মাথা ন্যাড়া করে ওয়ার্নারের চ্যালেঞ্জ কোহলি-স্মিথকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারির সৈনিক স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ন্যাড়া করে ফেলেছেন নিজের মাথা। পাশাপাশি একই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরাট কোহলি, স্টিভেন স্মিথসহ বেশ কয়েকজন তারকাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মঙ্গলবার ওয়ার্নার তার মাথা ন্যাড়া করার ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে ক্যাপশনে লিখেছেন, “কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যারা সামনে থেকে কাজ করছেন তাদের সমর্থনে আমার মাথা ন্যাড়া করার জন্য মনোনীত হয়েছিলাম। আমার মনে হয় অভিষেকের সময় সবশেষ আমি এটা করেছিলাম। পছন্দ হোক আর না হোক।” ভিডিওর সঙ্গে একটি ছবিও জুড়ে দিয়েছেন ওয়ার্নার। সেখানে তিনি ন্যাড়া করার জন্য মনোনীত করেছেন সতীর্থ স্মিথ, প্যাট কামিন্স, জো বার্নস, অ্যাডাম জ্যাম্পা, মার্কাস স্টয়নিস, জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব পিয়ের্স মর্গ্যান, গলফার ট্রাভিস স্মিথ ও ভারতীয় অধিনায়ক কোহলিকে। অস্ট্রেলিয়ায় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৬০ জন। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের খবর অনুযায়ী, দেশটিতে কভিড-১৯ রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।

১ লাখ মানুষকে সহায়তা করছে সানিয়া মির্জার টিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এক সপ্তাহের মধ্যে ১.২৫ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করতে চলেছেন ভারতীয় টেনিসের গ¬্যামার গার্ল সানিয়া মির্জা। এর বদৌলতে দেশটিতে ২১ দিনের লকডাউনে কমপক্ষে এক লাখ দরিদ্র মানুষ উপকৃত হবেন। এ সময় বহু মানুষ কর্মহীন থাকবেন। আর সেই সময় তাদের সহায়তায় এগিয়ে এলেন সানিয়া। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া টুইটারে নিজেই এ কথা জানালেন তিনি। সানিয়া বলেন, গেল সপ্তাহে আমরা টিম বানিয়ে গরিবদের সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। হাজার হাজার অসহায় মানুষকে খাদ্য দিয়েছি। এক সপ্তাহে ১.২৫ কোটি টাকা তুলেছি। এতে কমপক্ষে এক লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এটি একটি নিরন্তর প্রচেষ্টা। আমরা এ লড়াইয়ে একত্রে রয়েছি। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছি। গেল সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে সাফা অর্গানাইজেশনে আর্থিক সাহায্য করার কথা ঘোষণা করেছিলেন সানিয়া। হায়দরাবাদি টেনিসকন্যা বলেন, বিশ্বে ভয়ঙ্কর খারাপ অবস্থা চলছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের মতো অনেকেরই সামর্থ্য রয়েছে ঘরে বসে সুসময়ের প্রতীক্ষা করার। তবে আরও হাজার হাজার মানুষ রয়েছেন, যারা এতটা সৌভাগ্যবান নয়। সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব নেয়া আমাদের কর্তব্য। পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার শোয়েব মালিকপতœী আরও বলেন, সাফা ও আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে মিলিতভাবে আমরা আশা করছি; যত বেশিসংখ্যক মানুষকে এ কঠিন সময় সাহায্য করা যায়। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 

মেসি বেতন কাটার পক্ষেই ছিলেন ঃ বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের ছোবলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। জরুরি পরিস্থিতিতে ক্লাবের পাশে দাঁড়াতে লিওনেল মেসি কম বেতন নেওয়ার পক্ষে আগে থেকেই ছিলেন বলে জানিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। খেলোয়াড়দের সম্ভাব্য বেতন কাটার সিদ্ধান্ত, তাতে খেলোয়াড়দের দ্বিমতের গুঞ্জন এবং সবকিছুর প্রেক্ষিতে আর্জেন্টাইন তারকার কড়া মন্তব্যের পর এমনটা জানালেন বার্তোমেউ। সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে বিশ্বের প্রায় সব ক্লাব। সে ধাক্কা কিছুটা কাটিয়ে উঠতে বার্সেলোনা খেলোয়াড়দের বেতন ৭০ শতাংশ কাটার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে কদিন আগে গণমাধ্যমে খবর আসে। খেলোয়াড়রা সেই সিদ্ধান্তে একমত নয় বলেও খবর আসে। শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। পরে গত সোমবার অধিনায়ক মেসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, সঙ্কটকালীন সময়ে ক্লাবের অন্য কর্মচারীরা যেন শতভাগ বেতন পান, এর জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত। এরপরই জরুরি অবস্থা থাকাকালীন সময়ে খেলোয়াড়দের বেতনের ৭০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে বলে জানায় বার্সেলোনা। সাহায্যের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সোমবারের বার্তায় মেসি তাদের নিয়ে ভিত্তিহীন বাজে মন্তব্য করা ওইসব মানুষের কড়া সমালোচনাও করেন। মঙ্গলবার কাতালান দৈনিক স্পোর্তকে বার্তোমেউও সেটাই জানান। বলেন, মেসি কখনই বার্সেলোনার বেতন কাটার সিদ্ধান্তে বিরোধিতা করেনি। “প্রথম দিন থেকেই মেসি আমাকে বলে আসছিল, এই বেতন কমাতেই হবে।” “এই প্রস্তাব এসেছিল অধিনায়কের কাছ থেকে। এটা এমন কিছু যা ক্লাবের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা ফুটিয়ে তোলে।” সবকিছু না জেনে ক্লাবের ভেতরের ও বাইরের মানুষ যা বলেছে, তাতে খেলোয়াড়রা হতাশ হয়েছেন বলেও মনে করেন বার্তোমেউ।

বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বড় করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই  ঃ যোগিন্দর

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে বড় কিছু একজন ক্রীড়াবিদদের জীবনে আসে কমই। তবে লড়াই যখন জীবনের, ছাড়িয়ে যায় তা মাঠের সীমানা। যোগিন্দর শর্মা যা উপলব্ধি করছেন ভালোভাবেই। এক সময় অবদান রেখেছেন দেশের বিশ্বকাপ জয়ে। এখন তিনি লড়াই করছেন করোনাভাইরাসের ছোবল থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে। সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটারের কাছে নিজের এই অবদান বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে বড়। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের শেষ সময়ের নায়ক ছিলেন যোগিন্দর। পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ের ম্যাচে শেষ ওভারে তার হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। মিসবাহ-উল হককে আউট করে যোগিন্দর দলকে এনে দিয়েছিলেন শিরোপা। তার বর্তমান পেশার সঙ্গে যোগসূত্র আছে সেই সাফল্যের। দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর স্বীকৃতি হিসেবে হরিয়ানা রাজ্য সরকার তাকে চাকরি দেয় পুলিশে। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে পরে আর খুব সুবিধা করতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। অবসর নিয়ে হয়ে যান পুরোদস্তুর পুলিশ। কভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে বর্তমানে ২১ দিনের লকডাউনে আছে ভারত। এই সময় মানুষকে বাইরে ভিড় করা থেকে বিরত রাখাসহ নানা দায়িত্ব পালন করছেন যোগিন্দর। দুই ভূমিকায় তার দায়িত্বের ধরন যদিও পুরোই আলাদা, তুলনা করে তবু এখনকার দায়িত্বকেই এগিয়ে রাখছেন ৩৬ বছর বয়সী যোগিন্দর। “অবশ্যই এই অবদান অনেক বেশি বড়, কারণ মানুষ তাদের জীবন হারাচ্ছে। ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জেতাও বড় ব্যাপার, কিন্তু এখানে দেশ বাঁচাতে হবে। যদি আমি এখানে ছোট ভূমিকাও পালন করি, সেটিও অনেক বড়।” খেলোয়াড়ি জীবনের সঙ্গে একটি জায়গায় অবশ্য এখন মিল পাচ্ছেন যোগিন্দর। একসঙ্গে লড়াই করা! “খেলাটি ধরনই এমন যে, এটি দলীয় খেলা ও কাজ সমন্ন করতে খেলোয়াড়রা সবাই একত্রে চেষ্টা করে। তাই এখন আমাদের একে অন্যকে সাহায্য করতে হবে। সবচেয়ে বড় সাহায্য হচ্ছে ঘরে থাকা। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটিই একমাত্র উপায়। ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো, গরিবদের সাহায্য করা। সামাজিক জমায়েতকে না বলা, শুধুমাত্র প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।” পুরো দেশ লকডাউন করে দিলেও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে ভারতে। এখন পর্যন্ত ১২৫১ জনের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গেছে, মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।

‘নিয়ম মেনেই’ বন্ধুদের সঙ্গে কোয়ারেন্টিনে নেইমার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের বিস্তারের মধ্যে ব্রাজিলে ফিরে বন্ধুদের নিয়ে ফূর্তি করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে থাকা নেইমার দিয়েছেন জবাব। উড়িয়ে দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে ওঠা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ। প্যারিস থেকে ফিরে নিজেকে বাসায় বন্দী করে রাখেননি নেইমার। ইনস্টাগ্রামের পোস্ট করা কিছু ছবিতে দেখা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে রৌদ্র-¯œান করছেন ও ভলিবল খেলছেন তারকা এই ফরোয়ার্ড। এরপর থেকে শুরু হয় সমালোচনা, করোনাভাইরাসের বিস্তার এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে নিয়ম তা তিনি মানছেন না। তবে নেইমারের দাবি, নিয়ম মেনেই সবকিছু করছেন তিনি। এক বিবৃতিতে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, ছবির মানুষগুলো প্যারিস থেকে ব্যক্তিগত বিমানে তার সঙ্গে ব্রাজিলে এসেছেন এবং তার সঙ্গেই কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। নেইমারের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ব্রাজিলের গে¬াবো মিডিয়া গ্রুপকে বিস্তারিত তুলে ধরেন, “নেইমার তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পরিবারের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে তার সঙ্গে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ব্রাজিলে ফিরে নেইমার কেবল তার ছেলের সঙ্গে দেখা করেছেন। এড়িয়ে গেছেন মা, দাদি, বোনসহ পরিবারের বাকি সবাইকে। “নেইমার যে বাড়িতে কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করছেন সেটা পুরোপুরি আইসোলেটেড এবং তার অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার উপযোগী।” “চোট এড়াতে ও ফিট থাকতে নেইমার তার কোচ রিকার্দো রোসার সঙ্গে প্রতিদিনের অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। মানবতার জন্য দুঃখের এই সময় শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।”

পুনরায় পড়ালেখা শুরু করতে চান ল্যানিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥  করোনাভাইরাসে একরকম লকডাউনে পুরো পৃথিবী। ঘরবন্দি জীবন পার করছেন অধিকাংশ মানুষ। অলস এই সময় কাটাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন নানা জনে। মেগ ল্যানিংও বসে নেই। অবসর এই সময়ে পড়ালেখার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চান অস্ট্রেলিয়া নারী দলের অধিনায়ক। ঘরের মাঠে কেবলই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। বিশ্বকাপ পরবর্তী অবসর সময় কাটানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন ল্যানিং। তবে ছিল না লেখাপড়ার পরিকল্পনা। করোনাভাইরাস পাল্টে দিয়েছে পুরো প্রেক্ষাপট। ঘরবন্দি থাকতে হচ্ছে ল্যানিংকে। অবসর এই সময়ে নিজের লেভেল থ্রি কোচিং শেষ না করার কোনো কারণ দেখছেন না ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। এরপর ব্যবসায় শিক্ষা অথবা স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি নিতেও আগ্রহী ল্যানিং। “কিছু করতে পারছি না বলে ভুগছিৃকোচিং কোর্স শেষ করতে পারলে এটা আমাকে কিছুটা স্থির হতে সাহায্য করবে।”

 

নারী ক্রিকেটারদের পাশে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনা ভাইরাসের কারণে অন্য সবকিছুর মতো বন্ধ হয়ে গেছে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলো। এই কারণে বেকার বসে আছেন ক্রিকেটাররা। ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জাতীয় ক্রিকেট লিগ। আর এই লিগ থেকেই যারা জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তারা আয় করে থাকেন। কিন্তু লিগ বন্ধ হওয়ায় তাদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। আর তাই তো ক্রিকেটারদের সাহায্যে এগিয়ে আসে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নারী জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলা ও জাতীয় ক্রিকেট লিগ সিলেকশন ক্যাম্পে থাকা ক্রিকেটারদের এককালীন ২০ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি। পুরুষ ক্রিকেটারদের তুলনায় নারী ক্রিকেটারদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। যে কারণে জাতীয় দল ও জতীয় লিগে খেলা নারী ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিসিবি। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নারী ক্রিকেটাররা প্রত্যেকে পাবেন ২০ হাজার টাকা। বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল জানান ১’শর বেশি ক্রিকেটার এ অনুদান পাবেন। তিনি বলেন, বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়ে নারী ক্রিকেটারদের এই বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর। আমরা জাতীয় লিগে খেলা প্রায় ১’শর বেশি নারী ক্রিকেটারদের অনুদান দিচ্ছি। তবে কীভাবে এই অনুদানের টাকা নারী ক্রিকেটাদের হাতে পৌঁছাবে সেটা বড় প্রশ্ন। শফিউল আলম জানিয়েছেন, টাকাটা যেন নারী ক্রিকেটাররা পান সে ব্যবস্থা করবেন তারা। তিনি আরো বলেন, আমার জানা মতে বেশিরভাগ নারী ক্রিকেটারের ব্যাংক

টোকিও অলিম্পিকের নতুন সূচি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের ছোবলে পিছিয়ে যাওয়া টোকিও অলিম্পিকের নতুন সূচি দিয়েছে আয়োজকরা। আগামী বছরের ২৩ জুলাইয়ে শুরু হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ শেষ হবে ৮ আগস্ট। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে আলোচনা শেষে সোমবার নতুন তারিখ ঘোষণা করেন ২০২০ অলিম্পিক আয়োজক কমিটির প্রধান ইয়োশিরো মোরি। আর টোকিও প্যারালিম্পিক গেমস শুরু হবে ২৪ অগাস্ট, চলবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগের সূচি অনুযায়ী, এ বছরের ২৪ জুলাই থেকে ৯ অগাস্ট পর্যন্ত সময়ে হওয়ার কথা ছিল অলিম্পিকের এবারের আসর। তবে বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ রোগের বিস্তারে প্রতিযোগিতাটি স্থগিত করার চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। অবশেষে গত মঙ্গলবার তা এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্যারালিম্পিকও স্থগিত হয়ে যায়। আধুনিক অলিম্পিকের ইতিহাসে এর আগে কখনোই কোনো আসর পেছায়নি। তবে দুটি বিশ্ব যুদ্ধের কারণে ১৯১৬, ১৯৪০ ও ১৯৪৪ আসর বাতিল হয়েছিল। অবশ্য স্নায়ু যুদ্ধের সময় ১৯৮০ ও ১৯৮৪ সালে মস্কো ও লস অ্যাঞ্জেলসের গ্রীষ্মকালীন আসর বিঘ্ন ঘটেছিল। এবারের অলিম্পিক লম্বা সময়ের জন্য পিছিয়ে গেলেও মাঝের এ সময়ে অলিম্পিক মশাল জাপানেই থাকবে। নামও থাকবে অপরিবর্তিত; যথাক্রমে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস টোকিও ২০২০।

নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞা থেকেও মুক্ত স্মিথ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আবার টস করতে পারবেন কিনা স্টিভেন স্মিথ, সেটির উত্তর দেবে সময়। তবে আনুষ্ঠানিক বাধা আর নেই। শেষ হয়েছে তার দুই বছরের নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞা। ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বল টেম্পারিং কা-ে ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন স্মিথ। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২২ গজে ফিরে দাপটে পারফর্ম করছেন আবার। কিন্তু একটি অস্বস্তি ঠিকই ছিল তার সঙ্গী। নেতৃত্ব থেকে তাকে দূরে রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল আরও এক বছর। অবশেষে রোববার শেষ হয়েছে সেই নিষেধাজ্ঞা। ব্যাটিংয়ের মতো নেতৃত্বেও নিজের ছাপ প্রবলভাবেই রেখেছিলেন স্মিথ। তীক্ষ্ণ ছিল তার বুদ্ধিমত্তা। মাঠে সাহসী পদক্ষেপ নিতে পিছপা হতেন না। দারুণ নেতৃত্বে দলকে নিয়ে যাচ্ছিলেন সামনের দিকে। ওই বল টেম্পারিং ঝড় পাল্টে দেয় তার ক্যারিয়ারের গতিপথ। কেপ টাউনের সেই কলঙ্কের কালি লেগেছিল সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের গায়েও। এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফিরেছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে কখনোই আর অধিনায়কের কোনো পদে বিবেচিত হবেন না ওয়ার্নার, সেসময় জানিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। স্মিথ নেতৃত্বের স্বাদ প্রথম পেয়েছিলেন ২০১৪ সালে, বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির ব্রিজবেন টেস্টে। তার সুযোগটি এসেছিল সেই সময়ের অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের হ্যামস্ট্রিং চোটে। প্রথম টেস্টের পর ক্লার্ক ছিটকে পড়ায় বাকি তিন টেস্টে নেতৃত্ব দেন স্মিথ। সেই সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছিলেন স্মিথ। চার ম্যাচে ১২৮.১৬ গড়ে চার সেঞ্চুরি ও দুই হাফ সেঞ্চুরিতে করেন ৭৬৯ রান। অধিনায়ক হিসেবে ৯২.৫০ গড়ে করেন ৫৫৫। ২০১৫ অ্যাশেজের পর ক্লার্ক অবসর নিলে স্মিথকে পুরোপুরিভাবে তিন সংস্করণে দলের দায়িত্ব দেয় বোর্ড। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। নেতৃত্বগুণের সঙ্গে দারুরুণ ব্যাটিং পারফরম্যান্সে দলকে এগিয়ে নেন স্মিথ। তার নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ৩৪টি টেস্ট খেলে। ১৮টিতে জয়ের স্বাদ পায় তারা। ১০টি হারের সঙ্গে ছিল ৬টি ড্র। ৫১ ওয়ানডেতে ২৫টি জয়, ২৩ হার। ৮ টি-টোয়েন্টিতে ৪টি করে জয়-পরাজয়। অধিনায়ক হিসেবেই ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি সফল স্মিথ। নেতৃত্বের ৩৯ টেস্টে ১৫ সেঞ্চুরি ও ১৩ হাফ সেঞ্চুরিতে ৩ হাজার ৬৫৯ রান করেছেন ৭০.৩৬ গড়ে। শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে স্মিথ খেলেছেন ৩৯ টেস্ট। রেকর্ড এই ভূমিকায়ও দুর্দান্ত। তবে নেতৃত্বের মতো অতটা অসাধারণ নয়। ৫৬.৬৩ গড়ে করেছেন ৩ হাজার ৫৬৮ রান। সেঞ্চুরি ১১টি, হাফ সেঞ্চুরি ১৬টি। ওয়ানডেতেও দুই ভূমিকার পার্থক্য স্পষ্ট এবং যথারীতি ব্যাট হাতে বেশি সফল নেতৃত্বের ভার নিয়েই। অধিনায়কত্বের ৫১ ম্যাচে সেঞ্চুরি ৫টি, ফিফটি ১২টি। ৪৫.০৯ গড়ে করেছেন ১ হাজার ৯৮৪ রান। নেতৃত্বের দায়িত্ব ছাড়া ৭৪ ম্যাচে সেঞ্চুরি ৪টি, হাফ সেঞ্চুরি ১৩টি। ২ হাজার ১৭৮ রান করেছেন ৪০.৩৩ গড়ে। স্মিথ-ওয়ার্নারদের টেম্পারিং কান্ডের পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের টালমাটাল সময়ে অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন টিম পেইন। শুরুতে হোঁচট খেলেও শেষ পর্যন্ত দলকে পথে ফেরাতে পেরেছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। তার নেতৃত্বে ২০ বছর পর ইংল্যান্ড গিয়ে অ্যাশেজ ধরে রাখতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের যা ধরন, তাতে স্মিথকে আবার নেতৃত্বে ফেরালে সেটিই হবে বিস্ময়ের। তবে দেশের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেরই মত, দলের প্রয়োজন হলে স্মিথের কাঁধে আবার দায়িত্ব দেওয়াই যায়।

করোনাভাইরাস ঃ সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এগিয়ে এসেছেন সাকিব আল হাসানও। নিজের ফাউন্ডেশন থেকে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য সহায়তা দিতে যাচ্ছেন সময়ের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিজেদের এক মাসের বেতনের অর্ধেক দিচ্ছেন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। নিষেধাজ্ঞার জন্য ক্রিকেটের বাইরে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই এতে নেই সাকিব। যুক্তরাষ্ট্রে একটি হোটেলে স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে থাকা এই অলরাউন্ডার নিজের ফেইসবুক পেইজে জানান, অসহায় হয়ে পড়া মানুষদের জন্য কিছু করতে তার এই উদ্যোগ। “সারাদেশ আজ লড়ছে একটি মহামারীকে রুখতে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষ দিন গুনছে কবে তাদের রোজগার আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।” “এই মানুষগুলোর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে ‘দা সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন’ পদক্ষেপ নিয়েছে দেশ এবং সারাবিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা থেকে ফান্ড উত্তোলনের। এই ফান্ড ব্যবহার করা হবে করোনাভাইরাসের কারণে প্রভাবিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সাহায্য করবার জন্য।” দা ডেইলি স্টার, ঝযবনধ.ীুু এবং সমকালের যৌথ উদ্যোগে চলমান ‘মিশন সেইভ বাংলাদেশ’ পাচ্ছে সাকিবের ফাউন্ডেশনের প্রথম সহায়তা। “মিশন সেইভ বাংলাদেশ প্রোজেক্টটির উদ্দেশ্য হলো করোনাভাইরাসের কারণে প্রভাবিত নিম্ন-আয়ের এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবিকার যোগান দেওয়া। এ পর্যন্ত ২০০০ সুবিধাবঞ্চিত  পরিবারকে সাহায্য করেছে এই প্রকল্পটি এবং এই সংখ্যাকে বৃদ্ধি করতে নিরলস প্রচেষ্টা চলছে।” “আসুন, সবাই মিলে একসাথে লড়ি, একসাথে বাঁচি। কারণ, মানুষ তো মানুষেরই জন্য।”

করোনাভাইরাস ঃ স্বেচ্ছাসেবী হলেন হিদার নাইট

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই অনেকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই কাতারে এবার যোগ দিলেন ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিদার নাইট। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার (এনএইচএস) স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে নাইট দেশে ফিরেছেন দুই সপ্তাহও হয়নি। করোনাভাইরাসের মহামারীর বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টায় তিন সপ্তাহের লকডাউনে রয়েছে যুক্তরাজ্য। নাইট তার প্রেমিকের সঙ্গে থাকছেন ব্রিস্টলে। বিবিসিতে লেখা কলামে এনএইচএস-এর স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার কথা নিশ্চিত করেছেন মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরির কীর্তি গড়া নাইট। “আমি এনএইচএস স্কিমে যোগ দিয়েছি। আমার হাতে এখন অনেক ফাঁকা সময় রয়েছে। সেই সময় যতটা পারি আমি কাজে লাগাতে চাই।” “আমার ভাই ও তার সঙ্গী ডাক্তার। আমার কিছু বন্ধু ইতোমধ্যেই কাজ করছে এনএইচএসে। তাই আমি জানি ওরা কত কঠোর পরিশ্রম করছে এবং সবার জন্য এটা কত কঠিন।” এনএইচএস-এর সেচ্ছাসেবী চেয়ে গত বুধবার ঘোষণা দেওয়ার পর ইতোমধ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ যোগ দিয়েছেন। যাদের কাজ হবে ফার্মেসি থেকে ওষুধ সরবরাহ করা, রোগীদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, আবার বাসায় নিয়ে আসা এবং বাসায় আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ করা।

করোনাভাইরাস ঃ ব্রাজিলে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে নেইমার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্বের জনজীবন। এর বড় আঘাত পড়েছে সুবিধাবঞ্চিতদের ওপর। নিজের দেশের এমন মানুষদের সাহায্যার্থে চালু হওয়া ক্যাম্পেইনের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার। দেশটির টিভি ব্যক্তিত্ব লুসিয়ানো হুকের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইনকে সমর্থন দিয়েছেন সার্ফিংয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গাব্রিয়েল মেদিনা ও ব্রাজিলের আরও অনেক তারকা। সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে ব্রাজিলের মানুষদের সরাসরি অথবা বিভিন্ন চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে এই ক্যাম্পেইনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় নেইমার বলেন, “পারস্পরিক সংহতি নিশ্চিতভাবে ভাইরাসের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক। সঙ্কটময় এই সময়ে কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যা অনেক বেশি কার্যকর।” মেদিনাও একই বার্তা দিয়েছেন, “সবসময়ের চেয়ে এখন খুব বেশি দরকার অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে আসার।” ব্রাজিলের সরকার বৃহস্পতিবার দেশের কম আয়ের শ্রমিক ও ছোট ব্যবসায়ীদের মাসিক ১২০ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটিতে মোট চার হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছে ১১৪ জন।

করোনাভাইরাস

দুঃসময়ের কথা জানালেন দিবালা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তারকা ফুটবলার পাওলো দিবালা সুস্থ হয়ে অনুশীলন শুরু করেছেন। বিশ্বজুড়ে মহামারী আকার ধারণ করা কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে নিঃশ্বাস নিতে তার ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ইউভেন্তুসের এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। ইতালিয়ান সেরি আর সফলতম দলটির আরও দুই খেলোয়াড় করোনাভাইরাস পরীক্ষায় পজেটিভ হয়েছিলেন-ইতালিয়ান ডিফেন্ডার দানিয়েল রুগানি ও ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার বে¬ইস মাতুইদি। সেরি আর আরও অনেক খেলোয়াড় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ইউভেন্তুস টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শুক্রবার নিজের সুস্থতার কথা জানান দিবালা। “আমার উপসর্গগুলো বেশ কঠিন ছিল, তবে আজ আমি অনেক ভালো বোধ করছি। আমি এখন চলাফেরা করতে ও হাঁটতে পারি, অনুশীলনের চেষ্টা করছি। কিছুদিন আগে যখন এগুলো করার চষ্টা করতাম তখন শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পেশিগুলো ব্যথা করত।” করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় সব ধরনের খেলাধুলা আপাতত বন্ধ আছে। গত ৯ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সেরি আ।

করোনাভাইরাস

জোকোভিচের ১০ লাখ ইউরো অনুদান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অনেক ক্রীড়াবিদ। সেই কাতারে এবার যোগ দিলেন বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ। নিজের দেশ সার্বিয়াকে তিনি ও তার স্ত্রী মিলে ১০ লাখ ইউরো অনুদান দিয়েছেন। ১৭ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, নোভাক জোকোভিচ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য। তাদের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে একটি জরুরি অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। যে কেউ চাইলে সেখানে অনুদান দিতে পারবেন। সেখানে পাওয়া সব অর্থই ব্যয় করা হবে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কাজে।

 

জন্মভূমি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলতে চান পিট

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চোখে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২০২৩ আসরে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই জন্মভূমি ছেড়ে নতুন ঠিকানায় যাচ্ছেন ডেন পিট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে চান যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ হয়নি পিটের। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া এই অফ স্পিনার দেশের হয়ে খেলেছেন নয়টি টেস্ট। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাবেন ৩০ বছর বয়সী পিট। খেলতে চান আগামী গ্রীষ্মে দেশটিতে হতে যাওয়া ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক মাইনর লিগ টি- টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার জন্য যে যোগ্যতা লাগবে তা পূরণ করে দেশটির হয়ে আইসিসি ইভেন্টে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা পিটের। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে এমনটিই জানান তিনি।  “গত বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ওয়ানডে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে, তাই প্রশ্নটা (যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার ইচ্ছা) কোনোভাবেই অমূলক নয়।” কেবল জাতীয় দলই ছাড়ছেন না পিট, ছাড়ছেন ফ্রাঞ্চাইজি দল কেপ কোবরাকেও, যে দলের হয়ে খেলেছেন এক দশক ধরে। ক্যারিয়ার জুড়ে পরিচিত আঙিনা ছেড়ে এক অজানার উদ্দ্যেশে পা বাড়াচ্ছেন তিনি। এর আগে কখনও যুক্তরাষ্ট্রে যাননি পিট। জানেন না সেখানে গিয়ে কোথায় উঠবেন। “থাকার জন্য আমার পছন্দের তালিকায় থাকবে চারটি শহর- নিউ ইয়র্ক, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলস অথবা সিয়াটল, বাকিটা হবে সারপ্রাইজ।” ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হওয়া পিট দেশের হয়ে সবশেষ খেলেন গত অক্টোবরে, রাচি টেস্টে ভারতের বিপক্ষে।

 

ডাক্তার-নার্সদের মাহমুদউল্লাহর ‘আন্তরিক ধন্যবাদ’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বের চলতি লড়াইয়ে সামনের সারির সৈনিক স্বাস্থ্যকর্মীরা। নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে তারা আক্রান্তদের বাঁচাতে লড়ছেন। বাংলাদেশের ডাক্তার-নার্সদের কাজ করতে হচ্ছে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে। তাদের প্রতি তাই মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশে শনিবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক যে হিসাব, তাতে আক্রান্ত ৪৮ জনের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসকও আছেন। সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল হলেও স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিতরা চেষ্টা করে চলেছেন। ফেইসবুকে ভিডিওবার্তায় তাদেরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। “একটা কথা না বললেই নয়, আমাদের ডাক্তারগণ, আমাদের নার্সরা ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত আছেন, সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কভিড-১৯ এর মতো এই দুর্যোগ সময়ে আমরা যেভাবে এগিয়ে এসেছেন ও দেশকে সার্ভিস দিচ্ছেন, মন থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি আপনাদের এই মহৎ কাজে জন্য অবশ্যই পুরস্কৃত হবেন ইনশাল্লাহ।” বাংলাদেশে এখনও লকডাউন ঘোষণা করা না হলেও পরিস্থিতি অনেকটা সেরকমই। বেশ কিছুদিন ধরে ঘরে সময় কাটাচ্ছেন অনেক। ঘরবন্দি থেকে অস্থির হয়ে ভুল করে ফেলতে পারেন অনেকেই। তাই সতর্ক করে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। “গতকাল রাতে একটি ভাবনা মাথায় এলো। অনেকে হয়তো এভাবে চিন্তা করতে পারি যে, আমরা এতদিন ধরে বাসায় আছি,  দৈনন্দিন কাজ করছি বাসায় থেকে, টানা বাসায় থেকে একটু অবসাদ চলে আসতে পারে অনেকের। বিরক্তি লাগতে পারে। মনে হতে পারে, একটু বাসার নিচে যাই। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলি। সামনের মোড় থেকে হেঁটে আসি। কারও মাথায় এরকম চিন্তা এলে আমরা যেন তা ঝেরে ফেলি।” “এই মুহূর্তে বাসায় থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ ও সময়ের দাবি। কারণ, যতটুকু এটা আমার ও পরিবারের জন্য, ততটুকু অন্যদের জন্যও প্রয়োজন। নিজে নিরাপদে থাকি, অন্যদেরও নিরাপদে রাখি।” লোকজন ঘরে আটকা থকায় দিনমজুর থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষেরা যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেটি তুলে ধরে তাদের পাশে থাকার অনুরোধ করেছেন দেশের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার। “একটা দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, যারা শ্রমজীবী মানুষ, এই মুহূর্তে হয়তো বেকার হয়ে পড়ছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করব যে যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসার ও সাহায্য করার।”

‘আমরা হাল ছাড়ছি না’ করোনাভাইরাস নিয়ে ব্রাভোর গান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সময় এখন ভালো নয়, সময় এখন কষ্টের। করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে মুক্তির লড়াই করছে গোটা বিশ্ব। সেটিই গানে ফুটিয়ে তুলেছেন ডোয়াইন ব্রাভো। সুরে সুরে শুনিয়েছেন প্রেরণার বাণী, ‘আমরা হাল ছাড়ছি না!’ ‘চ্যাম্পিয়ন’ গান দিয়ে এর আগে তুমুল সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন ব্রাভো। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার এবার সময়ের ডাক তুলে ধরেছেন নতুন গানে। বিনোদনের খোরাক জোগানোর পাশাপাশি চেষ্টা করেছেন সবাইকে সচেতন করতে ও এই কঠিন সময়ে প্রেরণা জোগাতে। নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে বৃহস্পতিবার এই গান প্রকাশ করেছেন ব্রাভো। গানের শিরোণাম, ‘উই নট গিভিং আপ।’ গানের শুরুর কথা, ‘ইটস আ ব্যাড সিচুয়েশন, ইটস আ স্যাড সিচুয়েশন।’ গান প্রকাশের আগে একটি পোস্টে ব্রাভো জানিয়েছিলেন, ভক্তদের অনুরোধে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে একটি গান নিয়ে কাজ করছেন তিনি। পরে গানের ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, “এই মহামারি ছড়িয়ে পড়ায় সবার জন্য আমার প্রার্থনা। চলুন সবাই একসঙ্গে লড়াই করি। এই প্রাদুর্ভাবের সময় এটি একটি ইতিবাচক গান।” গানের কথায় করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ফুটিয়ে তুলেছেন ব্রাভো। বারবার হাত ধোয়া থেকে শুরু করে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার উপায়গুলি কণ্ঠে তুলে এনেছেন সুর ও ছন্দে। কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত দেশগুলোর জন্য প্রার্থনাও করেছেন ক্যারিবিয়ান এই ক্রিকেটার। ২০১৬ টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় করা ব্রাভোর ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানটি দারুণজনপ্রিয় হয়েছিল। সেই আসরে শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর এই অলরাউন্ডারের ‘এশিয়া’ গানও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। বিশ্বের ১৯৯টি দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ, মৃত্যু সংখ্যা ২৫ হাজারের কাছাকাছি।

প্রায় ৩ বছর পর কোমা থেকে ফিরলেন ডাচ ফুটবলার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লম্বা সময়ের ‘ঘুম’ থেকে জেগে উঠলেন আব্দেলহক নুরি। আয়াক্সের তরুণ ফুটবলার কোমা থেকে ফিরলেন ২ বছর নয় মাস পর। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ওয়ার্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে মৌসুম-পূর্ব প্রস্তুতি ম্যাচে খেলার সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন নুরি। লুটিয়ে পড়েন মাঠেই। চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়ে জানান, মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ায় তরুণ ডাচ খেলোয়াড় কখনও পুরোপুরি সেরে উঠবেন না। মাঠ থেকে সরাসরি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল নুরিকে। মস্তিষ্কের ক্ষতির জন্য হয়ে পড়েন বোধশক্তিহীন। অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন চোখের ভ্রু দিয়ে ক্ষাণিকটা সাড়া দিতে পারছেন। সেই ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদেরই চিনতে পারছিলেন না নুরি। বছর খানেক পর আয়াক্স স্বীকার করে এই ফুটবলারের জন্য তাদের ভূমিকা যথাযথ ছিল না। এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, নুরিকে বিমানে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনেক বেশি সময় নেয় আয়াক্সের চিকিৎসক দল। একই সঙ্গে ডিফিব্রিলেটরও আরও দ্রুত ব্যবহার করা উচিত ছিল। নুরি এখন ফুটবলও দেখতে পারছেন বলে জানান তার বাবা। আয়াক্সের সাবেক সতীর্থ ফ্রেংকি ডি ইয়ং জানান, তার দলবদল করে বার্সেলোনায় আসায়ও ভূমিকা ছিল আপি নামে পরিচিত নুরির। “আমি যখন তার সঙ্গে বসি, তার মা আসে। তিনি আপিকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপি ফ্রেংকির কোথায় যাওয়া উচিত? বার্সেলোনায়? কথাটা বলা মাত্র তার চোখের ভ্রু উঠে। এটা ছিল বিশেষ একটা মুহুর্ত।”

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় টেন্ডুলকারের অর্ধ কোটি রূপি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সচেতনতামূলক নানা বার্তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দারুণ সক্রিয় শচিন টেন্ডুলকার। তবে করোনাভাইরাসের বিপক্ষে তার লড়াই থেমে নেই সেটুকুতেই। আর্থিক সহায়তা নিয়েও এগিয়ে এসেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে তিনি দিচ্ছেন মোট ৫০ লাখ রুপি। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল ও মহারাষ্ট্রের মুখ্য মন্ত্রীর ত্রান তহবিলে ২৫ লাখ রুপি করে দেবেন টেন্ডুলকার। আলাদা করে দুটি তহবিলে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি নিজেই। সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন ইরফান পাঠান ও ইউসুফ পাঠান। বারোদা পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগকে চার হাজার মাস্ক দিয়েছেন দুই ভাই। পুনের একটি এনজিওকে ১ লাখ রুপি দিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ১০০ দিন মজুরের পরিবারের জন্য তহবিল সংগ্রহের কাজ করছে এনজিওটি। যেসব অসহায় ও দুস্থ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি স্কুলে, তাদের জন্য সম্প্রতি ৫০ লাখ রুপির চাল অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন বিসিসিআই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য গৌতম গম্ভীর কভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য গত সোমবার ৫০ লাখ রুপি দান করেছেন।

করোনাভাইরাস

দুই রাউন্ড না খেলেই চ্যাম্পিয়ন বারবাডোজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দুই রাউন্ড বাতিল করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বারবাডোজ প্রাইডকে বুধবার চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। গত মঙ্গলবার বিকেলে টেলিকনফারেন্স করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিচালকরা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বোর্ডের চিকিৎসা পরামর্শ কমিটির নির্দেশনা মেনেই নেওয়া হয়েছে টুর্নামেন্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত। চার দিনের ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে ১৩৪.৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার শীর্ষে বারবাডোজ। এরপর যথাক্রমে আছে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো (৯৪.৬), গায়ানা (৯১.৮), জ্যামাইকা (৯১.৮), উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস (৭৮) ও লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস (৫২.৮)। গত ১৩ মার্চ ৩০ দিনের জন্য ঘরোয়া সব ধরনের খেলা স্থগিতের ঘোষণা দেয় উইন্ডিজ বোর্ড। এবার সেই স্থগিতাদেশ মে মাসের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ। “দশ দিন আগে আমরা টুর্নামেন্ট ও ক্যাম্প ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছিলাম। এখন সেই স্থগিতাদেশ মে মাসের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছি। অনিচ্ছা থাকলেও কিছু টুর্নামেন্ট ও সফর পুরোপুরি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন অব্যাহত রাখব এবং সময়মতো নতুন করে সিদ্ধান্ত নেব ও ঘোষণা করব।” চিকিৎসা পরামর্শ কমিটি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া নির্দেশনা বোর্ড কর্মীদের মানতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন গ্রেভ। আঞ্চলিক বোর্ড এবং স্থানীয় ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে নিজ নিজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরামর্শ মানতে জোর দেবে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ২৭ ক্রিকেটার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা ক্রিকেটাররা নিয়মিতই করছেন। তবে সেটুকুতেই থেমে থাকছে না করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই। ২৭ ক্রিকেটার মিলে উদ্যোগ নিচ্ছেন তহবিল গঠন করে আর্থিক সহায়তার। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ১৭ ক্রিকেটার ও চুক্তির বাইরে থেকে সম্প্রতি জাতীয় দলে খেলা আরও ১০ ক্রিকেটার তাদের এক মাসের পারিশ্রমিকের অর্ধেক দেবেন এই তহবিলে। কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থেকে যে ক্রিকেটাররা কোনো সিরিজে খেলেন, তিনিও নিজের গ্রেড অনুযায়ী ওই মাসের পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সিরিজে চুক্তির বাইরে থেকে খেলা ক্রিকেটাররা যেমন মাসিক বেতন পাবেন। চুক্তিতে না থাকলেও মাশরাফি বিন মুর্তজা যেমন পাবেন শীর্ষ ক্যাটেগরির বেতন। প্রাথমিক হিসেবে সব মিলিয়ে ৩১ লাখ টাকার মতো আসবে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেটাররা। কর কেটে রাখার পর থাকবে ২৫ লাখ টাকার বেশি। তহবিল গঠনের মূল উদ্যোক্তাদের একজন, দেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানালেন, ভাবনার পেছনের কারণ। “মাশরাফি ভাই আমাকে প্রথমে বলেছিলেন, এরকম কিছু করা যায় কিনা। আমি এমনিতেও ভাবছিলাম কোনোভাবে এগিয়ে আসা যায় কিনা। তার আইডিয়া আমার খুব ভালো লেগে যায়। পরে সবার সঙ্গে আলোচনা করি। সবাই খুব স্বস্তঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে।” “হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয়, তবু নিজেদের জায়গা থেকে করার চেষ্টা করছি আমরা। সবাই যদি এভাবে যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করি, যত ক্ষুদ্রই হোক বা বড়, সবাই যদি একসঙ্গে লড়াইয়ে নামি, তাহলে করোনাভাইরাসকে হারানো অবশ্যই সম্ভব।”