সু চিকে’ সাখারভ পুরস্কার সম্প্রদায় থেকে বাদ দিলো

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চিকে ‘সাখারভ প্রাইজ কমিউনিটি’ থেকে বাদ দিয়েছে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট (ইপি)। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন সমর্থন করার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগে ১৯৯০ সালে সু চিকে সাখারভ পুরস্কার প্রদান করে ইপি। এটি ছিল মানবাধিকারের পক্ষে লড়াইরতদের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার। কিন্তু এখন আর এই পুরস্কার জয়ীদের কোনও অনুষ্ঠানে সু চি অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ইপি’র একটি সূত্র জানায়, পুরস্কারটি প্রত্যাহার সম্ভবপর না হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইপি’র সবচেয়ে শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা এটি। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা তাদের প্রতিবেদনে উপসংহার টেনেছেন, এই অভিযান গণহত্যার অভিপ্রায়ে পরিচালিত হয়েছে। মিয়ানমার এই গণহত্যা ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হাত থেকে দেশকে রক্ষায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) ডিসেম্বরে দেওয়া এক ভাষণে সু চি গণহত্যায় অভিযুক্ত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন জানান। ৩০ মিনিটের ভাষণে ৩ হাজার ৩৭৯টি শব্দ থাকলেও একবারও তিনি রোহিঙ্গা উচ্চারণ করেননি। সমালোচকরা বলছেন, সু চি’র এই প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পরিচয় ও অধিকার খর্বের অংশ।

 

খুলনা বিভাগের মধ্যে দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করায়

হক্কানীর মেয়েকে সম্মাননা দিলো ইয়থ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম

সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক হক্কানী দরবারের পরিচালক এম খালিদ হোসাইন সিপাহীর মেয়ে দাখিল পরীক্ষায়  বেশ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। দাখিল পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে নিশাত ফারহানা দীপা খুলনা বিভাগের মধ্যে স্থান দখল করায় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা দিয়েছে ইয়থ  ডেভেলপমেন্ট ফোরাম। শুক্রবার বিকালে কুষ্টিয়ার আইলচারা হক্কানী দরবারে সামাজিক সংগঠন ইয়থ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের পক্ষ থেকে এ ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার প্রদান করা হয়। সম্মাননা ক্রেষ্ট ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ইয়থ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের  চেয়ারম্যান আশিকুল ইসলাম চপল। উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক হক্কানী দরবারের পরিচালক এম খালিদ হোসাইন সিপাহী, হাজী শরীয়াতুল্লাহ একাডেমীর প্রধান শিক্ষক রিপন হোসেন, সাংবাদিক রাকিবুল ইসলামসহ অন্যান্যা অতিথিরা। উল্লেখ্য যে, নিশাত ফারহানা দীপা কুষ্টিয়া আফসার উদ্দিন গার্লস ফাযিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ গোল্ডেন পেয়েছেন। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে খুলনা বিভাগের মধ্যে ৪র্থ স্থান অধিকার করেছে। তিনি ঢাকা তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। সেখানে তিনি ভর্তিও হয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

রাশিয়া-চীন-ইরানের হ্যাকারদের নজরদারিতে ট্রাম্প-বাইডেন

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হ্যাকাররা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে বলে দাবি মার্কিন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশি হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই বলে জানায় মার্কিন এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানায়, ২০২০ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাশিয়া, চীন ও ইরানের হ্যাকাররা গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে। রুশ হ্যাকারদের একটি দল যুক্তরাষ্ট্রের ২শ’টির বেশি সংস্থাকে লক্ষ্য করে কাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠান রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটি পার্টির সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এই হ্যাকাররা ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নির্বাচনী প্রচারণায় তথ্য চুরি করেছিল বলেও জানানো হয়। এ বিষয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি থিয়া ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমরা  বড় একটি দল। সুতরাং এই ধরনের হামলা হতেই পারে। এর আগেও এই ধরনের হ্যাকিং এর শিকার হয়েছি।’ আর ডেমোক্র্যাট থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের নির্বাচনী অফিস থেকে বলছে, ‘যেহেতু নির্বাচনে প্রচারণায় নামা হয়েছে, যে কোন ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ চলতি বছরের ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনার অজুহাত দেখিয়ে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে তার দল রিপাবলিকান।

চার আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির ২৫ জনের মনোনয়নপত্র জমা

ঢাকা অফিস ॥ করোনা মহামারির মধ্যেও গতকাল শুক্রবার সকালে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সরব হয়ে ওঠে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকা। ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮, নওগাঁ-৬ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে ২৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী সকাল থেকে কর্মী-সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্রের মূল্যমান ১০ হাজার টাকা। ২৫ হাজার টাকা জামানতসহ প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা দেন। আজ শনিবার বিকেল ৫টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হবে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার। তফসিল অনুযায়ী ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে উপনির্বাচনে ভোট ১৭ অক্টোবর। ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল নির্বাচন কমিশন এখনো ঘোষণা করেনি। সকাল ৯টা থেকে ধানের শীষ, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি নিয়ে কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। রিজভী বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বক্তব্য শুধু এটাই, যে দুঃশাসন চলছে, ভয়ঙ্কর নাৎসিবাহিনীর শাসনের মধ্যে গণতন্ত্র প্রসারণের জন্য যেখানে আমরা যতটুকু সুযোগ পাব, সেটা ব্যবহার করব। বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, আমরা এর আগেও দেখেছি, নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন ও ভোটÑএগুলোকে জাদুঘরে পাঠানোর জন্য সরকার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। আমরা ১২ বছর নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করছি গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নেতা থেকে তৃণমূলের নেতা কারও ৫০ থেকে ২৫০-৩০০ মামলা নিয়ে এ সংগ্রামে অংশ নিচ্ছে। আমরা এসব উপনির্বাচনকে সংগ্রামের অংশ হিসেবে নিয়েছি। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ঢাকা-১৮ আসনকে (উত্তরা) বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এখানে যত উন্নয়ন হয়েছে সব বিএনপির সময়ে হয়েছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে, ইনশা আল্লাহ এ আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করব। আমি বিশ্বাস করি দলের মনোনয়ন পেলে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। নওগাঁ-৬ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া আনোয়ার হোসেন বুলু বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অবদান আছে আমার। আশা করি এই উপনির্বাচনে আত্রাই-রাণীনগর থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিজয়ের সংগ্রাম শুরু হবে আগামী নির্বাচনে আমার বিজয়ের মধ্য দিয়েই। ২০০৮ সালে নির্বাচনের পরে দুটি থানা, ১৬টি ইউনিয়ন, ১৪৪টি ওয়ার্ড, ৪৫০টি গ্রামে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের শক্তিশালী সংগঠন আছে এবং এ সংগঠনের নেতৃত্ব আমি দিয়েছি। ইনশা আল্লাহ দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আগামী দিনে নওগাঁ-৬ আসন আমি উপহার দিতে পারব। চারটি আসনের মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের জন্য আলহাজ সালাহউদ্দিন আহমেদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, নবী উল্লাহ নবী, মো. জুম্মন মিয়া ও আকবর হোসেন নান্টু, ঢাকা-১৮ আসনের জন্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এম কফিল উদ্দিন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ইসমাইল হোসেন, বাহাউদ্দিন সাদি, মোস্তফা জামান সেগুন, মো. আখতার হোসেন, আব্বাস উদ্দিন, নওগাঁ-৬ আসনে আনোয়ার হোসেন বুলু, আবদুস শুকুর, এম এম ফারুক জেমস, মাহমুদুল আরেফিন স্বপন, ইসহাক আলী, আতিকুর রহমান রতন মোল্লা, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ রফিকুল আলম রফিক এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বি এম তাহজিবুল ইসলাম, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা ও রবিউল হাসান মনোনয়নপত্র জমা দেন। গত ৯ জুলাই সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে ঢাকা-১৮ আসন এবং গত ৬ মে বার্ধক্যজনিত কারণে সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা ইন্তেকাল করলে ঢাকা-৫ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা মহানগরের ডেমরা, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন গঠিত। এ ছাড়া গত ১৩ জুন মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জ-১ আসনটি ও গত ২৭ জুলাই আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে নওগাঁ-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ ধারা অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তবে কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আরও ৯০ দিন সময় পাবে নির্বাচন কমিশন।

মসজিদে বিস্ফোরণ

চিকিতসাধীন পাঁচ জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক

ঢাকা অফিস ॥ গত ৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে আহত হন প্রায় ৪০ জন। এর মধ্যে ৩৭ জনকে আনা হয় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড পলাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১ জন, একজন হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন। বাকি পাঁচ জন ইন্সটিটিউটের আইসিইউয়ে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের পাঁচ জনের কেউ শঙ্কামুক্ত না বলে জানান ইন্সটিটিউটের সহকারী পরিচালক ডা. হোসাইন ইমাম। প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে। ফরজ নামাজের মোনাজাত শেষে অনেকে সুন্নাত ও অন্য নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় মসজিদের ভেতরে প্রায় ৪০ জন মুসল্লি ছিলেন। বিস্ফোরণে তাদের প্রায় সবাই দগ্ধ হন। এদের ৩৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। শুরু থেকেই সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল বলে জানান চিকিৎসকরা। গতকাল শুক্রবার চিকিৎসাধীনদের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. হোসাইন ইমাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৩৭ জনের মধ্যে মাত্র একজনকে আমরা হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিতে পেরেছি। বাকি ৩৬ জনের মধ্যে ৩১ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। আর পাঁচ জন আইসিইউতে আছেন। তাদের কেউ শঙ্কামুক্ত নন, সবার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। ডা. হোসাইন ইমাম জানান, ৫০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া ৫৫ বছরের শেখ ফরিদ, ৩০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া ২৪ বছরের কেনান হোসেন বাপ্পী, ২৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া ৩৯ বছরের আমজাদ, ২২ শতাংশ পুড়ে যাওয়া ১৮ বছরের সিফাত এবং ৪৭ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নিয়ে ৪০ বছরের আবদুল আজিজ আইসিইউতে রয়েছেন। আর এই পাঁচ জনের মধ্যে শেখ ফরিদ এবং আবদুল আজিজের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক। পুলিশের মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর: নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় ফতুল্লা থানায় দায়ের করা পুলিশের মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সিআইডি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল বিস্ফোরণ সংঘটিত হওয়া মসজিদটি পরিদর্শন করেছে। এ সময় তারা স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক বাবুল হোসেন বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ফতুল্লা থানা পুলিশের দায়েরকৃত মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাবাসাদ করেছি। প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে অপরাধী চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনব। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার শুরু থেকেই আমরা ছায়া তদন্ত করেছি। বেশ কয়েকটি কমিটিও কিন্তু তদন্তে কাজ করছে। তদন্তে অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

দুর্যোগে জনগণের পাশে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ নেই – তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্য প্রতিমন্ত্রী চিকিৎসক মুরাদ হাসান বলেন, দুর্যোগে জনগণের পাশে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কোনো দলের লোক পাশে নেই। দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আওয়ামী লীগ সব সময় অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে আছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যত দিন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যা থাকবে, তত দিন সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গতকাল শুক্রবার সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে এ কথা বলেন তিনি। জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে এক হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিরতণ করা হয়। তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক করোনা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া খাদ্যসামগ্রী আমরা বিতরণ করেছি। সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনা মূল্যে সার, বীজ, ধানের চারাসহ বিভিন্ন উপকরণ বিনা মূল্যে বিতরণ করেছে। এই দুর্যোগে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের লোকদের জনগণের পাশে দেখা যায়নি। এসব কারণেই জনগণ তাদের সেবা করার দায়িত্ব দেন বলে তিনি বলেন। জামালপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহসভাপতি আশরাফ হোসেন তরফদারের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন পাঠান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন আহমেদ, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাসুম রেজা রহিম, কার্যকরী সদস্য সোহরাব হোসেন বাবুল, জেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান মুনছুর রহমান প্রমুখ।

৯/১১: সেই ভবনটির কাছে এলেই বিমান ভূপাতিত করবে রাডার

ঢাকা অফিস ॥ ১৯ বছর আগের এই দিনে আমেরিকানদের জীবনে নেমে এসেছিল ঘোর অন্ধকার। ১৯ জন তালেবান জঙ্গির হামলায় নিহত হন যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৯৭৭ জন মানুষ। চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে তালেবানরা। এর ভেতর তিনটি বিমান দিয়ে তারা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগনে হামলা চালায়। বাকি বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। সব মিলিয়ে এই হামলায় নিহত হন ২ হাজার ৯৭৭ জন মানুষ। ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ঘটনার দিনে সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান ফ্লাইট-১১ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আছড়ে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় কেউ বুঝতে পারেননি যে এটা হামলা ছিল নাকি দুর্ঘটনা। সকাল ৯টা ৩ মিনিটে আবারো ইউনাইটেড ফ্লাইট-১৭৫ সাউথ টাওয়ারে আছড়ে পড়ে। তখন আর কারও বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে এটা হামলা। তখন বেশকিছু গণমাধ্যম এই হামলাটি সরাসরি সম্প্রচার করে। দুটি বিমানেই জ¦ালানি ভর্তি থাকায় সেগুলো বিস্ফোরিত হয় এবং ভবন দুটিতেও আগুন ধরে যায়। এ সময় ভবনে থাকা অনেক মানুষ লাফিয়ে পড়েন। অন্তত ২০০ জন ভবন দুটি থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আমেরিকান ফ্লাইট-৭৭ পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সুরক্ষিত এ জায়গাটিতে হামলার পর স্তব্ধ হয়ে পড়ে সবাই। পেন্টাগন হামলার পাঁচ মিনিট পর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সব বিমানকে কাছাকাছি এয়ারপোর্টে অবতরণ করতে বলে। সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে সাউথ টাওয়ার ধ্বসে পড়ে। ভবনটি ধসে পড়ায় আশপাশে ছাই এবং ধুলায় ছেয়ে যায়। এ কারণে এলাকাটি থেকে ভয়ে পালানো মানুষদের চেনা যাচ্ছিল না। সকাল ১০টা ৩ মিনিটে হাইজ্যাক হওয়া ইউনাইটেড ফ্লাইট-৯৩ পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এটি দিয়েও নাকি হামলা হওয়ার কথা ছিল তবে যাত্রীরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাওয়ায় একপর্যায়ে এটি বিধ্বস্ত হয়। সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে নর্থ টাওয়ার ধসে পড়ে। মাত্র ১২ সেকেন্ডে ধ্বসে পড়ে ভবনটি। হামলার পর পরই এলাকাটিতে ৩৪৩ জন দমকল কর্মী ও প্যারামেডিকস পৌঁছে যায়। তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তা। নাইন-ইলেভেন হামলার পর ২০ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসে এক ভাষণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, কিন্তু এখানেই তা শেষ হবে না। সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পতনের আগে এ লড়াই শেষ হবে না।’ এরই অংশ হিসেবে ২০০১ সালের শেষদিকে আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় মার্কিন সেনাবাহিনী। আফগানিস্তানে যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাসে দীর্ঘ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান ও কথিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদাকে নির্মূলে এবং ৯/১১ হামলার কথিত নকশাকারী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার এই যুদ্ধে সহযোগী হিসেবে অংশ নেয় ইউরোপীয় সামরিক জোট ন্যাটো। এতে সে সময় মার্কিনিরাও ব্যাপকভাবে সমর্থন জোগায়। এই ভয়াবহ ন্যাক্কারজনক হামলার পর আবারও নিজ অবস্থানে ফেরার চেষ্টা করেছে ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’। এবার একটি ভবনই সেখানে দাঁড়িয়েছে ফের আকাশ ছুঁয়ে দিতে। বিশাল বাজেট হাতে নিয়ে এর নির্মাণ শুরু হয় ২০০৬ সালের ২৭ এপ্রিল। প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয় এই ভবনটি নির্মাণে। এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দায় কাজ অনেকটাই থমকে গিয়েছিল, তবে নির্দিষ্ট সময়েই এর নির্মাণ শেষ হয়। ফ্রিডম টাওয়ারের গর্ব বুকে রেখেই এটি নির্মিত হয়েছে। এই টাওয়ারটি আমেরিকার সর্বোচ্চ উঁচু ভবন। প্রায় ৫টি বেইজমেন্টসহ এর ফ্লোর সংখ্যা ১০৪টি। পুরোটা মেঝে থাকছে ৩৫ লাখ ১২শ ৭৪ বর্গফুটের। শুধু উঁচুই নয়, বিশালাকার এই ভবনটি ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কোম্পানির অফিস হিসেবে। উল্লেখ্য, যে কোনো বিমান এর দিকে ছুটে এলেই শক্তিশালী রাডারের নিখুঁত গণনায় সেটিকে ভূপাতিত করার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা এতে রাখা হয়েছে। আফগানিস্তানের পর ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসবাদের

সুষ্ঠু হলে সব নির্বাচনেই বিএনপি বিজয়ী হবে – হারুন

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে একটা নির্বাচনেও আপনারা জিততে পারবেন না। সব নির্বাচনেই বিএনপি বিজয়ী হবে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। হারুন বলেন, বিএনপিকে মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা কোনো সময় আওয়ামী লীগের ছিল না, বর্তমানেও নেই। তাই তারা বিএনপির বিরুদ্ধে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আরও জানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জিততে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ একটি নির্বাচন জিততে পারবে না। এই দুর্যোগকালীন সময়েও সবগুলো নির্বাচনেই বিএনপি বিজয়ী হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেখেছেন। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এমন কোনো দুর্নীতি নেই যা তিনি করেননি। তাই সাধারণ জনগণ তাকে অপসরণের দাবি তুলেছে। করোনাকালীন সময়ে আমদানিকৃত স্বাস্থ্য সামগ্রীতে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। দেশের প্রতিবাদী মানুষের দাবি উঠেছে রাজধানীতে একটি বিশেষ মিউজিয়াম বানিয়ে সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে রাখা হোক। জাতীয় নেতাদের আমরা যেভাবে শ্রদ্ধা করি সেভাবে মিউজিয়ামে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেখব আর বলব এই আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতকে শুধু ধ্বংস করেনি, খাদের কিনারে ফেলে দিয়েছেন। হারুন বলেন, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণে ৩১ জন মারা গেছেন। আরও অনেকেই বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিন্তা করে দেখেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন মসজিদ বৈধ না অবৈধ। দেশ আজ অবৈধ সরকার চেপে বসে আছে। সেটি নিয়ে পার্লামেন্টে কথা বলেন। মসজিদে মানুষ এবাদত করতে যায়। সেই মসজিদ বৈধ না অবৈধ তা দেখতে বলেন। কিন্তু সেই মসজিদের জায়গা যারা দান করেছেন তারা বলেছেন তাদের নিজস্ব জমি মসজিদের নামে দান করেছে। গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবেদ রেজা, বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি ফরিদ উদ্দিন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

 

করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী

করোনা মোকাবেলায় কঠিন এক বাস্তবতার সামনে দাড়িয়ে ষোল  কোটি মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবনকে বিপন্ন করে মানবিক হৃদয় নিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক দূরত্ব এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের পাশাপাশি যশোর অঞ্চলের কর্মহীন গরিব ও দুস্থদের বাঁচিয়ে রাখতে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। কখনও কখনও টহলের গাড়িতে থাকা ত্রাণসামগ্রী দারিদ্র্যে জর্জরিত মানুষদের  দেখে গাড়ী থামিয়ে সড়কেই তুলে  দেয়া হচ্ছে। এ সময় বিনা প্রয়োজনে কাউকে অযথা ঘোরাফেরা না করার জন্য অনুরোধ করেন সেনা সদস্যরা। পাশাপাশি তারা বেশি বেশি হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন। এছাড়া যশোর সেনানিবাসের মেডিক্যাল টিম কর্তৃক ইতোমধ্যে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবা এবং বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গণপরিবহন মনিটরিং, করোনা সংক্রমিত এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল জোরদারসহ নানামূখী জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে  খুলনার কয়রার উপকূলীয় এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বাঁধ নির্মানের কাজ। এর ফলে উপকূলবর্তী মানুষের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে। এছাড়াও বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বন্যাকবলিত পানিবন্দী শত শত অসহায় মানুষের মাঝে সুপেয় পানি ও ত্রান সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আলমডাঙ্গা হারদী লক্ষিপুর জামে মসজিদে নতুন কমিটি গঠন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥  আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদি ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের জামে মসজিদ নিয়ে বিরোধ  থাকায় চুয়াডাঙ্গা  জেলার মানবিক পুলিশ সুপার হিসেবে খ্যাত জাহিদুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবীর গতকাল জুম্মার নামাজ  লক্ষ্মীপুর জামে মসজিদে  আদায় করেন এবং লক্ষীপুর  জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে সকলকে বিরোধ ভুলে সকলের মতামত ক্রমে একটি কমিটি গঠন করেন। মসজিদে থাকা সকল মুসল্লীএই কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং লক্ষীপুর গ্রামের সকল মানুষ আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবিরকে ধন্যবাদ জানান। আলমডাঙ্গার লক্ষিপুর, গতকাল শুক্রবারে জুম্মার নামাজের আগে দীর্ঘদিন পরে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা থানা ইনচার্জ মোঃ আলমগীর কবির উপস্থিতে হ্যা না ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়  মোঃ ওমর মালিথা, সাধারণ সম্পাদক আঃ মজিদ মন্ডল, ক্যাশিয়ার  মোঃ মারফত মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান আলী, সহসভাপতি কাটু শেখ, হানু মন্ডল, কলিন মিয়া, সহ সম্পাদক, তাজুল ইসলাম ও পিন্টু মিয়া, অর্থ সম্পাদক জুয়েল মিয়া, ধর্ম সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন। এই কমিটিকে সকল মুসুল্লিগন অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মেহেরপুরে একটু পাশে দাঁড়াই সংগঠনের অভিষেক অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ “মানবতার জয় হোক, অসহায়ত্ব দুর হোক” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মেহেরপুরে একটু পাশে দাঁড়াই সংগঠনের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মেহেরপুর হোটেল আটলান্টিকায় গাংনী উপজেলা শাখার কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেন, একটু পাশে দাঁড়ায়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। একটু পাশে দাঁড়াই সংগঠনের মেহেরপুর জেলার সমন্বয়ক পাভেল পারভেজ তপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান সুমন তার বক্তব্য বলেন- প্রতিদিন অন্তত একটি করে ভালো কাজ করবো আমরা। বিশেষ করে সমাজের ছিন্নমুল, পিছিয়ে পড়া অসহায় ও পথ শিশুদের নিয়ে বেশি বেশি কাজ করতে চাই। যাতে তারা সমাজে আর পাঁচজন মানুষের মত বেঁচে থাকতে পারে। একটু পাশে দাঁড়াই সংগঠনের সদস্যদের প্রতি অহবান করে বলেন আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহযোগীতায় বদলে যেতে পারে সমাজের অসহায় মানুষের জীবন। অভিষেক অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ভয়েজ অফ কুষ্টিয়া প্রকাশক ও পরিচালক এবং সগঠনটির আজীবন সদস্য এম শাহিন আহমেদ জুয়েল, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন  একটু পাশে দাঁড়াই সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি প্রশান্ত কুমার দাস, উপদেষ্টা সদস্য কাজি জুরাইশ হোসেন, মোঃ ওয়াজেদ আলী খান, তরিকুল ইসলাম শেখ সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। এসময় একটু পাশে দাঁড়াই গাংনী উপজেলা শাখায় আব্দুল্লাহ আল হাসান শাওনকে কমিটির সভাপতি করে আংশিক ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে।  এই কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষনা দেওয়া হবে। সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আহসান হাবিব, সহ-সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বকুল,সাধারন সম্পাদক রেজওয়ানুল হক ইমন, সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক হাসিব আল শিপন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন সুমন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাবিব শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল হোসাইন। একটু পাশে দাঁড়াই এর নবগঠিত কমিটির গাংনী উপজেলার শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাসান শাওন বলেন, আজ আমরা গাংনীর একঝাঁক মানবিক তরুনদের নিয়ে এক প্লাটফর্মে কাজ করতে যাচ্ছি, একটু পাশে দাঁড়ায় গাংনী উপজেলা শাখার প্রতিটি সদস্য আপনারা জানেন যে, এটা একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, তাই দলমতের উর্ধ্বে থেকে আসুন গাংনী উপজেলার প্রতিটি গ্রামে আমাদের সেবা পৌছে দিই। আমাদের অঙ্গিকার হোক সমাজের যে কোন সমস্যা এবং ছিন্নমুল খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

সৌদি যুবরাজকে আমিই রক্ষা করেছি – ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডের পর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে রক্ষা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুসন্ধানী সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের প্রকাশিতব্য নতুন বইয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বইটির একটি কপি হাতে পেয়েছে বিজনেস ইনসাইডার। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক খবরে জানিয়েছে, বইটিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দাবি করেন খাশোগি হত্যাকান্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া থেকে সৌদি যুবরাজকে তিনিই রক্ষা করেন। গত বছর জি২০ সম্মেলনে ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিজের বিয়ের কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিহত হন। অভিযোগ ওঠে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে সৌদি কর্মকর্তারা তাকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে। বিশ্বজুড়ে এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা শুরু হয়। তাতে শামিল হয় যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। সেই পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কংগ্রেসের হাত থেকে তাকে (সৌদি যুবরাজ) রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলাম। আমি তাদের থামাতে সক্ষম হই।’ ট্রাম্প বলেন, সৌদি যুবরাজ খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিশ্বাস করেন না তিনি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে দেখা গেছে হত্যাকা-টির নির্দেশনা সৌদি যুবরাজই দিয়েছিলেন। খাশোগি হত্যাকান্ডের পর উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে আটশ’ কোটি ডলারের ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন করেন। ওই অস্ত্র বিক্রি ঠেকাতে কংগ্রেস তিনটি প্রস্তাব পাস করলেও সেগুলোতে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রকাশিতব্য বইটির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৮টি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বব উডওয়ার্ড। তাকে করা ট্রাম্পের কিছু বক্তব্যের অডিও রেকর্ড বুধবার প্রকাশ হয়ে পড়ে। এর জেরে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বব উডওয়ার্ড তার বইতে লিখেছেন, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে যোগ দিয়ে ফিরে আসার কয়েক দিনের মধ্যে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি তাকে ডেকে পাঠান ট্রাম্প। ওই সময়ের আলোচনায় খাশোগির নৃশংস হত্যাকা- নিয়ে প্রেসিডেন্টকে চাপ দেন উডওয়ার্ড। সৌদি এজেন্টদের একটি দল ইস্তানবুল কনস্যুলেটে জামাল খাশোগিকে হত্যা করে তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে। ওই কনস্যুলেটের এক কর্মী তুরস্কের আদালতে গত ৩ জুলাই জানিয়েছেন, খাশোগি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের একঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তাকে চুলা জ¦ালাতে বলা হয়। তুর্কি আদালতে সৌদি আরবের ২০ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তাদের বিচারকাজ চলছে। এদিকে গত সোমবার সৌদি আরবের একটি আদালত খাশোগি হত্যাকা-ে পাঁচ জনের মৃত্যুদ-ের রায় বদলে দিয়েছে।

 

ভেড়ামারার ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার ও ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ওয়াহিদ আহমেদ উজ্জল এর পিতা মরহুম আলহাজ্ব ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদের  সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ২০১৩ সালের এই দিনে তিনি ভেড়ামারার জি.কে. রোডস্থ নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরন করেন। মরহুমের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে  ভেড়ামারার জি.কে. ২ নং কলোনী জামে মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চিকিৎসক ছিলেন। অবসর গ্রহনের পর তিনি সোনালী ব্যাংক ভেড়ামারা পাওয়ার  ষ্টেশন শাখার চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেন। গরীব-অসহায়দের ডাক্তার হিসেবে এলাকায় তিনি পরিচিত ছিলেন।

মাদক সেবীদের দৌরাত্বে অতিষ্ট এলাকাবাসী

দৌলতপুরে জয়ভোগা গ্রামে চলছে অবাধে মাদক ব্যবসা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের জয়ভোগা গ্রামে চলছে অবাধে মাদক ব্যবসা। আর এসব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের প্রকাশ্য অবাঁধ বিচরণে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। কেউ কিছু বললে তাদের ওপর নেমে আসে খড়গ। এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, উপজেলার আল্লারদর্গা বাজার সংলগ্ন জয়ভোগা গ্রামে দিনরাত সবসময় চলে মাদক ব্যবসায়ীদের অবাধে মাদক ব্যবসা। মাদক সেবীদের নিরাপদ স্থান হওয়ায় নির্বিঘেœ চলে তাদের ফেনসিডিল, ইয়াবা, টাফেনটা, গাঁজা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবনের কাজ। তবে মাদক সেবীদের আনাগোনা বেশী লক্ষ্য করা যায় বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। রাত যত বাড়ে মাদক সেবীদের জন্য জয়ভোগা গ্রাম পরিণত হয় অভয়ারন্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকে জানিয়েছেন, জয়ভোগ গ্রামের মৃত কালার ছেলে টগর আলী, আছান আলী, কাদের আলীর ছেলে আতের আলী, আছান আলীর ছেলে সোহাগ, মৃত সাদু মন্ডলের ছেলে সাঈদ, মৃত মাথু মন্ডলের ছেলে মস্তো মন্ডল ওরফে মস্ত, মৃত খোদা বকসের ছেলে রফিকুল ও রফিকুলের ছেলে রুহুল দীর্ঘ দিন ধরে জয়ভোগা প্রাইমারী স্কুলপাড়া, জামে মসজিদ পাড়া ও আনিকুলের মাছের খামার এলাকায় প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরণের মাদক বিক্রয় করে থাকে। যা এলাকায় মাদকের হাট নামে পরিচিতি রয়েছে। ওই এলাকার তালেবের দোকানসহ বেশ কিছু দোকানপাটেও চলে মাদকের ব্যবসা। আর ওইসব দোকান থেকে দুর দুরান্তের আসা বিভিন্ন মাদক সেবী ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইন সেবন ও ক্রয় করে থাকে। তবে এসব মাদক বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীরা ইদানিং কৌশল পরিবর্তন করে জয়ভোগা গ্রামের বাবলু কশাইয়ের বাড়ির ছাদে ও কামালের বাড়ির ভেতরে মাদক বিক্রয়ের নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এছাড়াও করোনার কারনে ওই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেখানকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতেও ইয়াবা তুলে দিয়ে তাদের মাধ্যমে করা হচ্ছে মাদক ব্যবসা। আর এসব মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে থকেন জয়ভোগা গ্রামের সরকারী দলের প্রভাবশালী এক মাষ্টার। ওই মাষ্টারের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা অবাঁধে মাদক ব্যবসা চালালে এলাকার সাধারন মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একজন সচেতন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে বলেও অজ্ঞাত কারনে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

তাই বন্ধও হচ্ছে না তাদের অবাধ মাদক ব্যবসা। এমনকি দৌলতপুর থানার এস আই সুব্রত ওই এলাকায় অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ওইসব মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা অপমানিত হয়েছেন এমন অভিযোগও রয়েছে। তাই জয়ভোগা গ্রামের এসব মাদকের হাট বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।

জয়ভোগা গ্রামের মাদক ব্যবসা বন্ধে ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ওসি নিশিকান্ত সরকার বলেন, শুনলাম। এমন কোন অভিযোগ পাইনি এবং জানাও ছিল না। এখন জানলাম, অভিযান চালানো হবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আ. লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলে দেওয়া ক্ষমতাবলে সিদ্দিকুর রহমানকে এই পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৯মবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। এর কয়েকদিন পর ২৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পদ শূন্য থাকে। শুন্য পদগুলোর মধ্যে ছিল শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদকের পদটিও।

 

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরাতে জনগণের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিদেশে পলাতক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। একইসঙ্গে মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর অন্তত একজন খুনির রায় কার্যকরের আশাও করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জনতার প্রত্যাশা আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। সভাপতিত্ব করেন জনতার প্রত্যাশার সভাপতি এম এ করিম। ড. মোমেন বলেন, বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আমি, স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী একসঙ্গে কাজ করছি। সরকারিভাবে এসব প্রচেষ্টার পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতাও আমাদের লাগবে। আমরা যদি ১৬ ডিসেম্বরের আগে লাখ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সরকারের কাছে দিতে পারি তাহলে খুনি রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ আরও সুগম হবে। তিনি বলেন, রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা অনেকটাই অগ্রসর হয়েছি। সে মিথ্য তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রান্ট হয়েছে। আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ইমিগ্রেন্ট রিভিউ হচ্ছে। আশা করছি, তাকে মুজিববর্ষে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে পারবো। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, করোনার ভ্যাকসিন যেখান থেকেই পাওয়া যায়, তা আনা হবে। দেশের মঙ্গলের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী বা পাকিস্তানের জাতির জনক জিন্নাহ কংগ্রেস বা মুসলিম লীগ সৃষ্টি করেননি। তারা সেখানে যোগ দিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু এখান থেকে ভিন্ন। তিনি ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনেছেন। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন। বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া বাংলাদেশ চিন্তা করা যায় না। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান খান, কৃষক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মুক্তিযাদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাদেক খান, জাতীয় মুক্তিযাদ্ধা সমন্বয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন প্রমুখ।

দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ পর্যাপ্ত – খাদ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। দেশে কোনো খাদ্যের সংকট নেই। এ বছর পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়েছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী খাদ্য মজুদ ও কৃত্রিম সংকট করে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘ডিজিটাল রাইস প্রকিউরমেন্ট অ্যাপস’ এর মাধ্যমে খুলনা জেলায় শতভাগ চাল প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমের সমাপনী গতকাল শুক্রবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা প্রান্ত থেকে জুম অ্যাপের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, রাইস মিল মালিকরা করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদপ্তরসহ এর সকল দপ্তরসমূহ অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। ভর্তুকি দেওয়াসহ নানামুখী পদক্ষেপের কারণে দেশ কৃষিতে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে বিদেশেও রপ্তানি করছে। জুম অ্যাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ এবং খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। জুম অ্যাপে যুক্ত ছিলেন খুলনার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ তানভীর রহমান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, জেলা রাইস মিলস মালিক সমিতির সভাপতি মুহা. মুস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ বক্তব্য দেন। জুম অ্যাপে যুক্ত ছিলেন খুলনার সকল উপজেলার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

আজ মডেল থানায় উভয় পক্ষের বৈঠক

হাউজিং এফ ব্লকের প্লটের দক্ষিণে বালিভরাট করে জায়গা দখলের পাঁয়তারা

নিজ সংবাদ ॥ দীর্ঘদিন থেকে একটি চক্র কুষ্টিয়া শহরের উপ-শহর হাউজিং এফ ব্লকের প্লটের দক্ষিণ পাশের জলাশয়টি মালিকাধীন জমি দাবী করে বালি ভরাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে তা দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে শালিস-মিমাংসা করেও প্লটে বসবাসকারীরা কোন সুরহা করতে পারেনি। বরং দিনের পর দিন তারা জিম্মি হয়ে পড়েছে দখলকারীদের কাছে। আজ অভিযোগের বিবাদ্য বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এক বৈঠকে বসার সিন্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। জানা যায়, ২০১৭ সালে ব্যাংকার রেজাউল করিম রেজা, মোঃ রতন আলী, কাশমীরা খাতুন, আঃ মতিন ও এমদাদুল হকসহ এফ ব্লকের ৫/১’র ৪২৯ থেকে ৪৩৫ নং পর্যন্ত ৭টি প্লট ক্রয় করে। এখানে প্রতিটি প্লটের সামনে গড়ে ১৫ ফিট করে প্রায় ৬০ ফিট লম্বা একটি জায়গা পড়ে আছে। জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালা অনুযায়ী প্লটের সামনে অতিরিক্ত জায়গা পেছনে যিনি প্লটের মালিক তিনিই হাউজিং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিধিমোতাবেক বরাদ্ধ নেবেন এবং তা ভোগদখল করবেন। সম্প্রতি কুমারখালী উপজেলার জোতপাড়ার গোবিন্দঘোষের ছেলে স্বপন ঘোষ, সফর উদ্দিন ওরফে সান্টু, আলী রেজা রুমন ও সাব্বির হাসান গংরা উক্ত প্লটের বাসিন্দাদের জিম্মি করে মালিকাধীন জমি দাবী করে জোরপুর্বক বালি ভরাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে। এতে করে প্লটের বাসিন্দারা নানা দুর্ভোগের মধ্যে পতিত হয়েছে। এমনকি তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়ায় নানা সমস্যায় পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী প্লটের বাসিন্দাগণ গত ৪ জুন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কুষ্টিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তিতে হাউজিং কর্তৃপক্ষ উক্ত অভিযোগটি আশু ব্যবস্থা চেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় প্রেরণ করে। এর ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার এস আই আতিকুর রহমানের নিকট বিষয়টি তদন্তপুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর প্রেক্ষিতে আজ ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের সমন্বয়ে বিবাদ্য বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের শুনানীর দিন ধার্য করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, হাউজিং এফ প্লটে প্লট কেনার পর থেকে আমরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি। আশপাশের প্লটে এখনও বাসস্থান নির্মাণ না হওয়ায় অনেকটা অ-নিরাপদ হয়ে পড়েছি। তার উপর প্লটের সামনের জায়গায় যদি অন্যকেউ স্থাপনা নির্মাণ ও বা চেষ্টা চালায় তাতে ভবিষ্যতে আমাদের শান্তিপুর্ণ বসবাসে দারুন দুর্ভোগে পড়তে হবে বলে তারা আশংকা করছেন। এ ব্যাপারে আমরা স্থানীয় ভাবে বহুবার শালিস-বৈঠক করেছি কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। দখলকারীরা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এন এইএইচ প্লার অতিক্রম করে  বালি ভরাট করে চলেছে। তাতে কেউ কোন বাধা দিচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও কয়েকজন জানান, প্লটের দক্ষিণে মেডিকেল কলেজ এবং ঢাকা-রাজবাড়ী সড়ক। এর মাঝে লম্বা জলাশয় রেলওয়ের পতিত জমি বলে রেকর্ড মর্মে জানা যায়। উক্ত জমি কিভাবে মালিকাধীন জমি হলো তা কারো বোধগম্য নয়। অথচ দীর্ঘদিন থেকে উক্ত দখলকারীরা এলাকাবাসীকে এক প্রকার জিম্মি করে কখনও বালি ভরাট, কখনও স্থাপনা নির্মাণ করে জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী প্লটের বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মানচিত্র থেকে রোহিঙ্গাদের গ্রাম মুছে ফেলেছে মিয়ানমার

ঢাকা অফিস ॥ তিন বছর আগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রাম কান কিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুরো গ্রাম বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত বছর দেশটির সরকারি মানচিত্র থেকেও গ্রামটিকে মুছে ফেলা হয়েছে। জাতিসংঘের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নাফ নদী থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে কান কিয়া গ্রামে কয়েকশ’ মানুষের বাস ছিল। ২০১৭ সালে রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে মিয়ানমারের সেনা অভিযানের সময় কান কিয়াতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই সময় কান কিয়াসহ রাখাইন থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই অভিযানকে সেনাবাহিনী সন্ত্রাস দমনের অভিযান বললেও জাতিসংঘ একে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে। এক সময় কান কিয়া গ্রামটি যেখানে ছিল সেখানে এখন ডজনের বেশি সরকারি ও সামরিক ভবন গড়ে উঠেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ওই এলাকার ছবিতে পুলিশ ঘাঁটির জন্য নির্মাণ করা আঁকাবাঁকা বেড়াও দেখতে পাওয়া যায়। ‘গুগল আর্থে’ এখন ওই ছবিগুলো দেখতে পাওয়া যায়। ‘প্ল্যানেট ল্যাব’ থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছেও কয়েকটি ছবি পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই গ্রামটিতে আগে থেকেই বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। মিয়ানমারে জাতিসংঘের ‘ম্যাপিং ইউনিট’ ২০২০ সালে দেশটির নতুন মানচিত্র তৈরি করেছে। মিয়ানমারের সরকারি মানচিত্রের ভিত্তিতে এটি তৈরি করা হয়েছে। নতুন মানচিত্রে গুঁড়িয়ে ফেলা কান কিয়া গ্রামের নাম আর নেই। বরং ওই জায়গাটিকে এখন কাছের মংডু শহরের বর্ধিত অংশ বলা হচ্ছে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০১৭ সালের অভিযানের সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কান কিয়াসহ অন্তত ৪০০ গ্রাম ধ্বংস করেছে। ধ্বংস করা গ্রামগুলোর মধ্যে অন্তত এক ডজন গ্রামের নাম এখন মানচিত্র থেকেও মুছে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নেতা ও গ্রামটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিক বলেন, তারা চায় আমরা যেন আর ফিরে না যাই। রাখাইন রাজ্যের পুর্নগঠনের কাজ দেখভাল করছে মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। গ্রামের নাম মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার কারণ এবং কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা হবে সে বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে তারা এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ ভাগ কাদের

ঢাকা অফিস ॥ পদ্মাসেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ ভাগেরও বেশি এবং মূল সেতুর প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার পদ্মাসেতু প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন ওবায়দুল কাদের। এ পর্যন্ত মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩১টি বসানো হয়েছে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পদ্মাসেতু ৪ হাজার ৬৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। ৪২টি পিয়ারের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নদী শাসনের কাজ প্রায় ৮৪ ভাগ শেষ হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজার কাজও শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা হতে মাওয়া এবং পাচ্চর হতে ভাঙ্গা পর্যন্ত দেশের প্রথম দৃষ্টিনন্দন এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করবেন। এ সময় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত ছিলেন সেতু সচিব মো. বেলায়েত হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনের সংশোধন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন বিষয়ক বিষয়াদি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার, এ বিষয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই। এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সরকারের কোনো বক্তব্য থাকলে সরকারও নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে ভবিষ্যতেও সংবিধান অনুযায়ী সরকার সহযোগিতা করবে। এটা সরকারের সাংগঠনিক দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন গঠন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়। কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করেন, যার মধ্যে বিএনপির প্রতিনিধিও ছিল। ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন নির্বাচন কমিশনে বিএনপি সমর্থিত প্রতিনিধি আছে। বিএনপির আমলে কমিশন গঠনে কখনও আওয়ামী লীগের নাম নেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন গঠন কিংবা বাতিলের এখতিয়ার সরকারের নয়। সময় হলেই রাষ্ট্রপতি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে বলে আরও বেশি ভোটে জয়ী হতো, আর পরাজিত হলে বলে- কারচুপি করে হারিয়ে দিয়েছে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আজিজুর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজ সংবাদ ॥ আজ ১২ সেপ্টেম্বর কবি আজিজুর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী। এদেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘‘একুশ পদক’’ প্রাপ্ত কবি আজিজুর রহমানের মৃত্যুর ৪১ বছর পার হলেও সরকারীভাবে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষন ও স্মৃতি চারণে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। অবহেলিত অবস্থায় পরে আছে তাঁর বাস্তুভিটা ও সমাহিত চত্বর। একপর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে তাঁর সমাধিস্থলসহ সকল স্মৃতিময় স্থান ও কর্মকান্ড। কবি আজিজুর রহমান  প্রায় ৩ হাজারের অধিক গান লিখেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে উলে¬খযোগ্যঃ ভবের নাট্যশালায় মানুষ চেনা দায়রে। কারো মনে তুমি দিওনা আঘাত, সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে। আকাশের ঐ মিটি মিটি তারার সাথে কইবো কথা, নাই বা তুমি এলে। পৃথিবীর এই পান্থশালায়, হায় পথ ভোলা কবি। আমি রুপনগরের রাজকন্যা রুপের জাদু এনেছি। বুঝি না মন  যে দোলে বাশির ও সুরে। দেখ ভেবে তুই মন, আপন চেয়ে পর ভালো। পলাশ ঢাকা ককিল ডাকা আমারই দেশ ভাইরে ইত্যাদি। অথচ এই জনপ্রিয় গানগুলো আজ সংরক্ষেনের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই কবির গানগুলো সংরক্ষেনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য এবং  প্রতিবছর সরকারীভাবে জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে কবি আজিজুর রহমানের জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালনের জোর দাবী জানান এলাকাবাসী।

উলে¬খ্য, একুশে পদকধারী কবি, গীতিকার ও বেতার ব্যক্তিত্ব আজিজুর রহমান ১৯১৪ সালের ১৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের জমিদার বংশে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম-মরহুম বশির উদ্দিন প্রামানিক, মাতার নাম- সবুরুননেছা। গড়াই নদীর নির্সগ সৌর্ন্দয্য তাঁকে সব সময় মোহিত করে রাখত। ১২ বছর বয়সে কবি ১৯২৭ সালে পিতা হারা হন। উচ্চশিক্ষা লাভের ভাগ্য না থাকলেও প্রবল ইচ্ছা ও অনুসন্ধিৎসার ফলে বহু বিষয়ক পুস্তকাদি স্বগৃহে পাঠ করে তিনি একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তিতে পরিনত হন। সাহিত্য চর্চা শুরুর আগে নাটকের অভিনয়ে তাঁর উৎসাহ ছিল বেশী। তিনি পুরাতন অভিনেতাদের নিয়ে গড়ে তোলেন একটি নাট্য দল। সেই নাট্য দলটি অভিনয় করতেন শিলাইদহ এর ঠাকুর বাড়িতে। এই কাজের জন্য সে সময় কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর সুনাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সে কালের বিশিষ্ট অভিনেতা ধীরেন দত্ত, উপেশ ঠাকুরসহ বিভিন্ন নামি দামি অভিনেতারা অংশগ্রহন করতেন তাঁর নাট্য দলে। সমাজ সেবায় কবি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ। ১৯৩৪ সালে তিনি তাঁর পিতা মহো চাঁদ প্রামানিক এর নামে হরিপুর গ্রামে গড়ে তোলেন চাঁদ স্মৃতি পাঠাগার। এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার ছিল। দুর দুরান্ত থেকে মানুষ বই এর খোঁজে আসতেন এই পাঠাগারে। তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল প্রবল।  বৈবাহিক জীবন-১৭ বছর বয়সে কবি ১৯৩১ সালে তিনি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের এজহার শিকদারের কন্যা ফজিলাতুননেছাকে বিয়ে করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে-১৯৪৫ সালে তিনি কুষ্টিয়া ফুড কমিটির সেক্রেটারী নিযুক্ত হন। ১৯৫০ সালে তিনি হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (প্রত্যক্ষ  ভোটে) নির্বাচিত হন। প্রতিভা বিকাশের জন্য ১৯৫৪ সালে কবি ঢাকায় চলে যান এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকার মোহম্মদপুরের একটি সরকারী বাড়িতে বসবাস করতেন। সে সময় ঢাকায় গিয়ে তিনি কবি ফাররুক আহমেদ এর সহায়তায় বিভিন্ন শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকদের সাথে পরিচিত হন। এসময় কবি ফাররুক আহমেদ তাঁকে ঢাকা বেতারে নিয়ে যান। ১৯৫৪ সালে কবি আজিজুর রহমান ঢাকা বেতারে গীতিকার হিসেবে অনুমোদন পান। বেতারের সাথে যোগাযোগ কবি আজিজুর রহমানের সাহিত্যিক জীবনের এক উলে¬খযোগ্য ঘটনা। কবি আজিজুর রহমান কবিতা দিয়ে যাত্রা শুরু  করলেও গান রচনার মধ্যে তাঁর প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে। তিনি প্রায় ৩ হাজার গান লিখেছেন। যা আজও আমাদের দেশের মানুষের কাছে অত্যমত্ম জনপ্রিয়। অসুস্থ্য  হয়ে পড়ায় ১৯৭৮ সালের পর কবির হাতে তেমন আর কলম ওঠেনি। একাকি বিছানায় শুয়ে দিন কেটেছে তার। সে সময় তিনি বিছানায় শুয়ে-শুয়ে লিখেছিলেন ‘‘পৃথিবীর এই পান্থশালায়, হায় পথ ভোলা কবি, জলের লেখায় বালুকা বেলায়, মিছে একে গেলে ছবি এটাই ছিল কবির শেষ লেখা গান। অর্থাভাবে চিকিৎসাও তার ভাগ্যে জোটেনি। ১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর  কবি আজিজুর রহমান গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তাঁকে ভর্তি করা হয়  তৎকালীন ঢাকার পিজি  হসপিটালে। সেখানে চিকিৎসার মাত্র ৩ দিনের মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আমাদের প্রিয় কবি আজিজুর রহমান। মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে-মৃত ফজলুর রহমান মনি, মুহাম্মদ শামছুর রহমান শামু ও সহিদুর রহমান বাচ্চু এবং কন্যা রওশন আরা বুড়ি, হোসনে আরা টুকু, আক্তার আরা বেবী, নাজমা রহমান বেলী ও ডালু বেগকে রেখে যান। কবির জীবন দর্শায় তেমন কোন সম্মাননা না পেলেও  ১৯৭৯ সালে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মানঃ ’একুশে পদক’-এ ভুষিত হন। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের বিষয় এই কবির মৃত্যুবার্ষিকীতেও কোথাও তেমন কোন কর্মসূচী চোখে পড়ে না। এলাকাবাসীর দাবী প্রতি বছর সরকারীভাবে কবি আজিজুর রহমানের জন্ম বার্ষিকী ও মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচী পালন করা প্রয়োজন।