কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৫ হাজার অসহায়ের খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও 

নিজ সংবাদ ॥ চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সব কিছুই উলট পালট করে দিয়েছে। এই ভাইরাসের থাবায় বাংলাদেশের মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে আনতে সরকার লকডাউন ঘোষণা করায়। থমকে গেছে জনজীবন। এতে সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। যারা দিন আনে দিন খায়। আওয়ামীলীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী  দেশরতœ শেখ হাসিনার আহব্বানে দেশের প্রতিটি জেলায় অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ চলমান রয়েছে। এদিকে আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও  কুষ্টিয়া উন্নয়নের রুপকার জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির নির্দেশ রয়েছে  কোন ব্যক্তি যেনো না খেয়ে থাকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন রাত পরিশ্রম করে চলেছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। শহর ও গ্রামের অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিয়ে প্রতিদিন ছুটে চলেছেন তিনি। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রথম ধাপে মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছেন এই আওয়ামীলীগ নেতা।

গতকাল সোমবার এমনি চিত্র চোখে পড়ে সাংবাদিকদের, প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের সার্বিক সহযোগিতায় ভ্যানে করে, আতাউর রহমান আতা ও সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী দিনব্যাপী ৮টি ইউনিয়নে ৫হাজার অসহায় মানুষের খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেন।

এ প্রসঙ্গে  উপজেলা  চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ করোনা ভাইরাস এই মহামারী রোগটির জন্য দেশ লকডাউন হওয়ায় অসহায় মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করায় প্রধানমন্ত্রীর আহব্বানে আমাদের জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির সঠিক নির্দেশনায় এই খাদ্য সামগ্রী অসহায়ের বাড়িতে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন- করোনা প্রতিরোধে মানুষের বাড়িতে থাকা নিশ্চিত করতে সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়া হয়। ৫এপ্রিল কিছু ইউনিয়নে এবং ৬ এপ্রিল ৮টি ইউনিয়নে, হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিলন মন্ডল, আব্দালপুর চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন মাস্টার, হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি চেয়ারম্যান  মহি উদ্দিন মন্ডল ও সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন, উজানগ্রাম চেয়ারম্যান সাবু ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ছানোয়ার মোল্লা ও সাধারন সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী, ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি  চেয়ারম্যান কেরামত আলী ও সাধারন সম্পাদক ঠান্টু, মনোহরদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহুর ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল হামিদ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি স্বপন হোসেন, গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান সহ ইউনিয়নের সকল মেম্বরদের উপস্থিতিতে অসহায় দুস্থ মানুষের খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবার খাদ্য সামগ্রী পাচ্ছে কিনা, পরে নেতারা তদারকি করছে। জুবায়ের হোসেন  চৌধুরী আরো বলেন, এটা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে সতর্কতার সঙ্গে করোনাভাইরাস রোধ করি। সরকারি নির্দেশ মেনে যার যার বাসায় অবস্থান করে এবং দূরত্ব  মেনে চলে সবাই সুস্থ থাকি, পরিবার নিয়ে ভালো থাকি।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা মন্ত্রিসভার

ঢাকা অফিস ॥ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই নির্দেশ প্রদান করা হয় বলে বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আজ থেকে সোশ্যাল আইসোলেশন বাস্তবায়নের জন্য আরো সতর্ক এবং স্ট্রিক্ট ওয়েতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পদক্ষেপ নিবে এবং প্রচার-প্রচারণায় অধিক গুরুত্ব দেবে, যাতে মানুষের মাঝে আরো সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।’ তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির ইতোমধ্যেই আগের থেকে কিছুটা অবনতি হয়েছে সুতরাং জনগণের পরিপূর্ণ সাহায্য ছাড়া এটা কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়।’ এজন্য কোয়ারেন্টাইন বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বারংবার মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। খন্দকার আনোয়ার বলেন, ‘যেখানে কোয়ারেন্টাইন বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন সেটা নিজ দায়িত্বে আপনারা বাস্তবায়ন করবেন। অন্যথায় কোনভাবেই এটাকে (করোনাভাইরাসের বিস্তার) নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’ করোনা নিয়ে মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সেলফ কোয়ারেন্টাইন অনেকেই মানছেন না, যে কারণে মন্ত্রিসভা এ সম্পর্কে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে।’ তিনি বলেন, জনগণ নিজেদের সুরক্ষায় যদি নিজেরা এগিয়ে না আসেন তবে, সরকারের একার পক্ষে এটি বাস্তবায়ন খুব কঠিন হয়ে পড়ে। মন্ত্রিসভায় আসন্ন পহেলা বৈশাখ এবং নববর্ষ উদযাপনের বাইরের সকল অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে উল্লেখ করে কোথাও জনসমাগম না করে সকলকে ঘরে থাকার মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নানা ডিজিটাল ডিভাইস এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বর্ষবরণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ‘পবিত্র শবে বরাত’ ও ঘরে থেকে ইবাদত বন্দেগীর মাধমে এবং মসজিদে নামাজের জামাতে অংশগ্রহণের বিষয়ে দেশের আলেম-ওলামাদের মতামতের ভিত্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বর্তমানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মক্কা এবং মদিনা শরিফে যাঁরা মসজিদ কম্পাউন্ডের মধ্যে রয়েছেন তাঁরাই সেখানে জামাতে নামাজ আদায় করছেন বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্দেশনা সকলকেই মেনে চলতে হবে। আর একে যদি আমরা গুরুত্ব না দেই তাহলে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবেনা।’

এখন ঘরে নামাজ পড়া শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক – শফী

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে ঘরে থেকে নামাজ ও ইবাদত করতে বলছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের জনগণের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি। আহমদ শফী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশেও বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে এই ভাইরাস আমাদের দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। আক্রান্তদের অনেকেই মারা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে দোয়া ও শরিয়তের আলোকে সর্তকতা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে সরকার ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে যেকোনো ধরণের বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আদেশ দিয়েছে। মসজিদে নামাজ ও জুমায় উপস্থিতি সীমিত করতে বলা হয়েছে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এ সকল সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা সঠিক ও যথার্থ।’ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন আল্লামা শফী। তিনি বলেন, ‘তবে সর্তকতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা আমাদের একমাত্র কাজ নয়, বরং আমাদের পাপ ও অন্যায় থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ভবিষ্যতে সকল ধরণের অপরাধ থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করে তওবা করতে হবে। ঘরে বসে দোয়া, ইস্তেগফার ও নফল ইবাদত করতে হবে। যেন আল্লাহ আমাদের এই মহামারি থেকে রক্ষা করেন।’

জনগনকে ঘরে থাকার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসন

করোনামুক্ত রাখতে জোড়ালো হচ্ছে লকডাউনের দাবী

অযাচিত চলাচল রুখতে কুষ্টিয়ায় কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা জনগনকে ঘরে থাকার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। করোনার ভয়াবহতার দিকে লক্ষ্য রেখে সকল জনগনকে কোন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার কঠোর নির্দেশ দিলেও তা অনেকে কর্ণপাত করছে না। করোনার ভয়াবহতা রক্ষার প্রধান হাতিয়ার মানুষকে ঘরে অবস্থান করা কিন্তু কুষ্টিয়ার চিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যায় শহর ও শহরতলীর পাশাপাশি গ্রামে মানুষ কারনে অকারনে ঘর থেকে বাইরে এসে নির্দিষ্ট পরিমাপকে উপেক্ষা করে জনগন মেলামেশা করছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাটবাজারের সময়সীমার মধ্যে বন্ধ করা হলেও হাটবাজারে দুরত্ব রক্ষায় কোন রকমের ফল আসছে না। ফলে সাধারন জনগন সকলের মঙ্গলের জন্য প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। অনেকে প্রয়োজনে কঠোর থেকে কঠোর হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে। কুষ্টিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু বলেন- কুষ্টিয়ার প্রশাসন আন্তরিকতার সাথে সাধারন জনগনকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়ে যাচ্ছেন এতে কিছু ফল আসলেও অধিকাংশ মানুষের মাঝে নিজ উদ্যোগে ঘরমুখি হওয়ার প্রবনতা নেই। প্রশাসনের ভয়ে ঘরে না ঢুকে নিজেদের থেকে ঘরে থাকা প্রয়োজন এই বিষয়টি মানুষের মাঝে উপলব্ধি না হলে কোন কাজ হবে না। আর এই জন্য প্রয়োজনে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে লাঠিপেটা করতে হবে। তিনি জনগনকে স্বেচ্ছায় ঘরে যাওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সেভ থাকি আর দেশকে সেভ রাখি।

গণউন্নয়ন গ্রন্থগার কুষ্টিয়ার সমন্বয়কারী ও সিডিএল নারী ফোরামের সমন্বয়ক আক্তারী সুলতানা বলেন, সারাদেশে করোনার প্রকোপ বেড়েই চলেছে। ক্রমেক্রমে ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাচ্ছে এর থেকে পরিত্রান পেতে আমাদের ঘরে থাকার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে। মানুষ বুঝতে না চাইলে প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, শহরের মধ্যে এখন অবৈধ যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । এসব যানবাহন বালু বহন শব্দ দুষন ও পরিবেশ দুষন করছে কিন্তু প্রশাসন এদের ব্যাপারে নির্বিকার। তিনি বলেন, মানুষকে ঘরে ঢুকানোর জন্য যা প্রয়োজন প্রশাসনকে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী দ্বীপ জুয়েলার্সের স্বত্তাধিকারী এস.এম আতিকুর রশিদ আতিক জানান- সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও মানুষজন সরকারের কথা শুনছে না। যারা আইন মেনে ঘরে যাচ্ছে না প্রয়োজনে তাদের জন্য প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। তিনি বলেন, যারা কথা না মেনে ঘরের বাইরে আসবে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। রাজধানী এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী পরিবহন ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান জানান- করোনা থেকে বাঁচতে আমাদের সরকারের কথা শুনতে হবে। করোনাকে কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না। আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিদিনই এর ভয়াবহতা বাড়ছে। সামনের দিনগুলোতে আরো ভয়াবহতা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে আর এর জন্য প্রয়োজনে পুরো জেলা লক ডাউন করা উচিত। যারা কথা মানবে না তাদের জন্য আর কোন দয়া নয় এখন শাষন করার সময় এসে গেছে।

গতকালও দেখা গেছে প্রশাসনের নির্দেশনা না মেনে প্রাইভেট গাড়ি ও মোটর সাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের অলিগলি। অবৈধ যানবাহন চলাচল এখন বন্ধ হয়নি। প্রতি নিয়ত চলছে কিন্তু এদের প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসছে না। প্রশাসনের এতো নজরদারীর পরেও  মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট গাড়ি কোন কারন ছাড়াই চলাচল করছে। গত রবিবার থেকে শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশের তৎপরতা প্রশসংনীয় ছিল। পুলিশের তৎপরতায় দেখা গেছে এসব গাড়ি চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করা হয় কিন্তু পুলিশের নাগালের বাইরে গেলে আবার একই অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। রবিার ও সোমবার দুপুরের পর থেকে মানুষজনের চলাচল কমে আসে আর সন্ধার পর থেকে একেবারেই শুন্যে নেমে আসে জনগনের চলাচল। তারপরেও অলিতে গলিতে মানুষজন ঘর থকে বের হয়ে বাইরে আসছে ধুমপান করতে। অনেক দোকান বন্ধ রেখেও ধুমপান সামগ্রীর বেচাকেনা রমরমা চলছে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে। বিড়ি সিগারেটের দোকানের দিকে বিশেষ নজর রাখতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন অনেকে।

 

করোনা : তাবলিগ নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে অপর্ণা

বিনোদন বাজার ॥ ভারতের রাজধানী দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদে আয়োজিত তাবলিগ জামাতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সম্প্রতি ৬৪৭ জনেরও বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

এরপর দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার তাবলিগ জামাতকে ভারতে করোনাভাইরাস বৃদ্ধির জন্য দায়ী করে শনিবার টুইট করেন কলকাতার অভিনেত্রী ও নির্মাতা অপর্ণা সেন। নিজামউদ্দিনের তাবলিগ জামাতকে ‘ক্রিমিন্যাল অ্যাক্ট’ বলে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন এই নায়িকা।

অপর্ণা সেন লিখেছিলেন, ‘জামাতের সম্মেলন শুধু মারাত্মক নয়, এটা ‘ক্রিমিন্যাল অ্যাক্ট’, সে কারণে এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। আমি ধর্মনিরপেক্ষ আর উদারনীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু এমন কাজকে সমর্থন করব না, যা আমার দেশের আইনের বিরুদ্ধে যায়। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী সকলের- ক্ষেত্রেই এই কথা প্রযোজ্য।’

অপর্ণার এমন মন্তব্য করে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েন। কেউ অপর্ণাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘শুধু জামাত নিয়ে কথা বলে কী হবে? মন্দির বা রামনবমী নিয়ে বলছেন না কেন?’ অপর্ণা সরাসরি সমস্যার গভীরে না গিয়ে শুধু মন্তব্য করে ‘মাঙ্কি ব্যালেন্সিং’ করছেন।’ বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

এসব প্রশ্নের উত্তরে অপর্ণা বলেন, আমি ধর্মীয়-অধর্মীয় যেকোনো ধরনের জমায়েত, যা থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে তার বিরোধী। আমি শুধুমাত্র জামাতকেই দুষছি না। জামাতের জন্য তো সব মুসলিম সম্প্রদায়কে রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। এটাও ঠিক নয়।’

নদীতে আটকে থাকা শুটিংয়ের লঞ্চ ফিরল ঢাকায়

বিনোদন বাজার ॥ বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকায় ফিরেছে সুন্দরবন থেকে ঢাকার ফেরার পথে মাঝ নদীতে আটকে থাকা ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের লঞ্চ।

রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় লঞ্চটি সদরঘাটে ভিড়েছে বলে গ্লিটজকে জানান চলচ্চিত্রের পরিচালক আবু রায়হান জুয়েল।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের সব রুটে যাত্রাবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণার পর খুলনার দাকোপ এলাকায় কোস্ট গার্ডের বাধার মুখে মাঝ নদীতেই আটকে থাকে শুটিংয়ের লঞ্চটি।

পরবর্তীতে তথ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে লঞ্চ ছাড়ার অনুমতি পাওয়ার কথা জানান চলচ্চিত্রের পরিচালক।

গত ১৪ মার্চ ঢাকার সদরঘাট থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চে চলচ্চিত্রের অভিনেতা সিয়াম ও অভিনেত্রী পরীমনিসহ ১০৪ জন অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী ছিলেন; টানা ২০ দিন লঞ্চে থাকার পর ঢাকায় ফিরলেন তারা।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় শুটিং ইউনিটে তাদের জন্য পর্যাপ্ত সতকর্তামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বলে জানান রায়হান জুয়েল।

“যারা খাবার পরিবেশন করছেন তাদের মাস্ক, গ্লাভসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাইরে থেকে ফিরে গরম পানি দিয়ে কাপড় ধোয়া হয়েছে। সবসময়ের জন্য তিনজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছি আমরা। সবার দোয়ায় আমরা সুস্থ অবস্থায় ঢাকায় ফিরেছি।”

সাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ অবলম্বনে সরকারি অনুদানে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের সহ-প্রযোজনায় আছে বঙ্গবিডি।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ‘নসু ডাকাত কুপোকাত’ নামে অনুদান পাওয়ার পর ছবির নাম বদলে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ রাখা হয়।

শুটিং বন্ধ হলেও কর্মীদের পারিশ্রমিক দিচ্ছেন সালমান

বিনোদন বাজার ॥ করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে জারি হয়েছে লকডাউন। বন্ধ শুটিংয়ের কাজ। তাই ‘রাধে’র পোস্ট প্রোডাকশনের কাজও আপাতত বন্ধ। কিন্তু তার জন্য কর্মীরা টাকা পাচ্ছেন না, এমন নয়। কাজ না হলেও ‘রাধে’ ছবির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের টাকা আটকাননি সালমান খান। নিয়ম মেনে ছবির সমস্ত কলাকুশলীকে টাকা দিচ্ছেন তিনি।

হাতে সময় খুব কম। এবছর ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘রাধে’ ছবির। সেই মতো পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শুরু হয়েছিল। সালমানের পানভেলের ফার্মহাউজে চলছিল কাজ। কিন্তু করোনার জেরে সমস্ত কাজ বন্ধ হয়ে যায় ইন্ডাস্ট্রিতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কাজ যে শুরু করা যাবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু ছবির সঙ্গে যুক্ত মানুষরা সমস্যায় পড়েন। কারণ তাঁদের আয় হয় দৈনিক। কাজ বন্ধ মানে সেই দিনের টাকাও বন্ধ। আর পরপর কয়েকদিন এভাবে টাকা বন্ধ মানে বাড়িতে হাঁড়ি চড়বে কিনা, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন ভাইজান। ছবির সঙ্গে যুক্ত সমস্ত টেকনিশিয়ান ও শিল্পীকে দৈনিক টাকা একবারে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সালমান খানের মেকআপ আর্টিস্ট একটি সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, শুটিং বন্ধ। কিন্তু তাদের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাচ্ছে। ২৬ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের রোজের টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে চলে এসেছে ইতিমধ্যেই।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত দিনমজুরদের খাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন ভাইজান। এবার সামনে এলো শুটিং বন্ধ থাকলেও তার প্রযোজিত ছবির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের টাকা দিচ্ছেন অভিনেতা। এমনিতেই সালমান যে নানারকম সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত কিংবা ভিন্ন সময়ে ভিন্ন প্রেক্ষিতে একাধিকবার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অসহায়দের ত্রাতা হিসেবে ধরা দিয়েছেন, সেকথা সবাই জানেন। সালমানের ‘বিইং হিউম্যান’ সংস্থাও বহু দুস্থদের পড়াশোনা, ওষুধপাতির দায়িত্ব নিয়েছে।

চলে গেলেন মার্কিন  গায়ক বিল উইথার্স

বিনোদন বাজার ॥ চলে গেলেন সত্তর দশকের জনপ্রিয় মার্কিন গায়ক বিল উইথার্স। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮১ বছর। এইন্ট নো সানশাইন ও লিন অন মি খ্যাত এই গায়ক ৩০ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলসে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনটাই জানানো হয় তার পরিবার থেকে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনেকদিন ধরেই হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন বিল উইথার্স। ১৯৮৫ সালের পর আর কোনো গান রেকর্ড করেননি এই শিল্পী। ৭০ দশকে গাওয়া তার গানগুলো এখনও আর অ্যান্ড বি ও হিপহপ প্রেমীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে তার ‘লিন অন মি’ গানটি এই করোনাকালেও ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গানটির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান জানাচ্ছেন অনেকেই।

তবে বিল উইথার্সের এই মৃত্যু করোনা ভাইরাসের কারণে কি-না, সেটি স্পষ্ট করেনি তার পরিবার। তবে এরমধ্যে গেল কয়েকদিনে করোনা ভাইরাসের থাবায় মৃত্যুবরণ করা তারকারা হলেন ব্রিটিশ কৌতুকাভিনেতা ইডি লার্জ, এমি ও গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জয়ী শিল্পী অ্যাডাম শ্লেসিংগার, স্টার ওয়ারস ফ্র্যাঞ্চাইজির অভিনেতা অ্যান্ড্রু জ্যাক, জাপানি কৌতুক অভিনেতা কেন শিমুরা, আমেরিকান অভিনেতা মার্ক ব্লাম, আমেরিকান কান্ট্রি সংগীতশিল্পী জো ডিফি, টনি অ্যাওয়ার্ডস ও এমি জয়ী চিত্রনাট্যকার টেরেন্স ম্যাকন্যালি ও ক্যামেরুনের স্যাক্সোফোন কিংবদন্তী মানু দিবাঙ্গো।

চিত্রনায়িকা শাবনূরকে নিয়ে গুজব

বিনোদন বাজার ॥ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চিত্রনায়িকা শাবনূর- এমন একটি খবর গত দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ চাউর ছিল; কিন্তু বিষয়টি গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত এ চিত্রনায়িকা।

মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণই গুজব। আমি সুস্থ আছি এবং নিরাপদে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন এসব গুজব ছড়ানোর সময় নয়। যারা এসব করছেন তারা অমানুষ। নিশ্চিত না হয়ে কারও অসুস্থতার খবরই জানানো উচিত নয়।

এখন সবার জন্য সবার দোয়া করার সময়।’ তবে করোনাভাইরাসের প্রকোপ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতেও এ ভাইরাসের প্রকোপ অনেক বেশি।

কতক্ষণ ভালো থাকা যাবে তা জানি না। তবে আমি এবং আমার পরিবারের সবাই এখন পর্যন্ত ভালো আছি। গৃহবন্দি হয়ে আছি। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছি না। এক সপ্তাহের বাজার একবারে করে নিয়ে আসছি। এখানে আমার অনেক আত্মীয়রা থাকেন। নিজেদের লোকজন ছাড়া কেউ কারও বাড়িতে যাচ্ছি না।’ প্রসঙ্গত, বর্তমানে ছেলেকে নিয়ে অন্য ভাইবোনদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এ নায়িকা।

লকডাউনে মা হবেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া!

বিনোদন বাজার ॥ সারা বিশ্বজুড়ে করোনার আতঙ্ক। তবে লকডাউনে সুপার স্টাররা একেক ভাবে সাজিয়ে নিয়েছেন নিজেদের সময়। আর প্রিয়াঙ্কা-নিক বরাবরের মতোই দিচ্ছে নতুন নতুন বার্তা।

নিক জোনাসের সঙ্গে ২০১৮ এর ১ ডিসেম্বর সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তারপর থেকে নিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমিয়ে সংসার করছেন প্রিয়াঙ্কা। তবে প্রিয়াঙ্কা কবে মা হবেন? কবে নিকের সঙ্গে তাঁর এই সংসারটা আরো একটু নতুন করে শুরু করবেন? একথা জানার কৌতুহল রয়েছে বহু মানুষের মধ্যেই। সম্প্রতি, এবিষয়ে মুখ খুলেছেন পিগি চপস।

‘টটলার’ বলে একটি বিখ্যাত ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। নিক ঘরণীকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি নিকের সঙ্গে নিজের সংসারটা আরেকটু গুছিয়ে নেওয়ার কথা কি ভাবছেন? উত্তরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, এই মুহূর্তে, মানে এই বছরটা আমার টাইট শিডিউল। প্রচুর কাজে প্রতিশ্রুতি দেওয়া রয়েছে। সেই কাজগুলি শেষ করতে হবে।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, পরিবারও আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, আর এটা আমার কাছে সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরিবার এমন একটি জিনিস, যেটা আমি সব সময়ই চেয়েছিলাম। আশা রাখছি, ঈশ্বর যখন চাইবেন, তখনই সুখবর আসবে।

২০১৮র ১ ও ১ ডিসেম্বর হিন্দু ও খ্রিস্টান রীতিতে যোধপুরের উমেদ ভবনে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা ও নিক। দিল্লি ও মুম্বাইতে ঘটা করে রিসেপশন পার্টিও দেন প্রিয়াঙ্কা-নিক। বর্তমানে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বয়স ৩৭ বছর, আর নিক জোনাসের বয়স ২৭ বছর।

করোনার জন্য নিজের অফিস-বাড়ি দিলেন শাহরুখ

বিনোদন বাজার ॥ করোনা মোকাবিলায় বড় বড় তারকাও দেখিয়েছেন তাদের মহত্ত্ব। এই তালিকায় বাদ যাননি বলিউডের কিং খান শাহরুখ। নিজের চারতলা অফিস ও বাড়ি করোনা সন্দেহদের রাখার জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টারব হিসেবে দিয়েছেন শাহরুখ খান।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে গ্রেটার মুম্বই পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি টুইট করা হয়। সেই টুইটে শাহরুখ এবং তার স্ত্রীকে এই চরম দুঃসময়ে মানুষের পাশে এই ভাবে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়, ‘শাহরুখ এবং গৌরী খান তাদের ব্যক্তিগত চারতলা অফিসটি শিশু, মহিলা এবং বয়স্কদের কোয়রান্টিন সেন্টার হিসেবে দান করার মতো যে পদক্ষেপ নিলেন তা নিঃসন্দেহে সুচিন্তার প্রতিফলন।

জানা যায়, এমন উদ্যোগে শাহরুখ খানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। প্রিয় নায়কের মহানুভবতা নিয়ে মেতে আছেন ভক্তরাও। প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে কলকাতা নাইট রাইডার্স, আইপিএল ফ্যাঞ্চাইজির মালিক গৌরী খান আর শাহরুখ খান, জুহি চাওলা মেটা, জয় মেটা অর্থ দান করবেন।

মহারাষ্ট্র মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে রেড চিলিস এন্টারটেনমেন্ট টাকা দেবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিষেবা প্রদানকারী মীর ফাউন্ডেশন এবং কেকেআর যৌথভাবে পশ্চিমবঙ্গ আর মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কাজ করে ৫০,০০০ পিপিই কিট দেবে। মীর ফাউন্ডেশন আর একসাথে আর্থ ফাউন্ডেশন মুম্বাইয়ের ৫৫০০ পরিবারকে এক মাসের খাবার দেবে। নতুন করে ব্যবস্থা করা হবে রান্নাঘরের, যেখানে রোজ ২০০০ মানুষের রান্না করা হবে। এই রান্না পৌঁছে দেওয়া হবে সেই সব মানুষের কাছে যারা ঠিক মতো খাবার পাচ্ছেন না। রোটি ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে গরীব মানুষদের কাছে মুম্বাই পুলিশের সাহায্যে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।

আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে

দেশী মুরগী প্রতিপালন বিশেষ অবদান রাখতে পারে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধানে দেশী মুরগী প্রতিপালন বিশেষ অবদান রাখতে পারে । আমরা সবাই বলে থাকি দেশী মুরগির উৎপাদন কম। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ লক্ষ্য এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশী মুরগীর উৎপাদন দ্বিগুনের ও বেশী পাওয়া সম্ভব। দেশী মুরগি থেকে লাভজনক উৎপাদন পওয়ায় বিভিন্ন কৌশল এখানে বর্ননা করা হয়েছে। গবেষনায় দেখা গেছে দেশী মুরগির ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাজারে বিক্রি করার চেয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তৈরী করে ৮-১২ সপ্তাহ বয়সে বিক্রি করলে লাভ বেশী হয়। এক সঙ্গে ১০-১২ টি মুরগি নিয়ে পালন শুরু করতে হবে। তবে কখনও ১৫-১৬ টির বেশী নেওয়া ঠিক না । তাতে অনেক অসুবিধাই হয় । শুরুতে মুরগিগুলোকে কৃমি নাষক ঔষধ খাওয়ানোর পরে রানীক্ষেত রোগের টীকা দিতে হবে। মুরগির গায়ে উকুন থাকলে তাও মেরে নিতে হবে। প্রতিটি মুরগিকে দিনে ৫০-৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। আজকাল বাজারে লেয়ার মুরগির সুষম খাদ্য পাওয়া যায় । তা ছাড়া আধা আবদ্ধ এ পদ্ধতিতে পালন করলে লাভ বেশী হয়। মুরগির সাথে অবশ্যই একটি বড় আকারের মোরগ থাকতে হবে। তা না হলে ডিম ফুটানো যাবে না । ডিম পাড়া শেষ হলে মুরগি উমে আসবে। তখন ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটানোর ব্যবস্থা নিতে হয়। এক সঙ্গে একটি মুরগির নীচে ১২-১৪ টি ডিম বসানো যাবে। খামারের আদলে বাঁশ, কাঠ খড়, বিচলী তাল নারকেল সুপারির পাতা দিয়ে যত কম খরচে স্থানান্তর যোগ্য ঘর তৈরী করা সম্ভব তা করা যায়। ঘর তৈরীর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সঠিক মাপের হয় এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে পারে । বানানোর পর ঘরটিকে বাড়ীর সবচেয়ে নিরিবিলি স্থানে রাখতে হবে। মাটির উপর ইট দিয়ে তার উপর বসাতে হবে। তাহলে ঘর বেশী দিন টিকবে। ফুটানোর ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষন ঃ- আরেকটি প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ন কাজ। ডিম পাড়ার পর ডিম সংগ্রহের সময় পেন্সিল দিয়ে ডিমের গায়ে তারিখ লিখে ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষন করতে হবে। ডিম পাড়া শেষ হলেই মুরগি কুঁচো হবে। গরম কালে ৫-৬ দিন বয়সের ডিম এবং শীতকালে ১০-১২ দিন বয়সের ডিম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করতে হবে। দেশী মুরগি পালন কৌশলের বিশেষ নজর দেয়ার ধাপ সমূহঃ- উমে বসানো মুরগির পরিচর্যা করতে হবে। মুরগির সামনে পাত্রে সবসময় খাবার ও পানি দিয়ে রাখতে হবে যাতে সে ইচ্ছে করলেই খেতে পারে । তাহলে মুরগির ওজন হ্রাস পাবেনা এতে বাচ্চা তোলার পর আবার তাড়াতাড়ি ডিম পাড়া আরম্ভ করবে।  ডিম বসানোর ৭-৮ দিন পর আলোতে রাতের বেলা ডিম পরীক্ষা করলে বাচ্চা হয় নাই এমন ডিমগুলো  চেনা যাবে এবং বের করে আনতে হবে। বাচ্চা হওয়া ডিমগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন মুরগি বিরক্ত না হয়। প্রতিটি ডিমের গায়ে সমভাবে তাপ লাগার জন্য দিনে কমপেক্ষ ৫-৬ বার ওলট পালট করে দিতে হবে। বাতাসের আর্দ্রতা কম হলে বিশেষ করে খুব গরম ও শীতের সময় ডিম উমে বসানোর ১৮- ২০দিন পর্যন্ত কুসুম গরম পানিতে হাতের আঙ্গুল ভিজিয়ে পানি ¯েপ্র করে দিতে হবে।  ফোটার পর ৫-৬ ঘন্টা পর্যন্ত মাকে দিয়ে বাচ্চাকে উম দিতে হবে। তাতে বাচ্চা শুকিয়ে ঝরঝরে হবে। বাচ্চা ফুটার পর বাচ্চার পরিচর্যা ও ডিম পাড়া মুরগির পরিচর্যা ঃ- গরমকালে বাচ্চার বয়স ৩-৪ দিন এবং শীতকালে ১০-১২ দিন পর্যন্ত বাচ্চার সাথে মাকে থাকতে দিতে হবে। তখন মুরগি নিজেই বাচ্চাকে উম দিবে। এতে কৃত্রিম উমের (ব্র“ডিং ) প্রয়োজন হবে না। এ সময় মা মুরগিকে খাবার দিতে হবে। মা মুরগির খাবারের সাথে বাচ্চার খাবার ও কিছূ আলাদা করে দিতে হবে। বাচ্চাগুলো মায়ের সাথে খাবার খাওয়া শিখবে। উপরোক্ত বর্নিত সময়ের পর মুরগিকে বাচ্চা থেকে আলাদা করতে হবে। এ অবস্থায় বাচ্চাকে কৃত্রিম ভাবে ব্র“ডিং ও খাবার দিতে হবে। তখন  থেকেই বাচ্চা পালনের মত বাচ্চা পালন পদ্ধতির সব কিছুই পালন করতে হবে। মা মুরগিকে আলাদা করে লেয়ার খাদ্য দিতে হবে। এ সময় মা মুরগিকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়ার জন্য পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন দিতে হবে। মা মুরগি ও বাচ্চা এমনভাবে আলাদা করতে হবে যেন তারা দৃষ্টির বাহিরে থাকে। এমন কি বাচ্চার চিচি শব্দ যেন মা মুরগি শুনতে না পায়। তা না হলে মা ও বাচ্চার ডাকা ডাকিতে কেউ  কোন খাবার বা পানি কিছুই খাবে না। আলাদা করার পর অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে গেলে আর কোন সমস্য থাকে না। প্রতিটি মুরগিকে এ সময় ৮০-৯০ গ্রাম লেয়ার খাবার দিতে হবে। সাথে সাথে ৫-৭ ঘন্টা চড়ে বেড়াতে দিতে হবে। প্রতি ৩-৪ মাস পর পর কৃমির ঔষধ এবং ৪-৫ মাস পর পর আর. ডি. ভি . টীকা দিতে হবে। দেশে একটি মুরগি ডিম পাড়ার জন্য ২০ -২৪দিন সময় নেয় । ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য ২১ দিন সময় নেয় । বাচ্চা লালন পালন করে বড় করে তোলার জন্য ৯০-১১০ দিন সময় নেয় । ডিম থেকে এ ভাবে (৯০-১১০ দিন ) বাচ্চা বড় করা পর্যন্ত একটি  দেশী মুরগির উৎপাদন চক্র শেষ করতে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২০- ১৩০ দিন সময় লাগে। কিন্তু মাকে বাচ্চা থেকে আলাদা করার ফলে এই উৎপাদন চক্র ৬০ -৬২ দিনের মধ্যে সমাপ্ত হয়। বাকি সময় মুরগিকে ডিম পাড়ার কাজে ব্যবহার করা যায় । এই পালন পদ্ধতিকে ক্রিপ ফিডিং বলে । ক্রিপ ফিডিং পদ্ধতিতে বাচ্চা পালন করলে মুরগিকে বাচ্চা পালনে  বেশী সময় ব্যায় করতে হয় না। ফলে ডিম পাড়ার জন্য মুরগি বেশী সময় দিতে পারে। এই পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটার সংখ্যা বেশী হয় । দেখা  গেছে বাচ্চার মৃত্যুহারও অনেক কম থাকে। মোট কথা অনেক দিক দিয়েই লাভবান হওয়া যায়। এই পদ্ধতি বর্তমানে অনেকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন।

লকডাউনে ‘সেক্স পার্টি’, শাস্তির মুখে ওয়াকার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের কাইল ওয়াকার। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে লকডাউনের মধ্যে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হলেও নিয়ম ভঙ্গ করে একটি ‘সেক্স পার্টি’ আয়োজন করায় ম্যান সিটির কাছ থেকে ওয়াকার শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সান পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার নিজের ফ্লাটে দুই জন কর্ল গার্লকে ডাকার পর ক্ষমা চেয়েছেন ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ২৯ বছর বয়সী ওয়াকার। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনগণকে সামাজিক দূরত্ব বজায়ে রাখতে সরকার ঘোষিত গাইড লাইন মেনে চলার আহবান জানান ওয়াকার। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী বৃটেনে প্রায় সাতশ লোক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এক বিবৃতিতে ওয়াকার বলেন,‘ হেয় করার জন্য আমি আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, ফুটবল ক্লাব, ভক্ত-সমর্থক ও জনগণের কাছে ক্ষমা চাই।’ ম্যান সিটির পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,‘ আমাদের কর্মী ও খেলোয়াড়রা যে যেভাবে পারছে করোনার বিপক্ষে লড়াইয়ে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসকে যথার্থ সাহায্য করছে । কিন্তু কাইলের কাজটি সরাসরি এ প্রচেষ্টার বিরোধী।’ ‘এ ধরনের অভিযোগ শুনে আমরা হতাশ, দ্রুত কাইলের বিবৃতি ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আগামীতে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

চলে গেলেন ‘বিনোদনদায়ী’ এডওয়ার্ডস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আন্তর্জাতিক ম্যাচ কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব সমৃদ্ধ নয় ক্যারিয়ার। নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটে জক এডওয়ার্ডস তবু একজন কিংবদন্তি। খেলাটা যদি হয় বিনোদেনের জন্য, তার জুড়ি মেলা ছিল ভার! ক্রিকেট মাঠে বিনোদনের পসরা গুটিয়ে বিদায় জানিয়েছিলেন অনেক আগেই। এবার তিনি বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকেও। ৬৪ বছর বয়সে মারা গেছেন এডওয়ার্ডস। সত্তর-আশির দশকে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট মাতিয়েছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের হয়ে খেলতেন এডওয়ার্ডস। তার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছে তারা। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ৬টি টেস্ট ও ৮টি ওয়ানডে খেলেছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে ডেনিস লিলি, ম্যাক্স ওয়াকারদের বোলিংয়ে ৫১ করেছিলেন ৪৭ বলে, ১১ বাউন্ডারিতে। তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অকল্যান্ডে করেছিলেন জোড়া ফিফটি। তবে প্রথম তিন টেস্টের পর টানা ৫ টেস্টে আর পঞ্চাশের দেখা পাননি। ওয়ানডেতেও নেই কোনো পঞ্চাশ। আরেক আগ্রাসী কিপার-ব্যাটসম্যান ইয়ান স্মিথের আবির্ভাবে খুব বেশি লম্বা হয়নি এডওয়ার্ডসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। তবে নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটে তার আগ্রাসী অনেক ইনিংস, বিশাল সব ছক্কা আছে গল্পগাঁথা রচিত হয়েছে অনেক। কখনও তার ছক্কা মাঠ ছাড়িয়ে পড়েছে পাশের রাস্তায়, কখনও দূরের লেকে। ২০১১ সালে নেলসন মেইলকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারে ফুটে উঠেছিল তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চিত্র। “মনে আছে, ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে যখন ওপেন করেছিলাম, বিষেন সিং বেদির বলে ৪১ রানে আউট হই। গ্লেন টার্নার (আরেক ওপেনার) মনে হয় ৩ অথবা ৪ রানে অন্য প্রান্তে ছিল।” “মার্লবরোর বিপক্ষে গ্রায়েম লোয়ান্সের সঙ্গে ওপেন করা একটি ম্যাচের কথাও মনে পড়ে। আমার যখন সেঞ্চুরি হলো, গ্রায়েমের রান তখন ১৩!” প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন তিনি ৯২টি। রান করেছেন সাড়ে ৪ হাজারের বেশি। ক্যাচ-স্টাম্পিং মিলিয়ে শিকার ১৪২টি।

ডাগআউটে না দাঁড়িয়েই দায়িত্ব হারালেন আমিরাত কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সব ক্রীড়া ইভেন্ট রয়েছে স্থগিত। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর তাই কোনো ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ানোর সুযোগ পাননি ইভান ইয়োভানোভিচ। এর আগেই চাকরি হারালেন সংযুক্ত আরব আমিরাত জাতীয় ফুটবল দলের সার্বিয়ান এই কোচ। নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সোমবার ইয়োভানোভিচ ও তার কোচিং দলকে ছাঁটাই করার কথা জানায় আরব আমিরাতের ফুটবল ফেডারেশন (ইউএই এফএ)। ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এএফসি এশিয়া বাছাই সামনে রেখে গত ডিসেম্বরে ছয় মাসের চুক্তিতে ইয়োভানোভিচকে নিয়োগ দিয়েছিল আরব আমিরাত। কিন্তু আগামী জুন পর্যন্ত সব আন্তর্জাতিক ম্যাচ স্থগিত করে দিয়েছে ফিফা। ক্লাব ফুটবলে বেশ সফল এই কোচকে ছাঁটাইয়ের কারণ তাই বেশ পরিষ্কার। নিজেকে প্রমাণের কোনো সুযোগই পেলেন না সাইপ্রাসের ক্লাব আপোয়েল নিকোসিয়ার হয়ে চারটি লিগ শিরোপা জেতা ও দলটিকে ২০১২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে নেওয়া এই কোচ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চার ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে আরব আমিরাত। পাঁচ দলের গ্রুপে তাদের উপরে রয়েছে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড।

কুষ্টিয়ায় সেভ লাইফ’র উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ গতকাল রবিবার সকাল ১০ টা থেকে কুষ্টিয়া সেভ লাইফ’র উদ্যোগে দুঃস্থ ও দরিদ্র্য মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি সার্বিক সহযোগিতা করেন সেভ লাইফ’র- মোকাদ্দেস হোসেন, রিংকু কর্মকার, রাজীব সাহা, সঞ্জয় আগরওয়ালা, রাজীব কুন্ডু, প্রশান্ত— দাস (টুম্পা), খুরশিদ আহমেদ, মহিবুল আলম, উত্তম কর্মকার, পরিতোষ দাস, ইমরান হোসেন মেরিন, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মিলন হোসেন, আনিছুর রহমান সহ আরো অন্যান্য সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, সেভ লাইফ’র সভাপতি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট শিশু সংগঠক আশরাফ উদ্দিন নজু এবং সেভ লাইফ’র সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার গৌরব চাকী।

ঝিনাইদহ স্বপ্ন সিড়ি সমাজ কল্যান সংস্থার উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ পার্কপাড়া এলাকার স্বপ্ন সিড়ি সমাজ কল্যান সংস্থার উদ্যোগে ও বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ জেলা শাখার সহযোগিতায় করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। রোববার সকালে পৌর এলাকার ৫০ জন কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদের সভাপতি ও স্বপ্ন সিড়ি সমাজ কল্যান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রুবেল পারভেজ, সহ সভাপতি নূরুজ্জামান, মেহেরুজ্জামান সবুজ ও ফয়সাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এসময় ওই এলাকার ৫০ জন খেটে খাওয়া পরিবারের মাঝে আটা, আলু, কাচা মরিচ, কাচ কলা, মিষ্টি কুমড়া, পিয়াজ ও টমেটো বিতরণ করা হয়। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে তাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কাজ না থাকায় অভাব অনটনে থাকা পরিবারগুলো এই খাবার পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

করোনাভাইরাস

অর্থনীতিতে প্রভাব কতটা, ধারণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে দেশের অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য যেসব বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তার একটি খতিয়ান প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লক-ডাউনের ফলে স্বল্পআয়ের মানুষ যেমন সঙ্কটে পড়েছে, তেমনি সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও হুমকির মুখে পড়েছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে রোববার সকালে গণভবন থেকে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শিল্প-বাণিজ্য খাতের জন্য ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধিসহ চার ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়ার কথা বলেছেন। এসব কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দেশে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার, স্বাস্থ্য পরিসেবার ওপর সৃষ্ট বিপুল চাপ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে নজিরবিহীন লকডাউন ও যোগাযোগ স্থবিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য, সেবাখাত বিশেষতঃ পর্যটন, এভিয়েশন ও হসপিটালিটি খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, কর্মসংস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধস নেমেছে। শুধু সরবরাহ ক্ষেত্রেই নয়, চাহিদার ক্ষেত্রেও ভোগ ও বিনিয়োগ চাহিদা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী পুঁজি বাজারে ২৮ থেকে ৩৪ শতাংশ দরপতন ঘটেছে। আইএমএফ ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা শুরুর আভাস দিয়েছে। আর ওইসিডি বলছে, মন্দা প্রলম্বিত হলে বিশ্বে প্রবৃদ্ধি ১.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বব্যাপী বিপুল জনগোষ্ঠী কর্মহীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব এই প্রথম এমন মহামন্দা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীতে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর কী ধরনের বা কতটুকু নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলার সময় আসেনি। তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। দেশে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থবছর শেষে এই হ্রাসের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলমান মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাংক সুদের হার হ্রাসের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সার্ভিস সেক্টর, বিশেষ করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং এভিয়েশন সেক্টরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা কমায় এর দাম ৫০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে; যার বিরূপ প্রভাব পড়বে প্রবাসী-আয়ের ওপর। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রাক্কলন করেছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে, এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। দীর্ঘ ছুটি বা কার্যত লকডাউনের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপাদন বন্ধ এবং পরিবহন সেবা ব্যাহত হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা হতে পারে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হবে। এর ফলে অর্থবছর শেষে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিগত ৩ বছর ধরে ধারাবাহিকভবে ৭ শতাংশের বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি। সামষ্টিক চলকগুলোর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে পেতে পারে।

গাংনীতে এতিম ৪ ভাই- বোনদের বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা অব্যাহত  

গাংনী প্রতিনিধি  ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের ৪ এতিম শিশুর জন্য বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। কসবা গ্রামের মা হারা ও বাবা বিয়ে করে সংসার করার ব্যস্ত জীবনের কারণে ফেলে যাওয়া ৪ ভাই-বোনদের কষ্টের জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোম মাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। নিউজ প্রকাশের পর মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ রাতের আঁধারে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। এছাড়াও মেহেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সেলিম ১ বস্তা চাউল, ৫ কেজি ডাল,আলু, তেল, সাবানসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সহায়তা করেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এসব প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ে  নেতা-কর্মীবৃন্দ।  এছাড়াও ওই শিশুদের সহযোগিতা প্রদান করেন গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের বাসিন্দা ও প্রশাসন বিভাগে কর্মরত ব্যক্তি, এক প্রবাসী ও গাংনী উপজেলা শহরের বাসিন্দা বর্তমান চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি নেপথ্যে থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। জানা যায়, কসবা গ্রামের রাশিদুল ইসলাম একই উপজেলার পীরতলা গ্রামের এক মেয়ের সাথে ১৫ বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসারে আসে ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। গত ৪ বছর আগে রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী স্ট্রোক করে মারা যান। পরে রাশিদুল ইসলাম তার ছেলে ও মেয়েদের ফেলে বিয়ে করে অন্যত্রে চলে যান। নিরুপায় হয়ে ছোট ছেলে-মেয়েরা তাদের দাদার কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে। দাদা-দাদি বৃদ্ধ হওয়ায় সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছোট ছেলে-মেয়েরা দাদার বাড়ির আঙ্গিনায় একটি চায়ের দোকান স্থাপন করে। এবং চা বিক্রি করে কোনো রকম সংসার চালায়। পাশাপাশি বড় ছেলে আশিক, মেজো মোস্তাকিন, সেজো কুলছুম ও ছোট ছেলে রিয়াজ স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়া লেখা করে। করোনা ভাইরাসের কারণে অন্যন্য দোকানের পাশাপাশি তাদের চায়ের দোকান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু দোকান বন্ধ থাকলেও পেট তো আর থেমে থাকে না। তাদের এ কষ্টের খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে ৫টি ঘর পুড়ে ছাই

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকান্ড ঘটে ২টি বাড়ির ৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। গভীর রাতে লাগা আগুন দুই পরিবারের সহায় সম্বলসহ সব পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে মশা তাড়ানো কয়েলের আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হলে মঙ্গল সর্দার ও শরিফুল সর্দারের বাড়ি পুড়ে ভষ্মিভূত হয়। এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রন হলেও দুই বাড়ির ৫টি ঘর পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগুনে নগদ টাকা, আসবাবপত্র, খাদ্য-শস্যসহ দুই বাড়ির প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সম্পদ পুড়ে ভষ্মিভূত হয়। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থরা বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে রয়েছে। এদিকে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ দুই পরিবারকে সরকারী ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ কেজি করে চাল, ৩টি করে কম্বল ও নগদ ১হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস

মৃত্যু কমছে ইতালি-স্পেনে, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে

ঢাকা অফিস ॥ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে ইতালি ও স্পেনে মৃত্যু হার আগের দিনগুলোর চেয়ে কমতে দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে সামনের ‘কঠিন দুই সপ্তাহের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। “অনেক অনেক মৃত্যু হতে যাচ্ছে,” শনিবার হোয়াইট হাউসে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সুরক্ষা উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা মেটাতে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও হাসপাতালকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেবল নিউ ইয়র্কেই আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ১৪ হাজার পেরিয়ে গেছে, মৃত্যুর সংখ্যা অতিক্রম করেছে সাড়ে তিন হাজার, এ সংখ্যা ভাইরাসটি যে দেশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে সেই চীন থেকেও বেশি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ এ মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ১২ হাজারের বেশি; মৃত্যু ছাড়িয়েছে সাড়ে ৮ হাজার। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশে মহামারী দাপিয়ে বেড়ালেও ইতালি ও স্পেনে মৃত্যুহার কমার চিহ্নে আপাত স্বস্তি মিলছে। ইতালিতে শনিবার ৬৮১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগ। ২৩ মার্চের পর দেশটিতে একদিনে এটিই সবচেয়ে কম মৃত্যু, বলছে রয়টার্স। ইতালিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা গুরুতর রোগী সংখ্যাও কমেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এদিন দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চার হাজার ৮০৫ জন শনাক্ত হয়েছে, সংখ্যাটি গত কয়েকদিনের তুলনায় একটু বেশি। ইউরোপের এ দেশটিতেই কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। শনিবার পর্যন্ত ইতালিতে ১৫ হাজার ৩৬২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস; আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজারেরও বেশি বলে জানিয়েছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। মৃত্যু-আক্রান্তের সংখ্যা কমছে স্পেনেও। শনিবার দেশটিতে ৮০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা শুক্র ও বৃহস্পতিবারের চেয়ে কম। মোট আক্রান্তের সংখ্যায় স্পেন ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির এক লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে; মৃতের সংখ্যাও ১২ হাজার ছুঁইছুঁই। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশজুড়ে লকডাউনের মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আক্রান্তের সংখ্যায় জার্মানির পর থাকা ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৭ হাজার পেরিয়ে গেছে। বিভিন্ন নার্সিং হোমগুলোতে পড়ে থাকা মৃতদেহ যোগ করায় গত কয়েকদিনে দেশটিতে মৃতের সংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। আক্রান্ত-মৃতের সংখ্যা বাড়ছে যুক্তরাজ্যেও। ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আগে থেকে অসুস্থ ৫ বছর বয়সী এক শিশুও আছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শনিবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখন্ডে কোভিড-১৯ এ চার হাজার ৩২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লেও গত কিছুদিন ধরে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকখানি কমে এসেছিল। শনিবার দেশটি করোনাভাইরাসে মৃতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চীনে যে আক্রান্তদের পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই হয় বিদেশফেরত, নয়তো তাদের মাধ্যমে সংক্রমিত হচ্ছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শনিবারও দেশটিতে নতুন ৩০ জন শনাক্ত হয়েছে; আগের কয়েকদিনের তুলনায় এ সংখ্যা বেশি। এশিয়ার অন্যতম করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৭৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে, তিন হাজার ৪৫২ মৃত্যু নিয়ে মৃতের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়েছে দেশটি; এখানে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৭৩৬ জন। ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সৌদি আরবে আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৩৭০ জন, মৃতের সংখ্যা ২৯ এবং সুস্থ হওয়ার রোগীর সংখ্যা ৪২০। ইসরায়েল আক্রান্তের সংখ্যা আট হাজার ১৮ জন, মৃতের সংখ্যা ৪৬ জন ও সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৭৭ জন। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেও করোনা ভাইরাস তার ভয়াল থাবা নিয়ে হাজির হয়েছে। আক্রান্ত-মৃত্যু বাড়ছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ায়। এদের মধ্যে মালয়েশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৪৮৩ জন ও সুস্থ হয়েছেন ৯১৫ জন। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার পর দেশটি লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর কথা ভাবছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রোববার সকাল পর্যন্ত ভারতে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। পাকিস্তানেও এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৮১৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের তথ্য দিয়েছে ডন; দেশটিতে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে।