ঈদের ছুটি শেষে ইবি আজ খুলছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা ও অফিসসমূহ আজ (১৫ জুন) থেকে যথারীতি চলবে। পবিত্র রমজান, বুদ্ধপূর্ণিমা, গ্রীষ্মকাল, জুমাতুল বিদা, শব-ই-ক্বদর ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসসমূহ গত ৪ মে থেকে এবং গ্রীষ্মকাল, জুমাতুল বিদা, শব-ই-ক্বদর ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে অফিসসমূহ গত ২৭ মে থেকে বন্ধ ছিল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

চুয়াডাঙ্গায় কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গায় হাতের শিরা কাটা অবস্থায় ঝুমা খাতুন (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের হাটকালুগঞ্জ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঝুমা চুয়াডাঙ্গা আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম আবদুস সামাদ। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার বাসিন্দা আবদুস সামাদ ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এলাকায় তার নিজ বাড়িতে থাকেন স্ত্রী জুলেখা বেগম ও মেয়ে ঝুমা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যান নিকটাত্মীয় এক রোগীকে দেখতে। সন্ধ্যার পর বাড়িতে এসে মেয়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, কলেজ ছাত্রী ঝুমার লাশ দেখে প্রাথমিকভাবে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তিনি নিজে হাত কেটে আত্মহত্যা করেছে, না কি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কিছু তা তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই ইকরামুল হক জানান, নিহত কলেজছাত্রীর বাম হাতের শিরা কাঁটা রয়েছে। গলাতেও দাগ রয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক।

স্কুল কমিটির ক্ষোভ

দৌলতপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী স্কুলের গাছ গোপনে বিক্রির অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে লক্ষিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রহিতুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় দু’লক্ষ টাকা মূল্যের ২টি শিশু গাছ গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিন সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ ছাড়াও শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্কুল সংলগ্ন বসবাসরত কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯১ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করার সময় পরিবেশ রক্ষার্থে এলাকার মানুষ বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করেন। এখন সেসব গাছগুলি বড় বড় বৃক্ষে রূপান্তর হয়েছে। আর এই গাছগুলি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নজরে পড়লে সে গত ১৫মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দু’টি শিশু গাছ নিলামে বিক্রয় করার আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিসহ সদস্যদের না জানিয়ে গত ২৬ মে শিতলাই পাড়া গ্রামের মোঃ শাহাজুল ইসলামকে প্রায় দু’লক্ষ টাকা মূল্যের গাছ মাত্র ২৬,৯১১/= (ছাব্বিশ হাজার নয় শত এগার) টাকায় বিক্রয় দেখানো হয়। এদিকে গাছ দু’টি ক্রয়ের দাবি করে গতকাল শুক্রবার প্রতুষ্যে বিদ্যালয় ছুটির দিনে গাছ দু’টি কাটার সময় এলাকাবাসী সাহাজুল ইসলামকে গাছ কাটতে বাঁধা দেয়। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রহিতুল ইসলাম গাছ বিক্রয়ের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গাছ বিক্রয় ও কাটার বিষয়টি সম্পুর্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানেন। গাছ বিক্রয় ও কাটার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, সরকারী বিধিসম্মত ভাবে দরপত্র আহবান করে গাছ দু’টি বিক্রয় করা হয়েছে। এদিকে গোপনে বিদ্যালয় চত্বরের প্রায় দু’লক্ষ টাকার শিশু গাছ মাত্র ২৬ হাজার টাকায় বিক্রয় করা নিয়ে এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ফুঁসে উঠেছে। তারা গোপনে গাছ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

বাজেট জনগণের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে  গেছে – বিএনপি

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেটকে উচ্চাভিলাষী মন্তব্য করে বিএনপি অভিযোগ করেছে, বাজেটের আকার দিন দিন বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছে সরকার। একইসঙ্গে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবিরোধী বলেও দাবি করেছে দলটি। গতকাল শুক্রবার (১৪ জুন) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সরকারের আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আনুষ্ঠানিক দলীয় প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গতকাল অর্থমন্ত্রী ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার উচ্চাভিলাসী বাজেট ঘোষণা করেছেন। বাজেটের আকার বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বাজেট বৃদ্ধির এ প্রগলভতা বছর শেষে চুপসে যেতে দেখা যায়। এ বাজেট নিয়ে জনমনে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। তিনি বলেন, এ বাজেট জনগণের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে গেছে। এটা গণবিরোধী বাজেট। সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতি অর্থবছরে সরকারের বাজেট বৃদ্ধির এ প্রগলভতা বছর শেষে চুপসে যেতে দেখা যায়। বাজেটের আকার কত বড় এ নিয়ে আর জনমনে কোন উচ্ছ্বাস নেই। কেননা প্রত্যেক বছর বছরের শেষ দিকে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ যেভাবে কাট-ছাঁট করা হয় তাতে বিরাটাকার বাজেটের অন্তঃসারশূন্যতাই প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, চলতি বছর বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে বাজেটের আকার বেড়েছে ১৩ শতাংশ। বর্তমান বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এ হিসাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত করের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত করের পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি আর কর ছাড়া প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক উৎস থেকে ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা। ফখরুল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিশাল আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যার সিংহভাগই ধরা হয়েছে এনবিআর থেকে। অথচ চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় বেশ ঘাটতি রয়েছে। তার উপর এবার আরও বড় আকারের আদায়ের পরিকল্পনা। এটা রাতারাতি সম্ভব নয়। বর্তমানে যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে তাতে ঘাটতি বরং আরও বাড়বে।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে দ্রুত অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করলেন তাজিক প্রেসিডেন্ট

ঢাকা অফিস ॥ তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এমোমালি রহমোন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতের দ্রুত উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে ভ্রাতৃপ্রতীম দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। প্রেসিডেন্ট এমোমালি রহমোন বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর অফিসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে স্বাগত জানান এবং কাউন্টার টেরোরিজম এবং সমম্বিত অভিযানের ব্যাপারে একত্রে কাজ করার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাজিকিস্তানে কনফারেন্স অন ইন্টারএ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়ার (সিআইসিএ) পঞ্চম সম্মেলনে যোগ দিতে সরকারী সফরে এখন দুশানবে নগরীতে রয়েছেন। তাজিক প্রেসিডেন্ট তৈরি পোশাক খাতকে (আরএমজি) একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে যৌথ বিনিয়োগে একত্রে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন বাসসকে আজ এ কথা জানান। ব্যবসা বাণিজ্য জোরদারের কথা তুলে ধরে তাজিক প্রেসিডেন্ট উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় বিশেষ করে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠককালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাজিকিস্তানের সহযোগিতা চান এবং তাজিক প্রেসিডেন্ট সম্ভাব্য সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করে একথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও পাটপণ্য আমদানির জন্য তাজিকিস্তানের প্রতি আহবান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন- সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সব সময় জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করে আসছে। উভয় নেতা আশা প্রকাশ করেন, দু’টি দেশ টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে এক সঙ্গে কাজ করবে। আবদুল হামিদ বলেন, উভয় দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে বিভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন মতামত পোষণ করে এবং একে অপরকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এরআগে রাষ্ট্রপতি গতরাত ৯টা ৫২ মিনিটে(স্থানীয় সময়) এখানে পৌঁছান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, তাজিক পররাষ্ট্র মন্ত্রী সিরোজিদ্দিন মুহরিদ্দিন, সেক্রটারি বাইলেটারাল এন্ড কনসুলার কামরুল আহসান, কূটনৈতিকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি তাজিক রাজধানী দুশানবে এবং উজবেকিস্তানে সাতদিনের সফরে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ১৯ জুন দেশে ফিরবেন।

প্রস্তাবিত বাজেট ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমাবে – বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট

ঢাকা অফিস ॥ প্রস্তাবিত বাজেটকে উন্নয়ন, গণমুখী, জনবান্ধব ও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে জোটের সদস্যরা এসব কথা বলেন। সমাবেশে জোটের নেতারা বলেন, জনগণের প্রতি মমত্ববোধ থেকে এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার চমকপ্রদ একটি বাজেট পেশ করেছে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বেড়েছে। সমৃদ্ধির হার উচ্চাকাঙ্খী হলেও অতীতের ধারাবাহিকতায় তা অর্জন সম্ভব। বক্তারা দাবি করেন, এই বাজেটে ধনী-গরীবের বৈষম্য কমবে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি কোনও চাপ পড়বে না। বাজেট বাস্তাবায়ন হলে জনগণের কল্যাণ ও দেশের অগ্রগতি সাধিত হবে। এটি উন্নয়ন, গণমুখী ও জনবান্ধব বাজেট। বাজেটের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, যারা এই বাজেটের সমালোচনা করছেন তারা সব সময়ই সরকারের সমালোচনায় মেতে থাকেন। তাদের কাজই হচ্ছে সমালোচনা করা। তারা ভালো-মন্দ দেখেন না। তাদের জন্মই হয়েছে সমালোচনা করার জন্য। সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহ সভাপতি কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, চিত্রনায়িকা শাহনুর, কবি রবীন্দ্র গোপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

সৌদিতে সূর্যের আলোতে শ্রমিকদের কাজ নিষিদ্ধ

ঢাকা অফিস ॥ সৌদি আরবে সূর্যের আলোতে শ্রমিকদের কাজ নিষিদ্ধ করেছে সৌদি শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। দিনের বেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূর্যালোকে কাজ না করার এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। শ্রমিকদের মানবিক দিক বিবেচনায় এনে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এ নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের এ আদেশ মেনে চলতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ কনস্যুলেটও আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: আরব নিউজ।

ওসি মোয়াজ্জেমকে আটকাতে বেনাপোল সীমান্তে সতর্কতা

ঢাকা অফিস ॥ যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ধারণ ও তা ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের পালানো ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি আবুল বাশার বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে আমাদের কাছে তার পাসপোর্ট নাম্বার দেওয়া হয়েছে । “ মোয়াজ্জেম যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। যাতে তিনি এই ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে ভারতে যেতে না পারেন।’ ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় নুসরাতের গায়ে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের ধরতে গড়িমসির অভিযোগ ওঠার পর ১০ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানার দায়িত্ব সরিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়। ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। ওই মামলায় নুসরাতের জবানবন্দি নেওয়ার পর তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা হয় ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। ওই মামলায় গত ২৭ মে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে। নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে এপ্রিলের শুরুতে ওসি মোয়াজ্জেমকে সোনাগাজী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশের রংপুর রেঞ্জে। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। তারপর আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল নিয়ে ফেনী পুলিশের সঙ্গে রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলির মধ্যে লাপাত্তা হয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম। পরে ফেনী পুলিশই ওই পরোয়ানা তামিলের কাজ শুরু করে। ওসি মোয়াজ্জেম পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকেই বলা হলেও পরোয়ানা জারির দুদিন পর আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে তার আবেদন জমা পড়ে। শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান বলেন, মোয়াজ্জেমের গ্রেপ্তারের আদেশ তার বাড়ি যশোরে পাঠানোর পর সীমান্তবর্তী শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানাকে তা অবহিত করা হয়েছে । এ ব্যাপারে তারা সতর্ক রয়েছেন। এদিকে মোয়াজ্জেমকে নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনার মধ্যে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, মোয়াজ্জেম হোসেন ‘দেশেই আছেন’  এবং তার ‘বাইরে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’। শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তারের আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।

সীমান্তে কড়া নজরদারি রয়েছে জানিয়ছেন যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সেলিম রেজা। মোয়াজ্জেম হোসেনের বাবা ঝিনাইদহের বাসিন্দা হলেও কয়েক যুগ আগেই যশোর শহরের রায়পাড়ায় জমি কিনে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। ওই বাড়িতেই শৈশব কাটে মোয়াজ্জেমের। যশোরের বাড়িটিতে এখন তার দুই ভাই ও এক বোন মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন। এদিকে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আনসার উদ্দিন বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানার একটি কপিসহ কিছু নির্দেশনা বুধবার তাদের হাতে এসেছে।

প্রতিশ্র“তির সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেট অনেক ক্ষেত্রেই অসংগতিপূর্ণ – সিপিডি

ঢাকা অফিস ॥ প্রস্তাবিত বাজেট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্র“তির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাজেট-উত্তর পর্যালোচনায় এমন প্রতিক্রিয়া জানায় প্রতিষ্ঠানটি। বাজেট বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা খুবই কম বলেও জানানো হয় এই বাজেট পর্যালোচনায়। সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ঘাটতি পূরণে গতানুগতিক হিসাব মেলানো হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে চাপ তৈরি করতে পারে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সংস্কার ও নীতি যথেষ্ট নয় বলেও মনে করে সিপিডি। রাজস্ব আদায়টা একটা অমোচনীয় প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে। সেই কঠিন বাধাকে অতিক্রম করতে পারবে? সেটার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্বিতীয়ত, আমরা বলেছিলাম ব্যাংকিং খাত। আয়-ব্যয় কাঠামোর ভেতরে, আর্থিক খাতের ভেতরে গেলে আরো দেখতে পাবেন, ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা বাড়বে। এবং সেই ব্যাংকিং খাতের ভূমিকার ক্ষেত্রে সরকার আরো বেশি নির্ভরশীলতা দেখাচ্ছে আগামি অর্থ বছরে। সেইখানেও কিন্তু নতুন অর্থবছরে আমরা কিছু পাচ্ছি না। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ঠিক হয়নি জানিয়ে পর্যালোচনায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরো বলেন, অঘোষিত আয় আর বেআইনি আয় আলাদা করা উচিত ছিল। মুদ্রার বিনিময় হার সংশোধন না করে কিছু রপ্তানি খাতে প্রণোদনা দেওয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মনে করে সিপিডি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ স্লোগানসংবলিত বাজেট পেশ করেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এ ছাড়া, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বচ্ছল ও উচ্চ আয়ের মানুষকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রেখে বাড়ানো হয়েছে সম্পদের ক্ষেত্রে সারচার্জের সীমা। যারা আয় করে তাদের জন্য সুবিধা দেওয়া হয়নি, অথচ সম্পদশালীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটে গরীব মানুষের জন্য একটি প্রান্তিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থনৈতিকভাবে যারা সুবিধাভোগী এবারের বাজেট আবারও তাদেরই পক্ষে গেছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে গরীব মানুষের পক্ষে বলা হয়েছে। আমি আগেও বলেছি, এ ইশতেহার একটি সুলিখিত, সুচিন্তিত দলিল। যেটাকে সিরিয়াসলি নেই। ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মানীয় এ ফেলো বলেন, ব্যাংক খাত থেকে যারা সুবিধা নিয়েছেন, তারা ব্যাংকিং কমিশন হোক চান না। কমিশন হলে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। তথ্য উপাত্তের সমস্যা আছে, সেগুলো প্রকাশিত হবে, জবাবদিহীতা বাড়বে। যারা এ খাত থেকে অন্যায্য সুবিধাগুলো নিয়েছেন, তারা এ পরিবর্তনগুলো আনতে দিতে চান না। বাজেট স্বচ্ছল-উচ্চ আয়ের মানুষকে অনেক বেশি সুবিধা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর গরীব মানুষের জন্য একটি প্রান্তিক ভাবে এ ধরনের ব্যবস্থা থাকছে। দেশের মধ্যবিত্ত, বিশেষ করে বিকাশমান মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্তরা এ বাজেট থেকে খুব বেশি উপকৃত হবে না। কারণ যারা উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পায় না, বিদেশে গিয়ে এসব সেবা নিতে পারে না। তাদের জন্য আমরা কি মানসম্পন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদের শিশুরা উচ্চমানের শিক্ষা পাচ্ছে কি-না। চিকিৎসা করাতে পারছে এটাই বড় বিষয়। দেশের মধ্যবিত্তদের জন্য আমরা কি করতে পারবো, সেটার উপর নির্ভর করছে, আমাদের উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়া। বিকাশমান মধ্যবিত্তরাই হলো চালিকা শক্তি। তাদের চিন্তা, চেতনা, উপার্জন, বুদ্ধিমত্তা এগুলোই হলো চালিকাশক্তি। সেই চালিকাশক্তিকে যদি সেভাবে পরিমাপ না করেন, তাহলে ইশতেহার চেতনা সম্পূর্ণ বিফল। এটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ, ভোটের ভিত্তি পরিপন্থি, এটাই দুশ্চিন্তার বিষয়। দেবপ্রিয় ভট্টচার্য বলেন, যারা অর্থনৈতিক অপশাসনের সুবিধাভোগী, এ বাজেট তাদের পক্ষেই গেছে। কারণ পরিবর্তনের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, অর্থনৈতিক কৌশল সেটা আমরা দেখিনি। কিন্তু এসব বিষয় ইশতেহারে ছিল, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ছিল। সরকার যে টাকা বরাদ্দ করেছেন সেটা গরীব মানুষের কাছে যায়নি, আর খরচ করলেও সেটা গরীব মানুষের পক্ষে যায়নি। অনুষ্ঠানে সিপিডির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট উম্মে শেফা রেজবানা, মোস্তফা আমির সাব্বিহ, সারাহ সাবিন খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুশানবেতে রাষ্ট্রপতিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

ঢাকা অফিস ॥ ‘কনফারেন্স অন ইন্টারেকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস ইন এশিয়ার (সিআইসিএ) পঞ্চম সম্মেলনে যোগ দিতে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ‘হংসবলাকা’ দুশানবে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। দুশানবেতে নামার পর রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান তাজিকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের চেয়ারম্যান এবং দুশানবের ডেপুটি মেয়র। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে ‘স্ট্যাটিক গার্ড’ ও লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমান বন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল আভেস্তায় যান রাষ্ট্রপতি। দুশানবেতে এই হোটেলে অবস্থান করবেন তিনি। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রসারে কাজ করে সিআইসিএ। কাজাখস্তানের রাজধানী নুর সুলতানে এই সংস্থার সদর দপ্তর অবস্থিত। বর্তমানে ২৭টি দেশ এই সংস্থার সদস্য। সদস্য দেশগুলো হল আফগান্স্তিান, আজারবাইজান, বাহরাইন, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, চায়না, মিশর, ভারত, ইরান, ইরাক,ইসরাইল, জর্ডান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম। এছাড়া বেলারুশ, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, লাওস, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ইউক্রেইন ও যুক্তরাষ্ট্র এর পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে। জাতিসংঘ ছাড়াও আন্তর্জাতিক অভিবাসনসংস্থা-আইওএম, লিগ অব আরব স্টেটস, অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন ইন ইউরোপ, পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি অব দ্যা টার্কিক স্পিকিং কান্ট্রিজ এরসিআইসি’র পর্যবেক্ষক। এশিয়াভিত্তিক এই সংস্থার বর্তমান সভাপতির দায়িত্বে আছে তাজিকিস্তান। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রস্তাব করে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুর সুলতান নাজারবায়েভ। এর প্রথম সম্মেলন হয় ২০০২সালে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ এই ফোরামের সদস্য হয়। প্রেস সচিব জানান, দুশানবেতে সম্মেলন শেষে রাষ্ট্রপতি উজবেকিস্তান সফর করবেন। সফর শেষে ১৯ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে আবদুল হামিদের।

বিশ্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কুয়েতে

ঢাকা অফিস ॥ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে। গত ৮ জুন দেশটিতে ছায়ায় ৫২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও রোদে ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একইদিন, সৌদি আরবের আল-মাজমা শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়েতে চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে গত বুধবার (১২ জুন) এক ব্যক্তি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ওই ব্যক্তি মারা যান। তীব্র রোদের কারণে তিনি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। কুয়েত ও সৌদি আরবে এ তীব্র তাপপ্রবাহ এত শিগগিরই শেষ হচ্ছে না। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, কুয়েতের গ্রীষ্মকাল এবার বেশ দীর্ঘ হতে চলেছে। এর মধ্যে, জুলাইয়ে সেখানকার তাপমাত্রা ৬৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আরবের আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও আঘাত হানবে এ তাপপ্রবাহ। গত ৭ জুন ইরাকের মেসান প্রদেশে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হযেছে ৫৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সোমবার (১০ জুন) একই ধরনের তাপপ্রবাহের শিকার হয়েছে ভারতও। আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট এল ডোরাডোর তথ্যমতে, ওই দিন বিশ্বের উষ্ণতম ১৫টি জায়গার মধ্যে আটটি ছিল ভারতে, বাকিগুলো ছিল পাশের দেশ পাকিস্তানে। ভারতের আবহওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার (১০ জুন) রাজস্থানের চুরু শহরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তথ্যমতে, এ যাবৎকালে বিশ্বের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেথ ভ্যালিতে ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯১৩ সালের ১০ জুলাই এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর ৯০ বছর পর, ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার এল আজিজিয়াতে ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার দাবি করা হলেও, তা নাকচ করে দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ

শর্তভঙ্গে উপাধ্যক্ষ নিয়োগে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ, শিক্ষা পরিবেশ বিঘিত

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দেশের শীর্ষস্থানীয় বৃহৎ সরকারী মহাবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে জেষ্ঠ্যতা লংঘন ও শর্ত জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত উপাধ্যক্ষের কর্মস্থলে যোগদান বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শিক্ষক অসন্তোষে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, কলেজে উপাধ্যক্ষের বিদ্যমান শুন্যপদে নিয়োগের নিমিত্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত পত্রেও অসঙ্গতি ও শর্ত জালিয়াতির বিষয় দৃষ্টি গোচর হওয়ায় তা অবহিত করে এই নিয়োগ স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক বলছেন যা কিছু হয়েছে সরকারী বিধিমতে নিয়ম মেনেই হয়েছে।

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, মো: মসলেম উদ্দিন ১৯৯৫ সালের ২২ অক্টোবর রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্নাতকোত্তর হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ  নেন এবং উত্তীর্ন হন। পরে ১৯৯৬ সালের ২৪ জানুয়ারী তিনি কুষ্টিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করে এমপিও ভুক্তির অনুমোদন পান ১ মার্চ ১৯৯৭ সালে। অত:পর ১৫ জুন, ২০০৬ সালে বেসরকারী কলেজ থেকে বিসিএস আত্তীকরণ সুবিধা নিয়ে তিনি কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সর্বশেষ ৩০ মে ২০১৯ তারিখে উপ-সচিব শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত এক সরকারী আদেশপত্রে তাকে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ৪ জুন ২০১৮ থেকে নিয়োগ দানের কথা বলা হয়েছে যা বিধিসম্মত নয়; কারণ সরকারী একই প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন পদে একসাথে দুইজনকে নিয়োগদান বিধি বহির্ভুত। উল্লেখ্য পূর্ববর্তী উপাধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে দাপ্তরিকভাবে বদলি হন ৯জুন ২০১৮ তারিখে যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নথি সংরক্ষিত আছে।

আত্তীকরণ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্তির শর্তানুযায়ী শিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মকালীন ১০বছর পূর্ণকরনসহ কর্মজীবনে কৃতিত্বপূর্ন অবদানের স্বাক্ষর রেখেছেন এমন বিশেষ বিবেচনার কোটা সুবিধা নিয়ে বে-সরকারী কলেজ থেকে সরকারী কলেজে নিয়োগ পর্যন্ত সকল স্তরে অসত্য তথ্য সরবরাহসহ অবৈধ প্রভাব কাজে লাগিয়ে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন মো: মসলেম উদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২৩ জুন ২০০৫ সালে বেসরকারী মহাবিদ্যালয় কুষ্টিয়া আদর্শ ডিগ্রী কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে কর্মরত সময়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শতকরা ১০% আত্মীকরণ নিয়োগদানের বিজ্ঞাপন দেয় (দৈনিক ইত্তেফাক) পত্রিকায় প্রকাশিত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মূখ্য সচিব শহিদুল ইসলামের সহায়তায় এবং তার ভাইঝি’কে বিয়ে করার শর্তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তপূরণ যোগ্যতা ছাড়াই এই সুবিধাপ্রাপ্ত হন। যদিও নিয়োগ প্রাপ্তির পর তিনি সচিবের ভাইঝিকে বিয়ে করেন নি এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুনীর সাথে মেলামেশা করে প্রতারণা করার দায়ে ওই তরুনীর দেয়া অভিযোগে ২০০৭ সালে শিক্ষক মসলেম উদ্দিনকে তার নিজ বাড়ি সদর উপজেলার হররা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। পরে পক্ষগনের মধ্যে আপস মিমাংশায় সে যাত্রায় রেহায় পান তিনি। এরপর ২০১৭ সালে আরও একটি নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনায় তিনি জনরোষের শিকার হয়ে  গুরুতর আহত হন।

একইভাবে অধ্যাপক মসলেম উদ্দিনকে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদানের আপত্তি জানিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের  সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত দরখাস্তে অভিযোগ- অনৈতিক ও অবৈধ প্রভাব দেখিয়ে কর্মস্থলে সমকর্মীদের সাথে অসদাচরণ, ছাত্রীদের সাথেও অশালীন আচরণে অভিযুক্ত শিক্ষক উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেলে কলেজের শিক্ষক/শিক্ষার্থীরাও নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। সে কারণে অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি তাদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক অধ্যাপক মসলেম উদ্দিন মুঠোফোনে প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্নরূপে অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য আপনাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মনজুর কাদির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মী হিসেবে অধ্যাপক মসলেম উদ্দিনকে এমন বিশেষ কোন যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে দেখিনি যে, তিনি এঅঞ্চলের বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে পারবেন। তাছাড়া কলেজের শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ বিদ্যমান যা শিক্ষা পরিবেশ বিঘেœর সামিল। বিষয়টির সুরাহা চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এখন অপেক্ষায় আছি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটাই চুড়ান্ত বলে মানতে হবে।

৩ কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলেছি, চাকরি নয় – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি কর্মসংস্থানের কথা আমরা বলেছি, চাকরি দেয়ার কথা বলিনি। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থানের কথা আমরা বলেছি, চাকরি দেয়ার কথা বলিনি। ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রেখেছি। শিক্ষার কথা বলেছি; প্রযুক্তিগত শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং। আর আমরা চাই ট্রেনিং নিয়ে শিক্ষিত হয়ে নিজের কাজ নিজে করতে শিখুক। তিনি বলেন, কাজেই ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। আর আছে বলেই আজ ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না। ধান কাটার জন্য এখন লোক পাওয়া যাচ্ছে না কেন? যদি এত বেশি বেকার থাকে; তাহলে ধান কাটার লোকের অভাব হতো না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষ একদিন ধান কাটলে ৪০০-৫০০ টাকা পাবে। আবার তিন বেলা খাবার, দুই বেলা খাবে আর এক বেলা আবার বাড়ি নিয়ে যাবে। এরপরও কৃষক ধান কাটার জন্য লোক খুঁজে পায় না। কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে বলেই এখন ধান কাটার লোকের অভাব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা কর্মসংস্থানের কথা বলি, আর সবার ধারণা হয়ে যায় চাকরি দেয়া। ১৬ কোটি মানুষকে কি চাকরি দেয়া যায়? পৃথিবীর কোনো দেশ দেয়? কর্মসংস্থান হচ্ছে, মানুষ যেন কাজ করে খেতে পারে, সেই সুযোগটা সৃষ্টি করা, বললেন তিনি। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। বাজেটের আকার ধরা হয় পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বাজেটে বেকারত্ব নিরসনে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, শ্রমবাজারে বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তির আগমন, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে শ্রমিকের চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং এর সমাধানে নানাবিধ পদক্ষেপ নিচ্ছে। সরকার শিল্পখাতে কর্মসৃজনের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ আধুনিকায়ন, শ্রমিকের সুরক্ষা জোরদার করা এবং পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর অধিক হারে কর্মে প্রবেশ উপযোগী আইন-বিধি, নীতি কৌশল সংস্কারের জন্য তিন বছর মেয়াদে কার্যক্রম শুরু করেছে। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ১০টি আইন-বিধি, নীতি কৌশল প্রণয়ন অথবা সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই বছরে অবশিষ্ট সংস্কার কাজ সম্পাদন করে ক্রমবর্ধমান জনশক্তির জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান ঘটানো হবে।

বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভালো না লাগা পার্টির কিছুতেই ভালো লাগবে না

ঢাকা অফিস ॥ নতুন অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সমালোচনাকে ‘ভালো না লাগা পার্টির অসুস্থতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ এই বাজেটে খুশি কি না, বাজেটে তাদের উপকার হচ্ছে কি না- সেটাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ‘সমৃদ্ধ আগামীর’ প্রত্যাশা সামনে রেখে নতুন অর্থবছরের জন্য সোয়া পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সামনে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি অসুস্থ থাকায় শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতে এবারের বাজেটের বিভিন্ন দিক এবং সরকারের পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। পরে বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এর আগে শুক্রবার সকালে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডির ‘বাজেট পর্যালোচনা’ অনুষ্ঠানে বলা হয়,  দেশের মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তের মানুষ নয়, যারা ধনী এবং ‘অর্থনৈতিক অপশাসনের সুবিধাভোগী’, তারাই নতুন অর্থবছরের বাজেট থেকে সুবিধা পাবে। প্রধানমন্ত্রীর বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের দেশে কিছু লোক থাকে, যাদের একটা মানসিক অসুস্থতা থাকে, তাদের কিছুই ভালো লাগে না। আপনি যত ভালো কাজই করেন, তারা কোনো কিছু ভালো খুঁজে পায় না। “যখন দেশে একটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি থাকে, যখন দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়, সাধারণ মানুষের উন্নতি হয়, তখন তারা কোনোকিছুই ভালো দেখে না। সব কিছুতেই কিন্তু খোঁজে…।” সিপিডি কী গবেষণা করে এবং তারা দেশের জন্য কী আনতে পেরেছে- সেই প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারপরও তাদের একটা কিছু বলতে হবে। তো সেটা ভালোৃ এত সমালোচনা করেও আবার বলবে- ‘আমরা কথা বলতে পারি না’। এ রোগটাও আছে। এটা অনেকটা অসুস্থতার মত।” বাজেট নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার কথা হচ্ছে, আমার সাধারণ জনগণ খুশি কি না। সাধারণ মানুষ খুশি কি না। সাধারণ মানুষগুলির ভালো করতে পারছি কি না। এটা হচ্ছে বড় কথা।” আওয়ামী লীগ সরকার যে এবার নিয়ে টানা ১১ বারের মত বাজেট দিল- সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যা করছি, তার সুফলটা কিন্তু মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। আর এই ভালো না লাগা পার্টি যারা, তাদের কোনো কিছুতেই ভালো লাগবে না।” সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়ে একটি বাংলা কৌতুকের কথাও মনে করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। “একটা গল্প আছে না, পড়াশোনা করছে ছেলে, পাস করবে না; পাস করার পরে বললো চাকরি পাবে না; চাকরি পাওয়ার পর বললো বেতন পাবে না; বেতন পাওয়ার পরে বললো বেতনের টাকা চলবে নাৃ। তো উনাদের সেই অসুস্থতা।” আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে, উন্নত করতে, সমৃদ্ধশালী করতে এবং স্বাধীনতার সুফল যেন দেশের মানুষের ঘরে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। “এবং আমরা মনে করি, সেই লক্ষ্যে যথেষ্ট অগ্রগতি আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এখন বাইরে গেলে আগে যারা মনে করত আমরা ভিক্ষুকের জাত হিসেবে যাচ্ছি, এখন আর কেউ তা মনে করে না। এটাই হচ্ছে আমাদের সব থেকে বড় অর্জন।” শেখ হাসিনা বলেন, “যারা সমালোচনা করার তারা করে যাক, ভালো কথা বললে আমরা গ্রহণ করব, মন্দ কথা বললে আমরা ধর্তব্যে নেব না। পরিষ্কার কথা।” বাজেট পরবর্তী এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশেই বসেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূইয়া। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার।

 

গাংনীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শ্যামলী কাউন্টারে জরিমানা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টারকে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গাংনী উপজেলা শহরের শ্যামলী কাউন্টারের মাস্টার আশরাফুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন,ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিষ্ণুপদ পাল। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অপরাধের কারণে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়,গাংনী উপজেলা শহর থেকে ঢাকা পর্যন্ত নির্ধারিত বাসের ভাড়া ৫৫০ টাকা। অথচ ঈদ যাত্রায় যাত্রীর চাহিদাকে কাজে লাগাতে গাংনী শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আশরাফুল ইসলাম যাত্রীদের কাছ থেকে ৮শ টাকা নিয়েছিলেন। কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগের সত্য প্রমাণিত হওয়ায় এবং আশরাফুল ইসলাম তার দোষ স্বীকার করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাজেট দিতে হাসপাতাল থেকেই সংসদে গেলেন অসুস্থ অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ অসুস্থ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল হাসপাতাল থেকেই সরাসরি জাতীয় সংসদ ভবনে গেছেন নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের জন্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে সংসদ ভবনে যান অর্থমন্ত্রী। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাজেট সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি অংশ নেন। সংসদে তোলার জন্য এই বৈঠকেই আগামি অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বিকাল ৩টায় সংসদ বসলে অর্থমন্ত্রী ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তার প্রথম বাজেট। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবির ওপর কালো মুজিব কোট পরিহিত মুস্তফা কামাল বেলা সোয়া ১টার দিকে সংসদে পৌঁছালে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাকে হাত ধরে ভেতরে নিয়ে যান। অসুস্থতার মধ্যে গত বুধবারও হাসপাতাল থেকে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে সংসদে গিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। কয়েক দিন জ¦রে ভোগার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়েছিলেন ৭২ বছর বয়সী মুস্তফা কামাল। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে রাতে তিনি হাসপাতালেই থেকে যান বলে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। বাজেটের দুদিন আগে অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ তৈরি হলে মঙ্গলবার রাতেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেন। সেখানে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল রুটিন মেডিকেল চেকআপের জন্য সন্ধ্যায় ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি আল্লাহর রহমতে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। আগামী ১৩ জুন, ২০১৯ তারিখে তিনি ইনশাল্লাহ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতার কারণ নিয়ে মন্ত্রণালয় বা পরিবারারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। মুস্তফা কামাল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। অর্থমন্ত্রীর একজন রাজনৈতিক সহকর্মীও একই ধরনের কথা বলেছেন। তবে চিকিৎসকদের মাধ্যমে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

গাংনীতে অপহরণের ৯ ঘণ্টা পর যুবক উদ্ধার – আটক-১

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে  অপহরণের ৯ ঘণ্টা পর তুহিন হোসেন (২৭) নামের এক যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানা নিয়েছে পুলিশ। মুক্তিপণের দাবীতে তুহিনকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত তুহিন সাহেবনগর গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে। নির্যাতন শেষে তুহিনকে অপহরণকারী উপজেলার কামারখালী গ্রামের মাঠে ফেলে যায়। পারিবারিক সূত্র জানায়, বুধবার রাতে তুহিনকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। অপহরণের পর রাতেই সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ হিসেবে ২লক্ষ টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তুহিনকে কামারখালী গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে রাতভোর নির্যাতন শেষে  ফেলে যায়। পরের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা আহত তুহিনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম  জানান,এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে।

আন্দোলনের মুখে কমিটির কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত

জেলার নেতাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে অছাত্র, চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ী ও মাদকসেবি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অছাত্র, চাকুরিজীবি, মাদকসেবি ও ব্যবসায়ীকে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে। দুই উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে মাঠে নেমেছে ছাত্রলীগের বঞ্চিত নেতা-কর্মিরা। ইতিমধ্যে আন্দোলনের মুখে মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে আলাদা তদন্ত কমিটি। তদন্ত অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলেও জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার ও সাধারণ সম্পাদক সাদ আহম্মেদ স্বাক্ষরিত ছাত্রলীগের দলীয় প্যাডে এস.এম মেহেদী হাসানকে সভাপতি ও আলী হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। একই তারিখে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও বিজয় আলী তুফানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ সদস্যের মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর থেকে শুরু হয় জটিলতা। বিভিন্ন অভিযোগ এনে কমিটি বিলুপ্তের দাবিতে সভা সমাবেশ করতে থাকে পদবঞ্চিতরা।

এরপর থেকেই ফূঁসে উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিরা। তারা কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ছাত্রদের নিয়ে কমিটি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। কুমারখালী কমিটির নতুন সভাপতি মেহেদী হাসানের ছাত্রত্ব নেই। মুদি দোকানী বাবার ব্যবসা দেখাশুনা করেন তিনি। আর সাধারন সম্পাদক আলী হোসেন কয়া ইউনিয়নের বাড়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী পদে চাকুরি করতেন। নৈতিকতা বিরোধী কার্যকলাপ ও কর্মস্থলে ১৮৫ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকায় ২০১৬ সালে তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর আলী হোসেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষারের মা জেলা পরিষদের সদস্য সাদিয়া জামিল কণার সাথে সার্বক্ষনিক থাকতেন। কিছুদিন আগে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে আলী হোসেন মাদক সেবন করছেন। পাশে আরো কয়েকজন বসা রয়েছে।

মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের ছাত্রত্ব নেই। তিনি এইচএসসি পাশ। এ জেলায় তার বাড়ি নয় বলেও জানাগেছে। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদেও আছেন। আর সাধারন সম্পাদক বিজয় আলী তুফানের বাবা আব্দুর রশিদ বিশ্বাস বহুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। একই ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি তিনি। তুফান জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাকে নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে আগেও। জেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে পদ নেয়ার অভিযোগ আছে তুফানের বিরুদ্ধে। মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগে সাংগঠনিক হিসেবে পদ দেয়া হয়েছে আশিক মালিথা নামের এক কিশোরকে। এর আগে ছাত্রলীগের কোন কমিটিতে তার পদ ছিল না। দলীয় কার্যক্রমেও তাকে কেউ দেখেনি। তার চাচা আব্দুল মালেক জেলা যুবদলের নেতা।

জেলা ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার ও সাধারন সম্পাদক সাদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে এমনিতেই নানা অভিযোগ রয়েছে। এরা দলের দায়িত্ব নেয়ার পর একের পর ঘটনা ঘটে চলেছে। অর্থ নিয়ে এর আগে জেলা ছাত্রলীগে ছাত্রদল, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারি ও অছাত্রকে পদ দেন এই দুই নেতা। এবার কারো সাথে আলাপ না করেই নিজেদের মন মত উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনা করেছেন। সাদ পদ দেয়ার নামে অর্থ নিয়ে দেশের বাইরে চিকিৎসা করাতে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে বালুবাহী নৌকা থেকে অর্থ নেয়ার অভিযোগ আছে।

চলতি মাসে জেলার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে জেলা কমিটি। আর এই ছাত্রলীগের কমিটি  ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় জটিলতা। সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের মত কর্মসূচী নিয়ে মাঠে আছেন ছাত্রলীগের কর্মিরা। কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সাংসদসহ দলীয় নেতারাও।

আন্দোলনকারী কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক রাসেল বলেন, ছাত্রলীগে কোন অছাত্র, মাদক ব্যবসায়ী, নাইট গার্ড থাকতে পারে না। আমরা অবৈধভাবে নবগঠিত কমিটি মানিনা, মানবো না। এই কমিটি ভাঙতে হবে। তা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমাদের সমাবেশ চলতে থাকবে।’

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার বলেন, কমিটি নিয়ে যে বিতর্ক চলছে তার সত্যতা যাচাই করার জন্য দুটি তদন্ত টিম কাজ করছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে কমিটির কার্যকম সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আর অর্থ নিয়ে কমিটি নেয়া হয়েছে এমন বিষয় ঠিক না।’

তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা ছাত্রলীগের নেতা আতিকুর রহমান অনিক বলেন,‘ তদন্ত চলছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন কমিটির কাছে জমা দেয়া হবে। পরে মিডিয়ায় জানানো হবে প্রয়োজনে।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, অছাত্র, মাদকসেবি সহ বিতর্কিতদের নিয়ে কমিটি দেয়া হয়েছে। অর্থ নেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ কমিটি দেয়ায় ছাত্রলীগের প্রকৃত নেতা-কর্মিরা ক্ষুব্ধ। তাই প্রকৃত ছাত্রদের নিয়ে যাতে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা যায় সে ব্যাপারে জেলার নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

 

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধর্ষনের আসামিকে পিটিয়ে হত্যা

ঢাকা অফিস ॥ সিলেটে ডাকাতি করতে গেলে মসজিদের মাইকে তা ঘোষণা করা হয়। এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে দুদু খান (৩৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়। তিনি এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা   মামলারও আসামি। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়ায় তার সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতি করতে যায়। গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত দুদু বনকলাপাড়া ১১২ নম্বর বাসার বাসিন্দা কামাল খানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে নগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় গণধর্ষণসহ চারটি মামলা ছিলো। এসব মামলায় জেল থেকে সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে এসেছিলেন দুদু।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২ থেকে ৩ সপ্তাহ আগে কারাগার থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসেন দুদু। বুধবার রাতে সে বন কলাপাড়া এলাকায় ডাকাতির জন্য হানা দিলে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে তা জানিয়ে দেয়। এলাকাবাসী রাস্তায় বের হয়ে আসেন। তাদের গণপিটুনিতে গোলাপমিয়া পয়েন্টে দুদুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত দেড়টার দিকে লাশের সুরতহাল শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায় বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় জাতিসংঘের উদ্বেগ

ঢাকা অফিস ॥ নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন দুই বছরেও শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ। বুধবার দুপুরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু ও জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনসহ বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ সংশি¬ষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি মিয়ানমার সরকারের অসহযোগিতাসহ অন্যান্য সমস্যাও অবহিত করেন। “রোহিঙ্গা সঙ্কটের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের দায়বদ্ধতার ইস্যুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কেও মহাসচিবকে অবহিত করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের মহাসচিবের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।” বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বরাবরের মতোই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের উদারতা ও মানবিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের সক্রিয় কার্যক্রমের জন্য সাধুবাদ জানান আন্তোনিও গুতেরেজ। তিনি বলেন, “আসন্ন ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটে বাংলাদেশের সক্রিয় এবং ফলপ্রসূ অংশগ্রহণের দিকে তাকিয়ে আছে জাতিসংঘ।” অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এসময় উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়ার সঙ্গেও বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিফেন্স অ্যাডভাইজর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান ফিরোজ আহমেদ ও মিনিস্টার ড. মো. মনোয়ার হোসেন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আ.লীগের আনন্দ মিছিল

ঢাকা অফিস ॥ প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগ। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ আনন্দ মিছিল করেন নেতাকর্মীরা। মিছিল পূর্ব সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী যৌথভাবে একটি জনমুখী এবং কল্যাণমুখী বাজেট উত্থাপন করেছেন। এ বাজেটের জন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাই।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার গড়ার স্বপ্ন অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে আনন্দ মিছিল বের করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা যুবলীগ। এবারের বাজেটকে গরিবের বাজেট বলে অভিহিত করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেন, ‘এবারের বাজেট গরিরের বাজেট। এ বাজেট কর্মসংস্থানের বাজেট। বাজেটে মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হবে। যা দেশকে এগিয়ে নেবে।’ এর আগে বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এ বাজেট দেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। বরাবরের মতো বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। শুরুতে দাঁড়িয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করলেও পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজ আসনে বসে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। কিন্তু বিকেল ৪টার পর অসুস্থ অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন সম্ভব না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বাকি অংশ সংসদে উপস্থাপন করেন। বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে ‘প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপিত হলো’ মর্মে ঘোষণা দেন স্পিকার। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।