কোহলিদের অস্ট্রেলিয়া সফরের সম্ভাবনা শতভাগের কাছাকাছি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ভারতীয় ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়া সফরের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে আরও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস বলছেন, শতভাগ নিশ্চিত না হলেও এই সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা এখন শতভাগের কাছাকাছিই। এমনকি ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগে সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরেও যেতে পারে অস্ট্রেলিয়া। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ায় এই সিরিজ খেলার কথা ভারতের। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সিরিজ নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। শঙ্কা আছে এখনও, তবে সময়ের সঙ্গে তা কমে আসছে। এই সিরিজ না হলে ৩০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় থেকে বঞ্চিত হবে অস্ট্রেলিয়া, সিরিজটি আয়োজনে তারা তাই মরিয়া। ভারতীয় দলকে আগেভাগেই সফরে নিয়ে নির্দিষ্ট সময় কোয়ারেন্টিনে রেখে, পুরো সিরিজ একটি বা দুটি শহরে দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজন করার পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। ভারতীয় বোর্ড কিছুদিন আগে বলেছে, কোয়ারেন্টিনে থাকতে তাদের আপত্তি নেই। অস্ট্রেলিয়ার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত। সিরিজের কোনো একটা পর্যায়ে মাঠে দর্শক ঢোকার অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও মিলল কেভিন রবার্টসের কথায়। “ এখনকার বিশ্বে নিশ্চিত বলে কোনো কিছু নেই। তাই ১০-এ ১০ আমি বলতে পারছি না। এটুকু বলতে পারছি, ভারতের সফরে আসার সম্ভাবনা ১০-এ ৯। দর্শক থাকবে কিনা, সেটি অবশ্য এখনও দোলাচলে আছে। তবে ভারতের সফর না হলে আমি বিস্মিত হব। শুরু থেকে দর্শকদের পুরোপুরি রাখতে পারব কিনা, সেটি নিশ্চিত বলতে পারছি না। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগেই অস্ট্রেলিয়া দলকে দেখা যেতে পারে মাঠে। জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরে তাদের ওয়ানডে সিরিজটি স্থগিত হয়েছে আগেই। সেটি এখন হতে পারে সেপ্টেম্বরে। তার আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড। তাই অস্ট্রেলিয়া খেলতে যেতে পারে সেখানে, বলছেন রবার্টস। “ খানিকটা সম্ভাবনা আছে, আমরা দল পাঠাতে পারি। অবশ্যই ক্রিকেটারদের কোনোরকম ঝুঁকিতে ফেলব না আমরা। তবে আমাদের সফরের আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের সফর আছে সেখানে, তখনই বড় পরীক্ষা হবে। আশা করি, এই সিরিজগুলি ঝামেলা ছাড়াই শেষ হবে।” টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অবশ্য পিছিয়ে যাওয়া এখন অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। এই মাসের শেষ দিকে আইসিসির সভায় সেটি নিয়ে আরও আলোচনা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টুর্নামেন্ট এক বছর পিছিয়ে যেতে পারে। নভেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট হওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়ার। অগাস্টে হওয়ার কথা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ। এসবের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

এবার তামিম দিলেন উইলিয়ামসন চমক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥  প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নেশা পেয়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। নিজের ফেসবুক পেজে লাইভ আড্ডার যে আয়োজন শুরু করেছেন তিনি, সেখানে প্রতিনিয়ত চমক দিয়েই যাচ্ছেন তামিম। সে ধারাবাহিকতায় এবার তিনি দিলেন কেন উইলিয়ামসন নামের এক চমক। সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে নিজের আয়োজনে অতিথি হিসেবে পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশসেরা এ ব্যাটসম্যান। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ২১ মে লাইভ সেশনের একাদশ পর্বে উইলিয়ামসনকে আনছেন তামিম। প্রথম ১০ পর্ব রাতের বেলা করলেও, সময়জনিত পার্থক্যের কারণে এবারের আয়োজনটি হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায়। পঞ্চম বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তামিমের আড্ডায় আসবেন উইলিয়ামসন। এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিস, ভারতের রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি এবং পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরামকে দেখা গেছে তামিমের এই লাইভ আড্ডায়। উল্লেখ্য, সর্বপ্রথম মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে ২ মে এ লাইভ করেছিলেন তামিম। পরদিন ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এ দুটি পর্বই হয়েছিল ইন্সটাগ্রামে। পরবর্তীতে দর্শক অনুরোধের মুখে নিজের লাইভ সেশনটি ফেসবুকে নিয়ে আসেন তামিম। গত ৪ মে ফেসবুক লাইভের প্রথম দিন উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। যা পেয়েছিল বিপুল দর্শকপ্রিয়তা। প্রায় এক লাখ মানুষ একসঙ্গে সেদিন উপভোগ করেছেন মাশরাফি-তামিমের খুনসুঁটি।

তামিমকে ওয়াসিম- বাংলাদেশের ক্রিকেট খুব দ্রুত এগিয়েছে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ তামিম ইকবালের সঙ্গে লাইভ চ্যাট। সেখানে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ আসবে না, তা তো কোনোভাবেই হতে পারে না। সেখানেই পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরাম জানিয়ে দিয়েছেন, ‘গত ১০-১২ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দ্রুত এগিয়েছে।’ বাংলাদেশের ক্রিকেটে বেশ কিছু বিশ্বমানের পারফরমারের আগমণ ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেছেন ওয়াসিম। তামিম ইকবালের ফেসবুক লাইভ চ্যাটে বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়েও প্রশংসা করেন ওয়াসিম। করোনা মহামারির কারণে নেই কোনো ক্রিকেট। ক্রিকেটাররা রয়েছেন ঘরবন্দী। মাঠে যাওয়া তো দুরে থাক, অনুশীলনও করতে পারছেন না তারা। এরই মধ্যে ক্রিকেট সমর্থকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ব্যস্ত করে তুলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের সাবেক তিন ক্রিকেটার আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এবং খালেদ মাসুদ পাইলটের সঙ্গে তামিমের ফেসবুক লাইভে। সেখানেই ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে আসাকে খুব মিস করি। বাংলাদেশ সব সময়ই রয়েছে আমার হৃদয়ের গহীনে। সেখানকার মানুষ, খাবার-দাবার এবং অবশ্যই ক্রিকেট আমাকে খুব বেশি টানে।’ বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির কথা বলতে গিয়ে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘গত ১০-১২ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছে, তা দেখে সত্যি আমার খুব ভালো লাগছে। দেশটিতে এখন রয়েছেন বিশ্বমানের ক্রিকেটার। যেমন আপনি নিজে (তামিম), সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মোস্তাফিজুর রহমান- এসব ক্রিকেটারদের সবাইকে দেখলে সত্যিই খুব ভালো লাগে।’ তামিম ইকবাল এ সময় ওয়াসিম আকরামকে মজা করে বলেন, আমাদের সৌভাগ্য যে আমাদেরকে আপনার মত একজন বোলারের মোকাবেলা করতে হয়নি। জবাবে ওয়াসিম আকরামও জানিয়ে দেন, বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াডের বিপক্ষে খেলতে পারলে দারুণ অনুভূতি হতো তার।

 

বাংলাদেশ নিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রস্তুতি – যা বললেন বিসিবি প্রধান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ধরনের ক্রিকেট বন্ধ প্রায় সবগুলো ক্রিকেট খেলুড়ে দেশেই। যদিও আইসিসির টেস্ট প্লেইং দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাস মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। যে কারণে, আগামী জুলাইয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ আয়োজন করতে চায় বলে সম্প্রতি নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলে ডি সিলভা। সিরিজ আয়োজনের সব প্রস্তুতি তারা গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড চাইলেই কি আর সব হবে? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তো (বিসিবি) চাইতে হবে। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন আজ এক অনুষ্ঠানে এই মনোবাভাবই ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা চাইলেই যে সিরিজটা অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে, তার কোনো কারণ নেই। করোনার কারণে অসহায় এবং দুঃস্থ ক্রীড়াবিদদের মাঝে সহযোগিতার চেক তুলে দেয়ার জন্য বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। সেখানেই তিনি, কবে আবার মাঠের খেলা শুরু হবে তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তার কথা জানান। বিসিবি সভাপতি নাজমুল বলেন, ‘দেখুন, তারা (শ্রীলঙ্কা) আয়োজন করতে চাইলেই তো হলো না। আমরা পাঠাতে (দল) পারব কি-না, তাও তো দেখতে হবে। আমাদের  খেলোয়াড়দের পাঠানো ঠিক হবে কি না এই মুহূর্তে, কোথায় থাকবে, কী কবে- এগুলো সহজ সিদ্ধান্ত নয়।’ আপাতত কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নজর দিবে বিসিবি। পাপন বলেন, ‘আমরা অন্যদের পর্যবেক্ষণ করব। আইসিসি কী করে, এসিসি কী করে। অন্য দেশগুলো কী করছে। এখন পর্যন্ত কেউ নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে বলতে পারেনি খেলা কবে হবে। আমরাই এক্ষেত্রে প্রথম হব, এটা ভাবা ঠিক নয়।’ কোভিড-১৯ ভাইরাসে এ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় আক্রান্ত হয়েছে ১০০৯ জন। মৃত্যু কেবল ৯ জনের। এখন হয়তো সেখানকার পরিস্থিতি ভালো। কিন্তু একমাস পর কি হবে তা বলা মুস্কিল। বিসিবি প্রধান বলেন, ‘একটা জায়গা এখন ভালো আছে, একমাস পরে দেখা গেল, আবার হচ্ছে (করোনাভাইরাস) ওখানে। এটা তো বলা যাচ্ছে না শেষ হবে কোথায় বা কখন কী পরিস্থিতি (তৈরি হবে)।’ আইসিসির এফটিপি অনুসারে, আগামী জুলাইয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে তিন টেস্টের সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

বিষমুক্ত সবজি চাষে এগিয়ে আসছেন কৃষকরা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশে কৃষিপণ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের বিষয়টি প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য নিঃসন্দেহে ভীতিপ্রদ। কেননা, কীটনাশক ও রাসায়নিকের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে প্রায় সবাই কম-বেশি অবগত। বিশেষজ্ঞরাও বার বার এসবের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। রাসায়নিক ও কীটনাশক যে জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, চাষিরাও যে তা জানেন না তেমনটিও নয়। অথচ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে কৃষকরা এসব প্রয়োগ করে থাকেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিষমুক্ত সবজি চাষেও কৃষকরা এগিয়ে আসছেন। যা অবশ্যই ইতিবাচক। অনস্বীকার্য যে, নিরন্তর জনসংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই তুলনায় কৃষি জমি ও চাষাবাদ বাড়ানো সম্ভব নয়। এটা শুধু আমাদের নয়, গোটা বিশ্বেরই সমস্যা। ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে উচ্চফলনশীল ফসলের চাষাবাদের ওপর জোর দেয়া হয়েছে কয়েক দশক আগে থেকেই। এই চাষাবাদের প্রয়োজনেই দেখা দিয়েছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের। যদিও এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর দিক কয়েক দশক ধরেই আলোচিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে জমির গুণগত মান বুঝে কী পরিমাণ কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের প্রয়োগ দরকার বেশির ভাগ কৃষকই তা যথাযথভাবে জানেন না। যে কারণে এসবের ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত। বেসরকারি বিভিন্ন জরিপেরও চাষাবাদে ক্ষতিকর এসব উপাদান ব্যবহারের সূচক ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি সঙ্গত কারণে উদ্বেগের জন্ম দেয়। এর মধ্যে কীটনাশকবিহীন সবজি চাষের খবর আমাদের আশান্বিত করে। যশোর জেলার বড় একটা অংশে ‘ফেরোমন ট্রাপ’ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে প্রথম বিষমুক্ত সবজি চাষ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন এ পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন কৃষকরা। এ প্রক্রিয়ায় চাষাবাদ বাংলাদেশের কৃষিবিদদের যেমন এক অনন্য সাফল্য, তেমনি দেশের জনসাধারণের জন্যও যে হিতকর, তা নতুন করে বলার কিছুই নেই। আমরা লক্ষ্য করেছি, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে শুরু করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন প্রক্রিয়া মাগুরা, ঝিনেদা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঢাকার ধামরাইসহ বিভিন্ন জেলায় সম্প্রসারিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার জিলেরডাঙ্গা গ্রামের ৫০০ কৃষক ৬ বছর ধরে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করে চলেছেন। শুধু বিষমুক্ত সবজিই নয়, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জমির আলের ওপর সবচি চাষ করেও সফলতা পেয়েছেন এ গ্রামের চাষিরা। বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আমরা এ গ্রামের চাষিদের অভিনন্দন জানাই। চাষিরা সবজি উৎপাদনে পোকা-মাকড় দমনের জন্য কীটনাশকের পরিবর্তে যে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করেন তা কৃষকদের কাছে ‘জাদুর ফাঁদ’ নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে সবজি চাষে খরচও কমে আসে তিন ভাগের এক ভাগ। ফলনও হয় বেশি। সবজির চেহারাও হয় সতেজ। কেঁচো ও গোবর দিয়ে তৈরি ভার্মি কম্পোস্টও রাসায়নিক সারমুক্ত চাষাবাদের জন্য জনপ্রিয় পদ্ধতি। আর পোকা দমনের জন্য ভেষজ উপকরণ যেমন, নিমপাতা, বিষকাঁটালি, পিতরাজ, থানকুনি, ধুতুরা, ভেরেন্ডার নির্যাসও ব্যবহার করা হয়। আমরা মনে করি স্বাস্থ্যবান্ধব এই চাষাবাদে বিপ্লব ঘটানো এখন সময়ের দাবি। সর্বোপরি বলতে চাই, এ প্রক্রিয়ায় কৃষিবিদদের সাফল্য এবং চাষিদের আগ্রহ- কোনোটারই ঘাটতি নেই, সারাদেশে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট। সুতরাং সরকার তথা সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার আরো সহজলভ্য করে চাষিদের মধ্যে এ প্রযুক্তি উপস্থাপন। পাশাপাশি রাসায়নিক ও কীটনাশকের সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর দিক সম্পর্কেও জনগণকে সচেতন করা জরুরি। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিষমুক্ত সবজি চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফসলও কিভাবে ‘বিষমুক্ত’ভাবে উৎপাদন করা যায় তার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলেই আমরা আশাবাদী।

নিলামে বিক্রি হওয়া সাকিব-মুশফিকদের ব্যাট ফেরত আনবে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনায় অসহায়দের সেবায় নিজেদের পছন্দের জিনিস বিকিয়ে দিতে দ্বিধা করছেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম কিংবা হালের আকবর আলীও নিলাম করেছেন তাদের ব্যাট-গ্লাভসসহ ক্রিকেট সরঞ্জামাদি। মাশরাফি তো বিক্রি করে দিয়েছেন তার প্রিয়  ব্রেসলেটও। সৌম্য সরকারের ব্যাট বিক্রি হয়েছে, তাসকিন আহমেদ দিয়ে দিয়েছেন তার হ্যাটট্রিক করা বল। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাঈম শেখরাও ব্যাট নিলামে তুলেছেন। ক্রিকেটারদের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। মাশরাফির ব্রেসলেট অবশ্য ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হলেও সেটি তাকে ফেরত দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিডার প্রতিষ্ঠান বিএলএফসিএ। কিন্তু সাকিব আল হাসানের বিশ্বকাপ কাঁপানো ব্যাট কিংবা মুশফিকুর রহীমের দেশের ইতিহাসে গড়া প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাটটি? সেগুলো কি আর কখনও দেখা হবে না পরের প্রজন্মের? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তেমনটা চাইছে না। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আজ (বুধবার) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্রীড়াবিদদের আর্থিক অনুদানের রেচক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই তিনি জানান, ক্রিকেটারদের স্মারকগুলো ফেরত আনতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন তারা। পাপন বলেন, ‘আমি উদ্যোগ নিব তো অবশ্যই। সবসময়ই ইচ্ছে ছিল। এখন এখানে তো আমরা নিলামে অংশ নিতে পারি না। পরে আমরা চেষ্টা করব কীভাবে রাখা যায়। যদি সুযোগ থাকে, সেগুলোকে আমরা ফেরত আনার চেষ্টা করব।’

করোনায় কুষ্টিয়ার ফুল ব্যাবসায়ী ও কারিগড়দের মানবেতর জীবন যাপন

নিজ সংবাদ ॥ যেকোন উৎসব, অনুষ্ঠান মানেই ফুলের প্রয়োজন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সকল ধরনের উৎসব ও অনুষ্ঠান বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় বিক্রি করতে না পেরে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে কুষ্টিয়ার ফুল ব্যবসায়ী ও কারিগররা। সারা বছরে কয়েকটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে এসব ব্যবসায়ীরা ফুল বিক্রি করে থাকে। সেই সমস্ত অনুষ্ঠান না হওয়ায় বিক্রিও ছিল না। কুষ্টিয়ায় ফুলের খুচরা ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় অর্ধশত মানুষ এবং এবং তাদের পরিবার জড়িত রয়েছে। এ অবস্থায় তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। কুষ্টিয়ার বক চত্বরের ফুল ব্যবসায়ী ও নীলা ফুল ঘরের মালিক সুজন ইসলাম জানান, করোনার প্রভাবটা আমাদের উপর একটু বেশিই পরেছে। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় ফুল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। প্রতিটি ফুলের দোকানে ৪-৫ জন করে ফুলের কারিগর রয়েছে, সবাই অনেক লোকসানের মধ্যে রয়েছে। একই স্থানের অন্য ফুল ব্যাবসায়ী ফুল সেন্টারের মালিক মোঃ সোনা জানান, দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফুল ব্যবসায়ী ও কারিগরদের দুর্দিন চলছে, সামনের দিনগুলোতে কী হবে, সেই অনিশ্চয়তা নিয়ে এখন দিন কাটছে আমাদের।

দুর্গন্ধে জনদুর্ভোগ চরমে

গাংনীতে জনবসতি এলাকায় ব্রয়লার মুরগী পালন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে জনবসতি এলাকায় ব্রয়লার মুরগীর ফার্ম স্থাপন করে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে মুরগীর ফার্ম স্থানান্তর করার দাবি জানিয়ে এলাকাবাসি গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেও তার সুফল পায়নি। মুরগী ফার্ম মালিক ভবানীপুর গ্রামের মৃত পালান মন্ডলের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে আনারুল উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে মুরগীর ফার্ম আরো বড় পরিসরে স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। জানা যায় আনোয়ার হোসেন ওরফে আনারুল ঘন বসতিপূর্ণ লোকালয়ে এলাকার নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় মুরগীর ফার্ম স্থাপন করেছেন। ফলে ২০টি পরিবার ফার্মের দূর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়ানুর রহমান কয়েক মাস আগে ফার্মে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি ফার্ম মালিক আনোয়ার ওরফে আনারুল ইসলামকে ফার্ম অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। তারপরও প্রশাসনের পরামর্শকে তোয়াক্কা না করে ফার্ম সরানোর বিষয়ে কর্ণপাত করেননি। গত ২ মে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়ানুর রহমান পুলিশের একটিদল নিয়ে আনারুল ইসলামের ফার্মে আবারও অভিযান পরিচালনা করেন। জনবসতি এলাকায় ফার্ম স্থাপন করে পরিবেশ দূর্ষণের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আনারুল ইসলামকে  জরিমানা করা হয়। এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ফার্ম পরিবেশ বান্ধব গড়ে তোলা অথবা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মুরগী ফার্ম আরো বড় আকারে তৈরী করছে। মহল্লাবাসী জানান আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্গন্ধের মধ্যে বসবাস করছি। জনস্বাস্থ্য  হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা সারাদিন শেষে পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্গন্ধে একমুঠো খেতে পারিনা। আমাদের ছেলে মেয়েরা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের অভিযোগ যদি স্থানীয়ভাবে সমাধান না হয় তাহলে আমরা গ্রামের মানুষ মানববন্ধন করে উর্দ্ধতন মহলকে জানাতে বাধ্য হবো। আনারুল ইসলামের খুঁটির জোর কোথায় আমরা দেখতে চাই। এদিকে আনোয়ার ইসলাম বলেন, আমি ইতোমধ্যে প্রায় ৫ লাখ টাকা ইনভেষ্ট করেছি। এছাড়া আমি প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স করে ব্যবসা করছি। আমাকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হলে আমি ফার্ম সরিয়ে নিতে চেষ্টা করবো। এটা নিয়ে যদি আইন করতে হয় আমি তাও করবো।

 

১৪৭ জন সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত ১৪৭ জন সংবাদকর্মী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে একজন সাংবাদিক মারা গেছেন। দুজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ৩১ জন। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দৈনিক বণিক বার্তার একজন কর্মী করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর তার সংস্পর্শে আশা সব সহকর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলে সেখানকার এক সিনিয়র সাংবাদিক জানিয়েছেন। দৈনিক সময়ের আলোর নগর সম্পাদক হুমায়ন কবীর খোকন করোনায় মারা যান। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই সাংবাদিক হলেন- দৈনিক ভোরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসলাম রহমান এবং দৈনিক সময়ের আলোর সিনিয়র সাব-এডিটর মাহমুদুল হাকিম অপু। করোনা আক্রান্ত অন্য সাংবাদিকরা হলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ঢাকার ৪ জন সংবাদকর্মী, ১ জন ভিডিও এডিটর, ১ জন ক্যামেরাপারসন, চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসের ১ জন রিপোর্টার এবং ১ জন ক্যামেরাপার্সনসহ মোট আক্রান্ত ৮জন। সুস্থ হয়েছেন একজন। যমুনা টিভির ২ জন রিপোর্টার (সুস্থ), এবং নরসিংদী প্রতিনিধি (সুস্থ)। দীপ্ত টিভির ৭ সংবাদকর্মী (সুস্থ : ৬)। এটিএন নিউজের একজন রিপোর্টার (সুস্থ)। আমাদের নতুন সময়ের তিনজন সংবাদকর্মী (সুস্থ : ১)। একাত্তর টিভির সেন্ট্রাল ডেস্কের দুজন, একজন রিপোর্টার, একজন প্রেজেন্টার, একজন ক্যামেরাপার্সন, একজন প্রডিউসার এবং গাজীপুর প্রতিনিধিসহ মোট সাতজন। (সুস্থ : ১)। বাংলাদেশের খবরের একজন রিপোর্টার (সুস্থ)। দৈনিক সংগ্রামের একজন (সুস্থ)। মাছরাঙা টিভির সাধারণ সেকশন থেকে একজন কর্মকর্তা (সুস্থ)। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা পত্রিকার সম্পাদক (সুস্থ)।

১১. রেডিও টুডের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি (সুস্থ)। ভোরের কাগজের বামনা উপজেলা (বরগুনা) প্রতিনিধি (সুস্থ)। চ্যানেল আই এর অনুষ্ঠান বিভাগের একজন (সুস্থ)। দৈনিক প্রথম আলোর দুজন (সুস্থ :১)। দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের একজন কর্মী এবং কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি (সুস্থ)। নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমের জামালপুর প্রতিনিধি (সুস্থ)। দৈনিক আজকালের খবরের বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি (সুস্থ)। নিউজ পোর্টাল বিবার্তার একজন সংবাদকর্মী। দৈনিক ইনকিলাবের একজন সংবাদকর্মী (সুস্থ)। দৈনিক জনতার তিনজন সংবাদকর্মী (সুস্থ: ১) । দৈনিক কালের কণ্ঠের একজন ফটোগ্রাফার। এনটিভির ৩ জন রিপোর্টার, ২ জন নিউজ এডিটর, অনুষ্ঠান বিভাগের ১ জন কর্মকর্তা, ৬ জন ক্যামেরাম্যান, ২ জন নিউজ প্রেজেন্টার, ১ জন মেকাপম্যান, অনুষ্ঠান বিভাগের ৩জন এবং অনলাইনের ১ জন ফটোগ্রাফারসহ মোট আক্রান্ত ১৯ (সুস্থ: ১)। দৈনিক আমার বার্তার সম্পাদক। আরটিভির ৪ জন সংবাদকর্মী (সুস্থ: ১)। বাংলাভিশনের একজন রিপোর্টার। এসএ টিভির ঢাকয় ৩ জন সংবাদকর্মী এবং গাজীপুর প্রতিনিধিসহ মোট ৪ জন। দৈনিক সময়ের আলোর নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবির খোকন (মৃত), এবং দৈনিকটির ৪ জন সংবাদকর্মী ও জেনারেল সেকশনের ৩ জন কর্মী। সিনিয়র সাব এডিটর মাহমুদুল হাকিম অপু করোনা উপসর্গে মারা যান। যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজের একজন সাব-এডিটর (সুস্থ)। দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের একজন রিপোর্টার (সুস্থ)। নতুন সময় টিভির (আইপিটিভি) একজন নিউজ প্রেজেন্টার। দৈনিক দেশ রূপান্তরের ফিচার বিভাগের ১জন সংবাদকর্মী। রেডিও আমারের ১ জন সংবাদকর্মী। দৈনিক ইত্তেফাকের ৬ জন সংবাদকর্মী, সম্পাদনা বিভাগের ২ জন, কম্পিউটার সেকশনের ৮ জন এবং সাধারণ সেকশনের ২ জন কর্মচারিসহ মোট ১৮ জন (সুস্থ: ১)। দেশ টিভির একজন নিউজ প্রেজেন্টার। বিটিভির একজন কর্মকর্তা। ডিবিসি নিউজের একজন সংবাদকর্মী। দৈনিক মানবজমিনের একজন সংবাদকর্মী। এটিএন বাংলার একজন সংবাদকর্মী। সময় টিভির ৪ জন সংবাদকর্মীসহ ৬ জন। ডেইলি সানের দুজন সংবাদকর্মী। যায়যায়দিনের রিডিং সেকশেনের একজন। ঢাকা ট্রিবিউনের একজন সংবাদকর্মী ও জেনারেল সেকশনের একজনসহ মোট দুজন। বাংলা ট্রিবিউনের রিডিং সেকশনের একজন। একুশে টিভির দুজন সংবাদকর্মী। চ্যানেল ২৪ এর ঢাকার ৩ জন সংবাদকর্মী একজন লাইটম্যান এবং চট্টগ্রাম অফিসের একজন রিপোর্টার ও একজন ক্যামেরাম্যানসহ মোট ৬ জন। ডেইলি স্টারের একজন সংবাদকর্মী। বার্তা সংস্থা ইউএনবির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি। নিউজ পোর্টাল বার্তা২৪ এর একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (সুস্থ)। এশিয়ান টেলিভিশনের একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। চট্টগ্রামের নিউজ পোর্টাল সিভয়েস২৪ডটকমের একজন রিপোর্টার। নিউ ন্যাশনের একজন সংবাদকর্মী। রেডিও ধ্বনির একজন সংবাদকর্মী। নিউজ পোর্টাল ঢাকা টাইমসের মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি। বাংলাদেশ প্রতিদিনের একজন রিপোর্টার। আমাদের অর্থনীতির একজন সংবাদকর্মী। দৈনিক নয়া দিগন্তের একজন সংবাদকর্মী। জাগোনিউজের একজন সংবাদকর্মী। আমার কাগজের একজন সংবাদকর্মী।

আলমডাঙ্গায় বোরোধান সংগ্রহের উদ্বোধনকালে ছেলুন এমপি

প্রকৃত চাষিদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে হবে

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলায় সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দার  ছেলুন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা খাদ্যগুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়েছে। ধান সংগ্রহ পুর্ব সংক্ষিপ্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছেলুন এমপি বলেন- আপনারা প্রকৃত চাষিদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করবেন। আমি জানি আপনারা স্বচ্ছতার জন্য লটারির মাধ্যমে চাষি নির্বাচিত করেছেন, কিন্ত আমাদের সমাজে এক শ্রেনীর টাউট আছে, যারা চাষিদের নানাভাবে হয়রানির ভয় দেখিয়ে দু’পাচশত টাকা দিয়ে স্লিপ কিনে নিয়ে তারা ধান ঢোকাবে। সেদিকে আপনারা সজাগ থাকবেন, করোনায় চাষিরা বিপর্যস্ত, তারা যেন ধানের ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত না হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, পৌর  মেয়র হাসান কাদীর গনু, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবির, খাদ্য কর্মকর্তা মোফাখাইরুল ইসলাম, খাদ্য পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম, গুদাম রক্ষক মিয়াজান হোসেন, খাদ্যউপ-পরিদর্শক রেবেকা পারভীন, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আবু সাইদ পিন্টু, মিলচাতাল মালিক সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন, জয়নাল আবেদিন, হান্নান শাহ, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদক মতিয়ার রহমান ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান পিন্টু, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল হক তবা, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আসাবুল হক ঠান্ডু, হারদী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আসিকুর রহমান ওল্টু, মিল মালিক পিন্টু মিয়া, মুকুল মল্লিক, জয়নাল ক্যাপ, এসআই রফিক, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, সাংবাদিক আতিয়ার রহমান মুকুল, প্রশান্ত বিশ্বাস, শরিফুল ইসলাম, কৃষক মজিবুল ইসলাম প্রমুখ।পরে ফিতা কেটে বোরো সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন করেন।

সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কিছুই করেনি – মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যর্থ মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কিছুই করেনি। যা মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। অথচ সরকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বানিয়েছে, বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট বানিয়েছে। কিন্তু মানুষের যেটা মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার সেই স্বাস্থ্য খাতের জন্য কিছু করেনি সরকার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। তনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যেখানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে বর্তমান সরকার অবহেলা করছে। করোনা টেস্ট করানোর জন্য মানুষ মধ্যরাত থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু তারা টেস্ট করাতে পারছে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত সরকারকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সরকার সবকিছুতেই ষড়যন্ত্র খুঁজে। লকডাউন শিথিল করে মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। পুরানো ঢাকায় দেখবেন হাজার হাজার মানুষের ঢল। কিসের সামাজিক দূরত্ব। করোনা প্রতিরোধে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সামাজিক দূরত্বসহ অন্যান্য নির্দেশনা মেনেই তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছেন। শারীরিক খোঁজ-খবর নেয়াসহ কুশল বিনিময় ও বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, করোনাভাইরাসে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন বিশেষ করে চিকিৎস, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য, ব্যাংকার, পেশাজীবী, শ্রমজীবী মানুষ, তাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যারা এই করোনা মোকাবিলায় অগ্রসেনানী হিসেবে কাজ করছেন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবী কর্মী, বিভিন্ন আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যসহ, সাংবাদিক, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী, ব্যাংকার, শ্রমজীবী মানুষ (গার্মেন্টস কর্মী) অর্থনীতিকে বাচিয়ে রাখতে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তাদের। তিনি বলেন, প্রায় সোয়া দুই মাস আগে বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্তের পর সরকারের সমন্বয়হীনতা ও উদাসীনতায় এখন প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্তান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। মানুষের জীবন বাঁচাতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। যখন চীনে করোনা মহামারি শুরু হলো তখন সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তখন তারা অন্য একটি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। প্রথম থেকে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিলে তাহলে আজ লাশের সারি দীর্ঘ হতো না। জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা না থাকার কারণে সরকার এমন আচরণ করেছে। মানুষকে বাঁচাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যদি তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হতেন তাহলে তারা জনগণের জন্য ব্যবস্থা নিতেন। বএনপি মহাসচিব বলেন, একদিকে খাদ্যের জন্য হাহাকার চলছে। দেশের সব জেলায়ই ত্রাণের জন্য গরীব অসহায় মানুষ বিক্ষোভ করছে, সড়ক অবরোধ করছে। অন্যদিকে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না করোনা আক্রান্তরা। এমনকি অন্যান্য রোগে আক্রান্তরাও যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। বিনা চিকিৎসায় পথে, ঘাটে, বাসে, ফুটপাতে এখন লাশ পড়ে থাকার খবর বের হচ্ছে। এটা কী নিদারুণ অবস্থা। শাহবাগে লম্বা লাইন ধরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও করোনা টেস্ট করাতে না পেরে সড়কেই ছেলে – মেয়ের চোখের সামনে প্রাণ হারিয়েছেন বৃদ্ধ। করোনার টেস্ট করতে মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছে। সরকার ঘোষিত ৪২টি সেন্টারের বেশ কয়েকটি সেন্টার কার্যকর নয়। যেসব সেন্টারে টেস্ট হচ্ছে তাও অপর্যাপ্ত। মানুষ লাইন ধরে ফিরে যাচ্ছে টেস্ট না করে। গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনের সড়কে কি লম্বা লাইন। আগের রাতে লাইন ধরে অসুস্থ রোগীরা কিভাবে শুয়ে আছে, বসে আছে। তারপরও টেস্টের সিরিয়াল পাচ্ছে না। অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও একই অবস্থা। যে পরিমাণ টেস্ট হচ্ছে তাও আবার এখন পর্যন্ত দিনে ১০ হাজারে ওঠেনি। এরমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ শতাংশ উঠেছে। যদি বেশি টেস্ট হতো তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা আরো অনেক বেশি বেড়ে যেত। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলেছে টেস্ট টেস্ট টেস্ট। টেস্টের কোনো বিকল্প নেই। যত বেশি টেস্ট করা হবে তত বেশি সংক্রমিত জনগোষ্ঠীকে বাঁচানো সম্ভব হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও ঘুরেও ভর্তি হতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে বিনা চিকিৎসায়। এ যদি সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অবস্থা হয় তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী তাতো বুঝাই যায়। শুধু কিটের অভাবে করোনার টেস্ট করতে পারছেন না আক্রান্ত রোগীরা। অথচ ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেবের কিট অনুমোদন নিয়ে কত টালবাহানা চলছে। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনার সংক্রমণ এখন ঊর্ধ্বমুখী, সরকার করোনা মোকাবিলায় চারদিক থেকে ব্যর্থ। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে বলে সরকারের মন্ত্রীরা প্রতিদিন মুখে বুলি আওড়াচ্ছেন। অথচ স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির এক শতাংশও বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আবার যেটুকু বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তাও হরিলুট হয়েছে। যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে সরকারি টাকা লুট হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা অপ্রতুল। দেশের ৯০ ভাগ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থাও নেই। এমনকি হাসাপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়নি। নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিপদে ফেলে দিয়েছে সরকার। নিজেরা আতঙ্কিত হয়ে এখন তারা রোগীদের চিকিৎসা দিতেও ভয় পাচ্ছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে অদূরদর্শিতা, সমন্বয়হীনতা, উদাসীনতা ও একগুয়েমী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। করোনায় মৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে।

ভেড়ামারায় জনসমাগম এড়াতে ইউএনও সোহেল মারুফের সাঁড়াশি অভিযানে ৫৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড

আল-মাহাদী ॥ করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মানুষকে নিরাপদ রাখতে ও জনসমাগম এড়াতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী ভেড়ামারা শহরের বাজারগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। এসময় দোকানের শাটার তালাবদ্ধ অবস্থায় অনেক ক্রেতাকে দেখা যায়, যার বেশিরভাগই ছিলো মহিলারা। তৎক্ষনাত ভ্রাম্যমান আদালতে মহিলাদেরকে সংক্রামক  রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনে ৮ হাজার টাকা, একই আইনে ইয়াসিন সু ষ্টোরকে ৩০ হাজার টাকা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ৫৩ ধারার লঙ্ঘন জনিত আইনে বৃষ্টি সু ষ্টোরকে ৫ হাজার ও জালাল সু ষ্টোরকে ১০ হাজার সর্বমোট ৫৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান সহ ভেড়ামারা থানার পুলিশ ফোর্স ও ভেড়ামারা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় ইউএনও সোহেল মারুফ জানান, ওষুধের দোকান, শিশুখাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয়  দোকানপাট নির্ধারিত সময়ে চালু রাখাসহ অন্য সকল দোকানপাট বন্ধ রাখা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা মানুষকে সচেতন করছি।

 

এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে স্থায়ীভাবে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তহবিলে স্থায়ীভাবে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংস্থাটির প্রধান ডা. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে সে চিঠি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। গত ডিসেম্বর থেকে নতুন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকার তীব্র সামলোচনা করে চিঠিটি লিখেছেন ট্রাম্প। তিনি সংস্থাটিকে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ দেখাতে হবে সংস্থাটিকে। তা না হলে স্থায়ীভাবে অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেবে। এর আগে, দিনের প্রথম ভাগে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটির তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ‘চীনের হাতের পুতুল’ বলেও উল্লেখ করেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় লড়বেন ট্রাম্প। কিন্তু করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় দেশে তুমুল সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তিনি। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও বেকারত্ব বৃদ্ধি। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে মাহামারির জন্য চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে লাগাতার দোষারোপ করতে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮ লাখ। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে মারা গেছে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে, তখনই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্থায়ী তহবিল বন্ধের হুঁশিয়ারি এলো। মহামারি মোকাবিলায় সংস্থাটির পদক্ষেপ যথেষ্ঠ ছিলা কিনা সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়নের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ডা. আধানম। ‘যথাযথ সময়ে সে মূল্যায়ন হবে’ বলে জানিয়েছেন তিনি। জেনেভায় সোমবার থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো অনলাইনের মাধ্যমে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। সম্মেলনের শুরুর দিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার ভাষণ দিয়েছেন। কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যথাযথ পদক্ষেপের অভাবেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে’ এবং ‘বহু মানুষের’ মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্পের চিঠির বড় অংশজুড়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে চীনের ‘সম্পর্ক’ নিয়ে কড়া কথাবার্তা রয়েছে। চীনের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘স্বাধীনতা ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। উহান থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যেসব কথাবার্তা বলে আসছেন তাতেও সংস্থাটি কোনো পাত্তা দিচ্ছে না বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এসব বিষয় ৩০ দিনের মধ্যে সমাধান করতে সংস্থাটিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের তত্ত্ব অনুযায়ী, চীনের উহান শহরের ল্যাব থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। গত ১৪ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে সাময়িকভাবে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার অভিযোগ, করোনাভাইরাস মহামারি সম্পর্কে চীন যেসব ‘মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে তাতে সহযোগিতা করেছে’ জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি। মহামারি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। এসব বিষয়ে সংস্থাটির পদক্ষেপ পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়া সংস্থাটিকে ‘চীনঘেঁষা’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। গত শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর বদলে দেশটি আংশিক অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এতদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি প্রতি বছর ৪০ কোটি ডলার দিত সংস্থাটিকে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থায়নের পরিমাণ হতে পারে ৪০ কোটি ডলারের ১০ ভাগের এক ভাগ। এই খবর আসার এক সপ্তাহ না যেতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে স্থায়ীভাবে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

করোনা সংক্রমণ কাউকে করুণা করবে না – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ কাদা ছোড়াছুড়ি না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে সরকারের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা সংক্রমণ কাউকে করুণা করবে না। গতকাল মঙ্গলবার  রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মোকাবিলায় ঐক্যই হবে আমাদের মূলশক্তি। এ সময় করোনার এই সংকটে বিএনপিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সম্ভাব্য আঘাত এবং ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতোমধ্যে সয প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি উপকূলীয় জেলার জনসাধারণকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ জানান। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, করোনার এই সংকটকালে ঈদ সামনে রেখে মানুষ দলবদ্ধ হয়ে গ্রামমুখী হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপর্যয় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তেমনি আশপাশের মানুষদের জীবনও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। মন্ত্রী কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিক এবং করোনাজনিত এ সংকটে ফ্রন্ট লাইনের যুদ্ধে অংশ নেয়া সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ঈদের আগেই পরিশোধ করার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক স্বাস্থ্য সেবায় অতি উচ্চমূল্য চার্জ না নিয়ে জনস্বার্থে এবং চলমান পরিস্থিতি ও মানবিক বিবেচনায় চিকিৎসা, নমুনা পরীক্ষার খরচ সহনীয় পর্যায়ে রাখার অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সারাদিনে সড়কে প্রাণ ঝরেছে ৯ জনের

ঢাকা অফিস ॥ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের ৫ জেলা সিরাজগঞ্জ, মৌলভীবাজার, যশোর, ঝালকাঠি ও নাটোরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।  প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে এসব তথ্য জানা গেছে।সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সয়াবিন তেলবাহী ট্রাক খাদে পড়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের উপজেলার নলকার ফুলজোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। করোনা কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হতাহতরা তেলবাহী ট্রাকে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানা গেছে।হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার গোবিন্দবাটি এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯ জন। আহতদের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাইক্রোবাসে করে মৌলভীবাজারের বড়লেখা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তারা। মাইক্রোবাসটি রাজনগর এলাকায় গোবিন্দবাটি নামক স্থানে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও নয়জন আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক অধিকার ফোরামের উদ্যোগে মিডিয়া কর্মিদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান

সাংবাদিক অধিকার ফোরাম (বিজিআরএফ) কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলায় কর্মরত অস্বচ্ছল সাংবাদিক, সংবাদপত্র অফিসের কর্মচারী, ক্যামেরাপার্সনসহ মিডিয়া কর্মিদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আজ দুপুরে বিজিআরএফ কুষ্টিয়া জেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে এক অড়াম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ পুর্ব এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। বিজিআরএফ’র কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি নুর আলম দুলালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা, আইসিটি) মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় করোনা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সর্বপরি মিডিয়া কর্মিদের আন্তরিক সহযোগীতায় করোনা সংক্রান্ত যে কোন তথ্য জেলা প্রশাসন অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহন করে আসছে। তিনি বলেন, এই সংকটে মিডিয়া কর্মিরাই ফ্রন্টলাইনে ভুমিকা রেখে চলেছে। পরিশেষে তিনি বিজিআরএফ’র এমন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানান। আলোচনা সভা শেষে প্রায় অর্ধশত মিডিয়া কর্মিদের মাঝে চাল, ডাল,তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সদ্যপদোন্নতীপ্রাপ্ত বাগেরহাট সদরের ইউএনও, বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের এনডিসি মোছাব্বেরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, চ্যানেল নাইনের জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, দি ডেইলী সানের জেলা প্রতিনিধি রেজাউল করিম রেজা, আজকের আলোর স্টাফ রিপোর্টার আকরামুজ্জামান আরিফ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিটিভির জেলা প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম, বিজিআরএফ’র সদস্য ও দৈনিক খবর পত্রের জেলা প্রতিনিধি রেজা আহমেদ জয়,বিটিভির ক্যামেরাপার্সন খাইরুল ইসলাম স¤্রাট, দৈনিক মুক্ত মঞ্চের স্টাফ রিপোর্টার কোরবান জোয়াদ্দার, দৈনিক কুষ্টিয়ার কাগজ’র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল মোতালেব, স্টাফ রিপোর্টার রোকনুজ্জামান রাসেল, এস এ টিভির ক্যামেরাপার্সন হাবিবুর রহমান হাবিব, কুষ্টিয়ার কাগজ’র সাকুলেশন সহকারী রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও থেমে নেই ঈদযাত্রা

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সোমবারও সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সর্বোচ্চ আক্রান্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। দেশব্যাপী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রাজধানীতে প্রবেশ বা বের হওয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়োজিত পুলিশ কড়াকড়ির কথা বললেও চিত্র একেবারেই ভিন্ন। রাজধানী থেকে বের হওয়ার সবগুলো পথের মুখেই ঢল নেমেছে ঘরমুখো মানুষের। সরকারের দেয়া ১৪ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাজধানীর সবগুলো বের হওয়ার পয়েন্টে পুলিশকে সক্রিয় দেখা গেলেও মানুষের নানান যৌক্তিক-অযৌক্তিক কারণে অনেকটা অসহায় অবস্থায় পুলিশ সদস্যরা। গাড়ি চলাচল বন্ধে কঠোর পুলিশের চেকপোস্টগুলো। তারপরও ঘরে ফিরতে ব্যাকুল মানুষ হেঁটে পেরিয়ে যাচ্ছেন এসব চেকপোস্ট। চেকপোস্ট পেরিয়ে সামনে গিয়ে পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনে চেপে মানুষের ঢাকা ত্যাগ করার চিত্র চোখে পড়ার মতো। ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী, আমিনবাজার, উত্তরা হাউস বিল্ডিং, টঙ্গী, আশুলিয়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সাইনবোর্ড, বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় দেখা গেছে একই চিত্র। এই অবস্থায় অনেকটা অসহায়ই দেখা গেছে পুলিশকে। লাখো মানুষের ঢলে চেকপোস্টগুলো অচল হওয়ার দশা। গত ১৪ মে মন্ত্রিপরিষদ থেকে ১৫ দফা নির্দেশনা জারি করে সাধারণ ছুটি বর্ধিত করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, সাধারণ ছুটি ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞায় কেউই কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। এই সময়ে সড়কপথে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং মহাসড়কে মালবাহী/জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ছাড়া অন্যান্য যানবাহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিষেধাজ্ঞাকালে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় এবং এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। জেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, ঈদ উপলক্ষে ও সরকার ঘোষিত বর্ধিত ছুটি উদযাপনের জন্য অনেকেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এটি কোনোভাবেই হতে দেয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন, তা সবাইকে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ঢাকা শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওইদিন থেকেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সক্রিয় হয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা চলাকালে গত রোববার থেকেই ঢাকা থেকে ঘরে ফিরতে উদগ্রীব মানুষ, যা সোমবার থেকে আরও বেড়ে যায়। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় রাজধানী থেকে বের হওয়া পণ্যবাহী ফিরতি ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেটকার, এমনকি মোটরসাইকেল হাঁকিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা যায় মানুষকে।

মাশউক’র উদ্দোগে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান

গতকাল মঙ্গলবার মানব শক্তি উন্নয়ন কেন্দ্র (মাশউক) এর উদ্দোগে কুষ্টিয়া পৌরসভার মাহাতাব উদ্দিন সড়ক, কোর্টপাড়া (কালিশংকরপুর), কুষ্টিয়ার ৫ ও ৭নং ওয়ার্ডের মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহিন আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ৩৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসাবে খাদ্যসামগ্রী চাল, আটা, ডাল, লবন, পিয়াজ, তেল, সিমাই, চিনি এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবান বিতরন করা হয়। এছাড়াও গত ১৩ ও ২৪ এপ্রিল ঐ এলাকার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ৩৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসাবে চাল, আটা, ডাল, আলূ, লবন, পিয়াজ, তেল এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য সাবান প্রদান করা হয়। বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত  থেকে বিতরণ পরিচালনা করেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেখ মনোয়ার আহমদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) শাহ্ আবুল আওয়াল, মনিটরিং ম্যানেজার মোঃ মিজানুর রহমান কাজল, প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ তৌহিদুল করিম ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্টজন চৌধুরী ফিরোজ আলম (হিরোক চৌধুরী) ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রাণঘাতী করোনা যুদ্ধে যশোর সেনানিবাস

করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত বিশ্ব। বিশ্বের অর্থনীতিও রীতিমতো হয়ে পড়েছে কোণঠাসা। এই পরিস্থিতি থেকে লাল-সবুজের বাংলাদেশকে বাঁচাতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর অঞ্চলের সামাজিক দূরত্ব এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের পাশাপাশি কর্মহীন গরিব ও দুস্থদের বাঁচিয়ে রাখতে নিত্যপণ্য বিতরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন যশোর সেনানিবাসের সদস্যরা। হুড়োহুড়ি বা শোডাউন প্রবণতার বাইরে গিয়ে তারা গরিব ও দুস্থদের ত্রাণের প্যাকেট  পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। কখনও কখনও টহলের গাড়িতে থাকা ত্রাণসামগ্রী দারিদ্র্যে জর্জরিত মানুষজনকে সড়কেই  তুলে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া, যশোর সেনানিবাসের মেডিক্যাল টিম কর্তৃক ইতোমধ্যে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবা এবং বিনামুল্যে ঔষধ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের চাষীদের ক্ষেত হতে সবজি ক্রয় এবং বীজ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গাংনীতে বিএনপির উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে গাংনীতে  কর্মহীন ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মেহেরপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সহযোগিতায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে গাংনী উপজেলা বিএনপি । করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য লকডাউনে থাকা কর্মহীন ও অসহায় পরিবারকে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে গাংনী উপজেলার সাহারবাটী ও কাথুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কর্মহীন এবং অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, বিএনপি নেতা আক্তারুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক আক্তারুজ্জামান, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দাল হক, সাধারণ সম্পাদক কাউছার আলী,  গাংনী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা জাফর আকবর, হাসানুজ্জামান,   সাহেব আলী সেন্টু, সাবেক ছাত্রদল নেতা আক্তারুজ্জামান লাভলু, কামরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সাহিদুল ইসলাম, জামাল আহমেদ, সালাউদ্দীন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুল হোসেন, গাংনী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল মালেক চপল বিশ্বাস, যুগ্ম আহবায়ক নাসিম মোল্লা, যুবদল নেতা মুনশাদ আলী, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি যথাক্রমে-আকিব জাভেদ সেনজিরা, আফিরুল ইসলাম, সাজেদুর রহমান বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক বাপ্পি হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রাজিব খন্দকার, ছাত্রদল নেতা সাকিল আহমেদ, রেহান, শিশির, সাজ্জাদ প্রমুখ। খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যেই জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন বলেন করোনা ভাইরাসের এ সংকটকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারীভাবে যে সব ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তা সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে না। বিএনপি যেহেতু নির্যাতিত একটি দল। তাই নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের দুঃখ আমরা অনুভব করে বিএনপির এ ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

 

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবন করছেন ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এখন প্রতিদিনই ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবন করছেন। সোমবার রেস্তোরাঁ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প একথা জানান বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এবং অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নতুন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এর ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্ক করলেও ট্রাম্প সেসব উপেক্ষা করেই কোভিড-১৯ প্রতিরোধে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন উপকারী বলে দাবি করে আসছিলেন। রেস্তোরাঁ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নেওয়া শুরু করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক শন কনলিই তাকে এ ওষুধ সেবনে পরামর্শ দিয়েছেন কিনা, ট্রাম্প তা খোলাসা করেননি। “কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে আমি এটা নেয়া শুরু করেছি,” বলেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরে জানান, গত দেড় সপ্তাহ ধরেই তিনি প্রতিদিন হাউড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই ট্রাম্প কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় এই অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধটির ‘সম্ভাব্য কার্যকারিতা’ নিয়ে উচ্ছ্বাস জানিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নতুন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কার্যকর নয় জানানোর পাশাপাশি এটি ব্যবহারে হৃদরোগজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এর আগে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনেও ওষুধটি প্রাণঘাতী ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ের উপযুক্ত নয় বলে মত দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনের আগেই কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় হরেদরে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে এফডিএ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিাটউট অব হেলথ সাবধান করেছিল। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন এবং সম্মুখসারির যোদ্ধাদের কাছ থেকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের উপকারিতার কথা শোনার পরই তিনি এ ওষুধটি সেবন শুরু করেছেন। তাকে লেখা একাধিক চিঠিতে ওই সম্মুখসারির যোদ্ধারা নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে পূর্বসতর্কতার অংশ হিসেবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন, বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। “এগুলোই আমার প্রমাণ, আমি এটি সম্পর্কে ইতিবাচক অনেক কিছু শুনেছি,” বলেছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক তাকে এ ওষুধটি ব্যবহারে পরামর্শ দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কৌশলের আশ্রয় নেন। “আমি তার কাছে তার ভাবনা জানতে চেয়েছি, তিনি বলেছেন, আপনার মনে হলে আপনি সেবন করতে পারেন,” বলেন রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট। সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক নৌ কমান্ডার শন কনলির নামে প্রকাশিত এক নথি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়,  সপ্তাহ দুয়েক আগে ব্যক্তিগত পরিচারকের দেহে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নেওয়া শুরু করেন। কনলি সরাসরি এমন কিছু না বললেও তার দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট যে সময় থেকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নেওয়া শুরু করেছেন, তার সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পরিচারকের কোভিড-১৯ শনাক্তের সময় মিলে যায় বলে জানিয়েছে সিএনএন। “হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে তার (ট্রাম্প) সঙ্গে আমার কয়েকদফা আলোচনার পর আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, এর ঝুঁকির তুলনায় উপকারিতাই বেশি,” নথিটিতে কনলি এমনটাই লিখেছেন। একই নথিতে করোনাভাইরাস শনাক্তে ট্রাম্পের কয়েক দফা পরীক্ষা হয়েছে বলেও জানান হোয়াইট হাউসের এ চিকিৎসক। কোনো পরীক্ষাতেই ট্রাম্পের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি ধরা পড়েনি এবং তার কোনো উপসর্গও নেই, বলেছেন তনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন কাজ করে কিনা তা জানেন না বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। এরপরও বলেছেন, “যদি কাজ নাও করে, এটি ব্যবহারে আপনি অসুস্থ হবেন না, মারাও যাবেন না।” যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এর আগে কেবল হাসপাতাল ও ক্লিনিকেই নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন জাতীয় ওষুধের পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা যাবে জানিয়ে এর গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। অ্যান্টিম্যালেরিয়াল এ ওষুধগুলোর ভুল ব্যবহার মৃত্যু ডেকে আনতে পারে বলেও হুঁশিয়ার করেছিল তারা।