দেশীয় ক্যাপসুল দিয়েই চলছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ দেশীয় কোম্পানির যে ক্যাপসুলগুলো দিয়ে সারাদেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলছে সেগুলো ল্যাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তারপর শিশুদের খাওয়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, সারাদেশে আড়াই কোটি শিশুদের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ বিষয়ে আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে পারি না। তাই আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। শনিবার  ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সারাদেশের ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রে প্রতিবারের ধারাবাহিকতায় এ ক্যাম্পেইন চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমি মাদের বলব, ক্যাপসুলটি খাওয়ানোর আগে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ান, সুষম খাদ্য খাওয়ান। কেননা শিশু পেট ভরা থাকলে টিকা খাওয়ানোর পর কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে না। তাছাড়া কোনো গুজবে কান দেবেন না। এছাড়া আমাদের আরো ২০ হাজার অস্থায়ী কেন্দ্রে ক্যাম্পেইনটি চলছে। এই ক্যাম্পেইন আজকে ছাড়া আরও ২/৩ দিন চলবে উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাসহ সারাদেশে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে নিশ্চিত করব আমরা। এ কারণে আজ ছাড়াও আগামী দুই তিন চলবে ক্যাম্পেইনটি। আমরা প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে যাব। এর আগে বাদ যাওয়া ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের তদন্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত এমন কোনো রিপোর্ট আসেনি যে আমরা গভীরভাবে চিন্তিত হব। আমাদের ল্যাবে আগের ক্যাপসুলের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। ওটা শেষ হলে আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাব। এর আগে মন্ত্রী বেলুন উড়িয়ে ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন এবং এরপর স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত শিশু হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এই ক্যাম্পেইন বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব  হাবিবুর রহমান খান, ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডাঃ আব্দুল আজিজ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ শফী আহমেদ প্রমুখ।

 

কুষ্টিয়ায় স্কুলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করলেন ডিসি আসলাম হোসেন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের সহজ পদ্ধতিতে পাঠদান করলেন কুষ্টিয়ার ডিসি মোঃ আসলাম হোসেন। তিনি গতকাল শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে হঠাৎ কালেক্টরেট স্কুল পরিদর্শন করেন। এ সময় ডিসি আসলাম হোসেন ৬ষ্ঠ  শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে সহজভাবে পাঠদানের কৌশল শেখান। ডিসি আসলাম হোসেনের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ডিসি বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষাক্রম বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আজাদ জাহান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এ.বি.এম. আরিফুল ইসলাম, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সাহা, সহকারি প্রধান শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও সহকারি শিক্ষক আলিমুল আলরাজী উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপিকে সক্রিয় করতে তারেককে পরামর্শ জাফরুল্লাহর

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপিকে সক্রিয় করতে তারেক রহমানকে পরামর্শ দিয়েছেন দলটি সমর্থিত পেশাজীবী নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ‘তাড়াহুড়ো’ না করে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে সভা করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বলেছেন তিনি। দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে সপরিবারে লন্ডনে পালিয়ে আছেন তারেক। মা খালেদা জিয়া এক বছর আগে কারাগারে যাওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। জাফরুল্লাহ বলেন, “তারেক জিয়ার উদ্দেশে আমি একটা কথা বলতে চাই, আপনি অবশ্যই কথা বলবেন আপনার দলের নেতা-কর্মীদের সাথে। তবে সেখানে আপনার সিনিয়র নেতাদের উপস্থিত থাকতে বলেন, তাদের মাধ্যমেই এসব মিটিং করেন। এই রকম রিজভীর (রুহুল কবির রিজভী) মাধ্যমে মিটিং ডাইকেন না। সরাসরি মিটিং ডাকেন। মোশাররফ-মওদুদ এদের সামনে রেখে, হাফিজকে। তাহলেই দেখবেন আন্দোলনটা গড়ে উঠবে।” এখন আন্দোলন ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না জাফরুল্লাহ। এক বছর আগে খালেদা দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি, যাকে ব্যর্থতা মনে করছেন দলটির নেতারাই। খালেদাকে ছাড়া সংসদ নির্বাচনে গিয়ে ভরাডুবি ঘটেছে বিএনপির; যদিও দলটির নেতারা বলছেন, ‘ভোট ডাকাতি’ করে তাদের হারানো হয়েছে। তারেককে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ অভিহিত করে জাফরুল্লাহ বলেন, “আমি আগেও বলেছি, আপনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে ধৈর্য ধরতে হয়, তাকে তাড়াহুড়া করলে হয় না। আপনার উপরে অনেকেই চেয়ে আছেন। অনুগ্রহ করে তাড়াহুড়া কইরেন না।” বিএনপির নেতা-কর্মীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা আগামী ১৭ দিন রাস্তায় থাকেন, প্রত্যেকদিন মিছিল করেন, প্রত্যেকদিন ট্রাক মিছিল করেন। ঢাকা শহরে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে যেন আপনাদের চেহারা দেখা যায়। “ওই ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট ও প্রেস ক্লাবের ভেতরে গরম গরম হাতি-ঘোড়া আর মাইরেন না।” খালেদাকে সরকারই বন্দি করে রেখেছে বলে দাবি করেন জাফরুল্লাহ। তাকে মুক্ত করতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান তিনি। “আপনাদেরকে রাস্তায় থাকতে হবে। আমি খুশি হতাম আজকে যদি বিএনপির এক হাজার মহিলা এখান দুই ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকতেন, এক হাজার মহিলা ৫০টা ট্রাক নিয়ে ঢাকা শহরে প্রদক্ষিণ করে একটা স্লোগান দিতেন- গণতন্ত্র চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে জাফরুল্লাহ বলেন, “আপনি পরিস্কার করে বলুন, খালেদা জিয়ার জামিনে আপনি কোনো রকম বাধার সৃষ্টি করবেন না, এদিকে নাগ গলানো বন্ধ করবেন। তাহলেই দেখবেন বিচারকরা নড়তে পারবে।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন ভারতে সফরে গিয়ে ‘অসম চুক্তিতে’ সই করেছেন বলে দাবি করেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, “পহেলা চুক্তি কী? মাথা ধোলাই করা। আমাদের ১৮শ’ ঊর্ধবতন কর্মকর্তাকে ভারতে ট্রেইনিং দেওয়া হবে। যেখানে গরু রাখার জন্য মানুষ হত্যা করে, মানুষের অধিকার নাই, সেদেশে কী শেখার আছে?” তিস্তা চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়ার সমালোচনাও করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আকাশে অশনি সংকেত আছে। একটি আমি আগেই বলেছি ভারতীয় চক্রান্তের, দ্বিতীয়টা হলো রোহিঙ্গা। আমাদের দেশের সরকার যে জঙ্গির ভয় করছেন, এই যে রোহিঙ্গা তরুন-তরুণীর জীবনের কোনো আশা নেই, তারাই উর্বর ক্ষেত্র। তাদেরকে ভাষানচরে পাঠিয়ে জঙ্গি ঠেকানো যাবে না।” জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘খালেদা জিয়ার এখনই মুক্তি চাই’ শীর্ষক ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাফরুল্লাহ। সংগঠনের মহাসচিব আ ফ ম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলামের শিশির, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহজাহান সম্রাট, মিয়া মো. আনোয়ার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা সোয়েব আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

দেশের কোনো মানুষ বিনা চিকিৎসায় আর খাদ্যের অভাবে মারা যাবে না – জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন বলেছেন, দেশের একটি মানুষও বিনা চিকিৎসায় আর খাদ্যের অভাবে মারা যাবে না। আর্থিক সংকটে কেউ শিক্ষা বঞ্চিত হবে না। বর্তমান সরকার সব দায় দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি শনিবার জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে সমাজসেবা অধিদফতর আয়োজিত ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আতাউল গণি, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৪০ রোগীর মাঝে জেলা সমাজসেবা অধিদফতর ২০ লাখ টাকার আর্থিক সাহায্যর চেক প্রদান করা হয়। এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে এই ক্যাম্পেইনে শিশুদের মুখে এ ক্যাপসুল খাইয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। দিনব্যাপী ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৮ হাজার ২৪৬  শিশুকে লাল রঙের এবং ১২-৫৯ বয়সী ৫৮ হাজার ৫৯৯ শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

 

ইবিতে উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনারে ড. রাশিদ আসকারী

ছকবদ্ধ জীবনে হয়তো কোন মানুষের জন্য সুখের কিন্তু জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, নেতৃত্ব হলো নিজে জানা, মানা এবং অন্যকে জানানো। তিনি বলেন, গতানুগতিকতায় গা ভাসিয়ে লিডার হওয়া যায় না। বৃত্তাবদ্ধ থেকে কখনও বিখ্যাত লিডার হওয়া যায় না। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, জীবনের যে পথটি কন্টকাকীর্ণ, যে পথে খুব কম মানুষ গেছে, যে পথ অমসৃণ-বন্ধুর এবং শ্বাপদসঙ্কুল সেই পথ বেছে নেয়াই হচ্ছে প্রকৃত নেতৃত্বের কাজ। তিনি বলেন, আমরা বাঙালি জাতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় প্রধান আসামী ছিলেন। ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে যদি পাক সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বুক কাঁপানো আন্দোলন গড়ে তোলা না যেত, তাহলে সেদিন প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদন্ড অনিবার্য ছিল এবং সে সময় বঙ্গবন্ধুর সামনে কোন রাস্তা ছিলনা। তাঁর জন্য কবর খোড়া হয়েছিল, এমনকি ফাঁসির মঞ্চেরও হাত ছানি ছিল। সমস্ত কিছুতে অগ্রাহ্য করে সেদিন বঙ্গবন্ধু অমসৃণ, শক্ত বন্ধুর পথকে বেছে নিয়ে ছিলেন এক দেশ মানুষের মুক্তির নেশায়। তাই প্রকৃত লিডারশিপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, নেতৃত্বের পথ কিন্তু এত সহজ, সরল নয়। এটি বক্র এবং কন্টকাকীণ। আমরা যারা নেতৃত্ব দিতে চাইবো তাদেরকে সেই দুর্গম পথটাকে বেছে নিতে হবে। তিনি বলেন, ছকবদ্ধ জীবনে হয়তো কোন মানুষের জন্য সুখের কিন্তু জাতির জন্য দুর্ভাগ্যের। কারন জাতি চাইবে সে রকম জনগোষ্টি উৎপাদন করতে। যে নিজের এবং পরিবারের দায়ভার নিয়েও তার জীবন এবং জীবন সংগ্রামের বেশ খানিকটা উৎসর্গ করবে তার সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যে। তিনি বলেন, দেশ তোমাকে কি দিতে পারবে সেটি বড় কথা নয়, দেশকে আমি কি দিতে পারবো সেটার হিসেব কষতে হবে। তিনি বলেন, নন্দলালের মতো সারাজীবন নিজের স্বার্থবুদ্ধি, বিষয়বুদ্ধি চার দেওয়ালে ঘেরা টপের মধ্যে আবদ্ধ থাকা লিডার শিপের কাজ নয়। লিডার শিপ হচ্ছে দেশের কথা, দশের কথা এবং পৃথিবীর কথা ভাবা। নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও দক্ষতার সাথে পালনের মাধ্যমেই লিডার শিপ তৈরী করা সম্ভব। গতকাল শনিবার সকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, আইন অনুষদের আয়োজনে, উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রেবা মন্ডলের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ইউনির্ভাসিটি অব লিবারেল আটর্স বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এইচ এম জহিরুল হক বলেন, নিজের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে সমাজ পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, নিজেকে লিডার হিসেবে তুলে ধরতে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করতে দেখতে হবে, সেবার মানসিকতা থাকতে হবে, সব কাজে স্বচ্ছতা থাকতে হবে এবং সৎ হতে হবে। তাহলে নিজেকে একজন ভাল লিডার হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা ও কুষ্টিয়া রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ জহুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক বনানী আফরিন। দিনব্যাপী এ  সেমিনারে আইন অনুষদভূক্ত বিভাগগুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের টাকা ফেরত দেবে আওয়ামী লীগ

ঢাকা অফিস ॥ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আবার সিদ্ধান্ত বদল করল আওয়ামী লীগ। এখন এই পদে দল থেকে প্রার্থী দেওয়া হবে না, যারা মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন তাদের ফেরত দেওয়া হবে অর্থ। আগামী মার্চে শুরু হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে আওয়ামী লীগ জানিয়েছিল, দুটি ভাইস চেয়ারম্যান পদে দল থেকে প্রার্থী মনোয়ন দেওয়ার হবে না, এগুলো উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু এরপর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সাধারণ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্যও প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। সেজন্য চেয়ারম্যানের মতো ভাইস চেয়ারম্যানের মনোনয়ন ফরমও বিক্রি করা হয়। এরপর শনিবার চেয়ারম্যান পদে প্রথম পর্বের ৮৭টি উপজেলায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণার সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ভাইস চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্তই থাকছে। অর্থাৎ এই পদ দুটিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না, দলের যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। বিএনপি স্থানীয় সরকারের এই ভোটে না আসায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার লক্ষ্যেই সিদ্ধান্তের এই পরিবর্তন বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। তার আগে গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়েছিল। চার দিনে বিক্রি হয় ৩ হাজার ৪৮৫টি ফরম। এখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, “যেহেতু সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে, সুতরাং টাকা ফেরত দিয়ে দেব। প্রত্যেক প্রার্থীর টাকা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।” স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তৃণমূলের সুপারিশে প্রার্থী বাছাই করছে। প্রতিটি পদের জন্য তৃণমূল থেকে তিনটি করে নাম পাঠানো হচ্ছে। তার মধ্য থেকে একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করছে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। তবে তৃণমূল থেকে আসা সুপারিশে অনেক জায়গায় সংসদ সদস্যরা প্রভাব খাটিয়ে একক নাম পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠলে সেই ব্যবস্থা বদল করা হয়। এবার পাঁচ ধাপে দেশের ৪৯২ উপজেলা পরিষদে ভোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোট হবে। মার্চে চারটি ধাপের পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ১৮ জুন।

বিএনপির অনেকেই উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির অনেকেই স্বতন্ত্র  প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে এ খবর আমরা পেয়েছি। তিনি বলেন, অপজিশন শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রের জন্য ভালো। বিএনপি দুর্বল হোক, সেটা আমরা চাই না। ‘কিন্তু তারা নিজেদের নেতিবাচক রাজনীতির জন্য দুর্বল হলে আমাদের কিছু করার নেই।’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগেই হেরে যায়। তারা নালিশের রাজনীতি করছে। ‘তারা পুরনো মরচে ধরা নেতিবাচক রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে,’ বলেন তিনি। এদিকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের ৮৭ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। দলের সার্বিক শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উন্মুক্ত প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর ফলে ওই দুই পদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন। একাধিক প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসছে না, নির্বাচনটা একটু জমজমাট হোক। আগামী ১০ মার্চ ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণের মধ্যদিয়ে পাঁচ ধাপে সম্পন্ন হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

৮৭ উপজেলায় আ. লীগ প্রার্থীর নাম প্রকাশ

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলের ৮৭ প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই নামগুলো ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “এটি তালিকা প্রকাশের প্রথম ধাপ। ১৯ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে।” পাঁচ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হচ্ছে আগামী ১০ মার্চ ৮৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে। দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৪৮০টিতে এবার ভোট হচ্ছে। প্রথম ধাপে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের ৮৭ উপজেলায় ভোট হবে। প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ১১ ফেব্র“য়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১২ ফেব্র“য়ারি, প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৬ ফেব্র“য়ারি। মার্চ মাসেই পরবর্তী চারটি ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ  হবে ভোট। পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ১৮ জুন। উপজেলাগুলোতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল থেকে সুপারিশ নিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিচ্ছে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। তৃণমূল থেকে নামের সুপারিশ নিয়ে ইতোমধ্যে ৭০০ অভিযোগ এসেছে কেন্দ্রে। এ বিষয়ে কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “সেটা দলের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সব বিবেচনা করেই মনোনয়ন বোর্ড নমিনেশন দিয়েছে। সার্বিক শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” বিএনপি নির্বাচনে না এলেও দলটির অনেক নেতা হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “অপজিশন শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রের জন্য ভালো। বিএনপি দুর্বল হোক, সেটা আমরা চাই না। কিন্তু তারা নিজেদের নেতিবাচক রাজনীতির জন্য দুর্বল হলে আমাদের কিছু করার নাই।” একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে কাদের বলেন, “বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই হেরে যায়। তারা নালিশের রাজনীতি করছে। তারা নেতিবাচক রাজনীতি আঁকড়ে ধরে আছে। তারা তারা পুরনো মরচে ধরা হাতিয়ার নেতিবাচক রাজনীতির হাতিয়ার ব্যবহার করছে।” সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ৮৭ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হলেন:

রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড় সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আমিরুল ইসলাম, তেঁতুলিয়ায় কাজী মাহামুদুর রহমান, দেবীগঞ্জে হাসনাৎ জামান চৌধুরী (জর্জ), বোদায় মো. ফারুক আলম, আটোয়ারীতে মো. তৌহিদুল ইসলাম। নীলফামারী জেলার নীলফামারী সদর উপজেলায় শাহিদ মাহমুদ, ডোমারে তোফায়েল আহমেদ, ডিমলায় মো. তবিবুল ইসলাম, সৈয়দপুরে মো. মোখছেদুল মোমিন, কিশোরগঞ্জে মো. জাকির হোসেন বাবুল, জলঢাকায় মো. আনছার আলী (মিন্টু)। লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলায় নজরুল হক পাটোয়ারী ভোলা, পাটগ্রামে রুহুল আমিন বাবুল, হাতীবান্ধায় লিয়াকত হোসেন, আদিতমারীতে রফিকুল আলম, কালীগঞ্জে মাহবুবুজ্জামান আহমেদ। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় মোস্তফা জামান, উলিপুরে গোলাম হোসেন মন্টু, চিলমারীতে শওকত আলী সরকার, রৌমারীতে মজিবুর রহমান, ভূরুঙ্গামারীতে নুরুন্নবী চৌধুরী, রাজারহাটে আবু নুর মো. আক্তারুজ্জামান, ফুলবাড়ীতে আতাউর রহমান, রাজিবপুরে শফিউল আলম, কুড়িগ্রাম সদরে আমান উদ্দিন আহমেদ। রাজশাহী বিভাগ: জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলায় এস এম সোলায়মান আলী, পাঁচবিবিতে মনিরুল শহিদ মন্ডল, আক্কেলপুরে আবদুস সালাম আকন্দ, কালাই উপজেলায় মিনফুজুর রহমান, ক্ষেতলালে মোস্তাকিম মন্ডল। রাজশাহী জেলার পবা উপজেলায় মুনসুর রহমান, তানোরে লুৎফর হায়দার রশীদ, পুঠিয়ায় জি এম হিরা বাচ্চু, দুর্গাপুরে নজরুল ইসলাম, বাঘায় নায়েব উদ্দীপ্ত, গোদাগাড়ীতে জাহাঙ্গীরনগর আলম, চারঘাটে ফকরুল ইসলাম, মোহনপুরে আবদুস সালাম, বাগমারায় অনিল কুমার সরকার। নাটোর জেলার সদর উপজেলায় শরিফুল ইসলাম রমজান, গুরুদাসপুরে জাহিদুল ইসলাম, বাগাতিপাড়ায় সেকেন্দার রহমান, সিংড়ায় শফিকুল ইসলাম, বড়াইগ্রামে সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, লালপুরে ইসাহাক আলী। সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় রিয়াজ উদ্দিন, চৌহালীতে ফারুক হোসেন, কাজীপুরে খলিলুর রহমান সিরাজী, রায়গঞ্জে ইমরুল হোসেন, উল্লাপাড়ায় শফিকুল ইসলাম, শাহজাদপুরে আজাদ রহমান, বেলকুচিতে আলী আকন্দ, তাড়াশে সঞ্জিত কুমার কর্মকার। সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় মশিউর রহমান শামীম, নবীগঞ্জে আলমগীর চৌধুরী, লাখাই উপজেলায় মুশফিউল আলম আজাদ, বাহুবলে আবদুল হাই, মাধবপুরে আতিকুর রহমান, চুনারুঘাটে আবদুল কাদির লস্কর, আজমিরীগঞ্জে মর্ত্তুজা হাসান, বানিয়াচংয়ে এ আবুল কাশেম চৌধুরী। সুনামগঞ্জ সদরে খায়রুল হুদা, জামালগঞ্জে ইউসুফ আল আজাদ, শাল্লায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, বিশ্বম্ভরপুরে রফিকুল ইসলাম তালুকদার, ধরমপাশায় শামীম আহমেদ মুরাদ, ছাতকে ফজলুর রহমান, দোয়ারাবাজারে আবদুর রহিম, দিরাই এ প্রদীপ রায়, তাহিরপুরে করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবলু, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আবুল কালাম। ময়মনসিংহ বিভাগ: জামালপুর জেলার সদর উপজেলায় মোহাম্মদ আবুল হোসেন, বকশীগঞ্জের এ কে এম সাইফুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জে মো. আবুল কালাম আজাদ, মেলান্দহে মো. কামরুজ্জামান, মাদারগঞ্জে ওবায়দুর রহমান বেলাল, সরিষাবাড়ীতে মো. গিয়াস উদ্দিন পাঠান, ইসলামপুরে এস এম জামাল আবদুল নাছের। নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলায় মো. তফসির উদ্দিন খান, খালিয়াজুরীতে গোলাম সিরিয়ার জব্বার, দুর্গাপুরে মোহাম্মদ এমদাদুল হক খান, মোহনগঞ্জে মো. শহীদ ইকবাল, বারহাট্টায় মো. গোলাম রসুল তালুকদার, কলমাকান্দায় মো. আবদুল খালেক, মদনে মো. হাবিবুর রহমান, পূর্বধলায় জাহিদুল ইসলাম, কেন্দুয়ায় মো. নুরুল ইসলাম।

দৌলতপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবক নিহত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় রহিদুল হক (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার দৌলতখালী গোডাউন বাজার এলাকায় মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা এলাকার মৃত তাইজাল ইসলামের ছেলে। দৌলতপুর থানা পুলিশ জানায়, রহিদুল হক দৌলতখালী শ্বশুর বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ি আল্লারদর্গায় ফেরার পথে দৌলতখালী গোডাউন বাজার মোড়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই রহিদুল মারা যায়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে।

কুমারখালীতে নাগরিক শোকসভায়

গভীর শ্রদ্ধা-কৃতজ্ঞতায় ও অশ্র“সিক্ত নয়নে জাসদ নেতা কনকের স্মরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ গভীর শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতায় ও অশ্র“সিক্ত নয়নে অকাল প্রয়াত কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা সৈয়দ সাইমুন কনককে স্মরণ করলো কুমারখালীবাসী। অকাল প্রয়াত এই জাসদ নেতার স্মরণে গতকাল শুক্রবার  কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নাগরিক শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের বঙ্গবন্ধু’র ম্যুরাল চত্বরে কুমারখালীবাসীর আয়োজনে এই নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক শোকসভার অন্যতম আয়োজক কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস। নাগরিক শোক সভা ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনার শুরুর আগে প্রয়াত কনকের স্মৃরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। প্রয়াত কনকের স্মতিচারণমূলক আলোচনা করেন, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী আখতার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনছুর মজনু, মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ও পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারন সম্পাদক মমতাজ বেগম, মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক রওশন আরা নীলা, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল রফিক বিশ্বাস, ব্লাষ্ট কুষ্টিয়ার সমন্বয়ক এ্যাড. শংকর কুমার মজুমদার, শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ্ উদ্দিন খান তারেক, উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. জয়দেব কুমার বিশ্বাস, প্রবীণ শিক্ষক নাসির উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও জনকল্যাণ সংস্থার সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া খান জেমস প্রমুখ। অকাল প্রয়াত সৈয়দ সাইমুন কনকের কর্মময় ও ব্যক্তিজীবনের উপর স্মৃতিচারণমূলক আলোচনাকালে আলোচকগণ বলেন, কনক তাঁর বন্ধুসুলভ আচরণ দিয়ে কুমারখালীর দলমত নির্বিশেষে ছোট-বড় সর্বস্তরের মানুষকে শ্রদ্ধা, স্নেহ করতেন এবং মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন। তিনি কুমারখালীর দুর্গাপুরস্থ তাঁর পৈত্রিক বাসভবন গড়াইকুঞ্জে স্থানীয় কবি সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত করতেন। এ ছাড়াও সৈয়দ সাইমুন কনক ছিলেন একজন নিভৃতচারী সমাজসেবক। নিরবে-নিভৃতে তিনি অসংখ্য অসহায় মানুষকে নিয়মিত সহযোগীতা করতেন। সামাজিক ও মানবিক গুণের কারণেই তিনি ছোট বড় সর্বস্তরের মানুষের প্রিয়জনে পরিণত হয়েছিলেন। স্মৃতিচারণ আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত কনকের বিদেহী আতœার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারী ভারতের দার্জিলিং জেলার ডুয়ার্সের জঙ্গলে বন্যহাতির আক্রমনে নিহত হন জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ সাইমুন কনক। গত ২৯ জানুয়ারী তাঁকে ঢাকার বেগম বাজার নবাব পরিবারের পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হয়।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে

প্রকৃতি মেলা-২০১৯ উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী

নিজ সংবাদ ॥ “সুন্দর প্রকৃতিতে গড়ি সুস্থ জীবন” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ শনিবার প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চ্যানেল আই এর চেতনা চত্বরে প্রকৃতি মেলা-২০১৯ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রকৃতি মেলার সাফল্য কামনা করে সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সামনে থেকে বর্ণাঢ্য এক র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল¬াস চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

চ্যানেল আই’র কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলুর সভাপতিত্বে প্রকৃতি মেলার সাফল্য কামনা ও প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন গ্রীন এন্ড ক্লিন কুষ্টিয়ার সভাপতি খলিলুর রহমান মজু, সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদ, পাখি পর্যবেক্ষক এস আই সোহেল, মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহাবুদ্দিন মিলন, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব আল মামুন সাগর ও সাংবাদিক নেতা সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ। র‌্যালী ও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দর্পন পত্রিকার সম্পাদক মজিবুল শেখ, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সদস্য নজরুল ইসলাম মুকুল, চ্যানেল ২৪ এর ষ্টাফ রিপোর্টার শরীফ বিশ্বাস, বাংলাদেশ প্রতিদিন’র জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ’র প্রতিনিধি আরিফ মেহমুদ, নয়াদিগন্ত’র জেলা প্রতিনিধি আ.ফ.ম নুরুল কাদের, বাংলাভিষন কুষ্টিয়ার প্রতিনিধি হাসান আলী, দৈনিক আজকের সূত্রপাতের সম্পাদক আক্তার হোসেন ফিরোজ, বাংলা টিভির জেলা প্রতিনিধি লিটন-উজ-জামান প্রমুখ। র‌্যালী ও সমাবেশে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব ও প্রকৃতি প্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয় – নজরুল

ঢাকা অফিস ॥ আইনি প্রক্রিয়ায় ‘বেআইনি’ সরকারের হাত থেকে দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, একটাই পথ, তা হলো শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলা। সেই আন্দোলনের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ময়দানে নামতে হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে খালেদা জিয়ার কারাভোগের এক বছর উপলক্ষে তার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নজরুল ইসলাম বলেন, এই সরকারের আমলে আসামি হওয়ার জন্য কোনো অপরাধ করতে হয় না। আপনি কোনো অপরাধ না করলেও আসামি হয়ে যাবেন। কোনো অপরাধ না করলেও আদালতে আপনার শাস্তি হতে পারে। খালেদা জিয়া তার প্রমাণ। কাজেই আমরা যাঁরা আছি কেউ নিরাপদ না। তিনি বলেন, এই সরকার অলরেডি নির্দেশ দিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তা দ্রুত পরিচালনা করে শাস্তি দিয়ে দেওয়ার জন্য। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তিই শুধু নয়, যদি নিজেরা বাঁচতে চাই, জেল-জুলুম থেকে নিজেদের রক্ষা করতে চাই, তাহলেও আমাদের আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। আত্মরক্ষা, দেশরক্ষা, গণতন্ত্ররক্ষার আন্দোলন, দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন আজ একাকার হয়ে গেছে। তাই সে আন্দোলন নিশ্চয়ই সফল হবে। সেই সফল আন্দোলনে আপনারা নেতৃত্ব দেবেন। সে বিশ্বাস আমার আছে। লড়াইয়ে একসঙ্গে থাকবো, একসঙ্গে লড়বো, প্রয়োজনে একসঙ্গে মরবো। আমরা আজ সবাই লজ্জিত, আমরা সবাই এক ধরনের ব্যর্থতার জ্বালা নিয়ে সভায় এসেছি উলে¬াখ করে বিএনপির এই বর্ষীয়াণ নেতা বলেন, আমাদের নেত্রী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয়, তিনি আজ এক বছর হলো কারাগারে। আমরা তাকে মুক্ত করতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার দায়ভার নিয়েও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আরও জোরদার আন্দোলন তৈরি করে তাকে মুক্ত করতে হবে। কারণ তিনি আমাদের দিকে চেয়ে আছেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচার আইয়ুব খান দশ বছর পূর্তিতে উন্নয়নের দশক পালন করেছিল। তার কিছুদিন পরই ৬৯’র এর গণ অভ্যুত্থানে তার পতন হয়েছে। স্বৈরাচারী এরশাদও দীর্ঘদিন দেশ শাসন করেছেন। আমরা অনেক আন্দোলন করলেও তিনি দশ বছর ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৯০ এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে তারও পতন হয়েছে। আজকে যিনি ক্ষমতায় আছেন তাদের এই ক্ষমতায় থাকাই অবৈধ, কারণ জনগণ ভোট দিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসায়নি। প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল¬াহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, আবদুল মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, স্বেচ্ছাসবেক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম। বিকেল ৩টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়ে সোয়া ৫টায় সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে এই প্রতিবাদ সভা শেষ হয়। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মীরা যোগ দেন।

 

খালেদা জিয়ার কারাবাসের এক বছর

ঢাকা অফিস ॥ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। তার করাভোগের এক বছর হয়েছে গতকাল শুক্রবার। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় রায়ের পর খালেদা জিয়া কারাগারে গেলেও আপিল করেই জামিনে তার বেরিয়ে আসার আশায় ছিলেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু তা ঘটেনি, উপরন্তু আরেকটি মামলায় সাজার রায় এসে গেছে এর মধ্যে: আরও মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোয় আটকে গেছে মুক্তি; অংশ নিতে পারেননি একাদশ সংসদ নির্বাচনেও। এই অবস্থার মধ্যে পুরানো ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরোনো কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে এক বছর কেটে গেল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার। দলীয় চেয়ারপারসনকে যে এতদিন বন্দি থাকতে হবে, তা তখন ‘কল্পনাই করতে পারেননি’ বলে গত বৃহস্পতিবারই এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য আসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদের কাছ থেকে। তিনি বলেন, কোনো দিন কল্পনা করতে পারি নাই যে বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী এবং তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে একটা তুচ্ছ ভিত্তিহীন মামলায় সাজা দেবে। পাঁচ বছরের সাজায় আপিল ফাইল করার পর সাত দিনের বেশি ওঁর জেলখানায় থাকার কথা নয়। ৩৬ বছরের রাজনীতিক জীবনে খালেদা জিয়ার বন্দি থাকা নতুন নয়। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেফতার হয়ে এক বছর সাত দিন বন্দি ছিলেন তিনি। তখন তাকে রাখা হয়েছিল সংসদ ভবনের একটি বাড়িতে। তবে সেবারের বন্দিদশার সঙ্গে এবারের পার্থক্য হচ্ছে এখন তিনি বন্দি আছেন দুর্নীতির দায়ে দোষি সাব্যস্ত হয়ে। তখন যে মামলাগুলোর হয়েছিল, তার একটি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা। এতিমদের জন্য আসা দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালে করা এই মামলায় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়াকে দোষি সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সাজা দিয়ে রায় দেন ঢাকার জজ জজ মো. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর ওই দিনই নাজিমউদ্দিন সড়কের ওই কারাগারে নেওয়া হয় ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে। পুরোনো ওই কারাগারে তাকে নেয়ার পর তখনই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তার জন্য কারাগারে সুবন্দোবস্তু করার কথা বলা হয়; এমনকি সেবার জন্য গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকে কারাগারে রাখতে পারার নজিরবিহীন সুযোগ পাওয়ার কথাও বলে সরকার। এই মামলায় খালেদা আপিল করে কয়েক মাস পর জামিন পেলেও তার মুক্তি আটকে যায় অন্য বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোতে, যা তাকে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ তোলে বিএনপি। এর মধ্যেই ২৯ অক্টোবর হয়ে যায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়; এবার একই জজ মো. আখতারুজ্জামান এই দুর্নীতির মামলায় খালেদাকে দেন সাত বছরের সাজা। তার একদিনের মধ্যে জিয়া এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় আপিলের রায় আসে হাই কোর্ট থেকে। খালেদা জিয়ার বয়স ও অবস্থান বিবেচনায় নিম্ন আদালতের বিচারকে আখতারুজ্জামান তাকে কম সাজা দিলেও তাতে সায় দেয়নি হাই কোর্ট। বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা ১০ বছর বাড়িয়ে হাই কোর্ট বলে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে (খালেদা জিয়াকে) সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। কারণ সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার ক্ষেত্রে যাতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়। কারাগারে এই এক বছর খালেদার চিকিৎসা নিয়ে নানা নাটকীয়তা ছিল আলোচনায়। শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে যেতে আপত্তি করলেও পরে তিনি সেখানেই থেকে কিছু দিন চিকিৎসা নেন। তাকে দুই বার চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়েছিল। প্রথমবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য গত এপ্রিলে। দ্বিতীয়বার নিয়ে ৬ অক্টোবর ৮ নভেম্বর তাকে রাখা হয়েছিল। পরে ফিরিয়ে নেওয়া হয় কারাগারে। এরপর অন্য মামলার বিচারে তাকে ওই কারাগারে স্থাপিত আদালতে তাকে দেখা গেছে হুইল চেয়ারে। শরীর খারাপ হলেও খালেদার মনোবল অটুট দেখার কথা বলেছেন তার আইনজীবী মওদুদ। এই সপ্তাহে দেখা হয়েছে ওঁর সাথে। ওঁর শরীর খুবই নরম হয়ে গেছে, কিন্তু মনোবল খুবই শক্ত। উনি হাঁটতে একেবারেই পারেন না এখন। পা মাটিতে রাখা সম্ভবপর হয় না বলে হুইল চেয়ার ব্যবহার করেন। এই এক বছরে খালেদা জিয়ার ভাই-বোনসহ স্বজন এবং বিএনপি নেতারা দেখা করছেন তার সঙ্গে। তারা বলছেন, বিশাল ওই পুরোনো কারাগারে ভুতুড়ে পরিবেশে বন্দি আছেন তাদের নেত্রী। এক স্বজন বলেন, কারাগারে তিনি (খালেদা জিয়া) একেবারেই ভালো নেই। অসুস্থতার মধ্যেই তার সময় কাটে বই ও পত্রিকা পড়ে। নিয়মিত কোরান শরিফও পড়েন তিনি। বেশিরভাগ সময় যুদ্ধ করতে হয় যন্ত্রণাদায়ক রোগ-ব্যধির সাথে। কারাগারের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খালেদা জিয়া চুপচাপই থাকেন সব সময়। কিছু লাগবে কি না, জানতে চাইলে বলেন, ‘প্রয়োজন হলে’ জানাবেন। কারাগরেই খালেদা জিয়ার খাবার রান্না করা হয়। বাসা থেকে কোনো খাবার কারাগারে নিতে দেওয়া হয় না। শুধু দুই ঈদের বাসার রান্না করা খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারাগারে নিতে দেওয়া হয়েছিল। কারাগারে জেল সুপারের কক্ষটিকে সংস্কারের পর ‘স্পেশাল জেল’ ঘোষণা করে সেখানেই খালেদাকে প্রথম দিন রাখা হয়েছিল। কয়েকদিন পর দোতলার একটি কক্ষে স্থানান্তর করা হয় তাকে, যা আগে কারাগারে ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ হিসেবে ব্যবহার হত। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাষায়, সেই কক্ষটির অবস্থাও ভালো নয়। জরাজীর্ণ ও স্যাঁত স্যাঁতে অবস্থা। এখানে এত বড় বড় ইঁদুর দৌড়ায়, এতগুলো বেড়াল ওখানে, যাঁরা ইঁদুর ধরে। আপনারা শুনলে হতবাক হবেন যে, ম্যাডামের ঘরের মধ্যে ওই বেড়াল বড় ইঁদুর ধরেছে,” গত বছর বলেছিলেন তিনি। স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে ব্যর্থ এক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার পর ১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ে ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ‘৮৪ সালের ৩ মে ও ‘৮৭ সালের ১১ নভেম্বর তিন দফায় বন্দি হয়েছিলেন তিনি। তবে তখন ঢাকা সেনানিবাসের শহিদ মইনুল সড়কের বাসায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল তাকে। তার ২০ বছর পর বন্দি হলেও তিনি ছিলেন সংসদ ভবনের মতো স্থানে একটি বাড়িতে। কারাগারের কুঠুরীতে এবারই প্রথম গেলেন তিনি। দুটি মামলায় রায় হওয়ার পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও অন্তত ৩৪টি মামলা রয়েছে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে নাইকো মামলা, গ্যাটকো মামলা, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার বিচার চলছে। এগুলো দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত। বাকি মামলাগুলো রাষ্ট্রবিরোধী ও অপরাধজনিত মামলা। যানবাহনের আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, সহিংসতা, নাশকতা, ভুয়া জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা। এর মধ্যে ২৬টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। এ ছাড়া কুমিল¬ায় তিনটি, পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা রয়েছে। খালেদা জিয়া বন্দি থাকায় তার গুলশানের বাড়ি ‘ফিরোজা’ এখন জনশূন্য। নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়মিত পাহারা দেন বাড়িটি। বাড়ির ভেতরের আঙিনা আগের মতোই দেখা গেছে, বাগানও রয়েছে ঠিক-ঠাক। ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমাই মূলত বাসাটি দেখাশোনা করেন। খালেদা জিয়ার নামে এখনও যে চিঠি তার গুলশানের কার্যালয়ে আসে তা খোলা হয় না বলে দলটির নেতারা জানান। এইসব চিঠির মধ্যে রয়েছে- ঢাকার বিদেশি দূতাবাসগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের শুভেচ্ছাপত্র। এ ছাড়া দলের তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মীরাও চিঠি লেখেছেন তাকে। চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, গত এক বছরে নয়শ’র বেশি চিঠি জমা হয়েছে। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর আইনি লড়াই চালিয়েই তাকে মুক্ত করার কথা বলেছিলেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু এখন তারা হতাশ। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে কয়েক দফা আন্দোলন করেও সফল না হওয়া বিএনপির নেতারা মনে করছেন, আন্দোলন ছাড়া তাদের নেত্রীকে মুক্ত করার আর কোনো রাস্তা খোলা নেই। খালেদার কারাবাসের বছর পূর্তির আগের দিনের অনুষ্ঠানেই মওদুদ বলেন, যেহেতু আদালতের মাধ্যমে সম্ভবপর হচ্ছে না, সেজন্য আন্দোলন আমাদের করতেই হবে।

বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতার জন্য খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ খালেদা জিয়ার কারামুক্তিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয়ে বিএনপি সফল না হওয়ার জন্য নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে দায়ি করেছেন দলটির নেতা মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, তারা যারা দলের নেতৃত্বে আছেন তারা কর্মীদের আন্দোলনের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারেননি। ব্যর্থতার এই বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মওদুদ একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছেন, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি নেতৃত্বে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বন্দিত্বের এক বছর পূর্তিতে শুক্রবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রতিবাদ সমাবেশে দলটির আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনও দল পুনর্গঠনের পর নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে নামার কথা বলেছেন। আলোচনায় অংশ নেওয়া বিএনপি নেতারা সবাই এই মত প্রকাশ করেন যে, সরকারের ‘হস্তক্ষেপের’ কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তার মুক্তির জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নাই। আন্দোলন করার জন্য সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে মন্তব্য করে তার পথরেখা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ। তিনি বলেন, “সংগঠন যদি শক্তিশালী করতে হয় আজকে নেতা-কর্মী গত ১০ বছর জেলে খেটেছে, তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়েছে, দোকানপাট দখল করেছে, তাদের পুকুরের মাছ নিয়ে গেছে, তাদের জমির ফসল নিয়ে গেছে, তাদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, নির্বাচনের সময়ে গায়েবি মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে নিগৃহীত করেছে- তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। “তাদের ভেতরে যে হতাশা তা তুলে নিয়ে আসতে হবে। তাদের ভেতরে আস্থা ও বিশ্বাস জন্মাতে হবে যাতে করে আমরা আবার নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারি।” এজন্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি এলাকায় বিএনপির যারা প্রার্থী ছিলেন তাদের নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন মওদুদ আহমদ। “যেসব নেতা-কর্মী জেলখানায় আছে তাদের মুক্ত করা, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের জামিনের ব্যবস্থা করা, যাদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং তাদের পাশে থাকা।” এই কার্যক্রমের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন করে দল পুনর্গঠন প্রয়োজন বলে মনে করেন মওদুদ। “যারা নির্যাতিত হয়েছে, যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যারা বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছে তাদের উপযুক্ত সম্মান দিয়ে তাদের নেতৃত্ব স্থানে আনতে হবে, তরুণ সমাজকে নেতৃত্বে আনতে হবে।” আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই যে আমার ভাইয়েরা এখানে আছেন, হাজার হাজার নেতা-কর্মী আছে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। আমরা যারা নেতৃত্বে আছি আমরা সফল হই নাই সঠিকভাবে সেই আন্দোলনে আপনাদের যে শক্তি আছে, সেই শক্তিকে আমরা কাজে লাগাতে পারি নাই। “আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে যে দলকে আমরা ভালোবাসি, যে নেত্রীর জন্য আজকে আমরা সভা করছি। আমাদের পর্যায়ে মাথা হেট হয়ে যায় যে, এত বড় একটা আমাদের সংগঠন, এত বড় জনসমর্থন, সেই দলের নেত্রী তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলের নেত্রী আজকে এক বছর যাবত জেলখানায় আছেন- এটা ভাবতেও চোখের পানি চলে আসে।” ক্ষমতাসীনরা বাংলাদেশকে বিরোধী দলবিহীন একটি দেশে পরিণত করেছে অভিযোগ করে মওদুদ আহমদ বলেন, “এটা ভয়ঙ্কর দিক। এই কারণে রাজনীতিতে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। ওরা বুঝতে পারছে না, যারা সরকারে আছেন তারা আরামে আছেন, তারা বুঝতে পারছে না বিরোধী দল বিহীন এই রাষ্ট্র বেশি দিন টিকতে পারবে না। “ সেজন্য আমাদের অতি দ্রুত দলে এই পুর্নবাসন ও পুনর্গঠনের কর্মসূচি সফল করতে হবে। যাতে করে খুব শিগগিরই সময় আসবে আন্দোলন করে এই সরকারের পতন ঘটানোর।” খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি সব নেতাকর্মীর মুক্তি দাবিতে শুক্রবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রতিবাদ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি সব নেতাকর্মীর মুক্তি দাবিতে শুক্রবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রতিবাদ সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন মাদার অব ডেমোক্রেসি। এই গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে তার আগে তাকে মুক্ত করতে হবে। সেই মুক্তির জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে, সুসংগঠিতভাবে সাহস নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াব-এই প্রত্যাশা আমরা আজকে করছি।” সেই ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে যেসব দুর্বলতা আছে, তা অতি দ্রুত সংশোধন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কথা বলেন তিনি। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, “আমরা দেশে দুটি অস্বাভাবিক ঘটনা দেখলাম। একটা হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের কথা বলে ২৯ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি। আরেকটি হচ্ছে, একটি মন্ত্রিসভা। সিনিয়র ৩৫ জন ব্যক্তি যারা সাবেক মন্ত্রী তারা বাতিল। এটাও অস্বাভাবিক ঘটনা। “কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রিসভায় দেশ পরিচালনায় না রেখে ফিল্ডের বাইরে রেখে নতুনদের দিয়ে দেশ চালাবেন-এটাও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। অতত্রব পরপর দুটি অস্বাভাবিক ঘটনা বেশি দিন টিকতে পারে না।” বিএনপির নেতা-কর্মীরা হতাশ নয় দাবি করে তিনি বলেন, “তারা হতাশ নয়, মনক্ষুণœ, বিক্ষুব্ধ। নিশ্চয় দেশের জনগণ একদিন তার রাজনৈতিক জবাব রাজনৈতিকভাবে দেবে। অতত্রব আমাদের সামনে বিরাট ক্ষেত্র প্রস্তত হয়েছে। আজকে কাউকে বুঝাতে হবে না যে, শেখ হাসিনা এদেশের জনগণের সরকার নয়। তাদের পক্ষে বেশি দিন আর এদেশের মানুষকে প্রতারণা করে টিকে থাকা সম্ভবপর হবে না। আমার বিশ্বাস আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও আর বেশি দিন আটকে রাখা সম্ভব হবে না।” একাদশ নির্বাচনে জনগণের কাছে আওয়ামী লীগ ‘নৈতিকভাবে পরাজিত এবং বিএনপির ‘বিজয়’ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছে রাজনৈতিক একটি মিথ্যা মামলায়। রাজনৈতিক মামলার ফয়সালা আইনের মাধ্যমে হবে না। রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নাই। “আসুন বিএনপির নেতা-কর্মীরা শপথ গ্রহণ করি, আমরা রাজনৈতিকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনব।” সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমাদের নেত্রী সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এক বছর কারাগারে, আমরা তাকে মুক্ত করতে পারি নাই-এটা আমাদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার দায়ভার নিয়েও আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্বার আন্দোলন তৈরি করে তার মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ তিনি আমাদের দিকে চেয়ে আছেন। “জনগণ আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য বরঞ্চ চেয়ে আছে।  এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনকে। আপনারা শুনেছেন আইনি প্রক্রিয়ায় এই বেআইনি সরকারের হাত থেকে দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব না। একটাই পথ শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলা। সেই আন্দোলন গড়ে তুলতে লড়াইয়ের ময়দানে ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে হবে।” দলের প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আালীমের পরিচালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শিরিন সুলতানা, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল আউয়াল খান, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মীর নেওয়াজ আলী, আমিরুজ্জামান শিমুল, আনিসুর রহমান খোকন, শফিউল বারী বাবু, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইয়াসীন আলী, মোরতাজুল করীম বাদরু, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, রফিকুল আলম মজনু, আবদুল কালাম আজাদ, শাহ নেসারুল হক, তকদীর হোসেন জসিম, নবী উল¬াহ নবী, তানভীর আহমেদ রবীনসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি বিষয়, রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক নেই – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অপিস ॥ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনি বিষয়, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাগারে এক বছর অতিবাহিতের দিনে গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনীতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়ার এক বছরের কারাবাসের ব্যাপারে বিএনপিকে জিজ্ঞেস করুন। এক বছরের আইনি লড়াইয়ে কেন তারা সফল হয়নি, এক বছরে কেন আন্দোলন করে মুক্ত করতে পারেনি। এটা তাদের বিষয়, এটা আমাদের কোনো বিষয় নয়। আমরা খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিইনি। তাঁকে কারাগারে নিয়েছেন আদালত। তাঁকে মুক্তিও দিতে পারেন আদালত। এটা কোনো রাজনীতিক ইস্যু নয়, যোগ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গত বছরের ৮ ফেব্র“য়ারি পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদানের মাধ্যমে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। রাজধানীর পুরানো ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে। এরপর এই মামলার আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁর সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। এই মামলা ছাড়াও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদন্ড দেন। পরবর্তী সময়ে এসব মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পেলেও কুমিল¬ার একটি নাশকতার মাধ্যমে হত্যা মামলায় তাঁর এখনো জামিন হয়নি। বিএনপির এখন মাথা ঠিক নেই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, না থাকাই স্বাভাবিক। কারণ, তাদের এত বড় বাঘা বাঘা নেতা শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে। কাজেই তাদের এখন করার কী আছে। একবার মনে করেছিল, বিদেশ থেকে সাড়া পাবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য দেশে দেশে কত চিঠি তারা লিখেছে। কোনো কাজ হয়নি। এখন দুনিয়ার সব গণতান্ত্রিক দেশ, আজকে বিশ্ব শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে এবং এই সরকারকে প্রশংসা করেছে, প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এই অবস্থায় বিএনপির এই মুহূর্তে আর কিছু করণীয় নেই, যোগ করেন ওবায়দুল কাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ যেন জয়ী হতে পারে সে বিষয়টি তার দল গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে জানান তিনি। জাতীয় নির্বাচনের মতো ডাকসুর প্যানেল দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রলীগ জোটের পথে হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সাবেক সভাপতি কাদের। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চারজন নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছি, তারা ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অবজার্ভ করছে। আমরা এই নির্বাচনকে সিরিয়াসলি নিয়েছি, গণতান্ত্রিকভাবে জয়লাভ করব বলে আশা করছি। প্রায় তিন দশক পর আগামি ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো। তবে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ভোটকেন্দ্র করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আপত্তি রয়েছে ছাত্রদল ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর। ক্যাম্পাসে সব সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে নির্বাচন পেছানোরও দাবি জানিয়েছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যাঁরা ১৯৯০ সালে ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্রলীগ থেকে একবারই ডাকসুতে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে ওই নির্বাচনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্যানেল থেকে ভিপি পদে জয়ী হয়েছিলেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। ওই প্যানেলে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে মুশতাক আহমেদ জিএস এবং ছাত্র ইউনিয়ন থেকে নাসির-উদ-দৌজা এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভোটের তারিখ হওয়ার পর এবারও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে প্যানেল দেওয়ার কথা বলছেন ছাত্রলীগের নেতারা; যদিও এখনকার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে আগের সব সংগঠন নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে যেভাবে পোলারাইজেশন হয়, তার প্রভাবটা ছাত্র রাজনীতিতেও পড়ে। যাদের সামর্থ্য নেই, তারা হয়তো এত বেশি সুবিধা নিতে পারে না। যাদের সামর্থ্য আছে নির্বাচন করার মত, পোলারাইজেশনটা তারা করবে, তারা চেষ্টা করবে এখান থেকে একটা ফায়দা তোলা যায় কি না। ডাকসু নির্বাচনে প্যানেল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষরা যদি একটা জোট করতে চায়, এখানে আমাদের একটা জোটের কথা ভাবতে হবে। সমীকরণটা যেভাবে হবে, সেই মেরুকরণ অনুযায়ী আমরা চিন্তা ভাবনা করব। অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান মিয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার  বিপ¬ব বড়–য়া ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

খয়েরপুরে ৩ দিনব্যাপি তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের উদ্বোধনকালে কামারুল আরেফিন

সমাজ থেকে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতি বন্ধ করতে ধর্ম চর্চার কোন বিকল্প নেই

হাবিবুর রহমান ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খয়েরপুরে তিন দিনব্যাপী ১৩তম বাৎসরিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আমলা ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে খয়েরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশিষ্ট সমাজসেবক রমজান আলীর সভাপতিত্বে ৩ দিনব্যাপী এ তাফসিরুল কোরআন মাহফিল প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মিরপুর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এ সময় তিনি বলেন, নামাজ বেহেস্তের চাবি। মুসলমান হিসাবে আমাদের সকলের উপরেই নামাজ ফরজ। যদি কেউ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, সর্বদা ভালো কাজ করেন, আল্লাহর নির্দেশ মতো কাজ করেন তাহলে মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত উপহার দেবেন। “ইসলাম ধর্ম শিক্ষা দেয় ভালো কে গ্রহন করুন এবং সকল প্রকার খারাপকে বর্জন করুন” ইসলামী আলোচনা শুনে যুবসমাজকে শিক্ষা গ্রহন করে মাদককে পরিহার করে বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটিয়ে উত্তম চরিত্র গঠন করতে হবে। ইসলাম বাবা-মাকে সম্মান দেওয়ার কথা বাধ্যতা মূলক করেছে। তাই আজ যারা এ মাহফিল শুনতে এসেছেন তাদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা পিতা-মাতার খেদমত করতে কখনও যেন গাফিলতি করবেন না। তিনি আরো বলেন, সমাজ থেকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি বন্ধ করতে ধর্ম চর্চার কোন বিকল্প নেই। ধর্ম শিক্ষায় পারে একজন ব্যক্তিকে সৎ করতে। সেই সাথে আপনারা যারা এলাকায় বসবাস করেন তারা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে। তিনি আরো বলেন, আমাদের বেশি বেশি আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। নিজে ইবাদত করতে হবে এবং পরিবারে সকলে মিলে ইবাদত করতে হবে।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি একলেমুর রেজা সাবান জোয়ার্দ্দার, সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান সুমন, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আজম, মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক গুলজার হোসেন, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার সাধারন মানুষ। তিনদিন ব্যাপি এ তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের প্রথম দিনে প্রধান তাফসির কারক হিসাবে তাফসির পেশ করেন ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও মোফাচ্ছেরে কোরআন মাওলানা মোহাঃ জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ তাফসির কারক হিসাবে তাফসির পেশ করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও মোফাচ্ছেরে কোরআন মাওলানা মোহাঃ মোতালেব হোসেন খাঁন। তাফসির শেষে দেশ ও জাতির কল্যানের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

গাড়ি খাদে সেনাবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

ঢাকা অফিস ॥ নোয়াখালীতে সেনাবাহিনীর গাড়ি খাদে পড়ে তিন সৈনিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও নয়জন। জেলার চরজব্বর থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন জানান, শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে তোতার বাজারের দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সিপাই মামুন খোন্দকার, ফিরোজুল ইসলাম ও ফয়েজ উদ্দিন। ওসি সাহেদ বলেন, শুক্রবার বিকালে কুমিল¬া সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি হাতিয়ার স্বন্দ্বীপ যাচ্ছিল। পথে তোতার বাজারের দক্ষিণে একটি গাড়িকে অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ১২ সেনাসদস্য আহত হন। “এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নিয়ে যান। সেখানে মামুন, ফয়েজ ও ফিরোজুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।” আহত সেনাসদস্যদের হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

ইবিতে পিআইসি সভায় ড. রাশিদ আসকারী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে চাই

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন দ্বিতীয় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের পিআইসি’র চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রকল্পের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র (ড. রাশিদ আসকারী) সভাপতিত্বে তাঁর সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আমরা সততা ও জবাবদিহিতার সাথে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করে চলেছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমরাও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে চাই। কোন অবস্থাতেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক (ভার:) এইচ এম আলী হাসান, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান আসমা নাসরিন, ইউজিসি’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম সরওয়ার, সিনিয়র সহকারী পরিচালক আকরাম হোসেন, আইএমইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রধান মোঃ আরিফুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রকল্পের সদস্য-সচিব ইবি’র প্রধান প্রকৌশলী (ভার:) আলিমুজ্জামান টুটুল।  সভার পূর্বে কমিটির সদস্যরা দেশরতœ শেখ হাসিনা হল, শেখ রাসেল হল, রবীন্দ্র-নজরুল একাডেমিক ভবন, মেডিক্যাল সেন্টার, ৫০০ কেভিএ সাব স্টেশন, শিক্ষক-কর্মকর্তা কোয়াটার, প্রভোস্ট কোয়াটার, গেস্ট হাউজ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ সম্প্রসারণসহ ক্যাম্পাসে চলমান প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন বিভিন্ন কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় প্রকল্পের অগ্রগতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন প্রকল্পের সদস্য-সচিব প্রধান প্রকৌশলী (ভার:) মোঃ আলিমুজ্জামান টুটুল। কমিটির সদস্যরা কাজের গুণগতমান এবং অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য ৭০ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকার এ প্রকল্পের কাজ ২০১৫ সালের জুন মাসে শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হতে পারে বলে আশা করা যায়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মালদ্বীপে ৮০ বাংলাদেশি শ্রমিক আটক

ঢাকা অফিস ॥ মালদ্বীপে ৮০জন অবৈধ অভিবাসী শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে, চলতি বছরে চালানো প্রথম অভিযানে গত ৬ ফেব্র“য়ারি (বুধবার) তাদের আটক করা হয়। গতকাল শুক্রবার বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে। দেশটির পুলিশের মুখপাত্র হাসান খলিলের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, আটকদের কাছে কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তবে তারা বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের হুলহুমালের একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক রাখা হয়েছে। জানুয়ারিতে দেশটির অভিবাসন মহানিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আহমেদ হোসাইন বলেন, মালদ্বীপে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৭ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ হাজারেরই কোনো কাগজপত্র নেই।

৫ বছরের মধ্যে বাংলাবান্ধা-শিলিগুড়ি রেল যোগাযোগ চালু হবে – রেলমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, শিগগিরই পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা এবং আগামি ৫ বছরের মধ্যে বাংলাবান্ধা থেকে ভারতের শিলিগুড়ি পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু করা হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজে আয়োজিত এক সংর্বধনা ও পিঠা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রেলমন্ত্রী বলেন, দেশের রেলপথ উন্নয়নে সরকারের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারিত হবে। তিনি বলেন, পিঠা উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির একটি অনুসঙ্গ। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংস্কৃতির এই চর্চা লালন করতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অপসংস্কৃতি যাতে সমাজে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেই মানসিকতা আমাদের গড়ে তুলতে হবে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. দেলওয়ার হোসেন প্রধানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি মজিদ আলী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহেতেশাম রেজা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বক্তব্য রাখেন।

আজ আড়াই কোটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

ঢাকা অফিস ॥ দেশের প্রায় আড়াই কোটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে আজ শনিবার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রে এবং ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র থেকে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো খাবে। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে ভিটামিন ‘এ’ প¬াস ক্যাম্পেইন উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, এবার দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের খাওয়ানো হবে। যে ভিটামিন খাওয়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কোনো প্রকার গুজবে কান না দিয়ে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গত ১৯ জানুয়ারি ছিল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের নির্ধারিত দিন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমদানিকৃত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পেইন স্থগিত করে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ২৫ লাখ ৪৭ হাজার শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ ২০ হাজার কেন্দ্রে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, ব্রীজের টোল প¬াজা, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু ব্রীজ, দাউদকান্দি ও মেঘনা ব্রীজ, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, খেয়াঘাট ইত্যাদি স্থানে অবস্থান করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ২ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ক্যাম্পেইন দিবসেই ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে। তবে দুর্গম এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ১২ টি জেলার ৪৬টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়নে ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন (১০ থেকে ১৩ ফেব্র“য়ারি) বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করে বাদ পড়া শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।