করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের পাশে যশোর  সেনানিবাস

প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতিতে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে দেশের মানুষ। বিভীষিকাময় এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশে থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে দেশের দক্ষ, চৌকস ও অকুতোভয় সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৩ জুলাই  সোমবার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষদের খোঁজ খবর নেওয়া ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেঁকাতে নাগরিকদের সচেতন করার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোমাত্রায়। নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে কেনাবেচা চলছে কীনা এই বিষয়টিও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সঠিক সময়ে  দোকান/মার্কেট খোলা ও বন্ধ করা হচ্ছে কীনা তা তদারকি করতে কখনো কখনো স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও মহামারী এই দু:সময়ে দেশব্যাপী উপার্জন হারানো নিম্ন আয়ের মানুষজনকে দেওয়া হচ্ছে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসহ সুরক্ষা সামগ্রী। পাশাপাশি গণপরিবহন মনিটারিং, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানসহ সকল প্রকার জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঘরবাড়ী মেরামত, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, সুপেয় পানি সরবরাহসহ নানাবিক জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহ পৌর মেয়রের স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে করোনার সংক্রমন রোধে ইজিবাইক ও রিক্সা চালকদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলহাজ সাইদুল করিম মিন্টু। গতকাল দুপুরে শহরের পায়রা চত্বর, পোস্ট অফিস মোড় ও মুজিবচত্বরে এ স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এসময় শহরে চলাচলকৃত ৩ শতাধিক ইজিবাইক ও রিক্সাচালকদের মাঝে মাস্ক ও জীবানুনাশক স্প্রে বিতরণ করেন মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু। সে সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল বিশ্বাস, জেলা যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক শফিকুল ইসলাম শিমুল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অপু মজুমদার, কেন্দ্র ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আহসান হাবিব রানা, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান, এসময় যানবাহনে স্বাস্থ্য বিধি মেনে যাত্রীউঠানো ও জীবানুনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিতরণের সময় জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচন আজ

ঢাকা অফিস ॥ যশোর-৬ (কেশবপুর) এবং বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচন আজ মঙ্গলবার। সকাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে করোনাকালের এই নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা না দেয়ার কারণে ব্যালটে দলটির প্রার্থীদের প্রতীক থাকছে। আর এদিন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচএম এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী হওয়ায় নির্বাচন পেছানোর দাবি করলেও তা নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিয়ম রক্ষার এই নির্বাচনে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে ইসি। সেখানে মোটর সাইকেল ছাড়াও গণপরিবহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন্ধ হয়েছে প্রচারণাও। ভোট গ্রহণের দিন এই দুই সংসদীয় আসনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অপরাধের বিচার কাজ সম্পন্ন করার জন্য চারজন বিচারিক হাকিম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে এই ভোট ঘিরে ভোটারদের তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। ওই দুই সংসদীয় আসনে ২৯ মার্চ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত করা হয়। এখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে এ নির্বাচন করছে ইসি। ১৫ জুলাই বগুড়া-১ আসনের এবং ১৮ জুলাই যশোর-৬ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধান নির্ধারিত ১৮০ দিন শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে ইসি সচিব মো. আলমগীর জানান, ওই দুই আসনে নতুন করে কোনো মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রয়োজন নেই। যেসব প্রার্থী ছিলেন এবং যে অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল, সে অবস্থা থেকেই আবার কার্যক্রম শুরু হবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় বলা হয়েছে- ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে ওই শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোন দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে ওই মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’ গত ১৮ জানুয়ারি আবদুল মান্নান মারা গেলে বগুড়া-১ আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার। প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের সহধর্মিণী সাহাদারা মান্নান (নৌকা), বিএনপির একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মোকছেদুল আলম (লাঙ্গল), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) মো. রনি (বাঘ), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নজরুল ইসলাম (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ (ট্রাক)। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইসমাত আরা সাদেক গত ২১ জানুয়ারি মারা যাওয়ায় যশোর-৬ আসনটি শুন্য হয়। এ আসনে ২ লাখ ৩ হাজার ১৮ জন ভোটার। এই আসনের প্রার্থীরা হলেন হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহীন চাকলাদারকে (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব (লাঙ্গল)। ব্যাংক বন্ধ: এদিকে স্থগিত হওয়া বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনে উপ-নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার ওই এলাকার সব বাণিজ্যিক ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক জাতীয় সংসদের বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের নির্বাচন উপলক্ষে ওই এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়সহ সব শাখা বন্ধ থাকবে।

মুজিবনগরে দন্ত চিকিৎসকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামে সালমান আলী (২৭) নামের এক দন্ত চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। চিকিৎসক সালমান দারিয়াপুর গ্রামের সাদ আলীর ছেলে। গতকাল  সোমবার দুপুরে নিজ ঘরের আড়ার সাথে সালমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে মুজিবনগর থানা পুলিশ। স্থানীয়রা জানান গত দু’মাস আগে সালমানের স্ত্রী তালাক নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এ নিয়ে সে অভিমানে নিজ ঘরের আড়ার সাথে টাওজারের ফিতা গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে। মুজিবনগর থানা সূত্র আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

গডফাদাররা কেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধারদের ‘নৈপথ্য গডফাদাররা কেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে’ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল সোমবার দুপুরে করোনা প্রতিরোধে লক্ষণভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনকালে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এইচ ড্যাব) উদ্যোগে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। রিজভী আহমেদ বলেন, সাহেদের (রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ) কেলেঙ্কারি, জেকেজির চেয়ারম্যানের (ডা. সাবরিনা) কেলেঙ্কারি-এরা সবাই আওয়ামী লীগের লোক। আজকে যখন চারদিক থেকে আওয়াজ উঠেছে কৈ-রুই-কাতলা তো ধরা পড়ে না। কালকে (শনিবার) নামমাত্র একজন (ডা. সাবরিনা) ধরা পড়লেন। তিনি বলেন, আমরা জানতে চাই, এর পেছনে গডফাদার কারা? এর পেছনে সেই ক্ষমতাশালী লোক তারা কারা? কৈ তারা তো ধরা পড়ে না। সাহেদের সঙ্গে, জেকেজির সঙ্গে আরও জড়িত যারা আছে তাদেরকে তো আপনারা ধরতে পারবেন না। রুই কাতলাদের আপনারা ধরতে পারবেন না। কারণ ওরা ক্ষমতাশালী লোক। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সিঙ্গেল স্ট্যান্ডার্ডে চলছে আওয়ামী লীগ। সেই সিঙ্গেল স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে তাদের মধ্যে মানবতার কোনো কাজ নেই, তাদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর কোনো কাজ নেই। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের পাতায় আগের কথা না-ই বা বললাম। মাস্কের দুর্নীতি কে করেছে?মন্ত্রীর ছেলে। করোনার জন্য জীবন বাঁচানোর মেশিন ভ্যান্টিলেটর, সেই ভেন্টিলেটর দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কে? ক্ষমতাসীন দলের লোক অথবা মন্ত্রীর আত্বীয়-স্বজন। বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের এমন কোনো নেতা নাই যার সাথে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিকের সম্পর্ক নাই। ছবি তুলেছেন সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু সরকারের পক্ষে স্বাস্থ্য্ অধিদফর অনুমোদন দিয়েছে তাদেরকে করোনা টেস্ট করার জন্য। স্বাস্থ্য অধিদফরের ডিজি যখন অনুমোদন দেয় সেটা তো সরকারেরই অনুমোদন। রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার মো. সাহেদের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, উনি সরকারের পক্ষে টকশো করেছেন, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য তিনি। তারপরে বললেন কী? সে নাকি হাওয়া ভবনের লোক। যখন ফাঁস হয়ে যায়, যখন মুখ দেখানোর কিছু থাকে না, তখন বিএনপি অথবা হাওয়া ভবনের বলে চাপিয়ে দেয় তারা। বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আপনি একটি মাসুম বাচ্চা মেয়ে মাহমুদা পলি, তাকে রাতের অন্ধকারে ধরে নিয়ে এসেছেন। কেন? সে ফেসবুকে লিখেছে সরকারের বিরুদ্ধে। এখনো সে কারাগারে। ছাত্রদলের সাবেক নেতা টিটো হায়দারকে আজ থেকে ৪-৫ দিন আগে তুলে নিয়ে গেছেন। সবাই দেখেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি লোকেরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, এই দুর্বৃত্তপনা দিয়ে, এই অমানবিক মনুষ্যত্বহীন মানসিকতার শাসন দিয়ে আপনাদের একের পর এক কালো আচরণ বন্ধ করে রাখতে পারবেন না। কোনো না কোনো ফাঁক দিয়ে বের হবেই। সংগঠনের সভাপতি শফিকুল আলম নাদিমের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব একেএম জাকির হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সম্মিলিত হোমিওপ্যাথিক জোটের সভাপতি আরিফুর রহমান মোল্লা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক মুজিব উল্লাহ, মুজিব, গাজী নাজিমউদ্দিন, কাশেমুর রহমান খান, আশরাফ হিলালী, শাহ মোয়াজ্জেম সোহেল, ফয়সাল মেহবুব মিজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশে কি কোনও সরকার আছে, প্রশ্ন মান্নার

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের পারস্পরিক দোষারোপ এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, দেশে কি কোনও সরকার আছে? থাকলে এতে কি তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল না? কিন্তু তারা তা করছে না। গতকাল সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের বিরোধে হস্তক্ষেপ করার মত নৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তি সরকারের নেই বলে উল্লেখ করেন মান্না। নাগরিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাকিব আনোয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে মান্না বলেন, সরকার কোনও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবে না। লুটতরাজ, দুর্নীতি, জালিয়াতি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না। কারণ সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এরা নিজেরাই নীতিহীন, নিষ্ঠুর ও দয়ামায়াহীন। মান্নার দাবি, করোনা শনাক্তকরণে তারা সর্বশেষে পরীক্ষা করা কমিয়ে দিয়ে যে ছোটলোকির আশ্রয় নিয়েছে তাতে এটা পরিষ্কার যে এই সরকারকে দিয়ে মানুষের জান, মাল, স্বাস্থ্য কোনটাই নিরাপদ নয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিদিন আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করছি – স্বাস্থ্য সচিব

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিদিন আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করছি। স্বাস্থ্যের ডিজির কাছে ব্যাখা চাওয়া, গত রোববারও একজন প্রফেসরের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ঢাকা নয়, নারায়ণগঞ্জেও যদি এমন কোনো তথ্য থাকে আমাদের জানান। মিডিয়াই আমাদের ভরসা। আমরা দুর্নীতির কোনো জায়গাই ছাড়তে চাচ্ছি না। আমি এক দিন, এক ঘণ্টা, এক মিনিটও দুর্নীতির সঙ্গে থাকতে চাই না। তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা বসে থাকবো না। সবচেয়ে বড় কথা সত্য যেন বের হয়ে আসে। আমরা সত্যের সঙ্গে থাকতে চাই। যারা অপরাধ করবে তারা সবাই আইনের আওতায় আসবে, আসা উচিত। আমাদের অনেক সময় তথ্য উপাত্ত পেতে অনেক দেরি হয়, সেটি আপনাদের কাছে থাকলে আমাদের জানাবেন। গতকাল সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য সচিব এসব কথা বলেন। আব্দুল মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলেছেন এদেশে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনও এ নিয়ে কাজ করছে। আমি নির্ভয়ে বলতে চাই, যারা অপরাধ করবে তারা যে প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন বা যে ব্যক্তিই হোক না কেন দেখার বিষয় না, আমরা অপরাধ দেখে প্রতিষ্ঠান একেবারে সিলগালা করে দেবো। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ করোনার শুরু থেকে হটস্পটে পরিণত হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জ এখন একটা পর্যায়ে এসেছে। এখানে যারা স্বাস্থ্যসেবা ও করোনা নিয়ে কাজ করছেন তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে আজ এখানে এসেছি। ডাক্তাররা ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা তাই তাদের কাছে এসেছি তাদের কথা শুনতে। এতে তাদের মনোবল ফিরে আসবে। তাদের ডেকে ঢাকায় নিয়ে কথা বলার চাইতে তাদের কাছে এসে আমি কথা শুনবো বলেই এখানে আসা। তাদের কাছ থেকেই আমি জানবো সমস্যাগুলো কোথায়, যাতে মানুষ সেবা পায় এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা যায়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, রোগী কেন দিন দিন কমে যাচ্ছে সেটি দেখবো আমরা। যদি খানপুরে করোনা হাসপাতালে ৮০ জন ডাক্তার ও ২৬ জন রোগী থাকে তাহলে সেটি কেন দেখতে হবে। ভেতরে আরও সমস্যা আছে কিনা আমরা দেখবো। আর কয়েকদিন দেখার পর এ হাসপাতালে দু’টি পথ করে একটি কোভিড ও অন্যটি সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, কোনো হাসপাতাল যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে টেস্ট করায় কিংবা বেশি টাকা আদায় করে সেটি স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা নেবো। অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি কোভিড হাসপাতালের বাইরে দিয়েও যায় না অথচ আমাদের ডাক্তাররা জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে কাজ করছেন তাই তাদের প্রণোদনার ব্যাপারটি দেখা হচ্ছে।  সচিব আবদুল মান্নান বলেন, করোনায় আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। তার সঙ্গে শেষ সময় পর্যন্ত হাসপাতালে থাকলেও পরে ২ বার পরীক্ষা করানোর পরও আমার বড় ছেলের করোনা নেগেটিভ আসে। সন্দেহ হওয়ায় তৃতীয়বার পরীক্ষা করা হয়। তখন তার করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। করোনা নেগেটিভের রিপোর্ট ফলস হতে পারে, কিন্তু পজিটিভ মানে পজিটিভ। ফলে টেস্ট নিয়ে আমাদের হতাশা আছে। সচিব বলেন, বড় ছেলে হাসপাতালে আমার স্ত্রীর সঙ্গে একটানা ৪ দিন ছিল। মাকে ছেড়ে ১ ঘণ্টার জন্যও সে অন্য কোথাও যায়নি। মাও ছেলেকে ছাড়েনি। ছেলের মুখের কাছেই তার শেষ নিঃশ্বাস পড়েছে। বড় ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ে ও ছোট ছেলেও ছিল। স্ত্রীর দাফন করে এসে দেখলাম ৪ দিন হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে থাকলেও বড় ছেলের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আমরা বললাম, তার রিপোর্ট তো নেগেটিভ হতে পারে না। পরে আরেক জায়গায় টেস্ট করালাম, সেখানেও নেগেটিভ। দুইবার নেগেটিভ আসায় আমি ভাবলাম কী আর করা যায়। কিন্তু আমার ছেলে ডাক্তার হওয়ার কারণে বললো, কোভিডের যে চরিত্র, তাতে কোনোভাবেই আমার নেগেটিভ হতে পারে না। ছোট ভাই ও বড় বোনেরও নেগেটিভ হতে পারে না, যেহেতু মৃত্যুর আগে সবাই মাকে জড়িয়ে ধরেছে। পরে তৃতীয় বার টেস্টে আমার ছেলের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। তখন তাদের হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে তারা ১৩ দিন ছিল। আমার ছেলের বয়স ২৭ বছর, তাকে আল্লাহ রক্ষা করেছে। আমি যদি তার নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে বসে থাকতাম আর বলতাম যে, বাবা যেহেতু নেগেটিভ ঘরেই থাকো, তাহলে জানিনা কী হতো। এজন্য টেস্ট নিয়ে আমাদের হতাশা রয়েছে। নেগেটিভ ফলস হতে পারে কিন্তু পজিটিভ মানে পজিটিভ। এর মধ্যে দুর্বৃত্তরা আবার কোনো টেস্ট না করেই বলছে নেগেটিভ। তাদের কোনো রেহাই নাই। নারায়াণগঞ্জেও যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমি বলে যাচ্ছি, সিভিল সার্জন ব্যবস্থা নেবেন। এইসব দুর্বৃত্তরা বিদেশেও লোক পাঠিয়ে দিচ্ছে মানুষকে ফলস করোনা সার্টিফিকেট দিয়ে। এয়ারপোর্টে নামার পর সেই সব দেশ আবারও বাংলাদেশের মানুষকে ফেরত পাঠাচ্ছে। এই রিজেন্টের মতো, জেকেজির মতো আরও অনেকেই আছে। আমরা এসব ব্যাপারে অনুসন্ধান করছি, কাউকেই ছাড়বো না। দেশ নিয়ে, দেশের মানুষ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে তাদের ছাড় নেই। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সচিব বলেন, আমার পরিবারে দুইজন ডাক্তার, কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর সময় কাজে লাগেনি। আপনারা যথাযথভাবে বেতন পাচ্ছেন, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, এসবের জন্য অন্তত মিনিমাম নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। অন্যান্য সার্ভিস থেকে আপনাদের সার্ভিসের সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। আমি যথাযথ দায়িত্ব পালন করা সবাইকে প্রমোশন দিতে চাই। কিন্তু করোনার বাইরেও যদি অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত রোগী আসেন আর আপনারা চিকিৎসা না করেন সেটি আমরা সহ্য করবো না। চাকরি জীবনের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, হারিকেন দিয়ে ইউএনওগিরি করসি। স্ত্রীকে ফোন করতে ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে কথা বলতে হতো। এখন তো সেই অসুবিধা নেই, ভিডিও কলের সুবিধাও আছে। ফলে আমাদের তো প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আর বেতনের টাকা হালাল করতে হবে। আপনার এখানে সেবা পায়নি বলে রোগী যদি চলে যায়, এটা আমি ভালোভাবে নেব না। আপনাদের এখানে সার্ভিস তারা পাচ্ছে না বলে ঢাকায় ভিড় জমাচ্ছে, এটা আর হতে দেওয়া যাবে না। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে সালমা তানজিয়া, জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, খানপুর করোনা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়, আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা নেকবারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

রেজা আহাম্মেদ জয় ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর (সার্জেন্ট) বীর মুক্তিযোদ্ধা  নেকবার হোসেন (৭৭) অসুস্থ অবস্থায় গতকাল ১৩ জুলাই সকাল ৭টার  দিকে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন)। মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধব রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয় যশোর সেনাবাহিনী ক্যান্টমেন্ট ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিসসহ সদর ইউএনওকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা নেকবার হোসেনকে বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হরিনারায়ণপুর ঈদগাহ ময়দানে গার্ড অব অনার প্রদানের জন্য অনুমতি প্রদান করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। এ সময় গন্যমান্য ব্যক্তির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ, হরিনারায়ণপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন, ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আরিফ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফারুক  হোসেন প্রমূখ। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শেষবারের মতো গার্ড অব অনার দেওয়া হয় সন্ধা ৬টার সময়। যশোর সেনাবাহিনীর ক্যান্টমেন্টের ওয়ারেন্ট অফিসার (এইসি) সাকির এর অনুমতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় সময়ের সাহসী এই যোদ্ধাকে।

এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ঢাকা অফিস ॥ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয় পার্টি। ইতোমধ্যে সমাধি নির্মানের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তবে তার স্মৃতি ধরে রাখতে এরশাদ স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মানের দাবী জানিয়েছে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় পার্টি। শুরু থেকেই বৃহত্তর রংপুর পরিণত হয় জাতীয় পার্টির দুর্গে। তাই সামরিক কর্মকর্তা হবার পরও ভক্ত ও অনুসারীদের দাবীর মুখে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে সমাহিত করা হয় রংপুরের পল্লী নিবাসে। মৃত্যুবার্ষিকীতে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা কর্মসুচি। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রংপুরের পল্লী নিবাসে উপস্থিত হয়ে কবর জিয়ারত করবেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের। বিকেল ৪টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।

 

আলমডাঙ্গায় ডা. রওনক তুহিনের মৃত্যু বার্ষিকীতে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল

আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি ॥ আলমডাঙ্গার কৃতিসন্তান ডাক্তার রওনক তুহিনের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় আলমডাঙ্গা শহরের কলেজপাড়ায় সামাজিক ব্যক্তিত্ব খন্দকার উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে এ আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ডাক্তার রওনক তুহিনের কর্মজীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক হামিদুল ইসলাম আজম, রহমান মুকুল,  মরহুমের বন্ধু মাহফুজুল হক তুষার, তাহাজ আলী, সাংবাদিক শাহ আলম মন্টু, মরহুমের বন্ধু  শেখ সাইফুল ইসলাম ও সরোয়ার উদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক প্রশান্ত বিশ্বাস, বাবলু হক, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম রোকন, আব্দুর রশিদ মঞ্জু, মরহুমের সহোদর আলাউল হক, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আব্দুর রাজ্জাক রাজু, তারেক আহমেদ রিয়েল প্রমুখ। আলোচনা শেষে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা দারুস সালাম মসজিদের সাবেক পেশ ঈমাম মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ।

নদীর সীমানা পুনর্দখল আরও বেশি অপরাধ – নৌ-প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নদীর সীমানা চিহ্নিত জায়গা পুনর্দখল করলে আরও বেশি অপরাধ হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে কেউ এ ধরনের দুঃসাহস দেখাবেন না। নদীর তীর দখলকারীরা শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান ছিল, আমরা তাদের দখলদার হিসেবে দেখেছি। নদীর তীর দখলমুক্ত করতে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সাহসিকতা ও সমর্থনের কারণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় নদীর তীর দখলমুক্ত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। গতকাল সোমবার উচ্ছেদ করা বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদের তীররক্ষা প্রকল্প পরিদর্শন এবং বিরুলিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অনল চন্দ্র দাস, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম মোহাম্মদ সাদেক এবং প্রকল্প পরিচালক নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে অন্য কেউ বেশি অনুভব করেন না। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখা, দখলমুক্ত করা এবং জীবন-জীবিকার চাহিদা পূরণে সরকার সচেষ্ট। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা নদী তীরের ৯০ শতাংশ দখলমুক্ত করতে পেরেছি। সীমানা পিলার দৃশ্যমান, পাকা দেয়াল ও ওয়াকওয়ের কাজ চলমান। প্রকল্পের কাজের গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশনে সংশোধিত প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, সেটি অনুমোদিত হলে নদী তীরের কাজগুলো আরও বেশি টেকসই হবে। ২০২৩/২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উদ্ধার করা জায়গায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর কার্যক্রম ধারাবহিকভাবে চলমান থাকবে। সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। নদী রক্ষা, দখল ও দূষণরোধ এবং পরিবেশের উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদিত হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারলে ঢাকার চারপাশের নদী নয়, ঢাকার মধ্য দিয়ে নৌ চলাচল সম্ভব। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে মর্যাদার আসনে নিতে কাজ করছি। সরকার শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন, ঢাকার চারপাশের নদীসহ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব বাংলাদেশকে মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছে। তার নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যাবে।

চলতি মাসেই নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন শুরু – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ জুলাই মাসের মধ্যেই অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা গত মার্চ মাসেই অনলাইন নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনার জন্য সেটা পিছিয়ে যায়। আমরা ইতোমধ্যেই গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পেয়ে গেছি। তাই আশা করছি এ মাসের মধ্যেই কিছু অনলাইন নিউজপোর্টালের নিবন্ধন দেয়া হবে। আর বাকিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যার তার হাতে যেন পত্রিকার ডিক্লারেশন না যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে। রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদের পত্রিকার ডিক্লারেশন পেতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, পত্রিকার অনুমোদনের জন্য শিক্ষাগত বাধ্যবাধকতা নেই। সেটি ডিসি অফিসের মাধ্যমে হয়। এরপর ডিক্লারেশন পায় ডিএফপি থেকে। মেট্রিক পাস বা মেট্রিক পাস নয় এমন অনেক প্রত্রিকার প্রকাশক আছেন এবং অতীতেও ছিলেন। তাই পত্রিকা ডিক্লেরেশনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, সাহেদ পত্রিকার ডিক্লারেশন নিলেও সে পত্রিকা বের করেছেন কিনা সেটা ডিএফপি সেটা খতিয়ে দেখছে। সে ক্ষেত্রে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যদি অনিয়ম না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে একটি বিষয়ে অবশ্যই বিবেচনা নিতে হবে যে একজন প্রতারকের হাতে পত্রিকার ডিক্লারেশন থাকবে কি না। আমরা সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেবো। অনলাইন নিবন্ধের যে রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এ ক্ষেত্রে সে রকম কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে পত্রিকা ডিক্লারেশনের ক্ষেত্রে এখন যে পদ্ধতি বিদ্যমান আছে এটি আসলে নিয়ন্ত্রণ করা। তবে আমাদের উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণ করা নয়। সেই ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হবে যাতে যার তার হাতে পত্রিকার ডিক্লারেশন বা পত্রিকা না চলে যায়, আবার কোনো প্রতারক তার প্রতারণাকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য পত্রিকা বের করতে না পারে। পাশাপাশি পত্রিকার প্রচার সংখ্যা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, সেখানেও একটি স্বচ্ছতা আনা ও সেটিকে যুগপোযোগী করার পরিকল্পনা আমদের আছে। এদিকে রিজেন্টে হাসপাতালের সাহেদ বা জেকেজিকে করোনা ইস্যুতে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবশ্যই আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেনে তথ্যমন্ত্রী। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এ ধরনের দুষ্টু চক্রের ফলে মানুষের মনে বিরূপ প্রভাব পড়ে ও আস্থার অভাব তৈরি হয়। অনেক মানুষ এ চক্রের ফলে ভুক্তভোগী হয়েছেন। তবে এ বিষয়গুলো কিন্তু অন্য কেউ উৎঘাটন করেনি। সরকার নিজে থেকেই করেছে এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে। সাহেদের বিষয় বা জেকেজির বিষয়ে কোনা পত্রিকায় রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা কিন্তু নয়। সরকার নিজেই এখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়গুলো উঠে এসেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেকেজির প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। সাহেদের দুইটি হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যাপারে মামলা হয়েছে। সাহেদকেও গ্রেফতার করার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দৃঢ়ভাবে বলা হয়েছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এদেরকে এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরও সতর্ক হওয়ার অবশ্যই প্রয়োজন ছিল। করোনা প্রতিরোধে সরকারের নিষ্ঠা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। বাংলাদেশে যখন প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় তখন মুজিববর্ষের সব অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে সরকার শুরু থেকে যা যা করার দরকার সব করে এসেছে। আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর হার অনেক কম। এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে। সরকার এ কাজটি আরো সুচারুভাবে করতে চায় বিধায় এ খাতের অনিয়ম দুর্নীতিগুলো উৎঘাটন করে সে সবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকারের উদাসীনতায় চলমান বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে, সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারের উদাসীনতার কারণে বানের পানি এসেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কখন যে সেটা বলে বসেন আমি সেই শংকার মধ্যে আছি। কিছুদিন আগে ঘুর্ণিঝড় হয়েছিল, করোনার মধ্যেও সেটি মোকাবিলা করে মানুষের জান-মাল রক্ষা করা হয়েছে। তাদের পুনর্বাসন হয়েছে। এখনও কার্যক্রম অব্যাহত আছে। বন্যার ক্ষেত্রও সরকার ইতোমধ্যে অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে। বিএনপি শুধু ঘরের মধ্যে বসে বসে এই মায়া কান্না দেখায়, কিন্তু জনগণের সাহায্যের জন্য কখনও তারা নিজেদের হাত প্রসারিত করেনি। তাদের রাজনীতি হচ্ছে টেলিভিশন আর সংবাদ সম্মেলনকেন্দ্রিক।

 

ঝিনাইদহে বিপুল পরিমান নকল প্রসাধনী জব্দসহ ২ জনের কারাদন্ড

মেহেদী হাসান কনক ॥ ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর থেকে বিপুল পরিমান নকল প্রসাধনী জব্দ করেছে র‌্যাব ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ২ জনকে ২ মাস করে কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। দন্ডিতরা হলো-ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কুলচারা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে হারুন মিয়া (৩০) ও একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে পাভেল (২৮)। সোমবার দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মাসুদ আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে শহরের আরাপপুর এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালায় র‌্যাব ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় নামি দামি কোম্পানীর বিপুল পরিমান নকল প্রসাধনী জব্দ করা হয়। পরে জড়িত থাকার অভিযোগে দোকানের মালিক হারুন ও পাভেলকে আটক করে ২ মাস করে কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্যাহ। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

পোড়াদহ ইউনিয়নের আইন শৃংখলা বিষয়ক সভা

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা পুলিশে উদ্যোগে পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  অধ্যক্ষ আনোয়ারুজ্জামান মজনু বিশ্বাসের সভাপতিত্বে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও আসন্ন ঈদ উপলক্ষে আইন শৃংখলার উন্নয়ন শীর্ষক সভা পোড়াদহ ইউনিয়ন কার্যালয় সামাজিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আহম্মদপুর ফাড়ির আইসি শ্রী লিখন কুমারের পরিচালনায় আইন শৃংখলা উন্নয়ন শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন  মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন দেশের এই মহা সংকটে জন প্রতিনিধি, সমাজ প্রধান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও রাজনীতিবিদদেরকে এগিয়ে এসে এক সাথে কাজ করতে হবে। বিশেষ অতিথি ছিলেন পোড়াদহ ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সবেদ, সাধারন সম্পাদক তৈয়বুর রহমান মন্টু মেম্বর, প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম হাসান মেম্বর, দুলাল মেম্বর, মোজাম মেম্বর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি সাইফুল ইসলাম মুন্না।

 

জার্মানিতে মানবদেহে করোনাভাইরাসের টিকা পরীক্ষায় অভূতপূর্ব সাড়া

ঢাকা অফিস ॥ জার্মানিতে মানবদেহে করোনাভাইরাসের টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষায় অংশ নিতে এগিয়ে এসেছেন কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক যা গবেষকদেরও অবাক করেছে। জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলে জানায়, টুবিংয়েনের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’র একদল গবেষক দেশটির বায়োফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি কিউরভ্যাক উৎপাদিত কোভিড-১৯ এর টিকা মানবদেহে কতটা কার্যকর তা পরীক্ষা করতে স্বেচ্ছাসেবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়। তাদের সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার মানুষ নাম নিবন্ধন করেছেন বলে জানান গবেষকরা। এত মানুষের সাড়া গবেষকদেরও অবাক করেছে। সাধারণত মেডিকেল গবেষণায় ‘গিনিপিগ’ হতে কেউ রাজি হয় না। গবেষণা পরিচালক পিটার ক্রেমজনার বলেন, ‘‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এমনটা সাধারণত দেখা যায় না। এটা সত্যি উপচে পড়া অবস্থা। সাধারণত এ ধরনের পরীক্ষার সময়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকের সংকটে পড়তে হয়।” জুনের মাঝামাঝি থেকে মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে এই টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন টিকা নিয়েছেন। এখনো তাদের শরীরে উলে¬খ করার মতো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে জানান ক্রেমজনার। যদি প্রথম দফায় সাফল্য পাওয়া যায় তবে পরবর্তী পরীক্ষা শুরু হবে। এদিকে, গত সোমবার ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদন প্রকল্পের জন্য কিউরভ্যাক-কে সাড়ে সাত কোটি ইউরো ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী অগাস্ট নাগাদ প্রথম দফা পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে বলে আশা কিউরভ্যাক কর্তৃপক্ষের।

পালাউয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ছে বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ দ্বীপ দেশ পালাউয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশটির ২৪ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে দুই হাজারই বাংলাদেশি। বাংলাদেশ ও পালাউয়ের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তির খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় একটি ছোট্ট দ্বীপ পালাউ, যার আয়তন ৪৬৬ বর্গকিলোমিটার। জাতিসংঘের আর্থিক সহায়তায় চলে এ দেশ। বিশ্ব রাজনীতির প্রায় সবক্ষেত্রেই তারা জাতিসংঘকে সাপোর্ট করে। কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় জাপানের টোকিও মিশন থেকে পালাউ গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা দিতে দূতাবাস অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পালাউয়ের জনসংখ্যা ২২ থেকে ২৪ হাজার। তার মধ্যে দুই হাজার বাংলাদেশি সেখানে কাজ করেন, এটা ইন্টারেস্টিং বিষয়। স্বাধীনতার পর থেকে পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশের সাথে পালাউয়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ও পালাউ উভয়ই জাতিসংঘসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থার সদস্য। ভিয়েনা কনভেনশন-১৯৬১ অনুসারে বাংলাদেশ ও পালাউ গত বছরের ১৬ জুলাই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তিটি অনুসমর্থন করা প্রয়োজন। চুক্তিটি অনুসমর্থন করা হলে এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর ফলে পালাউয়ে বসবাসরত দুই হাজার বাংলাদেশির স্বার্থ সংরক্ষণ করা সহজ হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পালাউয়ে থাকা বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ সুপারি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন। সেখানে সুপারি অনেক জনপ্রিয় আইটেম, পথেঘাটে মুড়ি, চা খাওয়ার মতো ওখানকার লোকজন দোকানে কাঁচা সুপারি খায়। এই কাজে বাংলাদেশিরা বেশি যুক্ত। এ ছাড়া সার্ফিংয়ের কাজেও বাংলাদেশিরা যুক্ত রয়েছে। সার্ফিং তাদের একটা বড় আয়ের উৎস।

মাটি ভরাটের টাকা জাসদ নেতার পকেটে

মিরপুরের সিংপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এখন পুকুর

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ চারিদিকে পানি আর পানি। দেখলে মনে হচ্ছে এ যেন এটি একটি পুকুর। আসলে না। এটি একটি স্কুল। এটি এখন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নে সিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে  খেলার মাঠের চিত্র। এটিই এখানকার একমাত্র খেলার মাঠ। এখানে বছরের বেশির ভাগ সময়ই জলাবদ্ধতা থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে থাকে এ মাঠটি। মাঠের এ অবস্থার জন্য বন্ধ থাকে খেলাধুলা। নিয়মিত খেলতে না পারায় হতাশ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও মহল্লার খেলোয়াড়রা। তবে এটি বন্যা কবলিত কোন এলাকার স্কুল মাঠের দৃশ্য না। বিদ্যালয় মাঠটির কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। জলাবদ্ধতা এটি এই এলাকার স্কুল মাঠের চিত্র নয়, অত্র ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার সব কয়টি স্কুল মাঠের চিত্র একই। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর খেলার মাঠ উন্নয়নের টাকা আসলেও কোনো কাজ হয় না। সব টাকায় আত্মসাৎ করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্থানীয় এমপির টি-আর বরাদ্দকৃত ৪৩ হাজার টাকা এসেছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। টাকা কোথায় যায় প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতি ভালো জানেন। ‘মাঠ শুকনো থাকলে যুবসমাজ ব্যস্ত থাকে  খেলাধুলায়। ফলে মাদকের ছোবল থেকে তারা রক্ষা পায়। যত বেশি ক্রীড়াচর্চা হবে ততবেশি যুবসমাজ মাদক থেকে দূরে থাকবে। কিন্তু এই মাঠের পানি  দেখলে মনে হয় এটি একটি পুকুর। এই মাঠটি সংস্কার করা না হলে এলাকার যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।’ কর্তৃপক্ষের কাছে মাঠটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা। সিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া খাতুন বলেন, স্কুল মাঠে মাটি ভরাটের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্থানীয় এমপির টি-আর বরাদ্দকৃত ৪৩ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিলো। কিন্তু সেই টাকার সম্পূর্ণ কাজ হয়নি। নামমাত্র কয়েকটি ট্রলি বালু স্কুল মাঠে দিয়ে সব টাকা আত্মসাৎ করেছে জাসদ নেতা জালাল। তারপর তার সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি পাশ কাটিয়ে যান।

এ ব্যাপারে স্থানীয় জাসদ নেতা জালাল বলেন, আমি কিছু কাজ করেছি। কাজ না করলে কিছুই তো করার ছিল না। এছাড়া আর কিছু বলতে পারবো না। মিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘আমি বিষয়টা শুনেছি। সেই সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানোর জন্য বলা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি প্রতিবছরই বর্ষার সময় পানিতে ডুবে যায়। ইতিপুর্বে মাঠটি ভরাট করা হয়েছিলো। যা যথেষ্ট না। তবে ভাল করে ভরাট করার প্রয়োজন। ধুবইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান মামুন বলেন, বিদ্যালয়টি পানিতে তলিয়ে গেছে। কিভাবে জরুরীভাবে পানি নিস্কাশন করা যায় তার ব্যবস্থা করবো। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ^াস জানান, এটা আমার জানা ছিল না। তবে দ্রুত এ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২৪ ঘন্টায় শনাক্ত ৩০৯৯, করোনায় ৩৯ জনের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হিসেবে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন হাজার ৯৯ জন শনাক্ত হয়েছেন। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৩৯ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই হাজার ৩৯১ জনে। গতকাল সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি ৭৭টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৩৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৪২৩টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নয় লাখ ৫২ হাজার ৬৪৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হলো। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৯৯ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৩৯ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৩৯১ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও চার হাজার ৭০৩ জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৮ হাজার ৩১৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩৯ জন মারা গেছেন তাদের ৩০ জন পুরুষ এবং নয়জন নারী। তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন, ১০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব ছয়জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৩ জন, ষাটোর্ধ্ব ১১ জন, সত্তরোর্ধ্ব তিনজন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন ছিলেন। এদের ১৯ জন ঢাকা বিভাগের, পাঁচজন চট্টগ্রাম বিভাগের, একজন ময়মনসিংহ বিভাগের, সাতজন খুলনা বিভাগের, তিনজন বরিশাল বিভাগের এবং দুজন করে রংপুর ও সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৮৯০জন এবং নারী ৫০১ জন। পুরুষ ৭৯ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং নারী ২০ দশমিক ৯৫ শতাংশ নারী। গতকাল সোমবার পর্যন্ত করোনায় যে দুই হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৮৯০ জন এবং নারী ৫০১ জন। মৃতদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের ২৮ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের ৭৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১৬৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৩৪৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৭১৪ এবং ষাটোর্ধ্ব এক হাজার ৪২ জন। বিভাগীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান অনুসারে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে এক হাজার ১৯৫ জনের। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৬২৩ জন, খুলনা বিভাগে ১২৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২১ জন, বরিশাল বিভাগে ৮৮ জন, সিলেট বিভাগে ১০৫ জন, রংপুর বিভাগে ৭৫ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়। রাজধানীসহ সারাদেশে করোনা হাসপাতালে সর্বমোট শয্যা সংখ্যা রয়েছে ১৪ হাজার ৬৬৪টি। বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪ হাজার ১৬৭ জন। আর শয্যা খালি রয়েছে ১০ হাজার ৪৯৭টি। রাজধানীসহ সারাদেশে আইসিইউ শয্যা ৩৭৪টি। এর মধ্যে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ১৮৬ জন এবং খালি রয়েছে ১৮৮টি। সাধারণ ও আইসিইউ মিলিয়ে শয্যা খালি রয়েছে ১০ হাজার ৬৮৫টি অর্থাৎ হাসপাতালের মোট শয্যার ৭৩ শতাংশ বেডই খালি রয়েছে। ডা. নাসিমা বলেন, রাজধানী ঢাকায় সাধারণ শয্যা সংখ্যা ৬ হাজার ৩০৫টি। বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ২ হাজার ৫১ জন। আর শয্যা খালি রয়েছে ৪ হাজার ২৫৪টি। ঢাকায় আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৪২টি। বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৮৭ জন এবং আইসিইউ বেড খালি রয়েছে ৫৫টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যা ৬৫৭টি। বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৩১১ জন। শয্যা খালি রয়েছে ৩৪৬টি। আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৩৯টি। বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ১৯ জন এবং আইসিইউ বেড খালি রয়েছে ২০টি। সারাদেশের অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা রয়েছে ৭ হাজার ৭০২টি। বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৮০৫ জন। শয্যা খালি রয়েছে ৫ হাজার ৮৯৭টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১৯৩টি। বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ৮০ জন এবং আইসিইউ বেড খালি রয়েছে ১১৩টি। সারাদেশে সর্বমোট শয্যা সংখ্যা রয়েছে ১৪ হাজার ৬৬৪টি। রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪ হাজার ১৬৭ জন। বর্তমানে শয্যা খালি রয়েছে ১০ হাজার ৪৯৭টি। রাজধানীসহ সারাদেশে আইসিইউ শয্যা ৩৭৪টি, বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছেন ১৮৬ জন এবং খালি রয়েছে ১৮৮টি। এদিকে গতকাল সোমবার সাম্প্রতিক সময়ে করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে স্বীকার করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কেন কমেছে, সেটারও ব্যাখ্যা দিয়েছে তারা। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, আমরা তথ্য বিশ্লেষণে দেখছি, আমাদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে অনেকগুলো ব্যাখ্যা দেয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, একজনের দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার দরকার হচ্ছে না। সুস্থতা ঘোষণার জন্যও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার দরকার হচ্ছে না। এজন্য পরীক্ষার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তাছাড়া মন্ত্রণালয় পরীক্ষা করার জন্য একটি ফি নির্ধারণ করেছে। সে কারণেও কিছুটা কমতে পারে। তাছাড়া মানুষের মধ্যে আতঙ্ক অনেকটাই কমে গেছে। মানুষ অনেকটা রিলাকটেনড (স্বস্তিতে) বলা যায়। তারা রিলাকটেনড হয়েছে এবং পরীক্ষা করার বিষয়ে আগ্রহ কম দেখাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের যেসব বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, সেখানে আগে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় নির্দিষ্ট এবং ৩টার পরও অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেন নমুনা দেয়ার জন্য। এখন দুপুর ১টার পরই বুথগুলো শূন্য হয়ে যায়। নমুনা পরীক্ষার জন্য কেউ আসে না। নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে মানুষের আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। সে কারণে পরীক্ষাগারে নমুনা আসছে না এবং নমুনা সংগ্রহ কমে গেছে। যাদের নমুনা পরীক্ষা করা দরকার অবশ্যই তাদের বুথে যাওয়া, নমুনা দেয়া এবং পরীক্ষারও আহ্বান জানিয়েছেন নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, দরিদ্রদের জন্য এখনও নমুনা পরীক্ষা ফ্রি। যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নমুনার জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে উল্লেখ আছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নমুনা সংগ্রহ ফ্রি। কাজেই আপনারা সরকারের এই সুবিধা অবশ্যই গ্রহণ করতে পারেন। যাদের দরকার অবশ্যই নমুনা পরীক্ষা করাবেন। করোনা প্রতিরোধের জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, রোগ প্রতিরোধের জন্য অবশ্যই সঠিকভাবে সবাই মাস্ক ব্যবহার করবেন, বারবার সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুবেন, সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখবেন এবং জনসমাবেশ এড়িয়ে চলবেন। গোটা বিশ্বকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে করোনাভাইরাস। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন এক কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৭২ হাজার প্রায়। তবে প্রায় ৭৬ লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

 

আওয়ামী লীগে আশ্রয়ী-লোভী-ষড়যন্ত্রকারীদের আর সুযোগ নেই – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ দলের ভেতরে বর্ণচোরা সেজে যারা অর্থসম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা করে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবে তাদের ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত তার সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের মাটি ও মানুষের সংগঠন। জনগণের বুকের গভীরে রয়েছে এর শেকড়। দলে এসে দলের নাম ভাঙিয়ে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কাউকে ভাগ্য বদলাতে দেয়া যাবে না। দলের দুঃসময়ের পরীক্ষিত কর্মীদের পেছনে রেখে, আওয়ামী লীগে আশ্রয়ী, লোভী, ষড়যন্ত্রকারীদের দলে আর সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর, এ বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকার স্ব-প্রণোদিত হয়ে দুর্নীতি উদঘাটন করে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে ত্রাণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্যখাতসহ যেখানেই অনিয়ম-দুর্নীতি সেখানেই কঠোর অবস্থানে সরকার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে জনগণকে বাঁচানোর লক্ষ্যে সর্বাত্মক কাজ করছে সরকার ও আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে সকল রাজনৈতিক কর্মসূচি বাদ দিয়ে ক্ষেত্রবিশেষ সীমিত করে জনগণের দুর্দশা কমানো, সংক্রমণ রোধ এবং জীবিকার নিরাপত্তা বিধানকে রাজনীতি হিসেবে নিয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সমালোচনার নামে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতাকাল উদযাপন করছে। তারা জনগণের দুর্দশা, অসহায়ত্ব চোখে দেখে না। বিএনপি সার্কাসের হাতির মতো নেতিবাচকতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া আর চিরাচরিত মিথ্যাচারকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ এখন আর তাদের মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হয় না। বিএনপির মরিচা ধরা কৌশল আজ অকৌশলে রূপ নিয়ে বুমেরাং হচ্ছে। দেশের মানুষ এখন দোষারোপের রাজনীতি পছন্দ করে না। অথচ বিএনপি এমন মিথ্যাচার করে যে, তার জবাব না দিয়েও পারা যায় না। এখন রাজনীতি হতে হবে মানুষকে বাঁচানো ও বৈশ্বিক সংকট করোনার সংক্রমণ রোধ।

গ্রাহকদের ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকটি লকডাউনের দাবী

কুষ্টিয়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৮জন করোনা পজিটিভ

নিজ সংবাদ ॥ আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার ১৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে ৮জনই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার ২ জনের টেষ্টে পজিটিভ হয়েছে তারা সোমবার অফিস করেছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের স্বাস্থ্য সেবা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এমতাবস্থায় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পত্র দিয়েছে বলে জানা যায়।

কুষ্টিয়া শহরের এনএসরোড থানা মোড় সংলগ্ন হারুন মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখা। ব্যস্ততম এই ব্যাংকের ১৪জন কর্মচারীর মধ্যে ৮ কর্মকর্তা ও কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল সোমবার নতুন আক্রান্ত ২ জন কর্মকর্তা সারাদিন অফিস করেছেন। সোমবার আরো ২জন কর্মকর্তা করোনা টেষ্টের নমুনা কুষ্টিয়া ল্যাবে জমা দিয়েছেন বাকীরা আজ (মঙ্গলবার) জমা দিবেন বলে জানা যায়। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক এনায়েত ফকির জানান- সোমবার অফিস টাইমে এ বিষয়টি জানানোর জন্য সিভিল সার্জন মহোদয়ের অফিসে ফোন দিলে সেখানকার একজন কর্মচারী জানান অফিসে এসে জানাতে হবে। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক কর্মচারী নিয়ে ব্যাংক চালু রাখায় ব্যস্ততায় সিভিল সার্জন অফিসে স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারেনি। দুপুরের দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে কথা বলে ব্যাংকের করোনা পরিস্থিতি জানালে তিনি লিখিত জানাতে বলেন। পরে লিখিত জানিয়েছি। তিনি জানান- সোমবার নতুন ২জনের পজিটিভসহ মোট ৮জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিদিন ব্যাংকে প্রচুর গ্রাহক সেবা গ্রহন করতে আসছেন এ অবস্থায় ব্যাংক খোলা রেখে গ্রাহকদের জীবনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে আশংকায় আমরা দুঃচিন্তায় আছি। ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ব্যাংকের কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন, কুদরতি নুর তমা, রবিউল ইসলাম, শাফায়েত জামিল চৌধুরী, কর্মচারী সিয়াম হোসেন ও মোঃ সুজন আগেই আক্রান্ত হয়ে নিজ হোম কোয়ারেন্টেনে আছে। সোমবার  কর্মকর্তা আব্দুস ছাদেক ও তার স্ত্রী এবং কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেনের করোনা টেষ্টে পজিটিভ হয়েছে। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জানান- আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক তাদের কর্মকর্তাদের করোনায় আক্রান্তের বিষয়ে একটি পত্র দিয়েছে আজ খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ঈদের ছুটি বাড়ছে না

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি বাড়ানো হবে না, তিন দিনই থাকবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। ঈদের ছুটির সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকতে হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা অনুযায়ী এবার আগামী ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। আগামী ১ আগস্ট ঈদুল আজহা ধরে সরকারের ২০২০ সালের ছুটির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী ৩১ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট ঈদুল আজহার ছুটি থাকবে। এক্ষেত্রে দুদিনই চলে যাচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে। ৩১ জুলাই (শুক্রবার) ঈদ হলে ছুটি থাকবে ৩০ ও ৩১ জুলাই এবং ১ আগস্ট (বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি)। এক্ষেত্রেও ছুটির দুদিন চলে যাচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন সাধারণ ছুটি থাকে। এই দুই ঈদের আগের ও পরের দিন থাকে নির্বাহী আদেশে ছুটি।