দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ – গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ দেশে সাক্ষরতার হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে এ হার ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এটিকে বৃদ্ধি করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সারাদেশে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হবে। ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৯১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো এ দিবস উপযাপন করেন। এর ধারাবাহিকতায় সরকার প্রতি বছর আন্তর্জাতিক দিবস পালন করে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘কোভিড-১৯ সংকট : সাক্ষরতা শিক্ষায় পরিবর্তনশীল শিখন-শেখানো কৌশল এবং শিক্ষাবিদদের ভূমিকা’। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে এ দিবসের সকল আয়োজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরোয়াভাবে করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াত সারকারের সময় এ সংখ্যা ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এসডিজি এবং জাতীয় অঙ্গীকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের চতুর্থ লক্ষ্যে সাক্ষরতা বিস্তার, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) : এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় নির্বাচিত ২৫০টি উপজেলার ১৫ থেকে ৪৫ লক্ষ নিরক্ষরকে সাক্ষরতার জ্ঞান প্রদান করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পার্যায়ে ১৩৫টি উপজেলা শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪১ জন নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদান করা হয়েছে। ঝড়ে পড়া শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা : দারিদ্র, অনগ্রসরতা, শিশুশ্রম, ভৌগলিক প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি কারণে এখনও অনেক শিশু বিদ্যালয়ে আসছে না। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জনা পিইডিপি-৪ এর আওতায় ৮-১৪ বছর বয়সী ১০ লক্ষ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। প্রাথমিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধা, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ ছয় জেলায় ১ লাখ শিশুকে পাইলটিং শুরু করা হয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বোর্ড : উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান যা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে জড়িত তাদের প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন শিক্ষকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিরূপণ, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদ প্রদান করা হবে।

প্রতি জেলায় পুড়ে যাওয়া রোগীদের চিকিতসা ব্যবস্থা থাকা উচিত – জাফরুল্লাহ

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সব জেলায় পুড়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা উচিত মন্তব্য করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে ঘটনার পর পরই যদি চিকিৎসা পেতো তাহলে এত মানুষ মারা যেত না। একইসঙ্গে তিনি সব চিকিৎসকদের বার্নের বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকা দরকার বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যদি সাথে সাথে ৫০ শতাংশ চিকিৎসা দেয়া যেত তাহলে ২৩ জন মানুষ মারা যেতেন না। সরকার হাজার হাজার টাকার মেগা প্রজেক্ট করছে। কিন্তু সবকিছুর জন্য ঢাকায় আসতে হচ্ছে। প্রতিটা জেলায় বার্ন হাসপাতাল করতে হবে। গতকাল রোববার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ রোগীদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ ঘটনায় কাউকে দায়ী করছেন কিনা জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সুশাসন না থাকায় আজ এ অবস্থা। আগুন প্রধানমন্ত্রী লাগায়নি। কিন্তু তার দায়িত্ব সুষ্ঠু তদন্ত করা যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।’ তবে এ হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সসহ সবার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এখানকার চিকিৎসক নার্স সবাই খুব আন্তরিকতা। মনোযোগ আর যতœ দিয়ে রোগীদের দেখছেন, সেবা করছেন।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী সমর্থিত পরিষদ পুর্ন প্যানেলে জয়ী হওয়ায় শামসুর রহমান বাবুর অভিনন্দন

কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে এ্যাড অনুপ কুমার নন্দী সমর্থিত পরিষদের পুর্ন প্যানেলে জয়ী হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন শামসুর রহমান বাবু। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, ক্রীড়ালেখক সমিতি কুষ্টিয়ার সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব শামসুর রহমান এক বিবৃতিতে নবনির্বাচিত পরিষদকে জেলার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে কুষ্টিয়া জেলা একটি উর্বর ক্ষেত্র। জেলা ক্রীড়া সংস্থার নবনির্বাচিত পরিষদের অধিকাংশ সদস্য দীর্ঘ দিন ধরে জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করেছেন তাদের সেই পুর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের পথকে আরো গতিশীল করতে বিশেষ ভুমিকা রাখবে বলে আশা রাখি।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মিরপুরে কীটনাশক পানে বৃদ্ধের মৃত্যু

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিজ ঘরে কীটনাশক (বিষ) পানে করীম সর্দ্দার (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত করীম সর্দ্দার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামের মৃত সমসের আলীর ছেলে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীর উপর অভিমান করে শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সামনেই জমিতে দেওয়া কিটনাশক (বিষ) পান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে মরদেহটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিএনপি দলীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে – ইশরাক

ঢাকা অফিস ॥ আমার মনে হয়েছে যে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, যে সেফটি রেগুলেশন কোড থাকা দরকার সেটি এখানে নেই। এখানে বিদ্যুৎ বিভাগ, গ্যাস বিভাগ ও স্থানীয়দের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। মসজিদের সামনের সড়কে সব সময় পানি জমে থাকে। এলাকাটি ইউনিয়ন এবং সিটি করপোরেশনের মাঝামাঝি হওয়ায় কেউই এখানে দায় নিতে চায় না। গতকাল রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এখানে এমন আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে যেগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমি জোরালো দাবি জানাবো ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের রাজনীতি করে। যেকোন দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে মানুষের পাশে সবার আগে বিএনপিই দাঁড়ায়। এখানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আমরা দলীয়ভাবে দাঁড়াবো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়গঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ আহমেদ প্রমুখ।

জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বজলুর রশীদের ইন্তেকাল

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বজলুর রশীদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিলল্লহি…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭২ বছর। রোববার (০৬ সেপ্টম্বর) ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন মেয়ে, নাতি নাতনীসহ অসংখ্য আতœীয় স্বজন গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। কর্মজীবনে বজলুর রশীদ বেশ সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেছেন। আমলার জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে চাকুরীতে অবসর গ্রহণ করেন। রোববার বেলা ১১টার সময় তার কর্মক্ষেত্র আমলার জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তার নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাযায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু, আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বিশ্বাস, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।

মাশউক এর উদ্দ্যোগে কালীগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র পরিবারের মাঝে জরুরী খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণ

গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর’ রবিবার সকাল ১০টায় মানব শক্তি উন্নয়ন কেন্দ্র (মাশউক) এর উদ্দোগে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়াম প্রাঙ্গনে মাশউক এর “এমারজেন্সি লাইভলিহুড সাপর্ট ফর দি পোর  বেনিফিসিয়ারিজ অব দি প্রজেক্ট- ইন্টিগ্রেটেড সাসটেইনেবল প্রজেক্ট ফর আর্সেনিক মিটিগেশন অব ড্রিংকিং ওয়াটার থ্রো সনোফিল্টার ফর দি আর্সেনিক এক্সপোজড পোর পিপুল অব কালীগঞ্জ উপজেলা, ঝিনাইদহ ডিসট্রিক” শির্ষক প্রকল্পের আওতায় করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এ ক্ষতিগ্রস্থ কালীগঞ্জ উপজেলায় সংস্থার চলমান অনুমোদিত প্রকল্পের আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ৯৫০টি পরিবারের উপকারভোগীদের মধ্যে থেকে ৫৩টি পরিবারের মাঝে জীবিকা নির্বাহের জন্য স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে “জরুরী খাদ্য সহায়তা সামগ্রী (ত্রাণ)” বিতরণ (প্রতি পরিবারে খাদ্য সহায়তা সামগ্রীর পরিমানঃ চাল-১০ কেজি, ডাল-১ কেজি, আলু-৩কেজি, লবন-১/২ কেজি, তৈল-১ লিটার ও সাবান-১টি) করা হয়। প্রকল্প মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে পরবর্তিতে বাকী ৮৯৭টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে। বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সূবর্ণা রাণী সাহা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ এবং প্রধান অতিথি ছিলেন আল্হাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গীর সিদ্দিক (ঠান্ডু),  চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শাহ্ আবুল আওয়াল ও এ্যাকাউন্টস এন্ড ফাইন্যান্স কো-অর্ডিনেটর মোঃ লিটন মোল্লা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোঃ তৌহিদুল করিম, প্রজেক্ট ম্যানেজার, মাশউক, কালীগঞ্জ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রধান কার্যালয় ও প্রকল্প কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপকারভোগী। প্রধান অতিথি আল্হাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গীর সিদ্দিক (ঠান্ডু), চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ সভায় উপস্থিত উপকারভোগী, অতিথী ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন করোনা ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবে দেশ আজ আর্থনৈতিকভাবে বেশ ক্ষতির মধ্যে আছে। করোনা ভাইরাস এ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের মাঝে সরকারের পাশাপাশি বে-সরকারী সংস্থা মাশউক সহযোগীতার হাত বাড়ীয়ে দিয়েছে তার জন্য মাশউক সংস্থাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। সভার সভাপতি সুবর্ণা রাণী সাহা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ বলেন জীবন ও জিবিকার তাগিদে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন যাত্রা নির্বাহ করার প্রতি পরামর্শ প্রদান করেন। করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়ে সচেতনতামুলক কথা বলেন বিশেষ করে অতি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ীর বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার ও বাইরে থেকে এসে সারা শরীর পরিস্কার করার প্রতি বিশেষ তাগিদ দেন। উপস্থিত মহিলা উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে বলেন মেয়ে হয়ে আমরা মেয়েদের সর্বনাশ না করি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করি, প্রত্যেক মেয়ে সন্তানের সাথে ছেলে সন্তানের যেমন আচরন করি তেমন আচরন করি। পরিশেষে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান মাশউক তাদের প্রকল্পের উপকারভোগীদের মাধ্যে আর্থিকভাবে অ-স্বচ্ছল পরিবারের মাঝে জরুরী খাদ্য সহায়তা সমাগ্রী হিসাবে প্রতি পরিবারে চাল-১০ কেজি, ডাল-১ কেজি, আলু-৩কেজি, লবন-১/২কেজি, তৈল-১ লিটার ও সাবান-১টি বিতরণ করায় ধন্যবাদ জানান এবং প্রকল্পের উপকারভোগী বাছায়ের ক্ষেত্রে তিনি সংস্থার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন যে পরিবার যৌতুক, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন মুক্ত সেই পরিবারকে আপনাদের উপকারভোগী হিসাবে বিবেচনা করবেন এবং উক্ত বিষয়ে মানুষদের সচেতন করবেন। নির্বাচন করবেন। পরিশেষে সভার সভাপতি সভায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও উপকারভোগী সকল সদস্যবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভা শেষ করেন এবং সভাপতি ও অতিথিবৃন্দের উপস্থিতিতে উপকারভোগীদের মাঝে খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মসজিদে বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ২৪

ঢাকা অফিস ॥ নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জন। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের তল্লা এলাকার মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। গতকাল রোববার সকাল পর্যন্ত সেখানে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ২২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন আছেন ১৩ জন। তাদের কেউই শঙ্কামুক্ত নয়। এ ঘটনায় গত শনিবার পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এতে মসজিদ কমিটি, বিদ্যুৎ এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে, মসজিদে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ধর্মপ্রাণ মানুষ নামাজ পড়তে গিয়ে অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে পাড়ি জমালেন পরপারে।  অভিযোগ উঠেছে, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে মসজিদের নিচের গ্যাসের পাইপলাইনে সমস্যার কথা জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ পরিস্থিতিতে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, ডিপিডিসি ও তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে এসব কমিটি গঠন করা হয়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের তল্লার বাসিন্দা নূর উদ্দিনের বড় ছেলে সাব্বির (২১) ও মেজো ছেলে তোলারাম ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র জোবায়ের (১৮), পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও তার ছেলে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাসিন্দা জুনায়েদ হোসেন (১৬), মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হাটবুকদিয়া গ্রামের কুদ্দুস বেপারী (৭২), চাঁদপুর সদর উপজেলার করিম মিজির ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পোশাক শ্রমিক জুলহাস ফরাজীর ছেলে জুবায়ের ফরাজী (৭), পটুয়াখালীর গলাচিপার আবদুল খালেক হাওলাদারের ছেলে পোশাক শ্রমিক মো. রাশেদ (৩০), পশ্চিম তল্লার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির (৭২), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী গ্রামের জামাল আবেদিন (৪০), পোশাক শ্রমিক ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), নারায়ণগঞ্জ কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী রিফাত (১৮), চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইন উদ্দিন (১২), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মো. জয়নাল (৩৮), লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুকপলাশী গ্রামের মেহের আলীর ছেলে পোশাক শ্রমিক মো. নয়ন (২৭), ফতুল্লার ওয়ার্কশপের শ্রমিক কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), শ্রমিক মো. রাসেল (৩৪), বাহার উদ্দিন (৫৫), মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক (৬০), স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ নাদিম (৪৫), নিজাম ওরফে মিজান (৪০) ও জুলহাস উদ্দিন (৩০), শামীম হোসেন (৪৮) ও মোহাম্মদ আলী মাস্টার (৫৫)।  চিকিৎসাধীন ১৩ জনের অবস্থাও সংকটাপন্ন। বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, দগ্ধ বেশিরভাগের অবস্থাই গুরুতর। তাদের শরীরের ৯৫ ভাগ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। প্রায় সবার শ্বাসনালি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কাউকেই শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের চিকিৎসা চলছে।

 

আলমডাঙ্গায় মুক্তিযুদ্ধকালিন স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণকল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নির্বাহী অফিসারের মতবিনিময়

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় মুক্তিযুদ্ধকালিন স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণকল্পে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নির্বাহী অফিসারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব হোসেন।এ  সময় মুক্তিযুদ্ধকালিন কোথায় কোথায় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, সেই জায়গা চিহ্নিত করতে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে নাম চাইলে, হাটবোয়ালিয়া ঘাটে সর্বপ্রথম ৬ জনকে পাকসেনারা গুলি করে হত্যা করে। সেই হত্যাকান্ডে সম্ভবত আলমডাঙ্গায় প্রথম শহীদ হন। এরপর সুকচা  বাজিতপুরে ১৩ আগষ্ট খন্দকার জামসেদ নুরী টগর পাক সেনাদের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন। এছাড়াও আনছার আলী, সৈয়দ তালাত মাহমুদ, খন্দকার আশরাফ আলী আশু, আবুল হোসেন নান্নু  মোল্লা, ডাক্তার বজলুল হকসহ প্রায় ২২ থেকে ২৩ জন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে সহযোগীতা করায় শহীদ হয়েছেন। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গনপূর্ত মন্ত্রনালয়, এলজিআরডি মন্ত্রনালয়  যৌথভাবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রত্যেক জায়গায় স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করবেন। আগামী প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভুলে না যান সেই জন্য সরকার এই ব্যবস্থা হাতে নিয়েছেন । আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ শাহাবুদ্দিন, সাবেক কমান্ডার শফিউর রহমান জোয়ার্দার সুলতান, আব্দুল কুদ্দুস, আলহাজ শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনীন্দ্রনাথ দত্ত, সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ আব্দুর রশিদ  মোল্লা, মোঃ খোসদেল আলম, আব্দুল মালেক, খন্দকার ইসমাইল  হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, মহিলা ভাইস  চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম প্রমুখ। দ্রুতই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ কাজ করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।

মহামারী করোনা মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী

মহামারী করোনার প্রতিরোধে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। করোনা সংকটকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারবদ্ধ সেনাসদস্যরা। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে  দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কর্মহীন গরিব ও দুস্থদের বাঁচিয়ে রাখতে নিত্যপণ্য এবং ঔষধ সামগ্রী বিতরণের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও হাটবাজার ও বিভিন্ন দোকানপাট, বিপণী বিতানগুলোতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়ন, গণপরিবহণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করাসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে খুলনা উপকূলীয় এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বাঁধ নির্মানের কাজ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুর সীমান্তে ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ২০বোতল ফেনসিডিল ও একটি রামদাসহ সাহাবুল (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ জামালপুর বিওপি’র টহল দল সীমান্ত সংলগ্ন  জামালপুর পূর্বমাঠে অভিযান চালিয়ে ফেনসিডিল ও রামদাসহ তাকে আটক করে। সে একই এলাকার মৃত মোজাম হোসেন বকার ছেলে। এসময় জামালপুর এলাকার অপর মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম (৪৫), সুমন মিয়া (৩০) ও রুবেল (২৫) নামে ৩ মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যায় বলে বিজিবি সূত্র জানায়। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছে যার নং ১৩।

দিনের খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জিল্লুর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া হতে প্রকাশি দৈনিক দিনের খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক  ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু (৩৮) এর অকাল মৃত্যুতে দিনের খবর পরিচালনা পর্ষদের আয়োজনে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বাদ যোহর পত্রিকা কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিলে জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিক, শুভাকাঙ্খি ও দিনের খবর পত্রিকা পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জীবিতদের সারিয়ে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ‘নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪ জন মারা গেছেন। জীবিত আছেন ১৩ জন। তবে তাদের সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে, শরীরের ৫০ থেকে ৭০-৮০ ভাগও পুড়ে গেছে। ফলে কেউই আশঙ্কামুক্ত নয়। জীবিতদের সারিয়ে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।’ গতকাল রোববার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধদের দেখতে এসে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মোট ৩৭ জন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে তাদের মধ্যে ২৪ জন মারা গেছেন। যারা বেঁচে আছেন তাদের সবার শরীরের ৫০ থেকে ৭০-৮০ ভাগ পর্যন্ত পোড়া। জীবিত ১৩ জনের শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক, তাদের সবার শ্বাসনালি পোড়া। তাদের মধ্যে ছয়জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এই ছয়জনের অবস্থা ক্রিটিক্যাল আর বাকিরাও আশঙ্কামুক্ত নয়। তিনি বলেন, জীবিতদের সারিয়ে তোলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। আহতদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করে জানানো হবে। ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ কথা উল্লেখ করে ফতুল্লা থানায় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, আপাতত আহতদের চিকিৎসা-ওষুধপত্র এবং নিহতদের দাফনে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ বিষয়ক কমিটি বৈঠকে বসবে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়াহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ২৪ মৃত্যু হয়েছে। এদিকে প্রাথমিকভাবে এসি নয় গ্যাসলাইন থেকে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন। শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ কথা জানান তিনি। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস একটি, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ একটি ও জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

কুষ্টিয়ায় জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ ইব্রাহীমের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভায় আতা

ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার জীবন উতসর্গ করেছিলেন মানুষের সেবায়

জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ ইব্রাহীমের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় আলোচনা সভা,  সেবা সপ্তাহ ও দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতালে এ অনুষ্ঠান হয়। টেলিকনফারেন্সে মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট থেকে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টু। অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান টর্লিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। প্রধান বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রখ্যাত সার্জন ডাঃ মুসতানজিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব বাদশা। বক্তব্য রাখেন অত্র হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডাঃ লাল মহম্মদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আতাউর রহমান আতা বলেন, ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন মানুষের  সেবায়। তার আদর্শ ও লক্ষ্য ছিল- কোনো ডায়াবেটিক রোগী দরিদ্র হলেও বিনা চিকিৎসায়, অনাহারে, বেকার অবস্থায় মারা যাবে না। তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তিনি আরো বলেন, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ ইব্রাহীম যে কাজটি করেছেন তা এদেশের আপামর মানুষ আজীবন সুফল  ভোগ করবে। তিনি চিকিৎসা জগতে বাংলাদেশের গর্ব। বাংলাদেশের ডায়বেটিক রোগীরা তার অবদানের জন্য ডাঃ ইব্রাহীমকে আজীবন স্মরণ করবে। প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রফেসর ডাঃ মুসতানজিদ বলেন, ডাঃ ইব্রাহীমের বাণী ছিলো ঃ ‘আমাদেরকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ ‘কোনো ডায়াবেটিক রোগী গরীব হলেও বিনা চিকিৎসায়, অনাহারে এবং বেকার অবস্থায় মারা যাবে না।’ ‘জাতি, ধর্ম, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিন্দুমাত্র ভেদাভেদ না করে সব রোগীকে সমবেদনার সাথে সেবা করাই আমাদের আদর্শ।’ তার বাণী সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তার আত্মা শান্তি পাবে। তিনি আরো বলেন, জাতীয় অধ্যাপক মরহুম ডাঃ ইব্রাহীম ছিলেন একজন প্রকৃত সমাজ সেবক ও মহান ব্যক্তিত্ব। তিনি স্মরণীয় থাকার মতো সমাজসেবক ছিলেন। এই ক্ষণজন্মা মানুষের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো আমাদেরকে করতে হবে। শুভেচ্ছা বক্তব্যে বক্তব্যে মতিউর রহমান লাল্টু বলেন, এ হাসপাতাল বিগত প্রায় তিন দশক যাবত ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত সেবা প্রদান করে চলেছে, এই সেবা করোনাকালীন সময়ে থেমে খাকেনি। তিনি বলেন, বর্তমানে এ হাসপাতালের নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজারেরও অধিক। নিয়মিত চিকিৎসা নেন অন্তত ৪শ রোগী। এছাড়া এই হাসপাতালে দুস্থ, গরীব, প্রতিবন্ধি রোগীদের চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে রাখেন কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান টর্লিন বলেন, ‘শৃঙ্খলাই জীবন’ এই মূলমন্ত্র হৃদয়ে ধারণ করে জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। আর ডায়াবেটিক চিকিৎসা সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অধিভুক্ত সমিতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ডায়াবেটিক সমিতি। অনুষ্ঠান শেষে মরহুম ডাঃ ইব্রাহিম এবং প্রয়াত কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক আফম নুরুল কাদের। উল্লেখ, প্রতি বছর ৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৮৯ সালের এ দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শাইখ সিরাজের জন্মদিন আজ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের আজ (৭ সেপ্টেম্বর ২০২০) জন্মদিন। তিনি ১৯৫৪ সালের ৭  সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন চাঁদপুরে (সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ২৮ জুন ১৯৫৬)।

শাইখ সিরাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ভূগোলে। ছাত্র জীবনেই সম্পৃক্ত হন বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও সংবাদপত্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্যদিয়ে সকল  শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন তিনি। পরে তার নিজস্ব পরিচালনাধীন টেলিভিশন চ্যানেল আইতে শুরু করেন কৃষি কার্যক্রম হৃদয়ে মাটি ও মানুষ। উন্নয়ন সাংবাদিকতার জন্য তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দুটি রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৮) ও একুশে পদক (১৯৯৫) লাভ করেন।

টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রায় চার দশকের একনিষ্ঠ পথচলার মধ্য দিয়ে শাইখ সিরাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন উন্নয়ন সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক হিসেবে। গণমাধ্যমে তার উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণায় আমূল পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের কৃষিতে। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সূচিত হয়েছে বৈপ্লবিক সাফল্য। গ্রামীন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। একই সাথে শহর-নগরের মানুষকে করেছেন কৃষিমুখি। ফলে দেশের অর্থনীতিতে কৃষির বহুমুখি অবদান সূচিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অশোকা ফেলো শাইখ সিরাজ খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র বিমোচন বিষয়ে সাংবাদিকতায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০০৯ সালে অর্জন করেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এ এইচ বুর্মা এ্যাওয়ার্ড। এছাড়া তিনি পেয়েছেন এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গুসি পিস প্রাইজ, ব্রিটেনের বিসিএ গোল্ডেন জুবিলি অনার এ্যাওয়ার্ডস।

ব্রিটিশ হাউজ অব কমেন্স তাঁকে প্রদান করেছে বিশেষ সম্মাননা, ব্রিটিশ বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সংগঠন তাঁকে দিয়েছে গ্রীন এ্যাওয়ার্ড। এছাড়া পেয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির স্বর্ণপদক, ডা. ইব্রাহিম মেমোরিয়াল স্বর্ণপদক, রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদকসহ অর্ধশত দেশী বিদেশী পুরস্কার ও সম্মাননা।

শাইখ সিরাজ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড, চ্যানেল আই-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চ্যানেল আই ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। তিনি এদেশে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে নিরস বিষয় হিসেবে উপেক্ষিত কৃষিতে জাতীয় সংবাদের প্রধান খবরের পর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শাইখ সিরাজের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, মৎস্য ম্যানুয়েল, মাটি ও মানুষের চাষবাস, ফার্মার্স ফাইল, মাটির কাছে মানুষের কাছে, বাংলাদেশের কৃষি : প্রেক্ষাপট ২০০৮, কৃষি ও গণমাধ্যম, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (সম্পাদিত), আমার স্বপ্নের কৃষি, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (২০১১), সমকালীন কৃষি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০১১), কৃষি ও উন্নয়নচিন্তা (২০১৩) ইত্যাদি।

মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পকে লাদেনের ভাতিঝির সমর্থন

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন ওসামা বিন লাদেনের ভাতিঝি নূর বিন লাদেন। শনিবার নূর লাদেন নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আইএসের প্রসার ঘটেছে ওবামা-বাইডেনদের আমলে। ট্রাম্প দেখিয়েছেন বিদেশি হুমকির হাত থেকে তিনি আমেরিকা এবং আমাদের রক্ষা করতে চান।’ সুইজারল্যান্ডে বেড়ে ওঠা নূর যুক্তরাষ্ট্রে যান কালেভদ্রে। অনেক আগে থেকেই তিনি ট্রাম্পের ভক্ত। বেশ কয়েক বার তার মাথায় ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা হ্যাট দেখা গেছে। ‘আমি সেই ২০১৫ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থক,’ জানিয়ে নূর বলেন, ‘লোকটার স্থিরসঙ্কল্পের প্রশংসা করি আমি। নভেম্বরের নির্বাচনে তাকে অবশ্যই আবার নির্বাচিত হতে হবে।’ ৯/১১’র মাস্টার মাইন্ড ওসামা বিন লাদেন তার কর্মকান্ডের জন্য বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হলেও পরিবারের অন্যরা শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপনই করছেন। আইন নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে নূর ব্যবসায়ী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েছেন। নূরের বোন ওয়াফাহ ডুফুর সুইজারল্যান্ডের পরিচিত গায়িকা।

নারায়ণগঞ্জের ঘটনা কেন ঘটল নিশ্চয়ই সেটা বের হবে – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নারায়ণগঞ্জের মসজিদের ঘটনাটা কেন ঘটল সেই বিষয়ে তদন্ত চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিশ্চয়ই সেটা বের হবে। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সর্বশেষ ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে যে ঘটনাটা ঘটেছে, মসজিদে যে বিস্ফোরণ ঘটল এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা সেখানে গেছেন। সেখানে নমুনা সংগ্রহ করছেন। এই ঘটনাটা কেন ঘটল, কীভাবে ঘটল সে বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে এবং আমি মনে করি, সেটা অবশ্যই বের হবে।’ তিনি বলেন, ‘যখনই এ ধরনের ঘটনা ঘটে আমার সঙ্গে কিন্তু সবসময় আমাদের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল মেসেজ পাঠিয়েছে। প্রতিমুহূর্তে সকালে, বিকেলে মেসেজ পাঠাচ্ছে এবং রোগীদের অবস্থা জানাচ্ছে। অনেকে মারা গেছেন। বাকি যারা তাদের পোড়ার অবস্থা এত খারাপ তারপরও চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের সব ধরনের চিকিৎসা আমরা দিচ্ছি। এখন আল্লাহ যদি এদের জীবনটা দিয়ে যান।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে মসজিদে নামাজ পড়া অবস্থায় এ ধরনের একটা বিস্ফোরণ। ওইটুকু একটা জায়গায় ছয়টা এসি লাগানো আবার গ্যাসের লাইনের ওপর নাকি এই মসজিদটি নির্মাণ! সাধারণত যেখানেই গ্যাসের পাইপ লাইন থাকে সেখানে কোনো নির্মাণ কাজ হয় না। আমি জানি না, রাজউক কি এটার পারমিশন দিয়েছে কি-না। এটা পারমিশন তো দিতে পারে না, দেয়া উচিত না।’ তিনি বলেন, ‘সবসময় একটা খুব আশঙ্কাজনক থাকে। সেটাই এখন তদন্ত করে দেখা হবে। মসজিদে সবাই দান করে, আজকাল তো সকলের পয়সা আছে, এয়ারকন্ডিশন দিয়েছে। সেখানে এই যে বিদ্যুৎ সরবরাহটা, বিদ্যুৎ কতটা নিতে পারবে? সেটার ক্যাপাসিটি ছিল কি-না, সার্কিট ব্রেকার ছিল কি-না-এসব বিষয়গুলো কিন্তু দেখতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে কিছু করতে গেলে তার একটা দুর্ঘটনা অবশ্যই ঘটতে পারে।’ ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে এবং নির্দেশ গেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছি এর কারণটা খুঁজে বের করার। সারা বাংলাদেশে মসজিদগুলোতে যারা অপরিকল্পিতভাবে, ইচ্ছামতো এয়ারকন্ডিশন লাগাচ্ছেন বা যেখানে সেখানে একটা মসজিদ গড়ে তুলছেন, সে জায়গাটা আ-দৌ একটা স্থাপনা করবার মতো জায়গা কি-না, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া বা সেখানে নকশাগুলো করা হয়েছে কি-না, সেই বিষয়গুলো কিন্তু দেখা একান্ত প্রয়োজন। নইলে এ ধরনের ঘটনা দুর্ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে।’ কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশন গতকাল রোববার শুরু হয়েছে। বেলা ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সংসদে সাবেক মন্ত্রী ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীসহ দেশে-বিদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণ ও লেবাননে বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয়। এর আগে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। মারা যাওয়া এসব ব্যক্তিদের স্মরণ করে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সংসদ সদস্য রুহুল আমীন মাদানী। পরে সংসদের বৈঠক আজ সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। চলতি সংসদের কোনো সদস্য মারা গেলে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী ওই দিনের বৈঠক মুলতবি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় আরও অংশ নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা ও বিএনপির হারুনুর রশীদ। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, সাবেক মন্ত্রী সাজাহান সিরাজ, লে ক (অব.) এইচ এম এ গাফ্ফার, আবুল কাশেম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান, টি এম গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সাবেক হুইপ মো. আশরাফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান, আ ন ম নজরুল ইসলাম, শেখ মো. নুরুল হক, এ টি এম আলমগীর, সুলতান উদ্দিন ভূঁইয়া, ড. শাহজাহান আলী তালুকদার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) সাইফুল আযম, কমরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিস ও ইঞ্জিনিয়ার শামছউদ্দিন আহমদেনর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সংসদ। এছাড়া সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত, সেক্টর কমান্ডার অবু ওসমান চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান, প্রতিরক্ষ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, আইন সচিব নরেন দাস, সাবেক আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক দুলাল, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর, সাংবাদিক কামাল লোহানী, রাহাত খান, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরামুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু, সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখরের মা ও মাগুরা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম মনোয়ারা জামান, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল, ভাষা সংগ্রামী ডা. সাঈদ হায়দার, একুশে পদকপ্রাপ্ত আলাকচিত্রী সাইদা খানম, সংগীত ব্যক্তিত্ব সুরকার আলাউদ্দিন আলী, কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, ভাস্কর মৃনাল হক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব বরকতউল্লাহ, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের একান্ত সচিব ও ছোট ভাই আবদুল হাইয়ের মৃত্যুতে শোক জানানো হয়।

 

গাংনীতে নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের চেংগাড়া গ্রামে ঘরের আড়ার সাথে নাসিমা খাতুন (১৫) নামের এক নব বধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নববধূ নাসিমা চেংগাড়া গ্রামের সাকিল হোসেনের স্ত্রী। গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বামীর ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় নাসিমার মরদেহ উদ্ধার করে গাংনী থানা পুলিশ। জানান কিছু মাস আগে আমার মেয়ে নাসিমার বিয়ে দিই সাকিলের সাথে। আমার মেয়ে বয়সে খুবই ছোট। সে সংসারের সব কাজ করতে পারে না।  এবং আমার জামাতা প্রায়ই যৌতুক দাবি করে। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে পারিনি। এ কারণে সে আমার মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তার দাবি পূরণ করতে পারিনি বলে আমার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নিজের দোষ আড়াল করার জন্য লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। এদিকে নাসিমার মরদেহ উদ্ধারের পরপরই স্বামী সাকিল গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ কাজ করছে।

ইউএনও ওয়াহিদা এখন অনেকাংশে ভালো আছেন

ঢাকা অফিস ॥ আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় খোঁজ খবর রাখছেন। তার চিকিৎসার প্রয়োজনে যা যা দরকার, তার সবই দেওয়া হবে। এখন রোগী অনেকাংশে ভালো আছেন। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে দেখতে গিয়ে সংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা আমার সঙ্গে কথা বললো। আমার কাছে মনে হয়েছে উনি এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছেন।ডাক্তাররা বলেছেন ফিজিক্যাল থেরাপি দিলে আস্তে আস্তে এটা ভালো হয়ে যাবে। রোগী এখন যে পর্যায়ে আছে, তাতে দেশের বাইরে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বুধবার রাতে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে ঢুকে তার ও তার বাবার ওপর হামলা করা হয়। উভয়েরই শরীর ও মাথায় আঘাত লেগেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার প্রথমে তাদের রংপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে নিয়ে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ঢাকার এনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ঘোড়াঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওয়াহিদার ভাই শেখ ফরিদ। সেখানে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলার ছায়া তদন্ত করতে গিয়েই বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের হাকিমপুর থানাধীন বাংলা হিলি এলাকা থেকে র‌্যাব আসাদুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার র‌্যাবের অভিযানে নবীরুল ও সান্টু নামে আরও দুজন ধরা পড়েন।

দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইয়াবাসহ খোয়াজ ইসলাম (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব। গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কল্যানপুর বেলতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৭৩ পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করে। সে একই এলাকার খায়রুল মন্ডলে ছেলে। র‌্যাব সূত্র জানায়, মাদক ক্রয় বিক্রয়ের গোপন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের অভিযানিক দল কল্যানপুর বেলতলা এলাকার জালাল মন্ডলের বাড়ীর সামনে পাঁকা রাস্তার উপর অভিযান চালিয়ে ৪৭৩ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী খোয়াজ ইসলামকে আটক করে। পরে তাকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়। এঘটনায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় করোনা আক্রান্ত মৃত্যুদের কাফন-দাফন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় হাজী রবিউল

আলেম সমাজের ন্যায্য দাবী ধীরে ধীরে পূরণ করা হবে

নিজ সংবাদ ॥ বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা উলামা পরিষদের উদ্দ্যোগে গতকাল রবিবার সকাল ১০ টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে করোনা আক্রান্ত মৃত্যুদের কাফন-দাফন কিভাবে দিতে হয় তার এক বাস্তব প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা মোঃ আবদুল হামিদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন- বর্তমান সরকার ইসলাম বান্ধব সরকার। আলেম সমাজের সেবায় অনেক কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে। বিশেষ করে কওমী মাদরাসার সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মাদরাসার ছাত্রদের চাকুরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলেম সমাজের ন্যায্য দাবী ধীরে ধীরে পূরণ করা হবে। আপনারা সমাজকে সুপথ দেখিয়ে থাকেন। আপনাদের দ্বারা সমাজ উপকৃত হয়ে থাকে। আপনারা নবীর উত্তরসুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান, শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেন- বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় এসেই দেশ থেকে ঘোড় দৌড় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাবলীগ জামায়াতের জন্য জায়গা বরাদ্দ করেছিলেন। মদ-জুয়া নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য  মাহবুবউল আলম হানিফ সাহেবের নির্দেশনা অনুসারে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। কুষ্টিয়াতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পেলেই আমরা তার সেবা করে যাচ্ছি। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন যে- আলেম সমাজ দাফন কাফনের যে উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছেন সে জন্য আমরা খুবই খুশি। দেশ ও সমাজের কল্যানে আপনারা যে অবদান রেখে চলেছেন তা খুবই প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা আপনাদের সফলতা কামনা  করি। উলামা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মওলানা আব্দুল লতিফ খান -এর  পরিচালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ আমিনুর রহিম পল্লব, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ আহমেদ, উলামা পরিষদের উপদেষ্টা মাওলানা ফিরোজুল আলম, মওলানা মোঃ শামসুল হক, সাধারন সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম, আরিফুজ্জামান, মওলানা আব্দুল হাকিম, হাফেজ তরিকুল ইসলাম। যশোর থেকে আগত খেদমতে খালক ফাউন্ডেশনের ২জন প্রতিনিধি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।