বন্যায় ক্ষতির মুখে দেশের ১৭ জেলার সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ

ঢাকা অফিস ॥ পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যায় দেশের ১৭ জেলার সাড়ে ১৪ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তিনি জানান, পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে আরও প্রায় তিন লাখ মানুষ। বন্যাদুর্গতদের জন্য সরকারের পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজনের জন্য রুটিসহ রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয় থেকে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। এনামুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানিয়েছে সর্বোচ্চ ২৩টি জেলা বন্যাকবলিত হবে। ইতোমধ্যে ১৭টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। মোট বন্যা আক্রান্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৪৬৪টি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮২৯ জন এবং মোট পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার। বন্যাকবলিত ১২টি জেলায় এক হাজার ৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্রে ২০ হাজার ১০ জন ইতোমধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যামোকাবিলার জন্য এ পর্যন্ত ২৩টি জেলায় ৮ হাজার ২১০ মেট্রিকটন চাল, ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭০ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট, গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য ৪৮ লাখ টাকা ও ৪৮ লাখ টাকা শিশুখাদ্যের জন্য বিতরণ করেছি। এ ছাড়া ৩০০ বান্ডিল টিন ও ৯ লাখ টাকা গৃহ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিয়েছি। গতকাল (গত সোমবার) প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন- খাদ্য তৈরি করে বিশেষ করে রুটি এবং রুটির সঙ্গে অন্য খাবার তৈরি করে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে কাজটি করতে বলেছেন। সেজন্য বেশি বন্যাকবলিত ১২ জেলায় ৫ লাখ করে আরো ৬০ লাখ টাকা আজ বরাদ্দ দিয়েছি। প্রতিমন্ত্রী জানান, আমরা প্রত্যেক জেলায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছি। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও প্রত্যেক জেলায় মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। আমরা মনিটরিং করছি। তাদের কাছে নির্দেশনা রয়েছে, যেখানেই ত্রাণের প্রয়োজন পড়বে, তারা যেন আমাদের মেইল করেন। মেইল করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বরাদ্দ দিয়ে দেবো। এনামুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে আমরা যে বরাদ্দ দিয়েছি আশা করি যে অন্তত কয়েকদিন চলবে। তারপরও আমরা প্রস্তুত আছি, আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। আমরা সার্বক্ষণিক বন্যাকবলিত অসহায় ভাইবোনদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। কোনো অবস্থাতেই বন্যাকবলিত একটি মানুষও খাদ্যকষ্টে থাকবে না। এটাই আমাদের ত্রাণ বিতরণের মূল এজেন্ডা। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রক্ষ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানির সমতল বাড়ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে। অপরদিকে, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর, নওগাঁ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া, কুশিয়ারা ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আপার মেঘনা অববাহিকার নদীর পানি কমছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টা কমবে। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি কমতে পারে। আর আগামী ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও রংপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে। ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনের মধ্যে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ২৩টিতে। বেড়েছে ৬৪টি এবং কমেছে ৩৪টি, অপরিবর্তিত রয়েছে ৩টিতে।

৫ আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রামে নির্বাচন সম্ভব নয় – ইসি

ঢাকা অফিস ॥ করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া এবং পাহাড় ধসের কারণে ৫ আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল মঙ্গলবার ইসির উপসচিব আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ কথা জানানো হয়। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, করোনার প্রদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং অতিবৃষ্টি ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদকালের মধ্যে অর্থাৎ ৫ আগস্টের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে না মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রামের পাশাপাশি বগুড়া-১ ও যশোর-৬ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনও হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে এসব নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। তবে গতকাল মঙ্গলবার করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই বগুড়া-১ ও যশোর-৬ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৫ আগস্ট। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সীমান্ত পথে পশুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধে কঠোর অবস্থানে মন্ত্রণালয়

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে সীমান্ত পথে গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাণিস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধ চোরাইপথে আসা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সস্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং জাল টাকা রোধসহ গবাদিপশুর কৃত্রিম সংকট তৈরি বন্ধে ভ্র্যাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো অপর এক চিঠিতে জানানো হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশের বাইরে থেকে গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধের লক্ষ্যে বিজিবি ও বাংলাদেশ পুলিশকে যৌথভাবে কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাণিস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধ চোরাইপথে আসা বন্ধকরণে বিজিবি ও বাংলাদেশ পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো চিঠিতে আরো বলা হয়, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চতকরণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। হাটের বাইরে এবং অনলাইনে গবাদিপশু কেনা-বেচার ক্ষেত্রে ইজারা সংক্রান্ত হয়রানি বন্ধ। চাঁদাবাজি বন্ধ করে গবাদিপশুর নির্বিঘœ পরিবহন নিশ্চিত করা। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপতৎপরতা রোধ করে রোগাক্রান্ত গবাদিপশুর চলাচল বন্ধে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর স্থাপিত চেক পোস্টে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ভ্র্যাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বিজিবি ও বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ০৯ জুলাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে ওই মন্ত্রণালয়ে ‘কোরবানির পশুর হাটে সুস্থ-সবল গবাদিপশু সরবরাহ ও বিক্রয় নিশ্চিতকরণ’ সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জননিরাপত্তা বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

 

দিন দিন যাত্রী সেবার মান বাড়ানো হচ্ছে – রেলমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ রেল দিন দিন যাত্রী সেবার মান বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অনলাইনে কমলাপুর রেল স্টেশনের জন্য মধুমতি ব্যাংকের দেওয়া ১০০টি আধুনিক ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ভাবে রেল তার সেবা বৃদ্ধি করছে। আমরা সেবার মান আরও বাড়াতে কাজ করছি। যাত্রী সেবা বাড়ানোর এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ায় মধুমতি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, কমলাপুর রেল স্টেশনকে মধুমতি ব্যাংকের দেওয়া এসব ট্রলির মাধ্যমে যাত্রী সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। কমলাপুর রেল স্টেশনে উপস্থিত থেকে এসব ট্রলি গ্রহণ করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহানসহ বিভাগীয় কর্মকর্তারা। এ সময় সেখানে মধুমতি ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির এমডি মো. শফিউল আজম। এছাড়া ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান।

বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৮ হাজার কোটি টাকায় ৪ প্রকল্প – পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৮ হাজার কোটি টাকার ৪টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ওইসব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, যা আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে জরুরি করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সংলাপে বক্তব্য রাখেন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য মো. নবী নেওয়াজ, ডিআরইউর সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, নৌ সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে, জনউদ্যোগের তারিক হোসেন, ফেইথ ইন অ্যাকশনের নৃপেন বৈদ্য, লিডার্সের সানজিদুল হাসান ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ মুয়াজ প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এনামুল হক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান দুর্গত খুলনার ১৪ নং পোল্ডারে ৯৫৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ও ৩১ নং পোল্ডারে এক হাজার ২০১ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং সাতক্ষীরার ৫ নং পোল্ডারে ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি ৩ লাখ ও ১৫ নং পোল্ডারে ৯৯৭ কোটি ৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু বেড়িবাঁধ নয়, পুরো উপকূলের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে হাওর উন্নয়ন বোর্ডের ন্যায় উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত সুপার ড্রাইভওয়ে নির্মাণ, সুন্দরবন ও নদী সুরক্ষা, খাবার পানি সমস্যার সমাধানসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্র“তি দেন তিনি। সাংসদ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, ঘূর্ণিঝড় দুর্গত অঞ্চলের মানুষের দাবি একটাই, ‘ত্রাণ চাই না, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই’। জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্থায়ী বাঁধ করতে হবে। এই বাঁধ শুধু নির্মাণ করলেই হবে না, এর উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ ও বাঁধের দুই পাশে বনায়ন করতে হবে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় সরকার ও জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ওই এলাকার জনগণ সরকারের সাথে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সুপারিশে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যার নিচে ১০০ ফুট আর উপরে ৩০ ফুট চওড়া করতে হবে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ওয়াপদা বাঁধের ১০০ মিটারের মধ্যে চিংড়ি বা কাঁকড়ার ঘের তৈরিতে সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। উপকূলীয় জনগণের নিরাপদ খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বোপরি উপকূলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড গঠনের সুপারিশ করা হয়। সংলাপে পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে বেড়িবাঁধের ওপর। বাঁধের ক্ষতি হলে তাদের সবকিছু ভেসে যায়। বাড়িঘর নষ্ট হয়, ফসলের ক্ষতি হয়। তাই ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে জরুরি খাবার না দিয়ে বাঁধটা শক্ত করে বানিয়ে দেয়ার দাবিটাই প্রধান। তারা বলেন, এই মুহূর্তে বাঁধের ফাঁদ জনজীবন বিপন্ন করে তুলেছে। অথচ পরিকল্পনা হয়, বাজেট হয়, কিন্তু স্থায়ী ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ হয় না। বিভিন্ন সময়ে বাঁধ সংস্কারে যে সকল প্রকল্প নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

বানান বিতর্কের অবসানের প্রত্যাশা বাংলা একাডেমির

ঢাকা অফিস ॥ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বানান বিষয়ক চলমান বিতর্ক নিরসনে বাংলা একাডেমি তাদের অবস্থান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, একাডেমি প্রত্যাশা করেছে অচিরেই চলমান এ বানান-বিতর্কের অবসান ঘটবে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বানান-বিতর্কের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়া হয়। সেখানে লেখা হয়- ‘বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১ ফেব্র“য়ারি ২০১৬ সালে। প্রকাশের পর থেকেই একটি অভিধান পুরনো হয়ে যায় এবং তখন থেকেই শুরু হয় এর পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের কাজ। এরই ধারাবাহিকতায় অভিধানটির প্রথম পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় এপ্রিল ২০১৬ সালে। বর্তমানেও এ অভিধানটির সংস্করণের কাজ চলমান। এ কাজ করতে গিয়ে বেশকিছু ভুলত্র“টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে চলমান বানান বিতর্কে যে বিকল্প বানানের কথা বলা হচ্ছে তা ইতোমধ্যে ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’-এর পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণে সংযোজিত হয়েছে। এছাড়াও বহুল ব্যবহৃত শব্দের বিকল্প বানানও এ সংস্করণে যোগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দৈনন্দিন ব্যবহারে থাকলেও এখন পর্যন্ত অভিধানে স্থান পায়নি এমন কিছু নতুন শব্দও সংযোজিত হয়েছে। ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’-এর এ সংস্করণটি অচিরেই বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হবে এবং চলমান বানান-বিতর্কের অবসান ঘটবে-এমনটাই প্রত্যাশা।

এরশাদের প্রতিকৃতিতে জাপার শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানী কাকরাইলে জাপার দলীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত এরশাদের প্রতিকৃতিতে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। এরপর জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের পক্ষে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। এসময় বাবলার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহিরুল আলম রুবেল, সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক শারফুদ্দিন আহমেদ শিপু, সাংবাদিক সুজন দে, যুগ্ম-প্রচার সম্পাদক শেখ মাসুক রহমান প্রমুখ। পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টি, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় ছাত্র সমাজ, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, মহিলা পার্টি, কৃষক পার্টি, শ্রমিক পার্টি, সার্ক কালচারাল সোসাইটিসহ জাপার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এরশাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, প্রয়াত নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুধু বাংলাদেশের গণমানুষের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার। তিনি যেমন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করেছেন, শুক্রবার সরকারি ছুটি দিয়েছেন ঠিক তেমনি শ্রীকৃঞ্চের জন্মাষ্টমীতে সরকারি ছুটি ও হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টও গঠন করে এদেশে সকল মানুষের সমান অধিকার তা নিশ্চিত করেছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল একটি ক্ষুধা-দারিদ্র, বৈষম্যহীন দুনীর্তিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। আমৃত্যু তিনি সেজন্য কাজ করে গেছেন। এদিকে এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে ও দিনব্যাপী কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ তার বাস ভবনে এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বনানীর জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ও প্রেসিডেন্ট পার্কে এরশাদ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য গত বছরের এই দিনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালন করছে জাপার নেতাকর্মীরা।

যমুনা গ্রপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের দাফন সম্পন্ন

ঢাকা অফিস ॥ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্র“পের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাবুলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর পৌনে ২টায় রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্ক মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী, গুণগ্রাহীসহ অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। করোনার কারণে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে জানাজা সম্পন্ন করতে হয়। এর আগে দাতব্য সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে নুরুল ইসলাম বাবুলকে গোসল করানো হয়। জানাজার আগে মরহুমের জন্য দোয়া কামনা করেন তার ছেলে যমুনা গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম। তিনি তার বাবার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে তার কাছে ব্যবসায়িক ও নিজস্ব কোনো দেনা-পাওনা থাকলে তাও পরিশোধ করা হবে বলে প্রতিশ্র“তি দেন। শামীম ইসলাম বলেন, আমরা যেখানে জানাজার জন্য দাঁড়িয়ে আছি, এটা আমার বাবার নিজ হাতে করা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ৪৫ বছরে তিল তিল করে তিনি আরও অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তিনি ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন। তিনি বলেন, উনি আজ যে অবস্থানে এসেছেন এটি সহজ পথ ছিল না। অনেক সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা পার করে তিনি এ পর্যায়ে এসেছেন। তার চলার পথে আপনারা অনেকে আঘাত পেতে পারেন। অনেকে ভুল বুঝতে পারেন। আমি ছেলে হিসেবে আমার বাবার পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আশা করছি, আপনারা সবাই আমার বাবাকে ক্ষমা করে দেবেন। যমুনা গ্রুপের কর্মীদের উদ্দেশে শামীম ইসলাম বলেন, এখানে যারা কাজ করছেন তারা কেউ মনোবল ভাঙবেন না। আমরা একটি পরিবার, আপনারা এতদিন একসঙ্গে ছিলেন। আশা করছি, আগামীতে আমরা একসঙ্গে থাকব, সামনে এগিয়ে যাব। গত সোমবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুরুল ইসলাম বাবুল। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত ১৪ জুন নুরুল ইসলাম বাবুলের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ওইদিনই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনায় তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

করোনায় আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের গাইনী বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সুলতানা লতিফা জামান আইরিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১ টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ডা. আইরিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ডা. আইরিন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তার ফুসফুস বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগেও মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি ছিলেন তিনি। ডা. আইরিন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাইজুল আকবর চৌধুরীর সহধর্মিণী। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ও করেনা উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে ১১ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা ও সাতক্ষীরার বেড়িবাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

ঘূর্ণিঝড় আম্পান সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে মাননীয় সেনাবাহিনী প্রধানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবর্তী মানুষের পাশে থেকে দিন-রাত নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় সাতক্ষীরা এবং খুলনার ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ মেরামতের সার্বিক দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন পয়েন্টের বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। বর্তমানে সাতক্ষীরার হাজরাখালী ও খুলনার রতনা পয়েন্টের মেরামত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যশোর সেনানিবাস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা হাজরাখালী এবং খুলনার রতনা পয়েন্টের  মেরামত কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং অনুমোদিত নকশার সকল প্রয়োজনীয় উপকরণের ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্ণিত পয়েন্ট দুটির মেরামত কাজের জন্য বর্তমানে ড্রেজার, পন্টুন, মাটি খননকারী  মেশিন এবং নৌকা সার্বক্ষনিক নিয়োজিত রয়েছে এবং সেনাসদস্যরা নিবিড় পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামতের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বেড়িবাঁধ মেরামতের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সেনাসদস্যদের দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রায়শই যশোর  সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উক্ত মেরামত কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় যাতে খাদ্য ও পানির সংকট না হয়  সেজন্য নিয়মিতভাবে ত্রান সহায়তা ও সুপেয় পানি সরবরাহসহ চিকিৎসা  সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে করোনা মোকাবেলায় নিয়মিত টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি সকল প্রকার জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কর্তৃক গ্রামাঞ্চলের মানুষকে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ

মেহেদী হাসান কনক ॥ ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর উদ্যোগে ঝিনাইদহ সদরের বিভিন্ন গ্রামের লোকজনের মাঝে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক মাস্ক ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল থেকে ঝিনাইদহ শহরের পাশ্ববর্তী গ্রমাঞ্চলে এই কর্মসূচি করেন তারা। করোনা মহামারী আকার ধারণ করেছে তাই গ্রাম অঞ্চলের মানুষের সচেতনতার দায়িত্ব নিবে ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কারণ গ্রাম বাচঁলে বাচঁবে দেশ। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাড়ি ও বাজারের লোকজনের মাঝে মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের আল মুনসুর দ্বীন, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি সাব্বির হাসান রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক তুষার আহমেদ। বিতরণের সময় সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এর সাথে সফর সঙ্গি হিসেবে ছিলেন মেহেদী হাসান জিকুসহ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। বিতরন শেষে ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের আল মুনসুর দ্বীন বলেন, গ্রাম বাচলে বাঁচবে দেশ। করোনা প্রতিরোধে সমাজের বিত্তবান ও সকল সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে আহবান করেন। তিনি করোনা মোকাবেলায় ঝিনাইদহবাসীর পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ তাদের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন বলে জানা গেছে।

করোনার উৎস খুঁজতে চীনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ দল

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের উৎস সম্পর্কে রয়ে গেছে এখনও অনেক প্রশ্ন। কোথা থেকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস এলো তা নিয়ে এখনও জল্পনা কল্পনা শেষই হচ্ছে না। সে কারণেই এবার করোনার উৎস সম্পর্কে জানতে চীনে পৌঁছেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি দল। চীনে বিশেষজ্ঞদের যাওয়ার বিষয়টি সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিজেই নিশ্চিত করেছেন। বলা হচ্ছে, করোনা ছড়িয়ে পড়ার উৎস খুজতেই এসেছেন তারা। চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (সিজিটিএন) খবরে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই দলটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন এবং তাদের সঙ্গে করোনা নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে চীনে তারা কোথায় থাকবেন বা কোন কোন জায়গায় কাজ করবেন সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের এই দলটি অন্য কোনো অঞ্চল এমনকি অন্য দেশেও এ ধরনের খোঁজ চালাতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, তারা বিশ্বাস করেন ভাইরাসের উৎস সন্ধান করা একটি ধারাবাহিক এবং বিকাশমান প্রক্রিয়া। এর মধ্যে একাধিক দেশ এবং অঞ্চল জড়িত থাকতে পারে। তাই হু অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলে প্রয়োজনমতো একই রকম পরিদর্শন করবে। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রস আধানম গত মাসেই জানিয়েছিলেন যে, এই ভাইরাসের উৎস জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন উৎস জানা গেলে এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা অনেক সহজ হবে। করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে গত বছরের ডিসেম্বরে। চীনের একটি প্রাণী কেনাবেচার বাজার থেকেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।

অধিদপ্তরের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো সমস্যা নেই – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক দাবি করেছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো সমস্যা নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে মন্ত্রণালয় প্রশাসনিকভাবে কাজের ব্যাখ্যা চাইতেই পারে, এটি সরকারি কাজের একটি অংশ। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে একথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর হয়েছে যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ করোনা চিকিৎসার জন্য রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করেছে অধিদপ্তর। এরপর ১২ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ’ কে বা কারান্ড তা জানতে চাওয়া হয়। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের এমন ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে আবারো খবর প্রকাশের মধ্যে মুখ খুললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের অনৈতিক কর্মকান্ড কতটুকু হয়েছে তা সরকার খতিয়ে দেখছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের কঠোর বিচার করতে হবে এবং তাদের প্রশ্রয়দানকারীদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অধিদপ্তরের কোনো সমস্যা চলছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অধিদপ্তরের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো সমস্যা নেই। দু’টিই সরকারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। দু’টি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে কোভিড-১৯ এর দুর্যোগ মোকাবিলায় দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডের ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে মন্ত্রণালয় থেকে অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটি সরকারের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের একটি অংশ মাত্র। এটি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সমস্যার কোনো ব্যাপার নয়। অনৈতিক কর্মকান্ড করলে দ্রুত ব্যবস্থা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূরের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। মন্ত্রী বৈঠকে সচিবদের দেশের সব ক্লিনিক ও হাসপাতালে সাধারণ মানুষ সেবা বঞ্চিত হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে তৎপর থাকার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, কোনো ক্লিনিক ও হাসপাতাল অনৈতিক কোনো কর্মকা- হলে তা দ্রুততার সঙ্গে জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

ডা. সাবরিনার মামলা ডিবিতে হস্তান্তর

ঢাকা অফিস ॥ জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতরণার মামলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তেঁজগাও থানার ওসি সালাউদ্দীন মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গত ১২ জুলাই দুপুরে ডা. সাবরিনাকে তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত সোমবার তাকে ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

করোনার নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়ানোর আহ্বান কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের মাঝে সমন্বয়ের অভাব আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার নমুনা পরীক্ষা ক্রমশ কমছে, আবার পরীক্ষিত নমুনা বিবেচনায় আক্রান্তের হার বেশি যা অংকের হিসাবে প্রায় চার ভাগের একভাগ। নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই। করোনার চিকিৎসা, সংক্রমণরোধ এবং অন্যান্য রোগের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সু-সমন্বয় প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি বলেন, ল্যাবগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী পরীক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রেরণে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর ও দ্রুত উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি। ফি নির্ধারণের ফলে অনেক অসহায়, কর্মহীন, দরিদ্র মানুষ করোনার লক্ষণ দেখা দিলেও পরীক্ষা করাতে আসে না। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়, অসহায় মানুষগুলোর সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ যেমন উদ্বেগ বাড়িয়েছে অন্যদিকে বিদেশে দেশের ইমেজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাই এ ধরনের অপকর্ম নিন্দনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিষ্ঠান যেন এ ধরনের অপরাধ করতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবেই দুর্যোগে অসহায় মানুষকে সহায়তা করে আসছে। দেশের প্রায় ১৫টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। অন্যান্য জেলায়ও বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশেষজ্ঞদের এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই পানিবন্দি মানুষদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বন্যার পানিতে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসল, গবাদিপশুসহ অন্যান্য সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, সরকার পানিবন্দি মানুষকে ইতোমধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে এবং প্রায় এক হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার সরবরাহ এবং মানবিক সহায়তায় প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জেলায় কোরবানির পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না, ক্রেতা-বিক্রেতার অবাধবিচরণ এবং স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অবহেলা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে। পশুরহাটের ইজারাগ্রহীতা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগসহ সকলের প্রতি পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর কঠোরতা প্রদর্শনের অনুরোধ রইলো।

সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতা একই দিনে

ঢাকা অফিস ॥ মাস শেষে নির্দিষ্ট দিনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা একই দিনে বেতন-ভাতা পাবেন। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন বলেন, সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একদিনে বেতন প্রদান করা হবে। এটা দরকার, এ নিয়ে কাজ চলছে। বেতনের পুরো কার্যক্রম ডিজিটালাইজড হয়ে গেলে সরকারি সিস্টেমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের সরকারি অংশের টাকা পেয়ে যাবেন। এতে আমাদেরও কাজের চাপ কমবে। তাদের জন্যও উপকার হবে। এদিকে সহকারী শিক্ষক কর্মচারীদের সকল সুযোগ-সুবিধাসহ নির্ধারিত দিনে বেতন-ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, আমরা একই পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছি। ক্ষেত্র বিশেষে আমাদের বেশিই শ্রম দিতে হয়। কিন্তু মূল্যায়নের ব্যাপারে আমরা পিছিয়ে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপত্র মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, সরকার মাস শেষ হতেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষকদের বেলায় কেন এ গড়িমসি? সরকারি নিয়মে বেতন প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে ২৫ শতাংশের পরিবর্তে শতভাগ ঈদ বোনাস দিতে হবে।

জাহিদ মালেকের পদত্যাগ দাবিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি দ্বায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের পদত্যাগ দাবি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে যায় প্রগতিশীল সংগঠনসমূহ। এস সময় পুলিশ বাধা দেয়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জিরো পয়েন্ট চত্বরের কাছে পুলিশের এ বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর কর্মীরা সেখানে বসে যান এবং সমাবেশ করেন। এর আগে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি লুটপাট বন্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে লুটপাট সিন্ডিকেট হোতাদের গ্রেফতার এবং সকলের জন্য বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিতের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একত্র হতে থাকে প্রগতিশীল সংগঠন সমূহের কর্মীরা। পরে তারা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে যায়। সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, যে মন্ত্রণালয় দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সেবার নিশ্চয়তা দিতে পারে না, সেই মন্ত্রণালয় আমাদের শ্রমজীবী মানুষদের কী নিশ্চয়তা দেবে? বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার কাজে ব্যর্থ। এদিকে করোনা দুর্যোগের শুরুর দিকে সরকার বলেছিলো আপনারা ঘরে থাকবেন, আমরা খাবার পৌঁছে দেবো, স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, আমাদের ঘরে কোন খাবার আসেনি। স্বাস্থ্যসেবাও আসেনি। বক্তারা আরও বলেন, এই দুর্যোগের সাধারণ মানুষ করোনা পরীক্ষা করাতে চায়। কিন্তু এই সরকার করোনা পরীক্ষার জন্য টাকা নির্ধারণ করে দিলেন। যার ফলে দেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ করোনা পরীক্ষা করতে পারেনি। আর যারা টাকা দিয়ে করেছেন, তাদের পরীক্ষা না করে ফলাফল দেওয়া হয়েছে। আর এসকল বিষয়ে তেমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমন স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় চাই না, মন্ত্রীও চাইনা। অবশ্যই বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এরপর থেকে সাধারণ জনগন করোনা টেস্টের জন্য কোন টাকা দিবে না, সকল টেস্টের ব্যবস্থা সরকারকে বিনামূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা দেখেছি, এই দুর্যোগে সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি সেক্টর কিভাবে দুর্নীতি পরায়ণ হয়ে উঠেছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না, আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, আমাদের টাকা দিয়েই তারা চলেন। অথচ আমাদের স্বাস্থ্যসেবার কোনও নিশ্চয়তা নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, কৃষক সমিতি, ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ হকার ইউনিয়ন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রসহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন।

আজ সমাহিত হবেন এন্ড্রু কিশোর

ঢাকা অফিস ॥ জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের শেষ বিদায়ের সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার তার বাবা-মায়ের কবরের পাশেই তাকে সমাধিস্থ করা হবে। এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর সময় তার দুই ছেলে-মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনে দেশে ফিরেছেন তারা। করোনার কারণে তাদের দেশে ফিরতে বেশ বিলম্ব হয়েছে। অবশেষ গত বৃহস্পতিবার দেশে ছুটে আসেন এন্ড্রু কিশোরের ছেলে সপ্তক। রাজশাহীতে এসেই ছুটে যান হাসপাতালে বাবাকে দেখতে। কফিনে মোড়ানো বাবাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। গত সোমবার রাজশাহী শহরে বাবার কাছে এসে পৌঁছেন মেয়ে সঙ্গা। ছেলে-মেয়েদের জন্যই এই কয়দিন অপেক্ষা করেছেন এন্ড্রু কিশোর। শেষ দেখা হয়েছে, এবার চিরনিদ্রায় যাবেন তিনি। এদিকে জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধার জন্য এন্ড্রু কিশোরকে নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে বলে শোনা গেছে। বুধবার সকাল ১০টায় প্রথমেই রাজশাহী শহরের স্থানীয় চার্চে নেওয়া হবে এন্ড্রু কিশোরের লাশ। এরপর তাকে নিয়ে আসা হবে রাজশাহীর কালেক্টরেট মাঠের পাশে খ্রিষ্টানদের কবরস্থানে। সেখানে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় যাবেন এদেশের প্লেব্যাক স¤্রাট এন্ড্রু কিশোর।

রিজেন্ট হাসপাতালের ৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে করা মামলায় গ্রেফতার সাতজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল মঙ্গলবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক আলমগীর গাজী। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- রিজেন্ট হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব (১), হেলথ টেকনিশিয়ান আহসান হাবীব (২), হেলথ টেকনোলজিস্ট হাতিম আলী, রিজেন্ট গ্রুপের প্রকল্প প্রশাসক মো. রাকিবুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের মানবসম্পদ কর্মকর্তা অমিত বণিক, রিজেন্ট গ্রুপের গাড়িচালক আবদুস সালাম ও হাসপাতালের কর্মী আবদুর রশিদ খান জুয়েল। গত ৮ জুলাই তাদের সাতজনকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। উত্তরা পশ্চিম থানায় তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই থানার পরিদর্শক আলমগীর গাজী। শুনানি শেষ ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদলত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে সেখান থেকে আটজনকে আটক করে র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়। এ ঘটনায় ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় দন্ডবিধি ৪০৬/৪১৭/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/২৬৯ ধারায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এতে গত সোমবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা থেকে আটক আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ৯ জনকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- রিজেন্ট গ্র“পের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজ, রিজেন্ট হাসপাতালের কর্মী তরিকুল ইসলাম, আবদুর রশিদ খান জুয়েল, মো. শিমুল পারভেজ, দীপায়ন বসু, আইটি কর্মকর্তা মাহবুব, সৈকত, পলাশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব (১), হেলথ টেকনিশিয়ান আহসান হাবীব (২), হেলথ টেকনোলজিস্ট হাতিম আলী, অভ্যর্থনাকারী কামরুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্র“পের প্রকল্প প্রশাসক মো. রাকিবুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্র“পের মানবসম্পদ কর্মকর্তা অমিত বণিক, রিজেন্ট গ্র“পের গাড়িচালক আবদুস সালাম ও নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রশিদ খান।

স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজ আর নেই

ঢাকা অফিস ॥ মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজ আর নেই। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবীর খান এ তথ্য জানিয়েছেন। শায়রুল বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি মারা যান। আজ বুধবার বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে। শাজাহান সিরাজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ফখরুল। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাহজাহান সিরাজ। মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের ‘চার খলিফা’ বলা হতো শাহজাহান সিরাজ ছিলেন তাদেরই একজন। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, নূরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব প্রভৃতি ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন শাহজাহান সিরাজ। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন আ স ম আবদুর রব। সেখান থেকেই পরবর্তী দিনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের পরিকল্পনা করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ মার্চ ১৯৭১ পল্টন ময়দানে বিশাল এক ছাত্র জনসভায় বঙ্গবন্ধুর সামনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন শাহজাহান সিরাজ। এরপর সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু হলে তিনি বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) বা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবেও দায়ত্ব নেন। শাহজাহান সিরাজের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানায়। তার পিতার নাম আবদুল গণি ও মাতা রহিমা বেগম। শাহজাহান সিরাজ মুক্তিযুদ্ধকালীন অন্যতম ছাত্রনেতা ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনবার জাসদের মনোনয়নে এবং একবার বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০০১ সালের নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার সরকারে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ছিলেন শাহজাহান সিরাজ। বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন তাকে রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শাহজাহান সিরাজ ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সেই সময় তিনি টাঙ্গাইলের করটিয়া সাদত কলেজের ছাত্র ছিলেন। এরপর তিনি ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে উঠে আসেন। ১৯৬৪-৬৫ এবং ১৯৬৬-৬৭ দুই মেয়াদে তিনি দুইবার করটিয়া সাদত কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। একজন সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি ১৯৭০-৭২ মেয়াদে অবিভক্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলা বিল্লবী পরিষদের (যার অন্য নাম নিউক্লিয়াস) সক্রিয় কর্মী ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা। মুক্তিযুদ্ধের পর সর্বদলীয় সমাজতান্ত্রিক সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠনে ভূমিকা পালন করেন। যা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী দল। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন শাহজাহান সিরাজ। পরবর্তীতে জাসদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাসদের মনোনয়নে তিন বার তিনি জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। শাহজাহান সিরাজ ১৯৯৫ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি বিএনপির মনোনয়নেও একবার একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়া সরকারের শেষপর্যায়ের প্রথমে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ও শেষ দিকে নৌপরিবহন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তি জীবনে এক সময়ের রাজনৈতিক সহকর্মী, সাবেক ছাত্রনেত্রী রাবেয়া সিরাজের সঙ্গে ১৯৭২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শাহজাহান সিরাজ। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। তার স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ একজন শিক্ষিকা এবং রাজনীতিবিদ।

কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ৩৪ জন করোণা রোগী শনাক্ত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ৩৪ জন করোনা  রোগী শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০৩৪ জন। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম  মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে মঙ্গলবার জেলার মোট ১৭৯ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩৪টি নমুনা পজেটিভ আসে। এর মধ্যে  সদর উপজেলার ২৬ জন, দৌলতপুর উপজেলায় ৬ জন ও  কুমারখালি উপজেলার ২ জনসহ মোট ৩৪ জন নতুন করোনা  রোগী শনাক্ত হয়েছে। সদর উপজেলায় আক্রান্ত ২৬ জনের ঠিকানা হাউজিং এফ ব্লক ১ জন, ছয়রাস্তা মোড় ১ জন, কাস্টমস মোড় ১ জন, মঙ্গলবাড়িয়া ২ জন, হাউজিং ১ জন, হরিপুর ১ জন, পুলিশলাইন ১ জন, বটতৈল ১ জন, আড়ুয়াপাড়া ৩ জন, কুমারগাড়া ৩ জন, কালিশংকরপুর ১ জন, চর বানিয়াপাড়া ১ জন, কলেজ মোড় ১ জন, থানাপাড়া ১ জন, দহকোলা ১ জন, চৌড়হাস ১ জন, হাতিয়া আব্দালপুর ১ জন, বিসিক ১ জন, স্বর্গপুর ২ জন ও আমলাপাড়া ১ জন। দৌলতপুর উপজেলায় আক্রান্ত ৬ জনের ঠিকানা উপজেলা পরিষদ ১ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন, মাস্টারপাড়া ১ জন, আল্লারদরগা ১ জন, দৌলতপুর ২ জন। কুমারখালী উপজেলার আক্রান্ত ২ জনের ঠিকানা উপজেলা পরিষদ, চড়াইকোল।