বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড আগে বন্ধ করলে সিনহাকে প্রাণ দিতে হতো না – জেএসডি

ঢাকা অফিস ॥ বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধে চার প্রস্তাবনা দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি। গতকাল শনিবার দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার এক বিবৃতিতে জরুরিভিত্তিতে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিষিদ্ধের চার দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বিবৃতিতে নেতারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের মর্মান্তিক হত্যাকা-ে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড আগে বন্ধ করলে আজ মেজর সিনহাকে অকালে প্রাণ দিতে হতো না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না এ ঘোষণা সরকারকেই দিতে হবে। মেজর সিনহার হত্যাকা-কে ঘিরে যে নির্মমতা প্রকাশ পেয়েছে তা এখনই প্রতিরোধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে তা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। নেতারা বলেন, জীবনের সুরক্ষা দেয়া রাষ্ট্রের মৌলিক কর্তব্য। রাষ্ট্রবিদ্যমান থাকা অবস্থায় নাগরিকের জীবন রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্ত্রধারীর হাতে জিম্মি করে দেয়া কোনোক্রমেই করণীয় হতে পারে না। সরকারের নির্দেশনার বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কর্মকা- পরিচালনার এখতিয়ার নেই। সুতরাং কোনো হত্যাকা- যখন আর ধামাচাপা দেয়ার সুযোগ থাকে না তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে না কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষী করে বা অভিযুক্ত করে বা শাস্তি দিয়েই সরকার নিজের পাপ থেকে মুক্তি পেতে চায়, যা আইনগত ও নৈতিকতা পরিপন্থী। তারা বলেন, যে সরকারি কর্মচারী সরকারি ইউনিফর্ম পরে, সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকা-ে লিপ্ত হবে তাকে যেমন অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে, তেমনি সরকারকেও তার দায় বহন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ব্যক্তিবিশেষকে শাস্তি দিয়ে নাগরিকের জীবন সুরক্ষার মৌলিক কর্তব্য থেকে রাষ্ট্র বিমুক্ত হতে পারে না। বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- চলছে প্রায় দেড় দশক ধরে। সরকারের অঘোষিত এ ধরনের নীতির কারণে বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রশ্নটিই এক নম্বর এজেন্ডা হয়ে উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন সম্ভাবনাময় স্বপ্নচারী তরুণ মেজর সিনহাকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে এ বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। মেজর সিনহার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করায় কথিত ক্রসফায়ারের যেসব ভাষ্য পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া হতো তা চূড়ান্ত সত্য নয়, তা প্রমাণিত হয়েছে। অতীতে যদি একটি ঘটনার জন্যও দ্রুততার সঙ্গে সত্য উদঘাটনের ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে হয়তো মেজর সিনহাসহ অনেক অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু এড়ানো যেত। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- প্রজাতন্ত্রের দার্শনিক ভিত্তিকেই বিনষ্ট করে ফেলছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধে জেএসডির চার প্রস্তাবনা হলো-

১. বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিষিদ্ধ করা।

২. এ যাবৎ সংঘটিত সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা এবং সুষ্ঠু স্বচ্ছ বিচারের আওতায় এনে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা।

৩. উপনিবেশিক পুলিশি আইন ও ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে স্বাধীন দেশের উপযোগী করার লক্ষ্যে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করা।

৪. রাষ্ট্রীয় সকল অস্ত্রধারী প্রতিষ্ঠানকে সাংবিধানিক শৃঙ্খলায় রাখা এবং রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে সাংবিধানিক শাসনের আনুগত্য নিশ্চিত করা।

নেতারা বিবৃতিতে আরও বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- নিষিদ্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংবিধানিক শৃঙ্খলায় আনতে পারলেই নাগরিকের জীবন সুরক্ষায় রাষ্ট্রের মৌলিক কর্তব্য সম্পাদিত হবে। সরকারকে অবিলম্বে চার দফা বাস্তবায়ন করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

ভার্চুয়ালে চেম্বারজজ আদালতের দায়িত্বে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালতে অতীব জরুরি বিষয়গুলো নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানকে মনোনীত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আলম ভূঞা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অতীব জরুরি বিষয়গুলো শুনানির নিমিত্তে আগামী ১২, ১৮ ও ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মামলা সংক্রান্ত জরুরি বিষয়াদি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে বসবেন। বিচারপতি নুরুজ্জামান ১২, ১৮ ও ২৫ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টা থেকে চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সরকারের আত্মতুষ্টি করোনা মহামারীকে প্রলম্বিত করছে – বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

ঢাকা অফিস ॥ বন্যা-করোনা দুর্যোগে অসহায় মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের অনলাইন সভায় বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসন ও সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আরো জানানো হয়, সভা থেকে দাবি আদায়ে ১০ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় জাতীয় প্রেস কাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে ওই সভায় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু ও আনছার আলী দুলাল অংশ নেন। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের আত্মতুষ্টি দেশে করোনা মহামারীকে প্রলম্বিত করছে। ভুল নীতি-কৌশলের কারণে সারা দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে। করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পর্কে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গণঅনাস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে সরকারও সবকিছু খুলে ‘যে যেভাবে পারো বাঁচো’- নীতি নিয়ে দেশবাসীকে চরম বিপদের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বন্যার পানি কমতে থাকার মধ্যে বন্যাদুর্গত-বানভাসি মানুষের বহু ধরণের দুর্গতি দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ পরিবারে প্রয়োজনীয় খাবার নেই, হাতে নগদ অর্থ নেই। এমনকি অসংখ্য পরিবারের বাসযোগ্য ঘরও নেই। নেতৃবৃন্দ করোনা ও বন্যা মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে অবিলম্বে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বঙ্গমাতাই জাতির পিতাকে চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। গতকাল শনিবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে শুধু বাঙালির জাতির পিতাই হননি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক। আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তারই সহধর্মিণী ও বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সহযোদ্ধা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি বলেন, বঙ্গমাতা বেগম মুজিবের সঙ্গে বিশ্বের আরেক খ্যাতিমান নারী এলিনর রুজেভেল্টের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে, এলিনর রুজেভেল্ট যুক্তরাষ্ট্রে চারবার নির্বাচিত ও দীর্ঘকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রন্কলিন ডি রুজেভেল্টের স্ত্রী। বেগম মুজিব আর এলিনর রুজেভেল্ট দু’জনেই শৈশবে তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন, দু’জনেই তাদের চাচাতো ভাইকে বিয়ে করেছিলেন আর দু’জনেই তাদের স্বামীর রাজনীতিতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তবে তাদের দু’জনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একটা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছিল, আর এলিনর রুজেভেল্টে তা করা হয়নি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক অর্থাৎ ৭ই মার্চের ভাষণের আগ মুহূর্তে বঙ্গমাতাই জাতির পিতাকে চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন। জাতির পিতার আমৃত্যু সঙ্গী মহীয়সী নারী, দেশের স্বাধীনতাসহ সকল গৌরব অর্জনের নেপথ্য প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা মুজিব। এরপর ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির আয়োজিত বঙ্গমাতা বেগম মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করোনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ কর্মীরা বন্যা দূর্গত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানোসহ রান্না করা খাবার বিতরণে প্রশাসনকে সহায়তা করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকে আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যেখানে দুর্যোগ সেখানে আওয়ামী লীগ, দুর্যোগ দুর্বিপাকে দলের নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে থাকা ৭ দশকের ঐতিহ্য। এ সময় বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৮টি কোভিড হাসপাতাল এবং কোভিড চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ৫শ জন সম্মুখসারির যোদ্ধা-চিকিৎসকের মধ্যে চিকিৎসা ও সুরক্ষা সামগ্রী উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক ও মির্জা আজম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ অন্যান্য নেতারা।

 

বন্যার্তদের মধ্যে ১১ হাজার ৩৩৬ টন চাল বিতরণ

ঢাকা অফিস ॥ সাম্প্রতিক সময়ে অতিবর্ষণজনিত কারণে সৃষ্ট বন্যায় ৩৩টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণের জন্য এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৩৩৬ মেট্রিক টন। গতকাল শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত জেলা প্রশাসনসমূহ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নগদ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে চার কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে দুই কোটি ৭৪ লাখ ৮০ হাজার ৭০০ টাকা। শিশু খাদ্যসহায়ক হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার ৮৫৬ টাকা। গো-খাদ্য ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দুই কোটি ৮৮ লাখ এবং বিতরণের পরিমাণ এক কোটি ৭৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৬২ হাজার এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৭৩৬ প্যাকেট। এছাড়া ঢেউটিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩০০ বান্ডিল এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১০০ বান্ডিল, গৃহমঞ্জুরি বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৯ লাখ এবং বিতরণ করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। বন্যাকবলিত জেলাসমূহ হচ্ছে- ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ। বন্যাকবলিত উপজেলার সংখ্যা ১৬৩টি এবং ইউনিয়নের সংখ্যা এক হাজার ৭৩। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১০ লাখ ১৭ হাজার ৯১৪ এবং ক্ষতিগ্রস্ত লোক সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬০ হাজার ২৯১ জন। বন্যায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪১ জন। বন্যাকবলিত জেলাসমূহে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এক হাজার ৪৩৭টি। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত লোক সংখ্যা ৪৬ হাজার ১৫৭ জন। আশ্রয়কেন্দ্রে আনা গবাদি পশুর সংখ্যা ৭০ হাজার ৭৯০টি। বন্যাকবলিত জেলাসমূহে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে ৮৮৬টি এবং বর্তমানে চালু আছে ৩২০টি।

দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে ব্যবস্থা – জিএম কাদের

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকবে। একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। যারা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর সাথে কাজ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল শনিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সাতটি থানার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জিএম কাদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ঢাকা-১৭ আসন ছিল আমাদের। এই আসনে পল্লীবন্ধু প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। আসনটি আমরা মহাজোটকে ছেড়ে দিয়েছি। আমরা আশা করছি, ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবেন। এ ব্যাপারে মহাজোটের সাথে আলোচনা হবে। জিএম কাদের আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন দেশ ও মানুষের স্বার্থে সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধুর অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংসদেই বলেছেন, জাতীয় পার্টি বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনকের মর্যাদা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বিশেষ কারণে সেটা করতে পারেনি। তবে সংসদে জাতির জনক মর্যাদা দেয়ার বিষয়ে জাতীয় পার্টি ভোট দিয়েছিল। জাতির জনক কোনো দলের নন, জাতির জনক সারাদেশের সকল দলের। তাই ১৫ আগস্ট জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সংসদের এ বিরোধী দলের চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সরকারপ্রধান না চাইলে কিছুই হবে না। তাই রাজপথে হরতাল ও জ¦ালাও-পোড়াও এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কোনো দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে ইতিবাচক রাজনীতি করছে দাবি করে তিনি বলেন, সংসদ ও রাজপথে আমরা যুক্তি দিয়ে কথা বলছি। আমরা দেশ ও জনগণের পক্ষে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরছি। সাধারণ মানুষ জাতীয় পার্টির রাজনীতি গ্রহণ করেছে, তাই জাতীয় পার্টির সমর্থন বেড়েই চলেছে। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে, জাতীয় পার্টিকে দায়িত্ব দিলে দেশ ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে জাতীয় পার্টি সফল হবে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, করোনাভাইরাস ও বন্যার কারণে দেশে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। জাতীয় পার্টি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলই সাধারণ মানুষের পাশে নেই। রাজনৈতিক শূন্যতায় জাতীয় পার্টি জনগণের দল হিসেবে আবারও প্রমাণ রেখেছে। রাজনৈতিক পটপরির্বতনে সরকার আসে সরকার যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী করে গণমানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে। দেশের মানুষ তৃতীয় শক্তির দিকে উন্মুখ হয়ে চেয়ে আছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে দলকে শক্তিশালী করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

৭২ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির পূর্বাভাস

ঢাকা অফিস ॥ মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় গতকাল শনিবার থেকে পরবর্তী ৭২ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এক পূর্বাভাসের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায়, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছুকিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

 বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী

সরকারের সমালোচনা না করে জনগণের পাশে দাঁড়ান

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপিকে ঘরে বসে উঁকি দিয়ে সরকারের সমালোচনা না করে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ঘরে বসে উঁকি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করবেন না। জনগণের পাশে দাঁড়ান। গতকাল শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু ২৩ এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান কার্যালয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা কৃষক লীগ থেকে শিখুন। ধান কাটার সময় কৃষক লীগ ধান কেটেছে। বিএনপিকে দেখা যায়নি। শুধু কেটেছে তা নয়, মাথায় করে সেই ধান বাড়ি বাড়ি দিয়ে এসেছে। এই কাজটি তো বিএনপি করে নাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি দিনও ঘরে বসে নাই। তিনি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দলের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার সঠিক নেতৃত্বে কারণে সরকার আল্লাহর রহমতে করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। আমরা সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে ভবিষ্যতে পুরোপুরি ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতি যখন শুরু হলো তখন বহু বিশেষজ্ঞ, বহু মত দিয়েছেন। বাংলাদেশে নানা ধরনের বিশেষজ্ঞ আছে। কিছু সত্যিকার বিশেষজ্ঞ, কিছু বিশেষ কারণে অজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, আবার কিছু সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। এই বিশেষজ্ঞরা শুরুতে বলেছিলেন, বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করবে। তাদের আকাক্সক্ষাকে ভুল প্রমাণিত করে, শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বে কারণে কেউ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি। বক্তব্যের শুরুতে ১৫ আগস্ট নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বাঙালি জাঁতি ছিল তার সংসার। আর সেই সংসারকে ধরে রেখেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা। শুধু সংসার ধরে রেখেছিলেন তা নয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিল্লাতুন্নেছা বঙ্গবন্ধু যখন জেলে থাকতেন তখন দলটাকে ধরে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ এসেছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিল্লাতুন্নেসার কাছ থেকে। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। আলোচনা সভায়টি পরিচালনা করেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলছুম স্মৃতি।

 

মেহেরপুরে উত্যক্তকারীর নামে মামলা করায় মেয়ের বাবাকে হামলা

মেহেরপুর প্রতিনিধি  ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামে মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ ও উত্যক্তকারীর নামে মামলা করায় আব্দুল মান্নান নামের এক বাবা হামলার শিকার হয়েছেন। আব্দুল মান্নান রামনগর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। হামলার শিকার আব্দুল মান্নানকে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে রাতেই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্র্তি করা হয়। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে রামনগর বাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল মান্নান জানান আমার মেয়ের স্বামী (জামাতা) কর্মের সুবাদে বেশ কয়েক বছর যাবত প্রবাসে রয়েছে। সে সুযোগে আমার মেয়েকে গ্রামের ফরমান আলীর ছেলে পল্লী চিকিৎসক সেলিম রেজা মাঝে-মাঝে কুপ্রস্তাব ও উত্যক্ত করে। গত ১ আগষ্ট রাতে সেলিম রেজা অনৈতিক কাজের উদ্দেশ্যে আমার মেয়ের ঘরে প্রবেশ করে। এবং তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় আমার মেয়ে চিৎকার করলে  প্রতিবেশীরা টের পেয়ে সেলিমকে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রাখে। পরে সেলিমের লোকজন জোরপূর্বক তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় আমাকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে।  মেয়ে ধর্ষণের চেষ্টার বিচার পেতে গত ৬ আগষ্ট মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সেলিম রেজার নামে একটি মামলা করি। মামলা দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম তার  লোকজন নিয়ে শুক্রবার রাতে আমার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান আব্দুল মান্নানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পসহ তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দৌলতপুরে পৃথক ঘটনায় মা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পৃথক ঘটনায় মা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৩জন পানিতে ডুবে এবং একজন বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। বুধবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পদ্মারচরের সোনাতলা সাহেবনগর এলাকায় বন্যার পানিতে ডিঙি নৌকা ডুবে মা সেলিনা খাতুন (৩০) ও তার ছেলে সিয়াম (১১) এর মৃত্যু হয়েছে। এসময় সেলিনার বাবা রসুল মন্ডল (৬২) ও সেলিনার ছোট ছেলে সাগর (৯) সাঁতরিয়ে প্রানে বেঁেচছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, ছোট ডিঙি নৌকায় চড়ে ৪জন পদ্মার চরের তালতলা ঘাট থেকে সোনাতলা সাহেবনগর এলাকা যাওয়ার সময় সাহেবনগরের নিকট মহাবুল বিশ^াসের বাগানের কাছে ডিঙি নৌকাটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়। এসময় রসুল মন্ডল ও সাগর সাতরিয়ে কিনারে উঠলেও পানিতে ডুবে মারা যায় সেলিনা খাতুন ও তার ছেলে সিয়াম। পরে স্থানীয়রা তাদের লাশ উদ্ধার করে। পদ্মা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ফলে চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম এখন ডিঙি নৌকা। ডিঙি নৌকায় চড়ে পারাপারের সময় এ দূর্ঘটনা ঘটে। সাহেবনগর এলাকার আজিজুরের স্ত্রী সেলিনা খাতুন ও তার সন্তান সিয়াম। অপরদিকে পুকুরের পানিতে ডুবে তামান্না (১০) নামে ৪র্থ শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত তামান্না আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে এবং ধর্মদহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী। স্থানীয়রা জানায়, তামান্না পাকুড়িয়া গ্রামে নানা হানিফের বাড়িতে বেড়াতে এসে বাড়ির পাশর্^বর্তী পুকুরে গোলস করতে নামে। সাঁতার না জানার কারনে তামান্না পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। এছাড়াও বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ডাংমড়কা এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। মৃত কৃষক একই এলাকার মৃত আতর আলীর ছেলে। দৌলতপুর থানা পুলিশ জানায়, কৃষক শহিদুল ইসলাম বাজার থেকে ঢেউটিন ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তা সংরক্ষণ করার সময় অসাবধানবসত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে যায়। এসময় বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে কৃষক শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাড়ির ভেতরে টানা বৈদ্যুতিক তার টিনের সাথে বেঁধে ছিড়ে গিয়ে এ দূর্ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গমাতা  শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালন      

নিজ সংবাদ  ॥ বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে কুষ্টিয়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া শহরস্থ বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ  জেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে কেক কেটে ও সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্যদিয়ে এ জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি ড. মোফাজ্জেল হক। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুনীল কুমার চক্রবর্তী। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন,  জেলা শাখার সহ-সভাপতি গোপা সরকার, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম সিদ্দিক কচি, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি হারুন অর রশিদ, কুষ্টিয়া পৌর শাখার সভাপতি শ্যামলী ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, জেলা শাখার সদস্য প্রীতম মজুমদার প্রমুখ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বরুণ বিশ্বাস, তাপস পাল ও শোভন বিশ্বাস। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে ড. মোফাজ্জেল হক বলেন, জাতির পিতা থেকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে ওঠার পেছনে যার অবদান অনস্বীকার্য তিনি হচ্ছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গমাতার অনুপ্রেরণা ও আত্মোৎসর্গ অনস্বীকার্য। তার কারণেই একটি জাতির মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন বপন করে এর স্বাদও এনে দিতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আমাদের বঙ্গমাতা ছিলেন জ্ঞানী, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্ববান এবং ধৈর্যশীল মানবিক মানুষ। জাতির পিতার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের  রোজনামচা’ লেখার মূল প্রেরণা ও উৎসাহ ছিল তাঁর জীবনসঙ্গী ফজিলাতুন্নেছার। শেখ মুজিবের ১২ বছর কারাবাসকালে  ছেলেমেয়েদের পিতৃস্নেহ দিয়েছেন বেগম মুজিব। শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনে প্রধান অবলম্বন ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সর্বগুণে গুণান্বিতা ফজিলাতুন্নেছার সাহায্য ও সহযোগিতা না পেলে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব হত না। বেগম মুজিব তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অত্যন্ত  ধৈর্যের সাথে কাটিয়েছেন। ১৯৬৯ সালে  প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান শেখ মুজিবুর রহমানকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে লাহোরে বৈঠকে যোগদান করতে অনুমতি দিয়েছিল, তখন  বেগম মুজিব তাঁর স্বামীকে এভাবে বৈঠকে যোগদান না করার পরামর্শ দেন। এবং বলেন- ‘যদি বৈঠকে যোগ দিতেই হয়, তবে মুক্ত মানুষ হিসেবে বৈঠকে যোগ দেবেন।’ কতটুকু আত্মবিশ্বাস ও বিচক্ষণতা থাকলে এ ধরনের পরামর্শ দেয়া যায় তা অনুভবের বিষয়। শেখ মুজিব ফজিলাতুন্নেছার কথা রেখেছিলেন। তিনি প্যারোলে মুক্তি নেননি। বঙ্গমাতা বুঝতে পেরেছিলেন এই গণআন্দোলনকে রুখে দেয়ার সাধ্য আয়ুব সরকারের নেই। মাওলানা ভাসানী, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, আনোয়ার  হোসেন মঞ্জুসহ অনেকে তখন রাজপথ গরম করে রেখেছিলেন। এদের আন্দোলনে দ্রোহের আগুন জ্বলে উঠলো চারিদিকে। প্রবল

গণআন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় আয়ুব সরকার। বঙ্গবন্ধুর এই নিঃশর্ত মুক্তির পেছনের কারিগর আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে রাজনীতির দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব ছিলো না, যদি না বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার মত মানবিক নারীর সহযোগিতা না থাকতো।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেনাপতিকে পেছন থেকে সাহস যুগিয়েছেন যিনি, তিনি আর কেউ নন, আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা একে অপরের সাথে এত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত যে, কাউকে আলাদা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। পরিশেষে বলতে পারি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যত বেশি আলোচনা হবে, বঙ্গমাতার অবদান তত বেশি উদ্ভাসিত হবে।

 

কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের উদ্যোগে বঙ্গমাতার জন্মদিন পালন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী, মহিয়সী নারী, বাঙ্গালীর সকল লড়াই সংগ্রাম, আন্দোলনের নেপথ্যের  প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহ্ফিল করেছে কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগ৷ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া শহর শ্রমিক লীগের সভাপতি দেওয়ান মাসুদুর রহমান স্বপন। প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মতিউর রহমান।  এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হামিদুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক  মোঃ বাদশা আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তরিকুল হাসান মিন্টু, সদস্য মোঃ খোমনী, ছাত্রলীগ নেতা  ও নবযুব ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক মোঃ  ইমরান খান, শহর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি শেখ মোঃ মারফত আহমেদ প্রমুখ৷ দোয়া পরিচালনা করেন পূর্ব মিলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ হুজ্জাতুল ইসলাম। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

করোনা এবং আম্পান মোকাবেলায় আন্তরিকতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মহান প্রচেষ্টায় যশোর সেনানিবাস

প্রাণঘাতী করোনা এবং আম্পান মোকাবেলায় আন্তরিক মনোভাব  দেখিয়ে জনগণকে সচেতন করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ  চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা ও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে জনগণের পাশে থেকে  কাঁধে করে খাদ্য সহায়তা নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়েছে সেনা সদস্যরা। পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে লকডাউন কার্যকর ও চিকিৎসা কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছে সেনাবাহিনী। এছাড়াও সরকারী সকল নির্দেশনা বাস্তবায়ন, গণপরিবহন মনিটারিং, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি জনস্বার্থে সকল কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং খুলনার কয়রায় দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামতের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের মাঝে সুপেয় পানি বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং ঘর-বাড়ী মেরামতসহ নানামূখী জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত  রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। মহামারী এই করোনায় প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে সেবা ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর অর্পিত এই দায়িত্ব পালন করে যাবে প্রতিটি সেনাসদস্য। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস পালন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস পালন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দৌলতপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৯তম মহাপ্রয়াণ বার্ষিকী পালন করা হয়।  দৌলতপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সরকার আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনে এবং শিল্পকলা একাডেমির শিল্পিদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্র সংগীত ও আবৃত্তি। অনুষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

‘জয়তু বঙ্গমাতা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে ‘জয়তু বঙ্গমাতা’ শীর্ষক স্মারক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে জয়ীতা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বইটির সম্পাদক কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত এবং প্রকাশক জয়ীতা প্রকাশনীর ইয়াসিন কবীর জয়। বইটির প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জা করেছেন শাহরিয়ার খান বর্ণ। ১২৬ পৃষ্ঠার বইটিতে শতাধিক আলোকচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। জয়ীতা প্রকাশনীর ২০/২১ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ কার্যালয় থেকে ৬০০ টাকা মূল্যে বইটি সংগ্রহ করা যাবে।

সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের  জন্মবার্ষিকী উদযাপন

সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে মিরপুর ১০ সকাল-বিকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সভাকক্ষে সকাল ১১ টায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে  দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ওয়ারেস আলী। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদের সভাপতি নিজামুল ইসলাম ভূঁইয়া মিলন। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদের মহাসচিব মোহাম্মদ আমজাদ আলী খান। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারী নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা ওয়াসার সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাসচিব জাকির হোসেন, ঢাকা নগর উত্তর বিভাগের সম্পাদক জাকির হোসেন, পরমাণু কমিশনের কর্মচারী ইউনিয়নের মহাসচিব উজ্জল হোসেন, বিজিপ্রেস সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর আক্তার  হোসেন, নজরুল ইসলাম ডাক বিভাগ, কর্মচারী কল্যাণ  ফেডারেশনের উপদেষ্টা মনির হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক  খায়ের আহমেদ মজুমদার। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় কর্মচারী নেতৃবৃন্দ তাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যার কথাগুলো তুলে ধরেন এবং ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সরকারি কর্মচারীদের এর থেকে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেড পর্যন্ত যে বাস্তবায়ন করেছিলেন। তা বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে ১০  থেকে ৩০ গ্রেড পর্যন্ত  করেছেন তা বাতিল পূর্বক ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য সভায় সকলের দাবি জানাই। ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবনের উপরে আলোকপাত করেন এবং তার জন্মদিনের কেক কেটে এবং বিশেষ  মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মাশরাফির বাবা-মা করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা অফিস ॥ এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার বাবা-মা, মামি ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। গতকাল শনিবার সকালে নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. আবদুল মোমেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, শরীরে করোনার উপসর্গ থাকায় বৃহস্পতিবার মাশরাফির বাবা গোলাম মর্তুজা স্বপন, মা হামিদা মর্তুজা, মামি কামরুন নাহার ও ছোট ভাই মুরসালিনের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন নমুনা দেন। পরে গত শুক্রবার রাতে তাদের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এর আগে মাশরাফি, তার স্ত্রী সুমনা হক সুমি ও ছোট ভাই মুরসালিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তারা এখন সুস্থ। নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি শামিমুল ইসলাম বলেন, মাশরাফির বাবা-মা, মামি ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর করোনা পজিটিভ। করোনার কঠিন সময়ে নড়াইলবাসীর জন্য মর্তুজা পরিবারের আত্মত্যাগ সবাই জানেন। দিনরাত এক করে মাশরাফির বাবা লড়াই করেছেন অসহায় মানুষের জন্য, ছুটেছেন এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। করোনা আক্রান্ত মাশরাফির পরিবারের চার সদস্যই নড়াইলের বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। সবাই ভালো আছেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দাবি

ঢাকা অফিস ॥ শোকের মাসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকান্ডের বিচারের পূর্ণাঙ্গ রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি-জেএসপি নামে একটি সংগঠন। গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। মানববন্ধনে বলা হয়, এই শোকের মাসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকা-ের বিচারের পূর্ণাঙ্গ রায় কার্যকর এবং বাস্তবায়ন করার জোর দাবি জানাই। আমরা চাই, এই মুজিববর্ষেই সব খুনির বিচার হোক। যারা আত্মগোপনে আছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার করে দেশকে কলঙ্কমমুক্ত করা হোক। জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব দীপক কুমার পালিতের সভাপতিত্বে মানববন্ধন আয়োজিত হয়।

বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটি ডাক ভবন ঢাকার উদ্যোগে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন পালন

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ  পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটি ডাক ভবন ঢাকার উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকাল ৫টায় ডাক ভবন সভাকক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রফিকুল ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুল হালিম মোল্লা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আমজাদ আলী খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক অধিদপ্তর উপদেষ্টা সাইদুল ইসলাম পিপলু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জিপিও সভাপতি মোঃ মাসুদ মিয়া, ঢাকা নগর উত্তর বিভাগের সভাপতি ইদ্রিস হাওলাদার, বৈদেশিক ডাকঘরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন হিরু, ডাক অধিদপ্তরের কর্মচারী  নেতা সিরাজুল ইসলাম, ঢাকা জিপিও জেলা শাখার সম্পাদক মাসুদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা সম্পাদক তাজুল ইসলাম, পিএমজি অফিসে সভাপতি  মোহাম্মদ আলী। সভায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের উপরে দীর্ঘ তাঁর জীবনের উপরে আলোচনায় প্রধান অতিথি আমজাদ আলী খান বলেন ১৯৩০ সালে গোপালগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এই মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ ২৩ বছর যৌবনের বেশিরভাগ সময়ই কারাগারে কাটিয়েছেন। তার অবর্তমানে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব রাজনৈতিক, পারিবারিক তিনি এককভাবে দেখাশোনা করছেন বলেন তারই গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বর্তমান সরকারের সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। ঘাতকরা ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করলেও তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হত্যা করতে পারে নাই। পাকিস্তানি পরাজিত শক্র যুদ্ধাপরাধীরা বিএনপি-জামাত সবসময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। একুশে আগস্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নতৃত্বশূন্য করার জন্য জামাত-বিএনপি জোট সরকার একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে  ওরা জননেত্রী  শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পারিনাই। সভায় বক্তারা বলেন ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বিচারের রায়। যে সমস্ত অপরাধী বিদেশের মাটিতে পলাতক আছে তাদেরকে দেশের মাটিতে নিয়ে এসে ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য দাবি জানানো হয়। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন রফিকুল ইসলাম এবং সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শুধু মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবারের দুর্গোতসব

ঢাকা অফিস ॥ করোনা সংক্রমণ এড়াতে এ বছর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব অনাড়ম্বরভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এবার পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, করোনা মহামারিকালে এ বছর পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা অর্চনার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১১ আগস্ট হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম উৎসব জন্মাষ্টমীও সীমিত পরিসরে উদযাপন হবে বলে জানান তিনি। মিলন কান্তি দত্ত বলেন, এ বছর জন্মাষ্টমীতে কোনো প্রকার সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও মিছিল করা হবে না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা অনুষ্ঠান ও সব আচারবিধি পালন করা হবে। তিনি বলেন, আসছে দুর্গাপূজায় আলোকসজ্জা, মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা ও কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে না। এবার খোলা জায়গায় অস্থায়ী প্যান্ডেলে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পূজা করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের অনুমতি নিতে হবে বলে জানান পরিষদ সভাপতি। গত বছর সারা বাংলাদেশে ৩১ হাজার ১০০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরে এবার ২৩৭টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দু পঞ্জিকামতে এবার দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ২৩ অক্টোবর। সেদিন গত শুক্রবার, মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুচ্ছে মেজর সিনহা হত্যার তদন্ত

ঢাকা অফিস ॥ সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম কর্মপরিকল্পা অনুযায়ী এগুচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. মিজানুর রহমান। তদন্ত দলের প্রধান এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রথম বৈঠকেই কিছু কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি। সেই কর্মপরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগুচ্ছি, তদন্তের স্বার্থে যাদের সঙ্গে কথা বলা দরকার আমরা সেটা করছি। তিনি বলেন, আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি, আসল সত্যটা বেরিয়ে আসুক। আমরা আশা করছি সরকারের নির্ধারিত সাত কর্মদিবসের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারব। গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে নয়টার দিকে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের দিকে আসার পথে বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশির নামে গাড়ি থেকে নামিয়ে সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদকে গুলি করে হত্যা করেন তদন্ত কেন্দ্রের আইসি মো. লিয়াকত আলী। ঘটনার পর দিন প্রথমে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজাহান আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। এর একদিন পর ২ আগস্ট তা পুনর্গঠন করে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে তদন্ত দলের প্রধান করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন প্রতিনিধি, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) একজন প্রতিনিধি ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। এ কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ, উৎস অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট মতামত দিতে বলা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট কক্সবাজার সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই ঘটনায় গত বুধবার কক্সবাজারের টেকনাফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ’র আদালতে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ ও মো. লিয়াকতসহ নয়জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে রুজু এবং র‌্যাবকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি র‌্যাবের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ সাতজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেনÑএসআই নন্দলাল রক্ষিত, এসআই টুটুল, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা। সিনহা রাশেদের বাড়ি যশোরের বীর হেমায়েত সড়কে। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ খান অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ছিলেন। ৫১ বিএমএ লং কোর্সের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কমিশন লাভ করেছিলেন সিনহা রাশেদ। ২০১৮ সালে সৈয়দপুর সেনানিবাস থেকে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেও (এসএসএফ) তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।