করোনার প্রভাবে জীবিকার অনিশ্চয়তায় সামাজিক অসন্তোষের আশঙ্কা বাড়ছে

ঢাকা অফিস ॥ করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে নানা পেশার মানুষ জীবিকা নিয়ে বিচিত্র ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এর জের ধরে সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কাও দিন দিন বাড়ছে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির পর সীমিত পরিসরে সব কিছু খুলে দেয়ার পরও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হচ্ছে না। বন্ধ থাকায় অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছে না। মার্কেটগুলো খুলে দেয়া হলেও সেখানে ক্রেতাসাধারণের উপস্থিতি নগণ্য। আর সড়কে গণপরিবহন নামলেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। ফুটপাতে হকাররা পসরা নিয়ে বসলেও ক্রেতা নেই। আবার অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চলছে কর্মী ছাঁটাই। এমন পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামাজিক অসন্তোষের পাশাপাশি নানা ধরনের অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আপাতদৃষ্টিতে বর্তমানে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি এলাকা শান্ত থাকলেও মাঝে মধ্যে দু-একটি এলাকায় বেতন-ভাতার দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায় নামছে। তবে রাজধানীর এই শান্ত পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠার আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশ বিভাগের আশঙ্কা, সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে চলমান অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নতুন নতুন অপরাধ। কারণ রাজধানীতে বেসরকারি হাই স্কুল ও কলেজ, কিন্ডারগার্টেন এবং কোচিং সেন্টারে ৩ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে। তার মধ্যে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক সংখ্যাই এক লাখের বেশি। বর্তমানে ওসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ। আর সরকারের সাধারণ ছুটির পর সড়কে গণপরিবহন নামলেও যাত্রী স্বল্পতায় কোনো কোনো পরিবহনের তেলের খরচই উঠছে না।  অথচ রাজধানীতে ২০ লাখের বেশি পরিবহন শ্রমিক রয়েছে। তারা ভীষণ আর্থিক কষ্টে আছে। পাশাপাশি অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চলছে কর্মী ছাঁটাই। ফলে হঠাৎ করেই অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়ছে। তাছাড়া রাজধানীজুড়ে কয়েক লাখ হকার ফুটপাতে ব্যবসা করে। বর্তমানে ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসলেও সেভাবে ক্রেতা না পাওয়ায় তারা মহাসংকটে রয়েছে। সূত্র জানায়, করোনার সময়ে দেশে অপরাধ অনেক কমেছিল। কিন্তু গত চার মাস অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রাজধানীতে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক পরিবহন শ্রমিক দিনে গাড়িতে কাজ করে রাতে ছিনতাই করছে। এ শ্রেণিটাকে নিয়ে ভয় রয়েছে। ইতিমধ্যে এমন অনেক আসামি ধরা পড়েছে, যারা দিনে গাড়ির হেলপারি করে আর রাতে করে ছিনতাই। তাছাড়া আর দু-তিন মাস পর মধ্যবিত্তের জমানো টাকা ফুরিয়ে যাবে। বেসরকারি চাকরি যারা করেন, তাদের অনেকের চাকরি থাকবে না। সেক্ষেত্রে শুধু গার্মেন্টকর্মী নয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও রাস্তায় নেমে পড়তে পারে। বাড়িভাড়া অর্ধেক করা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল কমানোর আন্দোলন হতে পারে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের চুরি-ছিনতাই-ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়াসহ নানা অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে, করোনায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ, প্রতারণা বাড়তে পারে। সহিংসতার দিকে যেতে পারে সম্পত্তির ঘটনা। ঈদুল আজহার আগেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রকট হতে পারে। সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধ দমনের বিষয়ে এখনই ভাবতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই বন্ধসহ সরকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা দিতে না পারলে অবস্থার অবনতি ঘটা অস্বাভাবিক নয়। করোনাকালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা দিতে না পারলে আসছে কোরবানির ঈদের আগেই পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে সামাজিক অসন্তোষজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্মপন্থা ঠিক করতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বৈঠক করেছেন। ডিএমপি কমিশনার জানান, সামাজিক অপরাধ বাড়তে পারে। স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ, যৌতুকের জন্য চাপ, পারিবারিক অপরাধ, চুরি-ছিনতাই এসব বাড়তে পারে। তবে পুলিশ বিভাগ নজরদারি বাড়িয়েছে। অপরাধ রোধে প্যাট্রল বাড়ানো, আসামি ধরা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি সব থানার ওসিদের নিয়ে মিটিং করা হয়েছে। সেখানে অপরাধ বাড়তে পারে- এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অপরাধ রোধে যে যে কৌশল রয়েছে সেসব প্রয়োগ করা হবে। আর আয় কমে গেলে সব মানুষই কিন্তু অপরাধ করে না। যারা অপরাধ করবে তাদের আইনের আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

নিয়মিত আদালত চালুর আবেদন আইনজীবীদের

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস রোধে দেশে ভার্চুয়াল আদালত চলছে। ভার্চুয়াল আদালত চলা অবস্থায় অনেক আইনজীবী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আবার অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা আইনজীবী সমিতি নিয়মিত আদালত চালু কারার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছেন। আইনজীবী সমিতি বলছেন, দীর্ঘদিন ভার্চুয়াল আদালত চালু থাকায় অনেক আইনজীবী শুনানি থেকে বিরত রয়েছেন। এ অবস্থায় অনেক আইনজীবী আর্থিকভাবে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী খান হাসান নিয়মিত আদালত খুলে দেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির দফতর সম্পাদক এইচ এম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত বুধবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী খান হাসান নিয়মিত আদালত খুলে দেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা আইনজীবী সমিতি বিশ্বের সর্ববৃহৎ আইনজীবী সমিতি। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি। করোনাভাইরাসের বর্তমানে পরিস্থিতির কারণে করোনা উপসর্গ নিয়ে ইতোমধ্যেই ঢাকা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকার ফলে সমিতির বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ভার্চুয়াল আদালতের শুনানি থেকে বিরত থাকায় আইন পেশা স্থবির হয়ে পড়েছে। কিছু বিচারপ্রার্থী জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক আইনজীবী আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। আবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠন নিয়মিতি আদালত খুলে দেয়ার দাবিতে সমিতি প্রাঙ্গণে সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন ও স্মারকলিপি প্রদান করছেন। এমতাবস্থায় আইনজীবীবৃন্দ ও বিচারপ্রার্থী জনগণের কথা চিন্তা করে ঢাকার সংশ্লিষ্ট সকল আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আপনার সদয় আদেশ দান অত্যন্ত জরুরি ও মানবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব মহাত্মনের নিকট বিনীত প্রার্থনা ঢাকা আইনজীবী সমিতি তথা দেশের বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের স্বার্থে এবং করোনা দুর্যোগকালীন মানবিক বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকার সংশ্লিষ্ট সকল আদালতসমুহ খুলে দেয়ার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।

ভার্চুয়াল আদালত নিয়ে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ রোববার থেকে

ঢাকা অফিস ॥ ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা নিয়ে আইনজীবীদের কারিগরি ও তথ্য-প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে অনলাইন প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। আইন ও বিচার বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড-এর কারিগরি সহায়তায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ জুলাই (রোববার) থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল জেলার সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি-পিপি) ও সাধারণ আইনজীবীদের ‘ভার্চুয়াল আদালত পদ্ধতি ব্যবহারে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক এ অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১২ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলার আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ওই দিন দুপুর ১২টায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে নিয়মিত আদালত বন্ধ হয়ে যায়। বিচারপ্রার্থীদের কথা বিবেচনা করে সরকার ভার্চুয়াল আদালত পদ্ধতি চালু করে। গত ৯ মে এ বিষয়ে জারি করা অধ্যাদেশ ৮ জুলাই বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। অধ্যাদেশ জারির পর ১১ মে থেকে সারা দেশে ভার্চুয়াল আদালত কার্যক্রম শুরু হয়, যা অব্যাহত রয়েছে। অনেক আইনজীবীদের ভার্চুয়াল আদালত পদ্ধতি সম্বন্ধে কারিগরি ও তথ্য-প্রযুক্তিগত সঠিক ধারণা না থাকায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে আইন মন্ত্রণালয়।

কুয়েতের নাগরিক নন পাপুল, জানালো দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ঢাকা অফিস ॥ মানব ও অর্থপাচার এবং ঘুষ লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কুয়েতে আটক বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতের নাগরিক নন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আরব টাইমস অনলাইনের। গতকাল বৃহস্পতিবার আরব টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক টুইট বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতের নাগরিক- বিষয়টি সত্য নয়। এ বিষয়ে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমাদের দরজা সবসময় খোলা। মূলত এমপি পাপুল কুয়েতের নাগরিক কি-না বিষয়টি বেশি আলোচিত হয় গত বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। গত বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কুয়েতের সে নাগরিক কি-না, সে বিষয়ে কুয়েতের সাথে আমরা কথা বলছি। যদি এটা হয়, তার পদটি (লক্ষ্মীপুর-২ আসন) খালি করে দিতে হবে। সবকিছু আইন অনুযায়ী চলবে। এর আগে মঙ্গলবার পাপুলের কুয়েতে অবস্থানের বিষয়ে বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আমাদের এ সাংসদ কোনো সরকারি পাসপোর্ট নিয়ে সে দেশে যাননি। তিনি কুয়েতে ২৯ বছর ধরে ব্যবসা করেন। ওখানকার কোম্পানির সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সে দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া বাংলাদেশের এ সাংসদকে তারা সে দেশের একজন ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেফতার করেছে। কুয়েতি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে ২০ হাজার বাংলাদেশিকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কুয়েতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেখানে তাদের যে চাকরি দেয়ার কথা ছিল, বেশিরভাগই সেই চাকরি পাননি। যে বেতনের কথা বলা হয়েছিল, তারা তার চেয়ে কম বেতন পেয়েছেন বা একদমই পাননি। তবে রাষ্ট্রপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে স্বেচ্ছায় ঘুষ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল। তার দাবি, তিনি কুয়েতি কর্মকর্তাদের বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কুয়েতে আমার ৯ হাজার কর্মী রয়েছে এবং (এ বিষয়ে) আমার শতভাগ টেন্ডার রয়েছে। এ পর্যন্ত কেউ আমার কাজের অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। অথচ (কুয়েতের) কিছু সরকারি কর্মকর্তা আমার টেন্ডার বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। তাদের টেন্ডারে রাজি করানোর একমাত্র মাধ্যম হলো তাদের ঘুষ দিতে হবে। তাই আমি এ ক্ষেত্রে কী আর করতে পারি?

ডা. জাফরুল্লাহর ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে

ঢাকা অফিস ॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ফুসফুসে করোনা পরবর্তী নিউমোনিয়াজনিত ভাইরাসের সংক্রমণ বর্তমানে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মিডিয়া উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু এ তথ্য জানান। জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু গণস্বাস্থ্যের অধ্যাপক ডা. নাজিব মোহাম্মদের বরাত দিয়ে বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গলার স্বর এখনো পুরোটা ঠিক হয়নি, পাশাপাশি স্বর অত্যন্ত নিচু এবং কাশি আছে। তিনি অত্যন্ত নিচু স্বরে ধীরে ধীরে কথা বলেন। নিয়মিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কিডনি ডাইলোসিস করা হচ্ছে। কৃত্রিম অক্সিজেন দেওয়া লাগছে না। তার শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ আছে তবে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। নিয়মিত খাওয়া দাওয়া করছেন। আগের চাইতে বেশি হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। শারীরিক অবস্থা পূর্বের থেকে উন্নতি হয়েছে। তবে তার সুস্থ হতে আরও বেশ কিছুদিন দিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণস্বাস্থ্যের চিকিৎসকরা তাকে ৪২ দিন সম্পূর্ণ রেস্ট নিতে এবং ভিজিটরদের সঙ্গে দেখা ও কথা বলতে নিষেধ করেছন। কিন্তু দেশের জনগণের করোনা ভাইরাসের ফলে যে দুরাবস্থা তা চিন্তা করলে ১ ঘণ্টাও রেস্ট নেওয়া এবং কথা না বলে থাকা সম্ভব না। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বর্তমানে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মামুন মোস্তাফিজ এবং অধ্যাপক ডা. নাজিব মোহাম্মদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

 

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গর্ভবতী মায়েদের চিকিতসা সেবা প্রদান

মহামারী করোনাকালীন এই কঠিন সময়ে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করণ ও প্রসূতি মায়েদের দূর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যে মানবতার সেবায় নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এর নির্দেশনায়  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গত ১০ জুন ২০২০ তারিখ হতে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ঝিনাইদহ  জেলার মহেশপুর উপজেলার মহেশপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সর্বমোট ১০ জন  সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং স্থানীয় ডাক্তারের সমন্বয়ে গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শতাধিক  গর্ভবতী  মায়েদের  বিনামূল্যে  বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা  সেবা এবং ঔষধ বিতরনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।  পাশাপাশি চিকিৎসা  সেবা নিতে আগত গর্ভবতী মায়েদের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড, স্যানিটাইজার, সাবান এবং ত্রাণ বিতরণ করেন সেনা সদস্যরা। এছাড়াও করোনা মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর নিজস্ব অর্থায়নে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়ন, গণপরিবহন মনিটারিং, অসহায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ বিতরণসহ বহুমূখী জনকল্যানমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঘরবাড়ী মেরামত, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ নানাবিক জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত  রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

রিজেন্টের সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা অফিস ॥ নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সাথে চুক্তি ভঙ্গ ও করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্র“প ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন বিভাগকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদরদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে বলা হয়, প্রতারণা মামলার আসামি সাহেদের বিরুদ্ধে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে। গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রিজেন্টের প্রধান কার্যালয়, উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়। ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা থেকে আটক আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ নয়জনকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে গত বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয় সাহেদের প্রধান সহযোগী তারেক শিবলীকে। সাহেদের বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, অনিয়ম, অপরাধ ও প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো চেয়ারম্যান (মো. সাহেদ) নিজেই ডিল করেছেন, অন্যান্য কয়েকজন কর্মীও ছিলেন। এখন চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। তাকে এবং জড়িত সবাইকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

কোরবানিতে বিদেশ থেকে পশু আনার অনুমতি দেওয়া হবে না – প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ কোরবানির জন্য কোনো অবস্থাতেই বিদেশ থেকে গবাদিপশু আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, এ বছর দেশে কোরবানির জন্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত যোগান রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য মজুদ রয়েছে। যার মধ্যে হৃষ্টপুষ্ট করা গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার এবং ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার ও অন্যান্য ৪ হাজার ৫০০টি। একইসঙ্গে করোনার কারণে গবাদিপশু বিপণনে এবছর আমরা অনলাইন বাজারের ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করছি। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কক্ষে কোরবানির পশুর হাটে সুস্থ-সবল গবাদিপশু সরবরাহ ও বিক্রয় নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত এক অনলাইন সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পর্যাপ্ত গবাদিপশু সরবরাহ ও বিপণনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কোরবানি করে পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, সচেতন হতে হবে, নিজের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা দিয়ে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও সরবরাহে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবছর কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা হয়। কোরবানির পশু পরিবহনে রাস্তায় চাঁদাবাজি হয়, দীর্ঘসময় প্রাণীকে ট্রাকে আটকে রাখতে হয়। এবার আমরা চাই কোনোরকম চাঁদাবাজি হবে না। যে অঞ্চলে সুযোগ আছে সেখান থেকে ট্রেনে পরিবহন হবে। খামারিদের খামারে পশু বিক্রয় হলে সেখান থেকে ইজারাদার টোল আদায় করতে পারবে না। শ ম রেজাউল করিম বলেন, গবাদিপশু বিপণন ও পরিবহন সমস্যা সমাধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে হটলাইন স্থাপন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক হটলাইনে সম্পৃক্ত হবেন। গবাদিপশুর বাজারগুলোতে প্রায় ১২০০ মেডিক্যাল টিম কাজ করবে, যাতে রুগ্ন গবাদিপশু বাজারে না আসতে পারে। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। কোরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোরবানির সময়ে খামারিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহায়তা করার জন্য মাঠ পর্যায়ের সব প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেনো একজন খামারি, বিক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে কোরবানি সংশ্লিষ্ট সরকারের সব বিভাগকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি। এসময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপপরিচালকরা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, বিজিবি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উদ্যোক্তা ও খামারিদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি অংশ নেন।

সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা ছাড়া বিএনপির আর কোনও কাজ নেই – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি নেতাদের সরকারের সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে এবং তার নেতৃত্বে দলের নেতারাসহ পুরো বিএনপিই এখন হোম আইসোলেশনে। হঠাৎ হঠাৎ টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা ছাড়া বিএনপির আর কোনও কাজ নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেবের বক্তব্যে মনে হয় সারা দুনিয়ায় সব দেশের ক্ষেত্রেই করোনা মোকাবিলা এমন কঠিন কিছু ছিল না অথচ উন্নত দেশগুলোসহ পৃথিবীতে লাখ লাখ মানুষ করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে। যারা জনগণের পাশে নেই, জনগণের জন্য কিছু করছেন না, হঠাৎ হঠাৎ টেলিভিশনে উঁকি দিয়ে এ ধরনের কথা বলা তাদেরই মানায়। দায়িত্বপূর্ণ জায়গা থেকে এ ধরনের কথা বলা সমীচীন নয়। হাছান মাহমুদ বলেন, পুরো পৃথিবী আজ করোনাভাইরাসের কারণে অসহায় এবং পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ হলেও করোনা মোকাবিলায় তাদের অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে, সেখানে মৃত্যুর মিছিল ছিল। সেই তুলনায় বাংলাদেশ সীমিত সামর্থ্যরে একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখানকার শহরগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সরকার এবং বেসরকারি পর্যায়ের সব হাসপাতাল ও স্বেচ্ছাসেবীসহ সম্মিলিতভাবে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে আমরা অনেক উন্নত দেশের তুলনায় সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়েছি, বিশেষ করে মৃত্যুহার কম রাখার ক্ষেত্রে। আমাদের দেশে মৃত্যুর হার ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও কম এবং ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে অনেক কমতো বটেই। ‘মানুষের মুখ বন্ধ রাখতে সরকার মামলা করছে’ বলে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগের জবাবে ড. হাছান বলেন, সরকার কারও বিরুদ্ধে মামলা করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে যে সব মামলা হয়েছে, সবগুলোই বিভিন্ন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি করেছেন। বিএনপির নেতারা জনগণ এবং সরকার দুটিই গুলিয়ে ফেলছেন। জনগণের কেউ যদি সংক্ষুব্ধ হন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিনি তার সুরক্ষার জন্য যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার রাখেন। প্রতারণার অভিযোগ মাথায় নিয়ে পলাতক রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের আওয়ামী লীগের একটি উপ-কমিটির সদস্য বলে পরিচয় দেয়া প্রসঙ্গে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, সে আওয়ামী লীগের কোনও উপ-কমিটির সদস্য ছিল বলে আমার জানা নেই। গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রিজেন্টের প্রধান কার্যালয়, উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়। ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা থেকে আটক আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ নয়জনকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরইমধ্যে সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমকে তাদের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারই কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে পত্রপত্রিকায় যে অনুসন্ধানী রিপোর্ট বেরিয়েছে সেজন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ। এতে প্রমাণিত হয়, সে খুব সুচতুর একজন প্রতারক। এরকম আরও প্রতারক যারা আছে, আমাদের সম্মিলিতভাবে তাদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন। সাহেদ আওয়ামী লীগের সদস্য কি-না, এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সে দাবি করছে, সে আওয়ামী লীগের কোনও একটা উপ-কমিটিতে ছিল। কিন্তু আমাদের দলীয় কার্যালয়ে তো আমি প্রতিদিন যাই। সে আওয়ামী লীগের কোনও উপ-কমিটির সদস্য ছিল বলে আমার জানা নেই। একই সাথে তার এই হাসপাতালকে কোভিড-১৯ চিকিৎসা দেয়ায় সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করিÑ বলেন ড. হাছান মাহমুদ।

 

শিগগিরই এইচএসসিতে ভর্তি শুরু – সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে একাদশ শ্রেণিতে (এইচএসসি) ভর্তি কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। তবে নীতিমালার আলোকে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ঢাকা-১০ আসনের শফিউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণের এ পরিস্থিতিতেও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা-২০২০ ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ৩১ মে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলেও কোভিড-১৯ এর কারণে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। ভর্তির বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড প্রস্তত রয়েছে। খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। ময়মনসিংহ-৮ আসনের ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে শিক্ষার্থীরা যাতে সংক্রমিত না হয় তার জন্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার লক্ষ্যে এবং শিক্ষার মান ধরে রাখার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নেয়াখালী-৩ আসনের মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে সরকারি পর্যায়ে কোনো ইংরেজি মাধ্যম স্কুল নেই। বেসরকারি পর্যায়ে ১৪৫টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে। ঢাকা-১০ আসনের শফিউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। এ পরীক্ষা অধিকতর যুগোপযোগী করে আয়োজেনের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গাংনীতে সড়ক সংস্কার ও ব্রিজ নির্মাণের উদ্বোধন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক সংস্কার ও ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া-পূর্বমালসাদহ সড়ক ও বেতবাড়িয়া-কাজীপুর সংস্কার সম্পন্ন হওয়া সড়ক এবং মাথাভাঙ্গা নদীর বেতবাড়িয়া-মধুগাড়ি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও গাংনী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার গোলাপ আলী শেখ, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাস্টার, আ.লীগ নেতা ও তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা, বিশিষ্ট আ.লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আতু, আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, বাবলুর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জামান লুইস, রাইপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোখলেছ, ঠিকাদার জান মহাম্মদ মিন্টু, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইদুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, স্থানীয় আ.লীগ নেতা আলীহিম হোসেন, গোলাম মোস্তফা, তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়েন উদ্দীনসহ স্থানীয় আ.লীগ.যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। গাংনী উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ ইং অর্থ বছরে  চুক্তিভিত্তিক ১,৩৪,৭৪,২৪৬,১৫০ টাকা ব্যয়ে তেঁতুলবাড়ীয়া-পূর্বমালসাদহ সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলো। এছাড়াও বেতবাড়িয়া-কাজীপুর সড়ক একই অর্থ বছরে চুক্তিভিত্তিক ১,০৯,৯৭,৭০৯,২০০ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলো। এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৭,২৯,৩২,৯৭৯,৭২৪ টাকা ব্যয়ে বেতবাড়িয়া-মধুগাড়ি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়।

মিরপুরে করোনায় আক্রান্ত এক রোগীর বাড়ী লকডাউন

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুুরে করোনায় আক্রান্ত এক রোগীর বাড়ী লকডাউন করে দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি মিরপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড আদর্শপাড়ার মনি মালিথার  ছেলে রাশেদ খান মিলন জনি (৩০)। সে গত মঙ্গলবার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেয়ার পর বুধবার করোনা ভাইরাস সংক্রমণে পজিটিভ ফলাফল আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস বিকেলে তার বাড়ি লকডাউন করে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মিরপুর থানার এএসআই আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ। উল্লেখ্য, করোনা আক্রান্ত জনির পরিবারে স্ত্রী, বাবা-মা ও বোনের মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানান ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

কুষ্টিয়ায় বিএমটিএ’র ছয় দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন

বয়স প্রমার্জনা সাপেক্ষে অবিলম্বে বিশ হাজার বেকার মেডিকেল  টেকনোলজিষ্টকে নির্বাহী আদেশে নিয়োগ প্রদান। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত  আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ মোতাবেক ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্ট বাস্তবায়ন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টদের মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাশকৃতদের স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগ না দেওয়াসহ ৬দফা দাবিতে সারাদেশের সকল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মবিরতি। বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট এসোসিয়েশন (বিএমটিএ) ও  বেসরকারি কর্মজীবী মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও অস্থায়ী মেডিকেল কলেজের সামনে ৯ জুলাই দুপুরে ৬দফা দাবিতে সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতে উক্ত দুটি সংগঠন কর্মবিরতি পালন করে। উল্লেখ্য, মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের ছয় দফা দাবিনামা, প্রধানমন্ত্রী  দেশরতœ শেখ হাসিনার নির্বাহী আদেশে বয়সোত্তীর্ণ মেডিকেল  টেকনোলজিষ্টদের বয়স প্রমার্জনা সাপেক্ষে অবিলম্বে বিশ হাজার  মেডিকেল টেকনোলজিষ্টকে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান ও  মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের নতুন পদ সৃষ্টি। মেডিকেল  টেকনোলজিষ্টদের বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণ। ডিপ্লোমা  মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড চালুকরণ। সেচ্ছাসেবক, অস্থায়ী, মাস্টাররোল এর মাধ্যমে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট পদে নিয়োগ বন্ধ করণ।অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ১৮৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের স্থায়ী নিয়োগের সুপারিশের আলোকে ১৪৫ জন নিয়োগ পাওয়া  মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের নিয়োগপত্র বাতিলকরণ এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের শাস্তি প্রদান দাবি করে  কর্মদিবস পালিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আইভরি কোস্টের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গউন আর নেই

ঢাকা অফিস ॥ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আইভরি কোস্টের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গউন কাউলিবালি বুধবার মারা গেছেন। অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটির ক্ষমতাসীন দল তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছিল।- খবর আল-জাজিরা ও বিবিসির এর আগে এই আফ্রিকান দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান ওতারি তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। ফ্রান্সে দুই মাসের হৃদরোগের চিকিৎসা শেষে সবে দেশে ফিরেছিলেন আহমেদ। তার মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট হাসান ওতারি এক বিবৃতিতে বলেন, পুরো দেশ আজ শোকাহত। তিনি বলেন, সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে অসুস্থ হয়ে পড়েন আহমেদ। পরে সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার ছোট ভাই আহমেদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। গত ৩০ বছর ধরে তিনি আমার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। দেশের প্রতি তার ভালোবাসা, অনুরাগ ও আনুগত্যে একজন রাষ্ট্রনায়কের স্মৃতির প্রতি আমি অভিবাদন জানাচ্ছি। তার মৃত্যুতে আইভরি কোস্টের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কিছুটা গৃহযুদ্ধের পর পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। যাতে তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। ২০১২ সালে তার হার্ট প্রতিস্থাপন করা হয়। গত ২ মে তিনি প্যারিসে যান হার্টে স্টেন্ট বসাতে। ফিরে এসে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের পাশে আমার জায়গা নিতে আমি ফিরে এসেছি। আমাদের দেশের উন্নয়নে অব্যাহত কাজ চালিয়ে যেতে চাই। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে যাদের নাম বলাবলি হচ্ছিল, তাদের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন বলে খবরে দাবি করা হয়েছে। লা মন্ড পত্রিকার এক নিবন্ধে বলা হয়, যদি আহমেদ গউন অযোগ্য হয়ে পড়েন, তবে হাসান ওতারির প্রার্থী না হওয়ার আর বিকল্প থাকবে না। কারণ তাদের মাঝে অন্য কোনো পরিকল্পনা রাখা হয়নি।

পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ সব এলাকায় স্থায়ী বাঁধ – পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পর্যায়ক্রমে দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। তিনি বলেন, করোনা সঙ্কটের মধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পসমূহের কাজ অব্যাহত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমি বন্যাকবলিত সব এলাকায় খোঁজ রাখছি এবং বন্যা পূর্বাভাস পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীদের জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ নিয়ে তৈরি থাকতে নির্দেশ দিয়েছি। গতকাল বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের বেলটিয়াঘাটে নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন এনামুল হক শামীম। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারের মাঝে নগদ ১০ হাজার টাকা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন উপমন্ত্রী। তিনি বলেন, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ভ্রমণ করেছি এবং দেখেছি সেখানে বিএনপির কেউ জনগণের পাশে নেই। যারা দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকে না তাদের মুখে সরকারের সমালোচনা মানায় না। জনকল্যাণের রাজনীতিই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি। এনামুল হক শামীম আরও বলেন, টাঙ্গাইলে মোট ৬১০ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে। যেই ৩৭টি বাড়ি ভেঙে গেছে, এ বছরেই সেখানে আমরা মাটি ভরাটের ব্যবস্থা করে দেব। এ সময় টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাসান ইমাম খাঁন, জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি, প্রধান প্রকৌশলী (কেন্দ্রীয় অঞ্চল) আবদুল মতিন সরকার, প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজার) মো. আজিজুল হক, নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের মদদে অপকর্ম করেছে রিজেন্টের মালিক – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, টিভিতে দেখলাম সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে হাসপাতালের মালিকের ওঠাবসা। সরকারের মদদে রিজেন্টের মালিক এসব অপকর্ম করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রোগীদের কাছ থেকে করোনার নমুনা নিয়ে সেগুলো টেস্ট না করেই মনগড়া রিপোর্ট দিত রিজেন্ট হাসপাতাল। গত ৬ জুলাই বিকেলে রিজেন্টের উত্তরার শাখায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের সংশোধন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনা। ওয়ান-ইলেভেন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সারাবিশ্ব এখন করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত। মানবিক দুর্যোগ চলছে। মানুষ বাসা থেকে বের হতে পারছে না। এ অবস্থায় ইসি উপনির্বাচন করতে চাইছে। তিনি বলেন, দেশে এক দশকের বেশি সময় ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে। এটার নাম দেয়া হয়েছে হাইব্রিড রিজিম (মিশ্র শাসন)। এতে ইসি ও নির্বাচনের দরকার আছে। ইসি বিগত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে। সেনাবাহিনীকে অকার্যকর করেছে। এই কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ আচরণ পাওয়া যাবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা গুম হয়েছেন। কত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে ৩৫ লাখ মানুষ আসামি হয়েছে। খালেদা জিয়াকে জেল খাটতে হয়েছে, তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হচ্ছে। ইসি ভালো কিছু করবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন ঠিকভাবে করতে না পারলে গনতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সরকারকে বিদায় করতে হবে। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এরপর নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিএনপি কমিউনিকেশন সেলের পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপনের পরিচালনায় ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন’ শীর্ষক আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহামুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ, সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব আবদুর রশীদ প্রমুখ।

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১ জন গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি চৌকষ অভিযানিক দল গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া ইবি থানাধীন বল্লভপুর মোড় হতে চুয়াডাঙ্গাগামী রাস্তার পাটিকাবাড়ী গ্রামস্থ তাহের মোড়ের পূর্ব পাশের্^ আরাফাত ষ্টোরের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর’’ একটি মাদক অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ১৫০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, মোবাইল ফোন-১টি, সীমকার্ড-২টি এবং নগদ ১৮ হাজার টাকা সহ মোঃ জুলফিকার আলী (২৪), পিতা-মোঃ শফিউদ্দিন মন্ডল, সাং-মাঝিলা, থানা-ইবি, জেলা-কুষ্টিয়ার’কে গ্রেফতার করা হয় এবং পলাতক আসামী মোঃ সোহাগ (২৫), পিতা- মোঃ আসাদুল চৌকিদার, সাং-পাটিকাবাড়ী, থানা-ইবি, জেলা-কুষ্টিয়ার কৌশলে ঘটনাস্থল হতে পলায়ন করে। পরর্বতীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ ধৃত ও পলাতক আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামী’কে কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

দৌলতপুরে বোয়ালিয়া ইউনিয়নে ২৫০ পরিবারের মাঝে এমপি বাদশার খাদ্য সহায়তা প্রদান

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বোয়ালিয়া ইউনিয়নে ২৫০ পরিবারের মাঝে এমপি এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা নিজ অর্থায়নে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার শেহালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে দরিদ্র, দিনমজুর, কর্মহীন ও অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ^াস মহির সভাপতিত্বে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা। উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামান খান সুমন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়া, জেলা পরিষদের সদস্য মায়াবি রোমাঞ্চ মল্লিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গ্রামের ২৫০জন দরিদ্র, দিনমজুর, কর্মহীন ও অস্বচ্ছল পরিবারকে এমপি সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি করে চাল ও একটি করে সাবান তুলে দেন।

সংসদে স্পিকারকে নিয়ে কোনো মন্তব্যের সুযোগ নেই – শিরীন শারমিন

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সংসদের অধিবেশন কক্ষে থেকে স্পিকারকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। স্পিকার এই চেয়ারে বসে কী বলেছেন, সেটার ব্যাপারে হাউসে দাঁড়িয়ে কোনো ধরনের উক্তি এখানে করা যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার একটি বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গেলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তাকে থামিয়ে দিয়ে এ কথা বলেন। গত ২৩ জুন বাজেটের ওপর আলোচনায় সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। ওই আলোচনায় হারুনুর রশীদের বক্তৃতাকালে তার সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের বচসা হয়। হারুন কথা বলার সুযোগ না দেয়ার অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, তার বক্তব্যের জবাব দেয়ার জন্য আমি একাই যথেষ্ট। ডেপুটি স্পিকারের ওই মন্তব্য তুলে ধরে হারুন বলেন, এই সংসদে বিব্রত করার জন্য নয়, বিষয়টি ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছি। বিগত সংসদগুলোতে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলেও দশম ও একাদশ সংসদের বিরোধী দলের চরিত্র নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাই না। কার্যপ্রণালী বিধিতে সংসদ সদস্য ও স্পিকারের দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে বিস্তারিত বলা রয়েছে। এখানে বলা হয়েছে আপনার (স্পিকারের) সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এখানে আপনার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার এখতিয়ার কোনো সদস্যের নেই। অতীতে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ সাবেক কয়েকজন স্পিকারের নাম উল্লেখ করে হারুন বলেন, আপনি আমাদের অভিভাবক। অতীতে যারা স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনিও এখন চালাচ্ছেন। আমি এ ধরনের নজির দেখিনি- ওখান থেকে (স্পিকারের আসন) কখনো কোনো স্পিকার বলেছেন ‘আমি ওঁর জবাব দেয়ার জন্য একাই যথেষ্ট’। আমরা সংসদে কথা বলি মাননীয় স্পিকারের মাধ্যম দিয়েই। আমি বক্তব্যের উত্তর পেতে মাননীয় সংসদ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। কিন্তু ওই জায়গা থেকে যে উক্তি করা হয়েছে তা আমার সংসদের অভিজ্ঞতায় শুনিনি। কার্যপ্রণালী বিধির কোথাও এটা খুঁজেও পাইনি। তিনি বলেন, আমি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে বক্তব্য দিলে উনি ওইখান থেকে বললেন যে, ‘এটি বলা যাবে না, এটি বলতে পারবেন না’। এ পর্যায়ে হারুনকে থামিয়ে দিয়ে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মাননীয় স্পিকার এই চেয়ারে বসে কী বলেছেন সেটার ব্যাপারে আপনি ওখানে দাঁড়িয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। আপনি ফ্লোর নিয়েছেন। আপনার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে, তা আপনি দিতে পারেন। আমি আপনাকে সেটার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানাবো। স্পিকারের বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের উক্তি এখানে করা যাবে না।

 

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌনে দুই লাখ

ঢাকা অফিস ॥ দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড) সংক্রমণ এবং এতে মৃত্যু বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন হাজার ৩৬০ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে এ ভাইরাস। ফলে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪১ জন। ফলে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই হাজার ২৩৮ জনে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে করোনাভাইরাস বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি নতুন যুক্ত একটিসহ মোট ৭৬টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ হাজার ৮৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৫ হাজার ৬৩২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো নয় লাখ চার হাজার ৭৮৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৩৬০ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪১ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ২৩৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও তিন হাজার ৭০৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮৪ হাজার ৫৪৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৪১ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৯ জন এবং নারী ১২ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা যান ৩৮ জন এবং বাসায় মৃত্যু হয় তিনজনের। এদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের একজন, ১১ থেকে ২০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব দুজন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১১ জন, ষাটোর্ধ্ব ১২ জন, সত্তরোর্ধ্ব নয়জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী দুইজন রয়েছেন। ১২ জন ঢাকা বিভাগের, ১৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন রাজশাহী বিভাগের, ছয়জন খুলনা বিভাগের, দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের, দুজন সিলেট বিভাগের এবং তিনজন রংপুর বিভাগের। বুধবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৪৬ জন। ১৫ হাজার ৬৭২টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৪৮৯ জনের মধ্যে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু উভয়ই কমেছে। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ৬৪ জনের। সে তথ্য জানানো হয়, ৩০ জুনের বুলেটিনে। সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড চার হাজার ১৯ জনের, যা জানানো হয় ২ জুলাইয়ের বুলেটিনে। বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে এক হাজার ৭৭০ জন পুরুষ এবং ৪৬৮ জন নারী। শতকরা হিসাবে পুরুষের মৃত্যুহার ৭৯ দশমিক ০৯ এবং নারীর মৃত্যুহার ২০ দশমিক ৯১। বয়স বিবেচনায় শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ১ দশমিক ১৬ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, ত্রিশোর্ধ্বদের ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, চল্লিশোর্ধ্বদের ১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, পঞ্চাশোর্ধ্বদের ৩১ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্বদের মৃত্যুহার ৪৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক মৃত্যুহার ঢাকায় সর্বোচ্চ ৫০ দশমিক ৪০ শতাংশ। এরপর চট্টগ্রামে ২৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ৫ দশমিক ০১ শতাংশ, খুলনায় ৫ দশমিক ০১ শতাংশ, বরিশালে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, সিলেটে ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ, রংপুরে ৩ দশমিক ০১ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ২ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৮৭৯ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৩৪ হাজার ২২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬৬৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৫৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৭ হাজার ৬৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ২৮২ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে তিন লাখ ৮৬ হাজার ৫৮১ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ১৭৪ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন তিন লাখ ২০ হাজার ৪৮৫ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৩ হাজার ১০৬ জন। করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি পালনের আহ্বান জানানো হয় বুলেটিনে। করোনাভাইরাসের ছোবলে গোটা বিশ্ব এখন মৃত্যুপুরী। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন প্রায় এক কোটি ২২ লাখ। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে পৌনে ৭১ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

শিক্ষার্থীদের অটো প্রমোশনের খবর ‘গুজব’ – শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ঢাকা অফিস ॥ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিতে পরীক্ষা ছাড়াই অটো প্রমোশন দিয়ে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিষয়টি ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘গুজব’ বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা ছাড়া শিক্ষার্থীদের অটোপাস করানো হবে-এ ধরনের প্রতিবেদন সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘গুজব’। এ-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাও স্থগিত হয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা-ও অনিশ্চিত। এ কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে অটোমেটিক পাস করিয়েছেন। চলতি মাস থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করা হবে। এই বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃতি দিয়ে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িক পরীক্ষা ছাড়া শিক্ষার্থীদের পাস করানো হতে পারে। এমনকি মাধ্যমিক পর্যায়েও এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, অটো প্রমোশন সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে সে সিদ্ধান্ত এখনই নেয়া উচিত হবে না। এজন্য আরও সময় প্রয়োজন।