এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার

পুলিশসহ আহত ৪০ ॥ আটক-১০

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দু’পক্ষের সংষর্ষে একব্যক্তি নিহত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বিল্লাল হোসেন (৪৮) নামের একজন নিহত হয়েছে। নিহত বিল্লাল সান্দিয়ারা গ্রামের মৃত মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে। ঘন্ট্যাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ৪০জন আহত হয়েছে। আহতদের কুমারখালী উপজেলা ও জেলা সদরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০জনকে আটক করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ৩টি মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন ও ডাঁসা গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা দুলাল শেখের শিল্পপতি ছেলে মামুনের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ কোন্দল চলে আসছিল। কয়েকদিন আগে সান্দিয়ারা বাজারে মামুনের এক সমর্থক মটর সাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়ির আলো সমুন সমর্থকের চোখে রাখলে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাজারে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষ এলাকায় মহড়া দিতে থাকে।

তারই জের ধরে গতকাল সোমবার সকালে সান্দিয়ারা বাজারে দু’ পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়। সকাল ১১টার দিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষের লোকজন। এ সময় ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে দুইপক্ষ। এছাড়া ঢাল, ফলা, হাসুয়া, রামদা নিয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এলাকার লোকজন পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট নিক্ষেপ শুরু করে। ঘন্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৪০জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৬ পুলিশ সদস্য মারাত্মক জখম হয়েছে। আর ঘটনাস্থলেই মারা যান বিল্লাল হোসেন। তার শরীরে একাধিক রাবার বুলেট লাগার চিহৃ রয়েছে। তবে তার মত্যু রাবার বুলেটে নয় হার্ট অ্যাটাকে হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

এদিকে খবর পেয়ে বেলা ১২টার দিকে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ও আতিকুর রহমান আতিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। এলাকার মানুষকে শান্ত থাকার আহবান জানান। লুটপাট করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দেন পুলিশ সুপার। এছাড়া এলাকার নারী ও শিশুদের বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেয়ার কথা জানান আর প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ঘোষনা দেন পুলিশ সুপার ।

এ সময় পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত সাংবাদিকদের জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামিউর রহমান সুমন তার লোকজন নিয়ে মামুন সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের ওপরও তাদের লোকজন হামলা চালায়। এতে আমাদের ৬ সদস্য আহত হয়েছে। একজনের অবস্থা খারাপ। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১০জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর রাবার বুলেট বিল্লালের শরীরে লাগলেও তার মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে।’

কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আকুল হোসেন বলেন,‘ বিল্লাল হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছে। মৃত অবস্থায় আমরা তাকে পেয়েছি। তার শরীরে রাবার বুলেটের আঘাতের চিহৃ থাকলেও আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে এমনটা বলা যাচ্ছে না। ময়না তদন্তের পরই প্রকৃত কারণ বলা যাবে। সেক্ষেত্রে অন্য কোন কারনেও মারা যাতে পারে।

আর আওয়ামী লীগ নেতা সুমন জানান,‘ তার লোকজনের ওপর মামুনের লোকজন হামলা করেছে। এতে তার এক সমর্থক মারা গেছে।

আর এসব ঘটনার জন্য মামুন পরো দোষারোপ করে সমুনকে। তার উস্কানির কারনেই এলাকা অশান্ত হয়ে উঠেছে। ফায়দা লুটতেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর জন্য সব দায় সমুনের বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে পুলিশের ওপর হামলা ছাড়াও একাধিক ঘটনায় কুমারখালী থানায় আলাদা ৩টি মামলা রজু হবে বলে জানা গেছে। এদিকে ধড়পাকড় ও লুটপাটের ভয়ে এলাকার মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে।

 

আ. লীগের বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিকের দশম পর্ব আজ

ঢাকা অফিস ॥ করোনা সংকটের শুরু থেকেই বাংলাদেশ তরুণেরা এগিয়ে এসেছে সংকটে পর্যুদস্ত মানুষের সেবায়। হাত বাড়িয়ে দিয়েছে যার যার অবস্থান থেকে। সরকারের তরুণ এমপি, দলের তরুণ নেতা, এই সংকট থেকে উত্তরণের সংগ্রামে কেউ পিছিয়ে নেই। তরুণদের এই সামগ্রিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করতে আজ মঙ্গলবার আয়োজন করা হচ্ছে ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিকের’ ১০ম পর্ব। মঙ্গলবার রাত ৮.৩০ মিনিট হতে অনুষ্ঠিতব্য এই পর্বের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘করোনাসংকট মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকা’। আওয়ামী লীগের এই বিশেষ ওয়েবিনার প্রচারিত হবে দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে। পর্বটি আরও প্রচারিত হবে বিজয় টিভির পর্দায় এবং সমকাল, ইত্তেফাক, ভোরের কাগজ, যুগান্তর, বিডিনিউজ২৪, বাংলানিউজ২৪, জাগোনিউজ২৪, বার্তা২৪, সারাবাংলা, বিজয় টিভি এবং চ্যানেল আইয়ের ফেসবুক পেজে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় এবারের পর্বে আলোচক হিসেবে যুক্ত হবেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, বাগেরহাট-২ আসনের এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময়, চট্টগ্রামের নারী এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতালের মেডিসিন ও ইনফেকশাস ডিজিজ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাছান চৌধুরী মারুফ, মিশন সেভ বাংলাদেশের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান কাদির এবং চ্যানেল ২৪ এর রিপোর্টার সাংবাদিক জিনিয়া কবির সুচনা। বিয়ন্ড দ্যা প্যান্ডেমিকের সর্বশেষ পর্বটি প্রচারিত হয় গত ৪ জুলাই। করোনা মোকাবিলায় তৃণমূল আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে সাজানো এই ৯ম পর্বে অন্যতম আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। ৩০ জুন আয়োজিত অষ্টম পর্বে আলোচকরা করোনা পরবর্তী বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নতুন ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী ছিলেন এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক। ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় গত ২৭ জুন, যেখানে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা এই সংকটে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি, স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদ্বুদ্ধ করা, জলাবদ্ধতা নিরসন, জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। প্রথম পর্ব সম্প্রচারিত হয় গত ১৫ মে, যার বিষয়বস্তু ছিল ‘করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় জনসচেতনতা’। করোনা মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইন- নিয়ে এ পর্বে আলোচনা করা হয়। দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় গত ১৯ মে। এই পর্বের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘করোনা ভাইরাস সংকটে মানবিক সহায়তা’। করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকা- এবং সংকট পরবর্তী পরিস্থিতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রের সব পর্যায়ের করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। এ পর্বে ভিডিও বার্তায় যোগ দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তৃতীয় পর্ব প্রচারিত হয় হত ৩০ মে, যেখানে বক্তারা লকডাউন তুলে দেয়া কারণ ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। চতুর্থ পর্ব প্রচারিত হয় গত ২ জুন, যেখানে করোনা সংকট মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। ৬ জুন প্রচারিত হয় ওয়েবিনারের পঞ্চম পর্ব, যেখানে বক্তারা কোভিডের সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা, করোনা চিকিৎসা এবং প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। ১৬ জুন প্রচারিত হয় এই সিরিজ ওয়েবিনারের ষষ্ঠ পর্ব, যেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান ও অন্য বক্তারা ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট এবং মানুষের জীবনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১১ হাজার টন চাল, সোয়া ২ কোটি টাকা বরাদ্দ

ঢাকা অফিস ॥ বন্যা, নদীভাঙন, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, অগ্নিকা-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দিতে সারা দেশে ১০ হাজার ৯০০ টন চাল এবং এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া বন্যাক্রান্ত ১২ জেলায় ২৪ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনা ও অন্যান্য খাবার, শিশু খাদ্য কিনতে ২৪ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য কিনতে আরও ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মোট ২ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব ত্রাণ সমাগ্রী ডিসিদের অনুকূলে বরাদ্দ দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দেশের মধ্যে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পানিতে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নদী ভাঙনেও ভিটেমাটি হারাচ্ছে মানুষ। বিশেষ শ্রেণি ও ‘এ’, শ্রেণির জেলায় ২০০ মেট্রিকটন চাল ও তিন লাখ টাকা, ‘বি’ শ্রেণিতে দেড়শ মেট্রিকটন চাল ও আড়াই লাখ টাকা এবং ‘সি’ শ্রেণির জেলাগুলোতে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বরাদ্দ শুধুমাত্র আপদকালীন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ব্তিরণ করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া অন্য কোনো কাজে এগুলো বিতরণ করা যাবে না। মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০১২-১৩ অনুসরণ করে এসব বিতরণের নির্দেশনা দিয়ে নিরীক্ষার জন্য ডিসিদের প্রয়োজনীয় হিসাব সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। বন্যাক্রান্ত ১২ জেলায় ২৪ হাজার প্যাকেট/বস্তা শুকনা ও অন্যান্য খাবার, শিশু খাদ্য কিনতে ২৪ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য কিনতে আরও ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালকে আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে। রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও মাদারীপুর জেলায় দুই হাজার প্যাকেট/বস্তা করে শুকনা ও অন্যান্য খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এই ১২টি জেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে শিশু খাদ্য কিনতে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শিশু খাদ্য হিসেবে খেজুর, বিস্কুট, ফার্টিফাইড তেল, ব্রাউন চিনি, সুজি, মশুরির ডাল, সাগু, ফার্টিফাইড চাল, ওয়াটার পিউরিফাইড ট্যাবলেট, বাদাম, মানসম্মত রেডিমেড ফুড ইত্যাদি স্থানীয়ভাবে ক্রয় করে বিতরণ করতে হবে। বান্যাক্রান্ত এই ১২ জেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে গো-খাদ্য কিনতে প্রতি জেলায় দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গো-খাদ্য হিসেবে বিভিন্ন প্রকার ভূষি, খৈল, চালের কুড়া, চিটা গুড়, খড়, মানসম্মত রেডিমেড ফুড ইত্যাদি স্থানীয়ভাবে কিনে বিতরণের নির্দেশনা দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

 

কুষ্টিয়ায় করোনা প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষন উদ্বোধনকালে মাহবুবউল আলম হানিফ

করোনা প্রতিরোধে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মানব সেবাই দৃষ্টান্ত রাখতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ  বলেছেন, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির একটি হাতিয়ার। দেশের বিপদকালীন ছাত্রলীগ সব সময় সেবার দৃষ্টান্ত রেখেছে। আজ  বৈশি^ক করোনা মোকাবিলায় ছাত্রলীগ সারাদেশে যেভাবে তৎপরতা চালিয়েছে তা প্রশংসার দাবী রাখে। গতকাল সোমবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরামর্শ ও  দেখভাল করার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ’ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার এস.এম তানভীর আরাফাত, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ সোনিয়া কাউকাইন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ডাঃ  মুসা কবির, মেডিকেল অফিসার ডাঃ তারিক ইসলাম ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ আহমেদ।

ভিডিও কনফারেন্সে সুদুর কানাডা থেকে যোগদেন সদর এমপি মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি করোনা প্রতিরোধে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গড়া স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের সংকটময় সময় দেশের ও মানুষের কল্যানে ঝাপিয়ে পড়েছে। এবার করোনাকালীন ছাত্রলীগ সারা দেশব্যাপী তাদের সেবা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ একটি আদর্শিক ছাত্র সংগঠন, করোনা রোগীদের সেবার দায়িত্ব নিয়ে তারা আবারো প্রমান করলো সংকটকালীন ছাত্রলীগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সেবার মহানব্রতি নিয়ে নিজেদেরকে উজাড় করে দিতে হবে। করোনা রোগীর পরিবারের সদস্যদের সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে শুধুমাত্র সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবকদের মুল দায়িত্ব পালনে সচেতন থাকতে হবে। প্রধান অতিথি সাংসদ হানিফ বলেন, মানুষের সেবা করার সুযোগ সকলের ভাগ্যে জোটেনা। আজ তোমরা যারা এই সেবার দায়িত্ব নিতে প্রশিক্ষন গ্রহন করছো তারা কিন্তু ভাগ্যবান। তোমাদের তদারকিতে কেউ যেন কষ্ট না পাই, সকলের মন জয় করেই সেবা দিতে হবে। কেউ সেবাই কার্প্যন্যতা করবানা মানুষের সেবাই সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব তাই তোমাদের আন্তরিকতা ও ভাল ব্যবহার কুষ্টিয়ার করোনা প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা রাখি।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারের সদিচ্ছার কোন অভাব নেই। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে এগিয়ে এসেছে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় করোনা প্রতিরোধে কুষ্টিয়াবাসী ইতিবাচক ফলাফল পাবে। তিনি বলেন, করোনা রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যাতে কোনভাবেই একাকিত্ব না হয়। তাদের প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ, প্রশাসনের সাথে শেয়ার করা আর তাদের স্বজনদের সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবে। মানষিকভাবে করোনা রোগী এবং তাদের পরিবারকে চাঙ্গা রাখতে স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামগ্রীক সহযোগিতা থাকবে। করোনা রোগীর ও পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্র সামগ্রী দেয়া হবে। করোনারোগীরাও সমাজের একটি  অংশ, কোনভাবেই তাদের সাথে খারাপ আচরন করা যাবে না। জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের করোনা রোগী এবং স্বজনদের সাথে কি কি আচরন করতে হবে তা জানতে হবে এবং বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে হবে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৪২জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল তাদের এক দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই স্বেচ্ছাসেবকদের করোনায় আক্রান্ত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ফায়ার সার্ভিসে করোনা আক্রান্ত ২০২ জন

ঢাকা অফিস ॥ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২০২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তার মধ্যে ১৫৬ জন কর্মী সুস্থ হয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। এখনও আক্রান্ত আছেন এমন ৪৬ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফায়ার সার্ভিস জানায়, করোনা মোট আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ জন সদর দফতর সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের, ১৯ জন তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের, ৩৮ জন অধিদফতরের বিভিন্ন শাখার, ১০ জন সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের, ১২ জন হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশনের, ১০ জন ঢাকা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের, ১২ জন ডি.ই.পি.জেড ফায়ার স্টেশনের (সাভার), ৯ জন সাভার ফায়ার স্টেশনের, ১ জন লালবাগ ফায়ার স্টেশনের, ১ জন মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের, ২ জন মানিকগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের, ৩ জন ডেমরা ফায়ার স্টেশনের, ৪ জন খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের, ১ জন সোনারগাঁও ফায়ার স্টেশনের, ৭ জন মুন্সিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের, ১ জন পলাশী ফায়ার স্টেশনের, ৬ জন সিলেট ফায়ার স্টেশনের, ১ জন বড়লেখা ও ১ জন কুলাউড়া ফায়ার স্টেশনের (সিলেট), ১ জন কেরানীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের, ২ জন গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের, ১ জন টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের, ১ জন বাজিতপুর ফায়ার স্টেশনের (কিশোরগঞ্জ), ১ জন নড়াইল ফায়ার স্টেশনের, ১ জন বেনাপোল ফায়ার স্টেশনের, ১ জন মাগুরা ফায়ার স্টেশনের, ১ জন হরিনাকুন্ড ফায়ার স্টেশনের (ঝিনাইদা), ৫ জন ফুলপুর ফায়ার স্টেশনের, ১ জন টাঙ্গাইল ফায়ার স্টেশনের, ১ জন সালতা ফায়ার স্টেশনের (ফরিদপুর), ৪ জন রংপুর কন্ট্রোল রুমের, ১ জন ধনুট ফায়ার স্টেশনের (বগুড়া), ১ জন সৈয়দপুর ফায়ার স্টেশনের (নীলফামারী), ১ জন পটিয়া ফায়ার স্টেশনের, ১ জন লক্ষ্মীপুর ফায়ার স্টেশনের, ১ জন মাটিরাঙ্গা ফায়ার স্টেশনের, ২ জন কুষ্টিয়া ফায়ার স্টেশনের, ৩ জন বারিধারা ফায়ার স্টেশনের, ২ জন পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশনের এবং ৭ জন চট্টগ্রাম ফায়ার স্টেশনের কর্মী। আক্রান্তদের পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ফায়ার সার্ভিস সেন্টার ও রূপগঞ্জের ইউসুফগঞ্জ স্কুল (নারায়ণগঞ্জ)-সহ বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। এখনো যারা করোনা আক্রান্ত আছেন তাদের সকলেই ভালো আছেন। এদের মধ্যে ১৫৬ জনের পর পর দুইবার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়ায় তাদের সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে। আক্রান্ত অন্যান্যের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখা হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলে বা অবনতি হলে প্রয়োজনে তাদের আইসোলেশনে রাখা হবে বা হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ভুতুড়ে বিদ্যুত বিলের দায়ে ২৯০ জনকে চিহ্নিত

ঢাকা অফিস ॥ ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের দায়ে ২৯০ জনকে চিহ্নিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল রোববার দুপুরে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ এ তথ্য জানান। জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে মাসুল ছাড়া বিল দেওয়ায় ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। তবে সেটি শুধুই আবাসিকের ক্ষেত্রে দেওয়া হতে পারে বলে সচিব জানান। বিদ্যুৎ বিভাগের টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন নিয়ে গতকাল রোববার  আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সব মিলিয়ে ৬২ হাজার ৯৬ বিলে অসঙ্গতি পেয়েছে তারা। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) দুই কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৩৪ হাজার ৬১১ জনের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ জন গ্রাহকের মধ্যে ১৫ হাজার ২৬৬ জন, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির  (ডেসকো) ১০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৫ হাজার ৬৫৭ জন, নর্দান ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির  (নেসকো) ১৫ লাখ ৪৮ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ২ হাজার ৫২৪ জন, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এর ১২ লাখ ১৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৫৫৬ জন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ৫৮২ জন অতিরিক্ত বিলের শিকার হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের জন্য গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আমরা সব সময়ই গ্রাহকবান্ধব। আমরা যে আস্থা হারিয়েছি আশা করছি তা শিগগিরই পুনরুদ্ধার করতে পারবো। ভবিষ্যতে বিতরণ কোম্পানিগুলো এ ধরনের সংকট সমাধানে শতভাগ মিটার রিডিং নিয়ে বিল করবে।’ সচিব বলেন, ‘করোনার মধ্যে আমাদের মিটার রিডাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং করতে পারেনি। এজন্য এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। করোনার মধ্যে ৬০১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এরমধ্যে ১২ জন বিদ্যুৎকর্মী মারা গেছেন।’ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে জানানো হয়, আরইবি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে, তারা খুঁজে বের করছে কারা এজন্য দায়ী। চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করার কাজ চলছে। আরইবি তাদের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ডিপিডিসি অতিরিক্ত বিলের অভিযোগে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চার জনকে সাময়িক বরখাস্ত, ৩৬টি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৩ জন মিটার রিডার এবং ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটরসহ মোট ১৪ জনকে চুক্তিভিত্তিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নেসকো ২ জন মিটার রিডারকে বরখাস্ত করেছে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করেছে। ওজোপাডিকো ২২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।  সচিব বলেন, যাদেরই অতিরিক্ত বিল এসেছে তার সবগুলো সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এক দিনের নয়। কাজেই কোনও গ্রাহক যদি এখনও মনে করে তার বিল বেশি এসেছে, তার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা তার বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ব্যবস্থা নেবো। যাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাদের সবার বিষয়ে তদন্ত হবে। কোনও গাফিলতি পাওয়া গেলে চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ভুল যাতে না হয় সেজন্য শতভাগ মিটার দেখে বিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে ৪ হাজার ৩৩০টি বিলের অভিযোগ এসেছিল। কিন্তু আমরা নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখেছি ১৫ হাজার গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। তাদের সবার বিল সমন্বয় করা হয়েছে। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

করোনা মোকাবিলা করেই উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে হবে – স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বাধা অতিক্রম করে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গতকাল রোববার মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে পরিবেশ সুরক্ষায় ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩ এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের থেমে থাকলে হবে না, বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশে কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছে, তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকা- চালু রাখা প্রয়োজন।’ রাজধানীর মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিতে ওয়াসা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে লকডাউন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পরও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এবং এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ এ সময় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, ‘বর্তমানে সায়দাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-১ এবং ২ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হচ্ছে।’ তিনি জানান, খুব শিগগিরই ফেজ-৩ এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। ফেজ-৩ এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানি। উল্লেখ্য, এই পানি শোধনাগারে প্রাথমিকভাবে ৫০০ গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ভার্চুয়াল কোর্ট বিষয়ে বিচারক-আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে – আইনমন্ত্রী 

ঢাকা অফিস ॥ ভার্চুয়াল কোর্ট সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য বিচারকদের পাশাপাশি আইনজীবীদেরকেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ  দেওয়া  করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবন মিলনায়তনে সহকারী জজদের  অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। আনিসুল হক বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর এই পৃথিবীতে ভার্চুয়াল কোর্ট প্রথা চালু হবে এটাই সাভাবিক। কিন্তু এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভার্চুয়াল কোর্ট সাভাবিক বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলিয়ে বিকল্প হিসেবে কাজ করার জন্য নয়। সংবিধান, সিআরপিসি (ফৌজদারি কার্যবিধি), সিপিসি (দেওয়ানি কার্যবিধি) এবং সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী আদালতের কাজ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হয়, সেটাই বলবৎ থাকবে। শুধু অস্বাভাবিক বা বিশেষ কোনও পরিস্থিতির জন্য ভার্চুয়াল কোর্ট প্রথা অবলম্বন করা হবে। ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি  স্থায়ী আইনে পরিণত হলেও সেটার ব্যবহার হবে বিশেষ পরিস্থিতিতে।’ আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি সেবার সঙ্গে বিচারক ও বিচার বিভাগের  কর্মকর্তাদের সমান তালে এগিয়ে নিতে চায় এবং সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সব মানুষ তার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় সেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সে কারণে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় পর বিচার কার্যক্রমকে সচল রাখার লক্ষ্যে সরকার দ্রুততম সময়ে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ তথা ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা আইন প্রণয়ন করে, যা বিচার বিভাগকে আধুনিক ও গতিশীল করার জন্য একটি যুগান্তকারী আইন।’ তিনি বলেন, ‘এই আইন দেশের বিচার বিভাগকে নতুন যুগে প্রবেশ করিয়েছে। সরকার গত ৯ মে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির পরের দিনই ভার্চুয়াল আদালত গঠন করা হয় এবং গত ১১ মে থেকে সীমিত পরিসরে বিচার কার্যক্রম চালু করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মে থেকে গত ২ জুলাই পর্যন্ত ৩৫ কার্যদিবসে সারাদেশের অধস্তন আদালতের বিচারকরা ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ৯৫ হাজার ৫২৩টি জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন এবং একই সময়ে ৪৯ হাজার ৭৬২ জন আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন। এটি সম্ভব হয়েছে  প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে। এটি সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ সহযোগিতার কারণে।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। সভাপতিত্ব করেন বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সহকারী জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে চার মাস মেয়াদি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু করা হয়। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৩ মার্চ কোর্সটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। অনলাইনের মাধ্যমে সেই কোর্স সম্পন্ন করতে গতকাল রোববার পুনরায় তা উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী।

প্রতিকূলতার মধ্যেও মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ পুরোদমে চলছে – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে দেশে উন্নয়ন কাজে কিছুটা বাধা এলেও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চলমান মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ফিরেছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘শত প্রতিকূলতার মাঝেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল রুট-৬, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে।’ তিনি গতকাল রোববার তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এদিন তিনি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার উন্নয়নমুখী সরকার। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় চলমান উন্নয়ন প্রবাহ ধরে রেখেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সচেষ্ট। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক এবং চলমান প্রক্রিয়া। গত দুই-তিন মাসে কিছু প্রকল্পের সীমিত আকারে কাজ হয়েছে। এখন সব কাজ চলছে পুরোদমে।’ মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শত প্রতিকূলতার মাঝেও থেমে থাকেনি। ইতোমধ্যে ৩১টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, দৃশ্যমান হয়েছে চার হাজার ৬৫০ মিটার।৩০ জুন পর্যন্ত মূল সেতুর শতকরা ৮৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নদীশাসন কাজ শেষ হয়েছে শতকরা ৭৩ ভাগ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ। জাইকার অর্থায়নে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেল রুট-৬-এর কাজ এগিয়ে চলেছে বলে উল্লেখ করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পে কর্মরত জনবলের কোভিড-১৯ পরীক্ষা শেষে কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় অবস্থান নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসিক স্থাপনা। ইতোমধ্যে দুটি ফিল্ড হসপিটাল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে বারো কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে রেললাইন। একসেট ট্রেন নির্মাণকাজ জাপানের কারখানায় সম্পন্ন হয়েছে। আরও চার সেট নির্মাণ করা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে জাপান থেকে জলপথে ট্রেনগুলো নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যেই স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। করোনার শুরুর দিকে কিছুটা থমকে গেলেও এখন পুরোদমে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তল দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। করোনাকালে থেমে থাকেনি নদীর খননকাজ। ইতোমধ্যে দুই দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টিউবের দুই দশমিক তিন কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। সম্প্রতি টানেলের অন্যান্য কাজেও পূর্ণ গতি ফিরে এসেছে। এ প্রকল্পের এখন পর্যন্ত অগ্রগতি শতকরা ৫৬ ভাগ।’ তিনি দাবি করেন, ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা টু চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ গতি ফিরে পেয়েছে। করোনার আঘাতে প্রথমদিকে কাজ সীমিত পর্যায়ে চললেও এখন গতি পেয়েছে। ইতোমধ্যেই এ প্রকল্পের ফান্ড সংকট দূর হয়েছে।’ গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের কাজ চলমান বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘তা সীমিত পরিসরে চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর-ঢাকা করিডোরের দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করা হয়েছে।’ এছাড়া ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের চার লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্পে এডিবি অর্থায়নে চূড়ান্ত সম্মতি জ্ঞাপন করেছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এডিবির নিজস্ব বাজেটে অর্থায়ন অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে নকশা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। শিগগিরই প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে।’ এদিকে ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান বলে দেশবাসীকে জানান তিনি। তিনটি প্যাকেজে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। এর মধ্যে দুটি প্যাকেজের কাজ চলছে। অপর প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি সংযোগ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজও জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে আবার শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি ২৪ শতাংশ।’

গণস্বাস্থ্যের ডট ব্লট কিট নিয়ে ওষুধ প্রশাসন পজিটিভ – ডা. মুহিব

ঢাকা অফিস ॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আলোচনা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে পজিটিভ। গতকাল রোববার দুপুরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার একথা বলেন। ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘পুনরায় এক্সটার্নাল ভেরিফিকেশন করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তারা পজিটিভ। ওনারা বলেছেন,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, সমাধান করে দেবেন। আমরাও আশাবাদী।’ এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার ও কিট উন্নয়ন দলের কয়েকজন বিজ্ঞানী ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজিডিএ) সঙ্গে কথা বলেন। ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘ডিজিডিএ আমাদের কথা ইতিবাচকভাবে শুনেছেন। অ্যান্টিবডির বিষয়ে ইন্টারনাল ভ্যালিডেশন রিপোর্টকে আমলে এনে নিবন্ধনের অনুরোধ করেছিলাম। ডিজিডিএ বিদ্যমান সরকারি নিয়মে আবার সিআরওর মাধ্যমে ইউএস এফডিএ (ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) আমব্রেলা গাইডলাইন্স এক্সটারনাল ভ্যালিডেশন করতে বলেছেন। এজন্য আমাদের আবেদিত রি-এজেন্টের (কিট) জন্য এনওসি দেবেন। অ্যান্টিজেনের নীতিমালা আগামী বুধবার চূড়ান্ত হবে। একটা ফরম্যাট পাঠাবেন। ওটা অনুযায়ী প্রটোকল আপডেট করে জমা দিতে বলেছেন।’ এর আগে শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক  সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বরাত দিয়ে বলা হয়, ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক গতকাল রোববার জিকের (গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র) আপডেটেড অ্যান্টিবডি কিটের তথ্য-উপাত্ত জানতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ডেকেছেন।

নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি বাদশা

করোনা দুর্যোগকালীন সময়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার দিকে নজর রাখতে হবে

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা করোনা দূর্যোগকালীন সময়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শুধু ঘরে বসে থেকে সময় নষ্ট না করে লেখা-পড়ায় মনোনিবেশ করতে হবে। প্রত্যেক অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিজ সন্তান ও শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের প্রতি ভালবাসা ও দায়িত্ববোধ রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সেই দায়িত্ববোধ ও সতর্কতার সাথে করোনার মত পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন তিনি। নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিও হয়েছে, কারো পিছে দৌড়াতে হয়নি। আর এমপিও করানোর জন্য কারো পিছে দৌড়ানোরও দরকার নেই। পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে যোগ্যতার প্রমান দিন আপনার প্রতিষ্ঠান যোগ্যতার ভিত্তিতেই এমপিও হবে। এমপি বাদশা ননএমপিও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন- এই দূর্যোগকালীন সময়ে ননএমপিও শিক্ষকদের জীবনযাত্রা সহজ ও স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। একমাত্র নেতা শেখ হাসিনা তিনি যা বলেন সে কাজটিও তিনি করেন। তাই আপনাদেরও নিজ দায়িত্বে নিজ নিজ কাজটি সততা ও দক্ষতার সাথে করতে হবে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে করোনা ভাইরাসের কারনে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুকুলে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দের অর্থের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি বাদশাহ এসব কথা বলেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা। চেক বিতরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দৌলতপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সর্দার মো. আবু সালেক। দৌলতপুর উপজেলার ৫৫১জন নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুকুলে ৬৬ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চীনের সঙ্গে ৯০০ কোটি রুপির ব্যবসা বাতিল হিরোর

ঢাকা অফিস ॥ এবার চীনা সঙ্গ ত্যাগ করেছে ভারতের বিখ্যাত সাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিরো। চীনের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কোটি রুপির আসন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। হিরো সাইকেলসের চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর পঙ্কজ মুঞ্জল নিজেই এ ঘোষণা করেছেন। শনিবার পঙ্কজ মুঞ্জল জানিয়েছেন, ‘আগামী তিন মাসে চীনের সঙ্গে আমাদের ৯০০ কোটি রুপির ব্যবসা করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা সব পরিকল্পনা বাতিল করেছি। কারণ চীনা পণ্য বয়কট করতে আমরাও অঙ্গীকারবদ্ধ।’ পঙ্কজ মুঞ্জল আরও জানিয়েছেন, চীনের বিকল্প হিসেবে জার্মানির দিকে এগোচ্ছে তারা। পাশাপাশি জার্মানিতে কারখানা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে হিরো সাইকেলের। ফলে ইউরোপের বাজারে নিজেদের মেলে ধরতে পারবেন বলে মনে করছেন সংস্থাটির ডিরেক্টর। মুঞ্জল এও জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মহামারিতে গত কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে বাইসাইকেলের চাহিদা বেড়েছে। সেই জোয়ারে হিরো সাইকেলের চাহিদাও বাড়ছে। চীনা প্রতিষ্ঠান ‘হাইঅ্যান্ড বাইসাইকেল’এর যন্ত্রাংশ আমদানি করত হিরো সাইকেলস। এ ছাড়া জানা যাচ্ছে, সংস্থাটি বাইসাইকেলের পর খুব শিগগির হিরোর মোটর সাইকেলের চীনা যন্ত্রাংশও বাতিল করতে যাচ্ছে। এক্ষেতেও আবার জাপানের দিকে ঝুঁকতে পারে হিরো। এর আগে সরকারিভাবে ভারতে টিকটক, ভিগোসহ ৫৯টি চীনা অ্যাপস বাতিল করা হয়েছিল। সম্প্রতি সরকারিভাবে বাতিল করা হয়েছে কয়েকটি বড় মাপের চীনা টেন্ডারও। তবে বেসরকারিভাবে হিরোই প্রথম এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

দৌলতপুরে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুন্না (২২) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুর থানার পাশর্^বর্তী শিতলাইপাড়া গ্রামে নির্মানাধীন ভবনের বৈদ্যুতিক মটর চালু করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়। সে উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের বিন্দিপাড়া গ্রামের মো. আজগর আলীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্মাণ শ্রমিক মুন্না শিতলাইপাড়া গ্রামের সাহাবুল ইসলামের নবনির্মিত একটি ভবনের বৈদ্যুতিক মটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মুন্নাকে মৃত ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত মুন্নার খোঁজখবর নিয়েছেন।

জেলায় ৭৪৬ জন কোভিড রোগী সনাক্ত; মৃত্যু ১৩

কুষ্টিয়ায় নতুন করে  আরে ৩৮ জন করোনায়  আক্রান্ত

নিজ সংবাদ ॥ পজেটিভ রোগী না থাকার পরদিনই কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৭৪৬ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হলো।  এ পর্যন্ত জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে  ১৩ জনে।

গতকাল রবিবার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কোভিড-১৯ আপডেটে জানানো হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৫ জুলাই  মোট ৩৭০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুিিষ্টয়ার ১৯৩ টি নমুনা ছিল

যার মধ্যে নতুন করে ৩৮ জনকে আক্রান্ত বলে সনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুরের ১টি নমুনার রিপোর্ট ফলোয়াপ পজেটিভ। নতুন আক্রান্তের মধ্যে  দৌলতপুরে ৪ জন, ভেড়ামারায় ৫ জন, সদরে ২০ জন, কুমারখালীতে ৭ জন এবং খাকসায় ২ জন।সদর উপজেলায় আক্রান্ত ২০ জনের ঠিকানা আইলচারা ১ জন, থানাপাড়া ১ জন, কমলাপুর ১ জন, বটতৈল ১ জন, কানাবিলের মোড় ১ জন, চেচুয়া ১ জন, কালিশংকরপুর ১ জন,  কোর্টপাড়া ৩ জন,  চৌড়হাস ২ জন, হাউজিং ১ জন, মঙ্গলবাড়িয়া ২ জন, কদমতলা ১ জন, জুগিয়া ২ জন, উদিবাড়ি ১ জন,  মোল্লাতেঘরিয়া ১ জন। ভেড়ামারায় আক্রান্ত ৫ জনের ঠিকানা পূর্ব  ভেড়ামারা ১ জন, উপজেলা পাড়া ১ জন, চর দামুড়দিয়া ১ জন, ১৬ দাগ ২ জন। দৌলতপুরে আক্রান্ত ৪ জনের ঠিকানা গারুড়া আদাবাড়িয়া ১ জন, দৌলতপুর ১ জন, আল্লারদরগা ১ জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন। কুমারখালীতে আক্রান্ত ৭ জনের ঠিকানা কুমারখালী ১ জন, শেরকান্দি ২ জন, বাঁশগ্রাম ২ জন, শিলাইদহ ১ জন ও ছেউড়িয়ায় ১ জন। খোকসা উপজেলায় আক্রান্ত ২ জনের চকহরিপুর ১ জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ২৯ জন এবং মহিলা ৯ জন।কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৭৪৬ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হল। (বহিরাগত বাদে)। উপজেলা ভিত্তিক রোগী সনাক্তের মধ্যে দৌলতপুর ৯৮, ভেড়ামারা ৮৭, মিরপুর ৪৪, সদর ৩৯৫, কুমারখালী ৯৫, খোকসা ২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ রোগী ৫৪৬ এবং নারী ২০০ জন।  গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ৩৩৭ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ৩৩৫ জন (দৌলতপুর ৫০,  ভেড়ামারা ৫৭, মিরপুর ২১, সদর ১৫৫, কুমারখালী ৩৮, খোকসা ১৪)।  বহিরাগত সুস্থ ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩৬২ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৪ জন। মৃত ১৩  জনের মধ্যে কুমারখালীর-৩, দৌলতপুরের-১, ভেড়ামারা-১,   ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৮ জন। এর মধ্যে  পুরুষ ১২ জন ও মহিলা ১ জন। সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ করে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন- আতংকিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন। ঘরে থাকুন, বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হবেন না। বার বার সাবান দিয়ে হাত ধৌত করুন। যত্রতত্র কফ, থুতু ফেলবেন না। হাঁচি, কাশি দেয়ার সময় টিস্যু  পেপার, রুমাল, বাহুর ভাঁজ ব্যবহার করুন ও ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। একে অপরের থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন ও মাস্ক ব্যবহার করুন।

 

করোনায় হাজার হাজার মামলার তদন্তে স্থবিরতা বিরাজ করছে

ঢাকা অফিস ॥ করোনা প্রাদুর্ভাবের চলমান পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষে যথাযথভাবে হাজার হাজার মামলার তদন্ত করা সম্ভব নয়। করোনাভাইরাসের কারণে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত কাজ অনেকটাই থেমে গেছে। বিশেষ করে পুরোনো মামলাগুলোর তদন্তে নজরই দেয়া যাচ্ছে না। এমনকি আলোচিত অনেক মামলার তদন্ত গতিহীনও হয়ে পড়েছে। আবার অনেক মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও করোনায় আক্রান্ত। সেজন্য তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমার হারও কমে গেছে। আর যেগুলো জমা পড়ছে তাও প্রসিকিউশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট জিআরও দপ্তরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ আদালতে বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক না হওয়ায় তা জমা দেয়া যাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে পুলিশ সদস্যরা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কোনো না কোনোভাবে যুক্ত রয়েছে। বেশির ভাগ সদস্যকেই মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হচ্ছে। পুলিশের আরেকটা অংশ সাইবার অপরাধ ঠেকাতে তৎপর রয়েছে। ফলে পুরোনো মামলাগুলোর তদন্ত কিছুটা গতি হারিয়েছে। কারণ প্রতিটি মামলার তদন্তে বেশ কিছু বিষয় থাকে। মামলা দায়েরের পর অনেক সূক্ষ কাজের মধ্য দিয়ে তদন্ত পরিপূর্ণ রূপ নেয়। তদন্ত কর্মকর্তাকে আলামত সংগ্রহ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষী ডাকা, আসামি গ্রেপ্তার করা থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক সবকিছু করতে হয়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে মামলার তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পুলিশের তদন্তাধীন কোনো মামলার কাজই সেভাবে এগিয়ে নেয়া যাচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন ইউনিটে হাজার হাজার মামলার তদন্তে একরকম জট বেঁধে গেছে। তাতে বাদী-বিবাদী পক্ষের ন্যায়বিচার পেতে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে মামলার বাদীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে নতুন মামলা দায়ের করার সংখ্যাও কমেছে। গত মার্চ মাসে সারাদেশে মামলা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৪৫টি। এপ্রিলে ৯ হাজার ৯৫টি এবং মে মাসে ১১ হাজার ৫০৫টি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশে মামলা হয় ২ হাজার ২৪৭টি। ফেব্র“য়ারিতে ওই সংখ্যা ছিল দুই হাজার ১৩১টি। মার্চে দুই হাজার ৫৯। এপ্রিলে মাত্র ৩৪৯টি। বর্তমানে তদন্তের ক্ষেত্রে ডিজিটাল অংশটির কাজ বেশি হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ, মানব পাচারের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই পুলিশ অপারেশন চালাচ্ছে। তবে স্বাভাবিক সময়ে যতো দ্রুত কাজটি হতো, করোনার কারণে এখন কিছুটা বেশি সময় লাগছে। কারণ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অনেক সদস্য করোনায় আক্রান্ত। অনেকে আইসোলেশনে রয়েছে। আর তদন্ত এমন এক বিষয়- যা ডিজিটালি চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মামলার তদন্ত চালানোর কথা ভাবতে হবে। এদিকে মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে পুলিশের দায়িত্বশীর কর্মকর্তারা বলছেন, ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে থানায় মামলা হচ্ছে, আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে এবং এসব আসামিকে আদালতে হাজিরও করা হচ্ছে। তবে মামলার তদন্ত কাজ অন্য সময়ের মতো স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মামলার তদন্ত চালানোর কথাও ভাবতে হতে পারে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত করতে গেলে আসামি গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে সাক্ষ্য নেয়াসহ অনেক কাজ থাকে। তাতে অনেক মানুষের কাছাকাছি যেতে হয়। তদন্ত কার্যক্রম ডিজিটালি চালানোর সুযোগ কম। তবে এখনও যদি কোনো ডেডবডি পাওয়া যায়, সেটির তো ময়নাতদন্ত করতেই হচ্ছে। গুরুত্ব বিবেচনায় ঝুঁকি নিয়েই বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক মামলারই তদন্ত চলছে। একই প্রসঙ্গে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এখন তদন্তের মূল কার্যক্রম বন্ধ। তবে মামলার দাপ্তরিক কিছু কাজ থাকে। যেটা ঘরে বসেই করা যায়। সেটি অব্যাহত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, করোনাভাইরাসের এই সময়টাতে তদন্ত কাজে বেশ সমস্যা হচ্ছে। কারণ তদন্ত করতে গেলে মানুষের কাছাকাছি যেতে হয়, সশরীরে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পিবিআই আপাতত ছোটখাটো মামলার ক্ষেত্রে টেলিফোনের মাধ্যমে সাক্ষীদের বক্তব্য নেয়া যায় কিনা তার আইনি দিক ও বাস্তবতা খতিয়ে দেখছে। তবে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে, যেখানে সশরীরে গিয়েই তদন্ত করতে হয়। সে ক্ষেত্রে কিছুটা বিঘœ ঘটছে। এই সময়ে অনেক সাক্ষীকে ডাকলেই পাওয়া যায় না। তবে ডকুমেন্টেশনসহ ফাইলওয়ার্ক চলছে, তদন্তের ডিজিটাল দিকটাতে আপাতত বেশি জোর দেয়া হচ্ছে।

ইবির দু’শিক্ষকের পেনশনের চেক গ্রহণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মামুন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল লতিফ তাঁদের পেনশন ও আনুতোষিকের চেক গ্রহণ করেছেন। গতকাল রবিবার সকালে ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) তাঁদের হাতে এ চেক তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, অর্থ ও হিসাব পরিচালক (ভারঃ) মোঃ ছিদ্দিক উল্যা এবং অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (ভারঃ) ড. মোঃ নওয়াব আলী খান। চেক প্রদানকালে শিক্ষা ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাশিদ আসকারী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এসময় ট্রেজারার ড. সেলিম তোহা তাঁদের অবসরকালীন সুখময় জীবন কামনা করেন। উল্লে¬খ্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মামুন ১৯৮৯ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এবং প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ ১৯৮৭ হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পেছাচ্ছে ডিসি সম্মেলন

ঢাকা অফিস ॥ করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিবারের মতো এবার জুলাইয়ে হচ্ছে না জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকদের নিয়ে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। আর করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নভেম্বর মাসের শেষ সময়ে এই সম্মেলন হতে পারে। এর আগেই দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হলে ডিসি সম্মেলনও আগে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, ডিসিদের বার্ষিক সম্মেলন জাতীয় পঞ্জিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। প্রতিবছরের জুলাইয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী এ সময় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সম্মেলনের আগে সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই প্রথমবারের মতো এ সম্মেলন জুলাইতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠপ্রশাসন অনুবিভাগ) আ. গাফ্ফার খান  বলেন, এবারের ডিসি সম্মেলন জুলাই মাসে হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আয়োজন করা হবে। এরপরও নভেম্বর মাসে ডিসি সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি যদি তার আগে স্বাভাবিক হয় তাহলে আগেই হয়ে যাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ডিসি সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে নানা ধরনের পরিকল্পনা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ সম্মেলন হতে পারে। তবে যেভাবেই হোক এবছরের মধ্যেই সরকার মাঠপ্রশাসনের এই গুররুত্বপূর্ণ সম্মেলন শেষ করবে। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়। এরপর মুক্ত আলোচনায় মাঠ প্রশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ডিসিদের কথা শোনেন ও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দিক-নির্দেশনা গ্রহণ করেন ডিসিরা। এটা হয় বঙ্গভবনের দরবার হলে। ডিসি সম্মেলন চলাকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব, সচিবরা বিভিন্ন অধিবেশনে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মূল্যবান উপদেশ ও দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। কর্ম অধিবেশনগুলো হয় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বিগত বছরগুলোতে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও গতবছরের সম্মেলন হয় পাঁচ দিনব্যাপী। এর আগের বছর ২০১৮ সালে হয়েছিল চারদিনব্যাপী।

জেলার উন্নয়নে আরেকটি মাইল ফলক

কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম এখন ‘শেখ কামাল স্টেডিয়াম’

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়াম এখন থেকে শেখ কামাল স্টেডিয়াম, কুষ্টিয়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট নামকরণের বিষয়টি চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়। ওই অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর করেন ট্রাস্ট্রের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। গতকাল রোববার এসংক্রান্ত একটি অনুমোদনপত্র হাতে পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রূপকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ দীর্ঘদিন ধরেই কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়ামকে আধুনিকায়নসহ স্টেডিয়ামের নামকরণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহন করেন।  তার ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক প্রস্তাবিত কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের ওপর ২০১৯ সালের ২২ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির(পিইসি)’র সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে শেখ কামাল স্টেডিয়াম কুষ্টিয়া নামে নামকরণ করার অনুমোদন দেয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। এবিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার নন্দী জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি ছিল। আজ তিনি সেই প্রতিশ্র“তিও রক্ষা করেছেন। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি উপহার দিলেন কুষ্টিয়াবাসিকে। এর মাধ্যমে কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রসর লাভ করবে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য তিনি শেখ কামাল স্টেডিয়াম কুষ্টিয়ার পক্ষ থেকে মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’র সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমানের প্রতি। এদিকে কুষ্টিয়া জেলাস্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সন্তান ক্রীড়া সংগঠক শেখ কামালের নামে নামকরণ করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো.আসলাম হোসেন,সহ-সভাপতি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা প্রমুখ।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন

কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ কামাল স্টেডিয়াম কুষ্টিয়া’ নামকরণ করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। এক বার্তায় আতাউর রহমান আতা জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কুষ্টিয়াবাসির প্রত্যাশার কোন অপূর্ণতা রাখেননি। ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি ছিল। ক্রীড়াঙ্গণের অবকাঠামো উন্নয়নসহ ক্রীড়াঙ্গণের সার্বিক উন্নয়নে সেই প্রতিশ্র“তিও রক্ষা করেছেন। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি উপহার দিয়েছেন কুষ্টিয়াবাসিকে। এর মাধ্যমে কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গণে ব্যাপক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা সাধিত হবে।  এজন্য তিনি সদর উপজেলা পরিষদ’র এবং শহর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রূপকার মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’র সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমানের প্রতিও।

শেখ কামাল স্টেডিয়াম কুষ্টিয়া’র কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন

কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ কামাল স্টেডিয়াম কুষ্টিয়া’ নামকরণ করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শেখ কামাল স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। এক বার্তায় শেখ কামাল স্টেডিয়াম কুষ্টিয়ার সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার নন্দী জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি ছিল। আজ তিনি সেই প্রতিশ্র“তিও রক্ষা করেছেন। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি উপহার দিলেন কুষ্টিয়াবাসিকে। এর মাধ্যমে কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রসর লাভ করবে বলে মনে করেন তাঁরা। এজন্য শেখ কামাল স্টেডিয়াম কুষ্টিয়ার পক্ষ থেকে মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’র সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমানের প্রতিও।

করোনায় মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়ালো

ঢাকা অফিস ॥ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৫৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুই হাজার ৫২ জনে। দেশে করোনা শনাক্তের ১২০তম দিনে দুই হাজার ছাড়িয়ে গেলো মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৩৮ জন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৪১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯০৪ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭২ হাজার ৬২৫ জন। গতকাল রোববার বেলা আড়াইটায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪টি, আগের নমুনাসহ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮৮টি। এখন পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৩৮ জন। ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৪ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৬২৪ জন; যা শতকরা ৭৯ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং নারী ৪২৮ জন; যা শতকরা ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মারা যাওয়া ৫৫ জনের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন এবং শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে একজন, খুলনা বিভাগে ৬ জন, সিলেটে ২ জন, রংপুর বিভাগে ৮ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৪১ জন এবং বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৪৪৯ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ হাজার ৭১৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪৮৩ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৭ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৩০ হাজার ৮৭২ জনকে। তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৮৮৭ জনকে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩২ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন ২ হাজার ৫৩৫ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন ৩ লাখ ১২ হাজার ৫৩০ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৪ হাজার ৫০২ জন।