কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল সোমবার বিকেলে  বালিয়াপাড়া কলেজিয়েট স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সেকেন্দার আলীর

সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথিছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী ।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আক্তারুজ্জামান মাসুম। বিশেষ বক্তা ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশ্বাস। অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক হাজী তরিকুল ইসলাম মানিক, জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মাজহারুল আলম সুমন, সদস্য এ্যাড জিহাদুল ইসলাম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ডা.  গোলাম মওলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সামস তানিম মুক্তি,  জেলা  সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু, কুষ্টিয়া পল¬ী বিদ্যুত সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুদৌলা তরুন, কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী মোল¬া, জেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য আনিচুর রহমান বিকাশ, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব বাদশা, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক ইলিয়াস খান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আহমেদ মৃদুল হাসান। সম্মেলন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের  সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদের ।

২য় অধিবেশনে আগের বতর্মান কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা করেন এবং  নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক তাদের মধ্যে থেকে ৭টি কমিটির তালিকা জমা পড়ে। কমিটি ঘোষণা ছাড়াই সম্মেলন শেষ করা হয়। পরে কমিটি ঘোষনা করা করা হবে।

 

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পরতে পরতে দুর্র্র্র্নীতি

খাবার ও হাসপাতালের বেড নিয়ে বাণিজ্য

ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত একজন হাজতির অর্থ খসাতে হয়, সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ড

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের পরতে পরতে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। একজন আসামীকে কারাগারে ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত টাকা গুনতে হয়। টাকা থাকলে কুষ্টিয়া কারাগারে রাজার হালে থাকা যায় আর টাকা দিতে না পারলেই নেমে আসে নানা নির্যাতন।

ঠিকাদার নিয়োগ, খাবার মান, হাসপাতালের বেড বাণিজ্য থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত নিলামে বিক্রি করে দেয়া হয়। এ থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছেন জেল সুপারসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা আসামী ও তার পরিবারের লোকজনকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন এমন বেশ কয়েকজন কয়েদি ও হাজতির সাথে কথা হলে অভ্যন্তরীন নানা দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। জেলা কারাগারের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি যাতে বাইরে না আসে যে জন্য ম্যানেজ করা হয় বিভিন্ন দপ্তরকে।

পারিবারিক একটি মামলায় জেলে যাওয়া এক হাজতি বর্তমানে জামিনে বাইরে আছেন। কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ কারাগারে যাওয়ার পর প্রথম রাতে আমদানি ওয়ার্ডে রাখা হয়। পরের দিন সকালে গননা, মেডিকেল ও চুলছাটাসহ অন্যান্য কাজ শেষে কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। এর মধ্যে কারাগারের অপেক্ষাকৃত যে ওয়ার্ডে সুযোগ-সুবিধা ভাল সেখানে অর্থের বিনিময়ে হাতজিতের পাঠানো হয়। আর যারা টাকা দিতে পারেন না, তাদের টয়লেটের পাশেসহ খারাপ জায়গায় পাঠানো হয়। ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেয় ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ম্যাটরা (যারা বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত) নেন। তবে এক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় সিগারেট নেন তারা। এসব সিগারেট কারাগারে সোনার দামে বিক্রি হয়। বিভিণœ ব্যান্ডের সিগারেট নেন কারারক্ষী ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা। তারা পরে বিক্রি করেন অন্য হাজতিদের কাছে। কারাগারের সিগারেটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা জেল সুপারকে অর্থ দিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ড কিনে নেন। একেকটি ওয়ার্ড প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা সেল হয়। ম্যাটরা প্রতিটি হাজতির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তাদের নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেন। আর যারা টাকা দিতে পারেন না তাদেরকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কারা পুলিশ বলেন,‘ ওয়ার্ডগুলোতে টাকা পয়সার লেনদেন হয়। এ টাকার ভাগ কারাগারের কর্মকর্তারা পান। এছাড়া বিভিন্ন সময় কারারক্ষীদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে কারাগারে ফেনডিসিল ও গাঁজা প্রবেশ করার মত ঘটনা আছে। ফোনেও কথা বলার সুযোগ করে দেয়া হয়।’

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাদ্য সরবরাহ করে আসছে। ঘুরে ফিরে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে তাদেরকে বারবার কাজ দেয়া হয়। অন্য কোন ঠিকাদার জেলা কারাগারে কাজ পাই না। কুষ্টিয়া ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন কারাগারে খাদ্য সরবরাহ করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিন্মমানের চাল, ডাল, তেল ও মসলা সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে। জেল সুপার জাকের হোসেনেসহ ডেপুটি জেলা আকতার হোসেন ও অফিস সহকারির সাথে আঁতাত করে এ প্রতিষ্ঠানটি নিন্মমানের খাদ্য সরবরাহ করে আসছে। এর বিনিময়ে সবাইকে ম্যানেজ করার জন্য লাখ লাখ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে একটি সুত্র জানিয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও জেলা জজসহ অন্য কর্মকর্তারা একাধিক দিন গিয়ে নিম্নমানের খাদ্যে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর যখনই পরিদর্শক টিম যাওয়ার খবর পান সেদিনই খাবারের মান ভাল করা হয়। একাধিক হাজতি বলেন,‘ আগে থেকে পরিদর্শনে আসার খবর পেলে খাবারের মান বদলে যায়। আর অন্যদিন খাবারের মান একেবারের নিম্নমানের হয়। সবজি, মাছ  ও মাংসসহ সব খাবারের ভেজাল রয়েছে। বিশেষ করে খাসি মাংস ও ষাড়ের মাংস দেয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগ দিন ধাড়ী ও গাভির মাংস সরবরাহ করা হয়। খড়ি নিয়েও করা হয় বাণিজ্য। এছাড়া জেল কারাগারের জায়গায় উৎপাদিত সবজিসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও বাণিজ্য চলছে।

আর এক প্রকার সবজি রান্না করে তিন থেকে ৪ প্রকার সবজির বিল দেখানো হয়। পাশাপাশি পাংঙ্গাস ও সিলর্ভার কার্প মাছ সরবরাহ করে বিল তুলে নেয়া হয় রুই ও কাতলার। আর মাছের যে সাইজ দেয়ার কথা তাও পান না কয়েদি ও হাজতিরা। এসব নিয়ে মুখ খুললেই শাস্তি দেয়া হয়। আর চুন থেকে পান খসলেই জেলা সুপার ও ডেপুটি জেলার হাজতিদের ওপর নানা রকম নির্যাতন চালান বলেও অভিযোগ উঠেছে।’

জেল কারাগারের হাসপাতাল নিয়ে চরম বাণিজ্য রয়েছে। অসুস্থরা জায়গা না পেলেও বেড প্রতি মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে সুস্থরা হাসপাতালে রাজার হালে থাকেন। সেখানে তারা সাধারন অসুস্থদের জন্য যে খাবার ও ফল বরাদ্দ তা তারা খান। যারা বিত্তশালী হাজতি তাদের দখলে হাসপাতালের বেড। অর্থ ছাড়া কোন বেড মেলে না হাসপাতালে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও প্রতিকার মেলে না। কারণ পরিদর্শন টিম যাওয়ার আগে সবাইকে সজাগ করে দেয়া হয়। কেউ মুখ খুললেই তার ওপর শাস্তি নেমে আসে। এ কারনে ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। দিন চুক্তিতে এসব বেড ভাড়া দেয়া হয়।’

হাজতিরা জানান, কারাগারের ভিতর একটি ক্যান্টিন রয়েছে। ক্যান্টিন পরিচালনা করে কারাগার কর্তৃপক্ষ। এখানে অর্থ জমা দিয়ে মাছ মাংসসহ পছন্দের সব খাবার পাওয়া যায়। তবে নিন্মামানের খাবার সরবরাহ করে বাইরে থেকে দুই থেকে তিনগুন বেশি দাম রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাই না।

জানাগেছে, জেল সুপার তার মনোনীত কয়েকজন কারারক্ষীর মাধ্যমে অবৈধ অর্থ তোলেন। কিছুদিন আগে বিএনপির কয়েকজন সাবেক এমপিসহ নেতারা জেলে ছিলেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। রাতের বেলাও তিনি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’

জাকের হোসেন জেল সুপার হয়ে আসার আগেও এখানে ডেপুটি জেলার পদে চাকুরি করেছেন। সে সময় তিনি দুর্র্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে তখন থেকে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয় কারারক্ষীদের সাথেও তিনি চরম দুর্ব্যবহার করেন।

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার আকতার হোসেনের কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইলে বলেন,‘ কোন তথ্য ফোনে বলা যাবে না। এসব তথ্য গোপনীয়। আপনি প্রয়োজনে জেলা কারাগারে এসে দেখা করেন।’

জেল সুপার জাকের হোসেন বলেন,‘ কারাগারে কোন অনিয়ম হয় না। কারাগারে সব ভাল কাজ হয়। কোন অর্থ লেনদেন হয় না। খাবারের মান অনেক ভাল।’

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, কারাগারে যদি কোন অনিয়ম ও দুর্নীত হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নিখোঁজের একদিন পর দৌলতপুরে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে জাকির হোসেন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে মাথাভাঙ্গা নদীতে তল্লাশী অভিযান চালিয়ে ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে। রবিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে সে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ স্কুলছাত্র জাকির হোসেন ধর্মদহ ফরাজিপাড়া গ্রামের সাহারুল ইসলামের ছেলে এবং ডিজিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র। স্থানীয়রা জানায়, স্কুলছাত্র জাকির হোসেন বাড়ির পাশের মাথাভাঙ্গা নদীতে গোসল করার সময় প্রবল স্রোতে সে তলিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী নদীতে সন্ধান চালিয়ে তার খোঁজ না পেয়ে ডুবুরি দলকে খবর দেয়। ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গতকাল সোমবার সকাল থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে। নদীতে ডুবে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধারের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানান, ডুবুরি উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘন্টা পর তার লাশ উদ্ধার করেছে।

মিরপুরে অস্ত্র-মাদকসহ মা ছেলে আটক

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে অস্ত্র ও মাদকসহ জলি আক্তার (৩৫) এবং রাব্বি খন্দকার (১৩) নামের দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এরা দুজনে সম্পর্কে মা ও ছেলে। রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার নফরকান্দি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত জলি আক্তার উক্ত এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য খন্দকার হাসিবুল হকের স্ত্রী এবং রাব্বি তাদের ছেলে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলে জলি আক্তার ও রাব্বিকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১শ পিস ইয়াবা এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দূষণকারীর দায় অন্তর্ভুক্ত করে বিধান অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ ‘যে দূষণ করবে সে টাকা দেবে’ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি এজেন্সী’র (আইএইএ) এই বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় নীতি’ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার সকালে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে (পিএমও) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম সচিবালয়ে বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন,‘ এটমিক এনার্জি যেহেতু খুবই স্পর্শকাতর এবং বিপজ্জনক বিষয় তাই এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি গাইড লাইন দরকার এবং সেখানে আইএইএ’র গাইড লাইনের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কাজেই সেই গাইড লাইন দিয়েই এই নীতিমালাটা তৈরী করা হয়েছে। এটা দিয়ে কোনরকমের বিপদের সম্মুখীন যেন হতে না হয়।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কীভাবে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে সেটা নিয়ে নীতিমালায় অনেকগুলো কথা আছে। বর্জ্য উৎপাদনকারী কারা কারা আছেন, তাদের উৎপাদিত তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি থেকে বর্জ্য কিভাবে নিরাপদ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে, তার একটি নীতিমালা নির্ধারিত হয়েছে। মোটাদাগে যাকে এভাবে বলা যায়: “যে দূষণ করবে সে টাকা দেবে”। এটা আন্তর্জাতিক নীতি।’ তিনি বলেন, ‘ যে দূষণ করবে তাকে টাকা দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এটা হল মূলনীতি।’ শফিউল আলম বলেন, এজন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) একটা এজেন্সি নিয়োগ করবে। এটার নাম হলো তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (আরডবি¬উএমসি)। তিনি বলেন, ‘এই কোম্পানীর বিশেষজ্ঞ দল থাকবে। যারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করবে। সারা বাংলাদেশে যত এটমিক এনার্জির বর্জ্য পাওয়া যাবে সেগুলো ব্যবস্থাপনা তারা করবে।’ শফিউল আলম বলেন, ‘আমরা যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করি, এগুলোর মধ্যেও সীমিত পরিসরে এটমিক এনার্জি ব্যবহার করা হয়। এগুলোর জন্য অত বড় কিছু করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু একসময় প্রয়োজন হবে। এজন্য আগে থেকে নীতিমালাটি করা হয়েছে। এই নীতিমালা সব সেক্টর কাভার করবে। এক্ষেত্রে লিড মিনিস্ট্রি হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।’ রূপপুরে দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটার যে বর্জ্য তা চুক্তি অনুযায়ী সরাসরি রাশিয়া নিয়ে যাবে। এটা আমরা এটা ধ্বংস করবো না। সচিব বলেন, রাশিয়ার সাাথে চুক্তি হয়েছে যেহেতু তাদের বিশাল দেশ, ডিসপোজালের অনেক জায়গা আছে, আমাদের ওরকম জায়গা নেই, আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা। চুক্তিতেই বলা হয়েছে, (পারমাণবিক বর্জ্য) তারা সিল করে নিয়ে যাবে এবং ওখানে নিয়ে ডিসপোজাল করবে।’ শফিউল আলম বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী, গবেষণা চুল্লি, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প¬ান্ট অপারেশন, চিকিৎসা শিল্প, খনিজ সম্পদ আহরণ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় পদার্থের উৎপাদন ব্যবহার হয়। এসব ক্ষেত্রে এটমিক এনার্জি ব্যবহার করা হয়, আমরা হয়তো তার খবর রাখি না।’ শফিউল আলম বলেন, ‘পারমাণবিক জ্বালানির পরিমাণ যুক্তিসঙ্গতভাবে সীমিত রাখতে হবে। জ্বালানি সিল করা বাক্সে সংরক্ষণসহ পরমাণু চুল্লির রিঅ্যাকটর কোরের পরিচালনকালে যে কোনো সময় আনলোড করতে হতে পারে এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে কমপক্ষে ১০ বছর ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ করা যায়। এটা যারা করবে তাদের জন্য এই বাইন্ডিংস থাকবে।’ নীতিমালায় পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা বা আইএইএ’র ইন্সট্রাকশন তো আমাদের আছে।’ এদিন মন্ত্রী সভার বৈঠকে ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৯’র খসড়া এবং ‘বাংলাদেশ বাতিঘর আইন-২০১৯’র খসড়ার ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকের শুরুতে সম্প্রতি বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং সম্মাননায় ভূষিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানায় মন্ত্রিসভা। ভারতের সংবাদ সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া’র গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুয়ায়ী বিশ্বে দীর্ঘ নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় মন্ত্রিসভা তাঁকে অভিনন্দিত করে। এছাড়া, ভারতের স্বনামধন্য সংস্থা ড. এপিজে আব্দুল কালাম ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন কতৃর্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বহুমুখী ভূমিকার জন্য ‘ড. কালাম স্মৃতি উৎকর্ষ পুরস্কার-২০১৯ ’এ ভূষিত হওয়ায়, গে¬াবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই-গ্যাভী) কতৃর্ক ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হওয়ায়, জাতিসংঘের অধিবেশন চলাকালে ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়োথ’ এওয়ার্ড এবং ভারতের কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক মর্যাদাপূর্ণ ‘টেগর পিস এওয়ার্ডে’ ভূষিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্যে উদ্ভাবনী নারী নেতৃত্বের একশ’ জনের তালিতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভা তাঁকেও অভিনন্দন জানায়। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক লন্ডন ভিত্তিক স্বনামধন্য সংবাদপত্র ‘ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড’ কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৯ সালের লন্ডনের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভা তাঁকেও অভিনন্দন জ্ঞাপন করে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ৩১ হাজার ৫শ’ পূজা মন্ডপে এবার স্বস্তিতে এবং নিরাপত্তার সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপিত হওয়ায় মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতেই সন্তোষ প্রকাশ করে, বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে, গত ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪ তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ এবং গত ৩ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং নয়াদিলবলীতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডবি¬উইএফ) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ইকোনমিক সামিটে তাঁর অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ করা হয়। এছাড় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৬ থেকে ৮ অগাস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ভারত সফর এবং আইনমন্ত্রীর নেত্রীত্বে জাতিসংঘের ‘কনভেনশন এগেইনষ্ট টর্চার’ সংক্রান্ত প্রারম্ভিক প্রতিবেদনের বিবেচনা সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণসহ বেশ কয়েকটি বিষয় মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ করা হয় বলেও সচিব জানান।

খালেদা জিয়া অসুস্থ

নাইকো মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতির মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সেমাবার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য গতকাল সেমাবার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। মামলার নথি থেকে জানা যায়, কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। দুদকের করা অপর দুই মামলায় দ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। সেখান থেকে পরে চিকিৎসার জন্য তাকে বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।

কুষ্টিয়া পৌরসভা এলাকার হোটেল ও আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  থেকে উৎপাদিত পঁচনশীল জৈব আবর্জনা সংগ্রহ বিষয়ক মতবিনিময় সভা

গতকাল সকালে পৌরসভার ম.আ.রহিম মিলনায়তনে আরবান স্যানিটেশন প্রোগ্রাম’র আয়োজনে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার হোটেল ও আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত পচনশীল জৈব আবর্জনা সংগ্রহ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মতবিনিময় সভার উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। উদ্বোধনকালে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দূর্গন্ধমুক্ত রাখার জন্য কুষ্টিয়া পৌরসভা বিবিধ কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে। এসএনভি সহযোগীতায় কুষ্টিয়া পৌরসভায়  এই কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে। শহরের বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কারখানা হতে উদ্ভতু আবর্জনা পৌরসভার তত্বাবধানে প্রতিদিন সংগ্রহ করে বাড়াদি কম্পোস্ট প্লান্টে নিয়ে আসা হয়। এছাড়া বাসাবাড়ি ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পিট ল্যাটিন হতে সংগৃহিত পয়ঃবর্জ্য বাড়াদিতে অবস্থিত পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন প্লান্টে  নেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, এছাড়াও পৌরসভায় সংগৃহীত কঠিন আবর্জনার ৪০-৭০ ভাগ অংশই পঁচনশীল জৈব পদার্থ যা সাধারনত বাসাবাড়ির রান্নাঘর, হোটেল ও বিভিন্ন কারখানা হতে উৎসারিত হয়। অপরদিকে সংগৃহিত পয়ঃবর্জ্য বাড়াদীতে অবস্থিত পরিশোধন প্লান্টে পরিশোধনের মাধ্যমে শুল্ক বর্জ্যে পরিনত করা হয়। পরবর্তীতে পঁচনশীল জৈব পদার্থ ও শুল্ক পয়ঃবর্জ্য এর সংমিশ্রনে কো-কম্পোস্ট পদ্ধতিতে জৈব সার উৎপাদন করা হয়। তিনি আরোও বলেন, এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত জৈব সার কৃষি জমির মাটির জন্য পুষ্টিগুন বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত জৈব পদার্থের যোগান দিয়ে থাকে ফলে কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ করে শষ্য জাতীয় ফসল, সবজী ও ফুল চাষের উৎপাদন লাভজনক। এভাবে কুষ্টিয়া পৌরসভার উদ্দ্যোগ শহরের আবর্জনা ও পয়ঃবর্জ্য সমূহ সংগ্রহ করে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এজন্য আপনাদের সার্বিক সহযোগীতা দরকার । এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরপরিষদের প্যানেল অব মেয়র-০২ সাইফ-উল-হক মুরাদ, কাউন্সিলর পিয়ার আলী জোমারত, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী পূর্ত ওয়াহেদুর রহমান, এসএনভি’র সিটি কো-অডিনেটর আব্দুল হালিম, এরাজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহারিয়ার বীন রাসুল, এরাজ’র ম্যানেজার ইসহাক, প্লান্ট সুপারভাইজার নজরুলসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন হোটেল মালিক সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবীদ রানভির আহমেদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ব্যক্তিগত অস্ত্র অন্যের নিরাপত্তায় ব্যবহার করা যাবে না

ঢাকা অফিস ॥ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্স করা অস্ত্র বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী অথবা অন্য ব্যক্তির দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং প্রকাশ্যে অত্র প্রদর্শন না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬’ এর অনুচ্ছেদ ২৫(গ) অনুযায়ী আগ্নয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী কোন ব্যক্তি নিজ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সম্পত্তি রক্ষার জন্য অস্ত্রধারী প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত হতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে তার অস্ত্রের লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলযোগ্য হবে। উক্ত নীতিমালা লংঘন করে কোন কোন ব্যক্তি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিজ নামীয় আগ্নেয়াসহ বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থায় নিরাপত্তা রক্ষী হিসাবে অথবা অন্য ব্যক্তির দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬’ এর অনুচ্ছেদ ২৫(ক) অনুযায়ী ‘কোন ব্যক্তি স্বীয় লাইসেন্সে এন্ট্রিকৃত অস্ত্র আত্মরক্ষার নিমিত্ত নিজে বহন/ব্যবহার করতে পারবেন। তবে অন্যের ভীতি/বিরক্তি উদ্রেক করতে পারে এরুপভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। এসব নীতিমালা লংঘন করে কোন কোন ব্যক্তি প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে জনমনে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির প্রয়াস চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে আদেশে বলা হয়, ‘‘অত্র আইন ১৮৭৮ কঠোরভাবে অনুসরণ এবং বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধকল্পে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬’ এর অনুসরণপূর্বক ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণকে বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে অথবা অন্য ব্যক্তির দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত হওয়া হতে বিরত থাকা এবং ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬’ এর অনুচ্ছেদ ২৫ (ক) অনুসরণপূর্বক প্রকাশ্যে অত্র প্রদর্শন না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। অন্যথায় আদেশ লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিধান মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে ওই প্রজ্ঞাপনে।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ দেশের চলমান উন্নয়নকে টেকসই করার লক্ষ্যে এই ধারা অব্যাহত রাখতে সোমবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সন্ধ্যায় অষ্টগ্রাম খেলার মাঠে এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘সরকার উন্নয়ন করছে। কিন্তু জনগণেরও এই অর্জনকে ধরে রাখতে হবে। এটা তাদের দায়িত্ব। এই উন্নয়নকে আরো গতিশীল করতে জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই কাজ করতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি হাওর এলাকার পাশাপাশি চলমান জাতীয় উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে স্থানীয় জনগণকে ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি গত বুধবার থেকে সাত দিনের সফরে তাঁর নিজ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান। আব্দুল হামিদ বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত ও হাওর এলাকার জনগণ এর সুফল ভোগ করছে। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আমি হাওর এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা পরিবর্তনে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ সাধারণ মানুষ প্রকৃতপক্ষে অনেক শক্তিশালী উলেবলখ করে রাষ্ট্রপতি জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষকে অবমূল্যায়ন না করার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং প্রবীণ রাজনীতিক আবদুল হামিদ তাদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, দয়া করে নির্বাচনের আগে তাদের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করতেন, তেমনি ব্যবহার বজায় রাখুন। সুখ, দুঃখে সব সময় তাদের পাশে থাকুন। যুবকদের মাঝে মাদকের অপব্যবহার বর্তমানে উদ্বেগজনক অবস্থায় পরিণত হয়েছে উলেবলখ করে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্টদের মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। তিনি এ সময় দুর্নীতি, অপকর্ম ও জুয়ার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের চলমান অভিযানকে স্বাগত জানান। এর আগে রাষ্ট্রপতি ইটনা উপজেলায় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির পুত্র রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক এমপি, নূর মোহাম্মদ এমপি, আফজাল হোসেন এমপি, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান ইসলাম সেলিমসহ রাষ্ট্রপতির সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

মাস্টার্স পরীক্ষা শেষে ১৫ দিনের মধ্যে ইবি শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের সিদ্ধান্ত

ইবি প্রতিনিধি ॥ মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল সোমবার বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ আসকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এতে সকল হল প্রভোস্টবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় মোট ৮টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিটি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসন বরাবর প্রেরণ করবে স্ব-স্ব হল কর্তৃপক্ষ, রাত ১২ টার পর ছাত্রদের হলের মেইন গেট বন্ধ এবং ছাত্রী হলে পূর্বের নিয়ম বলবৎ থাকবে, প্রক্টরের নেতৃত্বে ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্টদের সমন্বয়ে হলসমূহ সার্বক্ষণিক তদারকি করবে একটি মনিটরিং সেল, হলের অভ্যন্তরে কোন শিক্ষার্থী অন্য শিক্ষার্থীর দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছে কিনা তার সার্বক্ষণিক তদারকি করবে এ মনিটরিং সেল ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে কোন সময় যে কোন হল তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। সভায় বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, ছাত্র-উপদেষ্টা ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকরাম হুসাইন মজুমদারসহ অন্যান্য প্রভোস্টগন উপস্থিত ছিলেন।

আবরার হত্যা

‘সম্পৃক্ততা পেয়ে’ অমিতকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার

ঢাকা অফিস ॥ আবরার ফাহাদকে হত্যার সময় ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ‘যোগাযোগের প্রমাণ পেয়ে’ বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা অমিত সাহাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ছিলেন। আলোচিত এ হত্যাকান্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে তার নাম আসার পরও মামলায় তার নাম না থাকা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। পরে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সবুজবাগে আত্মীয়র বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনসারী তার জামিন নাকচ করে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই যে ফেইসবুকে মন্তব্যের সূত্র ধরে শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তা সংগঠনটির তদন্তে উঠে এলে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়। সোমবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অমিতকেও বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, “ছাত্রলীগ কর্তৃক গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে এই তথ্য উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এর আইন বিষয়ক উপ সম্পাদক অমিত সাহা উক্ত ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথোপকথনের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল।” এ কারণে অমিতকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।  আদালতে বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা ও হোসেন মোহাম্মদ তোহাআদালতে বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা ও হোসেন মোহাম্মদ তোহাবুয়েটের শেরেবাংলা হলের যে ২০১১ নম্বর কক্ষে গত রোববার রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালিয়ে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়, সেই কক্ষেরই আবাসিক ছাত্র অমিত। সেদিন আবরারকে ওই কক্ষে ডেকে নেওয়ার আগে অমিত মেসেঞ্জারে আবরারের খোঁজ করেন তার এক সহপাঠীর কাছে, যার স্ক্রিনশট পরে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। গত সোমবার দিনভর বুয়েটে তদন্ত চালিয়ে ভিডিও ফুটেজ দেখে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  পরে গ্রেপ্তার করা হয় আরও নয়জনকে। এদের মধ্যে অমিতসহ চারজনের নাম আবরারের বাবার করা মামলার ১৯ আসামির তালিকায় ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী, সায়মা ও টিউলিপকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

ঢাকা অফিস ॥ বর্হিবিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কয়েকটি অর্জনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্যে উদ্ভাবনী নারী নেতৃত্বের ১০০ জনের তালিকায় স্থান পাওয়ায় এবং ভাগ্নি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক লন্ডনে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের তালিকায় জায়গা করে নওয়ায় তাদেরকেও মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অভিনন্দন জাননো হয়ে বলে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের দীর্ঘতম মেয়াদে শীর্ষ নারী সরকার প্রধান হিসেবে তাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া’ গত ৯ সেপ্টেম্বর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তার ভিত্তিতে মন্ত্রিসভা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করে। “ভারতের স্বনামধন্য সংস্থা ‘ড. এপিজে আবদুল কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল’ কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ এ ভূষিত করা হয়। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বহুমুখী সম্পর্ক উন্নয়নের যে ভূমিকা নিয়েছেন তার জন্য বিশেষ করে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।” মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “জাতিসংঘের সাথে সম্পৃক্ত সংস্থা ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি)’ প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে গাভি বোর্ডের চেয়ারপারসন ড. নগোজি অকোনজো ইবিলা এই পুরস্কার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।” সম্প্রতি ইউনিসেফ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে। এটার জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ টেগর পিস অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত করা হয়। এটা একটি বিরল সম্মাননা। এজন্যও অভিনন্দন জানানো হয়। তিনি বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বৈশ্বিক মানসিক স্বাস্থ্যে উদ্ভাবনী নারী নেতৃত্বের ১০০ জনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন; এজন্য মন্ত্রিসভা তাকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করে।” যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক লন্ডনভিত্তিক স্বনামধন্য সংবাদপত্র ‘ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড’ প্রকাশিত ২০১৯ সালে লন্ডনে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন; মন্ত্রিসভা এজন্য তাকেও অভিনন্দন জানিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ৩১ হাজার ৫০০ মন্ডপে এবার স্বস্তিতে, নিরাপত্তার সাথে দুর্গাপূজা উদযাপিত হওয়ায় মন্ত্রিসভা সন্তোষ প্রকাশ করে।

দৌলতপুরে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ৩জনকে জেলে প্রেরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ৩ জনকে জেলে প্রেরণ করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। রবিবার বিকেলে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশকালে বিজিবি তাদের আটক করে। বিজিবি সূত্র জানায়, ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে ভারত থেকে বিলগাথুয়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশকালে মহিষকুন্ডি গ্রামের নুরু মন্ডলের ছেলে ওয়ারেশ (৩০), হাসান আলীর ছেলে সুমন (২২) ও মহিষকুন্ডি কলেজপাড়া এলাকার জলিলের ছেলে বিশু (৩৫) কে আটক করে বিজিবি। পরে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লংঘন মামলা দিয়ে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হলে গতকাল দুপুরে তাদের জেল হাজতে প্রেরন করে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

খোকসার শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন পন্ড

ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের নেতাসহ আহত পাঁচজন

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন পন্ড হয়ে গেছে। কৃষকলীগের সভাপতি ও ছাত্রলীগের আহবায়সহ ৫ জন আহত হয়েছে। উপজেলা ৯ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ধারাবাহিক ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের পঞ্চম দিন গতকাল সোমবার সকালে বিলজানি বাজারে শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন ঘোষ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জসহ অন্যান নেতারা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনের সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পর্কে বিষদাগার করেন। এ ঘটনার সূত্রধরে দিধা বিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা মুহুত্যের মধ্যে সম্মেলনের জন্য তৈরী মঞ্চ ও চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের অনুগত উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও ওসমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, ছাত্র লীগের আহবায় শিমুল, রফিকুল ইসলামসহ ৫জন আহত হয়। কৃষকলীগ নেতাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাঁকীরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্র জানায়। স্থানীয়রা জানায়, আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার সময় সব নেতারা হামলার শিকার হন। ধস্তাধস্তির সময় জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার পোশাক ছিড়ে ফেলে বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা। আহত কৃষক লীগ নেতা আনিস বলেন, তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতিপক্ষ কুষ্টিয়া-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের অনুসারীরা সভা চলাকালীন সময়ে তাদের উপর হামলা করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা নেতারাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

হাসপাতালে আহত কৃষক লীগের নেতার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক শিমুল ঘটনার বর্ননা দেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা তার উপর প্রথম হামলা করে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেনি।   উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার বলেন, অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রফিকুল ইসলাম উষ্কানীমুলক বক্তব্য দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

কুষ্টিয়া-৪ আসেনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, বড় দল সম্মেলনের সময় একটু বিরোধ দেখা দেখা দিতেই পারে। তবে এটাকে নেগেটিভভাবে না নেওয়ার জন্য বলেন। তার উপর হামলা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি সব কর্মীর কাছে নেতা। আমার উপর হামলা হয়নি।” তিনি হামলাকারীদের ঠেকানোর জন্য চেষ্টা করেছেন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলীসহ একাধিক নেতার ফোনে কল করা হয় কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করেনি। এ ব্যাপারে থানা ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়। প্রথম থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ লাভ করে। দ্বিধাবিভক্ত নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। ফলে খোকসা সদর ইউনিয়ন, ওসমানপুর ইউনিয়ন, বেতবাড়িয়া ও একতার ইউনিয়নের কমিটি ঘোষনা ছাড়াই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘খুনিরা খুনিই, ‘অপরাধীরা অপরাধীই’ কে কোন দলের তা আমি দেখিনি

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ইতোমধ্যে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর একটি হলে খুন হওয়া আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা গতকাল সোমবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। আবরারের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিল আবরারের পিতা বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ভাই আবরার ফায়াজ সাব্বির, চাচা ও মামা। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, আবরারের মা রোকেয়া খাতুন তার সন্তানের হত্যার পর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরে আপনি যে মাতৃসুলভ ভূমিকা পালন করেছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার নেই।’  প্রেস সচিব বলেন, আবরারের মা কথাটি আট থেকে দশবার বলেন। আবরার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুনিরা খুনিই, ‘অপরাধীরা অপরাধীই’ কে কোন দলের তা আমি দেখিনি।’ শেখ হাসিনা আবরারের মা-বাবাকে বলেন, ‘আপনারা যা হারিয়েছেন তার জন্য সান্তনা দেয়ার ভাষা আমার নেই।’ তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমার দিকে তাকান, আমি এক রাতে সবকিছু হারিয়েছি। আমি আপনজন হারানোর যন্ত্রণা বুঝি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবরারের হত্যাকারীরা মানুষ নয়। ‘যার সাথে তারা বসে পড়ালেখা করছে তাকে তারা কিভাবে হত্যা করতে পারে?’ শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনার পরে পুলিশকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয়া হয়। ‘কিন্তু বুয়েটের কিছু ছাত্র কেন ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করলো তা আমার বোধগম্য নয়।’ প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, গণভবনের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হওয়ার পর আবরারের মা তাঁকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে পরম মমতায় বেশ কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখেন এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত চেয়ারের পরিবর্তে আবরারের মা’র পাশেই বসে পড়েন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান। বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ৭ অক্টোবর ভোর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে মারা হয়। ওইদিন রাত তিনটার দিকে শেরেবাংলা হলে নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার মধ্যবর্তী স্থান থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ এ ঘটনায় চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।

 

সনাক কুষ্টিয়ার মানববন্ধনে বক্তারা

আবরারের নৃশংস হত্যাকান্ড বাক্স্বাধীনতার ওপর নিষ্ঠুরতম আঘাত 

বুয়েটের ছাত্র আবরারের নৃশংস হত্যাকান্ডকে একদিকে বাক্স্বাধীনতার ওপর নিষ্ঠুরতম আঘাত, অন্যদিকে আবরার হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করণের মাধ্যমে অতিদ্রুত শাস্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুষ্টিয়া।  গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে  ৯টায় কুষ্টিয়া বকচত্বরে, সনাক, কুষ্টিয়া’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে একের পর এক রক্তক্ষয়ী ছাত্র সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবদুষ্ট বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা এবং একই কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যত নিষ্ক্রিয়তার ফলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী আদর্শিক ছাত্র আন্দোলনের অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। আবরার হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ছাত্র আন্দোলনের গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সকল ছাত্রসংগঠনসহ শিক্ষাঙ্গণকে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতিমুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তাঁরা। মানবাধিকার কর্মী তাজনিহার বেগম বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থী ও মুক্তমত প্রকাশকারীদের হত্যার মাধ্যমে দেশকে মেধাশুণ্য করার চেষ্টা রুখে দাঁড়াতে হবে। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কুষ্টিয়া রবীন্দ্র সম্মেলন পরিষদ এর সভাপতি আলম আরা জুই বলেন, বুয়েটের ভিসি’র অবস্থান প্রশ্নসাপেক্ষ। তার এবং সমসাময়িক অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসিদের প্রশাসনিক অদক্ষতা, দলীয় আনুগত্য প্রভৃতির কারণেই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে চলেছে। মুক্ত মত প্রকাশকারীদের প্রাণনাশ করার মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে যা সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নাগরিকদের ব্যথিত করছে। সমাজকর্মী কারসেদ আলম বলেন, আবরারের হত্যাকারীদের বিচারের রায় প্রলম্বিত করা যাবে না। হত্যাকারীদের পিছন থেকে শক্তিদাতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। আবরারের শিক্ষক, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও স্বজন সমন্বয়ক খোন্দকার আমানুল্লাহ বলেন, অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী, নিরহংকারী এবং দেশভক্তি ছিলো আবরারের চরিত্রের প্রধান দিক। একজন শিক্ষক হিসেবে ওর হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই।

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সহ-সভাপতি, সনাক ড. সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, বাকস্বাধীনতা এবং মুক্তমত প্রকাশের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরীতে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এবং রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের যে গৌরবোজ্জ্বল অতীত ও  অবিস্মরণীয় ভূমিকা তাকে ম্লান করে দিচ্ছে ছাত্রসংগঠনের ওপর দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির নিষ্ঠুর প্রভাব। আর কোন আবরার যেন মত প্রকাশ করতে যেয়ে প্রাণ না হারায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধি করতে হবে। হত্যায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সনাক সদস্য রফিকুল আলম টুকু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে মুক্তমত প্রকাশ করায় কেউ খুন হবে তা অভাবিত। হত্যাকারীদের দ্রুততর সময়ে গ্রেফতার করে প্রশাসনকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কিন্তু নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারের রায় বাস্তবায়নে কোনভাবেই যেন দায়মুক্তির ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সনাক সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের প্রতি দাবি, তাঁরা যেন উপলব্ধি করেন যে, আবরার হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক অঙ্গণে দীর্ঘদিনের লালিত মরণব্যাধির লক্ষণ মাত্র। এর প্রতিকার সরকারেরই হাতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষাঙ্গণে দুর্বৃত্তায়ন থেকে যারা লাভবান হয়েছেন তাদের চিহ্নিত করুন এবং বিচারের মুখোমুখি করুন। কারণ তারা দেশের যে ক্ষতি করছেন, তা অপূরণীয় ও দীর্ঘমেয়াদি, গণতন্ত্রের জন্য ও মেধাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যাশার পথে ভয়ংকর প্রতিরোধক। টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মো: আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী জেসমিন হোসেন মিনি, সনাক সদস্য আক্তারী সুলতানা প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার বীরমুক্তিযোদ্ধা, সমাজকর্মী, মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, সাংস্কৃতিক কর্মী, নানা শ্রেণী পেশার মানুষ টিআইবি’র ইয়েস, ইয়েস-ফ্রেন্ডস, স্বজন, সনাক সদস্যবৃন্দ এবং টিআইবি কুষ্টিয়া অফিসের কর্মীবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

চুক্তির বিষয়ে কণ্ঠ স্তব্ধ করতে হাফিজকে গ্রেফতার – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ তিস্তাসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির চুক্তির বিষয়ে দেশে ফিরে যেন কথা না বলতে পারে এ জন্যই সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, গতকাল চিকিৎসা শেষে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার সাথে সাথেই সাজানো মিথ্যা মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-বীরবিক্রমকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রথমে বিমানবন্দর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে পরে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করে। তিনি বলেন, এ গ্রেফতার সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানুষের চোখকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার অপকৌশলমাত্র। সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে তিনি পানির ন্যায্য হিস্যা ও দেশের স্বার্থের পক্ষে একজন নির্ভীক ভাষ্যকার। পানি চুক্তির চক্রান্তের নানাদিক তুলে ধরতে পারতেন সাবেক এ পানিসম্পদ মন্ত্রী। এ কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশবিরোধী চুক্তি করে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার বিরুদ্ধে সোচ্চার হাফিজের কণ্ঠকে স্তব্ধ করানোর জন্যই এ গ্রেফতার। চিকিৎসা শেষে অসুস্থ মেজর হাফিজ নিস্তার পেলেন না। কীর্তিমান দেশপ্রেমিক এ মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেফতার করে সরকার তার প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে চাচ্ছে। তার গ্রেফতার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আমরা এ মুহূর্তে তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। এ সময় বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, গতকাল নিশিরাতের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ছাত্রদের ১০ দফা মেনে নেয়া হয়েছে আবার কিসের আন্দোলন?’ প্রথম কথা হচ্ছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ১০ দফা শেখ হাসিনা কিংবা তাদের নিয়োগকৃত উপাচার্য এমনিতেই মেনে নেয়নি, তাদেরকে ১০ দফা দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। আবরার ফাহাদের মতো আর কোনো অসীম সম্ভাবনাময় জীবন যাতে ঝরে না যায় সেইজন্য বুয়েটের শিক্ষার্থীদের এই ১০ দফা। সুতরাং, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এই ১০ দফা মানার ঘোষণা দিলেই সরকারের সব অপরাধ মাফ হয়ে যায় না। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে অসম এবং অধীনতামূলক চুক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে বন্যপ্রাণির মতো পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ। কী অপরাধ ছিল শহীদ আবরার ফাহাদের? সে তো বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছিল। লিখেছিল বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে। ‘শেখ হাসিনা যাতে নোবেল পুরস্কার না পান, সেই ষড়যন্ত্রের অংশ’ চট্টগ্রামের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের এমন বক্তব্য উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘পাগলরা এখন আওয়ামী লীগ করে নাকি আওয়ামী লীগ করলে মানুষ পাগল হয়ে যায়!’ তিনি বলেন, পাগলে কি-না বলে ছাগলে কি-না খায়। মেয়র নাছিরের এই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়, তিনি আসলেই আওয়ামী লীগ। অন্যথায় তার বোঝা দরকার ছিল, নোবেল পুরস্কার র‌্যাব-পুলিশের হাতে নয় যে চাইলেই শেখ হাসিনাকে দেয়া সম্ভব। কিংবা অনুগত দলদাস সাংবাদিক দিয়ে প্রচারণা চালিয়েও নোবেল পাওয়া সম্ভব নয়।

রিজভী আরো বলেন, প্রতিবেশী বন্ধুদের ফেনী নদীর পানি, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর, বঙ্গোপসাগরের উপকূল পর্যবেক্ষণে রাডার স্থাপনের অধিকার, আমদানিকৃত এলজিপি দিয়ে আসার এক সপ্তাহ না যেতেই সেই বন্ধুরাই আমাদের কয়েকজন র‌্যাব সদস্যকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে বেধড়ক পিটিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এতো বড় অন্যায়ের খবর পত্রপত্রিকায় দেখে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। এত বড় ঘটনার পরও সামান্য প্রতিবাদ পর্যন্ত করলো না এই নিশুতি সরকার।

দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করার নজির স্থাপন সরকারের বড় সাফল্য -আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সিলেটের শিশু রাজন ও খুলনার শিশু রাকিব হত্যার বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করে সরকার বিচার ব্যবস্থায় নজির স্থাপন করেছেন। “আজকের শিশু আনবে আলো, বিশ্বটাকে রাখবে ভালো’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিশু অধিকার সপ্তাহ ও শিশু অধিকার সনদের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শিশু সংলাপ ২০১৯ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল রোববার এ কথা বলেন। জাতীয় শিশু একাডেমীতের অনুষ্ঠিত এ সংলাপে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিশু প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন- সেফ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বিশেষ অতিথির হিসেবে বক্তৃতা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার। আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের লক্ষ্য হলো অপরাধীকে শাস্তি দেয়া। সব ধরণের আইনি সুযোগ দিয়ে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি ও বিচার শেষ করার নজির শেখ হাসিনার সরকার স্থাপন করেছে।তিনি বলেন, বুয়েটের আববার হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আইনী ব্যবস্থায় কোন ক্ষমা নেই। বিদ্যমান আইনেই দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে। ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান হত্যা মামলায়ও দ্রুত সময়ে শেষ হতে যাচ্ছে। মামলা সাক্ষ্য-যুক্তিতর্ক শেষে এখন রায়ের জন্য ধার্য রয়েছে।র‌্যাগিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি অপরাধ। র‌্যাগিং এর শিকার হলে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকের কাছে নালিশ করার পরামর্শ দেন তিনি ।প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ওই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ডের রায় অসুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ আসামী আত্মস্বীকৃত খুনী। এ আসামী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন-নেছা মুজিব, শিশু রাসেলসহ ১৮ জনকে গুলি করে হত্যার সঙ্গে জড়িত। আদালত তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। এখানে তার একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। এ আসামী যড়যন্ত্র ও হত্যায় জড়িত। আমরা তাদের বলেছি। এখানে দন্ড মওকুফে আমাদের কোন সুযোগ নেই। মৃত্যুদন্ডই এখানে একমাত্র সাজা। আইনমন্ত্রী আরো বলেন, অপরাধীকে সাজা দেয়া হচ্ছে আইনের কাজ। এটা সমাজেরও চাহিদা। যদি কোনো অপরাধে মৃত্যুদন্ড কাউকে দেয়া হয় এবং সে আসামী বিদেশে পলায়ন করলে অনেক ক্ষেত্রে তাকে দেশে ফিরে আনা যায় না। সে জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজার বিধান রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও আসামী মনে করবে অপরাধ করলে আমাকে যাবজ্জীবন জেলে থাকতে হবে এটাও বড় শাস্তি।

 

মিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের সংঘর্ষে আহত ১০

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’ক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। গতকাল রোববার  সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বলিদাপাড়া এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- হায়দার আলী (৫৫), শাজাহান খান (৩৫), শহিদুল ইসলাম (৪২) সেকেন আলী ৩৫), দাউদ আলী (৩০) ইনু (২০) সহ দুই গ্র“পের ১০জন। পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম আলী প্রামানিকের সাথে একই এলাকার হায়দার আলীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে সকালে হায়দার আলীর লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে মশান বাজারে ইব্রাহিম প্রামানিক গ্র“পে  সেকেন আলীর উপর হামলা চালায়। এসময় দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন একে অপরের উপর হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। সংঘর্ষে হায়দার আলী গ্র“পের বলিদাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ খানের ছেলে হায়দার আলী (৫৫), শাজাহান খান (৩৫), হায়দার আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪২) এবং ইব্রাহিম গ্র“পের আকমল মালিথার ছেলে সেকেন আলী ৩৫), দাউদ আলী (৩০) ও ইছাহকের ছেলে ইনু (২০) সহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় সাতজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠনো হয়।

দৌলতপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা : গ্রেফতার-৩

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল রবিবার দুপুরে দৌলতপুর থানায় একপক্ষের মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কান্দিরপাড়া গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত: ১৫জন আহত হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার অধিপত্য বিস্তার ও বিয়ে সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রশিদ মুন্সির লোকজন প্রতিপক্ষ মিরাজ প্রমানিককে মারপিট করে। এরই জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় মিরাজ প্রমানিকের নেতৃত্বে ১৫-১৬জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রশিদ মুন্সির বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে রশিদ মুন্সি (৬০), পচাই মুন্সি (৫৫), বোরহান আলী (২০), আলামীন (২২), শ্যামল (২৪), নুরু মুন্সি (৫৫), আতর মুন্সি (২৭), শামীম (১৭), আখলিমা খাতুন (৪২) এবং মিরাজ প্রামানিক (৪৮) ও লেবু প্রামানিক (৩৭) সহ উভয় পক্ষের অন্তত: ১৫জন আহত হয়। আহতদের দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। আহতদের মধ্যে রশিদ মুন্সি ও পচাই মুন্সি’র আশংকজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত রশিদ মুন্সির ভাই হামিদুর মুন্সি বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দিয়েছে। মামলার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত ৩জনকে গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কুষ্টিয়া হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা মুরাদ

নিজ সংবাদ ॥ ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন কুষ্টিয়া সদর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওয়াহেদ মুরাদ। অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে তিনি সততা ও যোগ্যতার দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন। ওয়াহেদ মুরাদ ১৯৯৫ সালে কুষ্টিয়া সদর থানা ছাত্রলীগের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন। সততা ও দক্ষতার সাথে তিনি ২০০৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তিনি সদর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকালে তিনি এবং তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশিদুজ্জামান খান টুটুল এক এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে সদর থানা ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করেন। তৎকালীন সদর থানাভূক্ত ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় সবকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন শেষে থানা ছাত্রলীগের সফল সম্মেলন আয়োজনের মধ্যদিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ দায়িত্ব পালনকালে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা বা কোন প্রকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। যা আজও সর্বমহলে প্রসংশিত এবং উদাহরণ হয়ে আছে। মুরাদ কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। কর্মজীবনে তিনি ঠিকাদারী পেশার সাথে জড়িত। আর্থিক সংকটের কারনে মুরাদ এক সময় রাজনীতি থেকে কিছুটা দুরে থাকলেও বর্তমানে তিনি আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন এবং দি ওল্ড কুষ্টিয়া হাই স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিষয়ে হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্মীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ওয়াহেদ মুরাদকে যদি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় তাহলে হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতি আরও সুসংগঠিত হবে এবং  সুনাম ও ঐতিহ্য বৃদ্ধি পাবে।