শিক্ষক ডা. বলাই চন্দ্র বিশ্বাসের পরলোকগমণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের আজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সাংবাদিক কাঞ্চন কুমারের ফুপা ডা. শ্রী বলাই চন্দ্র বিশ্বাস (৭০) পরোলোকগমন করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। কর্মজীবনে তিনি একজন সৎ ও মেধাবী শিক্ষক হিসাবে শিক্ষার্থীদের মন জয় করেছেন। সুমিষ্টভাষী ও পরোকারী হিসাবে এলাকায় সকলেই সু-পরিচিত ছিলেন শিক্ষক ডা. বলাই চন্দ্র বিশ্বাস। এছাড়া চাকুরী জীবন শেষে অবসর সময়ে এলাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় আমলা সদরপুর মহাশ্বশানে তার মরদেহের শেষকাজ সম্পন্ন শেষে দাহ করা হয়।  শিক্ষক ডা. বলাই চন্দ্র বিশ্বাসের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, সাবেক চেয়ারম্যান নিয়াত আলী লালু, তাহের আলী চৌধুরী, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কৃষ্ণপদ হালদার, সামসুল আরেফিন অমূল্য, সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু, উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের সহ-ধর্মীনি শেফালী আরেফিন, জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক রহজান আলী সাহেব, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, আমলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মাসুম।  এছড়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন॥ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ

আজ কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার ২০২০-২০২৪ মেয়াদী নির্বাচন আজ (শনিবার)। ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৮টায় বিরতীহীনভাবে চলবে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত। কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্যাভিলিয়ানে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৬৮জন ভোটার সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা গেছে ইতিমধ্যে নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষ্টেডিয়াম এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষনের জন্য সাংবাদিকদের নির্ধারিত কার্ড ছাড়া ভোট কেন্দ্রে প্রবেশিধার থাকবে না বলে জানা গেছে। কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের পদ রয়েছে ৩১টি। পদাধিকার বলে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সভাপতি, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার ও কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সহ-সভাপতি এবং কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া অফিসার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ কারণে ২৭টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবছর ২৭টি পদের বিপরীতে দু’টি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদ নামে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল ২৭টি পদেই প্রার্থী দিয়েছে। অপরদিকে আমজাদ আলী খাঁনের নেতৃত্বাধীন প্যানেল মাত্র ৯টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। ইতোমধ্যে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বাধীন প্যানেলের ৭ জন প্রার্থী বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হয়েছেন।

এ নির্বাচনে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদ নামে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বাধীন প্যানেলে প্রার্থী হয়েছেন সহ-সভাপতি পদে জহুরুল হক চৌধুরী রনজু, আলী হাসান মন্টা, মোঃ মকবুল হোসেন লাবলু ও সেখ সুলতান আহমেদ। সাধারণ সম্পাদক পদে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী। অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে এ্যাড. মোসাদ্দেক আলী মনি। যুগ্ম-সম্পাদক পদে মোঃ পারভেজ আনোয়ার তনু ও খন্দঃ সাদাত-উল আনাম পলাশ। কোষাধ্যক্ষ পদে লিয়াকত আলী খান।  নির্বাহী সদস্য পদে যথাক্রমেÑ মোঃ সামসুদ্দিন বিশ্বাস সামু, কাইয়ুম নাজার, খোকন সিরাজুল ইসলাম,  আনিসুর রহমান আনিস, স্বপন কুমার সাহা শংকর, হাবিবুর রহমান বাপ্পি, মীর আয়ুব হোসেন, রাশিদুজ্জামান খান (টুটুল), সাব্বির  কাদেরী সবু, আলমগীর কবির হেলাল, আতাউর রহমান (মিঠু), জাহাঙ্গীর আলম, কাজী এমদাদুল বাশার রিপন ও শেখ কৌশিক আহমেদ। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আল হামরা বেগম ও আফরোজা আক্তার ডিউ এবং সংরক্ষিত উপজেলা সদস্য পদে আলহাজ্ব শামীমুল ইসলাম ছানা ও মোহাম্মদ আলী নিশান।

অপরদিকে আমজাদ আলী খাঁনের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদে আমজাদ আলী খাঁন। অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে খন্দকার ইকবাল মাহমুদ। নির্বাহী সদস্য পদে যথাক্রমেÑমীর সাইফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম পান্না, কাজী সাইদুর রহমান নিশা, কাজী মিজানুর রহমান লিটন ও হাসেম আলী। সংরক্ষিত উপজেলা সদস্য পদে রেজাউর রহমান এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে মেহেরুন নেছা বিউটি।

ইতোমধ্যে এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর নেতৃত্বাধীন প্যানেলের সহ-সভাপতি প্রার্থী জহুরুল হক চৌধুরী রনজু, আলী হাসান মন্টা, মকবুল হোসেন লাবলু ও সেখ সুলতান আহমেদ, যুগ্ম-সম্পাদক প্রার্থী পারভেজ আনোয়ার তনু ও খন্দঃ সাদাত-উল আনাম পলাশ এবং কোষাধ্যক্ষ প্রার্থী লিয়াকত আলী খান বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

গতকাল শেষ দিনে প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে শেষবারের মত ভোট কামনা করে গণসংযোগ করেছেন। ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়াবিদরা মনে করেন জেলার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ঠিক রাখতে যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে ভোটাররা ভুল করবেন না।

 

কালিশংকরপুর সার্বজনীন পূজা মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের শুভ উদ্বোধন

নিজ সংবাদ ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা স্বাধীনতা ফিরে পেতাম না। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারতো না। কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুরে বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বী সকলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বা স্বপ্ন পূরনের লক্ষ্যে কালিশংকরপুর সার্বজনীন পূজা মন্দির প্রাঙ্গণে নব নির্মিত দূর্গা মন্দিরসহ তিন তলা বিশিষ্ট নাট মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এর শুভ উদ্বোধন শেষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতার জন্ম হয়েছিলো বলে, তার সুযোগ্য কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত মমতাময়ী মা পেয়েছি। খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খান্ত হয়নি, বার বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে।  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে।  সেই সাথে আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির জন্য কুষ্টিয়ার উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকার কারো ক্ষতি চাই না, দেশে যা উন্নয়ন হয়েছে এই সরকারের আমলে। তিনি উল্লেখ্য করে বলেন, হঠাৎ করোনা ভাইরাস নামক রোগটির জন্য থমকে গেছে পুরো বিশ্ব, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে আবারো অসমাপ্ত কাজ শেষ হলে উন্নয়ন করার জায়গা খুজে পাওয়া যাবে না। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বড় বাজার সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবু বিশ্বনাথ সাহা বিশু, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মালেক ও সাধারন সম্পাদক  পৌর কাউন্সিলর পিয়ার আলী জোমারত,  হরিবাসর সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি এ্যাড. সমীর কান্তি দাস, সদর উপজেলার হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি তুহিন কান্তি চাকী ও সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ জগত, কুষ্টিয়া শহর স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক মানব চাকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালিশংকরপুর সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি  সুব্রত কুমার ঘোষ ও সাধারন সম্পাদক স্বপন কুমার  ঘোষ স্বাগত বক্তব্য দেন। সহ-সভাপতি প্রতাপ চন্দ্র ঘোষ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

 

কুষ্টিয়া ইন্সটিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি’র ছয় শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

কুষ্টিয়া ইন্সটিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নামে একটি বেসরকারী পলিটেকনিকের ছয় শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদ ও ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকার দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল ১০ টায় শহরের এন এস রোডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগে রাশনা শারমিন নামে ঐ শিক্ষিকা হয়রানি করতে প্রতিষ্ঠানের ছয় শিক্ষক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলা দায়েরে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষূন্নসহ স্বনামধন্য এই বেসরকারী পলিটেকনিকের সুনাম নষ্ট করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ের কুষ্টিয়া ইন্সটিটিউট অব সাইন্স এন্ড  টেকনোলজি’র জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর( ইলেকট্রিক্যাল) পদে কর্মরত রাশনা শারমিন নামে ঐ শিক্ষিকাকে গত ১৬ আগষ্ট দুই মাসের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়। এর দুইদিন পর ১৮ আগষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত ও তাকে ধর্ষন  চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ঐ নারী শিক্ষিকা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় চাঁদার দাবিতে সাংবাদিক লাল্টুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের হামলা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় চাঁদার দাবিতে “দৈনিক আজকের আলো” পত্রিকার ফটো সাংবাদিক লাল্টুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা দোকান কর্মচারী আব্দুর রশিদকে দোকান  থেকে বের করে দিয়ে দোকানে তালা মেরে যায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কুমারখালী উপজেলার দবির মোল্লাগেট সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাংবাদিক  লাল্টু বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, লাহিনী বটতলার মৃত দাবাড়ে খন্দকারের দুই ছেলে এলাকার  চিহিৃত সন্ত্রাসী ও এক সময়ের জেএমবি’র কমান্ডার খ্যাত খন্দকার সাজেদুর রহমান, খন্দকার মোজাফফর  রহমান, একই এলাকার মৃত মুন্দিরের ছেলে ফরহাদ হোসেন (২৭) এবং আমানুর রহমান (৪৫)সহ তাদের ক্যাডার বাহিনী গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে সাংবাদিক লাল্টুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দবির মোল্লার রেলগেট সংলগ্ন বাঁশ, খড়ি,গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। লাল্টু চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে  সন্ত্রাসীরা লাল্টুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রান নাশের হুমকি প্রদান করে বলে তুই যদি আগামীকাল(শুক্রবার) সকাল ১০টার মধ্যে চাঁদার টাকা না দিস তাহলে রক্তারক্তির ঘটনা ঘটাবো। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে পুনরায় লাল্টুর দোকানে গিয়ে তাকে না পেয়ে সন্ত্রাসী খন্দকার সাজেদুর রহমান তার  ব্যবহৃত  মুঠোফোন(০১৭০৩৮১৭২০৮) থেকে লাল্টুর ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন দিয়ে চাঁদার দাবি করে। লাল্টু পুনরায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা লাল্টুর দোকানের কর্মচারী আব্দুর রশিদকে জোরপূর্বক দোকান থেকে বের করে দিয়ে তাদের নিয়ে আসা তালা দিয়ে দোকানের শাটার নামিয়ে দোকানে তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়। সাংবাদিক লাল্টু জানান, বর্তমানে আমি প্রাণভয়ে দিন অতিবাহিত করছে। চাঁদার টাকা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা যে কোন সময় আমার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, খন্দকার সাজেদুর রহমান নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন কুষ্টিয়া জেলা জেএমবির কমান্ডার। তার বিরুদ্ধে গুম,খুন,চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজী সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কয়েক বছর আগে সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলো এবং পুলিশ তার নিকট থেকে নামে বেনামে উত্তোলন করা প্রায় ২৫০ টি মোবাইলের সিম কার্ড উদ্ধার  করেছিলো।  এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি(তদন্ত) মামুন জানান,এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে  তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করলে প্রতিবেদককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে পত্রিকার পক্ষ থেকে  সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে  থানায় অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

 

দৌলতপুরে চাঞ্চল্যকর হাসিনুর হত্যা

‘ন্যায় বিচারের স্বার্থে হত্যার বিচার ও ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন-দুটোই প্রয়োজন’

শরীফুল ইসলাম ॥ ন্যায় বিচারের স্বার্থে হত্যার বিচার ও ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন, দুটোই প্রয়োজন বলে মনে করেন নিহত হাসিনুর রহমানের ছোট্ট ভাই ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমার ভাই হাসিনুর রহমান অকৃতদার মানুষ ছিলেন। তাঁর উনষাট বছরের জীবনে বিগত চলি¬শ বছর ব্যয় করেছেন হতদরিদ্র ও বিপদগ্রস্থ মানুষের মৌলিক সমস্যাবলির পাশে দাঁড়িয়ে, এলাকায় শিক্ষা-বিস্তারে স্কুল-মাদ্রাসা-মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে। দৌলতপুরের ফিলিপনগর দারোগার মোড়ে আয়োজিত শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযোদ্ধা হায়দালীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এ্যাড. সরওয়াহার জাহান বাদশা এমপি। বক্তব্য রাখেন, নিহত হাসিনুর রহমানের বড় ভাই ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. হাবিবুর রহমান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অধ্যাপক হাসিবুর রহমান বলেন, হাসিনুর ভাই অসম্ভব রকমের জনপ্রিয় সমাজকর্মী। আমার ভাই সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশা একজন অসম্ভব রকম জনপ্রিয় নেতা। এই জনপ্রিয় মানুষগুলো যখন স্বার্থনেস্বী-কুচক্রী মহলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত হয়, তাঁদের শারীরিকভাবে হত্যার পূর্বে বার বার নৈতিকভাবে হত্যা করা হয়। চরিত্র হননের মাধ্যমে নৈতিকভাবে হত্যার প্রক্রিয়া মাসের পর মাস ধরে মাননীয় সাংসদ ও আমার প্রয়াত ভাইয়ের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছিল। এই জনপ্রিয় মানুষগুলোকে রক্ষা করতে পারে সদাজাগ্রত ও সংগবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তি।

তিনি বলেন, আমরা যদি সচেতন থাকতাম তাহলে এই মৃত্যু হয়তো এড়ানো যেতো। আমাদের অসচেতনতা এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তির কারন হতে পারে। আমাদের নির্লিপ্ততার কারনেই স্বার্থনেস্বী মহল একটি সন্তান হারা বাবাকে বিভ্রান্ত করে তাকে সীমাহীন নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে একটি বর্বোরোচিত হত্যাকান্ডে প্ররোচিত করে। কথিত খুনী মজিবর রহমান এক বছরের অধিক সময় আগে তার সন্তান হারায়। সম্প্রতি তার সন্তান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত অপরাধীরা জামিনে মুক্তিলাভ করে।

হাসিবুর রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন, অনগ্রসর, প্রান্তিক ভুক্তভোগী মানুষদের বোঝাতে হয় জামিন বিচার প্রক্রিয়ার-ই অংশ, কিশোর অপরাধীরা প্রায়শই এ সুযোগ পেয়ে থাকে। বিষয়টি প্রচলিত আইন ও আদালতের এখতিয়ার, এমপি সাহেবের নয়।

হত্যা ঘটনা তুলে ধরে অধ্যাপক হাসিবুর বলেন, চরিত্র হননের প্রক্রিয়াটি কত শক্তিশালী এটা বোঝা যায় যখন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও হাসিনুর রহমান হত্যাকান্ডের একমাস আগে থেকে প্রচারিত হতে থাকে যে মজিবরের সন্তান হত্যার কোন মামলা হয়নি এমপি মহোদয়ের কারনে। অথচ হত্যা মামলা চলমান।

এরকম ডাঁহা মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে ভালবাসার মানুষদের নির্মুল করার প্রক্রিয়া কে রুখে দিতে পারে উচ্চ-মূল্যবোধ ও  নৈতিক শক্তিতে (যদি অবশিষ্ট থেকে থাকে) বলীয়ান সংগঠনের প্রতি নিবেদিত প্রান কর্মী-সমর্থক বাহিনী।

আপন বড় ভাই হারানো শোক সন্তপ্ত হাসিবুর রহমান বলেন- কোন স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যদিয়ে খুনীর মনে জিঘাংসার জন্ম দিয়েছে, আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়েছে, দিনের পর দিন এমপি পরিবারের চরিত্রহননের পর এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে, সেই সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করেই কেবল ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আমি আমার ভাইয়ের খুনী ও অন্তরালের ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

প্রতিবাদ সভায় এমপি এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা তার বক্তব্যে বলেন- এটা একটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। এ হত্যাকান্ডের পেছনের রয়েছে ষড়যন্ত্রকারী ও পরিকল্পনাকারী। আমাকে ও আমার পরিবারকে বিতর্কিত করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। পেছন থেকে শক্তি যুগিয়ে পরিকল্পনা করে সুপরিকল্পিতভাবে নৃশংস এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে যা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, মাছওয়ালা মজিবর প্রকাশ্য দিবালোকে জনসন্মুখে হত্যাকান্ড ঘটালো আর সেখানকার লোকজন তা দেখলো, কেউ হত্যাকারীকে বাঁধা দিতে এগিয়ে আসলো এটাও ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার অংশ। হত্যাকান্ড ঘটানোর মুহুর্তের মধ্যে অপপ্রচার ছড়ানো হলে মজিবর তার ছেলের বিচার না পেয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। অথচ মজিবরের ছেলে আনোয়ার হত্যা মামলা চলমান রয়েছে। হত্যাকারীরা জামিনে রয়েছে। আর মজিবরের ছেলে হত্যার সাথে হাসিনুর কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয়। তারপরও ষড়যন্ত্রকারী ও মদদদাতারা মজিবরকে মিথ্যভাবে প্ররোচিত করে নির্মমভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটালো। তিনি বলেন, হাসিনুর হত্যার পেছনের ইন্ধনদাতা, পরিকল্পনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের আইনর কাঠগড়াই দাড় করানো হবে।

উলে¬খ্য, ২৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ বাড়ির পার্শ্ববতী ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর ঘোষপাড়া মোড়ে পদ্মা নদীর ধারে মজিবর রহমান পেছন দিক থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাসিনুর রহমানকে ধারাল হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপায়। এসময় হাসিনুর রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নিলে সেখানে তিনি মারা যায়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ইসলাম ঘোষপাড়ায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে ঘাতক মজিবর রহমানকে আটক করেছে। সে ইসলামপুর ঘোষপাড়া এলাকার মৃত মতালি মিস্ত্রির ছেলে।

হত্যার এ ঘটনায় নিহত হাসিনুর রহমানের মামাতো ভাই আব্দুল জব্বার ওরফে জব্বার পুলিশ বাদী হয়ে আটক মজিবর রহমান ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরসহ সহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামী করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার এ ঘটনায় প্রধান আসামী মজিবর রহমান আটক হলেও অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাদ জু’মা ফিলিপনগর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি বাদশার ফুপাতো ভাই শহীদ হাসিনুর রহমানের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এমপি সরওয়ার জাহান বাদশাও যোগ দেন দোয়া মাহফিলে।

 

জানাযায় বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তরুণ সাংবাদিক ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু

নিজ সংবাদ ॥  সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক দিনের খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং জাতীয় দৈনিক গণকন্ঠ’র কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু (৩৫)। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে ঢাকয় নেয়ার পথে রাজবাড়ির গোয়ালন্দ বাজারের কাছে সে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহির রাজেউন) । মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা, পিতা-মাতাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। জিল্লু কুষ্টিয়া এডিটরস্ ফোরামের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবার সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে হঠাৎ অসুস্থ্য হলে পরিবারের সদস্যরা জিল্লুকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। এর পর রাতেই অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকায় নেয়ার পথে গোয়ালন্দ বাজার এলাকায় সে মৃত্যুবরণ করে। সেখান থেকে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের রেনইউয়িক মোড়স্থ বাড়িতে জিল্লুর লাশ পৌঁছালে এক হৃদয়-বিদয়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন জেলার সংবাদকর্মীরা। সকালে তার অকাল এই মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে জিল্লুকে শেষ একনজর দেখতে সব শ্রেণি পেশার মানুষ ভিড় করতে থাকে। দুপুরে জুম্মা বাদ কুষ্টিয়া জিকে ঈদগাহ ময়দানে জিল্লুর জানাযা অনুষ্টিত হয়। জিল্লুর জানাযায়ও বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল নামে। জানাযায় অংশ নেন কুষ্টিয়া সদর আসনের সাংসদ মাববুবউল আলম হানিফ’র প্রতিনিধি ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি এস এম কাদেরী শাকিল, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু প্রমূখ। জানাযা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লুর মৃত্যুর কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গাজী মাহবুবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জাামান ডাবলু, কুষ্টিয়া এডিটরস্ ফোরামের সভাপতি মুজিবুল শেখ, সাধারণ সম্পাদক নুর আলম দুলাল পৃথক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে শোক  সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা

ঢাকা অফিস ॥ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে গুরুতর জখম করার অভিযোগে স্থানীয় তিন যুবলীগ নেতাসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরমধ্যে হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ এবং র‌্যাব রংপুর-১৩ এর একটি দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে হিলির কালিগঞ্জ এলাকায় বোনের বাড়ি থেকে আসাদুল ইসলামকে এবং জাহাঙ্গীর আলমকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার জাহাঙ্গীর আলম (৪২) উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং আসাদুল ইসলাম (৩৫) উপজেলা যুবলীগের সদস্য। হাকিমপুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, আসাদুল ইসলাম ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে। অপরদিকে জাহাঙ্গীর আলম ঘোড়াঘাট উপজেলা রানিগঞ্জের আবুল কালামের ছেলে বলে জানিয়েছেন ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম। জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং আসাদুল ইসলাম আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। আরও জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৭ সালে কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিতে জাহাঙ্গীর আলম আহ্বায়ক হন। এদিয়ে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য আসাদুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাসেদ পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল তাদেরকে বহিষ্কার করেছেন। এ-সংক্রান্ত একটি পত্র তারা পেয়েছেন।

জাহাঙ্গীর ও আসাদুল ছাড়া ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনায় আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম। আটকরা হলেন, নাহিদ হোসেন পলাশ (৪৫) এবং মাসুদ রানা (৪২)। পলাশ ওই বাসভবনের নৈশপ্রহরী এবং মাসুদ রানা ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার থেকে মাসুদকে আটক করা হয়। এর আগে পলাশকে ওসমানপর এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাত তিনটায় দুষ্কৃতকারীরা ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে। হত্যার উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তার বাবা ওমর আলীকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জাকির হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রংপুর ডিআইজির একজন প্রতিনিধি এবং দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ মাহমুদ। এছাড়া হামলার ঘটনায় ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা করেছেন।

দৌলতপুরে পিয়ারা চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের

শরীফুল ইসলাম ॥ পিয়ারা ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি সুস্বাদু ফল। বছরের সবসময় এই পিয়ারা ফলের চাষ হলেও বর্ষা মৌসুমে এই ফলে পরিপূর্ণ থাকে হাট-বাজার। তাই ক্রেতারা পছন্দের পিয়ারা ফলটি ক্রয় করে বাড়ি নিতে ভুলেন না। পিয়ারা চাষের জন্য কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মাটি অনুকুল হওয়ায় এখানকার কৃষকদের পিয়ারা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। অর্থকরী ফল হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন তারা। জেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরণের পিয়ারা ফলের চাষ হয়েছে। যার অর্ধেকই দৌলতপুরে। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ার পাশাপাশি বছরের সবসময় এই ফলটি মানুষের শরীরের ভিটামিন ও পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে থাকায় বেকার যুবক থেকে শুরু করে কৃষকরাও এই পিয়ারা চাষে ঝুঁকেছেন। আবার কেউ চাকুরীর পাশাপাশি পিয়ারা চাষ করে আর্থিকভাবে হয়েছেন স্বাবলম্বী। দৌলতপুর উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের সরকারী চাকুরীজীবী যুবক সামিউর রহমান চাকুরীর পাশাপাশি পিয়ারাফল চাষ করে হয়েছেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী। তিনি ১৩ বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান করেছেন। তিনি আরও জমিতে পিয়ারা চাষ সম্প্রসারন করার কথা জানিয়েছেন। আবার বাগান থেকে পিয়ারা ফল সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরাও হচ্ছেন লাভবান। কম পুঁজি বিনিয়োগ করে হাটে বাজারে তা বিক্রয় করে সংসারের স্বচ্ছলতাও ফিরেছে অনেকের। দৌলতপুর উপজেলা বাজারের ফল ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রয়ের পাশাপাশি পেয়ারাও বিক্রয় করে থাকে। বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি পেয়ারা ৪০ টাকা দরে বিক্রয় করছেন। পিয়ারা চাষে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি পিয়ারার ফলন বৃদ্ধিতে চাষীদের সার্বিক সহায়তার কথা জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান। ডাক্তারদের পরামর্শ মতে করোনা প্রতিরোধে ও এন্টিবডি তৈরীতে পিয়ারা ফল কার্যকরী। তাই বর্তমান এই দুঃসময়ে পিয়ারা চাষ বৃদ্ধির করে সবার ক্রয় সীমার মধ্যে রাখা জরুরী। এমনটাই মনে করেন এ অঞ্চলের সর্বসাধারণ।

সড়ক সংস্কারে যথেচ্ছতা

দেশের বেশির ভাগ সড়ক নির্মাণ বা মেরামতে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারে সরকারি অর্তের অপচয় ঘটছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে মানসম্মত বিটুমিন উৎপাদন সত্ত্বেও মানহীন বিটুমিন আমদানি করা হচ্ছে বিদেশ থেকে। ঠিকাদারদের একাংশ অতিলাভের আশায় মানহীন বিটুমিন দিয়ে যেভাবেই হোক সড়ক নির্মাণ ও মেরামত করায় তার স্থায়িত্ব প্রশ্নœবিদ্ধ হচ্ছে। জনমনে দেখা দিচ্ছে ক্ষোভ। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১৯ কিলোমিটার মেরামতের কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় দুই মাস ধরে। ফলে সড়ক ব্যবহাকারীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্মর্তব্য,  নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে ২০১৮ সালে জেলার শ্যামগঞ্জ থেকে কান্দুলিয়া পর্যন্ত ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯ কিলোমিটার ওভারলে সিলকোট কার্পেটিংয়ের কার্যাদেশ পায় রাজধানীর তানভীর কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের কাজ শুরু করতেই দীর্ঘ সময় নেয়। প্রকল্পের কাজে  পেট্রোবাংলার বিটুমিন ব্যবহারের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নি¤œমানের বিটুমিন দিয়ে ওভারলে সিলকোটের কাজ সম্পন্ন করে। সড়কে ৬০ মিলি ওভারলে থিকনেসের কথা থাকলেও স্থানভেদে ৪৫ থেকে ৫০ মিলি পর্যন্ত ওভারলে কার্পেটিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেস্ট অব ওয়ানে ৭০ ভাগ পাথরের সঙ্গে ৩০ ভাগ বালু সংমিশ্রণের নির্দেশনা থাকলেও প্রকল্পের কাজে প্রায় ৬০ ভাগ বালুর সঙ্গে ৪০ ভাগ পাথর মিশ্রণের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সড়কের প্রাইমকোড করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল ও বৃষ্টিপাতে তা নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া জায়গাগুলো প্রাইমকোড রিপিয়ার ও বিটুমিন ছিটিয়ে টেককোড না করে ওভারলে কার্পেটিং করায় এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার এবং নির্মাণ ও মেরামত কাজে পুকুরচুরির কারণে দেশের কোনো সড়কেই সুস্থভাবে যানবাহন চলাচলের পরিবেশ নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো হবে- আমরা এমনটিই আশা করতে চাই।

৫০ বছর ধরে গণহত্যার ক্ষত বাংলাদেশে, ক্ষমা চায়নি পাকিস্তান

বাংলাদেশের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত একটি নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’। ২৫ মার্চ রাতে পাক হানাদার বাহিনী ভারি অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ-নিরস্ত্র বাংলাদেশের মানুষের উপর। পরবর্তী ৯ মাস ধরে চলে এই হত্যাযজ্ঞ, যার জন্য আজও ক্ষমা চায়নি পাকিস্তান। বাংলাদেশে সংগঠিত নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার না করে উল্টো বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার কথা বলে দেশটি। ৫০ বছর ধরে জ্বলতে থাকা ছেলে হারা মায়ের হৃদয়ের জ্বালা না মিটিয়ে বর্বর এই গণহত্যাকে ভুলে কিভাবে তা সম্ভব! ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ ঢাকা-সহ বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে চালানো ধ্বংসযজ্ঞকে আজও স্বীকৃতি দিলো না জাতিসংঘ। চীন ও আমেরিকার সক্রিয় বিরোধিতাই অগণিত মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ডতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বড় বাধা। অথচ বাংলাদেশের তরফ থেকে বারবার দাবি তোলা হয়েছে পাক-বাহিনীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের স্বীকৃতির জন্য। কিন্তু ৫০ বছরেও তা মেলেনি। জাতিসংঘ কোন এক অজানা প্রভাবে আজও গণহত্যা বা জেনোসাইড না মানলেও খোদ পাকিস্তানি সাংবাদিকের বিবরণেই ধরা পড়ে সেদিনের গণহত্যার বিবরণ। পশ্চিমা দুনিয়ার গণমাধ্যমে ফুটে ওঠে সেই নৃশংস গণহত্যার ছবি। ডেইলি টেলিগ্রাফে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা বা জেনোসাইডের প্রতিবেদন স্পষ্ট করে উপস্থাপন করেন সাইমন ড্রিং। রাত ১০-টা নাগাদ শুরু হয় পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ। ঢাকার পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশলাইন, নীলক্ষেত এলাকায় ব্যাপক আক্রমণ চালায় পাক-হানাদাররা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। জহুরুল হক হলের প্রায় ২০০ ছাত্রকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যাকরে পাকবাহিনী।  রাতভর চলে গণহত্যা। আর্চার কে ব্লাড এর বই ‘দ্য ক্রুয়েল বার্থ অফ বাংলাদেশ’ বইটিতে বলা হয়েছ, ছাত্রীনিবাস রোকেয়া হলে আগুন ধরিয়ে শ-তিনেক ছাত্রীকে সে রাতে হত্যা করা হয়।  রাজারবাগে গ্যাসোলিন ছিটিয়ে ভস্মীভূত করা হয় পুলিশ সদর দফতর। এক রাতে খুন করা হয় ১১০০ বাঙালি পুলিশকে। শুধু ঢাকাই নয়, রাতভর গণহত্যা চলে গোটা পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সরকারের  শ্বেতপত্রেই স্বীকার করা হয়েছে ‘১৯৭১ সালের ১লা মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’ ২৫ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গণহত্যা। অবশ্য এর আগেও চলেছে পাক-বাহিনীর বর্বরতা । পরেও চলে। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি  সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার পানি রক্তবর্ণ ধারণ করে বাঙালির রক্তে। পাক-বাহিনীর স্থানীয় সহোদর আলবদর ও রাজাকারদের চক্রান্তে বাংলা মায়ের কোল খালি হতে থাকে। আত্মসমর্পণের আগ-মুহূর্তেও বন্ধ হয়নি হত্যাযজ্ঞ। ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের দুদিন আগে বুড়িগঙ্গার পারে শ-দুয়েক বুদ্ধিজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।  মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর ৯ মাস ধরে চলে নির্মম আক্রমণ। পাকিস্তানের এই কর্মকাণ্ডে আমেরিকা ও চীন সমভাবে মদত দিয়েছে। বাঙালির কোল খালি করতে ব্যবহৃত হয়েছে মার্কিন ও চীনা সমরাস্ত্র। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বৈশ্বিক শতবিরোধিতার মধ্যেও মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন ও সহযোগিতা জুগিয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যমেই বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পূর্ব পাকিস্তানে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ধর্ষিতার সংখ্যা চার লাখ। ২৫ মার্চের গণহত্যার বিষয়ে বহুদিন অন্ধকারে ছিলেন পশ্চিমা দুনিয়ার মানুষ। পাকিস্তানি সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের একটি প্রতিবেদন সানডে টাইমস-এ প্রকাাশিত হতেই দুনিয়ার মানুষের কাছে ফুটে ওঠে ভয়ঙ্কর নৃশংসতার ছবি। বিবিসি-র সাংবাদিক মার্ক ডুম্মেটের মতে, এই প্রতিবেদনই বদলে দেয় ইতিহাসের গতিধারা। ১৯৭১ সালে ১৩ জুন প্রকাশিত লন্ডনের সানডে টাইমস-কে হাতিয়ার করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি বিশ্ব নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরেন গণহত্যার বিবরণ। সানডে টাইমস-এ জেনোসাইড বা গণহত্যা নামেই প্রকাশিত হয়েছিল ঐতিহাসিক প্রতিবেদনটি। পাকিস্তানি নাগরিক হয়েও তিনি অবাধে পাক-সেনাদের হত্যাকাণ্ড দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি। ধ্বংসলীলার ছবি তুলে ধরেন পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমে। আর সেই বিবরণকে হাতিয়ার করে ইন্দিরা গান্ধি বিশ্বনেতাদের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়া কোনও বিশ্বনেতাই পাকিস্তানের বিরোধিতায় তেমন একটা আগ্রহ  দেখাননি। কয়েক বছর আগে ওয়াশিংটনের স্মিথোনিয়ান্মাগ-এ লরিন বইসোনাল্টের একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি  ১৯৭১-এর ৬ এপ্রিল মার্কিন কূটনীতিক আর্চার ব্লাডের একটি মন্তব্যের উল্লেখ করেন। পাকিস্তানি বর্ববতার বিরুদ্ধে মার্কিনী নীরবতা প্রসঙ্গে তিনি  বলেছিলেন, ‘হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে আমরা ব্যর্থ। আমাদের সরকার (আমেরিকা) নৃশংসতার নিন্দা করতে ভুলে গিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের নৈতিক দৈন্যতায় অমি লজ্জিত।’ ফরাসি সাংবাদিক পল ড্রেফুস অবশ্য মনে করেন অপারেশন সার্চ লাইট ২৫ মার্চ হলেও পাকিস্তানি হিংসা চলছিল বহুকাল ধরেই। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের পরই পাক-অত্যাচার বাড়তে থাকে।  বাড়তে থাকে হত্যার মাত্রাও। খোদ বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন পাকিস্তানি বর্বরতায়। আলবদর ও রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি জল্লাদেরা কতো মানুষ খুন করেছেন তার কোনও ইয়ত্তা নেই।  আবার নিহতের সংখ্যা নিয়েও রাজনীতি রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা আজও ৩০ লাখ শহিদকে অমর্যাদা করে চলেছে। অথচ রুশ সংবাদ মাধ্যম প্রভড়া-র প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে ৩০ লাখ নরহত্যার কথা। তদন্তকারী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান নিউ ইয়র্ক টাইমসের উত্তর সম্পাদকীয়তে একই তথ্য প্রকাশ করেন। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক লিজা কার্টিস মনে করেন, গণহত্যায় নিহতদের সংখ্যা নিয়েও এখন রাজনীতি হচ্ছে। তাঁর সাফকথা, সংখ্যা যাইহোক না কেন, ৭১-এ বাঙালিদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। পাক-সেনারা অবাধে নিরীহ মানুষদের খুন করেছেন। শুধু কি খুন, অবাধে ধর্ষণ ও লুটপাটও চালায় পাক হানাদারেরা।  অন্তত ১ কোটি বাঙালি দেশ ছাড়া হতে বাধ্য হয়েছিলেন সেদিন। স্মিথোনিয়ান্মাগ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্ষিতা মায়েদের গর্ভপাত করানোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসক জিওফ্রে ডেভিসকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল জাতিসংঘ। লক্ষাধিক ধর্ষিতার গর্ভপাত করাতে হয়। ধর্ষিতার সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি। পাকিস্তানের এই বর্বরতা থামাতে বিন্দুমাত্র উদ্যোগী হয়নি আমেরিকা।  বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম. নিক্সন ও একান্ত আস্থাভাজন হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তানকে মদত দিয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিকামী-নিরীহ জনগণের সমর্থনের বদলে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে রাজনৈতিক ও বস্তুগত উভয়ভাবেই সহায়তা করেছে। মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে ভারতের ভূমিকার বিরোধিতাও করেছে আমেরিকা। একই পথের পথিক ছিলো চীন। মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের সাহায্য করাটাকেও বিরোধিতা করেছে বেইজিং। পাকিস্তানকে মদতও দিয়েছে দেশটি। সে সময় পাকিস্তানের সৈন্যদের হাতে ছিলো চাইনিজ রাইফেল। এমনকি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরও চীন বহুবছর পর স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়। চীন ও আমেরিকা পাকিস্তানকে মদত দিলেও ভারতকে সমর্থন করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। গণহত্যা প্রতিরোধে মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতের সার্বিক সহযোগিতার কথা সকলেই জানেন। সেদিনের গণহত্যাকে প্রথম স্বীকৃতিও দিয়েছিল ভারত। কিন্তু আজও মেলেনি জাতিসংঘের স্বীকৃতি। গতবছর  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব তথা গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা আডামা ডিয়েং-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সেই সাক্ষাতের পর ডিয়েং বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত হওয়া গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরবেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি শুনিয়েছিলেন আশঙ্কার কথাও। তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু দেশ এর বিরোধিতা করতে পারে। কিন্তু আমরা পাকিস্তানিদের দ্বারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় চালানো গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতের সামনে উপস্থাপন করবো।’ জাতিসংঘ স্বীকৃতি না দিলেও আগেই উল্লেখ করা হয়েছে খোদ পাকিস্তানি সাংবাদিক গণহত্যার কথা পশ্চিমা দুনিয়ার নজরে আনেন প্রথম। এরপর বহু আন্তর্জাতিক গবেষক ও গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনেও উঠে আসে ৭১-এর ভয়াবহ বর্বতার ছবি। জার্মানির হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. ভল্ফগাঙ পেটার সিঙ্গেল দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, তিনি নিশ্চিত, বাংলাদেশে গণহত্যা হয়েছে। তাঁর এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। তবু বাংলাদেশ জাতিসংঘের স্বীকৃতি না পাওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তবে জাতিসংঘ এখনও স্বীকৃতি না দিলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ২০১৭ সালে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন প্রতিবছরই দিনটি পালিত হয় গণহত্যা দিবস হিসাবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই আন্দোলনের আগে ও পরে সর্বদা চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন লাভ করেছে পাকিস্তান। এমনকি স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও গণহত্যার স্বীকৃতি না পাওয়ার জন্য প্রচ্ছন্নভাবে দায়ী করা হচ্ছে দেশ দুটিকে। মুক্তিযুদ্ধকালে ক্ষমতার ব্যাল্যান্স রক্ষার খেলায় এই দুই দেশই বাংলাদেশের মাটিতে মানবতার চরম বিপর্যয় দেখেও পাকিস্তানকে মদত দিতে ভোলেনি। আজও সেই নীতির পরিবর্তন হয়নি। তাই গণহত্যার ৫০ বছর পার হয়ে এলেও জাতিসংঘ নীরব। বাংলার মাটিতে লাখ-লাখ মানুষের মৃত্যু মিছিল, নারীর সম্ভ্রমহানি, অবাধ লুট-ছিনতাই, অগ্নিসংযোগ এবং সেনাবাহিনীর চরম বর্বরতার অসংখ্য প্রমাণ থাকার পরও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নীরবতা কষ্ট দেয় এ দেশের সন্তানহারা মায়েদের। পাক-প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ফোন করে এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে  সৌজন্য দেখানোর চেষ্টা করছেন। অথচ, আজও সেই হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষম চায়নি ইসলামাবাদ। বাংলাদেশের মানুষ সব জানে। সব জানেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তাই যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দিতে ভুল করেননি তিনি। গণহত্যাকারী ও তাঁদের মদতদাতাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আজও সতর্ক। কারণ স্বজনহারার কান্নায় সিক্ত বাংলাদেশের মাটি কখনই ভুলতে পারেনা পাকিস্তানের সামরিক জান্তাদের  সেই গণহত্যার দিনগুলো। লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

 

 

ছেলেধরা চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে জয়া আহসান

বিনোদন বাজার ॥ একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী জয়া আহসান। ২০১৩ সালে অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ সিনেমার মাধ্যমে ভারতীয় বাংলা সিনেমায় পা রাখেন জয়া। এরপর ‘রাজকাহিনি’, ‘ঈগলের চোখ’, ‘বিসর্জন’-এর মতো বেশ কিছু সফল টলিউড চলচ্চিত্র উপহার দেন এই অভিনেত্রী। এবার টলিউড পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিক পরিচালিত নতুন সিনেমায় নাম লেখালেন জয়া আহসান। ‘ছেলেধরা’ নামে এ চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর প্রকাশ করেছে। জয়া আহসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থা করছেন। খুব শিগগির কলকাতায় যাবেন তিনি। এ অভিনেত্রী বলেনÑআবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি। এই চলচ্চিত্রের গল্পটি দারুণ লেগেছে। অপহরণের গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘ছেলেধরা’ চলচ্চিত্র। পরিচালক শিলাদিত্য বলেনÑযেখান থেকে বাচ্চা অপহরণ হয়, সেখান থেকে ওই মায়ের ‘পেরেন্টহুড’ শেখার সূত্রপাত। সন্তানকে খোঁজার জার্নিতে বুঝতে পারেন, সে খুব খারাপ মা। সারাজীবন অন্যকে দোষারোপ করেছেন, কিন্তু এই যাত্রাপথে নিজেকে খুঁজে পান তিনি। বুঝতে পারেন নিজের দুর্বলতাগুলো। চলচ্চিত্রটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করবেনÑপ্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুরাধা মুখোপাধ্যায়, ঈশান মজুমদার প্রমুখ। অধিকাংশ শুটিং কলকাতার রাস্তা ও হাইওয়েতে হবে। পূজার আগেই শুটিং শুরুর পরিকল্পনা করেছেন পরিচালক।

নিনিত শৈলীর গল্পে নির্মিত ওয়ানটেড

বিনোদন বাজার ॥ খুব ডমিনেটিং স্বভাবের মেয়ে শৈলী। তার বর নিনিত। কথায় কথায় নিনিতকে বকাঝকা করে সে। সবকিছু নিয়েই নিনিতকে জবাবদিহি করতে হয়। নিনিতের ফোন নিয়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের ইনবক্স চেক করে শৈলী। ‘হাজার মেয়ের মন ভেঙে আমি এখন বিবাহিত। মেয়েরা স্পর্শকাতর মেসেজ দেবেন না। কারণ সব মেসেজ আমার স্ত্রী পড়ে’Ñএইসব কথা বলিয়ে নিনিতকে দিয়ে ভিডিও করানো হয়। শুধু তাই নয়, ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। এরপর অফিস ও বন্ধুদের কাছে হাস্যকর পরিস্থিতিতে পড়ে নিনিত। বউকে বশে আনতে বন্ধুদের নানা পরামর্শ নেয়। কিন্তু তার সব পরিকল্পনাই ভেস্তে যায়। সবশেষে অতিষ্ঠ হয়ে নিনিত বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। তারপর গল্পে আসে নতুন বাঁক। এমন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে একক নাটক ‘ওয়ানটেড’। শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন আনিসুর রহমান রাজিব। এতে শৈলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানিয়া বৃষ্টি। আর নিনিত চরিত্রে দেখা যাবে মিশু সাব্বিরকে। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑএসএম আশরাফুল আলম, শানিতা রহমান প্রমুখ। শুক্রবার গোল্লাছুটের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে এ নাটকটি।

৬৬ বছরে পা দিলেন সাবিনা ইয়াসমিন

বিনোদন বাজার ॥ জীবন্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে ‘গানের পাখি’ বলেই ডাকা হয় তাকে। সুরের জাদুতে এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৫৪ সালর ৪ সেপ্টেম্বর সাবিনা ইয়াসমিনের জন্ম। তার পৈতৃক বাড়ি সাতক্ষীরায়। তার পাঁচ বোনের মাঝে চার বোনই গান করেছেন। এই গানের মানুষ ৬৬ বছরে পা দিলেন। তেমন কোনো আয়োজন ছাড়াই কাটছে তার বিশেষ এ দিন। তার ভাষায়Ñবয়স হয়েছে, এখন আর জন্মদিনের বিশেষত্ব নেই। হৈ-হুল্লোড় করার সেই মানসিকতাও নেই। তিনি আরো বলেনÑজন্মদিন উপলক্ষে আমার শুভাকাক্সক্ষীরা বিভিন্ন রকম আয়োজন করে থাকেন। তাদের সঙ্গে কেক কাটতে হয়। কিন্তু করোনার কারণে এবার সেটাও হচ্ছে না। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে কত হাজার গান কণ্ঠে তুলেছেন তার সঠিক হিসাব করা মুশকিল। এর সঠিত তথ্য সাবিনা ইয়াসমিন হয়তো নিজে দিতে পারবেন না। তবে ধারণা করা হয়Ñদশ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। দেড় হাজারের অধিক চলচ্চিত্রের গান কণ্ঠে তুলেছেন এই শিল্পী। ভারতীয় উপমহাদেশের বরেণ্য সুরকার আর. ডি. বর্মণের সুরে গান করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। কিশোর কুমার, মান্না দের সঙ্গে ডুয়েট গেয়েছেন তিনি। আবার মরমী শিল্পী আবদুল আলীম থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের উঠতি শিল্পীদের সঙ্গেও গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদক এবং ১৯৮৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন সাবিনা ইয়াসমিন। বাংলা চলচ্চিত্রের গান গেয়ে গায়িকা হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত তিনি। এ পর্যন্ত চৌদ্দবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী।

করোনায় আক্রান্ত অভিনেতা রবার্ট প্যাটিসন

বিনোদন বাজার ॥ ‘টোয়াইলাইট’ সিনেমাখ্যাত অভিনেতা রবার্ট প্যাটিসন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ভ্যানিটি ফেয়ার জানিয়েছে, ছয় মাস বন্ধ থাকার পর লন্ডনে ‘দ্য ব্যাটম্যান’ সিনেমার শুটিং শুরু করেন প্যাটিনসন। কিন্তু শুটিং শুরুর একদিন পরেই তার কোভিড-১৯ টেস্টের ফল পজিটিভ এসেছে। এই অভিনেতা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ‘দ্য ব্যাটম্যান’ সিনেমার শুটিং বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রোসের পক্ষ থেকে একজন মূখপাত্র বলেন, ‘দ্য ব্যাটম্যান প্রোডাকশনের একজন সদস্য কোভিড-১৯ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তিনি আইসোলেশনে আছেন। শুটিং আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।’ ক্রিশ্চিয়ান বেল, বেন অ্যাফ্লেক, মাইকেল কীটন, জর্জ ক্লুনির মতো তারকাদের পর এবার প্রথম ব্যাটম্যান হিসেবে পর্দায় হাজির হচ্ছেন রবার্ট প্যাটিনসন। ম্যাট রীভস পরিচালিত সিনেমাটি আগামী বছর জুনে মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে তা পিছিয়ে অক্টোবরে মুক্তি পাবে।

মা হওয়ার গুঞ্জনে মুখ খুললেন বিপাশা বসু

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসু। ২০১৬ সালে অভিনেতা করণ সিং গ্রোভারকে বিয়ে করেন। এরপর একাধিকবার এই অভিনেত্রীর মা হওয়ার গুঞ্জন শোনা গেছে। সম্প্রতি ফের তার মা হওয়ার গুঞ্জন চাউর হয়। তবে এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন বিপাশা। তিনি বলেন, ‘যখনই আমার ওজন একটু বাড়ে প্রতিবার তারা আমাকে অন্তঃসত্ত্বা বানিয়ে দেয়। এটি খুবই বিরক্তিকর।’ করণ সিং গ্রোভার বলেন, ‘সবসময় বলি আমি অন্তঃসত্ত্বা কিন্তু কেউ আমার কথা বিশ্বাস করে না।’ এর আগে মা হওয়া প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিপাশা বসু বলেন, ‘দেখা যাক। সৃষ্টিকর্তা যখন চাইবেন তখনই সব হবে। এমনকি আমাদের নিজেদের সন্তান না হলেও চলবে। আমাদের দেশে অনেক শিশু রয়েছে, আমরা তাদের দেখাশোনা করতে পারব। আমরা সৌভাগ্যবান কিন্তু অনেক শিশু রয়েছে যারা মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত। তাদের দেখভাল করা আমাদের দায়িত্ব। দেখা যাক ভবিষ্যতে কী হয়।’

করণ বলেন, ‘বিপাশা এটি সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আমরা ভুলে যাইÑ যে আত্মা পৃথিবীতে আসে তার নিজস্ব একটি পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত রয়েছে। আমাদের হাতে কিছু নেই।’ বিপাশা বসু ও করণ সিং গ্রোভার অভিনীত ‘ডেঞ্জারাস’ ওয়েব সিরিজটি সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার কাজল

বিনোদন বাজার ॥ ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল আগরওয়াল। অন্য তারকাদের মতো তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব। নতুন সিনেমার কাজ কিংবা অন্য যেকোনো বিষয় এই মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে থাকেন তিনি। এবার এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ট্রলের শিকার হলেন কাজল। তা-ও আবার দক্ষিণী সিনেমার অভিনেতা পবন কল্যাণকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন লাস্যময়ী এই অভিনেত্রী। গত ২ সেপ্টেম্বর অভিনেতা পবন কল্যাণের জন্মদিন ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষিণী সিনেমার অনেক তারকা শিল্পীরা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু কাজল শুভেচ্ছা জানাননি। জন্মদিনে পবনকে কেন শুভেচ্ছা জানালেন না? এই প্রশ্নবাণে জর্জরিত করছেন কাজলকে! টুইটে কাজলকে খোঁচা দিয়ে ভক্তরা লিখেছেনÑকাজল যখন ক্যারিয়ারের খারাপ সময় পার করছিলেন, তখন এই পবন কল্যাণ তাকে ‘সরদার গাবার সিং’ সিনেমায় কাজের সুযোগ করে দেন। এর মাধ্যমে কাজলকে আবার লাইমলাইটে ফিরিয়ে আনেন পবন। অথচ সেই পবনের জন্মদিন ভুলে গেলেন কাজল! কাজল অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘কোমালি’। তামিল ভাষার এ সিনেমা গত বছরের ১৫ আগস্ট মুক্তি পায়। বর্তমানে তেলেগু ভাষার দুটি, তামিল ভাষার তিনটি ও হিন্দি ভাষার একটি সিনেমার কাজ তার হাতে রয়েছে। কিন্তু করোনার তা-বে এখনো সব সিনেমার শুটিং বন্ধ রয়েছে।

আজ থেকে সাকিবের অনুশীলন শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অনুশীলনেই থাকার কথা ছিল তার। হঠাৎ পৃথিবীটা এলোমেলো হয়ে না গেলে জাতীয় দলের অন্য খেলোয়াড়দের মতো তিনিও মিরপুরে এখন শ্রীলঙ্কা সফরের প্রস্তুতি নিতেন। কিন্তু গত বছর নভেম্বরে হঠাৎ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ক্রিকেটে। সারা বাংলাদেশ দিন গুনেছে, কবে ফিরবেন সাকিব। অবশেষে সেই দিনটা কাছে চলে এসেছে। আগামী ২৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে তার। সব ঠিক থাকলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টেই মাঠে ফিরবেন। আর আজকেই বিকেএসপিতে শুরু হবে সেই ফেরার প্রস্তুতি। নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেই ছিলেন। যতটা যন্ত্রণাময় হওয়ার কথা ছিল, সময়টা সাকিবের অতো খারাপ হয়নি। কারণ, এর বড় সময়টা ধরে করোনার জন্য খেলাই বন্ধ ছিল। এর মধ্যে আবার দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হয়েছেন। ফলে সময়টা ভালো কেটেছে। অবশেষে ছুটি শেষ করে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরে বনানীতে আইসোলেশনে আছেন এই সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। একটু বিশ্রাম শেষ করে আজ থেকেই শুরু করবেন একক অনুশীলন। বিকেএসপিতে এই অনুশীলন দেখভাল করবেন সাকিবের ছোটবেলার দুই কোচÑনাজমুল আবেদীন ফাহিম ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বিকেএসপি কর্তৃপক্ষ তার এই সাবেক ছাত্রের জন্য ইতোমধ্যে থাকা ও অনুশীলনের সব ব্যবস্থা করে ফেলেছে। বিকেএসপিতে অনুশীলন করতে হলে আবার করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট লাগবে। সূত্র জানিয়েছে, সে জন্য ইতোমধ্যে করোনা পরীক্ষা করাতে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। আজই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আশা করছেন তিনি। আর তেমন হলেই আজ অনুশীলন শুরু হবে।

অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাফুফে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন। আগামী ৩ অক্টোবর নির্বাচনকে সামনে রেখে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কারো করোনা উপসর্গ থাকলে সে ভোট দিতে পারবে না। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ডেলিগেট এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যের মধ্যে যাদের করোনা উপসর্গ থাকবে, তারা ভেন্যুতে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং ভোট দিতে পারবেন না’। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে। তাপমাত্রা বেশি ও করোনার অন্যান্য উপসর্গ লক্ষণীয় হলে তাকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। বাফুফের হিসাব শাখা থেকে মনোনয়নপত্র ক্রয় করা যাবে। মনোনয়নপত্রের মূল্য সভাপতি পদে ১ লাখ, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ৭৫ হাজার, সহ-সভাপতি ৫০ হাজার এবং সদস্য ২৫ হাজার টাকা করে। এ অর্থ অফেরৎ যোগ্য। মনোনয়নপত্র জমা ৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা, আপত্তি ৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা, বাছাই ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে, প্রত্যাহার মনোনয়নপত্র জমার পর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ১৩ সেপ্টেম্বর। রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ৩ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে ক্রিকেটারদের অনুশীলন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলনের সূচি দেওয়া ছিল শুক্রবার পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার রাতে জানা গেল, আপাতত কয়েকদিন বন্ধ থাকবে অনুশীলন। ক্রিকেটারদের অনুশীলনে থাকা সাপোর্ট স্টাফদের কয়েক জনের করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা গেছে। একজন ট্রেনারের করোনাভাইরাস শনাক্তও হয়েছে। সতর্কতা হিসেবেই তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনুশীলন। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি অবশ্য খুব দুর্ভাবনার কিছু দেখছেন না বলেই জানালেন। “ক্রিকেটাররা কিন্তু ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুশীলন করছিল। আমাদের মেডিকেল প্রটোকলেই ছিল, এই ধরনের কোনো সমস্যা হলে অনুশীলন বন্ধ রাখা হবে। সেটিই করা হয়েছে। সাবধানতার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে অনুশীলন।” এই মাসের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। তার আগে ১৮ সেপ্টেম্বর নাগাদ করোনাভাইরাস পরীক্ষা শেষে সবার হোটেলে ওঠার কথা। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা দলীয় অনুশীলন। তার আগে ঝুঁকি নিতে চাইছে না বোর্ড। শুরুতে শুধু ফিটনেস ট্রেনিং দিয়ে শুরু হয়েছিল অনুশীলন পর্ব। এরপর ক্রমে যোগ হয়েছে ব্যাটিং-বোলিং। গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছিল সেন্টার উইকেটে অনুশীলন। একক অনুশীলন থেকে তিন-চার জনের গ্রুপ করেও দেওয়া হয়েছিল। আপাতত সবকিছু গেল থমকে।

কোনো একটি ব্র্যান্ডের বল সুনির্দিষ্ট করে দিক আইসিসি ঃ ওয়াকার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কোথাও গেলে খেলতে হয় ডিউক বলে, কোথাও কুকাবুরা। কোথাও আবার চলে এসজি টেস্ট বল। একেক বলের সেলাই একেকরকম, গড়ন-ধরন আলাদা। প্রতিবারই বোলারদের মানিয়ে নিতে হয় নতুন করে। পাকিস্তানের বোলিং কোচ ও পেস কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিসের তাই চাওয়া, কোনো একটি ব্র্যান্ডের বল সুনির্দিষ্ট করে দিক আইসিসি, সব দেশেই খেলা হবে সেই ব্র্যান্ডের বল দিয়ে। সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফর করে এলো পাকিস্তান, সেখানে খেলা হয় ডিউক বলে। এই বলে খেলা হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডেও। ভারতে খেলা হয় এসজি টেস্ট বল দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ায় চলে কুকাবুরা, অন্য বেশির ভাগ দেশেও এই ব্র্যান্ডের বলে হয় খেলা। বাংলাদেশে প্রতিপক্ষ বুঝে কখনও খেলে কুকাবুরা দিয়ে, কখনও এসজি। মূলত টেস্ট ম্যাচেই থাকে এই ভিন্নতা। সাদা বলে সাধারণত সব জায়গাতেই ব্যবহার করা হয় কুকাবুরা। বল থেকে বলে মূল পার্থক্য মূলত সেলাইয়ের ধরনে। কুকাবুরা বলের চেয়ে ডিউক বলের সিম একটু বেশি খাড়া ও পুরু। প্রায় ৫০ ওভার পর্যন্ত সিম খুব বেশি বসে যায় না। ডিউক বলকে তাই পেস বোলিংয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী বলে মনে করা হয়। ওয়াকার নিজেও ডিউক বলের ভক্ত। তবে যে বলই হোক, কোনো একটি বল দিয়েই বিশ্বজুড়ে খেলা হওয়া উচিত, পিসিবির ওয়েবসাইটে নিজের কলামে লিখেছেন সাবেক এই ফাস্ট বোলার। “আমি অনেক বছর ধরেই ডিউক বলের বড় সমর্থক, তবে আমি মনে করি, এক ব্র্যান্ডের বল দিয়েই সব দেশে টেস্ট ম্যাচ হওয়া উচিত। যে ব্র্যান্ডের বলই হোক, আইসিসির উচিত সিদ্ধান্তটি নেওয়া। একেক দেশে গেলে একেক ধরনের বল দিয়ে খেলতে হয়, বোলারদের জন্য মানিয়ে নেওয়া খুব কঠিন।” ব্যাটসম্যান-বান্ধব নানা নিয়ম-নীতির এই যুগে বোলারদের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি। আপাতত বলে লালা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। বোলারদের সুইং আদায় করা ও কারুকাজ দেখানো তাতে হয়ে উঠছে আরও কঠিন। তবে ইংল্যান্ডে সাম্প্রতিক সিরিজে এটি খুব বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি কন্ডিশনের কারণে, বলছেন ওয়াকার। “ সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে দুই দলের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল লালার ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া। তবে ইংল্যান্ডে আবহাওয়ার কারণে সেটি খুব বড় সমস্যা হয়ে ওঠেনি। পিচগুলি যদিও শুষ্ক ছিল, তবে বাতাসে আর্দ্রতা ছিল প্রচুরে এবং মাঠও ছিল সজীব। বল ভালো অবস্থায় রাখতে তাই অসুবিধা হয়নি। কিন্তু অন্য সব জায়গায় বল ভালো অবস্থায় রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ।”