দৌলতপুরে আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তি পরীক্ষা-২০১৯ এর ফল প্রকাশ হয়েছে। সোমবার এ ফল প্রকাশিত হয়। ৫ম শ্রেণী থেকে ৯ম পর্যন্ত মেধাভিত্তিক ও কোটাভিত্তিক মোট ৭২জন শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তি পেয়েছে। এরমধ্যে ৫ম শ্রেণীতে মেধাভিত্তিক বৃত্তি পেয়েছে ৮জন এবং কোটাভিত্তিক বৃত্তি পেয়েছে ১১জন। ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে মেধাভিত্তিক বৃত্তি পেয়েছে ৮জন এবং কোটাভিত্তিক বৃত্তি পেয়েছে ৭জন। ৭ম শ্রেণীতে মেধাভিত্তিক বৃত্তি পেয়েছে ৬জন ও কোটাভিত্তিক বৃত্তি পেয়েছে ৯জন। ৮ম শ্রেণীতে মেধাভিত্তিক বৃত্তি পেয়েছে ৮জন ও কোটাভিত্তিক বৃত্তি পেয়েছে ১১জন এবং ৯ম শ্রেণীতে মেধাভিত্তিক বৃত্তি পেয়েছে ৪জন ও কোটাভিত্তিক বৃত্তি কেউ পায়নি। আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তি সনদ ও পুরস্কার বিতরণের তারিখ পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তি পরিচালনা পর্ষদের আহ্বায়ক ও দৌলতপুর কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরকার আমিরুল ইসলাম। একইসাথে তিনি আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে দৌলতপুর কলেজে আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুরের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট শিল্পপতি আরমা গ্র“পের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে দৌলতপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে আসছেন। তাঁর দেওয়া এ বৃত্তি পেয়ে দেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে সাফল্যের উচ্চ শিখরে অবস্থান করছেন।

৩১৬৩ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্য ৩৩

ঢাকা অফিস ॥ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হিসেবে আরও তিন হাজার ১৬৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল এক লাখ ৯০ হাজার ৫৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৩৩ জন। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুই হাজার ৪২৪ জনে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৯৮৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ৪৫৩টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নয় লাখ ৬৬ হাজার ৪০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হলো। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ১৬৩ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৯০ হাজার ৫৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৩৩ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৪২৪ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও চার হাজার ৯১০ জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ তিন হাজার ২২৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের ২৩ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারী। এদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব দুইজন, চল্লিশোর্ধ্ব চারজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ছয়জন, ষাটোর্ধ্ব নয়জন, সত্তরোর্ধ্ব ১১ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন ছিলেন। ১৩ জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের, তিনজন চট্টগ্রাম বিভাগের, চারজন রাজশাহী বিভাগের, পাঁচজন সিলেট বিভাগের,পাঁচজন খুলনা বিভাগের, দুইজন রংপুর বিভাগের এবং একজন ছিলেন বরিশাল বিভাগের। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৯ জন এবং বাসায় মৃত্যু হয়েছে চারজনের। সোমবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৩৯ জন। ১২ হাজার ৪২৩টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৯৯ জনের মধ্যে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ৬৪ জনের। সে তথ্য জানানো হয়, ৩০ জুনের বুলেটিনে। সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড চার হাজার ১৯ জনের, যা জানানো হয় ২ জুলাইয়ের বুলেটিনে। মঙ্গলবারের বুলেটিনে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টা নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগী বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। বুলেটিনে বরাবরের মতোই ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। বিশ্বকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে করোনাভাইরাস। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন এক কোটি ৩২ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার প্রায়। তবে ৭৭ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

দৌলতপুরে করোনা আক্রান্ত ১২৫ : সুস্থ ৭৬

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নতুন করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৪জন। এ নিয়ে দৌলতপুরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১২৫জনে। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছে মোট ৭৬জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১জন। গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নতুন করে করোনা আক্রান্তদের তালিকার মধ্যে রয়েছেন ডা. সফর আলী। তিনি পূর্ব থেকে করোনা আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা পরিষদের আব্দুর নুর (৪০) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হয়েছেন দৌলতপুর মাষ্টারপাড়ার রুহুল কাউছার (৫০) এবং আল¬ারদর্গা এলাকার মাইনুল ইসলাম (৪৩)। আক্রান্তরা সকলেই হোম আইসোলেশনে অছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মো. আজগর আলী।

কুমারখালীর সান্দিয়ারায় বিল্লাল হত্যা মামলার প্রধান আসামী মামুন গ্রেফতার

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সান্দিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারে আওয়ামীলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত বিল্লাল হত্যা মামলার প্রধান আসামী খোরশেদ আলম মামুনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপার্দ করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাসান সঙ্গীয় অফিসার এএসআই বাসার ও ফোর্সের সহায়তায় ঢাকার পশ্চিম থানাধীন উত্তরা ৭নং সেক্টরের আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার পূর্বক মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। এনিয়ে হত্যা মামলায় মোট ১২ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এতথ্য নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, আওয়ামীলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত বিল্লাল হত্যা মামলার প্রধান আসামী মামুন সহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন- এঘটনায় উভয় পক্ষের পৃথক দুটি ও পুলিশ বাদী আরো একটিসহ মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কে›ন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন ও ডাঁসা গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা শিল্পপতি খোরশেদ আলম মামুন গ্র“পের বিরোধ চলে আসছিল। হাট বাজার, মিটিং মিছিলসহ যেকোন তুচ্ছ ঘটনায় প্রায়ই দুই গ্র“পের মুখোমুখি ও উত্তেজনা চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ৬ জুলাই সকালে সান্দিয়ারা বাজারে দু’গ্রেেপর সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র ঢাল, শর্কি, লাঠিসুটা, ইট পাটকেল, কাঁচের গুটি ও বোতল নিয়ে পুনরায় মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে সুমন গ্র“পের বিল্লাল  নামের একজন গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে উভয়পক্ষই পুলিশের উপর আক্রমণ শুরু করে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী দুপক্ষের সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক সমর্থক আহত হয়। ঘটনার পরেরদিন ৭ জুলাই নিহতের ভাই হেলাল উদ্দিন বাদী একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং ৬, তাং ৭/০৭/২০২০ইং)।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা 

অর্ধেক দামে কৃষিযন্ত্র বিতরণসহ ৮ প্রকল্প অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস ॥ দেশের কৃষি ব্যবস্থায় যান্ত্রিকীকরণ প্রক্রিয়া অর্থনীতিতে বয়ে আনতে পারে অপার সম্ভাবনা। কিন্তু কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ সেভাবে হয়নি। যন্ত্রপাতির দাম বেশি হওয়ায় কৃষকের পক্ষে কেনা কষ্টসাধ্য। তাই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের কৃষকদের অর্ধেক দামে যন্ত্রপাতি দেবে সরকার। এজন্য তিন হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় ৫১ হাজার ৩০০টি বিভিন্ন প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে অন্যতম কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার, পাওয়ার থ্রেসার, ড্রায়ার, পাওয়ার উইডার, পাওয়ার স্পেয়ার, পটেটো ডিগার, মেইজ শেলার ইত্যাদি। ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটিসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১০ হাজার ১০২ কোটি ৩ লাখ টাকার ব্যয় সম্বলিত ৮টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে জিওবি ১০ হাজার ৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৩ কোটি ১৩ লাখ। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সংযুক্ত হয়ে এ অনুমোদন দেন। কৃষি উন্নয়নে প্রকল্পটি বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশজুড়ে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় হাওর ও লবণাক্ত জেলায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। অন্য জেলায় দেওয়া হবে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি। কৃষক যেসব যন্ত্র পছন্দ করবে সেগুলোই দেওয়া হবে। জোর করে কৃষি যন্ত্রপাতি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। কৃষক গ্রুপের সদস্যরাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এছাড়া একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাথ নির্মাণ দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন (ফেজ-১) প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় সভায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প (২য় পর্যায়) ও বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, রংপুর জোন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

বগুড়া-যশোর উপ-নির্বাচন সুন্দর হয়েছে – ইসি সচিব

ঢাকা অফিস ॥ বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৫টায়। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ভোটগ্রহণ সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। ইসি সচিব বলেন, যশোরে ভোটার উপস্থিতি বেশি ছিল। বগুড়ায় কিছুটা কম হয়েছে। তবে ভোট পড়ার হার নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব না। গণনা চলছে। তিনি বলেন, সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ভোট দিয়েছেন। কোন অসুবিধা হয়নি, কোন সহিংস ঘটনাও ঘটেনি।

বগুড়া-১ আসন: মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর আসনটির উপ-নির্বাচনের বৈধ ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রার্থীরা হলেনÑবাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের সহধর্মিণী সাহাদারা মান্নান (নৌকা), বিএনপির একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মোকছেদুল আলম (লাঙ্গল), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) মো. রনি (বাঘ), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ (ট্রাক)। এ নির্বাচনে মোট ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৬৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। ভোটগ্রহণ হয়েছে ১২২টি ভোটকক্ষে। গত ১৮ জানুয়ারি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। এরপর শূন্য আসনে নির্বাচনের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

বগুড়ায় জাল ভোট দিতে গিয়ে ২ স্কুুুুলছাত্র আটক: বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি- সোনাতলা) আসনে উপনির্বাচনে জাল ভোট দিতে গেলে দুই স্কুুুুলছাত্রকে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদেরকে সোনাতলা নাজির আকতার কলেজ কেন্দ্র থেকে আটক করা হয়েছে। স্কুল ছাত্ররা হলো ফাহিম আহম্মদ ও মিনহাজ। তারা দুজনেই স্থানীয় একটি স্কুুুুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বেলাল হোসেন।

যশোর-৬ আসন: এ আসনে বৈধ তিন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছিলেন। তারা হলেনÑবাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহীন চাকলাদার (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব (লাঙ্গল)। এ আসনে ২ লাখ ৪ হাজার ৩৯৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছছেন। ভোটগ্রহণ করা হয়েছে ৭৯টি ভোটকেন্দ্রে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইসমাত আরা সাদেক জয়ী হন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি মারা যান। এরপর শূন্য আসনে নির্বাচনের জন্য ১৬ ফেব্র“য়ারি তফসিল দেয় ইসি। এই দুই আসনেই ভোটগ্রহণের কথা ছিল গত ২৯ মার্চ। কিন্তু করোনার কারণে ভোটের এক সপ্তাহ পূর্বে ২১ মার্চ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে ১৮০ দিন সময় শেষ হয়ে আসায় করোনার মধ্যেই আবার ভোটের সিদ্ধান্ত দেয় ইসি। তবে করোনার মধ্যে ভোট করায় নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি।

করোনা বিশ্লেষণে এসপি এস এম তানভীর আরাফাত

মোট আক্রান্তের বেশির ভাগই ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী

কুষ্টিয়ায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেশ জোরালো হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় কোভিড রোগের সংক্রমণ জোরালো হয়েছে। জেলা পুলিশের এক বিশ্লে¬ষণে এতথ্য উঠে এসেছে। তারা বলছেন, কুষ্টিয়াতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেশ জোরালভাবে শুরু হয়েছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা। এজন্য সবাইকে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘গত ২২ এপ্রিল থেকে গত ১০ জুলাই পর্যন্ত  জেলায় আক্রান্তদের নিয়ে যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল একাজ করেছেন। তাতে দেখা গেছে, জেলায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বেশ জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষনের সব তথ্যের কপি জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে দেওয়া হয়েছে।’

১৯ পৃষ্ঠার ওই বিশ্লে¬ষণ কপিতে দেখা গেছে, কুষ্টিয়ায় কোভিড সংক্রমণ ও আক্রান্তের যাবতীয় তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, সকল তথ্য সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সরবরাহের ভিত্তিতে গত ১০ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এদিন পর্যন্ত  জেলায় মোট কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯২৭ জন। তাতে সুস্থ হয়েছে ৪৬৩ জন। মারা গেছে ১৯ জন। সুস্থতার হার ৪৯ দশমিক ৯৫ ভাগ। মৃতের হার ২ দশমিক ০৫ ভাগ। শনাক্ত বিবেচনায় পুরুষ ৬৩৪ জন, নারী ২৩০ জন ও শিশু ৬৩ জন।

বয়স ভিত্তিকে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা রয়েছেন ২৪৫ জন। এরপর রয়েছে ২১ থেকে ৩০ বয়স বয়সের। তাদের সংখ্যা ১৯৭ জন। তবে ৫০ উর্দ্ধো রোগীর সংখ্যা  জেলায় মাত্র ১৮৯ জন। মারা যাওয়া ১৯ জনের মধ্যে চারজন করে রয়েছে ৩১ থেকে ৪০ বছর ও ৬১ থেকে ৭০ বয়সের মধ্যে।

বিশ্লে¬ষণে উঠে এসেছে, সবদিক দিয়ে সদর উপজেলায় সবকিছুই  বেশি পাওয়া গেছে। এ উপজেলায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৪৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৫০৮ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছে ২১৫ জন। মারা গেছে ১৩ জন। আক্রান্তের চিত্রে সদর উপজেলা মোট আক্রান্তের ৫৫ ভাগ জুড়ে আছে। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ্যতার হারেও ৪৬ ভাগ জায়গা জুড়েছে সদর উপজেলা।  সেখানে মোট মৃত্যুর হারে সদর রয়েছে ৬৯ ভাগ। জেলা পুলিশের বিশ্লেষণ বলছে, গত ২২ এপ্রিল জেলায় প্রথম কোভিড রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত ৩৪ দিনে জেলায় রোগী শনাক্ত হয় মাত্র ৩৬ জন।

আর ঈদের পর গত ১০ জুলাই পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৮৯১ জন। ঈদের পর রোগীর হার ৯৬ ভাগ। এপর্যন্ত ৬ হাজার ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৪২ জন। বাসায় চিকিৎসা নিয়েছে ৭৮৬ জন। সপ্তাহ বিবেচনায় জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ১১তম সপ্তাহে। এই সপ্তাহে ৮৩৫ নমুনা পরীক্ষায় মোট রোগী হয়েছিল ১৯৩ জন। আর শনাক্তের এখন পর্যন্ত শেষ ১২তম সপ্তাহে মাত্র ৪৪৪ নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ রোগী হয় ১১১ জন। পুলিশ বলছে, পঞ্চম সপ্তাহ থেকে রোগী বাড়তে থাকে। এবং নবম সপ্তাহ  থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে রোগী বাড়ে।

পেশা ভিত্তিক শনাক্ত চিত্রও পুলিশ তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা  গেছে, গৃহিনী ১৬১ জন, ব্যাংকার ৬৬ জন, ব্যবসায়ী ৭০ জন, কৃষক ৫৩ জন, স্বাস্থ্যকর্মি ৫২ জন, চিকিৎসক ৬ জন, সরকারি চাকুরিজীবি ৪৩ জন, বিআরবি গ্র“পের কারখানায় চাকুরিজীবী ৪৮ জন, পুলিশ সদস্য ৪৩ জন, জনপ্রতিনিধি ৬ জন। পেশা ভিত্তিক শনাক্তে ১৮ ভাগ গৃহিনী। পারিবারিকভাবে আক্রান্ত হয়েছে ২১৪ জন যা ২৩ ভাগ। আর আক্রান্তের কারণ জানতে পারেনি এমন  রোগী ৭১৩ জন। স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৮৪ ভাগ রোগী। বাকি ১৬ ভাগ রোগী জেলার বাইরে আক্রান্ত হয়ে আসে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা মনে করছেন, জেলায় যেহেতু যুবক শ্রেনীর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত সেহেতু এটা খুবই ভাবার বিষয়। বর্তমানে জেলায় কোথাও কোন লকডাউন নেই। ঈদের আগে ভিড় বেশি বাড়বে। পশুহাটগুলোত জটলা বাধবে। সংক্রামন হু হু করে বাড়বে। তাই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কমাতে হলে সামাজিক দূরত্ব নিয়ন্ত্রণ করার কোন বিকল্প নেই।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জেষ্ঠ্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও আইশোলসন ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সমন্বয়ক এ এস এম মুসা কবির বলেন,‘পুলিশ সময় উপোযোগী তথ্য বিশ্লেষন করেছে। এতে ভয়াবহ চিত্র ফুঠেছে। বয়স ও পেশা ভিত্তিক আক্রান্তের বিষয়টি ভাবার বিষয়। হয়তো এই বয়সের মানুষেরা অসচেতনভাবে বাইরে  বের হয়েছিল। গৃহিনীরা বাড়িতে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে এসব সংক্রমণ কমানোর জন্য এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেবার প্রয়োজন।

সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হতে বারবার বলা হচ্ছে। জনগণ যদি নিজে না মানা তাহলে এই সময়ে জোর করে মানানো একটু কঠিন ব্যাপার।

মর্গ্যানের দুনিয়া পাল্টে দিয়েছে বিশ্বকাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ঘিরে উপমহাদেশের মতো উন্মাদনা ইংল্যান্ডে নেই। জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েও তাই তারকাখ্যাতির স্বাদ আগে সেভাবে পাননি ওয়েন মর্গ্যান। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের পর পাল্টে গেছে চিত্র। আগে যেসব ছিল ভাবনার বাইরে, গত এক বছর ধরে সেসব অভিজ্ঞতাই হচ্ছে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের। ইংলিশ ক্রিকেট ইতিহাসের স্মরণীয়তম দিনটির এক বছর পূর্ণ হলো মঙ্গলবার। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই, লর্ডসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন মর্গ্যান। সেই ফাইনাল যেন ছাড়িয়ে গিয়েছিল রোমাঞ্চের চূড়ান্ত সীমাও। মূল ম্যাচ ‘টাই’ হওয়ার পর সুপার ওভারেও দুই দল ছিল সমতায়। শেষ পর্যন্ত বাউন্ডারির সংখ্যায় এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের জন্ম, ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্ম যে দেশে, তারা প্রথমবার স্বাদ পায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপার। ১৪ বছর পর ইংল্যান্ডে ‘ফ্রি-টু-এয়ার’ চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছিল কোনো ক্রিকেট ম্যাচ। ৮০ লাখের বেশি দর্শক সেখানে টিভিতে দেখেছিল ম্যাচটি। ইংল্যান্ডের বোর্ডের লক্ষ্য ছিল, ক্রিকেটের উর্ধ্বগামী জনপ্রিয়তাকে এই মৌসুমে আরও বাড়িয়ে তোলা। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপে ভেস্তে গেছে অনেক ভাবনা। মর্গ্যান তবুও মনে করেন, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটের অবস্থান শক্ত হয়েছে আরও। জনপ্রিয়তার স্বাদ টের পেয়েছেন তিনি নিজেও। “ আমার মনে হয়, খেলাটার ওজন উল্লেখযোগ্যরকম বেড়েছে। বাইরে গেলেই, রাস্তায় বা পাবে বা ক্যাফেতে, লোকে আমাকে দেখলে ছুটে আসছে। শুধু দেশেই নয়, আমরা যখন ছুটিতে যাই, কেউ হয়তো কোনো টেনিস ম্যাচ বা গ্রাঁ প্রিঁ দেখতে গেল, সেখানেও একই চিত্র। কিংবা পাশের বাসায় চিৎকার শুনে কেউ হয়তো ভাবছে, তারা কী দেখছে!” “ পুরো ব্যাপারটিই হচ্ছে ক্রীড়ার উৎসবের, আর লোকে ট্রফি জিততে ভালোবাসে। ক্রিকেটের গুরুত্ব অবশ্যই বেড়ে গেছে এবং এভাবেই আমার জীবন বদলে গেছে। লোকে এখন আমাকে অনেক বেশি চেনে।” ২০১৫ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর থেকেই পরের বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছিল ইংল্যান্ড। চার বছরের সাধনার ফল মিলেছিল ২০১৯ বিশ্বকাপে। এত কষ্টের ফল বলেই তা আরও মধুর লেগেছিল মর্গ্যানদের কাছে। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়কের মতে, ফাইনাল অতি নাটকীয় হওয়ায় তা মানুষকে নাড়া দিয়েছে আরও বেশি। “ জীবনে কোনো কিছুর জন্য বেশি পরিশ্রম করলে, সেটি বিশ্বকাপের জন্য হোক বা ¯্রফে একটি ফরোয়ার্ড ডিফেন্সের জন্য, খাটুনি যত বেশি, ফল পেলে তৃপ্তিও মেলে বেশি। এটাই মানুষের ধরন, আমি এমনটিই মনে করি।” “ তবে সেই দিনটির নাটকীয়তা আসলে খেলাটির দারুণ বিজ্ঞাপন হয়ে গেছে। ফাইনালটি আসলে ক্রিকেটের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। এটি আসলে ব্রিটিশ ক্রীড়া ইতিহাসের সেরা দিনগুলির একটি হয়ে উঠেছে এবং এভাবেই থাকবে আরও অনেক দিন। এটি আরও বেশি তৃপ্তিদায়ক।”

 

করোনা আঘাত ও খাদ্য নিরাপত্তা

করোনা দুর্যোগ মোকাবিলার মধ্যদিয়ে জীবনপ্রবাহের  স্রোতকেও গতিশীল রাখতে হবে। অর্থাৎ করোনা মহামারীকে প্রতিহত করে জীবনপ্রবাহকে এগিয়ে নিয়ে যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে রাজনীতিকদের। বর্তমান বিশ্ব করোনার আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত। এই বিধ্বস্ত অবস্থাকে মেরামত করতে হবে রাজনীতির দূরদর্শী নীতিনির্ধারণের দৃষ্টি দিয়ে। এই মহাদুর্যোগের মধ্যে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা হুশিয়ারি দিয়েছে, আগামীতে খাদ্যপণ্যের অভাবে পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষ হতে পারে। এই দ্বিতীয় দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হবে দক্ষ হাতে স্বচ্ছ মনোজতত্ত্বের মাধ্যমে। বিজ্ঞাননির্ভর পৃথিবীর বিজ্ঞানের আশীর্বাদে কৃষিক্ষেত্রে ঘটেছে বিপ্লবিক উন্নতি। পৃথিবীর একমাত্র ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। সদা উর্বর পলিমাটি, এই মাটিতে এখন পৃথিবীর অনেক ফল ও ফসল সার্থক উৎপাদন হয়। যেমন ড্রাগন ফল, আরব  দেশের খোরমা খেজুর, স্ট্রবেরি, আঙুর, মালটা, কমলা, মাসরুম, ক্যাপসিকাম, ব্রোকলি এ দেশে এখন প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে এবং এগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, অর্থাৎ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। করোনা মহামারীর আক্রমণে লন্ডভন্ড হয়েছে কৃষিক্ষেত্রও। এই বর্ষার পরই রবিশস্যসহ ফসল উৎপাদনের মৌসুম শুরু হবে সারাদেশে। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষি বিষয়ে বাংলার কৃষকের অভিজ্ঞতা হাজার বছরের। বর্তমান প্রযুক্তির ফলে মাটি পরীক্ষা, কীটনাশক, রাসায়নিক সার,  জৈবিক সার বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড বীজ, সেচব্যবস্থা এসবের সঠিক সমন্বয় করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান সরকারের প্রধান কাজ। করোনা আক্রমণ প্রতিহত করার সব যোগ্যতা হারিয়েছে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাই বলতে চাই, এই অবস্থার কথা মনে রেখে কৃষি ব্যবস্থাকে সঠিক সমন্বয় করার এখনই সময়। বর্তমান জীবনযাত্রার মান ঊর্ধ্বগতির জন্য ঢাকা শহর থেকে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তরা করোনা দুর্যোগের কারণে গ্রামে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এসব কর্মঠ মানুষকে বন্যা-পরবর্তী কৃষি ব্যবস্থায় সংযুক্ত করার সঠিক পরিকল্পনা করে কৃষিক্ষেত্রে জাগরণ তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য সমবায় ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্র“প করে কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশুসম্পদ, মৎস্যসম্পদ বিকাশে বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সঠিক সময় এখন বলা যেতে পারে। এই যে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ তার নিজ গ্রামে আয়ের উৎস পাবেন, যিনি মানসিক শক্তিতে পরিপূর্ণ হবেন। মানসিক শক্তির কথা এজন্য বলছি যে, করোনা দুর্যোগের কারণে কর্মঠ মানুষগুলো মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে, কর্মহীনতার কারণে। কাজের মানুষকে কাজ দিলে সে সুস্থ থাকে, আত্মবিকাশে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। অর্থাৎ বন্যা বা বর্ষাকালের পর শরৎকালের শুরুতে কৃষিক্ষেত্রে কর্মতৎপরতা লক্ষ করা যায়। কৃষককে স্বাবলম্বী বলা যায় তখন যখন তার হাল-বলদ আছে, সেচব্যবস্থার নিশ্চয়তা আছে, নিজস্ব বেছন ঘর বা বীজঘর। এখন কৃষকের হাল-বলদ বা সেচব্যবস্থা থাকলেও কিন্তু তার বেছন ঘরটি এখন আর  নেই। এই বেছন ঘর বা বীজঘর চলে গেছে বহুজাতিক  কোম্পানির হাতে। ফলে বীজের আর রাসায়নিক সারের জন্য কৃষক পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের কর্মসূচি থাকা একান্ত জরুরি যে, হাজার বছর ধরে বাংলার কৃষকের যে বীজঘর ছিল তাকে আবার পুনর্নিমাণ করা অর্থাৎ প্রত্যেক কৃষকের নিজস্ব একটি বীজঘর থাকবে। এর জন্য সরকারি পর্যায়ে কৃষককে সহায়তা করে কীভাবে এটা বিজ্ঞানভিত্তিক হবে এবং আরও উন্নত হবে তার দেখভাল করা তা হলেই হবে সেই বীজঘরটি বিজ্ঞানভিত্তিক। রাসায়নিক কীটনাশক বিদেশ থেকে আনতে হয়, কিন্তু বর্তমান উন্নত বিশ্বে জৈব সারের ওপর জোর দিয়েছে তাই আমাদেরও উচিত দেশীয় লতাগুল্ম উদ্ভিদ থেকে কীটনাশক  তৈরির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। প্রাচীন বাংলায় নিশিন্দা পাতা, নিমপাতা, ভাটপাতা, ইস কাটালি বিষ কাটালি দিয়ে কীটনাশক তৈরি করে ব্যবহার করত তৎকালীন কৃষকরা। এ রকম বহু উপাদান আছে এই সোনার বাংলাদেশে। আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন করা গেলে আর বিদেশ থেকে কীটনাশক আনার নির্ভরশীলতা অনেকাংশে কমে যাবে। রাসায়নিক সার জমির ক্ষত করে আর জৈব সার জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। প্রাচীন বাংলায় জৈব সারের বহুল ব্যবহার ছিল। বাংলার কৃষক অনেক সাবধান তারা আফ্রিকান মাগুরকে বর্জন করেছে, কারণ আফ্রিকান মাগুর দেশীয় ছোট মাছ খেয়ে  ফেলে এবং বলা হয় এই মাগুর কি না খায়! এসব মাগুর কারা এনেছে, কারাই বা অনুমোদন দিয়েছে ? বাংলাদেশের পরিবেশের সঙ্গে এরা মানানসই হবে কিনা ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়েছিল? এসব ক্ষতিকারক জিনিস যেন এ দেশে ঢুকতে না পারে সেদিকে বর্তমান সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। এতকিছুর পরও মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের স্থান অন্যতম, যা নিঃসন্দেহে সুখবর। তবে একটি বিষয় আমার কাছে মনে হয়েছে খামারে উৎপাদিত সব মাছের স্বাদ প্রায় একইরকম (চিংড়ি মাছ বাদে) এর কারণ হিসেবে আমি দেখেছি যে, সব মাছের খাবার প্রায় একইরকমের যার কারণে সব মাছের স্বাদ একই হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোন কোন মাছের কী কী খাবার হতে পারে তার তালিকা তৈরি করে দিতে মৎস্য বিভাগ। তবে খামারি মাছে স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হবে। দুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হচ্ছে, তবে অনেকটা অগোছালোভাবে। রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞানমনস্ক তদারকি নিয়মিত করা প্রয়োজন। দুধের কথা বলতে গিয়ে মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি ভারত চন্দ্র রায় গুনাকারের কবিতার দুটি লাইন মনে পড়ল, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।’ বাংলার আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ছবিটি এঁকে দিয়েছে আমার হৃদয়ে। এই স্বপ্ন আমার বাস্তবায়িত হতে পারে বাংলার কৃষি সুসম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে। কবির একটি লাইন আমার জীব স্বপ্ন হয়ে আছে, আশা করি আমার মতো অনেকেরই। আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল, পৃথিবীতে সম্ভবত এত বড় সুমিষ্ট ফল আর নেই। সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে কাঁঠাল চাষের বিস্তার হলে দেশের মানুষ প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি লাভ করতে পারত। এসব কৃষিপণ্য সারা বছর সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই, ফলে অনেক পণ্য মৌসুমের পর আর পাওয়া যায় না, পর্যাপ্ত হিমাগার থাকলে সুলভমূল্যে এসব ফল সারা বছর পাওয়া যেত। সেই সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে জুস প্লান্ট। কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা জুস প্লান্ট করার মতো পর্যাপ্ত ফল উৎপাদিত হচ্ছে আমাদের দেশে। পশুসম্পদের  ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে তার প্রমাণ গত ২-৩টি  কোরবানির ঈদের চাহিদা দেশীয় উৎপাদন থেকে মেটানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমান সংঘাতময় পৃথিবীতে ২টি প্রধান যুদ্ধ চলছে- ১. বুলেটের যুদ্ধ ২. পণ্যের যুদ্ধ। বুলেটের যুদ্ধ চলছে খন্ড খন্ড আর পণ্যের যুদ্ধ চলছে বিশ্বজুড়ে। ষড়ঋতুর এই সোনার দেশের পলিমাটিতে বহুজাতীয় ফল, ফসল উৎপাদিত হয়। বলা হয়, আদারে-বাদারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিলেই জন্মে ফসল। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ কর্মক্ষম। তাদের কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত করতে পারলে বাংলাদেশে কৃষির এক  বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটত। ক্রমে ক্রমে বাংলাদেশের স্বরূপ  সোনার বাংলায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠত। সফলতাই প্রতিটি জীবনের লক্ষ্য। এই সফলতা অর্জনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে কর্ম। মানুষকে কর্মপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে রাষ্ট্রের। কর্মপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা থাকলেই মানুষ কর্মকান্ডে বিভোর থাকে, জীবন স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিকল্পিত হয়। সম্ভবত পৃথিবীর প্রথম কৃষিবিদ ও আবহাওয়া বিজ্ঞানী খনার কথা আমাদের মনে আছে। তার জ্ঞান বচন হিসাবে প্রচলিত আছে এই উপমহাদেশে। যাকে খনার বচন বলা হয়। কৃষিক্ষেত্রে তার বাণীর গ্রহণযোগ্যতা এখনো অনেক বেশি। বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্র সুপরিকল্পিত করতে খনার বচনকে লিফলেট আকারে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারে কৃষি বিভাগ। বাংলাদেশে কয়েকশ প্রজাতির আম ও কয়েকশ প্রজাতির ধান আবহমানকাল ধরে জন্মাচ্ছে। সম্ভবত খুব কম দেশেই পাওয়া যাবে, একটি ধানে দুটি চাল। এই জাতের কিছু ধান ২০০৭ কী ২০০৮-এর দিকে পাওয়া গেল দিনাজপুর জেলার বিরামপুর অঞ্চলে। পত্রিকায় খবরটি প্রকাশিত হলো। আমার এক ভক্তের মাধ্যমে কয়েকটি ধান আমি সংগ্রহ করেছি। ১টি ধানে ২টি চাল এবং ২টা চালই পুষ্ট। এই ধানের বিস্তার ঘটাতে পারলে এক পরিশ্রম ও ব্যয়ে দ্বিগুণ উৎপাদন পাওয়া যাবে। আমি কৌতূহলবশত গত বছর বিরামপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি যে, তারা এই সংবাদটি শুনেছিলেন, তবে বিরামপুরে এই ধানের নমুনা তাদের সংগ্রহে নেই। পরে আমি ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানতে পারি যে, তাদের কাছে এরকম ধানের কিছু নমুনা আছে এ বিষয়ে তারা গবেষণাও চালিয়ে যাচ্ছে। এই গবেষণা সফল হলে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে আর এক ধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে যে, করোনার দুর্যোগের কারণে বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। তার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা কি খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেছে? তবে, দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার বহু  দেশে ক্ষুধাপীড়িত অঞ্চলে দ্রুত উৎপাদনশীল ইরি ধানের প্রজেক্ট চালু করতে পারত বহু আগেই। এ ক্ষেত্রে তাদের উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। এ সময় বিশ্ব সংস্থাগুলোর পরিকল্পনায় নমুনা প্রকল্প থাকতে পারে দেশে দেশে। লেখক ঃ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ভাস্কর্য শিল্পী

 

বেড়েছে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা

আমরা কিছুতেই রক্ষা করতে পারছি না আমাদের নারী ও শিশুদের। তারা নানাভাবে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ধর্ষণ করা হচ্ছে তাদের। এমনকি হত্যার শিকারও হচ্ছে নারী শিশুরা। এই নিষ্ঠুর কাজে স্বজনরাও জড়িয়ে পড়ছে। এটা সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত নজির। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) পক্ষ থেকে কর্ম এলাকায় জুন মাসে ৫৩টি জেলার মোট ৫৭ হাজার ৭০৪ জন নারী ও শিশুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৭৪০ জন নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন। নারীর সংখ্যা ৯ হাজার ৮৪৪ জন আর শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৮৯৬ জন। শিশুদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ১ হাজার ৬৭৭, অর্থাৎ শতকরা ৫৮ ভাগ, আর ছেলেদের সংখ্যা ১ হাজার ২১৯, অর্থাৎ শতকরা ৪২ ভাগ। এই তথ্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। অভিযোগ রয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ করা, বিশেষ করে বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কাজটি মাঠপর্যায়ে ঢিমে তালে চলছে। বিচারহীনতার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন ব্যবস্থা বা প্রতিরোধ কার্যক্রমগুলো পুরোপুরি সক্রিয় না থাকায় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করছে। এটা  কোনোভাবেই অস্বীকারের উপায় নেই, ঘরে-বাইরে নারী বিভিন্ন অসমতা বা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নারীকে যথাযথ সম্মান করা হয় না। নারীর কাজের যে অবদান, তার স্বীকৃতি  নেই। এই বিষয়গুলো নারী নির্যাতনকে সব সময় উসকে  দেয়। করোনার সময়ে এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানুষের কাজ না থাকা, অভাব প্রকটতর হওয়াসহ অন্য চ্যালেঞ্জগুলো যোগ হচ্ছে। আর এর ফলে নারী ও শিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আর করোনাকাল যত দীর্ঘ হচ্ছে, তত শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। এটা সত্য, সমাজের এক শ্রেণির বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে। এমনকি নারী শিশুর জীবনও চলে যাচ্ছে। ফলে সমাজে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঠুনকো কারণে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। আপনজনের হাতেও শিশুর জীবন চলে যাচ্ছে। কেবল তাই নয়, আমাদের কোমলমতি শিশুরা অবলীলায় নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। অথচ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজ তথা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একইভাবে দায়িত্ব নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কান্ডারি। শিশুর সুস্থ বিকাশ কীভাবে হবে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের নতুনভাবে ভাবা উচিত। আমরা দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ্য করে আসছি, শিশুশ্রম বন্ধের কথা বলা হলেও এ ব্যাপারে  কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না, বরং করোনাকালে তা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে- যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। যেভাবেই হোক নারী ও শিশু নির্যাতন ও হত্যা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে শিশুশ্রম।  এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ার কারণেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এই ধরনের জঘন্য প্রবণতা রোধ করতে না পাড়লে একদিকে  যেমন পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে অন্যদিকে নারী শিশুরাও থাকবে নিরাপত্তাহীন। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনবে। সুতরাং সময় থাকতেই সাবধান হওয়া সমীচীন।

 

 

কৃষির আধুনিকায়নে আসছে মেগা প্রকল্প

বেড়েছে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের গুরুত্ব

কৃষি প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারীতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের নাজেহাল অবস্থা ফুটে ওঠার পাশাপাশি কৃষি খাতের শক্তিশালী অবস্থানও  দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সরকার কৃষি উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কৃষির আধুনিকায়নে মেগা প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)  দেশের সব উপজেলায় এটি বাস্তবায়ন করবে। এটি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে এবং ব্যবসায়িকভাবে অধিকতর লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে কৃষিকে টেকসই করে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)  বৈঠকে প্রকল্পটি উঠছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করছি কৃষিতে শ্রমিক পাওয়া যায় না। মৌসুমে ব্যাপক শ্রমিক সংকটে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। এসব দিক বিবেচনা করে আমরা কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের দিকে নিয়ে যেতে চাইছি। এছাড়া এটি যুগের চাহিদা। এতে উৎপাদন খরচ যেমন কমবে, তেমনি সংগ্রহ পর্যায়ে শস্যের অপচয়ও কমে আসবে। সূত্র জানায়, একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চলতি জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে ফসলের ১০-১৫ শতাংশ অপচয় রোধ করা যাবে। এছাড়া চাষাবাদে ৫০ শতাংশ সময় এবং ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করা যাবে। পাশাপাশি সমন্বি^ত সব জাতীয় ফসল আবাদ করে কৃষি যন্ত্রপাতির ৫০ শতাংশ, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা যাবে। এছাড়া যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে পোস্ট হারভেস্ট ব্যবস্থাপনায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব হবে। এসব দিক বিবেচনা করে কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের জন্য সরকারি অর্থায়নে ‘খামার যান্ত্রিকীকরণ-প্রথম পর্যায়’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। একনেকের জন্য তৈরি সার সংক্ষেপে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেছেন, কৃষিতে ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সরবরাহ ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে ফসলের অপচয় রোধ, চাষাবাদে সময় এবং অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, উচ্চ মূল্য ফসল উৎপাদন, কৃষি ক্ষেত্রে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি পরিবারের প্রকৃত আয় বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হল- উন্নয়ন সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় ৫১ হাজার ৩০০টি বিভিন্ন প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি যেমন কম্বাইন্ড, হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার  থ্রেসার, ড্রায়ার, পাওয়ার উইডার, পাওয়ার স্পেয়ার, পটেটো ডিগার, মেইজ শেলার ইত্যাদি সংগ্রহ ও বিতরণ করা হবে। এছাড়া ৩০০টি ব্যাচে ৯ হাজার গ্রামীণ মেকানিককে ২৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এক হাজার ২০০ জন কর্মকর্তাকে ৪০ ব্যাচে প্রশিক্ষণ, এক হাজার ব্যাচে এক লাখ যৌথ জমি ব্যবহারকারী কৃষক বা উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ এবং এক হাজার ২৫০ জনকে ৫০ ব্যাচে যন্ত্র উপযোগী ধানের চারা উৎপাদন কৌশল সংক্রান্ত ৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। একই সঙ্গে সমন্বিত খামারে এক হাজার ২৪০ টন বীজ সহায়তা দেয়া হবে। ১৮টি এটিআই প্রশিক্ষণ ভবন ও ডরমেটরি নির্মাণ, একটি কৃষি যন্ত্রপাতি টেস্টিং ও প্রশিক্ষণ সেন্টারের সুবিধা সৃষ্টি, একটি টেস্টিং শেড নির্মাণ এবং ৩০০টি কৃষি যন্ত্রপাতি উপকরণ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।

 

কোথায় আছেন আনুশকা শেঠি

বিনোদন বাজার ॥ তেলেগু সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনুশকা শেঠি। অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। গুঞ্জন উঠেছে, চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নিচ্ছেন ‘বাহুবলি’ সিনেমাখ্যাত এই অভিনেত্রী। যদিও একটি সূত্র জানিয়েছে গুঞ্জনটি সত্য নয়। তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন তিনি। এখন থেকে শুধু ঘনিষ্ঠ প্রযোজক ও পরিচালকের সিনেমায় অভিনয় করবেন আনুশকা। পাশাপাশি বছরে একটি অথবা দুটির বেশি সিনেমায় হাজির হবেন না তিনি। সিনেমায় তার পারফরম্যান্স ঠিক রাখতেই নাকি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি। আনুশকা অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ভাগমতি’। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পায় এটি। মাঝে ‘সাঈ রা নরসিমহা রেড্ডি’ সিনেমায় অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেন। তার পরবর্তী সিনেমা ‘নিঃশব্দম’। এ ছাড়া সম্প্রতি গৌতম মেননের একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন আনুশকা শেঠি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে এর কাজ বন্ধ রয়েছে। ‘নিঃশব্দম’ সিনেমায় আনুশকা ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেনÑ আর মাধবন, শালিনি পান্ডে, অঞ্জলি, হলিউড অভিনেতা মাইকেল ম্যাডসন প্রমুখ। শুরুতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলেগু ও তামিল ভাষায় সিনেমাটি মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা পরিবর্তন করে ২ এপ্রিল করা হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এটি মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। শোনা যাচ্ছে, সিনেমাটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তির পরিকল্পনা করছেন নির্মাতারা।

ছেলেকে বাঁচাতে প্রাণ বিসর্জন দিলেন অভিনেত্রী

বিনোদন বাজার ॥ নিখোঁজের কয়েকদিন পর হলিউড অভিনেত্রী নায়া রিভেরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নির লেক পিরু থেকে ‘গ্লি’ ড্রামা সিরিজখ্যাত এই অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন রিভেরা। ভেঞ্চুরা কাউন্টি শেরিফ বিল আয়ুব এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তিনি হয়তো ছেলেকে প্রাণপণ চেষ্টায় নৌকায় তুলেছেন কিন্তু নিজে উঠতে পারেননি।’ গত ৮ জুলাই ছেলেকে নিয়ে লেক পিরুতে নৌ-ভ্রমণে যান এই অভিনেত্রী। দুজনকে শেষবার নৌকা ভাড়া করতে দেখা যায়। এরপর সময়মতো ফিরে না আসায় তাদের খোঁজা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তার চার বছরের ছেলে জোসি হলিস ডরসেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাসমান একটি নৌকা থেকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নিখোঁজ ছিলেন ৩৩ বছর বয়সি নায়া রিভেরা। অভিনেতা রায়ান ডরসে ও রিভেরা দম্পতির সন্তান জোসি হলিস। ২০১৪ সালে এই অভিনেত্রীর বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। নিখোঁজের কিছু সময় আগেও মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে ছেলের সঙ্গে ছবি পোষ্ট করে রিভেরা লেখেন, ‘শুধু আমরা দুজন।’ উদ্ধারের পর ছেলেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, নৌ-ভ্রমণের সময় কোনো প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এই অভিনেত্রী। এ অবস্থায় লেকের পানিতে সাঁতার কেটেছেন। যদিও সেখানে সাঁতার ও নৌ-ভ্রমণের অনুমতি রয়েছে। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, দুর্ঘটনাবশত পানিতে ডুবে এই অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়েছে।   এছাড়া নৌকায় থাকাকালীন ‘ফেসটাইম’-এ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন রিভেরা। বিল আয়ুব বলেন, ‘এই অবস্থা মোকাবিলা করা পরিবারের জন্য খুব কঠিন। আমরা তাদের সমবেদনা জানাচ্ছি।’ ফক্স চ্যানেলের ‘গ্লি’ সিরিজে চিয়ারলিডার সান্তানা লোপেজ চরিত্রে অভিনয় করেন নায়া রিভেরা। ২০০৯-২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রচারিত হয় মিউজিক্যাল-কমেডি ঘরানার এই সিরিজ। এ ছাড়া বেশ কিছু হলিউডের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মী ও ভক্তরা।

সারা আলী খানের গাড়িচালক করোনায় আক্রান্ত

বিনোদন বাজার ॥ করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে নিজেদের গৃহবন্দি রেখেছিলেন বলিউড তারকারা। কিন্তু সম্প্রতি অমিতাভ বচ্চনের পরিবার ও বেশ কয়েকজন বলিউড ও টিভি তারকা এবং তাদের বাড়ির স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।এবার করোনা আক্রান্ত অভিনেত্রী সারা আলী খানের গাড়িচালক। তবে ‘সিম্বা’ সিনেমাখ্যাত এই অভিনেত্রী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের কোভিড-১৯ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। ফটো শেয়ারিং সাইট ইনস্টাগ্রামে এ প্রসঙ্গে সারা লিখেছেন, ‘আপনাদের জানাতে চাই, আমাদের গাড়িচালক কোভিড-১৯ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন। বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি) দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তাকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। আমার পরিবার ও অন্য স্টাফরা বাড়িতে আছেন এবং সবার টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। আমাকে ও পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য বিএমসি-কে বিশেষ ধন্যবাদ। সবাই নিরাপদ থাকুন।’ সারা আলী অভিনীত পরবর্তী সিনেমা ‘কুলি নম্বর ওয়ান’। গোবিন্দ ও কারিশমা কাপুর অভিনীত একই নামের একটি সিনেমার রিমেক এটি। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন ডেভিড ধাওয়ান। এতে বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন সারা। আগামী বছরের শুরুতে সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে।

১৫ বছর পর ফের একসঙ্গে রিয়াজ-শাহনূর

বিনোদন বাজার ॥ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুজিববর্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত হয়েছে ওভিসি। ‘মুজিব তোমায় কথা দিলাম’ নামের এই ওভিসিতে অংশ নিয়েছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ ও শাহনূর। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছর পর একসঙ্গে কাজ করলেন তারা। গাজী ফারুকের পরিচালনায় এতে আরো অভিনয় করেছেন সানজিদ ও গাজী ফারুক নিজেই। বিদ্যুৎ বিভাগের মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ হোসাইনের অনুপ্রেরণায়, বিদ্যুৎ, জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এটি। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্তির থিম নিয়ে কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপও রচনা করেছেন নির্মাতা। চিত্রগ্রহণে ছিলেন এ আর আলম। ঢাকা প্রোডাকশন্সের ব্যানারে কারিগরি সাপোর্টে রয়েছে অ্যাড বিডি ডটকম। সংগীতায়োজনে শিশির রহমান।  জাতীয় শোক দিবসে মুজিববর্ষের নিবেদন হিসেবে বিদ্যুৎ, জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, ফেসবুক, ইউটিউব ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। সর্বশেষ কোহিনূর আক্তার সুচন্দা পরিচালিত ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমায় অভিনয় করেন রিয়াজ-শাহনূর।

আগামী ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলতে চান রিয়াল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জয়ের ধারায় শিরোপার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করতে দরকার আর মাত্র ২ পয়েন্ট। মোটামুটি সহজ এই সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়েও সতর্ক দলটির অধিনায়ক সের্হিও রামোস। তাই কাজ ফেলে না রেখে আগামী ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলতে চান তিনি। লা লিগায় নিজেদের সবশেষ ম্যাচে সোমবার গ্রানাদাকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার পথে অনেকটা এগিয়েছে জিনেদিন জিদানের দল। ৩৬ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ৮৩। দুইয়ে থাকা গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭৯। আগামী বৃহস্পতিবার নিজেদের মাঠে ভিয়ারিয়ালের মুখোমুখি হবে রিয়াল। ম্যাচটি জিতে ঘরের মাঠে শিরোপা উৎসব করতে চায় প্রতিযোগিতার সফলতম দলটি। “এটা ঠিক যে আমরা শিরোপার পথে আরেক ধাপ এগিয়েছি; তবে আমাদের এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। এখনও অনেক পয়েন্টের খেলা বাকি। আমরা সব ম্যাচ জয়ের চেষ্টা করব।” “আশা করি, বৃহস্পতিবার আমরা জয় দিয়েই শিরোপা উদযাপন করতে পারব।” সে লক্ষ্যে সতীর্থদের নির্ভার না হয়ে লক্ষ্যে মনোযোগ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন রামোস। সেরাটা দেওয়ার প্রশ্নে কোনো ঢিলেমি দেখতে চান না এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। “শিরোপা আমাদের আরেকটু কাছে এসেছে, কিন্তু আমরা নির্ভার হতে পারি না। আমাদের সতর্ক ও লক্ষ্যে স্থির থাকতে হবে। কারণ, অসচেতন থাকলে আমরা ছন্দ হারাতে পারি।” “লিগ জেতাটা হবে আমাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফল। আমরা সত্যিকারের এক চ্যালেঞ্জে লড়াই করছি।”

অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে সতর্ক বার্তা দিলেন মীরা

বিনোদন বাজার ॥ দক্ষিণী সিনেমার অভিনেত্রী মীরা মিঠুন। অভিনয় গুণে যতটা না আলোচনায় এসেছেন, তারচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে মন্তব্য করে। এবার দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে সতর্ক বার্তা দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকিও দিয়েছেন মীরা। টুইটে মীরা মিঠুন তৃষা কৃষ্ণানকে উদ্দেশ্য করে লিখেনÑতৃষা কৃষ্ণান আপনাকে শেষবারের মতো সতর্ক করছি। পরবর্তীতে যদি ফটোশপ দিয়ে আমার মতো চুলের স্টাইল, চেহারা বানান তবে আপনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব। আপনি কী করছেন তা ভালো করেই জানেন।   মীরার এমন টুইটের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হয়েছেন তিনি। নেটিজেনরা নানারকম নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। একজন লিখেছেনÑসত্যি এটি মজার রসিকতা। তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে এই তুলনা করা বন্ধ করুন মীরা। তৃষা আমাদের রতœ। কার্থি জিৎ নামে একজন লিখেছেনÑসারাদিন কেবল টুইটার ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। তৃষার বাড়ি যান দেখবেন, আপনাকেসহ রাস্তার কুকুরগুলোকেও সে খাওয়াবে। ২০১৭ সালে তামিল ভাষার একটি সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখে মীরা। এ পর্যন্ত তিনটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।  অন্যদিকে ১৯৯৯ সালে মিস মাদ্রাজ খেতাব জয়ের পর ওই বছরই চলচ্চিত্রে নাম লেখান তৃষা কৃষ্ণান। তার অভিনীত অভিষেক চলচ্চিত্র ‘জুড়ি’। এরপর তামিল, তেলেগু, মালায়লাম ও হিন্দি ভাষার অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। বর্তমানে তামিল ভাষার ৫টি ও মালায়ালাম ভাষার একটি সিনেমার কাজ তৃষার হাতে রয়েছে।

মুম্বাই ও কলকাতায় মাস্ক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে অমিতাভের কারণে 

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর মুম্বাই ও কলকাতায় মাস্ক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। ‘বিগ বি’ আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম এমনটাই দাবি করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছেÑগত ১৩ দিনে মাস্ক না পরার অপরাধে মুম্বাইয়ে ১ হাজার ৩৩০জনকে জরিমানা করে বৃহৎ মুম্বাই পুরনিগম (বিএমসি)। কলকাতায় প্রতিদিন গড়ে ১৫০জন পথচারীকে জরিমানা করা হয়। ভারতীয় দ-বিধির ১৮৮ ধারা অনুসারে এখন মাস্ক ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়া আইনত দ-ণীয়। কিন্তু তথ্য বলছে, অমিতাভ বচ্চন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এই সংখ্যা অদ্ভূতভাবে কমেছে। রোববার থেকে সিংহভাগ মানুষ মাস্ক পরে রাস্তায় বের হচ্ছেন। মানুষের মাঝে হঠাৎ এমন পরিবর্তনে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে কলকাতার ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রির পরিচালক ডা. প্রদীপ সাহা সংবাদমাধ্যমটিতে বলেনÑএটি সম্পূর্ণ মনস্তাত্বিক বিষয়। অমিতাভ বচ্চন তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা। অমিতাভকে নিয়ে মানুষের মনে মানসিক ফিকশন রয়েছে। এটা কিছুটা সেলিব্রেটি ‘ওয়ারশিপ সিন্ড্রোমে’-এর মতো। ডা. প্রদীপ সাহা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আরো বলেনÑঅমিতাভ বচ্চন শুধু ভারতে নন, বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বিশাল বাংলোতে থাকেন, যার প্রতিপত্তির অভাব নেই। সাধারণ মানুষ অবচেতনে এটা ভাবছেন যে, বিগ বি’র তো সব আছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাজার করেন না, দোকানে গিয়ে আড্ডা দেন না, তাও তিনি আক্রান্ত হলেন। তার মানে আমাদের হতেই পারে। আর এই ভয় থেকে সাধারণ মানুষ মাস্ক পরতে শুরু করেছেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের নানাবতি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অমিতাভ বচ্চনকে। পরবর্তীতে তার কোভিড-১৯ টেস্ট করা হলে পজিটিভ আসে। শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছেন অমিতাভ। গত বছর তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অমিতাভ জানান, তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ৭৭ বছর বয়সেও এখনো নিয়মিত অভিনয় করছেন বলিউডের ‘শাহেনশাহ’। তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘গুলাবো সিতাবো’। করোনাভাইরাসের কারণে প্রেক্ষাগৃহের পরিবর্তে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে এটি।

ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফর নিশ্চিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) আদৌ হবে কি হবে নাÑতার কোনো সুরাহা না হলেও একটা সুসংবাদ দিলেন বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি জানালেন, ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে ভারত। তবে, করোনা ভাইরাসের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় দলকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মেলবোর্ন বাদে সব জায়গাতেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তা আবারও বেড়েছে। সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ঐ সফরটি নিশ্চিত করেছি। ডিসেম্বরে আমরা সফর করব। আমরা আশা করছি, কোয়ারেন্টাইনের সময় সীমা কমানো হবে। কারণ আমরা চাই না, খেলোয়াড়রা এতদূর গিয়ে হোটেলে দুই সপ্তাহ বসে থাকুক। এটি খুবই হতাশাজনক ও হতাশাব্যঞ্জক হবে।’ সফরটা অস্ট্রেলিয়া বলেই নিশ্চিত গাঙ্গুলি। বললেন, ‘আমি বলেছিলাম, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাই নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমরা সেখানে যাব এবং আশা করছি, কোয়ারেন্টাইনের দিন সংখ্যা কমবে এবং আমরা ক্রিকেটে ফিরে যেতে পারব।’ ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া সফরে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার কথা ভারতের। ২০১৮-১৯ সালের সফরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার ম্যাচের ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বিরাট কোহলির ভারত।

ক্রিকেট ফেরানো নিয়ে চলছে আলোচনা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনার সংক্রমণ যেসব দেশে কমে আসতে শুরু করেছে, এরকম কিছু জায়গায় ক্রিকেট ফেরানোর তোড়জোড়ও চলছে। ইংল্যান্ডে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরে এসেছে। শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের অনুশীলন হয়েছে। তারা ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশে পরিস্থিতি এখনো ভালো না হলেও ক্রিকেট ফেরানো নিয়ে চলছে আলোচনা। আর বিসিবির বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে ঈদের পরই জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্প শুরু হতে পারে। জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হলে কাদের ডাকা হবে, সেটা নির্বাচকরা মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছেন। ৩৮ জনের একটা দলও বানিয়ে ফেলেছেন তারা। আগস্টেই ক্যাম্প শুরু হবে কি না, এ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বললেন না প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তবে তিনি বললেন, তাদের প্রস্তুতি আছে। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আমরা এর আগেও ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা করেছিলাম, সেজন্য বিসিবি সেভাবে মাঠ, জিম এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুতও করেছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় আমরা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। তবে এবার আমরা আরো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরাতে চাচ্ছি। সরকার অনুমোদন দিলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফিটনেস ক্যাম্প শুরু হতে পারে। ৩৮ জনের একটি স্কোয়াড তৈরি হয়েছে। কন্ডিশনিং ক্যাম্প দিয়ে শুরু হবে তাদের যাত্রা। এরপর স্কিলের কাজ।’ এরকম ক্যাম্প হলে সেটা হয়তো আবাসিক ক্যাম্প হতে পারে। অর্থাৎ অংশ নেওয়া ক্রিকেটাররা বিসিবির একাডেমি ভবনেই থাকবেন। সেখান থেকেই অনুশীলনে অংশ নেবেন। তবে এতে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা রাজি হবেন কি না, এ নিয়ে একটা সংশয় আছে। পাশাপাশি বিসিবি মনে করছে, ব্যাপারটা এরকম চাইলেই করে ফেলা যাবে তা নয়। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলছিলেন, ‘এ রকম কিছু করতে হলে অনেক চিন্তাভাবনা করে করতে হবে। আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে। আমরা খেলা তো ফেরাতেই চাই। সে জন্যই ভেন্যুগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু হুট করে কিছু করে ফেলা যাবে না। সব কিছু ভাবতে হবে।’ শুধু ভাবনাই নয়, জালাল ইউনুস বলছিলেন, এরকম ক্যাম্প করতে চাইলে সরকারের অনুমোদনও দরকার হবে। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা সরকারের নির্দেশনা মেনেই সব খেলা স্থগিত রেখেছি। এখন আবার চালু করতে হলে সরকারের একটা মত তো নিতেই হবে। জানতে হবে, তারা কী ভাবছেন।’

করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের পাশে যশোর  সেনানিবাস

প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতিতে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে দেশের মানুষ। বিভীষিকাময় এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশে থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে দেশের দক্ষ, চৌকস ও অকুতোভয় সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৩ জুলাই  সোমবার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষদের খোঁজ খবর নেওয়া ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেঁকাতে নাগরিকদের সচেতন করার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোমাত্রায়। নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে কেনাবেচা চলছে কীনা এই বিষয়টিও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সঠিক সময়ে  দোকান/মার্কেট খোলা ও বন্ধ করা হচ্ছে কীনা তা তদারকি করতে কখনো কখনো স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও মহামারী এই দু:সময়ে দেশব্যাপী উপার্জন হারানো নিম্ন আয়ের মানুষজনকে দেওয়া হচ্ছে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসহ সুরক্ষা সামগ্রী। পাশাপাশি গণপরিবহন মনিটারিং, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানসহ সকল প্রকার জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঘরবাড়ী মেরামত, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, সুপেয় পানি সরবরাহসহ নানাবিক জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি