আমলা ইউনিয়ন আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল ইসলামের মতবিনিময়

আমলা অফিস ॥ আসন্ন ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে সাধারন ভোটারদের দোড়গোড়ায় গিয়ে দোয়া চাচ্ছেন আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আজম। গতকাল রবিবার বিকেলে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কচুবাড়ীয়া কাজী আরেফ সড়কে এক মতবিনিময় ও ভোটারদের কাছে গিয়ে দোয়া চান তিনি। মতবিনিময়কালে শফিকুল ইসলাম আজম বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদি দল থেকে আমাকে নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। সেই সাথে আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাবো। দল যদি অন্যকাউকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি তার সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করে যাবো। এসময় উপস্থিত ছিলেন আমলা ইউনিয়ন আওয়মী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক এনামুল হক উজ্জল, কচুবাড়ীয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক মুন্সি মো. মাসুদ রানাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দরা।

ত্রাণ বিতরণসহ বহুমূখী জনকল্যানমূলক কার্যক্রমে যশোর সেনানিবাস

প্রাণঘাতী করোনা মোকাবেলায় নিজেদের পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের আপামর মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য দিনের মত আজও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় এবং সত্যিকারের দুস্থ মানুষের হাতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ  থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে সেনা সদস্যরা নিয়মিত টহল  জোরদার করেছে। এছাড়াও স্থানীয় বাজার ও হাটে জনসমাগম এড়াতে নজরদারি বৃদ্ধি, গণপরিবহন মনিটারিং, ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান, ঔষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়নসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে  খুলনা উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ  মেরামতের কাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বন্যা কবলিত এলাকায় ফ্রী  চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং বিশুদ্ধ পানি ও ঔষধ বিতরণ  কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গাংনীতে মাসিক সাধারণ সভা বর্জন করলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা মাসিক সাধারণ সভা বর্জন করেছেন ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দরা। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মাসিক সাধারণ সভা শুরু হয়। সভার আয়োজন করে উপজেলা পরিষদ। সভার ইউপি চেয়ারম্যানদের মৌখিক দাওয়াত করার কারণে সভার শুরুতেই নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সভা বর্জন করেন চেয়ারম্যানরা। চিঠির মাধ্যমে দাওয়াত না দিয়ে মৌখিকভাবে দাওয়াত কেন দেয়া হলো এমন অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ বলেন, রোববার সকালে মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে এমন সংবাদ লোকমুখে জানতে পারি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের নাজির আবু হানজালাকে ফোন দিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত হই। যেহেতু চিঠি দিয়ে চেয়ারম্যানবৃন্দকে জানানো হয়নি। একারণে সকল চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সভা বর্জন করা হয়েছে। সম্প্রতি সময়ে উপজেলার বিভিন্ন সভা থেকে চেয়ারম্যানদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। রাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন  ছেপু জানান, অনেক সময় সভা শুরু হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে জানানো হয়। মাসিক  সভায় কোন চিঠি না দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গত রাতে জানানো হয় একারণে সভা বয়কট করা হয়েছে। কাথুলী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা জানান, চেয়ারম্যানবৃন্দের নানা কাজকর্ম থাকতে পারে। যে কোন সভার অন্তত ২ দিন আগে চিঠি দিলে এমন প্রশ্ন উঠেনা। কিন্তু রাতে মোবাইল ফোনে জানতে পারার কারণে চেয়ারম্যানবৃন্দের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সভা বর্জন করা হয়েছে। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন- সভা বর্জন করেছে এমন বিষয় না। চেয়ারম্যানবৃন্দ দূর-দুরান্তে থাকেন। এ কারণে ফোনে বলা হয়েছে হইতো। তবে এরপর থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে।

ছাত্রলীগ নেতা হাসান জামান লালনের ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী কাল

নিজ সংবাদ ॥ ২৯ সেপ্টেম্বর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জি. এস. অমিত সম্ভাবনাময় তরুন ছাত্র নেতা প্রয়াত হাসান জামান লালনের ২৪তম মৃত্যু বার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠন তাঁর মৃত্যুতে ব্যাপক কর্মসূচীর আয়োজন করেছে। কুষ্টিয়া শহরের বিশিষ্ট সমাজসেবী ও কুষ্টিয়া পৌর এলাকার মিলপাড়া ওয়ার্ডের সাবেক সফল কমিশনার ও কুষ্টিয়া পৌরসভার সর্বপ্রথম জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রয়াত চেয়ারম্যান ম. আ. রহিম আর মাতা জাহানারা রহিমের চার ছেলে মেয়ের মধ্যে হাসান জামান লালন ছিল সর্বকনিষ্ঠ এবং সকলের খুব প্রিয় ও স্নেহের। এই শহরের বিশিষ্ট সমাজ সেবক প্রয়াত জেহের আলী মন্ডল সাহেবের নাতী হাসান জামান লালন খুব ছোট থেকেই ছিলেন একটু রাজনীতি সচেতন ও প্রগতিশীল। ১৯৭২ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর এক আশ্বিনের শুভ দিনে পৈত্রিক নিবাস মীর মোশাররফ হোসেন সড়কের ছায়ানীড়ে হাসান জামান লালনের জন্ম হয়। ১৯৮০ সালে শহরের মিশন স্কুলে লালন ১ শ্রেণিতে ভর্তি হবার মধ্যে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। এরপর হাসান জামান লালন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৯০ সালে জিলা স্কুল থেকে কৃতিত্বে সাথে এস. এস. সি পাশ করেন। ১৯৯২ সালে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে এইচ. এস. সি পাশ করেন এবং ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি হয়। অবশ্য ১৯৯০ সাল  থেকেই তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হন। এই সুবাদে ১৯৯১ তে তিনি সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত হন। রাজনৈতিক মেধা ও মননশীলতার জন্য হাসান জামান লালন ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থাগার ও প্রকাশণনা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। পারিবারিক পরিচয়ে হাসান জামান লালন এই শহরের প্রখ্যাত সমাজ সেবক ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব জনাব জেহের আলী মন্ডলের পৌত্র। মন্ডল পরিবার কুষ্টিয়া শহরের একটি প্রগতিশীল পরিবার হিসাবে বিশেষভাবে পরিচিত। হাসান জামান লালনের প্রয়াত পিতা ম. আ. রহিম ছিলেন অতিশয় সজ্জন, অমায়িক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। যিনি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। হাসান জামান লালনের চাচা ছিলেন কুষ্টিয়া বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ম. মনিরুজ্জামান। হাসান জামান লালনের বড় ভাই আখতারুজ্জামান একজন ব্যবসায়ী ও দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র পরিচালক। দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সাবেক পরিচালক রাকিবুজ্জামান সেতুর চাচা। হাসান জামান লালনের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা একটি সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের মধ্যে। প্রগতিশীল ও সাংস্কৃতিবান মন্ডল পরিবারকে ঘিরেই পরিচালিত হয়েছে আড়ুয়াপাড়া তরুণ সংঘ পাঠাগার এবং মিতালী পরিষদের মত সাংস্কৃতিক সংগঠন। এই পরিবেশের মধ্যে হাটি হাটি পা-পা করে লালন মিশন স্কুল ও জিলা স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে ১৯৯০ তে প্রবেশ করে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে। তরুণ লালন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের বৃহৎ পরিমন্ডলে ছাত্র-ছাত্রী, ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষকদের সহচর্যে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়ে পরিণত হন এক প্রতিশ্র“তিশীল এবং সম্ভাবনাময় তরুন নেতৃত্বে। কেবল মাত্র ছাত্রলীগের কলেজ কমিটিতেই নয় জেলা ছাত্রলীগের এক সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিণত হন হাসান জামান লালন। আমাদের দূর্ভাগ্য ১৯৯৬ সালে ২৯ শে সেপ্টেম্বর এই সম্ভাবনাময় তরুনের জীবন অবসান ঘটে। ভারতে দার্জিলিং এ ভ্রমন করতে গিয়ে টাইগার হিলে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। দীর্ঘ ২৩টি বছর অতিক্রান্ত হলেও তরুন এ ছাত্র নেতার স্মৃতি কেবল তার পরিবারের মধ্যে নয় আমাদের মধ্যেও সমুজ্জল হয়ে রয়েছে। তাঁর মৃত্যু দিবসে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যেমন দোয়া প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে, তেমনি সর্ব সাধারনের পক্ষ থেকে তার স্মৃতি চারণ ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় তার স্মরণে বাদ মাগরিব আড়–য়াপাড়া ছাখাবী মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য পৌরবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি তার পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কালুখালীতে গুলশা টেংরা, পাবদা মাছের সাথে কার্পের মিশ্রচাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ফজলুল হক ॥ গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী জেলার কালুখালীতে “নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে মিশ্রচাষ ব্যবস্থাপণা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ২০জন মৎস্য চাষীদের অংশগ্রহনে বেলা ১২ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থ বছরে রাজস্ব খাতের আওতায় গুলশা, টেংরা ও পাবদা মাছের সাথে কার্প জাতীয় মাছের মিশ্রচাষ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে সম্প্রসারিত কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল। প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন কালুখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সালাম, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার জামান সাবু। মহামারী করোনা মোকাবেলায় আমিষের চাহিদা পূরণে ছোট মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, মাছ চাষে বর্তমানে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। মুজিব বর্ষে মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। আমরা এই মুজিববর্ষে বেশি বেশি মাছ চাষ করে মৎস্য খাতকে আরও অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

চরনওদাপাড়া মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলায় চরগাছেরদাড়ী ২-০ গোলে বিজয়ী

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের চরনওদাপাড়া মাঠে  যুব সমাজের আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা জাকজমক আয়োজনের উদ্বোধন করেন- প্রধান অতিথি হিসেবে মালিহাদ ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি সমাজসেবক আকরাম হোসেন। অত্যান্ত প্রতিযোগীতামুলক ফুটবল টুর্নামেন্ট ফুটবল খেলায় মেহেরপুর জেলার চরগাছেরদাড়ী গ্রামের ফুটবল দল মালিহাদ চরপাড়া ফুটবল দলকে ২-০  গোলে পারজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনে। ফুটবল খেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন- ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইউপি সদস্য নোয়াব আলী, ১নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন, ২নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি শামিম, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, চরনওদাপাড়ার মেম্বর মহিবুল ইসলাম, আ.লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামীলীগ সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন- হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকিতে চির স্মরণী বরনীয় করে রাখার জন্য আজকে গ্রাম বাঙ্গার জনপ্রিয় ফুটবল খেলার আয়োজন। এই ফুটবল খেলার মাধ্যমে যুব সমাজের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দর্শন, চিন্তা, প্রজ্ঞা, মনন, চেতনা, ত্যাগ তিতিক্ষা দুলে ধরতে চাই।

ঘোলা মানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত সুজনের সহযোগী রাজা

কুষ্টিয়ায় দেওয়ানি মামলা অবমাননা করে সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় দেওয়ানি মামলা অবমাননা করে সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিককে উল্টো ভূমিদস্যু সাজানোর চক্রান্ত করছে একটি পক্ষ। এই চক্রের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম রাজা ও তার শশুর বিএনপি নেতা ইসলাম। সম্প্রতি এনআইডি কার্ড জালিয়াতি মামলার অন্যতম আসামী আশরাফুজ্জামান সুজনের সহযোগী এই রাজা। অভিযোগ রয়েছে ঐ জমিকে কেন্দ্র করে এর আগে আশরাফুজ্জামান সুজন কয়েক দফায় জমির প্রকৃত মালিকদের সাথে বৈঠকে বসে। সে সময় তারা তাদেরকে নাম মাত্র দামে জমি বিক্রয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্ত মালিক পক্ষ রাজি না হওয়ায় তাদেরকে হুমকি ধামকি অব্যাহত রাখে রাজা ও তার সহযোগীরা। শেষ মেষ দিশা না পেয়ে ঘোলা মানিতে মাছ শিকারের কুট কৌশল আটে রাজা ও তার শশুর ইসলাম। সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে অন্যর সম্পতি বিক্রির অভিযোগে আশরাফুজ্জামান সুজন ও তার সহযোগিরা ধরা পড়লে সেই সুযোগকে কাজে লাগানোর নীল নকশা আঁকতে থাকে চক্রটি। এরই অংশ হিসেবে জমির প্রকৃত মালিকের নাতি ছেলে শহরের বড় বাজারের বিশিষ্ট চাউল ব্যবসায়ী খোন্দঃ শওকত আলী টন এবং জমির ভাড়াটিয়া তহিদুল ইসলাম (পিয়াস)  এর নামে থানায় চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি দখলের নামমাত্র অভিযোগ করে তা মিডিয়ায় প্রচার করে। সুত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় বাহাদুর খালী মৌজায় এস,এ ৬৯৫ নং খতিয়ানের আর,এস ৬২৮ নং খতিয়ানের ১০৫০ নং দাগের ০.০৬৫০ একর সম্পত্তি বাংলা ১৩৫৯ সাল/ইং ১৯৬৬ সালে পূর্ব মালিক শ্রী শ্যাম লাল সুরেখা এবং শ্রী মতিলাল সুরেখা। তাদের নিকট থেকে খোন্দকার আজাহার আলী নামে এক ব্যাক্তি বন্দোবস্ত মূলে জমিটি খরিদ করে। জমি ক্রয়ের পর খোন্দকার আজাহার আলী ১৯৭৫/৭৬ সালে মিস কেস (৬৯/ঢ১১১-১৪৩/৭৫-৭৬)এর মাধ্যমে এস এ ১০৩৫/০৩ খতিয়ানে ৬৯৫ দাগে ১ অংশ ০.০৬৫০ একর জমি নিজ নামে খারিজ করে নেই।  তিনি ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া পৌরসভা থেকে প্লান পাশ করে ঐ জমিতে কাঁচা পাকা ঘর নির্মাণ করে আব্দুর রহমানের নিকট পজিশন বিক্রয় করে নিয়মিত মাসিক ভাড়া আদায় করিতে থাকে। এছাড়া মোঃ লিটন, তহিদুল ইসলাম (পিয়াস) ও আব্দুল ওহাবের নিকট ঘর ও ফাঁকা জায়গা ভাড়া দেয়। খোন্দকার আজাহার আলীর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণ নিয়মিতভাবে সেই জায়গার ভাড়া উত্তোলন করছে। সূত্র আরো জানায়, ১৯৮০ সালে একই জমিতে মহাসীন আলী ও কাশেম আলী খান নামে দুই ব্যক্তি শ্রী শ্যামলাল সুরেখা এবং শ্রী মতিলাল সুরেখার স্বাক্ষর জাল করে জালিয়াতি বায়নানামা তৈরি করে। পরবর্তীতে তারা সাব জজ আদালত থেকে ৪ মাসের মধ্যে একতরফা রায় তৈরি করে জমি দখল নিতে আসে। সে সময় জমির মালিক খোন্দকার আজাহার আলী দখলে বাঁধা দেয়। তিনি বাদী হয়ে কুষ্টিয়া সদর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করে যার নং-৩১/৮০। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে। এছাড়া বাদী খন্দকার আজাহার আলী অতিরিক্ত সহকারী জজ আদালতে ৬/৮৩ নং মামলায় ইনজাংশন জারি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে এবং সমস্ত প্রমান সাপেক্ষে উক্ত মামলার রায় খন্দকার আজাহার আলীর পক্ষে ঘোষনা দেয় বিচারক। রায়ে ৭নং বিবাদী মহাসিন আলী এবং ৮ নং বিবাদী কাশেম আলীকে জমির উপর আসার নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। আদালতের রায়কে অবমাননা করে ২০১৭ সালে মহাসীন আলীর মেয়ে মোছাঃ মিরানা ইয়াসমিন ঐ জমি গোপনে সাইফুল ইসলাম রাজা নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করে দেয়। যা মাগুরা জেলায় কমিশন রেজিষ্ট্রি হয়। রেজিষ্ট্রি হওয়ার পর মহাসীন আলী ব্যাপারটি জানার পর দলিল বাতিলের জন্য কুষ্টিয়া সাব জজ-১ আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করে। যার নং- ৮২/২০১৭ এবং মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। সুত্র আরো জানায়, এ ঘটনার পর সে সময় কুষ্টিয়ার এনআইডি কার্ড জালিয়াতি মামলার অন্যতম আসামী ভূমিদস্যু আশরাফুজ্জামান সুজনের সাথে সাইফুল ইসলাম রাজার সখ্যতা ছিল। সেই সুত্রে ২০১৭ সালে রাজা, তার পিতা নান্নু মন্ডল ,শশুর বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিন এবং আশরাফুজ্জামান সুজন জমির দখল নিতে আসে। এ ঘটনায় মৃত খন্দকার আজাহার আলীর ওয়ারেশগণ কুষ্টিয়া ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা মামলা করলে তার পক্ষে ম্যাজিষ্ট্রেট রায় ঘোষনা করেন।

এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিকের নাতি ছেলে শওকত আলী টন ও ভাড়াটিয়া তৌহিদুল ইসলাম পিয়াস বলেন, জমি দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে একটি চক্র। তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদের হুমকী ধামকী দিতে থাকে। কয়েক দফায় বৈঠকও হয়। বৈঠকে আশরাফুজ্জামান সুজন ও হাজি মফিজুল ইসলাম আমাদেরকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। সে সময় ২০ লক্ষ টাকার অফার দিয়েছিল তারা। আমরা রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদেরকে হয়রানি করে। তারা আরো বলেন, মোট জমির প্রকৃত মূল্যে প্রায় চার কোটি টাকা। তাদের মূল উদ্দেশ্যে ছিল আমাদেরকে নামমাত্র অর্থ দিয়ে জমিটি তারা দখলে নিয়ে বিক্রি করবে। এটি একটি চক্র। পরে তাদের মিশনে সাকসেস না হতে পেরে সাইফুল ইসলাম রাজা ছয়-সাত মাস আগে মডেল থানায় আমাদের নামে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের নাম মাত্র অভিযোগ করে। পরবর্তীতে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত  করে এর কোন সত্যতা খুঁজে পায়নি। এ ব্যাপারে জানতে সাইফুল ইসলাম রাজার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

মালিহাদের ঝুটিয়াডাঙ্গায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ২ শিশু মারাত্বক আহত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার মালিহাদ ইউনিয়নের ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের দুই শিশু রানা (১২) ও খালিদ (১৩) ফুটবল খেলা দেখে বাড়ী ফেরার পথে সন্ধ্যার সময় কিছু ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে মোবাইল ফোন ছিনতাই করতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে খালিদ ও রানা তাদের মোবাইল ফোন না দিলে ছিনতাইকারীরা তাদের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে রানার বাম পাজড়ে আঘাত করে। রানাকে ঠেকাতে গেলে খালিদ কেউও  ছিনতাইকারীরা ছুরি দিয়ে আঘাত করে বাম হাতটি মারাত্বকভাবে আহত করে। জানা যায়, একই গ্রামের ফকিরপাড়ার জামাত (৩০), ফারুক (২৫) পিতা মৃত শরিফ, সাইফুল (২৭) ও মেজর(২৫) পিতা কুদ্দুস পুর্ব পরিকল্পিতভাবে ফুটবল খেলা দেখে ফেরত আসা এই শিশুদের কাছে মোবাইল টাকা ছিনতাই করার জন্য মাঠের ভেতর ওত পেতে ছিন ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইকারীদের নিকটে ঐ শিশু দুইটি আসলেই মোবাইল ছিনতার করতে গিয়ে ধারালো ছুরির আঘাতে মারাত্বক জখম হয়। শিশু দুইটির প্রচন্ড রক্ত ক্ষরণ দেখে স্থানীয়রা চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা হারদী হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে থাকে। জানা যায় রানার ক্ষত স্থানে ২০টির অধিক সেলাই দিয়ে রক্তক্ষরন বন্ধ করা হয়েছে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালামের নির্দেশে ঝুটিয়াডাঙ্গা ছিনতাই স্থানে মালিহাদ ক্যাম্প ও কাকিলাদহ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ছিনতাইকারীদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঝিনাইদহে রেক্সোনা ক্লুলেস হত্যা মামলায় আরও ২ আসামী গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়া বেতাই গ্রামের রেক্সোনা হত্যার ঘটনায় আরো ২ জন মূল আসামীকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। রেক্সোনা পোড়া বেতাই গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হত্যা কান্ডের বিস্তারিত লোম হর্ষক বর্ণনা দিয়েছে আসামী শাকিল হোসেন ও ইমরান। পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ার পর বিয়ের চাপ সৃষ্টি করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে সিদ্দিকুর রহমানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পোড়া বেতাই গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে রেক্সোনার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ ব্যাপারে রেক্সোনা সিদ্দিকুর রহমানকে বিয়ের চাপ দিতে থাকে। এরই মাঝে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাজমিস্ত্রি সিদ্দিকুর রহমান তার সহযোগী জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার হাজীডাঙ্গা গ্রামের জামাত আলীর ছেলে শাকিল ও ইকড়া গ্রামের ছাব্দার আলীর ছেলে ইমরানকে সাথে নিয়ে এ হত্যা কান্ড ঘটায়। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাশার স্যারের নেতৃত্বে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লু-লেস হত্যা মামলার আসামী মোঃ শাকিল হোসেন (২০) ও ইমরান হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তারা আদালতে হত্যার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জবানবন্দি প্রদান করে। তিনি আরও জানান, রাজমিস্ত্রী ছিদ্দিক তার দুই সহযোগিদের নিয়ে হত্যা করে। তাদের বাড়ি জেলার কোটচাদপুর উপজেলায়। ছিদ্দিক পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ার পর রেক্সোনা বিয়ের চাপ সৃষ্টি করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে পোড়া বেতাই গ্রামের মাঠে কার্তিকের মেহগণি বাগানে গলাই ওড়না পেচানো অবস্থায় রেক্সোনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রেক্সোনার পিতা নুর ইসলাম মোল্লা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মিরপুরের ইউপি নির্বাচনের ভাবনা পর্ব-১

সদরপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে

জাহিদ হাসান ॥ আসন্ন ২০২১ সালের মার্চের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে সম্ভাব্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী  চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে নতুন পুরাতন নেতৃত্বসহ একাধিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাঠে নেমেছে। তবে দলীয় প্রার্থী হিসাবে আওয়ামী লীগের ত্যাগি নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ৭নং সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রত্যাশি সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রবিউল হক রবি। তিনি এবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। ইতিপূর্বে তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। রবিউল হক রবি জানান, আমি আবারো আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন চাইবো। দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে আবারো বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। সদরপুরে ভোটারদের কাছে শোনা যাচ্ছে এবারে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা সামসুল আরেফিন অমূল্যের নাম। তিনিও এবার আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে ইতিমধ্যে ভোটারদের দোড় গোড়ায় যাচ্ছেন সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও একাধিকবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য দলের ত্যাগি নেতা মাজেদুর আলম বাচ্চু। এবারে তিনি নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে তিনি ভোটারদের দোড়গোড়ায় দোয়া চাইছেন। মাজেদুল আলম বাচ্চু জানান, আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে এবারে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রতিকের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন চাইবো। দল মনোনয়ন দিলে আমি চেয়ারমান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো শক্তিশালী করবো। সদরপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে নাম শোনা যাচ্ছেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নিয়াত আলী লালু। তিনি ইতিপূর্বে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এবারে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে শোনা যাচ্ছে। নিয়াত আলী লালু জানান, এবারে নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবো। দল থেকে মনোনয়ন দিলে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ। সদরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে মাঠে নেমেছেন মিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হালিম। তিনিও এবার মুলদল আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। আব্দুল হালিম জানান, আমি দল থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবো। আশা করি মনোনয়ন পেলে অবশ্যই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। তারুণ্যের প্রতিনিধি হিসাবে আবারো আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে সদরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম। তিনি এবারো চাইবেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন। আশরাফুল আলম জানান, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবো। যদি দল মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচন করবো। মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু জানান, তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা বাছাই করা হবে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম উপজেলা কমিটি থেকে কেন্দ্রে মনোনয়নের জন্য পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ত্যাগি ও একনিষ্টদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া দলের বাইরে মনোনয়ন দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

কুষ্টিয়ায় ধরা পড়া পাতি সরালির মা ও ছানাগুলো পেল নিরাপদ আবাস

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা পড়া মাসহ ছানাগুলো বসবাসের জন্য নিরাপদ জায়গা পেল। তাদের আশ্রয় হলো কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের জলাশয়ে। আপাতত চোরা শিকারীরা আর তাদের ক্ষতি করতে পারবে না। ছানাগুলো উড়তে শেখা পর্যন্ত সেখানে নিরাপদেই থাকবে তারা। বিশেষ করে পাখিটির বাচ্চাগুলোর নিরাপদ আশ্রয় করে দিতে পেরে খুশী উদ্যোক্তারা। শনিবার রাতে থানাপাড়া সতিস চন্দ্র সাহা লেন এর পুরানো কদম গাছ থেকে পাতি সরালির ৯টি ছানা লাফিয়ে নিচে পড়ে। সেখানকার কিছু ছাত্র ছানাগুলোকে উদ্ধার করে। ছানা উদ্ধারের সাখে সাখে মা পাখিটি উড়ে এস ছানাদের কাছে চলে আসে। মা পাখিটি সেচ্ছায় ধরা দেয়। তখন এলাকার শাহিনুর ইসলাম কুষ্টিয়া বার্ড ক্লাবকে ফোন করে বিষয়টি জানান। কুষ্টিয়া বার্ড ক্লাবের সভাপতি এস আই সোহেল সেখানে উপস্থিত হয়ে মা পাখিসহ ৯ টি ছানা নিয়ে আসে। এসআই সোহেল জানান, পাখিটির নাম পাতি সরালি (ইংরেজী নাম : খবংংবৎ ডযরংঃষরহম উঁপশ)।

এ সময় পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাস খোঁজ করা হচ্ছিল। এরই মাঝে এসআই সোহেল স্থাণীয় এক সংবাদ কর্মির মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করেন।

তিনি ছানাসহ মা পাখিটি পুলিশ লাইনের জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান এস আই সোহেলকে। সেই অনুযায়ী গতকাল রোববার দুপুরে পুলিশ লাইনে জলজ লতাপাতায় ছাওয়া নিরাপদ জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় প্রাখি প্রেমি এস আই সোহেল ছাড়াও কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানসহ পুলিশের কর্মকর্তা ও স্থানীয় পাখি প্রেমিরা উপস্থিত ছিলেন।

পাখিটি তথা ছানাগুলোকে রক্ষা করতে পেরে আনন্দে আপ্লুত এস আই সোহেল। তিনি বলেন- পাখিরা আমাদের প্রকৃতির অংশ। তাই এদের নিরাপদে বসবাসের অধিকার আছে। আর মানুষ হিসেবে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের কর্তব্য।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘পাখিরা আমাদের প্রকৃতিকে সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করে। করোনাকালে প্রকৃতি তার আপন গতিতে চলছে। এর আগেও আমাদের পুলিশ লাইনসের পুকুরে অনেক দেশি ও বিদেশি জাতের পাখি আশ্রয় নিয়েছিল। এখন নতুন করে আবার ১০জন নতুন মেহমান আমাদের পুকুরে ছাড়া হলো। এখানে তারা ভাল থাকবে বলে আশা করছি।’

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিল ও মদ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ১৩৫বোতল ফেনসিডিল ও ২২ বোতল মদ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর ও শনিবার রাতে বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করেছে বিজিবি। বিজিবি সূত্র জানায়, মাদক পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ জামালপুর বিওপি’র টহল দল গতকাল রবিবার দুপুর দুপুর ২.৩০টার দিকে সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর কান্দিরপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে ২২ বোতল বেষ্ট টেষ্টি মদ উদ্ধার করেছে। অপরদিকে চরচিলমারী বিওপি’র টহল দল শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিগ্রিরচর মাঠে অভিযান চালিয়ে ১৩৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

দেখার কেউ নেই

দৌলতপুরে ডাক বিভাগের বেহাল দশা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ একযুগ বা তারও আগে মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল ডাক বিভাগ। সরকারী বা বেসরকারী কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ হতো পত্রের মাধ্যমে। আবার ভালবাসার নান্দনিক শব্দ মিশ্রিত রং বেরংয়ের পত্র মিতালি প্যাাডের পাতা ভরে প্রেমিক প্রেমিকা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতো পত্রের মাধ্যমে। আর হলুদ খামসহ রং বেরংয়ের খামে ভরা এসব পত্র দেশ বা বিদেশের নানা প্রাপ্ত থেকে ডাক বিভাগের মাধ্যমে বাহকের হাতে পৌঁছাতো। ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে জৌলুসভারা ডাক বিভাগের সেই জৌলুস সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যেতে বসেছে। চিঠির ঝুলি কাঁদে হেলে দুলে চলা ডাক পিওনের কদর আর চোখে পড়ে না। সময়ের প্রয়োজনে গুরুত্ব হারিয়েছে ডাক বিভাগের হাক-ডাক, তাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে ডাক বাক্সও। বিভিন্ন বাজার বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো ডাক বাক্স আর চোখে পড়ে না। দু’একটির দেখা মিললেও নিয়মিত না খোলায় তাতে ঝুলানো তালা’তে মরিচা পড়ে জরাজীর্ণ অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ডাক বিভাগের চিত্র একই। দৌলতপুরে ২০টি সাব-পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে ১৪ ইউনিয়নের প্রায় ৭লক্ষ মানুষের ডাক সেবা ও প্রাপ্ত সকল সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও তথ্য প্রযুক্তির যাঁতাকলে বাঁধা পড়ে তা থেকে প্রায় বঞ্চিত রয়েছেন সকলে। আবার যারা ডাক বিভাগের দায়িত্বে আছেন তাদেরও রয়েছে দায়িত্বহীন কর্মকান্ড ও অবহেলা। দৌলতপুরে ডাক বিভাগের জন্য অফিস বরাদ্দ থাকলেও সেসব অফিস এখন ভিন্ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে। একই সাথে সাব-পোষ্ট অফিসগুলিতে ৩জন ষ্টাফ থাকার কথা থাকলেও খাতা-কলমে রয়েছে বাস্তবে তার দেখা মিলেনি। ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ এমন অবস্থা। ফলে ওইসব ডাকঘরে রক্ষিত প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিসহ অফিসিয়াল সরকারী কাগজপত্র অযতœ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে যা দেখার কেউ নেই। আবার কোথাও দু’একটি জরাজীর্ণ ডাকবাক্স চোখে পড়লেও খোলার অভাবে ভেতরে থাকা চিঠি-পত্র ভেতরেই রয়ে যায় পৌঁছায় না বাহকের কাছে। বেকার যুবকরা চাকুরীর জন্য আবেদন করলে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশ পত্র চাকুরী প্রার্থীদের হাতে পৌঁছায় না। যদি দু’একটি পৌঁছাই তাও পরীক্ষার তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর। এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। দৌলতপুর ডাক বিভাগের বেহাল দশার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা পোষ্ট মাষ্টার আবু সালেহ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করলেও ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের কথা বলেছেন। মজার ব্যাপার হলো, দৌলতপুর ডাক বিভাগের এসব অব্যস্থাপনার খবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও রাখেন না। এ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় পরিদর্শক অলোক কুমার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন দৌলতপুরে ডাক বিভাগের অচলাবস্থার তথ্য তার কাছে নেই। তবে ডাক বিভাগের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন দাবি সেবা প্রত্যাশীসহ দৌলতপুরবাসীর।

করোনাভাইরাসে দেশে আরও ৩২ মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৫ জন। গতকাল রোববার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ১ হাজার ২৭৫ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৪৮ জন হল। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৩২ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার  ১৬১ জনে দাঁড়াল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৭১৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৯১ জন হয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, তা সাড়ে তিন লাখ পেরিয়ে যায় ২১ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২২ সেপ্টেম্বর সেই সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে পঞ্চদশ স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ২৯তম অবস্থানে। বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩ কোটি ২৮ লাখ পেরিয়েছে; মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯ লাখ ৯৪ হাজারের ঘরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১০৫টি ল্যাবে ১০ হাজার ৬৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১৯ লাখ ৯ হাজার ৪৬০টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২২ জন, নারী ১০ জন। তাদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ২৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল। ২০ জন ঢাকা বিভাগের, ৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং ১ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪ জন খুলনা বিভাগের ও ২ জন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৫ হাজার ১৬১ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৯৯৬ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ১৬৫ জন নারী। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৬১৭ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ১ হাজার ৩৯৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬৬৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৯৬ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১১৮ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪২ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২৪ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬৬ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ৬৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩৩৭ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৩৩ জন খুলনা বিভাগের, ১৮৭ জন বরিশাল বিভাগের, ২২৮ জন সিলেট বিভাগের, ২৩৭ জন রংপুর বিভাগের এবং ১০৮ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে মোদি ও চীনের শুভেচ্ছা বার্তা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। গতকাল রোববার গণভবন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জন্মদিন উপলক্ষে পাঠানো বিশেষ বার্তায় মোদি বলেন, ‘শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।’ দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মোদি। ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস বিদায়ী সাক্ষাতে গণভবনে মোদির বার্তা শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেন বলে জানা গেছে। এদিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টিও এক শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। সিপিসি ইন্টারন্যাশনাল বিভাগের মিনিস্টার সং তাও’র সই করা বার্তায় আগামী দিনে চায়না কমিউনিস্ট পার্টি ও আওয়ামী লীগের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

আজ উন্নয়নের কান্ডারি শেখ হাসিনার জন্মদিন

ঢাকা অফিস ॥  প্রথম হাঁটতে শিখেছেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আঙ্গুল ধরে। প্রথমে সেই বাড়িয়ে দেয়া হাত ধরে, পরে জাতির জনকের দেখিয়ে দেয়া পথ ধরে তিনি হাঁটছেন। আজও হাঁটছেন। হাঁটতে হাঁটতে পার করে দিয়েছেন ৭৩ বছর। তিয়াত্তর বছরের সবটুকু ন্যস্ত করেছেন দেশ মাতৃকার জন্য। তিনি আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন দেশের দূরদর্শী, বলিষ্ঠ নেতা, মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার বাতিঘর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ তাঁর ৭৪তম জন্মদিন, জয়তু শেখ হাসিনা। রাজনীতি শেখ হাসিনার জন্য নতুন কিছু নয়, জন্ম সূত্রে পাওয়া এক উত্তরাধিকার। শৈশব থেকেই তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক-সংগ্রমী জীবনকে দেখেছেন। এই তিয়াত্তর বছরের মধ্যে অর্ধেকের বেশি সময় ধরে নৌকা নামের একটি প্রতীকের হাল ধরে আছেন। সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। জীবনের প্রায় সিকিভাগ পার করে দিয়েছেন সরকারপ্রধান হিসেবে দেশের হাল ধরে। ১৯ বার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মৃত্যু ভয়কে পায়ের ভৃত্য করে ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেশ মাতৃকার জন্য। এখন জীবনের একটাই প্রত্যয়- জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া। সে প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে চলছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। পাকিস্তানের জেল-জুলুম নির্যাতন সহ্য করে, বার বার মৃত্যুর মুখ দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে অধিকারবঞ্চিত বাঙালীদের যেভাবে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ঠিক তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যেখানেই মানুষ তাঁর অধিকারবঞ্চিত হন, নিষ্পেষিত হবে মানুষ আর মানবতা, সেখানেই ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এই দিনে মধুমতি নদী বিধৌত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশবকাল কাটে পিত্রালয়ে। ’৫৪-এর নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা বাবা-মার সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। শুধু জাতীয় নেতাই নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্বনেতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন নতুন ভূমিকায়। ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে ‘বিশ্ব মানবতার বাতিঘর’ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন বিশ্ব নেতাদের কাছ থেকে। ৩৯ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় শেখ হাসিনা কেবল সেই মহান নেতার কন্যা এবং তাঁর রাজনীতির উত্তরসূরি হিসেবে গণমানুষের প্রধান নেতার আসনে স্থান পাননি, তিনি জেল-জুলুম, মামলা-হামলা, হত্যা প্রচেষ্টাসহ হাজারো হুমকির মুখে অটল থেকে নেতৃত্বের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি নব পর্যায়ের বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা। হিমাদ্রি শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার। সাগর সমান অর্জনে সমৃদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতির কর্মময় জীবন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় ছাত্রনেত্রী থেকে জননেত্রীতে পরিণত হওয়া শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত হবে অতি সাধারণভাবেই। প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কাজে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের জন্য জন্মদিনের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্ত করোনা মহামারীর কারণে এবার তিনি  যেতে পারেননি, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতেই বাংলাদেশে থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। অনেকদিন পর জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে, তাই এ বছর দলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের মধ্যে আবেগ, উচ্ছ্বাসও অনেক বেশি। করোনার কারণে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুধু দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করলেও আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের অজস্র সংগঠন নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে আজ সারাদেশে পালন করবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। এরপর তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের এই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৬ সালে তাঁর নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে প্রথমে ১৪ দলীয় জোট এবং পরে মহাঐক্যজোট গড়ে ওঠে। ১৪ দল ও মহাঐক্যজোটের তীব্র আন্দোলনের মুখে অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২২ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরী অবস্থা জারি করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ১৬ জুলাই গ্রেফতার হন শেখ হাসিনা। সংসদ ভবন চত্বরের বিশেষ কারাগারে তাঁকে প্রায় ১১ মাস বন্দী থাকতে হয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে এর আগেও কয়েক দফা গৃহবন্দী হয়েছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই দেশে ফিরে আসে পুনরায় গণতন্ত্র, দেশের ইতিহাসে একটানা তৃতীয় মেয়াদসহ চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর পরিবারকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। তিনি পুরান ঢাকার মোগলটুলির রজনী বোস লেনে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হন। আবাস স্থানান্তরিত হয় ৩ নম্বর মিন্টো রোডের সরকারী বাসভবনে। ১৯৫৬ সালে শেখ হাসিনা ভর্তি হন টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে। এভাবেই শুরু হয় তাঁর শহরবাসের পালা, তাঁর নাগরিক জীবন। ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িটির দারোদ্ঘাটন হয়। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারবর্গ মৃত্যুর পূর্বদিন পর্যন্ত এই বাড়িতেই অবস্থান করেন। ১৯৬৫ সালে শেখ হাসিনা আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ঢাকার বকশী বাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গবর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে। ওই বছরই ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে কলেজ ছাত্রী সংসদের সহ-সভানেত্রী পদে নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক পরিবারে জম্নগ্রহণ করায় কিশোর বয়স থেকেই শেখ হাসিনার রাজনীতিতে পদচারণা। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সহজ সারল্যে ভরা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। মেধা-মনন, কঠোর পরিশ্রম, সাহস, ধৈর্য, দেশপ্রেম ও ত্যাগের আদর্শে গড়ে উঠেছে তাঁর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। পোশাকে-আশাকে, জীবন-যাত্রায় কোথাও তাঁর বিলাসিতা বা কৃত্রিমতার কোন ছাপ নেই। নিষ্ঠাবান ধার্মিক তিনি। নিয়মিত ফজরের নামাজ ও কোরান তেলাওয়াতের মাধ্যমে তাঁর দিনের সূচনা ঘটে। পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন কয়েকবার। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬ দফা দাবিতে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীত-সন্তস্ত্র হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। শুরু হয় প্রচন্ড দমন-নির্যাতন। আটক থাকা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী দায়ের করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। তাঁর জীবন ও পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর বিপদাশঙ্কা ও দুঃসহ দুঃখ-কষ্ট। এই ঝড়ো দিনগুলোই কারাবন্দী পিতা বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয় ১৯৬৮ সালে। বিয়ের কিছুদিন পর শুরু হয় ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেত্রী হিসেবে তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ডাক আসে দেশ-মাতৃকার হাল ধরার। সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তাঁর একটানা অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনকিছুই তাঁকে তাঁর পথ থেকে টলাতে পারেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র এবং দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৯৬-২০০১ সালে তাঁর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি তাঁর সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তৃতীয় মেয়াদেই ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে নিয়োজিত আছে। দক্ষভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় সারাবিশ্বের অনেক সম্মানজনক পদকে ভূষিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর এই কন্যা। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। সমুদ্র জয়ের পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে মহাকাশও জয় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ নির্যাতনে আশ্রয়হীন ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে নাড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বকে, বিশ্ববিবেককে। আজ সারা বিশ্বেই তাঁর নাম আলোচিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মানবতার বিবেক’, ‘মানবতার মা’ হিসেবে। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ়চেতা মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলী তাঁকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। তিনিই বাঙালীর জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক দৈন্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত একটি জাতি ও রাষ্ট্র কী কী প্রাজ্ঞায় এত উঁচুতে নিয়ে এসেছেন, তাঁর সফল নেতৃত্বেই উন্নয়ন-অগ্রগতি মহাসোপানে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, অতীত ও বর্তমান তুলনাতেই তা শুধু দেশের মানুষই নয়, বিশ্ব নেতাদের কাছেও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। তাই সারাদেশে এখন শুধু একটাই স্লোগান- ‘শেখ হাসিনার হাতে থাকলে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।’ শুধু রাজনীতিই নয়, শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্য অন্তপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তাঁর লেখা এবং সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হচ্ছে- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদা-কালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহেনা মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি। কর্মসূচী কোনদিনই ঘটা করে জন্মদিন পালন পছন্দ করেন না এবং কখনও পালনও করেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু লাখো-কোটি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রাণের বাতিঘর যে তিনি। তাই করোনা আতঙ্কের মধ্যেই তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আওয়ামী লীগসহ দলটির সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অজস্র সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচীর মাধ্যমে পালন করবে বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্মদিন। নিজ দলের নেতাকর্মী এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষ আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা ও দেশের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা এবং শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাবেন নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে। দিনটি উপলক্ষে সারাদেশে সব মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ছাড়াও যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতি লীগ, মৎস্যজীবী লীগসহ অজস্র সংগঠন দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলোচনা সভা, দুস্থদের মধ্যে খাদ্য বিতরণসহ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে পালন করবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে সারাদেশের মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করার জন্য আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাসমূহের সকল স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে অনুরূপ কর্মসূচী গ্রহণ করে দিবসটি পালন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সদ্য ভর্তি হওয়া একাদশের শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে অনলাইনে

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে সর্ব প্রথম অনলাইনে ক্লাস শুরু করে ঢাকা কলেজ। অনলাইন ক্লাসে সফলও হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পরীক্ষাও নেয়া হয়েছে। আর এতে উপস্থিতিও প্রায় শতভাগ। এবার সদ্য ভর্তি হওয়া উচ্চ মাধ্যমিকের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছে কলেজ প্রশাসন। এর প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনলাইন ক্লাসের উদ্বোধন করবেন। এরপর থেকেই সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস শুরু হবে। ঢাকা কলেজ সূত্র জানায়, অনলাইন ক্লাস শুরুর জন্য সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কলেজ প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সম্বলিত নতুন স্থায়ী স্টুডিও। অন্যান্য প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, সিলেবাস এবং পাঠ্যধারা সম্বন্ধে বিস্তারিত ধারণা দিতে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অনলাইনে মতবিনিময় সভা। এর মাধ্যমে একাদশে ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ কার্যক্রম সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে পারবে ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারবে। এ বিষয়ে উচ্চমাধ্যমিকশ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য গঠিত কলেজের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কমিটির (নিপক) প্রধান ও ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক পুরঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের মতো ঢাকা কলেজেও উচ্চ মাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, একাদশে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীরা এমনিতেই করোনার সমস্যার জন্য অনেক পিছিয়ে পড়েছে। তাই আমাদের অধ্যক্ষ স্যারের নির্দেশনায় আমরা নতুনদের জন্য অনলাইন ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছি। আশা করছি, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত নতুন শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের উদ্বোধন হবে। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা বেশ উপকৃত হবে বলেও মনে করেন এই অধ্যাপক।

 

রাঁধুনীর দায়িত্ব পালন করেছেন বলিউড কিং শাহরুখ

বিনোদন বাজার ॥ করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকে ভারতে লকডাউন শুরু হয়। এই সময় সিনেমার শুটিং বন্ধ থাকায় বাড়িতেই বিভিন্নভাবে সময় কাটিয়েছেন বলিউড তারকারা। লকডাউন তুলে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে আবারো শুটিংয়ে ফিরছেন তারা। লকডাউনে পরিবারের রাঁধুনীর দায়িত্ব পালন করেছেন বলিউড কিং শাহরুখ খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তথ্যটি জানিয়েছেন এই অভিনেতার স্ত্রী গৌরী খান। তিনি বলেন, ‘লকডাউনের শুরুর দিকে আমরা বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করতেও ভয় পেতাম। তাই শাহরুখ ঘরে খাবার রান্না করত এবং আমরা তা উপভোগ করতাম। সে রান্না করত ও আমরা মজা করে খেতাম।’ দীর্ঘদিন সিনেমা থেকে বিরতিতে রয়েছেন শাহরুখ। তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘জিরো’। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এটি মুক্তি পায়। বক্স অফিসে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি সিনেমাটি। শোনা যাচ্ছে, করোনা মহামারির এই সময়ে বেশ কিছু সিনেমার চিত্রনাট্য পড়েছেন শাহরুখ। এর মধ্যে থেকে চারটি সিনেমায় অভিনয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। জানা গেছে, তামিল নির্মাতা অ্যাটলির ‘সাংকি’, সিদ্ধান্ত আনন্দের ‘পাঠান’, রাজকুমার হিরানি, রাজ-ডিকের সিনেমায় অভিনয়ের সম্মতি জানিয়েছেন বলিউড বাদশা। এছাড়া রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট অভিনীত ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ সিনেমায় দেখা যাবে শাহরুখকে। আয়ান মুখার্জি পরিচালিত সিনেমাটি অতিথি চরিত্রে হাজির হবেন এই অভিনেতা। এতে আরো অভিনয় করছেনÑ অমিতাভ বচ্চন, মৌনি রায়, ডিম্পল কাপাডিয়া, নাগার্জুনা প্রমুখ।

দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেলো কলকাতা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেলো কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। আগের ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করা কেকেআরের কাছে শনিবার কুপোকাৎ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে দুই ওভার হাতে রেখে কলকাতা ৭ উইকেটে জিতেছে। আট দলের মধ্যে হায়দরাবাদই এখনও পর্যন্ত জয়শূন্য। ওয়ার্নারের দল কোনও কারণে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না। এসে গেছেন কেন উইলিয়ামসন, তিনি হাল ধরলে যদি ভিন্ন কিছু হয়! পিচ খারাপ নয়। এমন পিচে ছয় উইকেট হাতে রেখে মাত্র ১৪২ রান, কোনও দলের সঙ্গেই যায় না। ১৪২ রান ৪ উইকেট খুইয়ে আইপিএলের তৃতীয় সর্বনিম্ন রান। দ্বিতীয় ও সর্বনিম্ন রান করা দুটি দলই হেরেছে। টস জিতে যখন প্রথমে ব্যাট করে এত অল্প রান তোলে হায়দরাবাদ, তখনই অনেকে জয়ের আসনে বসিয়ে দিয়েছে কলকাতাকে। অবশ্য কলকাতা আগের ম্যাচের হার থেকে শিক্ষা নিয়ে বেশ পরিকল্পিত বোলিং করেছে। পেসের সঙ্গে ভালো লেংথ-লাইন বজায় রেখে ওপেনিং জুটিটা ভেঙেছেন প্যাট কামিন্স। মাঝের ওভারগুলোতে হায়দরাবাদের নার্ভাস ও মরচে পড়া টপ অর্ডারকে মন্থর হতে বাধ্য করেছেন স্পিনাররা। শেষে এসে চাপ বাড়িয়েছেন আন্দ্রে রাসেল। হায়দরাবাদের ইনিংসে মনীশ পান্ডে সর্বোচ্চ ৫১ করেছেন ৩৮ বলে। ওয়ার্নারের ৩৬ এসেছে ৩০ বলে, অনভ্যস্ত চার নম্বর পজিশনে ঋদ্ধিমান সাহা ৩১ বলে করেছেন ৩০ রান। ১৪৩ রানের লক্ষ্য সামনে নিয়ে ইয়ন মরগানের সঙ্গে ওপেনার শুভমান গিলের অবিচ্ছিন্ন ৯২ রানের জুটিই জিতিয়ে দিয়েছে কলকাতাকে। ৬২ বলে পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ৭০ রান করে অপরাজিত থাকেন ম্যাচের সেরা গিল। তিন চার ও দুই ছক্কায় ৪২ করতে ২৯ বল খেলেছেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মরগান। গিলের পেছনে ও মরগানের আগে দুটি শূন্য উপহার দিয়ে গেছেন ওপেনার সুনীল নারাইন ও অধিনায়ক দিনেশ কার্তিক। কলকাতা অবশ্য তাতে চাপে পড়েনি একটুও। বাংলাদেশের মাশরাফি মুর্তজা বা সাকিব আল হাসানের সাবেক দল কলকাতা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় দেখলো। আর তাতে দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়শূন্য মোস্তাফিজ ও সাকিবের সাবেক দল হায়দরাবাদ। সংক্ষিপ্ত স্কোর: হায়দরাবাদ: ২০ ওভারে ১৪২/৪ ( পান্ডে ৫১, ওয়ার্নার ৩৬, সাহা ৩০, কামিন্স ১/১৯, বরুণ ১/২৫) ও কলকাতা: ১৮ ওভারে ১৪৫/৩( গিল ৭০*, মরগান ৪২*, রানা ২৬, রশিদ ১/২৫)।

এবার অ্যামাজন প্রাইমে বান্নাহর দুই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

বিনোদন বাজার ॥ নাটক বা চলচ্চিত্র এখন আর টেলিভিশন বা প্রেক্ষাগৃহে সীমাবদ্ধ নেই। নেটদুনিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে নাটক-সিনেমা। এবার বিশ্বের অন্যতম ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পাচ্ছে নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহর দুই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ‘ম্যাডবয়-রিলঞ্চড’, ও ‘আমার অপরাধ কী?’ নামের এই শর্ট ফিল্ম দুটি প্রথমে ইউএসএ এবং ইউকের দর্শকদের জন্য অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি দেওয়া হবে। এর কয়েক দিন পর বিশ্বের অন্য দেশগুলোর জন্য মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন বান্নাহ্। একটি ভার্সন লুমিনো পিকচার্সের ইউটিউব চ্যানেলে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করেছেন বান্নাহ। অন্যটি তৌহিদ আশরাফের পরিচালনায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বান্নাহ্। ‘ম্যাড বয়- রিলঞ্চড’ শর্ট ফিল্মে বান্নাহ ছাড়া আরো অভিনয় করেছেনÑমনিরা মিঠু, তানজিম অনিক প্রমুখ। ইংরেজি সাবটাইটেলে এ দুটি শর্টফিল্ম ১ অক্টোবর থেকে অ্যামাজন প্রাইমে দেখা যাবে। মাবরুর রশীদ বান্নাহ্ বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশি নির্মাতা হিসেবে আমার কনটেন্টগুলো বিশ্বের বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। বিশ্ববিখ্যাত অ্যামাজন প্রাইম দিয়েই ওটিটিতে কাজ শুরু করলাম।’

পথ হারিয়েছে পাটশিল্প

খুবই দুঃখজনক! সরকারি নিয়ন্ত্রণে রেখে পাটশিল্পকে বাঁচানো গেল না। সোনালি আঁশখ্যাত, অমিত সম্ভাবনাময় পাটশিল্প এখন রীতিমতো বিনাশের পথে। যে পাটশিল্প এক সময় ছিল আমাদের অর্থনীতির উলে¬খযোগ্য প্রধান বুনিয়াদ। সে পাটকলের লোকসানের বোঝা আর বইতে চাইছে না সরকার। অথচ বেসরকারি খাতের পাটকলগুলো লাভ করলেও নানা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে বছরের পর বছর লোকসানের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে সরকারি পাটকলগুলো। লোকসানে থাকা পাটকলগুলোর অর্থায়নের বিষয়ে গত বছরের ১৪ মে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে গত ১০ বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। পাটকলে আর কতদিন অর্থায়ন করব? গত ১০ বছরে তো আমরা ৭ হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। এটা অনেক বড় টাকা।’ ধারাবাহিকভাবে  লোকসানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসরে (গোল্ডেন হ্যান্ডশেক) পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। প্রক্রিয়াটি শেষ হলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) বা অন্য কোনোভাবে পাটকলগুলো চালানোর উদ্যোগ ও পাটকলের ব্যবস্থাপনা ও বেসরকারি হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা যায়। লুটপাটের বলি পাটশিল্প ঃ তার মানে বেসরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালিত হলে লোকসান হবে না। একথা স্পষ্ট  যে, পাট সেক্টরের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং পাট মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসির অবহেলার কারণেই অমিয় সম্ভাবনার পাটশিল্প আজ পথ হারিয়েছে। সরকারের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, লুটপাট আজ পাটশিল্পকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। অথচ কয়েক দশক ধরে এই শিল্পই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ ছিল। ছাঁটাই কোনো সমাধান নয়। শ্রমিকদের ছাঁটাই না করে কীভাবে পাটকলকে লাভজনক করা যায় সে উপায় বের করা দরকার ছিল। প্রতিটি সরকারের লুটপাটের বলি এই পাটশিল্প। শ্রমিকরা বলছেন, ‘লোকসান হয় কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নীতি নির্ধারণের কারণে।’ এই দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা কখনোই নেয়া হয়েছিল কী? ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষকে সুবিধা দিতে সাধারণ নাগরিকরা এই লোকসানের বোঝা কতদিন এবং কেন বহন করবে, আর শ্রমিকদেরও কেন ছাঁটাই করা হবে? পাটচাষি, পাটপণ্য উৎপাদক, রপ্তানিকারকদের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনা এবং উপযুক্ত বাজারমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাটকলে অনিয়ম, অদক্ষতা, উৎপাদনহীনতা ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হলে পাটশিল্পে লাভ করা সম্ভব হতো। পাটকলগুলোর লোকসানের কারণ ঃ পাটকলগুলোর আয় কমে যাওয়া এবং বছরের পর বছর লোকসানের কারণ হিসেবে বিজেএমসির শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে শ্রমিকনেতারা গণমাধ্যমকে বলেন, লোকসানের বড় কারণ কাঁচা পাট কেনায় অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। এ ছাড়া সরকারি পাটকলের উৎপাদনশীলতা কম অথচ উৎপাদন খরচ বেশি। ভরা  মৌসুমে পাট কেনা হলে ও উৎপাদিত পণ্য ঠিকমতো বিক্রির ব্যবস্থা করলে মিলগুলোয় কোনো ক্রমেই লোকসান হওয়ার কথা নয়। পাটকলগুলোয় পাট ক্রয়  থেকে কারখানা চালানোর নানা স্তরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়ে থাকে। কম পাট কিনে  বেশি দেখানো, ময়েশ্চার বা ভেজা পাট কিনে শুকনা পাটের দাম দেওয়া ইত্যাদি নানা দুর্নীতির চলে। লোকসানের দায় শ্রমিকদের ওপর চাপানো কেন? মৌসুমের শুরুতে যখন পাটের দাম কম থাকে, বিজেএমসি তখন পাট না কিনে পরে বেশি দামে কেনে। এ বিষয়ে সংস্থাটির সময়মতো বরাদ্দ না পাওয়ার অজুহাতও ধোপে টেকে না। সময়মতো বরাদ্দ আনার দায়িত্ব কি তাদের নয়? সরকারি খাতের প্রায় প্রতিটি পাটকলে বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত পণ্য পড়ে আছে। পাটপণ্য বিক্রির দায়িত্ব নিশ্চয়ই শ্রমিকদের নয়। আর স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে, এ লোকসানের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। কারখানাগুলোর  লোকসানের দায় কোনোভাবেই শ্রমিকদের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। অন্যদিকে বেসরকারি পাটকলগুলো লাভজনক হলেও কেন রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো ফি বছর বিপুল অঙ্কের লোকসান দিচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতে হবে। পাশাপাশি দলাদলি, স্বজনপ্রীতি, কায়েমি স্বার্থ ত্যাগ করতে হবে। আধুনিকায়ন ও লাভজনক করা সম্ভবঃ বাজেটে বরাদ্দ করা অর্থ গোল্ডেন হ্যান্ডশেক হিসেবে না দিয়ে পাটকলের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য ব্যয় করলে পাটকলগুলোকে লাভজনক করা সম্ভব। পাটকলগুলো পিপিপি মডেলে চালানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেওয়ার মতোই। যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন ও সময়মতো কাঁচা পাট কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দিলেই সরকারি পাটকলগুলো লাভের মুখ  দেখবে। বিজেএমসির দুর্বল বিপণন ব্যবস্থাপনা জোরদার ও দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদেরও অপসারণ করতে হবে। বর্তমানে পিপিপির মাধ্যমে পরিচালনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে কী-না কে বলতে পারবে? পাটকলগুলো পরিচালনার যেন রাজনৈতিক বিবেচনায় না হয়, সেদিকে  খেয়াল রাখতে হবে। বিশ্বজুড়ে পাটের কদর বৃদ্ধিঃ পলিথিন ও প¬াস্টিক দ্রব্যের অতি ব্যবহারের দরুন বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে পাটসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুর কদর বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদে দ্বিতীয় কমিটিতে ‘প্রাকৃতিক তন্তুর উদ্ভিজ্জ ও টেকসই উন্নয়ন’’ শিরোনামে পাটসহ প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহারবিষয়ক একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে পাটের কদর ও ব্যবহারিক মূল্য বৃদ্ধির একটি সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে পাটের তৈরি নানাবিধ ও বহুমুখী পণ্যের চাহিদা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। কিন্তু বহুমুখী পাটপণ্যের উপযোগী কাঁচামাল তৈরির উৎপাদনের ক্ষমতা বিজেএমসির পাটকলসমূহের মোটেই নেই। এ ছাড়া প্রায় অর্ধশত বছর পূর্বের যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপিত এসব মিলের কার্যক্ষমতা সময়ের ব্যবধানে হ্রাস পেয়ে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে। বিজেএমসির পুরনো ব্যবস্থাপনা কাঠামো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার উপযোগী তৈরি না করার কারণেই পাটশিল্পের মরণদশার কারণ। শ্রমিক ছাঁটাইয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঃ করোনা মহামারির বিপর্যয়ের মধ্যে নতুন করে দেশের ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ২৫ হাজার শ্রমিককে কর্মহীন করার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করার দরকার ছিল। বর্তমান শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিতই বকেয়া হয়ে রয়েছে। বিগত বছরগুলোয় যারা অবসরে গেছেন, তারা এখনো পূর্ণ অবসর সুবিধা পাননি। শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক প্রক্রিয়ায় ছাঁটাই করে পাটকল বন্ধ করার ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শ্রমিক, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা। বিজিএমসি কর্তৃক পরিচালিত পাটকলসমূহ আধুনিকায়ন করে কার্যকর, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবর সুপারিশ পত্র দাখিল করেছেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহীদুল¬াহ চৌধুরীসহ অন্যরা। সুপারিশপত্রে বলা হয়, স্বাধীনতার পক্ষের দাবিদার শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতা  থেকে এমন শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া দুঃখজনক। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্ট  নেতারা বলেন, পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে, শুধু পাটকল শ্রমিকরা  বেকার হবে ও তাদের পরিবারগুলো বিপন্ন হবে- তাই নয়। ধ্বংস হয়ে যাবে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প আর পাটচাষিরাও ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাদের পরিবারগুলোতে বিপর্যয় নেমে আসবে। পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে দেশের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। করোনার দুর্যোগ খাঁড়ার ঘাঃ করোনা দুর্যোগের মধ্যে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবে নাজুক, শ্রমিকদের ওপর এ  যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। সঙ্গত কারণেই এ সিদ্ধান্তে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে। এ শ্রমিকরাই দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মজুরির দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন করে আসছিল। এমনকি আমরণ অনশন করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যুও ঘটেছে। এখন  সেই শ্রমিকদের স্বেচ্ছা অবসরে পাঠিয়ে রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির মাধ্যমে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেএমসি। বর্তমান সরকার পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবনে নানা পদক্ষেপ নিলেও লোকসানের বৃত্ত থেকে  বের হতে পারেনি। অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক দলাদলি, সময়মতো কাঁচা পাট কিনতে ব্যর্থ হওয়া, পাটের গুণগতমান ভালো না হওয়া, বেশি জনবল, শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) দৌরাত্ম্য, পুরাতন যন্ত্রপাতি, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই লাভের মুখ দেখছে না সরকারি পাটকলগুলো। পাটের কোনো কিছুই ফেলনা নয়ঃ পাট এমন একটি পণ্য, যার কোনো কিছুই ফেলনা নয়। পাট পরিবেশবান্ধব, বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য আঁশ। তারপরও পাটে এত লোকসান কেন? আমরা  লোকসানের কথা শুনতে চাই না। বরং পাটশিল্প কীভাবে লাভজনক হবে  সেদিকেই মনোযোগ দিতে হবে। শিল্পবিপ¬বের সময় হতেই অন্যান্য কৃত্রিম আঁশের স্থান দখল করে পাটের যাত্রা শুরু। পাটের আঁশের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, অন্য অনেক আঁশের সঙ্গে মিশ্রণ করে পাটকে ব্যবহার করা যায়। বিশ্বব্যাপী যখন পরিবেশবান্ধব পাটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের  লোকসানের বোঝায় অচৈতন্য অবস্থা। দুর্নীতি রোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মাথাভারী প্রশাসন কাটছাঁটের মাধ্যমে পাটকলগুলোর লোকসান কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রতিবেশী দেশে এবং দেশের ভেতরে বেসরকারি পাটকলগুলো লাভজনক হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত খাত লোকসান গুনছে। এজন্য পাটশিল্প হতে সর্বোচ্চ সুফল পেতে আমাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাপনায় হালনাগাদ করা ছাড়াও পাটজাত পণ্যের যুগোপযোগী ব্র্যান্ডিং করতে হবে। বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তাহলে পাটচাষি থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন। লেখক ঃ কলাম লেখক