ব্রাজিল ফুটবলে নারী-পুরুষে বেতন-বৈষম্য থাকছে না

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বেতন-ভাতায় পুরুষ ও নারী দলের মধ্যে বৈষম্য দূর করার ঘোষণা দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। এখন থেকে দেশটির পুরুষ জাতীয় দলের সমান বেতন পাবেন নারী দলের ফুটবলাররা। এক বিবৃতিতে বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিবিএফ। “আর লিঙ্গ বৈষম্য নয়। পুরুষ ও নারীদের সমানভাবে দেখছে সিবিএফ।” নারী দলে দুই জন কো-অর্ডিনেটর নিয়োগের কথাও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। পুরুষ ও নারী ফুটবলারদের বেতন বৈষম্যের বিষয়টি গত বছর সামনে আনেন যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার নারী ফুটবলাররা। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের নীতি নির্ধারকদের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতা ও কাজের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছিলেন তারা। তাদের এই অভিযোগ গত মে মাসে খারিজ করে দেয় একটি আদালত। গত নভেম্বরে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে বেতন বৈষম্য কমানোর ব্যাপারে খেলোয়াড়দের সংগঠনের সঙ্গে একমতে আসার ঘোষণা দেয় অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল সংস্থা। একই পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে নিউ জিল্যান্ড ও নরওয়ে। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল ব্রাজিলের নারী ফুটবল দল, অলিম্পিকের ফাইনালে খেলেছিল ২০০৪ ও ২০০৮ সালে। তবে শিরোপা জেতা হয়নি কোনো বারই।

কোহলি-রোহিতদের আবারও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন শোয়েব

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শোয়েব আখতার প্রায়ই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভারতীয় ক্রিকেট দল এবং ভারতীয় ক্রিকেটার যেমন বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাদের প্রশংসা করেন। তুলনায় একটু সমালোচনামুখরই থাকেন পাকিস্তান ও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নিয়ে। এ নিয়ে নিন্দা ও সমালোচনা সইতে হয় পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলারকে। পাকিস্তানে ক্রিকেট নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় তাকে এরকম প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, কেন তিনি ভারতীয় ক্রিকেটারদের প্রশংসা করেন। শোয়েব তার মতো করেই জবাব দিয়েছেন, কোহলি-রোহিতদের আবারও ভাসিয়েছেন প্রশংসায়। ‘কেন আমি ভারতীয় ক্রিকেটার এবং বিরাট কোহলির প্রশংসা করবো না? পাকিস্তান, এমনকি গোটা বিশ্বে তার কাছাকাছি মানের কোনও খেলোয়াড় কি আছে?’ – ইউটিউব চ্যানেল ক্রিকেট পাকিস্তানের সঞ্চালক ইউসুফ আঞ্জুমকে উল্টো প্রশ্ন করেছেন শোয়েব। স্পিডগানে একসময় ১০০ মাইল ছাড়িয়ে যাওয়া বোলার আরও যোগ করেছেন, ‘আমি বুঝি না মানুষ কেন এতে ক্ষুব্ধ হয়। আমাকে সমালোচনা করার আগে তারা পরিসংখ্যানে একবার চোখ বুলিয়ে নিলেই তো পারে। সে একজন ভারতীয় (কোহলি) বলে মনের মধ্যে সবসময় ঘৃণা পুষে রাখতে হবে, তার প্রশংসা করা যাবে না?’ শোয়েব কোহলির ৭০টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘কোহলি এ পর্যন্ত ৭০টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই মুহূর্তে এত সেঞ্চুরি আর কার আছে? সে কতগুলো সিরিজে জিতিয়েছে ভারতকে? এরপরও আমি তার প্রশংসা করতে পারবো না? এটা খুবই অদ্ভুত। আমরা সবাই জানি সে এখন বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান। সে এবং রোহিত শর্মা সবসময়ই ভালো করছে। কেন আমরা তাদের প্রশংসা করবো না?’ বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলতে এখন রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ১৩তম আইপিএল সেখানে শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে।

এ সময়ে আইপিএল খেলা অসম্ভব ঃ মালিঙ্গা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বাবা অসুস্থ, কিছুদিনের মধ্যে অস্ত্রোপচারও করা লাগতে পারে- এই অবস্থায় আইপিএল খেলা অসম্ভব মনে হয়েছে লাসিথ মালিঙ্গার। তাই সংযুক্ত আরব আমিরাতে হতে যাওয়া প্রতিযোগিতাটি না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কান পেসার। অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্ময় বোলিংয়ে অসংখ্য ম্যাচ জয়ের নায়ক মালিঙ্গার না থাকাটা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য বিশাল ক্ষতি। তাকে মিস করাটাই স্বাভাবিক। আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার মালিঙ্গা। ডেড ওভারে তার বোলিংয়ের জুড়ি নেই। তবে এবারের আইপিএলের মুম্বাই সেই সেবাটা পাচ্ছে না। পুরো আইপিএল থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন লঙ্কান পেসার। তার জায়গায় মুম্বাই যোগ করেছে অস্ট্রেলিয়ান পেসার জেমস প্যাটিনসনকে। মালিঙ্গার বাবা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। বাবার পাশে থাকতে মুম্বাই সতীর্থদের সঙ্গে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাননি। আছেন শ্রীলঙ্কাতে। যদিও ধারণা করা হয়েছিল, টুর্নামেন্টের শেষ অংশে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। তবে বুধবার পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী পেসার। আরব আমিরাতে এবারের আইপিএল ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স মালিঙ্গার পরিস্থিতি বুঝতে পারছে, তবে তার মতো অভিজ্ঞ বোলারকে ঠিকই মিস করবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে মুম্বাইয়ের মালিক আকাশ আম্বানি জানিয়েছেন তেমনটাই, ‘এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না এবারের আইপিএলে আমরা লাসিথ মালিঙ্গাকে মিস করবো। যদিও আমরা বুঝতে পারছি এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কায় তার পবিারের সঙ্গে থাকাটা জরুরি।’ মুম্বাইয়ের পেস আক্রমণে আছেন জসপ্রীত বুমরা ও ট্রেন্ট বোল্ট। এরপরও মালিঙ্গার বৈচিত্রময় বোলিং নিশ্চিতভাবেই মিস করবে মুম্বাই। শ্রীলঙ্কান পেসার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তার ওপরে আছেন কেবল দিনকয়েক আগেই ৫০০ উইকেট পূরণ করা ডোয়াইন ব্রাভো।

বাবরের চেয়ে ভালো করতে পারে হায়দার ঃ শোয়েব আখতার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ একজন এরইমধ্যে নিজেকে দলের সেরা পারফরমারদের কাতারে তুলে এনেছেন। সময়ের সেরা ব্যাটসম্যানদের সঙ্গেও তার তুলনা করেন অনেকে। আরেকজনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা কেবল শুরু। তবে শোয়েব আখতারের বিশ্বাস, সীমিত ওভার ক্রিকেটে তারকা বাবর আজমের চেয়ে ভালো করার সামর্থ্য আছে পাকিস্তানের ১৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান হায়দার আলির। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গত মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ঝড়ো ফিফটি করেন হায়দার। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় ওভারে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩ বলে করেন ৫৪ রান; ইনিংসে ৫ চারের সঙ্গে ছক্কা ছিল ২টি। পাশাপাশি তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে গড়েন ১০০ রানের জুটি। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছেন হায়দার। সেখানে প্রতিভার জানান দেওয়ার পর আলো ছড়িয়েছেন পাকিস্তান সুপার লিগেও। এবার আন্তর্জাতিক অভিষেকে সামর্থ্যরে ঝলক দেখালেন। বুধবার শোয়েব তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রশংসায় ভাসান হায়দারকে, তুলনা করেন বাবরের সঙ্গে। “হায়দার আলি সাদা বলের ক্রিকেটে বাবর আজমের সমতুল্য বা আরও ভালো হতে পারে। কারণ সে খুব মেধাবী। তার দারুণ প্রতিভা রয়েছে এবং এর প্রতিফলন দেখা গেছে।” তরুণদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব। “আমি সবসময় বলি, আমাদের তরুণদের ব্যবহার করা উচিত। দেখুন হায়দার আলি সুযোগ পাওয়ার পর কী হলো। সে দুর্দান্ত খেলেছে এবং হাফ সেঞ্চুরি করেছে।” ম্যাচটি ৫ রানে জিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে পাকিস্তান।

করোনা আতঙ্কে শুটিং বন্ধ

বিনোদন বাজার ॥ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের অনুমতি পাওয়ার পরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ‘বিক্ষোভ’ সিনেমার শুটিং করেন নির্মাতা শামীম আহমেদ রনী। এর পরে ‘টুঙ্গীপাড়ার মিয়া ভাই’ সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে বেশ সরব ছিলেন। সিনেমাটির শুটিংও টানা চলছিল। হঠাৎ রনীর ঠান্ডা জ¦র হওয়ায় সিনেমাটির শুটিং ইউনিটের সবাই করোনা আতঙ্কে ভুগতে থাকেন। পরে প্রযোজক শুটিং বন্ধ করে দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান। ‘টুঙ্গীপাড়ার মিয়া ভাই’ সিনেমার শুটিং গত মাসের শেষ সপ্তাহে এফডিসিতে শুরু হয়। টানা শুটিং করে দৃশ্যধারণের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা আতঙ্কে সিনেমাটির শুটিং আপাতত বন্ধ রয়েছে। সেলিম খান বলেন, ‘টুঙ্গীপাড়ার মিয়া ভাই’ সিনেমার টানা শুটিং করার কথা ছিল। হঠাৎ করে কাস্টিং ডিরেক্টর শামীম আহমেদ রনী ঠান্ডা-জ¦রে আক্রান্ত হন। এতে শুটিং ইউনিটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্ক নিয়ে সিনেমার কাজ করা যায় না। তাই কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। শামীম আহমেদ রনী করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য নমুনা দিয়েছেন। এখনো পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন এই প্রযোজক। স্টোরি স্পেলস প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মাণাধীন ‘টুঙ্গীপাড়ার মিয়া ভাই’ সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন সেলিম খানের মেয়ে পিংকি খান। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন শান্ত খান ও দীঘি।

রোহিঙ্গা সমস্যার তিন বছর প্রত্যাবাসন ভাবনা ও অন্যান্য

মিয়ানমারে ২৫ আগস্ট, ২০১৭ সালের সেনা অভিযান ও রাখাইন প্রদেশে গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ লক্ষাধিক  রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনার তিন বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। এই বিশাল নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম সময়সীমা ঠিক হয়েছিল। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রস্তুত ছিল কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাখাইনে প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে ঘোষণা দেয়ায় প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়। এর প্রায় এক বছর পর ২২ আগস্ট, ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুতি নেয়। মিয়ানমার ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের এই উদ্যোগও সফলতার মুখ দেখেনি। এ সময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের  ফেরত পাঠানো হতে পারে বলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যেকার প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানজনকভাবে এবং রোহিঙ্গাদের প্রমাণ করতে হবে তারা রাখাইনের বাসিন্দা ছিল। প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা  রোহিঙ্গাদের পক্ষে এটা প্রমাণ করা কঠিন- কারণ বহু বছর তারা নাগরিক অধিকার বঞ্চিত ছিল। যে সব রোহিঙ্গার  কোনো না কোনো সনদ ছিল- তা তাদের জমা দিয়ে নতুন নাগরিকত্ব সনদ দেয়ার কথা বলা হলেও কখনো তা দেয়া হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব, ক্ষতিপূরণ ও নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার ছাড়া মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহী না। এ সব দাবি পূরণে মিয়ানমার এখন পর্যন্ত কোনো প্রচেষ্টা নেয়নি। ফলশ্র“তিতে  রোহিঙ্গা সমস্যা তৃতীয় বছরে পদার্পণ করল। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর গণহত্যার অপরাধ, প্রতিরোধ ও সাজাবিষয়ক সনদ লঙ্ঘিত হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে গাম্বিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) আদালতের রেজিস্ট্রারের কাছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন জানায়। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটির চলমান নিপীড়নমূলক আচরণ বন্ধে গাম্বিয়ার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আইসিজে ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ একটি জরুরি ‘সাময়িক পদক্ষেপ’ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এই আদেশ জারির দিন থেকে চার মাসের মধ্যে মিয়ানমার আদালতের আদেশ অনুযায়ী যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, সেগুলো আদালতকে জানানো এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস পরপর এ বিষয়ে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। গণহত্যা সনদ মেনে চলা এবং রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত সব সহিংসতার সাক্ষ্য প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য মিয়ানমার সরকার গত ৮ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দুটো আলাদা আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় মিয়ানমার গত মে মাসের শেষে আইসিজেকে প্রথমবারের মতো প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ‘মাদার অব হিউমিনিটি’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে জাতিসংঘে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার এ দূরদর্শী দিক নির্দেশনার বাস্তবায়নেই একমাত্র রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব। রোহিঙ্গা সমস্যা সরেজমিন প্রত্যক্ষ করার জন্য ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের পর সারাবিশ্ব থেকে রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের পাঠানো প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসেছে এবং আসছে। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাসমূহ, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং দেশি এনজিওগুলো নানা বিষয় নিয়ে এই পরিস্থিতিতে কাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে। অনেক দেশ এই অমানবিক আক্রমণ এবং নৃশংসতাকে নিন্দা করেছে এবং নৃশংসতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য অনেকে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে। কিছু কিছু দেশ জাতিসংঘকে তদন্ত কমিশনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। অনেক দেশ রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে অর্থনৈতিক সাহায্য সহযোগিতা দিয়েছে। কিছু কিছু  দেশ মিয়ানমারে সমস্যাসংকুল এলাকায় মানবিক সাহায্য পাঠানোর জন্য অনুমতির চেষ্টা চালাচ্ছে। কেউ মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। কয়েকটা দেশ একটা স্থায়ী সমাধানের জন্য রেজুলিউশন বানানোর ব্যাপারে জোরালো সমর্থন দিয়েছে। কেউ কেউ মানবতার বিরুদ্ধে অবরোধ এবং গণহত্যার কথা জানিয়ে তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। অনেক দেশ কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য তাদের জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে। অনেক দেশ এই সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মত পোষণ করেছে। বর্তমানে সারা বিশ্ব রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে অবহিত। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার জননী সারা বিশ্বকে এই নৃশংস ঘটনা জানানোর ব্যাপারে কূটনৈতিক ও মানবিক ভূমিকা রাখার জন্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি এই সমস্যা সমাধানে তার প্রচেষ্টা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ, দাতা সংস্থা, আঞ্চলিক দেশগুলো সবাই এই সমস্যার ব্যাপারে ভালোভাবে অবহিত- তবে সমাধানের ব্যাপারে তাদের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে না এবং বাংলাদেশ এখনো এই সমস্যা নিয়ে চলছে। জুলাই ২০১৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেইজিং সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিকিয়াং বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সে সময় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের ভূমিকার কথা প্রথমবারের মতো এসেছে- যা একটা বড় কূটনৈতিক সাফল্য। সেখানে রোহিঙ্গা শব্দটি উহ্য রেখে বলা হয়েছে ‘মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী’। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাখাইন প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ  তৈরিতে কাজ করে যাওয়ার কথা বলেছে চীন। চীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক উ জিং হাউ বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের জানিয়েছে যে, চীন মিয়ানমারকে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে বলেছে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো আগস্ট ২০১৭ এর পর তিনবার বাংলাদেশ সফর করেছে। তিনি নেপিডোতে অং সান সুকির সঙ্গে দেখা করে এ সমস্যা সমাধানে যা কিছু সম্ভব তার সবই করার আশ্বাস দিয়েছেন। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  রোহিঙ্গাদের সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকার প্রতিশ্র“তি দেন। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহী তবে তাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিতে হবে। রাখাইনে তাদের স্বাধীনভাবে চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে হবে। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা মানবাধিকার ও সংবাদকর্মীদের অবারিতভাবে চলাফেরার সুযোগ দিয়ে সহায়ক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে নিরাপদে স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকারকে বারবার বলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত মিয়ানমারের ওপর চাপ দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ নিন্দা প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে মিয়ানমারের প্রতি  রোহিঙ্গা ও অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষমূলক উত্তেজনা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবটির পক্ষে  ভোট দেয় ১৩৪টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দেয় ৯টি দেশ। আর ২৮টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। মিয়ানমারের রাজনীতিতে অং সান সুকি এখনো বৌদ্ধভিক্ষু এবং সেনাবাহিনীর প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে আশানুরূপ অগ্রগতি লাভ করতে সমর্থ হয়নি। গত নির্বাচনে ২৫  ফেব্র“য়ারি, ২০২০ থেকে ৫ মার্চ, ২০২০ পর্যন্ত মিয়ানমার পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনের বেশ কিছু প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। ১৪৯ জন সদস্য এই বিতর্কে অংশগ্রহণ করে। প্রধান প্রধান সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ছিল পার্লামেন্ট থেকে সশস্ত্রবাহিনীর কোটা অপসারণ, সংবিধান সংশোধনে তাদের ভেটো ক্ষমতা রদ, যে কোনো সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদনে ৭৫ ভাগ পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থনের নিয়মকে দুই-তৃতীয়াংশ নামিয়ে আনা ইত্যাদি। বিতর্ক শেষে ভোটাভুটি শুরু হয়। ১০ মার্চ, ২০২০ থেকে তা শুরু হয় এবং কয়েকদিন ধরে এই ভোট চলে। ভোটের ফলাফলে দেখা যায় প্রায় সব সংস্কার প্রস্তাবই একে একে পার্লামেন্টে বাতিল হয়ে যায়।

২০২০ সালের পার্লামেন্টের ভোটাভুটির ফলাফল ছিল মিয়ানমারের ছোট জাতিসত্তাগুলোর জন্য একটা বড় ধাক্কা। এসব জাতিসত্তা মিয়ানমারের জন্য এমন এক সংবিধান চাইছে, যেখানে দেশটি সত্যিকারের এক ইউনিয়ন হয়ে উঠবে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না- কারণ পার্লামেন্টে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩০ ভাগ আসন সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, এ কারণে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে, সাংবিধানিক পথে সংবিধান সংশোধন এবং ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক একটা সংবিধান প্রণয়ন করা সহজেই সম্ভব হবে না। এতে রোহিঙ্গাদের সাংবিধানিকভাবে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা হিসেবে গণ্য করা সম্ভব হবে না এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। রাখাইন স্টেট নিরাপদ না হলে  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ সব বিষয় সামনে রেখেই বাংলাদেশকে এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে চলতে হবে সমাধানের পূর্ব পর্যন্ত। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন এখনো অনিশ্চিত,  কেননা, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে এসব  রোহিঙ্গাদের ফেরার জন্য যে ধরনের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন তা সৃষ্টিতে মিয়ানমার তার প্রতিশ্র“তি রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে (হাসিনা, ২০১৯)। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সব দেশ সম্মত হলেও মিয়ানমারের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে না (হাসিনা, ২০১৯)। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টা এবং মানসিকতার পরিবর্তন।  রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের পক্ষ  থেকে এখনো কোনো উদ্যোগ কিংবা ইতিবাচক পদক্ষেপ  নেয়া হয়নি। রাখাইন প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো প্রত্যাবাসনের অনুকূলে হয়নি। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে স্থানীয় জনগণ এবং বৌদ্ধ সংগঠনগুলোর ইতিবাচক মনোভাব বা  কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ  নেয়ার কথাও জানা যায়নি। মিয়ানমার এখনো এসব পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে কোনরূপ অগ্রগতি দেখাতে পারছে না। রোহিঙ্গা সমস্যার মতো একটা জটিল এবং চলমান সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন। এর পাশাপাশি দুদেশের নাগরিক সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে আস্থার অবস্থা সৃষ্টি করা দরকার। মিয়ানমারের সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত চীন, ভারত ও জাপান এই তিনটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেরও সুসম্পর্ক রয়েছে তাই মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে কাজ করতে হবে (আহমেদ ২০১৯)। রোহিঙ্গা সমস্যার মূল সমাধান অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের কোনো প্রচেষ্টা সফলতার মুখ দেখেনি। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা ফেরানোর ওপর মূল মনোযোগ দেয়া উচিত। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সবার উপস্থিতি আছে, অথচ মিয়ানমারের রাখাইনে কারও উপস্থিতি নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা জোরদার করতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে চীন, ভারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের আঞ্চলিক  জোট আসিয়ানসহ বিভিন্ন দেশ ও পক্ষকে যুক্ত করে তাদের সবার সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশকে এগুতে হবে এবং যথাযথ ক্ষমতা দিয়ে রাখাইনে পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের মতো মূল দুটি বিষয়ে সুরাহা হলেই অনেক সমস্যার সমাধান হবে (ফয়েজ আহমেদ)। এখনো দাতা সংস্থাগুলো তাদের সাহায্য অব্যাহত রেখেছে বলে এই সমস্যা আরো বিশাল আকার ধারণ করতে পারছে না। বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর ছোবলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সমস্যা ভারাক্রান্ত, সে সব দেশ তাদের নিজস্ব সমস্যা সমাধান করে এই দূর দেশের রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে কতদিন তাদের সাহায্য অব্যাহত রাখবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। মিয়ানমার সৃষ্ট এই সমস্যা বাংলাদেশকেই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সমাধানের পূর্ব পর্যন্ত জাগিয়ে রাখতে হবে।  রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের সমান অধিকার প্রাপ্ত নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিশ্ববাসীর নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া উচিত। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান দ্রুত থেকে দ্রুততর হোক বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব এবং রোহিঙ্গারা সেই আশার পথে তাকিয়ে আছে। লেখক ঃ ডেপুটি কমান্ডান্ট, বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা, গাজীপুর।

 

কৃষক বাঁচাতে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে

করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতিতে বেশি করে ঋণ প্রয়োজন ছিল কৃষকের। অথচ ব্যাংকগুলো তাদের চাহিদামতো ঋণ সহায়তা দেয়নি। বলার অপেক্ষা রাখে না- শুধু করোনার সংক্রমণই নয়, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা কৃষি ও দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আয়হীন হয়ে পড়েছেন গ্রামের বিভিন্ন পেশার মানুষও। করোনকালীন এদের সহযোগিতা করতে ৫ হাজার কোটি ও ৩ হাজার কোটি টাকার দুটি প্রণোদনা প্যাকেজ গঠন করা হয়। কিন্তু দুটি প্যাকেজ থেকে ঋণ বিতরণের পরিমাণ অনেক কম। সরকারি জনতা ব্যাংকসহ ১৩টি ব্যাংক প্যাকেজ থেকে ঋণ বিতরণ শুরুই করেনি। ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ ও নানা জটিলতায় ঋণ বিতরণ বাড়ছে না। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় বলা হয়েছে, এ বছর ২ আগস্ট পর্যন্ত ৩৩টি জেলার ১৬২টি উপজেলায় ৫০ লাখ ২৮ হাজার ৬৪৬ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। মারা গেছেন ৪৪ জন। বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। গবাদিপশুর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এ ছাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৯ হেক্টর কৃষিজমি এবং ১৬ হাজার ৫৩৭ হেক্টর তৃণভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মনে রাখতে হবে- এটা স্বাভাবিক সময় নয়। দেশে করোনার মতো মহামারী চলছে। কৃষকের হাতে নগদ অর্থ নেই। সে সময়মতো ঋণ না পেলে উচ্চফলনশীল বীজ, সার, কীটনাশক কিনবেন কী দিয়ে? আর কোথা থেকেই দেবেন কৃষি শ্রমিকের মজুরি? তা ছাড়া জমি থেকে সবজি তোলা, পরিষ্কার করে বাজারে নিয়ে আসার খরচই জোগাবেন কোথা  থেকে? তাই কৃষি উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে, বাজার ব্যবস্থাপনা পুনরুদ্ধার ও গতিশীল করতে এবং ভেঙে পড়া  জোগান শৃঙ্খল পুনর্গঠন করতে কৃষিঋণের কোনো বিকল্প নেই। তাই ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার যে অনীহা তা দূর করতে সরকারের যা যা করণীয় তাই করবে এমনটাই প্রত্যাশা।

পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য হিসেবে শামুক চাষ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ শিক্ষিত যুবকরা মাছ, হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগল চাষে জড়িত হলে শুধু যে বেকার সমস্যার সমাধান হয় তা নয়, চাষাবাদ পদ্ধতিরও বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। মাছচাষে অনেকেই শুরু করেছেন শামুকের ব্যবহার। নিজ খামারেই তারা শামুক থেকে হাঁস বা মাছের খাদ্য তৈরি করছেন। এতে তার বাজারজাত পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য ব্যবহারের পরিমাণ কমেছে। ফলে পোল্ট্রি ও মাছচাষের ব্যয়ও কমে এসেছে। এ ছাড়া শামুকের  তৈরি খাবার খাওয়ালে পোল্ট্রি ও মাছের স্বাদও ভালো হয়। অন্যদিকে বিজ্ঞানীরা  পোল্ট্রি ও মাছচাষে শামুকের ব্যবহার সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। এ ছাড়া পোল্ট্রি ও মাছচাষে শামুকের তৈরি খাবার ব্যবহার বাড়লে দেশে ‘মিট অ্যান্ড বোন’-এর আমদানি অনেকাংশে কমে যাবে, যা  বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন মাছচাষি তার ক্ষুদ্র প্রযুক্তির ব্যবহার করে শামুক থেকে মাছের অন্যতম উপকরণ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। মাছচাষির উৎপাদিত  প্রোটিনে কোনো রাসায়নিক প্রভাব থাকার সুযোগ নেই। আমাদের দেশে মাছচাষে  প্রোটিনের উৎস হিসেবে যে শুঁটকি ব্যবহার করা হয়, তা সংরক্ষণের জন্য প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তবে শামুকে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না। ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য’ শামুকচাষে গুরুত্ব দেয়া দরকার। কুড়া, খৈল, শামুকের গুঁড়ো, ভিটামিন, লবণ শ্রমিক ও মেশিন চার্জ মিলিয়ে শামুক দিয়ে তৈরি এক কেজি মাছের খাবারের মূল্য সাড়ে ১১ টাকার মতো। অথচ বাজারে মাছের খাবারের মূল্য প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা। ৪০-৪৫ দিনে ১২০ শতাংশ পুকুর থেকে সঠিক ব্যবস্থাপনায় দুই হাজার কেজি শামুক আহরণ সম্ভব। প্রতি কেজি শামুকের গড় উৎপাদন ব্যয় হয় মাত্র পাঁচ টাকা মতো। বাংলাদেশে ছোট দেশীয় শামুক চাষ সম্প্রসারণ ও সঠিক বাজারজাতকরণের মধ্যদিয়ে মাছ সম্পদের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। এতে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত মিট অ্যান্ড বোনের ওপর চাপ কমবে। মৎস্য বিজ্ঞানীরা যা বলেন শামুক চাষ এবং এর থেকে মাছের খাবার তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত আছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক রিপন। তিনি বলেন, পুকুরে শামুকচাষ এবং তা থেকে খাবার তৈরি করে অনেকেই সাফল্য পেয়েছেন। তারা দেখেছেন শামুক  থেকে খাদ্য তৈরি করলে মাছের খাবার বাবদ ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসে। তিনি বলেন, যদি মাছচাষে ব্যাপকভাবে শামুকের তৈরি খাবার ব্যবহার করা হয়, তাহলে বিদেশ থেকে মাছের খাদ্য ‘মিট অ্যান্ড বোন’ আমদানি অনেকাংশে কমে যাবে। এতে  দেশের লাভ, চাষির লাভ। ড. মাহফুজুল হক রিপন বলেন, তার ধারণা, শামুক  থেকে উৎপাদিত খাদ্য মাছ বেশি খায়। কারণ এ খাবার অনেকটাই প্রাকৃতিক। শামুক চাষ কৌশল ঃ  ১২০ শতাংশের পুকুরে প্রতি শতাংশ হিসেবে এক কেজি  গোবর, এক কেজি  খৈল ও ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া পানিতে ভালোভাবে মেশাতে হবে। এ মিশ্রণ সমান চার ভাগে ভাগ করে তিন দিন অন্তর পানিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। এতে পুকুরের পানির রং যখন গাঢ় সবুজ হবে, তখন বুঝতে হবে পুকুরটি শামুক চাষের উপযোগী হয়েছে। এরপর খালবিল বা পুকুর থেকে শামুক সংগ্রহ করে প্রতি শতাংশ হিসেবে ২৫০ গ্রাম শামুক পুকুরের চারদিকে ছিটিয়ে দিতে হবে। পরে ১০  থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শামুক ব্যাপকভাবে বংশবিস্তার করবে। এরপর ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ শামুক পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ১২০ শতাংশ পুকুর থেকে ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে প্রায় দুই হাজার কেজি ছোট শামুক উৎপাদন সম্ভব। শামুকের খাবার হিসেবে প্রতি শতাংশ হিসেবে ২৫০ গ্রাম গোবর, ২৫০ গ্রাম খৈল এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া মেশানো কম্পোস্ট তিন দিন পরপর পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। পুকুর  থেকে শামুক তুলে চালের কুড়ার সঙ্গে মিশিয়ে তাজা শামুককে প্রথমে খাদ্য ভাঙানোর পিলেট মেশিনের মাধ্যমে গুঁড়ো করা হয়। এগুলো পরে রোদে শুকানোর পর খৈল ভাঙানোর মেশিনের মাধ্যমে ভাঙিয়ে মাছের খাবার প্রস্তুত করা হয়।

আদিপুরুষ সিনেমায় রাবণ চরিত্রে সাইফ 

বিনোদন বাজার ॥ নির্মাতা ওম রাউত পরিচালিত পরবর্তী সিনেমা ‘আদিপুরুষ।’ এতে লঙ্কেশ অর্থাৎ রাবণ চরিত্রে অভিনয় করবেন সাইফ আলী খান। ‘আদিপুরুষ’ সিনেমায় সাইফের অভিনয়ের বিষয়টি আগে জানা গিয়েছিল। তবে এতে তিনি কী চরিত্রে অভিনয় করবেন তা গোপন রেখেছিলেন নির্মাতা। বৃহস্পতিবার মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ওম রাউত। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘৭ হাজার বছর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান দানব ছিল!’  আদিপুরুষ সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করছেন প্রভাস। তিনি হিন্দু দেবতা রামের ভূমিকায় অভিনয় করবেন। অন্যদিকে সীতা চরিত্রে অভিনেত্রী কীর্তি সুরেশ অথবা কিয়ারা আদভানিকে দেখা যাবে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ‘রামায়ন’ অবলম্বনে তিন ভাগে সিনেমাটি নির্মাণ হবে। এর আগে ওম রাউত পরিচালিত ‘তানাজি: দ্য আনসাং ওয়ারিয়র’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন সাইফ আলী। এতেও খল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমায় এই অভিনেতার অভিনয়ে মুদ্ধ হয়ে এতে তাকে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ওম রাউত। সিনেমাটিতে উদয়ভান সিং রাঠোর চরিত্রে অভিনয় করেন সাইফ। ‘আদিপুরুষ’ প্রযোজনা করছে টি-সিরিজ। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। আগামী বছর এর শুটিং শুরু হবে। ২০২২ সালে ‘আদিপুরুষ’ সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে।

এবার ভাইরাল হলো শার্লিন চোপড়ার নাগিন ড্যান্স

বিনোদন বাজার ॥ ক্রিকেট মাঠে বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু প্রথম নাগিন ড্যান্সের সূচনা করেন। এরপর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠে নাগিন ড্যান্স দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম।  সম্প্রতি বলিউডের সমালোচিত মডেল-অভিনেত্রী শার্লিন চোপড়ার পুরোনো একটি নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে তাকে নাগিন ড্যান্স করতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মুশফিকুর রহিমের নাগিন ড্যান্সের ঘটনার পর এই ভিডিও তৈরি করেছিলেন শার্লিন। তখন বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও দীর্ঘ দিন পর আলোচনার জন্ম দিলেন শার্লিন।  ভিডিওতে দেখা যায়Ñবরাবরের মতো কালো রঙের আঁটোসাটো পোশাক পরেছেন শার্লিন। আর তা পরেই নাগিন ড্যান্স করছেন তিনি। সেখানে একটি বাচ্চা মেয়েকেও দেখা যায়। তার নাচের সঙ্গে মেয়েটিকে যুক্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন শার্লিন।

নেটফ্লিক্সের সঙ্গে চুক্তি করলেন ব্রিটিশ রাজপুত্র ও তার স্ত্রী

বিনোদন বাজার ॥ চলতি বছরই যুক্তরাজ্যের রাজপরিবার থেকে তারা স্বেচ্ছায় বেরিয়ে এসেছেন। তবু তাদের নাম শুনলেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এটাই আগে মনে আসে। ইংল্যান্ড ছেড়ে সম্প্রতি তারা এক সন্তানসহ লস অ্যাঞ্জেলসে বসবাস শুরু করেন। রাজকীয় জীবনযাপন ত্যাগ করে বেছে নিয়েছেন আর দশটা মানুষের মতো সংগ্রামের জীবন। বেছে নিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলসের গ্ল্যামারকেও। এক খবরে জানা গেল নানারকম নির্মাণে যুক্ত হচ্ছেন এই দম্পতি। সেজন্য তারা চুক্তি করেছেন অনলাইন প্লাটফর্ম নেটফ্লিক্সের সঙ্গে। এ চুক্তি প্রসঙ্গে প্রিন্স হ্যারি ও মেঘান বিবৃতিও দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন, ‘মানুষকে সচেতন করে, ইতিবাচক বার্তা দেবে এমন কাজের সঙ্গে থাকতে চাইছি আমরা। আমরা সদ্য বাবা-মা হয়েছি। পরিবার কত প্রাধান্য পেতে পারে একটা জীবনে সেটা উপলব্ধি করছি। এসব বিষয় আমাদের মাথায় রয়েছে।’ নেটফ্লিক্সের সঙ্গে তাদের কত ডলারের চুক্তি হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে মেঘান পেশাদার অভিনেত্রী। আগে তিনি আমেরিকার টিভি সিরিয়াল ‘স্যুটস’-এ অভিনয় করেছেন। কিন্তু বিনোদন জগতের অনুষ্ঠান প্রযোজনা করার কোনো অভিজ্ঞতা তার বা প্রিন্স হ্যারির নেই। এবার তারা সেই অভিজ্ঞতার অপেক্ষায়। দুজনই প্রযোজকের ভূমিকায় থাকবেন। জানা গেছে, এ দম্পতি সর্বপ্রথম একটা ডকুমেন্টারি সিরিজ এবং একটা অ্যানিমেশন সিরিজে কাজ করবেন। এগুলো মেয়েদের প্রেরণার জন্য তৈরি করা হবে। এদিকে নেটফ্লিক্স থেকে বলা হয়েছে, এই রাজকীয় দম্পতির ওপর তাদের ভরসা রয়েছে যে, তারা প্রযোজক হিসেবে ভালো কাজের নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

সপরিবারে সুস্থ হয়েছেন দ্য রক

বিনোদন বাজার ॥ সপরিবারে করোনা জয় করলেন হলিউড অভিনেতা ও সাবেক রেসলার ডোয়াইন জনসন। বৃহস্পতিবার ফটো ও ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইনস্টাগ্রামে তথ্যটি জানিয়েছেন এই অভিনেতা। ‘দ্য রক’খ্যাত এই তারকা জানান, তিন সপ্তাহ আগে তাদের কোভিড-১৯ টেস্টের ফল পজিটিভ আসে। তবে বর্তমানে সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি পরিবার হিসেবে এটি আমাদের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন সময় ছিল। করোনা টেস্টে পজিটিভ হওয়া শরীরের কোথাও ভেঙে যাওয়া বা ইনজুরি হওয়া থেকেও ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা।’ ‘বেওয়াচ’ সিনেমাখ্যাত এই তারকা জানান, তিনি ও তার পরিবার করোনাভাইরাস মুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে তাদের কোনো উপসর্গ নেই। এই অভিনেতা বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান কারণ সবাই কোভিড-১৯ জয় করে সুস্থ-সবল হতে পারে না। আমার কিছু কাছের বন্ধু এই ভাইরাসে তাদের মা-বাবা, প্রিয়জনকে হারিয়েছে।’ জানা গেছে, এক বন্ধুর মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে আসেন ডোয়াইন জনসন পরিবার, যিনি এই অভিনেতার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া এই তারকা অভিনেতা বলেন, ‘আপনাকে ভালোবাসে এবং যতœ নেয় এমন বন্ধু, পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের সংস্পর্শে আপনি থাকতে চান। তাদের দূরে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি তা করতে বলছিও না। কিন্তু আপনার বাড়িতে কেউ আসলে ভালোভাবে নিয়ম কানুন মেনে চলুন।’