিকরা তিনদিন বাস চালানো বন্ধ রাখার পর বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। তবে বৃহস্পতিবারও বাস চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, “যান চলাচলে বিঘœ ঘটার আর কোনো কারণ নেই। আইন প্রয়োগে অহেতুক বাড়াবাড়ি হবে না। বাড়াবাড়িটা না হলে সমস্যাও হবে না। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি গাইড করছেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি শিওর করেছেন যে, তারা সঠিকভাবে আইন প্রয়োগে যাবে। “বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা আইনের বিধিমালাও প্রণয়ন করছি। সেটাও আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। পরিস্থিতি এখন আর অস্বাভাবিক হওয়ার কোনো কারণ নেই। সবকিছুই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। ট্রাক ও কভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, তারা জনস্বার্থে ধর্মঘট তুলেছে।” সড়ক আইনের বিধিমালা প্রণয়ন হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আইনটাই সব কিছু নয়, বিধি তৈরি হচ্ছে, প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিধি পেলে আর কোনো সঙ্কট থাকবে না। জেব্রাক্রসিং, সাইন অ্যান্ড সিগনাল এগুলো বিধিতে আছে। মূল বিষয়টা হল শৃঙ্খলা; সড়কে ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। সেটা হচ্ছে আমাদের টার্গেট, আর সেটাই আমোদের ফোকাস।” দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে-বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, “নেতিবাচক রাজনীতির কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা নাজুক অবস্থায় নিপতিত। এখন নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে অনেক মিথ্যা কথা বলতে হয়, সরকারবিরোধী কথাবার্তা বলতে হয়, এগুলো বলার জন্যই বলছে, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করছে।“ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “তারা জানে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, এ জন্য তারা এখন চক্রান্তের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের এখন কাজই হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব সৃষ্টি করা, গুজবের ডাল-পালা ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। এই দলটা সব সময় কোনো একটা ইস্যু খোঁজে আন্দোলন করার জন্য। যখনই যেটা পায় সেটাকে আকড়ে ধরে।” “সব শেষ পরিবহনেও ব্যর্থ হয়ে এখন তারা হতাশ। গুজবের ওপর ভর করে রাজনীতি, বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে গুজব ছাড়ানোর। এর ফলে দিনের পর দিনই কেবল সঙ্কুচিত হচ্ছে তারা।”

 

বিচারের ৬ মাস আগেই যশোর শিক্ষা বোর্ডের রায়

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সদ্য সরকারিকৃত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের দীর্ঘদিন অনুপস্থিত জনিত কারণে অধ্যক্ষ আরিফ আহমেদকে গভর্নিং বডি সাময়িক বরখাস্ত করে। কলেজ কর্র্তৃপক্ষ যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে অধ্যক্ষকে স্থায়ী বরখাস্তের জন্য আপিল এ্যান্ড আর্বিট্রেশন কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। যশোর শিক্ষা বোর্ডে আপিল এন্ড আর্বিট্রেশন কমিটিতে জাল কাগজপত্র দাখিল করে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ এক বছর আগে তার বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। গভর্নিং বডি তার  দাখিলকৃত কাগজপত্র ভূয়া জানিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পত্র  প্রেরণ করে। গত ৬ নভেম্বর আপিল অন্ড আর্বিট্রেশন বোর্ডে তার বিষয়টি বিচারাধীন থাকলেও চার মাস পূর্বে গোপনে যশোর শিক্ষাবোর্ড তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন গভর্নিং বডির সভাপতি এবং তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লিখিতভাবে যশোর শিক্ষা বোর্ডকে জানাই যে, অধ্যক্ষের বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের জন্য তারা লিখিতভাবে বোর্ডে কোন কাগজপত্র দেয়নি। যশোর শিক্ষাবোর্ড বিষয়টি আমলে  না নিয়ে বিচার নিষ্পত্তি হওয়ার ৬ মাস পূর্বেই গোপনে তাকে তার বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করে দেয়। বারবার জাল কাগজ দাখিলকারী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এলাকাবাসী।

ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার

সন্তানরা আরেকবার রাস্তায় নামলে কারও পিঠে চামড়া থাকবে না

ঢাকা অফিস ॥ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষকে হুশিয়ার করে দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। আমাদের সন্তানরা আরেকবার রাস্তায় নামলে পুলিশ, গাড়িচালক মালিক-শ্রমিক কারও পিঠে চামড়া থাকবে না। তাই সাবধান হোন। আইন মেনে চলুন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ডিএমপির ‘ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ ২০১৯’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। নতুন সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে আমাদের যাওয়ার কোনো পথ থাকবে না। এটিই শেষ সুযোগ। এবার আমাদের সন্তানেরা মাঠে নামলে পিঠের চামড়া থাকবে না। কাজেই সবাইকে শৃঙ্খলা মানতে হবে। যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। চালকদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমার আপনার কারণে এমন একজন মারা গেল, যে পরিবারে দুজন শিশু রয়েছে। তাদের খাবার দেয়ার কেউ নেই। আমরা সবকিছু আলোচনা করে সমাধান করতে পারব। কিন্তু একজন সন্তানের চোখের পানির দাম কেউ দিতে পারব না। অরাজক পরিস্থিতি আর কতদিন মানবেন? এ অরাজকতার কারণে অনেক চালক এভাবে চলে গেছেন। তাদের পরিবারেও কেউ না কেউ আছে। কেউ তাদের খোঁজ নিয়েছেন? তাদের মা, স্ত্রী-সন্তান হয়ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাই আসুন আমরা সবাই শৃঙ্খলা মেনে চলি। সড়কে পাল্লা দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় আমরা যারা নামি তাদের প্রত্যেকই সবার আগে যেতে চাই। বাকিরা পেছনে পড়ে থাকে। সবার এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবাইকে আইন মানতে হবে। আইনকে শ্রদ্ধা করে স্ব স্ব জায়গা থেকে আইন মানতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। ডিএমপির এই ট্রাফিক সচেনতামূলক পক্ষ ২১ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

 

আবরার হত্যার বিচারে তার বাবার পছন্দের আইনজীবীরাও লড়বেন – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের দলের সঙ্গে তার বাবার পছন্দের দুই আইনজীবীও থাকবেন বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানের বাসায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহর সঙ্গে ১৫ মিনিটের বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, “আদালতে যে বিচারকাজ শুরু হবে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উনারা আগেই জানতেন, আমি জানিয়েছি- একটা প্রসিকিউসন টিম গঠন করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কয়েকজন আইনজীবীর নাম সে তালিকায় রাখার অনুরোধ করেছেন। যে নাম দিয়েছিলেন, সে তালিকায় পছন্দমত দুই জন আইনজীবী থাকবেন। “যে গতিতে বিচার কাজ এগোচ্ছে, তাতে সন্তুষ্ট উনারা। আইনানুগভাবে, কোনো ভুল ত্রটি ছাড়া, কোনো আইনের ব্যত্যয় না ঘটিয়ে বিচারটা যতটুকু তাড়াতাড়ি সম্ভব যেন করা হয়। যেন দ্রুত ট্রাইব্যুনালে যেন বিচার হয়।” আবরারের বাবার পক্ষ থেকে সাক্ষাতের জন্য মঙ্গলবার সময় চাওয়া হলে বৃহস্পতিবার সময় দেন আইনমন্ত্রী। আবরার বাবা বলেন, “আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্রুত ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে। আমরাও চাই বিচারটা দ্রুত হোক। কিছু আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে।” এসময় আবরারের মামা ও মামাত ভাই উপস্থিত ছিলেন। বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ জনকে আসামি করে গত ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। ওইদিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যে কোনো মামলা ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৪৫ দিন সময় নিতে পারে আদালত। এখন বিচার শুরুর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আবেদন আসতে হবে। দ্রুত এই বিচার শুরুর আশাপ্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন আবরারের বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।

শনিবার কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, ওজোপাডিকো লিমিটেডের আওতাধীন বেশ কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল শনিবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা আট ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া ওজোপাডিকো লিমিটেডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রনব চন্দ্র দেবনাথ এতথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন- মজমপুর ৩৩/১১ উপকেন্দ্রের বার্ষিক মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য এনএস রোড, সার্কিট হাউজ, কোর্ট ষ্টেশন, ত্রিমোহনী এবং থানাপাড়া ফিডারের এলাকাসমূহ যথাক্রমে পেয়ারাতলা, হাসপাতাল মোড়, র‌্যাব ক্যাম্পের গলি, কাটাইখানা মোড়, কেনি রোড, কোর্টপাড়া, অর্জূন দাস আগরওয়ালা রোড, পিটিআই রোড, গোশালা রোড, পুলিশ লাইন, উদিবাড়ী, আলফার মোড়, কমলাপুর, রেনউইক মোড়, পৌরসভা, থানাপাড়া, চর থানাপাড়া, ছয় রাস্তার মোড়, থানার মোড়, চর আমলাপাড়া, বড় বাজার, চর মিলপাড়া, বড়বাজার রেলগেট ও পূর্ণ বাবুর ঘাট এলাকা সমূহে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারনে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

পরিবহন ধর্মঘটে ঢাবির বাস ভাংচুরকারীদের শাস্তি দাবি

ঢাকা অফিস ॥ পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ভাংচুরের প্রতিবাদে ক্যাসম্পাসে মানববন্ধন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই কর্মসূচি থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। মানববন্ধনে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, “পরিবহন শ্রমিকরা তাদের স্বার্থে আঘাত লাগলে আন্দোলন করতে পারে, কিন্তু আন্দোলনের নামে কেন সাধারণ মানুষের মুখে কালি মেখে দেবে? কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলা করা হবে? এটা কোনো আন্দোলন নয়, এটা ছিল একটা নৈরাজ্য এবং উস্কানিমূলক আন্দোলন।” নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সমালোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির ছাত্র নূর। তিনি বলেন, “রাস্তাঘাটে যে যানবাহন চলে তার ৬০ শতাংশ ফিটনেসবিহীন, ৪০ শতাংশ লাইসেন্সবিহীন। এখন নতুন আইনে তারা দেখতেছে তাদের ব্যবসায় লস হবে, তাদের স্বার্থে আঘাত লাগবে। তাই তারা সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে হুজুগের ওপর একটি আন্দোলন করছে। “অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের দ্বায়িত্ব পালন না করে ভিডিও ধারণ করেছে। এটা একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা।” মানববন্ধনে বলা হয়, বুধবার নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় সকাল ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘ঈশা খাঁ’ বাসে হামলায় চালান একদল শ্রমিক। বাসের চালক ও একজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীকে মারধরও করেন তারা। চালককে মারধরের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ঘুরছে। এর বাইরে ওয়ারি বাস চালকের গায়ে আলকাতরা মারা হয়, টঙ্গীতে ক্ষণিকা বাস ভাংচুর হয় এবং আরও কয়েকটি রুটের বাস আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে জানান বক্তারা। এসব ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার দাবি করে ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক শামস ঈ নোমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলা মানে ঢাবির ঐতিহ্যের ওপর হামলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর হামলা। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। “ধর্মঘটের নাম করে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ভাংচুর করে, তারা সন্ত্রাসী। এ সকল সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।” ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার বলেন, “শিক্ষার্থীরা যে বাস দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছিল, এটা কোনো গণপরিবহন নয়। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করবে, এ বাসে হামলা কেন? এটা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল বাসে হামলাই নয়, এটা শিক্ষার্থীদের বুকে হামলা করা হয়েছে।” মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন, সদস্য তিলোত্তমা শিকদার বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধনের পর ডাকসু নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে বাস হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হবে বলে তাদের আশ্বাস দেন উপাচার্য।

তিন বাহিনীর প্রধানের রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে গতকাল দুপুরে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানগণ। রাষ্ট্রপতি তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্য এবং তাদের পরিবারবর্গকে সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। রাষ্ট্র প্রধান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গঠিত সশস্ত্র বাহিনী দেশের গর্ব। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এবং শান্তিরক্ষী মিশনে কার্যকর ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার ‘ফোর্সেস গোল- ২০৩০’-এর আওতায় তিন বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্র প্রধান আশা প্রকাশ করেন, সশস্ত্র বাহিনীর কল্যাণে সরকারের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দিনটি প্রতিবছর সশস্ত্রবাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে বৈঠকে তিন বাহিনী প্রধানগণ সংশ্লিষ্ট বাহিনী কর্তৃক গৃহিত বিভিন্ন কল্যাণকর কর্মকান্ড ও সময়োচিত পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাশিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

বিএনপি-জামায়াত মালিকরা নিশ্চুপ

জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা মানছেন না অনেক মালিক ও শ্রমিক

শেষ পর্যন্ত স্থানীয় রুটে জনদুর্ভোগ কমাতে রোডে গাড়ি নামালেন আওয়ামী লীগ নেতারা

নিজ সংবাদ ॥ দুই দিন আগে জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠকে বসেন কুষ্টিয়ার বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা। সভায় আশ্বাস দেন তারা সড়কে বাস চালাবেন। এরপর দুই দিন কেটে গেলেও রোডে গাড়ি নামাননি বাস মালিকরা। শেষ পর্যন্ত জনদুর্ভোগ কমাতে গতকাল বৃস্পতিবার বিকেল থেকে গাড়ি নামান বাস মালিক গ্র“পের কার্যকরি সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আতাহার আলী। এছাড়া কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক মকবুল হোসেন লাভলুও গাড়ি নামান। এছাড়া মালিক গ্র“পের যুগ্ম সম্পাদক এমদাদুল হক নান্টু, শ্রমিক নেতারা বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রোডে বাস নামানোর ব্যাপারে তৎপর ছিলেন। তাদের তৎপরতার কারনে সড়কে জনদুর্ভোগ কিছুটা কমে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বাস মালিক গ্র“পের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলীর সভাপতিত্বে যৌথসভায় বসে বাস মিনিবাস মালিক গ্র“প, বাস মিনিবাস মালিক সমিতি ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। তারা সভা থেকে সব রুটে গাড়ি চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। এমন সিদ্ধান্ত হলেও স্থাণীয় কয়েকটি রুট ছাড়া আর কোন রুটে গাড়ি ছাড়েনি মালিকরা। তারা সভার সিদ্ধান্ত মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাস মিনিবাস মালিক গ্র“পের সভাপতি আজগর আলী বলেন,‘ সভা শেষে বাস চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক পরিবহন রোডে নেমেছে। আর কোন সমস্যা থাকবে না ইনশাআল্লাহ।’আগামীকাল থেকে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা।

তবে দুপুরের দিকে প্রথম গাড়ি রোডে নামান আওয়ামী লীগ নেতা ও বাস মিনিবাস মালিক গ্র“পের কার্যকরি সভাপতি আতাহার আলী। তিনি বিএনপি নেতাদের রোডে গাড়ি নামানোর অনুরোধ করেন। তবে রোডে গাড়ি নামানোর ব্যাপারে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুর রুটের খলিশাকুন্ডি পর্যন্ত গাড়ি চালানো হচ্ছে। গাড়ি চালানোর কথা শুনে অনেক যাত্রী ভীড় করেন কাউন্টারে। তারা গাড়ি চালানোর জন্য ধন্যবাদ জানান মালিক ও শ্রমিক নেতাদের। এ সময় মেহেরপুর কাউন্টারে বসে গাড়ি চলাচলের বিষয়টি মনিটরিং করতে দেখা গেছে বাস মালিক ও আওয়ামী লীগ নেতা আতাহার আলী, যুগ্ম সম্পাদক এমদাদুল হক নান্টু, নির্বাহী সদস্য আতিয়ার রহমান, মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসনকে।

শ্রমিক নেতা আফজাল হোসেন বলেন, গাড়ি চালানোর জন্য সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপরও বেশির ভাগ মালিক বাড়িতে ঘুমাচ্ছে। আমরা রোডে গাড়ি চালানোর জন্য সকল শ্রমিককে বলেছি। অনেকেই কাজে যোগ দিয়েছে। সব মালিক যদি একটি করে গাড়ি দেয় তাহলে জনদুর্ভোগ অনেক কমে যাবে।’

কথা হলে বেশ কয়েকজন মালিক অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াতপন্থি মালিকরা জনদুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সড়কে গাড়ি নামাচ্ছে না। তারা অন্যকে গাড়ি না নামানোর জন্য  উৎসাহিত করছে। এতে পুরোপুরি সড়কে বাস চলাচল শুরু হয়নি। এসব বাস মালিকরা ডিসি ও এসপির নির্দেশনা মানছেন না। এমনকি সরকারের মন্ত্রীদের নির্দেশনাও তারা মানছেন না।

বাস মিনিবাস মালিক গ্র“পের কার্যকর সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আতাহার আলী বলেন, আমরা কয়েকজন বাস মালিক দুপুর থেকে সড়কে গাড়ি নামিয়েছি। জনদুর্ভোগ কমাতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যারা সভার সিদ্ধান্ত এমনকি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মানছে না তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। বিএনপি-জামায়াতপন্থিরা সরকার ও জনগনকে দুর্ভোগে ফেলতে ভিতরে ভিতরে ষড়যন্ত্র করছে। তারা আন্তঃজেলা কাউন্টার পর্যন্ত সময়মতো খোলেনি। আমরা বলার পর কাউন্টার খুলেছে।’

প্রাথমিকের পরীক্ষায় ‘বহিষ্কার’ কেন অবৈধ নয় – হাই কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় শিশুদের বহিষ্কার করা কেন অবৈধ হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে এবারের পরীক্ষায় বহিষ্কার হওয়া ১৫ শিশুর ক্ষেত্রে পুনরায় পরীক্ষা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুল  জারি করে। গত বছর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নির্দেশনাবলী’র ১১ নম্বর নির্দেশনা (যার আওতায় শিশুদের বহিষ্কার করা হয়েছে) কেন অবৈধ হবে না, তাও জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে আদালত। ‘পিইসি পরীক্ষায় শিশু বহিষ্কার কেন’ শিরোনামে দৈনিকে দেশ রূপান্তর গত ১৯ নভেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এম জামিউল হক। বৃহস্পতিবার শুনানি করে আদালত রুল জারি করে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ২ সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর আদালত বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছে বলে জানান আইনজীবী এ এম জামিউল হক। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার শুরু হওয়া প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ‘অসাধু পন্থা’ অবলম্বন করার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫ শিশুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। “এ বিষয়ে নির্দেশনাও রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের। তবে শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষক এমনকি অভিভাবকরা বলছেন, কোমলমতি শিশুদের এ ধরনের বহিষ্কার তাদের ওপর এক ধরনের মানসিক নির্যাতন। যারা পরীক্ষা কিংবা নকল করার বিষয়টিই এখনো ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি। “কর্তব্যরত শিক্ষকরা আরও সচেতন হলে এ ধরনের বহিষ্কার এড়ানো যেত। শিশুদের বহিষ্কারের বিষয়টি নির্দেশনায় রাখা কতটা যৌক্তিক তা ভাববার বিষয় রয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও।”

 

সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুজবে কান না দিতে জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমরা দেখি, অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। আমি সবাইকে একটা কথা বলবো, এই অপপ্রচারে কান দেবেন না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অপপ্রচার বিশেষকরে পেঁয়াজ, লবণ প্রভৃতির সংকটের অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এটা করবে আমি জানি, এটা স্বাভাবিক। কাজেই সেটাকে মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হবে, আমরা সেভাবেই চলছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন। দেশের একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পেঁয়াজ, লবন এবং চালের মত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সাম্প্রতিক অপচেষ্টার প্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৯ উপলক্ষ্যে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার মাছ এবং সবজিসহ বিভিন্ন তরিতরকারীর উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে এবং এখন জনগণের নিরাপদ খাদ্য এবং পুুষ্টির চাহিদা পূরণে বিশেষ মনযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন,‘আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করছি। জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে আমরা যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি এবং তা অব্যাহত থাকবে।’ শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কাহিনী শিশু, নাতি-নাতনী এবং স্থানীয় জনগণের কাছে তুলে ধরার আহবান জানান। তিনি বলেন,‘আমরা সকল উপজেলাতে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স তৈরী করে দিচ্ছি। কাজেই সেসব অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের দলিল-দস্তাবেজ আর নষ্ট হবে না এবং আগামী প্রজন্মের শিশুরা যুদ্ধের প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবে।’ তিনি আরো বলেন,‘আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম জানবে বাঙালি জাতি কখনো হারতে জানে না। এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের আত্মমর্যাদার ধারণা তৈরী হবে এবং তাঁরা মাথা উঁচু করতে চলতে শিখবে।’ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা তাঁর জ্বালাময়ী ভাষণে বলেন- বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। কেউ অতীতে বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে পারে নাই এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে যে সম্মান অর্জন করেছিল কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্যদিয়ে তা আবার হারিয়ে ফেলে এবং দেশটি একটি হত্যা,ক্যু, ষড়যন্ত্রের দেশের পরিনত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় ১৯টি ক্যু সংঘঠিত হয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর বহু সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যা করা হয়। তিনি বলেন,‘মুক্তিযুদ্ধেও ইতিহাসকে ধ্বংস করার এবং জাতির পিতার নামকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘কিন্তু ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আমরা আবারো মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথাকে ফিরিয়ে এনেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মনে করেন ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশ যে রকম কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল তা সরিয়ে তাঁর সরকার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জনগণকে নতুন করে আলোকিত করেছে। তিনি বলেন, ‘যে সম্মান ১৯৭১ সালে দেশটি অর্জন করেছিল তা ১৯৭৫ সালে ধূলিস্মাৎ হয়ে যায়। তবে, আমি এখন এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশ এখন সমগ্র বিশ্বের সামনে আবারো সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।’ একটি মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তাঁর উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বে নিজের অবস্থানকে সুসংহত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার আদর্শকে ধারন করে এবং তাঁর পদাংক অনুসরণ করেই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’ শেখ হাসিনা এ সময় বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলায় তাঁর লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন। সরকার প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড় করিয়েছি এবং আমাদের অঙ্গীকার এই যে, আমরা অবশ্যই জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণেও সক্ষম হব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লক্ষ্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তা কখনো বৃথা যেতে পারে না।’ শেখ হাসিনা এ সময় জাতির সূর্য সস্তান মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবার-পরিজনদের জন্য সম্ভব সব কিছু করে যাওয়ায় তাঁর সরকারের সংকল্পেরও পুনরোল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং আর্থসামাজিক সমৃদ্ধিতে আমরা সংকল্পবদ্ধ। আমরা তাঁদের সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং সম্মান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’ শেখ হাসিনা বলেন,তাঁর সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশের সকল জেলা এবং উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার মহান দায়িত্ব সশস্ত্রবাহিনীর ওপর ন্যস্ত। তিনি বলেন,এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও সশস্ত্রবাহিনীর দেশ প্রেমিক সদস্যরা দেশ মাতৃকার নানাকাজ যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে তাঁদের সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করা অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এইজন্য আমরা সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণ মুখী যেমন-আধুনিকায়ন, ভৌত এবং অবকাঠামোগত প্রভৃতি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ,বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করায় ধন্যবাদ জানান। তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন যে, সশস্ত্রবাহিনী বিপন্ন এবং অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য জনকল্যাণ মূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। বক্তৃতার শুরুতে শেখ হাসিনা সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে সশস্ত্রবাহিনীর সকল সদস্যদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এইদিনে অকুতোভয় সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা এবং দেশের সাধারণ জনগণ পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমন শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন‘যে কারণে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত হয় এবং আমরা স্বাধীন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে সমর্থ হই।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযদ্ধের ৭ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং খেতাব জয়ী সশস্ত্রবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানীর চেক এবং উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের হাতে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং ৯ জন সেনা সদস্য, দু’জন নৌবাহিনীর সদস্য এবং তিনজন বিমানবাহিনীর সদস্যদের হাতে শান্তিকালিন ‘বাহিনী পদক’ তুলে দেন। সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষযক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্রবাহিনীর খেতাব জয়ী ১০১ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবার-পরিজন এবং ৭ বীরশ্রেষ্ঠ’র নিকটাত্বীয়গণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ঝাউদিয়া কলেজে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ঝাউদিয়া মহাবিদ্যালয়ে নবীন বরণ, পুরস্কার বিতরন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় কলেজের হলরুমে গভর্নিং বডির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রকৌশলী ফারুক-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ নুরজাহান শারমিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল হক, ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান কেরামত আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম ঠান্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা  করেন প্রভাষক জাহিদুল হক জাহিদ।

কুষ্টিয়ায় বিআরটিসির কুষ্টিয়া-খুলনা সড়কে নতুন বাস উদ্বোধন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বিআরটিসি’র নতুন ৪টি যাত্রীবাহী বাস কুষ্টিয়া-খুলনা সড়কে চলাচলে উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় মজমপুর গেইটস্থ বিআরটিসির এই যাত্রীবাহী বাসের ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর, বিআরটিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ ও স্থানীয় এজেন্ট রোকনুজ্জামানসহ অন্যান্যরা। এসময় সেখানে উপস্থিত বিআরটিসি কর্মকর্তা এসিও রাজু আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া থেকে খুলনা রুটে সরাসরি চলাচলে বিআরটিসির যাত্রীবাহী বাস চালুর দাবি ছিলো। সেকারনে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ এই রুটে আজ নতুন ৪টি বাস সংযোজনসহ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যাত্রীবাহী বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে শেখপাড়া, ঝিনাইদহ, কালিগঞ্জ, যশোর স্টপেজ দিয়ে খুলনা পর্যন্ত চলাচল করবে। প্রথামিকভাবে কুষ্টিয়া হতে খুলনা পর্যন্ত ১৬৫ কি:মি: যাত্রী ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ৩শ টাকা। যাত্রী সেবার যোগাযোগে ০১৭১০-৭৪৭৫৪৫ সেল ফোনে কথা বলতে পারেন।

অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের রায়

ভেড়ামারার নারী শ্রমিক হত্যায় একজনের মৃত্যুদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানায় নিজ বাড়ি থেকে নিখোজ হওয়ার পর ইটভাটার নারী শ্রমিক শাপলা (২২) কে হত্যার অভিযোগে নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলায় প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম ওরফে রবি ঘরামী (৬২) নামের একজনকে মৃত্যুদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় আসামী ভেড়ামারা উপজেলার বারোমাইল টিকটিকিপাড়া গ্রামের মৃত: রেজন আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম ওরফে রবি ঘরামীর উপস্থিতিতে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো: তহিদুল ইসলাম এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় প্রদান করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভিকটিম নারী শ্রমিক শাপলা নিজ বাড়ি থেকে নিঁখোজ হন। পরদিন দুপুর দেড়টায় পশর্^বর্তী লিচু বাগান থেকে নিহতের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ভেড়ামারা থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এঘটনায় নিহতের মা ইটভাটা শ্রমিক শাহানা বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ভেড়ামারা থানার মামলা নং ১২, তারিখ- ২২-৪-২০১৩ ইং। সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারী কৌশুলী (বিশেষ পিপি) এ্যাড. আব্দুল হালিম জানান, পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে আসামী রবি ঘরামীকে হত্যাকান্ডে জড়িত সনাক্তকরণসহ ২০১৩ সালের ১২ডিসেম্বর আদালতের চার্জশীট দিলে দায়রা ২০৭/২০১৪ নং-মামলায় নথিভূক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের একাধিক স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন ও উভয়পক্ষের শুনানী শেষে আসামী রবি ঘরামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমানীত হওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. এস. এম বদিউজ্জামান।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়

কুষ্টিয়া মাদক মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় নিজ নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য  ফেন্সিডিল রাখার অভিযোগে ৪৭ বিজিবি’র দায়ের করা মাদক মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী এক জনাকীর্ণ আদালতে আসামীদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীরা হলেন-কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের আতার পাড়া গ্রামের চান্দু খাঁ’র ছেলে মোকা খাঁ, আহম্মেদ হাওলাদারের ছেলে জাকির হাওলাদার ও আজিজুল ইসলামের ছেলে আবু সুফিয়ান ওরফে পাতলা। যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ছাড়াও প্রত্যেক আসামীকে ২০ বিশ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড, অনাদায়ে এক বছর করে সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় ৪৭ বিজিবি সি কোম্পানী, উদয়নগর বিওপি’র হাবিলদার তরিকুল ইসলাম চোরাই প্রতিরোধ ডিউটি করাকালে জানতে পারেন যে, আতারপাড়া সীমান্তে পদ্মার চর এলাকায় নদীর ভিতর দিয়ে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত পরিমান ফেনসিডিল বিক্রির উদ্দেশ্যে চটের বস্তায় করে নিয়ে আসছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে টহলদলসহ ইঞ্জিন চালিত ট্রলারযোগে আতারপাড়ায় পদ্মা নদীর ভিতর পৌঁছামাত্রই কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী তাদের রক্ষিত অবৈধ ফেনসিডিল নৌকায় রেখে পদ্মা নদীর পানিতে ঝাপ দিয়ে সাঁতরিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় বিজিবি’র সদস্যরা চোরাকারবারীরা তাদের নৌকায় ফেলে যাওয়া ২৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় স্বাক্ষীদের মাধ্যমে পলাতক চোরাকারবারীদের নাম ঠিকানা নিশ্চিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। দৌলতপুর থানার মামলা নং-৫২, তারিখ- ৩১-০৭-২০১৭ইং। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ও কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, পুলিশ তদন্তপূর্বক আদালতে চার্জসীট জমা দিলে  সেশন ১১৮১/২০১৮ নং-মামলায় নথিভূক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ স্বাক্ষ্য ও শুনানি শেষে আসামীদেরকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. আব্দুল মোতালেব (স্টেট ডিফেন্স) ও এ্যাড.মোঃ এনামুল হক ।

ইবি ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে আহত ৭

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৭ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় বিশ^বিদ্যালয়ের জিয়া হল মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  জানা যায়, সন্ধ্যার পরে জিয়া হল মোড়ে আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রিজভী আহমেদ ওশান হেটে যাওয়ার সময় লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ঝিনুক, আলাল ইবনে জয় এবং চঞ্চু চাকামা ডেকে নেয়। এসময় ওশানকে চড়-থাপ্পড় মারে বলে অভিযোগ করে ওশান। এরপর ওশান ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালমান, রানা, বাধন ও স্বাধীনকে বিষয়টি জানায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঁশ ও লাঠিসোটা নিয়ে কয়েক দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে ছাত্রলীগ উভয় গ্র“প। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন কর্মী আহত হয় বলে জানা গেছে। আহতদেরকে বিশ^বিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক খুরশিদা জাহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, বিষয়টি শোনামাত্র আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছাই, উভয় গ্র“পকে স্ব-স্ব হলে পাঠিয়ে দিয়েছি। গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকবো। আশা করছি নতুন করে কোন সমস্যা তৈরী হবে না।