করোনা মোকাবেলায় জাতীয় কমিটি চান মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জাতীয় কমিটি গঠন করা উচিত মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ কথাটা বার বার বলেছি, আমরা কখনোই সমালোচনার জন্য সমালোচনা করছি না, সরকারকে সাহায্য করতে চেয়েছি। আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। সোমবার দুপুরে নিজের উত্তরার বাসায় কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এখন পর্যন্ত একটি জাতীয় কমিটি হয়নি। যেটা করা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ তো একশ ৬০ মিলিয়নের দেশ। এখানে একেবারের নিচের দিককার অর্থনীতি। সেখানে এই ধরনের সংকট মোকাবেলার ক্ষেত্রে যদি একটি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা যায়; সেটাই হবে দেশের জন্য ভালো কাজ। তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, এখনও সময় আছে জাতীয় কমিটি করার, এটা গঠন করা উচিত। কীভাবে এই কমিটি হতে পারে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা আমি আগেও বলেছি। প্রধানমন্ত্রীকেই উদ্যোগ নিতে হবে, আপনার পলিটিক্যাল পার্টি, সিভিল সোসাইটি..। নট দ্যাট, এগুলোকে নিয়ে একখানে বসে মিটিং করতে হবে- তা বলছি না। ঘোষণা করে আপনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই এটা করতে পারেন। ‘তখন সবার মধ্যে একটা ধারণা আসবে-‘উই আর ওয়ান’। আমরা এক। দে কেন ডু। অথবা ওইভাবে সব নিরাপত্তা রেখে যদি সভা করতে চান; তাও পারেন।’ এই মহামারীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ঘরবন্দি মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজনের জন্য খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজ করছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। দেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটা দাঁড়াচ্ছে, সেটা হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষজনের অর্থনৈতিক সমস্যা। তার মতে, বাংলাদেশে বেশিভাগ মানুষই এখন দিন আনে দিন খায়- এই বিশাল একটা অংশ তারা কিন্তু কয়েকদিন ধরে কোনো আয় করতে পারছেন না এবং এটা একটা টার্নিং পজিশনে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ‘সেই মানুষগুলোর জন্য যদি ইমিডিয়েটলি উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যায়; তাহলে কিন্তু একটা বড় রকমের বিপর্য্য় দেখা দেবে। যেটা আমরা ১৯৭৪ সালে দেখেছি, এই ধরনের বিপর্য দেখা দেবে। এই বিষয়গুলো সরকারের দেখতে হবে।’ বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আমি যেটা মনে করি, সেনাবাহিনীকে যদি সেই কাজে লাগানো যায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা আছেন, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বর যারা আছেন, তাদের সম্পৃক্ত করে যদি সেই কাজগুলো করা যায়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে যদি সম্পৃক্ত করা যায়, তাদেরকে একসঙ্গে করা যায়- অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। সেক্ষেত্রে বরাদ্দ থাকতে হবে, তার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী থাকতে হবে। হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য কোনো রোগে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে। আজকের পত্রিকায় আছে যে, একজন এপেনডিসাইটিজের রোগী ৮টা হাসপাতালে ঘুরে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে পারছেন না। আমরা যে কারণে বার বার বলেছি, বিষয়টাকে পুরোপুরি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে মানবিক দিক থেকে দেখে এই জাতিকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, এটা অস্তিত্বের প্রশ্ন। সেই অস্তিত্বের জন্য এখন সরকারকে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। বিষয়টার দায় সরকারের, দায়িত্ব সরকারের। ‘তাকেই উদ্যোগটা নিতে হবে- বিরোধী দলকে কীভাবে কাজে লাগাবে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কীভাবে কাজে লাগাবে, পরিবেশ কীভাবে সৃষ্টি করবে। এখানে সমস্যা অনেক। আমরা মনে করি, সরকারের অনেক অনেক বেশি দায়িত্ব, তাদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।’ সরকারের একটা ভুলের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি, এটা বড় ভুল হয়েছে যে, ছুটি ঘোষণা করে তার দুদিন পর পর্যন্ত গণপরিবহন চালু রাখা। এতে করে সমস্ত মানুষ ছড়িয়ে গেছে সারাদেশে। মির্জা ফখরুল বলেন, সমস্যাগুলো প্রথম থেকে তারা (সরকার) দেখলে এটা প্রকট আকার ধারণ করত না। লকডাউন যেটাকে বলে, তা সেভাবে হয়নি। যার ফলে দেখা গেছে, প্রথম দু-একদিন কক্সবাজারে পর্যন্ত মানুষ বেড়াতে গেছে, ছুটি কাটাতে সিলেটে গেছে। আমাদের দেশে সবাই তো সচেতন না, অনেকে বুঝতে পারেনি।

 

কুমারখালীতে মানুষকে ঘরে ফেরাতে প্রশাসনের ততপরতা অব্যাহত

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাজারে এসে আড্ডা দেওয়া ও মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ানো মানুষকে ঘরে ফেরাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল দুপুর ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সচেতনতা কর্মসূচীর পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বাটিকারা, তারাপুর মোড়, মহেন্দ্রপুর বাজার ও হাশিমপুর বাজার এলাকার রাস্তায় রাস্তায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামুলক প্রচারনা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাজরের দোকান খোলা রাখায়, মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানোয় এবং গণজমায়েত করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৬টি মামলায় প্রায় তিন হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।  অন্যদিকে, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) এম, এ মুহাইমিন আল জিহানের নেতৃত্বে নন্দলালপুর, কয়া ও শিলাইদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা কর্মসূচীর আওতায় রাস্তায় রাস্তায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত প্রচারণা কার্যক্রম ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় গণজমায়েত, পাড়া-মহল্লার দোকানে আড্ডা, মাঠে শিশু-কিশোরদের ক্রিকেট খেলা, মোটর সাইকেলে অতিরিক্ত যাত্রী আরোহন ও পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে যাত্রীদের চলাচল করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রামের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া ও চায়ের দোকান খোলা রাখায় ছয়’শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় সহকারি কমিশনার (ভুমি) বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, তাহলেই করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পাবে।

দৌলতপুরে দানাদার বিষ খেয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হালিমা খাতুন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা দানাদার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। সে প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি ডাকপাড়া এলাকার মৃত ইমদাদুল ডাকের স্ত্রী। পারিবারিক কলোহের জের ধরে বৃদ্ধা হালিমা খাতুন সোমবার রাতে বাড়িতে থাকা দানাদার বিষ খায়। বিষ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়রে তাকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে নেওয়া গতকাল সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হলে বিকেলে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

গাংনীর ধর্মচাকী গ্রামে ভ্যান চালককে  কুপিয়ে হত্যা – হত্যাকারীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

গাংনী প্রতিনিধি ঃ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটী ইউনিয়নের ধর্মচাকী  গ্রামে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওমর আলী (৩৭) নামের এক ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় ওমর আলীর স্ত্রী ঠেকাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। নিহত ওমর আলী ধর্মচাকী গ্রামের মৃত মজের আলীর ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার  রাত  দশটার দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান,ধর্মচাকী গ্রামের ওমর আলীর ছেলে ও প্রতিবেশী কুদ্দুছ আলীর ছেলে গ্রামের মাঠে গমের খড় (নাড়া) কুড়িয়ে একই গ্রামের বুলু আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলামের গাড়ী ভাড়া করে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করে আসছিল। বিক্রিত টাকা গাড়ি চালক জাহিদ আত্মসাত করেন। এনিয়ে জাহিদুল ইসলামের কাছে গতরাতে ওমর আলী টাকা চাইতে গিয়েছিলেন। এসময় জাহিদ টাকা দেবোনা বলে ওমর আলীকে গালিগালাজ করেন। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জাহিদ ও তার বাবা বুলু ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওমর আলীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এসময় ওমরের স্ত্রী স্বামীকে বাঁচাতে আসলে,তাকেও কুপিয়ে একটি হাতের আঙ্গুল কর্তন করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লে্েক্স নিলে,কর্তব্যরত চিকিৎসক ওমর আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে উত্তেজিত জনতা বুলুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে বামন্দী ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটিদল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে খবর পেয়ে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান ও তদন্ত ওসি সাজেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। হত্যাকারীরা পলাতক রয়েছে। তাদের অতি দ্রুত সময়ে আটক করা হবে।

গাংনীতে ১২০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী দিলো ইয়ূথ ইউনিট

গাংনী প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারীভাবে ঘোষিত লকডাউনে থাকা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অসহায়-কর্মহীন ১২০টি পরিবারের মাঝে এক সপ্তাহের জন্য খাদ্য সামগ্রী করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালের দিকে কাথুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গাঁড়াবাড়িয়া গ্রাম ইয়ূথ ইউনিটের সদস্যদের উদ্যোগে এসব খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়াও জীবাণুমুক্ত থাকার জন্য স্থানীয়দের হাত ধোয়ার কৌশল শেখানো হয়। এবং সাবান প্রদান করা হয়। স্থানীয় ইয়ূথ ইউনিটের সদস্যরা কর্মহীনদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর গাংনী উপজেলা সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দীন, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের মেহেরপুর জেলা ইউনিটের সমন্বয়কারী ফিরোজ আহমেদ পলাশ প্রমুখ।

আলমডাঙ্গায় মেহেরপুর পবিসের সভাপতি জিনারুল ইসলাম বিশ্বাসের নিজ অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা হাট বোয়ালিয়া ও নগর  বোয়ালিয়ায় নিজ অর্থায়নে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি হাটবোয়ালিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি জিনারুল ইসলাম বিশ্বাস খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। গতকাল সকাল ১০ টায় ২১৫ জনকে নিজ অর্থায়নে কর্মহীন গরীব অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। মরণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ ঘরমুখো বেকার হয়ে পড়েছে শ্রমিক শ্রেনীর মানুষ। এইসব মানুষ দুমুঠো ভাত সংগ্রহে দিশেহারা। এক দিকে কর্ম নাই অন্যদিকে করোনার কারণে রাস্তায় বের হতে পারছে না। ঘরবন্দী এ সব মানুষে মানুষের কথাচিন্তা করে আপদকালীন সময়ের কথা চিন্তা করে তিনি এই চাউল ও আলু বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আসাবুল হক ঠান্ডু, বিল্লাল হোসেন কালু মন্ডল, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোয়েব উদ্দিন, আব্দুল মালেক, ইকরামুল হক বুড়ো বিশ্বাস, আশরাফুজ্জামান নান্নু বিশ্বাস, আজাদ আলী বিশ্বাস, টাইগার, ইকলাছউদ্দীন,আক্তার, লালু প্রমুখ।

প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ব্রয়লার-সোনালী মুরগীর বিকল্প নেই

কুমারখালীতে পোল্ট্রি খামারিদের ব্যবসা ভয়াবহ বিপর্যয় মুখে

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমন আতঙ্কে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাল্ট্রি খামারি ও ডিলারদের ব্যবসা। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে হাট-বাজারে না যাওয়ার ঘোষনার কারণে বাজারে মানুষের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যাচ্ছে। জরুরী প্রয়োজনে অনেকেই বাজারে আসলেও প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী কিনে নিয়েই চলে যাচ্ছেন। কিন্তু কেউই যেন মুখ ফিরে তাকাচ্ছেন না জীবন্ত মুরগীর দোকানের দিকে। তাই ব্যাপক হারে কমেছে জীবন্ত মুরগী বেচাকেনা। গতকাল সরেজমিনে কুমারখালী পৌর বাজারে গিয়ে দেখাযায়, জীবন্ত মুরগী বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে নেই কোন মানুষের আনাগোনা। ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে রেখেছে ঠিকই কিন্তু ক্রেতা নেই। এ সময় জীবন্ত মুরগী বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন জানান, আগে প্রতিদিন ৪০/৫০ হাজার টাকা বেচাকেনা করতাম। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ ১০ হাজার টাকাও বেচাকেনা হচ্ছেনা। জীবন্ত মুরগীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিদিনই খাবার দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। দুর্গাপুর এলাকার পোল্ট্রি খামারী (ব্রয়লার) শাওন জানান, ব্রয়লার মুরগী নিয়ে খুবই বিপাকে আছি। বাজারের লোকজনের আনাগোনা নেই। তাই জীবন্ত মুরগীর বেচাকেনাও কম। আবার এক শ্রেণীর মানুষ করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগী খেতে চাচ্ছেন না। তাই আমরা কুমারখালী উপজেলার সকল খামারীরা চরম বিপর্যয়ের মুখে আছি। মুরগীগুলো সব বিক্রি করার উপযোগী হয়ে গেছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। পাইকারি কিংবা খুচরা বিক্রেতাদের কেউই নিতে চাচ্ছেন না। তাহলে আর কতোদিন খাওয়ার দিয়ে এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখবো। আর কবেই বা বিক্রি করতে পারবো এবং পূঁজি ফেরত পাবো, জানিনা। তবে এই খামারি মানুষ যেন ব্রয়লার এবং সোনালী মুরগী খেতে আগ্রহী হয় সে জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন। তিনি বলেন, যদি প্রশাসন শহর ও গ্রামাঞ্চলের মাইকিং করার অনুমতি দিতেন তাহলে হয়তো আমরা কিছুটা হলেও উপকৃত হতাম। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা পোল্ট্রি ফিড ডিলার সমিতির উদ্যোগে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। জেলার কোথাও কোথাও মাইকিং করা হয়েছে কিন্তু কুমারখালীতে এখনো পর্যন্ত মাইকিং করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন বলেন, মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয়  প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য নিয়মিত মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও ভিটামিন সি খাওয়ার প্রয়োজন। আর প্রোটিনের ঘাটতি পূরণের জন্য ব্রয়লার, সোনালী মুরগী ও ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই।  অন্যদিকে, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমাদের দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণের অন্যতম উপাদান হচ্ছে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগী (পোল্ট্রি)। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ভয়ে বর্তমানে অনেকেই ব্রয়লার ও সোনালী মুরগী খেতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে এই পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িতরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। পোল্ট্রি শিল্পকে বাঁচাতে ও কম দামে মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য ব্রয়লার ও সোনালী মুরগীর বিকল্প নেই।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশন নামক একটি সংস্থা কুমারখালীতে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন ও বাজারজাত করণে খামারীদের প্রশিক্ষণসহ খামার পরিচালনায় নানাধরণের সহযোগীতা দিয়ে আসছেন। এ ছাড়াও সংস্থাটি স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন মানুষকে নিয়ে ভোক্তা কমিটি গঠন করে নিয়মিত বাজার মনিটরিংসহ নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন ও বাজারজাত করণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দৌলতপুরে তাছের পীরের বাহিনী আগুন দিল অভিযোগকারীর বাড়ীতে ; ৩টি ঘর পুড়ে ভস্মিভূত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চরদিয়ার পূর্বপাড়া এলাকার কথিত পীর তাছেরের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল দখলের অভিযোগ উঠেছিল। গত ২৯ মার্চ জাতীয় দৈনিকে “দৌলতপুরে কথিত ভন্ড পীর তাছেরের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল দখলের অভিযোগ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় কথিত তাছের পীরের বাহিনী গত ৩০ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে আস্তানা সংলগ্ন অভিযোগকারী করিম খানের বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিলে ৩টি ঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয় । এতে অভিযোগকারীর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগকারী করিম খান সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন যাবত পীরের লোকজন নানাভাবে আমাদের এখান থেকে বাড়ী উচ্ছেদের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। গত ২৭ মার্চ ভেকু দিয়ে হিসনা নদী থেকে মাটি উত্তোলন করে নদীর পাড় বাধতে থাকলে উপজলো প্রশাসনকে জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছে দেখে তাৎক্ষনিক মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়।  এ ঘটনার জের ধরে গত ৩০ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার সময় তাছের পীরের বাহিনী উপজেলার বাগোয়ান এলাকার শুকুরের ছেলে সুজন, চরদিয়াড় গ্রামের সাজানের ছেলে শামীম, তাজপুর এলাকার কামাল ও আমদহ এলাকার ছালাম আমার বসত বাড়েিত আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন-দরবার শরীফের আশপাশের যে জমি পীরের লোকদের পছন্দ হবে সেই জমি প্রকৃত মালিকদের নানাভাবে হয়রানী নামমাত্র টাকা দিয়ে রেজিষ্ট্রি করে নেয় যার নজীরও রয়েছে অনেক।  এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন বাড়ী পোড়ানোর বিষয়টি শুনেছি এবং তাৎক্ষনিক আমার পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছিলাম। ঘটনাটি তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাংনীতে  থানার নির্দেশ অমান্য লাঠিয়াল নিয়ে ক্রয়কৃত জমি জবরদখল

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের চাঁন্দামারী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রভাশালী প্রতিপক্ষের ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে  আজুব্বর হোসেন ও তার ছেলে সাবান আলীর ক্রয়কৃত জমি জবর দখলের ঘটনা ঘটেছে। ৫ গ্রামের ভাড়াটে দাঙ্গাবাজ, লাঠিয়াল নিয়ে আদালতে বিচারাধীন জমি দখল করে পাট বীজ বপন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ আপোষ মিমাংসা করতে সম্প্রতি গাংনী থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় মুচলেকা নেয়া হয়। তারপরও প্রতিপক্ষ আব্দুল আলীম নামের জনৈক ব্যক্তি আইন অমান্য করে লোকজন নিয়ে জমি জবরদখল করেছে।এই বিরোধ পূর্ণ জমি নিয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যার নং- ২৮/১৮ ।    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁন্দামারী গ্রামের আজুব্বর হোসেন ও তার ছেলে সাবান আলী  ৬০ এর দশকে হিন্দু সম্পত্তি তৎকালীন মনি মোহন সাহার ছেলে মেলেন্দু কান্তি সাহা ও তার দুই বোনের নিকট থেকে জমি ক্রয় করেন। সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার শানঘাট মৌজার অন্তর্গত আর,এস খতিয়ান নং-৪৮৮, এস,এ খতিয়ান নং-৩০৪ দাগ নং-৫২৭০, ৫৪৩২, ৫৪৩৪, ৫৪৩৫, ৫৪৩৬, ৫৪৫৪। অন্য খতিয়ান আর,এস-৪৮৮ এবং এসএ-২৯৫ খতিয়ানভুক্ত ৫২৮৩ দাগ মিলে ১.৩৩ শতক জমি ক্রয করা হয়েছে।  ক্রয় সূত্রে জমি যথারীতি ভোগদখল করে আসছিলেন। অন্যদিকে  গ্রামের  ছমিরউদ্দীনের ছেলে প্রভাবশালী আব্দুল আলীম পার্শ্ববর্তী শানঘাট গ্রামের আব্দুল রহমান মহুরার ছেলে সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের নামে হিন্দুদের সম্পত্তি পাওয়ার অফ এটর্নি করার ভূয়া কাগজপত্র  দেখে ভূয়া দলিল করে ক্রয় করে জবর দখল করেছেন। দীর্ঘদিন জমি ওহিদের দখলে থাকলেও আব্দুল আলীম তার ভাড়াটে দাঙ্গাবাজ, লাঠিয়াল বাহিনী শানঘাটের মুন্তাজ আলীর ছেলে আব্দুর রহমান, চান্দামারীর গোলাপ বিশ্বাসের ছেলে সোহরাব আলী, ফকির মহাম্মদের ছেলে পাঁচু, হাপানিয়া গ্রামের ছমিরউদ্দীনের ছেলে আঃ আওয়াল, আফছার আলীর ছেলে আঃ রশিদ ও আঃ হান্নান, মকছেদ আলীর ছেলে সামসুল হক, খেলাফতের ছেলে আঃ মজিদ,খেজমতের ছেলে বনি ইয়ামিনসহ আরও কয়েকজন  সম্প্রতি মাঠে মহড়া দিয়ে জমি জবরদখল করেছে। এনিয়ে ওহিদ আলী জানান, আমার বাবা আজুব্বর হোসেন হিন্দুদের সম্পত্তি ক্রয় সূত্রে দলিল করে ভোগ দখল করে আসছি। আমরা দলিল মোতাবেক খারিজ করে খাজনা দিয়ে আসছি।তবে আমাদের নামে আরএস রেকর্ড  না হয়ে মূল মালিকের নামে হয়েছে। পক্ষান্তরে গ্রামের একদল ভূমি গ্রাসী আমাদের জমি জবর দখল করেছে। তারা যে ভূয়া কাগজ দেখিয়ে খারিজ করেছিল তা বাতিল হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে দেঃ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছ্।ে দাঙ্গাবাজরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। প্রতিপক্ষ আব্দুল আলীম জানান, আমরা শানঘাট গ্রামের রহমান মহুরার ছেলে হাফিজুর রহমানের নিকট থেকে আড়াই বিঘা জমি ক্রয় করেছ্ ি।আমাদেরও দলিল রয়েছে। তবে আমাদের নামে আরএস রেকর্ড বা খারিজ খাজনা হয়নি।   এব্যাপারে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, চান্দামারী গ্রামের  পক্ষ থেকে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঝিনাইদহে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে গৃহবধুর মৃত্যু, আহত-২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাকোইল গ্রামে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে টুকটুগি বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ জন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নাকোইল গ্রামের জোয়ার্দ্দার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, নাকোইল গ্রামের স্বপন জোয়ার্দ্দারের স্ত্রী টুকটুকি বেগম রান্না ঘরে রান্না করছিল। হঠাৎ সেখানে আগুন ঘরে যায়। মুহুর্তের মধ্যে তা আশপাশের বাড়ী ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ততক্ষনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় গৃহবধু টুকটুকি। দগ্ধ হয় টুকটুকি বেগমের মা শিউলি বেগম ও স্থানীয় চনের উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। পুড়ে যায় ৫টি বাড়ি ঘর। আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দিলীপ কুমার সরকার জানান, আগুনে স্বপন জোয়ার্দ্দার, চনের উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, এমদাদুল জোয়ার্দ্দার, নজির উদ্দিন জোয়ার্দ্দার ও উসমান জোয়ার্দ্দেরের বাড়ি পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্টিকের কারণেই এ অগ্নিকান্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

করোনা সংক্রমন রোধে কুমারখালীতে জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটানো হয়

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জীবাণুনাশক ¯েপ্র করা হয়েছে। উপজেলার মহেন্দ্রপুর যুব সংঘের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে মহেন্দ্রপুর বাজারে এই জীবণুনাশক ¯েপ্র কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ খান। এ সময় মহেন্দ্রপুর যুব সংঘের সদস্যদের মধ্যে মো. রাহাত খান (মৃদুল), প্রভাষক সুলতান সরদার, শিহাব মাহমুদ হেলাল, রাসেল মাহমুদ, শহিদুল আলম সেলিম, জিন্নাহ সরদার, মুন্সী রূপম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।  মহেন্দ্রপুর যুব সংঘের অন্যতম সদস্য মো. রাহাত খান মৃদুল জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমরা নিজস্ব অর্থায়ণে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গ্রামের রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ ও বিভিন্ন বাজারে জীবাণুনাশক ¯েপ্র করা হচ্ছে। সেই সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খেটে খাওয়া অসহায় ও দুস্থ মানুষদের মাঝে প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে ৪ বাড়ি ভষ্মিভূত : ব্যাপক ক্ষতি

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকান্ড ঘটে ৫ বাড়ি ভষ্মিভূত হয়েছে। আগুনে ৫পরিবারের ১০টি ঘর পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরসোনাতলা এলাকায় অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, চরসোনাতলা এলাকার সিকবলের রান্না ঘরের চুলা থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হলে মুহুর্তের মধ্যে আগুন নিজ বাড়িসহ আশপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রন হলে আগুনে ভষ্মিভূত হয় সিকবল, জহির উদ্দিন, চাহার উদ্দিন, আনন্দ ও রুসনা’র বাড়ির সব ঘর। আগুনে ৫ পরিবারের নগদ টাকা, খাদ্য শস্য. আসবাবপত্রসহ প্রায় ১২ লক্ষ টাকার সম্পদ ভষ্মিভূত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ত্রাণ সহায়তা পেল দৌলতপুরের অসহায় মানুষ

নিজ সংবাদ ॥ মরণঘাতি করোনার ছোবলে গোটা বিশ^ বেসামাল। ইউরোপ আমেরিকার লাখো মানুষ আক্রান্ত। মৃত্যুর হারও কম নয়। বৈশি^ক এই বিপর্যয় যে শুধু ইউরোপ আমেরিকাতেই তা নয়, প্রায় সব দেশেই কমবেশি আক্রান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশও এর ছোবল থেকে রেহায় পায়নি। ব্যাপক হারে না হলেও এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন কমপক্ষে ৫জন। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ইঙ্গিত ইতিবাচক নয়। আক্রান্ত এবং প্রাণহানির পরিমান বাড়তে পারে অনেক। এরই লক্ষে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বন্ধ হয়ে গেছে সরকারী অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরুনোর পরামর্শ সরকারের। সরকারের এমন নির্দেশনায় প্রায় অঘোষিত লকডাউনে গোটা দেশ। এর বাইরে নন কুষ্টিয়ার মানুষও। অন্যান্য মানুষের পাশাপাশি কর্মজীবি খেটে খাওয়া মানুষ পর্যন্ত ঘরে উঠে পড়েছে। ঘরে খাবার নেই। ভীষণ খাদ্যকষ্টের মধ্যে পড়তে শুরু করেছেন তারা। সরকারী সহায়তা দেয়া শুরু হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুব একটা বেশি নয়। তবে এরই মধ্যে সরকারের আহ্বানে ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেও এগিয়ে আসছেন অনেকেই। কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান ওয়েস্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদ’র অর্থায়নে দৌলতপুর ইউনিয়নের সহস্রাধিক গরীব অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বশির আহমেদ’র পক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির অন্যতম সদস্য ড.মোফাজ্জেল হক এই সহায়তা প্রদান করেন।  এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-আহব্বায়ক জহুরুল আলম, আশিষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুজ্জামান মজনু, বিশিষ্ট সমাজসেবক ঝন্টুর রহমান রিকাত, জাবেদ আলী, আসলাম হোসেন প্রমুখ। ত্রাণ সহায়তা বিতরণকালে ড. মোফাজ্জেল হক বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনায় আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানুষকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাহস জুগিয়ে চলেছেন। একই সাথে তিনি সামর্থবান মানুষকে পাশে দাঁড়ানো আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান ওয়েস্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং লি:এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদ। তাঁর অর্থায়নে আজ কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুর ইউনিয়নের সহস্রাধিক অসহায় গরীব মানুষ খাদ্য সহায়তা পেল। তিনি জানান এমন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সাথে সামর্থবান মানুষকেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান ড. মোফাজ্জেল হক। করোনায় ভীতু না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধও জানান সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে সকলকে অতিপ্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বেরুনোরও পরামর্শ দেন তিনি।

 

সমন্বয় সভায় সরকারী বরাদ্দের ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত

দৌলতপুরে দরিদ্র অসহায় দিনমজুরদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অসহায় দরিদ্র দিনমজুরদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের পিয়ারপুর গ্রামে এ দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। দরিদ্র, দিনমজুর, ভ্যান-রিক্সা চালক, নরসুন্দর, চায়ের দোকানদার ও ভিক্ষুকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ও পিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লাল্।ু আসাদুজ্জামান লাল্টু নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সৌজন্যে ৩০০ ব্যক্তিকে এ ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। এদিকে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুনের কার্যালয়ে দৌলতপুর সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ, কা, ম. সরওয়ার জাহান বাদশা, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী, ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, সোনালী খাতুন আলেয়াসহ ১৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত দূর্যোগকালীন সময়ের জন্য সরকারী বরাদ্দের ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩ লক্ষ টাকা ত্রান বিতরণের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রতি ইউনিয়নে ৬০ প্যাকেট করে ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, ১কেজি লবণ ও ১টি সাবান থাকবে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। শেষে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারকে সাথে নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দরিদ্র দিনমজুর ব্যক্তির হাতে সরকারী বরাদ্দের ত্রাণের প্যাকেট হাতে তুলে দিয়ে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কুষ্টিয়ায় সর্দি কাশিতে মারা যাওয়া ইজিবাইক চালকের শরীরে করোনা ভাইরাসের কোন আলামত পাওয়া যায়নি

নিজ সংবাদ ॥ সোমবার কুষ্টিয়ার চৌড়হাস শাহাপাড়ায় গ্রামে ইজিবাইক চালক আশরাফুলের সর্দি কাশিতে মৃত্যুর ঘটনায় তার শরীরে করোনা ভাইরাসের আলামত পাওয়া যায়নি বলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন চৌধুরী গতরাতে তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে আশরাফুল আলমের করোনা ভাইরাসের আলামত না থাকায় জেলাবাসীর জন্য আরো একটি সুখবর। এদিকে গতরাতেই লকডাউন করা ১০টি বাড়ির সদস্যদের উপর থেকে লক ডাউন তুলে নেয়া হয়েছে। সেই সাথে কোয়ান্টাইনে থাকা ২ চিকিৎসক এবং হাসপাতালের ৭ ষ্টাফকে মুক্ত করা হয়েছে। আশরাফুলের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়- গত শুক্রবার তার সর্দি দেখা দেয়। এরপর কাশি ও শ^াসকষ্ট হতে থাকে। সোমবার সকালে শ^াসকষ্ট বেশি হলে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে তারা হাসপাতালে নিয়ে আসে। বাসা থেকে হাসপাতালে নেয়ার পথে দুই থেকে তিনবার রক্ত বমিও করেছে সে। তাদের পরিবারে কোন বিদেশি নেই। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ও শ্যালক জানান, তিনি অনেক আগে থেকে মাদকাসক্ত ছিলেন। তার কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেক আগে থেকেই ছিল। এর আগেও কয়েকবার অসুস্থ হয়েছিলেন তিনি। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে আসার এসব তথ্য গোপন করেন। তারপরেও তার শরীরে করোনাভাইরাস আছে কিনা সেটা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

আমলায় কর্মহীন ও দুস্থ্য মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে কামারুল আরেফিন

অসহায় মানুষের পাশে সমাজের ধনী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলায় করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আমলা ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের সভাতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফিন। আমলা ইউনিয়নের কর্মহীন ও অসহায়-দুস্থ্য মানুষদের মাঝে এ খাদ্য বিতরণের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা। খাদ্য বিতরণকালে বিশেষ অতিথি ছিলেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আজম, আমলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মসলেম উদ্দীন, কাকিলাদহ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আতিকুর রহমান, আমলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই আশরাফ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল রশিদ, ইউপি সদস্য হাসমত আলী, সিদ্দিক আলী, কামাল হোসেন, আব্দুল হান্নান, রমজান আলী, সাইফুল ইসলাম, আমান উল্লাহ, রাকাত আলী, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুমানা খাতুন, নাজিরা খাতুন, রানী খাতুন প্রমুখ। মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন, করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। অসহায় মানুষদের প্রতি সমাজের ধনী ব্যক্তিদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যকেও সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান তিনি। আমলা ইউনিয়নের ৭০টি কর্মহীন ও দুস্থ্য পরিবারের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত এসব অসহায় মানুষদের মাঝে করোনা ভাইরাস এর সংক্রামণ রোধে এবং মানুষের মাঝে সতর্কতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কৌশল শেখান। সেই সাথে আগত অসহায় মানুষদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন। এছাড়া মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস দিনব্যাপি মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা হবে ২৮টি প্রতিষ্ঠানে

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাস (ওকাভিড-১৯) শনাক্তে দেশের ২৮টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম শাখার পরিচালক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকার মধ্যে এখন সাতটি, ঢাকার বাইরে তিনটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। “কোভিড-১৯ পরীক্ষাটি দেশব্যাপী আমরা বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে করতে যাচ্ছি। ৫ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকার ভিতরে আরও তিনটি, ঢাকার বাইরে আরও ৫টি প্রতিষ্ঠানে শুরু হবে এই পরীক্ষা। “২০ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকায় আরও চারটি, ঢাকার বাইরে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা করা হবে। সবমিলিয়ে সারা দেশে ২৮টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হবে।” আইইডিসিআর ছাড়াও ঢাকা শিশু হাসপাতাল, আইপিএইচ ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল,উত্তরার কুয়েত মেত্রী হাসপাতালে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাস নির্ণয়ের পরীক্ষা। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরি ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শুরু হয়েছে এই পরীক্ষাটি। গত সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষা করতে সারাদেশে নতুন ১৭টি ল্যাব স্থাপন করা হবে। তার একদিন বাদেই হাবিবুর রহমান এ সংখ্যাটি আরও বাড়ছে বলে জানালেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০০টি নতুন আইসিইউ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে; যার মধ্যে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের সুবিধাও রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পিসিআর টেস্টের জন্য ইতোমধ্যে ৯২ হাজার টেস্ট কিট সংগ্রহ করেছে। বিভিন্ন পিসিআর সেন্টারে ২০ হাজার কিট বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে এখনও ৭২ হাজার টেস্ট কিট রয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিফিংয়ে হাবিবুর রহমান জানান, তিন লাখ ৩৪ হাজার ২৭০টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের নানা উপসর্গ নিয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের অনেকের পরিবারের অভিযোগ, বারবার যোগাযোগের পরও স্বাস্থ্যকর্মীরা অসুস্থ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করতে যাননি। অনেক হাসপাতাল থেকেও ফিরতে হয়েছে তাদের। এ প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি, জ্বর-হাঁচি-কাশি হলেই হাসপাতালে এসে ভিড় করবেন না। আপনারা আমাদের হটলাইনের ০১৯৪৪৩৩৩২২ অথবা ১০৬৫৫ এ দুটো নম্বরে কল করে জানান। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনে বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে।” দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট চিকিৎসকদের সেবা বন্ধ করে দেওয়ার যে অভিযোগ এসেছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে খবর এসেছে, অধিকাংশ প্রাইভেট চিকিৎসক সাধারণ রোগীদের সেবা দিচ্ছেন না। প্রয়োজনে আপনারা পিপিই পড়ে হলেও চিকিৎসা সেবা চালু রাখবেন।” তিনি জানান, সারা দেশে এখন ২০ হাজার ৪৯২ জনকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্র বন্দরে দেশের বাইরে থেকে আসা ছয় হাজার ১১৯ জনের স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

চীন বানালো করোনার ‘ওষুধ’, শরীরে ঢুকেই গিলে ফেলবে ভাইরাস

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বলেছেন অনেকেই যে, চীন বানালো করোনার ‘ওষুধ’, শরীরে ঢুকেই গিলে ফেলবে ভাইরাস ! অবশেষে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চীন বানালো বিশেষ ন্যানোম্যাটেরিয়াল। যা শরীরে ঢুকে মুহূর্তের মধ্যেই গিলেখেয়ে  শেষ করে ফেলবে করোনাভাইরাসকে। এমনটাই দাবি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। চীনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমসের এক টুইটে নতুন করে আশার আলো পেয়েছে গোটা বিশ্ব। এতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য হাতিয়ার প্রস্তুত। চীনা গবেষকদের দাবি, এই ওষুধ প্রয়োগ করে ৯৬.৫-৯৯.৯ শতাংশ সাফল্য পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটটিনের খবরে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলার জন্য গবেষকেরা একরকম ন্যানোমেটেরিয়াল বানিয়েছেন যা শরীরে প্রবেশ করে করোনা ভাইরাস শুষে নেয় এবং এরপর তাকে ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। বৈজ্ঞানিকরা একে ভ্যাকসিন বা ওষুধ বলতে রাজি নন। তাদের মতে, এটি একটি জৈব অস্ত্র যাকে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। ন্যানোমেটেরিয়াল হেলথকেয়ার ছাড়াও পেন্টস, ফিল্টার, ইনসুলেশন এবং লুব্রিকেট করার কাজেও ব্যবহার করা হয়। করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে এটা দেহে প্রবেশের পর শরীরের বাকি এনজাইমগুলোর মতোই কাজ করে।  আর এতেই আসে সাফল্য।

দেশের প্রথম করোনা রোগী প্রধানমন্ত্রীকে শোনালেন সুস্থ হওয়ার গল্প

ঢাকা অফিস ॥ ফয়সাল শেখ। পড়াশোনা করেন জার্মানিতে। ছুটিতে দেশে ফিরে শনাক্ত হন তিনি করোনায় আক্রান্ত। ঢাকায় শনাক্ত হওয়া প্রথম করোনাভাইরাস রোগী তিনি। গত ১ মার্চ ঢাকায় ফেরার ১০ দিন পর তার করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়। পরে নিজ উদ্যোগে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) যান ফয়সাল। সেখানে প্রাথমিক টেস্টে তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তিনি এখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ দিকে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজের সুস্থ হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান ফয়সাল। তিনি বলেন, আমি জার্মানিতে পড়াশোনা করি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গত ১ মার্চ আমি দেশে আসি। কিন্তু ১০ দিন পর আমার শরীর খুব খারাপ হওয়ার বিষয়টি অনুভব করি। এবং আমার মাঝে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়। পরে নিজ থেকে আমি আইইডিসিআরে যাই। প্রধানমন্ত্রীকে ফয়সাল বলেন, সত্যি কথা বলতে প্রথম একটু ভয় পেয়েছিলাম যে, এখানে আমি জার্মানির মতো চিকিৎসা পাব কিনা? তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আইইডিসিআরের নির্দেশনা মোতাবেক আমি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে থাকি। আমার পরিবারের সদস্য এবং আমি যাদের সঙ্গে দেখা করেছি, মিশেছি তাদেরও হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরবর্তীকালে কয়েক দফা টেস্ট করার পর করোনাভাইরাস নেগেটিভ আসলে আমি পরিবারের কাছে ফিরে যাই। আমার পরিবারের অন্য কারো সমস্যা হয়নি। আইইডিসিআরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ফয়সাল বলেন, করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ডাক্তার ফার্সি আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। সব সময় খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমি সত্যি খুশি। আইইডিসিআরের চিকিৎসাসেবায় আমি খুশি। এ জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। আপনার (প্রধানমন্ত্রীর) নির্দেশনায় আমি দেশবাসীকে বলব, ঘরে থাকুন, যতদিন ঘরে থাকতে বলা হয় ঘরে থাকুন। পরে ফয়সালকে প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন- তোমার পরিবারের কারও সমস্যা হয়নি? জবাবে এই তরুণ বলেন, না। কোনো সমস্যা হয়নি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকার সাধারণ ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে 

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার দেশব্যাপী চলমান সাধারণ ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত আরো পাঁচদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগে ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিলাম (৪ এপ্রিল পর্যন্ত) এবং এই ছুটি আরো পাঁচ দিন বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে একথা বলেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন মঙ্গলবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ ছুটি বাড়ানো হচ্ছে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছুটি থাকছে। ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে মঙ্গলবারই প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ হাসিনা বলেন, এই ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু এতে সবকিছু পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, সীমিত পর্যায়ে তা করা যেতে পারে এবং কিছু লোকের চলাচলের জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, গণপরিবহনের চলাচল সীমিত করতে হবে। সরকার ১৪ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যলোচনা করবে। শেখ হাসিনা বলেন, সবকিছু বন্ধ করে দেয়া যাবে না। অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো চালু রাখতে হবে। তবে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল-কলেজ আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে, প্রধানমন্ত্রী সবধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিল্প-কলকারখানা চালু রাখার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় অনেক জিনিস উৎপাদনের জন্য আমাদেরকে শিল্প-কারখানা চালু রাখতে হবে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় যুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছুটি বাড়ানো হতে পারে, কেননা করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে ছুটি ঘোষণার পর পরই অনেকেই তাঁদের গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। কাজেই, এই প্রাণঘাতি ভাইরাসের কোন সংক্রমণ যেন না ঘটে সেজন্য তাঁদের কোয়ারেন্টিন সময়টা গণনা করে ১৪ দিন করার জন্য ছুটি ৯ তারিখ পর্যন্ত বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে কিছু সেক্টরে ছাড় দিতে হবে।’ ছুটি ৯ এপ্রিল বাড়াতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা বাড়ানোর সাথে সাথে আমাদের সীমিত আকারে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার জন্য আমরা চিন্তা-ভাবনা করে বলব, কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘যোগাযোগের (পরিবহন) ক্ষেত্রে শ্রমিক শ্রেণি যারা আছেন তারাও যাতে কষ্ট না পায়, সেজন্য তাদের তালিকা আমি ইতোমধ্যে করতে বলেছি। তাদের যেভাবে সাহায্য করার দরকার, আমরা সেই সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করব।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এভাবে থাকবে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, মানুষের আওতার মধ্যে থাকে। সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে মুনাফা নেয়া আসলে অমানবিক হবে। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখবেন।’ জনসমাগম এড়াতে আসন্ন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বাতিল করার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম আরো বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমাদের বাংলা নববর্র্ষের উৎসবে এ বছর যাতে জনসমাগম হয়, তেমন কিছু করা উচিত হবে না। অবশ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। তবে, জনসমাগম করে অনুষ্ঠান আয়োজন সারা বাংলাদেশে বন্ধ রাখতে হবে।’ এর আগে গত ২৩ মার্চ করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার সারাদেশে জরুরি সেবা ছাড়া সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ছুটির সময় কোন বিশেষ প্রয়োজন যেমন জরুরি খাদ্য, মেডিকেল সামগ্রী, ওষুধের প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঘরে থাকতে বলা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা জরুরি। আমাদের দেশটা ছোট কিন্তু জনসংখ্যা ব্যাপক। এরপরও আমরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ে রয়েছে। সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনারা এসব নির্দেশনা মেনে চলুন। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার থাবা রয়ে গেছে। আমরা বিশ্ব থেকে দূরে নই। আমাদের আরও সচেতন থাকা দরকার। আমরা আমাদের দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায় সেজন্য সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো লুকোচুরি করার সুযোগ নেই। লুকোচুরি করলে নিজের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হবে। জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সকলকে সতর্ক করে বলেন, সাহায্য পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘কোনো রকম দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দুঃসময়ে কেউ সুযোগ নিলে, কোনো অভিযোগ পেলে আমি কিন্তু তাকে ছাড়ব না। বিন্দু পরিমাণ অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছুটি ঘোষণার কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের সমস্যা হচ্ছে। কৃষক, চা শ্রমিক, হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘যারা দৈনন্দিন কাজে যেতে পারছে না। তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সামাজিক কর্তব্য। সেখানে ১০ টাকা কেজি চালসহ নানা সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের কাছে সাহায্য ও খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সবাইকে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড অনুযায়ী তালিকা করতে হবে। সেই অনুযায়ী সবাই যেন সাহায্য পায়। কেউ যেন বাদ না পড়ে।’ সবার পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহারের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিপিই ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য।’ তিনি বলেন, যাদের প্রয়োজন নাই তাদের পিপিই ব্যবহারের প্রয়োজন নাই। পিপিই সকলের ব্যবহারের জন্য নয়। এটি ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য। পিপিই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সকলে পিপিই ব্যবহার করতে গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা যেন ব্যাহত না হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দরিদ্রদের সহযোগিতায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্যও প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান। কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সে সচিবালয় প্রান্ত থেকে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিববৃন্দও সচিবালয় প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এবং পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন অন্যান্যের মধ্যে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে উদ্দেশ্য করে সকল জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন-করোনার সঙ্গে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আর কয়েকদিনের মধ্যেই মশার প্রাদুর্ভাবে ডেঙ্গু দেখা দিতে পারে, কাজেই সেটা যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি জনগণকে নিজ বাড়ি এবং তার চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পানি জমে থাকা রোধ করে মশার বংশ বিস্তার রোধ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য সকলকে মশারি খাটিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না, বাইরের কেউ আর ওখানে ঢুকুক। যেহেতু একটা কেস (করোনায় আক্রান্ত রোগী) পাওয়া গেছে। আর যেন সংক্রমিত না হয়, এজন্য সেখানে পর্যটকও যেতে পারবে না। সবই বন্ধ রাখতে হবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে সবকিছু যেন ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়, সেটা দেখতে হবে।’ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়েই আমরা চিন্তিত। কারণ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যদি কোনো কিছু হয়ে যায়, তাহলে খুবই ক্ষতি হবে। এ জন্য বাইরের কোনো লোকের দরকার নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা আছে, তারাই সার্ভিস দেবে। ওখানে তো আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সশস্ত্রবাহিনী, সেনাবাহিনী সকলেই তো আছে। তারা তো কাজ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিজেদের লোক দিয়েই সব করাব। বাইরের লোক যেন এই সময়ের মধ্যে বেশি কেউ না যায়, সেটা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ালে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে যেটা সমস্যা সৃষ্টি করে সেটা হচ্ছে, নানা ধরনের গুজব।’ সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি বলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি, সেই সুযোগটা পাচ্ছি। ভবিষ্যতে হয়তো আরও কথা বলব। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অ্যাপসে নানা ধরনের গুজব অনবরত ছড়ানো হয়ে থাকে। নানা ধরনের কথা অনেকে বলে থাকেন। দেশে নয় দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ বলেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এগুলো বলবেন, যদি কেউ মিথ্যা অপপ্রচার করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গে নিতে হবে। গুজবে কেউ কান দেবেন না।’ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে অল্প একটু জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। কারও এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। ঘরের কোণায় হলেও একটা কিছু ফসাল ফলান। ‘তরি-তরকারি চাষ করেন, হাঁস-মুরগির খামার বা মাছের চাষ করেন, বা ছাগল, গরু, ভেড়া- যাই হোক, যে যা পারেন পালন করেন, ’যোগ করেন তিনি। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপরে কিন্তু আরেকটা ধাক্কা আসবে। সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। সে কারণে বিরাট একটা অর্থনৈতিক মন্দা আসতে পারে। ‘সেই মন্দা মোকাবেলায় চিন্তাভাবনা এখন থেকে আমাদের করতে হবে, পরিকল্পনা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে আমাদের একটা সুবিধা হল আমাদের মাটি অত্যন্ত উর্বর। আমাদের মাটি আছে, মানুষ আছে, ’যোগ করেন তিনি। এ সময় কৃষিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের খাদ্য উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে। এ বিষয়ে সকলকে নজর রাখতে হবে। খাদ্য উৎপাদনের জন্য যা যা উপকরণ দরকার, তা যেন মানুষের কাছে পৌঁছে, এ বিষয়ে আমাদের কৃষির সাথে যারা সম্পৃক্ত আছেন তারা উদ্যোগ নেবেন। তিনি আরো বলেন, আমরা যদি খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে পারব। পাশাপাশি, অন্য দেশের প্রয়োজন হলে আমরা সাহায্য করতে পারব। আল্লাহর রহমতে সেইসব ক্ষমতা আমাদের আছে। শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা সচেতন হয়েছি বলেই তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও আমাদের অবস্থা খুব খারাপ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা আমরা অনুসরণ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর বড় কর্তব্য মনে করেছি, জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানসহ সব অনুষ্ঠানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। যেন সবাই নিরাপদে থাকেন।’ তিনি বলেন, ‘চীনের উহান থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হলো, তাদের কোয়ারেনটাইনে রাখা হলো। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলো, পরে অনেকেই চলে এলো। তাদের মধ্যে অনেকে সংক্রমিত। তাদের আলাদা রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো। তখন মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করলাম।’ ‘সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, তাদের জীবন যেন স্তব্ধ না হয়, সে জন্য ব্যাংক কিছু সময় খোলা রাখা, কাঁচাবাজার চালু, পণ্য পরিবহন, জরুরি সেবা সবকিছুই সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত আকারে চালু রেখেছি’, যোগ করে তিনি বলেন, ‘আইইডিসিআর কাজ করছে। শুধু রাজধানী নয়, বিভাগীয় পর্যায়েও করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি।’ জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবন থেমে থাকবে না, চলবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। তারপরও জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সেটা করতে গিয়ে মানুষকে কষ্টও দেওয়া যাবে না।’ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাঠ প্রশাসন কীভাবে কাজ করছে এবং তারা কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন- তা সরাসরি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং বর্তমানে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা তরুন জার্মান প্রবাসী ফয়সল শেখ ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে মত বিনিময় করেন। তিনি বলেন, ‘টেস্টে পজিটিভ আসার পর আইইডিসিআর আমাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখে। তারা বাসায় এসে আমাকে নিয়ে গিয়ে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি রাখে। সেখানে আমি ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকি, আমার পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।’ ফয়সল বলেন, ‘কয়েকদিন পর বারবার টেস্ট করার পর যখন আমার টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ আসে, তখন আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাই। আল্লাহর রহমতে আমার মাধ্যমে পরিবারের কারও করোনা হয়নি।’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার নির্দেশনায় দেশে যে করোনা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, সেজন্য আমি আপনার কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। দেশের জনগণের কাছে একটাই অনুরোধ, আপনারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানুন। করোনার সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে বাসায় থাকা, ঘরে থাকা। পরিবারকে সময় দিন। যতদিন ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে ঘরে থাকুন, তাহলেই কেবল আমরা করোনা থেকে মুক্ত থাকতে পারব।

ভ্রাম্যমান আদালতে ১৮হাজার টাকা জরিমানা

নিজ সংবাদ॥ গতকাল জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফর নাহারের তত্বাবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সবুজ হাসান ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খাদিজা খাতুনের উপস্থিতিতে সদর উপজেলার হরিণারায়নপুর বাজারে ২টি ফার্মেসীর দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এসময় মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিক্রয় অযোগ্য ওষুধ বিক্রির দায়ে ওষুধ আইন, ১৯৪০ অনুসারে ১৮হাজার টাকা অর্থ দণ্ড প্রদান করা হয়।