ইউএনওর চিকিতসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসায় যা যা প্রয়োজন তা করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। জড়িতদের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতেও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউএনও ওয়াহিদার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা এখন অনেকটা ইম্প্রভ। এটা অনেক ক্রিটিকাল একটা ইঞ্জুরি। ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন তার কন্ডিশন আরও ভালো করতে। আজ (গতকাল শনিবার) সকালেও প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন এর জন্য যা কিছু করার, তা করতে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই-একজন ধরা পড়েছে আপনারা জানেন। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় অনেক সময় অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। এগুলো আমাদের জীবনেও ঘটে। সবকিছুর ওপর তো আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু আমাদের কাজ হলো এগুলোকে অর্ডারে আনা। গত বৃহস্পতিবার রাতে ছয় সদস্যের চিকিৎসক দল প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ইউএনও ওয়াহিদার মাথায় জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। অস্ত্রোপচার শেষেই তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা। তাৎক্ষণিকভাবে তার সেরে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী হলেও তিনি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানানো হয়। গত বুধবার দিবাগত রাতে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ইউএনওর মাথায় গুরুতর আঘাত এবং তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে ইউএনওকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) নিয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। তিনি বর্তমানে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

মসজিদে বিস্ফোরনে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিতসা দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ হতাহতের ঘটনায় সর্বদা খোঁজ-খবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ ইব্রাহীমের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ কুষ্টিয়ায়  সেবা দিবস ও দোয়া মাহফিল

জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ ইব্রাহীমের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় সেবা সপ্তাহ দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতালে এ অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান টর্লিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। প্রধান বক্তা থাকবেন প্রখ্যাত সার্জন ডাঃ মুসতানজিদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে নিখোঁজের দু’মাস পার হলেও খোঁজ মেলেনি মাদ্রাসা ছাত্র রতনের 

সেলিম রেজা ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কাপড়পোড়া হাফেজিয়া ক্বওমী মাদ্রাসার ছাত্র আব্দুর রহমান রতন (১৭) গত ১০ জুন বাড়ী থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আজ অবধি ফিরেনি। সে কাপড়পোড়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জেল হোসেনের  ছেলে। জানাযায়, আব্দুর রহমান রতন ১০ জুন সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ীতে থেকে বের হয় কিন্তু ফিরেনি। প্রতিদিন মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর বাড়ীতেই ফিরে আসতো রতন। রতনের বাবা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় তার  ছেলের  খোঁজ নিতে গেলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে পারে সেদিন রতন মাদ্রাসাতেই আসেনি। পরে সম্ভাব্য সকল জায়গাতে  খোঁজাখুঁজি করেও কোন খোঁজ না পাওয়ায় তার মা নিহারন খাতুন ১৬ জুন থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে (যার নম্বর ৮৬৩)। দু’মাস পার হলেও রতনের কোন খোঁজ পায়নি তার পরিবার। এদিকে ছেলে হারানোর কষ্টে পাগলপ্রায় মা নিহারন কেঁদে কেঁদে বলেন, আমার ছেলের ডান চোখ একটু ট্যারা, গায়ের রংটা শ্যামলা, জুব্বা পরেই বাড়ী থেকে বের হয়েছিল মাদ্রাসাতে যাবে বলে কিন্তু সে আজও ফিরেনি। তার বুকের মানিক যেন তার বুকে ফিরে আসে সেই ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধও করেন তিনি। রতনের খোঁজ পেলে যোগাযোগের জন্য ০১৭৩৭-২৭৮৪৯৩ নম্বটিতে জানাতে বলেছেন তার পরিবার।

কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী সমর্থিত পরিষদ পুর্ণ প্যানেলে জয়ী হওয়ায় সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক ফিন্ডল্যান্ড প্রবাসী মুহম্মদ আব্দুর রশিদের অভিনন্দন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্য নির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে বর্তমান সাধারন সম্পাদক এ্যাড অনুপ কুমার নন্দী সমর্থিত পরিষদ পুর্ন প্যানেলে জয়ী হওয়ায় কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে একাধিক পদকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ ও জাতীয় ক্রীড়া সংগঠক  ফ্রিনলেন্ড প্রবাসী মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন নব নির্বাচিত পরিষদের সুযোগ্য সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বে বিজয়ী পরিষদ জেলার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের ধারবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে নিবেদিত হবে। আমার সময়ের ক্রীড়াঙ্গনের রেখে যাওয়ায় সফলতা আবারো পুনরুদ্ধারে এই পরিষদ যথাযথ ভুমিকা রাখবে বলে আশা করেন। মুহম্মদ আব্দুর রশিদ জানান- কুষ্টিয়া জেলা, জাতীয় ও আন্তজার্তিক ক্রীড়াঙ্গনে উত্তরোত্তর আরও বেশি সুনাম, সফলতা ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখুক, এই কামনা আমরা  দেশে-বিদেশে যে যেখানেই বসবাস করিনা কেন সবসময় করে যাব ইনশাআল্লাহ।  নির্বাচনের আগে মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বে বিজয়ী পরিষদকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন- আমার শুভাকাক্ষীদের মধ্যে অন্যতম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দীর বিকল্প  নেই বলে মনে করি। এই পরিষদকে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী করে ক্রীড়াঙ্গনের সাবির্ক উন্নয়নে এগিয়ে  যাওয়ার লক্ষে সকল অফিসিয়াল ভোটারসহ  ক্লাব ও উপজেলার ক্রীড়া প্রেমিক কাউন্সিলারবৃন্দকে এই প্যানেলের সবাইকে ভোট দেয়ার জন্য আমার নেতৃত্বে নির্বাচিত সাবেক ও সফল নির্বাহী কমিটির  পক্ষ থেকে ক্রীড়াঙ্গনের বৃহত্তর স্বার্থে অনুরোধ জানায়।

আটিগ্রামে বন্ধন সংস্থার বৃক্ষরোপন কর্মসূচি

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, গ্রামের কাঁচা-পাকাসড়কের পাশসহ সার্বিক এলাকায় বৃক্ষরোপনের উদ্দেশ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় সভাকক্ষে বন্ধন সংস্থার উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম-সচিব এ. কে.এম টিপু সুলতান। তিনি বলেন- গাছ আমাদের প্রকৃত বন্ধু। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য হলো অক্সিজেন। আর সেই অক্সিজেন আমরা গাছ থেকে পায়। গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর ও মনোরম করতে গাছের কোন বিকল্প নেই। বন্ধন সংস্থা যে গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এতে আমরা সকলেই যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করবো। তিনি আরো বলেন, গ্রামের মানুষের উন্নয়ন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক কর্মকান্ড, গ্রামের পরিবেশ সুন্দর করার লক্ষে আসুন আমরা সকলেই এগিয়ে আসি। আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে জন্মস্থানকে ভালোবাসি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন হোসেন, বন্ধন সংস্থার পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন বন্ধন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক তাহাজ্জেল হোসেন, আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খিলাফত হোসেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বন্ধন সংস্থার সভাপতি আব্দুল আলীম, কো-অডিনেটর ওবাইদুল হক, মাঠ সংগঠক খাইরুল আলম, আব্দুল লতিফ, আটিগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার, আহসানউল্লাহ, আব্দুস সালাম, রুবিনা খাতুন প্রমুখ। আলোচনা সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে প্রথম ধাপে আটিগ্রাম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাস্তায় ১ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষুধি গাছের চারা রোপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত-৩

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক নারীসহ ৩জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় আরফান আলী (৪৫) নামে একজন দৌলতপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত মঙ্গলবার উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় এজাহার দায়ের হলেও দৌলতপুর থানা পুলিশ গতকাল শনিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা নেয়নি বলে অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, কোদালিয়া গ্রামের মৃত সাদ আলীর ছেলে আরফান আলী ঘটনার দিন সকাল ৭টার দিকে একই এলাকার রিপনের গুদামে পাট বিক্রয় করে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা শাহারুল, রইচ, হাবেদ, সজিব, আশিক, মুকুল ও মুক্তার তার ওপর হামলা চালায়। এসময় হামলাকারী প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আরফান আলীকে বেধড়ক মারপিট করে। আরফানের ওপর হামলার খবর পেয়ে চাচাতো ভাই রানা (৩০)ও বোন জনতা খাতুন (২৫) ঘটনাস্থলে ছুটে এসে হামলাকারীদের বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও মারপিট করা হয়। আরফান আলী ও তার ভাই-বোনদের চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে হামলাকারী প্রতিপক্ষরা ঘটনাস্থল থেকে নির্বিঘেœ চলে যায়। যাওয়ার সময় তারা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। হামলায় ৩জন আহত হলে আরফান আলীকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বাঁকী আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়। হামলার এ ঘটনায় আরফানের ভাতিজা মহিদুল ঘটনার দিন দৌলতপুর থানায় এজাহার দিলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগকারীরা গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছে।

বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও শহর শাখার আংশিক কমিটি গঠন

গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া  জেলা শাখার জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল। সভা শেষে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কার্যক্রম আরো বাড়াতে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও কুষ্টিয়া শহর শাখার কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া, সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন কৃষ্ণ শীল এই কমিটি অনুমোদন দেন। এতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় শাখায় সাংবাদিক আবু মনি সাকলায়েন এলিনকে সভাপতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লাল্টু রহমানকে সাধারন সম্পাদক করে ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষনা করেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন কায়সার হোসেন সোহেল সিনিয়র সহ-সভাপতি, মিঠুন কৃষ্ণ শীল যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, তরিকুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক। শহর শাখায় সমাজ সেবক মাহফুজ্জামান তিতাসকে সভাপতি, সাংবাদিক এমদাদুল হক মিলনকে সাধারন সম্পাদক করে ৫ সদস্যদের আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়। শহর শাখার অন্যান্য সদস্যরা হলেন আব্দুল বারেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, জাহিদ হাসান যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, রজনীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কমিটি ঘোষনা করা হয়। উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির কুষ্টিয়া  জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রাব্বি আলামিন, সাংগঠনিক সম্পাদক অনজন শুভসহ জেলা শাখার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কাল কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ম. আ রহিমের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজ সংবাদ ॥ আগামীকাল ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার কুষ্টিয়া  পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ম. আ রহিমের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য পারিবারিক উদ্যোগে ৭ সেপ্টেম্বর বাদ আসর কুষ্টিয়া শহরস্থ আড়ুয়াপাড়া ছাখাবী মসজিদে মিলাদ মাহ্ফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মিলাদ মাহ্ফিলে উপস্থিত থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য পৌরবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।  উলে¬খ্য, ব্যক্তি জীবনে অমায়িক সজ্জন ও সদালাপী ম. আ রহিম ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জানুয়ারি তিনি আড়ুয়াপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক জেহের আলী মন্ডল ও ময়জান নেছার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বেলা  থেকেই তিনি সমাজ সেবামূলক ও সাংস্কৃতি কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন। পঞ্চাশ থেকে ষাটের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি মোহিনী মিল রঙ্গমঞ্চ ও পরিমল থিয়েটারের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এ দু’টি প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু নাটকেও তিনি সফলভাবে অভিনয় করেন। ষাটের দশকের প্রথম দিকে তিনি “পাকিস্থান যাদুকর পরিষদ” এর রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি ছিলেন (কুষ্টিয়া তখন রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত ছিল)।  সে সময় পাকিস্থানের খ্যাতনামা যাদুশিল্পী আলাদীনের ছাত্র হিসেবে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মঞ্চে ম্যাজিক প্রদর্শন করেন। ১৯৬০-১৯৬১ সময়ে তিনি পাঠাগার, সংস্কৃতি ও সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে “মিতালী পরিষদ” প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া ট্রান্সপোর্ট সিন্ডিকেট এর সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বিআরটিসি’র খুলনা বিভাগীয় পাবলিক ডাইরেক্টর ছিলেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধি হিসাবে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। ১৯৫২ সাল থেকে তিনি প্রকাধিক মেয়াদে  পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনারে ছিলেন। এছাড়াও ১৯৬৪’র  ফেব্র“য়ারি থেকে ১৯৭১ এর মার্চ পর্যন্ত তিনি মিলপাড়া ওয়ার্ড  চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এবং দুই দফায় ১৯৭৪ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকার পি.জি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। উলে¬খ্য, তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই পুত্র, দুই কন্যা রেখে যান। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র  মোঃ আখতারুজ্জামান ব্যবসায়ী ও পরিচালক দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এবং মন্ডল ফিলিং স্টেশন এর মালিক। কনিষ্ট পুত্র হাসান জামান লালন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জি.এস ছিলেন তিনি ১৯৯৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের দার্জিলিংয়ের এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সাবেক পরিচালক মোঃ রাকিবুজ্জামান সেতুর দাদা।

আলমডাঙ্গা শালিকায় অনৈতিক কাজের অভিযোগে জড়িত তিন পরিবারকে উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ অনৈতিক কাজে জড়িত আলমডাঙ্গার শালিকা গ্রামের তিন পরিবারকে উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল বিকেলে শালিকা মোড়ে সুশীল সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা শালিকা দক্ষিণপাড়ার চিহ্নিত তিন পরিবারের উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন ও আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন- আসমানখালীর শালিকা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আব্দুল মজিদের মেয়ে বিলকিস খাতুন, আসাদ আলীর স্ত্রী রজিনা খাতুন ও আয়ুব আলীর মেয়ে রিতা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে আসছে। একাধিকবার সালিস বৈঠকে তাদের অনৈতিক কাজ বন্ধ করার জন্য বলা হয়। অথচ তারা এ কথা কর্ণপাত না করে নিজেরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলে-মেয়ে ও যুবতীদের নিয়ে এসে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে মামলা-অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে। চিহ্নিত দেহ ব্যবসায়ীদের গ্রাম থেকে দ্রুত উচ্ছেদ করে ধ্বংসের হাত থেকে সমাজ রক্ষায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পুলিশের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।

ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, বেশকয়েক বছর যাবৎ তিনটি পরিবার গ্রামে অনৈতিক কাজ করে আসছে। ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার সালিস বৈঠক করেও তাদের কোনো পরির্বতন হয়নি। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন নিয়ে এসে অনৈতিক কাজ করায় আমাদের গ্রামের বদনাম ছড়ায়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক বলেন, সমাজের কোনো কথা না মেনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে যুব সমাজসহ আমরা সোচ্চার হয়েছি। অসামাজিক কাজকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ায় আমি তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বলেন-গ্রামে  কোনো প্রকার অন্যায় অপকর্ম হতে দেবো না। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাদের উচ্ছেদ করে গ্রামে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। যুবনেতা আব্বাস উদ্দীন বলেন- আমরা বেশ কয়েকবার তাদের সুপথে আসার সুযোগ দিয়েছি। আর তারা সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছে।

মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নওশাদ আলী, মেহের আলী, নজ্জেশ আলী, গিয়াস উদ্দীন, রাজা হোসেন, নাজিরুল ইসলাম, ইমরুল  হোসেন, সেলিম রেজা, আনারুল হক, সিরাজুল ইসলাম, খবির উদ্দীন, আলমগীর হোসেন, জমির উদ্দীন, জুরাইল ইসলাম, ডালিম  হোসেন, বিল¬াল হোসেন, মিনারুল ইসলাম, আমজেদ আলী মিয়া, বক্তিয়ার হোসেন, আজিজুল হক, সিহাব উদ্দীন, মুলাম হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ, মতিয়ার  হোসেন, ইমন হোসেন, লিটন আলী, তোতা মিয়া, টিপু সুলতান, বকুল হোসেন, রুবেল হোসেন, রাজন আলী, টুটুল মিয়াসহ এলাকার সকল সুধীজনেরা।

 

মুক্তিযোদ্ধা আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যুতে সোহরাব উদ্দিনের শোক

স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নম্বর  সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। আবু ওসমান চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও সাবেক সংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। পাশাপাশি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু ওসমান চৌধুরী মারা যান। তার ব্যক্তিগত সহকারী আবুল বাশার গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবু ওসমান  চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। স্মৃতিশক্তিও ক্রমে লোপ পাচ্ছিল তার। এক সপ্তাহ আগে অসুস্থ অবস্থায় তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর তার নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে তার ব্রেন টিউমারও ধরা পড়ে। ১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মদনেরগাঁও গ্রামে জন্ম হয় আবু ওসমান চৌধুরীর। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ১৯৫৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। ১৯৬৮ সালের এপ্রিল মাসে তিনি পদোন্নতি পেয়ে মেজর হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.)আবু ওসমান চৌধুরী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মেজর হিসেবে কুষ্টিয়ায় কর্মরত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আওয়ামীলীগ নেতা, অতঃপর …

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে অনৈতিক কাজের সময় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা গণ-ধোলায়ের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পৌর এলাকার বন্ডবিল গ্রামে ঘটেছে। এই অনৈতিক কর্মকান্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে, আলমডাঙ্গার পৌর এলাকার বন্ডবিল ঈদগাহ পাড়ার প্রবাসি মোমিন দীর্ঘ ৭ যাবৎ মালেশিয়ায় কর্মরত আছে। এরই সুযোগে তার স্ত্রী খাদেজা খাতুন (৩২) ও একই এলাকার গাংপাড়ার নেকবার আলীর ছেলে সাফায়েত (৪২) এর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময় খাদিজার স্বামী বাইরে থাকার সুযোগে সাফায়েত তার বাড়িতে যাতায়াত করে। বিষয়টি স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এই সম্পর্কের মাঝে তারা দুজনে খাদেজার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে অনৈতিক কাজে মিলিত হয়। রাত ২টার দিকে অনৈতিক কাজের সময় এলাকাবাসী হাতে-নাতে আটক করে সাফায়েত ও খাদিজাকে। এলাকাবাসী গৃহবধূর সন্তানের কথা চিন্তা করে সাফায়াতকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রেখে মীমাংসার চেষ্টা করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সকালে স্থানীয়ভাবে মিমাংশের চেষ্টা চালালেও স্থানীয় মন্ডল ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দুজনই গা ঢাকা দেয়। এই ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৫ হাজার টাকা লোনে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও দুই লক্ষ টাকা পাওনা দাবি

টাকা চেয়ে না পাওয়ায় মাথা ফাটালো সুদে কারবারি

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ মুদিখানা দোকানের মালামাল ক্রয়ের জন্য শিপন বিশ্বাস দুই বছর আগে ১৫ হাজার টাকা সুদে লোন নেন। গত দুই বছরে তিনি পরিশোধ করেছেন ৫০ হাজার টাকারও বেশি। তারপরও সুদে কারবারি তার নিকট দুই লক্ষ টাকা দাবি করে না পেয়ে শিপনের মাথা ফাটিয়েছেন সুদে মহাজন আলম সর্দ্দারসহ তার পরিবারের অন্যরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বল্লভপুর সেট বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আহত ব্যক্তির ছোট ভাই লিটন বিশ্বাস বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে সুদে করে ১৫ টাকা নিয়েছিল এলাকার সুদে ব্যবসায়ী মহন সর্দ্দারের ছেলে আলমের কাছ থেকে। এরপর বিভিন্ন সময়ে দুই বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়। ৫০ হাজার টাকা দেয়ার পর আলম আরো দুই লক্ষ টাকা দাবি করে নিয়মিত অত্যাচার করে আসছিল। অত্যাচারের ভয়ে দোকান ফেলে ঢাকা পালিয়ে যায় আমার ভাই। কিন্তু করোনার কারনে বাড়ি এসে আর ঢাকা যাওয়া হয়নি। শুক্রবার বিকেলে বল্লভপুর সেট বাজার এলাকায় একটি দোকানে বসেছিল শিপন। সেই আলম সুদে ব্যবসায়ী মহন সর্দার আমার ভাইকে দোকানের আড়ালে  ডেকে নিয়ে গেলে আলম সর্দার হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় সাইফুল ও কালাম সর্দার উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, পূর্ব শক্রতার জেরে একজনকে মারপিট ও কুপিয়ে জখম করার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া জেলা আ’লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ দলীয় নেতাদের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের দুই বারের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা পরিষদের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার ও যুগ্ম সম্পাদক আল মোর্শেদ শান্ত। ’৭৫ পরবর্তি সময়ে সদর খান গরু জবাই করে উৎসব করেছিলেন এমন গুরুতর অভিযোগ এনেছেন লিখিত অভিযোগে। শনিবার লিখিত অভিযোগ পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করে তিনি তদন্তপুর্বক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন। দুই পৃষ্ঠার চিঠিতে সদর খানের বিরুদ্ধে বিএনপি, জাতীয় পার্টির রাজনীতি করা থেকে শুরু করে সম্পদ দখল ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্বাধীনতা উত্তরকালে সদর উদ্দিন খান জাসদ গণবাহিনীতে যোগ দেন। তার বিরুদ্ধে হিন্দু সম্পত্তি দখলসহ আরো নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, স্বাধীনতা উত্তরকালে সদর উদ্দিন খান খোকসা উপজেলার চর বিহারীয়া গ্রামের পূর্ণ বিশ্বাসের ছেলে প্রতাব বিশ্বাসকে অপহরণ করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন। এতে উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ প্রাণ ভয়ে ভারতে চলে যান। চিঠিতে বলা হয়েছে জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করলে সদর উদ্দিন খান ওই দলে যোগ দেন। তিনি উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সদর উদ্দিন খানের নেতৃত্বে তার ক্যাডার বাহিনী শোমসপুরসহ খোকসার বিভিন্ন ইউনিয়নে মানুষ বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার চালান। ওই বাহিনীর চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে অসংখ্য হিন্দু পরিবার দেশ ত্যাগে বাধ্য হন। জিয়াউর রহমানের পতনের পর এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে সদর উদ্দিন খান বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। সেময় তার নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর নির্মম অত্যাচার চলে। আওয়ামী লীগের সভায় হামলা, কার্যালয় ভাঙচুরসহ নেতাকর্মীদের মারধোরের ঘটনা ঘটে। চিঠিতে অভিযোগ করা করা হয়, পুলিশের বিশেষ শাখার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সদর উদ্দিন খান ১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। এর পর নানা কৌশলে সদর উদ্দিন খান কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। এ পদ পাওয়ার পর তিনি আরো বেপরোয়া ওঠেন। চিঠিতে অভিযোগ করা হায় তিনি সভাপতি হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে যাওয়া অনেক আওয়ামী লীগে নেতাকর্মীকে গুম করে দিয়েছেন। এর মধ্যে খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহাব্বত হোসেন দুলাল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মাজেদ, সদস্য নুরুল ইসলাম রয়েছেন। এতে আরো অভিযোগ করা হয় সদর উদ্দিন খানের ছোট রহিম উদ্দিন খান, ভাইপো রবিন খান ও ইমরান খান এলাকায় মাদক ব্যবসা, রেল লাইনের পাত চুরি, নারী ধর্ষন, ভূমি দখলসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বাবুল আখতার এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার প্রসঙ্গে বলেন,‘ সদর খান এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। যেই তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই বলুক তাকেই নানা ভাবে হয়রানী করেন তিনি। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। খোকসার সাধারন মানুষ তাকে ঘৃণা করে। আমরা যে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি তা শতভাগ সত্য। এখানে কোন মিথ্যা অভিযোগ নেই। এলাকার মুরুব্বীদের সাথে কথা বললেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে।’

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর  সৈনিক শেখ হাসিনার সৈনিক। আমি খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। তার আমার বিরুদ্ধে এমন হাস্যকর অভিযোগ করে লাভ হবে না।’ তিনি বলেন, খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে শিঘ্রই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে।’ উল্লেখ, সদর উদ্দিন খান পরপর দুই বারবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি টানা খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে ছিলেন। টানা তিনবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান। বাবুল আখতার দীর্ঘ সময় সদর খানের কমিটির সাধারন সম্পাদক ছিলেন। এক সাথে রাজনীতি করেছেন। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের আগে নানা কারনে বিরোধ তৈরি হয় দু’জনের মধ্যে।’

দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাসহ ৩টি মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফিলিপনগর মরিচা ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা কমিটির সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাসহ ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। ৫ লক্ষ টাকা প্রতারণা করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমলী আদালতে দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছে যার সি আর মামলা নং ২৬৭।

মামলার বাদী ফিলিপনগর মরিচা ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. শামসুল আলম মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছেন ২০১৫ সালে ওই কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন তাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন। এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন টাকা নিয়ে কুষ্টিয়া পুনাক রেষ্টুরেন্টে আসতে বললে বাদী ১৭/৭/২০১৫ তারিখে মামলার স্বাক্ষী এস এম বিদ্যুৎ ও আব্দুল মালেককে সাথে নিয়ে দুপুরে উপস্থিত হয়ে আসামীকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। ২৩/৩/২০১৬ সকালে ফিলিপনগর মরিচা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাদী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন কিন্তু তাকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ না দিয়ে অন্য একজনকে ওই পদে নিয়োগ দেন। বাদীর ধারনা মোটা অংকের টাকা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাদীর নিয়োগ না হলে দুই স্বাক্ষী এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনের কাছে টাকা ফেরৎ চায়। তখন আসামী সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখায় তার নিজ নামীয় হিসাব নং ৩৪০০৪৭৫৯ এর ৫ লক্ষ টাকার একটি চেক স্বাক্ষী আব্দুল মালেককে প্রদান করেন। কিন্তু ব্যাংকে ৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করতে গেলে বাদী জানতে পারেন ওই হিসাবে কোন টাকা নেই। এ কথা এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনকে জানালে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন টাকা চাইলে কলেজ থেকে তোমাকে সাসপেন্ড করে দেব। এরপর বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ১০/৮/২০২০ এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনকে ফিলিপনগর মরিচা ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। ১৪/৮/২০২০ তারিখে বাদী স্বাক্ষীদের সাথে নিয়ে আসামীর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঘুষের টাকা ফেরৎ চাইলে টাকা না দিয়ে বাদীকে জীবন নাশের হুমকি দেন। প্রতারণার মামলাসহ পৃথক ৩টি মামলার বিষয়ে এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনের বক্তব্য মোবাইলফোনে নেয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইলফোন রিসিভ করেননি। প্রতারণার মামলাটি পরিচালনা করছেন কুষ্টিয়া বারের সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড. আব্দুল বারী। এর আগে গত ১৮/০৮/২০২০ তারিখে এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনের নামে ফিলিপনগর মরিচা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ দু’টি মামলা দায়ের করেন। মামলা দু’টির মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪/২৫/২৯/৩১/৩৫ ধারা এবং দন্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭০/৪৭১/৩৮৬/৫০৬ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফিলিপনগর মরিচা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নানের মামলা দায়ের করার আগে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনকে স্বাক্ষী করে তার ভাগ্নে ওয়ালিউল আলম শাওন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফিলিপনগর মরিচা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নান, একটি অনলাইন পোর্টালের প্রধান নির্বাহী তাশরিক সঞ্চয়সহ ৩জনের নামে মামলা করেন।

কঠোর নিরাপত্তা ও উতসবমুখর পরিবেশে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন সম্পন্ন

এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বাধীন কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার ২০২০-২০২৪ নির্বাচনে “কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদ” নামে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বাধীন পরিষদ পুর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়েছে। গতকাল শনিবার দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্যাভিলিয়নে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।  জেলার ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক এবং ক্রীড়ামোদীদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম মিলন মেলায় পরিনত হয়েছিল। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাধারন সম্পাদক এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী সকলের সহযোগিতায় জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরো উপরে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। পরাজিত প্যানেলের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী আমজাদ আলী খান নব-নির্বাচিত সাধারন সম্পাদকসহ নির্বাচিত পরিষদকে অভিনন্দন জানিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সর্বাত্বক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। নির্বাচনে প্রথমবারের মত ভোট দিতে এসেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক কাজী হাবিবুল বাশার সুমন। সাথে ছিল বাংলাদেশ দলের ওপেনার সুমনের সতীর্থ ছানাউর। সুমন জানান- প্রথমবারের মত নিজ জেলার ক্রীড়া সংস্থায় ভোট দিতে পেরে নিজেকে অন্যরকম মনে হচ্ছে। তিনি জানান- জেলার ক্রীড়া ক্ষেত্র উর্বর। যারা নির্বাচিত হয়ে আসবেন তারা নিশ্চয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য কাজ করে দৃষ্টান্ত রাখবেন। ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন ও পুলিশ সুপার এস.এম তানভীর আরাফাত। জেলা প্রশাসক ডিএসএ’র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করায় সকলকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যারা কাজ করবেন ভোটাররা তাদেরই বেছে নিয়ে জয়যুক্ত করবেন। তিনি বলেন- সকলকে জেলার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নিবেদিত হয়ে কাজ করতে হবে। জেলার ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আরো বেশি কর্মসুচী হাতে নিতে হবে। পুলিশ সুপার এস,এম তানভীর আরাফাত বলেন- উৎসবমুখর পরিবেশে সকলের অংশগ্রহনে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিতই বলে দেয় জেলার ক্রীড়াঙ্গনের মানুষেরা কতখানি আন্তরিক। ক্রীড়াঙ্গনকে আরো বেশি ব্যস্ত রাখতে নির্বাচিত পরিষদ আরো উদ্যোগী হবেন বলে আশা রাখি। তিনি বলেন- যত বেশি ক্রীড়াঙ্গনকে সচল রাখা যাবে তত বেশি যুবসমাজ উপকৃত হবে সেই সাথে জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের ৩১টি পদ। এর মধ্যে পদাধিকার বলে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সভাপতি, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার ও কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সহ-সভাপতি এবং কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া অফিসার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ নির্বাচনে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদ নামে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বাধীন প্যানেলে সহ-সভাপতি প্রার্থী জহুরুল হক চৌধুরী রনজু, আলী হাসান মন্টা, মকবুল হোসেন লাবলু ও সেখ সুলতান আহমেদ, যুগ্ম-সম্পাদক প্রার্থী পারভেজ আনোয়ার তনু ও খন্দঃ সাদাত-উল আনাম পলাশ এবং কোষাধ্যক্ষ প্রার্থী লিয়াকত আলী খান বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর প্রাপ্ত ভোট-৫১। অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে এ্যাড. মোসাদ্দেক আলী মনি প্রাপ্ত ভোট ৩৯। নির্বাহী সদস্য পদে যথাক্রমেÑ সামসুদ্দিন বিশ্বাস সামু ৪৫ ভোট, কাইয়ুম নাজার ৫০ ভোট, খোকন সিরাজুল ইসলাম ৫২ ভোট,  আনিসুর রহমান আনিস ৫১ ভোট, স্বপন কুমার সাহা শংকর ৫২ ভোট, হাবিবুর রহমান বাপ্পি ৪৩ ভোট, মীর আয়ুব হোসেন ৪৭ ভোট, রাশিদুজ্জামান খান (টুটুল) ৫৪ ভোট, সাব্বির  কাদেরী সবু ৫০ ভোট, আলমগীর কবির হেলাল ৫৩ ভোট, আতাউর রহমান (মিঠু) ৫৩ ভোট, জাহাঙ্গীর আলম ৫২ ভোট, কাজী এমদাদুল বাশার রিপন ৫৩ ভোট ও শেখ কৌশিক আহমেদ ৪৯ ভোট। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আল হামরা বেগম ৩৫  ভোট ও আফরোজা আক্তার ডিউ ৫১ ভোট এবং সংরক্ষিত উপজেলা সদস্য পদে আলহাজ্ব শামীমুল ইসলাম ছানা ৪৫ ভোট ও মোহাম্মদ আলী নিশান ৪৩ ভোট।

পরাজিত সাধারন সম্পাদক প্রার্থী আমজাদ আলী খান পেয়েছেন ১৫ ভোট। অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদক প্রার্থী খন্দকার ইকবাল মাহমুদ পেয়েছেন ২৫ ভোট, নির্বাহী সদস্য পদে পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পান মীর সাইফুল ইসলাম ৩৪ ভোট, সাইফুল ইসলাম পান্না ২১ ভোট, কাজী সাইদুর রহমান নিশা ২৩ ভোট, কাজী মিজানুর রহমান লিটন ২১ ভোট, হাসেম আলী ২১ ভোট,  রেজাউর রহমান ২৮ ভোট এবং মেহেরুন নেছা বিউটি ৩১ ভোট পেয়েছেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভোটার ৬৮জন। এদের মধ্যে পৌর মেয়র আনোয়ার আলী এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য আল হামরা বেগম অসুস্থ্য থাকায় ভোট দিতে আসেননি। মোট ৬৬ ভোট পোল হয়েছে। মহিলা সদস্য পদে ২টি ভোট বাতিল হয়েছে বলে জানা যায়। নির্বাচন কমিশনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম সার্বক্ষনিক ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করেন। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন ভুমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কানিজ ফাতেমা লিজা। উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সবুজ হাসান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুৎফুন্নাহার। নির্বাচনকালীন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছিল। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সারাদিন ষ্টেডিয়ামে এলাকায় ক্রীাবিদ, ক্রীড়া সংগঠক ক্রীড়ামোদী ও সাংবাদিকদের বিচরন ছিল লক্ষ্যনীয়। শান্তিপুর্ন পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় নির্বাচন কমিশনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফুজ্জামান সকল মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, প্রার্থী এবং ভোটারদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশের পর বিজয়ী সাধারন সম্পাদকসহ সকলকে ফুলে মালা দিয়ে বরন করে নেন ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়া সংগঠকেরা। সন্ধ্যা ৬টায়  দিকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোঃ আসলাম হোসেনের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটানিং অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কানিজ ফাতেমা।

 

 

গ্রেফতার হলো সুশান্তের প্রেমিকা রিয়ার ভাই

বিনোদন বাজার ॥ সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর মামলায় নতুন মোড় এনেছে মাদক। এই মামলার জের ধরে আলোচনায় ওঠে এসেছে বলিউডে মাদকের ছড়াছড়ির বিষয়টি। সেই তদন্তে নেমে গ্রেফতার করা হয়েছে সুশান্তের প্রেমিকা অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর ভাই শৌভিক ও সুশান্তের ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডাকে। ৪ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়ার বাড়িতে হানা দিয়েছিল নারকোটিক্স কন্ট্রোল বুরোর (এনসিবি) একটি দল। স্যামুয়েলের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় তারা। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শৌভিক ও স্যামুয়েলকে নিয়ে যাওয়া হয় এনসিবি-র দফতরে। প্রথমে আটক করা হয়েছিল তাদের, পরে রাতে গ্রেফতার করা হয় দু’জনকে। রিয়ার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মাধ্যমেই সুশান্তের মৃত্যু তদন্তের মধ্যে মাদক যোগের বিষয়টি সামনে আসে। এই সংক্রান্ত তথ্য ইডির তরফে পাঠানো হয় সিবিআই ও এনসিবি’র কাছে। এর পরে বলিউডে ও মুম্বাইয়ের অভিজাত মহলে মাদক যোগের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন এনসিবি’র গোয়েন্দারা। মাদক চক্র খুঁজতে গিয়ে এনসিবি ইতিমধ্যেই জায়িদ ভিলাত্রা ও আবদুল বাসিত পারিহার নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। কাইজান ইব্রাহিম নামে আর এক ব্যক্তিকেও ৪ সেপ্টেম্বর থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন গোয়েন্দারা। এদিকে আদালতে রিয়ার ভাইয়ের প্রসঙ্গে এনসিবি’র আধিকারিকেরা পরে জানান, ওই বাড়ি থেকে বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করেছেন তারা। শৌভিকের ল্যাপটপও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তৈমুরের সিনেমায় অভিনয় নিয়ে যা বললেন কারিনা

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। অভিনেতা সাইফ আলী খানের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে তার একমাত্র সন্তান তৈমুর। তবে খুব শিগগির দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। এদিকে ছোট হলেও মিডিয়ায় সবসময়ই আলোচনায় থাকে তৈমুর। আর তারকা সন্তানদের অনেকেই বড় হয়ে রুপালি জগতে নাম লেখান। তৈমুরও কি সেই পথে হাঁটবে? এ প্রসঙ্গে কারিনা কাপুর বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রত্যেকের ভাগ্যে যা আছে এবং তাদের যা প্রাপ্য তারা তা পাবেন। তৈমুর দেশের সবচেয়ে বড় তারকা হবে এমনটা নয়। সে নাও হতে পারে। হতে পারে তার ছবি সবচেয়ে বেশি তোলা হয়, যে কারণই হোক, আমি জানি না ভবিষ্যতে কি হবে। আমি চাইব, আমার ছেলে স্বাবলম্বী হোক। সে জীবনে যা করতে চায় করবে। রাঁধুনী অথবা বিমানচালকÑ যা খুশি হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাই তৈমুর জীবন উপভোগ করুক ও সুখে থাকুক। তার বাবা-মা সফল মানেই সে সফল হবে তা কিন্তু নয়। তার ইচ্ছে মতো সে ক্যারিয়ার শুরু করবে। তাকে নিজের পথ বেছে নিতে হবে। মা-বাবা তাকে কোনো পথ বেছে দেবে না।’ কারিনা অভিনীত পরবর্তী সিনেমা ‘লাল সিং চাড্ডা’। এতে আমির খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন সিনেমাটির শুটিং বন্ধ ছিল। খুব শিগগির আবার শুটিং শুরু হবে বলে জানা গেছে।

পবন ভক্তের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাম চরণ-আল্লু অর্জুন

বিনোদন বাজার ॥ গত ২ সেপ্টেম্বর ছিল দক্ষিণী সিনেমার অভিনেতা পবন কল্যাণের জন্মদিন। প্রিয় অভিনেতার জন্মদিনের ব্যানার টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় তিন ভক্ত, আহত হয় আরো তিনজন।  গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অন্ধ্রপ্রদেশের কুপাম-পালামানেরু হাইওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভক্তদের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে মর্মাহত হয়েছেন পবন কল্যাণ। পরে মৃতের পরিবারকে অর্থসাহায্যেরও ঘোষণা দিয়েছেন এই অভিনেতা। এদিকে দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রাম চরণ ও আল্লু অর্জুনও মৃতের পরিবারকে অর্থসাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লু অর্জুন এক টুইটে লিখেছেনÑএক দুর্ঘটনায় আমাদের পবন গুরুর ভক্ত মারা গেছেন। তাদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আমি তাদের প্রত্যেক পরিবারকে ২ লাখ রুপি অর্থসহায়তা দিয়ে সহযোগিতা করতে চাই। অন্যদিকে রাম রচণ এক টুইটে লিখেছেনÑকুপামে যা ঘটেছে তা চূড়ান্তভাবে হৃদয়বিদারক। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। যে পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা। জানি, এই জীবনের মূল্য দিতে পারবো না। কিন্তু এই দুঃসময়ে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই। প্রত্যেক পরিবারকে আড়াই লাখ রুপি অর্থসহায়তা করবো। পবন কল্যাণ দক্ষিণী সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা চিরঞ্জীবীর ছোট ভাই। রাম চরণের কাকা। অন্যদিকে অভিনেতা আল্লু অর্জুন রাম চরণের মামাতো ভাই।

সুশান্তের ফার্মহাউসে প্রায়ই জেতেন সারা

বিনোদন বাজার ॥ প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। ‘কেদারনাথ’ সিনেমায় সারা আলীর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। সেই সময় তাদের প্রেমের গুঞ্জনও চাউর হয়। তবে পরবর্তী সময়ে তাদের ব্রেকআপ হয় বলে জানা যায়। সম্প্রতি সুশান্তের সাবেক সহকারী সাবির আহমেদ জানান, সারাকে নিয়ে ব্যাংকক গিয়েছিলেন সুশান্ত। কিন্তু, বেড়াতে গেলেও হোটেল থেকে বের হননি তারা। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ভারতে ফিরে আসেন। এদিকে সুশান্তের লোনাভালা ফার্মহাউসের কেয়ারটেকার হিসেবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গত জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন রইস। তিনি জানিয়েছেন, ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ সিনেমাখ্যাত এই অভিনেতার ফার্মহাউসে প্রায়ই জেতেন সারা। তবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর আর যাননি। তিনি বলেন, ‘সারা সুশান্ত স্যারের সঙ্গে ফার্মহাউসে আসতেন। যখন আসতেন তিন-চার দিন থাকতেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকক ভ্রমণ শেষে তারা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফার্মহাউসে আসেন। তারা রাত ১০-১১টার দিকে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে একজন বন্ধুও ছিল।’ সুশান্ত ও সারার মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সুশান্ত স্যার সারা ম্যাডামকে প্রস্তাব দিতে চেয়েছিলেনÑ এমনটা আমি শুনেছি। তিনি তার জন্য উপহার অর্ডার করেছিলেন। দামান ভ্রমণে তিনি এটি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এরপর কেরালায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও হয়নি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে শুনি, তাদের ব্রেকআপ হয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর সারা ম্যাডাম আর ফার্মহাউসে আসেননি।’ সারাকে কি বিয়ের প্রস্তাব দিতে চেয়েচিলেন সুশান্ত? প্রশ্ন করা হলে রইস বলেন, ‘এটি বিয়ের প্রস্তাব না অন্য কিছু আমি বলতে পারব না। কারণ, আমি সুশান্ত স্যারের দুই বন্ধুকে আলোচনা করতে শুনেছি, সারা ম্যাডামকে উপহার ও প্রস্তাব দেওয়া হবে। কিন্তু প্রস্তাবটা কিসের তা জানি না।’

চীনা শিল্পপণ্য ও যুদ্ধাস্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ

বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের ক্ষেত্রে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার বাজার চীনা পণ্যের দখলে। তবে দু’দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর চীনা পণ্য বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত চীনা পণ্যের একচেটিয়া বাজার। এর আগে জাপান, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ  কোরিয়ার পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল বাংলাদেশ। গত এক দশক তা এখন চীনের দখলে। এর প্রধান কারণ- দেখতে একই রকম পণ্য তারা অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করে। এতে ক্রেতার চেয়ে অবশ্য ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন। একই পণ্য কম দামে তারা চীন থেকে  তৈরি করিয়ে এনে বিরাট মুনাফা করছেন। তবে এতদিনে ক্রেতা সাধারণ একটা জিনিস বুঝে গেছে- চীনা পণ্য মানেই স্বল্প স্থায়ী বা ঠুনকো। এটা শুধু ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের বেলায় প্রযোজ্য নয়, অস্ত্র এবং গোলা বারুদের বেলায়ও সমানভাবে প্রযোজ্য। এমনকি গন্তব্যে পৌঁছাবার আগেই তা বিকল হওয়ার নজির আছে। ২০০১ সাল পর্যন্ত চীন বাংলাদেশে একপ্রকার পরিতাজ্য ছিল। একই বছরের ১ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে জয়লাভ এবং ১০ অক্টোবর সরকার গঠন করে। এরপরই চীনের বরাত খুলে যায়। খালেদা জিয়ার সরকার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে সময় নেয়নি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে তারা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সরঞ্জামের জন্য চীনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে এসব চুক্তির দায় আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর বর্তায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে চীন পাকিস্তানের পক্ষ নেয়ায় তাদের ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধে  নেতৃত্বদানকারি দলটির নেতিবাচক মনোভাব ছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের বোঝা টানতে গিয়ে চীনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। পরবর্তীতে নিজেরাও চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ ক্রয় করে। এ ক্ষেত্রে ক্রয়ের চেয়ে ক্রয় করতে বাধ্য হয় বলা ভালো। কারণ ইতিমধ্যে মায়ানমার চীনের কাছ  থেকে দুটি সাবমেরিন ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র লাভ করে। একে হুমকি হিসেবে  দেখে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে আপত্তি জানালে চীন বাংলাদেশের কাছেও সাবমেরিন বিক্রির প্রস্তাব দেয়। এক প্রকার বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ওই প্রস্তাব গ্রহণ করে। চীনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল। কিন্তু সংযুক্ত সীমানা না থাকায় সম্প্রসারণবাদী দেশটি বাংলাদেশের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করতে পারে না। তবে তাদের এ সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে দু’দেশের সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমার। চীন এখন মিয়ানমারকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে বশে রাখার চেষ্টা করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ কারণে ধারণা করা হয় মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়নের ব্যাপারে চীনের সমর্থন ছিল। তাছাড়া যে অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গাদের উৎখাত করা হয়েছে তার কাছাকাছি এলাকায় চীন দূর সমুদ্র বন্দর তৈরি করছে। বাস্তবে চীনের অস্ত্র বা সরঞ্জাম কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে গুণগত মান। একেতো চীন বাংলাদেশের কাছে বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধ সরঞ্জামও বিক্রি করছে, অপরদিকে কোন কোন অস্ত্র নাকি চালু করার আগেই বিগড়ে যাচ্ছে। এরপরও চীন তাদের পণ্য ক্রয়ের জন্য নানারকম লোভনীয় শর্তের পাশাপাশি জুজুর ভয় দেখাচ্ছে। শুধু পুরনো নয়, চীনে তৈরি নতুন সরঞ্জাম নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চীনা নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজে কোন কারণ ছাড়া ভয়াবহ আগুন লেগে যাওয়ার পর থেকে সন্দেহের তীর শাণিত হচ্ছে। ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল সকালে, সাংহাই ডকইয়ার্ডে পিএলএ নেভির এলএইচডি’তে আগুন লাগে। প্রথমে রিয়ার হ্যাঙ্গার খোলার পরে ধোয়া বেরিয়ে আসতে দেখা যায় এবং দ্বীপের সুপার স্ট্রাকচারের কাছ দিয়ে তা উপরে উঠতে থাকে। এরপর আগুন নিভে গেলেও শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু বলেনি। দশ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির সুপার স্ট্রাকচারের কালো চিহ্নগুলি মুছে  ফেলা হয় এবং গত ২২ এপ্রিল পিএলএ নেভির নতুন মডেলের যুদ্ধ জাহাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য তা পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়। তবে  ধোঁয়ার তীব্রতা একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয় যা উল্লেখযোগ্য ক্ষতিসাধন করে থাকতে পারে। অগ্নিকাণ্ডটি নির্বাপিত হওয়ার পর চীনা শিপইয়ার্ডগুলির উপাদান, কারিগরির গুণগতমান, শিল্প সুরক্ষা রীতি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের প্রতি তাদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্নগুলি পুনরায় জাগ্রত হয়েছে। নব্বয়ের দশকে একপ্রকার খালি হাতে শুরু করে চীনের আজ শীর্ষস্থানীয় শিল্প নির্মাতা হওয়ার পিছনে দেশটির জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ব্যাপক অবদান রয়েছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পটি বেসামরিক অর্থনীতি এবং চীনের প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সের মধ্যে যোগসূত্র গড়ে তুলেছে। জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে চীন আজ বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে। চীনের শিপইয়ার্ডগুলো দ্রুততর সময়ে যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উভয় জাহাজ বিনির্মাণের যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ ব্যাপারে বেশ কয়েক বছর ধরে, বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও চীনারা তাদের শিপইয়ার্ডের দুর্বল উপাদান এবং কারিগারি অদক্ষতার অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আন্তর্জাতিক মান লঙ্ঘনের অভিযোগও কঠোরভাবে খণ্ডন করে। তবে অতি অল্প সময়ে তাদের এই অর্জন সম্পর্কে সন্দেহ (বিশেষত যুদ্ধজাহাজের নকশা ও নির্মাণের মত জটিল ক্ষেত্রে) যায়নি। একাধিক সংস্থা দেশীয়ভাবে নির্মিত পিএলএ নৌবাহিনীর জাহাজগুলির নির্মাণ ও যুদ্ধ দক্ষতা বিশ্লেষণ করার জন্য নানারকম প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তবে চীনে সরকারী-সামরিক-শিল্প জটিল জটিল কাজগুলি অস্বচ্ছভাবে করায় সঠিক মূল্যায়ন করা যায় না। এ কারণে চীনা শিপইয়ার্ডগুলোতে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য যে যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হচ্ছে তার সামর্থ্য যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পাকিস্তান সম্প্রতি চীন থেকে ৮টি ইউয়ান শ্রেণির সাবমেরিন সংগ্রহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। প্রথম চারটি সাবমেরিন চীনের শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের (সিএসওসি) অধীনে নির্মাণ করা হবে। অপর চারটি সাবমেরিন করাচি শিপইয়ার্ড এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস ( কেএসএইডব্লিউ)’তে সংযোজন করার কথা। কিন্তু করাচিতে সাবমেরিন সংযোজনের ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে জার্মানির এমটিইউ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। কারণ, এই কোম্পানির উদ্ভাবিত ডিজেল ইঞ্জিনই চীনের সাবমেরিনে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ২০০২ সালে জার্মানির এমটিইউ’র সঙ্গে চীনের নরিনকো কোম্পানি সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী চীন কেবল অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য এই মডেলের ইঞ্জিন ব্যবহার করতে পারবে। তাই জার্মানি পাকিস্তানের কাছে এই ইঞ্জিন বিক্রির ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছে। কেননা তা চুক্তি লঙ্ঘনের সামিল। বিপদ বুঝে পাকিস্তান এখন জার্মানিকে তাদের ৮টি সাবমেরিনের ইঞ্জিন রফতানির ওপর বিধিনেষেধ শিথিল করার অনুরোধ জানাচ্ছে। চীন ও পাকিস্তান উভয়ই তাদের মধ্যে ইস্পাতের মত কঠিন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দাবি করে। তবে  এই সম্পর্ক যে মোটেই স্বার্থবিহীন নয়, চীনা নির্মিত এফ ২২ পি ফ্রিগেটগুলির পুননির্মাণের অনুরোধ জানানোর সময় সেটা পরিষ্কার হয়। এই জাহাজগুলি বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ত্রুটিযুক্ত। এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনী ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে জাহাজগুলির মিড-লাইফ আপগ্রেড বা পুননির্মাণের জন্য চীনের সিএসটিএসকে অনুরোধ করে। কোন লাভ না থাকায় তারা এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে পাকিস্তান তুরস্কের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়। ২০১৯ সালের জুনে চীন শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীকে (এসএলএন) একটি যুদ্ধ জাহাজ উপহার দেয়। ২,৩০০ টনের প্রথম শ্রেণির ডিকমিনেশনড ফ্রিগেটটি শ্রীলঙ্কার কাছে হস্তান্তর করার আগে এর মিসাইল এবং সিআইডব্লিউএস সিস্টেমটি খুলে নেয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালের ২৫ জুন জাহাজটি (এসএলএনএস পরক্রমবাহু) সাংহাই থেকে যাত্রা করে। তবে এতে বড় ধরনের অপারেশনাল ত্রুটি থাকায় এটি বন্দর দিয়ে প্রবেশের আগে জরুরি মেরামতের কাজ শুরু করতে হয়েছিল। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল, এই সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করা মোট অস্ত্রের ৮২% ছিল চীন থেকে সংগ্রহ করা। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) জানায়, চীন ৩৫টি  দেশে অস্ত্র রফতানি করেছে এবং এরমধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক। চীন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। তাদের বেশিরভাগ অস্ত্র সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে। এর পাশাপাশি কিছু যুদ্ধবিমানও চীন থেকে কেনা হয়। চীন থেকে অস্ত্র কেনার মূল দুটি কারণ হচ্ছে লাভজনক ঋণ ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী মূল্য। জানা যায়, উদার ঋণ ব্যবস্থা এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ছাড়ের কারণে গত এক দশকে চীন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অস্ত্রদাতায় পরিণত হয়ে ছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চীন থেকে রেয়াতি মূল্যে কেনা দুটি ০৩৫ জি মিং ক্লাস সাবমেরিন (বিএনএস নবজাত্রা এবং বিএনএস জয়যাত্রা) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার প্রতিটি ১০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা হয়েছিল। ২০০৩ সালের এপ্রিলে পিএলএ নেভি মিং ক্লাস সাবমেরিন ৩৬১ পীত সাগরে যান্ত্রিক গোলযোগে পড়ে বলে জানা যায়। এছাড়া বাংলাদেশ  নৌবাহিনী (বিএন) চীন থেকে ২০টিরও বেশি যুদ্ধ জাহাজ সংগ্রহ করেছে। এর কয়েকটিতেও ত্রুটি ধরা পড়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী সম্প্রতি শেনজিয়া শিপইয়ার্ড থেকে দুটি চীনা যুদ্ধ জাহাজের  (বিএনএস উমর ফারুক এবং বিএনএস আবু উবাইদাহ) ডেলিভারি নিয়েছে। উভয় জাহাজ একাধিক ত্রুটি নিয়ে ২০২০ সালে মংলা বন্দর পৌঁছায়। সমুদ্রে পরীক্ষার সময়, জাহাজ দুটির নেভিগেশন রাডারে ত্রুটি ধরা পড়ে। এসব র‌্যাডার প্রয়াজনীয় উপদান সনাক্ত করতে সক্ষম নয়। এসব কারণে চীনে তৈরি পণ্য দিন দিন বিতর্কিত হচ্ছে। কোভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে অনেক ক্লায়েন্ট দেশ চীন সফর বাতিল এবং তাদের দেশে চীনা নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। যথাসময়ে উৎপাদন এখন চীনের জন্য দুঃস্বপ্ন। উহানের উচাং শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি মিলিটারি ডিজাইন ইনস্টিটিউটের অবস্থান হওয়ায় নৌ প্রকল্পগুলি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তবায়নের আওতাধীন প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে কেবল মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশ  নৌবাহিনীর জন্য রফতানি প্রকল্পে আনুমানিক ৮০০ মিলিয়ন ডলার  লোকসান হয়েছে। কোভিড-১৯-এর কারণে থাইল্যান্ড চীন থেকে ২২ বিলিয়ন ডলারের ইউয়ান ক্লাসের (টাইপ ০৪১) দুটি সাবমেরিন কেনার পরিকল্পনা বাতিল করেছে। সাম্প্রতিক একটি সিএসআইসি প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চীনের নতুন আন্তর্জাতিক শিপিং চুক্তি বাতিলেরও সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্যই ধোঁয়াশা কেটে গেলে একটি পরিষ্কার চিত্র ফুটে উঠবে। কিন্তু ততদিন চীনের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে বাধ্য ।