রিয়ালের নতুন দুশ্চিন্তা বেল-মদ্রিচের চোট

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকোর আগে দুশ্চিন্তা বাড়ল রিয়াল মাদ্রিদের। আন্তর্জাতিক বিরতিতে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় চোটে পড়েছেন দলটির মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ ও ফরোয়ার্ড গ্যারেথ বেল। ২০২০ ইউরো বাছাইয়ে গত রোববার ক্রেয়েশিয়া ও ওয়েলসের ১-১ ড্র ম্যাচের শেষ সময়ে ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে দুজনের সহায়তায় মাঠ ছাড়েন মদ্রিচ। আর বাম পায়ের পেশির সমস্যায় ভুগলেও পুরো ম্যাচ খেলেন ওয়েলস ফরোয়ার্ড বেল। সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতেও পেশির চোটে ১৬ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন গত বছরের ফিফা বর্ষসেরা মদ্রিচ। তবে এবারের চোট অতটা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন ক্রোয়েশিয়া মেডিকেল টিমের সদস্য নিকোলা ইয়ের্কান। “চিকিৎসকদের মতে, মদ্রিচ ঊরুর পেশিতে আঘাত পেয়েছেৃক্লাসিকো নিয়ে সমর্থকদের চিন্তিত হওয়াটা যৌক্তিক, তবে এটা অতটা গুরুতর মনে হচ্ছে না।” অস্বস্তি নিয়ে পুরো ম্যাচ খেলা বেলের গোলেই হার এড়ায় ওয়েলস। চোট কাটিয়ে এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুস। বিভিন্ন সময়ে দলের অনেক সদস্যরাও চোটে পড়ায় মৌসুমে এখনও পুরো শক্তির দল পাননি রিয়ালের কোচ জিনেদিন জিদান। আগামী ২৬ অক্টোবর হতে যাওয়া চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাই দুশ্চিন্তা বাড়ল জিদানের। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গালাতাসারাইয়ের মুখোমুখি হবে প্রতিযোগিতাটিতে এখনও জয়ের স্বাদ না পাওয়া দলটি।

সভাপতি সৌরভ সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন ঘরোয়া ক্রিকেটারদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও দায়িত্ব নেওয়া হয়নি। তবে দায়িত্বটি পাচ্ছেন, এটি নিশ্চিত হয়ে যেতেই নিজের প্রথম করণীয় ঠিক করে ফেলেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড, বিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন ঘরোয়া ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের। ভারতের সবসময়ের সফল অধিনায়কদের একজন সৌরভের আরেকটি বড় দায়িত্ব পাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। রোববার মুম্বাইয়ে এক অনানুষ্ঠানিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিসিসিআইয়ের সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে নাটকীয়ভাবে এগিয়ে যান সৌরভ। লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বোর্ডকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর পর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন গাঙ্গুলী। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি হিসেবে গত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করে আসছেন ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ বলে খ্যাত এই সাবেক ক্রিকেটার। সভাপতি পদের মনোয়নয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার। তবে দায়িত্ব পাওয়া নিশ্চিত বলেই নিজের কর্মপরিকল্পনার একটি ধারণা দিয়েছেন প্রেস্ট ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়াকে। “কোন সিদ্ধান্ত নেবার আগে আমরা অবশ্যই সবার সাথে আলোচনা করবো। তবে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের দেখভাল করাটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।’’ ‘‘(ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে) আমি কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসকে তিন বছর ধরে অনুরোধ করেছি। আমি সবার আগে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের আর্থিক সুরক্ষার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে চাই।’’ সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এতটা এগিয়ে গিয়ে সৌরভ নিজেও বিস্মিত। এর আগে এগিয়ে ছিলেন ছিলেন ব্রিজেস প্যাটেল। তবে দুই পক্ষের সমঝোতার পর সরে গেছেন তিনি। সেক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন গাঙ্গুলী। বিসিসিআই প্রধানের দায়িত্ব তিনি পেতে পারেন ১০ মাসের জন্য। সৌরভের জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা। “যখন নিচে এসেছিলাম (সভা থেকে), তখনও জানতাম না যে আমিই সভাপতি হব। আপনারা (সংবাদকর্মীরা) জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি বলেছিলাম ব্রিজেশ হচ্ছেন। কিন্তু পরে ওপরে গিয়ে জানতে পারলাম এটি বদলে গেছে। আগে কখনোই বিসিসিআইয়ের নির্বাচনে ছিলাম না আমি, জানতাম না যে এটা এভাবে হয়।” তবে যেভাবেই নির্বাচিত হোন না কেন, নতুন পদ যে তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে, সেটা অকপটেই স্বীকার করেছেন ৪৯ টেস্ট ও ১৪৭ ওয়ানডেতে ভারতকে নেতৃত্ব দেয়া সৌরভ। ‘‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচিত হই বা না হই, দায়িত্ব অনেক। কারণ বিসিসিআই বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। অর্থনৈতিক ভাবে, ভারত ক্রিকেটের পাওয়ারহাউজ। তাই, এটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।’’ ‘‘আমি এমন একটা সময়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি, যখন শেষ তিন বছরে বিসিসিআই খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। সংস্থার ভাবমূর্তি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমার জন্য এটা ভালো কিছু করার একটা সুযোগ।’’

আইসিসির সদস্যপদ ফিরে পেল জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ তিন মাসের মাথায় আবারও আইসিসির সদস্যপদ ফিরে পেল জিম্বাবুয়ে। সোমবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী জানুয়ারিতে হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এবং পরবর্তীতে আইসিসি সুপার লিগে অংশগ্রহণে আর কোন বাধা থাকছে না আফ্রিকার দেশটির। জিম্বাবুয়ের পাশাপাশি শর্তসাপেক্ষে নিজেদের সদস্যপদ ফিরে পেয়েছে নেপালও।

‘ঢাকায় প্যারাগুয়ে ম্যাচ’ দিয়ে ফিরবেন মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগামী মাসে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটা সত্যি হলে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে হতে যাওয়া ওই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরবেন লিওনেল মেসি। স্পেনের মার্তিনেস ভালেরো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার রাত আটটায় প্রীতি ম্যাচে একুয়েডরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচিতে মেসির ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন লিওনেল স্কালোনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে মেসি এখানে নেই। সের্হিও আগুয়েরো এখানে নেই কারণ সে দীর্ঘ দিন ধরে চোটে ভুগেছে এবং ক্লাবে শতভাগ অনুশীলন করতে পারছে নাৃদুজনেই পরের মাসে ফিরবে এটা নিশ্চিত।” জুন-জুলাইয়ে হওয়া কোপা আমেরিকা চলার সময় দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবল কনফেডারেশনের (কনমেবল) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিন মাস নিষিদ্ধ হন মেসি। আগামী ১৮ নভেম্বরে হতে যাওয়া তাদের প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ঢাকায় হবে বলে এরই মধ্যে প্যারাগুয়ে ফুটবল তাদের টুইটারে জানিয়েছে। এই ম্যাচের তিন দিন আগে এখানেই আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে ও ভেনেজুয়েলা। এই ম্যাচও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে বিষয়টি ভেনেজুয়েলা ফুটবল তাদের টুইটারে জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।  গত মঙ্গলবার প্রীতি ম্যাচে জার্মানির সঙ্গে ২-২ ড্র করে আর্জেন্টিনা। গত মাসে চিলি ও মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচেও দলে ছিলেন না রেকর্ড ছয় বারের বর্ষসেরা ফুটবলার।

দেয়ালে ঘুষি মেরে মার্শের হাতে চোট

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ে না মিচেল মার্শের। কিংবা তিনিই বারবার আপন করে নেন অঘটনকে। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের বিতর্ক জর্জর ক্যারিয়ারে যোগ হলো নতুন অধ্যায়। শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে আউট হবার পর ড্রেসিংরুমে ফিরে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেননি। ঘুষি মেরে বসেন ড্রেসিং রুমের দেয়ালে। মেজাজ হারানোর খেসারত তাকে দিতে হচ্ছে মাঠের বাইরে ছিটকে গিয়ে। শেফিল্ড শিল্ডে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিনে ব্যক্তিগত ৫৩ রান নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন মার্শ। তবে প্রথম ওভারেই জ্যাকসন বার্ডকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। ড্রেসিংরুমে ফিরে রাগের মাথায় ঘুষি মারেন দেয়ালে। চোট এতই বেশি যে, টুর্নামেন্টে দলের পরের ম্যাচে তার না খেলাটা একরকম নিশ্চিত। এক বিবৃতিতে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চোটের অবস্থা বুঝে এই সপ্তাহের শেষদিকে মার্শের ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাব্য সময় জানা যাবে। দারুণ প্রতিভাবান বলে বিবেচিত হলেও মার্শ কখনও অস্ট্রেলিয়া দলে থিতু হতে পারেননি, গুছিয়ে নিতে পারেননি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। মূল কারণ মাঠের বাইরের নানা কান্ড। অনেকবারই প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন সব বিতর্ক পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করার। কিন্তু বাস্তবে সেটির প্রতিফলন অনেক সময়ই পড়েনি। সবশেষ কিছুদিন আগে দলে ফিরে অ্যাশেজে খেলেছেন একটি টেস্ট। ব্যাটিংয়ে ভালো না করলেও সেই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। তাকে ঘিরে নতুন করে জেগেছিল আশা। সেই আশায় কুঠারাঘাত এবারের নতুন ঘটনায়। আগামী শুক্রবার নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে ভিক্টোরিয়ার মুখোমুখি হবে মার্শের দল। শিল্ডে ভালো করে আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের দলে জায়গা পাবার দাবি জানিয়ে রাখার সুযোগ ছিল এই অলরাউন্ডারের সামনে। কিন্তু নিজের দোষেই এখন সেই সম্ভাবনা হয়ে গেছে অনেকটাই ফিকে।

প্রোটিয়াদের রেকর্ড ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ভারতের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই একই চিত্র। ভেঙে পড়ল টপ ও মিডল অর্ডার। প্রথম ইনিংসের মতো কেশভ মহারাজ ও ভার্নন ফিল্যান্ডার এবারও প্রতিরোধের চেষ্টা করলেন বটে; তবে পারলেন না। ফাফ দু প্লেসির দলকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ঘরে তুলেছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৮৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে পুনে টেস্ট ইনিংস ও ১৩৭ রানে জিতেছে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় জয়। নয় বছরের মধ্যে এই প্রথম পাঁচ দিনের ক্রিকেটে ইনিংস ব্যবধানে হারের তেতো স্বাদ পেল প্রোটিয়ারা। এর আগে তাদের সবশেষ ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ও ছিল ভারতের মাটিতেই। ২০১০ এর ফেব্র“য়ারিতে কলকাতা টেস্টে ইনিংস ও ৫৭ রানের ব্যবধানে হেরেছিল গ্রায়েম স্মিথের দল। আগের দিন প্রথম ইনিংসে ২৭৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া সফরকারীদের রোববার আবারও ব্যাটিংয়ে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফলোঅন করালো ভারত। সব মিলে ২০০৮ সালে লর্ডস টেস্টের পর প্রথমবার ফলো-অনে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুটা হয় আগের মতোই, বাজে। দিনের প্রথম ওভারে ইশান্ত শর্মার আঘাতে আবারও শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার এইডেন মারক্রাম। উমেশ যাদবের বলে বাম দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ এক ক্যাচে টিউনিস ডি ব্র“ইনকে ফেরান ঋদ্ধিমান সাহা। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক দু প্লেসির সঙ্গে প্রতিরোধের আভাস দিয়েছিলেন ডিন এলগার। কিন্তু দু প্লেসির বিদায়ে ভাঙে ৪৯ রানের জুটি। প্রোটিয়া অধিনায়কের ব্যাটের কানায় লাগা বল চারবারের চেষ্টায় মুঠোবন্দি করেন উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান। পরের ওভারে অশ্বিন ফিরিয়ে দেন একপ্রান্ত আগলে রাখা এলগারকেও। ৭২ বলে আট চারে তার করা ৪৮ রানই শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকে ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। খানিক বাদে রবীন্দ্র জাদেজার বলে কুইন্টন ডি কক বোল্ড হয়ে যান। ষষ্ঠ উইকেটে টেম্বা বাভুমা ও সেনুরান মুথুসামি মিলে যোগ করেন ৪৬ রান। চার রানের ব্যবধানে এই দুজন ফিরলে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দাঁড়ায় ১২৯/৭। তখন তাদের পরাজয় কেবলই সময়ের ব্যাপার। অষ্টম উইকেটে মহারাজ ও ফিল্যান্ডারের ৫৬ রানের জুটিতে ভারতের অপেক্ষাই যা একটু বাড়ে। শেষ সেশনের শুরুতে অল্প সময়ের মধ্যে শেষ তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের আনন্দে ভাসে ভারত। তিনটি করে উইকেট নেন ভারতের উমেশ যাদব ও রবীন্দ্র জাদেজা। ভারতের একমাত্র ইনিংসে অপরাজিত ২৫৪ রানের ইনিংস খেলা বিরাট কোহলি পান ম্যাচ সেরার পুরস্কার। সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ ভারত ১ম ইনিংসঃ ৬০১/৫ (ইনিংস ঘোষণা)। দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংসঃ ২৭৫/১০। দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংসঃ ৬৭.২ ওভারে ১৮৯/১০ (মারক্রাম ০, এলগার ৪৮, ডি ব্র“ইন ৮, দু প্লেসি ৫, বাভুমা ৩৮, ডি কক ৫, মুথুসামি ৯, ফিল্যান্ডার ৩৭, মহারাজ ২২, রাবাদা ৪, নরকিয়া ০; ইশান্ত ৫-২-১৭-১, উমেশ ৮-৩-২২-৩, শামি ৯-২-৩৪-১, অশ্বিন ২১-৬-৪৫-২, জাদেজা ২১.২-৪-৫২-৩, রোহিত ২-০-৪-০, কোহলি ১-০-৪-০)। ফলঃ ভারত ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরাঃ বিরাট কোহলি।

ইমরুলের ডাবল সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইমরুল কায়েস ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। জাতীয় লিগে রোববার খুলনার হয়ে রংপুরের বিপক্ষে এই ইনিংস খেলেন ইমরুল। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ১৯ চার ও ৬ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৩১৯ বলে ২০২ রান করে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ইমরুলের আগের ডাবল সেঞ্চুরি ছিল ২০১৪ সালে বিসিএলের ফাইনালে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে ২০৪ রান করেছিলেন ২০ চার ও ৯ ছক্কায়। এবার মৌসুম শুরুর আগে বেশ কিছুদিন মাঠের সংস্পর্শ থেকে দূরে ছিলেন ইমরুল। শিশু সন্তানের অসুস্থতার কারণে তাকে ছুটোছুটি করতে হয়েছে দেশের বাইরে। মাঠে ফিরে অনুশীলন শুরু করেছেন জাতীয় লিগ শুরুর মাত্র কদিন আগে। তারপরও জ্বলে উঠলেন প্রথম ইনিংসেই। খুলনার হয়ে জাতীয় লিগের এই ম্যাচে এবার ইমরুল ব্যাট করেছেন তিন নম্বরে। তৃতীয় দিন বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষে অপরাজিত ছিলেন ২৯ রানে। চতুর্থ দিনের সকালের সেশনে শুরুতে ছিলেন বেশ সাবধানী। ১০৫ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। এরপর বাড়তে থাকে স্ট্রোকের পরিধি। দ্রুত বাড়তে থাকে রানও। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে অষ্টাদশ সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেন ১৮৩ বলে।

আরেক প্রান্তে অবশ্য উইকেট পড়ছে নিয়মিত। কিন্তু ইমরুল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। যখন সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন, ততক্ষণে দল হারিয়ে ফেলেছে ৮ উইকেট। কিন্তু শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ঠিকই ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছে গেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শেষ দুই জুটিতে খুলনা তোলে ১২৬ রান। তাতে শেষ দুই ব্যাটসম্যান রুবেল হোসেন ও আল আমিন হোসেনের সম্মিলিত অবদান ছিল কেবল ৩ রান! ইমরুলের ব্যাটে তখন রানের জোয়ার ছিল এতটাই তীব্র। রুবেলকে নিয়ে নবম উইকেটে ইমরুল গড়েছেন ৮৪ রানের জুটি। রুবেলের রান ছিল সেখানে ৪৪ বলে ২। নাঈম ইসলামকে চার মেরে দেড়শ ছুঁয়েছেন ২৪৫ বলে। শেষ ব্যাটসম্যান আল আমিন যখন উইকেটে গেলেন, ডাবল সেঞ্চুরি থেকে তখনও ২৬ রান দূরে ইমরুল। তারপরও আল আমিনকে আড়াল করে, নিজে স্ট্রাইক নিয়ে দারুণ গতিতে ছুটে যান ডাবলের পথে। ১৭৬ রান থেকে নাসির হোসেনকে ছক্কায় উড়িয়েছেন টানা দুই বলে। এরপর ১৮৯ রান থেকে সোহরাওয়ার্দী শুভকে টানা দুই বলে ছক্কা ও চারে দ্বিশতক স্পর্শ করেন ৩১১ বলে। ইমরুল দুইশ করার খানিক পরই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় খুলনা। শেষ উইকেটে ৪২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আল আমিন কেবল ৩ বল খেলে করেছেন ১ রান।  শেষ দুই জুটিতে খুলনার ১২৬ রানের ১০৯ রানই এসেছে ইমরুলের ব্যাট থেকে।

পর্তুগালের অনায়াস জয়ে রোনালদোর গোল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগের ম্যাচে চার গোল করা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো জালের দেখা পেলেন আবারও। পর্তুগালও পেল প্রত্যাশিত জয়। লুক্সেমবার্গকে হারিয়ে ইউরো বাছাইয়ে জয়ের ধারা ধরে রাখলো শিরোপাধারীরা।  লিসবনে শুক্রবার রাতে ‘বি’ গ্র“পের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে পর্তুগাল। বের্নার্দো সিলভার গোলে ম্যাচের শুরুর দিকে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। মাঝে ব্যবধান বাড়ান রোনালদো। শেষ দিকে দলের তৃতীয় গোলটি করেন গনসালো গেদেস। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯৩তম স্থানে থাকা দলটির বিপক্ষে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি পর্তুগালকে। ষোড়শ মিনিটে বের্নার্দো সিলভার গোলে এগিয়ে যায় তারা। গোলের দেখা অবশ্য তার আগের মিনিটেই পেতে পারতো দলটি। সিলভার ডি-বক্সে বাড়ানো বল প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন জোয়াও ফেলিক্স। বল দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। পরের আক্রমণেই এগিয়ে যায় ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। ডান দিক থেকে একজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে নেলসন সেমেদোর শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে অরক্ষিত সিলভার পায়ে যায়। অনায়াসে পে¬সিং শটে বাকিটুকু সারেন ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে গোলমুখ থেকে তার দুর্বল বাইসাইকেল কিক অনায়াসে ঠেকান গোলরক্ষক। মাঝে আরও দুটি হাফ-চান্স কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়া রোনালদো ৬৫তম মিনিটে একক নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। প্রতিপক্ষের সামান্য ভুলে বল পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ এক চিপ শটে আগুয়ান গোলরক্ষকের উপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ইউভেন্তুস তারকা। এই নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে শেষ তিন ম্যাচে ৬ গোল করলেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার মোট গোল হলো ৯৪টি। ৮৯তম মিনিটে জটলার মধ্যে বল পেয়ে নিচু শটে জয় নিশ্চিত করেন গেদেস। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের পায়ে লেগে ভিতরে ঢোকে তার শট। প্রথম দুই ম্যাচে ড্র করা পর্তুগাল টানা তৃতীয় জয়ে পাঁচ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। ঘরের মাঠে লিথুয়ানিয়াকে ২-০ গোলে হারানো ইউক্রেন এক ম্যাচ বেশি খেলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা সার্বিয়ার পয়েন্ট পাঁচ ম্যাচে ৭। ‘এ’ গ্র“পে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে চেক রিপাবলিক। দুদলের পয়েন্টও এখন সমান ১২। অবশ্য মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে শীর্ষে আছে ইংল্যান্ড, একটি ম্যাচ কমও খেলেছে তারা। তিন নম্বরে থাকা কসোভোর পয়েন্ট ৮। মন্টেনেগ্রো ও বুলগেরিয়ার মধ্যে গ্র“পের আরেক ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে। এই দুই দলের পয়েন্ট সমান ৩ করে। ‘এইচ’ গ্র“পে অলিভিয়ে জিরুদের একমাত্র গোলে আইসল্যান্ডকে হারিয়েছে ফ্রান্স। আরেক ম্যাচে আলবেনিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তুরস্ক। ফ্রান্স ও তুরস্কের পয়েন্ট সমান ১৮ করে। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে শীর্ষে আছে তুর্কিরা। তিন নম্বরে থাকা আইসল্যান্ডের পয়েন্ট ১২। ৯ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে আলবেনিয়া। অন্য ম্যাচে মলদোভাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইউরো বাছাই পর্বে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম জয় পেয়েছে অ্যান্ডোরা। দুই দলের পয়েন্ট সমান ৩ করে।

ইউরো ২০২০ স্পেন দলে ফাতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইউরো ২০২০-এর স্পেন দলে বার্সেলোনার হয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতেই সাড়া জাগানো আনসু ফাতির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কোচ রবের্ত মরেনো। তরুণ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে সতর্কভাবে এগোতে চান তিনি। গত আগস্টে বার্সেলোনার সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে যাওয়া ফাতি স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পেলেও এরই মধ্যে সুযোগ পেয়েছেন দেশটির অনূর্ধ্ব-২১ দলে। চোটে পড়া ক্লাব সতীর্থ কার্লেস পেরেসের বিকল্প হিসেবে শুক্রবার তাকে দলে নেওয়ার কথা জানায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। গত মাসে স্প্যানিশ নাগরিকত্ব পাওয়ায় দেশটির হয়ে খেলার রাস্তা খুলে যায় আগামী ৩১ অক্টোবর ১৭ বছর পূর্ণ করতে যাওয়া এই ফুটবলারের। জন্মভূমি গিনি-বিসাওয়ের পাশাপাশি পর্তুগালের হয়েও খেলার সুযোগ ছিল ছয় বছর বয়সে স্বপরিবারে স্পেনে চলে আসা ফাতির। শনিবার ইউরোর বাছাইপর্বে নরওয়ের মুখোমুখি হবে স্পেন। তার আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে ফাতিকে নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানান মরেনো। “ইউরো ২০২০-এ আনসু ফাতি আমাদের সঙ্গে খেলবে, এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” “আমি খুশি যে, সে অনূর্ধ্ব-২১ দলে ডাক পেয়েছে। বয়সভিত্তিক দলগুলোর খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার বোঝাপড়া বাড়বে। আমাদের খেলোয়াড়দের লম্বা তালিকায় তাকে আমরা রেখেছিলাম।” “যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসবে তখন আমাদের সতর্কভাবে ভাবতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে বয়স ভিত্তিক কোন পর্যায়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। কিন্তু সব ভালো খেলোয়াড়কেই জাতীয় দলে স্বাগতম।” বাছাইপর্বে ছয় ম্যাচের সবকটিতে জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্র“পের শীর্ষে আছে স্পেন। নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার তিন দিন পর সুইডেনের বিপক্ষে খেলবে তারা।

মহারাজ-ফিল্যান্ডারের প্রতিরোধ ভেঙে ভারতের বড় লিড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় জেগেছিল দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা। প্রতিরোধ গড়েন কেশভ মহারাজ ও ভার্নন ফিল্যান্ডার। তবে দুজনের রেকর্ড জুটিও দক্ষিণ আফ্রিকাকে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নিতে পারেনি। বিশাল লিড পেয়েছে ভারত। ভারতের ৬০১ রানের জবাবে পুনে টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৫ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। ৩২৬ রানে এগিয়ে থাকা ভারতের সামনে চতুর্থ দিনে থাকছে প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করানোর সুযোগ। ৩ উইকেটে ৩৬ রান নিয়ে খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা দিনের শুরুতেই হারায় আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যানকে। ৩ রান করে ফেরেন নাইটওয়াচম্যান আনরিক নরকিয়া। উমেশ যাদবের বলে কট বিহাইন্ড হন ৩০ রান করা টিউনিস ডি ব্র“ইন। ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি ও কুইন্টন ডি ককের ৭৫ রানের জুটিতে। জুটি ভাঙতে দুই প্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণ আনেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ফলও মেলে দ্রুত; দারুণ এক ডেলিভারিতে ডি কককে ফেরান অশ্বিন। মিডল স্টাম্পে পিচ করা বল জায়গায় দাঁড়িয়ে ঠেকাতে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিপার-ব্যাটসম্যান। ড্রিফট করে বেরিয়ে যাওয়ার আগে অফ স্টাম্পে আঘাত হানে বল। দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন অধিনায়ক দু প্লেসি। জাদেজার এক ওভারে তিনটি চার মেরে ২১তম টেস্ট ফিফটিতে পৌঁছান তিনি। তবে পারেননি বেশিদূর এগোতে; অশ্বিনের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন এই ডান হাতি ব্যাটসম্যান। তার ইনিংসে নয়টি চারের পাশাপাশি ছিল একটি ছক্কা। নবম উইকেটে কেশভ মহারাজ ও ফিল্যান্ডার মিলে গড়েন ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি। দুজন মিলে যোগ করেন ১০৯ রান। ভারতের বিপক্ষে নবম উইকেটে এটিই প্রোটিয়াদের সর্বোচ্চ জুটি। বিশাখাপতœম টেস্টে ড্যান পিট ও সেমুরান মুথুসামির করা ৯১ রান ছিল আগের রেকর্ড।

মহারাজের তুলনায় ফিল্যান্ডার খেলছিলেন পুরোদস্তুর টেস্ট মেজাজে। দুজনের কাউকেই খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারছিল না বোলাররা। তবে আবারও নতুন স্পেলে ফিরে দলকে উইকেট এনে দেন অশ্বিন। ডানহাতি অফস্পিনারের ঝুলিয়ে দেয়া বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন মহারাজ, ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় লেগ ¯ি¬পে দাঁড়ানো রোহিত শর্মার হাতে। ৭২ রানের ইনিংসটিতে ১২টি চার মারেন মহারাজ। টেস্টে এটি তার প্রথম ফিফটি। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে দশ নম্বরে নেমে এটিই কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস। এরপর আর বেশিদূর এগোয়নি অতিথিদের ইনিংস। ১৯২ বল খেলে ছয়টি চারে ৪৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন ফিল্যান্ডার। ৬৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন অশ্বিন। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হওয়ার পরই দিনের খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা। সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ ভারত ১ম ইনিংসঃ ৬০১/৫ (ইনিংস ঘোষণা)।  দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংসঃ ১০৫.৪ ওভারে ২৭৫ (এলগার ৬, মারক্রাম ০, ডি ব্র“ইন ৩০, বাভুমা ৮, নরকিয়া ৩, দু পে¬সি ৬৪, ডি কক ৩১, মুথুসামি ৭, ফিল্যান্ডার ৪৪*, মহারাজ ৭২, রাবাদা ২; ইশান্ত ১০-১-৩৬-০, উমেশ ১৩-২-৩৭-৩, জাদেজা ৩৬-১৫-৮১-১, শামি ১৭-৩-৪৪-২, অশ্বিন ২৮.৪-৯-৬৯-৪, রোহিত ১-১-০-০)।

সাইফের সেঞ্চুরিতে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ ‘এ’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দারুণ এক সেঞ্চুরির পর বোলিংয়েও অবদান রাখলেন সাইফ হাসান। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন অন্য বোলাররাও। সবার মিলিত অবদানে তৃতীয় ও শেষ আনঅফিসিয়াল ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে সহজেই হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ৯৮ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। ৩২২ রান তাড়ায় ২৪.৪ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ১৩০ রান করার পর আলোকস্বল্পতায় আর খেলা সম্ভব হয়নি। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য তখন স্বাগতিকদের দরকার ছিল ২২৯ রান। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারা বাংলাদেশ পরের দুটিতে জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ ঘরে তুলল। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাইফ ও মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাটে শুরুটা ভালো করে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা নাঈম এবারও শুরু থেকে চড়াও হন বোলারদের ওপর। একটু অদ্ভূতভাবেই ভাঙে ১২০ রানের শুরুর জুটি। ‘অবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ এর দায়ে ফিরে যান নাঈম। ৭৬ বলে দুই ছক্কা ও ৫ চারে ৬৬ রান করেন তিনি। এই আউটের সিদ্ধান্তে উত্তাপ ছড়ায় মাঠে। খেলা বন্ধ থাকে পাঁচ মিনিট। সুযোগ কাজে লাগাতে আবারও ব্যর্থ নাজমুল হোসেন শান্ত ও এনামুল হক। চতুর্থ উইকেটে সাইফকে সঙ্গ দেন মোহাম্মদ মিঠুন। ৯৯ রানের জুটিতে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর বেশি দূর যেতে পারেননি সাইফ। ১১০ বলে ১২ চার ও তিন ছক্কায় ফিরেন ১১৭ রান করে। এক চার ও দুই ছক্কায় ৩৫ বলে ৩২ রানে থামেন অধিনায়ক মিঠুন। এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। মঞ্চ প্রস্তুত ছিল আফিফ হোসেন, আরিফুল হক, নুুরুল হাসান সোহানদের জন্য। প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি তারা। তারপরও সবার ছোট-ছোট অবদানে তিনশ ছাড়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। শ্রীলঙ্কার শিরান ফার্নান্দো ৪ উইকেট নেন ৫০ রানে। বিশ্ব ফার্নান্দো ৬৯ রানে তিনটি। রান তাড়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। পাথুম নিসানকাকে দ্বিতীয় ওভারে ফিরিয়ে দেন আফিফ। আরেক ওপেনার সান্দুন বিরাক্কডিকে বোল্ড করে বিদায় করেন বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার। তৃতীয় উইকেটে কামিন্দু মেন্ডিস ও আশান প্রিয়াঞ্জনের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে শ্রীলঙ্কা। চারটি চারে ৩৪ রান করা প্রিয়াঞ্জনকে থামিয়ে ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন সাইফ। পরে তুলে নেন প্রিয়মল পেরেরার উইকেট। আশেন বান্দারাকে ফিরিয়ে শিকার শুরু করা ইবাদত হোসেন পরের ওভারে পান আরও বড় উইকেট। বিদায় করেন সিরিজ জুড়ে বাংলাদেশকে ভোগানো কামিন্দু মেন্ডিসকে। কামিন্দু তিন ছক্কা ও দুই চারে ৬৫ বলে করেন ৫৫। এর দুই বল পরেই আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশের সাইফ ও ইবাদত নেন দুটি করে উইকেট। সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ৫০ ওভারে ৩২২/৯ (সাইফ ১১৭, নাঈম ৬৬, শান্ত ২, এনামুল ১৫, মিঠুন ৩২, আফিফ ১২, সোহান ১৭, আরিফুল ৬, আবু হায়দার ৮, সানজামুল ১২*, ইবাদত ৩*; বিশ্ব ১০-০-৬৯-৩, শিরান ১০-০-৫০-৪, মেন্ডিস ৭-০-৪৪-০, করুনারতেœ ৮-০-৬১-০, প্রিয়াঞ্জন ৬-০-২৯-০, আপন্সো ৯-০-৬১-১)।  শ্রীলঙ্কা: (লক্ষ্য ২৪.৪ ওভারে ২২৯) ২৪.৪ ওভারে ১৩০/৬ (নিসানকা ৬, বিরাক্কডি ১৮, কামিন্দু ৫৫, প্রিয়াঞ্জন ৩৪, পেরেরা ৭, বান্দারা ৬, করুনারতেœ ১*, রমেশ ১*; আবু হায়দার ৫-০-২৮-১, আফিফ ৬-০-৩৬-১, ইবাদত ৪.৪-০-২৬-২, সাইফ ৬-০-২৫-২, সানজামুল ৩-০-১৫-০)। ফল: ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ৯৮ রানে জয়ী। সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী বাংলাদেশ।

কোহলির ডাবল সেঞ্চুরির পর বিপদে দ. আফ্রিকা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এ বছর নিজের করা প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে নিয়ে গেলেন বিরাট কোহলি। পঞ্চম উইকেটে তার সঙ্গে দুইশ ছাড়ানো জুটি গড়লেন রবীন্দ্র জাদেজা। ভারত পেল পাহাড় সমান সংগ্রহ। শেষ বিকেলে দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকাকে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দিলেন পেসাররা। অধিনায়ক হিসেবে ৫০তম টেস্ট ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে রাঙালেন কোহলি। তার অপরাজিত ২৫৪ ও জাদেজার ৯১ রানে পুনে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৫ উইকেটে ৬০১ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ৩৬ রানে দিন শেষ করে প্রোটিয়ারা। ৩ উইকেটে ২৭৩ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা ভারত এদিনও বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরিয়েছে। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানের জুটি দলকে টেনে নেয় দারুণভাবে। ১৭৩ বলে নিজের ২৬তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। আট চারে ৫৯ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে রাহানে ফিরলে ভাঙে ১৭৮ রানের জুটি। তাকে ফিরিয়ে ১০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন কেশভ মহারাজ। পঞ্চম উইকেটে ম্যাচে নিজেদের সবচেয়ে বড় জুটি পায় ভারত। কোহলি এবং জাদেজা মিলে স্কোরকার্ডে যোগ করেন ২২৫ রান। ২৪১ বলে ১৫০ রানে পৌঁছান কোহলি। সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসের রেকর্ডটা নিজের করে নেন। নেতৃত্ব নেওয়ার পর এটি কোহলির নবম দেড়শ ছাড়ানো ইনিংস। আটটি দেড়শ ছাড়ানো ইনিংস নিয়ে এতদিন রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ডন ব্র্যাডম্যানের। সেনুরান মুথুসামির বল স্কয়ার লেগে ঠেলে দুই রান নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ভারত অধিনায়ক। একইসাথে স্পর্শ করেন ৭০০০ টেস্ট রানের মাইলফলক। সাত ডাবল সেঞ্চুরিতে ভারতের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের করে নিলেন কোহলি। এতদিন যৌথভাবে তালিকার শীর্ষে ছিলেন শচীন ও শেবাগের সঙ্গে। শেষের দিকে দুই ব্যাটসম্যানই দ্রুত রান তোলায় মনোযোগ দেন। মহারাজের করা এক ওভার থেকে দুটি করে চার ও ছক্কায় দুই ব্যাটসম্যান নেন ২১ রান। প্রায় প্রতি ওভারেই এরপর এসেছে বাউন্ডারি। দলের স্কোর ৬০০ হয়ে যাবার পর অপেক্ষা ছিল কেবল জাদেজার সেঞ্চুরির। কিন্তু ৯১ রানে দাঁড়িয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে লং-অফে ক্যাচ দেন জাদেজা। সাথে সাথেই ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। ২৫৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন কোহলি। টেস্টে এটি তার সর্বোচ্চ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দিল্লি টেস্টে করা ২৪৩ ছিল আগের সেরা। দিনের বাকি কয়েক ওভারে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নেওয়াই ছিল ভারতের লক্ষ্য। উমেশ যাদব ও মোহাম্মদ শামি সেই লক্ষ্য পূরণ করেছেন দারুণভাবে। নিজের প্রথম ওভারেই উমেশ ফেরান এইডেন মারক্রামকে। পরের ওভারে এসে তুলে নেন ৬ রান করা এলগারের উইকেট। প্রথম পরিবর্তন হিসেবে বোলিংয়ে এসে শামিও পান উইকেটের দেখা। তার বলে কট বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়ে টেম্বা বাভুমাকে ফেরায় ভারত। ৩৩ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। দিনের বাকি কয়েক ওভার নিরাপদে কাটান টিউনিস ডি ব্র“ইন ও নাইটওয়াচম্যান আনরিক নরকিয়া। ডি ব্র“ইন অপরাজিত আছেন ২০ রানে। নরকিয়ার সংগ্রহ ২ রান। সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ ভারত ১ম ইনিংসঃ ১৫৬.৩ ওভারে ৬০১/৫ (ইনিংস ঘোষণা) (মায়াঙ্ক ১০৮, রোহিত ১৪, পুজারা ৫৮, কোহলি ২৫৪*, রাহানে ৫৯, জাদেজা ৯১; ফিল্যান্ডার ২৬-৬-৬৬-০, রাবাদা ৩০-৩-৯৩-৩, নরকিয়া ২৫-৫-১০০-০, মহারাজ ৫০-১০-১৯৬-১, মুথুসামি ১৯.৩-১-৯৭-১, এলগার ৪-০-২৬-০, মারক্রাম ২-০-১৭-০)। দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংসঃ ১৫ ওভারে ৩৬/৩ (এলগার ৬, মারক্রাম ০, ডি ব্র“ইন ২০*, বাভুমা ৮, নরকিয়া ২*; ইশান্ত ৪-০-১৭-০, উমেশ ৪-১-১৬-২, জাদেজা ৪-৪-০-০, শামি ৩-১-৩-১)।

বাংলাদেশে আসছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অতীতে ফিফার বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফর করে গেছেন। এবার আসছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাফুফে প্রেসিডেন্ট কাজী সালাউদ্দিনের আমন্ত্রণেই একদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন ইনফান্তিনো। ১৬ অক্টোবর এখানে পা রাখবেন তিনি। এর পর কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বিশ্ব ফুটবলের এ শীর্ষকর্তা। সেখানে তার সামনে দেশের ফুটবলের উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরবেন বাফুফে বস। অধিকতর উন্নতিতে আরও কী করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া নারী ও বয়সভিত্তিক ফুটবল নিয়ে বাফুফের নানা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেবেন ইনফান্তিনো। সংক্ষিপ্ত এ সফর শেষে আগামী ১৭ অক্টোবর ঢাকা ছাড়ার কথা তার।

সবার আগে ইউরোর মূল পর্বে বেলজিয়াম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথম দল হিসেবে ইউরো ২০২০-এর মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার রাতে স্যান ম্যারিনোকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে ‘আই’ গ্র“পে শীর্ষ দুইয়ে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে রবের্তো মার্তিনেসের দল। প্রথমার্ধে ছয় গোলে এগিয়ে যাওয়া দলটি বিরতির পর করে আরও তিনটি। জোড়া গোল করেন রোমেলু লুকাকু। সাত ম্যাচের সবকটিতে জিতে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বেলজিয়াম। প্রতিটি গ্র“পের শীর্ষ দুই দল সরাসরি খেলবে মূল পর্বে। আরেক ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৪-০ গোলে হারিয়ে মূল পর্বে ওঠার পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে রাশিয়া। সবগুলো গোলই হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। সাত ম্যাচে ছয় জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে রাশিয়া। তৃতীয় স্থানে থাকা সাইপ্রাসের পয়েন্ট ১০।

 

নেপালকে হারিয়ে ফাইনালের পথে বাংলাদেশের মেয়েরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নেপালকে হারিয়ে মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। টানা দুই জয়ে ফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে শুক্রবার বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল মেয়েরা। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। দ্বাদশ মিনিটে সাহিদা আক্তারের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ২৬তম মিনিটে স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন শামসুন্নাহার। চার দলের প্রতিযোগিতায় দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ খেলা ভারত ৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে নেপালের। রোববার প্রাথমিক পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

নাটকীয় জয়ে সিরিজে ফিরল ‘এ’ দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মোহাম্মদ মিঠুনের দৃঢ়তায় অপেক্ষা ছিল সহজ জয়ের। শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে হঠাৎই জেঁকে বসে হারের শঙ্কা। বারবার রঙ পাল্টানো ম্যাচে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছেন সানজামুল ইসলাম। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে নাটকীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল ওয়ানডেতে ১ উইকেটে জিতেছে সফরকারীরা। শেষ বলে ২২৭ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে তিন ম্যাচের সিরিজে এনেছে সমতা। জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। প্রথম তিন বলে ৬ রান নিয়ে জয়ের কাছে চলে যায় বাংলাদেশ। পঞ্চম বলে ইবাদত হোসেন ফিরে গেলে কাজটা হয়ে যান কঠিন। তবে রমেশ সিলভার করা ম্যাচের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচে সানজামুল দলকে এনে দেন দারুণ এক জয়। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। পাথুম নিসানকাকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন আবু হায়দার। আরেক ওপেনার লাহিরু উদারাকে বিদায় করেন ইবাদত। আনঅফিসিয়াল টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানো কুসল মেন্ডিসের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে শ্রীলঙ্কা। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে দারুণ সঙ্গ দেন প্রিয়ামল পেরেরা। ৬৭ বলে ৬১ রান করা কামিন্দুকে ফিরিয়ে ৭৮ রানের জুটি ভাঙেন আফিফ হোসেন। প্রিয়ামল দলকে দাঁড় করান ৪ উইকেটে ১৭২ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর। সেখান থেকে আড়াইশ ছাড়ানোর লক্ষ্য দেওয়া খুব কঠিন ছিল না। ৬২ বলে ৫২ রান করা প্রিয়ামলকে ফিরিয়ে সানজামুল পাল্টে দেন চিত্রটা। এরপর নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রাখে বাংলাদেশ। সফরকারীদের আবু হায়দার, ইবাদত ও সানজামুল নেন দুটি করে উইকেট। রান তাড়ায় শুরুতেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। অন্য প্রান্তে ঝড় তুলেন নাঈম। ৩৪ বলে ৪৪ রান করে চোট পেয়ে এই ওপেনার মাঠ ছাড়লে ভাটা পড়ে রানের গতিতে। রানের জন্য সংগ্রাম করা নাজমুল হোসেন শান্ত হাতছাড়া করেন সুযোগ। ১ চারে ফিরেন ২১ রান করে। থিতু হয়ে বিদায় নেন আফিফ ও নুরুল হাসান সোহানও। দলীয় ১৭৮ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সোহানের বিদায়ের পর ক্রিজে ফিরেন নাঈম। মিঠুনের সঙ্গে দলকে রাখেন সহজ জয়ের পথে। ৮৭ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় মিঠুন ৫২ রান করে ফিরলে বড় একটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। নাঈম ছিলেন বলে ম্যাচ ঝুঁকে ছিল সফরকারীদের দিকেই। দলীয় ২১১ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি বিদায় নিলে হারের শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। ৫৯ বলে ৯ চারে ৬৮ রান করেন নাঈম। ম্যাচ মুঠো থেকে ছুটে যায়নি সানজামুলের দৃঢ়তায়। মাথা ঠান্ডা রেখে দলকে নিয়ে যান লক্ষ্যে। আগামীকাল শনিবার কলম্বোয় হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল: ৫০ ওভারে ওভারে ২২৬/৯ (নিসানকা ১৫, উদারা ২৩, কামিন্দু ৬১, প্রিয়াঞ্জন ৭, পেরেরা ৫২, বান্দারা ১৮, রমেশ ২, জয়ারতেœ ৬, করুনারতেœ ২৫*, আমিলা ৩, ফার্নান্দো ১*; আবু জায়েদ ৮-০-৩৯-১ আবু হায়দার ১০-১-৪২-২, ইবাদত ১০-০-৪৬-২, সাইফ ১০-০-৩৯-১, সানজামুল ১০-০-৪৩-২, আফিফ ২-০-১৩-১)। বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ৫০ ওভারে ২২৭/৯ (সাইফ ৫, নাঈম ৬৮, শান্ত ২১, মিঠুন ৫২, আফিফ ২৪, সোহান ২৫, আরিফুল ৭, সানজামুল ১১*, আবু হায়দার ২, ইবাদত ১, আবু জায়েদ ০*; জয়ারতেœ ৮-০-৪১-০, ফার্নান্দো ৬-০-৩৮-২, রমেশ ৯-০-৪০-৩, করুনারতেœ ৭-০-৩৫-২, আমিলা ১০-২-৩২-০, প্রিয়াঞ্জন ৭-০-২৯-২, কামিন্দু ৩-০-১০-০)। ফল: বাংলাদেশ ‘এ’ দল ১ উইকেটে জয়ী।

 

প্রথমার্ধে অদম্য জার্মানি, দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে নিজেদের মেলে ধরলেন অনিয়মিতরা। গতিময় ফুটবলে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে ফেলে শুরুর দিকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিল জার্মানি। কোণঠাসা আর্জেন্টিনা জেগে উঠলো দ্বিতীয়ার্ধে। লুকাস আলারিও ব্যবধান কমানোর পর অভিষিক্ত লুকাস ওকামপোসের শেষ দিকের গোলে ড্রয়ের স্বস্তিতে মাঠ ছাড়লো লিওনেল স্কালোনির দল। ডর্টমুন্ডের সিগনাল ইদুনা পার্কে বুধবার রাতে সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মধ্যে প্রীতি ম্যাচটি ২-২ ড্র হয়েছে। সের্গে জিনাব্রির গোলে জার্মানি এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিলেন কাই হাভার্টস। চোটের আঘাতে জার্মানি অনেকটা দ্বিতীয় সারির দলে পরিণত হলেও তাদের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে তা বোঝার উপায় ছিল না। বিপরীতে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণে ছিল না তেমন ধার। বিরতির পর পাল্টে যায় চিত্র; লক্ষ্যে তিনটি শট রেখে তারা দুটিতে আদায় করে নেয় গোল।  এ মাসের শুরুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টটেনহ্যাম হটস্পারের জালে বায়ার্ন মিউনিখের গোল উৎসবে একা চার গোল করা জিনাব্রিই আর্জেন্টিনার বুকে প্রথম আঘাত হানেন। পঞ্চদশ মিনিটে অসাধারণ নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার। এর আগের মিনিটেই অবশ্য এগিয়ে যেতে পারতো তারা। দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন ইউলিয়ান ব্রান্ডট। তবে গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে হতাশ করেন এই মিডফিল্ডার। কিছুক্ষণ পরেই দলকে আনন্দে ভাসান জিনাব্রি। ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে ডিফেন্ডারদের ঘিরে থাকা অবস্থায় এক টোকায় সামনে বাড়িয়ে কোনাকুনি শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে জিনাব্রির এটি দশম গোল। ২২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। মাঝমাঠে মার্কোস রোহোর ভুলে বল ধরে লুকাস ক্লোসতামান অনেকখানি ছুটে ডান দিকে জিনাব্রিকে পাস দেন। আর তিনি বাড়ান ছোট ডি-বক্সের মুখে কাই হাভার্টসকে। অনায়াসে বাকিটা সারেন তরুণ এই মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের হয়ে এটা তার প্রথম গোল।  ৩১তম মিনিটে ভাগ্যের জোরে তৃতীয় গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। ২৫ গজ দূর থেকে লাইপজিগের লেফট-ব্যাক মার্সেলের দারুণ ফ্রি-কিক ক্রসবারে বাধা পায়। দুই মিনিট পর অবশ্য পোস্টে বল লাগার হতাশায় ডোবে অতিথিরা। প্রায় ২৪ গজ দূর থেকে মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলের অতর্কিত জোরালো শট দূরের পোস্টে লাগে। দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে আবারও প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় জার্মানি। তবে এবার গোলরক্ষককে একা পেয়ে দুর্বল শটে সুযোগ হারান এমরে কান। ৬৬তম মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে ফেরে আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মার্কোস আকুনার ক্রস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে দারুণ হেডে বল জালে পাঠান বায়ার লেভারকুসেনের ফরোয়ার্ড লুকাস আলারিও। চার মিনিট পর লেয়ান্দ্রো পারেদেসের দূরপাল¬ার শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান জার্মানির গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ব্যবধান ধরে রাখতে পারেননি বার্সেলোনার এই গোলরক্ষক। ৮৫তম মিনিটে দারুণ গোছানো আক্রমণে সমতা টানে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ডি-বক্সে আলারিওর ছোট করে বাড়ানো বল পেয়ে জায়গা বানিয়ে কোনাকুনি শট নেন সেভিয়া মিডফিল্ডার ওকামপোস। বল এমরে কানের শরীর ছুঁয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে নেই লিওনেল মেসি। গত কোপা আমেরিকার পর থেকে দলের বাইরে আছেন আনহেল দি মারিয়া ও সের্হিও আগুয়েরো। তিন তারকার অনুপস্থিতিতে খেলতে নেমে কোণঠাসা অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের সমতূল্য এক ড্রয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

 

ব্রাজিলকে রুখে দিল সেনেগাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রবের্তো ফিরমিনোর গোলে পাওয়া দারুণ শুরু কাজে লাগাতে পারল না ব্রাজিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টিতে গোল করে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়েছে সেনেগাল। সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের প্রীতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয়শূন্য রইলো তিতের দল। সেপ্টেম্বরে আগের ম্যাচে পেরুর কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা। দুই ফরোয়ার্ডের দারুণ বোঝাপড়ায় ম্যাচের নবম মিনিটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ডান দিক থেকে একজনকে কাটিয়ে দ্রুত এগিয়ে ডি-বক্সে রক্ষণচেরা পাস বাড়ান গাব্রিয়েল জেসুস। বল ধরে কোনাকুনি চিপ শটে গোলরক্ষকের উপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড ফিরমিনো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফামাহা দিদিউয়ের স্পট কিকে সমতায় ফেরে সেনেগাল। বাঁ-দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা সাদিও মানে দুজনের মধ্যে দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়লে তাকে পেছন থেকে ফাউল করেন মার্কিনিয়োস, পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৬৮তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যেতে পারতো ব্রাজিল। তবে নেইমারের দারুণ ফ্রি-কিক ক্রসবার ঘেঁষে চলে যায়। ৮৫তম মিনিটে উল্টো গোল খেতে বসেছিল তারা। তবে ডি-বক্সের বাইরে থেকে মানের শট পোস্টে লাগলে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় ব্রাজিল। আগামী রোববার আরেক প্রীতি ম্যাচে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

মায়াঙ্কের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগের টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়াল পেলেন সিরিজে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। চেতেশ্বর পুজারা ও বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে এল ফিফটি। পেসার কাগিসো রাবাদার দারুণ বোলিংয়ের পরও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পুনে টেস্টে বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে ভারত। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ২৭৩ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। আলোকস্বল্পতার কারণে ৪.৫ ওভার আগেই দিনের খেলার সমাপ্তি টানেন মাঠের দুই আম্পায়ার। টস করতে নেমেই এদিন দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। মহেন্দ্র সিং ধোনির পর মাত্র দ্বিতীয় ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে ৫০ টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেবার কীর্তি গড়েন তিনি। জেতেন গুরুত্বপূর্ণ টসটাও। ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। বিশাখাপতœম টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা রোহিত শর্মা ফেরেন দ্রুতই। দিনের শুরু থেকেই চমৎকার বোলিং করতে থাকা রাবাদার অসাধারণ এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১৪ রান করে। শুরুর সেই ধাক্কা কাটিয়ে নতুন ব্যাটসম্যান পুজারার সাথে দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন মায়াঙ্ক। দুজনের জুটিতে স্কোরকার্ডে যোগ হয় ১৩৮ রান। তবে সিরিজে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেবার পর আর খুব বেশিদূর এগোতে পারেননি পুজারা। ৫৮ রান করে রাবাদার অফস্টাম্পের বাইরের বলে ধরা পড়েন ¯ি¬পে। মায়াঙ্ক অবশ্য অন্য পাশ ধরে রেখে ইনিংস টেনে নিয়ে গেছেন। রাবাদা-ফিল্যান্ডারের পেস বা কেশভ মহারাজের স্পিন; সবকিছুই সামলেছেন দারুণ স্বচ্ছন্দে। মহারাজের টানা দুই বলে দুটি ছক্কা মেরে পৌঁছান ৯৯ রানে। পরের ওভারে ফিল্যান্ডারকে চার মেরে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। কোহলির সাথে মায়াঙ্কের জুটি যখন জমে উঠছে, তখন আবারও রাবাদাকে আক্রমণ আনেন প্রোটিয়া অধিনায়ক দু পে¬সি। অধিনায়কের ভরসার প্রতিদানও দেন এই পেসার। নতুন স্পেলের প্রথম ওভারেই আউট করেন মায়াঙ্ককে। অফস্টাম্পের বাইরের বল সামনের দিকে খেলতে এসে ¯ি¬পে দু পে¬সির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মায়াঙ্ক। ১০৮ রানের ইনিংসটিতে ১৬টি চারের পাশাপাশি ছিল ৪টি ছক্কা। চতুর্থ উইকেটে ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভারতকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যান কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানে। নতুন বলে ভারত অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ককে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯১ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করা কোহলি অপরাজিত আছেন ৬৩ রান নিয়ে। সঙ্গী রাহানের সংগ্রহ ১৮। ৩ উইকেট নিয়ে দিনের খেলার সফলতম বোলার রাবাদা ১৮.১ ওভারে দিয়েছেন ৪৮ রান। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ১ম ইনিংস: (প্রথম দিন শেষে) ৮৫.১ ওভারে ২৭৩/৩ (মায়াঙ্ক ১০৮, রোহিত ১৪, পুজারা ৫৮, কোহলি ৬৩*, রাহানে ১৮*; ফিল্যান্ডার ১৭-৫-৩৭-০, রাবাদা ১৮.১-২-৪৮-৩, নরকিয়া ১৩-৩-৬০-০, মহারাজ ২৯-৮-৮৯-০, মুথুসামি ৬-১-২২-০, এলগার ২-০-১১-০)।

 

সৌদি ফুটবলে নজিরবিহীন কান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এক আশ্চর্যজনক ঘটনার সাক্ষী হলো ফুটবলবিশ্ব। অতীতে এমন নজির আর নেই। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) প্লাগ খুলে মোবাইল ফোন চার্জে দিয়েছেন মাঠের কর্মী। এ জেরে খেলাও সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার আল হাসার প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন জালাউই স্টেডিয়ামে এ নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। সৌদি আরব প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে ওই রাতে মুখোমুখি হয় আল ফাতে ও আল-নাসার। ম্যাচের একপর্যায়ে ভিএআরের প্লাগ খুলে মোবাইল ফোন চার্জে দেন ভিডিও রেফারি। ফলে এটি কার্যকারিতা হারায়। এ জন্য বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। পরে অবশ্য খেলা মাঠে গড়ায়। ম্যাচে শেষ হাসি হাসে আল নাসার। ১-০ গোলে আল ফাতেকে হারায় তারা। জয়সূচক গোলটি করেন ফিরাস আল-বুরাইকান। এ ঘটনার পর ভিএআরর খুঁত ধরেছেন সৌদি আরবিট্রেশন কমিটির চেয়ারম্যান ফার্নান্দো ত্রিসাকো। তিনি বলেন, সফটওয়্যার হিসাবে ভিএআরের এখনও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। অভিনব এ কান্ড প্রকাশ্যে আসার পর হতবাক হয়েছেন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টরা। অবশ্য বিষয়টি নিছক মজার ছলে নিয়েছেন তারা।

ফ্রান্স দল থেকে ছিটকে গেলেন এমবাপে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ২০২০ ইউরো বাছাইয়ে আইসল্যান্ড ও তুরস্ক ম্যাচের আগে আবারও ধাক্কা খেল ফ্রান্স। চোটের কারণে অধিনায়ক ও গোলরক্ষক উগো লরিসকে হারানোর পর তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপেকেও পাচ্ছে না দলটি। পিএসজির এই তারকা খেলোয়াড়ের পরিবর্তে বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ ফরোয়ার্ড আলাসান প্লেয়ার দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি মঙ্গলবার নিশ্চিত করে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। বাড়তি সতর্কতার জন্য সদ্য উরুর চোট কাটিয়ে ওঠা ২০ বছর বয়সী তারকাকে ইউরো বাছাইয়ে না খেলানোর জন্য পিএসজির পক্ষ থেকে ফ্রান্স কোচ দেশমকে অনুরোধ জানানো হয়। একই কারণে গত শনিবার লিগ ওয়ানে অঁজির বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে এমবাপেকে খেলাননি পিএসজি কোচ টমাস টুখেল। পুনর্বাসন চালিয়ে যেতে ক্লাবে ফিরবেন এমবাপে। ১৮ অক্টোবর লিগে নিসের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ফিরতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরো বাছাইয়ে আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে একটায় আইসল্যান্ডের মাঠে খেলবে ফ্রান্স। তিন দিন পর ঘরের মাঠে গ্র“পের শীর্ষে থাকা তুরস্কের মুখোমুখি হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।