ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ত্রাণ সহায়তা পেল দৌলতপুরের অসহায় মানুষ

নিজ সংবাদ ॥ মরণঘাতি করোনার ছোবলে গোটা বিশ^ বেসামাল। ইউরোপ আমেরিকার লাখো মানুষ আক্রান্ত। মৃত্যুর হারও কম নয়। বৈশি^ক এই বিপর্যয় যে শুধু ইউরোপ আমেরিকাতেই তা নয়, প্রায় সব দেশেই কমবেশি আক্রান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশও এর ছোবল থেকে রেহায় পায়নি। ব্যাপক হারে না হলেও এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন কমপক্ষে ৫জন। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ইঙ্গিত ইতিবাচক নয়। আক্রান্ত এবং প্রাণহানির পরিমান বাড়তে পারে অনেক। এরই লক্ষে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বন্ধ হয়ে গেছে সরকারী অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরুনোর পরামর্শ সরকারের। সরকারের এমন নির্দেশনায় প্রায় অঘোষিত লকডাউনে গোটা দেশ। এর বাইরে নন কুষ্টিয়ার মানুষও। অন্যান্য মানুষের পাশাপাশি কর্মজীবি খেটে খাওয়া মানুষ পর্যন্ত ঘরে উঠে পড়েছে। ঘরে খাবার নেই। ভীষণ খাদ্যকষ্টের মধ্যে পড়তে শুরু করেছেন তারা। সরকারী সহায়তা দেয়া শুরু হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুব একটা বেশি নয়। তবে এরই মধ্যে সরকারের আহ্বানে ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেও এগিয়ে আসছেন অনেকেই। কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান ওয়েস্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদ’র অর্থায়নে দৌলতপুর ইউনিয়নের সহস্রাধিক গরীব অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বশির আহমেদ’র পক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির অন্যতম সদস্য ড.মোফাজ্জেল হক এই সহায়তা প্রদান করেন।  এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-আহব্বায়ক জহুরুল আলম, আশিষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুজ্জামান মজনু, বিশিষ্ট সমাজসেবক ঝন্টুর রহমান রিকাত, জাবেদ আলী, আসলাম হোসেন প্রমুখ। ত্রাণ সহায়তা বিতরণকালে ড. মোফাজ্জেল হক বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনায় আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানুষকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাহস জুগিয়ে চলেছেন। একই সাথে তিনি সামর্থবান মানুষকে পাশে দাঁড়ানো আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান ওয়েস্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং লি:এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদ। তাঁর অর্থায়নে আজ কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুর ইউনিয়নের সহস্রাধিক অসহায় গরীব মানুষ খাদ্য সহায়তা পেল। তিনি জানান এমন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সাথে সামর্থবান মানুষকেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান ড. মোফাজ্জেল হক। করোনায় ভীতু না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধও জানান সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে সকলকে অতিপ্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বেরুনোরও পরামর্শ দেন তিনি।

 

সমন্বয় সভায় সরকারী বরাদ্দের ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত

দৌলতপুরে দরিদ্র অসহায় দিনমজুরদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অসহায় দরিদ্র দিনমজুরদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের পিয়ারপুর গ্রামে এ দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। দরিদ্র, দিনমজুর, ভ্যান-রিক্সা চালক, নরসুন্দর, চায়ের দোকানদার ও ভিক্ষুকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ও পিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লাল্।ু আসাদুজ্জামান লাল্টু নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সৌজন্যে ৩০০ ব্যক্তিকে এ ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। এদিকে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুনের কার্যালয়ে দৌলতপুর সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ, কা, ম. সরওয়ার জাহান বাদশা, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী, ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, সোনালী খাতুন আলেয়াসহ ১৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত দূর্যোগকালীন সময়ের জন্য সরকারী বরাদ্দের ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩ লক্ষ টাকা ত্রান বিতরণের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রতি ইউনিয়নে ৬০ প্যাকেট করে ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, ১কেজি লবণ ও ১টি সাবান থাকবে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। শেষে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারকে সাথে নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দরিদ্র দিনমজুর ব্যক্তির হাতে সরকারী বরাদ্দের ত্রাণের প্যাকেট হাতে তুলে দিয়ে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কুষ্টিয়ায় সর্দি কাশিতে মারা যাওয়া ইজিবাইক চালকের শরীরে করোনা ভাইরাসের কোন আলামত পাওয়া যায়নি

নিজ সংবাদ ॥ সোমবার কুষ্টিয়ার চৌড়হাস শাহাপাড়ায় গ্রামে ইজিবাইক চালক আশরাফুলের সর্দি কাশিতে মৃত্যুর ঘটনায় তার শরীরে করোনা ভাইরাসের আলামত পাওয়া যায়নি বলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন চৌধুরী গতরাতে তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে আশরাফুল আলমের করোনা ভাইরাসের আলামত না থাকায় জেলাবাসীর জন্য আরো একটি সুখবর। এদিকে গতরাতেই লকডাউন করা ১০টি বাড়ির সদস্যদের উপর থেকে লক ডাউন তুলে নেয়া হয়েছে। সেই সাথে কোয়ান্টাইনে থাকা ২ চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ৭ ষ্টাফকে মুক্ত করা হয়েছে। আশরাফুলের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়- গত শুক্রবার তার সর্দি দেখা দেয়। এরপর কাশি ও শ^াসকষ্ট হতে থাকে। সোমবার সকালে শ^াসকষ্ট বেশি হলে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে তারা হাসপাতালে নিয়ে আসে। বাসা থেকে হাসপাতালে নেয়ার পথে দুই থেকে তিনবার রক্ত বমিও করেছে সে। তাদের পরিবারে কোন বিদেশি নেই। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ও শ্যালক জানান, তিনি অনেক আগে থেকে মাদকাসক্ত ছিলেন। তার কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেক আগে থেকেই ছিল। এর আগেও কয়েকবার অসুস্থ হয়েছিলেন তিনি। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে আসার এসব তথ্য গোপন করেন। তারপরেও তার শরীরে করোনাভাইরাস আছে কিনা সেটা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

আমলায় কর্মহীন ও দুস্থ্য মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে কামারুল আরেফিন

অসহায় মানুষের পাশে সমাজের ধনী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলায় করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আমলা ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের সভাতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফিন। আমলা ইউনিয়নের কর্মহীন ও অসহায়-দুস্থ্য মানুষদের মাঝে এ খাদ্য বিতরণের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা। খাদ্য বিতরণকালে বিশেষ অতিথি ছিলেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আজম, আমলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মসলেম উদ্দীন, কাকিলাদহ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আতিকুর রহমান, আমলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই আশরাফ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল রশিদ, ইউপি সদস্য হাসমত আলী, সিদ্দিক আলী, কামাল হোসেন, আব্দুল হান্নান, রমজান আলী, সাইফুল ইসলাম, আমান উল্লাহ, রাকাত আলী, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুমানা খাতুন, নাজিরা খাতুন, রানী খাতুন প্রমুখ। মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন, করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। অসহায় মানুষদের প্রতি সমাজের ধনী ব্যক্তিদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যকেও সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান তিনি। আমলা ইউনিয়নের ৭০টি কর্মহীন ও দুস্থ্য পরিবারের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত এসব অসহায় মানুষদের মাঝে করোনা ভাইরাস এর সংক্রামণ রোধে এবং মানুষের মাঝে সতর্কতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কৌশল শেখান। সেই সাথে আগত অসহায় মানুষদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন। এছাড়া মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস দিনব্যাপি মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা হবে ২৮টি প্রতিষ্ঠানে

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাস (ওকাভিড-১৯) শনাক্তে দেশের ২৮টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম শাখার পরিচালক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকার মধ্যে এখন সাতটি, ঢাকার বাইরে তিনটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। “কোভিড-১৯ পরীক্ষাটি দেশব্যাপী আমরা বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে করতে যাচ্ছি। ৫ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকার ভিতরে আরও তিনটি, ঢাকার বাইরে আরও ৫টি প্রতিষ্ঠানে শুরু হবে এই পরীক্ষা। “২০ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকায় আরও চারটি, ঢাকার বাইরে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা করা হবে। সবমিলিয়ে সারা দেশে ২৮টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হবে।” আইইডিসিআর ছাড়াও ঢাকা শিশু হাসপাতাল, আইপিএইচ ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল,উত্তরার কুয়েত মেত্রী হাসপাতালে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাস নির্ণয়ের পরীক্ষা। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরি ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শুরু হয়েছে এই পরীক্ষাটি। গত সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষা করতে সারাদেশে নতুন ১৭টি ল্যাব স্থাপন করা হবে। তার একদিন বাদেই হাবিবুর রহমান এ সংখ্যাটি আরও বাড়ছে বলে জানালেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০০টি নতুন আইসিইউ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে; যার মধ্যে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের সুবিধাও রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পিসিআর টেস্টের জন্য ইতোমধ্যে ৯২ হাজার টেস্ট কিট সংগ্রহ করেছে। বিভিন্ন পিসিআর সেন্টারে ২০ হাজার কিট বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে এখনও ৭২ হাজার টেস্ট কিট রয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিফিংয়ে হাবিবুর রহমান জানান, তিন লাখ ৩৪ হাজার ২৭০টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের নানা উপসর্গ নিয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের অনেকের পরিবারের অভিযোগ, বারবার যোগাযোগের পরও স্বাস্থ্যকর্মীরা অসুস্থ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করতে যাননি। অনেক হাসপাতাল থেকেও ফিরতে হয়েছে তাদের। এ প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি, জ্বর-হাঁচি-কাশি হলেই হাসপাতালে এসে ভিড় করবেন না। আপনারা আমাদের হটলাইনের ০১৯৪৪৩৩৩২২ অথবা ১০৬৫৫ এ দুটো নম্বরে কল করে জানান। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনে বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে।” দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট চিকিৎসকদের সেবা বন্ধ করে দেওয়ার যে অভিযোগ এসেছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে খবর এসেছে, অধিকাংশ প্রাইভেট চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের সেবা দিচ্ছেন না। প্রয়োজনে আপনারা পিপিই পড়ে হলেও চিকিৎসা সেবা চালু রাখবেন।” তিনি জানান, সারা দেশে এখন ২০ হাজার ৪৯২ জনকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্র বন্দরে দেশের বাইরে থেকে আসা ছয় হাজার ১১৯ জনের স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

চীন বানালো করোনার ‘ওষুধ’, শরীরে ঢুকেই গিলে ফেলবে ভাইরাস

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বলেছেন অনেকেই যে, চীন বানালো করোনার ‘ওষুধ’, শরীরে ঢুকেই গিলে ফেলবে ভাইরাস ! অবশেষে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চীন বানালো বিশেষ ন্যানোম্যাটেরিয়াল। যা শরীরে ঢুকে মুহূর্তের মধ্যেই গিলেখেয়ে  শেষ করে ফেলবে করোনাভাইরাসকে। এমনটাই দাবি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। চীনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমসের এক টুইটে নতুন করে আশার আলো পেয়েছে গোটা বিশ্ব। এতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য হাতিয়ার প্রস্তুত। চীনা গবেষকদের দাবি, এই ওষুধ প্রয়োগ করে ৯৬.৫-৯৯.৯ শতাংশ সাফল্য পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটটিনের খবরে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলার জন্য গবেষকেরা একরকম ন্যানোমেটেরিয়াল বানিয়েছেন যা শরীরে প্রবেশ করে করোনা ভাইরাস শুষে নেয় এবং এরপর তাকে ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। বৈজ্ঞানিকরা একে ভ্যাকসিন বা ওষুধ বলতে রাজি নন। তাদের মতে, এটি একটি জৈব অস্ত্র যাকে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। ন্যানোমেটেরিয়াল হেলথকেয়ার ছাড়াও পেন্টস, ফিল্টার, ইনসুলেশন এবং লুব্রিকেট করার কাজেও ব্যবহার করা হয়। করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে এটা দেহে প্রবেশের পর শরীরের বাকি এনজাইমগুলোর মতোই কাজ করে।  আর এতেই আসে সাফল্য।

দেশের প্রথম করোনা রোগী প্রধানমন্ত্রীকে শোনালেন সুস্থ হওয়ার গল্প

ঢাকা অফিস ॥ ফয়সাল শেখ। পড়াশোনা করেন জার্মানিতে। ছুটিতে দেশে ফিরে শনাক্ত হন তিনি করোনায় আক্রান্ত। ঢাকায় শনাক্ত হওয়া প্রথম করোনাভাইরাস রোগী তিনি। গত ১ মার্চ ঢাকায় ফেরার ১০ দিন পর তার করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়। পরে নিজ উদ্যোগে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) যান ফয়সাল। সেখানে প্রাথমিক টেস্টে তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তিনি এখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ দিকে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজের সুস্থ হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান ফয়সাল। তিনি বলেন, আমি জার্মানিতে পড়াশোনা করি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গত ১ মার্চ আমি দেশে আসি। কিন্তু ১০ দিন পর আমার শরীর খুব খারাপ হওয়ার বিষয়টি অনুভব করি। এবং আমার মাঝে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়। পরে নিজ থেকে আমি আইইডিসিআরে যাই। প্রধানমন্ত্রীকে ফয়সাল বলেন, সত্যি কথা বলতে প্রথম একটু ভয় পেয়েছিলাম যে, এখানে আমি জার্মানির মতো চিকিৎসা পাব কিনা? তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আইইডিসিআরের নির্দেশনা মোতাবেক আমি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে থাকি। আমার পরিবারের সদস্য এবং আমি যাদের সঙ্গে দেখা করেছি, মিশেছি তাদেরও হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরবর্তীকালে কয়েক দফা টেস্ট করার পর করোনাভাইরাস নেগেটিভ আসলে আমি পরিবারের কাছে ফিরে যাই। আমার পরিবারের অন্য কারো সমস্যা হয়নি। আইইডিসিআরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ফয়সাল বলেন, করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ডাক্তার ফার্সি আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। সব সময় খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমি সত্যি খুশি। আইইডিসিআরের চিকিৎসাসেবায় আমি খুশি। এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। আপনার (প্রধানমন্ত্রীর) নির্দেশনায় আমি দেশবাসীকে বলব, ঘরে থাকুন, যতদিন ঘরে থাকতে বলা হয় ঘরে থাকুন। পরে ফয়সালকে প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন- তোমার পরিবারের কারও সমস্যা হয়নি? জবাবে এই তরুণ বলেন, না। কোনো সমস্যা হয়নি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকার সাধারণ ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে 

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার দেশব্যাপী চলমান সাধারণ ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত আরো পাঁচদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগে ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিলাম (৪ এপ্রিল পর্যন্ত) এবং এই ছুটি আরো পাঁচ দিন বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে একথা বলেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন মঙ্গলবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ ছুটি বাড়ানো হচ্ছে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছুটি থাকছে। ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে মঙ্গলবারই প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, এই ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু এতে সবকিছু পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, সীমিত পর্যায়ে তা করা যেতে পারে এবং কিছু লোকের চলাচলের জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, গণপরিবহনের চলাচল সীমিত করতে হবে। সরকার ১৪ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যলোচনা করবে। শেখ হাসিনা বলেন, সবকিছু বন্ধ করে দেয়া যাবে না। অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো চালু রাখতে হবে। তবে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল-কলেজ আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে, প্রধানমন্ত্রী সবধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিল্প-কলকারখানা চালু রাখার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় অনেক জিনিস উৎপাদনের জন্য আমাদেরকে শিল্প-কারখানা চালু রাখতে হবে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছুটি বাড়ানো হতে পারে, কেননা করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে ছুটি ঘোষণার পর পরই অনেকেই তাঁদের গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। কাজেই, এই প্রাণঘাতি ভাইরাসের কোন সংক্রমণ যেন না ঘটে সেজন্য তাঁদের কোয়ারেন্টিন সময়টা গণনা করে ১৪ দিন করার জন্য ছুটি ৯ তারিখ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে কিছু সেক্টরে ছাড় দিতে হবে।’ ছুটি ৯ এপ্রিল বাড়াতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা বাড়ানোর সাথে সাথে আমাদের সীমিত আকারে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার জন্য আমরা চিন্তা-ভাবনা করে বলব, কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘যোগাযোগের (পরিবহন) ক্ষেত্রে শ্রমিক শ্রেণি যারা আছেন তারাও যাতে কষ্ট না পায়, সেজন্য তাদের তালিকা আমি ইতোমধ্যে করতে বলেছি। তাদের যেভাবে সাহায্য করার দরকার, আমরা সেই সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করব।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এভাবে থাকবে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, মানুষের আওতার মধ্যে থাকে। সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে মুনাফা নেয়া আসলে অমানবিক হবে। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখবেন।’ জনসমাগম এড়াতে আসন্ন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম আরো বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমাদের বাংলা নববর্র্ষের উৎসবে এ বছর যাতে জনসমাগম হয়, তেমন কিছু করা উচিত হবে না। অবশ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। তবে, জনসমাগম করে অনুষ্ঠান আয়োজন সারা বাংলাদেশে বন্ধ রাখতে হবে।’ এর আগে গত ২৩ মার্চ করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার সারাদেশে জরুরি সেবা ছাড়া সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ছুটির সময় কোন বিশেষ প্রয়োজন যেমন জরুরি খাদ্য, মেডিকেল সামগ্রী, ওষুধের প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঘরে থাকতে বলা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা জরুরি। আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা ব্যাপক। এরপরও আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে। সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার থাবা রয়ে গেছে। আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। আমাদের আরও সচেতন থাকা দরকার। আমরা আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায় সেজন্য সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করলে নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হবে। জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সকলকে সতর্ক করে বলেন, সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘কোনো রকম দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দুঃসময়ে কেউ সুযোগ নিলে, কোনো অভিযোগ পেলে আমি কিন্তু তাকে ছাড়ব না। বিন্দু পরিমাণ অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছুটি ঘোষণার কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যা হচ্ছে। কৃষক, চা শ্রমিক, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘যারা দৈনন্দিন কাজে যেতে পারছে না। তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সামাজিক কর্তব্য। সেখানে ১০ টাকা কেজি চালসহ নানা সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের কাছে সাহায্য ও খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাইকে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড অনুযায়ী তালিকা করতে হবে। সেই অনুযায়ী সবাই যেন সাহায্য পায়। কেউ যেন বাদ না পড়ে।’ সবার পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহারের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিপিই ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য।’ তিনি বলেন, যাদের প্রয়োজন নাই তাদের পিপিই ব্যবহারের প্রয়োজন নাই। পিপিই সকলের ব্যবহারের জন্য নয়। এটি ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য। পিপিই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সকলে পিপিই ব্যবহার করতে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা যেন ব্যাহত না হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দরিদ্রদের সহযোগিতায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্যও প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান। কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সে সচিবালয় প্রান্ত থেকে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিববৃন্দও সচিবালয় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এবং পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন অন্যান্যের মধ্যে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে উদ্দেশ্য করে সকল জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন-করোনার সঙ্গে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আর কয়েকদিনের মধ্যেই মশার প্রাদুর্ভাবে ডেঙ্গু দেখা দিতে পারে, কাজেই সেটা যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি জনগণকে নিজ বাড়ি এবং তার চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পানি জমে থাকা রোধ করে মশার বংশ বিস্তার রোধ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য সকলকে মশারি খাটিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না, বাইরের কেউ আর ওখানে ঢুকুক। যেহেতু একটা কেস (করোনায় আক্রান্ত রোগী) পাওয়া গেছে। আর যেন সংক্রমিত না হয়, এজন্য সেখানে পর্যটকও যেতে পারবে না। সবই বন্ধ রাখতে হবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে সবকিছু যেন ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়, সেটা দেখতে হবে।’ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়েই আমরা চিন্তিত। কারণ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যদি কোনো কিছু হয়ে যায়, তাহলে খুবই ক্ষতি হবে। এ জন্য বাইরের কোনো লোকের দরকার নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা আছে, তারাই সার্ভিস দেবে। ওখানে তো আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সশস্ত্রবাহিনী, সেনাবাহিনী সকলেই তো আছে। তারা তো কাজ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিজেদের লোক দিয়েই সব করাব। বাইরের লোক যেন এই সময়ের মধ্যে বেশি কেউ না যায়, সেটা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ালে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে যেটা সমস্যা সৃষ্টি করে সেটা হচ্ছে, নানা ধরনের গুজব।’ সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি বলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি, সেই সুযোগটা পাচ্ছি। ভবিষ্যতে হয়তো আরও কথা বলব। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অ্যাপসে নানা ধরনের গুজব অনবরত ছড়ানো হয়ে থাকে। নানা ধরনের কথা অনেকে বলে থাকেন। দেশে নয় দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ বলেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এগুলো বলবেন, যদি কেউ মিথ্যা অপপ্রচার করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গে নিতে হবে। গুজবে কেউ কান দেবেন না।’ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে অল্প একটু জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। কারও এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। ঘরের কোণায় হলেও একটা কিছু ফসাল ফলান। ‘তরি-তরকারি চাষ করেন, হাঁস-মুরগির খামার বা মাছের চাষ করেন, বা ছাগল, গরু, ভেড়া- যাই হোক, যে যা পারেন পালন করেন, ’যোগ করেন তিনি। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপরে কিন্তু আরেকটা ধাক্কা আসবে। সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। সে কারণে বিরাট একটা অর্থনৈতিক মন্দা আসতে পারে। ‘সেই মন্দা মোকাবেলায় চিন্তাভাবনা এখন থেকে আমাদের করতে হবে, পরিকল্পনা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে আমাদের একটা সুবিধা হল আমাদের মাটি অত্যন্ত উর্বর। আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে, ’যোগ করেন তিনি। এ সময় কৃষিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের খাদ্য উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে। এ বিষয়ে সকলকে নজর রাখতে হবে। খাদ্য উৎপাদনের জন্য যা যা উপকরণ দরকার, তা যেন মানুষের কাছে পৌঁছে, এ বিষয়ে আমাদের কৃষির সাথে যারা সম্পৃক্ত আছেন তারা উদ্যোগ নেবেন। তিনি আরো বলেন, আমরা যদি খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে পারব। পাশাপাশি, অন্য দেশের প্রয়োজন হলে আমরা সাহায্য করতে পারব। আল্লাহর রহমতে সেইসব ক্ষমতা আমাদের আছে। শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা সচেতন হয়েছি বলেই তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও আমাদের অবস্থা খুব খারাপ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা আমরা অনুসরণ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর বড় কর্তব্য মনে করেছি, জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানসহ সব অনুষ্ঠানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। যেন সবাই নিরাপদে থাকেন।’ তিনি বলেন, ‘চীনের উহান থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হলো, তাদের কোয়ারেনটাইনে রাখা হলো। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলো, পরে অনেকেই চলে এলো। তাদের মধ্যে অনেকে সংক্রমিত। তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো। তখন মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করলাম।’ ‘সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের জীবন যেন স্তব্ধ না হয়, সে জন্য ব্যাংক কিছু সময় খোলা রাখা, কাঁচাবাজার চালু, পণ্য পরিবহন, জরুরি সেবা সবকিছুই সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত আকারে চালু রেখেছি’, যোগ করে তিনি বলেন, ‘আইইডিসিআর কাজ করছে। শুধু রাজধানী নয়, বিভাগীয় পর্যায়েও করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি।’ জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবন থেমে থাকবে না, চলবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। তারপরও জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সেটা করতে গিয়ে মানুষকে কষ্টও দেওয়া যাবে না।’ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাঠ প্রশাসন কীভাবে কাজ করছে এবং তারা কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন- তা সরাসরি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং বর্তমানে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা তরুন জার্মান প্রবাসী ফয়সল শেখ ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে মত বিনিময় করেন। তিনি বলেন, ‘টেস্টে পজিটিভ আসার পর আইইডিসিআর আমাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখে। তারা বাসায় এসে আমাকে নিয়ে গিয়ে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি রাখে। সেখানে আমি ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকি, আমার পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।’ ফয়সল বলেন, ‘কয়েকদিন পর বারবার টেস্ট করার পর যখন আমার টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ আসে, তখন আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাই। আল্লাহর রহমতে আমার মাধ্যমে পরিবারের কারও করোনা হয়নি।’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার নির্দেশনায় দেশে যে করোনা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, সেজন্য আমি আপনার কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। দেশের জনগণের কাছে একটাই অনুরোধ, আপনারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানুন। করোনার সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে বাসায় থাকা, ঘরে থাকা। পরিবারকে সময় দিন। যতদিন ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে ঘরে থাকুন, তাহলেই কেবল আমরা করোনা থেকে মুক্ত থাকতে পারব।

ভ্রাম্যমান আদালতে ১৮হাজার টাকা জরিমানা

নিজ সংবাদ॥ গতকাল জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফর নাহারের তত্বাবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সবুজ হাসান ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খাদিজা খাতুনের উপস্থিতিতে সদর উপজেলার হরিণারায়নপুর বাজারে ২টি ফার্মেসীর দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এসময় মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিক্রয় অযোগ্য ওষুধ বিক্রির দায়ে ওষুধ আইন, ১৯৪০ অনুসারে ১৮হাজার টাকা অর্থ দণ্ড প্রদান করা হয়।

জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর নেই

কুষ্টিয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগীর সন্ধান এখনো মিলেনি তবে সোমবার একজন ইজিবাইক চালকের মৃত্যুর আলামত করোনা ভাইরাসের সাথে সামঞ্জস্য থাকায় ঐ লোকটির আলামত সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। গতকাল রাতে ঢাকা থেকে  রিপোর্ট এসেছে, তাতে করোনার আলামাত মৃত ব্যক্তির শরীর পাওয়া যায়নি। এদিকে জেলা প্রশাসন এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সরকারী সব ধরনের সহযোগিতা এবং ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। গতকাল জেলা সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে- জেলার ২৫০শয্যা হাসাপাতাল ও বাকী ৫টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৬৩ পিচ পিপিই, ২৬৪টি মাস্ক, ১৯৩৬টি  গ্লোভস, ৫৬টি আইসোলেশন বেড, করোন্টিন বেড ৩৫টি রেডি করা হয়েছে। এদিকে গতকাল দুপুরে চীন থেকে আসা কিরোনা ভাইরাস প্রতিরোধক বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী  ডাক বিভাগের মাধ্যমে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসে পৌছেছে। কুষ্টিয়ার ডেপুটি পোষ্ট মাষ্টার জেনারেল এস.এম ওয়াদুদুল ইসলামের নিকট থেকে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাকিবুল হাসান ও ডাঃ তানিশা তাবাস্সুম এসব সামগ্রী গ্রহন করেন। কুষ্টিয়ার ডেপুটি পোষ্ট মাষ্টার জেনারেল এস,এম ওয়াদুদুল ইসলাস জানান-চীন থেকে আসা করোনা প্রতিরোধক সরঞ্জামাদী বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে সারাদেশের সকল সিভিল সার্জন অফিসে পৌছে দেয়া হচ্ছে। কুষ্টিয়ার আওতায় রাজবাড়ি, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সিভিল সার্জন অফিসে পৌছে দেয়া হয়েছে। এই সরঞ্জামের মধ্যে ছিল বিভিন্ন সাইজের ২ হাজার পরীক্ষা  গ্লোভস, ১০০০পিচ মুখোশ, ১০০০পিচ পিপিই সুকভার, ১০০০পিচ আই পোটেক্টর সেফটি গুগলস গ্লাস  এবং ৫হাজার লিফলেট। এই সরঞ্জামগুলো ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানা যায়। ফলে জেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরঞ্জামের স্বল্পতা কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে- কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন বেড করা হয়েছে ১০টি আর কোয়ারেন্টিন বেড রয়েছে ১০০টি। সব গুলো বেড ফাঁকা রয়েছে তবে করোনা ভয়াবহতা বেড়ে গেলে এই সংখ্যাও হবে অনেক অপ্রতুল। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের বাইরে একটি তাবু গেড়ে সেখানে সর্দি, কাশি ও জ¦রের রোগীদের ব্যবস্থাপত্র এবং বিনামুল্যে ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে সুশৃংখলভাবে রোগীরা সেখান থেকে সেবা গ্রহন করে সন্তুষ্টি চিত্তে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এদিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে  করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতি দিনই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায় ২৯মার্চ পর্যন্ত জেলায় ৬৫৯জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল এর মধ্যে ৩৯০জন অব্যাহতি পেয়েছে আর ২৬৯জন এখন আছে। এছাড়া ২০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলার ৬টি হাসপাতালে ৬৫জন চিকিৎসক,৭৫জন নার্স এবং ৩৯০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৩টি বেডসহ একটি বেসরকারী হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের প্রেসনোটে আরো জানানো হয়-৩৫০টি পিপিই এবং ৩৫০টি মাস্কের মধ্যে ১৩৫টি করে মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়া জনগনকে সচেতন করতে বিভিন্ন স্থানে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে ১০টি অভিযান চালিয়ে ১০টি মামলা দায়ের এবং ১৮হাজার ৪শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজস্ব অর্থায়নে  ৫০টি পরিবারের মাছে খাদ্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৬টি উপজেলায় ১২২.৫০ মেঃ টন চাল এবং নগদ ১৫লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন প্রতিদিনিই বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং অসহায়দের মাঝে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করছেন। এদিকে জেলার সর্বত্র জনগনের অযোচিত ঘর থেকে বাইরে আসার প্রবনতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শহর এবং শহরতলীর বিভিন্ন এলাকার মুদী দোকানে সিগারেটের জন্য এসব জনগন অহেতুক ভিড় করছে বলে জানা যায়। এছাড়া লক ডাউনের দিন বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এরকায় দুস্থ্য দিন আনা দিন খাওয়া মানুষেরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ভিড় করছে খাবারের জন্য। বিভিন্ন স্থানের মানুষেরা গরীবদের খাবারের ব্যবস্থা করছে আবার অনেক স্থানে শূকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করতে দেখা গেছে। অনেকে আবার না পেয়ে মনের কষ্টে বাড়িতে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া

কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসকের ফান্ডে ১০ লাখ টাকা দিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

নিজ সংবাদ ॥ প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসকের ফান্ডে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি রবিউল ইসলাম। এ অর্থ করোনা পরিস্থিতিতে যারা কোন কাজ করতে বাড়ী থেকে বের হতে পাচ্ছেন না তাদের খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবামূলক কাজে ব্যয় হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে  কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেনের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মুন্সী মোঃ মনিরুজ্জামান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মৃণাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাঃ ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পানক আনিসুজ্জাসান ডাবলু, এনডিসি মোহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, করোনা প্রতিকারের জন্য প্রধানমন্ত্রী দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই মোতাবেক আমরা সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছি। বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। সেই আহবানে সাড়া দিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া চেম্বার সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম জেলা পরিষদের তহবিল থেকে তাৎক্ষনিক ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। এ অর্থ মানবতার কল্যানে ব্যয় করা হবে। আরো যারা বিত্তবান আছেন তাদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম বলেন,‘ দেশে  কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারনে একটি সংকট চলছে। সব কিছু বন্ধ। যারা শ্রমিক তারা কাজ পাচ্ছে না, যারা দিনমজুর তারাও কাজ পাচ্ছে না। নিম্ন আয়ের লোকজন অনেক কষ্টে আছে। তাই তাদের  সেই কষ্ট লাঘবে আমি প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা  জেলা প্রশাসনের তহবিলে দিয়েছি। এছাড়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভার ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেউ যাতে খাবারের কারনে কষ্ট না করে সে জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আমরা যে ছকে আগাচ্ছি কেউ কষ্ট করবে না ইনশাআল¬াহ।’

কোভিড-১৯

আরো ২ জন আক্রান্ত, সুস্থ আরো ৬

ঢাকা অফিস ॥ দেশে আরো দুই জনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫১ জন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা মঙ্গলবার এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে দেশে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ছয়জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ নিয়ে মোট ২৫ জন সংক্রমণমুক্ত হলেন। নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য না আসায় বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের মোট সংখ্যা আগের মতই পাঁচজনে রয়েছে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তার মধ্যে আইইডিসিআরের বাইরের গবেষণাগারে পরীক্ষা করা নমুনাও রয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬০২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, নতুন সংক্রমিত দুজনই পুরুষ। তাদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। “একজনের বয়স ৫৭ বছর। তিনি সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে এসেছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো, তবে তার ডায়াবেটিস রয়েছে। “আরেকজনের বয়স ৫৫ বছর। তার বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস নেই। কোভিড-১৯ এর লক্ষণের পাশাপাশি তার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। তিনি কীভাবে সংক্রমিত হয়েছেন সে বিষয়ে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।” গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন জানিয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, আক্রান্তদের তারা তিন দিন পরপর পরীক্ষা করেন। প্রথমবার কোভিড-১৯ নেগেটিভ এলে ২৪ ঘণ্টা পর আবার পরীক্ষা হয়। পরপর দুটি টেস্ট নেগেটিভ হলে তাকে বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র পাওয়া এই ছয়জনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের মধ্যে একজন নার্সও রয়েছেন। ফ্লোরা জানান, ওই ছয়জনের মধ্যে একজনের বয়স ৭০ বছর, চারজনের বয়স ত্রিশ থেকে চল্লিশের ঘরে, একজনের বয়স চল্লিশের বেশি। দেশে বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৭৫ জন। আরও ৩৮ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয় ব্রিফিংয়ে।

ক্রিকেট খেলা নিয়ে ছোটদের বিরোধ

কুষ্টিয়ায় বড়দের সংঘর্ষে দুই সহদর নিহত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে  ছোটদের ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে আপন দুই ভাই নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বকুল আলী (৫৫) নেহাদ আলী (৬০)। তারা পাহাড়পুর গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লাশ একই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।স্থানীয় বাঁধ বাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই রাশেদ জানান, সোমবার বিকেলে দক্ষিন পাহাড়পুর গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে রাজুর সাথে একই গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে ইসতাক আহম্মেদ ও উল্লাস এবং মোক্তার আলীর ছেলে নাহিদের ক্রিকেট খেলা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর সূত্র ধরে ইসতাক আহম্মেদ তার ছোট ভাই উল্লাস এবং নাহিদকে আটক করে বাঁধ বাজার ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আটককৃত তিনজনকে তাদের অভিভাবকদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তারা গ্রামে ফিরে গন্ডগোলে জড়ায়। তবে যাদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে আসা আসা হয়েছিলো তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রাশেদ ও টুআইসি গৌতম কুমার টাকার বিনিময়ে সামান্য ঘটনায় তিন জনকে ক্যাম্পে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করে এবং ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেই। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এতে দুই সহদোর নিহত হয়।  নেহাদ আলী ও বকুল আলী বাধবাজার থেকে বাজার করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে পাহাড়পুর গ্রামের বানু মন্ডলের বাড়ির কাছে পৌছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ১০/১২ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের হামলা চালায়। কুপিয়ে তাদের আহত করে। এসময় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আরও ৫জন আহত হয়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের দুই কর্মকর্তার কারনেই দক্ষিন পাহাড়পুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে এবং এতে ২ জন নিহতসহ ৫ জন আহত হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাপস কুমার সরকার,‘ বকুল ও নেহাত নামের দুই ব্যক্তিকে রাতে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের সারা শরীরে কোপানোর চিহৃ আছে। হাসপাতালে আসার আগে এ দুইজন মারা যায়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘ ক্রিকেট খেলা নিয়ে সোমবার স্থানীয় দুইপক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আপন দুই ভাই নিহত হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে  বের করার চেষ্টা হচ্ছে।

মিরপুরে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে কামারুল আরেফিন

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিকার রোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যদের সচেতন করার লক্ষে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষদের সচেতন করেছেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফিন। গতকাল সোমবার দিনব্যাপি তিনি মিরপুর উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। বিকেলে মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চাঁদ মার্কেট এলাকায় তিনি সাধারন মানুষদের সচেতন করেন। সেই সাথে বহলবাড়ীয়া বাজারে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস, মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা প্রমুখ। এসময় কামারুল আরেফিন, উপস্থিত ব্যক্তিদের মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যকেও সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান। পরে তিনি মশান ও নওয়াপাড়া বাজারে সচেতনতামুলক প্রচারনা করেন। পরে সন্ধ্যায় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং মিরপুর বাজারের ব্যক্তিদের তাপমাত্রা পরিমাপ করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আমাদের প্রশংসা করেছে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের কাজের প্রশংসা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আমরা চাইব চিকিৎসার বাইরে যেন কেউ না থাকে। সোমবার দুপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের ইতিমধ্যে ১১টি ল্যাব কাজ করছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও ১৭টি নতুন ল্যাব স্থাপন করব। যাতে চিকিৎসা করতে পারে, তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করতে পারে। টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য যারা স্যাম্পল কালেকশন করে তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। কাজেই পরীক্ষার পরিধি আমরা বৃদ্ধি করেছি।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘ আমাদের কাজের প্রশংসা করেছে। আমরা চাইব চিকিৎসার বাইরে যেন কেউ না থাকে।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক ও নার্সরা ভালো কাজ করছেন। আমি আহ্বান করব সবাই যেন যার যার কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়াকে বলতে চাই, আপনারা সুন্দর কাজ করছেন, তথ্য দিচ্ছেন। কিন্তু এমন কোনো তথ্য দেবেন না, যার মাধ্যমে দেশবাসী আতঙ্কিত হয়। এ তথ্য দেয়াও ঠিক না যে অভাব রয়েছে। আমাদের চিকিৎসার কোনো অভাব নেই। কিটের কোনো অভাব নেই, পরীক্ষারও যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছি। পিপিইরও আর অভাব নেই। কাজেই এই তথ্যগুলো দিলে মানুষ আশ্বস্ত হবে। আমাদের দেশ এখন ভালো আছে, নিরাপদে আছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিল, তাই মনে করি তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করতে পেরেছি। ঘাবড়ানোর প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০০টি নতুন আইসিইউ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে; যার মধ্যে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের সুবিধাও রয়েছে।

দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ব্যবসায়ীর অর্থদন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারী আদেশ অমান্য করায় এক ব্যবসায়ীর অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় উপজেলার আল্লারদর্গা বাজারে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে এ অর্থদন্ড দেন। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আল্লারদর্গা বাজারে  তৌফিক নামে এক ইলেট্রিক ব্যবসায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন এমন অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। এসময় ওই ব্যবসায়ীর দ: বি: ২৬৯ ধারায় দুই হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার। এছাড়াও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার গতকালও জনসেচেতনা সৃষ্টিতে দৌলতপুরের আল্লারদর্গা, পিয়ারপুর, রিফায়েতপুর, মথুরাপুর, বালিয়াশিশিসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনভর অভিযান পরিচালনা করে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বে অন্যান্য দিনের মত গতকালও সেনা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

নো টেস্ট, নো করোনা- পলিসিতে সরকার – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ মহামারী করোনাভাইরাস নিয়ে বর্তমান সরকারের পলিসি জনগণের কাছে একদম পরিষ্কার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মাহসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকারের পলিসি হল, ‘নো কিট, নো করোনা। নো টেস্ট, নো করোনা। নো পেশেন্ট, নো করোনা। যে পলিসি করে ইরান ও ইতালি সরকার তাদের দেশের সর্বনাশ করেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে গোটা বিশ্ব থেকে। অথচ আমরাও সেই লুকানোর পলিসি দিয়েই সবকিছু ম্যানেজ করতে চলেছি। উল্টো প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সরকারের এই লুকানো পলিসি যাতে কেউ প্রকাশ না করতে পারে তার জন্য নানা রকমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই লুকানোর পলিসির নাম দিয়েছে ‘গুজব’।’ সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘আজ এমন এক অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আপনাদের সমীপে উপস্থিত হয়েছি, যখন করোনা ভাইরাসের মহাদুর্যোগের কারণে সামনে বসে সরাসরি কথা বলার মতো পরিবেশ নেই। কোভিড-১৯ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নিয়েছে’। তিনি বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, দুই মাস সময় পেলেও সরকার সমস্যার দিকে কোনও মনোযোগ দেয়নি। উপদ্রবত দেশগুলো থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনকারী প্রবাসী ভাই-বোনদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণে কোয়ারেন্টাইন করার সরকারি ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, সমন্বয়হীনতা ও প্রস্তুতির অভাব দেশকে কত বড় বিপদে ফেলতে পারে।’ রিজভী আরও বলেন, ‘মহাবিপদ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি নেই, সমন্বয় নেই, আক্রান্ত রোগী শনাক্তকরণের পর্যাপ্ত উপকরণ ও ব্যবস্থাপনা দেশে নেই; নেই চিকিৎসকদের রক্ষার ব্যবস্থা, নেই যথেষ্ট মাস্ক, স্যানিটাইজার ও ভেন্টিলেটর’। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া সরকার আক্রান্ত সংখ্যার যে তথ্য দিচ্ছে তা বিশ্বাসযোগ্যতা পাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে টানা দু’দিন বলা হচ্ছে- “দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত নেই। অথচ পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনসহ মিডিয়ায় প্রতিদিন সর্দি, জ্বর, কাশিতে মারা যাওয়ার খবর দিচ্ছে। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যুর সংবাদ ছাপা হয়েছে আজকের খবরের কাগজে। কী ভীতিকর পরিস্থিতি! ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট মিডিয়ার খবরের সঙ্গেও সরকারের ব্রিফিংয়ের আকাশ-পাতাল ব্যবধান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবি¬উএইচও) বারবার বলে আসছে, করোনা আক্রান্তদের শনাক্ত করতে যত বেশি সম্ভব পরীক্ষা করতে হবে। অথচ সরকারের পুরো ব্যবস্থাপনা হলো পানিতে হালবিহীন নৌকার দুরাবস্থা যেমন।’ রিজভী বলেন, ‘দীর্ঘদিন সময় পেয়েও জেলা পর্যায়ে করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জামাদি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিলো সরকারের। সে দায়িত্ব পালনে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ পরিবারগুলোর খাদ্য সংকট আগামীতে আরও বাড়বে। সেই সংকট যেন বড় বিপদ না হয়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে খেটে খাওয়া মানুষকে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রণোদনা বাড়াতে হবে।’

করোনা পরীক্ষায় ১৭ ল্যাব স্থাপন করা হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় সারাদেশে আরও ১৭টি নতুন ল্যাব স্থাপন করা হবে। তিনি সোমবার করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে একথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও ১৭টি নতুন ল্যাব স্থাপন করব। যাতে চিকিৎসা করতে পারে, তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করতে পারে। টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য যারা স্যাম্পল কালেকশন করে তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। কাজেই পরীক্ষার পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০০টি নতুন আইসিইউ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে; যার মধ্যে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের সুবিধাও রয়েছে। দেশে পরীক্ষা কীটের কোনো অভাব নেই, পিপিই’রও অভাব নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি কোভিড-১৯ সংক্রমণের এ পর্যায়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, দেশ এখন ভালো আছে, নিরাপদে আছে। আমরা আশা করছি, এ বিরাট সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। তিনি বলেন, কাজ যা হয়েছে, তুলনামূলকভাবে তা ভালো হয়েছে। আগামীতে আরও ভালো হবে। যেকোনো রকমের প্রয়োজনে আমরা সার্বক্ষণিক জনগণের পাশে আছি। আমি নিজেই তদারকি করছি। আশা করি, অল্পদিনে সমস্যা দূর হবে। কোথাও কোনো অসুবিধা হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টারে জানাতে দেশবাসীকে অনুরোধ জানান তিনি।

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে জেলে নিখোঁজ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জিয়ার আলী (৩৫) নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। গত রবিবার ২৯ মার্চ রাতে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিপুরের সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।  সোমবার দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ ওই জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। জিয়ার আলী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মজনু আলীর ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, রাতে ওই এলাকার পাঁচ যুবক ছোট নৌকা নিয়ে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যায়। মাঝ নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটলে আশপাশের জেলেরা চারজনকে উদ্ধার করে। এ সময় জিয়ার আলী নিখোঁজ হন। হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সম্পা মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা মেডিকেলে করোনা টেস্টে ৩ ঘণ্টার মধ্যেই মিলবে ফলাফল

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ভাইরোলজি বিভাগে কভিড-১৯ পরীক্ষার কার্যক্রম দুই একদিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে। এতে ঢামেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই করেনা পরীক্ষার ফলাফল জানা যাবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সোমবার ঢামেক অধ্যক্ষ ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কলেজের ভাইরোলজি বিভাগ করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কিছু মেশিনারিজ আমাদের এখানে রয়েছে, আরও কিছু মেশিনারিজ এসে গেছে। আশা করি দুই একদিনের মধ্যেই পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। মূল টেস্ট করতে তিন ঘণ্টা লাগবে।’ প্রতিদিন কি পরিমাণ রোগী পরীক্ষা করা সম্ভব হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি কিটের ওপর নির্ভর করবে। ঢাকা মেডিকেল যেন স্বমহিমায় কাজ করতে পারে সেজন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি। ‘হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স ও অন্যদের নিরাপত্তাসহ রোগীদের কথা চিন্তা করেই এ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসকের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরীক্ষা করা হবে। এ পরীক্ষায় কোনো রোগীর যদি পজেটিভ আসে, তাহলে ঢাকা মেডিকেল ছাড়া সরকারের বরাদ্দ করা হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য তাকে সেখানে পাঠানো হবে। কলেজের চারতলায় ভাইরোলজিস্ট ও জীবাণু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টিম গঠন করে এ পরীক্ষা কার্যক্রম চালু হবে।’ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন ১ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হল ৪৯ জন।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্দোগে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে খাদ্য উপকরন বিতরণ

নিয়ামুল হক ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্দ্যোগে  দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া গরীব, অসহায় ও দিন মজুর, চায়ের দোকানদারসহ দুস্থ পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, পিয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ সব উপকরন বিতরণ করেন, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস। এ সময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাশেম জোয়ার্দারসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপি দুইশতাধিক পবিবারের মাঝে এসব উপকরন বিতরণ করা হয়। এসময়  করোনা ভাইরাস রোধে কি করনীয় এ সব বিষয়ে উপজেলাবাসীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। অযথা বাড়ির বাহিরে বেরনো, অনেকে একত্রে হওয়া যাবে না এসব নানা বিষয়ে পরামর্শ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।