নির্বাচন নিয়ে বিদেশীদের কাছে নালিশ করাও একধরনের আচরণ বিধি লংঘন – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে বিদেশীদের কাছে নালিশ করাও একধরনের নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন। তিনি বলেন, ‘যে কোন নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ উপস্থাপন করা এবং নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ছোট খাটো যে ঘটনা গুলো হচ্ছে, সেগুলো বিদেশীদের কাছে উপস্থাপন করাও তো এক প্রকার নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন।’ হাছান মাহমুদ গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে বিএনপি হাইকোর্টে গিয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তারা হাইকোর্টে গিয়েছিল ইভিএম এর বিরুদ্ধে। হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেয়নি। সর্বোচ্চ আদালতে তাদের অবেদন রিজেক্ট করে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘যেখানে হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেয়নি, আবার সেই একই নালিশ বিদেশিদের কাছে গিয়ে উপস্থাপন করা তো আদালত অবমাননার শামিল এবং যে কোন নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কাছে অভিযোগ করা এটিও তো আচরন বিধি লংঘন।’ হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির কোন অভিযোগ থাকলে তা ভোটার ও জনগনের কাছে উপস্থাপন করবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে বিদেশী রাষ্ট্রদুতের কাছে উপস্থাপন করা অনেকেই মনে করেন এটিও এক প্রকার আদালত আবমাননার শামিল। বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম হচ্ছে একটি অধুনিক প্রযুক্তি। পুরো ভারত বর্ষের সাধারণ নির্বাচনে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হয়েছে এবং ভারতে এই ভোট গ্রহণ বিষয়ে তেমন কোন অভিযোগ ওঠেনি। যুক্তরাষ্ট্রেও ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হয়েছে। হাছান মাহমুদ বলেন, এই অধুনকি প্রযুক্তি দিয়ে কেন ভোট গ্রহণের বিরোধীতা করছে বিএনপি তা আমরা বোধগম্য নয়। তবে বিএনপি সব সময়ে অধুনিক প্রযুক্তির বিরোধীতা করে। কারণ তারা প্রযুক্তিকে ভয় পায়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল বাংলাদেশকে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তখনকার সরকার প্রধান খালেদা জিয়া সাবমেরিন ক্যাবল সুবিধা গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি ভেবে ছিলেন যে দেশের অভ্যন্তরিন গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে। কিন্তু পরবর্তিতে আওয়ামী লীগের সরকারের সময় কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে সংযুক্ত হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ইভিএম এর ক্ষেত্রেও বিএনপির মানসিকতা একই রকম। দেশে এক সময়ে হাত তুলে ভোট হত। পরবর্তিতে ব্যালোটের মাধ্যমে ভোট নেয়া শুরু হয়। ইভিএম ইতিপূর্বে বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন ও সংস্দ নির্বাচনের ইভিএম ব্যবহার হয়েছে। এতে দেখা গেছে কেন্দ্র দখল, ব্যালটে সিল মারার তেমন কোন অভিযোগ আসেনি। কিন্তু তারপরও তারা ইভিএম নিয়ে অভিযোগ করছে। হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনে তারা পরিজিত হবে তা বুঝতে পেরে আগে থেকেই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার পথ তৈরি করার চেষ্টা করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনার পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। যেমন হাইকোর্টের বিচারপতি, সেগুলোও সাংবিধানিক পদ। হাইকোর্টের কোন বিচারপতি যেমন তাদের অভ্যন্তরিন বিষয় জনগনের সামনে উপস্থাপন করেন না এবং সেটি নিয়মও নয়। সাংবিধানিক পদে থেকে সেটি করা সমিচিন নয়। এটি একান্তই অভ্যন্তরিন বিষয়। তাই সাংবিধানিক পদে থেকে নিজেদের কর্মপরিবেশ নিয়ে নিজেদের ফোরামে কথা বলাই ভাল। সেটি জনসমুখে বিশেষ করে গণমাধ্যমের সামেনে বলা, সেটি তার সাংবিধানিক পদের বর খেলাপ কিনা সে বিষয়ে অনেকেই প্রশ্নে তুলেছেন।

গাংনীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুল ছাত্রী নিহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জেবা খাতুন (৯) নামের এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। নিহত জেবা গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের ইকুড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও ইকুড়ি গ্রামের জসিম উদ্দীনের মেয়ে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে গাংনী-হাটবোয়ালিয়া সড়কের ইকুড়ি আখ  সেন্টারের নিকট দ্রুতগামি একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জেবা খাতুন মারা যায়। জেবার চাচা হামিদুল ইসলাম রতন  জানান জেবার খালাতো ভাই পার্শ্ববর্তি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঝুটিডাঙ্গা গ্রাম থেকে তাদের বাড়িতে আসছিল। জেবা তার খালাতো ভাইকে এগিয়ে নেয়ার জন্য ইকুড়ি গ্রামের আখ সেন্টারের কাছে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কায় দেয়। ওই ধাক্কায় সে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে মোটরসাইকেল চালক আলমডাঙ্গা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের খেদ আলীর ছেলে হক সাহেবকে (২৫) গাংনী থানা পুলিশ আটক করেছে। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের ছাতিয়ান নামক স্থানে ইজিবাইক খাদে পড়ে গাংনী উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের রেহেনা খাতুন (২৫), শিউলি(২০), সফুরা(৬৫), স¤্রাট (১৫), নাজমা (৩২) ও অটো চালক শাজাহান আলী আহত হয়েছে। আহতদের বামন্দীর বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

গোপীবাগের ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করতে কমিশনের প্রতি আহ্বান ওবায়দুল কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর গোপীবাগে সিটি করপোরেশ নির্বাচনী প্রচারণার সময় সংঘর্ষের ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করতে কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আহবান জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেখানে ভিডিও ফুটেজ আছে। গুলি কোন পক্ষ থেকে এসেছে, অফিসে লাথি মারা, এগুলোর ভিডিও ফুটেজে আছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত সঠিক তদন্ত করা। সত্য উদঘাটন করা।’ বিএনপির অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজে যেটি আছে তাতে সেটি মনে হয় না। বিএনপি কিছু কিছু অভিযোগ আনছে যেগুলো একেবারেই অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মতো।’ মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখানে একজন কমিশনার ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন। কিন্তু তিনি (মাহবুব তালুকদার) কথায় কথায় যেভাবে তাদের ঘরের বিষয়, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া বাইরে নিয়ে আসছেন, সেটা অবশ্যই সমর্থনযোগ্য নয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভিতরে আবার লেভেল পে¬য়িং বিষয় কী? তিনি (মাহবুব তালুকদার) ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন। তবে ইদানীং বিএনপি যে সুরে কথা বলছে, একই সুরে মাহবুব তালুকদারও কথা বলছেন। মনে হয়, তিনি একটা পক্ষ নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমরা কথা বলবো। আপাতো দৃষ্টিতে মনে হবে প্রত্যেকেই নিজের পক্ষে কথা বলছে। বিএনপি তাদের কথা বলছে। বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের উনারা (বিএনপি) বুঝাতে চাইছেন যে, আক্রমনটা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ভিডিও ফুটেজে যা কিছু আছে তাতে কিন্তু সেটা মনে হয় না। ইসিকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বর্তমান উৎসব মুখর পরিবেশে অব্যাহত রাখতে নির্বাচন কমিশনকেই উদ্যোগ নিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এখন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। যারা পরিবেশ নষ্ট করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কমিশনই ব্যবস্থা নিতে পারেন। শেষ সময়ে আমরা কোনো প্রার্থীকে আটক বা হয়রানি করতে নির্দেশ দিচ্ছি না।

আইলচারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে আতাউর রহমান আতা

উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান হতে হবে

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেছেন, সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নৈতিকতা শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে। উচ্চ শিক্ষাই শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান হতে হবে। আতাউর রহমান আতা আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের ভেতরে যে সুপ্ত প্রতিভা, সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে তা শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। সেই শিক্ষার আলো সমাজকে আলোকিত করতে পারে। এ লক্ষ্যে আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবীণ বরণ, এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক, আইলচারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি খাকছার আলী জোয়ার্দ্দার, প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম, আইলচারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিদ্দিদুর রহমান, অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগি সংগঠনের শত শত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খোকসায় ট্রাক উল্টে চালক ও সহযোগী আহত

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসায় পাথর বোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও তার সহযোগী গুরুতর আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাতটার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে একটি পাথর বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায় (ঢাকা মেট্রো ট ২২-৬৭১৯)।  দুর্ঘটনার সময় চালকের সহকারী ট্রাকটি চালাচ্ছিল। এতে আহত ড্রাইভার সাদ্দাম (২৮), ও সহযোগী মাসুদ (৩০) কে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভার্তি করে। আহতরা মাগুড়ার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বলিদা পাড়ার বাসিন্দা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ সায়েম জানান, আহতদের হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চালকের পিঠের বেশী অংশের চামড়া উঠে গেছে।

কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের হিসাব সহকারী টিপুর বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজীর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের হিসাব সহকারী মোঃ আশরাফুল ইসলাম টিপুর বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজীর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা জানা যায়- এই হিসাব সহকারী টিপু বিএনপি’র কর্মী হিসেবে তৎকালীন গণপূর্ত মন্ত্রী  মির্জা আব্বাসের মাধ্যমে হিসাব সহকারী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ২০০৬ সালে চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগে যোগদান করেন। তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে  চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগের অফিস তথা টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রনে নিয়ে প্রায় দীর্ঘ ১৪/১৫ বৎসর  টেন্ডারবাজী করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে। তার এহেন কার্যকলাপে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ অভিযোগ হয়। এক পর্যায়ে তিনি দুদকের হাত থেকে আড়াল হতে নিজ জেলা কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগে বদলী হয়ে আসে। সূত্র জানা যায়, কুষ্টিয়াতে বদলী হতে আসার পর বেশ কিছুদিন নীরব থেকে তৎসময়ের নির্বাহী প্রকৌশলী  মোঃ শফিউল হান্নান (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) সাথে যোগসাজোসে টেন্ডারবাজী করে তাদের  মনোনীত ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী দক্ষ ও বিচক্ষন অফিসারে মধ্যে একজন। তাঁর কাছেও তিনি আস্থাভাজন হয়ে ওঠে। বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর চোখের আড়ালে টিপু একাই পুরা অফিসসহ  টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে মনোনীত ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয় এবং ২/১ জনের  সাথে কাজের পার্টনার আছে বলে জানা গেছে। এক পর্যায়ে স্থানীয় ঠিকাদারবৃন্দ তার বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। তাতেও কোন প্রতিফলন হয় নাই। এভাবে অবৈধ উপার্জন করে তিনি নামে/ বেনামে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিংএ পৈত্রিক ভিটায়  তিনতলা ভবন নির্মাণ করেন এবং  হাউজিং এ আরো দুটি প্লট আছে তার নামে। কুষ্টিয়া শহরের এন,এস রোডে  থানা মোড় মার্কেটে দোকান রয়েছে।  শেয়ার বাজারেও  প্রায় অর্ধ কোটি টাকার লেন-দেন রয়েছে এই হিসাব সহকারী টিপুর। তিনি বেতন পান ২৫ হাজার টাকা অথচ জীবন বীমা শিক্ষাবৃত্তি ইন্সুরেন্সে মাসিক ২৫ হাজার টাকা করে প্রিমিয়াম হিসাবে কিস্তি দেন। ১৫/২০ দিন আগে তিনি হিসাব সহকারী থেকে প্রমোশন পেয়ে হিসাব রক্ষক হিসাবে নিলফামারী  গণপূর্ত বিভাগে যোগদান করেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় এখনও কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের টেন্ডার নিয়ন্ত্রন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে তিনি নিলফামারী থেকে এসে   গতক ২৫ জানুয়ারি কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগে উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের নিয়ে টেন্ডার সংক্রান্ত কাজ নিয়ে মিটিং করেন (যা সিসিটিভি’র ফুটেজ দেখলে জানা যাবে)। স্থানীয় ঠিকাদারবৃন্দ অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে আতঙ্কে আছে অনেকে। মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আশরাফুল ইসলাম টিপু’র অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্তসহ তার এই টেন্ডারবাজীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী জানিয়েছেন ঠিকাদারগণ।

বিএসএমএমইউর পরিচালকের বক্তব্য মনগড়া – বিএনপি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) যে বিবৃতি দিয়েছে সেটাকে মনগড়া ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার বলে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানিয়েছে দলটি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সোমবার দুপুরে ১ টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে হত্যার আয়োজন সম্পন্ন করেছেন সরকার। তাকে দেখে এসে তার স্বজনরা কান্নাভেজা কণ্ঠে জানিয়েছেন, দিন দিন অবস্থার আরো অবনতি হচ্ছে। সারাক্ষণ বমি করছেন। তার গায়ে প্রচ- জ্বর। সারাক্ষণ তীব্র ব্যথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নামকাওয়াস্তে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। তার যে ভয়াবহ অবস্থা, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করতে হবে। তার শরীর খুবই খারাপ। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে বেগম খালেদা জিয়া কথা বলতে পারছেন না। সেখানে ভর্তির পর এখনো তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না, কিছু খেতে পারছেন না, হাত পা নাড়াতে পারছেন না। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।’ তিনি বলেন,‘যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অসুস্থতা গভীর সংকটাপন্ন। অথচ বিএসএমএমইউ হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডও তার অসুস্থতা যে দেশে নিরাময়যোগ্য নয় সেটি উল্লেখ করলেও আদালত তাকে জামিন দেয়নি। ন্যায়বিচারহীনতার এই বিপজ্জনক ছবি পৃথিবীতে বিরল।’ রিজভী বলেন, ‘বিএসএমএমইউর পরিচালক অসুস্থতা নিয়ে এক সংবাদ বিবৃতি দিয়েছেন। এই বিবৃতি মূলত: শেখ হাসিনারই ফরমান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আশানুরূপ উন্নতি হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থিতিশীল রয়েছে, তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে, মুখের ঘা সেরে গেছে, দাঁতের ব্যথা ভাল হয়েছে, শারীরিক দুর্বলতার উন্নতি হয়েছে, আর্থারাইটিসের ব্যথা কমানোর জন্য আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয় কিন্তু তিনি নাকি আর্থারাইটিসের চিকিৎসা নিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেননি, ফলে আর্থারাইটিসের আশানুরুপ উন্নতি হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিচালকের এসকল বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, মনগড়া ও ফরমায়েশি বিবৃতি। সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই বলেই তো কাদের সাহেবরা বিদেশে চিকিৎসা নেন। শেখ হাসিনা কারাবন্দি থাকা অবস্থায় স্কয়ার কিংবা বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। গণভবনে বসে শেখ হাসিনার তৈরি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি বিএসএমএমইউ হাসপাতালের নামে প্রচার করা হয়েছে। সেখানে ইনিয়ে বিনিয়ে বেগম জিয়াকে সুস্থ বলে প্রচারের অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন শুধু মিথ্যাই নয়, একজন চিকিৎসকের পেশাদারি এথিক্সের পরিপন্থী। পরিচালক নিজে একজন ডাক্তার হয়ে এরকম কুৎসিত মিথ্যাচার করতে পারেন যেটি এই মহান পেশাকে কলঙ্কিত করে। দেশের চারবারের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থতা নিয়ে পরিচালকের বিবৃতি গণভবনে তৈরি, আমি এই জীবন্ত কল্পকাহিনীর বিবৃতি ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি।’ রিজভী বলেন,‘ হাসপাতালের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যিনি চিকিৎসক, এ ধরনের বিবৃতি দিতে পারেন! তাহলে কি বেগম খালেদা জিয়ার বোন মিথ্যা কথা বলছেন? তিনি তো মিথ্যা বলার লোক নন। তিনি তার বোনকে দেখে শারীরিক অবস্থা নিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন? বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকারি চাপের মুখে গণমাধ্যমে সব সংবাদ প্রকাশিত না হলেও বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে আসল ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি সুইডেনের সংবাদ মাধ্যম নেত্র নিউজে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাবন্দি বিএনপি নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া “পঙ্গু অবস্থায়” আছেন এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য তিনি অপরের সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে এই তথ্য দিয়েছে তার চিকিৎসার জন্য গঠিত বিএসএমএমইউ হাসপাতালের একটি মেডিক্যাল বোর্ড। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির সাথে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টটি পাঠানো হয় ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর। পরদিন, অর্থাৎ ১২ই ডিসেম্বর, আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার এই ভয়াবহ পঙ্গু অবস্থার প্রতিবেদন পাওয়া সত্ত্বেও জামিনের আবেদন বাতিল করে দেয় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে। নেত্র নিউজ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টটির একটি রিডাক্টেড কপিও (স্পর্শকাতর অংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে এমন) প্রকাশ করে। আমরা সরকারকে বলবো- আজই বেগম জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উন্নত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুযোগ প্রদান করা হোক। তাকে বেঁচে থাকার সুযোগ দিন।’ রোববার দুপুরে গোপীবাগ এলাকায় ধানের শীষের প্রচারণায় হামলার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর অফিস থেকে সরকারদলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা ও গুলি চালালে ইশরাক হোসেনসহ ২০/২৫ জন নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকরা গুরুতর আহত হয়। গুরুতর আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমে এই খবর ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। অথচ পুলিশ উল্টো ১৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। মেয়র প্রার্থী ইশরাক ও নেতাকর্মীদের ওপর এই হামলা ভোটের দিন ভোট ডাকাতির পূর্ব-মহড়া। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এই হামলা। দেশে যে আইনের শাসনের বদলে পুলিশি শাসন চলছে তা পরশুর হামলা ও মামলায় তা আবারও প্রমাণিত হলো।’

করোনাভাইরাস: নিরাপদ থাকতে যা করতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে কেড়ে নিয়েছে ৮১ জনের প্রাণ, সংক্রমিত হয়েছে তিন হাজারের বেশি মানুষের দেহে। ২০০২ সালে সার্স এবং ২০১২ সালের মার্সের মতই এ নভেল করোনাভাইরাস একই পরিবারের সদস্য, যারা ছড়াতে পারে মানুষ থেকে মানুষে। মধ্য চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের ধারণা, মানুষের দেহে এ রোগ এসেছে কোনো প্রাণী থেকে। তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস। করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপাইরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে। পরিণতিতে ঘটতে পারে মৃত্যু। মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমণের পর লক্ষণ দেখা দিতে পারে এক থেকে ১৪ দিনের মধ্যে। কিন্তু লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ার আগেই এ ভাইরাস ছড়াতে পারে মানুষ থেকে মানুষে। আর এ কারণেই চীনে এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ১২টি দেশে নোভেল করোনাভাইরাস ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশে এখনও এ রোগে আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। নোভেল করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। ভাইরাসটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। দেশে যদি এ ভাইরাস ছড়িয়েই পড়ে, তাহলে কীভাবে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করা যায় সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ১. ঘরের বাইরে যখন যাবেন গ্লাভস বা হাতমোজা পড়ুন। বাসে বা যে কোনো গণপরিবহনেও হাত ঢেকে রাখুন গ্লাভসে। যদি কখনও সামাজিক প্রয়োজনে হাত মেলাতে বা খাওয়ার জন্য গ্লাভস বা হাতেেমাজা খুলতেও হয়, ওই হাতে মুখ চোখ নাক স্পর্শ করা যাবে না। আবার গ্লাভস পরার আগে অবশ্যই গরম পানি আর সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে হাত।  ২. যে গ্লাভস বা হাতমোজা পড়ে একবার বাইরে ঘুরে এসেছেন, খুব ভালোভাবে পরিষ্কার না করে তার দ্বিতীয়বার ব্যবহার করবেন না। ভেজা বা স্যাঁতস্যাঁতে গ্লাভস বা হাতমোজা ব্যবহার করবেন না। ৩. ধুলো আর ধোঁয়া থেকে বাঁচতে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন। তবে ঘরের ভেতরে বা বাইরে এ ধরনের মাস্ক করোনাভাইরাস থেকে খুব বেশি সুরক্ষা হয়ত দেবে না। কাপড় বা কাগজের তৈরি এসব মাস্ক কয়েকবার ব্যবহার করলেই নষ্ট হয়ে যায়। একই মাস্ক দিনের পর দিন ব্যবহার করলে তা বিপদের কারণ হতে পারে। তারচেয়ে বরং মাস্ক না পরাও ভালো। ৪. কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখতে হবে। টিস্যু ব্যবহার করতে হবে, যা অবশ্যই একবার ব্যবহারের পর ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে। ৫. কেউ যদি কাশতে থাকেন বা নাক টানতে থাকেন, কারও মধ্যে যদি সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তার অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিৎ, অন্তত অন্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে। ৬. করোনাভাইরাস যদি ছড়িয়েই পড়ে, নিরাপদ থাকার একটি চেষ্টা হতে পারে ভিড় এড়িয়ে চলা এবং অন্যদের থেকে কিছুটা দূত্ব বজায় রেখে কথা বলা, সেটা হতে পারে দেড় ফুট দূরত্ব। হাত মেলানো বা কোলাকুলি থেকে সাবধান, সেটা সবার ভালোর জন্যই। ৭. বাসায় টয়লেট আর কিচেন থেকে পুরনো সব তোয়ালে সরিয়ে দিতে হবে প্রত্যেকের জন্য আলাদা তোয়ালে। সবাই তার জন্য নির্দিষ্ট তোয়ালেই ব্যবহার করবে, অন্যদেরটা কথনও স্পর্শ করবে না। সব তোয়ালে নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ভেজা বা ড্যাম্প তোয়ালে হতে পারে ভাইরাসের বাসা, সুতরাং সাবধান। ৮. বাসার যে জায়গাগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানুষের হাত পড়ে, তার মধ্যে একটি হর দরজার নব। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি যখন আশপাশে, তখন ডোরনব ব্যবহারেও সাবধান। সম্ভব হলে গ¬াভস পরে দরজা খোলা বা বন্ধ করার কাজটি করতে হবে। তা না হলে অন্তত ভালো ভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে হাত। একই ধরনের সতর্কতা দেখাতে হবে সিঁড়ির রেলিং, ড্রয়ার, কম্পিউটার কি-বোর্ড আর মাউস, ল্যাপটপ, কলম, বাচ্চাদের খেলনা- এরকম যে কোনো কিছুর ক্ষেত্রে যা মানুষ হাত দিয়েই ব্যবহার করে। ৯. আপনি যদি সব সময় নিজের জিনিসপত্রই ব্যবহার করেন, সেগুলো যদি আর কেউ কখনও স্পর্শ না করে, তাহলে মোটামুটি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। তবে যদি কখনও অন্যের ব্যবহৃত সামগ্রী আপনাকে ধরতে হয় কিংবা আপনার কিছু অন্যকে ব্যবহার করতে দিতে হয়, অবশ্যই ওই হাত ধোয়ার আগে নাখ, মুখ বা চোখ ছোঁবেন না। ১০. মাংস, ডিম বা শাকসব্জি ভালোভাবে ধুয়ে এমনভাবে রান্না করতে হবে যাতে কোনোভাবে কাঁচা না থাকে। সেই সঙ্গে প্রচুর তরল পানের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তথ্যসূত্র: ফরেইন পলিসি ম্যাগাজিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডবি¬উএইচও

ঝিনাইদহে ফেন্সিডিলসহ প্রাইভেট কার আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বানিয়াবহু গ্রাম থেকে ৩’শ ৮২ বোতল ফেন্সিডিলসহ ঢাকা মেট্রো-গ-১১-২৭৫২ নম্বর  প্রাইভেট কারটি আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে  ফেন্সিডিল ও প্রাইভেট কারটি আটক করা হয়। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মঈন উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে বানিয়াবহু এলাকা দিয়ে মাদক পাচার হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদ হোসেন, ওসি (অপারেশন) আবুল খায়ের ও নলডাঙ্গা ক্যাম্পের আইসি নাঈমসহ পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রাইভেট কারসহ ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। এদিকে ঝিনাইদহ সদর থানার ডাকবাংলা বাজার পুলিশ ক্যাম্পের আইসি মকলেছুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সাধুহাটী বাসস্যান্ড থেকে যাত্রীবাহী সাথী পরিবহনের একটি বাস থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানার ধুপাখালী গ্রামের শরিফুল ইসলামের নিকট থেকে ৩০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।

দৌলতপুরে ইয়াবাসহ আটক-১

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইয়াবাসহ আয়নাল হক (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মহিষকুন্ডি বাজারে অভিযান চালিয়ে ২৩ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করে মহিষকুন্ডি বিওপি’র টহল দল। আটক মাদক ব্যবসায়ী মহিষকুন্ডি এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। পরে তাকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ বাস্তবায়ন দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ বাস্তবায়নে বিষয় ভিত্তিক দাবি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘কম্পন’ নামে জেলা প্রতিবন্ধী ফেডারেশন। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘কম্পন’ জেলা প্রতিবন্ধী ফেডারেশনের সভাপতি জেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘কম্পন’ জেলা প্রতিবন্ধী ফেডারেশনের মাসুমা আক্তার শাপলা।  সংবাদ সম্মেলনে অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া শহর সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আশাফুদ্দৌলা, কুষ্টিয়া ব্লাস্ট সমন্বয়ক এ্যাড. শংকর মজুমদার, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু প্রমুখ। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ও বিচ্যুতির বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রতিবন্ধী ফেডারেশনের ফেরদৌসি আক্তার রুবী। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের সার্বিক কল্যাণের লক্ষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। ছয়টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত নীতিমালাটি কার্যকর হলে প্রতিবন্ধীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতার আরেক ধাপ অগ্রগতি সাধিত হবে। এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে এদেশের সংবিধানের সর্বচ্চো ঘোষনা সবার সমনাধিকার, মানবসত্তার মর্যাদা মৌলিক মানবাধিতার ও সামাজিক সাম্যাধিকার সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ও বিচ্যুতির বিষয় তুলে ধরে সেগুলি নিরসনে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট মহল ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা। এসময় সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উম্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহন করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘কম্পন’ জেলা প্রতিবন্ধী ফেডারেশন প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক আব্দুর রাজ্জাক।

কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়

দোকান কর্মচারী হত্যা মামলায় যুবকের ফাঁসি

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার সদর মডেল থানায় দোকান কর্মচারীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক যুবকের মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার  বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী আসামীর উপস্থিতিতে এক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষনা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন-কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়া  এলাকার মৃত  দেলোয়ার হোসেনের ছেলে লিটন (৩২)। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২০ জুন রাত সাড়ে ১১টায় শহরের আড়–য়াপাড়া এলাকার ৩নং স্কুল সংলগ্ন নয়নের  দোকানের সামনে গার্মেন্টস দোকান কর্মচারী ইয়াছির আরাফাত লাল্টু চিপস কিনে খাওয়ার সময় পূর্ব শক্রতার জের ধরে প্রতিমোধ নিতেই আসামী লিটন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় লাল্টুর বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত লাল্টুকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় লাল্টুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসক।  পরদিন ২১ জুন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাল্টুর মৃত্যু হয়। এই এঘটনায় নিহত ইয়াছিন আরাফাত লাল্টুর পিতা খন্দকার সামসুল আলম কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিটনকে প্রধান ও একমাত্র আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং-২৯, তারিখ- ২৩-০৬-২০১৬ইং।

কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৯ অক্টোবরে আদালতে চার্জশীট দিলে মামলাটি সেশন – ৮৯০/২০১৬ নং মামলায় নথিভূক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের একাধিক ও দীর্ঘ স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে আসামী লিটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় পেনাল  কোড দ:বি ৩০২ ধারায় আসামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. মীর আরশাদ আলী।

প্রশ্ন উঠেছে রেজা’র জন্য প্রশাসন নিয়োগ বিধি ও শর্ত শিথিল করেছে কি না?

একই নিয়োগে অন্যরা চাকুরী করছেন মন্ত্রণালয়ের সনদে

ইবিতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সনদ ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় ১০ বছর ধরে চাকুরী করছেন ভিসি’র পিএস রেজা

 

 

 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রধান ও অন্যতম শর্তভঙ্গ করে বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকুরী করছেন এক কর্মকর্তা। অথচ একই পদে অন্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ দিয়ে চাকুরি করছেন। প্রশ্ন উঠেছে রেজার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ বিধি ও শর্ত শিথিল করেছে কি না? আর সনদ ছাড়াই যিনি চাকুরি করছেন তার নাম রেজাউল করিম (রেজা)। তিনি ভাইস-চ্যান্সেলর অফিসের উপ-পরিচালক (পিএস টু ভিসি)। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রালয়ের সনদ প্রদর্শন ও জমা না দিলেও তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সনদ দিয়েই প্রায় ১০ বছর চাকুরী করে চলেছেন। তবে ওই নিয়োগ বিধির কোথাও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ইস্যুকৃত সনদের কথা কোথাও উলে¬খ ছিল না। এত বছরেও ইবি প্রশাসনের বিষয়টি নজরে না আসা হতাশাজনক বলে মনে করেন অনেকে। এমনকি প্রশাসন বিষয়টি যাচাই করার মত পদক্ষেপও নেয়নি। এ সুযোগে রেজা বহাল তবিয়তে চাকুরি করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২১ অক্টোবর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তির নির্দেশিকায় মুক্তিযোদ্ধা/মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্র/সাময়িক/মূল সনদপত্রের সত্যায়িত কপি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে এবং নিয়োগ বাছাই বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত সাময়িক/মূলসনদপত্র আনতে বলা হয়। সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মোঃ রেজাউল করিম, পিতা-মরহুম আব্দুস ছোবহান, গ্রাম- মুকুন্দগাতী, ডাকঘর-শেরনগর, উপজেলা-বেলকুচি, জেলা-সিরাজগঞ্জ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে বেশ কয়েকটি অফিসে আবেদন করেন। তিনি তার আবেদনের সাথে মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত সনদের পরিবর্তে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত সনদের সত্যায়িত কপি জমা দেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে তিনি  ২০১০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি ভাইস-চ্যান্সেলর অফিসের উপ-পরিচালক (পিএস টু ভিসি) হিসেবে কর্মরত আছেন। এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী চাকুরী প্রাপ্ত অন্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ জমা দিলেও মোঃ রেজাউল করিম (রেজা) কি ভাবে মন্ত্রণালয়ের সনদ ছাড়াই দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর চাকুরী করছেন এমন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা এ বিষয়ে অতিদ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও ইবির একজন কর্মকর্তা বলেন,‘ আমরা সকলেই মুক্তিযোদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সনদ ও গেজেট দিয়ে চাকুরি করছি। একই বিধিতে আইন সবার জন্য সমান। কেউ অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। যদি করে তা অবৈধ ও বেআইনী।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার হাজী রফিকুল আলম টুকু বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা/মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ চাওয়া হয়। সেখানে মন্ত্রণালয়ের সনদ ব্যতিত মুক্তিযোদ্ধা/ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকুরী বৈধ হতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের সনদের কোন বিকল্প নেই।  পাশাপাশি গেজেট ও লাল মুক্তিবার্তায় নাম থাকতে হবে। চাকুরির ক্ষেত্রে কমান্ড কাউন্সিলের সনদের কোন মূল্য নেই। যদি কেউ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সনদ বাদে চাকুরি করে এমন বিষয় সামনে আসলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয় মন্ত্রণালয়ের সনদ সম্পর্কে জানতে চাইলে মোঃ রেজাউল করিম  (রেজা) বলেন, আমার পিতা একজন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি মুক্তিযোদ্ধা বিষয় মন্ত্রণালয়ে সাময়িক সনদ প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছি কিন্তু এখনো পাইনি। তবে নিয়োগ বিধিতে প্রধান শর্ত হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের সনদের বিষয়টি উলে¬খ আছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ বলেন, মোঃ রেজাউল করিম চাকুরীতে যোগদান করেছেন ২০১০ সালে। তখন আমি রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলাম না। তবে তার ব্যক্তিগত ফাইল দেখেছি। সেখানে তার পিতার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত সনদ আছে। বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত কোন সনদ নেই।

এদিকে তথ্য অধিকার/তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত বিধিমালা ২০০৯ এর ৮ ধারা অনুযায়ী  তথ্য প্রাপ্তির আবেদন “ক” ফরমে একটি মাধ্যমে ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর ইবি রেজিস্ট্রারের নিকট মোঃ রেজাউল করিম এর পিতা মরহুম আব্দুস ছোবহান একজন মুক্তিযোদ্ধা তার প্রমাণ স্বরূপ (১) সামরিক/বেসামরিক গেজেট নম্বর (২) ভারতীয় তালিকা/লাল মুক্তিবার্তা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নম্বর (৩) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত সাময়িক সনদ নম্বর (৪) মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা উত্তোলন বহি নম্বর চাওয়া হয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত যে সকল কাগজপত্র প্রেরণ করা হয় তাতে চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র প্রদান করতে ব্যর্থ হন কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাস: সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস কোনোভাবেই যেন বাংলাদেশে আসতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আরো সতর্ক থাকতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে। চীন হয়ে যারা আসছেন, তাদেরকেও বিশেষভাকে দেখাশোনা করতে হবে। “সবাইকে কেয়ারফুল থাকতে হবে। বিশেষ করে এয়ারপোর্ট এবং পোর্টে স্পেশাল কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে আমাদের মধ্যে বিস্তার না ঘটতে পারে। চীন বা হংকং থেকে থেকে যেসব পে¬ন আসবে সেগুলোতে বিশেষ নজর রাখতে হবে। চীনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ হয় এমন পোর্টে বিশেষ নজর রাখতে হবে।” চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে কেড়ে নিয়েছে ৮১ জনের প্রাণ, সংক্রমিত হয়েছে তিন হাজারের বেশি মানুষের দেহে। ২০০২ সালে সার্স এবং ২০১২ সালের মার্সের মতই একই পরিবারের সদস্য এ নভেল করোনাভাইরাস, যারা ছড়াতে পারে মানুষ থেকে মানুষে।

মধ্য চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাদের ধারণা, মানুষের দেহে এ রোগ এসেছে কোনো প্রাণী থেকে। তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপাইরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে। পরিণতিতে ঘটতে পারে মৃত্যু। নোভেল করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। ভাইরাসটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিচ্ছে। এ ধরনের ভাইরাস যানবাহনের হাতল, দরজার নব, টেলিফোন রিসিভার ইত্যাদি সাধারণ বস্তু থেকেও ছড়াতে পারে। তাই বাইরে থেকে এসে অবশ্যই সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যারা হাসপাতাল বা ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন, তারা হাত পরিষ্কার করতে অ্যালকোহল স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন। যেখানে-সেখানে প্রকাশ্যে থুতু-কফ ফেলা বন্ধ করার বিষয়ে সচেতনতা দরকার। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করতে হবে, যা অবশ্যই একবার ব্যবহারের পরই ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে। হাত দিয়ে নাক মুখ চোখ স্পর্শ যত কম করা যায়, ততই ভালো। বিদেশ থেকে আসা কোনো ব্যক্তি কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হলে অন্তত ১৪ দিন তাকে বাড়িতে একটি আলাদা ঘরে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

চীনে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারাত্মক করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে চীনে আটকে পড়া যে সব বাংলাদেশী ‘দেশে ফিরতে চান’ তাদের ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছেন। ফেসবুক পোষ্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘এ ব্যাপারে আমরা চীন সরকারের সাথে আলোচনা শুরু করেছি।’ তিনি আরো বলেন, তাদের ফিরিয়ে আনার উপায় বের করার জন্য পররাষ্ট্র দফতর করোনা ভাইরাস আক্রান্ত অঞ্চলে চীনা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। কারণ, সেখানে লোকজনের প্রবেশ এবং বেরিয়ে আসা বন্ধ করে ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শাহরিয়ার আলম বলেন, যারা দেশে ফিরতে চান আজকের মধ্যেই তাদের তালিকা তৈরির প্রাথমিক নির্দেশনা দেয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

ভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনে বেইজিংয়ের বাংলাদেশী দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশীদের যোগাযোগের জন্য ইতোমধ্যে ২৪ ঘন্টা হটলাইন চালু করেছে। হটলাইন নম্বর হচ্ছে + ৮৬ ১৭৮-০১১১-৬০০৫ এবং এই নম্বরটি চীনে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ভাইরাস আক্রান্ত অঞ্চল উহানে বর্তমানে প্রায় ৩শ’ থেকে ৪শ’ বাংলাদেশী শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। বাংলাদেশী দূতাবাস এর আগে জানিয়েছিল যে, বেইজিংয়ে বাংলাদেশী মিশন তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। চীনে প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সোমবার মৃতের সংখ্যা ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আরো কয়েকশ’ জন নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের আলাদা করে এবং ভ্রমণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদেশী সরকারগুলো চীনে আটকে পরা তাদের নাগরিকদের সহায়তা প্রদানের চেষ্টা চালাচ্ছে।

দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩ ড্রাম ট্রাক মালিকের দন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে রাতের আধাঁরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩ ড্রাম ট্রাক মালিকের অর্থদন্ড করা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক এ দন্ড দেন। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, ড্রাম ট্রাকে অতিরিক্ত মাটি ও বালি ভর্তি করে বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে এমন অভিযোগে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত উপজেলার পাশর্^বতী বাজুডাঙ্গা-মানিকদিয়াড় মাঠে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালায়। এসময় অতিরিক্ত বালি ও মাটি ভর্তি ৩টি ড্রাম ট্রাক আটক করে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৪৩(১)/৮৬ ধারায় প্রত্যেককে ৫ হাজার করে ১৫হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। দন্ডিত ড্রাম ট্রাক মালিকরা হলেন, ভেড়ামারার এনামুল হক, নাহিদ ও সাতবাড়িয়ার আবুল কালাম আজাদ।

পুনর্বাসন ছাড়া বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা হবে না – তাবিথ

ঢাকা অফিস ॥ পুনর্বাসন ছাড়া কোনো বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল রোববার সকাল পৌনে ১১টায় রাজধানীয় কাড়াইল বস্তি সংলগ্ন মোশাররফ বাজার গেট এলাকায় গণসংযোগ পূর্ব সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। কাড়াইল বস্তিবাসীদের উদ্দেশ্যে তাবিথ আউয়াল বলেন, গুলশান-বনানীতে সবচেয়ে ধনীরা বসবাস করেন, তারপাশে কাড়াইল বস্তিতে সবচেয়ে হত দরিদ্রদের বসবাস। ধনী দরিদ্রের এমন বৈষম্য থাকতে পারে না। তাই তাদের জন্য আগে দীর্ঘ মেয়াদী পুনর্বাসন ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তবিথ আউয়াল বলেন, সময় এসেছে অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর। সামনে অনেক ভয়-ভীতি আসতে পারে। ভয়কে জয় করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্যালটের মাধ্যমে অপশক্তির বিরুদ্ধে জবাব দিবেন। নিজেদের উন্নয়নে, ঢাকার উন্নয়নে ১ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিবেন। দুর্নীতি, দুঃশাসনের জবার ব্যালটের মাধ্যমে দিতে হবে। পরিবর্তনের সময় এসেছে। ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে হবে, খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ তরান্বিত করতে হবে। গণসংযোগে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, খন্দকার আবু আশফাক, আহসান উল্লাহ হাসান, সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাবেক সহ সভাপতি আলী আকবর চুন্নু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলটন প্রমুখ। এছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ফারুক হোসেন ভুঁইয়া (ঠেলাগাড়ি মার্কা) ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান বাচ্চু (ব্যাডমিন্টন মার্কা), সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী পেয়ারা মোস্তফা গণসংযোগে অংশ নেন। এসময় বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও প্রচারণায় অংশ নেন।

খোকসায় আসামীর হামলায় দারোগা আহত

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসার গ্রামে ওয়ারেন্টের আসামী ধরতে গিয়ে আসামী ও তার পরিবারের লোকদের হামলায় থানা পুলিশের এক এএসআই আহত হয়েছে। আহত পুলিশ জানায়, গতকাল রবিবার বিকালে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের মানিকাট গ্রামে একটি সিআর মামলার ওয়ারেন্টের আসামী সিদ্দিক আলীর বাড়িতে থানা পুলিশের এএসআই গোলাম রসুল সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সিদ্দিক তার ঘরে একটি খাটের নিচে আত্মগোপন করে। আসামী সিদ্দিকে পুলিশ আটকাতে চেষ্টা করে। এ সময় সিদ্দিকের পরিবারের লোকে পুলিশের উপর চড়াও হায়। পুলিশের হাতে থাকা হ্যান্ডকাপ ছিনিয়ে নিয়ে এএসআই গোলাম রসুলের মাথায় আঘাত করে। এ হামলায় এএসআই গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পালাতক ওয়ারেন্টের আসামী সিদ্দিক ও হামলায় জড়িত তিন মহিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটক সিদ্দিক হেকমত আলীর ছেলে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ আশরাফুল আলম জানান, গোলাম রসুলের মাথায় কয়েকটি সেলাই লেগেছে। এ ছাড়া ফুলে আছে। তবে রোগী মোটামুটি ভালো আছেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার মামলা প্রক্রিয়াধীন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

পুরনো সব রেল সেতু মেরামতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ সারা দেশে পুরনো রেল সেতুগুলো মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একগুচ্ছ উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা আসে। তিনি বলেন, যে রেলব্রিজ পুরনো হয়ে যাওয়ায় অত্যন্ত ধীরগতিতে ট্রেন চলে, সময় বেশি লাগে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে, সেসব সেতুর বিষয়ে তিনি নিজে খোঁজ খবর নিয়েছেন। “কাজেই আমি মনে করব সারা বাংলাদেশে একটা সার্ভে করে যেখানে যত পুরনো জরাজীর্ণ রেল ব্রিজ আছে, সেগুলো সব মেরামত করতে হবে। সেজন্য একটা প্রজেক্ট আলাদাভাবে আমি মনে করি তৈরি করে আনবে। তাহলে আমরা সেটা করে দিতে পারি এবং দ্রুত কাজগুলো করতে পারি।” অতীতের সরকারগুলো রেল যোগাযোগকে ‘সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল’ মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, “সে কারণে  তারা যেমন গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে লোকবল বিদায় দিয়ে দেয়, আর বিভিন্ন জায়গায় লাইনগুলো বন্ধ করে দেয়। আমি মনে করি এটা একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল।” আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রেলওয়ের উন্নয়নে কী কী উদ্যোগ নিয়েছে- সেসব বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রেলওয়েকে আমরা এখন সম্প্রসারণ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমার একটা অনুরোধ থাকবে যে আমরা রেললাইন বাড়াচ্ছি, নতুন নতুন বগি এবং যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করেছি। তবে রেলওয়ের পুরনো যে সমস্ত ব্রিজগুলো আছে বিভিন্ন কালভার্টের ওপর এবং বিভিন্ন ব্রিজ- এই ব্রিজগুলো ভালোভাবে মেরামত করতে হবে। তার কারণ হল এগুলো এত পুরনো…।” দেশবাসীকে পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, অনেক অর্থ খরচ করে পানি শোধন করে সেই পানি সরবরাহ করা হয়। এই পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে হবে। পানির অপচয় বন্ধ করতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে কার্যকর নয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা.. সেখানে এক সময় আমি নিজেও খুব উৎসাহিত করতাম। কিন্তু পরবর্তীতে লক্ষ্য করলাম যে ঋণের পরিমাণ এত বেড়ে যায় যে শেষে মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে হয় আত্মহত্যা করে, না হয় এলাকা ছেড়ে ভাগে, না হয় ছেলে মেয়ে বিক্রি করে, বাড়িঘর বিক্রি করে। নিঃস্ব হয়ে যায়। সে আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না। অর্থাৎ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যকর হয় না।  শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরার পাশাপাশি তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার কথাও মনে করিয়ে দেন তার মেয়ে শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণের সমর্থনে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফেরার কথাও তিনি স্মরণ করেন। যে চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, জাতির পিতাকে হত্যার পর সেটা কার্যকর ছিল না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “উন্নয়নের দিক থেকে গ্রামের মানুষ বা সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত ছিল। কারণ যারা ক্ষমতায় এসেছিলৃ। মিলিটারি ডিক্টেটররা যখন ক্ষমতায় আসে সংবিধান লঙ্ঘন করে, অবৈধভাবেৃ তখন তারা একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করে বা কিছু লোককে তারা অর্থ সম্পদের মালিক করে। তাদেরকে দিয়ে তারা ক্ষমতার ভিত্তিটা শক্ত করতে চায়। বঞ্চিত থেকে যায় অবহেলিত জনগোষ্ঠী। “আমরা যারা রাজনীতি করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারে আসি আমাদের লক্ষ্যই থাকে দেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণ, সার্বিক উন্নতি।” প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের অপর প্রান্তে থাকা বিভিন্ন জেলার মানুষের কথাও শোনেন। রেলওয়ের ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-তারাকান্দি-জামালপুর-ঢাকা রুটে একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’; ঢালারচর-পাবনা-রাজশাহী রুটে ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’ ও ফরিদপুর রুটে ‘রাজবাড়ী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের রুট বর্ধিতকরণ এবং চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের বহর পরিবর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠান থেকে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘পল্লী লেনদেন’ কার্যক্রমের উদ্বোধন, এলজিইডির বাস্তবায়নাধীন ‘গুরুত্বপূর্ণ নয়টি ব্রিজ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় ১৫ হাজার মিটার চেইনেজে তিতাস নদীর ওপর ৫৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য পিসি গার্ডার সেতু এবং মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলাধীন মানিকগঞ্জ-সিঙ্গাইর আরএইচডি রাস্তায় কালিগঙ্গা নদীর ওপর ৪৫৬ মিটার পিসি গার্ডার সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন ও স্যানিটেশন প্রকল্প’র (১ম সংশোধিত) আওতায় নির্মিত ‘শেখ রাসেল পানি শোধনাগার’, খুলনা ওয়াসার ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প’র আওতায় নবনির্মিত ‘বঙ্গবন্ধু ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ উদ্বোধন করেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ১২ ঘণ্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

গাংনী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে  দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কর, অনিয়ন্ত্রান্ত্রিকভাবে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১১টার দিকে গাংনী উপজেলা শহরের বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধনের আয়োজন পৌর কাউন্সিলররা। মানববন্ধনে  নেতৃত্ব প্রদান করেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র নবীরুদ্দীন। এ সময় পৌরসভার কাউন্সিলরসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মিরপুরে ফুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে বিদ্যালয় হলরুমে প্রধান শিক্ষক শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাহার আলী। তিনি বলেন- শিক্ষায় জাতির মেরুদন্ড। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত। তাই তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহবান জানান। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, তোমরায় দেশের ভবিষ্যৎ। তোমরা ভালভাবে লেখাপড়া করে দেশের জন্য কাজ করবে। দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করবে। তোমরা শিক্ষিত হয়ে  যেমনটি চাইবে তাই হবে। তোমরা শিক্ষিত হয়ে কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার আবার কেউ বিজ্ঞানী হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের লক্ষ্য স্থির করে লেখাপড়া করার আহবান জানান। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন-আপনারা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। আপনারা মানুষ গড়ার কাজে নিয়োজিত থাকলেই দেশের স্বপ্ন পুরণ হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জয়নাল আবেদীন, রুহুল আমিন, শুকুর আলী, আব্দুর রাজ্জাক, সালমা খাতুন, সাবেক সদস্য আব্দুল মান্নান, রফিকুল ইসলাম, ফুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: আব্দুর রাজ্জাক, সাবিনা ইব্রাহিম, ফজলুর রহমান, ইয়ার আলী, আব্দুর রাজ্জাক, মনিরুল ইসলাম, ফিরোজা খাতুন ও ফুলবাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম।