মাদক ব্যবসায়ী শারিফ ও হিমেল আটক

অশান্ত গ্রাম হৃদয়পুর, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

আমলা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের ঈমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভুগিরা। গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) উক্ত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হামলা, মামলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার হৃদয়পুর হাজীপাড়া  জামে মসজিদের ঈমাম জুবায়ের কে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় শালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বেতন দিয়ে অব্যহতি দেওয়া হয়। পরে ৩১ জুলাই শুক্রবার জুমা’র নামাজের পরে কোরবানীর ঈদের জামায়াতের ইমামতি নিয়ে কথা হয়। এসময় বহিস্কৃত ইমাম জুবায়ের এবং স্থানীয় সোহেল উত্তেজিত হয়ে কটু কথা বলতে থাকে। এবং মসজিদ থেকে রেগে বের হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় সোহেল, হিমেল ও শারিফের নেতৃত্বে ঐ দিন দুপুরে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে ওহিব উদ্দিন চুনু’র বাড়ীতে হামলা চালায়। এসময় বাড়ীর সামনে চুনুর চাচাতো নাতি তানজিল (০৮) এর মুখে আঘাত করে জখম করে। এসময় তাদের ঠেকাতে গেলে রাজ্জাক (৪৫), নিউটন (৩৫) গুরুত্বর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসকরা তানজিল ও আব্দুর রাজ্জাককে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। এ ঘটনায় ওহিব উদ্দিন চুনু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সোহেলকে প্রধান আসামীসহ ২০ জন আসামীর নাম উল্লেখসহ আরো ১০/১২জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। এদিকে মামলার দুই আসাসী শারিফ ও হিমেল আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। মামলায় বাঁকী আসামীরা এখনো পলাতক রয়েছে।  দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় দুই আসামী বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। বাকী আসামীদের আটকের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে। খুব শিঘ্রই তাদের আটক করা সম্ভব হবে। স্থানীয় বাসিন্দা রিপন আলী জানান, শারিফের বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তার আটকের খবরে এলাকার সাধারন মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। রিপন আলী আরো বলেন, হিমেল এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘদিন মাদক কেনা-বেচার সাথে জড়িত। এলাকার যুবকদের আকৃষ্ট করে সে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

সবার আগে ভ্যাকসিন পাওয়া নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বিশ্বের ২০০টিরও বেশি কোম্পানি করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ করে যাচ্ছে। এরমধ্যে ১৪১টি কোম্পানি প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করছে এবং ২৫টি কোম্পানি মানবদেহে পরীক্ষারত পর্যায়ে রয়েছে। এসব কোম্পানির ভ্যাকসিন সব গুণাগুণ বিচার বিশ্লেষণ করে বাজারজাতের প্রথম পর্যায়ে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে যেন বাংলাদেশ পায়, সেটি নিশ্চিত করাই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনা ভ্যাকসিন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় অনলাইনে জুম অ্যাপের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমানসহ স্বাস্থ্যের ভ্যাকসিন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের কাছে দেশে দ্রুত ভ্যাকসিন পাওয়া সংক্রান্ত বিষয়াদিক নিয়ে জানতে চান ও জুমে যুক্ত থাকা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তা অবহিত করেন। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কোভিড সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে করোনা ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জেনে দেশে সবার আগে ভ্যাকসিন আনার ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে দ্রুত জানাতে সভায় উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশনা দেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আইডিসিআর,বি এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আসাদুল বারি, ফেরদৌস কাদেরী, খালিকুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচ-এর লাইন ডিরেক্টর ডা. সামছুল হক করোনা ভ্যাকসিনের সর্বশেষ আপডেট সংক্রান্ত একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশকে সহযোগিতায় ভারত সবসময় প্রস্তুত – রীভা গাঙ্গুলি

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের প্রতœস্থল, জাদুঘরসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে ভারত সবসময় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন। রীভা গাঙ্গুলি বলেন, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপ প্রভৃতি আয়োজনের মাধ্যমেও বিভিন্ন সহযোগিতা করতে ভারত প্রস্তুত এবং করোনা ভাইরাস মহামারির এই সময়ে অনলাইনে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন হতে পারে। বিদায়ী হাইকমিশনার বলেন, ভারতীয় অনুদানে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ির অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। মূল স্থাপনার বাইরে ভারতীয় অর্থে নির্মিত হচ্ছে উন্নতমানের রেস্ট হাউস, আধুনিক লাইব্রেরি ও ক্যাফেটেরিয়া কাম ডকুমেন্টেশন সেন্টার, উন্মুক্ত মঞ্চসহ আরও কয়েকটি কাজ। এটি সমাপ্ত হলে কুঠিবাড়ির চিত্র বদলে যাবে। প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করে রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা অনলাইনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহার করে পানামা সিটি সংরক্ষণে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল মতামত দিয়েছে বলেও এ সময় জানান তিনি। সাক্ষাতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, ঐতিহাসিক পানামা সিটি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ভারতের একদল বিশেষজ্ঞ সম্প্রতি পানামা সিটি পরিদর্শন করে গেছে এবং আমরা তাদের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। প্রতিবেদন পেলে এর ওপর ভিত্তি করে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে চাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত এক অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশীদার। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ভারতীয় সৈন্য শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর শহীদদের অবদান স্মরণে বাংলাদেশ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে। সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বিদায়ী হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (অঝঊঅঘ) হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য রীভা গাঙ্গুলিকে তিনি অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানান। সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য) সাবিহা পারভীন, যুগ্মসচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতœস্থল সংরক্ষণ ও জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় ভারতের সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাহেদ ৭ দিনের রিমান্ডে

ঢাকা অফিস ॥ পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক দ্য ফারমার্স ব্যাংক) অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রিজেন্ট গ্র“প ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের আদেশের পর সাহেদ বিচারকের উদ্দেশে বলেন, স্যার রিমান্ডটা একটু কনসিডার করেন। রিমান্ড শুনানিতে সাহেদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানির শুরুতে বিচারক সাহেদকে বলেন, আপনার কি কিছু বলার আছে? সাহেদ তখন বলেন, স্যার বিশ দিন ধরে রিমান্ডে আছি। সামনে আরও ২৭ দিনের রিমান্ড আছে। আমি খুব অসুস্থ। বিষয়টা বিবেচনা করেন। এরপর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানিতে বলেন, সাহেদ পদ্মা ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেন। তাকে রিমান্ডে নিলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে। এরপর বিচারক তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শুনানির আগে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড শুনানি শেষে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে সাহেদকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ। বিচারক তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেন। ২৮ জুলাই সাহেদকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত ৫ আগস্ট তার গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। কিন্তু সাহেদ অন্য মামলায় রিমান্ডে থাকায় এ দিন গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের শুনানি হয়নি। এর আগে ২৭ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে সাহেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন। পরের দিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি সময়ে আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে ঋণের নামে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান করপোরেট শাখার এক কোটি টাকা (যা সুদাসলসহ ১৫ জুলাই পর্যন্ত স্থিতি দুই কোটি ৭১ লাখ টাকা) আত্মসাৎ করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ ধারায় মামলা হয়। মামলার আসামিরা হলেন- পদ্মা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী/অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক চিশতি, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইব্রাহিম খলিল। গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়। ১৬ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানার প্রতারণার মামলায় সাদেহের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২৬ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় তিন ও উত্তরা পূর্ব থানায় প্রতারণার মামলায় সাত দিন করে ২৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই দিন সাতক্ষীরার অস্ত্র মামলায় তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘মুজিব বর্ষ” উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা ও ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ’ বিষয়ে আলোচনা সভা

নিজ সংবাদ ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্মশত বার্ষিকী “মুজিববর্ষ” ২০২০ উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সাধারন জ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও “করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করনীয়” বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। গতকাল সকালে ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও ইয়াসিন মাহমুদা-স্মৃতি পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ। বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক শামসুর রহমান বাবু। আলোচনায় অংশ নেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সমাজকল্যান সম্পাদক আ,ফ,ম নুরুল কাদের, সাদীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, ছাত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, তাহের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল হালিম ও সাংবাদিক মিলন আলী। সাধারন জ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন মিরপুর উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী। এতে প্রথম স্থান অধিকার করেন ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিমলা আক্তার শিলা। শিমলা ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে সবকটির সঠিক উত্তর লিখে ১০০ নম্বর অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থান বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিয়াম উল করিম। তৃতীয় স্থান বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের তাসনিম তাবাসসুম অর্পিতা, ৪র্থ একই বিদ্যালয়ের সামিয়া শোভা রাবু, ৫ম একই স্কুলের আফরিন মাহমুদ অমি, ৬ষ্ঠ আখি মিরপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের আক্তার জান্নাতুল, ৭ম স্থান বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেজান আহমেদ, ৮ম স্থান ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রিয়া খাতুন, ৯ম স্থান একই বিদ্যালয়ের নুর আইনী, ১০ স্থান খাদিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রাবনী খাতুন, ১১তম বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জান্নাতে সুমাইয়া, ১২তম বর্ডার গার্ড স্কুলের আফসা আক্তার ঝর্না এবং ১৩তম স্থান ছাত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাসিরা ফেরদৌসী। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে এই কুইজ প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য, ক্রীড়া, ধর্ম, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা নিয়ে ৪শত প্রশ্ন এবং উত্তর মিরপুর উপজেলার ২৫টি স্কুলের তিন শত শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হয়। উল্লেখিত ৪শত প্রশ্ন থেকে ১০০ প্রশ্নের ১ঘন্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সাধারন জ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পায় সেই সাথে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারনা হয় বলে অভিভ্যক্তি ব্যক্ত করে এসব কথা জানান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন শিমলা আক্তার শিলা, তাসনিম তাবাসসুম অর্পিতা, সামিয়া শোভা রাবু, আফরিন মাহমুদ অমি, আক্তার জান্নাতুল, রিয়া খাতুন, নুর আইনী, শ্রাবনী খাতুন, জান্নাতে সুমাইয়া, আফসা আক্তার ঝর্না এবং বাসিরা ফেরদৌসী। প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরন করা হবে খুব শ্রীগ্রই। বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের সময়সুচী পরে জানিয়ে দেয়া হবে। এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ বিষয়ে ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনায় বলেন- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সব বিচারে সেরা বলা হয়েছে। তার জম্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে পুরো জাতি অধির আগ্রহ নিয়ে নানান কর্মসুচী পালনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন করোনা ভাইরাস নিয়ে পুরো বিশ্ব মারাত্বক সংকটে পড়েছে। এই ভাইরাস অত্যন্ত প্রভাব ফেলেছে কিন্ত এর মৃত্যুর পরিমান অনেক কম। ভাইরাস যতই কঠিন হোক না কেন ভাইরাসের প্রতিশোধক তৈরী করতে আল্লাহপাক মানুষকে মেধা দিয়েছেন। এর আগেও মানুষ অনেক ভাইরাসের মোকাবিলা করে প্রতিশাধক তৈরী করে বিশ্বকে শান্ত করা হয়েছে। আশা করছি এই ভাইরাসের প্রতিশোধক তৈরী সেই সাথে এর প্রতিকার রোধে মানুষের মাঝে আতংক কমে আসবে। তিনি বলেন, করোনা সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। চীনে প্রথম শুরু হয়ে অনেক মানুষ মারা গেছে কিন্তু আজ চীনের সেই ভয়াবহতা কমে এসেছে। করোনা ভাইরাস এর আগেও বিশ্বকে স্বাগত জানিয়েছে। এই ভাইরাসের চরিত্র এক এক সময় এক এক রকমের হওয়াতে এর প্রতিশোধক তৈরীতে বিজ্ঞানীরা দিশেহারা। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং হাঁসি ও কাশির বিষয়ে সর্বদা যত্ববান হতে হবে। তিনি বলেন, করোনা বিষয়ে সরকারের সদিচ্চা এবং আন্তরিকতা রয়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি মনিটরিং করছেন। প্রধান মন্ত্রী দেশবাসীকে করোনা ভাইরাসকে সাহসিকতার সাথে মোকাবিলার আহবান জানিয়েছেন। আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে এবং করোনা বিষয়ে আতংক না হয়ে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় চিকিৎসকের পরামর্শকে গ্রহন করে জীবনযাপন করতে হবে। তিনি নতুন প্রজম্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করা আহবান জানিয়ে বলেন, তোমরা যারা শিক্ষার্থী দেশ তোমাদের দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। তোমাদের সত্যিকারের মানুষ হতে হবে। দেশের কান্ডারী হিসেবে যোগ্যভাবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য এই ধরনের আয়োজনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি প্রতিযোগিতা এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামুল্যে বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই সাথে গরীব ও দুস্থ্যদের মাঝে সহযোগিতা প্রদান, মেধাবীদের সম্বর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান করা হয়ে থাকে। ২০১৩ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় সমাজিক কর্মকান্ড পরিচালিত করার মধ্যদিয়ে এলাকার সাধারন মানুষের মাঝে স্থান করে নিয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে

বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল প্রয়াত সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে বটতৈল শেনের চাতাল এলাকায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে সদর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও  সভাপতি সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন দহকলা ক্যাম্পের আইসি আসিক মাহাম্মদ, আইসি ওবাইদুর রহমান, জগতি ক্যাম্পের আইসি জাকির হোসেন, সদর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা সিরাজ কবিরাজ, আব্বাস আলী মন্ডল লাদেন, আমিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মীর আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, সদর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, বটতৈল ইউনিয়ন ছাত্র লীগের সভাপতি উত্তম  সেন, কুষ্টিয়া পলিটেকনিক সভাপতি সাকিব সোহাগ, মিরপুর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সভাপতি মেহেদী হাসান সানি, সদর উপজেলা যুগ্ম আহবায়ক মোসলেম উদ্দিন, ইমরান হোসেন। আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সদর উপজেলার আওতাধীন প্রতিটি ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন বটতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলী  হোসেন ব্যাপারী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গাংনীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু  

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে লিলুফা খাতুন (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশু লিলুফা হাঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মিন্টু আলীর কন্যা।  গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে শিশু লিলুফা খাতুনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। লিলুফা খাতুনের মা তাছলিমা খাতুন জানান আমার মেয়ে লিলুফা দুপুর ৩টার দিকে বাড়ির নিকটে একটি পুকুর পাড়ে খেলা করছিল। এসময় আমি বাড়ির কাজ করছিলাম। সে আসতে দেরী করায় তাকে পুকুর পাড়ে না পেয়ে প্রতিবেশীদের সাথে নিয়ে সারা পাড়া খুঁজতে যায়। এসময় না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসি। প্রায়ই ৩ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে আমার মেয়ে লিলুফার মরদেহ ভাসতে দেখে কয়েকজন। সে পুকুর পাড়ে খেলতে গিয়ে অসাবধানবশত পুকুরে পড়ে মারা গিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে বিশেষ চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ

মহামারী করোনাকালীন এই কঠিন সময়ে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করণ ও প্রসূতি মায়েদের দূর্ভোগ কমানো এবং দুস্থ মানুষের সেবায় নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন।  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এর নির্দেশনায়  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল টিম গতকাল ১০ জুন হতে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় গর্ভবতী মায়েদের এবং দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং স্থানীয় ডাক্তারের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে  গর্ভবতী  মায়েদের  এবং দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে  বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা নিতে আসা দুস্থ মানুষের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড, স্যানিটাইজার, সাবান এবং ত্রাণ বিতরণ করেন সেনা সদস্যরা। এছাড়াও করোনা  মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর নিজস্ব অর্থায়নে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়ন, গণপরিবহন মনিটারিং, অসহায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ বিতরণসহ বহুমূখী জনকল্যানমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঘরবাড়ী  মেরামত, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ নানা প্রকার জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আজ শুভ জন্মাষ্টমী, মন্দির প্রাঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকবে অনুষ্ঠান

ঢাকা অফিস ॥ সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী আজ মঙ্গলভার। এদিন দেশের হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করেন। তবে এবার জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান যথারীতি ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে পালিত হবে এবং জন্মাষ্টমী সংশ্লিষ্ট সকল অনুষ্ঠানমালা মন্দির প্রাঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকবে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সকল প্রকার সমাবেশ, শোভাযাত্রা বা মিছিল করা থেকে বিরত থাকারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে অশুভ শক্তিকে দমন করে সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় ধরাধামে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাঁর আবির্ভাব বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষকে রক্ষায় তিনি পরিত্রাতার ভূমিকা পালন করেন, অন্ধকার সরিয়ে পৃথিবীকে আলোয় উদ্ভাসিত করেন। পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের আরো বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ও জেলা, মহানগর শাখাসমূহের মধ্যে ভার্চ্যুয়াল সভার মতামতের আলোকে বৈশ্বিক করোনা অতিমারীজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান যথারীতি ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে পালন এবং জন্মাষ্টমী সংশ্লিষ্ট সকল অনুষ্ঠানমালা মন্দিরাঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী জানান, জš§াষ্টমী উৎসব উদযাপনে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে একদিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় দেশ, জাঁতি ও বিশ্ব মঙ্গল কামনায় শংকর মঠ ও মিশন, সীতাকু-’র সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় শ্রীশ্রী গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে ও রাতে শ্রী শ্রী কৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পুরো অনুষ্ঠান সরকার নিদের্শিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠে এ উপলক্ষে সকাল ৯ টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। গীতা পাঠ করবেন স্বামী দেবধ্যানানন্দ ও ব্রক্ষ্মচারী ভাস্কর। অন্যকর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভজন, দুপুরে মধ্যাহ্নে প্রসাদ বিতরন, রাত ৭ টা ৪০ মিনিটে গুরু মহারাজের বানীবর্চন ও রাত ৮ টায় শ্রীকৃষ্ণ পূজা। মন্দিরে আসন গ্রহন ও প্রসাদ গ্রহনের সময় ভক্তদের স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক পরিধান আবশ্যক বলে মঠের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গলবার সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পৃথক বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মহানবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটারর্জী এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মন্ডল গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে- জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সিনহা হত্যার দ্রুত বিচারের প্রত্যাশা মায়ের

ঢাকা অফিস ॥ পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার দ্রুত বিচারের জন্য আশা প্রকাশ করেছেন তাঁর মা নাসিমা আক্তার। রাজধানীর উত্তরায় গতকাল সোমবার মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের বাসায় তার মা নাসিমা আক্তারের সঙ্গে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাসিমা আক্তার। দিনি বলেন, আমার ছেলে পজিটিভ ছিল। সবসময় ‘বি’ পজিটিভ। আমিও ‘বি’ পজিটিভের পক্ষে আছি। আপনাদের সাংবাদিকদের লেখা আমি পড়ছি। আমার হৃদয়টা ছিঁড়ে যাচ্ছে। দেশের সুন্দর পরিবেশ আপনারাই আনবেন। আমরাই আনব। আমাদের যে ছোট ছোট বাচ্চা আছে আমার তো সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা সবাই সহযোগিতা চাই। এই যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডটি ঘটল। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয়। প্রত্যেক মায়ের প্রতিনিধি হয়ে বলব। এই ধরনের ঘটনা যেন আর না হয়। সবাই যেন সচেতন থাকেন। মা নাসিমা আক্তার বলেন, সিনহা মেজর না কী তা কখনও পরিচয় দিত না। তার যে ব্যবহার তা দিয়েই সবকিছু করার চেষ্টা করত। ওর কাজগুলোকে আমি অ্যাপ্রিশিয়েট করি। তবে আমি বলতাম, বাবা তুমি যে মেজর তা তুমি পরিচয় দাও না কেন? সিনহা বলত, একটা মানুষের যে মানবিক গুণাবলি থাকে তা দিয়েই যদি মানুষ মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারে এর চেয়ে আর কী বড় হতে পারে। তখন বলতাম, বাবা তুমি যে এত এত কোর্স করেছ। সেনাবাহিনীতে কাজ করেছ? সিনহা বলেছিল মাম্মি পাওয়ার। পাওয়ার কী? মানুষের হৃদয়ের মধ্যে থাকব। কাজ করব। মানুষের জন্য কাজ করব। সেটা বলতে হবে কেন? সিনহা আসলে বলায় নয় কর্মে বিশ্বাসী ছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা নাসিমা আক্তার বলেন, আমার ছেলে দেশকে নিয়ে অনেক ভাবত। আমাকে বলত, আমরা যদি দেশে ভালো কিছু রেখে যাই তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেটা অনুসরণ করবে। আমার ছেলের প্রত্যেকটি কাজে আমার পূর্ণ সমর্থন ছিল। ভেতরে ভেতরে আমি খুবই গর্ববোধ করতাম। ও শুধু কাজ করতেই চাইত। নিজ বাসায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে সংবাদ সম্মেলনে নাসিমা আরও বলেন, আত্মীয়স্বজন বলত ও কী কাজ করে ওর কি কোনো টাকা-পয়সা আসে না? কিন্তু সিনহা আসলে সবসময় ক্রিয়েটিভ কাজ করতে চাইত, সবসময় সারপ্রাইজ দিতে চাইত কাজের মাধ্যমে। ও বলত, আমি আমার মনের খোড়াকের জন্য কাজ করি যাতে মানুষ উপকৃত হয়। একটা ডকুমেন্টরি করছি এখনও বলার মতো কিছু হয়নি, যখন হবে তখন বলব। আমি শতভাগ আস্থা নিয়ে বসে আছি, আমার ছেলে কাজ করছে। কাজ শেষে ফিরবে। উল্লেখ করেন তিনি। দেশের অবস্থা কেমন জানি, খালি শুধু চিন্তা আমার ছেলে ডাক্তার হবে ইঞ্জিনিয়ার হবে। তোর জন্য তবে আমরা মায়েরা বলির পাঠা হবো। উত্তরে ফান করে বলত, ডাক্তার হলে ইঞ্জিনিয়ার হলে তোমরা খুশি। কিন্তু তোমাদের কারণে আমার মনে যে ইচ্ছে সেটা তো অপূর্ণতাই রয়ে গেল, হোয়াই ও হোয়াই, বলত ফোন করে। নাসিমা আক্তার বলেন, সিনহা খুব স্পিডে গাড়ি চালাত। কাজ শেষে সাধারণত বাসায় ফিরত। সেদিন বাসায়ও ফিরছিল না ফোন ধরছিল না ব্যাকও করছিল না। রাত ১২টা আনুমানিক। এক ভদ্রলোক ফোন করলেন। বললেন সিনহা কী হয়, কী করে। কয় ছেলেমেয়ে। উত্তর দিয়ে জানতে চাইলাম এত প্রশ্ন করছেন, আপনি কে? তখন তিনি বলেন, আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন কেন? আমি টেকনাফ থানার ওসি। ভাবলাম ছেলে তো স্পিডে গাড়ি চালায়। আবার কিছু হলো কিনা। বললাম, আমার ছেলে তো ফোন ধরছে না ওকে একটু দেন। ফোনটা বাজছে কিন্তু ধরছে না। ওসি বলে হ্যাঁ একটু দূরেই আছে। দেয়া যাবে। বলেই রেখে দেন। কিন্তু বারবার ফোন দেই আর কেউই ফোন ধরে না। একসময় দুই মেজরের নম্বর দিয়েছিল সিনহা। ফোন দিলাম মেজর মোহসিনকে। জানতে চাইলাম সিনহার খবর। বললাম ফোন ধরছে না। পরে জানাল টেনশন কইরেন না। সিনহা ঠিক আছে। পরদিন ১০টা ১১টা বাজে। বাসায় পুলিশ আসে। উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। তারা মেজর সিনহার বাসা কিনা জানতে চেয়ে খোঁজ নেয়। রাজনীতির সাথে জড়িত কিনা দেশের বাড়ি কোথায় জানতে চায়। বলি রাজনীতিতে জড়িত নয় শতভাগ নিশ্চিত। ওরা ভালো ব্যবহার করে চলে যায়। তারাও কিছু জানায়নি। সিনহা হত্যার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে সিনহার মা নাসিমা আক্তার বলেন, আমি সন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী আমার সাথে কথা বলেছেন। সেনাপ্রধান, নৌবাহিনী প্রধান খোঁজ নিয়েছেন আশ্বাস দিয়েছেন। সিনহা মো. রাশেদ খানের বিষয়ে বোন শারমিন শাহরিয়া বলেন, আমি খুবই গর্বিত যে ওর মতো একটা ভাই আমার ছিল। যাকে এত মানুষ ভালোবেসেছিল, এত মানুষ ভালোবাসে। ভাই সিনহার মৃত্যুর পর তা আমি দেখতে পেয়েছি। তিনি বলেন, আমি ওকে বলতাম, তুমি হচ্ছো মানুষের হৃদয়ের রাজপুত্র। সেটা সে (সিনহা) প্র“ভ করেছে নিজের ভালোবাসা আর মানবিক গুণাবলি দিয়ে। আমি বিচারের কথা বলতে এখানে আসিনি। যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, যে বিচারটা হবে। শারমিন বলেন, আমাদের একটা আবেদন থাকবে সঠিক তদন্ত করে দ্রুতই যেন বিচার পাই। এটা যেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, অন্যান্যের যেন মোটিভেট করে যে, আমরা আসলেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের দেশে আইন আছে। আমাদের দেশে বিচার হয়। এটাই আমরা চাই।

সিনহাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে – রাওয়া চেয়ারম্যান

ঢাকা অফিস ॥ রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার বলেছেন, সিনহা হত্যার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এ পর্যন্ত আমরা দেখেছি সরকারের মনোভাব পজিটিভ। আমরা আবেদন করব, যাতে সিনহা হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না হয়। ইতোমধ্যে প্রমাণিত (অলরেডি প্রুভড) পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও তথ্য-প্রমাণে প্রতীয়মান যে, সিনহাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যা যেন আর না হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় মেজর (অব.) সিনহার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাওয়া চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি দাবি উত্থাপন করে বলেন, আমরা চাই মেজর (অব.) সিনহার হত্যাকান্ডের ঘটনায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনকে যেন অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়। রাওয়া চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার বলেন, সিনহার ঘটনায় যারা কাস্টডিতে ছিলেন তাদের জামিন হয়েছে। আমরা অত্যন্ত খুশি, আলহামদুলিল্লাহ। সিনহা হত্যায় যে পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিল তাদের অস্ত্রগুলো যেন জব্দ করা হয়। হয়তো তদন্তের খাতিরে এটা করতেই হবে। যাদের ওপর তদন্তভার অর্পণ করা হয়েছে তারা অত্যন্ত দক্ষ। আমরা আশা করব তারা ট্রান্সপারেন্সি (স্বচ্ছতা) রক্ষা করবেন। কোনো পক্ষাবলম্বন করবেন না। তিনি বলেন, সিনহা হত্যার বিচার যদি দ্রুত নিষ্পত্তি হয় তাহলে হয়তো সিনহা বা সিনহার মতো ভুক্তভোগীর আত্মা শান্তি পাবে। রাওয়া চেয়ারম্যান বলেন, ১৪০টা যে মার্ডার করেছে এই ওসি প্রদীপ। আজ দেখেন আমরা সিনহা হত্যার ব্যাপারে সোচ্চার হতে পেরেছি। কিন্তু ওই যে দেখেন ওই সেই লোকগুলোর পরিবার তো মুখ খুলতে পারছে না। তাদের সাথে কোনো সংস্থা নেই, অবসরপ্রাপ্ত কল্যাণ সংস্থা নেই। মিডিয়াই পাশে দাঁড়িয়েছে, লিখেছে। আমরা চাই একটা একটা করে সব ঘটনার বিচার করা হোক। এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং যে প্রদীপ করেছে সেগুলোর বিচার হোক। তিনি বলেন, এটা তো বলার অপেক্ষায় রাখে না, এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের কারণে যদি বাংলাদেশ ডিস্টার্ব হয়ে যায়! পুলিশ বাহিনী যাতে পুনর্গঠিত করে, পুলিশকে নিয়ন্ত্রণে যে সিস্টেম দেয়া আছে ডিসির আওতায় সেটা যেন থাকে এবং ডিসির ভিজিট করার কথা, দিকনির্দেশনা বিধিগুলো থাকার কথা সেটা যেন পালন করে। যদি সুপারভিশন ঠিক থাকে তাহলে তখন একটা পুলিশও উদ্ধত হতে পারে না। একটা রঙ কনফিডেন্স গ্রো করেছে, কারণ তার কোনো বিচার হয়নি। সে একটার পর একটা আকাম-কুকাম করে গেছে সেটা নজরে আসেনি। কী কারণে আসেনি, আমরা তা ঠিক বুঝতে পারছি না। আমরা চাই এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক, আর কোনো মায়ের বুক খালি না হোক, এসব ঘটনা নিয়ে আর কোনো কথাবার্তা হোক। খন্দকার নুরুল আফসার বলেন, এ পর্যন্ত সিনহা হত্যা মামলা যেভাবে দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছ্,ে এত দ্রুততার সাথে আর কোনো মামলায় আসামিকে কাস্টডিতে নেয়া, অ্যাকশনে যাওয়া হয়নি। আমরা আশাবাদী, সরকার অত্যন্ত সিরিয়াস এ ব্যাপারে, প্রধানমন্ত্রী, আমাদের সেনাপ্রধান অত্যন্ত সোচ্চার। সেনাবাহিনীও অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) করছে, সর্বক্ষণ মনিটরিং করছে। আমরা রাওয়ার পক্ষ থেকে জুডিশিয়াল ইনভেস্টিগেশন মনিটরিং সেল করেছি, আরেকটা করেছি মিডিয়া মনিটরিং সেল।

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে দিনে দিনে বেড়েই চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। জেলার চৌড়হাস মোড় থেকে খোকসা উপজেলার শিয়ালডাঙ্গী পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার ২৮ কিলোমিটার অংশের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই। এতে প্রাণহানিসহ পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেকেই। সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যস্ততম এই সড়কটির দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ দাবী করছেন স্থানীয়রা। গেল প্রায় এক বছর হতে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুষ্টিয়া ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কটির সম্প্রসারণসহ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে। ইতিপুর্বে এই সড়কটির প্রসস্থ ছিল ১৮ ফিট, কিন্তু বর্তমানে সড়কটি ২৪ ফিট প্রসস্থ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে সড়কটির দৈন্যদশার কারণে। কিন্তু এখন সড়কের পরিস্থিতি ভালো হওয়া সত্ত্বেও দুর্ঘটনা ঘটছে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও অবৈধ যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের কুমারখালী উপজেলার কালুমোড় নামক স্থানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গেল কয়েকদিনে এই স্থানে অবৈধ নছিমন পরিবহনের সাথে মাহিন্দ্র পরিবহনের সংঘর্ষে ১ জন নিহতসহ ১২ জন আহত হয়েছে। একই দিনে খোকসা উপজেলার অংশে অবৈধ নছিমন পরিবহনের সাথে সিএনজি পরিবহনের সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। এমন দুর্ঘটনার খবর প্রায় প্রতিদিনই পাওয়া যাচ্ছে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে। এ জন্য স্থানীয় বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এই সড়কের উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর থেকে সব ধরণের যানবাহন চলাচল করছে অতিরিক্ত গতিতে। তাই বলা যেতে পারে বর্তমানে সড়কের গতি বেড়ে গেছে। সেই সাথে বেড়েছে অবৈধ পরিবহনের সংখ্যাও। আর তাই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনাও। সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে পরিবহন শ্রমিক-চালক-মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে জানাগেছে,  দীর্ঘদিন এই সড়কটির পরিস্থিতি ছিল খুবই খারাপ। যে কারণে ছোট-বড় সব ধরণের পরিবহনগুলোকে চলাচল করতে হতো ধীর গতিতে। আর তা সত্বেও সে সময়ে এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তখন কুষ্টিয়ার চৌরহাস থেকে খোকসা উপজেলার শিলায়ালডাঙ্গী পর্যন্ত এই সড়কে হাজারো ছোট-বড় গর্ত ছিল। আর তাই চাকা গর্তে পড়ে কখনো কখনো যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়িগুলো উল্টে খাদে পড়ে যেতো। অথবা সড়কের খোয়া উঠে থাকায় বিশেষ প্রয়োজনে ব্রেক করলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়তে হতো। সে সময়ে সড়কটির পরিস্থিতি খারাপ থাকায় বহু পরিবহন বিকল্প সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও এখন সড়কটির উন্নয়ন হওয়ায় আবারো যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে।

সবমিলিয়ে ব্যস্ততম এই সড়কে অবৈধ নছিমন-করিমন, আলমসাধু ও ভটভটি পরিবহনসহ সিএনজি, মাহিন্দ্র, অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত পাখি ভ্যান-রিক্সা ও মোটর সাইকেল চলাচলের সংখ্যা আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আর তাই বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনাও। গেল কয়েক বছরে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে বহু সাধারন পথচারী সহ যাত্রী, চালক ও তাদের সহকারীরা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এবং  প্রাণ হারাচ্ছেন। যানবাহনের চালকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, আসলে দুরপাল্লার যানবাহনগুলোর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য তাদেরকে একটু অতিরিক্ত গতিতেই চলতে হয়। আর এমতাবস্থায় যদি সড়কে ছোট ছোট যানবাহনের চাপ বেশি থাকে তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এ ছাড়াও সড়কের পাশে হাট-বাজার, সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকান-পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা থাকায় কিংবা পাশের সড়কগুলো থেকে অতর্কিত ব্যস্ততম এই সড়কে ঢুকে পাড়ার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের কুষ্টিয়া জেলার ২৮ কিলোমিটার অংশে বহু অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে সময় নির্ধারণ করে চিঠি দিয়েছিল কয়েকমাস আগে। কিন্তু আজও পর্যন্ত কেউই সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা ছেড়ে যায়নি। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগও এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক অবৈধ স্থাপনা কুষ্টিয়া- রাজবাড়ী সড়কের দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে  ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়কের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতকরণ, দখলদারদের চিঠি দেওয়াসহ মাইকিং পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু  কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে সবকিছুই থমকে গেছে। তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রথমেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধ পরিবহন সহ ছোট-ছোট পরিবহনগুলোর চলাচলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অনেকাংশে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে বলে ধারণা, যানবাহনের চালক, মালিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্লেষকদের।

কুষ্টিয়াতে শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় এমপি হানিফ

৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ কামাল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, শেখ কামাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্য পুত্র হিসেবেই শুধু পরিচিত ছিলেন না। শেখ কামাল তাঁর নিজস্ব গুণাবলিতে সারা জাতির কাছে পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে শেখ কামালই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিকতার ছোয়াই নিয়ে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সংগঠকের মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। সে সময় ফুটবল ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। এই জনপ্রিয় খেলাটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা যেন খেলতে পারি সেজন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হানিফ বলেন- শেখ কামাল ইতিহাসের একটি অংশ। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ছিলেন একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ভাল গিটার বাঁজাতেন এবং নাট্যকর্মের সাথেও জাড়িত ছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন আবাহনী ক্রীড়া চক্র এবং ঝঙ্কার নামক জনপ্রিয় একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি। প্রধান অতিথি বলেন, এমন একজন মেধাবী তরুণ ক্রীড়া সংগঠকের নামে কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামের নাম ‘শেখ কামাল স্টেডিয়াম’ নামকরণ হওয়ায় আজ আমরা কুষ্টিয়াবাসী নিজেদেরকে ধন্য মনেকরছি। হানিফ বলেন- জরাজীর্ণ আমাদের এই স্টেডিয়ামকে ভেঙ্গে নতুন আঙ্গিকে আধুনিক স্টেডিয়াম করা হবে। প্রায় ১ বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শুধুমাত্র নামকরণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আশারাখি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং নভেম্বরে কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন- স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজে কোন প্রকার দুর্নীতি মেনে নেয়া হবে না। যারা কাজ করবেন সততার সাথে করবেন।  হানিফ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হবে। এ নির্মাণ কাজের মনিটরিংসহ কুষ্টিয়ার ক্রীড়ার উন্নয়নে সার্বিক বিষয়ে দেখভাল করার জন্য তিনি  কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জকে দায়িত্ব দেন। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামের নাম ‘শেখ কামাল স্টেডিয়াম’ নামকরণের অনুমতি দেয়ায় ট্রাস্টের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কুষ্টিয়াবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান মাহবুবউল আলম হানিফ। গতকাল (১০ আগস্ট) সকালে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ক্রীড়া সংস্থার হলরুমে শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মাহবুবউল আলম হানিফ এম.পি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আ.ক.ম সরওয়ার জাহান বাদশা বলেন, শেখ কামাল ছিলেন একজন বিশাল ব্যক্তিত্বের মানুষ। অথচ ৭৫’র পরবর্তী কিভাবে শেখ কামালের চরিত্র হনন করা হয়েছিল তা আমরা সবাই জানি। তিনি বলেন, আমি ইতিহাসের সত্যতার কারনে বলছি। সেসময় জাসদের গণবাহিনী এবং জাসদ শেখ কামালকে ব্যাংক ডাকাত বানিয়েছিল। সেদিন বাংলাদেশের এক শ্রেণির মানুষ এই কথা বিশ্বাসও করেছিল। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরাজিত  শক্র আলবদর, রাজাকার এবং তৎকালীন অতি বিপ্লবী শক্তি জাসদ সেদিন একাকার হয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছিল এবং তাঁর চরিত্র হননে লিপ্ত ছিল। তিনি বলেন, সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। আজ বাংলার মানুষ সত্য ঘটনা জানতে পরেছে। অপর বিশেষ অতিথি কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, শেখ কামালের জীবনাদর্শ আমাদেরকে ধারণ ও লালন করতে হবে।  তিনি শেখ কামাল স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতীত ইতিহাস ফিরে আসবে এই প্রত্যাশা করেন। কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়  বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার), কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য আফরোজা আক্তার ডিউ’র পরিচালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জর্জ কোটের পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি মোঃ মকবুল হোসেন লাবলু এবং অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ। সভার পূর্বে শেখ কামাল স্টেডিয়ামের নাম ফলক উন্মোচন করেন মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি। সভা শেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত দুস্থ ৬৫ জন খেলোয়াড়ের মাঝে প্রতিজনকে ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয় এবং দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

পাঁচ মাস পর ফের রিফাত হত্যা মামলার বিচার শুরু

ঢাকা অফিস ॥ করোনার কারণে বন্ধ থাকার পাঁচ মাস পর ফের শুরু হয়েছে আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম। গতকাল সোমবার সকালে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রাপ্তবয়ষ্ক আসামিদের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় জামিনে থাকা মিন্নিসহ ১০ আসামি হাজির হন। রিফাত হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মজিবুল হক কিসলু বলেন, আদালতে আসামিদেরকে ৭৬ জন সাক্ষীর দেয়া সাক্ষ্য পড়ে শোনানো হবে। এছাড়াও আসামিদের সাফাই সাক্ষী গ্রহণ ও কোনো কাগজপত্র জমা দেয়া হবে কিনা জানতে চাওয়া হবে। কোনো আসামির পক্ষে কাগজপত্র জমা দেয়ার না থাকলে আজকেই (গতকাল সোমবার) আদালতে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হতে পারে। রিফাত হত্যা মামলায় মোট ২৪ জনকে আসামি করে দুটি ভাগে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৪ জন শিশু। মামলায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মিন্নি ও শিশু আসামিদের মোট আটজন জামিনে আছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে যখম করে নয়ন বন্ডের গড়া কিশোর গ্যাঙ ‘বন্ড গ্র“প’। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের প্রতীক নির্বাচন কমিশন – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন তো একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট বডি, স্বাধীন সত্তা। এখানে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল একেকটি শেয়ার হোল্ডার। আপনি শেখ হাসিনার কথায় দিনের ভোট রাতে করেছেন। ভোটকেন্দ্রে মানুষকে বিতাড়িত করে গরু-ছাগলকে পাঠিয়েছেন। এটার প্রতীক হলো নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকে ধ্বংস করার প্রতীক হলো নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় জাতীয়তাবাদী সেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খানের রুহের মাগফিরাত কামনায় ছাত্রদল আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। করোনা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সারা পৃথিবীতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। গোটা বাংলাদেশে আমরা একটি মরণযজ্ঞের মধ্যে আছি। আমি কয়েকদিন আগে কয়েকটি জেলা সফর করলাম। সেখানে অসুস্থতায় মারা যাওয়া কয়েকটি পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়েছি। তারা বলেছে এসব রোগীর হার্টের রোগ ও অন্যান্য রোগ ছিল বটে, তবে তারা করোনায় মারা গেছে। যে কয়টি বাসায় গিয়েছি করোনায় আক্রান্ত ছাড়া কেউ মারা যায়নি। গোটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সরকার ভেঙে দিয়েছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, মফস্বলের হাসপাতালগুলোতে কোনো চিকিৎসা নেই। সেখানে হাসপাতালগুলোতে যাওয়া মানে মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিশ্চিত পকেটে নিয়ে যাওয়া। এর বাইরে অন্য কিছু নেই। তিনি বলেন, এই সরকার শুধুমাত্র ক্রসফায়ার গুম-খুনের মধ্য দিয়ে, শুধুমাত্র একটা অমানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করেনি, এই সরকার সরা দেশের মানুষকে মৃত্যু কূপে ফেলে দেওয়ার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করেছে। আজকে মেগা প্রজেক্ট করেন, আজকে ফ্লাইওভার করেন টাকা চলে যায় কানাডায়, টাকা চলে যায় মালয়েশিয়ায়। শুনি বেগম পল্লী, শুনি সেকেন্ড হোম আর বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে ধুকে ধুকে মরে সাধারণ মানুষরা। রিজভী বলেন, সকল অমানবিকতার জন্মদাতা হচ্ছে এই সরকার। আর এই সরকার দিব্যি জনগণকে বাদ দিয়ে, গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে, জবাবদিহিতাকে কবরের মধ্যে ঠেলে দিয়ে জোর করে বন্দুক হাতে নিয়ে ক্ষমতায় বসে আছে। ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের সঞ্চালনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, মাজেদুল ইসলাম রুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, যুগ্ম-সম্পাদক রিয়াদ মো: ইকবাল, ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যুগ্ম-আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন নাছির, ছাত্রদল মহানগর পূর্ব সভাপতি খন্দকার এনামুল হক, মহানগর উত্তর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন রুবেল প্রমুখ।

দৌলতপুরে করোনাকে জয় করে অফিসে ফিরলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে করোনাকে জয় করে অফিসে ফিরেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রায় একমাস চিকিৎসা ও বিশ্রামে ছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর গতকাল সোমবার সকালে অফিসে যান করোনা জয়ী দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। এসময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ করোনা জয়ী  ইউএনও শারমিন আক্তারের সঙ্গে সৌজন্য স্বাক্ষাত করেন। দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী জানান, করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রায় একমাস চিকিৎসা ও বিশ্রাম শেষে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার স্যার গতকাল অফিস করেছেন।

পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সরকার যথাসময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার মন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সড়ক জোন, বিআরটিএ ও বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার এ সময়ে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং বাসা বাড়িতে অবস্থান করায় শিশু-কিশোর এবং তরুণদের মানসিক চাপ বেড়েছে। সরকার সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। ইতোমধ্যে অনলাইনে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সরকার যথাসময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেবে। আমি অভিভাবকদের ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, কোথাও কোথাও গণপরিবহন স্বাস্থ্যবিধি এবং মালিক-শ্রমিকদের প্রতিশ্র“তি সমন্বয় করা ভাড়া মানছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রত্যাশিত নয়। পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও ভাড়া আদায় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালানোয় কেন তারা ব্যর্থ হচ্ছেন? পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিআরটিএকে যেসব পরিবহন সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সতর্কতার সাথে ঈদের পর গাড়ি চালানোর অনুরোধ করা হলেও তারা তা মানেননি। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই ঘটছে দুর্ঘটনা। জনগণকে আর কতদিন এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে? ঈদের সময় অনেক পরিবহন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেনি। অর্ধেক আসন খালি রাখার কথা থাকলেও অনেক পরিবহন তা মানেনি। এমনকি এখনও সমন্বয় করা ভাড়া না মানার অভিযোগ আছে। মন্ত্রী বলেন, গণপরিবহন, বাস টার্মিনাল, ফেরিঘাটসহ শপিংমল এবং অন্যান্য স্থানে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি অনেকের উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। অনেকে সংক্রমণের লক্ষণ লুকিয়ে চলাফেরা করছে। আপনারা দেখছেন, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্তের হার শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগের মধ্যে অবস্থান করছে। কিছুদিন ধরে আবার বিশ্বের কোনো কোনো দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গ আঘাত হানছে। এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের উদাসীনতা ভয়ানক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। নিজের, পরিবারের এবং প্রতিবেশীর সুরক্ষায় আসুন সচেতন হই। আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করি। একটাই জীবন আমাদের, তাই এ জীবন নিয়ে হেলাফেলা না করি। সর্বোচ্চ সতর্ক থাকি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেছেন, তাদের দলের নেতাকর্মীদের নাকি গ্রেফতার হয়রানি করা হচ্ছে। আমি আগেও বলেছি রাজনৈতিক কারণে কাকে, কোথায় গ্রেফতার, হয়রানি করা হয়েছে, বলুন। তাই বলে অপরাধীদের ধরা হবে না? অপরাধী, সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। সরকার বিভিন্ন অপরাধে নিজেদের দলের লোকদেরও ছাড় দিচ্ছে না। আর বিএনপি সমর্থিত কোনো অপরাধী গ্রেফতার হলে অভিযোগ কেন? দেশে অসংখ্য নজির আছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের। শেখ হাসিনা সরকার অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখে। কোথাও রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করা হচ্ছে না। বিএনপির কোনো কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে? তিনি বলেন, এদেশের মাটি বীরত্বগাথা উর্বর। আবার বিশ্বাসঘাতকতার নিকৃষ্ট নজিরও এখানে আছে। এখানে দেশপ্রেমের যেমন বিরল দৃষ্টান্ত আছে। ঠিক তেমনি ষড়যন্ত্রের গন্ধও আছে। এদেশে ঘটনার আগে কিছু বোঝা যায় না। হঠাৎ করেই চোখের পলকে ১৫ আগস্ট ঘটানো হয়েছিল। ২১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল কারা? কারা তখন ক্ষমতায় ছিল? বিএনপিই ছিল মাস্টারমাইন্ড। যারা জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন দিকে ঘুরানোর অপচেষ্টা করেছিল, তাদের মুখে হত্যার বিচার চাওয়া কি শোভা পায়? ওবায়দুল কাদের বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসের কলঙ্কময় হত্যাকানন্ড ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধে কারা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল? কারা কলঙ্কিত করেছিল সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে খুনিদের বিচার বন্ধ করে? তাই আগস্ট এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। কারণ ষড়যন্ত্রকারীদের, বিশ্বাসঘাতকদের প্রেতাত্মারা এখনো আছে। আছে তাদের ষড়যন্ত্রের নকশা। যারা এদেশের রাজনীতিতে রক্তপাত, হত্যা আর প্রতিহিংসা ছড়িয়েছে তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলা আরেক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে জনগণ মনে করে। ওবায়দুল কাদের বলেন, অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। সরকার বিভিন্ন অপরাধে নিজেদের দলের লোকদেরও ছাড় দিচ্ছে না। তাহলে বিএনপি সমর্থিত কোনো অপরাধী গ্রেফতার হলে অভিযোগ কেন? বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে- দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজনৈতিক কারণ কাকে, কোথায় গ্রেফতার করা হয়েছে তা বলুন।

জামিনে মুক্ত হলেন সিফাত

ঢাকা অফিস ॥ পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের পর গ্রেফতার সাহেদুল ইসলাম সিফাত জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে স্বজনরা তাকে নিয়ে যান। এ সময় তার আইনজীবী মাহাবুবুল আলম শাহীনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গতকাল সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালত-৩ এ পুলিশের করা দুই মামলায় জামিন পান সিফাত। এ সময় বিচারক দুটি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে র‌্যাবকে এর তদন্তভার দেন। এছাড়া গত রোববার মেজর সিনহার আরেক সঙ্গী মাদক মামলায় গ্রেফতার শিপ্রা দেবনাথকে জামিন দেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রামুর বিচারক দেলোয়ার হোসেনের আদালত। মেজর সিনহা নিহতের ঘটনায় রামু থানায় করা মাদক মামলায় শিপ্রাকে আর টেকনাফ থানায় করা মাদক ও হত্যা মামলায় সিফাতকে আসামি করে পুলিশ। উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ সময় গ্রেফতার করা হয় মেজর সিনহার সঙ্গে থাকা শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে। তারা দুজনই স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

সিনহা হত্যাকান্ড

আসামিদের রিমান্ডের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন

ঢাকা অফিস ॥ অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় আসামিদের রিমান্ড কার্যকর করতে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আসামিদের প্রত্যেককে সাতদিন করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ১০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন। গতকাল সোমবার বিকেলে র‌্যাব সদরদপ্তরের একটি সূত্র বিষয়টি জানিয়েছে। সূত্র জানায়, আদালতের দেওয়া ১০ দিন সময়সীমার মধ্যে আসামিদের সাতদিনের রিমান্ড কার্যকর সম্ভব নয়। তাই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এই সময়সীমা বাড়াতে আদালতে আবেদন করেছে র‌্যাব। সেইসঙ্গে চার আসামির নতুন করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে র‌্যাব।

কুষ্টিয়ায় ৭১ জন নতুন করোনা রোগী সনাক্ত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় ৭১ জন নতুন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২১২১ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৪৪৫ জন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৪ জন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের বরাতদিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পিসিআর ল্যাবে ১০ আগস্ট কুষ্টিয়ার ২৮৩ নমুনা পরীক্ষা করে ৭১ জন পজেটিভ সনাক্ত হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৩৪ জন,  কুমারখালীর ১২ জন, দৌলতপুরের ৫ জন, খোকসার ৯ জন,  ভেড়ামারার ৭ জন ও মিরপুরের ৪ জন সনাক্ত হয়েছে।

মিরপুরে জাতীয় শোক দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে  এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এ সময়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন, পৌর মেয়র হাজী এনামুল হক, উপজেলা পরিষদের ভাইস- চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নজরুল করিম, উপজেলা জাসদের সভাপতি মহাম্মদ শরীফ, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুস সালাম, বারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান মন্ডল, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বিশ্বাস, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিউল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামশেদ আলী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী এনামুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার শেফাইনুর আরেফিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তমান্নাজ খন্দকার, উপজেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দিন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা হামিদা পারভীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।