প্রাথমিকে পদোন্নতি পাচ্ছেন ১৮ হাজার প্রধান শিক্ষক

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষকদের স্থায়ীকরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন গ্রেডেশন লিস্ট (জ্যেষ্ঠতা তালিকা) সংগ্রহ করা হচ্ছে। চলতি মাস থেকে ধাপে ধাপে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকদের ওই পদে পদোন্নতি দেয়া হবে। আগামী মাসের মধ্যে দেশের ১৮ হাজার শিক্ষককে পদোন্নতির আওতায় আনা হবে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) থেকে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল রোববার ডিপিইর মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ  বলেন, ‘সারাদেশে প্রায় ১৮ হাজারের মতো বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিকে সহকারী শিক্ষকদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য আসনে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে বসানো হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু শিক্ষকদের কাগজপত্র এসেছে। সেসব একত্র করে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিয়ে জেলাভিত্তিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। অন্যদেরও কাগজপত্র অধিদফতরে চলে আসলে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে জেলাভিত্তিক সকলকে পদোন্নতির আওতায় আনা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সেই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য আসনের বিপরীতে প্রধান শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হবে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৮ হাজার সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া আরও ২০ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। মামলাজনিত কারণে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া সম্ভব না হওয়ায় ২০১৮ সালের ২৩ মে সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তফিজুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য স্থানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্ব দেয়ার ঘোষণা দেন। এরপর দেশের ৬৪ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক শূন্য বিদ্যালয়ে পদায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করার পর বর্তমানে চলতি দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের স্থায়ীভাবে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অবশেষে মাস্ক পরতে এফএনএস বিদেশ – দেখা গেল ট্রাম্পকে

ঢাকা অফিস ॥ বর্তমান বিশ্বে এখন এক আতঙ্কের নাম করোনারভাইরাস। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কারণে মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুরু থেকেই লোকজনকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের কথা কানেই তোলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম থেকেই তাকে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। অবশেষে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে তাকে মুখে মাস্ক পরতে দেখা গেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাইরে ওয়াল্টার রিড সামরিক হাসপাতাল পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি আহত সৈনিক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মাস্ক পরে হোয়াইট থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, আমি বরাবরই মাস্কের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমার মতে, সেটার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় এবং স্থান রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তিনি মাস্ক পরবেন না। মাস্ক পড়ার জন্য ডেমোক্রেট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনকে নিয়ে তিনি ব্যাঙ্গও করেছেন। তবে শনিবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি যখন আপনি হাসপাতালে থাকবেন, বিশেষ করে এরকম নির্দিষ্ট অংশে, যখন আপনার অনেক সৈনিক এবং মানুষজনের সঙ্গে কথা বলতে হবে, যাদের কেউ কেউ মাত্রই অপারেশন টেবিল থেকে ফিরেছেন, তখন মাস্ক পড়া খুব ভালো একটা ব্যাপার। গত সপ্তাহে ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি পুরোপুরি মাস্কের পক্ষে। তিনি আরও বলেন, মাস্ক পরলে তাকে দেখতে অনেকটা লন রেঞ্জারের মতো লাগে। লোন রেঞ্জার হচ্ছেন আমেরিকান কল্পকাহিনীর একজন নায়ক, যিনি তার আদিবাসী আমেরিকান বন্ধু টোনটোর সঙ্গে মিলে পশ্চিম আমেরিকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন। তবে গত এপ্রিলে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করার জন্য সবাইকে জনসম্মুখে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছিল তখন ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, তিনি সেটা করবেন না। তিনি বলছিলেন যে, আমি এটা করবো বলে মনে হয় না। মুখে মাস্ক পরে আমি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, রাজা, রানিদের স্বাগত জানাচ্ছি- এমনটা দেখা যাবে বলে আমি মনে করি না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরে বলা হয়েছে, জনসম্মুখে মাস্ক পরার জন্য বারবার তাকে অনুরোধ করেছেন তার সহকারীরা। সর্বশেষ দেশটির লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বদলি কোনও শাস্তি নয়, অনিয়মে জড়িত থাকলে বরখাস্ত – স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বদলি কোনও শাস্তি নয়, দেশের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পে নিম্নমানের কাজে জড়িত থাকলে বরখাস্ত অথবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। একইসঙ্গে সব প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে শেষ করার জন্য প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগ এবং দফতরের বাস্তবায়নাধীন ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতির উপর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনায় নিয়ে অনলাইন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অবশ্যই মানসম্পন্ন, টেকসই ও উৎপাদনশীল হতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিম্নমানের কাজে জড়িত থাকবে তাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। করোনা সংকটে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রভাব পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব। সকল বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এর সঞ্চালনায় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন এলজিইডি, ডিপিএইচই, সকল ওয়াসা, সকল সিটি করপোরেশন, এনআইএলজি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ২৫৬টি বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের জুন পর্যন্ত অগ্রগতি ৮১.৪৯ ভাগ। যা গত বছর ছিল ৯৫.৪২ ভাগ। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রকল্প কাজের মৌসুম হলেও করোনা মহামারির কারণে কাজ বন্ধ থাকায় এবছর কাজের অগ্রগতি কিছুটা কমেছে।

সরকারের অদক্ষতায় দেশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে – জেএসডি

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের অদক্ষতায় বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। গতকাল রোববার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে দেওয়া বিবৃতিতে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার এসব কথা বলেন। আ স ম আবদুর রব বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণের নামে সরকার যে কান্ডজ্ঞানহীন এবং দায়িত্বহীন আচরণ করেছে ফলশ্র“তিতে ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ অনেক দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সারা বিশ্ব থেকে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। বিবৃতিতে জেএসডি নেতারা বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সরকার শুরু থেকেই ভুলের পর ভুল করে আসছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশ ভ্রমণের সময় যথাযথ কোয়ারেন্টিন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়া, লকডাউনের পরিবর্তে ছুটি ঘোষণা করা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজে যোগদান এবং ফেরত পাঠানো নিয়ে নাটকীয়তা, শুরুতে মাত্র একটি কেন্দ্রে করোনা পরীক্ষা সীমাবদ্ধ রাখার অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত, রমজানের ঈদে ঢাকা ছাড়ার প্রশ্নে নানাবিধ সিদ্ধান্ত, লকডাউন বাস্তবায়নে সিদ্ধান্তহীনতা, সীমিত পর্যায়ে পরিবহন চালাতে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখায় ব্যর্থতা এবং সবশেষে জোন চিহ্নিতকরণের নামে লাল-সবুজ-হলুদ নাটক মঞ্চায়নের ফাঁকা ঘোষণা দেশব্যাপী করোনা বিস্তারে সহায়তা এবং করোনা সংকট মোকাবিলা জটিলতর করেছে। এহেন পরিস্থিতিতে সরকারের শুভ চেতনার উদয় হওয়া উচিত। দেশ ও জাতির স্বার্থে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে ছয় দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হলো : (১) জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল (ঘধঃরড়হধষ ঐবধষঃয ঈড়ঁহপরষ – ঘঐঈ) গঠন করা; (২) করোনা নিয়ন্ত্রণে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা; (৩) করোনা পরীক্ষার ফি প্রথা বাতিল করা; (৪) করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য উপজেলা পর্যায়ে ল্যাব স্থাপন করা; (৫) দেশব্যাপী সক্রিয়ভাবে করোনা রোগী শনাক্ত করে আইসোলেশন ও চিকিৎসা, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং কোয়ারেন্টিনসহ করোনা প্রতিরোধের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা; (৬) টেস্ট বিহীন করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আশা করছি উপর্যুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জরুরি ভিত্তিতে দেশ ও জাতিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার অপবাদ থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীর জন্য উপনির্বাচন পেছাতে ফের ইসিতে জাপা

ঢাকা অফিস ॥ যশোর-৬ এবং বগুড়া-১ আসনে উপনির্বাচনের তারিখ পেছাতে ফের নির্বাচন কমিশনে গেছে সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টি। ১৪ জুলাই অনুষ্ঠেয় ওই নির্বাচন পেছানের জন্য এর আগেও ইসিতে গিয়েছিল দলটি। এ ছাড়া বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা নির্বাচন পেছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা কামনা করেন সংসদে। ওইদিন এইচ এম এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী হওয়ায় এ নির্বাচন পেছানোর দাবি করছেন তারা। এজন্য গতকাল রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশানার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সাক্ষাত করে একটি প্রতিনিধি দল। সাক্ষাত শেষে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীর কথা বিবেচনা করে সিইসির কাছে আমরা অনুরোধ করেছি যাতে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু মাননীয় নির্বাচন কমিশনার বলেছেন কোনোভাবেই সংবিধান লঙ্ঘন করা যাবে না। তবুও বিষয়টি আমরা ভেবে দেখবো বলে আশ্বাস দেন।’ তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৯ জুলাই সিইসি বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছিলাম কিন্তু তার কোনো উত্তর আমরা পাইনি।’ ওই দুই সংসদীয় আসনে ২৯ মার্চ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত করা হয়। এখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে এ নির্বাচন করছে ইসি। ১৫ জুলাই বগুড়া-১ আসনের এবং ১৮ জুলাই যশোর-৬ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধান নির্ধারিত ১৮০ দিন শেষ হতে যাচ্ছে। তবে ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ইসি সচিব মো. আলমগীর জানান, ওই দুই আসনে নতুন করে কোনো মনোনয়নপত্র জমা বা দাখিলের প্রয়োজন নেই। যেসব প্রার্থী ছিলেন এবং যে অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল, সে অবস্থা থেকেই আবার কার্যক্রম শুরু হবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ৪ দফায় বলা হয়েছে- ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে ওই শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে ওই মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত – মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ রিজেন্ট হাসপাতালের অনুমোদনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার দুপুরে উত্তরার বাসা থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কোভিড-১৯ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় হটলাইন কল সেন্টার উদ্বোধন উপলক্ষে এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান হয়। পরে কল সেন্টার ০৯৬৭৮১০২১০২ নাম্বারে ফোন করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরেরে মধ্যে এখন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, মন্ত্রণালয় থেকে না বলা হলে তারা রিজেন্ট হসপিটালকে অনুমোদন দিতো না। অর্থাৎ মিনিস্ট্রি থেকে বলা হয়েছে যে, রিজেন্ট হসপিটালকে অনুমতি দিতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিৎ। কেন তিনি অনুমতি দিলেন সে জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে লজ্জা হয়, যখন দেখি প্রচ- দুঃসময়ের মধ্যে করোনা টেস্ট করতে গিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে এবং তার সঙ্গে জড়িত কে? আওয়ামী লীগ। গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলেছে। যে হারে লুটপাট করেছে সবাই দেখেছেন। সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই চরম বৈরিতার মধ্যে যখন কোনও সংবাদ প্রকাশ করা বিপদজনক তখনও তারা অনেকটা প্রকাশ করছেন। যার মাধ্যমে জনগণ জানতে পারছে আওয়ামী লীগ আমলে কিভাবে দুর্নীতি ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় বিএনপির দেওয়া দীর্ঘ-মধ্য-স্বল্প মেয়াদী প্রণোদনা প্রস্তাবনায় সরকার সাড়া না দেওয়ায় সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দেখেছি প্রথম দিকে যারা দিন আনে দিন খায় তারা কষ্ট করছে, এখন তো কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। একদিকে সব খুলে দেওয়ার পরে সংক্রমণ বেড়েছে, মানুষের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রামণ মোকাবিলায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নেয়া কর্মসূচিসমূহের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, গোটা পৃথিবীর সভ্যতা আগের অবস্থায় আর থাকবে না, পরিবর্তন হবে, হচ্ছে। কী বদলাবে, কীভাবে বদলাবে সেটা আমরা সবাই জানি না। কিন্তু পরিবর্তন আসছে। সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে চান তারা গুমের শিকার হচ্ছে। তাদেরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। ফেসবুকে মত প্রকাশ করার কারণে পলি নামে এক কিশোরীকে রাতের গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্রদলের সাবেক নেতা টিটো হায়দার ৪/৫দিন হলো গায়েব। কিন্তু সুস্পষ্টভাবে সবাই দেখছে যে, টিটো বেগমগঞ্জ থানাই আছে। অনেকই দেখেছেন। কিন্তু পুলিশ বলছে, সে তাদের কাছে নেই। ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালন অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুন অর রশিদ।

আলমডাঙ্গায় দলীয় নেতাকর্মিদের সাথে এমপি ছেলুন

সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলুন, মুখে মাক্স ব্যবহার করবেন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন চুুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক  ছেলুন। গতকাল রবিবার সকাল ১১টার দলীয় কার্যালয়ে প্রধান অতিথি এমপি ছেলুন বলেন- আমাদের সবাইকে  স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে শুধু দেশে নয় সারাবিশ্বে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। মহামারি করোনা ভাইরাস শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের ২ শত ১৬ দেশে তার থাবা বসিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন হানী ঘটেছে, সমগ্র পৃথিবি জুড়ে এখন একটিই আতংক বিরাজ করছে। গত কয়েক মাসে বাংলদেশে মহামারি কনোনায় প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ২ হাজার ৩শ জন মানুষ। আপনাদের কাছে অনুরোধ সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলুন, মুখে মাক্স ব্যবহার করবেন, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত  ধোবেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যাবহার করবেন। আমরা কিন্ত তৃতীয় ধাপে পা রেখেছি। এখন আরো সতর্ক হয়ে চলতে হবে।  পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা ভাইস  চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি দেলোয়ার  হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি, বিশিষ্ঠ শিক্ষানুরাগী ও ব্যবসায়ী আলহাজ¦ লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিয়ার রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আহসান মৃধা, সাবেক পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জেলা পরিষদের সদস্য আবু মুসা, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুকের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ডা. অমল কুমার বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান পিন্টু, রিপন আলী, প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান রিপন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে জয়নাল আবেদীন, মোল্লা কামরুজ্জামান শামিম, পৌর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সম্পাদকের মধ্যে সোনা উল্লাহ, কামাল  হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার মজিবুল ইসলাম, দ্বিনেশ কুমার, সিরাজুল ইসলাম লাভলু, পরিমল কুমার কালু ঘোষ,  দেলোয়ার হোসেন, আক্তারুজ্জামান, শাফায়েত আলী, আওয়ামীলীগ নেতা রিপন শাহ, শাহানুর, আজম , সিরাজুল ইসলাম, আরমান আলী, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম স্বপন, মিজানুর রহমান মিজান, সুমন, বাপ্পি, মনিরুল ইসলাম, বাপ্পি, নুর আলম, জীবন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল হক, পৌর ছাত্রলীগের সম্পাদক পারভেজ মিডেল, ছাত্রলীগ নেতা রকি আহম্মেদ, সাকিব, শিহাব, রোমান, অটাল, সজিব, টিটন প্রমুখ।

আবারও বাড়ছে সুরমার পানি

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া উজানের ঢলের পানি প্লাবিত হয়েছে নদী তীরবর্তী বাড়িঘর ও দোকানপাট। গতকাল রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা গত শনিবার সকালে ছিল ৫৪ সেন্টিমিটার। রাতে পানি কমে গেলেও গতকাল রোববার সকাল থেকে আবারও বাড়তে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতের মেঘালয় ও চেরাপঞ্জিতে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ও যাদুকাটা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯২ মিলিমিটার। সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত কম হলেও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাত থাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি নদীতে চলে আসায় বিভিন্ন নদ নদীর পানি বিপৎসীমা পেরিয়ে শহরে ও হাওরাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে সিলেট আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, গতকাল রোববার সকালে সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও আজ সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাবে। তখন ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টিপাত কমে যাবে এবং সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সিলেট আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জে আজ গতকাল রোববার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হবে এবং উজানের পানির ঢল অব্যাহত থাকবে। তবে আগামীকাল থেকে সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত কমে যাবে, তাই আশা করা যায় কাল থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সহিবুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও কমেছে।

ভার্চুয়াল কোর্টে এক লাখের বেশি শুনানি, জামিন প্রায় ৫৫ হাজার

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন সময়ে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেশের অধস্তন (বিচারিক) আদালতসমূহে গত ১১ মে থেকে গত ৯ জুলাই পর্যন্ত মোট ৪০ কার্যদিবসে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৭টি জামিন আবেদনের শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৬৭৭ জন আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৫ জুলাই থেকে গত ৯ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানিতে ১১ হাজার ৫১৪টি জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি করে ৪ হাজার ৯১৫ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া গত ৫ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬ হাজার ৫৮৮টি মামলায় আত্মসমর্পণ আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং মোট ২৩ হাজার ৩৯৬ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। গত ১১ মে থেকে গত ৯ জুলাই পর্যন্ত মোট ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের শিশু আদালতসহ অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানিতে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৩৭টি জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি এবং ৫৪ হাজার ৬৭৭ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে গত ১০ মে নিম্ন আদালতের ভার্চুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সে নির্দেশ অনুসারে জামিন আবেদন ও এ-সংক্রান্ত দরখাস্তের শুনানি নিয়ে অধস্তন আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি শুরু হয়। মহামারি করোনাকালে সাধারণ ছুটির মধ্যে গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এর দুই দিন পরে গত ৯ মে ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বা ক্ষেত্রমতে হাইকোর্ট বিভাগ, সময় সময়, প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) জারি করতে পারবেন। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাকটিস ডাইরেকশন জারি করে আদালতে ভার্চুয়াল শুনানির নির্দেশ দেন। সে অনুসারে ভার্চুয়ালি শুনানি হয়ে আসছে।

করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে  সেনাবাহিনী

করোনায় মানুষের দুর্দশা ও অসহায়ত্ব বদলে দিয়েছে জীবনের পথ ও দৃষ্টিভঙ্গি। সেনাসদস্যদের দূরদর্শিতা, অঙ্গীকার ও দেশপ্রেমের স্বীকৃত সাহসে বলীয়ান হয়ে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে মাননীয় সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশক্রমে কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, জীবাণুমুক্তকরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ নানাবিধ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। এসময় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে উৎসাহ প্রদান করেন সেনা সদস্যরা। এছাড়াও রাস্তায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল তদারকি, মার্কেট/দোকালগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক মন্দা হতে খাদ্য সংকট মেটাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনে খাদ্য/শস্য/ফলজ বীজ। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী দূর্যোগ  মোকাবেলার অংশ হিসেবে খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে  বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের ওপর হামলা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল বরিবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস আদর্শ পাড়ায় ফ্রি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক মোঃ মহিন ইসলামের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসী দল। ঘটনার বিবরণে হোমিও চিকিৎসক মাহিন জানাই সে প্রতি শুক্রবার তার বাড়ি থেকে ফ্রি  হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ঔষধ প্রদান করে থাকে দুস্থ রোগীদের। তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা অসুস্থ মহিলা ও তাদের সাথে আসা মেয়েদের সাথে এলাকার একদল বখাটে যুবক বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আমি গতকাল তাদের নিষেধ করি এই সমস্ত কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল সকালে হায়দার আলীর ছেলে রতন আলী, আনোয়ার হোসেন আনু, মুন্না শেখ,  রুবেল শেখসহ আরো কয়েকজন  লোহার রড বাস লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আমাকে উদ্ধার করে। এ সময় তারা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

খাশোগি হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন যুবরাজ সালমান – জাতিসংঘ কর্মকর্তা

ঢাকা অফিস ॥ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ড সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিচারবহির্ভূত হত্যা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। শনিবার তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ক্যালামার্ড বলেন, ‘আমি মনে করি, কে এই (হত্যাকান্ডের) আদেশ দিয়েছেন বা কারা এই এতে প্ররোচনা দিয়েছে তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি (সালমান) প্রধান সন্দেহভাজন। তবে, তিনি যে এই আদেশ দিয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আমার কাছে নেই।’ মানবাধিকার বিষয়ক এ আইনজীবীর মতে, ‘পরিস্থিতিগত প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, যুবরাজ সালমানের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এই হত্যাকা- ঘটতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস, এক বছরেরও বেশি আগে সরবরাহ করা তথ্য অনুসারে, সিআইএ’র (যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা) কাছে এই (সালমান জড়িত থাকার) তথ্য থাকতে পারে।’ গত ৩ জুলাই খাশোগি হত্যা মামলায় ২০ সৌদি কর্মকর্তার বিচারের শুনানি শুরু করেছে তুরস্কের একটি আদালত। অ্যাসগনেস ক্যালামার্ডের মতে, অভিযুক্ত ২০ সৌদি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে হলেও তুরস্কে শুরু হওয়া মামলার শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘তুরস্কের বিচার আসামিদের অনুপস্থিতিতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কারণ সবাই জানত, সৌদি আরব তুরস্কে আসামিদের বিচারের মুখোমুখি হতে দেবে না। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, বিচারে আসামিদের প্রতিনিধিত্ব করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা।’ খাশোগি হত্যাকান্ডে সৌদি আরবে হওয়া বিচারের চেয়ে তুরস্কের বিচার সুষ্ঠু হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা।

কুমারখালীতে অনুমোদিত উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভা ও দায়িত্ব গ্রহণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় কুমারখালী পাবলিক লাইব্রেরীর কাজী আখতার হোসেন গবেষনা সেন্টার মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অনুমোদিত নতুন কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বার্ধক্যজনিত কারণে অব্যাহতি দেওয়া সদস্যদের আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয়।  এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দুদক কর্তৃক অনুমোদিত উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আকরাম হোসেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রফিক বিশ্বাস, নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান, সাবেক সহ সভাপতি সরদার আব্দুল মালেক, বর্তমান কমিটির সদস্য হাবীব চৌহান, সদস্য জি, এম মাহবুব রহমান, সদস্য মো. আরিফুজ্জামান প্রমূখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি ইশরাত জাহান, উজির আলী সেলিম ও সদস্য শামীমা পারভীন। সভায় বার্ধক্যজনিত কারণে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল মুত্তালিব, সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ ও সরদার আব্দুল মালেক এর বিদায় ও নতুন অন্তর্ভুক্ত সদস্যদেরকে স্বাগত জানিয়ে বরণ করা হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার ও সচেতন করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।

কুমারখালীর সান্দিয়ারায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুন

বিল্লাল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী পাল্টা মামলার বাদী!

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সান্দিয়ারা গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিল্লাল হোসেন নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিল্লাল হোসেন সান্দিয়ারা গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি গত ৭ জুলাই সকালে সান্দিয়ারা বাজারে প্রতিপক্ষ খোরশেদ আলম মামুন ও তার লোকজনের অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হন পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হেলাল উদ্দিন স্বপন ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩০/৪০ নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে প্রতিপক্ষের লোকজন পাল্টা মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই জানিয়েছেন ডাসা মধ্যপাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে খোরশেদ আলম মামুনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বিল্লাল হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। প্রকাশ্যে দিবালোকে জনসমক্ষে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হলেও হত্যাকারী এবং তাদের সহযোগীরা পুরো ঘটনাকে উল্টো খাতে প্রবাহিত করতে হত্যাকান্ডের শিকার ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্খীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। সান্দিয়ারা গ্রামের এসএম শাজাহান নামে এক ব্যক্তি জানান, খোরশেদ আলম মামুন, শরিফুল ইসলাম, সবুজ হসেন, তৈবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিল্লাল হোসেনসহ নিরীহ ব্যক্তিদের উপরে হামলা চালায়। হামলায় বিল্লাল হোসেন মারাত্মকভাবে আহত হন। তিনি বলেন এই হত্যাকান্ডের পিছনের কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ যে ব্যক্তি নিহত হয়েছে তার আত্মীয়-স্বজনের নামে উল্টো মামলা দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এখানে কার স্বার্থ রক্ষা হয়েছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় আরো অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে খোরশেদ আলম মামুন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে আসছেন। মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঘটনায় ওই দিন রাত সাড়ে ১২টায় নিহতের ছোট ভাই হেলাল উদ্দিন স্বপন বাদী হয়ে কুমারখালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ০৬/১৫২। এর ঠিক ১৫ মিনিট পর একই থানায় রাত ১২:৪৫ মিনিটে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আরেকটি পাল্টা মামলা করেন। মামলা নম্বর ০৭/১৫৩। ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দায়ের হওয়া দুটি মামলার নথিপত্র ঘাটতে গিয়ে এবং ঐদিন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে লোমহর্ষক ঘটনা উঠে আসছে। নিহতের ছোট ভাই হেলাল উদ্দিন স্বপনের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নং আসামী শরিফুল ইসলাম থানায় গিয়ে কিভাবে মামলা দায়ের করলেন এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে বলছেন নিহত বিল্লাল হোসেনের শরীরে কিসের আঘাতের চিহ্ন ছিল, কিসের আঘাত সে মৃত্যুবরণ করেছে এই বিষয়গুলা নিশ্চিত হওয়া এখন খুব জরুরী। এছাড়াও নিহতের পরিবারের অভিযোগ পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যাতে কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়, কারণ আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন এবং সংশয় রয়ে গেছে। সবার আগে নিশ্চিত হতে হবে বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু হল কিভাবে। পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং এলাকায় জনপ্রিয় মুখ সামিউর রহমান সুমন এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত যে ব্যক্তি নিহত হয়েছে তিনি তার খুব কাছের একজন শুভাকাঙ্খী। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা বিল্লাল হোসেন প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। এই কারণে প্রতিপক্ষরা বিল্লালকে হত্যা করেছে। সুমন জানান, এরকম ন্যক্কারজনক একটি হত্যাকান্ডের পর প্রতিপক্ষরা আমাকেই এক নম্বর আসামি করে একটা মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। শুধু তাই নয় এই চক্রান্তের সাথে আরও অনেকে জড়িত যাদের নাম এই মুহূর্তে আমি প্রকাশ করতে চাই না। আমার কাছে সকল তথ্য প্রমাণ রয়েছে। বিল্লালকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, কারা হত্যা করেছে, কাদের সহযোগিতা এই হত্যাকান্ড ঘটেছে আমি সব কিছুর খোলস উন্মোচন করব।

বিষয়টি নিয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, কুমারখালীর রাজাপুর এবং ডাসা গ্রামের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিল। এর সূত্র ধরে গত ৬ জুলাই সকালে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘটনাটি জানার পর এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ ফাঁকা রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ চলাকালে বিল্লাল হোসেন নামে একজন মারাত্মক আহত হন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ময়নাতদন্ত হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে আমরা প্রকৃত ঘটনাটা জানতে পারবো।

নিহত বিল্লাল হোসেনের ভাই হেলাল উদ্দিন স্বপন বাদী হয়েছে মামলা করেছেন সেই মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি শরিফুল ইসলাম। নিহতের ভাই মামলা দায়ের করেছে রাত সাড়ে বারোটার সময় তার ১৫ মিনিট পর আসামি শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন আপনার থানায়। থানা পুলিশ এই বিষয়গুলো জানতো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, এই বিষয়গুলো তো মামলার নথিতেই উল্লেখ রয়েছে। কোন ব্যক্তি নিজে উপস্থিত না হয় অন্য কোন বাহকের মাধ্যমে তার অভিযোগ তিনি থানায় জমা দিতে পারেন। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে তিনি এটা স্বীকার করেন শরিফুল ইসলাম তার ভাগিনাকে না পাঠিয়ে যদি নিজে এসে থানায় অভিযোগ দিতেন অবশ্যই থানা পুলিশ তাকে আটক করতো। কারণ নিহতের ভাই বাদী হয়ে যে মামলাটি করেছিলেন সেই মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি শরিফুল ইসলাম। এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, বিল্লাল হত্যাকান্ডের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

আলমডাঙ্গার জেহালায় আইন শৃংখলা সভায় এসপি জাহিদুল ইসলাম

পুলিশ জনগণের সেবক, শাসক নয়

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার জেহালা ইউনিয়নে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল ৪টায় জেহালা ফুটবল মাঠে আলমডাঙ্গা থানা আয়োজিত অনুষ্ঠিত আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম। তিনি  বলেন, আমাদের সমাজে অর্ধেক নারী, অর্ধেক পুরুষ, তাই নারীদের পিছনে ফেলে রেখে সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান সমাজে এখনও পুলিশ দেখলে গ্রামের মেয়েরা ভয়ে মুখ লুকায়, কিন্তু পুলিশ  তো বাঘ, ভাল্লুক নয়, আপনাদেরই সন্তান। আপনারা যদি পুলিশকে সহায়তা না করেন তাহলে আমরা সামাজিকভাবে আপনাদের উন্নয়নমুলক কাজে পাশে থাকব কেমন করে। মনে রাখবেন পুলিশ জনগনের সেবক, আমরা শোষক নয়,আমরা রাতদিন আপনাদের সেবা দিয়ে থাকি,আপনার ছেলে চাকরি পেলে তার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আমরা দেই, আপনাদের ইউনিয়নের মাদার হুদা গ্রামে ডাকাতি হয়েছিল, আমরা তদন্ত করেছি, কাউকে অহেতুক হয়রানি করি নাই, ধরার পর অনেকে তদবির করেছে, এখানে হান্নান সাহেব বসে আছেন, উনিও গেছেন, পৌর মেয়র সহ অনেকেই আমাদের কাছে গেছেন, আমরা কিন্ত সঠিক তদন্ত করে যারা প্রকৃত দোষি তাদের ছাড়া কোন ভাল মানুষকে হয়রানি করি না। সেই মামলার প্রকৃত আসামিকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিলাম।  মনে রাখবেন সমাজে মীর জাফরও আছে ভাল মানুষ আছে। আপনাদের বিভিন্ন কাজে থানায় যেতে হয়, জিডি করেন, মামলা করেন, অভিযোগ করেন যে কোন কাজে আমরা আপনাদের  সেবা দিয়ে থাকি, যদি সেবা দিতে কেউ আপনাদের হয়রানি করে আমাকে জানাবেন। আপনাদের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়, তাই আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হিসেবে আপনাদের  সেবা করব।  আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কনক কুমার দাস, জেহালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসানুজ্জামান হান্নান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান মাষ্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন আহমেদ, হেলাল উদ্দিন, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা। থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদুর রহমানের উপস্থাপনায় আরও উপস্থিত ছিলেন  জেহালা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আছের আলী,  এএস আই ইলিয়াস  হোসেন প্রমুখ। সভা শেষে জেহালা ইউনিয়ন ১০নং বিট পুলিশিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মোঃ

জাহিদুল ইসলাম।

 

সংক্রমণে ফের নতুন রেকর্ড ভারতে, একদিনেই আক্রান্ত ২৮৬৩৭

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণে ফের নতুন রেকর্ড হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে সর্বাধিক সংক্রমণ হয়েছে। দেশটিতে শনিবার সকাল ৮ থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৮ হাজার ৬৩৭ জন শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারতে কোভিড রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি। ভারতীয় এ সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৬৩৭ জন। দেশটিতে একদিনে আক্রান্তের হিসাবে এটিই সর্বোচ্চ। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫৩। দেশটিতে ইতিমধ্যেই করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ৬৭৪ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৫৫১ জনের। তবে সংক্রমণ বাড়লেও সুস্থ হয়ে ওঠার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৯ হাজার ২৮৬ জন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সংক্রমণের দিক থেকে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬০০। এর পরই রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ২২৬। এরপর রয়েছে দিল্লি। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ৯২১ জন। এরপর রয়েছে গুজরাট (৪০,৯৪১), কর্নাটক (৩৬,২১৬), উত্তরপ্রদেশ (৩৫,০৯২), পশ্চিমবঙ্গ (২৮,৪৫৩)।

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ভার্চুয়াল কোর্টেই নির্ভর করতে হবে – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ভার্চুয়াল কোর্টের ওপর নির্ভর করে চলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সেক্ষেত্রে সারাদেশের আইনজীবীদের পর্যায়ক্রমে ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল রোববার ‘ভার্চুয়াল আদালত পদ্ধতি ব্যবহারে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে এবং রুল অব ল প্রোগ্রাম, জিআইজেড বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায়  অনলাইনে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। আনিসুল হক বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি বাড়তে থাকলে এই ভার্চুয়াল কোর্টের ওপরই নির্ভর করে চলতে হবে।’ তাই আইনজীবীদের গুরুত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা যদি ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতিতে এগিয়ে না যাই, তাহলে আমরাও পিছিয়ে থাকবো, সমালোচনার সম্মুখীন হবো।’  আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে ই-জুডিসিয়ারি চালুর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছিল। কিন্তু ই-জুডিসিয়ারির নতুন বিষয়গুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের দরকার ছিল। ঠিক সে সময়ে মার্চ মাসে দেশে করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেলো এবং সরকার করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে দেশের সব অফিস বন্ধ করে দিলো। তখন প্রধান বিচারপতিও আদালত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, প্রায় দুই মাস বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থীরা অত্যন্ত কষ্টে দিনযাপন করছেন। অন্যদিকে এও দেখেছি, আমাদের কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতা হলো ৪১ হাজার ৩১৮ জনের। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাষ্য মতে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশব্যাপী কারাবন্দির সংখ্যা ৯৩ হাজার বলে জানতে পারি। এ কারণে কারাগারে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে আমরা বিপাকে পড়ে যেতাম। তাই সে পরিস্থিতি বিবেচনায় করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে আদেশ দিলেন, ভার্চুয়াল কোর্ট নিয়ে আমাদের যে পরিকল্পনা তা সীমিত পরিসরে হলেও চালু করতে। কেননা, কারাগারের যে পরিস্থিতি তাতে অন্তত পক্ষে জামিন আবেদন ও সে আবেদনের শুনানির ব্যবস্থা না করলে, এই সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মে আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০ জারি করা হলো।’ ভার্চুয়াল কোর্টের সফলতা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘অন্ততপক্ষে ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর মধ্য দিয়ে কারাগারের ওপর চাপ আমরা কমিয়ে আনতে পেরেছি। আদালত সচল করতে পেরেছি। বিশ্বের অনেক আদালত করোনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালত চালাতে পেরেছি। কিন্তু আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ ও ভৌত কাঠামো ছাড়া এই আদালত পূর্ণাঙ্গভাবে চালানো সম্ভব না।’ ‘তাই ভার্চুয়াল কোর্টের সাফল্য ধরে রাখতে আজকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের  এ প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে আইনজীবীদের ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা হবে।’ আনিসুল হক বলেন, ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ এ যে প্রাকটিস ডাইরেকশন দেওয়া আছে, তার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ প্রয়োজনে বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এর ব্যবহার করতে পারবে। স্বাভাবিক আদালত স্বাভাবিকভাবে চলবে। কিন্তু সেখানে বিশেষ প্রয়োজনে এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এই ভার্চুয়াল আদালত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। যখন ভৌত কাঠামো এবং প্রশিক্ষিত আইনজীবী তৈরি করতে পারবোÑ তখন আদালতের ও আইনজীবীদের ইচ্ছে পোষণের মাধ্যমে ভার্চুয়াল আদালতকে আরও বিস্তার লাভের জন্য চেষ্টা করা হবে। তাই প্রশিক্ষণ এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে ভার্চুয়াল কোর্টকে আমাদের গ্রহণ করে নিতে হবে।’ পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদীসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা আইনজীবী সমিতিতে অনলাইনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় অনুষ্ঠানে আরও  উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার।

বিদেশ গমনে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক

ঢাকা অফিস ॥ বিদেশে গমনকারী সব বাংলাদেশিকে এখন থেকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে হবে। সরকার অনুমোদিত করোনা টেস্টিং সেন্টার থেকে করোনা পরীক্ষা করে এ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা যাবে। গতকাল রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আবদুল মোমেনের সভাপতিত্বে এক বিশেষ ভার্চুয়াল আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের সুবিধার্থে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দেওয়ার বিষয়ে এ সভায় সুপারিশ করা হয়। তা ছাড়া কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গমনকারীদের করোনা পরীক্ষার সুবিধার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নিবেদিত করোনা টেস্টিং সেন্টার স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মুহিবুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সভায় সংযুক্ত ছিলেন।

বিষোদগার ছাড়া এ সংকটে কী করেছে বিএনপি প্রশ্ন কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ বিষোদগার ছাড়া এ সংকটে কী করেছে বিএনপি এমন প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব বরাবরের মতো অভিযোগ করেছেন জনগণের জীবন জীবিকার ওপর সরকারের নাকি কোনো দায়দায়িত্ব নেই। আমি প্রশ্ন রাখতে চাই- জীবন ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে শেখ হাসিনা সরকার যখন নানামুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন আপনারা সমালোচনা করেছিলেন কেন? লকডাউনের জন্য চাপ তৈরি করে এখন তিনি জনগণের জীবিকার কথা বলছেন। বিএনপির সুবিধাবাদী রাজনৈতিক চরিত্র এবং ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ইতোমধ্যে জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকারের অবহেলা আর অজ্ঞতার জন্য নাকি পরিস্থিতি এমন হয়েছে। আমি জানতে চাই করোনা মহামারিতে বিশ্বের কোন দেশ বিদ্যমান সুবিধা দিয়ে সফলতা পেয়েছে? কোন দেশ হিমশিম খাইনি? সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে জনগণকে সাথে নিয়ে সংকট মোকাবেলার। আপনারা তো বলেছিলেন রাস্তায় রাস্তায় মানুষ মরে পড়ে থাকবে। সেটি এখনো হয়নি বলে কি আপনাদের গাত্রদাহ? সরকার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা বিষোদগার ছাড়া এ সংকটে কী করেছেন? সরকারকে সহযোগিতা দিয়েছেন জনকল্যাণে? যাদের সময় দেশ দুর্নীতিতে অতলে ছিল, দুর্নীতিবাজদের ছিল অভয়ারণ্য, যারা নিজেদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭-ধারা বিভক্ত করে দুর্নীতিবাজদের নেতৃত্বে এনেছে। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতির বিচার করেনি- তাদের মুখে দুর্নীতির কথা বলা ভূতের মুখে রাম নাম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সততা সর্বজন বিদিত। তিনি পেরেছেন নিজ উদ্যোগে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাতে। শুদ্ধি অভিযান এগিয়ে নিতে। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। বিএনপির দুর্নীতি লালন, সৃজন, সংক্রমণ ও বিকাশ ছাড়া আর কী করেছে? জনগণের কাছে আজ সবই দিবালোকের মতো পরিষ্কার।

সাহেদকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, অন্যথায় গ্রেফতার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রিজেন্ট গ্র“পের চেয়ারম্যান সাহেদকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, অন্যথায় গ্রেফতার করা হবে। তার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেই। গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ‘সাহেদ এখন কোথায় আছেন’ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম কথা সাহেদ কোথায় সেটা সাহেদ জানে। আমাদের পুলিশ এবং র‌্যাব সে (সাহেদ) কী ধরনের অন্যায় করেছে সেগুলো ইনকোয়ারি করছে। তদন্ত রিপোর্ট আসলে আমি আপনাদের জানাতে পারব তার অন্যায়ের গভীরতাটা কতটুকু।’ তিনি বলেন, সে যে অন্যায় করেছে তার জন্য ইতোমধ্যে র‌্যাব ব্যবস্থা নিয়েছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে। সে যেখানেই থাকুক তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, না হয় পুলিশ তাকে ধরে ফেলবে। ‘সে বিভিন্ন পত্রিকা বের করার অনুমতি নিলে সেক্ষেত্রে সিটিএসবি (নগর পুলিশের বিশেষ শাখা) রিপোর্ট দেয়। সেক্ষেত্রে একটা দুর্বলতা ছিল কি-না। তাছাড়া অভিযোগ রয়েছে, উত্তরা থানা সবসময় তাকে শেল্টার দিয়ে আসছিল। এগুলো আপনারা আমলে নিচ্ছেন কি-না’- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের এ উদ্ঘাটনের পর কেউ তাকে শেল্টার দেয়নি। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাকে ধরেছে। সে কী করেছে সেগুলো র‌্যাব ও পুলিশ তদন্ত করছে। তাকে অবশ্যই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’ ‘সে কি দেশে আছে নাকি বাইরে চেলে গেছে’ এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বাইরে যাওয়ার তো কোনো উপায় নেই। তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে, বর্ডার যাতে ক্রস করতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা খুঁজছি। আশা করি, শিগগিরই তাকে ধরতে সক্ষম হবো।’ নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ, করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, চিকিৎসায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান কার্যালয়, উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এরপর থেকে গাঢাকা দিয়েছেন হাসপাতালের মালিক সাহেদ। সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। সাহেদ নিজেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য বলে পরিচয় দিতেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাহেদ একসময় বিএনপি করতেন। এছড়া বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার তোলা ছবি ভেসে আসছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা- সমালোচনা। গত ৬ জুলাই উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানে নানা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে আটজনকে আটক করে র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এতে গত সোমবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা থেকে আটক আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ৯ জনকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার নামে প্রতারণা করা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করেছে তদন্তকারী দল। হদিস মিলেছে তার বিরুদ্ধে আরও ২৩ মামলার। মোট ৫৬টি মামলার আসামি প্রতারক সাহেদ।

 

করোনায় মারা গেলেন আরও ৪৭ জন

ঢাকা অফিস ॥ দেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মারা গেলেন দুই হাজার ৩৫২ জন। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও দুই হাজার ৬৬৬ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ জনে।  করোনাভাইরাস বিষয়ে গতকাল রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি ৭৭টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ হাজার ২১০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নয় লাখ ৪০ হাজার ৫২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হলো। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও দুই হাজার ৬৬৬ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৭ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৩৫২ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও পাঁচ হাজার ৫৮০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৩ হাজার ৬১৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৪৭ জন মারা গেছেন, তাদের ৩৬ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। এদের মধ্যে ১০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ২০ বছরের বেশি বয়সী দুইজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব চারজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৫ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৪ জন, সত্তরোর্ধ্ব ছয়জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী দুইজন ছিলেন। ২৩ জন ঢাকা বিভাগের, ছয়জন চট্টগ্রাম বিভাগের, চারজন রাজশাহী বিভাগের, চারজন সিলেট বিভাগের, ছয়জন খুলনা বিভাগের, দুইজন রংপুর বিভাগের এবং দুইজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। ৪৩ জন মারা গেছেন হাসপাতালে এবং চারজনের মৃত্যু হয়েছে বাসায়। শনাক্ত, সুস্থতা ও মৃত্যুর হার ঃ গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৫০ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। বুলেটিনে ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। ঃ বৈশ্বিক পরিস্থিতি গোটা বিশ্বকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে করোনাভাইরাস। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন এক কোটি ২৮ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার প্রায়। তবে প্রায় পৌনে এক কোটি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।