কুষ্টিয়ায় জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে ডিসি আসলাম হোসেন

শ্রীকৃষ্ণ দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালন করেছিলেন 

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালন করেছিলেন। কুষ্টিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৫তম আবির্ভাব তিথী শুভ জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া মহাশশ্মান মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’র সহযোগিতায় কুষ্টিয়ায় পূজা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথী শুভ জন্মাষ্টমী উদ্যাপন করা হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) এ.কে.এম জহিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুষ্টিয়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী, জেলা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট’র সহকারী পরিচালক তোফাজ্জেল হোসেন, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ সাহা, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ্যাডঃ সুধির কুমার শর্মা, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডঃ জয়দেব বিশ্বাস, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা বিশ্বনাথ সাহা বিশু, অজয় সুরেকা, বিশ্বনাথ পাল বিশু, উত্তম সাহা, জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার নাগ, কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সাহা, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন পাল, সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি চন্দন স্যান্নাল পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত সিংহ রায়, আইন সম্পাদক এ্যাডঃ শংকর কুমার মজুমদার, সহ-আইন সম্পাদক এ্যাডঃ শীলা বসু (এ.জি.পি), হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মন্ডলী তুহিন চাকী, সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ জগত, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার সহ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা ও উপজেলা কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ শত শত ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিভিন্ন মন্দির থেকে ব্যানারসহ বিভিন্ন সাজ সজ্জায় সজ্জিত হয়ে বাদ্যবাজনার তালে তালে শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়। গোপীনাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গন থেকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন’র নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পক্ষ থেকে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা করা হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় প্রথম স্থান মিলপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির, দ্বিতীয় স্থান বড় বাজার সার্বজনীন পূজা মন্দির ও তৃতীয় স্থান মিল লাইন পূজা মন্দির। পুরো অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে রাতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই বাড়ি ফিরেছে

ঢাকা অফিস ॥ মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত যারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের ৯০ শতাংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৬১ হাজার ৩৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৪ হাজার ৯৫৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এই সংখ্যা মোট আক্রান্ত রোগীর ৯০ শতাংশ। রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৪৬ জন নতুন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৯৭ জন। নতুন-পুরনো মিলিয়ে দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন ৬ হাজার ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩ হাজার ৪১১ জন। আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার ৬২৪ জন ভর্তি রয়েছেন। গত জুনে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ব্যাপকতা বাড়ে জুলাইয়ে, সরকারি হিসাবেই সে সময় রেকর্ড ১৬ হাজার ২৫৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়, ৭ আগস্ট একদিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪২৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এই অবস্থা চলতে থাকে সপ্তাহখানেক- প্রতিদিনই দুই হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে যান। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার রেখাচিত্রে অবনমন ঘটে ঈদের পরদিন ১৩ আগস্ট। ওইদিন এক হাজার ২০১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে প্রতিদিন এই সংখ্যায় ওঠানামা চললেও হাসপাতালে ভর্তি থাকা মোট রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই কমছে। এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলার চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্তত ১৭৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরের হাসপাতালগুলোতে ৬৮৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। আর ঢাকা বিভাগের অন্যান্য অংশে ভর্তি হয়েছেন ২০৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০৬ জন, খুলনা বিভাগে ১৮৩ জন, রংপুর বিভাগে ২৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১২৭ জন, সিলেট বিভাগে ১৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে।

১৬ ডিসেম্বরের আগে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে

ঢাকা অফিস ॥ আগামী ১৬ ডিসেম্বরের (বিজয় দিবস) আগে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। শুক্রবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মোজাম্মেল হক বলেন, আগামি ১৬ ডিসেম্বরের (বিজয় দিবস) আগে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর চূড়ান্ত তালিকায় থাকা মুক্তিযোদ্ধারা কি কি সুবিধা পাবেন সেটা আইডি কার্ডের পেছনে দেওয়া থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে পাঠ্য বইতে মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস এবং আমরা কোন নরপশুদের সাথে যুদ্ধ করেছি সেটাও থাকবে। আমাদের সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সেগুলো হচ্ছে, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের বোনাস, সরকারি হাসপাতালে শতভাগ চিকিৎসা ফ্রি, বিসিএস পরীক্ষায় ১০০ নম্বর থাকবে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ বিষয়ে, পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যেখানে যুদ্ধ করা হয়েছে সেখানে একই ডিজাইনে স্মৃতিফলক হবে, যেখানে বদ্ধভূমি আছে সেখানে অন্য এক ডিজাইনে স্মৃতিফলক হবে, সমস্ত রাস্তাঘাট, রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মুক্তিযোদ্ধাদের নামে হবে, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ২০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি-ঘর করতে ১৫ লাখ করে টাকা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কতবড় সম্পদ ছিলো আমরা এখনো তা বুঝতে পারি না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিভিন্ন মিথ্যা কথা বলে এবং ইতিহাস বিকৃত করে তাকে ছোট করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। খুনি জিয়া বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার চেষ্টা করেছিলো। ইতিহাস তার জবাব দিয়েছে। খালেদা জিয়া ও তারেক এদের একটাই পরিচয় তারা বঙ্গবন্ধুর খুনি। মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে আমরা তাদের বিচার করছি। কিন্তু যারা এটা করিয়েছে তাদের বিচার হয়নি। জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি। কেননা খুনি না হলে আত্মস্বীকৃতি খুনি যারা ছিলো তাদেরকে বিদেশে পাঠিয়ে বড়বড় পদে পদায়ন করতেন না। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার যাতে না হয় সেজন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করে সেই রাস্তা জিয়া বন্ধ করেছিলেন। খুনি বলেই জিয়ার মন্ত্রীসভায় শাহ-আজিজসহ যতোখুনি আছে যারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলো তাদেরকে নিয়ে জিয়া মন্ত্রীসভা গঠন করেছিলেন। তাই পরিষ্কার বোঝা যায়, বঙ্গবন্ধুর হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জিয়া জড়িত ছিলেন। খুনিরা বলেছেন, জিয়ার সাথে তাদের কি আলোচনা হয়েছে। তা ট্রুথ কমিশন করে বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত খুনিদের বের করতে হবে এবং মরে গিয়ে থাকলেও বিশ্ববাসীর সামনে মরোনোত্তর বিচার করতে হবে। এটা আজ সময়ের দাবি। না হয় বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে না। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ গাজী মো দেলওয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকেই।

আজ সৈয়দ মাছ-উদ রুমী’র ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী

গত ১৮ই আগষ্ট ছিল কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, কুমারখালী-খোকসা থেকে নির্বাচিত প্রাক্তন সংসদ সদস্য,  জেলা উন্নয়ন সমন্বয়কারী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম এ্যাড. সৈয়দ মাছ-উদ-রুমীর ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী। এ উপলক্ষে আজ ২৩ আগষ্ট শুক্রবার বাদ জুম্মা পরিবারের উদ্যোগে খোকসা উপজেলা নিজ গ্রাম কমলাপুর জামে মসজিদে কোরআনখানী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে মরহুমের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের শরিক হওয়ার জন্য মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী অনুরোধ জানিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে শিগগিরই টাস্কফোর্স গঠন করা হবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে শিগগিরই টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। সড়ক পরিবহন খাতে শৃংখলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলকালে গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। এর আগে কমিটির প্রধান সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি প্রতিবেদনটি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এসময় মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। আইনটি কার্যকর করতে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে স্টেক-হোল্ডারদের সাথে আলোচনা চলছে। স্বল্পতম সময়ে আইনটি কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃংখলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এ লক্ষ্যে ১১১টি আশুকরণীয়, স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশমালা তৈরি করে। মন্ত্রী জানান, কমিটির সুপারিশসমূহ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, আর দেরি নয়, আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতে চাই। সভায় অন্যান্যর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাংস্কৃতিক কর্মী রোকেয়া প্রাচী, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহাবুবুর রহমান, এক্সিডেন্ট রিসার্স ইন্সটিটিউটের প্রধান কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় রূপীসহ একজন আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় রূপীসহ মামুন অর রশিদ (৩২) নামে মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্য আটক হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মরারপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে ৩৮ হাজার ভারতীয় রূপিসহ তাকে আটক করে সীমান্তরক্ষী বিজিবি। সে চরসরকারপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। বিজিবি সূত্র জানায়, চিলমারী বিওপি’র টহল দল ওইদিন বিকেলে ১৫৭/২-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন ৫০ গজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে মরারপাড়া থেকে ভারতীয় রূপিসহ মামুন অর রশিদকে আটক করে। পরে তাকে মামলা দিয়ে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।

কুষ্টিয়ায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি

অনিরাপদ বাংলাদেশের অপশক্তি রুখতে ঐক্য ছেড়ে একলা চলো নীতি আত্মঘাতি

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামাত জঙ্গী চক্রের বিরুদ্ধে গত বিশ বছর ধরে চলছে, সেই সগ্রামে সাফল্য আমরা অর্জন করতে পেরেছি চৌদ্দ দল ও মহাজোটের ঐক্যের রাজনীতির কারণে। ঐক্যই পারে বিএনপি জামাতকে কোনঠাসা করে রাখতে। সেই সফলতা যদি ধরে রেখে সংহত করতে হয় তাহলে ঐক্য ছেড়ে একলা চলো নীতি হবে আত্মঘাতি। ঐক্যই পারে জঙ্গীদের ধ্বংস করতে এবং জঙ্গী দমনের সুফলগুলো সংহত করতে ঐক্যের কোন বিকল্প নাই। যেহেতু এখনও পর্যন্ত ২১আগষ্টের  খুনিদের পক্ষে ছাপাই গাওয়া চলছে, বাংলাদেশ যেহেতু বিপদমুক্ত নয়, যে ঐক্য জঙ্গী দমনে সাফল্য দিয়েছে সেই বিজয়টাকে ধরে রাখার জন্যে একলা চলা নীতি বাদ দিয়ে ঐক্যের নীতিটাকে আরও শক্তভাবে অনুসরন করা উচিৎ। ওরা কোনঠাসা হলেও রাজনৈতিকভাবে এখনও আত্মসমর্পন করেনি। ২১আগষ্ট হত্যাকান্ডে জড়িত খুনিদের পক্ষে ছাপাই গাওয়া ও আড়াল করার একটা অপচেষ্টা এখনও আছে। জাসদ সভাপতি ইনু আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা তা কাংঙ্খিত মাত্রাই অর্জন করার দক্ষতা ও সক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের আছে। গত ১০বছরের বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচন ও  উন্নয়নে যে সফলতা এবং দক্ষতা প্রদর্শন করেছে, তাতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে দেশবাসীর যাপিত জীবনে যারা দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে গাফিলতি দেখিয়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সোচ্চার হবো। চামড়া শিল্প, পশু সম্পদ, ধান-চাল, পাটশিল্প কিংবা ডেঙ্গু এসব বিষয়ের ব্যবস্থাপনায় যদি কেউ দুর্ভোগ সৃষ্টি করে থাকে তাহলে বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার সরকার যেভাবে জঙ্গী দমনে কোন ছাড় দেয়নি ঠিক তেমনি এসব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও রেহায় দেবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জাসদ সভাপতি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় সেখানে জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

নিজেদের বানানো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা দেখাল ইরান

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান এবার নিজেদের বানানো দূরপাল্লার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনার প্রদর্শনী করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বৃহস্পতিবার সহজে পরিবহনযোগ্য এ বাভার-৩৭৩ ব্যবস্থাপনার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। “দূরপাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় আমরা ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকেই লক্ষ্যবস্তু বা বিমানকে চিহ্নিত করতে পারবো, ২৫০ কিলোমিটার দূরে আটকাতে এবং ২০০ কিলোমিটার দূরত্বেই ধ্বংস করে দিতে পারবো,” রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে এমনটাই বলেছেন ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির হাতেমি। ইরানি গণমাধ্যমে এই বাভার-৩৭৩কে রাশিয়ার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনার সমকক্ষ বলা হচ্ছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস পালন করছে; এদিনই নিজেদের বানানো এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা সারাবিশ্বকে দেখাল তেহরান। নানা ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেদের কারণে ইরান বাইরের দেশগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে না পারলেও, তারা নিজেদের নকশায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বানিয়ে তা মজুদ রেখেছে বলে অনুমান পর্যবেক্ষকদের। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা তেহরানের অস্ত্র ও এগুলোর সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান হলেও তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ওয়াশিংটনকে উদ্বেগের মধ্যেই রেখেছে। জুনে পারস্য উপসাগরে ইরান ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি ড্রোনকে ভূপাতিতও করেছে। তেহরান বলছে, অনুমতি ছাড়াই ওই ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র এ ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, হামলার শিকার হওয়ার সময়ও তাদের মনুষ্যবিহীন ড্রোনটি ছিল আন্তর্জাতিক আকাশসীমায়। চার বছর আগে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। ওয়াশিংটন পরে তেহরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তেল নিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই গত কয়েক মাসে পারস্য উপসাগরে বেশ কয়েকটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাংচিল’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিমানের সুনাম বৃদ্ধির আহ্বান 

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ বিমানকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাত্রী সেবার মান উন্নত করার মাধ্যমে জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের সুনাম বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশাকরি, বিমানের সুনাম অক্ষুণœ রাখা এবং উত্তরোত্তর যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করা, এবং যে বিমানগুলো আমরা এনে দিচ্ছি সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের দায়িত্ব। কাজেই এটা নিজস্ব সম্পদ, সে কথা মনে রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাংচিল’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও আমি সকলকেই বলবো- আপনারা আপনাদের আন্তরিকতা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই কাজটি সম্পাদন করবেন।’তিনি বলেন, আজকে দেশ যদি উন্নত হয়, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, দেশের অগ্রযাত্রা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সকলেই সুন্দর জীবন পাবে, সুখী হয়ে চলতে পারবে। আর সেটাই আমাদের লক্ষ্য ।দেশের বিমান বহরে তাঁর সরকার সংযোজিত অত্যাধুনিক বিমানগুলোর প্রতি সকলকে যতœবান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো আমার ‘গাংচিল’ যেন ডানা মেলে উড়তে পারে ভালভাবে, সবাই যতœ নেবেন।’তিনি বলেন, আজকের উদ্বোধন করা ‘গাংচিল’কে নিয়ে বোয়িং এর সঙ্গে চুক্তিকৃত ১০টি বিমান ক্রয়ের মধ্যে ৯ নম্বর বিমানটি বহরে যুক্ত হলো। আর একটা আসলেই ১০ম টি পূর্ণ হবে।অচিরেই এই বিমানগুলো ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে চলাচল করবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকায় এখনও আমরা যেতে পারছি না, তবে, আশা করছি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে। আমাদের ড্রিমলাইনার সরাসরি ঢাকা থেকে জেএফকে (জনএফ কেনেডি এয়ারপোর্ট,নিউইয়র্ক) যাওয়ার মত সক্ষমতা রাখে। কাজেই আমরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’সেই সঙ্গে লন্ডনে বিমানের জন্য ¯¬ট যেন আরো বৃদ্ধি পায় এবং আরো কয়েকটি দেশে বিমান তার যাত্রীসেবা যেন বৃদ্ধি করতে পারে এবং যেতে পারে সরকার সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।এয়ারক্রাফটের সংখ্যা বৃদ্ধিতে তাঁর সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘পরবর্তিতে আমাদের প্রয়োজন অনুসারে আমরা আরো বিমান ক্রয় করবো। তবে, এর মাঝে আমি আরো চাচ্ছি দুটো কার্গো বিমান আমাদের নেওয়ার জন্য। যাতে আমাদের আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পায়।’তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই দুটি কার্গো বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, এটাও ঠিক আমাদের দেখতে হবে কোথা থেকে ভাল পাওয়া যায়, ভাল দামে পাওয়া যায়-সেটাও আমাদের বিবেচনা করতে হবে।উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজটিতে আরোহণ করেন ও ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন।এ উপলক্ষ্যে দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক, বিমানের বোর্ড অব ডিরেক্টরস’র চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মাদ এনামুল বারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ক্যাপ্টেন ফরহাত হাসান জামিল স্বাগত বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি চুক্তি করে। ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি ৭৩৭-৮০০ এবং ৩টি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। ‘রাজহংস’ নামের চতুর্থ ড্রিমলাইনারটি আগামী মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সবক’টি ড্রিমলাইনারের নামকরণ করেছেন। বাঙালি জাতির জন্যই অত্যন্ত কষ্টের, বেদনার মাস হিসেবে আগস্টকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ভাষণের শুরুতেই জাতির পিতা, ১৫ অগাস্টের সকল শহীদ, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা ২ লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রতিষ্ঠান এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার সময়ই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিমান সংস্থা গড়ে তোলেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পান, তাতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই তিনি করে দিয়ে যান। বন্ধু প্রতীম দেশগুলোর থেকে সহায়তা নিয়ে আমাদের বিমান এয়ারলাইন্স তিনি চালু করে দিয়ে যান।’ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমান গাংচিল উদ্বোধন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ এই বিমান উদ্বোধনে এসেছি এই কারণে যে, আমার কেবলই মনে হয় একটু ভাল কাজ, যে কাজে আমার দেশের মানুষের কল্যাণ হবে, মানুষের মঙ্গল হবে, মানুষ স্বস্তি পাবে। সেই কাজটুকু করলে আমার বাবা-মা’য়ের আত্মা শান্তি পাবে এবং নিশ্চই তাঁরা খুশি হবেন। জাতির পিতা বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্যমুক্ত করে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্যই আজীবন কষ্ট স্বীকার করে গেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে দরবারের বাংলাদেশ যেন একটু সম্মান নিয়ে চলতে পারে। বাঙালি জাতি যেন একটি সম্মানীত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সেটাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। এ সময় স্বাধীনতা অর্জনকালে বাংলাদেশের সম্পর্কে বহিঃবিশ্বে প্রচলিত নেতিবাচক মনোভাবের প্রসঙ্গ স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘অনেকেই বলেছিলেন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে কি হবে, এদেশ কখনও উঠে দাঁড়াতে পারবে না। আর ’৭৫ এর ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর সেই প্রচেষ্টাই নেয়া হয়েছিল।’ ‘কাজেই ’৭৫ এর পর আমাদের জীবন থেকে মূল্যবান ২৯টি বছর হারিয়ে যায়, এটাই হলো দুর্ভাগ্যের কারণ যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করতো না,’ যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘অথচ গত ১০ বছর এবং এর আগের ৫ বছরের আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই আমরা একটি উন্নত অবস্থানে নিতে সক্ষম হয়েছি।’ তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য সকলের উন্নত-জীবন-মানের নিশ্চয়তা বিধান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন,‘একদম তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকেও একটা সুন্দর জীবন যেন আমরা দিতে পারি সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং বিমানকে আরো উন্নত করার দিকে সরকারের দৃষ্টি রয়েছে।’ এ সময় সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন এবং নতুন নতুন বিমানবন্দর তৈরিতে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন তিনি। ’৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠনের সময়ই তিনি সিলেট এবং চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ নির্মাণ সহ আধুনিকায়নের করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার এখন কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরী করছে। যেটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যের পথে পড়ায় সেসব গন্তেব্যের মধ্যে চলাচলকারী বিমানগুলো এখান থেকে রিফ্যুয়েলিং এর সুযোগ পাবে এবং পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বালুময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সৌন্দর্যও পর্যটকরা আরো বেশি করে উপভোগ করতে পারবে, বলেন তিনি। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অধিকাংশ গন্তব্যে যাত্রার জন্য বিমানের ফ্লাইট চালু সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ধাপে ধাপে বিশ্বের আরো অন্যান্য দেশে বিমান যেন যেতে পারে তার ব্যবস্থা আমরা করছি।’ বাইরে থেকে টাকা ধার না করে বিমান কেনার জন্য স্বাবলম্বি হওয়ার প্রতিও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতের মত বিমান কেনার জন্য কারো মুখাপেক্ষী না থেকে, অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার না করে, নিজেদের ব্যাংকের টাকা ঋণ নিয়েই বিমান ক্রয় করবো। তাই ধাপে ধাপে আমরা এগুচ্ছি। অর্থাৎ আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে চলতে চাই এবং দেশকে জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলবে।’ তিনি এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের জন্য রক্ত দিয়ে গেছেন। তাঁর রক্তঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।’

 

ভারত নয় পাকিস্তান যুদ্ধের চেষ্টা করছে- ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ ভারত নয় পাকিস্তান যুদ্ধের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভারত যখন কিছুই করছে না, তখন পাকিস্তান চরমপন্থা যুদ্ধের প্রচেষ্টা করছে। বুধবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, দেখুন, ভারত তাদের সঠিক অবস্থানে রয়েছে, তারা এটা নিয়ে কোনো যুদ্ধ করছে না। পাশেই পাকিস্তান, তারা এটা নিয়ে যুদ্ধ করছে, খুবই ছোট… এটা ঠিক না। যুক্তরাষ্ট্র সাত হাজার মাইল দূরে। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে সরে এসেছে। এ সময় ট্রাম্প অন্যান্য দেশগুলোকে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আহ্বান জানান। ইরাকের আইএস পুনর্বাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রপতি এ বিবৃতি দেন। মার্কিন প্রশাসন সিরিয়া, ইরাক এবং আফগানিস্তানে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সেনা হ্রাস করেছে। ট্রাম্প বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে রাশিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, তুর্কি তারা তাদের মধ্যেও যুদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা খিলাফতকে শতভাগ মুছে দিয়েছি। আমি রেকর্ড সময়ে এটি করেছি। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ে অন্যান্য সব দেশ, যেখানে আইএসআইএস প্রায় রয়েছে…আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেছি। কারণ আমরা কি সেখানে আরও ১৯ বছর থাকতে চাই? আমি তা মনে করি না। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

সব অনিয়মে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে – টিআইবি

ঢাকা অফিস ॥ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘দেশে সব অনিয়মের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বলতে দ্বিধা নেই যে, এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় না। আইনের রক্ষকরাই এর ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশে।’ তবে তাই বলে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সৎ কর্মকর্তার অভাব নেইও বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি যোগ করেন, ‘এ কথা আমরা কখনোই বলি না যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সৎ কর্মকর্তা নেই। অনেকেই আছেন যারা ইতিমধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হচ্ছেন।’ এ ধারা অব্যাহত থাকলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাম পরিবর্তন করে আইন লঙ্ঘনকারী সংস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের অনেকেই আইন ভঙ্গ করে নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছেন বলে রিপোর্ট পাচ্ছি আমরা। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা দেখছি, সব ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্টতা, যোগসাজশ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কার্যকরভাবে বিষয়টি প্রতিহত না করা হলে আমরা আশঙ্কা করছি যে, একটা সময় চলে আসবে তখন সংস্থাটির নামটা পরিবর্তন করতে হবে।’ তবে সেই অবস্থা দেখতে চান না জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমরা চাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো কর্মকর্তা অপরাধে যুক্ত রয়েছেন প্রমাণ মিললে তার বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’ কিন্তু সে তদন্তে ঘাটতি আছে জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দেখি বিভাগীয় তদন্ত হয়। তাতে সর্বোচ্চ যে সাজা দেয়া হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্লোজড করা হয় অথবা বদলি করা হয়। বড়জোর রিটায়ার্ড করে দেয়া হয়।’ -এমন শাস্তিতে অভিযুক্তকে পুরস্কৃত করা হয় বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এমন বিচারে তো সমাধান হল না। সমাধানের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে।’ জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির সুপারিশের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিতের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী সদস্য আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিনা হক, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামছুল হুদা, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশের সমন্বয়ক তামান্না হক রিতি প্রমুখ।

দুর্যোগ সহনীয় ঘর হস্তান্তর

তালা খুলে সবাইকে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী বিধবা সালেহা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত দুর্যোগ সহনীয় ঘর হস্তান্তর শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ উপজেলা সদকী ইউনিয়নের হিজলাকর এলাকার হতদরিদ্র বিধবা সালেহা খাতুনের হাতে দুর্যোগ সহনীয় ঘরের চাবি তুলে দেন। এ সময় পৌর সভার মেয়র মো: সামছুজ্জামান অরুণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান, সহকারি কমিশনার (ভুমি) মুহাম্মদ নূর- এ আলম সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। কুমারখালী উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১টি দুই কক্ষ বিশিষ্ট থাকার ঘর, ১টি রান্না ঘর ও ১টি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘর বুঝে পেয়ে হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী ও বিধবা সালেহা খাতুন ভীষন খুশি হয়েছেন। সাংসদের হাত থেকে চাবি নিয়ে ঘরের তালা খুলে সবাইকে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন সালেহা খাতুন। এ সময় হতদরিদ্র (সালেহা খাতুন) বলেন, ভাঙ্গা ঘরে ঝড়, বৃষ্টি ও শীতে খুব কষ্ট করে থাকতাম। সরকারের দয়ায় পাকা ঘর পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, কুমারখালীর ১১টি ইউনিয়নের ২০ জন প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আর কয়েকদিনের মধ্যে ঘরগুলো বাসিন্দাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দৌলতপুর আওয়ামী লীগের শোকসভায় এমপি বাদশা

৭১’র পরাজিত শক্ররা এখনও সক্রিয় রয়েছে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা আর আঘাত হানতে পারবেনা

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশা দৌলতপুর আওয়ামী লীগের শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, স্বাধীনতার পরজিত শক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে বাংলাদেশ থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর নাম গাঁথা রয়েছে। তিনি বলেন, আমারা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ভালবাসার সংগঠন আওয়ামী লীগের সাথে আছি। কিন্তু ৭১’র পরাজিত শক্ররা এখনও সক্রিয় রয়েছে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ওই পরাজিত শক্ররা আর আঘাত হানতে পারবেনা। তাই নিজেদের মধ্যে বিভেদ যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। এমপি বাদশা বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ঘাতকের দল ১৯বার হত্যার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা পারেনি কারন শেখ হাসিনা মানে আওয়ামী লীগ আর শেখ হাসিনা তার কর্মের মাধ্যমে প্রমান করেছে আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের দল। তিনি আরও বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তর ঋণ, ২ লক্ষ মানুষের সম্ভ্রমহানি আর কোটি মানুষ গৃহহারা হওয়ার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে ও তাঁর নেতৃত্বে এদেশ স্বাধীন হয়। অথচ সেই স্বাধীন দেশে ঘাতকের দল ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১আগষ্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রানে বাঁচলে ঘাতকদের গ্রেনেডে শহীদ হয়েছেন আইভি রহমানসহ ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা আর ৫’শ জন নেতা-কর্মী স্পি­ন্টারের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। সরওয়ার জাহান বাদশা এমপি দৌলতপুর আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করে এবং ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী দিনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মনে রাখতে হবে জননেত্রী শেখ হাসিনা আছে বলে আমরা বেঁেচ আছি। সবশেষে এমপি বাদশা ৭৫’র ১৫ আগষ্ট ও ২০০৪’র ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে উপস্থিত দৌলতপুর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা দিবসের শহীদদের স্মরণে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের শোক সভায় এমপি সরওয়ার জাহান বাদশা এসব কথা বলেন। দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন আওয়ামী লীগ সাবেক এমপি নেতা আফাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শোকসভায় প্রধান বিশেষ অতিথি ছিলেন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ¦ রেজাউল হক চৌধুরী, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন। শোক সভায় বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শেলি দেওয়ান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান খান সুমন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগে তথ্য গবেষনা সম্পাদক টিপু নেওয়াজ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম, দৌলতপুর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, জেলা পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দিন মাষ্টার, পিয়ারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু, জেলা পরিষদ সদস্য মায়াবী রোমাঞ্চ মল্লিক, দৌলতপুর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর, দৌলতপুর যুবলীগ নেতা ওয়াসিম কবিরাজ ও দৌলতপুর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক চঞ্চল হোসেনসহ দৌলতপুর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন শোক সভা পরিচালনা করেন। শোকসভায় দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেয়। উপজেলা পরিষদ মাঠে শোকসভা হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহওয়ার কারনে পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর আওয়ামী লীগের এ শোক সভায় দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতি দৌলতপুর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ তা প্রমান হয়েছে বলে নেতা-কর্মীদের বক্তব্যে তা উঠে এসেছে।

ফিরতে রাজি হয়নি কেউ, শুরু হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নিয়ে চীন ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় আলোচনা চালানোর পরও রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমাদের দিক থেকে তো আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকায় থাকা ১০৩৭টি পরিবারের মোট ৩৫৪০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেউ এখনও স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি হননি।” এ পর্যন্ত ৩৩৯টি পরিবারের একজন করে প্রতিনিধির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া চলবে। কেউ স্বেচ্ছায় রাজি হলে তাকে ফেরত পাঠাতে আমরা প্রস্তুত। ওই সময়ের আগে আমরা বলতে পারব না যে আজ প্রত্যাবাসন হচ্ছে না।” রাখাইনের গ্রামে গ্রামে হত্যা-ধর্ষণ আর  ব্যাপক জ্বালাও পোড়াওয়ের মধ্যে প্রাণ হাতে করে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গারা ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত চারটি শর্তের কথা বলছেন। তাদের দাবি, প্রত্যাবাসনের জন্য আগে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। জমি-জমা ও ভিটেমাটির দখল ফেরত দিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাখাইনে তাদের সঙ্গে যা হয়েছে, সেজন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।  এর আগে গতবছর ১৫ নভেম্বর একইভাবে প্রত্যাবাসন শুরুর সব প্রস্তুতি নিয়ে দিনভর অপেক্ষা করার পরও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা তৈরি না হওয়ায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়। এবার মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা হলেও দুই বছর ধরে চলা এ সঙ্কট সমাধানের দ্বিতীয় দফা চেষ্টাও দৃশত ব্যর্থ হল। অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন হাল ছাড়তে রাজি নন। দুপুরে ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি। সমস্যা মিয়ানমারের, সমাধানও তাদেরই করতে হবে। আমরা জোর করে কিছু করব না।” নিজেদের দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি আজ থেকে প্রক্রিয়াটা শুরু হোক। এরপরও আমরা প্রক্রিয়াটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।” মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা; এই সংখ্যা কিছু দিনের মধ্যে সাত লাখ ছাড়ায়। আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। তাদের কক্সবাজারের কয়েকটি কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও নানা কারণে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত গতবছর ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরুর তারিখ ঠিক হলেও নতুন করে নিপীড়নের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা থেকে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর দুই সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা থেকে ৩ হাজার ৪৫০ জনকে রাখাইনের অধিবাসী হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের ফেরত নিতে রাজি হওয়ার কথা জানায় মিয়ানমার।প্রত্যাবাসনের তারিখ ঠিক হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে তালিকায় থাকা শরণার্থীদের কক্সবাজারের ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রেখে টেকনাফের শালবাগান এলাকার ২৬ নম্বর ক্যাম্পে শুরু হয় সাক্ষাৎকার।ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ যৌথভাবে এই রোহিঙ্গাদের কাছে জানতে চায়, তারা ফিরতে ইচ্ছুক কি না? পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করার জন্য মিয়ানমারের দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা ও চীনা দূতাবাসের দুইজন কর্মকর্তা কক্সবাজারে রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও আছেন তাদের সঙ্গে।

রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহ দুঃখজনক – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নিপীড়নের মুখে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি না হওয়াকে ‘দুঃখজনক’ বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। একদফা পেছানোর পর বৃহস্পতিবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও দুপুর পর্যন্ত কেউ ফিরতে রাজি না হওয়ায় বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ প্রতিক্রিয়া জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার চেয়েছে বৃহস্পতিবার থেকেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক। কিন্তু রোহিঙ্গারা যে যেতে চাচ্ছে না- ‘এটা দুঃখজনক। এটা আমরা প্রত্যাশা করি না’। তবে বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি বলার জন্য বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মোমেন জানান। প্রত্যাবাসন শুরু না হলে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এরপরও আমরা প্রক্রিয়াটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। আমরা জোর করে কিছু করব না। “আমরা প্রস্তুত, আমাদের কোনো গাফিলতি নাই। আস্থার যে ঘাটতি আছে সেটা দূর করতে মিয়ানমারকেই কাজ করতে হবে। আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি।” প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম দেখতে মিয়ানমার ও চীনের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত প¬্যাকার্ড প্রদর্শন ও লিফলেট বিলির প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “কারা প¬্যাকার্ড বা লিফলেট করে দিচ্ছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি।“তারা বিভিন্ন ডিমান্ড করছে। তাদের ডিমান্ডের কাছে আমরা জিম্মি হতে পারি না।”রোহিঙ্গা এখানে রয়েছে, সেকারণে ফিরে যেতে চাইছে না- এ মন্তব্যে মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার অনেক টাকা খরচ করেছে। আগামীতে হয়ত এই আরাম থাকবে না।রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতিসহ মিয়ানমারের রাখাইনের পরিস্থিতি ঘুরে দেখার জন্য একটা কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।এর আগে গতবছর ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরুর সব প্রস্তুতি নিয়ে দিনভর অপেক্ষা করার পরও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা তৈরি না হওয়ায় সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়।তারা বলছেন, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে তাদের নাগরিকত্ব, জমি-জমা ও ভিটেমাটির দখল, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এক বছর আগের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা থেকে ৩ হাজার ৪৫০ জনকে রাখাইনের অধিবাসী হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের ফেরত নিতে রাজি হওয়ার কথা গত সপ্তাহে জানায় মিয়ানমার।এরপর গত তিন দিন ধরে ইউএনএইচসিআরকে নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী কমিশনারের কার্যালয় ফেরার বিষয়ে মনোভাব জানতে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচিত শরণার্থীরা কক্সবাজারের ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর শিবিরে আছেন। গত দুদিনে ২৩৫ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর বৃহস্পতিবারও সাক্ষাৎকার চলছিল।

আগে রাত ২টার পর্যন্ত টহল চললেও এখন সকাল পর্যন্ত টহল বাধ্যতামূলক

৬ মাসে ২ ডাকাতির ঘটনায় ১০জন ডাকাত গ্রেফতার 

৫ মহাসড়ক ডাকাতমুক্ত করতে কুষ্টিয়া পুলিশের কৌশলে পরিবর্তন, সুফল পাচ্ছে যানবাহন চালক ও যাত্রীরা 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আগে কিছুদিন পরপরই কুষ্টিয়ার ৪টি মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে ডাকাতি হতো। মহাসড়কে গাছের গুড়ি ফেলে অস্ত্র ঠেকিয়ে যাত্রীদের সব কিছু লুটে নেয়া হতো। তবে ডাকাত নির্মূল ও ডাকাতি বন্ধে রাতের টহলে কিছু পরিবর্তন আনে পুলিশ। আগে রাত ২টার পরে সড়কে থানা পুলিশের টহল থাকতো না। এর এ সুযোগটা নিত ডাকাত দলের সদস্যরা। ফজরের নামাজের আগ দিয়ে তারা ডাকাতি করে দ্রুত সটকে পড়তো। তবে এবার পুলিশ সুপারের নির্দেশে ফজরের নামাজের পরেও টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে জেলায় ডাকাতি প্রায় শুণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তারপরও বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতরা তৎপর রয়েছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা সড়কের পাটিকাবাড়ি এলাকায়, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কের মহিষডাঙ্গা ও শান্তিডাঙ্গায়, কুষ্টিয়া মেহেরপুর সড়কের মশান ও কাতলাগাড়ি, কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ভেড়ামারার বারমাইল ও লালন শাহ সেতু পয়েন্ট বেশ কিছুদিন আগেও নিয়মিত ডাকাতি হতো। পুলিশের সাথে ডাকাতদের সখ্যতার অভিযোগ ওঠে। ঘনঘন ডাকাতি হওয়ার এইসব সড়কে যাতায়াতকারি যানবাহন চালক ও যাত্রীরা আতঙ্কে থাকতো। এতে জেলা পুলিশের দায়িত্ব নিয়ে আইন শৃংখলা কমিটির সভায় নানা প্রশ্ন উঠে।

তবে সেই দৃশ্যপট অনেকটা বদলে গেছে। এসব সড়ক যানবাহন চালক ও যাত্রীদের জন্য নিরাপদ করতে পুলিশ তাদের নিত্যদিনের টহলে কিছু পরিবর্তন আনে। বিশেষ করে যাতে রাতের বেলার বাইরের কোন জেলা থেকে ডাকাত এ জেলায় প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য মধ্যরাত থেকে শুরু করে ফজরের নামাজ না হওয়া পর্যন্ত সড়কে চেক পোষ্ট বসিয়ে তল্লাসী শুরু করা হয়। এছাড়া বিশেষ টহল বসানো হয় সড়কে। ফোর্সরা যাতে ফাঁকি না দেয় সে জন্য পুলিশ সুপার নিজে মনিটরিং করেন নিয়মিত।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আগে বাইরের জেলা থেকে ডাকাত জেলায় ঢুকে ডাকাতি করে চলে যেত। স্থাণীয় ডাকাতরা তাদের সহযোগিতা দিয়ে আসতো। বিষয়টি জানার পর প্রবেশ পথগুলোতে টহল জোরদার করা হয়। আগে পেট্রল টিম রাত ২টার পর ঘুমিয়ে পড়তো, এখন সারারাত জেগে পাহারা দেয়া লাগে। কারণ ডাকাতি হয় নামাজের আগে। পুলিশ টহল এ সময়টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে সুফল পাওয়া যা”েচ্ছ। সড়কে ডাকাতি প্রায় শুণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে।’

কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম বলেন, মিরপুর-মেহেরপুর  রুটের কয়েকটি স্থান রয়েছে সেখানে আগে ডাকাতি হতো। লোকজন রাতে ভয়ে এ সড়কে চলাচল করতে ভয় পেত। এখন টহলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান এসপি স্যার রাত ২টার নিয়ম ভেঙ্গে সারারাত পাহারার ব্যবস্থা করেছে। এতে ডাকাতি প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

এছাড়া গত এক বছরে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ডাকাতদের অনেকে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। ভয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এর মাঝে ঈদের আগে ভেড়ামারা থানার লালন শাহ সেতু সংলগ্ন এলাকায় গরু বিক্রি করে আসার সময় ব্যাপারিদের গাড়িতে ডাকাতি হয়। পুলিশ এক সপ্তাহের মধ্যেই ডাকাতদের গ্রেফতার করে। এরা সবাই নতুন ডাকাত বলে পুলিশ জানিয়েছে। এক গরু ব্যাপারীর সাথে আঁতাত করে তারা এ কাজ করে। এছাড়া মিরপুরে আরেকটি ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ ৪জনকে গ্রেফতার করে। এসব ঘটনায় খোয়া অর্থ উদ্ধার করে পুলিশ।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আগে থানার ওসিরা ডাকাতদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেত। এতে তারা আবার একই কাজে জড়িয়ে পড়ত। তবে এখন ডাকাতদের বিরুদ্ধে শক্ত আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

কুষ্টিয়ার আইলচারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগে কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা সড়কের স্টিলের ব্রীজের কাছে প্রায়ই ডাকাতি হতো। তবে পুলিশের কিছু পদক্ষেপের ফলে সড়কটি এখন নিরাপদ। সব সময় যাতে সড়কটি নিরাপদ থাকে সেজন্য পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান করেন তিনি।

তবে ৪টি মহাড়সকে ডাকাতি বন্ধ হলেও জেলার খোকসা উপজেলার পাংশা সীমান্তে মাঝে মধ্যেই ডাকাতি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও সড়কে ডাকাতি হয়েছে। খোকসা উপজেলা ২০০গজ দুরেই ফাঁকা এলাকায় গাছ ফেলে ডাকাতি হচ্ছে। এর আগে এখানে বন্দুকযুদ্ধে বেশ কয়েকজন ডাকাত নিহত হয়।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, ডাকাতরা সাধারন সড়কে ডাকাতি করে ভোরের দিকে। তাই পুলিশের টহল ও চেক পোষ্টে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার কারনে ডাকাতরা সুবিধা করতে পারছে না। জেলাকে ডাকাতমুক্ত করতে কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৌশলে পরিবর্তণ আনায় সফল হচ্ছে পুলিশ। আর সারারাত সড়ক নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারছে যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।’

কুষ্টিয়ায় শুভ জন্মাষ্টমীর প্রস্তুতিমূলক সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথী উদ্যাপন করা হবে

সুজন কর্মকার ॥ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৫তম আবির্ভাব তিথী শুভ জন্মাষ্টমী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা গতকাল বুধবার বিকেল ৪ টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। তিনি বলেন উৎসবমুখর পরিবেশে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথী শুভ জন্মাষ্টমী উদ্যাপন করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান, কুষ্টিয়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী, জিপি এ্যাডঃ আ.স.ম আক্তারুজ্জামান মাসুম, জেলা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট’র সহকারী পরিচালক তোফাজ্জেল হোসেন, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ সাহা, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ্যাডঃ সুধির কুমার শর্মা, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডঃ জয়দেব বিশ্বাস, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ রমেশ চন্দ্র দত্ত, কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সাহা, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন পাল, সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি চন্দন স্যান্নাল পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত সিংহ রায়, আইন সম্পাদক এ্যাডঃ শংকর কুমার মজুমদার, সহ-আইন সম্পাদক এ্যাডঃ শীলা বসু (এ.জি.পি), হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মন্ডলী ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মিহির চক্রবর্তী প্রমুখ।

২১ আগস্টের হামলায় আ. লীগ জড়িত কি না – প্রশ্ন রিজভীর

ঢাকা অফিস ॥ একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় এই দলটিই জড়িত কি না সেই প্রশ্ন করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এই হামলায় প্রাণ হারান আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভী রহমানসহ ২৪ জন। আহত হয়েছিলেন কয়েকশ মানুষ, যাদের অনেককে এখনও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে ওই হামলার ক্ষত। ভয়াবহ এই হামলায় সম্পৃক্ততার দায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ- এবং খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয় আদালত। ওই হামলার ১৫ বছর পূর্তিতে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “প্রকৃত সত্য, প্রকৃত ঘটনা সবাই জানেন। এটা (২১ আগস্টের ঘটনা) গভীর নীল নকশার অংশ, যে নীল নকশার সাথে ক্ষমতাসীনরা জড়িত কি না এটা আজকে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। “এটা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের নীল নকশার মাস্টার প্ল্যানকারী হচ্ছে তারাই যারা ক্ষমতাসীন- এটাই মানুষ মনে করে।” এই মামলার ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ তদন্ত হয়নি দাবি করে রিজভী বলেন, “সামগ্রিক তদন্ত হওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া- সেগুলোকে বাধা দিয়ে এবং একটার পর একটা যে ঘটনা আমরা অনেকবার তুলে ধরেছি যে, সম্পূরক চার্জশিট নিয়ে এসে তারেক রহমান সাহেবের নাম দেওয়া হয়েছে। তার আগে যে চার্জশিট দিয়েছিল তাদেরই আন্দোলনের ফসল সেখানে তারেক রহমান সাহেবের নাম ছিল না। জোর করে, পিটিয়ে, হাতের নখ তুলে যাদের দিয়ে (স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি) নাম দিয়েছেন তারা ক্ষমতায় এসে।” রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে তো ‘পাহাড়ের উপর দিয়ে নৌকা বইয়ে’ নিয়ে যাওয়া যায় মন্তব্য করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “তারা তো তাই করেছে। যদি সুশাসন থাকত, ন্যায়বিচার থাকত, আইনের শাসন থাকত তাহলে প্রকৃত অপরাধী যারা তাদেরই বিচার হত। পরিকল্পিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান সাহেবের নাম জড়ানো হয়েছে।” আওয়ামী লীগের সমাবেশে ওই হামলায় ‘হতভম্ব’ হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান রুহুল কবির রিজভী। হামলায় তাদের দল ও সরকারের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, “যে কোনো সরকারের আমলেই নানা কুচক্রী, নানা ধরনের ষড়যন্ত্রকারীরা ঘটনা ঘটাতে পারে। এই আওয়ামী লীগের আমলে পিলখানা হত্যাকা- হয়েছে না? তাহলে পিলখানা ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী, ২১ অগাস্টের ঘটনার জন্য যদি বিএনপি দায়ী হয়ে থাকে। আপনার নাইন ইলেভেন ঘটনা ঘটেছে আমেরিকাতে, টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে গেছে। কোথায় যারা সরকারে ছিল বিরোধী দল তো অভিযোগ করেনি যে, তাদের কারণে হয়েছে। “এটা বিশ্বব্যাপী যে ধরনের হানাহানি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে- কখন কোথা থেকে কী হয়েছে- সেটা কে বলতে পারবে?” আওয়ামী লীগই বিভাজন-বিভেদ ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, “এখন তো মনে হয় এই ঘটনা (২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলা) তাদেরই পরিকল্পিত ছিল কি না সেটা আজকে জনমনে প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে।”ওই হামলার সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারও সম্পৃক্ততা ছিল বলে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “দেখুন এই যে বললাম, সমস্ত ক্ষমতা তাদের হাতের মুঠোয়। তারা তো যা-ইচ্ছা তাই করতে পারেন। প্রকৃত সত্য, প্রকৃত ঘটনা সবাই জানেন।“এটা গভীর নীল নকশার অংশ, যে এই নীল নকশার সাথে তারাই (আওয়ামী লীগ) জড়িত কি না ক্ষমতাসীনরা-এটা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নজমুল হক নান্নু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মুনির হোসেন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, আবদুল খালেক, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরে তাল গাছের চারা বিতরণকালে এমপি বাদশা

জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেককেই একটি করে তাল গাছ রোপন করার আহ্বান

শরীফুল ইসলাম ॥  প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক দূর্যোগ বজ্রপাত থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তাল গাছের চারা রোপন ও বিতরন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দীন রিমন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান খান সুমন, দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য মায়াবী রোমান্স মল্লিক ও আওয়ামীলীগ নেতা সরদার আতিয়ার রহমান আতিক প্রমুখ। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী দেশের প্রাকৃতিক দূর্যোগ বজ্রপাত থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সারা দেশে এ কার্যক্রম চলছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। এ কর্মসূচী সফল ভাবে বাস্তবায়ন হলে আমাদের দেশে প্রতি বছর যে পরিমান মানুষ বজ্রপাতে মারা যায় তা অনেকাংশে রোধ করা যাবে। তাই জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেককেই একটি করে তাল গাছ রোপন করা উচিৎ। সকলকে একটি করে তাল গাছ লাগাতে উপস্থিতদের প্রতি আহবান করেন সাংসদ আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা। তালগাছের বিতরণ অনুষ্ঠানের পূর্বে  উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাল গাছের চারা রোপন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাংসদ আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর এ কার্যক্রমের বাস্তবায়ন করছে। দৌলতপুরের প্রতিটি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্নস্থানে তালগাছের চারা রোপনের জন্য ৫ হাজার তাল গাছের চারা বিতরন করা হয়।

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে দৌলতপুরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে  পুষ্পস্তবক অর্পন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এমপি সরওয়ার জাহান বাদশাসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পন করেছেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশা প্রথমে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকিৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দৌলতপুর উপজেলা শাখা, সাবেক এমপি আলহাজ¦ রেজাউল হক চৌধুরী, দৌলতপুর ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতিতে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এসময় দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন, সহ-সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ¦ রেজাউল হক চৌধুরী, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার তৌহিদুল ইসলাম, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান খান সুমনসহ দৌলতপুর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের পূর্বে এমপি সরওয়ার জাহান বাদশাহ্’র নেতৃত্বে একটি শোক র‌্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে।

কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে পাকিস্তান

ঢাকা অফিস ॥ কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। চলতি মাসের প্রথমদিকে কাশ্মীরের ভারতীয় অংশের বিশেষ মর্যাদা নয়া দিল্লি বিলোপ করার পর মঙ্গলবার দেশটি একথা জানিয়েছে বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। নয়া দিল্লির ওই পদক্ষেপে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যান চলাচল বন্ধ করে এবং ইসলামাবাদ থেকে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি এআরওয়াই নিউজ টেলিভিশনকে বলেন, “আমরা কাশ্মীরের ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সব আইনি দিক বিবেচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এই মামলাটিতে কেন্দ্রীভূত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন করার কথা অস্বীকার করেছে ভারত। এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নিবে কিনা সেটি পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী হচ্ছে, কাশ্মীর বিষয়ে বহুপক্ষকে যুক্ত করে কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না। উত্তর হচ্ছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সরাসরি আলোচনা।”