অনুশীলনে আগুন ঝরা বোলিং তাসকিনের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ তামিম ইকবালের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বল, কখনও বাতাস লাগিয়ে যাচ্ছে লিটন দাসের হেলমেটে। গত কিছুদিনে অনুশীলনের নিয়মিত চিত্র এসব, নেটে প্রায় সব ব্যাটসম্যানকেই বেশ ভোগাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। আগুন ঝরা বোলিং করে চলেছেন অনুশীলনে। তবে ¯্রফে নেটের গতি আর ছন্দেই আনন্দে ডুবে যাচ্ছেন না এই ফাস্ট বোলার। বরং অনুভব করছেন উন্নতির পথ ধরে ছুটে চলার তাড়না। করোনাভাইরাসের প্রভাবে যখন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে লম্বা সময়, সেই লকডাউনে তাসকিনকে সক্রিয় দেখা দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফিটনেস নিয়ে জিমে কাজ করার ছবি-ভিডিও পোস্ট করেছেন নিয়মিত। মাঠে তাকে দেখেও সেসবের ফল টের পাওয়া যাচ্ছে। ওজন কমেছে বেশ, বেড়েছে পেশির আকার। ওজন কমা ও বাড়ন্ত পেশিই অবশ্য ফিটনেসের মূল প্রতিফলন নয়। তবে মাঠেও তাকে মনে হচ্ছে দারুণ ফুরফুরে ও চনমনে। বোলিংয়ে খুবই আগ্রাসী। বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গে সময় কাটাতেও দেখা যাচ্ছে বেশ। ওয়ার্ক এথিক ঠিক নেই বলে একসময় তাসকিনের সমালোচনা ছিল প্রচুর। এখনও সেসবের রেশ তার ভাবমূর্তির সঙ্গে লেপ্টে আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার নানা প্রচেষ্টায় দেখা যাচ্ছে ওসব ঝেরে ফেলার ইচ্ছে। সামনেও এই ধারাটা ধরে রাখতে চান তাসকিন। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী ফাস্ট বোলারের কণ্ঠে এগিয়ে চলার প্রত্যয়। “ফিটনেসে আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। তবে উন্নতির তো শেষ নেই। বিশ্বমানের হতে হলে, আরও ধারাবাহিক হতে হলে কঠোর পরিশ্রম সবসময় করে যেতে হবে। আসলে এখনই শেষ নয়। সামনে আরও ভালো কিছু হবে, আশা করছি। আমি আমার চেষ্টা, ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করব যে আরও উন্নতি হয় ও ভালো করতে পারি।” আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাসকিন সবশেষ খেলেছেন ২০১৮ সালের মার্চে, শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফি টি-টোয়েন্টিতে। সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৭ সালের অক্টোবরে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। ওই সফরেই খেলেছেন সবশেষ টেস্ট। গত মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে অবশ্য জায়গা পেয়েছিলেন। তবে একাদশে সুযোগ মেলেনি। সামনের বাস্তবতাও ভালোই জানেন তাসকিন। তাই জানালেন, ফিটনেসের পাশাপাশি স্কিলেও আরও শাণিত ও সমৃদ্ধ করে তুলতে চান নিজেকে। “ আগের থেকে ভালো ছন্দ এসেছে। ভালোও লাগছে। পেস, সিম পজিশন, এসব নিয়ে কাজ করছি কোচদের সঙ্গে। আগের থেকে উন্নতি হয়েছে। আল্লাহ যদি সুস্থ রাখেন, আগের চেয়ে আরও উন্নতি হবে। নিশানা, গতি, সিম পজিশন, এসব আরও ভালো হবে।”

শিক্ষায় সংখ্যা নয়, মানোন্নয়ন জরুরি

দেশে শিক্ষাব্যবস্থা সামগ্রিক অর্থে নিশানাবিহীন হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন করে স্বাধীন বাংলাদেশের জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পঁচাত্তরের নরঘাতকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের নিহত হওয়ার পর স্বাধীন বাংলাদেশ উল্টাপথে ধাবিত হতে থাকে। সব কিছুর সঙ্গে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষাব্যবস্থা। তারপর একের পর এক কমিশন গঠিত হয়। শিক্ষাব্যবস্থা সর্বক্ষেত্রে মেধাশূন্য হয়ে পড়ে। প্রাথমিক স্তরে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে। দেশে যার যেমন খুশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করতে থাকে। শিক্ষায় শক্তিশালীভাবে অনুপ্রবেশ করেছে বাণিজ্যিক মনোভাব। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সরকারের পাশাপাশি ব্যাঙের ছাতার মতো দেশের আনাচে-কানাচে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় অগণিত বিদ্যালয়-কলেজ স্থাপিত হয়েছে। আরবি ও ইংরেজি মিডিয়ামে যে কত ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে তার কোনো হিসাব জানা নেই। সেখানেই শেষ নয়, বাসায় বাসায় ব্যবসা-বাণিজ্যের লালসায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে। এযাবৎ ১০৬টির অধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। সেখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধু সার্টিফিকেট বিক্রি হচ্ছে। এমনকি ঊঊঊ–এর মতো অনেক ডিগ্রি আছে, যা সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার চার-পাঁচটি ক্লাস নিয়ে কোর্স সম্পন্ন করে সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। দেশে শুধু সার্টিফিকেটধারী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশির ভাগের অবস্থা খুবই নাজুক। শিক্ষার মানোন্নয়ন বা মেধা সৃষ্টি প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। রিজিওনাল বা ইন্টারন্যাশনাল কোনো মাপকাঠিতেই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এক হাজারের নিচে। যেখানে ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া এমনকি পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যলয় -এ স্থান করে নিচ্ছে। মেধা ও জ্ঞান বিকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না করে ও শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না করে যেমন খুশি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা বিস্তার সম্প্রসারণ আর মেধা সৃষ্টির বিকাশ একসঙ্গে চলতে পারে না। দেশে বর্তমানে ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল বিশ্ববিদ্যালয় ১৫টি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আটটি, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচটি, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পাঁচটি, বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৫টি, স্পেশালাইজড বিশ্ববিদ্যালয় চারটি, অফ ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি। এগুলোর মধ্যে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিবিষয়ক ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। পত্রপত্রিকার তথ্য মতে, আরো চারটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বছর দুই আগে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে, যেখানে কোনো ভৌত অবকাঠামো তৈরির আগেই ছাত্র ভর্তি করা হয়। বাংলাদেশে যেসব পুরনো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে পুরনো, যেটি ১৯৬১ সালে স্থাপিত হয়েছে। সেখানেও অদ্যাবধি পর্যাপ্ত আধুনিক গবেষণাগার তৈরি সম্ভব হয়নি। নানা প্রতিবন্ধকতা ও সুযোগের অভাবে মানসম্পন্ন লেখাপড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। উচ্চশিক্ষায় মেধা সৃষ্টি দেশের মূল চালিকাশক্তি। বিজ্ঞানভিত্তিক মেধা সৃষ্টি না হলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃত। ক্রমবর্ধমান জ্ঞানচালিত বিশ্ব অর্থনীতিতে টিকে থাকতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। কাজেই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে উচ্চশিক্ষায় মেধা সৃষ্টিই দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। অথচ আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নের বাস্তব কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিগত প্রায় ছয়-সাত বছর ধরে বিশ্বব্যাংকের ঋণের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হেকেপ প্রকল্পের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব মেধা সৃষ্টিতে পড়েছে বলে অনেকেই মনে করেন না। আমাদের বড় সমস্যা হলো, কারো কোনো দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহি নেই কোনো ক্ষেত্রেই। নেই ছাত্র-শিক্ষক মূল্যায়নের উপযুক্ত পদ্ধতি। কৃষি একটি উচ্চতর বিজ্ঞান। সাধারণ বিজ্ঞানের মতো নয়। কৃষিশিক্ষায় দক্ষতা বাড়াতে যেমন আন্ত গবেষণাগার প্রয়োজন, তেমনি মাঠ গবেষণাগারও অত্যন্ত জরুরি। বতর্মানে যে আটটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে তাতে মেধা সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত জরুরি উপাদানগুলোও নেই। শিক্ষকের অপ্রতুলতা, শিক্ষার আধুনিক টুলসসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতির অপ্রাপ্ততা বিরাজমান। এ ছাড়া দেশের সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েরও মান ও মেধা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে বিষয়গুলো বিশ্বের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ে ব্যবহার করা হয় তার প্রায় সবগুলো ফ্যাক্টরই নিদারুণভাবে উপেক্ষিত, যেমন—একাডেমিক খ্যাতি ৪০, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি ১০, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ২০, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক ১০, শিক্ষকদের গবেষণার উদ্ধৃতি ৫, গবেষণার পেপার উদ্ধৃতি ৫, আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৫+৫=১০, পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক সংখ্যা ৫। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই এসবের তোয়াক্কা করে না বা চিন্তা-চেতনার মধ্যেও আছে বলে মনে হয় না। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা আরো করুণ। দেশে বর্তমানে আটটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগেই যথেষ্ট গবেষণাগার ও ফিল্ড ল্যাব নেই, লেখাপড়াসংক্রান্ত আধুনিক ডিজিটাল প্রযুুক্তিরও অভাব। বর্তমানে সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর প্রায় চার হাজার গ্র্যাজুয়েট বের হয়। বিভিন্ন কারণেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন মেধাবী গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা যাচ্ছে না। উচ্চতর শিক্ষায় মেধা সৃষ্টি করতে না পারলে দেশের কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা অগ্রসর হতে পারব না। শোনা যাচ্ছে, আরো চার-পাঁচটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা হবে। সংগত কারণেই নতুন কোনো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় না খুলে বর্তমানে যা আছে সেগুলো আরো সমৃদ্ধ করা দরকার। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে আগামী ৫০ বছরে দেশের কোথায় কতজন কৃষিবিজ্ঞানী প্রয়োজন হবে তা নির্ধারণ করে সে মোতাবেকই কৃষি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে। যদি আরো অধিকসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট দরকার হয়, তবে নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না খুলে নির্বাচিত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সব সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তাতে সরকারের যেমন অনেক সাশ্রয় হবে, একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মানও বাড়বে। এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে মেধাসম্পন্ন বিশ্বমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, এখন বিশ্বে চরম প্রতিযোগিতার সময়, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে স্থান করতে না পারলে বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না। কাজেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কিউএস র্যাংকিংয়ের জন্য নির্ধারিত যে ফ্যাক্টরগুলো আছে, তা যাতে যথাযথ প্রয়োগ করা যায় সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সব স্তরে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা না গেলে কোথাও কোনো উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। প্রাইভেট সেক্টরে সার্টিফিকেট বিক্রির যে হিড়িক পড়েছে তার লাগাম টেনে ধরতে হবে। কাজেই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে মেধা ও মান বাড়ানোই সময়ের দাবি। লেখক : সাবেক উপাচার্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যাপক, পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

শকুন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, প্রকৃতির ঝাড়ুদার, পরিবেশ রক্ষাকারী পাখি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ পাখি প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্যের প্রতীক। প্রকৃতির অলংকারও বলে থাকে  কেউ কেউ। পাখি শুধু নন্দনতত্ত্বের খোরাকই জোগায় না, প্রকৃতিতে ফুল ও ফসলের পরাগায়ণে অংশ নিয়ে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কয়েক দশক আগে গ্রাম বাংলা সবুজ গাছ-গাছালিতে ভরা ছিল। ঝোপ-ঝাড় ছিল। চারপাশ মুখরিত ছিল পাখির কলকাকলিতে। কিন্তু মানুষের নানাবিধ কর্মকান্ডে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির এই অলংকার। জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে উজাড় হচ্ছে বিভিন্ন গাছ ও বনাঞ্চল। পরিষ্কার করা হচ্ছে ঝোপ-ঝাড়। মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে নির্মাণ করা হচ্ছে রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল-বাজারসহ মানববসতি। ক্রমশ বিপন্ন হয়ে উঠছে প্রকৃতি। আর প্রকৃতি বিপন্ন হবার কারণেই হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র। পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বিপন্নের তালিকায় রয়েছে শকুন। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই আজ শকুন বিপন্ন। একসময় শকুন ছিল গ্রাম বাংলার অতি সাধারণ চিরচেনা পাখি। গরু-ছাগল মারা গেলেই দল বেঁধে হাজির হতো শকুন। দেশের প্রায় সব এলাকাতেই কমবেশি দেখা মিলত এদের। আকাশের অনেক উঁচুতে স্থিরভাবে পাখা মেলে ঘুরে বেড়াত শকুনের ঝাঁক। নিচের মাটিতে  কোনো খাবার দেখলেই তড়িঘড়ি করে নেমে আসত। একটি শকুনকে নিচে নামতে  দেখলেই বাকিগুলো তাকে অনুসরণ করত। শকুনই একমাত্র পাখি যারা গবাদিপশুর মৃতদেহ সতেজ থাকা অবস্থাতেই চামড়া ফুটো করে খেতে পারে। মৃত গবাদিপশুর মাংস খেয়ে শকুন পরিবেশ পরিছন্ন করে। অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগ-জীবাণু হজম করার ক্ষমতা শকুনের আছে। এভাবে শকুন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, প্রকৃতির ঝাড়ুদার, পরিবেশ রক্ষাকারী পাখি নামে পরিচিতি পায়। বিশ্বে ২৩ প্রজাতির শকুন রয়েছে। এর মধ্যে চার প্রজাতির শকুন বাংলাদেশে আসে। এগুলো হচ্ছে হিমালয় গৃধিনী, ইউরেশীয়, ধলা ও কালা শকুন। হিমালয় গৃধিনী ও ইউরেশীয় শকুন প্রায়ই আসে, আবার চলে যায়। তবে পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধলা শকুনকে ৪০ বছর পর গত জুনে কাপ্তাইয়ে দেখা গেছে। কালা শকুন মাঝে মধ্যে দেখা যায়। বন্যপ্রাণী বিশারদরা বলছেন, দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে অধিক ফলনের আশায় কৃষক জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক এবং রাসায়নিক সার ব্যবহারে শকুনসহ অন্যান্য প্রজাতির পাখিদের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি কলকারখানার দূষিত বর্জ্যরে কারণে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে শকুনসহ নানা প্রজাতির পাখি। গবাদি পশু ও কৃষি জমিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিডনি নষ্ট হয়ে মারাও যাচ্ছে এসব শকুন। শুধু শকুন নয় কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে শকুনসহ অনেক প্রজাতির পাখিই হারিয়ে যেতে বসেছে। গবাদি পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় শকুনের কিডনি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এর বিলুপ্তি তরান্বিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শকুন না থাকার কারনে বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্স, যক্ষা, ক্ষুরা রোগ ইত্যাদি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার এবং জলাত্মঙ্ক রোগ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা  বেড়েছে। শকুন না থাকায় গবাধি পশুর মৃত দেহ এখন শিয়াল, কুকুর, ইঁদুর, কাক, চিলসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী খাচ্ছে। এদের পেটে রোগ জীবানু নষ্ট না হওয়ায় জঙ্গল ও জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে এসব মারাত্মক ব্যাধি। শকুন বাঁচাতে প্রাচীন ও উঁচু বৃক্ষ যেমন- তালগাছ, বটগাছ, আমগাছ, রেইনট্রি, কড়ই গাছ, শিমুল গাছ, শ্যাওড়া গাছ কাটা রোধ করে সেগুলো সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে করে শকুন সেই গাছগুলোতে নির্বিঘেœ বসতে পারে এবং বাসা তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সর্বস্তরের জনগণের সচেতনতা। প্রত্যেকে যদি তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হয় এবং পরিবেশ রক্ষার অংশ নেয় তবেই প্রাকৃতির ঝাড়–দার শকুন রক্ষা পাবে।

‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমার পোস্টারে নির্যাতিত নারীর প্রতিচ্ছবি

বিনোদন বাজার ॥ চেয়ারের সঙ্গে এক অর্ধনগ্ন নারীকে বেঁধে রাখা হয়েছে। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্ত বলছে, তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। সৈকত নাসির পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমার পোস্টারে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সোমবার বিকালে এ পোস্টার প্রকাশ করেন নির্মাতা। সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন মোহাম্মদ ইকবাল। সিনেমা প্রসঙ্গে ইকবাল  বলেন, ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমার পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। এর নায়িকা এখনো ঠিক করা হয়নি। তবে জয়া আহসান ও স্বস্তিকার সঙ্গে প্রাথমিক কথা হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ করানো হয়নি। খুব শিগগির এতে চুক্তি করানো হবে। ‘দেশা দ্য লিডার’ খ্যাত পরিচালক সৈকত নাসির  বলেন, ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমার শুটিং জানুয়ারি থেকে শুরু করবো। এর মধ্যে প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শেষ করবো। পতিতার জীবনের গল্প সিনেমাটিতে ফুটিয়ে তোলা হবে। যে বিনা অপরাধে শাস্তি পায়। যিনি হবেন এই সিনেমার নায়ক আবার খলনায়ক। সবচেয়ে বড় কথা এ সিনেমায় কোনো নায়ক নেই! নায়িকা প্রধান গল্পের সিনেমা এটি। এর চিত্রনাট্য রচনা করছেন আবদুল্লাহ জহির বাব্।ু

আবেদনময়ী ভঙ্গিতে ফের ছবি পোস্ট করলেন পরীমনি

বিনোদন বাজার ॥ ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি। নজরকাড়া গ্ল্যামার আর অভিনয়গুণে অল্প সময়ে চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি। ভক্তকূলের কাছে কতটা প্রিয় এই লাস্যময়ী, তা তার ফেসবুক দেখলেই অনুমান করা যায়। ফেসবুক পেজে ছবি প্রকাশের পর মুহূর্তেই হাজার হাজার লাইক কমেন্টস করেন ভক্তরা। রোববার পরীমনি তার ফেসবুকে একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। আর ক্যাপশনে লিখেছেনÑ‘কুল’। ছবিতে দেখা যায়Ñসুইমিংপুলের পানিতে পা ভিজিয়ে বেশ আবেদনময়ী ভঙ্গিতে বসে আছেন পরীমনি। ছবিটি প্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ লাইক আর ১৭ হাজার কমেন্ট পড়েছে। শেয়ার হয়েছে প্রায় সাতশ। পরী সম্প্রতি সরকারি অনুদানে নির্মাণাধীন ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ করেছেন। এতে পরীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’সিনেমাটি পরিচালনা করছেন আবু রায়হান জুয়েল। প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে এটি। গত ১৪ মার্চ এই সিনেমার শুটিং শুরু হয়। লঞ্চে একটানা ২৫ দিন শুটিং করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ৮ দিনের শুটিং বাকি রেখেই ঢাকায় ফিরতে হয় তাদের। এর চিত্রনাট্য রচনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। সিনেমাটির জন্য প্রথমবার গান লিখেছেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

সাফল্য চান বাউচার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আইসিসির টুর্নামেন্টে কী যেন হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। বরাবরই থাকে ফেভারিটদের কাতারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে ফিরতে হয় তাদের। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতায় পরিবর্তন আনতে উন্মুখ মার্ক বাউচার। তাই চমৎকার ক্রিকেটারদের দল নয়, সাফল্য চান দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ। সবশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপে দারুণ একটি দল নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্ট শেষ করে সপ্তম স্থানে থেকে। সেই টুর্নামেন্টের পরের পারফরম্যান্সও খুব একটা ভালো নয়। ভারত, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারা দলটি এই সংস্করণে এখন আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে। সীমিত ওভারের দুই সংস্করণেই তারা পাঁচ নম্বর দল। দলকে তিন সংস্করণে চূড়ায় দেখতে চান সাবেক কিপার-ব্যাটসম্যান বাউচার। লক্ষ্য অর্জনে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে চান সেরা পারফরম্যান্স। “আমার কাছে পারফরম্যান্সটাই আসল। দারুণ সব ক্রিকেটারদের দল চাই না, যারা বিশ্বের আট নম্বর। বরং চ্যালেঞ্জিং একটি দল চাই এবং এক নম্বর হওয়ার জন্য লড়াই করতে চাইব। আর ছেলেরাও এটাই চায়, যা দারুণ।” মুখে নয়, কাজ দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে, ভালো করেই জানেন বাউচার। “আমরা একত্রে সঠিক পথেই আছি। যদিও এখন পর্যন্ত সবই মুখের কথা। মুখে বলার চেয়ে আমাদের মাঠে ফিরতে হবে, চেষ্টা করতে হবে এবং এগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। ছেলেরা খুশি তাই আমিও খুশি। তবে এখন শুরু হবে কঠিন কাজ।”

 

 

কুকুরগুলো আমি ডাকলেই চলে আসে: তমা মির্জা

বিনোদন বাজার ॥ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নগর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে প্রায় ৩০ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর। জনগণের চলাচল বিঘিœত হওয়াসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কুকুরগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এদিকে পশুপ্রেমীরা এমন সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, কুকুর মানুষের অনেক উপকার করে। কুকুর অন্যত্র সরিয়ে না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই। এর মধ্যে চিত্রনায়িকা তমা মির্জা অন্যতম।  তমা মির্জা  বলেন, ‘কুকুর নিধন করা একদমই অমানবিক। আমি ঢাকার গুলশান, বনানী, মগবাজার, এফডিসিতে কুকুরদের খাইয়েছি। আমি কখনো চাইনি এগুলো মানুষ জানুক। গুলশান-বনানীতে গিয়ে আমি ডাক দিলেই অনেক কুকুর চলে আসে। এই কুকুরদেরও ওরা ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এদেরকে আমি পাচ্ছি না। এরা তো আমার পালিত কুকুর। এরকম হাজার হাজার কুকুর আছে। কেউ হয়তো ক্যান্টিনের সামনে পালে, কেউ ক্যাম্পাসে বা মহল্লার রাস্তায় পালে।’ ‘আমার বাসার নিচে কুকুর যখন গভীর রাতে ডাকে তখন বুঝতে পারি অপরিচিত কেউ এসেছে। আমার বাসায় কুকুর আছে, এজন্য কখনো চুরি হয়নি। অনেকে অযথাই কুকুর ভয় পায়, কুকুরকে টর্চার করে; গরম চা ছুড়ে মারে, ঢিল মারে। এরপরই কুকুর নিজেকে প্রটেক্ট করে। যে কোনো প্রাণীর সঙ্গে এরকম করলে হামলা করবেই।’ বলেন, তমা মির্জা। এই অভিনেত্রীর কুকুরপ্রেমী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। বিভিন্ন সময় তাকে পথের কুকরদের সেবা করতে দেখা গিয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে তমা বলেন, ‘দুই বছর আগে একটি কুকুর ছাঁদ থেকে পড়ে যায়। এরিক নামে বিদেশি একজন পশুচিকিৎসক দিয়ে দু’বার অপারেশন করিয়ে কুকুরটিকে সুস্থ করেছি। আমার বাসায় দুটি কুকুর আছে। এর মধ্যে একটি কুকুর রাস্তা থেকে নিয়ে এসেছি। এটি অনেক বয়স্ক, একটি চোখ নেই। ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ করে এখন বাসায় পুষি। আমার স্বামীও কুকুর পুষতে পছন্দ করেন। তারও একটি কুকুর আছে।’ পরামর্শ দিয়ে তমা মির্জা বলেন, ‘কুকুরের সংখ্যা যদি বেড়ে যায়, এ ক্ষেত্রে আমাদের আইন আছে। কিন্তু সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেই। আইন অনুযায়ী বিনা কারণে কোনো প্রাণী হত্যা করা যাবে না। বেড়ে গেলে এদের ভ্যাক্সিন দেওয়া যেতে পারে। তাহলে কামড়ালে অন্য কোনো রোগ হবে না। কুকুর নিধন খুবই প্যাথেটিক। যারা বোদ্ধা আছেন, দেশ পরিচালনা করেন তাদের কাছ থেকে এরকম অমানবিকতা আশা করা যায় না। আশা করছি, তারা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন।’ ‘বলো না তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তমা মির্জার। ২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলি পরিচালিত ‘নদীজন’ সিনেমায় অভিনয় করে ‘শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী’ বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

 

সবার কাছে ক্ষমা চাইলেন কোনাল

বিনোদন বাজার ॥ ১১ দিন আগে বাবাকে হারিয়েছেন সংগীতশিল্পী সোমনুর কোনাল। বাবা হারানোর ক্ষত এখনো শুকায়নি। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় অনেকের ফোন কল ধরতে পারেননি। এজন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এই শিল্পী। কোনাল বলেনÑ আমি অনেক কৃতজ্ঞ আপনাদের প্রতি। ফোন করেছেন, মেসেজ দিয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন আমাদের। আমি আবারো কৃতজ্ঞ। নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে করছি আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা পেয়ে। আমি করজোড়ে ক্ষমা চাইছি, ফোন রিসিভ করতে না পারায় কিংবা সবার মেসেজের উত্তর না দিতে পারায়। কোনাল বর্তমান মানসিক অবস্থা ব্যাখ্যা করে বলেনÑ কথা বলার শক্তি বা সাহস কোনোটাই আমার নেই। আমি আসলে মানসিকভাবে এখনো স্বাভাবিক হতে পারিনি। এখনো একটা ঘোরের মধ্যে আছি। আমি সময় চেয়ে নিচ্ছি আপনাদের কাছে প্লিজ। আস্তে আস্তে সবার কল ফেরত দেব, মেসেজের উত্তর দেব। কোনালের মা-ও অসুস্থ। মায়ের শারীরিক অবস্থা জানিয়ে তিনি বলেনÑ আম্মু হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। আলহামদুলিল্লাহ আগের চেয়ে ভালো আছেন। তবে মানসিক-শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল। আমার পরিবারের জন্য সবার কাছে আবারো দোয়া চাই। গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান কোনালের বাবা মনির হোসেন মন্টু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

বোলোনিয়াকে হারিয়ে সেরি আ আসর শুরু করলো এসি মিলান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সেরি আয় নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জ¦লে উঠলেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। সুইডিশ এই ফরোয়ার্ডের জোড়া গোলে জয় দিয়ে ২০২০-২১ সেরি আ আসর শুরু করেছে এসি মিলান। মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে সোমবার বোলোনিয়াকে ২-০ গোলে হারায় এসি মিলান। থিও এরনান্দেসের ক্রসে লাফিয়ে হেডে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ৩৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইব্রাহিমোভিচ। ভাগ্য আরেকটু সহায় হলে হ্যাটট্রিকের দেখাও পেতে পারতেন তিনি। ম্যাচের শুরুর দিকে তার শট দূরের পোস্ট ঘেঁসে বেরিয়ে যায়। পরে গোলরক্ষককে একা পেয়ে তার নেওয়া আরেকটি শট লক্ষ্যে থাকেনি। এ নিয়ে চারটি সেরি আ আসরে প্রথম রাউন্ডে গোল করলেন ইব্রাহিমোভিচ। প্রতিযোগিতাটিতে নিজের শেষ পাঁচ ম্যাচে এই নিয়ে তিনবার করলেন জোড়া গোল।

 

নেটদুনিয়ায় ভাইরাল নুসরাতের ছবি

বিনোদন বাজার ॥ টলিউড অভিনেত্রী ও তৃণমূল সাংসদ নুসরাত জাহান। এ অভিনেত্রীর ছবি একটি ডেটিং অ্যাপে তার অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে। যা এরইমধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। অনুমতি ছাড়া ছবিটি ব্যবহার করার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেছেন এই সাংসদ। নুসরাত জাহান ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে বলেনÑএ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রথম জেনেছি, এটি ফেসবুকে স্পনসর বিজ্ঞাপন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এটি একটি ডেটিং অ্যাপ। অনুমতি না নিয়ে সেখানে আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মাকে বিষয়টি জানিয়েছি। আমার সঙ্গে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল যোগাযোগ করেছে। আমি ওই অ্যাপ কোম্পানির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছি। ফ্যান্সি ইউ ভিডিও চ্যাট নামে একটি ডেটিং অ্যাপের বিজ্ঞাপনে শোভা পাচ্ছে লাল পোশাক পরা নুসরাত জাহানের ছবি। তার পাশে আরো এক মেয়ের ছবিও রয়েছে। কিন্তু সাংসদের ছবি একটি ডেটিং অ্যাপে তার অনুমতি ছাড়া কীভাবে ব্যবহার করতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এক ব্যক্তি। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নুসরাতকে ট্যাগ করেন তিনি। এরপর বিষয়টি নুসরাতের নজরে আসে।  নুসরাত আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে ভারতীয় আইন কতটা কঠোর? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ বিভাস চ্যাটার্জি। সংবাদমাধ্যটিকে তিনি বলেনÑকারো অনুমতি ছাড়া তার ছবি যদি কোথাও ব্যবহার করা হয়, তা হলে সেটা আইনত দ-নীয় অপরাধ। পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে আমাদের দেশে এ বিষয়ে কড়া আইনের বিধান নেই। এই ধরনের অপকর্ম রুখতে আরো কঠোর আইন আনা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেনÑযে কেউ অ্যাপ তৈরি করতেই পারেন। অ্যান্ড্রুয়েড বা আইওএস প্ল্যাটফর্মে তা দিতেও পারেন। এজন্য কোনো প্রশাসনিক বা আইনি অনুমতি নিতে হয় না। ওই প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব নিয়মবিধি মানলেই হয়। আর তারই ফাঁক গলে অনেক অ্যাপের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়। এজন্য অবিলম্বে এ বিষয়ে কড়া আইন আনা উচিত। সম্প্রতি ‘স্বস্তিক সংকেত’ নামে একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নুসরাত জাহান। সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করবেন গৌরব চক্রবর্তী। গত জুলাই মাসে ‘এসওএস কলকাতা’ নামে একটি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন নুসরাত জাহান। এতে প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করছেন যশ দাশগুপ্ত, নুসরাত জাহান ও মিমি চক্রবর্তী। অংশুমান প্রত্যুষ পরিচালিত এ সিনেমার শুটিং গত ৮ জুলাই শুরু হয়েছে। লকডাউনের পর এ সিনেমার মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেন নুসরাত। এছাড়া ‘ডিকশনারি’ নামে আরেকটি সিনেমার কাজ নুসরাতের হাতে রয়েছে। ব্রাত্য বসু পরিচালিত এ সিনেমার শুটিং বাকি রয়েছে।

 

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই খেলতে চান পেসার মুস্তাফিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কেবল টেস্ট নয়, ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই খেলতে চান পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। অনেকেরই ধারনা ছিল টেস্ট ক্রিকেটকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে তিন ফর্মেটই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান মুস্তাফিজ। তিনি জানান, বর্তমানে ফিটনেস ও স্কিল নিয়েই বেশি কাজ করছেন। যাতে তিন ফরম্যাটের জন্য নিজেকে উপযোগী করে তুলতে পারেন। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কিল ট্রেনিং সেশন শেষে মুস্তাফিজ বলেন, ‘আমি তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে খেলতে চাই এবং বর্তমানে আমি ফিটনেস ও অন্যান্য স্কিল নিয়ে কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোলিং দক্ষতা বাড়াতে যা করা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা করছি এবং সব ফরম্যাটে নিয়মিত করতে অন্যরাও সহায়তা করছে।’ টেস্ট ক্রিকেটে ভালো বোলারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বলকে ভেতরে আনা। পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই যা করতে পারেননি তিনি। মুস্তাফিজের প্রধান অস্ত্র হলো- কাটার ও স্লোয়ার, যা দিয়ে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে সাফল্য অর্জন করেছিলেন ফিজ। মূলত তার কাটার ও প্লোয়ারের কারণে, ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্তভাবে নিজের অভিষেক ঘটান মুস্তাফিজ। ভারতের বিপক্ষে প্রথম দু’ম্যাচে ১১ উইকেট নেন তিনি। ঐ দু’টি ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে জয় পায় দল। ফলে প্রথমবারের মত ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ নেয় টিম ইন্ডিয়া। সিরিজের শেষ ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে অভিষেক সিরিজে নিজের শিকার সংখ্যাকে ১৩তে নিয়ে যান মুস্তাফিজ। টি-২০ ক্রিকেটেও নিজেকে প্রমাণ করেন মুস্তাফিজ। ফলে ওয়ানডে ও টি-২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা বোলারে পরিণত হন তিনি। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে, সাফল্যের ক্ষেত্রে পারদর্শী নন মুস্তাফিজ। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ইনসুইঙ্গারেই বেশি শক্তিশালী মুস্তাফিজ। এমনটাই মুস্তাফিজ জানেন এবং তিনি জানান, বোলিং কোচ ওটিস গিবসনকে নিয়ে সেই বিশেষ দিকটি নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে, কিভাবে বলকে ভেতরে আনতে হবে, সে বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমি এখনো এটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি এবং আল্লাহর রহমতে এটি ভালোভাবে চলছে। কিন্তু আমি জানি, এটি করার জন্য পারদর্শী হতে আমার অনেক কাজ করা দরকার।’ বলকে ভেতরে আনার পাশাপাশি, বোলিংএ অন্যান্য দিক নিয়েও কাজ করছেন মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজ বলেন, ‘একমাস পাঁচদিন হয়ে গেল, আমি ঢাকা এসেছি, প্রথমে আমি সংক্ষিপ্ত রান-আপে বল করেছি। দুই কি তিন ধাপে বল করেছি। আমি বাড়িতেও এটি করেছি। কিন্তু ঢাকায় এসে প্রথম থেকেই সব শুরু করেছি। শুরুতে আমি জগিং ও জিমের দিকে মনোনিবেশ করেছি এবং পরে অন্যান্য বোলারদের সাথে ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং শুরু করি। তবে সবকিছু ভালো চলছিলো।’ তিনি জানান, শুরুতে বোলিং ও ফিটনেস অনেক কঠিন ছিলো। তবে যতদিন যাচ্ছে, সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। মুস্তাফিজ বলেন, ‘দলগত অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ঘরে কাজ করেছি, তবে সেটি ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু আমি যখন স্টেডিয়ামে কাজ শুরু করেছি, তখন কঠিন ছিলো, কিন্তু এখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।’