বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি ১১ কোটি টাকা

ঢাকা অফিস ॥ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানি পণ্য সংরক্ষণে পণ্যগারের ভাড়া বাবদ ১১ কোটি ৬ লাখ টাকা ঘাটতি হয়েছে। বিগত অর্থবছরে এখাতে বন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যেখানে আদায় হয়েছে ৮৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বন্দর সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে যে পণ্য আমদানি হয়, প্রাথমিক অবস্থায় পণ্যচালানটি বেনাপোল বন্দরের ওয়ারহাউজ (পণ্যগারে) রাখা হয়। এ সময় আমদানি পণ্য রক্ষণাবেক্ষণ ও পণ্যগার ভাড়া বাবদ বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে রাজস্ব আদায় করে থাকে। বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জনান, করোনার কারণে আড়াই মাস ধরে আমদানি বন্ধ ছিল। রাজস্ব ঘাটতির এটা অন্যতম কারণ। তিনি জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৮ মেট্রিক টন। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছিলো ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৯৫৩ মেট্রিক টন। তিনি আরো বলেন, বন্দরের উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হলে বেনাপোল বন্দর একটি আধুনিক বন্দর হিসাবে পরিচিতি পাবে। তখন আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বিগুন রাজস্ব বাড়বে। বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান জানান, এ পথে রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাড়াতে হবে। এ ছাড়া বন্দরে বারবার রহস্যজনক অগ্নিকা-ে অনেক ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন। অনেকেই কোনো ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় এ বন্দর ছেড়েছেন। আবার পণ্য ছাড় করার ক্ষেত্রে বৈধ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়াও আমদানি কমে যাওয়ার একটি কারণ। এতে দিনদিন রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক লতা জানান, বেনাপোল বন্দরের বর্তমান ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন। তবে এখানে সব সময় পণ্য থাকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা অনুপাতে জায়গা না থাকায় মূল্যবান আমদানি সামগ্রী রাখতে হয় খোলা আকাশের নিচে। এতে সুবিধা বঞ্চিত হয়ে ব্যবসায়ীদের অনেকে এ বন্দর ছেড়ে বাণিজ্য করছেন অন্য বন্দর দিয়ে। ফলে এ বন্দরটিতে কাঙ্খিত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতের কলকাতা শহরের দূরত্ব ৮৩ কিলোমিটার। মাত্র তিন ঘণ্টায় একটি পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে পৌঁছাতে পারে কলকাতা শহরে। তেমনি একই সময় কলকাতা থেকে পণ্যবাহী ট্রাক পৌঁছায় বেনাপোল বন্দরে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে এ পথে ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে প্রবল আগ্রহ রয়েছে। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হচ্ছে, যা থেকে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। এবং আমদানির সঙ্গে দিনদিন বাড়ছে রপ্তানির পরিমাণ। বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। এ বছর ১০ হাজার কোটি টাকার পণ্য ভারতে রফতানি হওয়ার কথা ছিল।

মেহেরপুরে স্পিরিট পানে ২ যুবক গুরুতর অসুস্থ

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর সদর উপজেলার টেঙগার মাঠ গ্রামে স্পিট পানে রাজু আহমেদ ও হাফিজুল ইসলাম নামের দু’যুবক গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন। অসুস্থ রাজু টেঙগার মাঠ গ্রামের রজিদুল ইসলামের ছেলে ও হাফিজুল একই গ্রামের হাবিল উদ্দীনের ছেলে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে টেঙগার মাঠ গ্রামের মোখলেছুর রহমানের দোকান থেকে রাজু ও হাফিজুল  স্পিট (এনার্জি ড্রিংকস) পানীয় ক্রয় করে পান করেন। পান করার পরপরই তারা দু’জন বন্ধু মিলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির পর  তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দেয়। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের  রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

 

এবার ভারতীয় সব টিভি চ্যানেল বন্ধ করল নেপাল

ঢাকা অফিস ॥  দিন যত যাচ্ছে ভারতের সঙ্গে নেপালের উত্তেজনা ততই বাড়ছেই। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল নেপাল সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে ভারতীয় সব টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নেপাল সরকারের পক্ষে অভিযোগ করা হয়েছে, নেপাল সরকার এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে সংঘাতের পাশাপাশি শিরোনামে উঠে এসেছে ভারত-নেপাল বিরোধ। নেপালের নতুন মানচিত্র প্রকাশের পর ভারত এবং নেপালের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার নেপালের শাসক দলের মুখপাত্র নারায়ণ কাজি শ্রেষ্ঠা অভিযোগ করেন, ভারতীয় সংবাদ চ্যানেলগুলোতে নেপালবিরোধী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে অবমাননামূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। তার এমন বক্তব্যের পরই ক্যাবলে সব ভারতীয় সংবাদ চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়। কবে আবার তা দেখা যাবে, ক্যাবল অপারেটররা কিছু বলতে পারেননি। এদিকে ভারতের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, লাদাখ নিয়ে চীনের সঙ্গে চড়া সুরে বিবাদের আবহে দিল্লি এখনই কাঠমান্ডুর সঙ্গে মতভেদকে প্রাধান্য দিতে চায় না। নেপালের এই পদক্ষেপের পেছনে চীনের উস্কানির বিষয়টিও মাথায় রেখেছে দিল্লি। সূত্র: আনন্দবাজার।

সরকার করোনার কারণে উন্নয়ন ব্যয়ে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্প বাস্তবায়নে তিন ধরনের অগ্রাধিকার ঠিক করেছে সরকার। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোকে উচ্চ, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে মধ্যম এবং কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে নিম্ন অগ্রাধিকারের প্রকল্প হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত সরকার করোনার কারণে উন্নয়ন ব্যয়ে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সেজন্য এডিপির নিম্ন অগ্রাধিকারের প্রকল্পে আপাতত অর্থ ছাড় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার এডিপি নিয়েছে। তার মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক সহায়তা ও অন্যান্য উৎস থেকে বাকি ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা আসবে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এক হাজার ৬০৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার বাজেটের আগে থেকেই এডিপির প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণের কাজ শুরু করা হয়। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলো প্রকল্প বাছাই করেছে। যেসব প্রকল্প শেষ হতে সামান্য বাকি রয়েছে এবং যেসব প্রকল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়নের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে, সেগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, সরকারের সীমিত সম্পদের ব্যয় সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে চলতি অর্থবছরের এডিপিভুক্ত প্রকল্পগুলোর উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর উচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে। মধ্যম অগ্রাধিকার চিহ্নিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রকল্পের যেসব খাতে অর্থ ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী বলে বিবেচিত হবে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা নিজস্ব বিবেচনায় সেসব ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করবে। যতটুকু ব্যয় পরিহার করা সম্ভব অবশ্যই তা করতে হবে। আর নিম্ন অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় আপাতত স্থগিত থাকবে। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। সূত্র আরো জানায়, সাধারণত অর্থবছরের শেষ তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ও অর্থ ছাড়ের গতি বাড়ে। কিন্তু গত ২০২৯-২০ অর্থবছরের শেষ ত্রৈমাসিকেই বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই কারণে অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রেখে করোনা মোকাবিলায় সব মনোযোগ ছিল। ফলে গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নও অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিতে মানুষ হতাশ ও ক্ষুব্ধ – ওয়ার্কার্স পার্টি

ঢাকা অফিস ॥ কোরবানির পশুর হাট ও ঈদে বাড়ি যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারে ঊর্ধ্বমুখী বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা পরীক্ষার ফি ধার্য করেছে যা মানুষকে করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে অনুৎসাহিত করবে। পরীক্ষার ক্ষেত্রে যে সক্ষমতা রয়েছে তার অর্ধেকও ব্যবহার করা হচ্ছে না। গত ৪ জুন ঢাকা মহানগরকে ‘রেড’, ‘ইয়েলো’ ও ‘গ্রিন’ জোনে-এ ভাগ করে সংক্রমিতদের বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হলেও তাও একমাস ধরে দু’টি এলাকা ছাড়া কোথাও বাস্তবায়িত হয় নাই। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য দোষারোপ করা হলেও কার্যত কর্তৃপক্ষের মনোভাবই তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি না মানতে উৎসাহিত করছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম জনমনে শুধু অনাস্থা সৃষ্টি করে নাই তাদের ক্ষুদ্ধ করে তুলেছে। আর এই অবস্থায় এন-৯৫ মাস্ক, পিপিই ও আরটি-পিসিআর ক্রয় নিয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তার নিরসন না হয়ে সরকারি অনুমোদনহীন রিজেন্ট হাসপাতালকে কোভিড-১৯ হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদন, বিনা পয়সার পরীক্ষায় অর্থ আদায় ও সর্বোপরি ছয় হাজারের ওপর মিথ্যা সনদ দিয়ে মানুষের হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আর এর ফলাফল হিসেবে বাংলাদেশের বিমান পরিবহনকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তেমনি দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসী শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থলে ফিরতে পারছে না। তাদের ফিরতি বিমানে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে রেমিট্যান্স প্রবাহ অক্ষুণœ রেখে প্রবাসী শ্রমিকদের চাকরি বহাল রাখতে বিশ্বের দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছেন, সেখানে এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের শ্রমিকদের সম্পর্কে বিদেশে অবিশ্বাস ও সন্দেহ সৃষ্টি করছে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভার প্রস্তাবে বলা হয়, করোনা সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও করোনা সংক্রমণের কারণে ও আতঙ্কে দেশের মানুষের জীবনই যদি অচল হয়ে পড়ে তাহলে তার কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। বরং তা কিছু লুটেরা মালিকেরই স্বার্থসিদ্ধি করবে। কেবল স্বাস্থ্যক্ষেত্রেই অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা কাজ করছে না, এবার যে বাজেট দেয়া হয়েছে তাতেও কোভিড-১৯-কে উপেক্ষা করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গীত গাওয়া হয়েছে। পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পলিটব্যুরোর সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক নেতা বর্তমানে সিপিবি’র সভাপতিম-লীর সদস্য কমরেড হায়দার আকবর খান রনো ও পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড জ্যোতি শংকর ঝন্টুর দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়। পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার সঞ্চালনায় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই সভায় যুক্ত হন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, মাহমুদুল হাসান মানিক, নুর আহমদ বকুল, কামরূল আহসান, আমিনুল ইসলাম গোলাপ, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, আলী আহমেদ এনামুল হক এমরান, নজরুল হক নিলু প্রমুখ।

 

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদের আয়োজনে মানববন্ধনে চাকরি প্রত্যাশীরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক মো. আলআমিন রাজু, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, কেন্দ্রীয় নেতা সুদীপ রায়, নিলয় হোসেন, শাহরিয়ার হোসাইন, রুহুল চৌধুরী, শামসুদ্দিন মাসুদ ও আতাউর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আল আমিন রাজু বলেন, করোনা ভাইরাসের থাবায় ব্যবসা বাণিজ্য যখন স্থবির, বিভিন্ন খাতে সরকারের প্রণোদনা দেওয়া ইতিবাচক, কিন্তু বেকারদের বেলায় সরকার কেন নিশ্চুপ? বেকারদের জন্য প্রণোদনার উপহার স্বরূপ কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উৎসাহিত করতে বিনা জামানতে ১০ বছর বিনা সুদে ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা দিতে হবে। উন্নত দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নূন্যতম ৩৫ করতে হবে। এটা এদেশের লাখ লাখ শিক্ষিত বেকারদের প্রাণের দাবি।

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অনেকগুলো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাংলাদেশিদের ইতালিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশিদের বাঁকা চোখে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশিদের বহনকারী বিমানকে বলা হচ্ছে ‘করোনা বোমা’। এটা একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি যারা গত বুধবার ইতালির রোমের বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছেছিলেন, সেখানে তাদের অনেকের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় প্রায় সবাইকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইতালির মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট কেনাবেচা নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়েছে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে। তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকার শুরু থেকেই যে ধরনের ঢিলেঢালা মনোভাব প্রদর্শন করছিল, তার সমূহ বিপদ আঁচ করতে পেরে আমরা সরকারকে আগেই সতর্ক করে বলেছিলাম, করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারের সিরিয়াস হওয়া দরকার। গত ২২ মে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান করোনা পরীক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখিয়ে নিজেদের কাগুজে সাফল্য দেখানোর চেয়ে বেশি জরুরি টেস্ট নিয়ে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন। কারণ, গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে করোনা টেস্টের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে ভবিষ্যতে নাগরিকদেরকে অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশে যেমন ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে আমাদের নাগরিকদের বিদেশের শ্রম বাজারে থাকা না থাকার বিষয়টিও বেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। রিজভী বলেন, আজকের বাস্তবতায় দেখতে পাচ্ছি, বিএনপির এই আশঙ্কাটি এখন দুঃখজনকভাবেই সত্য হতে চলেছে। ইতালি, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, কাতার, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে তাদের দেশে ঢুকতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করছে। ইতালিতে পৌঁছানোর পর ১৫২ জন বাংলাদেশিকে ঢুকতে না দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে ফেরত দেয়া প্রমাণ করে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার দেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি কতটা উদাসীন। সরকারের দৃষ্টি শুধুই যেন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রতি, প্রবাসীদের স্বার্থের প্রতি নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি, করোনা ‘ করোনা ট্রেস ও ট্রিটমেন্ট’ নিয়ে সরকার কী করছে, কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে এগুলো জনগণকে জানাতে হবে। এমনকি করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। সরকার সেই দাবি কানে নেয়নি। বরং এখন খবর প্রকাশ হচ্ছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা মোকাবিলায় ‘জেকেজি হেলথ কেয়ার এবং রিজেন্ট হাসপাতাল নামে’র কিছু ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে ‘করোনা টেস্ট ও ট্রিটমেন্টের’ অনুমোদন দিয়েছে। তাদের একমাত্র যোগ্যতা ছিল, এইসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধাররা ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা ঘনিষ্ঠ। অনুমোদন পেয়ে এইসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজরা টাকার বিনিময়ে হাজার হাজার মানুষকে রক্ত পরীক্ষা না করেই ‘করোনামুক্ত সার্টিফিকেট’ ইস্যু করতো। এদের সার্টিফিকেট নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে আটক কিংবা ফেরত আসতে শুরু করায় এখন সরকারের টনক নড়েছে। রিজভী বলেন, কখনো হলমার্ক কেলেঙ্কারি, কখনো রিজার্ভ ফান্ড লুট, কখনো ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি আর এখন করোনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসা নিয়ে কেলেঙ্কারি চলছে। প্রতিটি কেলেঙ্কারির হোতা সরকারি দলের নেতা কিংবা সরকারের বিশেষ আনুকূল্যপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজরা। বাংলাদেশে ভোট ডাকাত, ব্যাংক ডাকাত, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, করোনার ভুয়া প্রত্যয়নপত্রবাজে এখন দেশ ভরে গেছে। ছাত্রদল নেতা টিটুকে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি: নোয়াখালী জেলাধীন চন্দ্রগঞ্জ আলাইয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. টিটু হায়দারকে বুধবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে এমন অভিযোগ করে বিএনিপর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেন, এখনো তার কোনে সন্ধান মেলেনি। তাকে ক্রসফায়ারে দেয় কিনা তা নিয়ে পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দলের সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, আমি অবিলম্বে টিটু হায়দারকে জনসমক্ষে হাজির করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

 

চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও সক্রিয় হচ্ছে ঃ দুদক চেয়ারম্যান

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, করোনার কারণে কমিশনের নিয়মিত অভিযান স্থগিত রাখা হলেও ত্রাণ এবং স্বাস্থ্যখাতে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও সক্রিয় করা হবে। জনগণের কল্যাণেই এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। গতকাল শুক্রবার দুদকের এক বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিশনের এক ভার্চুয়াল সভায় এ কথা বলেন তিনি। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের ১৮ জনের বেশি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত। দুইজন প্রতিশ্র“তিশীল কর্মকর্তা মারা গেছেন। এরমধ্যেও আপনারা মামলা করছেন, অপরাধীদের গ্রেফতার, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের তলব এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। অর্থাৎ দুর্নীতির অভিযাগের অনুসন্ধান, তদন্ত, প্রসিকিউশন, প্রতিরোধসহ সব ধরনের দাফতরিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটা আপনাদের কৃতিত্ব। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে বাসায় বসে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নথির মুভমেন্ট রেজিস্টার অনুসরণ করতে হবে এবং তা কমিশন সচিবকে অবহিত করতে হবে। কমিশনের মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৯ সালে কমিশন ১১টি মানিলন্ডারিং মামলার ১১টিতেই অপরাধীদের সাজা হয়েছে। ২০১৮ সালেও শতভাগ মামলায় সাজা হয়েছিল। এককভাবে যখন দুদক মানিলন্ডারিং মামলা করতো তখন অসংখ্য মামলা দায়ের হয়েছে। অসংখ্য অপরাধীর শাস্তি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থপাচার বন্ধে দ্রুত সময়ে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে অপরাধলব্ধ সম্পদ উদ্ধার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএফআইউ, সিআইডি, জাতীয় রাজস্ববোর্ডসহ অন্যান্য সংস্থার মধ্যে নিবিড় সমন্বয় থাকতে হবে। কীভাবে এসব সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় করা যায়, তা কমিশনের কৌশলপত্রের আলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। ভার্চুয়াল সভায় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্র বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন ফোকাল পয়েন্টের কর্মকর্তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এসব কর্মকর্তারা স্ব-স্ব বিভাগের একটি দুর্নীতির খবরও কমিশনকে জানায়নি। তাদেরও জবাদিহি দরকার। সৎ, স্বচ্ছ ও দৃঢ়চেতা কর্মকর্তাদের ফোকাল পয়েন্টে নিয়োগের বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালসহ জাতীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি দুদকের গোয়েন্দা নজদারি আরও বাড়াতে হবে। কারণ আমাদের কাছে প্রায়ই অভিযোগ আসছে-এসব প্রতিষ্ঠান কাক্সিক্ষত মাত্রায় সরকারি পরিষেবা প্রদান করছে না। প্রয়োজনে করোনা শুরুর আগে যেভাবে অভিযান পরিচালনা করা হতো, স্বাস্থ্য বিধি মেনে সেভাবেই অভিযান শুরু করা হবে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত, মহাপরিচালক আ ন ম আল ফিরোজ, মো. মফিজুর রহমান ভূঞা, মো. জহির রায়হান, মো. রেজানুর রহমান, সাঈদ মাহবুব খান, মো. জাকির হোসেন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করে দুদকে আইসিটি ও প্রশিক্ষণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল।

প্রাথমিকে করোনা আক্রান্ত পাঁচশ’ ছুঁই ছুঁই

ঢাকা অফিস ॥ প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে ৪৯৪ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০২ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এরপরই অবস্থান চট্টগ্রামের। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। আর রাজশাহী বিভাগে এখনো কেউ সুস্থ হননি। গতকাল শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) ওয়েবসাইটে করোনা আপডেট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সেখানে আক্রান্ত সবার নাম, পদবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঠিকানা এবং বর্তমান অবস্থার বিবরণ দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯৪। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ১৬৪ জন, চট্টগ্রামে ১৩৮ জন, সিলেটে ৪৮ জন,বরিশালে ২৯ জন, রংপুরে ২৪ জন, ময়মনসিংহে ১১ জন, রাজশাহীতে ৪১ জন ও খুলনায় ৩৯ জন। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৩৭৪ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ৬৪ জন, কর্মচারী ৩৪ জন ও শিক্ষার্থী ১৯ জন। বিভাগভিত্তিক করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮০ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪১, চট্টগ্রামে ১৯, খুলনায় ৬, বরিশালে ৩, সিলেটে ৫, রংপুরে ২, ময়মনসিংহে ৪ জন। তবে রাজশাহী বিভাগে এখনো পর্যন্ত কেউ সুস্থ হননি। সুস্থদের তালিকায় রয়েছেন ৫৯ জন শিক্ষক, ১০ জন কর্মকর্তা, ৩ জন কর্মচারী ও ৮ জন শিক্ষার্থী। কুমিল্লার চান্দিনার কাদুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাসুম খান বলেন, এখন আমি সুস্থ আছি তবে আমার বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনিও অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। করোনায় আমার পরিবার থেকে কেউ বাইরে বের না হলেও আমাকে অফিসের কাজে যেতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ২ হাজার পাঁচশত টাকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ, এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ দেয়ার কাজও করেছি। তাই সন্দেহ করছি এ কাজে অংশ নিতে গিয়ে হয়তো করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। লক্ষ্মীপুর সদরের মকরধ্বজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এখন সুস্থ আছি। তবে মে মাসের ২৮ তারিখ করোনা আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলাম। ফলে এখন কোমর ব্যথায় ভুগছি। আলমদিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আমিনা বেগম বলেন, করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ায় ৯ জুন নমুনা দিয়েছি কিন্তু এখনো রিপোর্ট আসেনি। স্কুল বন্ধ থাকলেও ৯ মে উপবৃত্তির কাজ করতে গিয়েছিলাম। পরিবারের আট জন সদস্যের মধ্যে পাঁচজনেরই করোনা ধরা পড়েছে। করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানা যায়। তবে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। ইতোমধ্যে ১২ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনায় মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত ১০ জন শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো কারো মৃত্যু হয়নি। করোনায় মৃত চট্টগ্রামের উত্তর পাহাড়তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফরহানা শবনমও উপবৃত্তির কাজে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তার ভাই দিদারুল আলম বলেন, ‘মাঝে মাঝে স্কুলের বিভিন্ন কাজ করতে হত বোনকে। স্কুলের কাজে ব্যাংকেও গিয়েছিলেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যুর দিন তার শুধুই জ¦র ছিল আর অন্য কোনো উপসর্গ ছিল না। তাই সুস্থ হচ্ছেন এরকম ভেবে নিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ায় দ্রুত হাসপাতালের নিয়ে যাওয়ার পর জরুরি বিভাগের রুমেই মারা গেছেন।

জরিমানা আট লাখ, ২ জনের কারাদ

মিটফোর্ডে ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বিক্রি

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় নকল ওষুধ, স্যাভলন ও ডিটারজেন্ট প্রস্তুত ও বাজারজাত করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিযন (র‌্যাব)। অভিযানকালে মিটফোর্ডের আরমানিটোলা ও সরদার মার্কেট এলাকার পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে আট লাখ জরিমানা ও দুইজনকে কারান্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও র‌্যাব-১০ এর সহযোগিতায় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আক্তারুজ্জামান। এ সময় বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ, ডিটারজেন্ট তৈরির নিম্নমনের মতো কাঁচামাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘মিটফোর্ডে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ওষুধ বিক্রি হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নকল সেকলো, নকল ডায়াবেটিস টেস্টিং কিট জব্দ করা হয়। নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি হচ্ছিল। এসব কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত মো. মাহমুদুল (২২) ও সাকিলকে (১৮) তিন মাসের কারাদ- দেন। এছাড়াও বিভিন্ন দোকান ও গোডাউনের মালিক এবং কর্মরত পাঁচজনকে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। র‌্যাব-১০ জানায়, অভিযানকালে এসিআই কোম্পানির স্যাভলনের মতো করে স্যালভন বা অন্য নামে নকল পণ্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। এছাড়া, সার্ফ এক্সেল, চাকা বা রিনের মতো কোম্পানির ডিটারজেন্ট নকল করে প্যাকেটজাত ও বিক্রির অভিযোগে দুজনকে জেলসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় যশোর সেনানিবাসের বিরামহীন প্রচেষ্টা অব্যাহত

করোনার ভয়াবহতায় নীরব-নিথর পুরো বিশ্ব। মরণঘাতী এই ভাইরাস প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ  পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ভয়ানক এই পরিস্থিতির মোকাবেলায় সেনাপ্রধানের নির্দেশে সেনা সদস্যরা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে যেমন মাইকিং ও প্ল্যাকার্ড হাতে মানুষকে সচেতন করছেন তেমনি বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের জেলায় জেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতাও করছেন। এছাড়াও অসহায় ও দুস্থ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া, ত্রাণ বিতরণ, গর্ভবতী মায়েদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, গণপরিবহন মনিটারিং, হ্যান্ড গ্লোবস ও মাস্ক ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা, স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সকল নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা, খাদ্য সংকট মোকাবেলায় দুস্থ কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতে বীজ বিতরণসহ সকল প্রকার জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবর্তী সাতক্ষীরা ও খুলনার ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ ও ঘরবাড়ী মেরামত, শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি সরবরাহ এবং জরুরী চিকিৎসা সেবা ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা।

দৌলতপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার-২

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় সরোয়ার মালিথা (৭০) নামে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ ২জনকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হলে গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে নিজ গ্রামে নেওয়ার পর তার দাফন সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে পরিবারিক বিরোধ ও শিশুদের খেলা-ধুলা নিয়ে সরোয়ার মালিথার পরিবারের লোকজনের সাথে প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী চতুর আলীর ছেলে বাদশা, ভুগোল, আসাদুলের কথা কাটাকাটি হয়। এনিয়ে বুধবার রাতে সরোয়ার মালিথা ও তার ছেলে হককে ডেকে নিয়ে বাদশা, ভুগোল, আসাদুল ও সাধনসহ ১০-১২জন সরোয়ার মালিথার মাথায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এসময় সরোয়ার মালিথা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার ছেলে হক হামলাকারীদের বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। রক্তাক্ত জখম ও গুরুতর আহত অবস্থায় সরোয়ার মালিথাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ নিহত হওয়ার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানান, নিহত সরোয়ার মালিথার দাফন সম্পন্ন হয়েছে এবং এ ঘটনায় একজন এজাহার নামীয় আসামীসহ ২জন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাঁকী আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত সরোয়ার মালিথা একই গ্রামের মৃত দিন মহম্মদ মালিথার ছেলে।

 

জিনজিয়াংয়ে ‘মুসলিম নিপীড়নে’ ৪ চীনা কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা অফিস ॥  চীন তাদের জিনজিয়াং প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের মানবাধিকার লংঘন করছে অভিযোগ করে দেশটির ৪ কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষকে আটক, ধর্মীয় নিপীড়ন ও নারীদেরকে জোর করে বন্ধ্যা করার অভিযোগ করে আসছে। চীন শুরু থেকেই দূর-পশ্চিমের জিনজিয়াংয়ে মুসলিমদের উপর নির্যাতন ও নিপীড়নের সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সমালোচকদের অনুমান, জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ তাদের পুনঃশিক্ষা কর্মসূচির নামে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাখ লাখ সংখ্যালঘু মুসলমানকে বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক করে তাদের উপর ধর্মীয় নিপীড়ন চালিয়ে আসছে ও নানান ধরনের হয়রানি করছে। অন্যদিকে বেইজিং বলছে, এসব ক্যাম্পে আগতদের যে ‘বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ’ দেয়া হচ্ছে, তা জিনজিয়াংয়ে উগ্রবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ মোকাবেলার জন্য জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় যে ৪ চীনা কর্মকর্তার নাম এসেছে তাদের মধ্যে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) পলিটব্যুরোর সদস্য চেন কাংগুয়ো আছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। সিপিসি জিনজিয়াংয়ের এ শীর্ষ নেতাকে বেইজিংয়ের সংখ্যালঘু নীতির ‘আর্কিটেক্ট’ বিবেচনা করা হয়। চেন এর আগে তিব্বতেরও দায়িত্বে ছিলেন। জিনজিয়াং জননিরাপত্তা ব্যুরোর পরিচালক ওয়াং মিংশান, সিপিসি জিনজিয়াংয়ের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য জু হাইলুন এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুয়ো লিউজুনের উপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ৪ চীনা কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এ কর্মকর্তাদের কোনো সম্পদ থাকলে এখন তাও জব্দ করা যাবে। বিবিসি জানিয়েছে, হুয়ো বাদে বাকি তিন চীনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ৪ কর্মকর্তার পাশাপাশি ওয়াশিংটন জিনজিয়াংয়ের নিরাপত্তা ব্যুরোর উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, জিনজিয়াংয়ে যে ‘ভয়াবহ ও নিয়মতান্ত্রিক নিপীড়ন’ চলছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞা। “চীনের কমিউনিস্ট পার্টি যেভাবে উইঘুর, কাজাখ নৃগোষ্ঠী ও জিনজিয়াংয়ের অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মানবাধিকার লংঘন করছে, তা চুপচাপ দেখে যেতে পারেনা যুক্তরাষ্ট্র,” বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন পম্পেও। মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস, বাণিজ্য চুক্তি ও হংকং নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটন চীনা কর্মকর্তাদের উপর এ নিষেধাজ্ঞা দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বেইজিংয়ের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক

দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফ’র হাতে আটক বাংলাদেশী ৫ মহিষের রাখালকে ভারতের জেলে প্রেরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের ভারত ভূ-খন্ড থেকে মহিষসহ বিএসএফ’র হাতে আটক ৫ বাংলাদেশী রাখালকে ভারতের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাদের ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ভারতের বাউশমারী সীমান্ত থেকে তাদের আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। স্থানীয় সূত্র জানায়, ৮ জনের একদল বাংলাদেশী রাখাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে ভারত থেকে মহিষ চোরাপথে বাংলাদেশে পাচার করছিল। এসময় ভারতের ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার ১৪১ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ বাউশমারী ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ মহিষ পাচারকারীদের ধাওয়া দিয়ে ২টি মহিষসহ বাংলাদেশী ৫রাখালকে আটক করে। তবে বিএসএফ’র ধাওয়া খেয়ে বাংলাদেশের দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চশ্লিশপাড়া সীমান্ত এলাকার সিরাজ, আশিক ও বিপ্লব বাংলাদেশ সীমানায় পালিয়ে আসে। বিএসএফ’র হাতে আটক বাংলাদেশী মহিষ পাচারকারী রাখালদের মধ্যে রয়েছে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটারপাড়া গ্রামের নাদের আলীর ছেলে মিঠন আলী (২৫), বগমারী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে লিটন আলী (৩০) ও আলিম উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৮) এবং চরপাড়া গ্রামের উকিল মন্ডলের ছেলে বাগু মন্ডল (৫০) ও জীবন সরকারের ছেলে আনন্দ সরকার (২৫)। বিএসএফ’র হাতে বাংলাদেশী আটকের খবর পেয়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ রামকৃষ্ণপুর বিওপি কমান্ডার বাংলাদেশীদের ফেরত চেয়ে বাউশমারী ক্যাম্পের বিএসএফ’র কাছে পত্র প্রেরণ করলে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৫৭/৫-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন বাউশমারী-মোহাম্মদপুর সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে ১৩ সদস্যের বিএসএফ’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানার ১৪১ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ বাউশমারী ক্যাম্পের অধিনায়ক এসি বিমল কুমার। ৮ সদস্যের বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ মহিষকুন্ডি কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার জাহাঙ্গীর আলম। মাত্র ১০ মিনিটের পতাকা বৈঠকে বিএসএফ’র হাতে আটক বাংলাদেশী রাখালদের ভারতের জেলহাজতে প্রেরনের কথা জানানো হয়।

সরকারের কুশাসনের মূলোৎপাটনের দিন নিকটবর্তী – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের হাত থেকে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মতের মানুষরা কেউই রেহাই পাচ্ছে না। সরকারের সর্বগ্রাসী থাবায় নেতাকর্মীদের জেল-জুলুমের শিকার হতে হচ্ছে। সেদিন খুবই নিকটবর্তী যেদিন বর্তমান সরকারের কুশাসনের মূলোৎপাটন ঘটবে। গতকাল শুক্রবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, করোনা মোকাবিলায় সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী সরকার আরও বেশি আগ্রাসী নাৎসিবাদী পথ অবলম্বন করে বিরোধী দলকে নিঃশেষ করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামকে গ্রেফতার তারই বর্ধিত প্রকাশ। সরকারি দলের লোকেরা এই করোনাকালেও দুর্নীতি, লুটপাট ও আত্মসাতের কাজে খুব উৎসাহ নিয়ে সারাদেশ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা এইসব অনাচারের প্রতিফলন প্রতিদিন দেখছি সংবাদপত্রের পাতায় পাতায়। এই ক্রান্তিকালে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে তারা। দেশকে বিএনপিশূন্য করাই যেন আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর এখন প্রধান লক্ষ্য। বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনি তৈরি করে মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করা হচ্ছে এ কারণে যে, সরকারি অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ যেন টুঁ শব্দ না করতে পারে। ফখরুল বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুকে গ্রেফতার বর্তমান সরকারের এক ঘৃণ্য অপকর্ম। এই সরকারের হাত থেকে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মতের মানুষরা কেউই রেহাই পাচ্ছে না। অবিলম্বে আকরামুল হাসান মিন্টুর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

বনানীতে হবে সাহারা খাতুনের দাফন

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। দলটির দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাহারা আপার লাশ নিয়ে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট ব্যাংকক সময় (গতকাল শুক্রবার) রাত ৯ টায় বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবে। রাতেই সেটি ঢাকায় পৌঁছাবে। এরপর শনিবার (আজ) বানানী কবরস্থানে ওনার বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে। বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, জানাজা ও দাফনের সময় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। আমাদের দলের সিনিয়র নেতারা বসে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন গত বৃহস্পতিবার রাতে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অসুস্থ সাহারা খাতুনকে গত ৬ জুলাই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে থাইল্যান্ডে নেয়া হয়। জ¦র, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় গত ২ জুন সাহারা খাতুন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯ জুন সকালে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে গত ২২ জুন দুপুরে তাকে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৬ জুন সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

সাহারা খাতুন আর নেই

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন আর নেই। গত বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যাংকক স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৬ মিনিটে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সাহারা খাতুনের ব্যক্তিগত সহকারী মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংকক স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিট) বামুনগ্রাদ হাসপাতালে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ইন্তেকাল করেন। এর আগে গত সোমবার থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনকে। জ¦র, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় গত ২ জুন সাহারা খাতুন ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। এখানে তার অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯ জুন সকালে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে তাকে গত ২২ জুন দুপুরে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৬ জুন সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া: আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশেষ করে নিজ দলের নেতারা শোকে মুহ্যমান। তার মৃতুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা। বিবৃতির মাধ্যমে দেয়া এসব শোকবার্তায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেন তারা। এ ছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন তারা। পাশাপাশি সাহারা খাতুনের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিকাশে তার অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, সাহারা খাতুন ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেতা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে তিনি গণতন্ত্রের বিকাশসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অপরিসীম অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিককে হারালো। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাহারা খাতুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন কাজ করে গেছেন এবং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সকল সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাঁতি একজন দক্ষ নারীনেত্রী এবং সৎ জননেতাকে হারালো। আমি হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাহারা খাতুনের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং তার পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। মন্ত্রিসভা সদস্যরা আলাদা আলাদা শোক বাণীতে সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তারা তার আত্মার মাগফিতার কামনা এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্িত মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এছাড়া শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা শোক প্রকাশ করছেন। শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। এছাড়া সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হেসেন। পাশাপাশি ঢাকা উত্তরের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসও পৃথকভাবে শোক প্রকাশ করেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। সাহারা খাতুনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন: ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ তিনি ঢাকার কুর্মিটোলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবদুল আজিজ ও মাতার নাম টুরজান নেসা। শিক্ষাজীবনে তিনি বিএ এবং এলএলবি ডিগ্রি আর্জন করেন এবং রাজনীতির পাশাপাশি আইনপেশায় নিযুক্ত ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে নাম লেখান। আইনপেশায় আসার পর সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা যখন গঠিত হলে তাতে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন এবং সারা ঢাকা শহরে মহিলাদের আইভি রহমানের নেতৃত্বে সংগঠিত করতে শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জাতীয় নেতা মরহুম তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা গঠন করে দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মিছিল মিটিং সবকিছুতেই অংশগ্রহণ করেছেন। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দিনও তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা তখনকার ছাত্রলীগ নেত্রীর সাথে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি প্রথমে নগর আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মহিলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক, পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদিকা এবং একই সাথে নগর আওযামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-আইন সম্পাদিকা, পরে তিনি আইন সম্পাদিকা নির্বাচিত হন, তখন তিনি নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ এবং মহিলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ আর গ্রহণ করেননি। অতঃপর তিনি পরবর্তী কাউন্সিলে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিম-লীর সদস্য নির্বাচিত হন। এখনও তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য হিসেবে আছেন। রাজপথের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন সরব। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, আইয়ুব-ইয়াহিয়া বিরোধী আন্দোলন, দেশ স্বাধীনের আন্দোলন, ৭৫’র পর অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং খালেদা জিয়ার নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলন করেছেন রাজপথে। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হরতাল, সভা-সমাবেশ করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেফতার এবং নির্যাতিত হয়েছেন। আইনপেশায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের বহ সংখ্যক নেতাকর্মীর মামলা বিনাপয়সায় লড়েছেন। যারা আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তারা জানতেন জামিনের জন্য অ্যাডভোকেট সাহারাসহ আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা আছেন। আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের কাছে ভরসার জায়গা ছিলেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। এমনিভাবে সারাজীবনের আইনপেশায় তিনি আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীর পেছনে লড়েছেন এবং তাদের জেল থেকে মুক্ত করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এর আগে ফখরুদ্দিন, মঈনুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার করা হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তার সঙ্গে আবারও গ্রেফতার হন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। তিনি ছিলেন কল্যাণমূলক রাজনীতির অগ্রদূত ও ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার খুব প্রিয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাহারা খাতুন নিজে রাজনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০৮ এর নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা গঠনের সময় ডাক পড়ে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের। তিনি শপথগ্রহণ করেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তিনি ৬ জানুয়ারি ২০০৯ সালে তার দফতরে প্রবেশ করেন। ২০১২ সালে মন্ত্রণালয়ের রদবদল ঘটলে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালের অওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার ২৫ ফেব্র“য়ারি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এর আগে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন সদ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি দ্বন্দ্ব সমাধানে নেতৃত্ব প্রদান করেন। বিদ্রোহীদের খারাপ দিকটার সুরাহা করেন। যেটা সৈনিকদের পক্ষে ও বাংলাদেশ রাইফেল অফিসারদের বিরুদ্ধে যায়। যারা বাংলাদেশের আধাসামরিক সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তিনি সেখানে বাংলাদেশ রাইফেলের ক্যাম্পাসের কাছে গিয়েছিলেন। তাদের মাঝে আপসের জন্য উদ্দীপনামূলক কথা বলেন এবং বিদ্রোহীদের অস্ত্র জমা দিতে বলেন। এ ঘটনার ফলে ৫৩ জন সেনা কর্মকর্তা ও ৩ জন সেনা পরিবারের সদস্য নিহত হন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে সিলেট মহানগরসহ দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল শুক্রবার সিলেট মহানগরের বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জীবাণুনাশক টানেল উদ্বোধনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অনুরোধ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি জীবাণুনাশক টানেলের উদ্বোধন করে তার যথোপযুক্ত ব্যবহারেরও অনুরোধ করেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, সতর্কতার মাধ্যমে করোনা মহামারি প্রতিরোধ করে আমরা করোনামুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। সিলেটের বেসরকারি সংস্থা ক্যাপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জীবাণুনাশক টানেলগুলো দেওয়া হয়। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি নাজমুল হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রেজা চৌধুরী ও ডা. হেলাল।

আনন্দবাজারে প্রকাশিত সংবাদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কড়া প্রতিবাদ বিজিবির

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় ৭ জুলাই ‘অরক্ষিত জমিতে পা পড়ছে বাংলাদেশির’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংবাদটিকে ‘ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও উল্লেখ করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘সীমান্তে রানীনগর ১ এবং ২ ব্লক ও জলঙ্গিজুড়ে প্রায় ২২ হাজার একর অরক্ষিত জমি এখন বাংলাদেশিদের বলে দাবি করছেন সেদেশের সীমান্ত ছোঁয়া গ্রামবাসী।’ এ বিষয়টির জবাব দিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, পত্রিকায় ঘটনাস্থল রানীনগর সীমান্তের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেখানে কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্লিখিত এলাকাটি রাজশাহী বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা চারঘাট বিওপি হতে শুরু করে তালাইমারি বিওপি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এখানে পদ্মা নদী বরাবর শূন্য লাইন অতিক্রম করেছে। এর উভয় পার্শ্ব বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। সংবাদে বলা হয়, সীমান্তের রানীনগর ১ ও ২ ব্লক এবং জলঙ্গি জুড়ে প্রায় ২২ হাজার একর অরক্ষিত জমিতে বাংলাদেশিরা অবাধে চাষাবাদ করছে। বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতের অভ্যন্তরে গিয়ে চাষাবাদ করা তো দূরের কথা, বর্তমানে আন্তর্জাতিক সীমারেখা বরাবর চাষাবাদ করাই অসম্ভব একটি ব্যাপার। সেখানে প্রতিনিয়ত শূন্য লাইন বরাবর বিজিবি সদস্যরা রাত দিন টহল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করছেন। প্রকাশিত সংবাদে আরও বলা হয় যে, দিন কয়েক আগে দুজন বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় এলাকায় চলে আসলে বিএসএফ তাদের আটক করে এবং ফলশ্র“তিতে তার মুক্তিপণ স্বরূপ রানীনগর সীমান্তের গ্রাম থেকে দুইজন গ্রামবাসীকে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতিকারীরা। কিন্তু বাস্তবে আসল ঘটনা সম্পূর্ণ উল্টো এবং প্রকাশিত সংবাদটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে বিজিবি জানায়, মূলত গত ২ জুলাই জলঙ্গী সীমান্তে দুটি ঘটনা ঘটে যা পত্রিকার মূল বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। গত ২ জুলাই সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নয়ন শেখ এবং শহিদুল শেখ নামক দুইজন জলঙ্গী নিবাসী ভারতীয় চোরাকারবারি অবৈধভাবে জলঙ্গী সীমান্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইউসুফপুর গ্রামে মাদক ব্যবসা এবং অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনের উপর চড়াও হয়। স্থানীয়রা ব্যাপারটিকে সহজভাবে না নিয়ে তাদের ঘেরাও করে ফেলে। পরে ইউসুফপুর বিজিবি ক্যাম্প খবর প্রাপ্তি সাপেক্ষে ভারতীয় দুজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেদের হেফাজতে তাদের নিয়ে নেয়। অপরপক্ষে একই দিন ১২টায় বিএসএফ টহল দল অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে ৩০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে (পিলার ৭২/৪-এস বরাবর) প্রবেশ করে ইউসুফপুর এলাকা থেকে তিনজন নিরীহ ও নিরপরাধ কৃষককে ধরে নিয়ে যায়, যারা চর এলাকায় শুধুমাত্র চাষাবাদ করে বাড়ি ফিরছিল। উভয় ঘটনার রেশ ধরে একই দিনে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৩ জুলাই ২০২০ তারিখে শান্তিপূর্ণভাবে উভয় দেশের নাগরিক হস্তান্তর-গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাপারটি সুষ্ঠুভাবে মীমাংসা হয়েছে। বিজিবি আরও জানায়, মূলতঃ স্থানীয় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বিএসএফের সাথে জনগণের বৈরী সম্পর্ক, স্থানীয় গরু চোরাকারবারী কর্তৃক এই মৌসুমে কোনো কাজ করতে না পারা, মাছ ধরার সময় বিএসএফ কর্তৃক স্থানীয় জেলেদের থেকে চাঁদা আদায় এবং সর্বোপরি স্থানীয় বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি স্থানীয় ভারতীয় জনগণ অথবা স্বার্থান্বেষীমহল কর্তৃক প্রদান করা হতে পারে বলে অনুমেয়।

 

বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাড় নয় – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণা করা রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের গ্রেফতারের বিষয়ে শিগগিরই তথ্য দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে সাহেদকে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। গতকাল শুক্রবার রাজধানী ধানমন্ডির বাসভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ, করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, চিকিৎসায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান কার্যালয়, উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গা ঢাকা দিয়েছেন হাসপাতালের মালিক সাহেদ। সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। সাহেদ নিজেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য বলে পরিচয় দিতেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাহেদ একসময় বিএনপি করতেন। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার তোলা ছবি ভেসে আসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। চলছে নানামুখী আলোচনা সমালোচনা। গত ৭ জুলাই উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের সময় সাহেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তা জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, আমি ফোন দিয়ে তার হাসপাতালে রোগী ভর্তি করি, সেই সুবাধে আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, হাসপাতাল সিল করে দিচ্ছে। আমি বলেছি, আপনি নিশ্চয়ই কোনো অন্যায় কাজ করেছেন, এজন্য সিল করছে। বিনা কারণে তো সিল করে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে বলল আমি তাহলে কী করব? আমি বললাম, হয় আপনি ফেইস করেন, নতুবা কোর্টে গিয়েৃ আপনার যদি কিছু বলার থাকে কোর্টে যান। এইটুকুই আমি বলেছি। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) তার সংসদ সদস্যকে ছাড় দেননি, তার দলীয় নেতাদেরকেও তিনি ছাড় দিচ্ছেন না। যার (শাহেদ) কথা বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয়, তাকে ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। সে যতই ক্ষমতাবান হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে, জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, তাকে ধরার জন্য অনুসন্ধান চলছে। র‌্যাব এবং পুলিশ উভয়েই খুঁজছে। আমরা মনে করি খুব শিগগিরই আমরা তথ্য দিতে পারব।

লেবাননে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা

ঢাকা অফিস ॥ লেবাননে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে আওয়ামী লীগের লেবানন শাখা। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার বিকেলে দূতাবাসের হলরুমে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান আ.লীগ নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের শ্রম সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তৃতীয় সচিব আব্দুল্লাহ আল সাফিসহ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ। আওয়ামী নেতৃবৃন্দের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইস্কান্দর আলী মোল্লা, গাউস সিকদার, আশফাক তালুকদার, বাবুল মুন্সী, এসএম জসিম, মশিউর রহমান, আলমগীর ইসলাম, কবির আহমেদ, তাইজুল ইসলাম, জবরুল ইসলাম, মোঃ সুজাত, নিলু মোল্লাসহ আরও অনেকে। জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমানকে লেবাননে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।