ঝিনাইদহে ১১ মাস পর বিজিবি সদস্য হত্যায় ৩ কিশোরকে আটক করলো ডিবি

সুলতান আল একরাম ॥ দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস পর ঝিনাইদহ শহরের হামদহ দাসপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামান (৬০) হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ কিশোর ঝিনাইদহ শহরের হামদহ দাসপাড়ার শাহাবুদ্দীনের ছেলে আরাফাত (১৭), শহরের পাওয়ার হাউস পাড়ার মিন্টুর ছেলে নিশান (১৭) ও সদর উপজেলার রতনহাট গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মিরাজ (১৬) কে আটক করেছে। ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টম্বর নুরুজ্জামানকে হত্যা করা হয়। সেই থেকে এই হত্যার মোটিভ ও ক্লু অজানা ছিল। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও মোবাইল  ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশ এই সফলতা অর্জন করে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নুরুজ্জামান হত্যার মোটিভ ও ক্লু সম্পর্কে গনমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয় বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে ওই তিন কিশোর বাসায় যাতায়াত করতো। নুরুজ্জামানের সাথে তাদের সখ্যতাও ভাল ছিল। ঘটনার দিন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রাখার কথা জানতে পারে ওই তিন কিশোর। রাতে বাসায় ঢুকে তারা অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানকে হত্যার পর মোবাইল ফোন, টিভি, কাপড়, লাগেজ ও মটরসাইকেলের চাবি নিয়ে যায়। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি বাজারের মৃত আব্দুল করিম বিশ্বাসের ছেলে নুরুজ্জামান বাসা বাড়ি করে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন। নুরুজ্জামানের বড় ছেলে শাহিন ইমরান বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামী হিসেবে এখন জেলখানায়। মেজ ছেলে শামিম ইমরান ঝিনাইদহ আদর্শপাড়া ৩ নং ট্যাংকি পাড়ায় ব্যাবসা করেন। আর ছোট ছেলে শাওন ইমরান সেনাবাহিনীতে চাকরী করছেন। মামলার বাদী নিহত নুরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা বেগম দীর্ঘ ১১ মাস পর হত্যার রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় সন্তষ্টি প্রকাশ করেছেন। ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, চুরি হওয়া নুরুজ্জামানের মোবাইলটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ ছিল। সেটি খোলার পরই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও ট্রাকিং করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন টাকার জন্যই আরাফাত, নিশান ও মিরাজ বিজিবি সদস্য নুরুজ্জামানকে হত্যা করে। এ ছাড়া কিভাবে তারা এই হত্যা মিশনে অংশ গ্রহন করে তার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

 

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের মডেল থানা পরিদর্শন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন কুষ্টিয়া মডেল থানা পরিদর্শন করেছেন। গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে তিনি কুষ্টিয়া মডেল থানা পরিদর্শন করেন। এসময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসলাম হোসেনকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী ও কুষ্টিয়া মডেল থানার  অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান তালুকদার।

কালুখালীতে টিকাদান কর্মসূচীর উপর আলোচনা সভা

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ গতকাল মঙ্গলবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে ইপিআই টিকাদান কর্মসূচীর রোগ নিরক্ষণ ওরেয়িন্টেশন কর্মশালার উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১২ টায় এ উপলক্ষ্যে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হল রুমে উপজেলায় কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীদের অংশগ্রহণে ইপিআই টিকাদান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খোন্দকার মুহাম্মদ আবু জালাল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডাঃ মো. ইব্রাহিম টিটন। বিশেষ অতিথি হিসেবে এসআইএমও ডাঃ মোঃ মোর্শেদুল ইসলাম আলম খানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গাংনীর সাহারবাটি গ্রামে সংঘর্ষের মামলার প্রধান আসামী হাফিজুর এখন হাজতে

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে এক ক্লাবকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। মামলার এক পক্ষের অন্যান্য আসামীরা আদালতে হাজিরা দিলেও প্রধান আসামী সাহারবাটি গ্রামের মাবেয়া মহল্লাদারের ছেলে স্থানীয় বিএনপির নেতা হাফিজুর রহমান পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মেহেরপুর আদালতে তিনি হাজিরা দিতে যান। মামলার শুনানী শেষে বিচারক তাকে হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, সাহারবাটি বাজারে একটি রক্তদান কেন্দ্রে স্থাপিত হয় বেশ কয়েক বছর আগে। রক্তদান কেন্দ্রটি ভাঙচুর করে হাফিজুর রহমানের লোকজন। এরই প্রতিবাদ করেন রক্তদান কেন্দ্রের সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম টুটুলসহ অন্যান্য সদস্যরা। প্রতিবাদের সময় হামলার শিকার হয়েছিলেন টুটুলসহ অন্যান্যরা। এ নিয়ে গত ১ মার্চ  সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাহারবাটি চারচারা বাজারে একটি সালিস বৈঠক বসে। সালিস চলাকালীন সময়ে হাফিজুর রহমানের লোকজনের হাতে হামলার শিকার হন রাকিবুল ইসলাম টুকুল তার শফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। এনিয়ে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করে। ওই মামলায় হাফিজুর রহমানের হাজত হয়।

 

উড়ো চিঠি যাচাই হচ্ছে ঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সম্প্রতি একটি কারাগার থেকে আসামি পালানোর ঘটনার পরই দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, একটি কারাগারে যে উড়ো চিঠি এসেছে, সেটা যাচাইয়ের জন্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে মানবিক দিক বিবেচনায় গত মার্চে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে ছয় মাসের জন্য তাকে মুক্তি দেয় সরকার। সেই মুক্তির মেয়াদ গতকাল মঙ্গলবার আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার দন্ডাদেশ শর্তসাপেক্ষে আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তিনি এ সময় ঢাকায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন। তবে বিদেশ যেতে পারবেন না। দেশের কারাগারগুলোতে হঠাৎ করে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা বা কারারক্ষী বাড়ানো হয়েছে- এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের কারাগারগুলো সুরক্ষিত করার জন্য এটা করা হয়েছে। আপনারা জানেন, কারাগার থেকে আমাদের একজন আসামি কারারক্ষীদের দুর্বলতার কারণে কারাগার থেকে পালিয়েছে। সেজন্যই আমরা কারাগারকে আরো শক্তিশালী করছি। যাতে করে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। আমরা সেখানে পাহারা বৃদ্ধি করছি সেটা নয়, কারাক্ষীদের দায়িত্ব যেন সঠিকভাবে পালন হয় সে ব্যবস্থা করেছি। আমরা জঙ্গির মূল উৎপাটন করে দিতে পারিনি, তবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। লালমনিরহাটের কারাগারে উড়ো চিঠির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উড়ো চিঠি ও কাগজ আমাদের কাছে সব সময় আসে ও বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে থাকে। এ বিষয়ে আমরা কখনো মনোযোগ দিই না। তবে আমরা সবসময় তথ্যভিত্তিক কাজ করে থাকি। আমাদের কাছে যখন গোয়েন্দা তথ্য আসে তখনই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। উড়ো চিঠি যেগুলো আসছে সেগুলো গোয়েন্দাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা যদি মনে করেন এগুলোর কোনো তথ্য আছে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব। মিয়ানমার সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে। সেখানে আমাদের কী ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি সীমান্তে মাঝে মাঝেই সৈন্য সামন্ত বৃদ্ধি করেন বা অবস্থান করেন। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের জানানো হয়েছে। তাদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আমাদের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তে সেনা মোতায়নের কারণের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকি। এটা নতুন কিছু নয়। সীমান্তে সেনা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি-না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আর আমরা সবসময় প্রস্তুত থাকি। আমাদের রোহিঙ্গাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বন্ধুসুলভ আচারণ করে যাচ্ছি। আমাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হলো, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। প্রধানমন্ত্রীসহ বঙ্গবন্ধু নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা চলছি। বিজিপি ও বিএসএফের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে কোনো পরিবর্তন আসছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিজিপি ও বিএসএফ আলোচনা প্রতিবছরই হয়। সেখানে আমাদের বিজিপির ডিজি যান ও তারাও আসেন। এই প্রক্রিয়া চলমান। আমরাও ভারতে গিয়ে থাকি, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আসেন। আমাদের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক আছে। তারিখ তো পরিবর্তন হতেই পারে যেকোনো কারণে। আগরতলা-আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসবেন। তবে কয়দিন অবস্থান করবেন সেটা বিজিপির ডিজি জানেন। সীমান্তে হত্যার বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে কি-না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে আমার কাছে এজেন্ডাগুলো নেই। তবে এসব বিষয় আলোচনা হবে। তাদের সাথে আমাদের বন্ধুত্ব সুলভ সম্পর্ক রয়েছে। তাই তাদের সঙ্গে যেসব বিষয়ে সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

 

 

 

কবুরহাট বাজারে ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ উদ্বোধন

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বাণিজ্যিক এলাকা কবুরহাট বাজারে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক পোড়াদহ শাখার আওতায় এটিএম বুথের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি হিসেবে পোড়াদহ  শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ গোলাম মাসুদ। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ মমতাজ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি পোড়াদহ  শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ গোলাম মাসুদ বলেন ইসলামী ব্যাংক পোড়াদহ শাখার আওতায় এটিএম বুথ শুধু মাত্র টাকা গ্রহন করাই যাবে না টাকা জমাও দেওয়া যাবে। কুষ্টিয়া জেলার প্রসিদ্ধ বাণিজ্যিক অঞ্চলে এই এটিএম বুথ উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষেত্রে এক নব যুগে প্রবেশ করল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার সামসুল আলম, এসপিও জামসের আলী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক হামিদুল ইসলাম, শেখ আবুল হাশেম, মার্কেট মালিক তৈয়ব আলী। উক্ত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন  ইসলামী ব্যাংক পোড়াদহ শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা শাহাবুল আলম। পরে ফিতা কেটে এটিএম বুথ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়।

চলে গেলেন সাংবাদিক রিজভীর চাচা হাজী শেখ মেহের আলী

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলী জেলার চুঁচুড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন সাংবাদিক রনজক রিজভী ও হাবীব চৌহানের সেজো চাচা হাজী হাফেজ শেখ মেহের আলী। গতকাল মঙ্গলবার রাত ২টা ৫ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই  মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন-গুণগ্রাহি রেখে গেছেন। ৮  সেপ্টেম্বর ব্রেন স্টোকের পর করোনা পরিস্থিতির কারণে বেসরকারি হাসপাতালগুলো ভর্তি না নেয়ায় ৯  সেপ্টেম্বর চুঁচুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা করা হয়। সেখানে সর্বোচ্চ চিকিৎসার পরও বার্ধক্যজনিত কারণে তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি। শেখ মেহের আলী কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দুর্গাপুরের সৎজন আলহাজ্ব শেখ মোহা. সেলিমের ছোট ভাই। ২০১৭ সালের ১৫ এপ্রিল শেখ মোহা. সেলিমের মৃত্যুর পর তার আর বাংলাদেশে আসা হয়নি। তবে তার মেঝো ভাইয়ের তিন সন্তানের নিয়মিত খোঁজ-খবর  রেখেছেন। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ব্যান্ডেলের অদূরে রাজহাটের ভাটুয়ায় পিতৃভূমিতে বারবার ডেকে নিয়েছেন। এবং পিতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন তিনি। তিনি বড় ভাই শেখ মোহা. সেলিম ও তার তিন সন্তানকে দেখতে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। একুশে টেলিভিশন ঘুরে দেখে পশ্চিমবঙ্গে টেলিভিশনের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা চর্চার ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন হাফেজ শেখ মেহের আলী। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম খুব পছন্দ করতেন তিনি। করোনা পরিস্থিতির আগে নজরুল একাডেমি থেকে বেশকিছু বই সংগ্রহও করিয়েছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে তার হাতে বইগুলো পৌঁছায়নি। তার আগেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। এদিকে, স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে হাফেজ শেখ মেহের আলীর জানাজা শেষে ভাটুয়া গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বাংলাদেশে হাজী হাফেজ শেখ মেহের আলীর বড় ভাই  শেখ মোহা. সেলিমের স্ত্রী, তিন ছেলে-মেয়ে এবং পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র বোন  সেলিমা, ভাই বাদল, হানিফ এবং নাসির উদ্দিনসহ অসংখ্য স্বজন-শুভাকাঙ্খি রয়েছে।

দেশে টেলিমেডিসিন সেবায় বিপ্লব ঘটেছে ঃ কাদের

ঢাকা অফিস ॥ দেশে টেলিমেডিসিন সেবায় বিপ্লব ঘটেছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার ‘জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ’ উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এই অ্যাপ উদ্বোধন করেন। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির উদ্যোগে এই অ্যাপটি চালু হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব টালমাটাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। চিকিৎসকরা নিজেদের ও রোগীর কথা বিবেচনা করে এই মহামারি থেকে বাঁচতে চেম্বারে রোগী দেখা অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই অবস্থায় সময়ের প্রয়োজনে চিকিৎসাসেবায় নতুন ধারার সৃষ্টি হয়েছে। যেটা হলো টেলিমেডিসিন সেবা। করোনায় মূলত এই পথ দেখিয়েছে। দেশে টেলিমেডিসিন সেবায় কার্যত বিপ্লব ঘটেছে। তিনি বলেন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা। অন্যথায় এই সেবা প্রদান করা সম্ভব হতো না। এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা ও ঘোষণা পরবর্তী নানামুখী কল্যাণকামী কর্মকা-ের ফলে আজ আমাদের তরুণরা তথ্যপ্রযুক্তির প্রায় সব খাতেই নিজেদের সংযুক্তি বৃদ্ধি করেছে। জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ বাংলাদেশের চিকিৎসাখাতে একটি নতুন অধ্যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জয় বাংলা টেলিমেডিসিন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রোগীরা ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করবে। এই অ্যাপে রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ থাকবে ফলে এই তথ্য পরবর্তীতে রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাকাজে ব্যবহার করা যাবে। জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইলে ঘরে বসেই দূর-দূরান্তের রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস সংস্কার করার পরামর্শ দিয়ে কাদের বলেন, আমি চাই বিস্তৃতি ঘটুক এই অ্যাপ্লিকেশনের। জনমানুষ উপকৃত হোক এ সেবার মাধ্যমে। পাশাপাশি এই অ্যাপ ব্যবহারে রোগীদের কোনো কমপ্লেইন থাকলে তা জানার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রাখা দরকার বলে মনে করি। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে যে সকল চিকিৎসক সার্বক্ষণিক সেবা দেবেন কাদের তাদের ধন্যবাদ জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশি অভিজ্ঞ হলেও করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা আমাদের তেমন ছিল না। কারণ নিকট অতীতে বাংলাদেশ এ ধরনের ভয়াবহ মহামারির মুখোমুখি হয়নি। মার্স, সার্স ও ইবোলার মতো মহামারির আঁচ বাংলাদেশে তেমন লাগেনি। করোনা পুরো বিশ্বের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। সমৃদ্ধ দেশগুলোও করোনা মোকাবিলা করতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে। মন্ত্রী বলেন, কোনো দুর্যোগ বা মহামারির ভয়াবহতা কী রকম হতে পারে তা অনুমান করা সম্ভব নয়। আমরা কয়েকটা ঘূর্ণিঝড় থেকে এটি দেখেছি। করোনার ক্ষেত্রেও এটা সত্য। মহামারি বা দুর্যোগ মোকাবিলায় দরকার হোক বা না হোক সকলকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি না থাকায় বিশ্ব ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর মেথডে’র পথে হাঁটছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর। প্রকৌশলী আবদুস সবুর বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের শুরুতে ডাক্তাররা যখন চেম্বারে সরাসরি রোগীদের সেবা প্রদান করতে পারছিলেন না, তখন টেলিমেডিসিন সেবাই একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছিল। এরপরই জয় বাংলা টেলিমেডিসিন অ্যাপ নিয়ে কাজ শুরু করা হয়।

 

ইবি প্রো-ভিসি’র শোক  

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এক শোক বার্তায় বিশ^বিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক(ভারঃ) এইচ.এম.আলী হাসান এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান দুলুর পিতা হাজী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রেরিত শোক বার্তায় তিনি মরহুমের বিদ্রোহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া অপর শোকবার্তায় বিশ^বিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক(ভারঃ) এইচ.এম. আলী হাসান এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান দুলুর পিতা হাজী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রেজিস্ট্রার(ভারঃ) এস.এম আব্দুল লতিফ। শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য যে, গতকাল সোমবার সকাল ১০ বাধ্যর্কজনিত কারণে হাজী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে হাজী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন এর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মোহন নগরে বিকাল ৫টায় নামাজে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

করোনাকে জয় করলেন দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ করোনাকে জয় করেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন। গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাব থেকে করোনা নেগেটিভ রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া গেছে দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন করোনামুক্ত হয়েছেন। গত ২৮ আগষ্ট করোনা পজেটিভ হওয়ার পর তিনি নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ডাক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রায় ১৮দিন পর এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন করোনামুক্ত ও সুস্থ হয়ে উঠেছেন।  দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন করোনা পজেটিভ হওয়ার পর তাঁর সার্বক্ষনিক খোঁজখবর নিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ এবং দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। খোঁজখবর নিয়েছেন দলের নেতা-কর্মীসহ শুভাকাঙ্খী ও সুধীজন। উল্লেখ্য, এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন সাবেক সংসদ সদস্য ও দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন নেতা আফাজ উদ্দিন আহমেদের ছোট ছেলে।

 

চাকরির বয়সে ছাড় দিচ্ছে সরকার  

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে চাকরি প্রত্যাশীদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে দিতে বয়সে ছাড় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, করোনা মহামারির মধ্যে গত ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে তাদের সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফরহাদ হোসেন বলেন, চলতি বছরের গত ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর হবে তারা আগস্ট পরবর্তী সময়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ পাবেন। করোনা দুর্যোগকালীন ৩০ বছর পেরিয়ে যাওয়া প্রার্থীদের চাকরির আবেদনে সরকার পাঁচ মাসের এই সময় ছাড় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত ২৬ মার্চের পর এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট পর্যন্ত- এই পাঁচ মাস যেসব মন্ত্রণালয় চাকরির জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে পারেনি, তারা আগস্টের পর থেকে বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে চাকরি প্রার্থী যারা থাকবে তাদের বয়স ২৫ মার্চ ৩০ বছর হতে হবে। আবেদনকারীদের জন্য এ সুবিধা গত আগস্ট মাস পর্যন্ত থাকবে। এটা আমরা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আগস্টের পর তো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে যে বিজ্ঞপ্তিগুলো যাচ্ছে ২৫ মার্চ তার ৩০ বছর হয়ে যাবে। তাহলে আর কোনো সমস্যা হবে না। সরকারি সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থা, অধিদফতরে যেখানে চাকরির জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়ার কথা ছিল তাদের সবার জন্য এটা প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হবে।’ দেশে করোনা মহামারির কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটির মধ্যে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তার আগে গত ডিসেম্বর থেকে চাকরিতে নিয়োগের নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয়নি কমিশন। তবে ৩০ মে সাধারণ ছুটি শেষে জুনের প্রথম সপ্তাহে নন-ক্যাডারে বেশ কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পিএসসি। সেখানে বয়সের সর্বোচ্চ সীমা ৩০ বছর নির্ধারণ করে দেওয়া হয় গত ১ জুন পর্যন্ত।

 

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দন্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মুক্তির বর্ধিত মেয়াদে খালেদা জিয়া নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দাখিলকৃত আবেদন এবং আইন ও বিচার বিভাগের আইনগত মতামতের আলোকে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর’ এর ধারা-৪০১(১) এ দেয়া ক্ষমতাবলে দুটি শর্তে (বাসায় থেকে চিকিৎসা ও বিদেশ না যাওয়া) তার (খালেদা জিয়ার) দন্ডাদেশ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলো। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো সংক্রান্ত ফাইলে মতামত দিয়ে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এ মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদ- ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালত। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে কয়েক দফায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এবং হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়া হয়। মামলা দুটিকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতারা চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে বিএনপি নেতারা খালেদার মুক্তির জোর দাবি তোলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। সেই প্রেক্ষাপটে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে সরকার শর্তসাপেক্ষে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গত ২৪ মার্চ গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে জানান আইনমন্ত্রী। আইনমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে (করোনাভাইরাস) সরকার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত থাকবে। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না- এমন শর্তে সাজা স্থগিত থাকবে। এরপর খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হয়। প্রথম দফা মুক্তির মেয়াদ শেষ হলে গত ২৫ আগস্ট বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এ ছাড়া বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়েও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সেই দাবি বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

একনেকে ৫৩৪ কোটি খরচে ৪ প্রকল্প অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা খরচে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে ৪৪০ কোটি ৯৮ লাখ এবং বিদেশি ঋণ ৯৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও অর্থমন্ত্রী গণভবন থেকে একনেক সভায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট বাকি মন্ত্রী, সচিবরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে অবস্থান করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় অংশ নেন। একনেক সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। আজকের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ‘আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (ইউআরপি): রাজউক (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প; শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প এবং বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুরের অ্যাপ্রোচ সড়ক প্রশস্তকরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধন)’ প্রকল্প। একনেক সভায় আরও অংশ নেন- কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি; শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন; বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

দৌলতপুর সীমান্তে ১২৩ বোতল মদ ৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ১২৩ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ ও ৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর কান্দিরপাড়া মাঠে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ জামালপুর বিওপি’র টহল দল অভিযান চালিয়ে ২৪ বোতল বেষ্ট টেষ্টি মদ ও ৪০ বোতল ফেনসিডিলগুলি উদ্ধার করেছে। অপরদিকে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিলমারী বিওপি’র টহল দল মরারপাড়া কবরস্থান মাঠে অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল জেডি মদ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও একইদিন রাত পৌনে ৯টার দিকে উদয়নগর বিওপি’র টহল দল ডিগ্রিরচর মাঠে অভিযান চালিয়ে ৪৯ বোতল জেডি মদ উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।

কুষ্টিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরো ১ জনসহ মৃত্যু ৬৫, নতুন আক্রান্ত ১৮

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদরে করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরো ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর গতকাল মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়ায় মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৬৫ জন। আর  করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা মোট ৩১০০ জন, এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ২৬৮৭ জন। ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়, কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজের প্রদত্ত তথ্য মতে পিসিআর ল্যাবে ১৫ সেপ্টেম্বর  ২০২০ মোট ২৮২ টি স্যাম্পলের নমুুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়া ১৬৯, চুয়াডাঙ্গা ৩৬, ঝিনাইদহ ৫৭ ও মেহেরপুরের ২০ টি নমুুনা ছিলো। তাতে কুষ্টিয়া জেলার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১১ জন,  কুমারখালী উপজেলার ২ জন,  ভেড়ামারা উপজেলার ৩ জন, খোকসা উপজেলার  ২ জনসহ কুষ্টিয়ায় মোট ১৮ জন  নতুন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১১ জনের ঠিকানাঃ   খাজা নগর ১ জন, জগন্নাথপুর ১ জন, কেজিএইচ ৭ জন, খোদ আইলচারা ১ জন ও র‌্যাব-১২  ১ জন। কুমারখালী উপজেলায় আক্রান্ত ২ জনের ঠিকানাঃ সোনালী ব্যাংক কুমারখালী ১ জন ও দুর্গাপুর ১ জন। ভেড়ামারা উপজেলায় আক্রান্ত ৩ জনের ঠিকানাঃ বামন পাড়া ১ জন, স্বর্ণপট্টি ১ জন ও গোপিনাথপুর গোলাপ নগর ১ জন। খোকসা উপজেলায় আক্রান্ত ২ জনের ঠিকানাঃ- মাঠ পাড়া ১ জন ও গনেশপুর ১ জন। এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা মোট ৩১০০ জন, এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ২৬৮৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৬৫ জন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন করলেন ডিসি আসলাম হোসেন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন করেছেন। গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) সিফাত উদ্দিন। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের  কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

গড়াই নদীতে বালু উত্তোলনের দায়ে দুইজনের কারাদন্ড

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে গড়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় দুইজনকে ২০ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খান এই রায় প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ফুলতলা নামক স্থানে গড়াই নদী থেকে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করার অপরাধে ঘটনাস্থল থেকে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক রাজীবুল ইসলাম খান বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর বিধান অনুযায়ী মো: আকাশ (২০) ও  মো: সালাম (৩৫) কে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। এ সময় কুমারখালী থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় নকল জুস ও পানীয় তৈরির কারখানায় অভিযান

৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় নকল জুস ও পানীয় তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে, ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। গতকাল  ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কুষ্টিয়া জেলা শহরের হরিশংকরপুর এলাকায় সায়েম ফুড এন্ড বেভারেজ নামক ভেজাল খাদ্যপণ্য  তৈরির কারখানায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সবুজ হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ শাস্তি  প্রদান করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সবুজ হাসান জানান, অবৈধ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে জীবন ও স্বাস্থ্যহানিকর বিভিন্ন প্রকার জুস ও বেভারেজ জাতীয় পণ্য প্রস্তত ও বাজারজাত করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোঃ মিজানুর রহমান কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৩ ধারায় ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ০১ (এক) লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমান ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও নকল পণ্য ধ্বংস করা হয় ৷ মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে র‌্যাব, কুষ্টিয়া ও জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, কুষ্টিয়া সহ আরও অনেকে সার্বিক সহয়তা করেন। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুষ্টিয়ায় পিয়াজের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা

নিজ সংবাদ ॥ সারাদেশের মত মাত্র একদিনের ব্যবধানে কুষ্টিয়ায় পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষ দিশেহারা। কুষ্টিয়ায় সোমবার যেই পিয়াজ পাইকারী বাজার ছিল ৩৫ থেকে ৪০টাকার সেই পিয়াজ গতকাল মঙ্গলবার পাইকারী বিক্রি হয়েছে ৭৫টাকা থেকে ৯০টাকা পর্যন্ত আর খুচরা বাজারে সোমবার  পিয়াজের কেজি ছিল ৫০/৫৫ টাকা আর মঙ্গলবার পিয়াজের খুচরা দাম বেড়ে হয়েছে ৮০/১০০টাকা কেজি। ব্যবসায়ী, আড়তদার আর কৃষকের বাড়িতে হাজার হাজার মন পিয়াজ মজুদ থাকলেও  ভারত থেকে পিয়াজ আসা বন্ধের খবরে পিয়াজের মুল্য দ্বিগুনের চেয়ে বেশি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। গতকাল সকালে পিয়াজের আকর্ষিক মুল্য বৃদ্ধিতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রনে জররী সভা আহবান করে। জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব তৌফিকুর রহমান। শহরের পিয়াজের আড়তদারদের উপস্থিতিতে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুৎফুন্নাহার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তাইফুর রহমান ও জেলা বাজার মনিটরিং অফিসার। সভায় বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব তৌফিকুর রহমান বলেন- ব্যবসায়ীদের ট্রাডিশন থেকে ফিরে আসতে হবে। ভোক্তার চাহিদামত পিয়াজ সরবরাহ এবং ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে পিয়াজের মূল্য নির্ধারন করতে হবে। তাতে মানুষেরা উপকৃত হবে। অন্যাথায় মানুষকে জিম্মিী করে কেউ বিশেষ ফায়দা লুটতে চাইলে সেখানে আইনের কঠোর প্রয়োগে প্রশাসন পিছপা হবে না। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারকে বিপদে ফেলে কেউ যদি লাভবান হতে চাই তাহলে সেটা হবে বোকার স্বর্গে বাস করার মত। তিনি পিয়াজের মুল্য উর্ধোগতি থেকে নিম্নমুখি রাখার জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আড়তদার আপনারা যদি বাজার নির্ধারনের ক্ষেত্রে নিজেরা লাভবান হওয়ার চিন্তা করে সাধারন মানুষের গলায় চাকু মারতে চান সেটা কখন বরদাস্ত করা হবে না। পিয়াজের আকর্ষিক মুল্য বৃদ্ধিতে আপনাদের পরস্পর যোগশাজস রয়েছে। নিয়ম না মেনে নিজেদের মনগড়া চিন্তা নিয়ে আড়তদারী করার কোন সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন- এখন থেকে আড়তে উঠা মালগুলোর রেট ব্যবসায়ী বা কৃষকদের নাম এবং মোবাইল নম্বর লিখিত থাকতে হবে। আড়ত থেকে কেনা মাল খুচরা বাজারে একটি নির্ধারিত মুল্যে বিক্রি করতে হবে। অতিরিক্ত মুল্যে বিক্রিকারী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও বাজার কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রতিদিন সকালে পিয়াজের বাজার মনিটরিং করতে হবে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় পিয়াজের পাইকারী হাটগুলোতে বিশেষ নজরদারী রাখতে হবে। পিয়াজ মজুদদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি  জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পিয়াজের বাজার মনিটরিং ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক বলেন- ভোক্তাদের কষ্টে না ফেলে সহযোগিতা করতে হবে। ব্যবসায়ী নিয়ম ও সরকারী আইন মেনে চলতে হবে অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসন বিন্দুমাত্র কার্পন্যতা করবে না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন- পিয়াজ নিয়ে কোন রকমের ছলচাতুরী বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে মজুদখানায় অভিযান চালানো হবে। তিনি আড়ত এবং মজুদদারদের হুশিয়ারি করে বলেন- আড়তদারদের কারসাজি ধরতে প্রয়োজনে মোবাইল টেকিং করা হবে। তিনি আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের বাজার অস্থিরতা না করে স্বাভাবিক রাখার আহবান জানান।

কুষ্টিয়ায় দু’বছর পূর্তিতে এসপি এসএম তানভীর আরাফাত

দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাজনৈতিক উত্তাপ, রয়েছে দলে দলে বিভক্তি। ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত-বিএনপির উঁকিঝুঁকি তো আছেই। আবার মাঝে মধ্যে ঘটে বিচ্ছিন্ন কিছু খুনের ঘটনাসহ নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা। সর্বোপরি নব্বই দশকে মাথাচাড়া দেয়া চরমপন্থী সংগঠনের অস্তিত্বও ভেসে ওঠে কখনো কখনো। উলে¬খিত শব্দে যেকেউই বুঝবেন দৃশ্যপটটি আসলে কোন এলাকার। হ্যা বলছি কুষ্টিয়ার কথা। সাহিত্য ও সাংস্কৃতির রাজধানীখ্যাত যে জেলার প্রকৃতি এখন অনেকটাই শান্ত। যদিও এসবের নেপথ্যে রাজনৈতিক নেতাদের অবদান থাকলেও বাস্তবায়নে মুল কাজটি করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যার নেতৃত্বে জেলা পুলিশের অভিভাবক। সাম্প্রতিক সময়ের কথা যদি বলা হয় তাহলে বলতেই হয় কুষ্টিয়ার প্রকৃতি অনেকটাই শান্ত। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নেই, নেই ধারাবাহিক আইনশৃঙ্খলা অবনতির ঘটনা। মাঝে মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের উঁকিঁঝুঁকি বন্ধে সিদ্ধহস্ত পুলিশের। চরমপন্থা পন্থীদের আবাসন এখন জাদুঘরে। এমন পরিস্থিতিতে বাহবা পেতেই পারেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। তরুন সদালাপি এই পুলিশ সুপার কুষ্টিয়ায় দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই জেলার ২২লাখ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হন। ঘোষণা দেন  মাদকের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স নীতি। বাস্তবায়নও করেন তিনি। মাদক নির্মূলে সফল এই পুলিশ সুপার হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধারেও বেশ পারদর্শী। দু’বছর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উলে¬খযোগ্য হত্যাকান্ডের ঘটনা না ঘটলেও অধিকাংশ হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বিচার বিভাগের সাথে সমন্বয় করে মামলা জট কমাতেও তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। এতকিছুর পরও সবার ওপর উঠে আসে তার মানবিকতার অনন্য নজির। বৈশি^ক মহামারি করোনা মোকাবেলায় যখন গোটা দেশ বেসামাল তখন কুষ্টিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ঘুম হারাম। সব পুলিশ সদস্যকে মাঠে নামিয়ে নিজেও কাটিয়েছেন নির্ঘূম রাত। লক্ষ্য একটাই কুষ্টিয়াবাসীকে করোনামুক্ত রাখতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ তৈরী সেই সাথে কীভাবে ঘরবন্দি বেকার মানুষের মুখে আহার তুলে দেয়া যায় সেই চিন্তাও যেন তাঁর মাথায়। শেষ মেষ সফলও হয়েছেন তিনি। করোনা নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি প্রতিদিন অসংখ্য অসহায় মানুষের মুখে আহারের ব্যবস্থা করেন। মাঠে নামিয়েছেন স্ত্রী সন্তানদেরও। পরিবারের রান্না খাবারও তুলে দেন অসহায় মানুষের মুখে। এমন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার কর্মকান্ডে অবাক কুষ্টিয়ার ২২লাখ মানুষ। পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতের এমন মানবিকতায় অনেক জেলায় অনুসরন করে মানবকল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। কুষ্টিয়ার এই আদর্শবান মানবিক পুলিশ সুপারের এমন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরা অত্যন্ত কঠিন। এতদ্বসত্বেও দু’বছরের কিছু উলে¬খযোগ্য সাফল্যের কিছু বিষয় তুলে ধরার প্রয়াসমাত্র। মঙ্গলবার তিনি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে দু’বছর পুর্ণ করেন। ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন তিনি। অত্যন্ত মেধাবী এই পুলিশ সুপার ২২তম বিসিএস’এ প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান। সাফল্য ব্যর্থতার হিসেব নিকেষ কষতে অপছন্দ এসএম তানভীর আরাফাতের। তবে তাঁর ছোট বেলা থেকেই পুলিশ কর্মকর্তা হবার ভিষণ ছিল।

এ বিষয়ে এসএম তানভীর আরাফাত বলেন পুলিশে যোগদানের উদ্দেশ্য একটাই তা হচ্ছে দেশের জন্য কিছু করা। যেদেশ আমাকে লাল সবুজের পতাকা দিয়েছে সেই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করাই আমার লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই পুলিশে যোগদান। জীবন দিয়ে হলেও লাল সবুজের পতাকার সম্মান অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করব। এজন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ হাসিমুখে মেনে নিবো।

দু’বছরের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অনুভূতিও বেশ আবেগঘন। খুলনাতে জন্ম হলেও এই ডিভিশনের সন্তান হিসেবে কুষ্টিয়াতে চাকুরী করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন তিনি। কারন এই জেলার মাটি ও মানুষের গন্ধ তাঁকে বিমোহিত করে। মানুষের ভাষা, মানুষের কৃষ্টি কালচার সব কিছুই যেন অনুকুলে। আর তাইতো কুষ্টিয়ার প্রতি ভালোবাসাটাও একটু বেশিই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব শ্রেণিপেশার মানুষের সহায়তা তাঁকে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা, জনপ্রতিনিধিদের ইতিবাচক মনোভাব সর্বোপরী জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা এবং ভূমিকা তাঁর কাছে অনেক প্রেরণার। আর তাঁইতো অনেক কঠিন কাজ সহজেই সম্পাদন করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে। যদিও এই দু’বছর অনেক সাফল্যগাঁথা হলেও তার সবটুকুই তিনি কুষ্টিয়াবাসীকে উৎসর্গ করতে চান। আর ব্যর্থতার ভারটা নিজের কাঁধেই তুলে নিতে চান। বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ সব পদকপ্রাপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাশা যে সময়টুকু তিনি কুষ্টিয়াতে দায়িত্ব পালন করবেন তা যেন কুষ্টিয়ার মাটি ও মানুষের কল্যাণে হয় সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।

 

কুষ্টিয়ায় ভূ-সম্পত্তি জবরদখলের বিষয়ে তদন্ত ও মনিটরিং কমিটির জরুরি সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল হয়ে যাবে এটা সভ্য সমাজে হতে পারে না

জমি জালিয়াতির ঘটনা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের কমিটি

নিজ সংবাদ ॥ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ভূ-সম্পত্তি জবর দখলের বিষয়ে তদন্ত ও মনিটরিং জেলা কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন তার কার্যালয়ে এ সভা করেন। সেখানে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, সরকারি কৌশুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী, কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমানসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের নির্দেশে এ জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। তিনি নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন এই জমি জালিয়াতি বিষয়ে জেলায় যত রকম অভিযোগ আছে তা যেন গ্রহণ করা হয়। এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনকে প্রধান করে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত ও সরকারি কৌশুলি অনুপ কুমার নন্দীকে নিয়ে তিন সদস্য কমিটি ঘোষণা করা হয়। জমি জালিয়াতির কোন অভিযোগ পেলে দ্রুত এই কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, জেলার খোকসা উপজেলায় ৭০ ভাগ হিন্দু বাসিন্দা ভূমি দস্যুদের অত্যাচারে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এরকম অভিযোগ এই কমিটির কাছে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু অ্যাকশন দেখতে চান।

সরকারি কৌশুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী বলেন, জমি জবর দখল জেলায় দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। সরকারি জমিও দখল হয়ে যাচ্ছে। মোহিনী মিল এলাকা গ্রাস করে ফেলা হয়েছে।

পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, যাদের নাম বেরিয়ে আসছে তাদের সবাইকে ধরা হোক।

পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত তার বক্তব্যে আবারও বলেন, ‘সম্প্রতি সময়ে জমি জালিয়াতিতে যাদের নাম আসছে তদন্ত করে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সদরের সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ তাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় যে বা যার যত বড়ই ক্ষমতাধর হোন যেন কেউ ছাড় না পায়।’

জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল হয়ে যাবে এটা সভ্য সমাজে হতে পারে না। গণমাধ্যমে আসা খবর আমাদের চোখ কান খুলে দিয়েছে। প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধরকে ধরা হবে।’