দেশে করোনা শনাক্ত ২৫ হাজার ছাড়াল, মোট মৃত্যু ৩৭০

ঢাকা অফিস ॥ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫১ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন সর্বোচ্চ ২১ জন।  এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার ১২১ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ৩৭০ জন। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। সোমবার দেশে করোনায় সংক্রমিত ১ হাজার ৬০২ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। আর মারা গিয়েছিলেন ২১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২১ জনের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিভাগের ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১ জন, খুলনা বিভাগের ১ জন ও বরিশাল বিভাগের ১ জন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন; ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৫ জন; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন; ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৪ জন ও ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪০৮ জন। এ নিয়ে সর্বমোট ৪ হাজার ৯৯৩ জন সুস্থ হয়েছেন। ব্রিফিংয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৪৪৯ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। দেশে এখন ৪২টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) করোনা পরীক্ষা করা হয়। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

 

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ইউএনও’র উদ্যোগে ২৭৬ প্রতিবন্ধির বাড়িতে খাদ্য সহায়তা প্রদান

রেজা আহাম্মেদ জয় ॥ অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে চাল, ডাল,  তেল, চিনি ও সেমাইসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। উপজেলা পরিষদ থেকে ভ্যান যোগে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন  চৌধুরী বটতৈল ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধীর বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে এসব খাদ্য সামগ্রী অসহায় প্রতিবন্ধীদের হাতে তুলে দেন। উপজেলা সমাজ সেবার আয়োজনে এ খাদ্য সহায়তা কর্মসুচী চলমান থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন  চৌধুরী। উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ সংক্রমনে দুস্থ অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়া চলমান রয়েছে। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সমাজ সেবা কর্মকর্তাসহ সদর উপজেলা পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও  চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বটতৈল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম এ মোমিন মন্ডল প্রমূখ।

. ঈদের সময় ফুর্তি করতে বের হবেন না – আইজিপি

ঢাকা অফিস ॥ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরে কেউ ফুর্তি করতে বের হবেন না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন। বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ঈদের সময়ে শহরে-গ্রামে যে যেখানে আছেন, ফুর্তি করতে বের হবেন না।’ যাঁর যাঁর অবস্থানে থাকার অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘দয়া করে নিজের অবস্থান থেকে বের হবেন না। ঢাকা ছাড়বেন না এবং ঢাকায় আসবেন না। জীবনে অনেক ঈদ আসবে। তখন এসব করা যাবে। এমন কিছু করবেন না, যাতে এই উৎসব জীবনের শেষ উৎসব হয়। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সরকারের নির্দেশনা মানতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন গুরুত্বপূর্ণ। ঈদে আনন্দ করার জন্য নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দূত হয়ে পরিবারের সামনে হাজির হবেন না।’ পুলিশ কেন কঠোর হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘সরকার দেশের মানুষের জন্য যা ভালো সেটা করছে। দেশে অনেক প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছে। সরকারকে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অনেক দেশ মানুষকে ঘরে রাখতে শক্তি প্রয়োগ করলেও আমরা কোনো শক্তি প্রয়োগ করিনি।’ তথ্য প্রকাশের অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, গুজব ছড়ানো অপরাধ। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ দেশবিরোধী অবস্থান নিলে কেউ তা মেনে নেবে না। জনগণকে বিভ্রান্ত করার অধিকার কারও নেই। করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। পুলিশের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পুলিশের পরিকল্পনায় কোনো ভুল ছিল কি না? জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে, এখনো করছে। ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ অনেক কাজ করেছে। যেখানে লাশের কাছে পরিবারের কেউ যেতে চায়নি, সেখানে পুলিশ গিয়েছে। এ রকম হলে আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। তবে পুলিশের জন্য আগাম সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শুধু মাঠপর্যায়ের পুলিশই না, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাও আক্রান্ত হয়েছেন। মানুষ এই সাধারণ ছুটিকে উৎসব মনে করেছে, পুলিশ কেন কিছু বলছে না? এর জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, মানুষকে জোর করে ঘরে রাখা যাবে না। তাদের বুঝতে হবে জীবনটা তার নিজের। নিজের সুরক্ষার কথা নিজেকেই ভাবতেই হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মাঈনুর রহমান চৌধুরী, বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

ঢাকা অফিস ॥ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে বুধবার দিবাগত রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হবে।  ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে শবে কদরের রাত হাজার রাতের চেয়ে পুণ্যময়। মহান আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হাজার রাতের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র শবে কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনী। পবিত্র শবে কদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আল্লাহর নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগি করবেন। পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে পবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা বুধবার দিবাগত রাতে মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। এ রাতে মুসলমানেরা নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ ও আখেরি মোনাজাত করবেন। পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিও চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এ ছাড়া সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হবে।

প্রশাসনের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন

কুষ্টিয়ায় ভোরের ঈদ বাজার জমজমাট 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা মানছে না জেলার ব্যবসায়ীরা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদী ছাড়া সকল দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হলেও লুকোচুরি করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঈদের বেচাকেনা জমজমাট ভাবেই চলছে। ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ভোর থেকেই দোকান খুলে ঝাপ ফেলে ভিতরে বেচাকেনা করছে। সার্বক্ষনিক বাইরে একজন বা দুজন কর্মচারী ক্রেতা এবং প্রশাসনের কর্তাদের দৃষ্টি রেখে চলেছে। এদিকে গতকাল জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত শহরের বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটে অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের কারাদন্ডাদেশ এবং ২০হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে বলে জানা যায়।

শনিবার থেকে ঈদের জন্য খুলে দেয়া মার্কেট সামাজিক দুরত্ব না মানায় বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে শহরের অধিকাংশ দোকানের ঝাপ ফেলে ক্রেতাদের ভেতরে ঢুকিয়ে বেচাকেনা চলছে। দোকানের সামনে একজন কর্মচারী দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে তাকে ঝাপ তুলে ভিতরে দিয়ে আবার ঝাপ ফেলে দেয়া হচ্ছে। আর দোকানের ভিতরেই চলছে দর দাম এবং বেচাকেনা। বেচাকেনা শেষে ক্রেতাকে বের করে দিয়ে আবার নতুন ক্রেতা ঢোকানো হচ্ছে এভাইে শহরের থানা মোড়ের অধিকাংশ দোকানের চিত্র। যা চলে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা শহরে টহলের আগ পর্যন্ত। আবার অনেক বন্ধ দোকানের ঝাপে স্টিকার লাগানো হয়েছে। সেখানে মোবাইল নম্বর দিয়ে লেখা হয়েছে প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন। ক্রেতারা তাদের প্রয়োজনে মোবাইল করে আর সুযোগ বুঝে পণ্য বিক্রি করে আবার ঝাপ নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল ভোরে শহরের থানামোড় এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে- থানার আশে পাশের অধিকাংশ দোকানের সামনে দোকানের কর্মচারীরা দাঁড়িয়ে ক্রেতা সাধারনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এসময় ক্রেতা দোকানের সামনে আসলেই ঝাপ তুলে তাদের দোকানের ভিতরে ঢুকিয়ে ঝাপ ফেলে দিচ্ছে আবার বেচাকেনা শেষে ঝাপ তুলে ক্রেতাদের বের করে দেয়া হচ্ছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষেরাই ঈদের কেনা কাটায় ভোরে ব্যস্ত দেখা গেছে। সকাল গড়ানোর সাথে সাথে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বেলা ১১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটে অভিযান চালিয়ে একটি দোকানের মালিককে এক মাসের কারাদন্ড এবং ২০হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। সারা দিনই পুলিশ এবং ভ্রাম্যমান আদালতের আতংকে ব্যবসায়ীরা লুকোচুরির মধ্যদিয়ে দিন শেষ করে। পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল জোরদার করা হলেও ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে  আইন অমান্য করে চলেছে।

দেশের সব মসজিদে সুরক্ষা গেট স্থাপনে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নোটিশ

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণ থেকে দেশের মুসল্লিদের রক্ষায় ঈদের আগে সরকারি খরচে দেশের প্রত্যেক জেলা ও উপজেলার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদগুলোর প্রবেশমুখে সুরক্ষা গেট স্থাপন করতে সংশ্লিষ্টদের নাটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ইসলামি ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে (ডিজি) বিবাদী করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার  জনস্বার্থে ই-মেইলে নোটিশটি পাঠান ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের (এনএলসি) চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু। নোটিশে বলা হয়, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাযন। কিন্তু সরকারের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে নামাজ আদায় করে যাচ্ছেন। তবে যেকোনো মুহূর্তে মসজিদে আগত মুসল্লিরা করোনার সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে জীবন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই দেশের সব মসজিদের দরজায় সুরক্ষা গেট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যাতে করে মসজিদে আগত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা জীবাণুমুক্ত হয়ে মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করতে পারেন।

আজ বিকালে ‘আঘাত’ হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’

ঢাকা অফিস ॥ ঘণ্টায় গড়ে ২০ কিলোমিটার গতিতে উপকূলের দিকে এগোতে থাকা সুপার সাইক্লোন আম্পানের শক্তি কিছুটা কমেছে; এ ঘূর্ণিবায়ু আজ বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ের আকারে উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে খুলনা ও চট্টগ্রাম উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে আম্পান। আর ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা বলছেন পশ্চিমবঙ্গের দীঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়ার মাঝামাঝি সুন্দরবন ও আশপাশের এলাকার কথা। আগের তুলনায় শক্তি সামান্য কমলেও বিপুল ধ্বংস ঘটানোর সামর্থ্য রাখে এ ঝড়। উপকূল অতিক্রম করার সময় এর বাতাসের শক্তি থাকতে পারে ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটার বা তারও বেশি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, এখনও আমরা বন্দরগুলোকে বিপদ সংকেত দেখাতে বলছি। আজ বুধবার মহাবিপদ সংকেত দেওয়া হবে। আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত আম্পান উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩টায় এ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল। আম্পানের গতি-প্রকৃতি তুলে ধরে আবহওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, সাইক্লোনটি এখন ঘণ্টায় ১৮-২০ কিলোমিটার বেগে উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। আজ বুধবার দুপুরের পর থেকে বাংলাদেশ উপকূলে প্রভাব শুরু হবে। সন্ধ্যা থেকে রাতভর ঝড়ের প্রভাব থাকবে উপকূল জুড়ে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় আগের মতই মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। আর উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। আবহাওয়া অফিস বলছে, ২২ মে অমাবস্যা থাকায় এর প্রভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে জোয়ার। ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং আশপাশের দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-১০ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ বুধবার দিনের প্রথম ভাঁটা শুরু হবে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে আর দিনের দ্বিতীয় জোয়ার শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে। এরপরের ভাঁটা রাত ১২টা দুই মিনিটে শুরু হবে। আম্পান আজ বুধবার বিকালে উপকূল অতিক্রম শুরু করলে তখন ভাটার প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস কিছুটা কম থাকবে। তবে সন্ধ্যায় জোয়ারের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হয়ে উঠতে পারে ভয়ঙ্কর। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রম করার সময় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সাইক্লোনের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মধ্যরাত থেকে উপকলীয় এলাকাসহ দেশের সর্বত্র বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। তাতে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দেখে বুধবার সকাল ৬টায় মহাবিপদ সংকেত দেওয়া হতে পারে। এরপর আর কাউকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হবে। তাই গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ২২ লাখ মানুষকে ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের মহামারীর এই সময়ে যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন তাদের সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে এনামুর বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের মিনিমাম এক মিটার দূরত্ব রজায় রেখে থাকতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোহসীন  বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পযবেক্ষণ করছি। ইতোমধ্যে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’

ফেরি চলাচল বন্ধ

ঢাকা অফিস ॥ ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসায় বিভিন্ন রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। গতকাল মঙ্গলবার  নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘আস্ফান’ এর কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী, চাঁদপুর-শরীয়তপুর, ভোলা-লক্ষ্মীপুর, ভেদুরিয়া-লাহারহাটে ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘ফেরি ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে।’ করোনা সংক্রমণ রোধে সারাদেশে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার শেষরাতে আঘাত হানতে পারে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। এরপর থেকে আজ বুধবার বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। এ সময় পাঁচ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

রমজানে গরীবদের হক সদকাতুল ফিতর

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ সদকাতুল ফিতর একটি ইসলামী পরিভাষা। দু’টি শব্দের সমষ্টি তথা ‘সদকাহ’ ও ‘আল-ফিতর’। ‘সদকাহ’ অর্থাৎ দান, যা একজন অধিক সামর্থ্যবান ব্যক্তি কোনো অভাবী দরিদ্রকে  প্রদান করে থাকেন। ‘আল-ফিতর’ অর্থাৎ রোজা ভঙ্গ করা। অতএব, এর অর্থ দাঁড়ায়; এটা এমন এক সদকাহ যা একজন রোজাদার রমজান মাসে সিয়ামের নির্দেশ পালন করার পর ১ শাওয়াল যেদিন প্রথম রোজা রাখা বন্ধ করবেন সেদিন যে সদকাহ দিয়ে থাকেন তাই সদকাতুল ফিতর। আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশে পুণ্যের উদ্দেশ্যে যে বাধ্যতামূলক বা ঐচ্ছিক ‘দান’ সম্পাদন করা হয়, তা-ই সদকাহ। এখানে এ সদকাহ  যেহেতু রাসূল করিমের  প্রত্যক্ষ নির্দেশে সম্পাদিত হয় তাই ওয়াজিব। সদকাতুল ফিতরকে হাদিস শরিফে জাকাতুল ফিতর নামেও অভিহিত করা হয়েছে। এ সদকাহটি আমাদের দেশে ‘ফিতরা’ নামে অভিহিত। ইমাম নাওয়াভি এ পরিভাষাটির উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন, এটি মূলত আরবি পরিভাষা না হলেও  ফোকাহাদের মধ্যে এর ব্যাপক প্রচলন, একে ‘জাকাত’ ও ‘সালাত’-এর অনুরূপ একটি স্বতন্ত্র পরিভাষার মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ‘সদকাতুল ফিতর’-এর যৌক্তিকতা : এ সদকাহর প্রধান কারণ হচ্ছে ঈদের দিনে ফকির-মিসকিনদের প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং তাদের ঈদের আনন্দে শরিক করা। যাতে করে এ উৎসবের দিনে খাবারের জন্য তাদের কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগতে না হয়। এর আরো একটি উদ্দেশ্য হলোÑ রমজানের রোজা রাখতে গিয়ে আমাদের যেসব ক্রটি-বিচ্যুতি হয়ে গেল তার প্রতিবিধান। এ প্রসঙ্গে হজরত ইবনে আব্বাস রা: বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দেয়া যায়। তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সা: জাকাতুল ফিতর বাধ্যতামূলক করেছেন। সদকাতুল ফিতর’ কার ওপর ওয়াজিব এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার এখানে সুযোগ নেই। তবে সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায়, প্রত্যেক স্বাধীন মুসলিম নর-নারী যিনি ঈদের দিনে নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী তার ওপর বাধ্যতামূলক। তিনি নিজের পক্ষে, তার স্ত্রী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান-সন্তানাদিদের পক্ষে এ সদকাহ আদায় করবেন। ইমামদের অনেকেই নিসাবের অধিকারী হওয়ার শর্ত করেননি। তাদের মতে, যদি কেউ সদকাতুল ফিতর আদায় করার সামর্থ্য রাখে তাকেও এ সদকাহ আদায় করতে হবে। চাই তিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী না হবেন। ‘সদকাতুল ফিতর’-এর পরিমাণ  প্রসঙ্গ : ‘সদকাতুল ফিতর’-এর পরিমাণ সংক্রান্ত বিষয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে নিম্নোক্ত হাদিসগুলোর উল্লেখ করা যায় : ১. হজরত ইবনে উমর রা: বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সা: (মুসলিম) জনতার ওপর ‘সদকাতুল ফিতর’ বাধ্যতামূলক করেছেন, (যার পরিমাণ হলো) এক সা খেজুর অথবা এক সা জব। এটা স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে  প্রত্যেক স্বাধীন মুসলিম অথবা দাসের ওপর  প্রযোজ্য। বুখারি (৩/৩৬৭), মুসলিম (২/৬৭৭)। পর্যালোচনা : গরিবদের স্বার্থ সংরক্ষণের খাতিরে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ নির্ধারণের  ক্ষেত্রে নিম্নরূপ পলিসি গ্রহণ বাঞ্ছনীয়Ñ ক. ধনীদের জন্য এসব বস্তুর মধ্যে যার মূল্য সর্বোচ্চ তার এক সা পরিমাণ। যেমনÑ কিশমিশ। খ. উচ্চ-মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে যে বস্তুর মূল্য মাঝামাঝি তার এক সা পরিমাণ। যেমনÑ খেজুর। গ. নিম্ন মধ্যবিত্তদের  ক্ষেত্রে যে বস্তুর মূল্য সর্বনিম্ন তার এক সা পরিমাণ। যেমনÑ গম বা জব হবে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণের ভিত্তি। সদকাতুল ফিতরের নিসাব নির্ধারণের  ক্ষেত্রে উপরি উক্ত নীতিমালা অবলম্বনই শরিয়াহর মূল স্পিরিটের সাথে অধিকতর সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করি। কারণ একজন ব্যক্তি যিনি কোটি টাকার মালিক এবং হয়তো লক্ষাধিক টাকা জাকাত বাবদ আদায় করে থাকেন, তার উচিত হবে না সর্বনিম্ন বস্তুর দামে সদকাতুল ফিতর আদায় করা। পক্ষান্তরে একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত যিনি ঐচ্ছিকভাবেই সদকাতুল ফিতর আদায় করছেন তাকেও সর্বোচ্চ মূল্যের বস্তুর বাজার দরে সদকা দিতে বাধ্য করাও সমীচীন হবে না। আধুনিক যুগের প্রখ্যাত ফকিহ সাইয়িদ সাবিক সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন, সদকাতুল ফিতরের ওয়াজিব পরিমাণ হচ্ছে এক সা গম অথবা জব অথবা  খেজুর অথবা কিশমিশ অথবা পনির অথবা চাল অথবা ভুট্টা ইত্যাদি। (ফিকহুস সুন্নাহ ১/৩৬৪)। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে বরং এক সা পরিমাণ খেজুর বা কিসমিসের মূল্যই কমপক্ষে দুই সা পরিমাণ গমের মূল্যের  চেয়েও অধিক। অতএব অর্ধ সা পরিমাণ গমকে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হিসেবে চিহ্নিত করা মোটেই যুক্তিযুক্ত হবে না বরং উপরিউক্ত দ্রব্যগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে এক সা হবে স্ট্যান্ডার্ড। তা ছাড়া এগুলোর  কোনটিকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে তা নির্ধারিত হবে দাতার সামর্থ্যরে বিচারে। প্রসঙ্গত এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা সমীচীন মনে করি, হজরত আবু সাইদ খুদরি বর্ণিত হাদিসে ‘অথবা এক সা পরিমাণ খাবার’ এর আলোকে আমাদের  দেশের জন্য গম, খেজুর, জব বা কিশমিশের বিকল্প হিসেবে এক সা পরিমাণ (৩.৩ কেজি) চাল অথবা এর দামও সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমনটি সাইয়িদ সাবিক উল্লেখ করেছেন। এতদ সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লিখিত হাদিসগুলো ও ইসলামের স্পিরিট অনুযায়ী আমাদের দেশের বাজার দরের আলোকে সদকাতুল ফিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হবে এক সা গমের দাম যা নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য প্রযোজ্য। মধ্যম নিসাব হবে এক সা খেজুরের দাম বা ২০০ থেকে ৪০০ টাকা যা উচ্চ-মধ্যবিত্তের জন্য  প্রযোজ্য এবং উচ্চতর নিসাব হবে ৫০০  থেকে ৬৬০ টাকা যা উচ্চবিত্তদের জন্য প্রযোজ্য। এখানে আরো উল্লেখ্য, বাজারে যেসব দ্রব্যের মান ও মূল্যমানে অনেক তফাত বিদ্যমান তার কোনটিকে ভিত্তি করা হবে তা-ও নির্ধারিত হবে দাতার ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহারের অগ্রাধিকারের আলোকে। যেমন  কেউ ব্যক্তি পর্যায়ে ২০০ টাকা দামের কিশমিশ ব্যবহার করলে তিনি ২০০ টাকা হিসেবে এক সা কিশমিশের দাম দেবেন ৬৬০ টাকা। অন্যজন ৬০ টাকা দামের খেজুর ব্যবহার করলে তিনি ৬০ হিসেবে এক সা খেজুরকে ভিত্তি ধরবেন। চালের ক্ষেত্রেও অভিন্ন পলিসি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নীরব

দৌলতপুরে আবারো গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে অভিনব কায়দায় মুক্তিযোদ্ধার ১২ হাজার টাকা ছিনতাই

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে অভিনব কায়দায় আবারো এক মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ১২ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়েছে একটি চক্র। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর শাখা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ১২ হাজার টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকের বাইরে বের হলে স্থানীয় একটি ছিনতাইকারী চক্র কৌশলে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীর গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে তা পরিস্কার করার জন্য বলে। এসময় মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীকে ময়লা বা নোংরা পরিস্কার করার জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরের মসজিদে নিয়ে যায় ওই ছিনতাইকারীচক্রের এক সদস্য। সেখানে টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনতাইকারী চক্রের ওই সদস্য হাতে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীকে মসজিদের ট্যাপে গিয়ে পোষাকে লেগে থাকা নোংরা পরিস্কার করতে বলে। মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলী ছিনতাইকারী চক্রের ওই সদস্যের মিষ্টি কথায় কিছু না বুঝেই টাকা ভর্তি ব্যাগটি তার হাতে দিয়ে মসজিদের ট্যাপের পানি দিয়ে পোষাকে লাগানো নোংরা পরিস্কার করতে গেলে ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী চক্রের ওই সদস্য। নোংরা পরিস্কার করে এসে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলী টাকাসহ ওই ছেলেকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীর কান্না শুনে স্থানীয়রা ছুটে গেলে কান্নাজড়িত কন্ঠে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলী টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি তাদের জানায়। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার বিষয়টি দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারকে জানানোর জন্য বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীকে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষনিক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। গত ৩ মে সিরাজনগর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ৩০ হাজার টাকা একই কায়দায় ছিনতাই করে নেয় ওই চক্রটি। গতকাল সোমবার মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীর ১২ হাজার টাকা একইভাবে ছিনতাই করে নেয় একই চক্র। একইভাবে এরআগে এক মুক্তিযোদ্ধাসহ আরো ৮জন ব্যক্তির টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। একের পর এক টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নীরব রয়েছে। এছাড়াও এ বিষয় নিয়ে উপজেলা পরিষদের আইন শৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার আলোচনা করা হলেও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে আর অর্থ হারিয়ে প্রতারিত হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষ। বিষয়টি দেখার জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগীসহ সর্বসাধারণ। টাকা ছিনতাই হওয়া মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীর বাড়ি উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের আমদহ গ্রামে। এবিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, আমার কাছে টাকা ছিনতাইয়ের বিষয়ে কেউ জানায়নি। তবে আমি দৌলতপুর থানার ওসিকে অবহিত করেছি বিষয়টি দেখার জন্য।

আওয়ামীলীগ নেতাসহ আহত ৩, আটক -১

কুষ্টিয়া শহরে লকডাউনকে কেন্দ্র করে দু’গ্র“পের সংঘর্ষ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়ীা এলাকায় লকডাউনকে  কেন্দ্র করে দু’গ্র“পের সংঘর্ষে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আলিম সহ ৩ জন  আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সাইদুল  হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়িয়ার মসজিদপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, রবিবার মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকায় আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি করোনা পজেটিভ হওয়ায় তার বাড়ী লকডাউন করেন উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু আজ (সোমবার) সকালে লকডাউন অমান্য করে ওই বাড়ির লোকজন বাইরে বের হলে স্থানীয়রা বাধা  দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুলের স্বজনরা হামলা চালালে আলিমের লোকজনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় আশরাফুলের স্বজনরা আব্দুল আলিম সহ তিন জনকে কুপিয়ে যখম করে। পরে স্থানিয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ  মোতায়েন রাখা হয়েছে।

বিএনপি’র ক্রমাগত মিথ্যাচার ফৌজদারি অপরাধের শামিল – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির ক্রমাগত জঘন্য মিথ্যাচার ফৌজদারি অপরাধের শামিল। গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ দফতরে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির সাম্প্রতিক নানা মন্তব্যের প্রতি সাংবাদিকরা তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি একথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘করোনা দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনার মধ্যে একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। ছয় কোটিরও বেশি মানুষ আজ সরকারের ত্রাণ ও সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায়। পাশাপাশি আরও এক কোটির বেশি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি মাঝে মধ্যে ঢাকা ও আশপাশে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে ফটোসেশন করে দুই-তিনশ’ মানুষকে ত্রাণ দিতে গিয়ে বিষোদগার করছে। যারা জেগেও ঘুমায়, তাদের ঘুম ভাঙানো যায় না। প্রকৃতপক্ষে সরকার যেভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে, এতে বিএনপি প্রচ- হতাশ। সেই হতাশা থেকেই তারা মিথ্যা বক্তব্যগুলো রাখছে।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি, বিশেষ করে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যেভাবে মিথ্যাচার করছেন, তার এই মিথ্যাচার ফৌজদারি অপরাধের শামিল।’ ত্রাণ বিতরণ অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ বিতরণে সব দলের মানুষকে আনা হয়েছে। যারা অন্য দল করে তারাও আছে, যারা আওয়ামী লীগকে গালি দেয়Ñএমনকি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিষোদগার করে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তারাও এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। ৬৪ হাজারের বেশি স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির মধ্যে দুর্নীতিতে ৫৫ জন অভিযুক্ত, যা ০.০৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক হাজারে একজনও নয়। ত্রাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির ফলেই এরা শনাক্ত হয়েছে।’ ৫০ লাখ পরিবারকে এককালীন ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরির অবকাশ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তিন স্তরের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে এটি সরাসরি গ্রহীতার কাছে যাচ্ছে, কোনও মাধ্যমে না। জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ভোটার আইডি নম্বর, নাম, ঠিকানা, পিতার নাম ও মোবাইল নম্বর না মিললে যাচ্ছে না। কেউ তালিকা দিলেই পাবেন, তা নয়, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই করেই দেওয়া হচ্ছে।’

সিরিয়া ও ইরাকে মার্কিন সেনারা থাকতে পারবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা

ঢাকা অফিস ॥ আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন বিশ্বব্যাপী মার্কিন সরকারকে ঘৃণিত করে তুলেছে। ইরাক বা সিরিয়ায় মার্কিন সেনারা থাকতে পারবে না। তাদেরকে চলে যেতে হবে। তাদেরকে এসব দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ উজমা খামেনি এ কথা  বলেছেন। রোববার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দেয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন।  তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশে এমনকি আমেরিকার ভেতরেও মার্কিন পতাকায় অগ্নিসংযোগ করা হয়; আর এ ঘটনা বিশ্ববাসীর অন্তরে আমেরিকার প্রতি ঘৃণার মাত্রা তুলে ধরে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, শুধু সাধারণ মানুষ নয় আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরাও নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতার সময় মার্কিন নেতৃবৃন্দের প্রতি বিতৃষ্ণা ও ঘৃণা উগড়ে দেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের প্রতি বিশ্ব জনমতের ঘৃণার প্রধান কারণ, সেদেশের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেপরোয়া ও যুক্তিহীন আচরণ এবং বাগাড়ম্বর। অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকা বিশ্বব্যাপী গণহত্যা, অপরাধযজ্ঞ, অন্যায় আচরণ, সন্ত্রাসবাদ লালন, স্বৈরাচারী ও গণধিকৃত সরকারগুলোর প্রতি সমর্থন এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের কারণে নিন্দিত ও ঘৃণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতি ও করোনাভাইরাস সামাল দিতে না পারার কারণে আমেরিকার অভ্যন্তরে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। খামেনি বলেন, আমেরিকার বলদর্পিতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার কারণেই বিশ্বব্যাপী ইরান সুখ্যাতি ও সম্মান অর্জন করেছে। তবে ইরানি জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি এবং ইরানের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার কাজে এখনো আমেরিকা হাল ছাড়েনি। কিন্তু আল্লাহতায়ালা শত্র“র এ অপচেষ্টার উল্টো ফল দিয়েছেন।

 

নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই বিএনপির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ করোনা সংকটে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন না করে এবং জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এমন অভিযোগ করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই বিএনপির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সংকটের পরীক্ষিত নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে চলমান দুর্দিন কেটে যাবে এবং সংকটের রাত যত গভীর হবে সম্ভাবনার সুবর্ণ সকাল ততই ঘনিয়ে আসবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদকে সামনে রেখে দলে দলে মানুষ গ্রামের দিকে যাচ্ছে, এছাড়াও কেনাকাটার নামে শপিংমলে অতিরিক্ত ভিড় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই সকলকে যার যার অবস্থানে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের ছুটি কাটানোর অনুরোধ করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংকটের শুরু থেকেই অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসন্ন ঈদে কর্মহীন বেকার ভাসমান মানুষের পাশে থাকারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, করোনাযুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে যারা যুদ্ধ করছেন তাদের মনোবল ও হতাশ না হয়ে সাহসের সাথে কাজ করতে হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই যুদ্ধে জয় হবো ইনশাআল্লাহ।

প্রতিহিংসায় মরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘করোনা মহাদুর্যোগে বিএনপি মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, কাজ করছে। এই প্রতিহিংসায় মরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির শঙ্করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এ কথা বলেন। এতে বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রিজভী বলেন, ‘বিএনপি সারাদেশের অসহায় দুস্থ কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিহিংসায় ভুগছে সরকার। এ কারণে আমাদের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গুম করা হচ্ছে। এটা কোনো সরকারের নিদর্শন হতে পারে না। যারা ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচার, মানুষের কথা শুনতে পারে না, তারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ লাখ মানুষকে আর্থিক সহায়তা করবেন। এখানেও চলছে বাটপারি। ৪০ জনের টাকা যাবে একজনার বিকাশ নম্বরে। এবং সেটা মেম্বারের একজন লোকের। তাতে তো দেখা যাচ্ছে গরিব মানুষের নাম নেই। এখনেও গরিব, অসহায় মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। সব তাদের আত্মীয়-স্বজনের নাম। তাহলে যারা গরিব মানুষের টাকা চুরি করে আত্মসাৎ করে, এরা কি মানুষ? এদের মানুষের প্রতি কোনো দরদ নেই বলেই আজকে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। অথচ জনগণের টাকা নিয়ে নয়ছয় করছে সরকার। শুধু আওয়ামী লীগের লোকেরাই ত্রাণ আত্মসাৎ করছে না, প্রশাসনের লোকও জড়িত। তারা মনে করে সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি আমরা। আমরা যত চুরি করি, ডাকাতি করি, অন্যায় করি, সরকার আমাদের কিছু বলতে পারবে না। জনগণের ত্রাণ আওয়ামী লীগের তথাকথিত মেম্বার চেয়ারম্যান ও দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে। এই হলো সরকারের মানবতা।’ চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘চিকিৎসার অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। রাস্তাঘাটে লাশ পড়ে থাকছে। ৯০ পার্সেন্ট হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য তারা করেছে ফ্লাইওভার। তারা তৈরি করেছে ক্যাসিনো। তাদের দলের নেতাদের অফিসে পাওয়া যায় হাজার হাজার কোটি টাকা। আর এসব হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা।’

কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে পিপিই দিলেন অধ্যক্ষ মোফাজ্জেল হক

নিজ সংবাদ  ॥ কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন কাজে নিয়োজিতদের মধ্যে পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেছেন আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সাবেক সদস্য এবং  বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা  শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ মোফাজ্জেল হক। গতকাল সোমবার দুপুরে পৌর গোরস্থানে তিনি এ পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেন। দাফন কাজে নিয়োজিতদের পক্ষে মধু  পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ মোফাজ্জেল হক বলেন, দাফন কাজে নিয়োজিতরা যেন করোনায় আক্রান্ত না হয়, সেই কারণেই আমার এ পিপিই বিতরণ। এ সময় তিনি দাফনকাজে নিয়েজিতদের উদ্দেশ্যে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফনের আহবান জানান। পিপিই বিতরণকালে এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ জেলা শাখার সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম সিদ্দিক কচি, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন, যুুুুবলীগ নেতা আলী নিশানসহ অন্যান্য  নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ  মোফাজ্জেল হক করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় প্রতিরোধে বহুমুখী সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে চলেছেন।  এর আগে তিনি কুষ্টিয়া মহাশশ্মানে পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেন।

করোনায় আক্রান্ত হাইকোর্টের এক বিচারপতি 

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার শুরুর দিকে সামান্য জ¦র ও কাশিতে ভুগছিলেন। গত ১০ মে বিচারপতিদের ভিডিও কনফারেন্স ছিল। কিন্তু অধিক জ¦র ও অন্যান্য অসুস্থতার কারণে তিনি সে কনফারেন্সে যোগ দিতে পারেননি। এরপর গত ১১ মে তিনি নমুনা পরীক্ষা করতে দিলে তার করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। এ সময় তিনি বাসায়ই অবস্থান করছিলেন। তবে গত ১৩ মে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে করোনা ডেডিকেটেড মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমইএইচ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার জন্য বর্তমানে তিনি সিএমএইচেই আছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রের মাধ্যমে হাইকোর্টে ১৮ জন বিচারপতিকে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই ১৮ বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারও ছিলেন। এর আগে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।

কুষ্টিয়ায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপন

রেজা আহাম্মেদ জয় ॥ কোভিড-১৯ এ সংক্রমনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাইরে বের হওয়া লোকজনের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর সেনানিবাস এর ২০ ইস্ট বেঙ্গল  রেজিমেন্টের সার্বিক তত্বাবধায়নে জীবাণুমুক্তকরন টানেল স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বক চত্বরে এই জীবানুমুক্ত করন টানেল উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর ২১ পদাতিক বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডর বিগ্রেডিয়ার  জেনারেল রিয়াজুর রহমান। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এ টানেলের মধ্যদিয়ে পথচারি, রিক্সা, ভ্যান,  মোটরসাইকেলসহ মাঝারি আকৃতির গাড়িগুলো জীবানুমুক্ত হয়ে শহরে প্রবেশ করতে পারবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসাদুজ্জামান তাপস জানিয়েছেন, জরুরী প্রয়োজনে যারা ঝুঁকি নিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসময় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার), কুষ্টিয়া পৌর মেয়র আনোয়ার আলী সহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর সেনানিবাস এর ২০ ইস্ট বেঙ্গল  রেজিমেন্ট কর্তৃক করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় জেলার প্রতিটি উপজেলাতে প্রতিদিন এ কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে। যশোর সেনানিবাস এর ২০ ইস্ট  বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল আসাদুজ্জামান তাপস জানান, করোনা ভাইরাস-এর এই ক্রান্তিকালে, লকডাউন এর কারণে যেসব প্রান্তিক অসচ্ছল মানুষ আয় রোজগার করতে পারছেনা, তাদের সাহায্যের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান এর অনুপ্রেরণায় আমরা যশোর সেনানিবাস হতে আমাদের সকল পদবীর সেনা সদস্যেদের নিজস্ব রশন থেকে এই ত্রাণ এর ব্যবস্থা করছি এবং বিগত ২ মাস যাবৎ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।  ত্রাণ বিতরণ এর ক্ষেত্রে আমরা  চেষ্টা করছি যারা প্রকৃৃতভাবেই বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায় তাদেরকে আইডেন্টিফাই করে  প্রতিটি পরিবার এর জন্য ১ সপ্তাহের নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করার জন্য। সেই সাথে শহরের মধ্যে যারা জরুরী প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন তাদের করোনা ভাইরাসের জীবানুমুক্ত রাখে এ জীবাণুমুক্ত করণ গেট স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা তাদের সুরক্ষিত রাখতে পারবো।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে দু’জন করোনা রোগী শনাক্ত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে নতুন করে দুইজন করোনা ভাইরাস পজেটিভ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। তিনি জানান, কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে জেলার ৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে দুইটি নমুনা করোনা পজেটিভ শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত দুজনের বাড়ীই কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়। একজনের বাড়ী চিথলিয়া ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে (১৭) অপরজনের বাড়ী আমলা ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে (৩০)। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত মোট ২৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত ২৬৬১ পুলিশ

ঢাকা অফিস ॥ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০৪ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৬১। এ সংখ্যা ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ ইউনিটের গতকাল সোমবার  সকাল পর্যন্ত। রোববার ১৭৫ পুলিশ সদস্য আক্রান্তের খবর দিয়ে পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ২৫৫৭ জন ছিল বলে জানিয়েছিল পুলিশ। পুলিশের করোনা কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ১০৯৭ সদস্য রয়েছেন, যা রোববার ছিল ১০৯৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যই বেশি। ডিএমপি জানায়, করোনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের দুজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, ৪১০ পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গেছেন ৯ জন। পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং বাহিনীর সদস্যদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে ইতোমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের পাশে যাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিচ্ছেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সদা তৎপর রয়েছেন।

রেকর্ড রোগী শনাক্তের দিনে মৃত্যুও সর্বাধিক

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত সর্বাধিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৬০২ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৪৯ জনে এবং আক্রান্ত ২৩ হাজার ৮৭০ জন। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা। তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ হাজার ৭৮৮টি। নাসিমা সুলতানা আরো জানান, ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২১২ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন। সুস্থতার হার ১৯.২১ শতাংশ ও মৃত্যুর হার ১.৪৬ শতাংশ। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ১৭ জন ও নারী চারজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাতজন, সিলেট বিভাগের একজন ও রাজশাহী বিভাগের একজন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা সিটির আছেন ছয়জন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে ৩১-৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৪১-৫০ ছয়জন, ৫১-৬০ আটজন এবং ৬১-৭০ বছরের মধ্যে পাঁচজন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ২৩১ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৯৬ জনকে। ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় সরকার। ১৮ মার্চ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

মোংলা-পায়রায় ৭, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ আসছে

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ বাংলাদেশ উপকূলের হাজার কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসার পর সমুদ্র বন্দরগুলোকে বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহওয়ার বিশেষ বুলেটিনে খুলনা, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় সংকেত ব্যবস্থায় ৫ থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত একই মাত্রার ঝুঁকি বোঝায়। বন্দরের ডান দিক দিয়ে ঝড় গেলে ৬ এবং বন্দরের ওপর বা আশপাশ দিয়ে গেলে ৭ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়। দুই ক্ষেত্রেই নিশানে দুটি লাল রঙের সংকেত পতাকা দেখানো হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান গতকাল সোমবার সচিবালয় থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গতকাল সোমবার রাতের মধ্যে এ ঘূর্ণিঝড় ‘সুপার সাইক্লোনের’ রূপ নেবে। দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে।‘ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপ শনিবার রাতে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপের নির্ধারিত তালিকা থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘আম্পান’। এটি থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম। রোববার রাতে সেটি ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পায় এবং ঘণ্টায় ১৩ কিলোমিটার বেগে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস বলছে, এ ঝড় আরও শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর দিকে এগিয়ে এসেনে এবং পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৩টায় এ ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে; মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে মঙ্গলবার শেষরাত থেকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ থাকায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার বদলে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার বদলে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ২২ মে অমাবস্যা থাকায় এর প্রভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে জোয়ার। ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং আশপাশের দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রম করার সময় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।