বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার কানবার হোসেইন-বোর এর সাথে বৈঠককালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের উন্নয়নের একান্ত সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের যুগান্তকারী প্রসার, দেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন। যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার কানবার হোসেইন-বোর সরকারের উন্নয়ন কাজের প্রশংসা করেন এবং প্রণীত সকল আইন ও বিধি জনকল্যাণে প্রয়োগ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক এজাজুর রহমান ও তথ্যমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

কোটা পূর্ণবহালের দাবীতে মিরপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

আমলা অফিস ॥ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ৩০ শতাংশ কোটা পূর্ণবহালের দাবিতে কুষ্টিয়ার মিরপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ঈগল চত্ত্বরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে একটি বিক্ষোভ র‌্যালি বের করে ঈগল চত্ত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে তারা। এসময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মতিন লোটাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফতাব উদ্দিন, নজরুল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন, এনামূল হক বিশ্বাস, মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মহাম্মদ আলী, আশকর আলী, রাহাত আলী, লুৎফর রহমান, কুতুব উদ্দিন, সন্তান কমান্ডের সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট আল মুজাহিদ মিঠু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা আসাদুল হক, সুরুজ আহম্মেদ, বাবলু, জামসেদ আলী, শফিকুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, সাইফুজ্জামান হীরা প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের ৩০ শতাংশ কোটা পূর্ণবহালের রাখতে হবে । বঙ্গবন্ধু আমাদের ৩০ শতাংশ কোটা পুরস্কার হিসেবে দিয়েছেন। সেই কোটা বাতিল করে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। অবিলম্বে কোটা পুনর্বহাল করার দাবি জানাচ্ছি। এটা আমাদের অধিকার। দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা চক্রান্ত করে আন্দোলন করে কোটা বন্ধ করেছে। আমরা কেন্দ্রের নির্দেশে রাজপথে নামবো। আমাদের অধিকার আমরা অর্জন করবো। বক্তারা অবিলম্বে কোটা পদ্ধতি বহাল করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশে উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন শীর্ষক পথসভা ও মতবিনিময়কালে ড. মোফাজ্জেল হক

দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম আওয়ামীলীগ সরকার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া দৌলতপুরের কিশোরীনগর, তেলিগাংদি, ভেড়ামারা ও চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন শীর্ষক পথসভা ও মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ খুলনা বিভাগীয় শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. মোফাজ্জেল হক। ৯ অক্টোবর মঙ্গলবার ড. মোফাজ্জেল হক দৌলতপুরের কিশোরীনগর, তেলিগাংদি, ভেরামারা ও চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন শীর্ষক পথসভা ও মতবিনিময় এবং সাধারণ জনগণের মাঝে “যে কারণে দরকার শেখ হাসিনার সরকার” শিরোনামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরে, সকলকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ওই সময়ে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারা। পরে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করার পাশাপাশি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারো জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ধরে রাখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। ৯ বছর একটানা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করে বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম আওয়ামী লীগ সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের  দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ  থেকে ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। দেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শুন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে গড়ে তোলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। দেশে ১৩ কোটি  মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডওয়াইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক আরো বলেন, বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সকল ধরনের সরকারি ফরমস, জমির পর্চা, পাবলিক পরীক্ষার ফল, পাসপোর্ট-ভিসা সম্পর্কিত তথ্য, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনগত ও চাকুরির তথ্য, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিল প্রদানের সুবিধা জনগণ পাচ্ছেন। ঘরে বসে আউটসোর্সিং-এর কাজ করে অনেক তরুণ-তরুণী স্বাবলম্বী হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭  কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপি’র আকার ছিল ১৯ হাজার  কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপি’র আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক চার-আট বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক চার-চার বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়। ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে  রেমিটেন্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির অর্জিত হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক আরো বলেন, ১৯৯১-৯৬ সময়ে বিএনপি আমলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ শতাংশ। ২০০১-এ আওয়ামী লীগ যখন দায়িত্ব ছাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি’র সময় মূল্যস্ফীতি আবার ৭ দশমিক এক-ছয় শতাংশে পৌঁছে। ২০০৮-০৯ বছরে মূল্যষ্ফীতি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মুল্যস্ফীতি ৫ দশমিক আট-চার শতাংশে নেমে আসে। বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সাথে ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম স্থাপন করা হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। স্বাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য   কেন্দ্র স্থাপন করে সরকার। এ সময়ে ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক আরো বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে সরকার। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হয়। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ, কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ  প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। গ্রিডবিহীন এলাকায় ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কাজ শুরু হয়েছে। গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এলএনজি আমদানি শুরু হচ্ছে। রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। দেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে সরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার-লেনে উন্নয়নের কাজ। সারাদেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন। প্রাইমারি থেকে মাস্টারস ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর ইউপি সদস্য এনাম মেম্বার, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাকির মেম্বার, সেলিম হোসেন প্রমুখ।

দৌলতপুরে দরিদ্র পরিবারদের নিকট ১০৮ টি ঘর হস্তান্তর

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে যার জমি আছে তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মান প্রকল্পে’ নির্মিত দরিদ্র পরিবারদের নিকট ১০৮টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত দরিদ্র অসহায় ব্যক্তিদের হাতে নির্মিত এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর ও ঘর বুঝে দেওয়া হয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার-এর সভাপতিত্বে ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম ও দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান। এর আগে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার উপজেলার কল্যানপুর এলাকায় নির্মিত ঘর পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানিকভাবে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে একটি শাড়ী, লুঙি ও একটি কম্বল দেওয়া হয়। দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দরিদ্র ব্যক্তিদের ১০৮টি ঘর সরকারী অর্থায়নে নির্মান করে দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা আজ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি। আজ বুধবার পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে খালেদা জিয়ার ফিজিওথেরাপি শুরু হওয়ার কথা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন। পরিচালক জানান, বিএসএমএমইউতেই খালেদা জিয়াকে সব ধরনের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। আর উনার যে রোগ (আর্থ্রাইটিস), সেই রোগের চিকিৎসার জন্য এখানে আলাদা একটা ডিপার্টমেন্টই আছে। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বোর্ড এখনো তাকে দেখার সুযোগ পায়নি। তবে বোর্ডের একাধিক সদস্য পৃথকভাবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। বুধবার বিকাল ৪টায় পূর্ণাঙ্গ বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারে। বিএসএমএমইউ পরিচালক বলেন, ইতিমধ্যে তার (খালেদা জিয়া) শারীরিক পরিস্থিতির ইতিহাস সংগ্রহ করেছি আমরা। মঙ্গলবার বিকাল বা সন্ধ্যায় তার ফিজিওথেরাপি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে সোমবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ৪ সদস্য সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া গেঁটে বাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তার ডায়াবেটিসসহ বেশকিছু রোগ অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে এনে তার মূল চিকিৎসা শুরু হবে। তাই বিএসএমএমইউয়ে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা কতদিন চলবে, তা নির্দিষ্ট করে এখনই বলতে পারছে না মেডিকেল বোর্ড। উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এর পর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পাঁচ মাসের মাথায় ১২ জুলাই আপিলের শুনানি শুরু হয়। এদিকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করার নির্দেশনাসহ তার চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি রিট করা হয়। ওই আবেদনের ওপরই বৃহস্পতিবার আদালত চিকিৎসার আদেশ দেন। এর মধ্যে আবার গত ১৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। পর দিন ১৬ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন কারাপ্রধানের কাছে জমা দেয়া হয়। যেখানে স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়ার জন্য মত দেয় মেডিকেল বোর্ড। তবে যে হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে, সে হাসপাতালের কথা সুপারিশ করা হয়। সে বিবেচনায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কথাই উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনানুযায়ী, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়েছিল। সেই সময় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে ফের জেলখানায় পাঠানো হয়। ওই ঘটনার ছয় মাস পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে শনিবার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক বলেন, খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি কেবিন ব্লকের ছয়তলায় অবস্থান করছেন। আমরা হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তার সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে ও কুশলবিনিময় হয়েছে।

দৌলতপুরে মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে মমিন নামে ৫ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মহিষকুন্ডি মাঠাপড়া গ্রামে শিশু মৃত্যুর এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া গ্রামের মামুন আলীর ছেলে মমিন বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। পরে তার মৃতদেহ ভেষে উঠলে এলাকাবাসী তা দেখে উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল মাষ্টার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাড়ির নিটক মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে মামুনের ছেলে মমিন পানিতে ডুবে মারা গেছে।

কুষ্টিয়া সাব রেজিস্ট্রার হত্যাকান্ড

দুই পিয়ন ফারুক হোসেন ও রাব্বি আটক

সিসি টিভির ফুটেজ নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নুর মোহাম্মদকে কারা কি কারনে হত্যা করেছে তা এখনো পরিস্কার হতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যাকান্ডের সাথে কয়েকজন যুবক জড়িত বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। এ যুবকদের সাথে কোন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ ছিল না-কি তারা ভাড়াটে খুনি এটি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনার সময়কার একটি সিসি টিভির ফুটেজ এখন পুলিশের হাতে। সেই ফুটেজে তিন যুবক হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। বাড়ির মালিকের ছেলেও তিন যুবককে সিড়ি দিয়ে নেমে যেতে দেখেছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে পুলিশ কিছুই বলতে চাচ্ছে না।

সাব-রেজিস্ট্রার নুর মোহাম্মদ খুনের ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার নিহতের ছোট ভাই কামরুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে হত্যা মামলা করেছেন।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যখন হত্যাকান্ড ঘটেছে তখন রাত ১০টা বাজে। এ সময় এলাকার অনেকেই বাইরে ছিলেন। বাড়ির মালিকের ছেলে তিন যুবককে দেখেছেন। আশেপাশের অনেকেই খুনিদের বের হতে দেখেছেন। তাদের কথাবার্তা ও চেহারার ধরন দেখে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। খুব দ্রুত খুনিদের পরিচয় জানা যাবে।’

কুষ্টিয়া রেজিষ্ট্রি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে কথা হলে জানান,‘ সদর সাব রেজিস্ট্রার নুর মোহাম্মদ শহরের বাবর আলী গেট এলাকায় বিসি স্ট্রিট সড়কের হানিফ আলীর চারতলা বাড়ির তিন তলার একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন। ফ্লাটে তিনি একাই থাকতেন। তার পরিবার ঢাকায় বসবাস করে। বাসায় অফিসের এক পিয়ন নিয়মিত রাতের খাবার দিয়ে আসতো। হত্যাকান্ডের দিনও রাতের খাবার দিয়ে আসে পিয়ন। হত্যাকান্ডের পর পরই দুই পিয়ন ফারুক হোসেন ও রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক জানান,‘ স্যার (নুর মোহাম্মদ) এমনিতেই মিশুক ছিলেন। সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। তার বাড়িতো এই জেলায় নয়, তাই তেমন কোন শক্র থাকারও কথা নয়। তবে শহরের একটি জমি কেনাবেচা নিয়ে হয়তো কারো সাথে তার ঝামেলা হতে পারে। শহরের জেলখানা মোড়ের এরশাদনগরে অবস্থিত সেই সম্পত্তির দাম কয়েক কোটি টাকারও বেশি। পুলিশ এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানান তারা।

ওই সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার শহরের এরশাদনগর এলাকাস্থ আন্ত:জেলা ট্রাক চোরচক্রের মূল হোতা ও মাদারীপুর জেলা কারাগারে বন্দী মনির হোসেনের বাড়ি কেনা-বেচায় কমিশন দলিল করতে সাব রেজিষ্ট্রার নুর মোহাম্মদ শাহ সোমবার সকালে মাদারিপুর কারাগারে গিয়েছিলেন। কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়াস্থ নিজ কার্যালয়ে ফিরে আসেন। ধারণা করা হচ্ছে ঐ বাড়িটি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে কোন পক্ষগণের বিরোধ থেকে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। ওই সম্পদ কেনাবেচা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিতরে ভিতরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলা সাব- রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদকে হাত-পা-মুখ বেঁধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বাড়িওয়ালা হানিফ আলীর ছেলে আল মাহমুদ বলেন, রাত ১০টার দিকে একটা শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। বাসায় চোর ঢুকেছে মনে করে তিনি চারতলা ভবনের ছাদে গিয়ে খুঁজতে থাকেন। এ সময় তিনতলার ডান দিকের নূর  মোহাম্মদের ফ্ল্যাটে উচ্চ শব্দে টেলিভিশন চলছিল। ওই ফ্ল্যাটের দরজার নিচের মেঝের ফাঁকা জায়গা পাপোশ দিয়ে আটকানো  দেখেন। সাড়া না পেয়ে কয়েক মিনিট পর তিনি নিচতলায় পানির পাম্পের সুইচ বন্ধ করতে যান।

তিনি আরো বলেন, রাত ১০টার দিকে সিঁড়ি বেয়ে তিনজন যুবককে নামতে দেখেন। তাঁদের মধ্যে একজনের হাতে একটি লম্বা ছুরি ছিল। তাঁরা কারা, কার কাছে এসেছেন, তা জানতে চাইলে এক যুবক বলেন, তাঁরা রেজিস্ট্রার সাহেবের কাছে গিয়েছিলেন। এরপর দ্রুত কলাপসিবল গেট খুলে বাইরে চলে যায় তারা।

ফুটেজ দেখা গেছে এক যুবক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়িতে প্রবেশ করে। তার সাথে আরও দুইজন ছিল। প্রায় এক ঘন্টা পর তিন যুবক এক সাথে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় তারা একটি ব্যাগ ও ছুরি ফেলে যায়। কালো ব্যাগের ভেতরে একটা খেলনা পিস্তল পাওয়া গেছে।

হত্যাকান্ডের পরে কয়েকজন বাড়ির ভিতর গিয়ে দেখেন, রান্নাঘরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় সাব রেজিস্ট্রার নূর মোহাম্মদকে পড়ে থাকতে দেখেন। বাড়ির অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সহায়তায় তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া  জেনারেল হাসপাতালে নেয়। তার মাথায় ও শরীরের দুই স্থানে জখম ছিল। ধারালো ছুরি দিয়ে টান দিয়ে কেটে দেয়া হয় এসব স্থানে। রাত ১১টার দিকে পুলিশ কয়েকজনের সহায়তায় নূর  মোহাম্মদকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।

গতকাল মঙ্গলবার নুর মোহাম্মদের ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক। এ সময় নুর মোহাম্মদের মাথার পিছনে ও হাতে কাটার দাগ দেখতে পায় তারা। হত্যার উদ্দেশ্যেই তার ওপর হামলা করা হয়। তিনি ঠেকানোরও চেষ্টা করেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘নিহত নুর মোহাম্মদের মাথায় ও শরীরের গভীর ক্ষত রয়েছে। ধারালো কোন বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণও হয়েছে।

যে বাড়িতে হত্যাকান্ড ঘটেছে তার পাশেই পুপলার প্রিন্টিং প্রেসের অবস্থান। প্রতিষ্ঠাটিতে একাধিক সিসি ক্যামেরা আছে। রাতেই  গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে, তাদের চিহিৃত করা কাজ শুরু করে। হত্যায় অংশ নেয়া যুবকরা পেশাদার খুনি বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ এদের মধ্যে কয়েকজনকে চিহিৃত করেছেও বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এদিকে ওই প্রিন্টিং প্রেস থেকে কম্পিউটার ও হার্ডডিস্ক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মালিকপক্ষ এ নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছে না।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন,‘হত্যাকান্ডের পর পরই তারা ঘটনাস্থলে যান। কিছু আলামত  পেয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে কয়েকজন যুবক হত্যায় অংশ নিয়েছেন। বিষয়টি তারা গভীরভাবে তদন্ত করছেন। এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলার সময় আসেনি। সময় আসলে সব জানানো হবে।’

এদিকে হত্যাকান্ডের পর গতকাল দুপুরে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি কেএএন নাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি পুলিশ সদস্যের নিয়ে জরুরী মিটিং করেন। দ্রুত হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার ও দোষীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

এদিকে নিহত সাব রেজিস্ট্রার নুর মোহম্মদ শাহের লাশের ময়না তদন্ত শেষে অফিসের সহকর্মীদের হাতে লাশ হস্তান্তর করেন পুলিশ। এরপর বেলা ২টার দিকে নিহতের নিজ কার্যালয় জেলা রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে গোসল, কাফন ও জানাযা শেষে মরদেহ গ্রহনকালে উপস্থিত ছিলেন- ছেলে সিফাত ইবনে নূর এবং নিহতের ছোটভাই কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলার পাড়ামওলা গ্রামের আলহাজ¦ মজিবুর রহমান শাহর ছেলে মহসিন আলী শাহ। লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন,‘ মামলাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন তারা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য তাদের হাতে এসেছে। এছাড়া সিসি টিভির ফুটেজও তারা পেয়েছেন। বেশ কয়েকটি দিক মাথায় রেখে তারা এগুচ্ছেন। অচিরেই হত্যার সাথে জড়িতরা আইনের আওতায় আসবে।’

বিকেল ৪টায় সংশ্লিষ্টদের উপস্থিত থাকার আহবান

আজ কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের সভা

জাতীয় শ্রমিকলীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে, আজ ১০ অক্টোবর বিকেল ৪ টায় কুষ্টিয়া শহরের বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটস্থ জেলা শ্রমিকলীগের কার্যালয়ে, জাতীয় শ্রমিকলীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখার কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করা হয়েছে। সভায় সকল ইউনিট, ব্যাসিক সংগঠনসহ সকলকে উপস্থিত থেকে, আগামী ১৩ অক্টোবর জাতীয় শ্রমিকলীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথযথ মর্যাদার সাথে পালন করার জন্য, জাতীয় শ্রমিকলীগ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী খান সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে আহবান জানিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

২১ আগস্ট মামলার রায়ের আগে আ. লীগ নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা

ঢাকা অফিস ॥ একুশে আগস্টের মামলার রায়ের আগে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, “আগামীকাল সবাই সতর্ক থাকবেন, কোনো অবস্থাতেই উত্তেজিত হওয়া যাবে না।” গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার শ্যামপুরে দলের নির্বাচনী প্রচারপত্র বিলির সময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেন কাদের। তিনি “আমরা দেখি তারা (বিএনপি) কী করে। কিছু করতে গেলে সময়মতো সবই করতে হবে।” ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় বুধবার রায় দেবে ঢাকার আদালত। শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে এবং দলটির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আসামি। এই মামলায় তারেককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করে আসা বিএনপি নেতারা বলেছেন, রায় দেখে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবেন তারা। এই হামলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন, আহত হন কয়েকশ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ন্যায়বিচার চাইছে জানিয়ে কাদের বলেন, “আমরা অতিরিক্ত কিছু চাই না, যে অপরাধী তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করুন, সে যে ই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক। এত রক্ত, এত প্রাণহানি, এর ন্যায়বিচার আমরা চাই।” এই হামলায় বিএনপির কেউ জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “মিথ্যাচারের জন্য যদি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হত, তাহলে এই কথার জন্য ফখরুল সাহেবকে নোবেল দেওয়া উচিত। এই রকম ডাঁহা মিথ্যাচার বিএনপির মহাসচিব বলতে পারে? মনে আছে ফখরুল সাহেব, সংসদে বিরোধী দলের নেতা তখন কথা বলতে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু মাইক্রোফোন সেদিন খুলল না। বেগম জিয়া কী বলেছিলেন সেদিন, মনে আছে? বলেছিলেন- ‘ওনাকে আবার কে মারতে আসবে, ওনি তো ভ্যানেটি ব্যাগে গ্রেনেড নিয়ে আসছিলেন’। আমাদের নেত্রী উত্তর দিয়েছিলেন- ‘আমি কি তাহলে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম’। কী নিষ্ঠুর কী নির্মম এই দল!” নির্বাচনের আগে বিএনপি আন্দোলনে নামলে গণপিটুনি খাবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “এই সময় আন্দোলনের ডাক দিয়ে জনগণের কাছে গেলে গণপিটুনি খায় কি না, আমার সন্দেহ। মানুষ এখন নির্বাচনের মুডে। ককটেল, নাশকতা, আগুন সন্ত্রাস যদি তারা করতে যায়, জনগণ প্রতিরোধ গড়বে।” আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, “মাথা গরম করবেন না, কোনো উস্কানিতে পা দেবেন না। আক্রমণ করবেন না, আক্রান্ত হলে দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।” এই গণসংযোগে কাদেরের সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

সবাই জানে মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। সবাই জানে এর মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে হাওয়া ভবন- তারেক রহমান। এখন সত্যকে আড়াল করে লাভ নেই। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আল রিয়াদ এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী পরিবহনের যাত্রা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, তার পরও আমরা এ ব্যাপারে রায়ের আগে কোনো কমেন্ট করতে চাই না। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। এ সময় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায় কেন্দ্র করে বিএনপি নাশকতার চেষ্টা করলে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগ সম্পাদক। এ রায় নিয়ে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা বা কোনো প্রতিক্রিয়া থাকবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ন্যায়বিচার চাই। ন্যায়বিচার ছাড়া আমাদের আর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তবে এটিকে নিয়ে বিএনপি কোনো সহিংস নাশকতা করতে চাইলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর অবস্থানে আছে।

২১ অগাস্টের ‘সুবিধাভোগী’ আ.লীগ – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২১ আগাস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত ছিলেন না দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগই ওই ঘটনার ‘সুবিধাভোগী’। চৌদ্দ বছর আগের আলোচিত ওই মামলার রায়ের আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব ফখরুল এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “দেখেন এই মামলার রায় নিয়ে বহু ঘটনা ঘটেছে, বহু কথা বলা হচ্ছে। প্রকৃত সত্যটা কেউ উদঘাটন করতে চাইছে না। আমি হলফ করে বলতে পারি, জনাব তারেক রহমান, আমাদের আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপির কোনো লোক জড়িত ছিল না।” ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলার বিচার শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১০ অক্টোবর দিন রেখেছে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ মোট ৪৯ জন এ মামলার আসামি। আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে আসছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলকে নেতৃত্বশূন্য করতেই এই হামলা হয়েছিল এবং তাতে প্রত্যক্ষ মদদ ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতাদের। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা দাবি করে আসছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেককে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, “যে কোনো হত্যাকান্ডের একটা মোটিভ থাকবে। এই মোটিভে বেনিফিশারি কে হয়েছে? আওয়ামী লীগ হয়েছে। আওয়ামী লীগ এটাকে ইস্যু করে বিএনপিকে ধ্বংস করছে, বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে, বিএনপির বিরুদ্ধে নিয়ে যাচ্ছে।” ২১ আগস্ট মামলার ‘সুষ্ঠু’ তদন্ত হয়নি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “মামলার সঠিক তদন্ত যদি করা হত, সঠিকভাবে যদি দোষী ব্যক্তিদের বের করা যেত তাহলে আসল সত্য বেরিয়ে আসত।” এ মামলার তদন্তভার সিআইডির অতিরিক্ত উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আব্দুল কাহার আকন্দের ওপর ন্যস্ত করার পর মামলাটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন তিনি। পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সূত্র ধরে ফখরুল বলেন, “তিনিও বলেছেন, বাংলাদেশে এখন আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। সবচেয়ে ভয়াবহভাবে আক্রান্ত হয়েছে লোয়ার জুডিশিয়ারি। কারণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে এটি রয়েছে।“ তার ভাষায়, জনগণকে বাদ দিয়ে এখন সরকার নির্ভর করছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর। ফখরুল বলেন, “আজকের পত্রিকায় আছে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পেনশন বাড়িয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনার এখন আর জনগণের প্রয়োজন নেই। আমলা-পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী-বন্দুক পিস্তলধারী লোকজন, সরকারি লোকজন হলে তার চলে যায়।” দেশ এখন গভীর সঙ্কটে পড়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন মুখ বুঝে পড়ে না থেকে প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিবাদের ভাষাটা নিয়ে রাজপথে আসতে হবে- এর কোনো বিকল্প নাই। কেউ আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যাবে না, কেউ এই সরকারকে সরিয়ে দেবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জনগণ সরিয়ে দিচ্ছে।” এজন্য জনগণকে সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “কোনো নির্দিষ্ট দল নয়, ব্যক্তি নয়, সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সরাতে হবে। আন্দোলন বলুন, নির্বাচন বলুন, মানুষের অধিকার বলুন- সব কিছু জনগণের শক্তির মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করতে পারি।” শহীদ জেহাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নাজির উদ্দিন জেহাদ। সংগঠনের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও নাজিম উদ্দিন আলমের পরিচালনায় এ আলোচনা সভায় সাবেক ছাত্র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, খোন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান বক্তব্য দেন।

টার্গেট ছিল শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস ॥ এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের হাজারও গল্প শুনছে বিশ্ব। স্বপ্নময় মানুষের হাতে হাত রেখে চলা এক বিস্ময়ের নাম ‘বাংলাদেশ’। অথচ আজকের উন্নয়ন সড়কের খানিক পেছনে হাঁটলেই এক ‘রক্তাক্ত বাংলাদেশ’-এর প্রতিচ্ছবির দেখা মেলে। একটি নেতৃত্বকে নিকেশ করে দেয়ার  প্রতিচ্ছবি। একজন শেখ হাসিনাকে চিরতরে শেষ করার ভয়ংকর নকশা। ভয়াল  গ্রেনেডের থাবা। মুহুর্মুহু গুলি। রাষ্ট্রীয় সংস্থার আয়োজন! নির্মম ওই হামলার টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। যেন জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ কন্যাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে ইতিহাস পাল্টে দেয়ার এক ভয়ঙ্কর নীলনকশা। কিন্তু যিনি নীলকণ্ঠী, তাকে বিষপান করিয়ে খতম করার সাধ্য কার? যিনি বাঁচলে নয়া বাংলাদেশের রূপায়ন ঘটবে, তার তো বেঁচে থাকাই আবশ্যক। বেঁচে আছেন বঙ্গবন্ধু তনায়, বেঁচে আছে বাংলাদেশ। বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভিশপ্ত মাসের নাম ‘আগস্ট’। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট তেমনই এক অভিশপ্ত দিন। সেদিন ছিল শনিবার। বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরেুদ্ধে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরের পর থেকেই সমাবেশস্থলে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হতে থাকে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী একটি মিছিল হওয়ার কথা। মিছিল-পূর্ব সমাবেশের জন্য মঞ্চ করা হয় ট্রাকের ওপর। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৫টা বেজে ২২ মিনিট। কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা বক্তব্য দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী ঝাঁঝালো বক্তব্যে গোটা সমাবেশ তখন উদ্দীপ্ত। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তব্যের ইতি টেনেছেন। হাতে একটি কাগজ ভাজ করতে করতে মঞ্চের সিঁড়ির কাছে এগিয়ে আসছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। নিচে মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান হাত বাড়িয়ে শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষারত।

ঘাতকদের যেন আর তর সইল না। ঠিক তখনই বিকট শব্দ। মুহুর্মুহু  গ্রেনেড বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। মুহূর্তেই রক্তগঙ্গা বয়ে গেল পিচঢালা কালোপথ। আওয়ামী লীগ কার্যালয় চত্বর যেন এক মৃত্যুপুরী। রক্ত-মাংসের স্তূপে ঢেকে যায় সমাবেশস্থল। পরপর ১৩টি  গ্রেনেড বিস্ফোরণে প্রাণ হারায় আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী। আহত হন শত শত মানুষ। ওই হামলার প্রধান টার্গেট ছিল শেখ হাসিনা। এ কারণে প্রথম  গ্রেনেডটি মঞ্চ অর্থাৎ ট্রাকটি লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু ট্রাকের ডালায় লেগে  গ্রেনেডটি নিচে বিস্ফোরিত হয়। দেহরক্ষী এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের ত্যাগের বিনিময়ে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। এদিকে ১৩টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করেই ঘাতকরা ক্ষান্ত হয়নি। জীবিত আছেন জেনে তারা শেখ হাসিনা এবং তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। কিন্তু শেখ হাসিনার গাড়িটি বুলেটপ্র“ফ হওয়ায় এ বেলায়ও প্রাণে রক্ষা পান। ঘাতকের গুলি গ্লাস ভেদ করে শেখ হাসিনাকে আঘাত করতে পারেনি। তবে শেখ হাসিনাকে আড়াল করে ঘাতকের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দেন তার দেহরক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রহমান। বর্বর ওই হামলায় প্রাণে বেঁচে গেলেও শেখ হাসিনা বাম কানে মারাত্মক আঘাত পান। আঘাতপ্রাপ্ত কানের শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন।

শেখ হাসিনাকে হত্যার মূল পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও ওইদিনের বীভৎসতা এক কালো অধ্যায়ের জন্ম দেয়। ঘাতকের প্রথম নিক্ষেপ করা  গ্রেনেডটি  ট্রাকের ওপর বিস্ফোরিত হলে ওইদিন হয়তো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই প্রাণে রক্ষা পেতেন না। রচিত হতো আরেক ১৫ আগস্ট। বিস্ফোরিত ১৩টি  গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বহু মানুষ। অনেকের হাত-পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিহতদের নিথর শরীর আর আহতদের বেঁচে থাকার করুণ আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আকাশ-বাতাস।

গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক ৮ আসামির হদিস জানে পুলিশ

ঢাকা অফিস ॥ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তদানীন্তন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক ১৮ আসামির মধ্যে ৮ জনের অবস্থান জানতে পেরেছে পুলিশ। আগামীকাল বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (এডিডিআই ডিআইজি) এবং ২১ আগস্ট  গ্রেনেড হামলা মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আবদুল কাহহার আকন্দ বলেন, ‘আমরা ইন্টারপোল ও বিদেশে আমাদের মিশনগুলোর সহায়তায় ইতোমধ্যে ৮ পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করেছি এবং অপর ১০ পলাতক আসামির অবস্থান জানার চেষ্টা করছি।’ সিআইডি ও পুলিশ সদর দফতরের সূত্র অনুযায়ী, মাওলানা তাজউদ্দিন ও তার ভাই রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে, সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবে, সাবেক মেজর জেনারেল এটিএম আমিন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার দুবাইতে, দু’ভাই- হরকাতুল জিহাদ নেতা মহিবুল মত্তাকিন ও আনিসুল মোরছালিন রয়েছে ভারতের তিহার জেলে। সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক বিশেষ সহকারী আবদুল হারিস চৌধুরী মালয়েশিয়ায়, লন্ডন, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে যাতায়াতের মধ্যে রয়েছে। তবে তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার খান সায়ীদ হাসান ও ওবায়দুর রহমান খান, হুজি নেতা মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বাদল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মো. ইকবাল, মুফতি শফিউর রহমান (ভৈরব) ও মুফতি আবদুল হাই এবং হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফের অবস্থান এখনও শনাক্ত করা যায়নি। এই মামলার চার্জশিট দাখিলের পরপরই খান সায়ীদ হাসান ওবায়দুর রহমান খানকে জরুরি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া মাওলানা তাজউদ্দিনকে ২০১৫ সালের ৫ ফেব্র“য়ারি, তারেক রহমানকে একই বছরের ১৩ এপ্রিল, হারিস চৌধুরীকে ৩১ নভেম্বর এবং রাতুল বাবুকে ২০১৭ সালের ১৩  ফেব্র“ারি জরুরি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ইন্টারপোলের জরুরি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ মাওলানা তাজউদ্দিনকে  গ্রেফতার করলেও পরে সে জামিনে মুক্তি পায়। কিন্তু তিনি এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অনুপ্রেবেশের মামলা মোকাবিলা করছেন। ২১ আগস্ট  গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘আদালত তাদের (১৮ অভিযুক্তকে) পলাতক ঘোষণা করেছেন এবং অপর ৩১ জন জেলে রয়েছে, তাছাড়া তিন জনের ফাঁসি হয়েছে।’ অন্য মামলায় যে তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে তারা হচ্ছে সাবেক মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর  সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি আবদুল হান্নান ও অপর জঙ্গি নেতা শহিদুল আলম বিপুল। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে একুশে আগস্টের ঘটনায় আনা পৃথক মামলায় একই সঙ্গে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিচার শেষ হয়। ২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে ৩ জন আসামির অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ৩ আসামি হলেন  জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও শরীফ সাহেদুল আলম বিপুল। এখন ৪৯ আসামির বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে এখনও ১৮ জন পলাতক। ৩১ জন কারাগারে। বাসস

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ

ঢাকা অফিস ॥ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষিত হচ্ছে আজ বুধবার (১০ অক্টোবর)। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম মামলা, যে মামলার আসামির তালিকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দেশের সাবেক তিন আইজিপি ছাড়াও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। একইসঙ্গে তারেক রহমানকে এ  গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্রের মূল ব্যক্তি বলে মনে করে রাষ্ট্রপক্ষ। তাই তারেক রহমানসহ এ মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ মনে করছে, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে তারেক রহমানসহ যাদের আসামি করা হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। এসব আসামির বিরুদ্ধে আনা কোনও অভিযোগই রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি বলেও মনে করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। হাই  প্রোপাইল এই মামলার রায়কে ঘিরে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এলাকায় নিশ্ছিদ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ মামলাকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে বক্তব্য পাল্টা বক্তব্য। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যেদিন মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়। মামলাটিকে রায়ের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সহযোগিতার জন্য ওইদিন বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন সব পক্ষের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিচারক আরও বলেন, ‘আসামিদের সহযোগিতা ছাড়া তো এ মামলা শেষ করাই যেতো না। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে হয়তো আসামিদের অনেক আবেদন মঞ্জুর করতে পারিনি। তবে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলার সময়ে কখনও কাউকে অধিকার বঞ্চিত করিনি। বিচারিক কার্যক্রমে কোনও ফাঁক রাখিনি। তারপরও সিদ্ধান্ত একটা আমাকে দিতেই হবে।’ এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। আর এ হামলার ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হচ্ছেন তারেক রহমান।’ বিচার কার্যক্রম চলার সময়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই তারা প্রমাণ করতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের আইনজীবী নজরুল ইসলাম বলেন,  ‘এ মামলায় তারেক রহমান ও বাবরকে আসামি করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়ে যাওয়ার পর অধিকতর তদন্তে মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় একটি জবানবন্দির মাধ্যমে তাদের আসামি করা হয়েছে। যা আইনসম্মত হয়নি। এছাড়া তারেক রহমান ও বাবরসহ আসামিদের সাজা দেওয়া যায়, এমন কোনও তথ্য-প্রমান আমরা পাইনি। আমরা ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় থাকলাম। আশা করি, সেই ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবো না।’ বর্বরোচিত ও ভয়াবহ এ গ্রেনেড হামলার তদন্ত নিয়েও ঘটেছে নানা নাটকীয় ঘটনা। সাজানো হয়েছিল জজ মিয়ার নাটক। মামলা দায়েরের পর প্রথমে মতিঝিল থানা পুলিশ ও পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। গোয়েন্দা পুলিশ কিছুদিন মামলাটির তদন্ত চালানোর পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)-এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ পর্যায়ক্রমে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়ে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তদন্ত শুরুর কয়েকদিন পরই নোয়াখালীর সেনবাগের জজ মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে গ্রেনেড হামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেন সিআইডি’র কর্মকর্তারা। কিন্তু ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের পটপরিবর্তনের পর ২১ আগস্ট হামলা মামলারও চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির এএসপি ফজলুল কবিরকে। ২০০৮ সালের ৯ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিএমএম আদালতে দু’টি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন এএসপি ফজলুল কবির। ওই বছরই মামলা দু’টির কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১-এ স্থানাস্তর করা হয়। পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে পিডব্লিউডির একটি পুরনো সরকারি ভবনকে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে ২৯/১১ (হত্যা), ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) নম্বর মামলা দু’টির বিচার কার্যক্রম চলে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় গেলে পুরোপুরি পাল্টে যায় এ মামলার তদন্তের ধারা। ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০০৯ সালের ২৫ জুন আদালতের কাছে এ মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে ওই বছরের ৩ আগস্ট আদালত অধিকতর তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেন। অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দকে। দীর্ঘ তদন্তের পর তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ আরও ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ২ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। অধিকতর তদন্তে  গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পাশাপাশি হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পান তিনি। মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগে সিআইডি’র প্রথম তিন তদন্ত কর্মকর্তাকেও অধিকতর তদন্তে অভিযুক্ত করেন আবদুল কাহার আকন্দ। অভিযোগ গঠনের পর বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ২২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর আসামিদের জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। পরে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষে ১১৯ কার্যদিবস যুক্তিতর্কের মাধ্যমে শুনানি করেন। এতে আসামিপক্ষ ৯০ কার্যদিবস এবং রাষ্ট্রপক্ষ ২৯ কার্যদিবস শুনানি করেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। অধিকতর তদন্তের পর সম্পূরক চার্জশিটে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩০ জন আসামি যুক্ত হওয়ার পর এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জনে। এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলার সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর  গ্রেনেড হামলা মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এ মামলার আসামিদের তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। এ মামলায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯। এসব আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১৮ জন। বাকি ৩১ জন কারাগারে রয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট  গ্রেনেড হামলার পরদিন ২২ আগস্ট দণ্ডবিধির ১২০/বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ২০১, ১১৮, ১১৯, ২১২, ৩৩০, ২১৮, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মতিঝিল থানার এসআই শরীফ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা (নং-৯৭) দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৯ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিএমএম আদালতে দু’টি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির। ওই বছরই মামলা দু’টির কার্যক্রম দ্রুত বিচার আদালত-১-এ স্থানান্তর করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ২৯/১১ (হত্যা) ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) মামলা দু’টির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

গাংনীতে বোমা সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গোপালনগর গ্রাম থেকে ১টি বোমা সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ সদস্যরা। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে গোপালনগর বাজারের একটি পাকুড় (বট) গাছের পাশ থেকে লাল কস্টেপ দিয়ে জড়ানো বস্তুটি উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ। স্থানীয়রা জানান,সকালে বাজারের দোকান খুলতেই  বোমার মতো একটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন দোকানদার। এ সময় পুলিশকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল বস্তুটি পানি ভর্তি বালতিতে করে থানায় নিয়ে যায়।

দৌলতপুরে পৃথক ভ্রাম্যমান আদালতে পিতা-পুত্রসহ ৩ জনের কারাদন্ড : কিশোরীকে সংশোধনাগারে প্রেরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পৃথক ভ্রাম্যমান আদালতে পিতা-পুত্রসহ ৩ জনের কারাদন্ড ও এক কিশোরীকে সংশোধনাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে পৃথক দন্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, উপজেলার পার্শ্ববর্তী হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের বেগুনবাড়িয়া গ্রামের মিনাজুল ইসলামের বাড়িতে তার কিশোর ছেলে রকি’র সাথে বিয়ের দাবিতে কল্যাণপুর গ্রামের আলাউদ্দিন মালিথার কিশোরী মেয়ে অনামিকা আক্তার অবস্থান নেয়। বাল্যবিবাহ হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ গতকাল দুপুরে বেগুনবাড়িয়া গ্রামের মিনাজুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মিনাজুল ইসলাম (৪০) ও তার ছেলে রকি (১৮) এবং বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়া অনামিকা আক্তার (১৫) কে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করে পুলিশ। ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৮ ধারা এবং দন্ড বিধি ১৮৮ ধারা সরকারী আদেশ অমান্য করার অপরাধে ছেলে রকিকে ১মাসের বাবা মিনাজুল ইসলামকে ১৫দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। একই সাথে কিশোরী অনামিকা আক্তারকে কুষ্টিয়া শেখ রাসেল সংশোধনাগারে প্রেরণ করেন। তার বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত সংশোধনাগারে রাখার আদেশ দেওয়া হয় আদালত থেকে। অপরদিকে একই আদালত উপজেলার কাতলামারী গ্রামের রুহুল আমীনের ছেলে বাবুল খন্দকার (৩৮) কে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন ১৯৯০ এর ১৯ (৯) ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন ।

পোড়াদহে ট্রেনে কাটাসহ দুই মহিলার মৃত্যু

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ  রেলওয়ে থানার আওতায় ট্রেনে কাটাসহ দুই মহিলার মৃত্যু হয়েছে। শেফালি খাতুন (৩৫) নামের এক প্রতিবন্ধী মহিলা ট্রেনে কেটে এবং রুমি বেগম (৬০) এর বার্ধক্য জনিত স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ষ্টেশনে। মৃত দুজনেরই লাশ উদ্ধার করেছে পোড়াদহ রেলওয়ে থানা পুলিশ। থানা ও এলাকাবাসী জানা গেছে, গত রবিবার দিনগত রাতে ঈশ্বরদী হতে দর্শনাগামী ট্রেনে ডান হাত ও পা কেটে  পোড়াদহ গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর মেয়ে শেফালি খাতুনের মৃত্যু হয়। সকালে স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পেয়ে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় খবর দেয়। থানার এসআই আবুল হাশেম খন্দকার  সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সকাল ৯টার সময় ঘটনাস্থল গ্রাম  পোড়াদহ রেলব্রিজের পাশে রেল লাইনের উপর থেকে লাশটি উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর উদ্ধৃতি দিয়ে এসআই আবুল হাশেম জানান, মহিলাটি প্রতিবন্ধী ছিল। জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশটি পোড়াদহ রেলওয়ে  গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। যার নং ১৮,তারিখ ৮/১০/২০১৮ ইং। অপরদিকে গতকাল সকাল ৮ টার সময় বার্ধক্যজনিত কারনে পোড়াদহ রেলওয়ে ষ্টেশনের ৪নং প¬াটফর্মের যাত্রী ছাউনীর মধ্যে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে পোড়াদহ ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের কাওছার আলীর স্ত্রী রুমি বেগমের। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে এ মহিলাটির লাশও পোড়াদহ  রেলওয়ে ষ্টেশন গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এব্যাপারে থানায় অপর একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। যার নং ১৯।  পুলিশ জানায়, রুমি বেগম সারাদিন ভিক্ষা করে পোড়াদহ  রেলওয়ে ষ্টেশনে থাকত।

ভেড়ামারায় অবৈধ ইটভাটার মালিককে অর্থদন্ড ও কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার পশ্চিম বাহিরচর ১২ মাইল অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার মালিক ইব্রাহীম খলিল বাবুকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। আইন অমান্য করে যত্রতত্র  বৈধ অনুমতি ছাড়া চিমনি স্থাপন ও কৃষি জমির মাটিতে ইট প্রস্তুতের জন্য স্তপ করে রাখার দায়ে ইটপ্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ মতে চলমান  ভেড়ামারার পশ্চিম বাহিরচর ১২ মাইল ইটভাটার মালিক  ইব্রাহীম খলিল বাবুকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয় ও ভাটার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল মিয়া ও ভেড়ামারা থানার পুলিশ।

জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উতস – রাষ্ট্রপতি

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ সাধারণ জনগণের প্রতি সম্মান দেখাতে এবং তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উৎস। রাষ্ট্রপতি তাঁর নিজ শহর কিশোরগঞ্জে তিনদিনের সফর কর্মসূচির প্রথম দিন গতকাল সোমবার গুরুদয়াল কলেজ মাঠে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি নির্বাচিত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, জনগণকে সম্মান দেখাতে হবে এবং তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতে হবে। আবদুল হামিদ গত ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা শহরে গুরু দয়াল কলেজে এটি তাঁর প্রথম সফর। এ উপলক্ষে জিলা সংবর্ধনা কমিটি কলেজ খেলার মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাষ্ট্রপতি দেশ এবং দেশের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আগামী সাধারন নির্বাচনে ভাল প্রার্থীকে দলের মনোনয়ন দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং সাবেক স্পিকার আবদুল হামিদ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে দেশের রাজনীতিতে গুণগতমান নিশ্চিত করতে আগামী নির্বাচনে প্রকৃত রাজনীতিবিদদের অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি দেশের সাবির্ক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যে দল কাজ করবে, আগামী নির্বাচনে সেই দলকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসে আমি কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারি না। তবে কাজের বিনিময়ে খাদ্যসহ সকল উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি বরাদ্দ যেন কেউ আত্মসাৎ করতে না পারে, এমন লোকদের নির্বাচিত করতে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। আবদুল হামিদ তাঁর ছাত্র জীবনের পর থেকে রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ের উল্লেখ করে বলেন, এই বর্তমান অবস্থায় আসতে তাকে অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি তাঁর অনেক ঘনিষ্ঠজন, বন্ধু ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের হারিয়েছেন। তিনি তাদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি জনগণের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আমার বাকি জীবন দেশের ও জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে চাই। রাষ্ট্রপতি স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবির জবাবে কিশোরগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং সেখানে নির্বিঘœ রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রোকৌশলী রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক এমপি, আফজাল হোসেন এমপি, সোহরাব উদ্দিন এমপি, দিলারা বেগম আসমা এমপি, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজাল, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের পরিচালক রাসেল আহমেদ তুহিন ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহাবুব পারভেজ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। কিশোরগঞ্জ জিলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

মহাডিগবাজ বি. চৌধুরী-ড. কামালরা দন্ডিত খালেদা ও তারেকের পক্ষে মাঠে নেমেছেন – ইনু

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু জাতীয় ঐক্যের উত্থাপিত নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং খালেদা জিয়াসহ সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির দাবির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দশ বছর ধরে নির্দলীয় সরকারের কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো না দিয়ে নির্বাচনের দু’দিন আগে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছাড়া নির্দলীয় সরকারের দাবি তোলা আসলে হাওয়ায় ভাসানো কথা বা আকাশের ঠিকানায় লেখা চিঠির মতো। যা জনগণ বা সরকার কারো কাছেই পৌঁছাবে না।’ ‘নীতি-নৈতিকতার মুখোশ খুলে ফেলে বি.চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন রাজনীতিতে এবার মহাডিগবাজী দিলেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দন্ডিত রেজিস্টার্ড দুর্নীতিবাজ বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেকের পক্ষে তারা মাঠে নেমেছেন।’ হাসানুল হক ইনু গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর ডেমরায় আমুলিয়া মডেল টাউন ময়দানে ঢাকা-৫ আসনে জাসদের নির্বাচনী সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। এ সমাবেশে তথ্যমন্ত্রী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মহানগর (পূর্ব) জাসদের সভাপতি শহীদুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করেন । হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বি. চৌধুরী-ড.কামালরা বিএনপির সাথে মিলে এক মঞ্চে আন্দোলন করার নামে নির্বাচন বানচাল এবং দন্ডিত খালেদা-তারেককে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করার পাঁয়তারা করছে।’ এটি বাংলাদেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতো রক্তাক্ত পথে নিয়ে যাবার চক্রান্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তথ্যমন্ত্রী এ সময় উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের পর দেশকে যদি শান্তি, উন্নয়ন, সুশাসনের ধারায় রাখতে হয়, তাহলে আসন্ন জাতীয় নির্বচনে ‘জঙ্গি-রাজাকারের’ সরকার আসতে দেয়া যাবেনা। তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অপরাজনীতির যে ধারা গড়ে উঠেছিল তার অবসান ঘটাতে ২০১৮ সালের নির্বাচনেই রাজাকার-জঙ্গি ও তাদের লালনকারী খালেদা-বিএনপি-জামায়াতকে রাজনীতি থেকে চিরতরে বাদ দিতে হবে।’ জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম, আব্দুল হাই তালুকদার, নাদের চৌধুরী, নুরুল আখতার ও আফরোজা হক রীনা প্রমুখ বক্তৃতি করেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গেঁটেবাতে ভুগছেন ডায়াবেটিসও অনিয়ন্ত্রিত

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গেঁটেবাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর ডায়াবেটিসসহ বেশ কিছু রোগ অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এরপর তাঁর মূল চিকিৎসা শুরু হবে। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কত দিন চলবে, তা নির্দিষ্ট করে এখনই বলতে পারছে না মেডিকেল বোর্ড। গতকাল সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চারজন সদস্য সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানাতেই এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। গত রোববার দিবাগত রাতে বোর্ডের একজন সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। সৈয়দ আতিকুল হক গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার সমস্যাটা মূলত গেঁটেবাতজনিত। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক আবদুল জলিল চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা বোর্ডের সদস্যরা পড়েছেন। বোর্ড গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলেই তাঁদের ধারণা। গত ৬ অক্টোবর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। শনিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। বিএসএমএমইউয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি কেবিন ব্লকের ছয়তলায় অবস্থান করছেন। আমরা হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে ও কুশলবিনিময় হয়েছে।’  গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মোট পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ইউনাইটেড বা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া রিট করেন। আবেদনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করার নির্দেশনাসহ তাঁর চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত যাবতীয় নথি দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুরান ঢাকায় নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে গত ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পাঁচ মাসের মাথায় ১২ জুলাই আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।