হাফিজ-হায়দার-রিয়াদের নৈপুন্যে জয় দিয়ে সফর শেষ করলো পাকিস্তান

ঢাকা অফিস ॥ অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজের দুর্দান্ত ব্যাটিং-এর সাথে তরুণ হায়দার আলীর অভিষেক হাফ-সেঞ্চুরি ও শেষদিকে পেসার ওয়াহাব রিয়াদের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংএ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ সমতায় শেষ করলো সফরকারী পাকিস্তান। একই সঙ্গে জয় দিয়ে ইংল্যান্ড সফর শেষ করলো উপমহগাদেশের দলটি। গতরাতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-২০ ম্যাচে ইংলিশদের ৫ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও, দ্বিতীয়টি ৫ উইকেটে জিতেছিলো ইংলিশরা। ম্যানচেষ্টারে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করতে নামে ইংল্যান্ড। কারণ আগের ম্যাচে রান তাড়া করে জয় পেয়েছিলো তারা। ব্যাট হাতে নেমে ৩২ রানের মধ্যে পাকিস্তানের দুই ওপেনারের বিদায় ঘটে। ফখর জামান ১ ও অধিনায়ক বাবর ২১ রান করে ফিরেন। এরপর জুটি বাঁধেন গত অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলা হায়দার ও হাফিজ। অভিষেক ম্যাচে ব্যাট হাতে নিজেকে রঙ্গীন করেছেন হায়দার। ইংল্যান্ড বোলারদের উপর চড়াও হন তিনি। তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন হাফিজ। পরবর্তীতে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন তারা। ২৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হায়দার। টি-২০ ক্রিকেটে অভিষেকেই প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি করা প্রথম পাকিস্তানী খেলোয়াড় বনে যান তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর হায়দারকে বেশি দূর যেতে দেননি ইংল্যান্ডের পেসার ক্রিস জর্ডান। ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৩ বলে ৫৪ রানেন আউট হন তিনি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬১ বলে ১০০ রান যোগ করেন হায়দার-হাফিজ। হায়দার ফিরে গেলেও বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছেন আগের ম্যাচে ৩৬ বলে ৬৯ রান করা হাফিজ। টি-২০ ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ৫২ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা ছিলো। ফলে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯০ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের জর্ডান ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। আগের ম্যাচে ১৯৬ রানের টার্গেট স্পর্শ করেছিলো ইংল্যান্ড। এবারও বড় টার্গেট স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখছিলো তারা। কিন্তু জয়ের জন্য ১৯১ রানের বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে যেরকম শুরুর প্রয়োজন ছিলো, তা হয়নি স্বাগতিকদের। ২৬ রানের মধ্যে জনি বেয়ারস্টো ও ডেভিড মালান ফিরে যান। বেয়ারস্টো শুন্য ও মালান ৭ রান করেন। শুরুর ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার টম ব্যান্টন ও অধিনায়ক ইয়োইন মরগান। ২১ বলে ৩৯ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। দলীয় ৬৫ ও ৬৯ রানে ফিরেন দু’জনে। এতে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ইংল্যান্ড। ব্যান্টন ৪৬ ও মরগান ১০ রান করে ফিরেন। এই অবস্থায় দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন মঈন আলি ও স্যাম বিলিংস। তবে মঈন ব্যক্তিগত ৭ রানে সরফরাজের কল্যাণে জীবন পান। জীবন পেয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেন তিনি। এতে লড়াইয়ে ফিরে ইংল্যান্ড। ১৫তম ওভারে মঈন ও বিলিংসের জুটি ভাঙ্গেন রিয়াজ। ২৪ বলে ২৬ রান করেন বিলিংস। বিলিংস ফিরে গেলেও, ব্যাট হাতে মারমুখী মেজাজেই ছিলেন মঈন। তাই শেষ ৩ ওভারে জয়ের সমীকরন ৩০এ নামিয়ে আনেন তিনি। এরপর ২ ওভারে ২০এর লক্ষ্য ছিলো ইংল্যান্ডের। কিন্তু ১৯তম ওভারের প্রথম বলে জর্ডানের রান আউট ও পঞ্চম বলে মঈনকে থামিয়ে পাকিস্তানের জয়ের পথ সহজ করেন রিয়াজ। ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৩৩ বলে ৬১ রান করে আউট হন মঈন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৫ রান করে ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের আফ্রিদি-রিয়াজ ২টি করে উইকেট নেন।

 

ফটোসাংবাদিকদের জন্য হাত বাড়ালেন শ্রদ্ধা কাপুর

বিনোদন বাজার ॥ ‘টিন পাট্টি’ চলচ্চিত্র দিয়ে ২০১০ সালে বলিউডে যাত্রা করেন অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর। বাবা শক্তি কাপুরের ছায়ায় সেই যাত্রা হলেও ক্রমেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী তারকা হিসেবে। এরইমধ্যে বেশকিছু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তার অভিনয়ের বৈচিত্র্যতা মুগ্ধ করে সবাইকে। শুধু সিনেমায়ই নয়, সিনেমার বাইরে ব্যক্তিজীবনেও বেশ জনপ্রিয় বলিউডের এই অভিনেত্রী। তাকে প্রায় সময় দেখা যায় নানারকম সামাজিক কার্যক্রমে। করোনার কারণে লকডাউনের শুরুতেই চিড়িয়াখানার বিভিন্ন প্রাণী নিয়ে সমাজ সচেতনতামূলক কাজ করে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। এবার শ্রদ্ধা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, করোনাকালীন কর্মবিরতিতে অর্থকষ্টে থাকা ফটোসাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াবেন তিনি। অনেক আলোকচিত্রীই রয়েছেন, যাদের কাজ না থাকার কারণে দিন কাটাতে হচ্ছে নিদারুণ অর্থকষ্টে। তাদের পাশেই দাঁড়াতে চান শ্রদ্ধা কাপুর। শ্রদ্ধার দেওয়া এক বিবৃতিতে এমনটাই জানা গেল। সেই বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশ হতেই প্রশংসায় ভাসছেন ‘বাঘি’খ্যাত এই অভিনেত্রী। অনেক সিনিয়র ফটোসাংবাদিক শ্রদ্ধার এই উদ্যোগের জন্য টুইট করে তাকে শুভকামনাও জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ কর্মবিরতির পর আবারও কাজে ফিরছেন শ্রদ্ধা। তামিল জনপ্রিয় থ্রিলার সিনেমা ‘আদায়ি’র রিমেক করবে বলিউড। সেখানে আমারা পালের চরিত্রে দেখা যাবে শ্রদ্ধা কাপুরকে।

নেশন্স লীগ দিয়ে মাঠে ফিরছে আন্তর্জাতিক ফুটবল

ঢাকা অফিস ॥ করোনার কারণে এক বছরের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে ইউরো-২০২০। কিন্তু মাঠে ঠিকই ফরতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল। উয়েফা নেশন্স লীগ দিয়ে মাঠে ফিরতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল। করোনা ভাইরাসের এই সংক্রমন সত্বেও শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামতে যাচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। স্বাভাবিক সময়ে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশীপ শেষ হবার আট সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় কন্টিনেণ্টাল এই আন্তর্জাতিক আসরটি। তবে গত নভেম্বরে ইউরো বাছাইয়ের পর ১০ মাসের ব্যবধানে প্রথমবার মাঠে গড়াচ্ছে টুর্নামেন্টটি। জার্মান কোচ জোয়াচিম লো বলেন,‘ আমাদের দল ফের মাঠে ফিরতে পারায় আমরা আনন্দিত। আমরা আবারো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারছি। বিগত মাসগুলো প্রত্যেকের জন্য ছিল বেশ কঠিন।’ আধুনিক যুগে এত দীর্ঘ বিরতি শোনা যায় না। আসন্ন মাসগুলোতে কিভাবে ক্যালেন্ডার পুরণ করবে সেটিও দেখতে হবে। এই মাসে প্রায় সবগুলো দেশই ফুটবলে ফিরতে যাচ্ছে। ২০২০-২১ মৌসুমের ইউরোপীয় লীগ শুরুর আগেই এই আন্তর্জাতিক সুচি শুরু হচ্ছে। ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট বলেন,‘ আমার মতে সবারই ফুটবল ক্যালেন্ডারের দিকে নজর দেয়া উচিত এবং এর দায় সবার। প্রত্যেকে নিজের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার চেস্টা করছে, এতে ক্যালেন্ডার বাড়ছে এবং স্থান ছোট হচ্ছে। খেলোয়াড়দের প্রতি প্রত্যাশার চাপ বাড়বে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ছয় রাউন্ডের নেশন্স লীগ। শীর্ষ চারটি দল ফাইনাল রাউন্ডে খেলবে।

শাহরুখ খানের ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন দিতে কত টাকা লাগে?

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। তাকে রোমান্সের কিং-ও বলা হয়। দুর্দান্ত অভিনয় এবং মার্জিত ব্যক্তিত্ব নিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অন্য উচ্চতায়। দর্শক ও আয়ের দিক থেকে তাকে বিশ্বের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র তারকা বলে অভিহিত করা হয়। তবে শুধু বলিউড নয়, ইনস্ট্রাগ্রামেও যেন কিং খান তিনি। ২২ মিলিয়ন অনুসারীর ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে মাঝেমধ্যেই ভক্তদের দৈনন্দিন নিজের ব্যক্তিগত খবরা-খবর দিয়ে থাকেন শাহরুখ। আবার কখনো দেখা যায় তার অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন পণ্যের প্রচার করতে। জানেন কী এইসব বিজ্ঞাপন দেয়া পোস্টের জন্য কত টাকা পান শাহরুখ খান? জানা গেছে, কেউ যদি শাহরুখ খানের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে চান তাহলে তাকে গুনতে হতে পারে ৮০ লাখ রুপি থেকে ১ কোটি রুপি। তার এই ব্র্যান্ড ভ্যালুই বলে দেয় দুনিয়াজুড়ে কতটা জনপ্রিয় তিনি। এত মোটা অংকের বিনিময়েও বছরে প্রচুর পরিমাণ পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন তিনি। বলা হয় যে অনেক পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান টিভিসি বা ওভিসি নির্মাণের চেয়ে শাহরুখ খানের ইনস্টাগ্রামের আইডিটাকে বেশি ভরসা করেন। কারণ এখানে খুব সহজেই কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায় একটি পণ্যের প্রচার। প্রসঙ্গত, করোনাকালীন দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারো সিনেমার শুটিং কাজে নামছেন বলিউডের কিং খান। কথা রয়েছে নভেম্বরে যশরাজ ফিল্মসের ব্যানারে ‘পাঠান’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করবেন তিনি। যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন।

শেয়ার বাজার নিয়ে নির্মিত হলো নাটক

বিনোদন বাজার ॥ শেয়ার বাজারের উত্থান-পতন নিয়ে প্রায়ই নানা ঘটনা ঘটে। যদিও সেসব সীমাবদ্ধ থাকে খবরে। এবার সেটি উঠে আসছে নাটকের গল্পের মাধ্যমে। শেয়ার বাজারের জীবনঘনিষ্ঠ একটি গল্প নিয়ে সম্প্রতি নির্মিত হলো নাটক ‘জীবন সূচক’। আব্দুল্লাহ মামুনের গল্পে নাটকটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন বিপু পাল। এর প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী আসিফ রহমান ও সাদিয়া জাহান প্রভা। একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘কমলা রকেট’-খ্যাত নির্মাতা নূর ইমরান মিঠু। নাটকটি সম্পর্কে নির্মাতা বলেন, ‘কম হলেও চার মাস ধরে নানা গবেষণার মাধ্যমে চিত্রনাট্যটির কাজ শেষ করা হয়। এরপর নির্মাণ। কারণ, বিষয়টি শেয়ার বাজার। আমি নিজেও এ বিষয়ে ভালো জানতাম না। গল্প হাতে পাওয়ার পর শেয়ার বাজার নিয়ে গবেষণা করতে হয়েছে আমাকে। আশা করি দর্শকরা গল্পটি পছন্দ করবেন। কারণ, গল্পটি একটু আলাদা।’ নির্মাতা জানান, ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় মাছরাঙা টিভিতে নাটকটি প্রচার হবে।

প্রণব মুখার্জির প্রয়াণ

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি চলে  গেলেন না-ফেরার দেশে। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির সেনা হাসপাতালে  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উপমহাদেশের এ যশস্বী রাজনীতিক। প্রণব মুখার্জি ছিলেন বাংলাদেশের নড়াইলের জামাই। দলমত-নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ছিল লক্ষ্য করার মতো। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে  রেখেছেন সুহৃদের ভূমিকা। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর সেই মহাদুর্দিনে বঙ্গবন্ধু পরিবারের পাশে দাঁড়ান এ বিদগ্ধ রাজনীতিক। ভারতের অর্থনীতির বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন প্রণব মুখার্জি। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা অর্থমন্ত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে পশ্চিমা গণমাধ্যমে। পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রণব মুখার্জির মৃত্যুর খবর প্রথম প্রচারিত হয় পুত্র অভিজিতের টুইট বার্তায়। এতে তিনি বলেন,  সেনা হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রয়াস, জনতার প্রার্থনা ও দোয়া সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো গেল না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারতরতœ প্রণব মুখার্জির প্রয়াণে দেশ শোকাহত। ভারতের অগ্রগতিতে তাঁর ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় শোকবার্তায়। প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে বাংলাদেশেও শোকের ছায়া বিস্তার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং ’৭৫-পরবর্তী দুর্দিনে ভারতের প্রায়াত সাবেক রাষ্ট্রপতির ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। স্মর্তব্য, ১০ আগস্ট নয়াদিল্লির রাজাজি মার্গের সরকারি বাসভবনে কলঘরে পড়ে গিয়ে প্রণব মুখার্জি মাথায় আঘাত পান। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সেনা হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। চিকিৎসায় সাড়া দিলেও সেই থেকেই তিনি ছিলেন কোমায়। ক্রমেই তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ লড়াই করার পর সোমবার তিনি হার স্বীকার করেন। বাংলাদেশের অকৃত্রিম সুহৃদ প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে ভারতের রাজনীতিতে যে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সজ্জন এই রাজনীতিককে দলমত-নির্বিশেষে সবাই ভাবতেন আস্থার প্রতীক হিসেবে। উপমহাদেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তাঁর সমর্থন ইতিহাস কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

চলতি মাসেই শেষ শুটিং, এলো পোস্টার

বিনোদন বাজার ॥ মার্চের ২০ তারিখ ছিল ফেরদৌস-পূর্ণিমার ‘গাঙচিল’ ছবির প্যাচওয়ার্ক শুটিং। সব প্রস্তুত থাকলেও করোনার থাবায় সেটি স্থগিত হয়ে যায়। পাঁচ মাস পর আবারও শুটিংয়ে ফিরছে পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূলের টিম। এ মাসের শেষ দিকে শুরু হবে এর প্যাচওয়ার্ক ও গানের কাজ। এগুলো শেষ হলেই ছবিটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। এদিকে মঙ্গলবার এসেছে চলচ্চিত্রটির প্রথম লুক। যেখানে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো হাজির হয়েছেন। এতে মূলত দুটি দৃশ্য কোলাজ করা হয়েছে। একটিতে আছেন ফেরদৌস, পূর্ণিমা ও আনিসুর রহমান মিলন। অপরটিতে অভিনেতা তারিক আনাম খান। পরিচালক নেয়ামূল বলেন, ‘মঙ্গলবার এসেছে চলচ্চিত্রটির ফার্স্ট লুক। এর মাধ্যমে ছবির প্রধান চরিত্রগুলো হাজির করা হয়েছে। আপাতত ভারতে ছবির সম্পাদনার কাজ চলছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরের শেষে আমরা বাকি শুটিং শুরু করতে পারবো। কয়েকদিন প্যাচওয়ার্ক করে আমরা গানের কাজ করবো।’ সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস ‘গাঙচিল’ অবলম্বনে ছবির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করছেন ফেরদৌস ও পূর্ণিমা। এতে সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয় করছেন ফেরদৌস আর পূর্ণিমাকে দেখা যাবে এনজিও কর্মীর চরিত্রে। অতিথি চরিত্রে দেখা যাবে কলকাতার অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। মন্ত্রীর নিজ নির্বাচনি এলাকার একটি গ্রামের নাম গাঙচিল। মূলত এ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার চিত্র নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। তারই প্রতিচ্ছবি মিলবে সিনেমায়। এতে আরও অভিনয় করছেন আনিসুর রহমান মিলন, তারিক আনাম খান, আহসানুল হক মিনু প্রমুখ।

মৃত্যুর মুখোমুখি ১৯ বার যেভাবে বেঁচে যান শেখ হাসিনা!

টানা একযুগের বেশি সময় ধরে যাঁর হাত ধরে হাঁটছে বাংলাদেশ, সেই বিদগ্ধ ব্যক্তিটিকেই ঘাতকরা হত্যার চেষ্টা করেছে ১৯ বার। নিক্ষিপ্ত হয়েছে বিধ্বংসী গ্রেনেড। বিস্ফোরণ ঘটেছে বোমার। আর ছোঁড়া হয়েছে মুহূর্মুহু গুলি। সেই প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিটি আর কেউ নন, জাতির জনক কন্যা শেখ হাসিনা। ‘৯৬-‘০১ প্রথম ক্ষমতায় আসা শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদ পূর্ণ হলে তাদের প্রধানমন্ত্রীত্বের ২০ বছর হবে। শেখ হাসিনা অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়াকে আল্লাহর অসীম কৃপা মনে করেন। ‘৮৮-তে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ২০০৪-এ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর গ্রেনেড হামলাকে বলা হয় রাষ্ট্রকল্পিত গণহত্যা। প্রথমটি এরশাদের শাসনামলে দ্বিতীয়টি খালেদা-নিজামীর শাসনকালে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সামরিক  বেসামরিক বহু কর্মকর্তা অভিযুক্ত। ১৯টি হামলার মধ্যে ১৭টি সংঘটিত হয় শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলের নেতা। ‘৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পশ্চিম জার্মানিতে থাকার সুবাদে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ১৯টি হামলাই হয় ‘৮৭ সালের পরে। ‘৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে বুলেট-বোমা হামলাই প্রথম হামলা। সেই হামলায় তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও ৭ নেতাকর্মী প্রাণ হারায়। আহতের সংখ্যা ছিল তিন শতাধিক। রাষ্ট্রীয় মদদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে হত্যার সেই প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। জেনারেল এরশাদের শাসনামলে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আরও একটি হামলা হয়। এই হামলাটি হয় ‘৮৯ সালের ১১ আগস্ট। বঙ্গবন্ধুর বত্রিশ নম্বর সড়কের বাসভবনে এ হামলাটি হয় সরকারের মদদে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নীলনকশা অনুযায়ী। খুনি ফারুক-রশীদের ফ্রিডম পার্টির চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা শোকাবহ আগস্টের ১১ তারিখ দিবাগত রাত ১২টার সেই হামলা চালায়। মুহূর্মুহু গুলি ছুঁড়ে তারা। নিক্ষিপ্ত বিধ্বংসী একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত না হওয়ায় শেখ হাসিনা রক্ষা পান। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুকে প্রায় সপরিবারে ওই বাসভবনেই হত্যা করে ফারুক-রশীদ চক্র। শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে যান শেখ রেহানাও। আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্মূল করতে ফ্রিডম পার্টি গঠনের সুযোগ দেয়া হয়। ফাঁসিতে ঝুলছে যে কর্নেল ফারুক সেই তাকেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন এরশাদ। এরশাদের ‘৮৮ প্রহসনের নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টির নামে সংসদ সদস্য হয় বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশীদ ও মেজর বজলুল হুদা। মেজর হুদা ফাঁসিতে ঝুললেও বিদেশে পলাতক রয়েছে কর্নেল রশীদ। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। অথচ, ওদিনটাকে ফ্রিডম পার্টি ‘জাতীয় মুক্তি দিবস’ হিসাবে পালনের ঔদ্ধত্য ও ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল সরকারি মদদে। ‘৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে অকল্পনীয়ভাবে আওয়ামী লীগের পরাজয় ঘটে। উত্থান ঘটে বিএনপির।  বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে কয়েকটি আসনে উপনির্বাচন হয়। ‘৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সেই নির্বাচনে বেগম জিয়ার ছেড়ে দেয়া আসন ছিল ধানমন্ডি- মোঃপুর আসন। সেই নির্বাচনে বিরোধী দলীয়  নেত্রী শেখ হাসিনা ভোটদান শেষে গাড়িতে করে গ্রীনরোড অতিক্রম করছিলেন। ঠিক সেই মূহুর্তে তাঁকে হত্যার জন্য গাড়িতে করা হয় গুলিবর্ষণ। নিক্ষেপ করা হয় বোমা অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা হয় শেখ হাসিনার। এটি ছিল তৃতীয় হামলা। চতুর্থ হামলাটি হয় ‘৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে। শেখ হাসিনাকে বহনকারী বগিটিতে গুলিবর্ষণ করা হলেও অল্পের জন্যে বেঁচে যান। ‘৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর শেখ রাসেল স্কোয়ারে হয় ৫ম হামলাটি। সমাবেশে ভাষণদানকালে অতর্কিত গুলি ছুঁড়ে সন্ত্রাসীরা। গুলি লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়। ‘৯৬ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ছিল আওয়ামী লীগের জনসভা। হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয় বোমা হামলা। এ যাত্রাও বেঁচে যান বিরোধী দলের নেতা। ‘৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনাকে বেশ কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়। ইন্টার এশিয়া টিভির মালিক শোয়েব চৌধুরী ইমেইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজিব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৩১ জনকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। ২০০০ সালের ২০ জুলাই  গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় জনসভাস্থলে ৮৪ কেজি এবং হ্যালিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের দুটি বোমা পুঁতে রাখা হয় হয়েছিল শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে। ২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর উদ্বোধন করার কথা ছিল শেখ হাসিনার। সেই স্থানেও বোমা পুঁতে রাখা হয় হত্যার লক্ষ্যে। বোমা পুঁতে রাখার খবরে কর্মসূচি বাতিল করা হয়। ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনের সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে পৌঁছার আগেই মাদ্রাসাস্থ একটি ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে এবং দুজন হুজি নিহত হয়।  ২০০২ সালের ৪ মার্চ শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নওগাঁয় বিএমসি মহিলা কলেজের সামনে গাড়ী বহরে হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীরা গুলি ছুঁড়লেও লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা সবচেয়ে নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলা। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা। মুহূর্মুহু গ্রেনেড গুলি বর্ষণ যেনো রোজ কেয়ামত হানা দিয়েছিল। গ্রেনেড বিস্ফোরণের মুখে বুলেট প্রুফ গাড়িতে উঠিয়ে দিলেও ঘাতকরা বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়ে। গ্রেনেড হামলায় ছাত্রলীগের অকুতোভয় যোদ্ধা মোস্তাক আহমেদ সেন্টুসহ ঝরে পড়ে ২৪ নেতাকর্মীর প্রাণ। ক্ষত-বিক্ষত হন শীর্ষ  নেতারা। আর হামলার শিকার হয় চারশত নেতাকর্মী। ২৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন গ্রেনেড হামলায় আহত মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বেগম আইভি রহমান (প্রায়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী)। হামলায় আহত অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। ২০০৭-২০০৮  সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ে কারাবন্দী অবস্থায় বিষ মেশানো খাবার খাইয়েও শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এর পর ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কলারোয়ায়। এটি ছিল গাড়িবহরে হামলা। এটাও শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে। এর আগে ২০০২ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে গাড়িবহরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ছিল শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টায় বারোতম হামলা। ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানি সন্ত্রাসী চক্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা একটি সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে। কিন্তু ঘাতকচক্রটি কলকাতা বিমানবন্দর অভিমুখে যাত্রার প্রাক্কালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে চারজন নিহত হয়। এ হত্যাচেষ্টার খবর প্রকাশ করে উইকিলিকস। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারে দন্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামী মেজর ডালিম হংকং বসবাসকারী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ইসরাক আহমেদের অর্থায়নে এই হত্যা পরিকল্পনা করে। ২০১৪ সালে নারী জঙ্গিদল দিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয় “মানব বোমা” বিস্ফোরণ ঘটিয়ে। পশ্চিম বাংলার বর্ধমানে ১৫০ জন নারী এবং ১৫০ জন পুরুষ যুবক প্রশিক্ষণ  নেয়। কিন্তু প্রশিক্ষণ অবস্থায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। সর্বশেষ ১৯তম হামলাটি হয় কাওরানবাজারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। জমাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এই হত্যাচেষ্টা চালায়। কিন্তু এ যাত্রাও শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে যান। লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

 

তুলা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আঁশ জাতীয় ফসল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ সারা বিশ্বে তুলা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আঁশ জাতীয় ফসল। এদেশে তুলা উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত এদেশে তুলা উৎপাদনের পরিমান তেমন বেশি নয়। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সক্রিয়তায় বর্তমানে তুলা উৎপাদনের জমির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। তুলা চাষের উপযোগী জমি ঃ তুলা চাষের জন্য উৎকৃষ্ট মাটি হল দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ। তবে পর্যাপ্ত জৈবপদার্থ সমৃদ্ধ যেকোন মাটিতেই তুলার চাষ করা যায়। খুব বেশি বেলে বা কর্দমকণা সমৃদ্ধ মাটি তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত নয়। যেসব জমিতে বৃষ্টির পানি দাঁড়িয়ে থাকে না বা স্বাভাবিক বন্যার পানি উঠে না এরূপ জমি তুলা চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে। যে জমি স্যাঁতসেঁতে, ছায়াযুক্ত এবং যেখানে বৃষ্টির পানি ২-৬ ঘন্টার মধ্যে নেমে যায় না সেরূপ জমি তুলা চাষের জন্য নির্বাচন করা উচিত নয়। মাটির পিএইচ মান ৬.০-৭.৫ হওয়া উত্তম। মাটি বেশি অম্লীয় হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরি ঃ আমাদের দেশে বর্তমানে উন্নত পদ্ধতিতে তুলা চাষ করা হচ্ছে এবং এই সময়কাল হল বর্ষাকাল। বর্ষার অবস্থা বুঝে মাটিতে ‘জো’ থাকা অবস্থায় ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা ও সমতল করে জমি তৈরি করতে হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড়িয়া অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে তুলা চাষ করা হয়। পক্ষান্তরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তুলার চাষ করা হয়। দেশের যে সমস্ত অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমান কম, সে সমস্ত অঞ্চলে শ্রাবণের মাঝামাঝি থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে জমি চাষ করে বীজ বপন করা হয়। এদেশের রংপুর-দিনাজপুর এলাকায় শ্রাবণ মাসের মধ্যেই বীজ বপন করা হয় এবং অন্যান্য সমতল অঞ্চলে ভাদ্র মাসে জমি তৈরি করে বীজ বপনের উপযুক্ত করা হয়। বীজ বপনের সময় আগাম শীত এলাকায় ( বিশেষ করে রংপুর দিনাজপুর এলাকা) শ্রাবণ মাস হতে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অবশ্যই বীজ বপনের কাজ শেষ করতে হবে। পাহাড়িয়া এলাকায় বর্ষা তীব্র আকারে শুরুর ১৫/২০ দিন পূর্বে (জমিতে ‘ জো’ থাকা অবস্থায়) বীজ বপন করা উত্তম। অর্থাৎ খরা মৌসুমে তুলা আবাদের জন্য জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে বীজ বপন করতে হবে। উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়িয়া এলাকা ছাড়া অন্যান্য এলাকায় শ্রাবণের মাঝামাঝি হতে ভাদ্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে মধ্য শ্রাবণের দিকে বীজ বপন উত্তম। যদি কোথাও বিশেষ কারনে বীজ বুনতে দেরি হয় তবে তা অবশ্যই ভাদ্রের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। জাত ঃ তুলা চাষের জন্য আমেরিকান জাতের নিম্নবর্ণিত জাতসমূহ বেশি চাষাবাদ হয়ে থাকে: সিবি-৫: জাতটির পাতা কিছুটা শুয়াযুক্ত বিধায় জ্যাসিড পোকার আক্রমণ প্রতিরোধী। তবে বোলওয়ার্ম ও ব্লাইট রোগের প্রতি সংবেদনশীল। জাতটি উচচ জিওটি সম্পন্ন। এ জাতটি যশোর অঞ্চলের বৃহত্তর যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় চাষাবাদের উপযোগী। সিবি-৯: জাতটি কিছুটা শুয়াযুক্ত বিধায় জ্যাসিড প্রতিরোধী। বোল সাইজ বড় এবং উচচ ফলনশীল। তুলা চাষের আওতাধীন অধিকাংশ জেলায় চাষের জন্য উপযোগী। জাতটি অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ মেয়াদী। গাছের গঠন দূর্বল প্রকৃতির হয়ে থাকে, ফলে অধিক ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সিবি-১০: জাতটি অপেক্ষাকৃত আগাম। এ জাতটি অন্যান্য ফসল অর্থাৎ সাথী ফসলের সাথে চাষাবাদ সুবিধাজনক। আগাম বপন করলে এ জাতের তুলা ফসল উঠিয়ে নাবী গম, ভূট্টা, আলু প্রভৃতি রবি ফসল চাষ করা যায়। যশোর ও রংপুর অঞ্চলের জেলা সমুহে চাষের উপযোগী। সিবি-১১: জাতটি আগাম। এ জাতের পাতা ওকরা জাতীয় এবং লিফ এরিয়া কম। পোকা মাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধী হওয়ায় ফসল উৎপাদন খরচ কম, ফলন বেশি। জাতটি উত্তরাঞ্চলে চাষাবাদের জন্য উপযোগী। সিবি-১২: জাতটি আগাম, রোগ প্রতিরোধী তবে বোল রটের আক্রমণ কিছুটা হতে পারে। জ্যাসিড ও এফিডের আক্রমণ হলেও চর্বনকারী পোকা ( যেমনঃ বোলওয়ার্ম, স্পটেড বোলওয়ার্ম এবং স্পোডোপটেরা) এর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। জাতটি উচচ ফলনশীল। ফলন বেশি (৩.৩-৪.৫) যশোর অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য উপযোগী। রূপালী-১ হাইব্রিডঃ গণচীনে উদ্ভাবিত হীরা হাইব্রিড রূপালী-১ এর জীবনকাল ১৬৫-১৭০ দিন, জিওটি ৪১%, আঁশ মিহি ,লম্বা ও মজবুত, অগাম জাত, ডাল ভেঙ্গে পড়ে না, স্পটেড বোলওয়ার্ম এর আক্রমন খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না, ১০০% বোল থেকে তুলা পাওয়া যায়। সুপ্রিম সীড কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক এই জাতটি বাজারজাত হচ্ছে। বিঘা প্রতি ফলন ১৪-১৫ মণ। ডি.এম-১ হাইব্রিডঃ জাতটি গণচীন থেকে আমদানী করা হয়েছে। জীবনকাল ১৫০-১৫ দিন, জিওটি ৪২% এর বেশী, ডাল ভেঙ্গে পড়ে না, আঁশ মিহি, লম্বা ও মজবুত স্পটেড বোলওয়ার্ম এর আক্রমন তেমন একটা পরিলক্ষিত হয় না? জাতটি লালতীর কোম্পানী কর্তৃক বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলন বিঘা প্রতি ১৪-১৫ মণ। এছাড়াও পাহাড়ী অঞ্চলে পাহাড়ী তুলা-১ ও পাহাড়ী তুলা-২ নামে উচ্চ ফলনশীল তুলার চাষ হয়ে থাকে। বীজ প্রক্রিয়াজাতকরন ঃ বপনের সুবিধার জন্য তুলাবীজ ৩-৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে তা ঝুরঝুরে মাটি বা শুকনো গোবর অথবা ছাই দিয়ে এমনভাবে ঘষে নিতে হবে যেন আঁশগুলো (ফাঁজ) বীজের গায়ে লেগে না থাকে এবং বীজ একটা হতে অন্যটা আলাদা হয়ে যায়। এছাড়া লঘু সালফিউরিক এসিড দিয়ে বীজ আঁশ মুক্ত করেও বপন করা যায়। এতে বীজের গায়ে লেগে থাকা রোগ জীবানু ও পোকার ডিম নষ্ট হয়ে যায়। বীজের হার ও বপনের পদ্ধতি ঃ বীজের হার: তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ওপি জাতের ক্ষেত্রে প্রতি একরে প্রায় ৩ কেজি এবং হাইব্রিড বীজের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ১.৫-১.৮ কেজি বীজ দরকার হয়। বপন পদ্ধতি ঃ উত্তর-দক্ষিন লাইন করে সারিতে বীজ বপন করা উত্তম। হাত লাঙল দিয়ে হালকাভাবে সারি টেনে অনুমোদিত সার প্রতি সারিতে ভাল করে নিয়ে তা প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর নির্ধারিত দূরত্ব ১.২৫ সেঃ মিঃ থেকে ২.৫ সেঃ মিঃ গভীরে ৩/৪টি বীজ বুনে তা ঢেকে দিতে হবে। সিবি – ১ সারির দূরত্ব – ১০০ সেঃ মিঃ ও গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৫০-৬০ সেঃ মিঃ। অন্য সকল জাত সারির দূরত্ব – ৯০-১০০ সেঃ মিঃ ও গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৪৫-৫০ সেঃ মিঃ। অতিবৃষ্টিজনিত কারন বা অন্য প্রতিকূল আবহাওয়ায় জমি চাষ করা সম্ভব না হলে এবং মাটি খুব ভিজে থাকলে ডিবলিং পদ্ধতিতে সারিতে বীজ পুঁতে দিতে হবে। এই পদ্ধতিতে অনুমোদিত সার গর্তে প্রয়োগ করে ৩/৪টি বীজ নির্ধারিত দূরত্বে বপন করতে হবে। অনেক সময় শ্রাবন-ভাদ্র মাসে জমিতে আউশ ধান বা পাট থাকে কিংবা প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে জমি পানিতে প্লাবিত থাকে, যে অবস্থায় বীজ বপন সম্ভব নয়। এরূপ অবস্থায় পলিব্যাগে চারা উৎপন্ন করে ২০-৩০ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হবে। সার প্রয়োগঃ তুলা চাষের জমি উর্বর হওয়া বাঞ্ছনীয়। উর্বরতা মান কম হলে জমিতে হেক্টর প্রতি ৫-৬ টন গোবর সার বা কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করতে হবে। এরূপে জৈব সার প্রয়োগ করা হলে জমিতে তুলনামূলকভাবে কম রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া জৈব সার প্রয়োগে জমিতে গৌণ পুষ্টি উপাদানের চাহিদাও পূরন হয়। মাটির পিএইচ মান ৬.৫-এর কম হলে জমিতে হেক্টর প্রতি ২ টন চুন প্রয়োগ করতে হবে (বীপ বপনের ১ মাস পূর্বে বপন করতে হবে)। জৈব সার জমি তৈরির প্রথম দিকে প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। জমির মাটি যদি এঁটেল প্রকৃতির বা লাল মাটি হয় তবে উক্ত ০.৭৫ অংশ সমান দু’ভাগে ভাগ করে চারার বয়স ২০-২৫ দিন ও ৫০-৬০ দিন এর সময় পার্শ্ব প্রয়োগ ভিত্তিতে প্রয়োগ করা উত্তম। সার পার্শ্ব প্রয়োগের পূর্বে তুলা গাছের সারির পার্শ্বে (৫/৭ সেঃমিঃ দূরে) হাত লাঙল দিয়ে হালকা নালা কাটতে হবে। এই নালায় টানাভাবে সার প্রয়োগ করার পর মাটি দ্বারা নালা পুনরায় ঢেকে দিতে হবে। পরিচর্যা (ক) পাতলাকরণ ঃ চারা গজানোর ১০ দিন পর প্রথমবার প্রতিগর্তে ২টা ভাল চারা রেখে অবশিষ্ট চারাগুলো তুলে ফেলতে হবে। চারার বয়স ২০/২৫ দিন হলে দ্বিতীয়বার প্রতিগর্তে একটি সুস্থসবল মোটা চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে। (খ) নিড়ানিঃ প্রতিবার চারা পাতলা করার সময় আগাছা নিড়িয়ে ফেলতে হবে। গাছের গোড়ার মাটির উপরের স্তরে যদি শক্ত আস্তরন হয় তবে তা আগাছা নিড়ানোর সময় ভেঙ্গে দিতে হবে। আগাছা বেশি হলে সর্বাধিক ৩ বার আগাছা নিড়িয়ে দিতে হবে। (গ) সেচ-নিষ্কাশনঃ রবি মৌসুমে মাটির আদ্রতা কম থাকতে পারে। মাটির রস আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করে ২-৩ বার সেচ দিতে হবে। বর্ষা মৌসুমে তুলা চাষ করলে কখনো কখনো জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এরূপ অবস্থা দেখা দিলে দ্রুত জলাবদ্ধতার অবসান ঘটাতে হবে।(ঘ) পোকামাকড় দমন ও রোগ দমনঃ পোকামাকড়ের মধ্যে বোল ওয়ার্ম তুলার প্রধান শক্র। গাছের বয়স ৩/৪ সপ্তাহ হলে এই পোকার কীড়া গাছর কান্ড (উপরের দিকের অংশ) ছিদ্র করে ঢুকে পড়ে ও কচি অংশ খেতে থাকে। সেজন্য ডগা নিস্তেজ হয়ে পড়ে ও পরে শুকিয়ে যায়। পোকার উপদ্রব বেশি হলে এরা ফুল ও ফল আক্রমন করে। ফলে ফুল-ফল ঝরে পড়তে থাকে। পোকার আক্রমণের শুরুতে আক্রান্ত ডগা, কুঁড়ি বা ফল হাত দ্বারা কীড়া সমেত বেছে নিরাপদ দূরত্বে মাটির নিচে পুঁতে বা পুড়িয়ে এর উপদ্রব কমানো যায়। হাত বাছাইয়ের পর কীটনাশক ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে। হেক্টর প্রতি ৩০০ মিঃ লিঃ রিপকর্ড/সুমিসাইডিন/সিমবুশ/ডেসিস২০-২৫ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে (প্রতি ¯েপ্র মেশিনে ১২-১৫ মিঃলি ঔষধ) ভালভাবে পুরো গাছে ছিটিয়ে দিতে হবে। এই পোকা দমন করার জন্য আক্রমনের তীব্রতা অনুযায়ী ১৫-২০ দিন পর পর ৩-৪ বার ঔষধ ছিটানোর প্রয়োজন হতে পারে। তুলা ফসলের অন্যান্য পোকামাকড়ের মধ্যে জ্যাসিড, জাব পোকা ও তুলার পাতা মোড়ানো পোকার উপদ্রব দেখা যেতে পারে। এসব পোকার আক্রমন সহজভাবে নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে অনুমোদিত ঔষধ মাত্রানুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে। তুলা গাছে বেশ কয়েকটি রোগের প্রার্দুর্ভাব দেখা দিতে পারে; যথা- পাতা ঝলসানো, এনথ্রাকনোজ, নেতিয়ে পড়া, চারা ধসা ইত্যাদি। বীজবাহিত রোগের জন্য বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। রোগাক্রান্ত চারা তুলে পুড়িয়ে ফেলা উত্তম। জমিতে পানিবদ্ধতা থাকতে দেয়া যাবে না। রোগাক্রমণের সম্ভবনা আছে এমন ক্ষেতে ৫% কপার অক্সিক্লোরাইড বা ২.৫% ডাইথেন-এমএ ৪৫ প্রয়োগ করা যেতে পারে।তুলা সংগ্রহ ঃ তুলা গাছের বোল ভালভাবে ফেটে বের হলে পরিষ্কার শুকনা দিনে বীজতুলা উঠাতে হয়। সাধারণত ৩ বারে ক্ষেতের তুলা উঠাতে হয়। প্রথমবার এমন সময় তুলা উঠাতে হবে যেন মোট ফলনের ৪০%-৫০% তুলা উঠানো যায়। দ্বিতীয় কিস্তি ও তৃতীয় কিস্তিতে যথাক্রমে ২৫% বা ৩০% এবং অবশিষ্ট তুলা উঠাতে হয়। সাধারণত প্রথমবারের তুলা ভাল হয়। তাই প্রথমবারের তুলা আলাদা রাখতে হয়। তুলা উঠানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে ময়লা, মরা পাতা ও পোকায় আক্রান্ত খারাপ অপুষ্ট তুলা যেন ভাল তুলার সাথে মিশে না যায়। ভাল তুলা পৃথক করে তা ৩/৪ দিন ভাল করে শুকিয়ে গুদামজাত করতে হবে। ফলন ঃ স্বভাবিক অবস্থায় কৃষকের সক্রিয়তা থাকলে হেক্টর প্রতি ১২-১৫ কুইন্টাল বীজ তুলা উৎপন্ন হয়। তবে যথাযথ উন্নত প্রযুক্তি অবলম্বনে তুলা চাষ করলে ফলন এর দ্বিগুন পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। তুলা বলতে বীজ হতে উৎপন্ন আঁশকে বুঝায়। বীজের বহিঃত্বকের কিছু কোষের বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই আঁশের জন্ম হয়। আঁশগুলো এককোষ বিশিষ্ট এবং দু’ধরনের- ছোটগুলো ঋধুু এবং বড়গুলো লিন্ট নামে পরিচিত। এই লিন্ট ও ফাজসহ বীজকে বীজতুলা বলে। এটিই ফসল হিসেবে গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়। বস্ত্র শিল্পের প্রয়োজনে ক্ষেতের উৎপাদিত বীজতুলাকে জিনিং করা হয়। (জিনিং-এর অর্থ বয়ন কাজে ব্যবহৃতব্য লিন্টকে বীজতুলা থেকে আলাদা করা)। সাধারণভাবে জাত ও মানের বিভিন্নতায় বীজতুলা হতে ৩০%-৪০% লিন্ট সংগৃহীত হয় এবং এই হারকে জিনিং শতাংশ বা বলে। তুলা উৎপাদন করার জন্য ব্যবহৃত (বপন করা) বীজকে তুলা বীজ বলে যাতে লিন্ট থাকে না, ফাজ থাকে।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর সময়ের চশমাটি আমার বাবার দেয়া: ওমর সানী

বিনোদন বাজার ॥ বাংলা চলচ্চিত্রের একজন সফল পরিচালক হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত মালেক আফসারী। ১৯৮৩ সালে ‘ঘরের বউ’ পরিচালনার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এই করোনাকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মালেক আফসারীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। নিয়মিত তিনি তার ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন। সেখানে প্রায়শই নিয়ে আসেন দেশের খ্যাতিমান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। মঙ্গলবার তার লাইভে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানী। লাইভের শুরুর দিকে মালেক আফসারী ওমর সানীর কাছে জানতে চান তার শৈশবের কথা। এ সময় ওমর সানী মহান আল্লাহ কাছে শুকরিয়া আদায় করে মালেক আফসারীর প্রশংসা করেন। এ সময় ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে নিজেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি তার বাবার কথা স্মরণ করে জানান, তিনি চশমার দোকানে চাকরি করতেন। এ সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে ওমর সানী তার বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর সময় যে চশমাটা তার চোখে ছিল সেটা আমার বাবার হাতে দেয়া ছিল। উল্লেখ্য, ওমরসানীর বাবার নাম ছিল মো. মজিবর রহমান। তার প্রথম ছবি ‘চাঁদের আলো’ মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে। তিন দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ১৭০টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন ওমর সানী।

নভেম্বরেই আসছে ড্যানিয়েল ক্রেগের সর্বশেষ বন্ড সিনেমা

বিনোদন বাজার ॥ দুর্র্ধষ গোয়েন্দা জেমস বন্ড রূপে শেষবারের মতো বড় পর্দা কাঁপাবেন ড্যানিয়েল ক্রেগ। তার সর্বশেষ বন্ড সিনেমা ‘নো টাইম টু ডাই’ নভেম্বর মাসেই মুক্তি পাচ্ছে। ০০৭ অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সম্প্রতি একটি নতুন পোস্টার শেয়ার করে সিনেমাটির মুক্তির কাল নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৫তম বন্ড সিনেমার নতুন পোস্টার শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘একটি মিশনে আছেন মানুষটি। ‘নো টাইম টু ডাই’র নতুন পোস্টার দেখুন। এই নভেম্বরেই সিনেমা হলে দেখা যাবে। ’ ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমায় দেখা যাবে জেমস বন্ড তার কর্মক্ষেত্র থেকে বিশ্রাম নেন। জ্যামাইকাতে শান্তিপূর্ণ জীবন উপভোগ করছিলেন তিনি। কিন্তু তার সেই শান্তির ক্ষণ অল্পতেই শেষ হয়ে যায়। সিআইএ-তে কাজ করা তার পুরনো বন্ধু ফেলিক্স লেইটার বিপদে পড়ে বন্ডের সাহায্য চান। অপহৃত এক বিজ্ঞানীকে উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু সেই মিশন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি জটিলতা ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এক বিস্ময়ক ভিলেন ও তার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ভয়ংকর অস্ত্রের সঙ্গে লড়তে হবে জেমস বন্ডকে। ক্যারি জোজি ফুকুনাগা পরিচালিত ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমায় ড্যানিয়েল ক্রেইগ ছাড়াও অভিনয় করেছেন লিয়া সিডাউক্স, বেন হুই’শ, নাওমি হ্যারিস, জেফরি রাইট, ক্রিসটোফ ওয়াল্টজ, ররি কিনিয়ার, র্যাল্ফ ফিয়েনস, রামি মালেক, লাশানা লিঞ্চ, ডেভিড ড্যান্সেক প্রমুখ।

৮ হাজার ৪০০ দর্শকের সামনে মৌসুম শুরু করবে লাইপজিগ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাকালে দর্শকের দেখা পেতে যাচ্ছে বুন্দেসলিগা। সেপ্টেম্বরে আরবি লাইপজিগের মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই দর্শক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে জার্মান শীর্ষ লিগে লাইপজিগই প্রথম ক্লাব হিসেবে দর্শক দেখতে যাচ্ছে। ২০ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠে তাদের প্রথম ম্যাচ মেইঞ্জের বিপক্ষে। রেড বুল অ্যারেনায় দর্শক ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার। সেখান থেকে মাত্র ২০ শতাংশ দর্শকই স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। ফলে সেদিন ৮ হাজার ৪০০ দর্শক মাঠে বসে খেলা উপভোগের সুযোগ পাবেন। মূলত জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় এই শহরে করোনা সংক্রমণের হার কম থাকাতে এই অনুমতি দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অবশ্য ততদিন পর্যন্ত যদি সংক্রমণের হার এমনভাবে কম থাকে, তাহলেই দর্শক প্রবেশ করতে পারবেন। এখন প্রতি সপ্তাহে প্রতি ১ লাখ বাসিন্দাদের মাঝে নতুন সংক্রমণের হার ৩.২। অবশ্য যেসব দর্শক সাক্সোনি রাজ্যের বাসিন্দা তারাই এ ক্ষেত্রে মাঠে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে দর্শকদের মুখে অবশ্যই ফেস মাস্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে মানতে হবে সামাজিক দূরত্বও। উল্লেখ্য, করোনার কারণে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগ স্থগিত হয়ে গেলেও সবার আগে পুনরায় শুরু হয়েছিল বুন্দেসলিগা। তবে দর্শক ছাড়াই চালিয়ে যেতে হয় পুরো মৌসুম।

মেসিকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেনি ইন্টার

ঢাকা অফিস ॥ মেসিকে দলের ভোড়ানোর কোন চেষ্টাই করেনি ইন্টার মিলান। তাছাড়া ছয় বারের ব্যালন ডিঅঁর জয়ী খলোয়াড়কে দলভুক্ত করার মত আর্থিক অবস্থাও তাদের নেই বলে মন্তব্য করেছেন ক্লাবের এক কর্মকর্তা। ইন্টার মিলানের ক্রীড়া পরিচালক পিওলো অসিলিও ইতালীয় স্কাই স্পোর্টসকে বলেন,‘ এই খবর কোত্থেকে বেরিয়েছে আমি জানিনা।’ খবরে প্রকাশ বার্সেলোনা ছাড়লে লিওনেল মেসির গন্তব্যস্থল হতে পারে ইতালীয় রানার আপ বা ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তিনি বলেন,‘ দলের কোন কোচ বা সভাপতি মেসিকে দলে নিতে চাননি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।’ মঙ্গলবার থেকে খুলে দেয়া হয়েছে ইতালীয় দলবদলের জানালা। অসিলিও আরো বলেছেন, সার্বিয় ডিফেন্ডার আলেক্সান্ডার কলাররভকে দলে ভেড়ানোর জন্য তারা রোমার সঙ্গে একটি আপস রফা করার চেস্টা করছেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বার্সেলোনার আগ্রহ থাকা সত্বেও লটারো মার্টিনেজ ইন্টারেই থাকছেন।