করোনায় মেডিকেল টেক্সটাইল বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে – পরিকল্পনামন্ত্রী

 

ঢাকা অফিস ॥ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) অতিমারি বাংলাদেশের জন্য পিপিই ও মাস্কের মত মেডিকেল টেক্সটাইলে রফতানি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বেসরকারিখাতের উদ্যোক্তাদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহবান জানান। গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনার সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিল্ড চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ,চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি রাশেদ মাকসুদ খান, হোসেন খালেদ, এমএইচ রহমান, আফতাব-উল ইসলাম, বেনজীর আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ও মো. সবুর খান বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি শামস মাহমুদ। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এবারের বাজেট অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবসাবান্ধব। বাজেটে কর্পোরেট কর ও ব্যাক্তি কর রেয়াতসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আপনারা আরো সুযোগ পাবেন। তিনি কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও বেসরকারিখাতকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিশে^র অনেক দেশের অবকাঠামোখাতের উন্নয়নে বেসরকারিখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে। তিনি দেশে যোগাযোগ,বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য অবকাঠামোখাতের উন্নয়নে বেসরকারিখাতের উদ্যোক্তাদের বড় বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহবান জানান। পরিকল্পনামন্ত্রী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ব্যাংকিং খাতে আরো ডিজিটাইলাইজেশন এখন সময়ের দাবী। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের জনগনের ব্যাংক হিসাব না থাকায় সরকার করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সবার কাছে নগদ আর্থিক সহায়তা পৌঁছাতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ সম্পর্কে প্রথমদিকে ধারণা না থাকায় স্বাস্থ্যখাত কিছুটা অগোছালো ছিল, তবে সময়ের ব্যবধানে আমরা সেটা কাটিয়ে উঠেছি। এখন আমরা প্রস্তুত। তিনি জানান,আশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হলে,বাংলাদেশকে আশিয়ানের পর্যবেক্ষক মর্যাদা অর্জন করতে হবে। তিনি প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। মান্নান বলেন, কোন অসাধু ব্যক্তির অসৎ কাজের জন্য দেশ-বিদেশে ইমেজ যেন নষ্ট না হয়, সে দিকে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেবল সরকার নয়, বেসরকারিখাতকেও আরো মনোযোগি হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ কোভিড পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন এবং অর্থনীতির ২০টি খাতের বর্তমান অবস্থা ও এর উন্নয়নে সুপারিশ দেন। তিনি বলেন, চলমান কোভিড অতিমারি পরিস্থিতিতে জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখতে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাই কোভিড-উত্তর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সরকারের যথাযথ নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য। তিনি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য উৎসে কর কমিয়ে শুন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। চীন থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সুনিদিষ্ট রোডম্যাপ ও কৌশল এখনই নেয়া জরুরী বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডিসিসিআই সভাপতি জানান, গত অর্থবছরে রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ফিরে পাওয়া,অশুল্ক বাধা দূর ও সম্ভাবনাময় অংশীদারদের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কোভিডের কারণে এমএসএমই খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ব্যাংক হতে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় তারা ঋণ পাচেছ না, এ অবস্থা উত্তরণে স্বল সুদে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম ও রিফাইন্যান্সিং স্কিম আরো বেশি হারে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, কোভিডের ফলে বৈশি^ক চাহিদা ও সাপ্লাই দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তিনি অর্থনীতির এ অবস্থা উত্তরণে স্বল ও মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি কর্পোরেট কর, টার্ণওভার কর প্রভৃতি কমানোর প্রস্তাব করেন এবং কোম্পানি আইন যুগোপযোগি করার ওপর গুরুপত্বারোপ। তিনি কোভিড মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সমূহের সংষ্কার ও বন্ড মার্কেট আরো কার্যকরের উপর জোরারোপ করেন। আবুল কাসেম খান বলেন,দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরো বাড়ানোর জন্য আমাদের অবশ্যই সহায়ক করা কাঠামা থাকতে হবে, যা কিনা এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উদাহরণ তৈরি করবে। তিনি সরকার ঘোষিত প্রণোদনার প্যাকেজ হতে বিশেষ করে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাবৃন্দ যেন ঋণ সহায়তা পেতে পারেন, সে ব্যাপারে সরকারের আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ়করণ এবং বিভিন্ন দেশগুলোর সাথে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিগুলো আরো কার্যকরের প্রস্তাব করেন। হোসেন খালেদ বলেন, ব্যাংক খাত হতে সরকারের বেশিমাত্রায় ঋণ নেওয়ার প্রবনতা বেসরকারীখাতে ঋণ প্রবাহকে কমিয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, শিল্পখাত বর্তমান কর্মসংস্থান ধরে রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং এ অবস্থা মোকাবেলায় ব্যাংক ও বেসরকারিখাতকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। আসিফ ইব্রাহীম দেশের বন্ড মার্কেট আরো কার্যকর করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পসমূহে অর্থায়ন নিশ্চিতকল্পে সেগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার প্রস্তাব করেন।

 

করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে ৩৩০০ কোটি রুপি দিলেন লক্ষ্মী মিত্তল

ঢাকা অফিস ॥ করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করার জন্য ৩৩০০ কোটি রুপি দান করলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তল। ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি দিয়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভ্যাকসিনোলজি বিভাগকে। বর্তমানে বিশ্বের যে কটি ভ্যাকসিনকে নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন। সেই ভ্যাকসিনের কাজ যাতে দ্রুত গতিতে চলে, সে জন্য এই অনুদান দিয়েছেন লক্ষ্মী মিত্তল। খবর ইকোনমিক টাইমসের। লক্ষ্মী মিত্তলের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, অক্সফোর্ডের এই বিভাগটি জেনার ইনস্টিটিউটের অন্তর্গত। লক্ষ্মী মিত্তলের ওই অনুদানের পর ইনস্টিটিউটের নামও পালটে দেওয়া হয়েছে। নতুন নাম হয়েছে লক্ষ্মী মিত্তল অ্যান্ড ফ্যামিলি প্রফেসরশিপ অফ ভ্যাকসিনোলজি। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে অক্সফোর্ড ও ইউকে ইনস্টিটিউট ফর অ্যানিম্যাল হেলথের যৌথ অংশীদারিতে তৈরি হয়েছিল জেনার ইনস্টিটিউট। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কভিড টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্বে রয়েছে। করোনাভাইরাসকে কাবু করতে এই ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, লন্ডনের ১০ হাজার ২৬০ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা ও করোনা বিধ্বস্ত ব্রাজিলে ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল হয়ে গিয়েছে। ভারতসহ অন্যান্য কম ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোর জন্য একশ কোটি ডোজ তৈরি করতে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া।

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান রিজভীর

ঢাকা অফিস ॥ বন্যাদুর্গত মানুষদের সাহায্যের জন্য সকারের কোনো তৎপরতা নেই অভিযোগ করে অবিলম্বে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষকে বাঁচাতে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী। ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সিলেট ও সুমানগঞ্জ জেলায় শত শত কিলোমিটার সড়ক বিপর্যস্ত হয়ে কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁদপুর শহরও এখন বিপজ্জনক অবস্থায়। এ ছাড়া ভারতের গজলডোবায় সবকটি গেট খুলে দেয়ায় এবং বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধায় হু হু করে বন্যার পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে উজানের পানিতে ফরিদপুরসহ দেশের মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় অসংখ্য মানুষ এখন পানিবন্দী। কিন্তু বন্যাকবলিত এলাকায় সরকার সম্পূর্ণ নির্বিকার। বন্যা উপদ্রুত মানুষের সাহায্যের জন্য সরকারের কোনো তৎপরতা নেই। তিনি আরও বলেন, এমনিতেই করোনার অভিঘাতে বিপর্যস্ত দেশ তার ওপর ধেয়ে আসার বন্যার কবলে জনজীবন এখন চরম ভোগান্তির মধ্যে। অবিরাম বর্ষণে গরিব মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মানুষ। আমরা অবিলম্বে বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষকে বাঁচাতে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি। সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, আওয়ামী জাহেলিয়াতের এই অন্ধকার সময়ে ক্ষমতাসীন দলের সরকার ও প্রশাসনের প্রশ্রয়ে জেকেজি হেলথ কেয়ার কিংবা আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য শাহেদ চক্রের দৌরাত্ম্য শুধুমাত্র নগদ অর্থ কেলেঙ্কারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এরা মানুষের জীবন নিয়েই ব্যবসা শুরু করে দিয়েছিল করোনা পরীক্ষার নকল সনদ দিয়ে। তাদের এই ব্যবসার বলি হচ্ছে জনগণ। তিনি বলেন, বর্তমান আমলে দুর্নীতি-অনিয়ম-চুরি-বাটপারি এখন যেভাবে নির্বিঘেœ অবাধ হয়েছে, আওয়ামী শাসন ব্যতিরেকে কখনোই এমন ছিল না। সাহেদরাই বর্তমান আওয়ামী শাসনের নমুনা। করোনার আঘাতে মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত। জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে কাতরাতে কাতরাতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছে মানুষ। প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। কত মানুষ মারা যাচ্ছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নিয়েও জনমনে সন্দেহ রয়েছে। এই দুর্বিষহ সংকটের মধ্যেও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি দলের লোকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হঠাত চীনের ‘নরম সুর’ কেন

ঢাকা অফিস ॥ চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যখন অনেকটাই শক্ত অবস্থান নিতে শুরু করেছে, এর মধ্যেই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ওয়াশিংটনকে লক্ষ্য করে গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘ যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা কিছুটা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৭৯ সালে নতুন করে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এতটা খারাপ ও বিপজ্জনক আর কখনোই হয়নি। কিন্তু এ উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি এ পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে বর্তমান প্রশাসন চীন বিষয়ে যে কৌশল নিয়েছে তা ‘অনেক ভুল ধারণা ও মিথ্যার’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। ওয়াং বলেন, ‘অমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ঠা-া মাথায় চীনের ব্যাপারে নিরপেক্ষ, বাস্তবমুখী ও যৌক্তিক নীতি নেবে।’ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন এবং তার পশ্চিমা কিছু মিত্র দেশ যখন শি জিন পিংয়ের চীনকে ‘চরম উদ্ধত’ ও ‘উচ্চাভিলাষী’ হিসেবে উপস্থাপনের অব্যাহত চেষ্টা করে চলেছে, সে সময় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের আপসমূলক বক্তব্য কেন, তা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে। ইংরেজি দৈনিক দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে দেওয়া এক মন্তব্যে সেখানকার চীনা একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের গবেষক লু শিয়াং বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত চীনা পররাষ্ট্র দপ্তর এসব বক্তব্য দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে চীন ওয়াশিংটনকে কিছুটা শান্ত রাখতে চাইছে। চীনের জিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলিম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার চীনা কমিউনিস্ট পার্টির যে চারজন নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তাদের একজন পার্টির শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী কমিটি পলিটব্যুরোর অত্যন্ত ক্ষমতাধর একজন সদস্য। এত উচ্চ পর্যায়ের কোনো নেতার ওপর এর আগে কখনই নিষেধাজ্ঞা চাপায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

করোনায় অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা ভালো – মূখ্য সচিব

 

ঢাকা অফিস ॥ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণসহ সব দিক থেকে পৃথিবীর অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা ভালো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার খুবই কম। দিন দিন যা সংক্রমিত হচ্ছে তাও ঘনবসতি ও জীবন যাপনের তাগিদে বের হওয়ার জন্য অসাবধানতার কারণে হচ্ছে। গতকাল শনিবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের সচিব ও পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামছুর রহমান ও বরিশাল বিভাগের নবাগত বিভাগীয় কমিশনার অভিতাভ সরকার। এসময় বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান, শেখ হাসিনা সেনানিবাসের কমান্ডিং কর্মকর্তা শাহরিয়ার, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম শিপন, হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মতিউর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি আবদুল মান্নান, পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড গোলাম সরোয়ারসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে কঠোর হয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং খাদ্য উৎপাদনসহ সব দিকে সমান দৃষ্টি দিতে হবে। পটুয়াখালীতে আরটি পিসিআর ল্যাব, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও সদর হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সব জায়গায় সুনজর দিয়েছেন। সবদিকে তিনি দৃষ্টি রেখে গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে আরটি পিসিআর ল্যাব, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও সদর হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন। তিনি বলেন, পটুয়াখালী জেলায়ও দ্রুত আরটি পিসিআর ল্যাব, সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও সদর হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা হবে, তবে সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তিনি বলেন, সব কিছুর সঙ্গে দক্ষ জনবলের অভাব থাকায় কিছুটা ধীর গতি হচ্ছে। জেলাবাসীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি বলেন, পটুয়াখালী জেলা বর্তমানে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলার মধ্যে অন্যতম, এ জেলায় মেগা মেগা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ও চলমান থাকায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সবার দৃষ্টি রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে সবাইকে সচেতন ও সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও কাজ সম্পন্ন করার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সভায় জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ জেলার বর্তমান করোনা পরিস্থিতি, আপডেট ও কর্মপরিকল্পনা সমূহ মাল্টিমিডিয়ায় উপস্থাপন করেন।

গাংনীতে বন্ধুর দেয়া কোমল পানি খেয়ে যুবক অজ্ঞান

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে শাহারুল ইসলাম (২২) নামের এক যুবক কোমল পানীয় (এলকোহল দ্রব্য) পান করে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। যুবক শাহারুল গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের মোমিনুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় একই উপজেলার রামনগর গ্রামের হোসেন শাহের ছেলে  ও শাহারুলের বন্ধু মোখলেছুর রহমানকে দায়ি করে গতকাল শনিবার দুপুরে গাংনী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন শাহারুলের বাবা মোমিনুল ইসলাম। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শাহারুল ইসলাম দু’বছর পূর্বে বিয়ে করেন রামনগর গ্রামের বুলবুল হোসেনের মেয়ের সাথে। শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সূত্র ধরে রামনগর গ্রামের মোখলেছুর রহমানের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্বের কারণে গত শুক্রবার বিকেলে শাহারুল রামনগর গ্রামে গিয়ে মোখলেছুর রহমানের সাথে ঘোরাফেরা করেন। এক পর্যায়ে মোখলেছুর তার কাছে থাকা একটি প্লাষ্টিক বোতলে কোমল পানি শাহারুলকে খাইতে দেন। ওই পানি খাওয়ার পরই শাহারুল অজ্ঞান হয়ে যান। এসময় শাহারুলের কাছে থাকা ১১ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান মোখলেছুর। পরে স্থানীয় লোকজন শাহারুলকে উদ্ধার করে গাংনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর রহমান জানান অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দোষি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারকে বিনামূল্যে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের আহ্বান

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ সুরক্ষা সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণের দাবি করেছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের করোনা ভাইরাসের সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ দাবি করেন। তিনি বলেন, এ দুর্যোগকালে বাজারে দুই নম্বর সুরক্ষা সামগ্রী সয়লাব হয়ে গেছে। সরকারের কাছে আমরা দাবি করছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে কেন সুতি মাস্ক বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে না? যে মাস্ক প্রয়োজনে ব্যবহার করার পর ধুয়ে ফেলা যাবে। বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেন পাওয়া যাবে না? এগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করতে হবে এটা সরকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করছি সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, দলিত শ্রমিকদের জীবন অচল হয়ে গেছে। আমরা এ সভা থেকে এ শ্রমিকদের জন্য যথাযথ সহযোগিতা করতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। আমাদের দাবি হলো সরকার সম্প্রতি একটি বাজেট ঘোষণা করেছে, যাতে আমরা মনে করি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিশেষ করে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবনের জন্য খাওয়া ও থাকা নিশ্চিত করা। এ কাজটি এখনো হয়নি তাই যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। মানববন্ধনে বিডিইআরএমের প্রধান নিবার্হী জাকির হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিডিইআরএমের মনি রানী দাস মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন।

নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই – সিইসি

ঢাকা অফিস ॥ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা দলকে সুবিধা দিতে নয়, সাংবিধানিক কারণেই করোনার মধ্যে উপ-নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচন পেছানোর আইনগত কোনো সুযোগ নেই। তবে রাষ্ট্রপতি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিতে পারেন। আমরা রাষ্ট্রপতির স্মরণাপন্ন হয়েছিলাম। তিনিও বলেছেন নির্বাচন না করার কোনো সুযোগ নেই। গতকাল শনিবার দুপুরে যশোরের কেশবপুর আবু শারাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত যশোর-৬ কেশবপুর আসনের উপ-নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ও প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, করোনা আছে, আরও অনেকদিন থাকবে। এজন্য সবকিছু বন্ধ রাখা যাবে না। দৈনন্দিন কাজ ও নির্বাচনের মতো কাজ এরই মধ্যেই করতে হবে। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে প্রচারণা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের মাস্ক খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে বলে উল্লেখ করেন সিইসি। যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহমেদ খান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষায় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দরকার – প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনা চলাকালীন সময়ে নারী ও কিশোরীদের প্রতিরোধমূলক এবং সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনের যথাযথ মূল্যায়নের সঙ্গে বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা। গতকাল শনিবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২০ পালন এবং স্টেট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন-২০২০ এর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডিপিএসডিইউ), এবং ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত ওয়েবিনারে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘মহামারি করোনাকে প্রতিরোধ করি, নারী ও কিশোরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করি’। ওয়েবিনারটির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. অসা টর্কেলসন। প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা বলেন, করোনার সময়ে মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। তবে করোনার সময়েও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় হেল্পলাইন, মনোসামাজিক ও আইনি সেবার মাধ্যমে তাদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে করোনাকালেও নারী ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালসহ দেশব্যাপী ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও তিন হাজারের বেশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র কাজ করে যাচ্ছে। করোনার কারণে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২০ ভিন্নভাবে উদযাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর ৩১তম বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হচ্ছে ‘মহামারি কোভিড- ১৯ প্রতিরোধ করি, নারী ও কিশোরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করছে। বিশ্বের উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম দিকে। দেশের এ অগ্রগতির পেছনে বড় অবদান রয়েছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের। কারণ দেশে এখন কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ। যাদের বয়স ১৫- ৫৯ বছরের মধ্যে। গত এক দশকে দারিদ্র্যের হার ২০.৫০ শতাংশ ও উচ্চ দারিদ্যের হার ১০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে কর্মক্ষম মানুষের এই শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যে সুবর্ণ সময় পার করছে দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে তার শতভাগ সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, শিশু মৃত্যু হ্রাসে সাফল্যের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমডিজি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন এবং এজেন্ট অব চেঞ্জ ও ইপিআই কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে ভ্যাকসিন হিরো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের ৯০ ভাগ নারী অর্থনীতির অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কাজ করে যেখানে চাকরির নিশ্চয়তা কম। করোনা তাদের জন্য স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রজনন স্বাস্থ্য নারীর অধিকার উল্লেখ করে ইন্দিরা বলেন, একটা মেয়ের কখন বিয়ে হবে, কখন সন্তান হবে এগুলো তার অধিকার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা সে অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। তেমনিভাবে নারীদের প্রথম বিয়ের বয়স ১৮ হলেও সেটা সবসময় কার্যকর হচ্ছে না। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনার নেতৃত্বে ও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে বাল্য বিয়ে হ্রাস ও জেন্ডার সমতা অর্জনের মাধ্যমে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বে রোল মডেল সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২০ এর উদ্বোধন পর্বে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুমের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান সূচনা বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনএফপিএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. আশা তরকেলশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম। অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, কোভিড-১৯ দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন বৃহত্তর ঝুঁকির বিষয় যেমন প্রাক বিদ্যমান বৈষম্য আরও গভীরতর হওয়া, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ, যেখানে আমাদের নারী ও কিশোরীরা পিতৃতান্ত্রিক সমাজে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অধিকার সম্পর্কিত প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মিলিত ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

ঢাকাসহ ৪ স্থানে হাট না বসানোর সুপারিশ, বিব্রত স্বাস্থ্য অধিদফতর

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট না বসানোর পরামর্শ দিয়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি। গত শুক্রবার স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ আকারে এ পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। তবে কমিটির এমন পরামর্শে বিব্রত স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবিত সুপারিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়াটাও ‘বাঞ্ছনীয়’ নয় বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক শীর্ষ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় পরার্মশক কমিটি গতমাসের শেষ সপ্তাহের একটি সভার সিদ্ধান্তের আলোকে পরামর্শ ও সুপারিশ দিয়েছেন। কিন্তু তাদের পরে স্থানীয় সরকারের মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় জাতীয় পরামর্শক কমিটির কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। ফলে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক কর্মকা- গতিশীল রাখতে এবং গবাদিপশুর খামার মালিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে কোরবানির পশুর হাটকে সামনে রেখে যারা সারাবছর গবাদিপশু পালন করেছেন, তাদের কথা ভেবে হাট বসানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট বসার সম্ভাবনাই বেশি। তবে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে হাটগুলোতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হতে পারে। করোনার ব্যাপক বিস্তার রোধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট না বসানোর পাশাপাশি এসব অঞ্চল থেকে অন্যান্য স্থানে যাতায়াত না করার জন্যও পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি।

ভেসটিজ কুষ্টিয়া ডিএলসিপি (ডিলার) উদ্বোধন

ভারতীয় নম্বর ওয়ান নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী ভেসটিজ-এর কুষ্টিয়া ডিএলসিপি (ডিলার শীপ) শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের ৪/৪ পিটিআই সড়কের ড. মোকাররম টাওয়ারের ৪র্থতলায় এক আনন্দঘন পরিবেশে এই ডিএলসিপি’র (ডিলার শীপ) কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতীয় নম্বর ওয়ান নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী ভেসটিজের বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রমোটর ডাঃ হাসান আহমেদ মেহেদী। ভারতীয় নম্বর ওয়ান নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী ভেসটিজ-এর কুষ্টিয়া ডিএলসিপি’র স্বত্ত্বাধিকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ^াস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, ড.মোকাররম হোসেন, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী ভেসটিজ-এর সিলভার ডিরেক্টর আনোয়ার হোসেন ও ‘দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ’ পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি বিশিষ্ট সাংবাদিক এ.এইচ.এম.আরিফ প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভারতীয় নম্বর ওয়ান নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী ভেসটিজ ইতোমধ্যেই বিশে^র কয়েকটি দেশে বিশ^স্ততার সাথে তাদের ন্যাচারেল পণ্য সরাসরি গ্রাহকদের কাছে বিক্রয় করে খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেছেন। বক্তারা মনে করেন ভেসটিজ সাধারণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী তাদের ন্যাচারেল পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক সুস্থ্যতার পাশাপাশি কুষ্টিয়া তথা এই অঞ্চলের অসংখ্যা মানুষের বেকার সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় নম্বর ওয়ান নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী ভেসটিজের তরুন ও অভিজ্ঞ নেটওয়ার্কার সজিব আহমেদ, মিলন আহমেদ ও এস এম শুভ । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কৃষিজ উতপাদন অব্যাহত রাখতে কাজ করছে সেনাবাহিনী

করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় দেশের কৃষিজ অর্থনীতেকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদ্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় করোনাকালীন দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সামগ্রিক উৎপাদনের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সামনের দিনের খাদ্য সংকট ও মন্দা কাটাতেই কৃষি অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সাধ্যমতো সহায়তা করে যাচ্ছে সেনাসদস্যরা। এজন্য তারা  দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঘরে ঘরে গিয়ে তুলে দিচ্ছেন নানা জাতের উন্নত সবজির বীজ এবং কৃষি কাজের সম্প্রসারণ করতে কৃষকদের উৎসাহী করছেন  সেনা সদস্যরা। এমনকি যারা মৌসুমী কৃষক তাদেরকেও কৃষি উৎপাদনে আগ্রহী করতে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও করোনা মোকাবেলায় ত্রাণ বিতরণসহ গণপরিবহন মনিটরিং, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান  মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঘরবাড়ী মেরামত, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ নানাবিধ জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

করোনা সক্রিয় রোগীর তালিকায় এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ করোনা সক্রিয় আছে এমন রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। প্রথম অবস্থানে আছে ভারত, আর তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তান। ওয়ার্ল্ডওমিটারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে, এই তথ্য জানা যায়। গতকাল শনিবার বাংলাদেশের তথ্য হালনাগাদ করার পর এই চিত্র দেখা যায়। ওয়ার্ল্ডওমিটারে তথ্য বলছে, করোনায় মোট সুস্থ এবং মৃত্যুর সংখ্যা যোগ করে তা মোট শনাক্ত থেকে বাদ দিলে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা পাওয়া যায়। সেই হিসাবে ভারত প্রথম অবস্থানে আছে। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনা সক্রিয় রোগী ২ লাখ ৮৪ হাজার ২১৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এখানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৭৯০ জন। আর পাকিস্তানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮৮ হাজার ৯৪ জন। বৈশ্বিক হিসাবে করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যায় প্রথম অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় ব্রাজিল, তৃতীয় ভারত, চতুর্থ রাশিয়া, পঞ্চম দক্ষিণ আফ্রিকা, ষষ্ঠ পেরু, সপ্তম বাংলাদেশ, অষ্টম পাকিস্তান, নবম মেক্সিকো এবং দশম কলোম্বিয়া। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৮১ হাজার ১২৯ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩০৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৪ জন। এই হিসাবে আমাদের দেশে করোনা সক্রিয় রোগী ৯০ হাজার ৭৯০ জন।

রক্তে অস্বাভাবিক উচ্চমাত্রায় সুগার থাকলে করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি

ঢাকা অফিস ॥ রক্তে অস্বাভাবিক উচ্চমাত্রায় সুগার রয়েছে কোভিড -১৯ আক্রান্ত এমন রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশী। চীনের গবেষকরা শনিবার এ কথা জানায়। বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করতে পেরেছেন যে, হাইপারগ্লাইসোমিয়া আক্রান্ত রোগী যাদের ডায়াবেটিস ধরা পড়েনি তারা কোভিড -১৯ এ সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডায়াবেটোলজিয়া জার্নালে এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। উহানের দু’টি হাসপাতালে ৬০৫ জন কোভিড -১৯ রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া যায়। রিপোর্টে বলা হয়, উচ্চ রক্তচাপে মুত্যুর ঝুঁকির সঙ্গে কোভিড -১৯ সংক্রমন আলাদাভাবে মৃত্যু ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিস রোগীদের ওপর পরিচালিত পূর্ববর্তী গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা চালানো হয়। এই জার্নালে মে মাসে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, ফ্রান্সের হাসপাতালগুলোতে ডায়াবেটিস রয়েছে এমন কোভিড -১৯ আক্রান্ত ১০ জনের ১ জন মারা গেছে। এই হার তুলনামূলকভাবে অন্য রোগীদের চেয়ে অনেক বেশী।

চিকিতসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে – হুইপ ইকবালুর রহিম

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করেছে। করোনার এই দুর্যোগে প্রতিটি মানুষ যেন চিকিৎসা সেবা পায় সেজন্য চিকিৎসা সেবায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। করোনা যোদ্ধা চিকিৎসকরা করোনার এই মুহুর্তে নিজের জীবনকে বাজি রেখে মহামারির এই রোগকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই অবদান পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত মানুষ ভুলবে না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাই কেউ কোন দুর্নীতি বা অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে সরকার। এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীসহ সকল ধরনের রোগী সঠিক ভাবে চিকিৎসা সেবা পায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। গতকাল শনিবার এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দিনাজপুর-এ স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষে পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। এ সময় বক্তব্য রাখেন এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শিবেস সরকার, হাসপাতালের পরিচালক ডা. নির্মল চন্দ্র দাস, অক্সফার্মের রিজিওনাল ডিরেক্টর আকতারুজ্জামান আখতার, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ শাহ্ মোজাহেদুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ নজমুল ইসলাম, ডাঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম, এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. নাদির হোসেন, সহযোগি অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. নুরুজ্জামান, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মশিউর রহমান, ডাঃ শেখ ফরিদ আহমেদ, গাইনি চিকিৎসক ডাঃ জাহানারা মুন্নি, আইসিইউ ইনচার্জ ডাঃ সুশেন রায়, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এডিন, ডা. নাহিদ রহমান প্রমুখ।

দৌলতপুরে লালচাঁদ বাহিনীর ক্যাডার সন্ত্রাসী কালামের অত্যাচার ও নির্যাতনে গ্রামবাসীরা আতঙ্কে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে লালচাঁদ বাহিনীর অন্যতম ক্যাডার শীর্ষ সন্ত্রাসী কালামের অত্যাচার ও নির্যাতনে ৪ গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, চুরি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের অন্তত এক ডজনেরও বেশী মামলা রয়েছে। পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও সে জামিনে ছাড়া পেয়ে একই কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। ফলে তার অত্যাচার ও নির্যাতনে এলাকার সাধারণ মানুষ সর্বদা ভীতসন্ত্রস্থ ও আতঙ্ক অবস্থায় থাকে। সন্ত্রাসী কালামের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন, হামলা, চাঁদা আদায় ও ধর্ষণের মত অমানবিক ঘটনা। দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদী-সিরাজনগর এলাকায় সে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে। লালচাঁদ বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ ক্যাডার ও আবুল কালাম ওরফে সন্ত্রাসী কালামের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভয়ে বাহিরমাদী, টলটলি পাড়া, সিরাজ  নগর ও ইসলামপুর সহ আশপাশের ৪ গ্রামের মানুষ সর্বদা থাকে আতঙ্কে। গত ৩০ মে তারিখে সকালে সিরাজনগর গ্রামে মোহন মাষ্টারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার মা মোমেন খাতুন (৫৫) কে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। সন্ত্রাসী হামলার এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। এছাড়াও মৃত ওয়াহাব মহলদারের ছেলে সাহাবের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সে টাকা আর ফেরত দেয়নি। টাকা চাইলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে থাকে সন্ত্রাসী কালাম এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীর। পাশর্^বর্তী কামার পাড়ার মান্নান ও জোতি কামারের বাড়িতে ডাকাতি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসী কালাম ২০০১ সালে শান্তিনগর গ্রামে গরু চুরি করতে গিয়ে গরুর মালিক আরসেদ আলীকে হত্যা করে। সেসময় সিরাজনগর খাঁ পাড়ায় হেবাজ আলীর স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে কে জোরপুর্বক ধর্ষন করে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী কালামের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় যেসব মামলা রয়েছে তারমধ্যে ২০১৯ সালের ৩ জুনে মামলা নং ৮, ২২ সেপ্টেম্বরে মামলা নং ২৮, জি আর মামলা নং ১১ ও ১৬ ডিসেম্বরের মামলা নং ৩১ এবং জি আর মামলা নং ৫৭১। ২০১৮ সালে ১১ জুনের মামলা নং ২৪, জি আর মামলা নং ২৫১। ২০০৮ সালে ২৫ শে অক্টোবরের মামলা নং ৩৫, জি আর নং ৪৪৯, একই বছরের ৮ ডিসেম্বরের মামলা নং ৯ এবং ২০০১ সালে ১১ জুনের মামলা নং ২৩, জি আর নং ৩১৭। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে সন্ত্রাসী কালাম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ছেড়ে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে আসার কথা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন। সন্ত্রাসী কালামের বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানর বলেন, কালামকে বেশ কয়েক বার গ্রেপ্তার আদালতে সোপর্দ করেছি। জামিনে এসে সে এলাকায় গাঁ ঢাঁকা দিয়ে থাকে। তবে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সন্ত্রাসী কালামের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামানা করেছেন।

সুন্দরভাবে বাঁচতে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে – পরিবেশমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেছেন, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থেই অধিক পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং বায়ু, পানি, শব্দ দূষণের প্রভাব মানবজাতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও মারাত্মক তাই এগুলো থেকে রক্ষা পেতে পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে আবশ্যিকভাবে বেশি করে বৃক্ষরোপণ ও তা সংরক্ষণে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে। গতকাল শনিবার মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২০ উপলক্ষে আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি যুক্ত হন। মন্ত্রী বলেন, করোনাকালে সরকার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে নারী ও কিশোরীর প্রজনন স্বাস্থ্য এবং মা-শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে জনগণকে জনসম্পদে পরিণত করা সরকারে লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, মতবিনিময় সভার পর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২০ উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বার্ষিক কাজের মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ পাঁচ কর্মী এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নন ডা. জাফরুল্লাহ

ঢাকা অফিস ॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শরীরে তাদের উদ্ভাবিত কিটে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায় গত ২৪ জুন। তাদের কিটেই ডা. জাফরুল্লাহর করোনা নেগেটিভ পাওয়া যায় ১৩ জুন। তারপর প্রায় এক মাস হতে চলছে, কিন্তু এখনও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ নন। সর্বশেষ ৩০ জুন ডা. জাফরুল্লাহর অবস্থা অবনতি হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তার অবস্থা উন্নতির দিকে। তবে তিনি এখনও ভালোভাবে হাঁটতে, স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারেন না। তার ফুসফুসও সম্পূর্ণভাবে সেরে ওঠেনি। গতকাল শনিবার সকালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ বলেন, তার অবস্থা উন্নতির দিকে, কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হন নাই। আগের মতো অবনতিও হয় নাই। তিনি আরও বলেন, পুরোপুরি সুস্থ না হলে হাসপাতাল থেকে যাওয়া যাবে না। এই ধরনের আলোচনা, কথাবার্তা এখনও হয় নাই। কারণ তিনি তো এখনও ভালোভাবে হাঁটতে পারেন না। কিছুটা পারেন যেমন ওয়াশরুমে যাওয়া, টুকটাক। তার পা ফুলে রয়েছে এখনও। তার কণ্ঠের কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে পুরোপুরি হয় নাই। ফুসফুসের অবস্থাও উন্নতির দিকে, তবে পুরোপুরি ভালো হয়নি। তার সব বিষয়গুলো এখনও পরিষ্কার না। তার অবস্থা স্থিতিশীল, উন্নতির দিকে কিছুটা।

 

মিরপুরে ১০ জুয়াড়ী আটক

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা পুলিশ ১০ জুয়াড়ীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা বহলবাড়ীয়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানকালে ওই গ্রামের জান্নান মন্ডলের বাড়ীতে জুয়া খেলার অপরাধে ১০ জনকে আটক করেন। এ সময় জুয়ার আসর  থেকে ৩ সেট তাস ও নগদ ১১ হাজার ৩ শত ৫৬ টাকা উদ্ধার করা হয়।  গতকাল শনিবার দুপুরে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম জুয়াড়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও জেল হাজতে প্রেরনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত ১০ জুয়াড়িরা হলো উপজেলার নওদা বহল বাড়ীয়া গ্রামের মৃত সফির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে জান্নান মন্ডল (৪৫), মৃত হেদায়েত মালিথার ছেলে আব্দুস সালাম (৪৩), দুলাল (৪০), মৃত মঈনুদ্দিন মন্ডলের ছেলে সেলিম আলী (২৮), মৃত আফজাল মন্ডলের ছেলে ঝন্টু (৩৫), আবুল মীরের ছেলে উজ্বল মীর (৩০), মহম্মদ বিশ্বাসের ছেলে আজাদুল ইসলাম (৩২), খাদিমপুর গ্রামের মৃত মংলা মন্ডলের ছেলে আসাদুল মন্ডল (৩৬), গফুর প্রামাণীকের ছেলে খালেক প্রামানীক (৪৫) ও বহলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত রবি প্রামানীকের ছেলে আজিজুল প্রামানিক (৩৬)। আটককৃত জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ১৮৬৭ সালের প্রকাশ্য জুয়া আইনের ৩/৪ ধারায় মিরপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ১২।

সমালোচনার বাক্সবাহী বিএনপি জনগণের পাশে নেই -তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনা মহামারির এই সময়ে সমালোচনার বাক্স নিয়ে বসে থাকা বিএনপি ও এমন অনেকেই জনগণের পাশে নেই বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে করোনা পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সহায়তা চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিবেকহীন অন্ধ সমালোচনা পরিহার করে সরকারের সঙ্গে তাদের জনগণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ও বিশ্বের শীর্ষ পত্রপত্রিকা যেখানে করোনা মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা ও পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে, সেখানে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতারা প্রতিদিন যে ভাষায় শুধু সমালোচনাই করে যাচ্ছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, অবশ্যই সমালোচনা থাকবে, সরকারকে সবাই পরামর্শ দিতে পারে, সেই গণতান্ত্রিক রীতি আমরা সমাদৃত করি। কিন্তু অন্ধ ও বিবেকহীন সমালোচনা, কোনো কাজে ভালো দেখতে না পারা চোখ থাকতে অন্ধের মতো আচরণ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে প্রতিদিন গণমাধ্যমে উঁকি দিয়ে সমালোচনা করে বিএনপি জনগণের কাছে নিজেদের হাস্যকর করে তুলছে। দেশে বহু এনজিও আছে যারা বিদেশি অর্থ পায়, এখন তাদের পাওয়া যাচ্ছে না, কয়টি এনজিও মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে, প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনা দুর্যোগে জনগণকে সহায়তায় সরকার প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসের বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। লাখ লাখ মানুষ তাদের মোবাইল ফোনে সহায়তার টাকা পেয়ে যাচ্ছে, যা কেউ আশা করেনি, আগে কখনো এটি ঘটেনি। এ সময় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশের দেশ ভারতের বিরোধী দলীয় জোটপ্রধান সোনিয়া গান্ধী সে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো এ কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২০০ সাংবাদিককে অর্থ সহায়তা দেয়া হয়। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের সহায়তার অর্থের চেক বিতরণ করেন। করোনায় সংকটে পড়া সাংবাদিকদের জন্য এ বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এর আওতায় দেড় হাজার সাংবাদিককে ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেন তথ্যমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে এ সহায়তা দেয়া হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে সাংবাদিকরা করোনাকালে কাজ করছেন, অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন, কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেছেন। সাংবাদিকরা হাতগুটিয়ে বসে থাকলে মালিকরা চাইলেও গণমাধ্যম চালু থাকত না। মানবিক বিবেচনায় সরকার যেমন সাংবাদিকদের সহায়তা করছে, এ সময় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের অনেকের সাময়িক কষ্ট হলেও গণমাধ্যমকর্মীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ ও চাকরিচ্যুতি না করার জন্য পুনরায় অনুরোধ করেন ড. হাছান মাহমুদ। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় সরকারি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সকল মন্ত্রণালয়ে পত্র ও তাগিদ দেয়া হয়েছে যাতে করে সংবাদকর্মীদের বেতন দিতে সুবিধা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার আলোচনার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা ও করোনা উপসর্গে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ইতোমধ্যে তিন লাখ টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে। সেই পরিবাররা আবেদন করলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আরও সহায়তা দেয়া হবে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদ ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল। সহায়তাপ্রাপ্ত সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতা করেন আতাউর রহমান জুয়েল ও মোহাম্মদ তারিক আল বান্না। বক্তারা এ সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া চলমান সহায়তার প্রথম পর্বে এ পর্যন্ত ৪৮টি জেলায় সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেসক্লাবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে এ সহায়তা পৌঁছেছে বলে জানান ডিইউজে সভাপতি।

আরও ৩ দিন থাকতে পারে বৃষ্টি

ঢাকা অফিস ॥ পাঁচটি ছাড়া বাদে দেশের সব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে গত শুক্র ও গতকাল শনিবার। সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বগুড়ায় ১০৭ মিলিমিটার, তারপরে তেঁতুলিয়ায় ১০৫ মিলিমিটার। এ ছাড়া দেশের ৭টি অঞ্চলে ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের ধারা আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তাতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো/দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।