আলাউদ্দিন আলী আর নেই

ঢাকা অফিস ॥  বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক ও সুরকার আলাউদ্দিন আলী আর নেই। গতকাল রোববার রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫টা ৫০মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আলাউদ্দিন আলীর মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে আলিফ আলাউদ্দিন ও ঘনিষ্ঠজন মোমিন বিশ্বাস। এর আগে গত শনিবার ভোরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় ও তীব্র শ্বাসকষ্ট থাকায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আলাউদ্দীন আলী একাধারে একজন সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, বেহালাবাদক ও গীতিকার। ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর পুরোনো ঢাকায় তার জন্ম। তার বাবা ওস্তাদ জাদব আলী। আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী দীর্ঘ মিউজিক ক্যারিয়ারে প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের গানে সুর দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় ভুগছিলেন আলাউদ্দিন আলী। ২০১৫ সালে তাকে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক নেওয়া হলে জানা যায়, তার ফুসফুসে একটি টিউমার রয়েছে। এরপর তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যান্সারের চিকিৎসাও চলে। গত বছর ২২ জানুয়ারি অসুস্থ আলাউদ্দীন আলীকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসায় তিনি প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেন। এরপর একই বছর এপ্রিল মাসে শ্বাসনালী ও পাজরের বাঁ পাশে নিস্তেজসহ নানা রোগে আক্রান্ত অবস্থায় সাভারের সিআরপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গুণী এই সংগীত পরিচালকে। সেখানে দীর্ঘ তিন মাস চিকিৎসা নেওয়ার অনেকটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। ১৯৬৮ সালে তিনি যন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে আসেন এবং আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজসহ বিভিন্ন সুরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৫ সালে সংগীত পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হন। গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, কসাই ও যোগাযোগ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে। অসংখ্য কালজয়ী গানের সংগীত পরিচালক ছিলেন আলাউদ্দিন আলী। তার লেখা, সুর করা ও সংগীত পরিচালনায় অসংখ্য গান শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। চলচ্চিত্র, বেতার, টেলিভিশন মিলে প্রায় হাজার পাঁচেক গান তৈরি করেছেন তিনি। সেসব গান আজও মুখে মুখে ফেরে। আলাউদ্দিন আলীর জনপ্রিয় ও কালজয়ী কিছু গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- একবার যদি কেউ ভালোবাসতো, যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়, ইস্টিশনের রেলগাড়িটা, দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা খেলতে হয়, হয় যদি বদনাম হোক আরো, ও আমার বাংলা মা তোর, আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার, সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারও ঘরনি, সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি ও আমার বাংলাদেশ, বন্ধু তিন দিন তোর বাড়ি গেলাম দেখা পাইলাম না, যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে, মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে, এমনও তো প্রেম হয়, চোখের জলে কথা কয়, সবাই বলে বয়স বাড়ে, আমি বলি কমে রে, আমায় গেঁথে দাওনা মাগো, একটা পলাশ ফুলের মালা, শত জনমের স্বপ্ন তুমি আমার জীবনে এলে, তোমাকে চাই আমি আরও কাছে, এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই, কেউ কোনোদিন আমারে তো কথা দিল না, পারি না ভুলে যেতে, স্মৃতিরা মালা গেঁথে, জন্ম থেকে জ¦লছি মাগো, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা। আরও আছে আমার মনের ভেতর অনেক জ¦ালা আগুন হইয়া জ¦লে, হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ, ভালোবাসা যতো বড়ো জীবন তত বড় নয়, প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ, বাড়ির মানুষ কয় আমায় তাবিজ করেছে, আকাশের সব তারা ঝরে যাবে, এ জীবন তোমাকে দিলাম, কেন আশা বেঁধে রাখি, সাগরিকা বেঁচে আছে তোমারই ভালোবাসায়, দিন কি রাতে, আমার মতো এত সুখী নয় তো কারো জীবন ইত্যাদি। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীত ও চলচ্চিত্রসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।

তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥  তৈরি পোশাক রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বরাবরের মতো প্রথম স্থানে চীন। আর বাংলাদেশ থেকে একধাপ নিচে অর্থাৎ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড স্ট্যাটিসটিক্যাল রিভিউ ২০২০’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে মূলত ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কিন্তু একক দেশ হিসাব করলে দ্বিতীয় বাংলাদেশ। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে ২০১৯ সালে তৈরি পোশাক রফতানিতে শীর্ষে চীন। তবে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে দেশটির পোশাক রফতানি ৬০০ কোটি ডলার কমে ১৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার হয়েছে। বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ। একক দেশ হিসেবে পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ। গত বছর বাংলাদেশ তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলারের (প্রকৃতপক্ষে তিন হাজার ৩০৭ কোটি ডলার) পোশাক রফতানি করেছে। বৈশ্বিক পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১০ সালে ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। চীন, ইইউ, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের পর শীর্ষ দশে আছে ভারত, তুরস্ক, হংকং, যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। এর মধ্যে ভারত গত বছর এক হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। বিশ্ব বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব সাড়ে ৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে শীর্ষ দশ দেশ ৪১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে, যা বৈশ্বিক পোশাক রফতানির ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশ। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানি বাজারে টিকে থাকতে হলে পণ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্যময়তা আনতে হবে। এজন্য বর্তমান চাহিদা ও আগামীর সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দিতে হবে। তাহলে রফতানি বাড়িয়ে অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে।

 

রফতানি বাড়াতে দূতাবাসগুলোকে কাজ করতে হবে – বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥  বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী রফতানি বাণিজ্যের সুযোগ গ্রহণ করতে দূতাবাসগুলোকে কাজ করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতগণকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সৌদি আরব, কুয়েত ও উজবেকিস্তান বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। এখানে বাংলাদেশি পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাণিজ্যের সুযোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতদের গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়ে দেশের রফতানি বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে হবে। গতকাল রোববার ঢাকায় সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি, কুয়েতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) আসিক এবং উজবেকিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। রাষ্ট্রদূতগণকে বাণিজ্য প্রসারে অবদান রাখতে হবে। কোভিড-১৯ এর কারণে পরিবর্তিত বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। ইতোমধ্যে রফতানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বমন্দা অর্থনীতির মধ্যেও গত বছরের জুলাই থেকে এ বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশের রফতানি আয় ২৩.০৬ মিলিয়ন বেশি হয়েছে। রাষ্ট্রদূতদের গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়ে দেশের রফতানি বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে হবে, বলেন টিপু মুনশি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্পেশাল ইকোনমিক জোনগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। এগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরতে হবে। রাশিয়া একটি বড় বাজার। এ বাজারে প্রবেশ করতে আমরা কাজ করছি। এজন্য উজবেকিস্তান বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উজবেকিস্তানও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। উভয় দেশ বাণিজ্য জটিলতা দূর করতে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে সৌদি আরবে রফতানি হয়েছে ২৬২.৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য এবং জুলাই থেকে মে পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৭৯৬.৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। কুয়েতে রফতানি হয়েছে ২৩.৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য এবং জুলাই থেকে মে পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৩৮২.১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। উজবেকিস্তানে রফতানি হয়েছে ১৯.১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। এ সময় বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) মো. ওবায়দুল আজম, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শরিফা খান উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য শান্তি চুক্তি হলেও আদিবাসীরা ভালো নেই – মেনন

ঢাকা অফিস ॥  পার্বত্য শান্তি চুক্তি হলেও আদিবাসীরা এখন নানা কারণেই ভালো নেই। আদিবাসীদের অনেক বিষয়ই এখনো স্বীকৃত নয়। পাকিস্তান আমলে বাঙালি হিসেবে অস্বীকার যেমন আমাদের মনে ক্ষোভ ও জ¦ালা সৃষ্টি করত, আদিবাসী হিসেবে তাদের সেসব বিষয়গুলো স্বীকার না করা আদিবাসীদের মনে তেমনি কষ্ট, ক্ষোভ ও জ¦ালা সৃষ্টি করে। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত দিনব্যাপী ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আদিবাসীদের দাবি মোতাবেক আমরা তাদের সেভাবে স্বীকৃতি দিতে পারিনি। এটা দুঃখের। তবে আমরা আশা করি খুব দ্রুতই এই সমস্যার একটা সমাধান করতে পারবো। দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, আমরা সকলেই এটা জানি যে, আদিবাসীরা নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। অধিকাংশ সময় তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ মানুষ হিসেবে তাদের সে অধিকারগুলো দরকার। আমরা আদিবাসীদের সংগ্রামের সহভাগী হতে চাই। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইব) পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আদিবাসীরা নিজ দেশে প্রবাসী। অধিকারহীনতা, বঞ্চনা, মৌলিক অধিকার হরণ, দখল, উচ্ছেদ, ভূমি অধিকার ভুলন্ঠিত হওয়ার যত আয়োজন আছে, বর্তমানে তার সবকিছুই হচ্ছে আদিবাসীদের ওপর। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার। মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আদিবাসীরা তাদের জীবন রাষ্ট্রকে দিয়ে গেলেন। কিন্তু রাষ্ট্র সেভাবে আদিবাসীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেনি। এখন সময় এসেছে তাদের অধিকার তাদের জন্য বুঝিয়ে দেওয়ার। সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে দিনব্যাপী এ ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। আয়োজনের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। সভাপতির বক্তব্য দেন ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। এসময় তারা বলেন, দেশের সব মানুষের মতো আদিবাসীরাও এ দেশের নাগরিক। কিন্তু আজও আদিবাসী জনগণের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো নয়। বিশেষত ভূমি কমিশন পুরোপুরি অকার্যকর অবস্থায় রয়ে গেছে। আদিবাসী দিবসে আশা করছি, আদিবাসীদের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আদিবাসী-বাঙালি হাতে হাত ধরে সামনে এগিয়ে যাবে।

প্রবাসীদের জন্য সঞ্চয় স্কিম চালুর নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ঢাকা অফিস ॥  এবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সঞ্চয় স্কিম চালুর সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। মাসিক কিংবা ত্রৈমাসিক কিস্তি ভিত্তিক এ সঞ্চয় স্কিম খুলতে পারবেন প্রবাসীরা। সঞ্চয় স্কিমের মেয়াদ এক বছর কিংবা এর অধিক হতে পারবে। সঞ্চয় স্কিমের স্থিতি জামানত রেখে ঋণ নেওয়ারও সুযোগ পাবেন তারা। গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রবাসীদের জন্য তিন ধরনের সঞ্চয় বন্ড চালু রয়েছে। এগুলোতে কেবল বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এখন স্থানীয় মুদ্রা টাকায়ও বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলো। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগে আনতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে এ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে প্রবাসে কর্মরতরা বিশেষ করে স্বল্প আয়ের প্রবাসীরা এ সঞ্চয় স্কিমের দ্বারা উপকৃত হবেন। সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে কিংবা এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে প্রেরিত রেমিটেন্স নগদায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশে বেড়াতে আসার সময় প্রবাসীর সংগে আনীত বৈদেশিক মুদ্রা দ্বারা এবং প্রবাসীদের নামে পরিচালিত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের স্থিতি নগদায়নের মাধ্যমে সঞ্চয় স্কিমে অর্থ জমা করা যাবে। বিদেশ গমনের পূর্বেই কোনো জমা প্রদান ছাড়াই এ জাতীয় হিসাব খোলা যাবে। এসব সঞ্চয় স্কিমে প্রতিযোগিতামূলক হারে সুদ প্রদান করতে পারবে ব্যাংক। একই সাথে বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হিসাব বিবেচনায় সুদে বিশেষ সহায়তা প্রদানের কথাও সার্কুলারে বলা হয়েছে। সঞ্চয় স্কিমের মেয়াদ পূর্তিতে হিসাবধারী অনিবাসীর মনোনীত ব্যক্তিকে ব্যাংক জমাকৃত অর্থ সুদসহ প্রদান করতে পারবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় সঞ্চয় স্কিমের স্থিতি দ্বারা প্রবাসী ব্যক্তি নতুন করে তার নামে স্থায়ী আমানত হিসাব খুলতে পারবে। স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসার পর ওই হিসাবের স্থিতি এককালীন কিংবা পেনশন পদ্ধতিতে মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে হিসাবধারী গ্রহণ করতে পারবে। সঞ্চয় স্কিম চলাকালীন সময়ে হিসাবধারী দেশে প্রত্যাবর্তন করলে ও স্থানীয় উৎসের আয় দ্বারা ওই স্কিম নিবাসী হিসাবের ন্যায় পরিচালনা করতে পারবে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানকালে উপযুক্ত কারণে অর্থের প্রয়োজন হলে আবেদন দাখিল সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ বিদেশে প্রেরণের বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংক বিবেচনা করবে বলেও সার্কুলারে সুবিধা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্রবাসীদেরকে স্থানীয়ভাবে আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে সহায়তা করবে। ফলে স্থায়ীভাবে দেশে আসার পর প্রবাসীদের আর্থিক সমস্যার সম্মূখীন হতে হবে না বলেও তিনি জানান।

অধস্তন আদালতে করোনায় মৃত্যুহার ০.৫৭ শতাংশ

ঢাকা অফিস ॥  অধস্তন আদালতে করোনা শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৬৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। যা জাতীয় সুস্থতার হারের চেয়ে যথাক্রমে সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি এবং জাতীয় মৃত্যুর হারের চেয়ে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। গতকাল রোববার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের স্বাস্থ্য বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে করোনা শনাক্তের বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালিত করোনা মনিটরিং ডেস্কের গত শনিবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অধস্তন আদালতে করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫০ জন। এদের মধ্যে বিচারক ৭৩ জন ও কর্মচারী ২৭৭ জন। অন্যদিকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন ২৩১ জন। এদের মধ্যে ৪৬ জন বিচারক এবং ১৮৫ জন কর্মচারী। বর্তমানে ২৭ জন বিচারক অসুস্থ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ জন নিজ বাসায় এবং ২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কর্মচারী অসুস্থ রয়েছেন ১০২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের মধ্যে ১ জন বিচারক ও ১ জন কর্মচারী। অধস্তন আদালতে সুস্থতার ও মৃত্যুর হার উভয় ক্ষেত্রে বিচারকদের চেয়ে কর্মচারীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আইন ও বিচার বিভাগের মনিটরিং ডেস্কের গতকালের তথ্য- উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় করোনা শনাক্ত বিবেচনায় বিচারকদের সুস্থতার হার ৬৩ শতাংশ এবং কর্মচারীদের সুস্থতার হার ৬৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে করোনা শনাক্ত বিবেচনায় বিচারকদের মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সেখানে কর্মচারীদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ। মনিটরিং ডেস্কের প্রধান সমন্বয়ক ড. শেখ গোলাম মাহবুব জানান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার মনিটরিং ডেস্কের রিপোর্ট প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করছেন ও আক্রান্তদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখছেন।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন

সিনহার বুকে-বাহুতে ৩ গুলি, আঘাতের একাধিক চিহ্ন

ঢাকা অফিস ॥  কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন র‌্যাবের কাছে জমা দিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার কক্সবাজার সিভিল সার্জনের মাধ্যমে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার র‌্যাবের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- খুব কাছ থেকে সিনহাকে গুলি করা হয়। তাকে তিনটি গুলি করা হয়েছে। তিনটি গুলি তার দেহে প্রবেশ করে আবার বেরিয়ে গেছে। এ কারণে তার শরীরে গুলির চিহ্ন ৬টি পাওয়া গেছে। তিনটি গুলির একটি সিনহার বাম বুকে, একটি বাম হাতের বাহুতে অন্যটি বুকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- সিনহার গলা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ৭ জুলাই কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও শাহীন আবদুর রহমান ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদনটি সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পুলিশ সুপার বরাবর পাঠান। গতকাল রোববার পুলিশ সুপার সেটি সিনহা হত্যার তদন্তকারী র‌্যাব কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে। গত ৩ জুলাই স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের তিন শিক্ষার্থীসহ ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভ্রমণ ভিডিও তৈরি করতে কক্সবাজারে যান সিনহা। ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। পরে গত বুধবার তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা করলে আদালত মামলাটি টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। পাশাপাশি র‌্যাব ১৫-এর কমান্ডারকেও তদন্ত করার নির্দেশ দেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকালে এ মামলায় ওসি প্রদীপসহ সাত আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে সবাই কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন। এদিকে সিনহা হত্যার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের পক্ষ থেকে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। প্রথমে টেকনাফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হেলাল উদ্দিন মৌখিকভাবে টেকনাফ থানার সদ্য সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সদ্য সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি চার আসামি এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে দুদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। পরে লিখিত আদেশে সবারই সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে বিএনপির উদ্বেগ

ঢাকা অফিস ॥  সম্প্রতি কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়া এবং গত ৫ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং পুলিশ হেফাজতে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। গত শনিবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গতকাল রোববার দলের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিশেষ করে পুলিশের গুলিতে যেভাবে হত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানোর জন্য সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় বলা হয়, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি বেড়েই চলেছে যা বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাহরণ এবং ভিন্নমত দমনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। অবৈধ সরকার ক্ষমতায় অগণতান্ত্রিকভাবে টিকে থাকা এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার হীন ষড়যন্ত্র করছে। সভায় গত ৪ আগস্ট দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মান্নানের মৃত্যু ও সাবেক ছাত্রনেতা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। সভায় সাম্প্রতিককালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দলের নেতা-কর্মী যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং পরিবার পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্থায়ী কমিটির সভায় সাম্প্রতিককালে করোনা ভাইরাসে যে সকল চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ইন্তেকাল করেছেন সকলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং পরিবার পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। এছাড়া কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন এবং জনগণ যেভাবে সংক্রমিত হচ্ছে সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতায় বেড়ে চলেছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই বিষয়ে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়াও ভার্চ্যুয়াল এই সভায় দলের সাংগঠনিক বিষয়ে এবং বর্তমান রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সভা মুলতবি ঘোষণা করেন। গত শনিবার বিকাল ৫টা থেকে দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সভায় লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত ছিলেন, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। একটি সূত্র জানায়, এই সভায় ঢাকা-১৮ ও ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করারও সিদ্ধান্ত হয়। তবে দলের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।

১৫ আগষ্ট পালনে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয়  শোক দিবস ১৫ আগষ্ট পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব হোসেন। তিনি এ সময় বলেন ১৫ আগষ্ট বাঙ্গালী জাতীর জীবনে একটি কলঙ্কিত করেছে। কিছু সংখ্যক পথভ্রষ্ট সেনা সদস্য এবং নব মীর জাফরদের নেতৃত্বে ১৫ আগষ্টের জন্ম হয়েছিল। জাতি খুনিদের বিচার করেছে। কয়েকজন খুনি বিদেশে পালিয়ে আছে, তাদেরকে একদিন না একদিন আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, থানা অফিসার ইনচার্য আলমগীর কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার শাহাবুদ্দিন, আলহাজ্ব শেখ নুর  মোহাম্মদ জকু, মইনুদ্দিন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শমসুজ্জোহা, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু, মৎস্য কর্মকর্তা কামরুন্নাহার আঁখি, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত, সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  গোলাম সরোয়ার, আবাসিক প্রকৌশলী গোলাম নবী, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান খান, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, যুগ্ম সম্পাদক প্রশান্ত বিশ্বাস, শরিফুল ইসলাম, গোলাম সরোয়ার সদু প্রমুখ।

গাংনীতে করোনা আক্রান্তে ভ্যান চালকের মৃত্যু

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের গজারিয়া হেমায়েতপুর গ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে সাদেক আলী (৫৫)  নামের এক ভ্যান চালকের মৃত্যু হয়েছে। সাদেক আলী গজারিয়া হেমায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল রোববার সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্থানীয়রা জানান গত দু’সপ্তাহ আগে ভ্যান চালক সাদেক আলীর সর্দি-জ্বরসহ শারীরিক অন্যান্য সমস্যার কারণে নমুনা দিয়েছিলেন। নমুনা নেয়ার পর পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া ল্যাবে পাঠিয়েছিল গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। নমুনায় তার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সাদেক আলী। রোববার সকালে নিজ বাড়িতে মারা যান। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রিয়াজুল আলম জানান ইসলামীক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাদেক আলীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে  সেনাবাহিনী

“সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে” এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে মহামারী করোনা মোকাবেলায় দেশ জুড়ে চিকিৎসা সেবা, খাদ্য সহায়তা ও কৃষি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে মাননীয় সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশক্রমে কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, জীবাণুমুক্তকরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ নানাবিধ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। এসময় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে উৎসাহ প্রদান করেন সেনা সদস্যরা। রাস্তায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল তদারকি, মার্কেট/দোকালগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক মন্দা হতে খাদ্য সংকট মেটাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনে খাদ্য/শস্য/ফলজ বীজ। এছাড়াও প্রতিদিনই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে  সেনাসদস্যরা। করোনা মোকাবেলায় ত্রাণ তৎপরতা, গণপরিবহন মনিটারিং, সচেতনতামূলক প্রচারণা ও স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়ন, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানসহ সকল প্রকার জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং খুলনার কয়রায় দ্রুত বেড়িবাঁধ  মেরামতের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের মাঝে সুপেয় পানি বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং ঘর-বাড়ী মেরামতসহ নানামূখী জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা।

গাংনীতে বিট পুলিশিং কার্যক্রমের উদ্বোধন  

গাংনী      প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে বিট পুলিশিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। গাংনী থানা পুলিশ আয়োজিত কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাংনী থানার (তদন্ত) ওসি সাজেদুল ইসলাম, রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন ছেপু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিট পুলিশিং কমিটির রাইপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মাস্টার, সদস্য সেকেন্দার আলী মাস্টার, রাইপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোখলেছসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যেই বলেন পুলিশি সেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে বিট পুলিশিং কার্যক্রম জনগণের সকল ধরণের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ক্ষেত্রে গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১২টি বিট অফিস কার্যক্রম চালু করা হলো। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গাংনী থানার এসআই নুরুল ইসলাম।

বন্যায় ৪০ দিনে ১৭৪ মৃত্যু, ১৪৬ জনই পানিতে ডুবে

ঢাকা অফিস ॥  দেশের ৩৩টি বন্যাউপদ্রুত এলাকায় ৪০ দিনে ডায়রিয়া, পানিতে ডুবে, বজ্রপাতে, সাপের কামড়ে ও অন্যান্য কারণে ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ জুন থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ৮৪ শতাংশই অর্থাৎ ১৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বন্যাকালীন মৃত ১৭৪ জনের মধ্যে পানিতে ডুবে ১৪৬ জন, বজ্রপাতে ১৩ জন এবং সাপের কামড়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে লালমনিরহাটে একজন, কুড়িগ্রামে একজন, জামালপুরে একজন, কিশোরগঞ্জে একজন ও গাজীপুরে একজনের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বন্যায় পানিতে ডুবে এবং সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। বাড়িঘরে পানিতে ডুবে যাওয়ায় ছোটশিশুদের নিয়ে মানুষ আতঙ্কে থাকে। পানিতে ডুবে যাদের মৃত্যু হয় তাদের অধিকাংশই শিশু। এদিকে বন্যাকালীন মৃত ১৭৪ জনের মধ্যে লালমনিরহাটে ১৬ জন, কুড়িগ্রামে ২৩ জন, গাইবান্ধায় ১৫ জন, নীলফামারীতে দুইজন, রংপুরে তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, সিরাজগঞ্জে ১৪ জন, জামালপুরে ২৯ জন, টাঙ্গাইলে ২৮ জন, রাজবাড়ীতে একজন, মানিকগঞ্জে ১৭ জন, নেত্রকোনায় পাঁচজন, নওগাঁয় দুইজন, কিশোরগঞ্জে চারজন, ঢাকায় পাঁচজন, শরীয়তপুরে একজন, মুন্সিগঞ্জে তিনজন, গাজীপুরে একজন ও গোপালগঞ্জে দুইজনের মৃত্যু হয়।

ঈদযাত্রায় ২৩৮ দুর্ঘটনায় ৩১৭ জনের মৃত্যু, আহত ৩৭০

ঢাকা অফিস ॥  ঈদুল আজহায় সীমিত আকারে যাতায়াত হলেও সড়ক-মহাসড়কে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত ও ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে মিলে সর্বমোট ২৩৮টি দুর্ঘটনায় ৩১৭ জন নিহত ও ৩৭০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২০ প্রকাশকালে এ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। মোজাম্মেল হক বলেন, গত ২৬ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৩ দিনে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত ও ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। উল্লিখিত সময়ে রেলপথে চারটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌপথে ৩৩টি ছোট-বড় বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত, ৩৯ জন আহত ও ১৭ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় গত ৪ আগস্ট। এদিন ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় গত ৮ আগস্ট। এদিন আটটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় একদিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৪ আগস্ট। এদিন ৩২ জন নিহত হয়। একদিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয় গত ৩১ জুলাই। এদিন ৫৫ জন আহত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একইসময়ে ৮৮ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত ও ৬৫ আহত হন। এ বছর মোট সংঘটিত ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনার ৮৮টি ঘটেছে মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্য যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটনা, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৩.৭৮ শতাংশ। যেখানে মোট নিহত হওয়ার ৪৩.০৮ শতাংশ এবং মোট আহতের ১৯.৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা ৫২.২৩ শতাংশ ঘটেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১০২ জন চালক, ৬৩ জন পথচারী, ৩৮ জন নারী, ৩০ জন শিশু, ১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ১১ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাতজন শিক্ষক, সাতজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দু’জন সাংবাদিক ও একজন প্রকৌশলীর পরিচয় মিলেছে। নিহতদের মধ্যে দু’জন পুলিশ সদস্য, একজন সেনাবাহিনীর সদস্য, একজন বিমানবাহিনীর সদস্য, একজন সিআইডির সদস্য, ৮৫ জন চালক, ৫০ জন পথচারী, ৩২ জন নারী, ২৪ জন শিশু, আটজন শিক্ষার্থী, ছয়জন শিক্ষক, নয়জন পরিবহন শ্রমিক, একজন প্রকৌশলী, চারজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছিল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, এডিটরস ফোরামের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী, ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুর নবী শিমু, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব এম মনিরুল হক, জিয়া প্রমুখ।

দৌলতপুরে করোনা কেড়ে নিল স্কুল শিক্ষকের প্রাণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার করোনা কেড়ে নিয়েছে মমিনুল ইসলাম (৩৩) নামে এক স্কুল শিক্ষকের প্রাণ। শনিবার রাতে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে দৌলতপুরের পিয়ারপুর ইউনিয়নের পুরাতন আমদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আমদহ গ্রামের আসমত আলী মাষ্টারের ছেলে। প্রায় এক মাস ধরে মমিনুল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৭টায় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আজগর আলীর তত্বাবধানে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পারিবারিক কবরস্থানে মমিনুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধীর আত্মরক্ষার ঢাল হতে পারে না – কাদের

ঢাকা অফিস ॥  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় কোনো অপরাধীর আত্মরক্ষার ঢাল হতে পারে না। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা প্রমাণ করেছেন। গতকাল রোববার গোপালগঞ্জ সড়ক জোন, বিআরটিএ ও বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় সভায় যুক্ত হন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা সরকার জনগণের মনের ভাষা বোঝেন বলেই যেকোনো বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং তা এরইমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ নানাভাবে কথা বলেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান, স্বাস্থ্যখাতে জেকেজি, রিজেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান চালানোর আগে সরকারকে কেউ বলে দেয়নি। শেখ হাসিনা সরকার নিজেই এ সকল অনিয়ম উদঘাটন করেছেন, কোনো ধরনের ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেনি। বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যার সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের আমলে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন? দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়াই তাদের সফলতা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার প্রতিটি হত্যাকা-ের বিচারে সোচ্চার থেকেছে। অপরাধীকে দলীয় পরিচয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি, অপরাধী যে দলেরই হোক বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মরণোত্তর বিচারের দাবি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, নীল নকশা প্রণয়নকারীদের মরণোত্তর বিচারের দাবি জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। গতকাল রোববার সচিবালয়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘আলোকচিত্র, ডিজিটাল ডিসপ্লে ও সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ দাবি জানান। তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ ছাড়া তথ্য সচিব কামরুন নাহার, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবাহান চৌধুরীসহ তথ্যমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার যারা মূল পরিকল্পনাকারী, নীল নকশা প্রণয়নকারী তাদের মুখোশ বাঙালি জাতির সামনে উন্মোচিত করতে হবে। এসময় এ দেশের একজন নাগরিক ও বঙ্গবন্ধুর এই দেশের একজন সন্তান হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার মূল পরিকল্পনাকারীদের মরণোত্তর বিচারের দাবি জানান ডা. মুরাদ হাসান। মুরাদ হাসান বলেন, আগামী ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে, জাতীয় শোক দিবসে আমাদের বাঙালি জাতির এবার একটাই শপথ থাকবে- বঙ্গবন্ধুর পলাতক হত্যাকারী খুনিরা, আত্মস্বীকৃত খুনিরা বিদেশের মাটিতে পলাতক রয়েছেন, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশে ফিরিয়ে এনে হাইকোর্ট কর্তৃক যে দ-াদেশ ঘোষিত হয়েছে সেই রায় কার্যকর করতে হবে।

দৌলতপুরে জাতীয় শোক দিবস পালনে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযোগ্য মর্যদায় পালনের লক্ষে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আজগর আলীর সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ। সার্বিক বিষয় তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আজগর আলী। মতামত তুলে ধরেন দৌলতপুর শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সরকার আমিরুল ইসলাম ও প্রভাষক শরীফুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও আমন্ত্রিত সুধীজন। সভায় ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, মসজিদ, মন্দির ও উপাসানালয়ে সুবিধামত সময়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা।

 

রোটারী ক্লাব অব কুষ্টিয়ার হাসপাতালে চিকিতসা সরঞ্জামাদী বিতরণ অনুষ্ঠানে হানিফ

জেলাবাসী যেন সঠিকভাবে চিকিতসা সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে

রেজা আহাম্মেদ জয় ॥ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সাথে কুষ্টিয়া সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার ৯ আগস্ট দুপুর ১২টায় রোটারিয়ান অজয় সুরেকার উদ্দ্যোগে রোটারি ক্লাব অব কুষ্টিয়া করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামাদী প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সাংসদ আঃ কাঃ মঃ সরোয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাংসদ সেলিম আলতাব জর্জ, জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার),  জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী, নির্বাহী সদস্য মাযহারুল আলম সুমন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন রাজু, রোটারি ক্লাব অব কুষ্টিয়ার প্রেসিডেন্ট কাজী শামসুন্নাহার আলো, সাধারণ সম্পাদক কেএএম রুয়াইম রাব্বি, প্রোজেক্ট  চেয়ারম্যান রোটাঃ অজয় সুরেকা, আই পিপি, একেএস সৈয়দা হাবীবা প্রমূখ। প্রধান অতিথি এমপি হানিফ বলেন- কুষ্টিয়াবাসী যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায় তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য তিনি নির্ভয়ে নিঃসংকোচে কাজ করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহবান জানান। রোটারি ক্লাব অব কুষ্টিয়ার সহযোগিতায় করোনা রোগীদের জন্য হাইফ্লো নজেল ক্যানোলা, মাস্ক, গার্বেজ ব্যাগ বিতরণ ও বেষ্ট ফিডিং কর্ণার উদ্বোধনকালে একথা বলেন। হানিফ বলেন, রোটারি ক্লাব অব কুষ্টিয়া যেভাবে মানবিক সহযোগিতা করে আসছে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ এবং হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য হাইফ্লো নজেল ক্যানোলা, মাস্ক, গার্বেজ ব্যাগ বিতরণ করে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

একাদশে ভর্তি কার্যক্রম শুরু

ঢাকা অফিস ॥  চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে বিলম্বিত একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৭টায় শুরু হয় ভর্তি কার্যক্রম। চলবে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। এবার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। নগদ, সোনালী ব্যাংক, টেলিটক, বিকাশ, শিওরক্যাশ ও রকেটের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও গতকাল রোববার থেকে িি.িনঃবনধফসরংংরড়হ.মড়া.নফ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ভর্তির জন্য আবেদন করছে শিক্ষার্থীরা। আগের বছরগুলোর মতোই চার্চ পরিচালিত নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিকবিদ্যালয় ও সেন্ট গ্রেগরি’স হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এই অনলাইন ভর্তির বাইরে রয়েছে। তাদের ভার্চুয়াল ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ গত শনিবার বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব, তারা যেন সর্বোচ্চসংখ্যক কলেজ পছন্দ করে। এতে তাদের পক্ষে প্রথম পর্যায়েই কলেজ পাওয়া সম্ভব হবে। আর শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যায় পড়লে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর কর্মকর্তারাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান করবেন। গত বছরের মতো এবার এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তি আবেদনের সুযোগ নেই। শুধু অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ করতে পারবে। প্রথম পর্যায়ে ৯ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। তবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের দিন অনলাইন সার্ভিস ও কল সেন্টার বন্ধ থাকবে। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ২৫ আগস্ট রাত ৮টায়। শিক্ষার্থীরা নিশ্চায়ন করতে পারবে ২৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত। নিশ্চায়ন না করলে প্রথম পর্যায়ের আবেদন বাতিল হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদন করা যাবে ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। পছন্দক্রম অনুসারে প্রথম মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের ফল প্রকাশ করা হবে একই দিন রাত ৮টায়ই। দ্বিতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন ৫ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন করা যাবে ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর। পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশন এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এই পর্যায়ের নিশ্চায়ন করতে হবে ১১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। আর কলেজভিত্তিক চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায়। ভর্তি চলবে ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

 

উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত

বিধিবহির্ভুত চাপাইগাছী বিল ইজারার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় মতস্যজীবি সমবায় সমিতির সংবাদ সম্মেলন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন থেকে ২০০৯ সালের জলমহাল নীতিমালা লংঘন করে নাম সর্বস্ব অবৈধ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ‘নান্দিনা-চাপইগাছী বিল’ ইজারা দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে চাপাইগাছী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। গতকাল রবিবার বেলা ১২টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সভাপতি সেলিম বেগ।

তিনি বলেন- কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও জলমহাল বন্দোবস্ত কমিটি বাংলা ১৪২৬ থেকে ১৪২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে বিলটি ইজারা দেয়ার জন্য নীতিমালায় প্রযোজ্য শর্ত পূরন সাপেক্ষে দরপত্র আহ্বান করে। চাপাইগাছী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি যথাযথ বিধি মেনে দরপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ইজারা বন্দোবস্ত কমিটি কোনরূপ শর্ত পূরণ ছাড়া এবং বিধিসম্মত না হলেও নাম সর্বস্ব ‘নান্দিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি’ নামের একটি অকার্যকর অবৈধ সমিতিকে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ইজারা বন্দোবস্ত দেন। এর বিরুদ্ধে ভূমি আপিল বোর্ডে আপিল করলে মহামান্য আদালত জেলা জলমহাল বন্দোবস্ত কমিটির ওই আদেশ স্থগিত করে বৈধ সমিতি হিসেবে চাপাইগাছী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির অনুকুলে বিলটি ইজারার নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ এই মৎস্যজীবিদের।