বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলায় ইনডেক্স ল্যাবরেটরিজের ডিলারশীপ উদ্বোধন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রতিদিন বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান

নিজ সংবাদ ॥ বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলায় ইনডেক্স ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ডিলারশীপ উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের বাড়াদী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতির লিমিটেডের অফিসে ইনডেক্স ল্যাবরেটরিজ লিঃ এর ডিলারশীপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইনডেক্স ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আশরাফ আহম্মেদ ফায়েজ। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, বিআরডিবি কুষ্টিয়ার চেয়ারম্যান সাইফুদ্দৌলা তরুন, ইনডেক্স ল্যাবরেটরিজের ডাইরেক্টর এডমিন গাজী আব্দুল কাদের, নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম, ইনডেক্স ল্যাবরেটরিজের ডিএমএম রুহুল আমীন খান, নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম সজল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ শামীম কবির, ডাঃ জাকির হোসেন। ইনডেক্স ল্যাবরেটরিজের কুষ্টিয়ার ডিলার ও বাড়াদী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রধান উপদেষ্টা আবু জাহিদ সনজু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসলামিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য আতিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মন্ডল, এ্যাড. খয়বার আলী,মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বুলবুল। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন- ইনডেক্স ল্যাবরেটরিজ দেশের প্রাচীনতম একটি ইউনানী ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ওষুধের গুনগত মান এবং এর সার্বিক সফলতা আমাদের সকলের জানা রয়েছে। আজ কুষ্টিয়ায় ডিলারশীপ উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়ার জনগন এর থেকে উপকৃত হবে। বক্তারা আরো বলেন, আজকের এই ডিলারশীপ উদ্বোধনের পর থেকে এলাকার মানুষেরা অল্প ব্যয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন সেই সাথে ওষুধ পাবে হাতের নাগালে যাতে  আমরা সকলেই সুফভোগী হবো। এর আগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এই ডিলারশীর উদ্বোধন করেন ইনডেক্স ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আশরাফ আহম্মেদ ফায়েজ। পরে দিনব্যাপী গরীব, অসহায় ও দুস্থ্য রোগীদের বিনামুল্যে চিকিৎসা প্রদান করেন ইনডেক্স ল্যাবরেটিজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ শামীম কবির। তিনি এখন থেকে প্রতি দিনই ডিলারশীপ পয়েন্টে বিনামুল্যে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান করিবেন।

মাদক শুধু সেবনকারীকে নয় পরিবার, সমাজ ও দেশকে ধ্বংস করে ঃ ড. রাশিদ আসকারী সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে ধর্মকে জানলে কেউ বিপথগামী হবে না ঃ ড. খঃ মহিদ উদ্দিন

আশিক বনি ॥  ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, মাদক শুধু সেবনকারীকে নয় এটা পরিবার, সমাজ ও দেশকে ধ্বংস করে দেয়। দেশের সকলে মিলে আমরা এক অজানা শক্রর বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এ লড়াইয়ে আমাদের পিঁপড়াদের মত এক হয়ে কাজ করতে হবে। কেননা পিঁপড়ারা সকল কাজ সংঘবদ্ধভাবে করে থাকে।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ^বিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ আয়োজিত মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরোধী আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, আমার যখন বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম তখন পুলিশ ক্যাম্পাসে এক প্রকার নিষিদ্ধ বস্তু ছিল, কিন্তু এখন পুলিশের বক্তব্য প্রদান ও শিক্ষার্থীরা তা মনযোগ দিয়ে শ্রবন ও ধারণ করা দেখে আমি এখন উপাচার্য হিসেবে এটা দেশের অগ্রযাত্রায় এক বড় দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করি, আর এটা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে।

ড. আসকারী বলেন, অন্য দেশ এখন আমাদের বলে বাংলাদেশে এখন কেবল উন্নয়নের গল্প আর এর রচয়িতা শেখ হাসিনা। কিন্তু আমাদের সন্তানরা যদি মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে থাকে তবে এ উন্নয়ন খুব বেশি স্থায়ী হবে না বরং এটা আমাদের জন্য একটি ভয়াবহ দিক।

বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এস. এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন বিপিএম (বার)। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইবির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, বিশ^বিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সেলিম তোহা, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন প্রমূখ।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন বিপিএম (বার) বলেন, আমরা আমাদের পবিত্র ধর্মকে কারো কাছে ইজারা দেয়নি, যা নিয়ে কেউ তাদের মত করে ব্যবসা করবে। ইসলাম আমাদের প্রাণের ধর্ম। বিমানবন্দরে গেলে নামের শেষে মুসলিমদের চিহ্ন থাকলে কয়েকবার করে চেক করা হয়। এমনকি পারলে তারা আমাদের চামড়া খুলে চেক করে। এজন্য সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে ধর্মকে জানলে আমাদের মধ্যে কেউ বিপথগামী হবে না। মাদকে টান দিয়ে একতারা-দোতারা বাঁজানো যায় কিন্তু শরীর-জীবনের একতারা ছিড়ে যায়। সমাজ, রাষ্ট্র থেকে মাদক নির্মূলে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই দেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দূরীভূত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন- প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এ বিশ^বিদ্যালয় আজ আন্তর্জাতিকীকরণের দিকে এগিয়ে গেছে। আর এ উন্নয়নের জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে সহযোগীতা করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের মত যোগ্য গ্রাজুয়েটরা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ায় আজ পুলিশ বাহিনী আজ সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ তাদের দক্ষতা দিয়ে জঙ্গিবাদকে উপড়ে ফেলেছে।

অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে একটি উন্নত স্থানে পৌছানোর স্বপ্ন দেখে, কিন্তু কোন শিক্ষার্থী যদি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে তাহলে সে তার কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছতে পারবে না।

অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সেলিম তোহা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ একমাত্র বাধা যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমাদের সব থেকে বড় প্রতিষ্ঠান আমাদের মা। মহানবী (সাঃ) এর উদারতার বর্ণনা ছড়ানোর মাধ্যমে বিপথগামীদের সঠিক পথের সন্ধান দিতে হবে।

অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, আমরা দুইভাবে মাদক থেকে বাঁচতে পারি প্রথমত পরিবারের মাধ্যমে ও দ্বিতীয়ত রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থাৎ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এস. এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) বলেন, আমাদের সন্তানদের খেলার মাঠে যেতে দিতে হবে, প্রত্যেককে সকালে কোরআন ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে যেন আমরা ধর্মের সঠিক দিক অনুধাবন করতে পারি। এগুলো ভালভাবে অনুধাবন করলে কেউ বিপথগামী হবে না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ^বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, আই.আই.ই.আর এর পরিচালক প্রফেসর ড. মেহের আলী, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাসিম বানুসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

পলিথিনের মোড়ক ব্যবহার করায় খাজানগরের সনি এন্টারপ্রাইজকে জরিমানা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার খাজানগরের মেসার্স সনি এন্টারপ্রাইজকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উক্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাহেরা নাজনীন। ভ্রাম্যমান আদালত সুত্রে জানা যায়, “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০” নিশ্চিতে উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় আইন ভঙ্গ করে প্লাস্টিকের মোড়কে চাউল রাখার দায়ে মেসার্স সনি এন্টার প্রাইজের মালিক আওয়াল ব্যাপারীকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা করা হয়। কুষ্টিয়া পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পাট পরিদর্শন সোহরাব উদ্দিন উপস্থিত সকলকে উক্ত আইনটি মেনে চলার আহবান জানান। সেই সাথে জেলাব্যাপি এ অভিযান থাকবে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

চেক বিতরণকালে মোল্লা আমজাদ হোসেন

রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপি’র অবদান গুরুত্বপূর্ন

আরিফ মেহমুদ ॥ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী খুলনা রেঞ্জের পরিচালক মোল্লা আমজাদ হোসেন (পিএএমএস) বলেছেন, দেশের যে কোন নির্বাচনে  ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা ও অবদান রাখাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন কাজে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি’র পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি’র সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়োজিত থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, আগামীতেও দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। রাষ্ট্রের যে কোন নিরাপত্তা প্রদানে আনসার-ভিডিপি’র অবদান গুরুত্বপূর্ন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কুষ্টিয়া কার্যালয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮-তে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের আনসার ও ভিডিপি সদস্য আজিজ খলিলের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিলের ১০ লাখ টাকার ৩টি অনুদানের চেক বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনকালে জীবন হারিয়েছেন অনেক অকুতোভয় আনসার-ভিডিপি’র সদস্য। দেশ ও জাতির জন্য তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরনে রাখবে চিরদিন। দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী এসব সদস্যদের পরিবারের অনুদান ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাড়িয়েছেন বর্তমান সরকার। তাদের দুর্দিনে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন রাষ্ট্র। আগামীতেও আনসার-ভিডিপি’র সদস্যদের মুল্যায়নে এভাবেই পাশে থাকবে সরকার। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহীনী কুষ্টিয়া কার্যালয়ের জেলা কমান্ড্যান্ট সোহেলুর রহমানের সভাপতিত্বে এই চেক বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চেক বিতরণী অনুষ্ঠানে মৃত্যুবরণকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্য আজিজ খলিলের পরিবারের সদস্য স্ত্রী রঞ্জনা খাতুন, ছেলে মহিদুল ইসলাম ও মেয়ে সেলিনা আক্তার প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দের হাত থেকে এই চেক গ্রহন করেন। উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮-এ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের একটি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে আনসার ও ভিডিপি সদস্য আজিজ খলিল মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুবরণকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্য আজিজ খলিলের পরিবারকে তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষনা দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কুষ্টিয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা, ব্যাটালিয়ন আনসার ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, দৌলতপুর সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামাল হোসেন দবির। সভায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দসহ আমন্ত্রিত সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুতি সভায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনের সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। মতামত তুলে ধরেন, দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, দৌলতপুর শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সরকার আমিরুল ইসলাম ও প্রভাষক শরীফুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। সভায় উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্তক্রমে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যদায় উদ্যাপনের জন্য দু’দিনের কর্মসূচী গ্রহন করা হয়।

কুষ্টিয়ার উডল্যান্ড প্লাইউড কারখানায় অগ্নিদগ্ধ ৪ শ্রমিকের মধ্যে মেহেদী নামের আরো  একজনের মৃত্যু,  রইল বাকী-২

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় উডল্যান্ড নামক প্লাইউড কারখানায় অগ্নিদগ্ধ ৪ শ্রমিকের মধ্যে মেহিদী হাসান নামের আরো এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুইয়ে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিৎিসাধীন অবস্থায় ৮০ভাগ দগ্ধ শ্রমিক মেহেদী হাসান(১৮) কে মৃত: ঘোষনা করেন চিকিৎসকরা। সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিহতের পিতা আব্বাস উদ্দিন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ঢাকা মেডিকেল চত্বরে জানাযা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিহত শ্রমিক মেহেদীর গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বারখাদায় শেষ জানাযা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর পিতা।

নিহত কারখানা শ্রমিক মেহেদী হাসান সদর উপজেলার বারখাদা হাটের পশ্চিম পাশর্^স্ত ঘরিলপাড়া গ্রামের আব্বাস উদ্দিনের ছেলে।

ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসরা জানিয়েছেন গত শুক্রবার কুষ্টিয়া থেকে আগত অগ্নিদগ্ধ ৪ শ্রমিকের মধ্যে চিকিৎসাধীন চান্নু কুমার নামের রোগী গত রবিবার মৃত্যুর পর ২য় রোগী মেহেদী হাসানকে মঙ্গলবার দুপুরে মৃত: ঘোষনা করা হয়েছে। অপর দুই রোগী রায়হান ও সাজেদুল এখনও সংকটাপন্ন  অবস্থায় বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোর রাত সোয়া তিনটার সময় কুষ্টিয়া-ঈশ^রদী মহাসড়ক সংলগ্ন বারখাদা এলাকার উডল্যান্ড নামক প্লাইউড কারখানার ভিতরে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কর্মরত ৪ শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হন। গুরুতর আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎকরা তাৎক্ষনিক রোগীদের ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করেন।

পুনরায় উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক হওয়ায় কামারুল আরেফিনকে মিরপুর প্রেসক্লাবের ফুলেল শুভেচ্ছা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তাকে এ ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, সাবেক সভাপতি আছাদুর রহমান বাবু, সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মারফত আফ্রিদী, অর্থ-সম্পাদক মজিদ জোয়ার্দ্দার, সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম, আমলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক জাহিদ হাসান জিহাদ, আশরাফুল আলম হীরা, হাফিজুল ইসলামসহ ক্লাবের নেতৃবৃন্দরা।

অনুমতি না নিয়ে বিএনপির সভা-সমাবেশ করার ঘোষণা হাস্যকর – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অনুমতি না নিয়ে বিএনপির সভা-সমাবেশ করার ঘোষণা হাস্যকর। অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করার সেই সাহস, শক্তি বা সক্ষমতা বিএনপির নেই। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতারা তাদের নেত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে ৫০০ কর্মী নিয়ে একটি মিছিল-মিটিং করতে পারেনি। তারা কীভাবে অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করবে? বিষয়টি হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়। অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করার সেই সাহস, শক্তি বা সক্ষমতা বিএনপির নেই।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আমরাও অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করতে পারিনি। আমাদের সময় এমনও হয়েছে, আগের দিন রাতে আমরা সভার অনুমতি পেয়েছি।’ নতুন সড়ক পরিবহন আইনের সহনীয় প্রয়াগ করা হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আইনের প্রয়োগে যতটা সহনীয়ভাবে দেখানো যায় দেখব। বাস্তবতার নিরিখে রয়ে সয়ে চলতে হবে। কারণ, বাস্তবতা ভিন্ন। সিদ্ধান্ত তো চাপিয়ে দেয়া হয়নি, সবার সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক আইনের বিষয়টি নিয়ে সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবহন নেতাদের সঙ্গে তিনি যখন বৈঠক করেছেন আমার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যদি যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের কোনো বাস্তবসম্মত, যুক্তিসংগত ও ন্যায়সংগত কোনো বিষয় থাকে সেটা অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাই করার আগে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার আগে তাদের দাবি নিয়ে হুট করে আমি তো কোনো মন্তব্য করতে পারিনা। আইন টি যেহেতু সংসদে পাশ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বিষয়টি আলোচনা করব। বিআরটিএ’র জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দ্রুত জনবল সংকটের সমাধান হবে। চালক তৈরির জন্য বিরাট প্রকল্প আছে, বিআরটিসি ও বিআরটিএ উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ চালক সৃষ্টিতে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতায় অঘোষিত ধর্মঘটে ব্যাপক জনভোগান্তির পরও তাদের উপর কঠোর না হওয়াটাকে বাস্তবসম্মত বলেই মনে করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে নতুন আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে সরকার পিছু হটল কিনা তা জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে মন্ত্রী বলেন, “এখানে পিছু হটার বিষয় নেই, আইনি অবস্থান রেখেই সহনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। ধর্মঘট হলে কি হত বলুন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি বলতে পারি, পুলিশ দিয়ে ওদের পিটাও, এটা কি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হত?” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে গত বুধবার রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে  ট্রাক ও কভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকরা। নতুন আইনের ১৬টি ধারার মধ্যে ৯টি ধারায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আপত্তি আছে। নতুন আইনের যেসব ধারায় আপত্তি রয়েছে, সে সব বিষয় সুপারিশসহ সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল জানিয়েছিলেন। মালিক-শ্রমিকদের আপত্তিগুলোর সব সমাধান করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন,“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, আমার সাথে আলোচনা করেই নিয়েছিলেন। তারা যে দাবি জানিয়েছে এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা যাচাই বাছাই করে দেখবো, এগুলো সময়ে প্রয়োজন। “এ মুহূর্তে আমার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়, কারণ আইনটি পার্লামেন্টে পাশ হয়েছে। তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিষয়টা আলাপ করব।”  যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “এগুলো যতটা সহনীয় ভাবে দেখা যায় আমরা দেখব। যখন একটা অচলাবস্থা তৈরি হয় আপনারা বলেন দেশে ভোগান্তিতে আছে ট্রাক লরি ভ্যানের জন্য বন্ধ হয়ে যায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। বাস্তবতার আলোকে রয়ে সয়ে চলতে হবে।

“অ্যাগ্রেসিভ একটা মুড নিলাম, রেডিক্যাল একটা মুড নিলাম কিন্তু এর বাস্তবতা তো ভিন্ন, আইনটাও যেন থাকে এবং এর প্রয়োজগত দিকটা যতটা সম্ভব সহনীয় পর্যায়ে রাখা, বিধিগুলো হয়ে গেছে আরো অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে আশা করি সমস্যা হবে না।” আইন সংসদে পাশ করা পরও কার্যকর করা যাচ্ছে না কেন বা সরকার জিম্মি হয়ে পড়েছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “কারো কাছে কেউ জিম্মি না, দুই দিনের অবস্থা তো আপনারা বিচার করে দেখেন। মিডিয়া সরকারের আইনের পক্ষে ছিল। “কিন্তু এক সপ্তাহ চলে গেলে সরকার কেন সমঝোতা করছে না কেন বলতো, এটা আমার অভিজ্ঞতা। দেশে যখন পণ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে অচল অবস্থা কি হয়ে যাবে, আমরা হট এন্ড কুল বের করে এগিয় যেতে হবে, আইনের প্রশ্নে কোন কমপ্রোমাইজ করিনি। পেঁয়াজের মূল্যের জন্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন,“সরকার চুপ করে বসে নেই। আশা করে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।” ভারতে থেকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক করার’ জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার বলে আসছে এনআরসির কারণে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। বিষয়টা আমরা পর‌্যবেক্ষন করছি। বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় আসলে উদ্বেগ তো থাকবেই, প্রতিটিা সংকট তো মোবাবেলা করে আসছি, সাময়িক অস্বস্তির কারণ হলেও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে।”

 

দৌলতপুরে পৃথক ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩ ব্যবসায়ীর অর্ধলক্ষ টাকা দন্ড 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পৃথক ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩ ব্যবসায়ীর অর্ধলক্ষ টাকা দন্ড করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার মথুরাপুর ও প্রাগপুরে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে দুই বেকারী মালিক ও এক রড ব্যবসায়ীর অর্থদন্ড করেন আদালতের বিচারক। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত উপজেলার মথুরাপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে রুমন ট্রেডার্স-এর মালিক কেরামত আলী বিশ^াসকে ওজন ও পরিমাপ আইন ২০১৮ এর ৩১ (১) ৪৮ ধারায় ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন। এরপর একই ভ্রাম্যমান আদালত প্রাগপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে পটল বেকারীর মালিক আতিয়ার রহমান পটলকে ওজন ও পরিমাপ আইন ২০১৮ এর ২৪ (২) ৪১ ধারায় ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন। এছাড়াও প্রাগপুর পশ্চিপাড়া এলাকায় আব্দুর রাকিব নামে অপর এক বেকারী মালিককে ওজন ও পরিমাপ আইন ২০১৮ এর ২৪ (১) ৪১ ধারায় ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী।

নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এখন প্রশ্নের সম্মুখীন – মাহবুব তালুকদার

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক ধরণের স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে, যা এতদসংক্রান্ত সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালা সমর্থন করে না। অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে, এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। গতকাল সোমবার দুপুর তিনটায় নির্বাচন ভবনের নিজকক্ষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাহবুব তালুকদার বলেন, ২৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে কমিশনের এখতিয়ারের বিষয়টি মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ আমার বক্তব্য জানতে চান। এই প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে আমার অভিমত ব্যক্ত করতে হলো। তিনি বলেন, গত ১২ নভেম্বর আমি সংবাদ পাই যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাম্প্রতিক কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ১৩৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, কিন্তু কারো বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে বিশদভাবে জানার জন্য আমি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কাছে লিখিতভাবে কিছু তথ্য ও জিজ্ঞাসার জবাব জানতে চাই। নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, ১৪ নভেম্বর আমাকে জানানো হয় যে, হাতের লেখার অমিল বা পরিচয়পত্রের অমিলের কারণে ভাইবার সময় ওই ১৩৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের প্রতারণার দায়ে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আমার এহেন প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, ‘মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। কারো কারো নিকট হতে লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে।’ লিখিতভাবে আমাকে আরো জানানো হয়, কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ৩৩৯টি শূন্যপদের বিপরীতে ৮৫,৮৯৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদকে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ প্রধান নির্বাচন কমিশনার অনুমোদন করলেও কতজন পরীক্ষককে কীভাবে এই টাকা প্রদান করা হয়, তার কোনো হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। এমনকি নিয়োগ কমিটির সদস্যবৃন্দ এ বিষয়ে অবহিত নন। কমিশন সচিবালয় পরীক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানে না। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের ধরণ বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ। লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, বিগত ১৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে তার অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, কমিশন সচিবালয় উক্ত নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত ও অর্থ ব্যয় সম্পর্কিত বিষয়ে কমিশনকে কোনো পর্যায়েই অবহিত করেনি। উত্তরে কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব জানান, উল্লিখিত নিয়োগ বা এতদসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও তার বক্তব্য সমর্থন করেন। স্বাভাবিক কারণেই নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ ২৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি ইউ,ও নোটের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কার্যাদির বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার সম্পর্কে অবহিত হতে চান। আমি মনে করি, আভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে, এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। অনেক ক্ষেত্রে সচিবালয়ের কোন দায়বদ্ধতা নেই, কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে প্রায় সর্বক্ষেত্রেই দায় বহন করতে হয়। এই অনভিপ্রেত অবস্থার অবসানের জন্য নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়ে সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ও নির্বাচন কমিশন কার্যপ্রণালী বিধিমালা কঠোরভাবে পরিপালন করা আবশ্যক। নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

 বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে হানিফ

দেশে সংকট সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের পতন ঘটানো যাবে না

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে রাজনীতি করে সরকারকে বিব্রত করতে চায়। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত করতে চায়, বিপর্যস্ত করতে চায়, জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে রাজনীতি করতে চায়।’ হানিফ আরো বলেন, পরিবহন সংকট, দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতির সংকট সৃষ্টি করে তারা (বিএনপি-জামায়াত) সরকারের পতন ঘটাতে চায়। আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র মাহবুব-উল আলম হানিফ গতকাল সোমবার সকালে জেলা শহরের স্থানীয় রাজার মাঠে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লা মার্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার দিলীপ বড়ুয়া ও উপ- প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, বাসন্তী চাকমা এমপি ও কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা এমপি। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। হানিফ বলেন, বিএনপি জামায়াত দেশকে অস্থিতীশীল করতে চায়। তাদের লক্ষ্য দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা। আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংকট সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের পতন ঘটানো যাবে না । হানিফ বলেন, যারা পাহাড়ে অস্ত্র হাতে নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করছে তাদের দিয়ে এই পাহাড়ের মানুষের কারো উপকার হবে না, কল্যাণ হবে না। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য শান্তি চুক্তি করেছেন। তাই শান্তি চুক্তির প্রত্যেকটি ধারা বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে সকাল ১০ টায় স্থানীয় রাজার মাঠে জাতীয় সংগীত ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

সম্মেলনকে সফল করতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করছে। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে ক্যশৈহ্লা মার্মা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইসলাম বেবীকে নির্বাচিত করা হয়।

 

শমী কায়সারের বিরুদ্ধে মামলায় অধিকতর তদন্ত হবে

ঢাকা অফিস ॥ চুরির সন্দেহে সাংবাদিকদের আটকে রাখার ঘটনায় অভিনেত্রী শমী কায়সারের বিরুদ্ধে করা মানহানি মামলায় অধিকতর তদন্তের আদেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বাদীর নারাজি আবেদনের ওপর শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন বিচারক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব রহমান গত ২৪ অক্টোবর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করেন। সেখানে বলা হয়, তদন্তে অভিনেত্রী শমী কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেই নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী নুজহাতুল হাসান, যার ওপর শুনানি শেষে সোমবার অধিকতর তদন্তের আদেশ এলো। গত ২৪ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের একটি মিলনায়তনে ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটন বিষয়ক সাইট ‘বিন্দু৩৬৫’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন শমী কায়সার। বক্তব্য শেষে কেক কাটার পর তার দুটি স্মার্টফোন আর যথাস্থানে পাননি বলে জানান তিনি।

এরপর মিলনায়তনের মূল দরজা বন্ধ করে প্রায় অর্ধশত সাংবাদিককে আটকে রাখা হয়। প্রায় ১০ মিনিট ধরে মিলনায়তনে একাধিক সাংবাদিকের ব্যাগ তল্লাশি করেন শমী কায়সারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চাইলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন শমী কায়সার সাংবাদিকদের ‘চোর’ সম্বোধন করেছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করেন স্টুডেন্ট জার্নাল বিডির সম্পাদক নুজহাতুল হাসান। ঘটনার ছয় দিন দন্ডবিধির ৫০০ ধারায় করা এ মানহানি মামলায় তিনি ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শমী কায়সারের কথা ‘ভুল বুঝেছেন’ ওই স্থানে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা। পরে শমী কায়সার অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেন, যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। “তারপরও বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সার্বিক তদন্তে বিবাদী শমী কায়সার কর্তৃক বাদীর মানহানির কোনো ঘটনা ঘটে নাই মর্মে প্রকাশ পায়।”

নতুন মেরিটাইম আইনে জলদস্যুতার শাস্তি যাবজ্জীবন

ঢাকা অফিস ॥ সাগরে জলদস্যুতার অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রেখে একটি আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম অঞ্চল আইন, ২০১৯’ এর খসড়ায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্বে ওই বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ মেরিটাইম অঞ্চল আইন হলে তা ব্যাপকভিত্তিক মেরিটাইম অঞ্চল নির্ধারণসহ অভ্যন্তরীণ জলসীমা ও রাষ্ট্রীয় জলসীমা, ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে সমুদ্র সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। “এছাড়া জলদস্যুতা, সমুদ্রে সন্ত্রাস, সমুদ্র দূষণসহ সমুদ্রে সংঘটিত অপরাধসমূহ এবং নৌ চলাচলে নিরাপত্তা বিঘœকারী বেআইনি কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।” খসড়া আইনে জলদস্যুতার শাস্তি কী রাখা হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “ধারা ৫২তে আছে, জলদস্যুতা, সশস্ত্র চুরি, সমুদ্র সন্ত্রাস করতে গিয়ে কেউ খুন করলে মৃত্যুদন্ড হবে। আর জলদস্যুতা বা সমুদ্র সন্ত্রাসের শাস্তি হবে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ড। এছাড়া দস্যুতা করে যা সে লুট করবে, তার জন্য জরিমানা হবে।” মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কোনো ব্যক্তি জলদস্যুতা বা সমুদ্র সন্ত্রাসের চেষ্টা বা সহায়তা করলে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদ- ও অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অন্য কোন দেশের লোক বাংলাদেশের জলসীমায় এসে এসব অপরাধ করলে একই শাস্তি হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “৮ নম্বর ধারাতে বলা আছে, রাষ্ট্রীয় জলসীমায় চলাকালে কোনো বিদেশি জাহাজে অপরাধ সংগঠিত হলে অপরাধী গ্রেপ্তার ও তদন্ত পরিচালনায় এ আইন প্রযোজ্য হবে।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের মেরিটাইম অঞ্চলের সীমানা নির্ধারণ এবং সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম অ্যাক্ট ১৯৭৪’ প্রণয়ন করা হয়। পরে ১৯৮২ সালে ‘ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্য ল অব দ্য সি’ শীর্ষক কনভেনশন জাতিসংঘ গ্রহণ করলে একই বছর ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ওই কনভেনশনে স্বাক্ষর করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে গঠিত সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমন্বয় কমিটি ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর নতুন যুগোপযোগী আইন প্রণয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ কনভেনশন, সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত দুটি মামলার রায় (মিয়ানমান ও ভারত) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেরিটাইম অঞ্চল ঘোষণা ও সীমা নির্ধারণ, সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণ, জলদস্যুতা, সশস্ত্র ডাকাতি, চুরি, সমুদ্রে সন্ত্রাস, নৌচলাচলের নিরাপত্তাবিরোধী অবৈধ কর্মকান্ড দমন ও শাস্তি প্রদান, সামুদ্রিক পরিবেশ ও সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দূষণজনিত ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই অর্থনীতি উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়ন, পর্যটন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সুনীল অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয় সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অন্তর্ভুক্ত করে নতুন আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের পর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবার মন্ত্রিসভায় তোলা হবে।

খালেদার জামিন শুনানি হবে আপিলের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া দাতব্য  ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি হবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে। গতকাল সোমবার আবেদনটির শুনানির কথা থাকলেও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আবেদনটির শুনানি পিছিয়ে বৃহস্পতিবার দিন রাখে। আপিল বিভাগের সোমবারের কার্যতালিকায় আবেদনটি শুনানির জন্য থাকলেও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, “আবেদনটি আমরা সবাই মিলে শুনবো। বৃহস্পতিবার রাখছি।” খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে আদালতে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ ও জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, একে এম এহসানুর রহমান। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আইনজীবী জয়নুল আবেদীন পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আদালত বললেন, আগামী বৃহস্পতিবার ফুল বেঞ্চে শুনবেন। এটা সর্বোচ্চ আদালত। আমরা ন্যায়বিচার আশা করি।” হাই কোর্ট গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দিলে গত ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী কায়সার কামাল। খালেদা জিয়ার জামিন সরকার ‘আটকে রেখেছে’ বলে বিএনপি বরাবর অভিযোগ করে এলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন, জামিনের বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের এখতিয়ার, এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি খালেদা জিয়া জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন বলেও জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা। জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সবাইকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দিয়ে গত বছর ২৯ অক্টোবর রায় দেয় বিচারিক আদালত। পাশাপাশি তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। আর ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলের ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার চার দিন পর গত বছর ১৮ নভেম্বর খালেদার দন্ড বাতিল ও খালাস চেয়ে হাই কোর্টে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। ৬৩৮ পৃষ্ঠার মূল রায়সহ প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই আপিলের সঙ্গে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদার জামিন আবেদনও করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল ওই আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাই কোর্ট। সেদিন বিচারিক আদালতের রায়ে দেওয়া অর্থদ- স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের আদেশে স্থিতাবস্থা দেওয়ার পাশাপাশি খালেদার জামিন আবেদনটি নথিভুক্ত করে মামলার নথি তলব করে হাই কোর্ট। গত ২০ জুন এ মামলার রেকর্ড (মূল নথি) হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা পড়লে গত ২৩ জুন নথিভুক্ত জামিন আবেদনটি উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। এরপর খালেদা জিয়া ও দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শোনে আদালত। অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদাসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এ তিন বিবেচনায় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেয়। দুই মামলায় জামিন বাড়লো, এদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে দেওয়া ছয় মাসের জামিন আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছে হাই কোর্ট। খালেদার আইনজীবীদের আবেদনে সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কায়সার কামাল। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান মামুন, সালমা সুলতানা সোমা, ফাইয়াজ জিবরান, গোলাম আক্তার জাকির ও রোকন উজ্জামান। গত ১৮ জুন হাই কোর্টের এ বেঞ্চই দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছিল। ১৮ ডিসেম্বর জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই জামিনের মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে।” খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ করার পাশাপাশি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ‘শ্রেণিগত বিভেদ সৃষ্টি’ করেছে অভিযোগ তুলে ওই বছরের ২১ অক্টোবর জেননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে আরেকটি মামলা করেন এ বি সিদ্দিকী। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে কটূক্তি করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। দুই মামলাতেই গত বছরের ৩০ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। দুই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২০ মার্চ খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাই কোর্টে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।

 

বড়সড় অভিযান পরিচালনা করতে কাশ্মীরে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন

ঢাকা অফিস ॥ ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে ফের বড়সড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে ইতিমধ্যে উপত্যকাটিতে সেনাবাহিনীর প্যারা স্পেশাল ফোর্সসহ নৌ ও বিমানবাহিনীর বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নবগঠিত সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ অপারেশন বিভাগের (এএফএসওড) অধীনে কাশ্মীর উপত্যকায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর গৌড় বাহিনীকে মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এ তিনটি বাহিনীর সমন্বয়ে সম্প্রতি গঠন করা হয়েছে আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল অপারেশন ডিভিশন। প্রথমবারের মতো এ ডিভিশনকে কাশ্মীরে নিয়োগ করা হল। শ্রীনগরের কাছে বিশেষ কিছু এলাকায় এরই মধ্যে তিন বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স কাজ শুরু করেছে বলে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর প্যারা স্পেশাল ফোর্স, নেভির মেরিন কম্যান্ডোস এবং এয়ার ফোর্সের গৌড় বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এ স্পেশাল অপারেশন ডিভিশন ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকেই থমথমে অবস্থা গোটা উপত্যকার। জম্মু-কাশ্মীরকে একরকম অবরুদ্ধ অবস্থায় রেখেছে মোদি সরকার। রাজ্যটিকে কেন্দ্র শাসিত দুইটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করার ঘোষণা দেয় ভারত, যা কয়েকদিন আগে থেকে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ দু’টো অঞ্চলের একটি হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর এবং অন্যটি চীন সীমান্তবর্তী লাদাখ। দুটি অঞ্চলই এখন থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে।

কুষ্টিয়ায় মানবপাচার অভিযোগে দুই সহোদর, স্বামী-স্ত্রী ও পূত্রের যাবজ্জীবন সাজা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে করা একটি মানব পাচার মামলায় এক নারীসহ ৫জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও জরিমানা আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সী মো: মশিয়ার রহমান এক আসামীর অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। রায়ে কারাদন্ডসহ সব আসামীর একসাথে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সাজার আদেশও দেন বিচারক। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে সালাম ওরফে ডাগু ও সহোদর কানু শেখ, মৃত: সাজাহান ফকিরের ছেলে কুরবার আলী ফকির ও কুরবান আলীর স্ত্রী মিনুরা খাতুন এবং কুরবান ফকিরের ছেলে পলাতক মিজান। সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারী কৌশুলী ভারপ্রাপ্ত পিপি এ্যাড. সাইফুল ইসলাম বাপ্পী বলেন, ২০১৬ সালের ৯সেপ্টেম্বর দুপুরে আসামীরা যোগসাজসে পাচারের উদ্দেশ্যে সদর উপজেলার সোনাডাঙ্গা গ্রামের শফি শেখের ছেলে আজিজুল হককে মালয়েশিয়া পাঠানো কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে তাকে ভারত হয়ে নেপালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে কিছুদিন আটক থাকা অবস্থায় ভিকটিম আজিজুলকে দিয়ে বাড়িতে ফোন করে ৫লাখ টাকা দাবি করে পাচারকারীরা। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করলেও পরে আজিজুলের আর কোন সন্ধান পায়নি স্বজনরা। এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর আজিজুলের পিতা আদালতে নালিশী মামলা করেন। এ মামলায় স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় এই রায় দিয়েছেন আদালত।

কুষ্টিয়ায় টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। গতকাল সোমবার বেলা বারটায়  থেকে একটি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়। পেঁয়াজের দাম বাড়ার পর এই প্রথম কুষ্টিয়াতে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় সেখানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এবিএম আরিফুর রহমান ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বারটার আগে থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেঁয়াজ কেনার জন্য ক্রেতাদের লম্বা লাইন হয়ে যায়। ট্রাক পৌছানোর সাথে সাথেই পেঁয়াজ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন তারা। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, এই প্রথমবারের মতো কুষ্টিয়াতে টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন এখানেই ২ টন (দুই হাজার কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হবে। কেজি প্রতি ৪৫ টাকা দরে একজন ১ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবে। সদর উপজেলার হরিনারায়নপুরের টিসিবির ডিলার মেসার্স ডব্লিউ এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহিদুল ইসলাম খুলনা থেকে এ পেঁয়াজ এনেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতাদের ভিড়।জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মচারী ছাড়াও সেখানে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও পেঁয়াজ কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। বশির উদ্দীন নামে একজন জানান, মিরপুর থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজে এসেছিলেন তিনি। ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি করতে  দেখে তিনি এক কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন। বাজার মূল্যের  চেয়ে দেড়’শ টাকা কমে পেঁয়াজ কিনতে পেরেছেন বলে তিনি জানান। কুষ্টিয়া পৌরবাজারে খুচরায় এখনো পেঁয়াজ প্রতি  কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন মোদি সরকার কি শেখ হাসিনাকে এড়িয়ে চলছে?

ঢাকা অফিস ॥ কলকাতা সফরে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো হয়নি। এ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে ফলাও করে খবর প্রকাশ হয়েছে। এটাকে ‘কূটনৈতিক প্রথা ও সৌজন্যের বিরোধী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলেছে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। কলকাতা সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে তাতে তারা অবাক হয়েছেন। রোববার ডয়চে ভেলের ‘মোদি সরকার কি শেখ হাসিনাকে এড়িয়ে চলছে?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌরভ গাঙ্গুলি ও নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে কলকাতায় গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো হয়নি। এটি কি কূটনৈতিক প্রথা ও সৌজন্য বিরোধী? দিল্লির কি শেখ হাসিনাকে এড়িয়ে চলছে? কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার প্রথম দিবারাত্রি টেস্টের উদ্বোধনী আয়োজনে যোগ দিতে সম্প্রতি ভারতে যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলী আমন্ত্রণ জানালে তা গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আমন্ত্রণ জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় যান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলি। সেখানে মোদির কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো মন্ত্রী বা প্রতিনিধি ছিলেন না, ছিলেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা একটি মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল ‘মিত্র হাসিনার শীতল অভ্যর্থনা, কাঠগড়ায় দিল্লি’। পত্রিকাটি লিখেছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে কলকাতায় এলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। কিন্তু তাকে স্বাগত জানাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্ত্রী, এমনকি শীর্ষ আমলাকেও পাঠানো হয়নি। যা কি না বাঁধাধরা কূটনৈতিক প্রথা এবং সৌজন্যের বিরোধী।’ এর আগে গত অক্টোবরে ভারত সফরের সময়ে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের সংসদ সদস্য তথা নারী ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। যদিও ২০১৭ সালের সাত এপ্রিল ভারত সফরের সময় দিল্লি বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে প্রটোকল ভেঙে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনআরসি (নাগরিকপঞ্জি) নিয়ে যাতে কোনো আলেচনা না ওঠে সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকার শেখ হাসিনাকে এড়িয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যমটি বাংলাদেশকে ভারতের ‘পরম মিত্র‘ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারে এবারের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. এম শহীদুজ্জামান বলেন, ‘এবারের আচরণে আমার খুব খারাপ লেগেছে। আমি অবাক হয়েছি। বিমানবন্দরে অন্তত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তো আসতে পারতেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় শুধু এনআরসি নয়, তিস্তা ইস্যুর কারণেও প্রধানমন্ত্রীকে এড়িয়ে গেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আর তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় আছে। চীনকেও কিছু দেখাতে চায়। এনআরসি নিয়ে নতুন কোনো প্রচারণা হোক তারা হয়তো সেটা চায়নি।’ ঢাবির এ অধ্যাপক আরও বলেন, ‘তারা উষ্ণতা কম দেখাতে পারেন। কিন্তু আমাদের দিক থেকে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। আমরা যে তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই তা বারবারই প্রমাণ করছি৷’ সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন এই প্রটোকলের বিষয়টি দেখেন সম্পর্ক ও যোগাযোগের ধরনের দিক থেকে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপে যেটা হয়, এক দেশের সরকার প্রধান আরেক দেশে চট করে আধ ঘণ্টার নোটিশে চলে যান। সেখানে প্রটোকলের কোনো বিষয় থাকে না। ‘কিন্তু আমাদের এলাকাতে একটু প্রটোকল সচেতন আমরা। আমি নিশ্চিত যে মোদি সাহেব যদি কেনো কারণে যশোরে এসেও হাজির হন তাহলেও আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অভ্যর্থনা দেয়া হবে।’ তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘এবার অন্ততপক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিসিভ করতে পারতেন। কিন্তু তাদের হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ ছিল। প্রটোকলটা আরেকটু বেটার হতে পারত।’ তিনি বলেন, ‘কী কারণে এটা হয়েছে আমি জানি না। তাই মন্তব্য করতে পারব না। তবে ভারত ও চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেকটা পরিপূরক। চীন থেকে এখন আমাদের এখানে যেসব বিনিয়োগ প্রস্তাব আসছে সেটা ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ ভারতই তো এখন গুড ইনভেস্টেমেন্টের জন্য পরনির্ভর।’ সাবেক এই সচিব আরও বলেন, ‘ভারতের প্রটোকল অনুযায়ী সরকার প্রধানকে যে সরকার প্রধান বিমানবন্দরে রিসিভ করবেন তা নয়। মন্ত্রীরা করেন। আর এই রিসিভ করা না করার মধ্যে দিয়ে আন্তরিকতা বোঝা যায় না। আন্তরিকতা বোঝা যায় কাজের জায়গায় কে কার সমস্যাকে কতটুকু গুরুত্ব দেয় তা দিয়ে।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ডয়চে ভেলে।

 

কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

বাবুল আখতার সভাপতি ॥ তারিকুল ইসলাম সম্পাদক

খোকসায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ জড়ালো নেতা-কর্মিরা, আহত অর্ধশতাধিক

খোকসা প্রতিনিধি ॥ ৭ বছর পর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে কয়েক দফায় সংঘর্ষে জড়ায় নেতা-কর্মিরা। মাঠ দখল, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষে জড়ায় তারা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে। আহত হয়েছে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশত নেতা-কর্মি। আহতদের অনেককে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ ৭ বছর পর খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের দিন ধার্য ছিল ২৫ নভেম্বর সোমবার। গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় জানিপুর হাইস্কুল মাঠে এ সম্মেলনের অয়োজন করা হয়। সম্মেলন উপলক্ষে উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। তবে সকাল ১০টায় মাঠ ও চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল আখতার ও সাধারন সম্পাদক তারিকুল ইসলামের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বাবুল আখতার স্থাণীয় সাংসদ ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ অনুগত আর তারিকুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের অনুগত।

এরপর দুপুর ২টার আগে আরো দুই দফা সংঘর্ষ হয় তাদের মধ্যে। ভাংচুর করা হয় দোকান-পাট। এ সময় দুই পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মি আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। সংঘর্ষ নিয়ে দুই গ্র“পের নেতা-কর্মিরা একে অন্যকে দোষারোপ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আল মোর্শেদ খান শান্তর সমর্থকরা পুরো মাঠ দখল করে নেয়। এ সময় সদর উদ্দিন খান ও তারিকুল ইসলামের সমর্থকরা এসে চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে দুই গ্র“পের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় আহত কমপক্ষে ১৫জন।

জানা গেছে, এরপর খোকসা পৌর এলাকার তেল পাম্প এলাকায় জড়ো হয় সদর উদ্দিন ও তরিকুলের কয়েক হাজার সমর্থক। তাদের হাতে ছিল লাঠি, দা, কুড়াল, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র। তারা মিছিল নিয়ে সম্মেলনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এ সময় পুলিশ অনেককে লাঠি না নিয়ে যাওয়ার জন্য বাঁধা দেয়। অনেকেই এ সময় জোর করে লাঠি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এরপর বাবুল আখতারের লোকজন টেন পেয়ে পুলিশের সামনেই লাঠি, হাসুয়া, হাত কুড়াল ও রামদা নিয়ে তাদের ধাওয়া করলে তারা পিছু হটে। এ সময় দুইপক্ষ সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। বাবুল আখতার সমর্থকরা সদর উদ্দিন খানের অনুগতদের রাস্তায় ওপর ধরে ব্যাপক মারপিট করে। এতে গুরুতর জমখ হয় অনেকে। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় পুরো এলাকাজুড়ে। ভয়ে শহরের দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়। ভাংচুর করা হয় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

সভাস্থল ও আশ পাশ এলাকায় হামলা পাল্টা হামলায় রবিন খান (২৮), জয়নাল মোল¬া (৫৫), শ্রমিক লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুল (৪৩), আকাশ (১৮), আছিব (১৬), উজ্জল (৪৮), সাগর (২৬), নয়ন (৩০), লিটন (৩০), জিহাদ (১৭), দুলাল (২৮), মতিন শেখ (৩৫), হজরত (৩২), রওশন(৪৫), আলম (৫৫), হাসান খা (৫৫), মাহাতাব মন্ডল (৫৪), ময়েন উদ্দিন (৪৭), আবু বক্কর (৬৫), রহমত জোয়াদ্দার (৬০), তানছের খান (৬০), রানা (২৬), মমিন (৩৫), গোলাম মস্তোফা (৫০), ইসমাইল (৬০), শরিফুল (৩৫), আমিরুল (৪৯), মাজেদ (৩৫), আলহাজ্জ (৪০), উজ্জল (৪০), হাফিজুল (৩৬), মনোয়ার (৩৫) আহত হয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা  হয়েছে। এ ছাড়া বাঁকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংষর্ঘ চলাকালেই সম্মেলনস্থলে আসেন কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতারা। তারা উপস্থিত নেতা-কর্মিদের লাঠি ফেলে দিতে বলে। এ সময় মাইক নেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি নেতা-কর্মিদের শান্ত থাকার আহবান জানান। এক পর্যায়ে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বেলা তিনটার দিকে পুলিশী পাহাড়ায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহামুদ স্বপন, এসএম কামাল হোসেন এমপি, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ,  জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক বাবু স্বপন কুমার ঘোষ সভাস্থল খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছায়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতারের সভাপতিত্ব প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। এ অধিবেশনে বাবুল আখতারকে সভাপতি ও তারিকুল ইসলামকে সাধারন সম্পাদক করে খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়।

বাবুল আখতারের সমর্থকরা জানান, সদর উদ্দিন খানের লোকজন প্রথমে হামলা করে।  এতে আমার অনেক সমর্থক আহত হয়।

আর তরিকুল ইসলাম বলেন, বাবুলের লোকজন হামলা করে আমার শতাধিক লোককে আহত করেছে।

কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ বলেন, দল ক্ষমতায় না থাকলে কারো পিঠের চামড়া থাকবে না। তাই গুন্ডাগিরি ও গিট্টু লাগানো ছাড়েন। সোজা পথে আসেন। সব পক্ষকে এক হয়ে এক সাথে রাজনীতি করতে হবে। যত বড়ই নেতাই হন না কেন শেখ হাসিনা ধরলে খবর আছে। তাই সাবধান হয়ে যান। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেন। কেউ কারো ওপর হামলা করবেন না।

পরে দুই পক্ষের নেতাদের মঞ্চে ডেকে একে অন্যের সাথে মিল করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান কমিটি ঘোষনা করেন। পুনরায় বাবুল আখতারকে সভাপতি ও তারিকুল ইসলামকে সাধারন সম্পাদক করে ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষনা করা হয়।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, পুলিশ কঠোর ভূমিকা রেখেছে। যারা সংঘাতে জড়িয়ে পরে তাদের ওপর অ্যাকশন নেয়া হয়েছে। বিশৃংখলাকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুরো পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।’

উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করবে সরকার – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার ২০৪১ সাল নগাদ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ২০৪১ নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করছি এবং ইতোমধ্যেই আমরা ২০২০ থেকে ২০৪১ সাল নাগাদ দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে তাঁর কার্যালয়ে (পিএমও) দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা-২০২১-২০৪১’র ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেখার সময় একথা বলেন। সরকার গঠনের পর দেশের দ্রুত উন্নয়ন সাধনে তাঁর সরকার বেশ কিছু তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পঞ্চম এবং ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশে প্রথমবারের মত ২০২০-২০২১ সাল পর্যন্ত আমরা দীর্ঘ মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনারও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামীতে উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতায় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম.এ. মান্নান এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনাকে বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ‘একটি স্বপ্নের দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১ সাল থেকে শুরু করে আগামী ৪/৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। সিনিয়র সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম একটি পাওয়া পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, অর্থমন্ত্রী এএইচএম মুস্তাফা কামাল, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, ড.তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং ড. মশিউর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার অনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

ইবি টিএসসিসির নতুন পরিচালক ড. মিজান

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইংরেজি বিভাগের জ্যৈষ্ঠ অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। গতকাল রোববার দুপুরে বিশ^বিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অফিস থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, টিএসসিসির সদ্যসাবেক পরিচালক অধ্যাপক ইয়াছিন আলী ১৮ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ফলে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী আগামী এক বছরের জন্য তাকে এই পদে নিয়োগ দেন। নবনিযুক্ত পরিচালক ড. মিজান বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরো গতিশীল করতে যা যা করণীয় সবাইকে সাথে নিয়ে তা করতে চাই। উল্লেখ্য, অধ্যাপক মিজান এর আগে তিনি বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রভোস্ট ও প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া অনুবাদক হিসেবেও তাঁর সুনাম রয়েছ।