প্রকাশ হল হাবিবের নতুন ভিডিও

বিনোদন বাজার ॥ কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে এ সময়ের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদ বলেছেন, শিগগিরই নতুন গানের ভিডিও নিয়ে আসবেন। যেমন কথা তেমন কাজ। সম্প্রতি গানটি রিলিজ দিয়েছেন।‘রাজি’ শিরোনামে এ গানটির সুর, সঙ্গীত ও কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি এর ভিডিওতে চা-বাগানের ম্যানেজার চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাবিব। গানটি লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল।গানে তার প্রেমিকা হিসেবে চা-বাগানের মালিকের মেয়ে চরিত্রে মাহবুবা হোসেন অনিকে দেখা গেছে। ভিডিও নির্মাণ করেছেন নিশক তারেক আজিজ। গানটির বিষয়বস্তু হাবিবের নিজের করা।সম্প্রতি গানটি হাবিবের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে। নতুন এ গান ও ভিডিও প্রসঙ্গে হাবিব বলেন, ‘ভালো লেগেছে গানটি করতে। কথাও বেশ চমৎকার লেগেছে। পাশাপাশি একটি দৃষ্টিনন্দন ভিডিও তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে শ্রোতা-দর্শক পছন্দ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’ তিনি আরও বলেন, ‘সামনে বেশ কিছু মজার মিউজিক ভিডিও নিয়ে শ্রোতা-দর্শকদের সামনে হাজির হব।’ সর্বশেষ এ শিল্পীর ‘অবুঝপনা’ নামে একটি গান প্রকাশিত হয়।

নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিন

ঢাকা ও চট্টগ্রামে দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট। রাজধানীসহ আশপাশের কিছু এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় রান্নাবান্না অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। গ্যাসের অভাবে শুধু রান্নাবান্নাই বিঘিœত হচ্ছে না, ব্যাহত হচ্ছে শিল্পোৎপাদনও। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়ায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ সিলিন্ডার গ্যাসে রান্নাবান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। গ্যাস সংকটের কারণে গাড়ির গ্যাস নিতে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহ ধরে গ্যাস নেই এমন খরব গণমাধ্যমে উঠে আসছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ২৬৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদা রয়েছে ৪৪৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ১০০ মিলিয়ন কম পাওয়া যাচ্ছে। গত ৩ দিন ধরে চট্টগ্রামের সব ধরনের গ্রাহক চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছেন না। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়ে আসছিল কেজিডিসিএল। তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগের মতো জাতীয় গ্রিডনির্ভর হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন শুধু গ্রিড থেকে পাওয়া গ্যাসই সরবরাহ করা হচ্ছে গ্রাহকের কাছে। এতে কমে গেছে স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন। বন্ধ হয়ে গেছে চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার সার কারখানা (সিইউএফএল)। ঢাকা ও চট্টগ্রামে গ্যাসের এমন সংকট আজকের নয়। এটা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। কিন্তু কেন এই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না- এটা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। রাজধানীতে কোনো কোনো এলাকায় গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের চাপ গ্রীষ্ম মৌসুমেও কম থাকে। শীত মৌসুমে সংকট আরো বেড়ে যায়। এটা সত্যি রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায়ই প্রায় সারা বছর আবাসিক সংযোগের পাইপলাইনে গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ থাকে। আর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সংকট লেগেই থাকছে বছরের পর বছর। গ্যাসের মজুদ সংকটের চেয়ে এ ক্ষেত্রে সঞ্চালনগত সমস্যাই বেশি দায়ী। দেখা গেছে, একটা সময় নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহকের কথা মাথায় রেখে এক ধরনের পাইপ বসানো হয়েছে, সময়ের ব্যবধানে ওই এলাকার গ্রাহক বেড়েছে ১০ থেকে ২০ গুণ। ফলে আগের সেই সংকীর্ণ পাইপলাইন দিয়ে ক্রমবর্ধমান গ্রাহকের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে শীত মৌসুমে পাইপলাইনে তরল হাইড্রো কার্বন জমেও গ্যাস সরবরাহে বিঘœ ঘটায়- এটাও গ্যাস সংকটের আরেকটা কারণ। রাজধানীর আবাসিক গ্যাস গ্রাহকদের ভোগান্তির এসব কারণ চিহ্নিত হয়েছে বহু আগে। এসব নিয়ে লেখালেখিও সব সময়ই হচ্ছে। তারপরও কেন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। পরিবহন খাতে অবাধে সিএনজির ব্যবহার চলছে। এটা নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস নির্ভরতাও দ্রুত কমছে না। সর্বোপরি, গ্যাসের চাহিদা মেটানো ও গ্যাসের সংকট উত্তরণে নতুন নতুন কূপ অনুসন্ধান ও খনন করে গ্যাসের মজুদ বাড়াতে হবে। গ্যাসের অপচয় রোধ করতে হবে। গ্যাসের সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। সর্বোপরি গ্যাসের সাশ্রয়ী ও সুপরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

॥ ড. এম এল আর সরকার ॥

সংলাপ, সংবিধান সংশোধন, খালেদার মুক্তি এবং বাস্তবতা

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বহুল আলোচিত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নেতারা এ আলোচনার ফল নিয়ে সন্তুষ্ট নন এবং হওয়ার কথাও নয়।

তদুপরি আলোচনার যে পথ উন্মোচিত হয়েছে, সে পথ ধরেই একটি গন্তব্যে পৌঁছার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একদিনে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব হয় না।’ ড. কামাল হোসেন সংলাপের পর কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলেছেন, আলোচনা ভালো হয়েছে। তার মতে, তারা তাদের কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীও তার মনের কথা তাদের বলেছেন।

আবারও আলোচনা হতে পারে- এ বিষয়ে উভয়পক্ষই একমত হয়েছেন। আলোচনার সার্বিক পরিবেশ, আতিথেয়তা এবং সর্বোপরি ধৈর্যসহ একে অপরের কথা শোনা থেকে এটি বলা যায়, প্রাথমিক সংলাপটি অত্যন্ত সফল হয়েছে। কিন্তু ফখরুল সাহেরেব কথার সুর ধরেই বলতে হচ্ছে, ‘একদিনে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব হয় না।’ ৭ নভেম্বরের মধ্যে আবারও আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

সংলাপে স্বাগত বক্তব্যে শেখ হাসিনা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমরা এই ৯ বছর ১০ মাস সময়ের মধ্যে দেশের কতটুকু উন্নয়ন করতে পেরেছি, তা নিশ্চয়ই আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন।

তবে এটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভালো আছে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। দিনবদলের যে সূচনা আমরা করেছিলাম, দিনবদল হচ্ছে; এটাকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কথাগুলো একদিকে যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি এটি বিবেচনার ভার ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ওপর ছেড়ে দেয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও প্রশংসনীয়।

পক্ষান্তরে ড. কামাল হোসেন তার স্বভাবসুলভ প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পর আগামী দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দিকনির্দেশনামূলক আবেদন রেখে।

তার বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এটুকু বোঝাতে চেয়েছেন যে, দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য এবং রিকন্সিলিয়শন বা মেলবন্ধন বা রাজনৈতিক সম্প্রীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার ইতিবাচক প্রভাব জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ সবকিছুর ওপরই পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি করার ঐতিহাসিক সুযোগ প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন।

তিনি মনে করেন, দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উদারতার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে জাতি তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এবং ইতিহাসে শেখ হাসিনার নাম সোনার হরফে লেখা থাকবে। ড. কামাল হোসেনের এ কথাগুলো সত্যিই সুন্দর এবং প্রশংসনীয়।

সব সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ সংলাপ থেকে কোনো মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়নি! প্রশ্ন হল, তাহলে এ সংলাপে কী হয়েছে? এ সংলাপ কাছ থেকে দেখার মতো সৌভাগ্য আমার হয়নি। তবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার খবর, বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রতিদিনের ৩ নভেম্বর প্রকাশিত ‘গণভবনে সেই সাড়ে তিন ঘণ্টা’ শিরোনামে একটি লেখা থেকে এটি পরিষ্কার যে, অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তন্মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, খালেদা জিয়ায় মুক্তি, একজন সর্বজন গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম, ১৫৩ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইভিএম ব্যবহার, রাজবন্দিদের মুক্তি এবং তফশিল ঘোষণা।

প্রধানমন্ত্রী বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থা, আইন এবং বাস্তবতার আলোকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের এসব বিষয়ে উত্তর দিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের নেতা-নেত্রীদের কাছে তার যুক্তি খন্ডানোর আইনগত-যুক্তিযুক্ত কোনো ব্যাখা ছিল না।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী যখন বলেছেন, ‘আমি পদত্যাগ করব, আপনারা সবাই মিলে একজন সর্বজন গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম বলেন; তখন সবাই নীরব ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘কী বলতে পারবেন?’ এ সময় অনেকেই মাথা নিচু করে ‘না-না’ করেন।

আসলে সংলাপে অধিকাংশ বিষয়েই আলোচনা হয়েছে সংবিধান, আইন এবং অতীত অভিজ্ঞতা বা বাস্তবতার নিরিখে। ঐক্যফ্রন্টের নেতা- নেত্রীদের তেমন কিছু বলার বা করার ছিল না। যার ফলে তাদের দাবিগুলোর জন্য শেষ পর্যন্ত তারা প্রধানমন্ত্রীর উদারতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রথম এ সংলাপে তার উদারতা এবং মেলবন্ধন সৃষ্টির বিষয়টির ওপর তেমন গুরুত্ব দেননি। কেন দেননি- তা মনে হয় একটু পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে-

সংবিধান সংশোধন এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন : আমরা সবাই জানি, সংবিধান কোনো সৃষ্টিকর্তার বাণী নয়। সোজা কথায়, সংবিধান মানুষ ও রাষ্ট্রের কল্যাণার্থে মানুষের তৈরি কিছু নিয়মাবলীর সমষ্টিমাত্র। মানুষের জন্যই যখন এ সংবিধান, তখন মানুষের প্রয়োজনেই এটি সংশোধন করা অসম্ভব নয় বলেই প্রতীয়মান হয়।

আমি সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই, তবে ড. কামাল হোসেনের প্রধানমন্ত্রীকে বলা উদ্ধৃতি- ‘এটাও আপনার অজানা নয়, যে কোনো বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের দরকার পড়লে তা নিয়ে আলোচনা করাও সংবিধানসম্মত। কারণ সংবিধান সংশোধনের বিধান সংবিধানেরই অংশ।’ এ থেকে এটুকু বুঝতে পারছি, সংবিধান সংশোধন একটি সংবিধানসম্মত বিষয়।

সংবিধান সংশোধন করেও একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব। দেশের জনগণও মনে করে এটি সম্ভব। তবে কথা থাকে যে, এর জন্য প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রীর উদারতা। কিন্তু কথা হচ্ছে, কেন প্রধানমন্ত্রী এ উদারতা দেখাবেন এবং তিনি দেখালেই যে দেশে শান্তি আসবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়?

আইন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি : বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এ মামলা তো আমি করিনি। এটি করেছে এক-এগারোর সরকার। আমার কী করার আছে? এখানে রাজনৈতিক কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।’ ধরেই নিচ্ছি, খালেদা জিয়ার কারাবাসে প্রতিহিংসার রাজনীতি নেই।

তার আইনজীবীরা যথেষ্ট বিচক্ষণ এবং অনেক দিক দিয়ে তারা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তারপরও অনেকেই মনে করেন, খালেদা জিয়া অন্যায় করেছেন ঠিকই, তবে এই অন্যায়গুলোর অধিকাংশই সম্ভবত সংঘটিত হয়েছে কিছুটা তার অজান্তে এবং কিছুটা তার অন্ধ পুত্রস্নেহের কারণে। তদুপরি এরকম অনেকে অন্যায়ের পর আজও জেলের বাইরে আছেন।

এই বয়সে খালেদা জিয়ার এত দীর্ঘদিন কারাবাসের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবিদার। বিএনপিও মনে করে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এই মুহূর্তে খালেদা জিয়া দন্ডপ্রাপ্ত। আদৌ কি তার মুক্তি সম্ভব?

দন্ডপ্রাপ্ত কাউকে মুক্তি প্রদানের নজির বিশ্বে অনেক আছে। নিকট অতীতে এর প্রকৃষ্ট উদাহারণ হচ্ছে মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহীম। কিন্তু এখানেও সেই একই সমস্যা। খালেদা জিয়ার দন্ড মওকুফ বা মুক্তির জন্যও প্রয়োজন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উদারতা। আবারও সেই প্রশ্ন- কেন শেখ হাসিনা এ ক্ষেত্রেও তার উদারতা দেখাবেন? শেখ হাসিনা দেখালে খালেদা জিয়া তার উত্তরে কী করবেন?

অভিজ্ঞতা বা বাস্তবতা : ধরুন ড. কামাল হোসেনের কথায় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক উদারতা দেখিয়ে সংবিধান সংশোধন, খালেদা জিয়ার দন্ড মওকুফ এবং নির্বাচন কমিশন ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা করলেন। ধরে নিলাম, এতে করে শেখ হাসিনাকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করল এবং দেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার নাম সোনার হরফে লেখা থাকল।

কিন্তু ড. কামাল হোসেনের কাছে আমার প্রশ্ন- একবার ভেবে দেখুন তো! এভাবে শেখ হাসিনা সবকিছু মেনে নিলে ভোটের ময়দানে আপনি কি বলবেন যে, হাসিনা অনেক কাজ করেছেন এবং নজিরবিহীন উদারতা দেখিয়েছেন; সুতরাং তাকেই আর একবার ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী করা উচিত।

আপনি হয়তো বলেন না, কিন্তু আপনার জোটের লোকেরা কি জনসভায় এ কথা বলা বাদ দেবে, শেখ হাসিনাকে আমরা বাধ্য করেছি আমাদের দাবি মেনে নিতে! আপনাদের সব দাবি মেনে নিলে শেষ পর্যন্ত ভয়ে বা সুযোগ বুঝে বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচরণ করতে কি দ্বিধাবোধ করবে?

ড. কামাল এবার ধরুন, নানা কারণে আওয়ামী লীগ ভোটে হেরে গেল। ভোটে হারার পর শেখ হাসিনাকে যে জেলে যেতে হবে না, তার দলের লোকদের হয়রানি করা হবে না এবং যে যুদ্ধাপারাধীর বিচার শেখ হাসিনা করেছেন, তারা প্রতিশোধ নেবে না; তার কি কোনো নিশ্চয়তা আপনি দিতে পারবেন?

মান্যবর! আপনারা যে শুধু আপনাদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই কথায় কথায় বঙ্গবন্ধু-বঙ্গবন্ধু বলছেন না; তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? আপনি তো নিজেও ভালো করেই জানেন বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা। সেই বঙ্গবন্ধুকে তার পরিবারসহ স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছর পরই আমরা হত্যা করেছি।

আমরা জাতি হিসেবে বড়ই অদ্ভুত, ভুলো মনের এবং আমাদের কেউ কেউ আবার মীর জাফর শ্রেণীর। অতএব আপনি নিজেই একবার চিন্তা করে দেখুন তো, আপনাদের সব কথা শেখ হাসিনার আদৌ অন্ধভাবে বিশ্বাস করা ঠিক হবে কিনা?

ধরে নিলাম, আপনি চেষ্টা করবেন; যাতে এরকম কিছু না হয়। কিন্তু ক্ষমতা ও প্রতিহিংসা বড় অদ্ভুত। আপনি ব্যক্তিগতভাবে চাইলেও সরকারি দলের লোকদের হয়রানি বন্ধ করতে পারবেন না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনার ব্যক্তি ইমেজের কারণে এখন আপনার দাম আছে।

কিন্তু আপনার জোটে আপনার লোকদের এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, যা দিয়ে আপনি আপনার মতামতকে ক্ষমতায় যাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তারপরও যদি আপনি সেই চেষ্টা করেন, তাহলে আপনার পরিণতি যে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মতো হবে না, তা কী করে বুঝবেন?

ড. কামাল হোসেন হয়তো আমার লেখা পড়বেন না এবং পড়লেও এতক্ষণ হয়তো ভাবছেন- আমি চরম বিএনপি বিরোধী। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কারও ক্ষমতায় যাওয়ার বিরোধী নই। আমি বিরোধী প্রতিহিংসার রাজনীতির।

এই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা প্রয়োজন। দেশবাসী মনে করে, সাংবিধানিকভাবে এটি বন্ধ করতে পারলেই বারবার ভোটের আগে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না এবং দেশের রাজনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আসবে। জানি না, কেন আপনারা শুধু নির্বাচন নিয়েই কথা বলেন। আসলে মূল সমস্যা ক্ষমতার অপব্যবহার, যা মূলত হয় নির্বাচনের পর।

আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, দেশের অনেক মানুষ বিশ্বাস করে- প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করতে হলে প্রয়োজন সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ক্ষমতার একটি ভারসাম্য। ক্ষমতার ভারসাম্য থাকলে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা  স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে দেশ পরিচালনা করতে পারবে না।

আমরা মুখে যতই গণতন্ত্রের কথা বলি না কেন, ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সবাই স্বৈরাচারে পরিণত হই এবং এটি করতে সহায়তা করে আমাদের এই গতানুগতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।

আমি এর আগেও লিখেছিলাম ‘যে গণতন্ত্রে ৩০০টি আসনের মধ্যে শুধু ১৫১টি আসন পেলেই সব ক্ষমতার অধিকারী হওয়া যায় এবং ১৪৯টি আসন পেয়ে শূন্য হাতে বিরোধী দলের আসনে বসে থাকতে হয়, সেই গণতন্ত্র যতই ভালো হোক না কেন; তার সংশোধন প্রয়োজন। এ ধরনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমাদের দেশে প্রয়োজন নেই।’

ড. কামাল হোসেন, আপনি সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং আপনি নিজেই বলেছেন- প্রধানমন্ত্রী চাইলে অতিদ্রুতই আপনি সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আছেন। আমার মতামত হচ্ছে- এখানে প্রধানমন্ত্রীর চাওয়ার কিছুই নেই। তিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন এবং দেশের সংবিধান অনুযায়ী সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।

সংবিধান সংশোধন এবং দন্ড মওকুফের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন আপনাদের। সুতরাং আপনাকেই বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে আসতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা আছে।

অনুগ্রহপূর্বক আপনার প্রস্তাবগুলো এমনভাবে তৈরি করবেন, যাতে করে প্রধানমন্ত্রী প্রকৃতপক্ষেই বুঝতে পারেন, এ প্রস্তাবনায় শুধু খালেদা জিয়ার প্রতি নয়; তার প্রতিও আপনার আন্তরিকতার প্রকাশ রয়েছে এবং এটি গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে তিনি ও তার দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

সংবিধানের এ সংশোধনীতে প্রয়োজনে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার জন্য এমন ব্যবস্থা রাখুন, যাতে তারা বাকি জীবনটা দেশের অভিভাবক হিসেবে থাকতে পারেন।

আশা করছি- সৃষ্টিকর্তার রহমতে এবং আপনার প্রচেষ্টায়, সর্বোপরি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উদারতার মাধ্যমে সংশোধিত সাংবিধানিক কাঠামোয় আমরা স্বৈরাচার ও প্রতিহিংসার রাজনীতিমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ পাব; যেখানে বাস্তবায়িত হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন।

লেখক ঃ অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

ব্রেকিং নিউজ দিয়ে ফিরলেন সারিকা

বিনোদন বাজার ॥ কিছুদিন আগে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন মডেল-অভিনেত্রী সারিকা। পরবর্তী সময়ে অভিনয় শিল্পী সংঘের কাছেও ক্ষমা চান তিনি। এর ফলে সংগঠন কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নতুন নাটক নিয়ে দর্শকদের সামনে আসছেন এ মডেল-অভিনেত্রী। নাটকের নাম ‘ব্রেকিং নিউজ’। এটি পরিচালনা করেছেন সকাল আহমেদ। এরই মধ্যে ঢাকার দিয়াবাড়িতে এ খ-নাটকের শুটিং শেষ করেছেন। নাটকে সারিকাকে দেখা যাবে আধুনিক মেয়ের চরিত্রে। স্বামী থাকা সত্ত্বেও ফোনে যার-তার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ কারণে স্বামী তার ওপর খুবই বিরক্ত হয়। স্ত্রীর এ অভ্যাস দূর করার সব উপায় ব্যবহার করেন স্বামী। একটা সময় স্ত্রীকে স্বাভাবিক পর্যায় আনলেও স্বামী নিজেই স্ত্রীর আগের চরিত্র ধারণ করেন এবং স্বামী যার-তার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। এভাবেই নাটকের গল্প এগিয়ে যায়। নাটকে সারিকার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেন আবদুন নূর সজল। এ প্রসঙ্গে সারিকা বলেন, ‘সমসাময়িক গল্পের নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে বেশ উপভোগ করেছি। চরিত্রগুলো বেশ চমৎকার। আশা করছি দর্শকদেরও ভালো লাগবে।’ নাটকটি শিগগিরই একটি বেসরকারি চ্যানেলে প্রচার হবে বলে নির্মাতা জানান।

৯ বছরে ইলিশের উতপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ গত ৯ বছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল দুই লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন, যা গত ৯ বছরে বেড়ে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ সালে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ বেশি উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। পাশাপাশি এ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৪২ দশমিক ৭৭ লাখ  মেট্রিক টন হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, ২০০২-০৩ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত ইলিশের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। ২০০৮-০৯ অর্থবছর দেশে ইলিশ উৎপাদনের পরিমাণ  বেড়ে দাঁড়িয়েছিল দুই লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টনে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে  দেশে এর পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা চার লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছর দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৭ সালের  শেষদিকে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা ইলিশ সুরক্ষা ও ডিম ছাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করায় এ সফলতা এসেছে। এ অর্জন ধরে রাখতে হবে। মৎস্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে মৎস্যখাতে জড়িত এবং ১১ শতাংশের  বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক দশমিক ১৫ শতাংশের অধিক। জিডিপিতে একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ। এসব কারণেই ইতোমধ্যে  পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদফতর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনানুগ কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ হিসেবে ইলিশের  ভৌগোলিক নিবন্ধন (জিআই সনদ) প্রদান করেছে। সরকারের নানামুখী উদ্যোগের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘বিশ্বে উৎপাদিত ইলিশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশ উৎপাদন করে। ২০১৮ সাল শেষে ইলিশ উৎপাদন যেমন পাঁচ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে, একইভাবে সার্বিক মাছ উৎপাদন বেড়ে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টনে উন্নীত হবে।’ মৎস্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। মাত্র ৯ বছরের ব্যবধানে এ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ।  পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদফতর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনানুগ কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের  ভৌগোলিক নিবন্ধন (জিআই সনদ) প্রদান করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের ভৌগোলিক নিবন্ধন সম্পন্নের ফলে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও গুণগতমানসম্পন্ন ইলিশ বাজারজাতের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বাণিজ্যিকসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যাবে।’ জানা গেছে, ইলিশ রক্ষায় সরকার ২০০৪-০৫ থেকে ২০০৭-০৮ অর্থবছর পর্যন্ত জাটকা শিকার নিষিদ্ধ থাকাকালে জেলেদের পরিবার প্রতি মাসিক ১০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে ৪০  কেজি হারে এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে একলাখ ৪৫ হাজার ৩৩৫টি জেলে পরিবার এ কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা দুই লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৪টিতে উন্নীত করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের আগের সাত বছরে  জেলেদের জন্য খাদ্যশস্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬ হাজার ৯০৬ টন। কিন্তু পরবর্তী ৯ বছরে (২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত) এ সহায়তা দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪৫ টন। সূত্র আরও জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে প্রকৃত  জেলেদের শনাক্ত করে নিবন্ধনকরণ ও পরিচয়পত্র প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ লাখ ২০ হাজার মৎস্যজীবী-জেলেদের নিবন্ধন ও ডাটাবেজ প্রস্তুত এবং ১৪ লাখ ২০ হাজার জেলের পরিচয়পত্র বিতরণ সম্পন্ন করে সরকার ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়াতে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ইলিশ আহরণে জড়িত প্রায় সাত লাখ জেলে এবং মা-ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে ২২ দিনের জন্য ৩ লাখ ৯৫ হাজার  জেলে পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে প্রায় সাত হাজার টন খাদ্য সহায়তা পায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৫ দশমিক ৬৮ টন মৎস্য ও মৎস্যজাতীয় পণ্য রফতানি করে ৪ হাজার ২৮৭ দশমিক ৬৪ কোটি টাকার  বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ হাজার ২৪৩ দশমিক ৪১ কোটি টাকা। মৎস্য মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ দিতে বছরে দুইবার ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ২০১১ সালে সংশোধিত আইন অনুযায়ী ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম আশ্বিন মাসের প্রথম চাঁদ উদয় হওয়ার আগে তিনদিন ও চাঁদ উদয় হওয়ার পরের সাতদিন মোট ১১দিন উপকূলীয় এলাকাসহ সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ দিন। এছাড়া, জাটকা সংরক্ষণে এবং প্রজননের সুযোগ দিয়ে ১ মার্চ  থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই দুই মাসও নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। এ সময়ে ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়।  দেশের ১৬টি জেলার প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার ১০২টি জেলে পরিবার এ খাদ্য সহায়তা পায় বলে জানায় মৎস্যসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র।

সাপলুডু নিয়ে ব্যস্ত মিম

বিনোদন বাজার ॥ দেশীয় চলচ্চিত্রের অবস্থা এখন বেশ নাজুক। বলা যায় ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে ঢাকাই চলচ্চিত্র। এরই মধ্যে অনেকে সারভাইভ করার চেষ্টা করছেন। জোয়ারে গা না ভাসিয়ে বাছাই করা কাজ নিয়ে এ মুহূর্তে টিকে থাকা অনেক বেশি কঠিন। তবে কঠিন হলেও এ ব্রতই পালন করছেন বিদ্যা সিনহা মিম। হাতে খুব বেশি কাজ নেই। শুধু তার হাতেই নয়, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত কোনো নায়িকার হাতেই এখন কাজ নেই। এ নেই-এর মধ্যেও মিম চেষ্টা করছেন বাছাই করা কিছু কাজ করতে।‘সাপলুডু’ তেমনই একটি চলচ্চিত্র। এটি পরিচালনা করছেন গোলাম সোহরাব দোদুল। বর্তমানে মানিকগঞ্জে এ চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন মিম। শুটিং করবেন ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতে তার বিপরীতে রয়েছেন আরিফিন শুভ।এতে অভিনয় প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘যেহেতু দোদুল ভাইয়ের প্রথম সিনেমা, তাই তিনি চেষ্টা করছেন তার মেধার সবটুকু দিয়ে কাজ করতে। আমি বা আমরা যারা কাজ করছি প্রত্যেকেই যার যার মতো চেষ্টা করছি তার ইচ্ছা প্রাধান্য দিয়ে ভালোভাবে কাজ করতে। এ চলচ্চিত্রে আমার চরিত্র নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। এটা নিঃসন্দেহে বলতে পারি দর্শক এতে আমাকে একেবারেই নতুনরূপে দেখতে পাবেন।’এদিকে মিম অভিনীত তারেক শিকদারের ‘দাগ’ চলচ্চিত্রটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন বাপ্পী চৌধুরী। প্রসঙ্গত, প্রয়াত পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু পরিচালিত ‘জোনাকীর আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মিম প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

১৬ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে আসছে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’

বিনোদন বাজার ॥ একজনের প্রতিশোধ দেশের প্রতিবাদ। এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ছবির ট্রেলার প্রকাশ হয়েছে ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায়। ৩ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ট্রেলারটিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের কালো এক অধ্যায়ের গল্প! অবশ্যই সিনেমাটিক ভঙ্গিতে।ট্রেলারটির শুরু আল-কোরানের বাণী দিয়ে! সুরা আল মায়িদাহ থেকে উদ্ধৃতি করা হয়েছে ‘যে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করলো সে যেন সমস্ত মানব জাতিকে হত্যা করলো এবং যে একজন নিরপরাধ ব্যক্তির জীবন রক্ষা করলো সে যেন সমগ্র মানব জাতীকেই রক্ষা করলো।’ নির্মাতার ভাষ্য, আল-কোরানের এই আয়াতটুকুর মধ্যেই লুকিয়ে আছে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ সিনেমার মূল ভাব।সিনেমার মূল বিষয় জঙ্গীবাদ। জঙ্গীবাদের আস্ফালনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আজ ঢুঁকরে মরছে। বিপন্ন হচ্ছে বিশ্ব মানবতা। ধর্মের নামে উগ্রবাদীতার ফলে বহু দেশ আজ নাজুক। জঙ্গীবাদের এমন ভয়ঙ্কর চর্চা স্পর্শ করে গেছে বাংলাদেশকেও।দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ, রমনা বটমূলে বোমা হামলা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আঘাতসহ সর্বশেষ রাজধানীর হলি আর্টিজানে ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা বাঙালির হৃদয়ে ক্ষতচিহ্ন এঁকে দিয়ে গেছে।আর এসব ক্ষতাক্ত ঘটনায় যেন উঠে এসেছে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ছবিতে। টুকরো টুকরো দৃশ্যে এমনটাই দেখা গেছে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ছবির ট্রেলারে।যেখানে দেখা যায় একজন বলছেন, ‘এই দেশে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের জিহাদি রাষ্ট্র কায়েমের উদ্দেশ্য।’ ধর্মের কথা বলে অসংখ্য সরল যুবাদের জড়ো করা হয়। তরুণদের উদ্বুদ্ধ করা হয় জান্নাতের প্রলোভন দেখিয়ে।‘ওই দেখ জান্নাত’! মস্তিস্ক এমন ভাবে ধোলাই করা হয় যেন মুহূর্তেই নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন ইরজোয়ানরা। মিশনে যাওয়ার সময় তাই একজন আরেকজনের কাছ থেকে বিদায় নেন এই বলে যে, জান্নাতে দেখা হবে!কাদের জীবন দেখানো হয়েছে সিনেমায়? কারা জঙ্গীবাদীর পথ বেছে নেন? কিসের উদ্দেশ্যে ধর্মের নামে অরাজকতা তৈরি করেন তারা? আর কাদেরকে উদ্দেশ্য করেই বা সুরা মায়িদাহ’র উদাহরণ টানা হয়েছে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ছবিতে?ইসলাম কি ধর্মের নামে মানব হত্যাকে সমর্থন করে? ইসলাম কি জঙ্গীবাদের শিক্ষা দেয়?-আর এসব অসংখ্য প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়া যাবে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ সিনেমায়। এমনটাই বলছিলেন ছবির প্রযোজক ও অভিনেতা খিজির হায়াত খান।আর তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত। কারণ এদিন মহাসমারোহে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’।দেশের পতাকা বুকে ধারণ করে জঙ্গিবাদ নির্মূলে নেমেছেন ‘মিস্টার বাংলাদেশ’। প্রেম ভালোবাসা পরিবারের গল্প, নাচ গান, মারামারি সবই ভেসে উঠেছে এই ট্রেলারে। ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ পরিচালনা করছেন আবু আকতারুল ইমান। ছবির কাহিনী ও চিত্রনাট্য করেছেন নির্মাতা খিজির হায়াত খান ও হাসনাত পিয়াস। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে আরো অভিনয় করেছেন লাক্স তারকা শানু, টাইগার রবি, মেরিয়ান, শামীম হাসান সরকার প্রমুখ।

ফিরতি লেগেও নাপোলি-পিএসজি ড্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রতিপক্ষের মাঠে শুরুতে এগিয়ে যাওয়া পিএসজি ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি। পেনাল্টি থেকে নাপোলি কাঙ্খিত গোল পাওয়ায় দুই দলের ফিরতি লেগের ম্যাচটিও ড্রয়ে শেষ হয়। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ‘সি’ গ্র“পের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। পিএসজির মাঠে প্রথম লেগ ২-২ ড্র হয়েছিল। নাপোলির কাছে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অজেয় থাকল পিএসজি। দুই দলের আগের তিন দেখায় ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের জয় একটি; বাকি দুটি ড্র। ৪৫তম মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বল বুটের টোকায় একটু ওপরে তুলে লরেন্সো ইনসিনিয়ের নেওয়া ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে হতাশ হতে হয় নাপোলি সমর্থকদের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এগিয়ে যায় পিএসজি। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে কিলিয়ান এমবাপের ছোট পাস ডি-বক্সে পেয়ে যান হুয়ান বের্নাত। স্পেনের এই ডিফেন্ডারের পড়িমরি করে নেওয়া শট ঠিকানা খুঁজে পায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে সমতায় ফিরতে পিএসজির রক্ষণে প্রচন্ড চাপ দেয় নাপোলি। ৫১তম মিনিটে ড্রিস মের্টেন্সের শট কর্নারের বিনিময়ে ফেরান জানলুইজি বুফ্ফন। দুই মিনিট পর মের্টেন্সের চিপ শেষ মুহূর্তে ফিস্ট করে ফিরিয়ে পিএসজির ত্রাতা তিনি। একটু পর ইনসিনিয়ে থেকে বল কায়েহনের পা হয়ে পেয়ে যান মারিও রুই। পর্তুগালের এই ডিফেন্ডারের সাইড ভলি আটকে দেন পিএসজি জার্মান ডিফেন্ডার টিলো কেরার। ৬৩তম মিনিটে স্পট কিকে নাপোলিকে সমতায় ফেরান ইনসিনিয়ে। বলের লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়েও ইতালিয়ান ফরোয়ার্ডের শট আটকাতে পারেননি বুফ্ফন। ডি-বক্সের মধ্যে হোসে কায়েহন ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার আনহেল দি মারিয়াকে তুলে নিয়ে ফরোয়ার্ড এদিনসন কাভানিকে ৭৬তম মিনিটে নামান পিএসজি কোচ। ৮৪তম মিনিটে কেরারকে বল বাড়িয়ে ফিরতি পাস থেকে এমবাপের নেওয়া শট দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে গেলে সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। চার ম্যাচে এক জয় ও তিন ড্রয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে নাপোলি। সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে গ্র“পের অন্য ম্যাচে রেড স্টার বেলগ্রেডের কাছে ২-০ গোলে হারা লিভারপুল। ৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। ৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা রেড স্টারও ভালোমতোই টিকে আছে নক আউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে।

মুক্তির প্রস্তুতিতে গোয়েন্দাগিরি

বিনোদন বাজার ॥ শখের গোয়েন্দাদের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘গোয়েন্দাগিরি’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে শিগগিরই। সম্প্রতি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে নাসিম সাহনিক পরিচালিত এই চলচ্চিত্র। ১৮ অক্টোবর বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পায় ‘গোয়েন্দাগিরি’। গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রে শখের গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা শম্পা হাসনাইন। সুপার হিরো সুপার হিরোইনখ্যাত এই নায়িকা সেন্সর পাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, গোয়েন্দাগিরি চলচ্চিত্রটি সেন্সর সার্টিফিকেট লাভ করায় আমি ভীষণ আনন্দিত। চলচ্চিত্রটিতে আমি শখের গোয়েন্দা থাকি। আমাকে মেধাবী ছাত্রী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার গণিতের দক্ষতায় সবাই মুগ্ধ হয়। ২০১২ সাল থেকে চলচ্চিত্রটির পরিকল্পনা শুরু হলেও ২০১৩ সালে চিত্রনাট্যের কাজ হয় এবং ২০১৬, ২০১৭ সালে অধিকাংশ শুটিং সম্পন্ন হয়। ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়। চলচ্চিত্রের লেখক টিমে ছিলেন রাশেদ শাওন, আপেল মাহমুদ, জিনাত হোসেন যুথী ও নাসিম সাহনিক। এ ছাড়া চলচ্চিত্রটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কচি খন্দকার, তারেক মাহমুদ, শিখা মৌ, সীমান্ত আহমেদ, টুটুল চৌধুরী প্রমুখ।

ইন্টারের সঙ্গে ড্রয়ে সবার আগে নকআউট পর্বে বার্সা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বদলি হিসেবে মাঠে নামার দুই মিনিটের মাথায় দারুণ এক গোলে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন মালকম। কিন্তু ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি কাতালান ক্লাবটি। শেষ দিকের গোলে মূল্যবান ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মিলান। সান সিরোয় মঙ্গলবার রাতে ‘বি’ গ্র“পের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। এই ড্রয়ে চলতি আসরে সবার আগে শেষ ষোলোয় উঠে গেছে এরনেস্তো ভালভেরদের দল। গত মাসে কাম্প নউয়ে প্রথম লেগে ২-০ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। হাতের চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় থাকা লিওনেলে মেসিকে দলে রেখে চমক দিয়েছিলেন ভালভেরদে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাকে বেঞ্চেও রাখেননি কোচ। দলের সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়া দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলা বার্সেলোনা দ্বিতীয় মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো। তবে উসমান দেম্বেলের দূরপাল¬ার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক। ১০ মিনিট পর ডি-বক্সে ঢুকেই লুইস সুয়ারেসের নেওয়া জোরালো শট ক্রসবার ঘেঁষে চলে যায়। প্রথমার্ধের বেশ খানিকটা সময় দুদলের খেলাই ছিল এলোমেলো, গতিহীন। অধিকাংশ সময় বল দখলে রেখে মাঝ বরাবর আক্রমণে ওঠার চেষ্টায় ছিল বার্সেলোনা; কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক ফুটবলের সামনে সুবিধা করতে পারেনি তারা। বিরতির পর গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠা বার্সেলোনা বারবার রক্ষণ ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়তে থাকে। ৬০তম মিনিটে দারুণ একটি সুযোগও পায় তারা; কিন্তু গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে বসেন ইভান রাকিতিচ। ৮১তম মিনিটে দেম্বেলেকে বসিয়ে মালকমকে নামান কোচ। কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে মোটেও দেরি করেননি এই ফরোয়ার্ড। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে ডান দিকে বাড়ান ফিলিপে কৌতিনিয়ো। আর ডি-বক্সে ঢুকে এক ঝটকায় সামনের ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে জাল খুঁজে নেন মালকম। বার্সেলোনার এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের স্থায়ীত্ব ছিল মোটে চার মিনিট। ৮৭তম মিনিটে মাতিয়াস ভেসিনোর শট প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বল পেয়ে ডান পায়ের শটে মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনের দুপায়ের ফাঁক দিয়ে জাল খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ইকার্দি। চার ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টার মিলানের পয়েন্ট ৭। গ্র“পের আরেক ম্যাচে পিএসভির বিপক্ষে  শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর হ্যারি কেইনের শেষ দিকের জোড়া গোলে নাটকীয় জয় পায় টটেনহ্যাম হটস্পার। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ইংলিশ ক্লাবটি। পিএসভির পয়েন্ট ১। ‘এ’ গ্র“পে ঘরের মাঠে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারানো আতলেতিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৯। জার্মান ক্লাবটির পয়েন্টও ৯। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে শীর্ষে আছে বরুসিয়া। গ্র“পের আরেক ম্যাচে মোনাকোকে তাদেরই মাঠে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ক্লাব ব্র“জের পয়েন্ট ৪। ১ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ফরাসি ক্লাবটির। ‘সি’ গ্র“পে ঘরের মাঠে পিএসজির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা নাপোলি ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে। গ্র“পের অপর ম্যাচে রেড স্টার বেলগ্রেডের মাঠে ২-০ গোলে হারা লিভারপুলের পয়েন্টও চার ম্যাচে ৬। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ইংলিশ ক্লাবটি। ৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। ৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা রেড স্টারও ভালোমতোই টিকে আছে নক আউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে। ‘ডি’ গ্র“পে ঘরের মাঠে লোকোমোতিভ মস্কোর বিপক্ষে ৪-১ গোলে জেতা পোর্তো চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। আর নিজেদের মাঠে গালাতাসারাইকে ২-০ গোলে হারানো শালকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে থাকা গালাতাসারাইয়ের পয়েন্ট ৪।

সুস্মিতাকে নিয়ে নতুন গুঞ্জন

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেনের প্রেমিকের তালিকা বেশ লম্বা। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী অনেকেই ছিলেন তার প্রেমিকের তালিকায়। সম্প্রতি ১০ নম্বর প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেছেন। এরই মধ্যে নতুন প্রেমে মজেছেন সুস্মিতা সেন। তরুণ সেই প্রেমিককে নিয়ে আরেক অভিনেত্রী শিল্পা দীপাবলির অনুষ্ঠানে হাজির হলেন এই অভিনেত্রী। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২৭ বছর বয়সী মডেল রোমান শোলের সঙ্গে একটি ফ্যাশন শো-এ পরিচয় সুস্মিতার। এরপর থেকেই তাদের ঘনিষ্ঠতা। ওই অনুষ্ঠানের পর থেকে মাঝেমধ্যেই সুস্মিতার সঙ্গে রোমানকে দেখা যায়। এবার শিল্পার বাড়িতে দীপাবলি অনুষ্ঠানে যান সুস্মিতা। শিল্পার বাড়িতে ঢোকার সময় রোমান-সুস্মিতাকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ফটো সাংবাদিকের সামনে ক্যামেরায় পোজ দিতে দেখা যায়। এ দিকে সুস্মিতার সঙ্গে নতুন এই মডেলের বয়সের পার্থক্য নিয়েও জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, রোমান নাকি সুস্মিতার চেয়ে ১৫ বছরের ছোট। সুস্মিতা অবশ্য এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সম্প্রতি রোমান শোল নামে এই নতুন বন্ধুর সঙ্গে জিমেও দেখা গেছে সুস্মিতাকে। সেখানে তাদের পাল্লা দিয়ে শারীরিক কসরত করতে দেখা যায়।

ম্যানইউর জালে গোল করবে রোনালদো, বিশ্বাস ইউভেন্তুস কোচের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইউভেন্তুসের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এখন পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি প্রতিযোগিতার সর্বকালের সেরা গোলদাতা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তবে নিজের সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে আগামী ম্যাচে পর্তুগিজ এই তারকা গোল পাবেন বলে বিশ্বাস ইতালির দলটির কোচ মাস্সিমিলিয়ানো আলে¬গ্রির। ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লাল কার্ড  দেখায় ইয়াং বয়েজের বিপক্ষে গ্র“পের পরের ম্যাচে খেলতে পারেননি গত জুলাইয়ে তুরিনে পা রাখা এই ফরোয়ার্ড। তৃতীয় ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে দলের একমাত্র জয়সূচক গোলে অবদান রাখেন পর্তুগিজ এই তারকা। আলে¬গ্রি আশা করছেন, ঘরের মাঠে ইউনাইটেডের বিপক্ষে ফিরতি লেগে গোলের দেখা পাবেন ৩৩ বছর বয়সী রোনালদো। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘এইচ’ গ্র“পের ম্যাচে ইংলিশ ক্লাবটির মুখোমুখি হবে ইউভেন্তুস। “বুধবার সে গোল করবে।” “সে প্রথম ম্যাচে খেলেনি (২৯তম মিনিটে লাল কার্ড দেখেছিলেন), দ্বিতীয় ম্যাচেও খেলেনি। সে শুধু একটা ম্যাচ খেলেছিল এবং একটা গোলে অবদান রেখেছিল।” গ্র“পের তিন ম্যাচের সবকটিতে জেতা ইউভেন্তুস ৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পয়েন্ট ৪। বুধবার হার এড়াতে পারলেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত করবে আলে¬গ্রির দল।

 

শাহনূর ‘মাদার অব হিউমিনিটি’ গানে

বিনোদন বাজার ॥ ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’র প্রযোজনায় ‘মাদার অব হিউমিনিটি’কে নিয়ে একটি মিউজিক ভিডিও নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এই মিউজিক ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানান সাফল্যের কথা, তার কঠোর দৃঢ়তার কথা, নানান উন্নয়ের কথা গানে গানে তুলে ধরা হবে। আর সেসব কথাই গানে গানে চিত্রনায়িকা শাহনূরের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন ভিডিওটির নির্মাতা রফিকুল ইসলাম বুলবুল। তিনিই গানটি লিখেছেন। গানটির সুর-সঙ্গীত করেছেন কাজী জামাল। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জুয়েল, লাভলী শেখ, প্রমিয়া, ডেইজি, তুহিন। আগামী সপ্তাহে গানটি বিটিভেতে প্রচার হবে।

বার্সায় ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন মালকমের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বার্সেলোনার হয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক ম্যাচে গোলের দেখা পাওয়া ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মালকম। ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় মঙ্গলবার ‘বি’ গ্র“পের ম্যাচে ইন্টার মিলানের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ৮১তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার দুই মিনিটের মাথায় বাঁ পায়ের নিচু শটে দারুণ এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন মালকম। ক্লাবের হয়ে এটাই তার প্রথম গোল। ৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে গত জুলাইয়ে কাম্প নউয়ে পা রাখা মালকম সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে এ পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে বার্সেলোনার শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েছেন। সান সিরোতে বদলি হিসেবে নামা ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার সব মিলিয়ে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে মাঠে নামেন। ম্যাচের পর মুন্দো দেপোর্তিভোতে বার্সেলোনার হয়ে দারুণ কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মালকম। “শৈশবে বার্সেলোনা আমার একটা স্বপ্ন ছিল।”  “চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক এবং গোল করা আমি আমার পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করব। বার্সায় আমার স্বপ্ন শুরু হচ্ছে, আমার স্বপ্ন ইতিহাস গড়া এবং দারুণ কিছু করা।” “আমাকে আত্মবিশ্বাস জোগানোর জন্য দলকে আমার ধন্যবাদ দিতেই হবে। আমি আরও খেলতে চাই। প্রতিদিন আমি অনুশীলন করি যেন আমি দেখাতে পারি যে এই দলে থাকার যোগ্যতা আমার আছে।” ইন্টারের বিপক্ষে ড্রয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। চার ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্র“পে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টার মিলানের পয়েন্ট ৭। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে টটেনহ্যাম হটস্পার।

দুই শিল্পপার্ক, চামড়া শিল্পনগরী উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ মুন্সিগঞ্জের ওষুধ ও সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্ক এবং সাভারের চামড়া শিল্পনগরী উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “২০০৯ সাল থেকে একটানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে আজকে বাংলাদেশ আর্থসামাজিকভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পাচ্ছে। দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে ও মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, এটাই আমরা চাই।” সরকার সারাদেশে ১০০টি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “মানুষের কর্মসংস্থানের উপর আমরা নজর দিচ্ছি। বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বিনিয়োগ যাতে হয়, দেশি-বিদেশি সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।” সাভারে চামড়া শিল্পনগরী গড়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হাজারীবাগে ট্যানারিÑ এক সময় ঢাকা ছোট ছিল, সেটা গ্রামের দিকেই ছিল। আস্তে আস্তে ঢাকা শহর বাড়তে থাকে। ট্যানারি বর্জ্য নিয়ে রাজধানীর মানুষ খুব কষ্টের জীবন যাপন করত। এটাকে সরিয়ে আমরা সাভারে শিল্পনগরী গড়ে তুলছি।” প্রায় একশটি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ওষুধের কাঁচামাল তৈরির জন্য একটা ব্যবস্থা করা দরকার, কারণ আমাদেরকে কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট তৈরির ব্যবস্থা দরকার, ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল যাতে আমরা দেশের উৎপাদন করতে পারি। সেজন্য আমরা মুন্সিগঞ্জে শিল্পনগরী করে দিচ্ছি।” প্রতিটি জেলায় বিসিক শিল্পনগরী করার আইন বঙ্গবন্ধু করে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নব্বই ভাগের মতো দেশের চাহিদা সেখান থেকে মেটে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, উৎপাদনে দেশের চাহিদা মিটবে, বিদেশে রপ্তানি হবে, কর্মসংস্থান হবে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।” পরিবেশ দূষণ যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের যেন কোনোভাবে দূষণ না হয়, সেজন্য বর্জ্য দূষণ থেকে রক্ষার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। সকলে এটা অনুসরণ করবেন।” ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অর্থায়নে প্রিজম প্রকল্প  থেকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) শিল্পপার্ক ও শিল্পনগরী নির্মাণে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়। প্রিজম প্রকল্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্ক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। শিল্পায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিতকরণের লক্ষ্যে বিসিকের আওতায় এটিই সবচেয়ে বড় শিল্পপার্ক।

৪০০ একর জায়গার উপর ৬২৮ কোটি ১০ লাখ টাকায় নির্মিত এ শিল্পপার্কে ৮২০টি শিল্প প্লট দেশি-বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে, যাতে থাকবে ৫৭০টি রপ্তানিমুখী আমদানি বিকল্প এবং দেশজ শিল্প ইউনিট।

এর মাধ্যমে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থান হবে বলে প্রিজমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। অন্যদিকে ২০০ একর জমিতে দেশের প্রথম ওষুধ শিল্পপার্ক অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্পপার্ক গড়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায়। এ শিল্পপার্কে ২৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং এখান থেকে দেশের ওষুধের চাহিদা শতভাগ পূরণের পর রপ্তানিও করা হবে। এ প্রকল্পের সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮১ কোটি টাকা। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে ২০০৮ সালে সরকার এই শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে হরিণধরায় সরিয়ে নিতে ২০০৩ সালে শুরু হয় চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পটি। কিন্তু সে প্রকল্পের কাজ ১৫ বছরেও শেষ করা সম্ভব না হওয়া এবং ট্যানারিগুলো সরিয়ে নিতে মালিকদের অনাগ্রহের ফলে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। তিন দফা প্রকল্প সংশোধনের পর ২০১৯ সালে হাজারীবাগের ট্যানারি সরানোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পরে হাজারীবাগে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ করে দিয়ে ট্যানারি মালিকদের সাভারমুখী করে সরকার। ট্যানারি সরানোর কাজটি বড় রকমের চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত শিল্প সচিব আবদুল হালিম ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তিনটি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্যসচিব নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর ভিডিও কনফারেন্সের সময় তিনটি জেলায় বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কালুখালীতে কমরেড নাজিমুদ্দিনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ফজলুল হক ॥ গতকাল মঙ্গলবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে পাংশা উপজেলার ওয়ার্কাস পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি কমরেড মরহুম নাজিমুদ্দিন শেখের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে রতনদিয়া বাজারে বিকেলে এক স্মরন সভায় উপজেলা ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম জোয়াদ্দার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজা , বিশেষ অতিথি হিসেবে পাংশা-কালুখালী উপজেলার ওয়ার্কাস পার্টির সম্পাদক মোঃ শাহাদত হোসেন অন্যান্যের মধ্যে জেলা যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ, উপজলো যুব মৈত্রীর সভাপতি নিমাই কুমার রাজবংশী ও ইউনিয়ন ওয়ার্কাস পার্টির সদস্য শুকুর আলী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা মরহুম নাজিমুদ্দিনের গুণের কথা তুলে ধরে বলেন তিনি ১৯৭০ সালে পুলিশের হাবিলদার চাকরী ত্যাগ করে দেশ স্বাধীনের জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। দেশ স্বাধীনের পর সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা চিন্তা করে এবং কৃষকের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে তিনি বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সাথে সক্রীয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আলোচনা শেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মোঃ নজরুল ইসলাম জোয়াদ্দার।

ইরান তেল বেচবে, নিষেধাজ্ঞা ভাঙবে – রুহানি

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্বহাল করা নিষেধাজ্ঞা ইরান ভাঙবে আর তেল বিক্রিও চালিয়ে যাবে বলে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। সোমবার রাষ্ট্রীয় টিভিতে অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যবসা করবে কিংবা তেল কিনবে তাদের জন্যও বাধা হয়ে দাঁড়াবে এ নিষেধাজ্ঞা।

কিন্তু ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, তার দেশ তেল বিক্রি করে যাবে। তিনি বলেন, “আমেরিকা ইরানের তেল বিক্রি শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চায়…কিন্তু আমরা তেল বিক্রি করে যাব।” “আমরা গর্বের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা ভাঙব,” বলেন রুহানি। তিনি বলেন, “আজ শক্রদেশটি (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের অর্থনীতিকে টার্গেট করেছে… নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য আমাদের জনগণ।” ইউরোপের যে দেশগুলো এখনো ইরানের সঙ্গে করা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি টিকিয়ে রাখার পক্ষপাতি তারা নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে ইরানের ব্যবসায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে তাদের সে চেষ্টা কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ঘনিষ্ঠ দেশসহ ৮ টি দেশকে ইরানের তেল কেনার সুযোগ দিতে রাজি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করা দেশ চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং তুরস্ক।

পূর্ব বিরোধের কারণে হাতুড়ি পেটা !

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পূর্বশত্র“তার কারণে আনোয়ার (৪৮) নামের একজনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। নন্দলালপুর ইউনিয়নের চকরঘুয়া গ্রামে পূর্ব বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। আহত আনোয়ারকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আনোয়ারের ছেলে রুবেল বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

কুমারখালীতে বিদ্যতেস্পৃষ্ঠ হয়ে দেড় বছরের শিশু’র মৃত্যু

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ওয়াসিম  নামের দেড় বছরের এক শিশু’র করুন মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে পৌর এলাকার তেবাড়ীয়া গ্রামে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। জানাগেছে, তেবাড়ীয়া গ্রামের রাসেলের দেড় বছর বয়সের শিশু ছেলে ওয়াসিম পরিবারের সদস্যদের অজান্তে খেলার ছ¦লে সচল বিদ্যুৎ ছকেটের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেয়। তাৎক্ষনিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে শিশু ওয়াসিমের মৃত্যু হয়। শিশু ওয়াসিমের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কুষ্টিয়া জেলা যুব প্রেসক্লাবের সভা অনুষ্ঠিত

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা যুব প্রেসক্লাবের মাসিক সভা ফুড জোন পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাপতি হাসিবুর রহমান রিজু’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক অর্পণ মাহমুদ, যুগ্ন সম্পাদক নবীন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন কুমার কর্মকার, দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ আল হাফিজ অভি। আরো বক্তব্য রাখেন, হাসানুর খান তাপস, এম সোহাগ হাসান, আবু ওবায়দা আল মাহাদী, এস, কে চঞ্চল, আল আমিন খান রাব্বি, আবুল কালাম আজাদ সানি, ইমরানুল ইসলাম রাহাত প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ইরানের ওপর সব নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনলো যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা অফিস ॥ ছয় জাতি ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর আরোপিত যে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সবগুলোই আবার পুনর্বহাল করেছে মার্কিন প্রশাসন। গতকাল সোমবার হতে কার্যকর হতে যাওয়া এসব নিষেধাজ্ঞা যে কোনো সময়ের চেয়ে ‘সবচেয়ে কঠোর’ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, খবর বিবিসির। এসব নিষেধাজ্ঞায় ইরান ও দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যরত দেশগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে। এতে ইরানের তেল রপ্তানি, শিপিং ও ব্যাংক ব্যবস্থাসহ অর্থনীতির সবগুলো প্রধান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। এদিকে রোববার হাজার হাজার ইরানি বিভিন্ন শহরে মার্কিনবিরোধী সমাবেশ করেছে। সমাবেশে তারা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ বলে শ্লোগান দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তুলে ধরতে সোমবার ও মঙ্গলবার বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক প্রচারণা সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসনের নেওয়া কৌশলের কারণে ইরান ইতোমধ্যেই চাপে পড়ে গেছে। “ইরানের নিষেধাজ্ঞাগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। আমাদের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে এগুলোই সবচেয়ে শক্তিশালী। ইরানের কী হয় তা আমরা দেখতে পাব, তবে তারা খুব ভাল কিছু করছে না এটি আমি বলতে পারি,” বলেছেন তিনি। ইরানের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষের লাগাম টেনে ধরার জন্য ২০১৫ সালে করা এক চুক্তি থেকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন ট্রাম্প। এরপর দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করছে ওয়াশিংটন। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা তেহরানের ‘ক্ষতিকর’ তৎপরতাগুলো বন্ধ করতে চায়; এসবের মধ্যে সাইবার হামলা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ও মিলিশিয়াদের সমর্থন দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় আছে বলে জানিয়েছে। রোববার ফক্স নিউজকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, “ইরানি জনগণকে আমরা সমর্থন করছি এটি নিশ্চিত করতে যতেœর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের ক্ষতিকর আচরণের পরিবর্তন নিশ্চিত করতেই আমাদের তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে।” “এটাই লক্ষ্য, এটাই উদ্দেশ্য। প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এটিই আমরা অর্জন করব,” বলেছেন তিনি।