কুষ্টিয়ায় কালের কন্ঠের বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

গাছ শুধু আমাদের পরিবেশের বন্ধুই না, গাছ আমাদের ব্যক্তি জীবনেও পরম বন্ধু

নিজ সংবাদ ॥ শুভ কাজে সবার পাশে-এই শ্লোগানকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কালের কন্ঠ। এই দৈনিক কালের কন্ঠের পাঠক সংগঠন শুভ সংঘের কুষ্টিয়া শাখার উদ্যোগে পরিবেশ বন্ধু বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে নির্মানাধীন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সামনে সড়কের দু’ধারে গতকাল রবিবার সকালে এই কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  জোবায়ের হোসেন চৌধুরী। এসময় কুষ্টিয়া সরকারী কেেলজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নুরুন নাহার, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুন, টিআইবি কুষ্টিয়ার এরিয়া ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম, সনাক সদস্য শাহাজাহান আলী উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সেখানে তাল, কাঁঠাল, আম, কদবেল, নিমসহ দুই শতাধিক বৃক্ষ রোপন করা হয়। কালের কন্ঠের কুষ্টিয়ার স্টাফ রিপোর্টার তারিকুল হক তারিকের তত্বাবধানে এই বৃক্ষরোপন কর্মসুচীতে কালের কন্ঠ শুভসংঘের সভাপতি নিলিমা বিশ্বাস, সহ-সভাপতি সুমাইয়া ইসলাম ও মহিবুল হক, সাধারন সম্পাদক সম্পা আফরিন, সাংগঠনিক সম্পাদক তুষার রতন, ট্রেজারার শরিফুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক যুথিকা রানী দাস, সমাজ কল্যান সম্পাদক কাকলি খাতুন, দপ্তর সম্পাদক সুমন মন্ডলসহ শুভ সংঘের অন্যান্য সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। বৃক্ষরোপন কালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, গাছ শুধু আমাদের পরিবেশের বন্ধুই না, গাছ আমাদের ব্যক্তি জীবনেও পরম বন্ধু হিসেবে কাজ করে। রোপিত এই গাছ একসময় ধীরে ধীরে বড় হয়ে আমাদেরকে শুধু অক্সিজেনই দেয়না। প্রয়োজনে গাছ আমাদের অর্থনৈতিক চাহিদাও পুরণ করে। তাই আমাদের শুধু গাছ লাগালেই হবে না। তাকে পরিচর্যাও করতে হবে এবং বেশি বেশি করে কালের কন্ঠের মতো সবাইকে গাছ লাগাতে হবে।

দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র জনসচেতনতামূলক সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র জনসচেতনতামূলক সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন বিলগাথুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদক ও চোরাচালান সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সভা ও র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন, ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রফিকুল আলম পিএসসি, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন ও প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল মাষ্টার। এতে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন অংশ নেন। সভায় মাদক, চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার রোধকল্পে এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত অধ্যাপক মোজাফফর

ঢাকা অফিস ॥ উপমহাদেশে বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। গতকাল রোববার বাদ জোহর কুমিল্লার দেবিদ্বারের এলাহাবাদে চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের কার্যালয়ের মাঠে চতুর্থ জানাজা শেষে হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। পরে তাকে সেখানে সমাহিত করা হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। এর আগে শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশবাসীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন দেশবরেণ্য প্রয়াত রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। শনিবার দুপুরে মোজাফফর আহমদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। এর আগে কুঁড়েঘর প্রতীক খ্যাত মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোজাফফর আহমদকে গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সহকারী সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান। দুপুরে শহীদ মিনারে নেয়ার আগে ধানমন্ডিতে পার্টি অফিসের সামনে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শনিবার বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার লাশ কুমিল্লার দেবিদ্বারের এলাহাবাদে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে মোজাফফর আহমদের তৃতীয় জানাজা এবং মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কুমিল্লাবাসী। সর্বশেষ মরহুমের গ্রামের বাড়ি জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদে চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের কার্যালয়ের মাঠে চতুর্থ জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে মোজাফফর আহমদকে গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় সালাম প্রধান করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার  সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম ও দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবীন্দ্র চাকমা। জানাজার পূর্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. আবদুল হান্নান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ আল কাফি রতন, ন্যাপের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলী ফারুক, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস- চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ এম হুমায়ুন মাহমুদ প্রমুখ। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের সম্ভ্রান্ত ভূইয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা স্কুল শিক্ষক কেয়াম উদ্দিন ভূইয়া ও মা আফজারুন্নেছা। তিনি দেবিদ্বার উপজেলার হোসেনতলা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি, দেবিদ্বার রেয়াজউদ্দিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৩৯ সালে এসএসসি ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ইউনেস্কোর ডিপ্লোমা লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা ছাড়াও বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেন মোজাফফর। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী প্রবীণ বাম নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বার্ধ্যক্যের কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই অবসরে ছিলেন। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যা বাসা বেঁধেছিল তার দেহে। অনেকটাই চলৎশক্তিহীন অবস্থায় বারিধারার পার্ক রোডের মেয়ের বাড়িতে স্ত্রী ও কন্যার পরিচর্চায় ছিলেন তিনি।

আগামীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে -তাজুল

ঢাকা অফিস ॥ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগামীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাস্টার প্ল্যান তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ১৭ জেলার জেলা পরিষদের ২০ নবনির্বাচিত সদস্যের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগামীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টা আর সচেতনতার কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আক্রান্তের হার কমেছে।’ উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫৩ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকিরা রাজধানী শহর ও শহরের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শোক দিবসের আলোচনায় ওবায়দুল কাদের

বিশ্বাসঘাতকতা করে জিয়া নিজেও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবাযদুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধু এবং দেশের মানুষের সঙ্গে জিয়াউর রহমান বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আর বিশ্বাসঘাতকতা করে জিয়া নিজেও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন। জিয়া পরিবারের বিশ্বাসঘাতকতাই অনেকের মাঝে বিশ্বাসঘাতকতা উস্কে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭৫ এর হত্যাকারীদের যদি সে সময পৃষ্ঠপোষকতা করা না হতো, তাহলে ৮১তে আরেকটি হত্যাকান্ড হতো না। জেনারেল জিয়াকে হত্যার সাহস করতো না। আওয়ামী লীগের লোকেরা জিয়াকে খুন করতে যাযনি। তার আপন লোকেরাই তাকে হত্যা করেছে। ওবায়দুল কাদের গতকাল রোববার ঢাকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি আয়োাজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম। পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পরিচালক জামিল আহমেদের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৭৫ এর ঘাতকদের আমরা চিনি। পেছন থেকে কারা তাদের সহযোগিতা করলো, পৃষ্ঠপোষকতা করলো, বিদেশে চলে যেতে সাহায্য করলো, তাদেরও আমরা চিনি। তবে বঙ্গবন্ধু ও দেশের মানুষের সঙ্গে জিয়া ও তার পরিবার যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড এবং ২১ আগস্টের হত্যাকান্ড একই সূত্রে গাঁথা। ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে প্রাইম টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নান স্বীকারোক্তিতে বলেছেন যে, হাওযা ভবনের নির্দেশেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।

অর্থপাচারের অভিযোগ

মাহী বি চৌধুরীকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রে অর্থপাচারের অভিযোগে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আসেন মাহী বি চৌধুরী। এখনও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, মাহীর স্ত্রী আশফাহ্ হক লোপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও তিনি আসেননি। জানা গেছে, মাহী ও তার স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অজ্ঞাত খাত থেকে আয়ের টাকা তারা কৌশলে বিদেশে নিয়ে গেছেন। বিএনপি সরকারের সময় সহ বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন তিনি। এসব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। পরে অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য দিতে মাহী ও তার স্ত্রীকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়। মাহী ও তার স্ত্রীর সম্পদ, সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব জানতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান দুদকের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের অভিযান

সাবেক পুলিশ সদস্যের বাড়ী থেকে বিদেশি অস্ত্র ও মাদকসহ ৩ জন গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ফেন্সিডিল, গাঁজা হ্যান্ডকাপসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মিলপাড়া এলাকার সাবেক পুলিশ সদস্য শেখ আয়নাল আলী হেলালের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ওই বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশীকালে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, ৭৭  বোতল ফেন্সিডিল, ৫শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। ওই বাড়ীতে অবস্থানকারী ৩ জনকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এরা সবাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।  গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুষ্টিয়া পূর্বপাড়া এলাকার মৃত শেখ ইয়াজ আলীর ছেলে সাবেক পুলিশ সদস্য শেখ আয়নাল আলী হেলাল (৫৬), কুমারখালী উপজেলার চড়াইকোল গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে খাইরুল ইসলাম (৪৩) ও কুমারখালী উপজেলার জয়নাবাদ মন্ডলপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৪৪)। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আয়নাল আলী হেলাল তার নিজ বাড়িতে মাদকের আস্তানা বসিয়ে রমরমা মাদক ব্যবসা করে আসছিল। সে সাবেক পুলিশ সদস্য হওয়ায় এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস  পেত না। কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক বিকেলে পূর্ব মিলপাড়া এলাকার শেখ আয়নাল আলী  হেলালের বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করি। সেখান থেকে তিনজনকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ফেন্সিডিল, গাঁজা ও হ্যান্ডকাপসহ  গ্রেফতার করি। এসপি স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

 

টিচিং এন্ড ট্রেনিং প্রোগ্রামে যোগ দিতে ইবিতে তুরস্কের ৪ সদস্যের প্রতিনিধি টিম

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এ্যাফেয়ার্স সেলের টিচিং এন্ড ট্রেনিং প্রোগ্রামে যোগ দিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন তুরস্কের চানকিরি ক্যারাটেকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি টিম। এ টিমের সদস্যরা ২৪ হতে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত টিচিং এন্ড ট্রেনিং  প্রোগ্রামে বক্তব্য রাখবেন এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, মতবিনিময় ও ক্লাস রুমে পাঠদান করবেন। গতকাল রবিবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এ্যাফেয়ার্স সেলের তত্বাবধানে, আইসিটি সেলের ভার্সুয়াল রুমে অনুষ্ঠিত টিচিং এন্ড ট্রেনিং প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তুরস্কের চানকিরি ক্যারাটেকিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত  ড. ছোয়াইব তুরান, ড. ইফেহান উলাস,  ড. বুরাক কেসকিন ও সরকান কোলদাস এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটেং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ জাকারিয়া রহমান, ফার্মেসী বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মনিরুজ্জামান, আইআইইআর’র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলী, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ আতিকুর রহমান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ, পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এ্যাপেয়ার্স সেলের প্রধান  ড. মোঃ সাহাদৎ হোসেন আজাদ, সদস্য ড. হুমায়ুন কবির ও ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। এ ট্রেনিং প্রোগ্রামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ভারত, নেপাল, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া এবং শ্রীলংকার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এ্যাপেয়ার্স সেলের সাথে বিভিন্ন বিষয়ের উপর মতবিনিময় করেন। এছাড়াও প্রতিনিধি টিমের সদস্যরা ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ এবং ইন্টারন্যাশনাল স্টুটেন্ড এ্যাফেয়ার্স সেলে পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন।

অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা বন্ধে নজরদারি বাড়াতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে যাবার সময় সাধারণ জনগণ যেন প্রতারিত না হয়, সেজন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি নজরদারি জোরদারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা বন্ধে আমাদের নজরদারি বাড়াতে হবে এবং একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে কেননা তাঁরা আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে তুলতে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।’ শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি ২০১৬-এর আলোকে গঠিত অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় দেয়া ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যেন অকালে হারিয়ে না যায় সেজন্য তাঁদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। কেননা, তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের দিকে নজর দেওয়া আমাদের দায়িত্ব, যেহেতু তাঁরা আমাদের দেশেরই নাগরিক। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী বিশ্বের প্রায় একশ’টি দেশে অবস্থান করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। যা আমাদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। যারা কাজের জন্য বিদেশ যাচ্ছে তাদের জীবন বৃত্তান্ত সহযোগে একটি ডাটাবেজ প্রস্তুত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে তারা কোন কাজের জন্য কোন দেশে যাচ্ছে তার বিবরণ থাকতে হবে।’ বিদেশে গমনেচ্ছুরা যে কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছে তার প্রশিক্ষণ এবং সে দেশের ভাষার ওপর দখল থাকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমরা যৌথভাবেই প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারি, যেমনটি অতীতেও করা হয়েছে। অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এক শ্রেণীর দালাল ও প্রতারক চক্র রয়েছে যারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিদেশে লোক পাঠায়। আর বিদেশে গমনেচ্ছুরা দিন বদলের আশায় তাদের সর্বস্ব বিক্রি করে, ঋণ করে তাদের টাকার জোগান দেয়। এমনও দেখা গেছে যে, এদেরকে বিদেশে নিয়ে দালাল চক্র দেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায় করে। কাজেই আমাদের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে নজরদারিতে আনতে হবে। সারাদেশে তাঁর সরকার ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের পরও জনগণ এসব প্রতারকদের ফাঁদে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে গমনেচ্ছুরা চাইলে সারাদেশে থাকা এসব ডিজিটাল সেন্টার থেকে বিদেশে যাওয়ার জন্য নাম রেজিস্টার করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা বিদেশে গমনেচ্ছু জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, তারা দালালের কাছে না গিয়ে বিদেশ যেতে চাইলে এসব ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে যেন নাম রেজিস্ট্রেশন করান।’ তিনি এ বিষয়ে মিডিয়াকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহবান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের মহিলারাও কাজের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে এবং বিদেশে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কাজেই আমরা এখন তাদের জন্য স্মার্ট কার্ড এবং মোবাইল ফোন দিচ্ছি, যাতে করে তারা এধরনের দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে পারে। তাঁর সরকার বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাতে করে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তারা বিদেশে যেতে পারেন। ‘আমাদের একটি বৃহৎ কর্মক্ষম যুব শক্তি আছে, যাদের মধ্যে অমিত সম্ভাবনা রয়েছে,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে আমাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে এবং এখন থেকে আমরা দক্ষ জনশক্তিই বিদেশে পাঠাব। এ প্রসঙ্গে সরকার প্রধান আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা আর কেবলমাত্র জনশক্তি বিদেশে পাঠাব না কেননা আমাদেরই দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন পড়বে কারণ সমগ্র দেশজুড়ে আমরা একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি এবং আইসিটি ক্ষেত্রের বিকাশ সাধন করছি।’ অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম, পররাষ্টমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান সভাটি সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিমও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মওদুদের রিভিউ আবেদন খারিজ, বিচার চলবে

ঢাকা অফিস ॥ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলার বিচার চলতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না। দুদকের করা ওই মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন মওদুদ। হাই কোর্টের পর আপিল বিভাগেও তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সেই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্যই আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন এই বিএনপি নেতা। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ রোববার তা নাকচ করে আদেশ দেয়। আপিল বিভাগে নিজের আবেদনের পক্ষে নিজেই শুনানি করেন সাবেক বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ।  দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় বিচারিক আদালতে এ মামলায় কার্যক্রম চলতে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না। জরুরি অবস্থার সময় ২০০৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক শরিফুল হক সিদ্দিকী গুলশান থানায় মওদুদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। পরের বছর ১৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপ-পরিচালক শরিফুল হক সিদ্দিকী। সেখানে বলা হয়, ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেওয়া সম্পদের হিসাব বিবরণীতে মোট ৪ কোটি ৪০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন বিগত চার দলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী মওদুদ। এছাড়া তার নামে ৭ কোটি ৩৮ হাজার ২৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়, যা তার ঘোষিত আয়ের তথ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আদালতের স্থগিতাদেশে দীর্ঘ এক দশক আটকে থাকার পর গত বছর ২১ জুন এ মামলায় মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। খুরশীদ আলম খান বলেন, ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। কয়েকজনের সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হয়েছে। হাই কোর্টে ট্যাক্স সংক্রান্ত মামলা রয়েছে জানিয়ে সেগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ মামলার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে গত ৪ মার্চ জজ আদালতে আবেদন করেন মওদুদ। জজ আদালত তা নাকচ করলে তিনি হাই কোর্টে আবেদন করেন। গত ৮ এপ্রিল আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। এর বিরুদ্ধে তিনি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলেন। গত ১৪ মে আপিল বিভাগও মওদুদ আহমদের লিভ টু আপিল খারিজ করে দেয়। ওই আদেশ পুর্নবিবেচনার (রিভিউ) আবেদনও রোববার খারিজ হয়ে গেল। সম্পদ বিবরণীতে ব্যায়ের খাত উল্লেখ, মামলার অভিযোগ গঠন চ্যালেঞ্জ ও আদালত পরিবর্তন ও মামলা স্থগিত চেয়ে এর আগেও বেশ কয়েকবার আবেদন করেছিলেন মওদুদ। তার সেসব আবেদনও খারিজ হয়ে যায়।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে এখন নিজের আয়ে চলতে হবে -অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। গতকাল রোববার সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, এখন থেকে তাদের নিজেদের আয়ে চলতে হবে। রোববার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী ওই চার ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে আরও কঠোর বার্তা দেন। বাংলাদেশে কার্যরত অর্ধ শতাধিক ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছেন পাঁচটি; এর মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী বাদে রয়েছে বেসিক ব্যাংক। খেলাপি ঋণসহ নানা কারণে মূলধন ঘাটতি হওয়ায় তা পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতিবছরই সরকারের দ্বারস্ত হয় এবং সরকারও তাদের চাহিদা মিটিয়ে আসছে। অর্থ বিভাগের এক তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মূলধন পুর্নভরণ, সুদ ও ভর্তুকিসহ নানা উপায়ে সরকার এই ব্যাংকগুলোকে ১২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা দিয়েছে। গত অর্থবছর থেকে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পুনঃঅর্থায়নে রাশ টানতে থাকে। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বৈঠকে আমি তাদের বলে দিয়েছি, এখন থেকে সরকারি ব্যাংকগুলোতে আর কোনো ধরনের রি-ফাইন্যান্সিং করা হবে না। তাদের নিজেদেরই আয় করতে হবে এবং সরকারকে ট্যাক্সও দিতে হবে।” এই ব্যাংকগুলোকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে কর্মপরিকল্পনা  তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন মুস্তফা কামাল। “আমি তাদের বলেছি, এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে। ওই কর্মপরিকল্পনার উপর আগামী রোববার আবার তাদের নিয়ে বৈঠকে বসব। আগামী বৈঠকে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে।” অর্থ না দিলেও পরামর্শ দেওয়াসহ অন্য সহযোগিতা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো পাবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী। রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তাদের যে সম্পদ আছে, তার সুষ্ঠু ব্যবহার করে অন্তত ১৫ শতাংশ লাভ করুক, এটা চায় সরকার।” এই ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে নতুন নিয়োগের বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, “নতুন টপ ম্যানেজমেন্ট সুস্পষ্টভাবে পারদর্শী। তারা সবাই যদি অভিজ্ঞতার আলোকে ও দেশের চাহিদার নিরীখে এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক পরিচালনা করে, তাহলে অসাধারণ কিছু প্রত্যাশা করা যায়।” ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণ (এনপিএল) কমানোর প্রতিশ্র“তির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “মন্দ ঋণ এখনও কমাতে পারি নাই। কারণ আমরা এক্সিটপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারি নাই। তবে শিগগির এটির সুরাহা হবে বলে আমার বিশ্বাস।” গত ২১ মে হাই কোর্টে ঋণ খেলাপীদের বিশেষ সুবিধার উপর স্থিতাবস্থা দেয়। যদিও পরে আবার নতুন ঋণ না নেওয়ার শর্তে স্থিতাবস্থা তুলে নেয়। বিশ্বের সাম্প্রতিক প্রবণতা দেখে মন্দার শঙ্কা জানিয়ে তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “মন্দা তৈরি হলে বিলাসী পণ্যের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু আমরা বেশিরভাগই মৌলিক পণ্য রপ্তানি করে থাকি। তাই আমাদের রপ্তানি কমার সম্ভাবনা নেই। একইভাবে আমাদের পুঁজিবাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ আমাদের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ তেমন নেই।”

ডক্টরস ল্যাব’র মালিক ইয়ারুল ও তার ভাগ্নে উজ্জল জড়িতের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় নার্স বিলকিসকে গণধর্ষণ শেষে হত্যা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় নার্স বিলকিস আক্তারকে গণধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছেন নিহত বিলকিসের স্বজনরা। এমন অভিযোগ তুলে এবং প্রকৃত জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।

গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ পাঠ করে শোনান মামলার বাদি নিহতের ভাই পারভেজ হোসেন এবং স্বামী রফিকুল ইসলাম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন- নিহতের মা মর্জিনা খাতুন, পালিত কণ্যা কুয়াসা ইয়াসমিনসহ নিহতের লাশ প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পরিবারের অভিযোগ, একজন সুঠামদেহী সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষকে নৃশংস ভাবে একাধিক ব্যক্তি যৌন নির্যাতন শেষে হত্যা, বস্তাবন্দি এবং তা দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে খালের পানিতে ভাসিয়ে দেয়া কোনভাবেই একক কোন ব্যক্তির দ্বারা সম্ভব নয়। তাছাড়া হত্যাকান্ডের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী গুরুত্বপূর্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার যোগসূত্র থাকার পরও পুলিশ নিজের মতো করে কেবলমাত্র জসিম নামের একজনকে আসামী করে মামলা রেকর্ড এবং তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সৌপর্দ করেন। অথচ মামলার এজাহারে জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তি নাম দেয়া হলেও সেগুলি বাদ দিয়েছেন কুমারখালী থানার (ওসি তদন্ত) পরিদর্শক সুভ্র প্রকাশ দাস।

নিহতের মা মর্জিনা খাতুনের অভিযোগ বিলকিসকে তার কর্মস্থল শহরের হাসপাতাল মোড় এলাকার ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ইয়ারুল ইসলাম, তার ভাগ্নে উজ্জল এবং সহকর্মী জসিমসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো। ওইসবে সাড়া না দেয়ায় বিলকিসকে নানাভাবে হেনস্থা করত তারা। নিহতের পালিত কন্যা কুয়াসা আক্তার ঋতুর অভিযোগ আমার মা’কে দৈহিকভাবে চরম নির্যাতন করেছিলো ওরা। লাশের গোসল করানার সময় তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আচড়ের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করন।  ওদের সকলের গ্রেফতার ও ফাঁসি চাই। এবিষয়ে কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস বলেন, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এ মুহুর্তে খুব বেশী কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে তদন্তকালে পরিবারের দেয়া অভিযোগের বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে। এজাহার নামীয় আসামীর বাইরেও যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তা অবশ্যই তদন্ত প্রতিবেদনের উঠে আসবে। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাদির অভিযোগ আমলে না নেয়ার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। আদালতে জসিম জবানবন্দি দিয়েছে বিলকিসকে প্রথমে বুকের ওপর লাথি মারে। পরে সে একাই তাকে গলাটিপে হত্যা শেষে লাশ বস্তাবন্দি করে ক্যানেলে ভাসিয়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি দেওয়া জসিম ২০১৮ সাল প্রমোশন  দেওয়ার নাম করে বিলকিসের কাছ থেকে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সে টাকা ফেরত চাইলে নানাভাবে গড়িমসি করতে থাকে জসিম। সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ তার সাথে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানেনো হয়।

উল্লেখ্য গত ১৬আগষ্ট বিকেল থেকে নিখোঁজের চারদিন পর ২০ আগষ্ট কুমারখালী উপজেলার কাঞ্চনপুর বাঁশের সাঁকো নামক এলাকায় জিকে খাল থেকে ওই ক্লিনিক নার্স কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়াস্থ রফিকুল ইসলামের স্ত্রী বিলকিস আক্তারের অর্ধগলিত বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজের পর কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরীও করা হয়েছিলো পরিবারের পক্ষ থেকে।

কাবিননামায় কুমারী শব্দটি বাদ – হাইকোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ কাবিননামার (নিকাহনামা) ফর্মের ৫ নম্বর কলামে কনে কুমারী থাকা শব্দটি বাদ দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। তবে এর পরিবর্তে অবিবাহিতা শব্দটি যোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ৪ নম্বর কলামে ‘ক’ সংযুক্ত করে ছেলেদের ক্ষেত্রে বিবাহিত, বিপতœীক ও তালাকপ্রাপ্ত কিনা তা সংযোজন করতে বলা হয়। এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রোববার এ রায় দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জেড আই খান পান্না ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা। বিষয়টি নিয়ে সম্পূরক আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। আইনজীবী জেড আইন খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, আদালত বলেছেন কুমারী শব্দটা থাকা ঠিক না। সেটা বাদ দেয়া এবং কাবিনের ৪ নম্বর কলামে বরের ক্ষেত্রে সে বিবাহিত কি-না, তালাকপ্রাপ্ত কি-না অথবা বিপতœীক কি-না সেটা লিখতে হবে। আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, ৫ নম্বর কলামের কুমারী শব্দে আমাদের আপত্তি ছিলো। কুমারী বিষয়টা পুরোপুরি প্রাইভেসির ব্যাপার। রাইট টু প্রাইভেসি অনুযায়ী এ রিট করেছি। তিনি বলেন, কাবিননামার ফর্মের (বাংলাদেশ ফর্ম নম্বর-১৬০০ ও ১৬০১) পাঁচ নম্বর কলাম কেন বৈষম্যমূলক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কেন কুমারী শব্দটি বিলোপ করে কাবিননামা সংশোধন করা এবং বরের  বৈবাহিক অবস্থা-সম্পর্কিত কেনো ক্রমিক কাবিননামায় উল্লেখ করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছিলো। রুলের শুনানিতে এ বিষয়ে ধর্মীয় মতামত দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন। কাবিনামার ওই অনুচ্ছেদটি  বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, নারীপক্ষ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনটি করে। রিটের বিবাদীরা (রেসপনডেন্ট) হচ্ছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রিন্টিং এবং প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচাকলসহ সংশ্লিষ্টরা। কাবিননামায় শুধু কনের বৈবাহিক অবস্থা ও তথ্য সন্নিবেশিত করার জন্য অনুচ্ছেদ রয়েছে। তবে বরের বৈবাহিক অবস্থা-সম্পর্কিত কোনো অনুচ্ছেদ নেই। এটা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক। সংবিধান অনুসারে কারও প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। ওই অনুচ্ছেদটি সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ পরিপন্থী বলে রিটে দাবি করা হয়।

রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহ শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ঢাকা অফিস ॥ একাত্তরে খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনে যে সব বাঙালি বেতন নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, তাদের তালিকা সংগ্রহ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রক্ষিতে এ কাজ শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি জানায় তারা। গত ২৬ মে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, রাজাকার, আল বদর, আল শামস, শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকা সংগ্রহ করে তা রক্ষণাবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আধা সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠানো হচ্ছে। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বলেন, “আজকে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেতনভোগী রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।” তিনি জানান, জেলা পর্যায়ে রাজাকারদের তালিকা সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শাজাহান বলেন, “ জেলায় জেলায় রেকর্ড রুমে রাজাকারদের তালিকা আছে। সেখান থেকে সংগ্রহ করে তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।” কবে নাগাদ এই তালিকা প্রণয়ন হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা ডিসিদের ওপর নির্ভর করছে। তারা কাজ যত তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারে।” একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী। তখন যুদ্ধরত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করতে রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। আনসার বাহিনীকে এই বাহিনীতে একীভূত করা হয়েছিল। প্রথমে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত শান্তি কমিটির অধীনে থাকলেও পরে একে আধা সামরিক বাহিনীর স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। একই রকম আধা সামরিক বাহিনী ছিল আল বদর বাহিনী ও আল শামস বাহিনী। তবে স্বাধীনতাবিরোধী এই বাহিনীগুলোকে সাধারণ অর্থে রাজাকার বাহিনী হিসেবেই পরিচিত বাংলাদেশে। প্রায় এক দশক আগে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর রাজাকারের তালিকা তৈরির দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, রাজাকারের কোনো তালিকা সরকারের কাছে নেই। তবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের খুলনায় আনসার হেডকোয়ার্টার্সে পাওয়া তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি রাজাকারের তথ্য মিলেছিল। ওই তালিকাটি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রয়েছে। মে মাসে সংসদীয় কমিটির  বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, কমিটির আগের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়। রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যদের দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করে তাদের আসনগুলো অবৈধভাগে শূন্য ঘোষণা করে তাদের স্থলে যাদেরকে সদস্য করা হয়েছিল, তাদের নামগুলো স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণে আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে ওই কার্যপত্রে দেখা যায়।

এটিএন বাংলা কুষ্টিয়ার ক্যামেরাপার্সনের উপরে হামলা

ক্যামেরা ভাঙচুর, মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, অভিযুক্ত শাহিন গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ এটিএন বাংলা কুষ্টিয়ার ক্যামেরাপার্সন হাসিবের উপরে হামলা ক্যামেরা ভাঙচুর ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশ গ্রামে দায়িত্ব পালনকালে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হামলা করেন পার্শ্ববর্তী কুশলীবাসা গ্রামের টেংরা শেখের ছেলে শাহিন শেখ (৪০)। এই ঘটনায় এটিএন বাংলা কুষ্টিয়ার ক্যামেরাপার্সন হাসিব বাদী হয়ে কুমারখালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১২, তারিখ-২৪/০৮/২০১৯ ইং। মামলা দায়েরের পর কুমারখালী থানার সেকেন্ড অফিসার শেখ খালেদুর রহমানের নেতৃত্বে বাঁশগ্রাম ক্যাম্পের আইসি লিপন সরকারসহ পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত শাহীনকে আটক করেছে কুমারখালী থানা পুলিশ। থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর আনুমানিক বারোটার দিকে এটিএন বাংলার ক্যামেরাপারসন হাসিব বাঁশ গ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় শাহিন শেখসহ অজ্ঞাতনামা তার কয়েকজন সহযোগী হাসিবের উপরে হামলা চালায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা এটিএন বাংলার একটি ভিডিও ক্যামেরা ভাঙচুর করে, সাথে থাকা নগদ টাকা ছিনতাই সহ ক্যামেরাপারসনকে বেধড়ক মারপিট করেন। সংবাদটি কুষ্টিয়া শহরে সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ক্যামেরাপার্সন হাসিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় এজাহার দায়ের করলে কুমারখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহীন শেখকে আটক করে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ও এডিটর’স ফোরামের সাংবাদিকরা। তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের অবশ্যই ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। যে ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছে তার বিরুদ্ধে এলাকাতে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বাঁশ গ্রাম ও কুসলিবাসা এলাকার স্থানীয় অনেকেই জানান, এই শাহিন শেখ একজন চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তার অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এলাকাবাসীর দাবি শাহীনকে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শাহিনের অনুসারী যারা এলাকাতে প্রভাব বিস্তার করে চলাফেরা করে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে এই শাহিন শেখ, সাম্প্রতিক সময়ে ক্রসফায়ারে নিহত ওবায়দুর রহমান লালের ভাই এমদাদুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। অনেকেই বলছেন সে মারা যাওয়ার পর এমদাদের অবৈধ অস্ত্রের রাজ্যের ভান্ডারে দেখাশোনা এই শাহিন শেখ করে থাকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো আরও গুরুতর তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির জীবনাবসান

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আর নেই। শনিবার বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতার জীবনাবসান হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ মাধ্যম। নরেন্দ্র মোদীর বিগত সরকারের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। পাঁচ বছর অর্থ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর পর অসুস্থতার কারণে নিজেই মোদীর এবারের সরকারে না থাকার ইচ্ছা জানিয়েছিলেন তিনি। একই কারণে নির্বাচনও করেননি। অসুস্থতার কারণে মোদীর বিগত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও এবারের সরকারে থাকেননি। সম্প্রতি তারও মৃত্যু ঘটে। প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট  হওয়ায় গত ৯ আগস্ট নয়া দিলি¬র অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স (এআইআইএমএস) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অরুণ জেটলিকে। এআইআইএমএস শনিবার এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর কথা জানায়। ভর্তির পর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন বলে পিটিআই জানিয়েছে। গত বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় অরুণ জেটলির কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছিল। তারপর থেকে তিনি অসুস্থতার মধ্য দিয়েই চলছিলেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন অটল বিহারি বাজপাইর সরকারেও মন্ত্রী ছিলেন পেশায় আইনজীবী অরুণ জেটলি। ভোটের রাজনীতিতে অসফল হলেও মোদীর সরকারে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জোটের রাজনীতিতে ভূমিকার জন্য অরুণ জেটলি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে দেখতে গিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। অরুণ জেটলির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মোদী বলেছেন, তিনি মূল্যবান একজন বন্ধুকে হারালেন। অরুণ জেটলির জন্ম ১৯৫২ সালের ২৮ ডিসেম্বর নয়া দিলি¬তে। তার বাবা মহারাজ কিষাণ জেটলিও ছিলেন একজন আইনজীবী। হিসাব বিজ্ঞানে পড়াশোনার পর দিলি¬ ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন অরুণ জেটলি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা ছিলেন তিনি; দিলি¬ ইউনিভার্সির ছাত্র সংসদের সভাপতিও ছিলেন। ছাত্র সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর গত শতকের ৮০ দশকে বিজেপিতে সক্রিয় হন অরুণ জেটলি। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে ছিলেন। ১৯৯৯ সালে বাজপাইর সরকারে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান অরুণ জেটলি; পরে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তার উপর চেপেছিল। কংগ্রেস আমলে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অরুণ জেটলি বিয়ে করেন কাশ্মীরের সাবেক অর্থমন্ত্রী গিরিধারী লাল ডোগরার মেয়ে সঙ্গীতাকে। তাদের দুই ছেলে-মেয়েও আইনজীবী।

শহীদ মিনারে অধ্যাপক মোজাফফরকে শেষ শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) একাংশের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার লাশ আনা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এসময় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিব), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ কবিতা পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ। এসময় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের লাশ ফুলে ফুলে ভরে যায়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোজাফফর আহমদের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার মেয়ে আইভি আহমদ বলেন, আমার বাবা সারাজীবন গরিব মানুষের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি স্তম্ভ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সব মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেই বাবার স্বপ্নপূরণ হবে। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। এর আগে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম নামাজে জানাজা বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মোজাফফর আহমদের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতিতে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের ত্যাগের দৃষ্টান্ত সবার জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের প্রতিটি সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। বামপন্থিদের মধ্যে প্রথম যিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছয় দফায় বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তিনি মোজাফফর আহমদ। তিনি বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের রাজনৈতিক সহযোগিতা পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের সুযোগ্য সন্তান, কিংবদন্তি নেতা আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে গেলেন। তার প্রজন্মের কেউ আর রাজনীতিতে থাকলেন না। মোজাফফর আহমদ একটি বিশাল বটবৃক্ষের মতো, যে বটবৃক্ষের আজ পতন হলো। এরপর ন্যাপ কার্যালয়ে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের লাশ তার সহযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। বেলা ১২টায় ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে ন্যাপ কার্যালয়ে তার লাশ আনা হয়। এ সময় দেশের প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে একবার দেখা এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার রাজনৈতিক জীবনের অসংখ্য সহযোদ্ধা ও শুভাকাক্সক্ষীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় শহীদ মোজাফফর আহমদের লাশ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ আসর তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ রোববার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা নিজ গ্রামে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের দাফন সম্পন্ন করা হবে। গত শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তার জন্ম ১৯২২ সালে। ১৯৩৭ সালে রাজনীতিতে অংশ নেন। এই রাজনীতি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মোজাফফর আহমদ দেবীদ্বার থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তদানীন্তন মুসলিম লীগের শিক্ষামন্ত্রী মফিজুল ইসলামকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নজির সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালে ন্যাপ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একভাগ মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে থাকলেও অন্য অংশ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বে আলাদা হয়ে যায়।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনগণের, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের নয় ঃ ড. কামাল

ঢাকা অফিস ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশবাসীকে যা দিয়েছেন, তা নেয়ার শক্তি কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনগণের। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের নয়।’ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে গণফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা, কারও একক পিতা নন। বঙ্গবন্ধু কোনো একক দলের নয়, তিনি সবার। এ দেশে এখন বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে তার আদর্শের উল্টো কাজ হচ্ছে। তিনি যে আদর্শ আমাদের মাঝে রেখে গেছেন তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু কোনোদিনও ভাবতে পারেননি স্বৈরশাসন থাকবে। উনি চেয়েছিলেন, এ দেশে গণতন্ত্র থাকবে, নির্ভেজাল গণতন্ত্র। নামকাওয়াস্তে গণতন্ত্র নয়।’ বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ড. কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন দেশের মালিক জনগণ। তাই তিনি সংবিধানে লিখে দিয়েছিলেন দেশের মালিক জনগণ এবং এ দেশের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে। কিন্তু খুবই দুঃখজনক বিষয় হল দেশে নির্বাচন পদ্ধতিটাকে উল্টে দেয়া হয়েছে। টাকা-পয়সা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে এখন একটা রায় দিয়ে দেয়া হয়। মানুষ যাকে ভোট দিতে চায় না, সে সামনে এসে বলে, আমি নির্বাচিত, আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। গণতন্ত্র মানে সব স্তরে জনগণ ক্ষমতার মালিক। যেখানে যেখানে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে- কেন্দ্রে, জেলায়, ইউনিয়নে, স্থানীয় পর্যায়ে। যিনিই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।’ ড. কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো, তাকে স্মরণ করা, তাকে জাতির পিতার ভূমিকায় রাখার অর্থই হল তিনি যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তা যেন আমরা মনে রাখি, পালন করি। তার দেয়া সেই দায়িত্বকে পবিত্র মনে করে আমরা যেন কাজ করে যাই। যারা সত্যিকার অর্থেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে না। তারা ব্যক্তি স্বার্থ গোছাতে কাজ করছে। এটা দেখে মেনে নেয়া যায় না। বঙ্গবন্ধু মেনে নেননি বলে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। জনগণের স্বার্থ নিয়ে কোনোরকম আপস করেননি বলেই তাকে জীবন দিতে হলো।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেটা ধরে রেখে আমরা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি এবং গড়বো ইনশাআল্লাহ। আজকের দিনে সবচেয়ে বড় অপরাধ হল, বঙ্গবন্ধুর যে কাজটা করতে বলেছেন উল্টোটা করে তার নাম নেয়া। এই দেশে  স্বৈরশাসন থাকবে, এটা তিনি কোনোদিনই ভাবতে পারেননি।’ ড. কামাল আরও বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলাম, ইয়াহিয়া খানই আপনাকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন যে আপনি অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। বাঙালিকে কখনও কোনোদিন কেউ ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। এই অসম্ভবকে সম্ভব করে আপনি তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা দিয়েছেন আমাদের। ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ, মোকাব্বির খান, অ্যাডভোকেট মহসীন রশীদ, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

বংশাল থানা আ’লীগের আলোচনা সভায় হানিফ

দন্ডপ্রাপ্ত তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ঢাকা অফিস ॥ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালত কর্তৃক কারাদন্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। শনিবার রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজারে একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বংশাল থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দন্ডিত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির বিধান করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গোটা দেশবাসীর পক্ষ থেকে ওই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে অনুরোধ করব, ব্রিটিশ সরকার বা মার্কিন সরকার আপনারা কথায় কথায় মানবতার কথা বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন। আজ একজন কুখ্যাত অপরাধী, যিনি হত্যাকারী হিসেবে আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত তাকে শেল্টার দিয়ে, তার বিচারের রায় কার্যকর করতে আপনারা সহায়তা না করে কোন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করছেন সেটাই আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। তিনি বলেন, আপনারা মানবাধিকারের কথাই তো বলেন, সত্যিকারের মানবাধিকার যদি চান তাহলে এই সব দন্ডপ্রাপ্ত, কুখ্যাত আসামিদের অবিলম্বে আমাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে, আইনের শাসনের মাধ্যমে আমরা এই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে পারব। আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি অফিস থেকে আজ সংবাদ সম্মেলন করেন, নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেন। আপনাদের মধ্যে বিবেকে বাধে নাই? বেগম খালেদা জিয়া নাটক করার জন্য সিএমএইচে গিয়েছিলেন। উনি দেখতে গেলেন আইভী রহমানকে, মৃত্যুর পথযাত্রী। খালেদা জিয়া আসবেন এই কারণে তার ছেলে এবং মেয়েকে পাশের একটা রুমে নিয়ে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হলো প্রায় দুই ঘণ্টা। এত নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণ, এটা আল্লাহপাক সহ্য করেননি। তিনি বলেন, সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত আজ বেগম খালেদা জিয়ার করতে হচ্ছে। ভেবেছিলেন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে বা এই সব অপরাধ করে কোনো দিন আপনার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না। আল্লাহর বিচার আছে। অপরাধ করলে যে তার শাস্তি হয়, বিচার হয় আজ দেখুন। হানিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে, ইন্ধন নিয়ে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আপনার সন্তানকে দিয়ে হামলা করিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে আপনারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন। সেই স্বপ্ন আপনাদের পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, আজ আপনারাই নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। আপনি আছেন কারাগারে, আপনার সন্তান আছে পলাতক হিসেবে দেশের বাইরে। এখনও ওখানে থেকে ষড়যন্ত্র করছেন। বংশাল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাজি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন, নির্বাহী সদস্য আনিস আহম্মেদ প্রমুখ।

 

ফরিদপুরে সেতু থেকে বাস পড়ে নিহত ৮

ঢাকা অফিস ॥ ফরিদপুরে সেতুর রেলিং ভেঙে বাস নিচে পড়ে আটজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। কোতোয়ালি থানার ওসি এফএম নাছিম জানান, গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ধুলদি এলাকায় ঢাকা-ফরিদপুর মহাসড়কে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন হাবিবুর রহমান ও ফারুক হোসেন। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ। নিহত অন্য ছয়জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ আর তিনজন নারী। ওসি নাছিম বলেন, “ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা খায়। সঙ্গে সঙ্গে কুমার নদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই এর ছয় যাত্রী নিহত হন।” এছাড়া হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান আরও দুইজন মারা যান বলে জানান ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক শওকত আলী জোয়ার্দার। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুঘটনার খরব পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, হাইওয়ে পুলিশ ও কোতোয়ালি থানার পুলিশসহ এলাকাবাসী গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। ফরিদপুর অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান প্রাথমিক তদন্তের তথ্য দিয়ে বলেন, “কমফোর্ট পরিবহনের এই বাসটি দ্রুত গতিতে চলার সময় সেতুত ওঠার পর একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।”

দৌলতপুরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্বামীর হাতে সাগরী খাতুন (১৮) নামে এক গৃহবধু খুন হয়েছে। খুনের ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা হয়ে ঘাতক স্বামী সবুজ (২২) গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছে। উপজেলার কৈপাল অমিনপাড়া গ্রামে হত্যাকান্ডের এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কৈপাল অমিনপাড়া গ্রামের সবুজের স্ত্রী সাগরী খাতুনকে তার নন্দাই অর্থাৎ সবুজের বোন জামাই রহিদুল ইসলামের সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলে সবুজ। এসময় সবুজ ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত তার স্ত্রীসহ বোন জামাইকে বেধড়ক মারপিট করে গুরুত আহত করে। পরে আহত অবস্থায় সাগরী খাতুন ও রহিদুল ইসলাম (৩৫) কে উদ্ধার কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দুপুরে সাগরী খাতুন মারা যায়। তবে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের মোশারফ বিশ^াসের ছেলে রহিদুল ইসলাম কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহত সাগরী খাতুনের বাবা ধর্মদহ পূর্বপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম শাহ বাদী হয়ে তার জামাই সবুজকে আসামী করে শনিবার রাতে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা দায়েরের পূর্ব থেকেই ইসমাইল হোসেনের ছেলে সবুজ পলাতক রয়েছে।