১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা উপলক্ষে

বিশৃংঙ্খলা ঠেকাতে কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের টহল মোতায়েন জোরদার

নিজ সংবাদ ॥ বিশৃংঙ্খলা ঠেকাতে কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের টহল মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে। আজ ৮ নভেম্বর ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা উপলক্ষে, দুঃস্কৃতিকারীরা কোন বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে উপলক্ষে র‌্যাব-১২, সিপিসি-১ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (এক্স), বিএন মোঃ রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে র‌্যাবের বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। র‌্যাব জানায়, দুঃস্কৃতিকারীরা কোন বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। র‌্যাবের বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরতলীর চৌড়হাস এলাকায় বিপুল সংখ্যক র‌্যাবের টহল মোতায়েন জোরদার করা হয়।

সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের

ভোট পেছানোর প্রস্তাবে অপশক্তি ফেরানোর বাহানা

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নির্বাচন পিছিয়ে সরকারের মেয়াদপূর্তির পরের ৯০ দিনে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার আদলে ভোট করার দাবি তুলেছেন জানিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এর পেছনে তারা ‘অপশক্তিকে’ ফেরানোর বাহানা দেখতে পাচ্ছেন। নির্বাচন সামনে রেখে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদেরের এই প্রতিক্রিয়া আসে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “সংবিধানের বাইরে যাব না। পরিষ্কার করে বলে দিয়েছি, এটা মেনে নেওয়ার মত সংবিধানসম্মত কোনো কারণে নেই।” ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে গত ১ নভেম্বর সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপে সাত দফা দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় বুধবার ‘সীমিত’ পরিসরে দ্বিতীয় দফার এই সংলাপে বসেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে বেলা ১১টা থেকে তিন ঘণ্টার এই সংলাপে দুই পক্ষেই ১১ জন করে অংশ নেন। ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদের গণভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতারা তাদের সাত দফা দাবি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মধ্যে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের অনুমতি, সত্যিকারের রাজনৈতিক মামলা থাকলে তা প্রত্যাহারের মত কয়েকটি বিষয়ে আওয়ামী লীগ একমত হয়েছে।  ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে কাদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট সরকারের মেয়াদ শেষে পরের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়ে বলেছে, একজন প্রধান উপদেষ্টা এবং দশজন উপদেষ্টাকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে ওই নির্বাচন হতে হবে।  ওই প্রস্তাব আওয়ামী লীগ প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়ে কাদের বলেন, “হয়ত তাদের অনেকের একটা সদিচ্ছা আছে। এটা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটা বাহানা। এই পিছিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ফাঁক ফোকর হয়ত খুলে দেওয়া হচ্ছে। যেখান দিয়ে তৃতীয় কোনো অপশক্তি এসে ওয়ান ইলেভেনের মত সেই অনভিপ্রেত অস্বাভাবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। আমরা সবাই মনে করছি।” প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে কাদের বলেন, “আমাদের দলনেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের নেতাদের অনুরোধ করেছেন, ‘আপনারা আসেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করি, দেখিয়ে দেব, আমি যা বলেছি সেটা সত্যি। আমরা দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণামূলক অভিসন্ধি নিয়ে কাজ করি না’। “‘জনগণ যদি আমাকে ভোট দেয়, আমি থাকব। আপনারা জিতলে আপনারা জিতবেন। কোনো প্রকার নির্বাচনে কারচুপি, জালিয়াতি হবে না । একটা ভালো নির্বাচন হবে… ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হবে, ক্রেডিবল ইলেকশন হবে, একসেপটেবল ইলেকশন হবে।” সংলাপের পরেও প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের জেষ্ঠ নেতাদের আলাদাভাবে একই কথা বলেছেন বলে জানান কাদের। “তিনি বলেছেন, ফ্রি, ফেয়ার, নিউট্রাল ইলেকশন আমরা বাংলাদেশে দেখতে চাই। আজকে নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে গিয়ে ফাঁক ফোকড় গলে কোনো অপশক্তিকে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেবেন না। যেটা আপনাদের জন্য ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, আমাদের সকলের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।”

মীরের ১৭১তম জন্মবার্ষিকীর প্রস্তুতিসভায় ডিসি আসলাম হোসেন

যথাযোগ্য মর্যাদায় মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী পালন করা হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, সাহিত্য সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় সামাজিক এবং রাজনৈতিক কারনে বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি জাতিকে একেবারেই কোন ঠাসা অবস্থা থেকে মুক্তি দিতেই কালজয়ী ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট না হয়ে মুসলিম ও বাংলা ভাষাভাষী সাহিত্যাঙ্গনে নতুন যুগের সৃষ্টি করেছিলেন। সে সময়ের ইউরোপীয় ভাবধারায় মুসলমানরা নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না কোন ভাবেই। মীরের লেখা সাহিত্য সৌধের অমর কথা সাহিত্য দিয়ে বাঙালীদের দৃষ্টি ভিন্নপথে পরিচালিত করতে মীরের অবদান অবিস্মরণীয়। গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে মীর মশাররফ হোসেনের ১৭১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, উনিশ শতকে মুসলমানদের দেশকাল,  দেশপ্রেম চেতনার অভাব ছিল দারুন। এসব পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে চরমপত্র ও কান্ডারী হিসেবেই তিনি বিষাদসিন্ধু রচনা করেন। ইতিহাসের কালের পাতায় অনেক কিছুর পরিবর্তন-পরিবর্ধন ঘটলেও কালজয়ী ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতি রক্ষাতে তেমন কিছুই হয়নি কুষ্টিয়াতে। বাংলা ভাষাভাষী সাহিত্যাঙ্গনের এই কালজয়ী লেখক মীর মশাররফ হোসেনের সম্পর্কে আগামী প্রজন্মদের জানাতে আগামী ১৩ নভেম্বর এবারে তাঁর ১৭১তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার সোহেল রহমান, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট কলামিস্ট ও লেখক শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুর রশিদ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ,  জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনন্দ কিশোর সাহা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার হাজী রফিকুল আলম টুকু, বিশিষ্ট লেখক ও কবি আলম আরা জুঁই, চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হাসান রিন্টু, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক, আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান,  মীর মশাররফ হোসেনের উত্তরাধিকারী মীর মাহবুবুল আরিফ, জেলা কালচারার কর্মকর্তা সুজন রহমান, দিশা’র পরিচালক এমআর ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান প্রমুখ। আলোচনা শেষে বিভিন্ন উপ-কমিটির মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৩দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলা, মীরের উপর শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নাটক, আলোচনা সভা ও প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দৌলতপুরের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ডিজিটি বাজার, আদাবাড়িয়া বাজার, তেকালা বাজার ও ধর্মদহ বাজারে পৃথক এসব পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন, হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল¬াহেল বাকী, এমপি পুত্র ইমরান চৌধরী কলিংস, দৌলতপুর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আয়েজ উদ্দিন মাষ্টার, হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হবিবর রহমান লস্কর, স্থানীয় আওয়ামলীগ নেতা আব্দুল মজিদ মেম্বর, দিলিপ কুমার, আজগর আলী মেম্বর, তোতা মেম্বর, নান্টু মেম্বর, আলাউল মেম্বর ও কামরুল ইসলাম। সভায় নেতৃবৃন্দ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরীকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়ে তাকে পুনরায় নির্বাচিত করে দৌলতপুরের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাসহ এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এছাড়াও আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গ্রামে নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করেন এমপি পুত্র ইমরান চৌধরী কলিংস-এর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

আজ থেকে কুষ্টিয়ায় শুরু হচ্ছে তিন দিনের জাতীয় নজরুল সম্মেলন

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ॥ উতসবমুখর পরিবেশ

নিজ সংবাদ ॥ আজ থেকে তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় নজরুল সম্মেলন’ শুরু হচ্ছে সংস্কৃতি রাজধানীখ্যাত কুষ্টিয়ায়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া দিশা টাওয়ার অডিটোরিয়ামে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কালেক্টরেট চত্বর ও দিশা টার্ক এলাকাকে নানা রংয়ের পতাকা ও ফেষ্টুন দিয়ে নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডঃ হারুন-উর- রশিদ আসকারী, মুখ্য আলোচক থাকবেন কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুর রাজ্জাক ভুঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস.এম তানভীর আরাফাত, সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ জেড এম শফিউল হান্নান, দিশার নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম। উদ্বোধনী দিনের আলোচ্য বিষয় “জাতীয় কবি ও জাতির পিতা”। আলোচনায় অংশ নেবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ মাসুদ রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক (উপ-সচিব) আব্দুর রহিম। আলোচনা শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় জেলার এবং দেশ বরেন্য সংগীতজ্ঞ ও কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের প্রশিক্ষানার্থীদের অংশ গ্রহনে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশিত হবে। সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ফাতেমাতুজ জোহরা ও সালাউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া নজরুল গ্রন্থমেলা দিশা টার্কে প্রতি দিন বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। এর আগে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে দিশা টাওয়ারে শেষ হবে।

জাতীয় নজরুল সম্মেলন উপলক্ষে গতকাল বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার সোহেল রহমান, নজরুল একাডেমীর উপ-পরিচালক রেজাউদ্দিন ষ্টালিন উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, কবি নজরুল ইনষ্টিটিউট এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় “নজরুলের অপ্রচলিত গানের সুর সংগ্রহ, স্বরলিপি প্রণয়ন, সংরক্ষণ, প্রচার এবং নবীন প্রজম্মকে উদ্বুদ্ধকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের অওতায় নজরুল সংগীত প্রশিক্ষণ সহ তিন দিনের এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, ৬-১০ নভেম্বর পর্যন্ত ‘শুদ্ধ বানী ও সুরে নজরুল সংগীত প্রশিক্ষক সৃজনের প্রশিক্ষণ কোর্স’ অনুষ্ঠিত হবে। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন নজরুল শিল্পী ফাতেমাতুজ জোহরা ও সালাউদ্দিন আহমেদ। এছাড়া কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ, সরকারী মহিলা কলেজ ও দিশা টাওয়ারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন রাতে দিশা টাওয়ারে জেলার স্থানীয় শিল্পী, দেশবরেন্য সংগীতজ্ঞ ও কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের প্রশিক্ষনার্থীদের অংশগ্রহনে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা প্রশাসক বলেন, মানবতার জয়গানে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ছিলেন উচ্চকন্ঠ, নিপীড়িত মানুষের কন্ঠস্বর,অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। তার আদর্শকে জনগনের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই আয়োজন। জেলা প্রশাসক বলেন- জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের চেতনাকে ধারন করে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নজরুলের ৪হাজার গানের বাণী দালিলিক প্রমাণ দিয়েছে। ২০০ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এখন নজররুল ইনষ্টিটিউট আমাদের মাঝে একটি সমৃদ্ধশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের উচিত হবে কবি নজরুলকে বাঁচিয়ে রাখা। আমরা এধরনের যত অনুষ্ঠান করবো ততই নজরুলের সৃষ্টিকর্ম আমাদের নিকট সমৃদ্ধশালী হবে। কুষ্টিয়ার এই প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার গুণী শিল্পীরা নজরুল সংগীতের   যে ধারনা পাবে তাতে নজরুলের সংগীত আরো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। জেলা প্রশাসক বলেন, সত্যিকারের অর্থে নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয়তাবাদী মুক্ত চেতনার মানুষ। ৩ দিনব্যাপী এই মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের উপ-পরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ ষ্টালিন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল ১০টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে সরকারী মহিলা কলেজ মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিেেসব উপস্থিত থাকবেন কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুর রাজ্জাক ভুঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর  সফিকুর রহমান খান, মুখ্য আলোচক থাকবেন ডঃ লীনা তাপসী খান। আলোচ বিষয়ঃ “নজরুল সংগীতে নারী”। আলোচনা করবেন সরকারী মহিলা কলেজের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক শিশির কুমার রায়, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি আলম আঁরা জুই। সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন প্রকল্প পরিচালক (উপ-সচিব) আব্দুর রহিম। বিকেল ৪টায়  দিশা টাওয়ার অডিটোরিয়ামে কবিতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি রবিউল হুসাইন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুর রাজ্জাক ভুঞা। সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের উ-পরিচালক  শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ ষ্টালিন। সন্ধ্যা ৬টায় জেলার স্থানীয় শিল্পী, দেশবরেন্য সংগীতজ্ঞ ও কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের প্রশিক্ষনার্থীদের অংশগ্রহনে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশিত হবে। ১০ নভেম্বর শনিবার সমাপনী দিনে সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুর রাজ্জাক ভূঞা ও কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর কাজী মনজুর কাদির। মুখ্য আলোচক হিেেসব উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্ম -সচিব) এ,এফ,এম হায়াভুল্লাহ, আলোচনার বিষয়ঃ “বাংলাদেশ নজরুল”। আলোচক থাকবেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ রতন, ও সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আনসার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। বিকেল ৪টায় দিশা টাওয়ার অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদ বিতরন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুর রাজ্জাক ভুঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস.এম তানভীর আরাফাত, সড়ক ও জনপথ বিভাগের  নির্বাহী প্রকৌশলী  রফিকুল ইসলাম, দিশার নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন প্রকল্প পরিচালক (উপ-সচিব) আব্দুর রহিম।  শেষে জেলার স্থানীয় শিল্পী, দেশবরেন্য সংগীতজ্ঞ ও কবি নজরুল ইনষ্টিটিউটের প্রশিক্ষনার্থীদের অংশগ্রহনে সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশিত হবে। এছাড়া অতিথি শিল্পী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ড. লীনা তাপসী খান। এছাড়া “ শুদ্ধ বাণী ও সুরে নজরুল সংগীত প্রশিক্ষক সৃজনের প্রশিক্ষণ’ কোর্স চলবে ৬ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থপনা করবেন কবি ও ছড়াকার রেজাউদ্দিন ষ্টালিন ও শাহনাজ সুলতানা।

১১ নভেম্বর তদন্ত

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের পিডির গাড়ির চালককে প্রহারের ঘটনায় তদন্ত টিম গঠন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের পিডির গাড়ির চালককে প্রহার করার ঘটনা তদন্তে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী ১১নভেম্বর বেলা ১২টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে এই তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন -১ অধিশাখা এর স্মারক নং-৫৯০০০০০০১০৪২৭০০২২০১৮-৬৪২ তারিখঃ ১৬-০৮ ২০১৮ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী ঢাকার স্মারক নং- স্বাঃ অধিঃ/শৃংখলা ১১৭/১৮/১০৭০০ তারিখ ১৪/১০/২০১৮ ইং। এর আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ সুশান্ত কুমার রায়। উল্লেখ্য যে, গত ৫ মার্চ বিকেলে  কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিডির গাড়ির ড্রাইভার ফিরোজ হোসেনকে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ এস.এম মোস্তানজিদ জনসম্মুখে মারধোর করেন। এ ঘটনাটি গত ৮ মার্চ দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় “ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জন সম্মুখে গাড়ির চালককে মারধরের অভিযোগ” শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়। খবরটি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে গেলে এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ সুশান্ত কুমার রায়কে তদন্ত করার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই তদন্তের বিষয়ে ২০অক্টোবর ডাঃ সুশান্ত কুমার রায় স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল বরাবর পৌছেছে। চিঠিতে আগামী ১১নভেম্বর বেলা ১২টায় উক্ত সময় মেডিকেল কলেজের সকল শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং কর্মচারীকে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংলাপে সমঝোতা হয়নি ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনে

ঢাকা অফিস ॥ দুই দফা সংলাপে সাত দফার প্রধান দাবিগুলোতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাড়া না পেয়ে এখন আন্দোলন জোরদার করার কথা বলেছে ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ থেকে ফিরে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সাত দফা আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলনে আছি। কাল পদযাত্রা হবে। পরশু রাজশাহীতে সমাবেশ।” তিনি বলেন, “আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে, তাদের সঙ্গে নিয়েই দাবি আদায় করা হবে।” ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন বলেন, একটি অর্থবহ নির্বাচনের আশা নিয়েই তারা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সংলাপে গিয়েছিলেন। আমরা তো চেষ্টা করে যাচ্ছি, করছি, করে যাব দেশে একটা স্থিতিশীল অবস্থা, একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে সব কিছু হোক। দায়িত্ব তো সরকারের। ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা সংলাপের মাধ্যমে দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছি। আমরা চেয়েছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায় করতে। এখন বল প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে। এরপর যা হবে তার দায়-দায়িত্ব সরকারের। ড. কামাল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সারাদেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে যেসব মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে আর কোনো গায়েবি হয়রানিমূলক মামলা ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বলে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংলাপ শেষে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের কাছে গেছি, সরকার বিষয়গুলো বিবেচনা করে দেখবে। যদি না মানে তাহলে আমাদের কর্মসূচি দেয়া আছে আমরা সেভাবেই আন্দোলন করব। ফখরুল বলেন, আমাদের বলা হয়েছিল আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তাই আমরা জনগণের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। সংলাপ যদি সফল না হয়, কোনো সমাধান না আসে, তাহলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারের। কী ধরনের আন্দোলন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ হবে, এবং পরেরদিন রাজশাহীতে জনসভা হবে। তফসিল ঘোষণার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপ চলতে থাকা অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার তা ঘোষণা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে ঐক্যফ্রন্ট। তিনি বলেন, সরকার যদি জনগণের এই দাবি না মানে তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যাব। এবং আমাদের দাবি আদায় করব। সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা সংলাপে সরকারকে অনুরোধ করেছি সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যেন তফসিল ঘোষণা করা না হয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, সংলাপে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টা জোর দিয়ে বলেছি, তাকে যেন মুক্তি দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরসহ অনেকে। এর আগে, গণভবন থেকে বেরিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপেও কোনো ‘সমাধান’ হয়নি। তিনি বলেন, আলোচনা মনঃপূত হয়নি। সংলাপে কোনো সমাধান আসেনি। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমদফায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে কোনো সমাধান না হওয়ায় বুধবার দ্বিতীয়দফায় সংলাপে বসেন নেতারা। এদিন সংলাপে অংশ নিতে বেইলি রোডের বাসা থেকে সকাল সাড়ে ১০টার পর গণভবনে পৌঁছান ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। সংলাপে ১৪-দলীয় জোটের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ১১ জন। তারা হলেন- আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, শ ম রেজাউল করিম, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১১ সদস্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ড. কামাল হোসেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদ, জাসদের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও এসএম আকরাম এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

মুজিবনগরে করিমন গাড়ি উল্টে স্কুল ছাত্র নিহত : আহত-২

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরে করিমন গাড়ি উল্টে সাগর আলী নামের এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ২জন। নিহত সাগর আলী মুজিবনগর উপজেলার মহাজনপুর ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের মহিবুল ইসলামের ছেলে ও মহাজনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র । আহতরা হলো-একই গ্রামের মিয়ারুল ইসলামের ছেলে শুভ মিয়া ও ফজলুর রহমানের ছেলে অভিল হোসেন। আহত দু’জনই নিহত সাগরের বন্ধু। গতকাল বুধবার সকালের দিকে করিমন গাড়ি উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান,স্কুল ছাত্র সাগর তার প্রতিবেশীর একটি করিমন গাড়ি চালিয়ে দু’বন্ধুকে নিয়ে গ্রাম থেকে কোমরপুর এলাকায় আসছিল। সে কোমরপুরে পৌঁছালে গাড়ীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় তারা তিন বন্ধু আহত হয়। পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়। এ সময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমান তার দু’বন্ধু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সাগরের অদক্ষতার কারণেই এ দূর্ঘটনা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

কুমারখালী-খোকসায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকালে জাহিদ হোসেন জাফর

শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও সম্মান ফিরিয়ে দেন

নিজ সংবাদ ॥ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ৭১’র মুক্তিযোদ্ধা। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই মহান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবেনা। গতকাল বুধবার দিনব্যাপী কুমারখালী-খোকসা উপজেলায় সকল মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কবরে তাদের প্রতি এভাবেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন একাত্তরের রণাঙ্গণের বীর সেনানী, কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন জাফর। তিনি বলেন বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আমার মুক্তিযোদ্ধারা  অনেকেই অনাহারে অর্ধাহারে থেকেছেন। নিদারুন কষ্টে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের প্রতি নূনতম শ্রদ্ধাও পোষণ করেনি বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মান দিয়েছেন। তাঁদের ভাতা বাড়িয়েছেন। তাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কুমারখালী খোকসা উপজেলায় যতগুলো মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন তাদের সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও হাজারো সালাম। আল¬াহ তাদেরকে বেহেশত নসিব করুন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জাফর জানান শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুন্ন থাকে ক্ষমতায় না থাকলে তাদের অসম্মান করা হয়। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি অনুরোধ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা অক্ষুন্ন রাখতে হলে অবশ্যই শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার সকল পীর আওলিয়াদের মাজার জিয়ারত করেন। তিনি কুমারখালী খোকসা আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন উত্তলনে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন। এই উদ্দেশ্যেই তিনি কুমারখালী-খোকসা আসনের সকল মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলাবাসীর দোয়া প্রার্র্থণা করেছেন। এর আগে তিনি ঐতিহাসিক ৭ঐ নভেম্বর (মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস)উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাছাড়া সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরে বিভিন্ন পথসভায় অংশ নেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জুলমত আলী, সিরাজুল ইসলাম সুরুজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা  ও কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক চাষী আব্দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কিয়াম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা লুলু বিশ্বাস, কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান, পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ওবায়দুল হক দিলু, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন মঞ্জু, সংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম জোয়ার্দ্দার, যদুবয়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান সাবান, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক হাফিজ মাহমুদ ফরায়েজি, কুমারখালী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মোল্ল¬া, কুমারখালী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আহসান হাবীব আজম, পান্টি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আজাদুল ইসলাম সিআই মোল¬া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জাপান, পান্টি ই্উনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আকমল জোয়ার্দ্দার, প্রভাষক কাজিম হোসেন, প্রভাষক আজিজুর রহমান।

কুষ্টিয়ায় ৬৯টি প্রকল্পের উদ্বোধনকালে মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি

দেশ ও জনগণের স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়াতে হবে

সুজন কর্মকার ॥ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়াতে হবে। গতকাল বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া পৌর অডিটোরিয়ামে ৬৯টি প্রকল্পের শুভ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসন, কুষ্টিয়ার আয়োজনে ৬৯টি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন।  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা পরিষদের মোট ৬৯টি প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবউল আলম হানিফ আরো বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভুল করেছিল, আশাকরি এবার আর সে ভুল করবে না। আমরা চাই সকল দলের অংশ গ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বাংলাদেশ এক সময় হতাশায় নিমজ্জিত ছিলো। দেশ অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছিল। দূর্নিতিতে দেশ পর পর ৫ বার চ্যাম্পিয়ণ হয়েছিল। বাংলা ভাই এর মত উগ্র মৌলবাদি সংগঠন সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়েছিল। আওয়ামীলীগ কর্মীকে জেলে যেতে হয়েছিলো, হত্যা করা হয়েছিলো। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জন সভায় ১২টি গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিলো। মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, প্রবাদে আছে, রাখে আল্লাহ মারে কে। আল্লাহ রক্ষা করেছিলো। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে দেশকে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। বিদ্যুৎসহ সকল ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। শেখ হাসিনার অদম্য স্পৃহা আর দক্ষ নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। সীমিত সম্পদ নিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে, দেশকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এ এম জহিরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এ সায়েদুর রহিম, শিক্ষা প্রকৌশল’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান, সড়ক ও জনপথ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। মোট ৬৯টি প্রকল্পের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৪২টি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২২টি, জেলা পরিষদ ১টি, সড়ক বিভাগ ২টি ও গণপূর্ত ২টি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার সোহেল রহমান সহ জেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা আওয়ামীলীগ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ, শহর আওয়ামীলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগসহ আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আজ তফসিল ঘোষণায় আওয়ামী লীগের সমর্থন

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আপত্তি জানালেও আজ বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় সমর্থন জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সংলাপ চললেও রাজনৈতিক মতবিভেদ জিইয়ে থাকার মধ্যে বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। তার আগের দিন বুধবার নির্বাচন ভবনে গিয়ে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থান জানায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ১৬ সদস্যের এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম। আওয়ামী লীগের আগে বিভিন্ন দল ইসিতে গিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে এসেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা না করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে তফসিল না পেছানোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় পার্টি ও যুক্তফ্রন্ট। ইসিতে  বৈঠকের পর এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, তফসিলের বিষয়ে ইসি যে সিদ্ধান্ত নেবে তার প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। “নির্বাচন কবে হবে, তফসিল ঘোষণার সেই এখতিয়ার কেবল নির্বাচন কমিশনের। আমরা তাদের বলেছি, এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সমর্থন রয়েছে।” ইসির সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কয়েক নেতার আচরণের নিন্দাও জানান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম। ইসির সঙ্গে বিভিন্ন দলের  বৈঠক তুলে ধরে তিনি বলেন, “একমাত্র ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যাদের মধ্য অনিবন্ধিত দলও ছিল। তাদের কেউ কেউ ইসির সঙ্গে অমার্জিত আচরণ করেছেন, আঙুল তুলে হুমকি দিয়েছেন। “বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচন কমিশনের প্রতি এই ধরনের আচরণ গ্রহণ করবে না, এর জবাব ভোটের মাধ্যমে দেবে।” আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল নারী ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক বুথ রাখার সুপারিশ করেছে। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা যাতে সুবিথামতো ভোট দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার আহ্বানও জানান তারা। বিকালে নির্বাচন ভবনে ইসির সম্মেলন কক্ষে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, “আমাদের নির্বাচন পরিচালনায় কোনো বিষয় যদি আপনাদের কাজে আসে, সে বুদ্ধি আপনারা দিতে পারেন। আমাদের কোনো কথাও যদি আপনাদের কাজে লাগে, সেটা আমরা বলব।” আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রাশিদুল আলম, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, রিয়াজুল কবীর কাওছার, গোলাম রাব্বানী চিনু, মারুফা আক্তার পপি, কেন্দ্রীয় নেতা তানভীর ইমাম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, এনামুল হক চৌধুরী, সেলিম মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা।

 

জাতির উদ্দেশে সন্ধ্যায় ভাষণ দেবেন সিইসি

আজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা এই তফসিল ঘোষণা করবেন। ইসির জনসংয়োগ শাখা থেকে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতার থেকে তফসিলের জন্য এই ভাষণ একযোগে প্রচার করা হবে। তবে বেসরকারী টেলিভিশন, রেডিও স্টেশনগুলো বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে ফিড নিয়ে এই ভাষণ প্রচার করতে পারবে। জানা গেছে তফসিল ঘোষণার জন্য আজ সকালে সিইসির ভাষণ রেকর্ডের জন্য বিটিভির পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি তারা সম্পন্ন করেছে। গত রবিবারের কমিশন বৈঠকে আজকে তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত  নেয়া হয়। এর আগে ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করে নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে অবহিতও করা হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর কমিশনের বৈঠকের পর শাহাদত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ৪৫ দিনের কাছাকাছি সময় হাতে রেখে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের যে কোন দিন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। জানা গেছে তৃতীয় সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা বেশি। অতীতের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা  গেছে নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার দিনকেই বেশি বেছে নেয়া হয়েছে। তবে এর আগে পরেও যে কোন দিনেও নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হতে পারে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন নির্বাচনের কারণে এবারের বিজয় দিবসে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। জানা  গেছে বিজয় দিবসের পরপরই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে এই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এর আগে খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সিইসির সঙ্গে দেখা করে ২০ ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা সিইসিকে অনুরোধ করেন ২৫ ডিসেম্বর খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন পালিত হবে। এ কারণে এর আগে বা পরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ না করার অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে ইসির পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি আবহাওয়ার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্কুল কলেজের পাঠ্যসূচীর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সমস্যার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, টঙ্গীতে দুই দফায় বিশ্ব এজতেমা পরিচালিত হবে। এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশ্ব এজতেমায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকবে। এছাড়া জানুয়ারির প্রথম  থেকেই স্কুল কলেজ খোলা থাকবে। ফলে জানুয়ারি ২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া জানুয়ারিতে আবহাওয়া বৈরী থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। বলেছেন  বৈরী আবহাওয়া থাকলে চর এলাকার বাসিন্দারা ভোট দিতে পারবে না। এদিকে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বাম জোট নির্বাচনের তফসিল পেছানোর জন্য সিইসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে দুই দফায় নির্বাচনের তফসিল পেছানো আবেদন জানানো হয়েছে। এর বাইরের বাম জোটের পর পক্ষ থেকে বুধবার ইসিতে চিঠি দিয়ে নির্বাচনের তফসিল পেছানোর অনুরোধ জানানো হয়। তবে এই দুই জোটের বাইরে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় জোট সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে। বুধবার এরশাদের নেতৃত্বে এই জোটের বৈঠক শেষে রুহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, সংলাপের অজুহাতে তফসিল না পেছাতে সিইসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে দুই জোটের পক্ষ থেকে সংলাপের অজুহাতে তফসিল পেছানোর দাবি জানালেও সিইসি মঙ্গলবারই তা নাকচ করে দিয়েছেন। বলেছেন সংবিধান অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি মধ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন পেছানের সুযোগ নেই। তফসিল  পেছানোর কোন সুযোগ নেই। তবে সব রাজনৈতিক দল চাইলে নির্বাচন দুএকদিন পিছিয়ে দেয়া যেতে পারে।

গত বছর ৬ ফেব্র“য়ারি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশকৃত নামের তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়া হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদাসহ অপর চার কমিশনার। ওই বছরের ১৫ ফেব্র“য়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের অন্য সদস্যরা শপথ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কাজ হবে সংবিধান অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। এ সময় কাজ করার ক্ষেত্রে কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। নিরপেক্ষভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করবেন।

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এই ইসির অধীনে অনেকগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বর্তমান ইসির অধীনে সবচেয়ে বড় নির্বাচন ছিল দেশের ৬টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা করা। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকে মৃত্যুর পর কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হলেও আইনী জটিলতার কারণে তা আটকে যায়। তাদের অধীনে অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচন অনেকটা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। সিইসির বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ সত্ত্বেও এই ইসির অধীনে ছয়টির সিটির মধ্যে একটিতে জাতীয় পার্টির, দুটিতে বিএনপি এবং তিনটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করে। দায়িত্ব নিয়ে গত বছর ১৬ জুলাই তারা একাদশ জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন।  রোডম্যাপ অনুযায়ী আরপিও সংশোধন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। সারাদেশে তিনশ’ আসনের নির্বাচনের জন্য প্রায় ৪১ হাজার ভোট কেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া ভোটার তালিকার সিডি সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে  পৌঁছানো হয়েছে। এছাড়া ২৫ আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আরপিও সংশোধনের পর এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনের ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগ ছাড়া সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধীতার কথা জানানো হয়েছে। যদিও সিইসি বলছেন সীমীত পরিসরে এবার ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

এদিকে আজ তফসিল ঘোষণার দিনে নির্বাচনের প্রাথমিক সামগ্রী আজ থেকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে পৌঁছানোর কাজ শুরু হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর  থেকে নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ ও জমাদানের কাজ শুরু হচ্ছে। এ কারণে প্রাথমিক নির্বাচন সামগ্রীর মধ্যে মনোনয়ন ফরমসহ অন্যান্য ফরম, জামানত বহি, আচরণ বিধিমালা ও প্রতীকের পোস্টার বিজি প্রেস  থেকে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তার প্রতিনিধির মাধ্যমে সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৮ জানুয়ারি মধ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। গত ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে এই নির্বাচনের কাউন্টডাউন। গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন পরিচালিত হয়ে আসছে। যদিও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ওই নির্বাচন সে সময়ের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বর্জন করেন। এবারও নিরপেক্ষ সরকারে অধীনে নির্বাচন পরিচালনার দাবিতে ২ দুফায় তারা সরকারের সঙ্গে সংলাপ করেছে। একই সঙ্গে তারা সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচন কমিশনকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও কশিমনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নির্ধারিত সময়ে তফসিল ঘোষণা করা হবে। সেই অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার  কেএম নুরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।

ইবি’র প্রয়াত কর্মচারী আইয়ুবের পরিবারের হাতে টাকা হস্তান্তর

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ কর্মচারী সমিতি তাদের মাসিক বেতন থেকে ৩৮ হাজার টাকা খালেদা জিয়া হলের মরহুম মালী আইয়ুব আলীর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভিসি অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)’র নিকট থেকে মৃত আইয়ুব আলীর বড় ছেলে বাবুল হোসেন উক্ত টাকা গ্রহণ করেন। ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: সেলিম তোহা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো: মাহবুবর রহমান ছাড়াও এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মো: আতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিনুর ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মানবকল্যাণে চাই নিরাপদ, সহজলভ্য, বাকস্বাধীন ইন্টারনেট – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ক্রমপ্রসারমান ডিজিটাল জগতকে মানুষ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে প্রয়োজন নিরাপদ, সহজলভ্য, বাকস্বাধীন, বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের দিনব্যাপী ১৩ তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। হাসানুল হক ইনু বলেন, প্রসারিত ডিজিটাল সমাজের জন্য ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ নয়; ব্যবস্থাপনায় মনোযোগী হতে হবে। এজন্য ডিজিটাল বৈষম্য ঘুচিয়ে গণতন্ত্রায়ণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ডিজিটাল সমাজকে বাঁচাতে হলে ডিজিটাল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যমত থাকতে হবে। যারা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা জাতীয় শত্রু। ইন্টারনেটের বিষয়ে গবেষণা জোরদার করতে হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগ ডাটা না জানলে আমাদের নগর পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে না। তাই এখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে বিগডাটা বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। হাসানুল হক ইনু বলেন, মানব সমাজের উপকারেই ইন্টারনেট ব্যবহার হবে। ক্ষতির জন্য নয়। তাই আগামী দিনের ডিজিটাল সমাজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ‘ইন্টারনেট প্রশাসন’ এখন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রাপ্যতা, সহজলভ্যতা, টেকসই, প্রবেশগম্যতা ও অন্তর্ভূক্তির নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্যই প্রয়োজন ইন্টারনেট প্রশাসনের। মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতাবান্ধব ডিজিটাল সমাজ গড়ে তুলতে ইন্টারনেটের প্রশাসনকে সার্বজনীন হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব বয়স, লিঙ্গ ও শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেয়ার বা এর সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেয়ার কাজে রাষ্ট্রের আরো মনোযোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে মাতৃভাষায় ইন্টারনেট চর্চার আইনগত বাধ্যবাধকতা দরকার। তাহলেই বাংলা বিষয়বস্তুর উন্নয়ন হবে। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. আকরাম এইচ চৌধুরী ও ফ্রেডরিক নওম্যান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডোম, বাংলাদেশ আবাসিক প্রতিনিধি ড.নাজমুল হোসাইন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.আবু জাফর মু. সাইফুল আলম ভূইয়া, বিটিআরসি’র মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফা কামাল, বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী এএইচএম বজলুর রহমান, সাউথ এশিয়া আর্টিকেল ১৯ এর আঞ্চলিক প্রতিনিধি ফারুক ফয়সাল, এফবিসিসিআই পরিচালক শাফকাত হায়দার, ডট অর্গ উপদেষ্টা টিআই নুরুল কবির, আইএসপিএবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল হাকিম বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হক অনু সম্মেলন পরিচালনা করেন।

গাংনীতে কমরেড নুর আহমেদ বকুলের উদ্যোগে খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও দুস্থ্যদের মাঝে নতুন পোষাক বিতরণ করা হয়েছে। খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুভ বড়দিন উপলক্ষে গাংনী উপজেলার নিত্যানন্দপুর, চিৎলা, পাকুড়িয়া, জুগিন্দা ও চৌগাছা গ্রামের  খ্রীস্টান ধর্মের ৪ শতাধিক দুস্থ মানুষের মাঝে নতুন পোষাক বিতরণ করা হয়। গতকাল সোমবার দিনব্যাপি গ্রামে-গ্রামে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সব পোষাক বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ  ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড নুর আহমেদ বকুলের উদ্যোগে এ সব পোশাক বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, মেহেরপুর জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল মাবুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য কমরেড ওমর আলী, কমরেড মজনুল হক মজনু, কমরেড হাশেম আলী ও ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ।

শান্তি এবং উন্নয়নের জন্য নৌকার ভোট দিন

কুষ্টিয়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান খানের নারী সমাবেশ

কুমারখালী প্রতিনিধি  ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টির লক্ষ্যে কুষ্টিয়া-৪ আসনের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান খান সরকারের উন্নয়ন প্রচার ও গণসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রচারপত্র বিলিসহ নৌকার ভোট প্রার্থনা করে বেড়াচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের নারীদের অংশগ্রহণে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নন্দলালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এই নারী সমাবেশের আয়োজন করে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে এই নারী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষাপদক প্রাপ্ত দেশসেরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আতিয়ার রহমান টুকু, দপ্তর সম্পাদক আশাদুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাসেল হোসেন। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান খান, সমাবেশে উপস্থিত নারীদের সামনে শেখ হসিনার সরকারের দশ বছরের উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার জন্য ভোট চান। তিনি আরো বলেন, যদি এলাকায় শান্তিতে বাস করতে চান, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চান, সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান তহলে অবশ্যই নৌকায় ভোট দিতে হবে। এ সময় বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সেই ভয়াবহ দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তখন কুমারখালীর বিভিন্ন এলাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দলের আস্তানায় পরিণত হয়েছিল। রাত পোহালেই হত্যা, অপহরণ, চাঁদার দাবীতে হুমকী, ছিনতাইয়ের কথা শোনা যেতো। কিন্তু এখন তা নেই। তাই আমরা সেই ভয়ঙ্কর অতীতে আর ফিরতে চাইনা। আমরা নৌকায় ভোট দিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই। মান্নান খান আরো বলেন, সন্তান আপনার কিন্তু পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। এই সরকার আপনার সন্তানের হাতে বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই দিচ্ছে এবং মায়েদের মোবাইলে টাকা দিচ্ছে। কারণ, ২০৪১ সালে এই দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। আর সেদিন এই দেশের নেতৃত্ব দেবে আজকের শিশুরাই। এ জন্য এই সরকারকে আবারো ক্ষমতায় আসা দরকার। নারী সমাবেশে বক্তব্যদানকালে আব্দুল মান্নান খান নিজের জন্যে নারীদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আমি নিজেও মনোনয়ন চাইবো। দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছে। তাই তাদেরকে সাথে নিয়েই সরকারের উন্নয়নের কথা বলে বেড়াচ্ছি। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন আমি নির্বাচিত হবো। নারী সমাবেশ শেষে উপস্থিত নারীসহ এলাকাবাসীদের মাঝে সরকারের উন্নয়নের প্রচারপত্র বিতরণ করেন আব্দুল মান্নান খান।

পদত্যাগপত্র দিলেন চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। তাঁরা হলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তাঁরা। এর আগে গতকাল দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তাঁদের পদত্যাগ করতে হবে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে অনির্বাচিত (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ৮ নভেম্বর ঘোষণার কথা রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।

গাংনীতে পিকআপের ধাক্কায় ২ মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে পিকআপের ধাক্কায়  মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন-গাংনী উপজেলা শহরের উত্তরপাড়ার সেকেন্দার আলীর ছেলে মাংস বিক্রেতা জুয়েল রানা (৪০) ও একই উপজেলার রুয়েরকান্দি গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে গরু ব্যবসায়ী কালু হোসেন (৪৫)। গতকাল মঙ্গলবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাংনী-হাটবোয়ালিয়া সড়কের পূর্বমালসাদহ-গোপালনগর গ্রামের মধ্যবর্তি স্থানে মুরগী বোঝাই পিকআপের চাপায় নিহতের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় মাংস ব্যবসায়ী জুয়েল রানা ও গরু ব্যবসায়ী কালু হোসেন গাংনী উপজেলা শহরের দিক থেকে একটি মোটরসাইযোগে রুয়েরকান্দি গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা পূর্বমালসাদহ-গোপালনগর গ্রামের মধ্যেবর্তি স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামি মুরগী বোঝাই একটি পিকআপ তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা গুরুতরভাবে আহত হন। পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। ঘাতক পিকআপটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আজ (বুধবার) ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হবে।

 

সংলাপের নামে নাটক বন্ধ করুন – মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার একটা প্রহসনের সংলাপ করেছে। বলেছে, আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করবে না। কিন্তু একটু আগেও আমাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব চলবে না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগামীকাল আবার সংলাপে যাব। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাই। কিন্তু সংলাপের নামে নাটক বন্ধ করুন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। জনসভায় মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, বুধবারের সংলাপে সরকার দাবি না মানলে পরদিন বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে রোডমার্চ করে রাজশাহী যাবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেখানে গিয়ে ৯ নভেম্বর শুক্রবার জনসভায় যোগ দেবেন। এছাড়া নির্বাচনের তফসিল পেছানো না হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবেন বলে ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব। আমরা সংলাপে, শান্তিতে বিশ্বাস করি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সংলাপের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে সরকারকে পরাস্ত করতে চাই এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমার বক্তব্যের সময় নাই। আমি শুধু আপনাদের সামনে এ কথা বলতে এসেছি, পিজি হাসপাতালের ছোট একটি কক্ষে তিনি (বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) বন্দি। আমি বিশ্বাস করি জনগণের এই আওয়াজ তার কানে পৌঁছে যাচ্ছে। সেখান থেকে তিনি বলছেন, তোমরা এগিয়ে যাও, জনগণের দাবি আদায় করো। মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বলেছেন, আমি কারাগারে যেতে ভয় পাই না। গণতন্ত্রের জন্য, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য কারাগারে যেতে প্রস্তুত আছি। আপনারা সবাই একটি জাতীয় ঐক্য গঠন করুন। আজ আমি খুশি একটি ঐক্য গড়ে উঠেছে। সবাই এক মঞ্চে তার (খালেদা জিয়া) মুক্তির দাবি করছেন। এ সময় তিনি কারাগারে বন্দি সকল নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের মুক্তি দাবি করেন। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। জনসভায় প্রথমবারের মতো কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী যোগ দেন। এছাড়া সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন-নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন, সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, ড. সুকোমল বড়ুয়া, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স ও শামা ওবায়েদ প্রমুখ উপস্থিত হয়েছেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশে ড. কামাল

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য সকলকে আপোষহীনভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি ঐক্যবদ্ধ থাকব। সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। আপনাদের সবাইকে ভোটাধিকারের পাহাড়া দিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আপোষহীনভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়ে যাব। সামনে আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করব। আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে তা বাস্তবায়ন করবেন। সমাবেশে আসতে বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেয়ারও কঠোর সমালোচনা করেন ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আইন ইচ্ছা করে বদলানো যায় না। আইন আইনই থাকে। বিরোধী দলের জন্যও আইন, সরকারি দলের জন্যও আইন। এটা হয় না, যে সরকারি দল সব আইনের উর্ধ্বে; আর বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের যেনতেনভাবে হয়রানি করা হবে, জেলে রাখা হবে। এটা বন্ধ করতে হবে। স্বাধীন বাংলাদেশে এটা চলতে পারে না। নির্বাচিত সরকারও করতে পারে না। আর অনির্বাচিত সরকারের জন্য তো এটা অপরাধ। আজ হোক বা কাল হোক এর জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন ক্ষমতার মালিক জনগণ। কোনো দলের কর্মী হিসেবে নয় দেশে মালিক হিসেবে আপনাদের দাঁড়াতে হবে। রাস্তা বন্ধ করে জনগণকে নিষিদ্ধক্রয় করে সমাবেশ বন্ধ করা যাবে না। এটা কোনও ব্যক্তির রাষ্ট্র না। বাধা বিপত্তি মাথা পেতে নেব না। এই দেশে কোনো রাজতন্ত্র মহারানী বা মহারাজা নেই। বৃহত্তরও ঐক্যের ভিত্তিতে আপনাদের আমাদের সকলকে দাঁড়াতে হবে। আমাদের অধিকার আমরা অবশ্যই ফিরিয়ে আনব। জনগণ জেগেছে, এই জাগরণের মাধ্যমে জনগণকে দেশের মালিক করা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে কামাল হোসেন বলেন, আজকে আইনের শাসন অনুপস্থিত। যাকে তাকে যেনতেনভাবে ধরে নিয়ে জেলে নিয়ে অন্তরীণ করা হচ্ছে। আমি বেগম জিয়ার মুক্তি দাবি করছি। অন্যান্য যারা রাজনৈতিক নেতাকর্মী বন্দি তাদের মুক্তি দাবি করছি। দেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীকে যেখানে শ্রদ্ধা জানানো হবে না, সেই দেশে গণতন্ত্র চলতে পারে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. কামাল বলেন, আমি ছিলাম কোর্টের সামনে। আপনারা বলেছেন, সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটা নির্বাচন করবেন। অথচ পুরো ৫ বছর চালিয়ে দিলেন। সরকারের কথার এক পয়সারও দাম নাই, সেটা এবার প্রমাণ হয়েছে। এটা কেমন বিবেক ও আইনের শাসন সংবিধানের পরিচয়। সংবিধানকে ষোলো আনা উপেক্ষা করা হয়েছে। সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনসহ সাত দফা দাবি পূরণ না হলে আগামী ৮ নভেম্বর রাজশাহী অভিমুখে রোড মার্চের কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আর সমঝোতার আগেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল বলেন,“এই সরকার যদি আগামীকাল সংলাপে আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো মেনে না নেয়, তাহলে ৮ নভেম্বর রাজশাহীতে যাত্রা শুরু করব রোড মার্চ করে। রাজশাহীতে ৯ নভেম্বর জনসভা হবে।” রাজশাহীর পর খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ঐক্যফ্রন্ট জনসভা করবে জানালেও কোনো তারিখ বলেননি বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা করতে চায় তাহলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা হবে। এরপর আমরা আরও কর্মসূচি ঘোষণা করব।” বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন জাসদ সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

 

এখান থেকেই খালেদার মুক্তির পথ উন্মুক্ত হবে – কাদের সিদ্দিকী

ঢাকা অফিস ॥  সদ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘৭ মার্চ এই সোহরাওয়ার্দীর মাঠে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল। আজ এ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকেই খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ উন্মুক্ত হবে। গণতন্ত্র মুক্তির পথ উন্মুক্ত হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না। কারণ শেখ হাসিনার হাত থেকে আমাদের মুক্তি কবে, সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়ার দরকার নাই। কারণ তিনি জেলে গিয়ে দেশের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। দেশের মানুষ তাকে মুক্ত করে আনবে। তিনি বলেন, আমি বিএনপিতে যোগদান করি নাই, ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছি। যদি বুঝতে চান জয় আপনাদের হাতে, যদি বিজয়ী হতে চান নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি ভুলে যান। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি রাজাকারের হাতে জাতীয় পতাকা তুলেছে কথা সত্য নয়, আওয়ামী লীগ প্রথম রাজাকার মহিউদ্দিনের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছে, আশিকুর রহমানের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে। কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, আল্লামা শফি ভুলে যেতে পারেন, আমি কাদের সিদ্দিকী ভুলি নাই। ওই শাপলা চত্বরে ইমানদারদের রক্ত ঝরেছে, শাপলা চত্বরের বদলা না নিতে পারলে আমরা বেঈমান হয়ে যাব। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন জাসদ সভাপতি আসম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।