কুমারখালীতে মামলা তুলে না নেয়ায় হত্যার চেষ্টা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মামলা তুলে না নেয়ায় হত্যা চেষ্টা চালিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আবার মামলা দায়ের হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমারখালী থানার যদুবয়রা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে। সুত্রে জানা পূর্ব শক্রতার জের ধরে বাদী আব্দুল আজিজ ও বিবাদী ময়নুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। নিজেদের আত্মরক্ষায় আব্দুল আজিজ ময়নুল ইসলামের নামে কুমারখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। সেই শক্রতার জের ধরে প্রথমত ৩ জুলাই আব্দুল আজিজের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারপিট চালায়। সম্পুর্ণ রূপে ক্ষত ও অচেতন অবস্থাতে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন এলকাবাসী। তার সুবাদে আব্দুল আজিজের স্ত্রী হেলেনা খাতুন বাদী হয়ে গত ১৭ জুলাই  কুমারখালী থানাতে একটি মামলা দ্বায়ের করেন যার মামলা নং ১৫/১৬১। ওখানেই শেষ নয় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারটির উপর দিনে রাতে চাপ সুষ্টি করতে থাকেন মামলার আসামী পক্ষের আকমল হোসেন, লোকমান হোসেন ও শহিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। এমনকি মামলা তুলে না নিলে প্রাণে মেরে দিবে বলেও হুমকী দিয়ে আসছে বেশ কিছু দিন ধরে। এর পর ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় আব্দুল আজিজ চৌরঙ্গী বাজার হতে বাড়ি ফেরার সময় ময়নুল ইসলাম (৫২) পিতা: মৃত মোস্তাক আমী , রেজাউল ইসলাম (৩৮) পিতা: মৃত আব্দুল খালেক , হুরমত আলী (৪০) পিতা: কেতাব আলী, আকমল (৪২), সহিদুল ইসলাম (৪০), সর্ব পিতা মৃত বানান আলী, বুদো শেখ (৪৫) পিতা: জাফর আলী, মিলন হোসেন (৪০), মিল্টন (৩৬) সর্ব পিতা: মৃত লিয়াকত আলী, রিপন (৩২) পিতা: মৃত সিরাজ উদ্দিন, সর্ব সাং- রসুলপুর, থানা কুমারখালী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশী ধারালো আস্ত্র দিয়ে মাথায়, হাতে, পায়ে সহ সমস্থ শরীরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরে। তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের মধ্যে হাসুয়া, ছোরা, লোহার রড, হাতুড়ী ও বাঁশ। পরে এলাকাবাসীর চেচামেচিতে আক্রমন কারীরা ঘটনা স্থান ত্যাগ করে। পরে ক্ষত অবস্থায় আব্দুল আজিজ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। মাথায়, হাতে, পায়ে সহ শরীরে প্রায় ১২ টি যায়গার হাড় ভেংগে গিয়েছে তার। এঁর সুবাদে পূণরায় আব্দুল আজিজের স্ত্রী হেলেনা খাতুন কুমারখালী থানাতে ২৫ সেপ্টেম্বর মামলা দ্বারের করেন যার মামলা নং- ২২/২২৩। এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মজিবুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি অভিযুক্ত আসামীদের ধরতে পুলিশ পাঠিয়েছেন বলে জানান।

ইতিহাস বিকৃতির প্রক্রিয়ায় জিয়াকে খাটো করার অপচেষ্টা চলছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, সরকারের লেলিয়ে দেয়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে মহা উৎসাহে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে জঘন্যতম কুৎসার গরল উগরে দিতে মেতে উঠেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কতিপয় পদলেহী অর্বাচীন ইতিহাস বিকৃত করার প্রক্রিয়ায় জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টায় নিরন্তর কাজ করছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, মান্নান হীরা নামে এক ব্যক্তি আওয়ামী লীগের নেকনজর পাওয়ার জন্য ইনডেমনটি নামে তথাকথিত বিকৃত ইতিহাসের ‘চটি নাটক’ লিখে জয় বাংলা ব্যানারে বা তাদের সাংস্কৃতিক জোটের নামে সারাদেশে মঞ্চায়ন করে বেড়াচ্ছেন। গত এক বছর ধরে তিনি এ কাজ করছেন। কথিত পথ নাটকটি ২৬ সেপ্টেম্বর নিশিরাতের এক সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন টিভিতে প্রচার করা হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা তাদের সাবধান করে দিতে চাই, এই ইতিহাস বিকৃতি ও তথ্য সন্ত্রাসমূলক নাটক প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে গণশত্র“ হবেন না। এই নাটকের রচয়িতা, পরিচালক, নির্দেশক, অভিনেতা-কলাকুশলীদের জনগণ মনে রাখবে। তিনি বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা মানেই রণাঙ্গনের সকল মুক্তিযোদ্ধাকেই অপমান করা। এই দিনই দিন না, সামনে আরও দিন আছে। দেশের জনগণই এর উপযুক্ত জবাব দেবে। বিকারগ্রস্ত মানসিকতার এই ‘ইনডেমনিটি’র নামে চরিত্রহননকারী নাটকের নির্মাতাদের এহেন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। এটির সাথে যারা জড়িত কিংবা প্রচার করবেন জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। বিএনপির এই নেতা বলেন, জাতীয় সংসদের নওগাঁ-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে গত বৃহস্পতিবার ধানের শীষের প্রার্থীর প্রস্তুতি সভায় হামলা চালিয়ে আত্রাই থানা বিএনপির আহ্বায়ক মোশাররফ ও যুগ্ম আহ্বায়ক জাপানসহ অনেক নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। আমি এই হামলার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া পাবনা-৪ উপ-নির্বাচনেও ধানের শীষের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বাহিনী। আসন্ন উপ-নির্বাচনগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের আলামত দেখা যাচ্ছে। তবে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে যতই বাধা দেয়া হোক সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ তা প্রতিরোধ করবে।

পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বিএনপি’র দহরম-মহরম পুরনো – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে ক্রমাগতভাবে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি। পাকিস্তানি গোয়েন্দা ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাদের যে দহরম-মহরম সেটা বহু পুরনো। এর প্রমাণ হচ্ছে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বৈঠক। তিনি বলেন, আপনারা জানেন ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিএনপিকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এটি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন। সুতরাং তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচন আরও অনেক দেরি আছে, নির্বাচনের বাকি আরও সাড়ে তিন বছর। গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘মোহাম্মদ আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার, দৈনিক আজাদী এবং গণতন্ত্র’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকরা সৌদি আরবের জেদ্দায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র এক গোপন বৈঠকের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি এসব কথা বলেন। ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের ৫৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতি এই সেমিনারের আয়োজন করে। স্বাধীন সংবাদপত্র পাঠক সমিতির সভাপতি এসএম জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক প্রমুখ। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রকৃতপক্ষে যখন করোনা ভাইরাসে পৃথিবী স্তব্ধ, মানুষ শঙ্কিত ভবিষ্যৎ নিয়ে, সেই সময়ে বিএনপি জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রের বৈঠক করে বেড়াচ্ছে। সেটির প্রকাশ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বৈঠক, যা প্রচ- নিন্দনীয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি অতীতে ষড়যন্ত্রের পথ অবলম্বন করে যে এগুতে পারেনি তারা নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে সক্ষম। না হলে আওয়ামী লীগকে মানুষ পর পর রায় দিয়ে তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসাতো না। তাই আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাব, ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে মানুষের পাশে দাঁড়ান, এই ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। তিনি বলেন, আমরা যখন ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি তখন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের সংখ্যা ছিল সাড়ে ৪০০। এখন বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদপত্র সাড়ে ১২০০। তখন অনলাইন পত্রিকা ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। এখন কয়েক হাজার অনলাইন পত্রিকা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। প্রাইভেট টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ১৯৯৬ সালে। ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন প্রাইভেট টেলিভিশন ছিল ১০টি। এখন ৩০টি প্রাইভেট টেলিভিশন সম্প্রচারে আছে, ৪৫টি প্রাইভেট টেলিভিশনের জন্য লাইসেন্স দেওয়া আছে। এর বাইরে ৪টি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চালু আছে। সংবাদ মাধ্যমের এই যে এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ সেটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্র যে ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে অনেক উন্নত দেশেও কিন্তু সংবাদপত্রের এমন স্বাধীনতা নাই। ইউকে’তে ১৬৭ বছরের পুরনো পত্রিকা ছিল ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। সেটি পৃথিবীর বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ছিল একসময়। সেই পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। একটি ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে মামলা হয়। মামলার পর তাদের ওপর বিরাট জরিমানা করে আদালত। সেই জরিমানা দিতে না পেরে কোম্পানি পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, একজন এমপি’র বিরুদ্ধে ভুল বা অসত্য সংবাদ পরিবেশনের কারণে বিবিসি’র পুরো টিমকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ইউকে এবং কন্টিনেন্টাল ইউরোপে হরহামেশা ভুল এবং অসত্য সংবাদ পরিবেশনের কারণে পত্রিকা এবং গণমাধ্যমকে জরিমানা দিতে হয়। আমাদের দেশে সেটি কখনো হয়নি। সংবাদপত্র এ সমস্ত কারণে বন্ধ হয়নি। সেজন্য বলছি অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে। দৈনিক আজাদী সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দৈনিক আজাদী পত্রিকা বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে একটি। ঢাকার অনেক পত্রিকার চেয়ে দৈনিক আজাদী পত্রিকার সার্কুলেশন বেশি। এই কৃতিত্ব প্রথমত ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক সাহেবের, তিনি দূরদৃষ্টি নিয়ে এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে যারা এই পত্রিকার হাল ধরেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই পত্রিকাকে অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিচালনা করে আসছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম যখন অন্য পত্রিকা ছাপেনি তখন দৈনিক আজাদী পত্রিকা ছেপেছে। সেজন্য দৈনিক আজাদী পত্রিকা পরিবার গর্ব করে বলে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা। আজাদী শুধুমাত্র পত্রিকা নয়, একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে।

ভেড়ামারায় বাল্যবিবাহ আয়োজনের দায়ে ২ জনকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় শুক্রবার বিকালে বাল্যবিবাহ আয়োজনের দায়ে ২জনকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান করেছে। ভেড়ামারা উপজেরা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ ও থানার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৌরসভার ফারাকপুর ২নং ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদের মেয়ে সানজিদা ইয়াসমিন কাকলি (১৬) বাল্যবিবাহ আয়োজনের দায়ে তার দাদা মৃত মফিজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে  মোতালিব হোসেনকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ মোতাবেক  ৩ ( তিন)  মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। এছাড়া কনেকে বাড়িতে রাখা ও বিয়েতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার দায়ে একই আইনে কনের চাচাতো ভাই মিরাজুল ইসলামের ছেলে রায়হান হোসেনকে (২৫) কে ৫০ হাজার)  টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আন্দোলন বাজারের পত্রিকার ১ম পৃষ্ঠায় “কুষ্টিয়ায় তিন ভূমি দস্যুর ভয়ে তটস্থ মিলপাড়ার সাইফুল’শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শহরের আড়–য়াপাড়া বাহাদুর বিশ্বাস লেনের ১ নং গলির মৃত আবুল হায়াতের ছেলে সওকত আলী ওরফে টন। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদে উল্লেখ আছে যে, আমি সাইফুল ইসলাম রাজা নামে জনৈক ব্যক্তির কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছি এবং জমি জবর দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছি। সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তিনি উল্লেখ করে বলেন, ঐ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। মূলত উক্ত সম্পত্তি আমার নানার মালিকানা সম্পত্তি। এবং তারাই ভোগ দখল করছেন। এমনকি ঐ জায়গার উপর ভাড়াটিয়া এবং জমির পজিশন বিক্রয় করা আছে। কিন্তু সংবাদে সাইফুল ইসলাম রাজা যিনি দাবি করেছেন আমি, আড়–য়াপাড়ার দত্তপাড়া  রোডের আব্দুল হামিদ ড্রাইভারের ছেলে মো. পিয়াস এবং বাহির বোয়ালদহ গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মো. রাসেল এক বছর ধরে ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছি। এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছি। মৃদ্রা কথা আমি ব্যাক্তিগতভাবে সাইফুল ইসলাম রাজাকে চিনি না। তিনি যে অভিযোগ করেছেন তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বানোয়াট। তিনি সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে আমার ও আমার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে চান। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিাচ্ছি।

ইকামা-ভিসা থাকলে সবাই সৌদি যেতে পারবেন – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ যাদের ইকামা, ভিসা আছে, দেশে এসেছেন ছুটিতে, তাদের সবাই সৌদি আরব যেতে পারবেন, কোনো জটিলতা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। এর জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার ফরেন সার্ভিস একাডেমি সুগন্ধা’র নব নির্মিত কমপ্লেক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে যুক্ত হয়ে এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সৌদির টিকিট ইস্যুতে কথা বলেন মোমেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের ইকামা আছে, সৌদিতে চাকরি আছে, কিন্তু দেশে এসেছিলেন, তারা সবাই ফেরত যেতে পারবেন। ভিসা নিয়ে কোনো জটিলতা হবে না। এর জন্য আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ইকামা থাকলে তাদের আবার ভিসা দেওয়া হবে। সৌদি প্রবাসীদের টিকিটের ভিড় নিয়ে মোমেন বলেন, যদিও বিষয়টি দুঃখজনক, কিন্তু যারা আগে থেকে টোকেন নিয়েছিলেন, তারা তো আগেই যাবেন। পর্যায়ক্রমে সবাই যাবেন। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এর আগে ফরেন সার্ভিস একাডেমির নতুন কমপ্লেক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নিজ বক্তব্যে একে মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু দায়িত্ব গ্রহণের পর সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশ এখন জাতিসংঘে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্র্যান্ডিংয়ে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের ৫৯টি শান্তি মিশনের ৫৪টিতেই কাজ করছে বাংলাদেশ। আর এতে এক লাখ ৬৩ হাজার ১৮১ জন নারী ও পুরুষ শান্তিরক্ষী কর্মী কাজ করছেন। আজ আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় এবং বিদেশের মিশনের সেবার পরিধি আরও বৃদ্ধি করেছি। বিদেশে অবস্থানরত যারা আছেন, তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালু করেছি। এই ভবন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হিসেবে কাজ করেছে। আজকের যে অর্জন তার শুরুর অনেক কিছুর সাক্ষী এই সুগন্ধা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোও বক্তব্য রাখেন। সার্কভুক্ত দেশগুলোকে নিবিড় সহযোগিতার আহ্বান: করোনা পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একসাথে কাজের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত সার্কভুক্ত দেশসমূহের ১৭তম অনানুষ্ঠানিক কাউন্সিল অব মিনিস্টার্সের এক সভায় এ আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোকে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে সম্মিলিত কল্যাণ সাধনের বিষয় উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি মার্চে অনুষ্ঠিত সার্ক নেতৃবৃন্দের বৈঠকে ঢাকায় একটি সার্ক জনস্বাস্থ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনার কথা পুনরুল্লেখ করেন, যা পরবর্তীকালে করোনার মতো যেকোন জনস্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্কভুক্ত সব দেশকে সাহায্য করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এই বছরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যকরী আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠাকল্পে সার্ক ফোরামকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গিওয়ালির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সার্কভুক্ত ৮টি দেশের সব পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এ বছরের সভায় সার্কভুক্ত দেশেগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা করোনা মোকাবিলায় আঞ্চলিক প্রচেষ্টাগুলোকে পর্যালোচনা করেন ও করোনাকালে এ সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সার্কে নবশক্তি সঞ্চারণকল্পে সার্কের কর্ম পরিকল্পনা (প্ল্যান অফ অ্যাকশন) পর্যালোচনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন আলোকপাত করেন। ড. মোমেন বলেন, করোনা সহযোগিতার আরও নতুন নতুন ক্ষেত্র ও সুযোগ যেমন তৈরি করবে তেমনি বর্তমানকালের অনেক ক্ষেত্রকেও আংশিকভাবে বা পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক বানিয়ে ফেলবে। তিনি করোনা পরবর্তী সময়ে খাদ্য ও কৃষি, জনস্বাস্থ্য, আইসিটি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ- এসব খাতে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের মতো কিছু কার্যকরী বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রতি সার্কের অন্যান্য দেশের মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন করোনা পরবর্তী সংকট উত্তরণকল্পে সার্কভুক্ত দেশসমূহের নিবিড় সহযোগিতার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেন সার্ক ভবিষ্যতে একটি গতিশীল ও কার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে শক্ত অবস্থান করে নিতে পারে।

এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ২ হাজার ৭৮৫ চিকিতসক

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীসহ সারাদেশে মহামারি করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৮৫ জন চিকিৎসক। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক রাজধানী ঢাকায় ৮১১ জন এবং সর্বনিম্ন রাজশাহী বিভাগের বগুড়ায় ১১ জন আক্রান্ত হন। দেশের আট বিভাগে যে ১০টি এলাকায় চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন, সে এলাকাগুলো হলো-ঢাকা বিভাগের ঢাকায় ৮১১জন, গাজীপুরে ৯৭ জন, কিশোরগঞ্জে ৯৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লায় ১৩৩ জন, চট্টগ্রামে ৪৫৭ জন, খুলনা বিভাগের যশোরে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগের বগুড়ায় ১১ জন, রংপুর বিভাগের রংপুরে ৩৫ জন, সিলেট বিভাগের সিলেটে ৩১১ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহে ১৩৩ জন। চিকিৎসকের মতো ওই ১০টি এলাকায় নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও অধিক সংখ্যক আক্রান্ত হয়েছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। সূত্র জানায়, চিকিৎসকের পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে এক হাজার ৯৫৪ জন নার্স ও তিন হাজার ২৫৬ জন অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হন করোনায়। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৯৯৫ জন। এ ছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বা করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮৮ জন চিকিৎসক। করানোভাইরাসের সংক্রমণ ও এর উপসর্গ নিয়ে ৮৮ জন চিকিৎসকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী। তারা মৃত সকল চিকিৎসকদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিএমএ নেতারা বলেন, করোনায় মৃত চিকিৎসকদের জন্য আমাদের কান্না নয় বরং তাদের বীরত্বগাঁথা ও সাহসী আত্ম-উৎসর্গ আমাদেরকে গৌরবান্বিত করেছে এবং আগামীর দুর্গম যাত্রায় আমাদেরকে আলোর পথ দেখিয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা দেনাপাওনার ঊর্ধ্বে – রীভা গাঙ্গুলি

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় বিদায়ী হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ উন্নয়ন অংশীদার এবং এই সহযোগিতা নিছক দেনাপাওনার ঊর্ধ্বে, যা বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে রচিত। মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় হাইকমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। ভারতীয় হাইকমিশন ‘মহাত্মা গান্ধী স্মরণে’ শীর্ষক এক অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করে। আগামী ০২ অক্টোবর দুই বছরব্যাপী মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের সমাপ্ত হবে। সেমিনারে ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, নোয়াখালী, জামালপুর, আত্রাই এবং দোহারের গান্ধী আশ্রমগুলো বাংলাদেশে গান্ধীজির আদর্শের মশাল বাহক। তিনি মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উভয়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশ উন্নয়ন অংশীদার এবং এই সহযোগিতা নিছক দেনাপাওনার ঊর্ধ্বে, যা বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে রচিত। তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশতম বার্ষিকী সম্মিলিতভাবে উদযাপনের প্রত্যাশায় রয়েছে। বিদায়ী হাইকমিশনার বলেন, আমি একই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সমস্ত গান্ধী আশ্রমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আনন্দিত। তিনি ভারত ও বাংলাদেশের এই অভিন্ন ইতিহাস রক্ষার জন্য এবং বন্ধুত্বের এই লালিত বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য তাদের সবাইকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। সেমিনারে অংশ নেন নোয়াখালীর সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহিম, গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সভাপতি স্বদেশ রায়, মহাত্মা গান্ধী স্মারক সদনের সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ, নোয়াখালী গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের পরিচালক নব কুমার রাহা, আত্রাই গান্ধী আশ্রমের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জামালপুর গান্ধী আশ্রমের হিল্লোল সরকার এবং দোহার গান্ধী আশ্রমের মো. ফজলুল হক। এমপি এইচএম ইব্রাহিম কীভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাত্মা গান্ধীর দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, তা স্মরণ করেন। স্বদেশ রায় বিশ্বব্যাপী মহামারির মধ্যে পল্লী উন্নয়নের ভিত্তিতে গান্ধীজির উন্নয়ন মডেলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সৈয়দ আবুল মাকসুদ বলেন, তরুণ প্রজন্মকে গান্ধীবাদী আদর্শকে জানা এবং বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নব কুমার রাহা নোয়াখালী গান্ধী আশ্রমের মাধ্যমে সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির জন্য পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের বর্ণনা দেন। ১৯৩০ সালে জামালপুরে গান্ধী আশ্রম শুরু করার জন্য নাসিরউদ্দিন সরকার কীভাবে গান্ধীজির মূল্যবোধ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, তা স্মরণ করে বক্তব্য দেন হিল্লোল সরকার। আত্রাই গান্ধী আশ্রম বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে কীভাবে মানুষকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে, তা বর্ণনা করে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানান।

করোনাকালীন মানবিক সহায়তায় যশোর সেনানিবাস

করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  সেনাসদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় করোনা মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপসমূহ বেগবান এবং কার্যকরী করার লক্ষ্যে সেনা সদস্যরা জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে যশোর সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপূর্ণ ১০টি জেলায় মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে করোনাকালীন সময়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেনা সদস্যরা। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই নির্দিষ্ট দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সেনানিবাসের বিশেষজ্ঞ  মেডিক্যাল টিমের সাহায্যে অসহায় ও দুস্থ মানুষদেরকে নিয়মিত চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি করোনাকালীন ত্রান সহায়তা, সচেতনতামূলক প্রচারণা, গণপরিবহন মনিটরিং, স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড গ্লোবস ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করাসহ সকল প্রকার জনকল্যানমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে খুলনা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের  বন্যা এবং জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তা ও সুপেয় পানি বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিল, মদ ও পাতার বিড়ি উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ৮৩ বোতল ফেনসিডিল, ১০০ বোতল মদ ও ১২০০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে ও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করে বিজিবি। বিজিবি সূত্র জানায়, মাদক পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ মহিষকুন্ডি বিওাপ’র টহল দল গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কেডিআই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। জয়পুর বিওপি’র টহল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহিষকুন্ডি মাঠে অভিযান চালিয়ে ৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। গতকাল শুক্রবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে রামকৃষ্ণপুর বিওপি’র টহল দল মোহাম্মদপুর নদীরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৫ বোতল জেডি মদ উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে মহিষকুন্ডি বিওপি’র টহল দল ভাগজোত তালতলা নদীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৫ বোতল বেষ্ট টেষ্টি মদ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও চিলমারী বিওপি’র টহল দল বৃহস্পতিবার বিকেলে চল্লিশপাড়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২০০ প্যাকেট নিশা জাতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ক্ষমতা না ছাড়লে সামরিক বাহিনী ট্রাম্পকে সরিয়ে দেবে’

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গেলেও নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজ দলের প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতারা। ঠিক এর আগের দিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নেতা মিচ ম্যাককনেল জানান, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যেই জিতুক না কেন, আগামী বছরের ২০ জানুয়ারিতে তার অভিষেক শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে মার্কিন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের মূলভিত্তি হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। ট্রাম্প তা না করলে, সাংবিধানিকভাবে বিপদে পড়ে যেতে পারে আমেরিকা। এর আগে রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনিও জানান, ’শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। এর অন্যথা হলে দেশের অবস্থা হবে বেলারুশের মতো। একজন প্রেসিডেন্ট এই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতিকে সম্মান দেখাবেন না, এমন কোনও ধরনের ইঙ্গিত অকল্পনীয় এবং তা মেনে নেয়া যায় না’। ট্রাম্পঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লিন্ডসে গ্রাহাম নিরাপদ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অবশ্য নির্বাচনে কোনো ধরনের গ-গোল হলে সিদ্ধান্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া লাগতে পারে বলেও অনুমান এ রিপাবলিকান সিনেটরের। ট্রাম্পের ক্ষমতা না ছাড়ার বক্তব্যে নিন্দা জানিয়ে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘এটা উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়া নয় যে আপনি ক্ষমতা ছাড়বেন না’। সংবিধানিক মোতাবেক শান্তিপূর্ণ উপায়েই ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, বলেন পেলোসি।  আর, ক্ষমতা না ছাড়লে সামরিক বাহিনী ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস থেকে সরিয়ে দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মার্কিন রাজনীতি। প্রতিদিনই  কোন না কোন বেফাঁস মন্তব্য করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

কুষ্টিয়ার আব্দালপুর গ্রামে বজ্রপাতে বৃদ্ধার মৃত্যু

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, আব্দালপুর গ্রামের বাজার পাড়ার খাদিমুল বিশ্বাস খাদি (৬৫) সকালে মাঠে যায়, দুপুর আনুমানিক ১২ ঘটিকার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয় (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি দুই  ছেলে, এক মেয়ে ও তার স্ত্রীকে রেখে গেছেন, পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চির বিদায় নেয়। হঠাৎ আকস্মিক মৃত্যু অনেকে মেনে নিতে পারে নাই। দুর দুরান্ত থেকে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ছুটে আসেন এক নজর দেখার জন্য।  এদিকে মরহুমের জানাযা নামাজ বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের জনাযা নামাজে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও সিনিয়র  সদস্য জমির উদ্দিন সহ প্রায় এক হাজার স্বজনেরা অংশগ্রহন করেন। প্রয়াত খাদিমুল বিশ্বাস খাদি’র পরিবার তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া  চেয়েছেন।

মিরপুরে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৩

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে দেশীয় অস্ত্রসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবী এসময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরপূর্বক জেল হাজতে প্রেরণ করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের গৌড়দহ এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস কে চঞ্চল (২৫), একই এলাকার মৃত আকমল হোসেনের ছেলে খোকন আহম্মদ (৩৩) এবং ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের গেটপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে রনি ইসলাম ওরফে ড্যানী (২৪)। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মিরপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটককৃতদের বাড়ীতে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় এস কে চঞ্চল, খোকন আহম্মদ ও রনি ইসলাম ওরফে ড্যানী এর শয়ন কক্ষ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তাদের আটক করে পুলিশ। মামলার বাদী মিরপুর থানা পুলিশের এসআই পার্থ শেখর ঘোষ এজাহারে আরো উল্লেখ করেন উক্ত আসামীরা এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে জোর পূর্বক জমি দখল, এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং নওয়াপাড়া বাজারে প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসছিলো। তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের ছিলো। তাদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় জিডিও রয়েছে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, আটকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পূর্বক তাদের শুক্রবার বিকেলে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আ. লীগের কর্মসূচি ঘোষণা

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সভা শেষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা ও কিছু ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহানগর দক্ষিণের সকল মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় আলোচনা সভা হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন থাকবে। কাদের বলেন, নেত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর এতিমখানায় অসহায় দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচি রয়েছে।

দৌলতপুর সীমান্তে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৮ : আটক-১

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮জন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর উত্তরপাড়া গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকী আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ১জনকে আটক করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, পুর্ব বিরোধের জের ধরে নিজাম উদ্দিন ও মতিন বিশ^াসের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজি¦ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপেরে ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে ধারাল অস্ত্র ও লাঠির আঘাতে নিজাম উদ্দিন (৪৫), রুবেল (৩২), সাদ্দাম হোসেন (৩০), নজু বিশ^াস (৪০), মতিন বিশ^াস (৪৫), সুমন (১৮) ও নান্টু (২০) সহ উভয়পক্ষের অন্তত ৮জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেনকে আশংকাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে এবং মতিন বিশ^াস পক্ষের প্রধান মতিনকে আহত অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সংঘর্ষের এ ঘটনায় নিজাম উদ্দিন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতা চলা অবস্থায় প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে হালখাতার টাকা লুট করেছে বলে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।

দুর্গাপূজায় তিন দিন সরকারি ছুটি দাবি

ঢাকা অফিস ॥ হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটি আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে সাভারের নাবালিকা ছাত্রী নীলা রায় হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। মানববন্ধনে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সভাপতি দীপংকর শিকদার দীপু বলেন, দুর্গাপূজার একদিনের সরকারি ছুটি শুধু ছুটি হিসেবেই গণ্য হয়। এই ছুটিতে আমরা পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে পারি না। আমাদের সবচাইতে বড় এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটিতে সবাই চায় একসঙ্গে পরিবারের সঙ্গে থাকতে। যা একদিনের ছুটিতে সম্ভব না। সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র বলেন, বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো সংখ্যালঘুরা যেন নিরাপদভাবে বসবাস করতে পারে সে দিকে সরকারকে দৃঢ় দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করছি। সাভারে স্কুলছাত্রী নীলা রায়কে হত্যার প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। মিথ্যা ধর্মীয় উস্কানিমূলক মামলা দিয়ে দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদারকে হয়রানি না করারও দাবি জানাই। মুখপাত্র সুমন কুমার রায় বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, মঠ, মন্দির ভাঙচুর, শ্মশান বেদখল, দেশত্যাগে ভয়ভীতি প্রদর্শনের আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় মিথ্যা মামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসিয়ে যে চলমান নির্যাতন চলছে, তা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা সুধীর কান্তি সাহা, সহ-সভাপতি প্রীতিভূষন ভট্টাচার্য এবং সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিত্র প্রমুখ।

অবৈধপথে ক্ষমতা দখলে ষড়যন্ত্রের গলি খুঁজছে বিএনপি কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা মহামারির এ সময় বিএনপি-জামায়াত জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে অবৈধপথে, চোরা গলি দিয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য ষড়যন্ত্রের অলিগলি খুঁজে বেড়াচ্ছে। দুঃস্বপ্নে তারা বিভোর হয়ে আছে। গণবিরোধী ও দেশবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এর দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। গতকাল শুক্রবার দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লী, দলের ঢাকা মহানগর শাখা এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের গভীর ষড়যন্ত্রের তথ্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি-জামাত জোট কখনওই জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করতে চায় না। সর্বদাই তাদের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। আস্থা, স্বাধীনতাবিরোধী ও দেশবিরোধী অপশক্তির রাজনীতি। আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের আবেগ ভালোবাসা আশা-আকাঙ্খা ধারণ করে। কাজে-কর্মে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। আওয়ামী লীগ কখনও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না। ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বরদাশত করে না। কিন্তু বারে বারে আওয়ামী লীগই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মানবিক কারণে মুক্তি দেয়া হয়েছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে দন্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। করোনা সংক্রমণকালে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ মানবিকতা ও উদারতার পরিচয় দিয়ে তাকে জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করেন। এই মানবিকতা বা উদারতাকে বিএনপি দুর্বলতা মনে করলে ভুল করবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণের প্রতি আস্থাহীন হয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বারবার ভুল করে আসছে বলেই তারা জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। মহামারির এ সময় তারা জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে অবৈধপথে চোরা গলি দিয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য ষড়যন্ত্রের অলিগলি খুঁজে বেড়াচ্ছে। দুঃস্বপ্নে তারা বিভোর হয়ে আছেন। আমরা বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই, গণবিরোধী ও দেশবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতির ৭৩তম জন্মবার্ষিকীতে আমরা এ শপথ গ্রহণ করছি। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যাতে আওয়ামী লীগে জায়গা না পায় সেজন্য দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। দলের সভাপতিম-লীর সভায় দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। হঠাৎ করে কেউ দলে এলে তাকে প্রথমেই নেতা বানানো যাবে না। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কোনও অবস্থাতেই অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। সব বাধা বিপত্তি ডিঙিয়ে পথ চলাই এদেশের মানুষের চিরায়ত রীতি উল্লেখ করে মন্ত্রী কাদের বলেন, দেশের মানুষ কাজে ফিরতে শুরু করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জীবনের সঙ্গে জীবিকার চাকা সচল হয়েছে। আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে সীমিত পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকা- শুরু করেছে। জাতীয় সম্মেলনের আগে পরে ৩১টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। করোনা সংক্রমনের বাস্তব কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে অধিকাংশ পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রীয় দফতরে জমা পড়েছে। দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, কমিটি গঠনে দলের প্রেসিডিয়াম সভায় নেতৃত্বে নির্দেশনা দিয়েছেন। তা মেনেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। হঠাৎ করে কেউ দলে এলে তাকে প্রথমেই নেতা বানাতে হবে এমন কোনও কথা নেই। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কোনও অবস্থাতেই অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। বিষয়টি আমি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি: আপনারা যারা কমিটি করেছেন বা করবেন, তাদের এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে। আসন্ন সাংগঠনিক সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আটটি বিভাগের জন্য আটটি টিম, সাংগঠনিকভাবে আমরা প্রস্তুত, নেত্রীর কাছে তালিকা জমা দিয়েছি। অনুমোদন দিলে এই টিমগুলো আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি সর্বদা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচলনা নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সম্মেলনের পরে আমাদের সামনে ছিল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের আমরা অনেকটা গৃহবন্দি ছিলাম। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে আমরা শতবার্ষিকীর কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ দেওয়ার ঘটনা স্মরণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা করে সারা দুনিয়ার সব বাঙালিকে ধন্য করেন। গৌরবান্বিত করেন। করোনার সংকটের কারণে বঙ্গবন্ধুর জাতিসংঘে বাংলা ভাষণ দেওয়ার দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে পারিনি। তিনি বলেন, অদৃশ্য করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস ছিল উল্লেখ করার মতো। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সারা দেশের মানুষ সাড়া দিয়েছে এবং করোনাকালে তিনি একমাত্র ট্রাস্টেড সিঙ্গেল ফেস হিসেবে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মানুষের কষ্ট লাঘবে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও করোনা মোকাবিলায় সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। মন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণকালে প্রধানমন্ত্রীর সুনিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সুনিপুণ ব্যবস্থাপনায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অন্যান্য দেশের চেয়ে আমরা তুলনামূলকভাবে অনেক সক্ষম হয়েছি। তিনি দক্ষ নাবিকের মতো দিশেহারা জনগোষ্ঠীকে সুদক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে পথ দেখিয়েছেন। দেশের মানুষের দুর্ভোগ দুর্দশা লাঘবে ৭৩ বছর পেরিয়েও তিনি অবিরাম ছুটে বেড়িয়েছেন। এই বয়সেও তার গতি অ্যারাবিয়ান হর্স এর মতো। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জন্মদিনে কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বঙ্গবন্ধু কন্যার পছন্দ নয়। জন্ম দিবস পালনে নেত্রী তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এটা পালন করতেও চান না। তারপরও আমাদের এটা দায়িত্ব। শেখ হাসিনার জন্মদিন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বঙ্গবন্ধু আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার রোল মডেল। হাসিনা আমাদের উন্নয়ন এবং অর্জনের রোল মডেল। বিশ্ব দরবারে তিনি বাংলাদেশকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। তার জন্মদিন পালন না করলে আমরা জাতির কাছে অকৃতজ্ঞ থেকে যাব। এসময় ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগ দিনটি উপলক্ষে সারাদেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং মন্দির, প্যাগোডা-গির্জাসহ সব উপসানালয় বিশেষ প্রার্থনা এবং সীমিত পরিসরে আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপস্থিত হতে হবে। একটি সিট ফাঁকা রেখে অন্য আরেকটি সিটে বসতে হবে। কোনও অবস্থাতে বেশি জনসমাগম করা যাবে না।

কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ১১১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মিনার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ১১১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মিনারের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান হেলাল, সাধারণ সম্পাদক হাজী তরিকুল ইসলাম মানিক,  কোষাধ্যক্ষ মকলেছুর রহমান বাবু, দৈনিক সত্যখবর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হাসিবুর রহমান রিজু। এছাড়াও মসজিদ কমিটির অন্যান্য সদস্যগণসহ মুসুল্লীরা উপস্থিত ছিলেন। ১১১ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মিনারের প্লান ডিজাইন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কে এম আব্দুস সালাম ও পারফেক্ট হোম ডিজাইন এন্ড কনসালটেন্সি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দৈনিক সত্যখবর পত্রিকার সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার ইঞ্জিঃ মাহমুদ আল হাফিজ অভি।

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ

ঢাকা অফিস ॥ জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় ভাষণ প্রদান উপলক্ষে ডাক অধিদফতর ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড ও একটি বিশেষ সীলমোহর প্রকাশ করছে। গতকাল শুক্রবার ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার তার দফতর থেকে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন এবং ডাটাকার্ড ও বিশেষ সিলমোহর প্রকাশ করেন। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণ দেন। তার মাত্র ৮ দিন আগে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। বঙ্গবন্ধুই প্রথম রাষ্ট্রনায়ক যিনি জাতিসংঘে মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা করে বাংলা ভাষাকে বিশ্ব সভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। সেদিন সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করেন ইংরেজিতে বক্তৃতা করার জন্য। বঙ্গবন্ধু বিনয়ের সাথে বলেছিলেন, ‘মাননীয় সভাপতি আমি আমার মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা করতে চাই’। জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা ছয়টি, তার মধ্যে বাংলা ভাষা নেই। বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে অধিবেশনের সভাপতি তাকে বাংলায় বক্তব্য দেয়ার অনুমতি দেন। আজ সেই ঐতিহাসিক ২৫ সেপ্টেম্বর। বাঙালি জাঁতি ও বাংলা ভাষার ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম পরবর্তীতে ঢাকা জিপিওর ফিলাটেলিক ব্যুরো ও অন্যান্য জিপিও ও প্রধান ডাকঘরসহ দেশের সকল ডাকঘর থেকে বিক্রি করা হবে। উদ্বোধনী খামে ব্যবহারের জন্য চারটি জিপিওতে বিশেষ সিলমোহরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

করোনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৮৩

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরও ২১ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ জন ও নারী ৭ জন। তাদের সকলেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ হাজার ৯৩ জনে। করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৩টি পরীক্ষাগারে ১২ হাজার ৫৯৩টি নমুনা সংগ্রহ ও ১২ হাজার ৪৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। একই সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৩৮৩ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল তিন লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৭ জনে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ১০টি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯৩২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থের সংখ্যা দাঁড়াল দুই লাখ ৬৭ হাজার ২৪ জনে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। রোগী শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৭৪ দশমিক ৮৫ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত করোনায় মোট মৃতের মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ৯৪৯ জন (৭৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ) ও নারী এক হাজার ১৪৪ জন (২২ দশমিক ৪৬ শতাংশ)। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২১ জনের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ৭ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৪ এবং ষাটোর্ধ্ব ১০ জন। বিভাগ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ২১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৬ জন, চট্টগ্রামে ২, রাজশাহীতে একজন, খুলনায় একজন ও রংপুরে একজন রয়েছেন।

বিএনপি নেতাদের চোখের চিকিতসা করানোর পরামর্শ হানিফের

ঢাকা অফিস ॥ এনপি নেতাদের দ্রুত চোখের চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, বিএনপি নেতারা চোখে উন্নয়ন দেখেন না। এই সরকারের উন্নয়ন যারা দেখে না, তারা আসলে চোখ থাকতে অন্ধ। তাদের চোখে ছানি পড়েছে। এদের দ্রুত চোখের চিকিৎসা করা দরকার। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান প্রজন্ম ঐক্য জোট আয়োজিত ‘উন্নয়ন ও অগ্রগতির বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হানিফ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিজের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন, যদি দেশের মধ্যে বিভেদ না থাকতো। যদি না উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বাধা আসতো। তাহলে আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম। আমাদের কিছুকিছু মন্ত্রণালয়ে দুর্বলতা থাকলেও আমরা বাংলাদেশকে সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের দিকে নিয়ে গেছি। হানিফ আরো বলেন, পত্রিকায় দেখলাম বিএনপির উচ্চপদস্থ কয়েকজন নেতা লন্ডনে বসে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার দ্বারস্থ হচ্ছেন। বিএনপির নিজের বলতে কিছু নেই। কারণ, তারা জানে তাদের প্রতি জনগণের কোন সমর্থন নেই। এজন্যই ক্ষমতায় আসতে সবসময় ষড়যন্ত্রের পথ খোঁজে। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না। অন্য দেশের গোয়েন্দাদের হাত-পা ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসা যাবে না। এ দেশে ক্ষমতায় আসতে হলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসতে হবে। আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ প্রমুখ।