রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের পক্ষে ভারত – জয়শংকর

ঢাকা অফিস ॥ ভারত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পক্ষে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শংকর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিবেশী হিসেবে ভারত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনেই সবার মঙ্গল নিহিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আবদুল মোমেনকে সম্প্রতি লেখা এক পত্রে ড. এস জয়শংকর এসব কথা উল্লেখ করেন। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন ড. এস জয়শংকর। তাছাড়া দু’দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পারিক অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি পত্রে উল্লেখ করেন।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমলা-সদরপুরে দুজনের মৃত্যু

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলা ও সদরপুরে দুইজন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এরা হলেন- মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আমলা এলাকার ডা. হাজ্বী কামরুল ইসলাম (৮০) এবং সদরপুর ইউনিয়নের গোয়াবাড়ীয়া এলাকার মেহেদী হাসান বেলাল (৪৫)।  তারা দুজনেরই মরণব্যধি ক্যন্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসায় ছিলেন। জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত ভোরে ডা. হাজ্বী কামরুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান বেলাল তারা দুজনেই নিজ বাসভবনে মারা যান। বিকেলে আমলা ও গোয়াবাড়ীয়া পৃথক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। তাদের এ মৃত্যুতে আমলা ও সদরপুর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তারা দেশটাকে পৈতৃক সম্পত্তি বলে মনে করে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ‘তারা মনে করে আওয়ামী লীগ ও রাষ্ট্র অভিন্ন একটি সত্তা। তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই তারা মনে করে দেশের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা। দেশটাকে পৈতৃক সম্পত্তি বলে তারা মনে করে।’ এমনটাই মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী আরও বলেন, সেজন্য তারা দম্ভে ও গর্বে আত্মস্ফীত। তাই বাকশালের বেওয়ারিশ লাশকেই কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তারা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুশাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর আওয়ামী লীগ একসঙ্গে চলতে পারে না। তিনি বলেন, মূলত, দুর্নীতির বহুদৈত্যকার কেলেংকারির কথা যেন মানুষ জানতে না পারে এই জন্যই মুক্ত চিন্তার মানুষদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। শাসকের বিরোধিতা করার অর্থ রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা নয়। আর এজন্য নিরাপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো ড্রাকোনিয়ান আইন প্রয়োগ করা গুরুতর অন্যায় ও পাপ। সুদে টাকা নিয়ে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ আর সরকারের মুখে উন্নয়নের জোয়ার বইছে বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, কোটি কোটি মানুষ বেকার। সুদে টাকা নিয়ে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ আর সরকারের মুখে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। যাদের জন্ম ঢাকায় তারাও এখন গ্রামে পাড়ি দিচ্ছে। নিন্ম আয়ের মানুষদের উপার্জন বন্ধ থাকায় বউ-বাচ্চাদের গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ক্ষমতাসীন মন্ত্রীরা বলছেন- বাংলাদেশ এখন সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে গেছে, এই উন্নয়ন গেল কোথায়? তিনি বলেন, এই চাউলের মৌসুমেও মোটা চাউলের কেজি ৪০-৪৫ টাকা এবং শাক-সবজির দাম সম্পূর্ণভাবে স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। মানুষ অভুক্ত ও বিনা চিকিৎসায় ভুগছে। মানুষের ঘরে এখন খাদ্য নেই, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই। ফলে ঋণ করে সুদে টাকা নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। ইতোমধ্যে ৩০-৪০ শতাংশ মানুষ ঢাকা ছেড়ে দিয়েছে। এর ফলে বিপাকে পড়েছে বাড়ি ওয়ালারাও। রাষ্ট্রের মালিকানা এখন আর জনগণের কাছে নেই তা পুলিশের কাছে চলে গেছে বলেই বর্তমান ভয়াল দুর্যোগে সরকার বর্বর অহমিকায় ভুগছে। আর জনগণ বিপত্তির শিকার হচ্ছে। মানুষ কষ্ট-ক্লান্তির অনুভূতি নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। রিজভী বলেন, দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রবল ¯্রােতে মানুষ যখন ভীত ও উদ্বিগ্ন তারপরেও মানুষের মুখ বন্ধ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক চলছে। বর্তমান নিপীড়ন মূলক এই মামলা দেশের ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করছে। কোভিড-১৯ নিয়ে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করায় গত তিন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, স্কুলের শিক্ষার্থী, নারীসহ প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ভালুকার একজন ১০ম শ্রেণির কিশোর শিক্ষার্থীও রয়েছে। মানিকগঞ্জের বিএনপি নেতার কন্যা মাহমুদা পলিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কয়েক মাস ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দমন নীতির উত্থান প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে। সর্বত্রই দারিদ্র্য, দুর্দশা, ক্ষুধা, বিনা চিকিৎসা ও অসাম্যের করুণ কাহিনী। দেশবাসীর কোনো স্বাধীনতা নেই, তাদের নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে রাষ্ট্রশক্তি অপব্যবহাররের মাধ্যমে। মেঘনার মাঝিদের ঝড় বাদল যেমন নিত্যসহচর ঠিক তেমনি জনগণের নিত্যসহচর হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সরকার রচিত কালো আইনগুলো। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা বদমেজাজের ঘোরে দেশ চালাতে গিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সকল কালো কানুন প্রয়োগ করছে। জনগণের প্রতি ক্রুদ্ধ সরকার যেন তাদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

করোনা নিয়ে প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ করোনার নমুনা পরীক্ষা, সনদ ও প্লাজমা ডোনেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধ ও আক্রান্তদের চিকিৎসায় সম্মুখ সারিতে থেকে যারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের আবারও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনারা ত্যাগ, মনোবল এবং সংকটে সহমর্মিতার যে নজির স্থাপন করেছেন তা জাঁতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে। ইতোমধ্যে অনেক চিকিৎসক, পুলিশ, সাংবাদিক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল (গত মঙ্গলবার) একজন সিভিল সার্জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমি ফ্রন্টলাইনারদের মধ্যে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি। আপনারা লড়াই চালিয়ে যান দৃঢ় মনোবল নিয়ে। দেশের সংকটে জাতির প্রয়োজনে আপনারাই প্রকৃত বীর। শেখ হাসিনা সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। কাদের বলেন, করোনার নমুনা পরীক্ষা, সনদ, প্লাজমা ডোনেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক শ্রেণির অসাধু চক্র প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। সরকার এ সকল প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে। মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা নির্মম বাণিজ্য ছাড়া কিছু নয়। অন্যদিকে আমাদের কিছু মানুষ সংক্রমণ লুকিয়ে তথ্য গোপন করে চলাফেরা করছে। শুধু তাই নয় করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে বিদেশে গিয়ে এয়ারপোর্টে পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং সত্য গোপন রাখায় বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে। দয়া করে কেউ এমন কাজ করবেন না। সংক্রমণ লুকাবেন না। লক্ষণ দেখা দিলে আইসোলেশনে থাকুন। চিকিৎসা নিন। আপনার তথ্য গোপনের সাথে দেশের ইমেজ, লাখ লাখ প্রবাসীর ভাগ্য এবং আপনার নিজের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় আবর্তিত হবে। কাদের বলেন, ঈদে সংক্রমণের বিস্তার রোধে আমাদের সকলকে সচেতনতার জনযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে হবে। সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে নিজের ও পরিবারের স্বার্থে। পশুর হাট, বাস লঞ্চ টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন, ফেরিঘাট, শপিংমল, কাঁচাবাজারসহ প্রতিটি স্থানে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে, মাস্ক পড়ে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পরিবারের সাথে ঈদ করার আনন্দযাত্রা যেন বিষাদ যাত্রায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। ক্ষণিকের উদাসীনতা জীবনের চিরচেনা কোলাহল থেকে আমাদের নিঃশব্দ অচেনা জগতে নিয়ে যেতে পারে। তাই আসুন, সচেতনতার সর্বোচ্চ মাত্রায় নিজেদের সুরক্ষা করি। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোনো প্রয়াসই কাজে দেবে না। ফল দেবে না লকডাউন কিংবা রেড জোন। তাই আসুন, মনের মাঝেই দৃঢ়তার দূর্গ নির্মাণ করি করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে। তিনি বলেন, ১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশরতœ শেখ হাসিনা প্রবীণ নেতা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমির হোসেন আমু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে ১৪ দলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন বলে নেত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ডিজিটাল পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধন

ঢাকা অফিস ॥ দেশে বিটিসিএল পরিচালিত টিঅ্যান্ডটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ইন্টারনেটবিহীন ডিজিটাল পাঠদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতি চালু হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, কলম কিংবা চক-ডাস্টার পদ্ধতিতে প্রচলিত পাঠদান পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। বিটিসিএল পরিচালনাধীন ৮টি টিঅ্যান্ডটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে প্রি-স্কুল থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত এই শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে মোবাইল বা ট্যাবে বোর্ডের পাঠ্যসূচি ডিজিটাল এনিমেশনের মাধ্যমে তৈরি করা সফটওয়্যারে পাঠদান করা হবে। এর ফলে খেলার ছলে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে সহজে এবং আগ্রহের সাথে পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গতকাল বুধবার ডিজিটাল পাঠদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বিটিসিএল, হুয়াওয়ে এবং বিজয় ডিজিটাল-এর যৌথ উদ্যোগে এই উপলক্ষে আয়োজিত জুম ভার্চুয়্যাল সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য দীর্ঘ তিন যুগব্যাপী কাজ করে যাচ্ছি। ১৯৯৯ সালে গাজীপুরে ১৩জন শিক্ষার্থী নিয়ে এই স্বপ্ল বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করি। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী সেটির উদ্বোধন করেছিলেন, যা বর্তমানে বেড়ে ৩২টিতে উন্নীত হয়েছে। ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তারে মন্ত্রী তার দীর্ঘ পথ চলার চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে বলেন, ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তারের সবচেয়ে বড় দুটি প্রতিবন্ধকতা হলো ডিভাইস এবং কনটেন্ট। গত ১১ বছরে বিজয় ডিজিটালের সিইও জেসমিন জুই কনটেন্ট বিষয়ক চ্যালেঞ্জটি তার ২০ জন দক্ষ সহযোদ্ধাকে নিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছেন। প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষার্থীদের হাতে তিনি তুলে দিতে পেরেছেন। বিনা টাকায় করোনাকালে শিক্ষার্থীরা এই কনটেন্টটি এখন পাচ্ছে। অনলাইন থেকে শিক্ষক ও অভিভাবকরা ডাউনলোড করে তাদের সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার বনানীতে টিঅ্যান্ডটি বয়েজ হাইস্কুলে কার্যক্রমটি শুরু করা হয়। পর্যায়ক্রমে দুই বছরের মধ্যে টিন্ডটির আরও ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ৯৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী ডিজিটাল শিক্ষার আওতায় আসবে। বিটিসিএলের ব্রিজিং দ্য ডিজিটাল এডুকেশন ডিভাইড টু রিডিউস দ্য গ্যাপ প্রকল্প এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে উদ্ভাবিত সফটওয়্যার শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করবে বিজয় ডিজিটাল অ্যাপ। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে হুয়াওয়ে ট্যাব সরবরাহ করবে। সরবরাহকৃত ট্যাবে বিজয় ডিজিটাল অ্যাপটি আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকবে। টিঅ্যান্ডটি স্কুলসমূহেও বিনামূল্যে বিজয় সফটওয়্যারটি সরবরাহ করা হচ্ছে। মোস্তাফা জব্বার বলেন, শিক্ষা জীবনে প্রাথমিক স্তরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আগামী দিনটা হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তির দিন। এই পদ্ধতিতে শিশুদের কম্পিউটার শিক্ষার কাজটিও যেমন এগিয়ে যাচ্ছে পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহও তেমনি বাড়ছে। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে। বিপ্লবের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হবে। প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতি বিদ্যমান শিল্পযুগের উপযোগী মানব সম্পদ তৈরি করতে পারবে না। ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতিই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে থাকার একমাত্র পথ। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১১ বছরে ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশ নেতৃত্বের জায়গায় উপনীত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে। জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার মহানব্রত নিয়ে শিক্ষক অভিভাবকসহ আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো: নূর-উর-রহমান, বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রফিকুল মতিন, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর হেড অব অফিস বিয়্যাট্রিস কালদুন, বিজয় ডিজিটালের প্রধান নির্বাহী জেসমিন জুই, হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝাং ঝেং জুন, বনানীর টিএন্ডটি বয়েজ হাইস্কুলের অধ্যক্ষ হালিমা বেগম, শিশু শিক্ষার্থী লিমন খান এবং অভিভাবক লাকী বেগম বক্তব্য দেন।

মাদকপাচার বন্ধে আরও দুটি হেলিকপ্টার কেনা হচ্ছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশের সীমান্ত পথে সব ধরনের মাদক অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবির দুটি হেলিকপ্টার ইতোমধ্যে ফ্লাইং পরিচালনা শুরু হয়েছে, যা বিজিবির অপারেশন ও লজিস্টিক সাপোর্টের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অচিরেই বিজিবির জন্য আরও দুটি হেলিকপ্টার কেনা হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় এমপি নুরুন্নবী চৌধুরীর (ভোলা-৩) লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্ত পথে সব ধরনের মাদক অনুপ্রবেশ বন্ধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিবির নিয়মিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াও সম্প্রতি নতুন পাঁচটি বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে। টেকনাফসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ৩১৭ কিলোমিটার সীমান্ত মহাসড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে এবং স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্টের আওতায় সীমান্তে সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে দেশের সীমান্ত পথে সকল প্রকার মাদক অনুপ্রবেশ বন্ধে ভিশন-২০৪১ এর আওতায় বিজিবির ১৬৮টি নতুন বিওপি নির্মাণ, সব সীমান্তে বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব সীমান্তে নদীপথ রয়েছে সেখানে, বিশেষ করে টেকনাফ ও সুন্দরবন অঞ্চলে বিজিবির জন্য ৪টি অত্যাধুনিক হাই স্পিড ইঞ্জিন বোট ক্রয় করা হয়েছে এবং উপকূলীয়, চরাঞ্চল, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের বিওপিসমূহের জন্য ১৫২টি এটিভি (অল টেনিয়ন ভেহিক্যাল) ক্রয় করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও সব সরঞ্জামাদি কেনা হবে। বিজিবির ২টি হেলিকপ্টার ইতোমধ্যে ফ্লাইং পরিচালনা শুরু হয়েছে, যা বিজিবির অপারেশন ও লজিস্টিক সাপোর্টের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অচিরেই বিজিবির জন্য আরও ২টি হেলিকপ্টার ক্রয় করা হবে। এ ছাড়া স্থল বন্দর এবং ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট মাদক দ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধকল্পে বিজিবির ২টি ভেহিক্যাল এক্সরে স্ক্যানার এবং ২টি ব্যাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সকল স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্টে স্থাপন করা হবে। আসাদুজ্জামান খান বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল সীমান্ত এবং সমুদ্র এলাকায় মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে টেকনাফ, শাহপুরী, সেন্টমার্টিন, ইনানী, হিমছড়ি ও বাহারছড়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে দোবেকি ও কৈখালী এলাকায় হাইস্পিড বোটের সাহায্যে টহল দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এসব এলাকা দিয়ে সব ধরনের মাদকের অনুপ্রবেশ রোধসহ সকল প্রকার অবৈধ কর্মকা- বন্ধে কোস্টগার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জাহাজ, বেইস, বোট কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৮ পিস ইয়াবা, ২ হাজার ৭৪০ বোতল বিভিন্ন প্রকার মদ, ১ হাজার ৪৩৮ লিটার দেশীয় মদ, ১৬.৯০৭ কেজি গাঁজা এবং ৯ লাখ ২৮ হাজার ০০০ শলাকা সিগারেট আটক করে। এছাড়া, উপকূলীয় এলাকার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে কোস্টগার্ড অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত এবং প্রয়োজনে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল এবং অভিযানের ফলে দেশের সমুদ্র ও নদীপথ এখন আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। তাছাড়া মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডকে সুসজ্জিত, শক্তিশালী ও টহল ব্যবস্থা গতিশীল করার লক্ষ্যে বাহিনীর জনবল বৃদ্ধি এবং ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন চট্টগ্রাম হতে ১টি, মংলা হতে ১টি ও ভোলা হতে ১টি করে মোট ৩টি জাহাজ উপকূলীয় এলাকায় টহলে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া গভীর সমুদ্রে সব ধরনের মাদকের অনুপ্রবেশসহ সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকা- রোধে সার্বক্ষণিকভাবে ১টি জাহাজ নিয়োজিত থাকে এবং কোস্টগার্ডের মোট ৫৮টি বেইসস্টেশান/আউটপোস্ট কর্তৃক কোস্টগার্ডের নিজস্ব বোট দ্বারা প্রাত্যহিক প্রায় ১০০-১১০টি অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এ বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য আরো জলযান, জনবল ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ছাড়া স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোস্ট গার্ডকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে।

গাংনীতে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে অনুদানের অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর ওস্তাদ ও প্রশিক্ষকসহ ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মাঝে সরকারী অনুদানের নগদ অর্থ  বিতরণ  করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এসব বিতরণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণের আয়োজন করে। বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে অনুদানের অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ করেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও গাংনী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন। শিল্পকলা একাডেমির প্রবীণ ওস্তাদ  রতন সরকারের চিকিৎসা ও প্রশিক্ষক সেলিম রেজার পারিবারিক সমস্যা সমাধানে এমপির বিশেষ বরাদ্দের অংশ হিসাবে তাদের হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে নগদ প্রদান করা হয়। এছাড়াও শিল্পকলা একাডেমীর সার্বিক উন্নয়ন ও একটি উন্নত মানের হারমোনিয়াম ক্রয়ের জন্য ১ লাখ টাকা  উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর তহবিলে রাখা হয়েছে। এমপি মহোদয় আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী অর্থ বছরে শিল্পকলার জন্য  আরও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। একই সময়ে তিনি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মাঝে (১০০ জন) ১ বান্ডিল করে ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার করে টাকা প্রদান করেন। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ইয়ানুর রহমান, গাংনী পৌর সভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরঞ্জন চক্রবর্তি, গাংনী উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাষ্টার, আ.লীগের বিশিষ্ট নেতা মনিরুজ্জামান আতু, গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম অল্ডামসহ  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সুধীজন  উপস্থিত ছিলেন।

চলতি মাসের শেষে চালু হতে পারে গণস্বাস্থ্যের আইসিইউ ইউনিট

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ১০ জুলাই ১৫ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করতে চেয়েছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তবে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। অবশ্য এ মাসের শেষের দিকে আইসিইউ চালু হতে পারে। গতকাল বুধবার বিকেলে এসব তথ্য জানান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ। তিনি বলেন, ১৫ শয্যার আইসিইউ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে অনেক আগে। উদ্বোধন করার লক্ষ্য ছিল ১০ জুলাই। এই সময়ে তা হবে না। এ মাসের শেষের দিকে হতেও পারে। এখন কাজ যত তাড়াতাড়ি শেষ হবে, তত তাড়াতাড়ি উদ্বোধন করতে পারবে। কাজ চলমান, অর্ধেকের বেশি কাজ শেষ হয়ে গেছে। মো. ফরহাদ আরও বলেন, আমরা যেহেতু শুরু করেছি, কোনো না কোনো প্রক্রিয়ায় চালানোর চেষ্টা করবো। আমাদের অনুদান যদি পূর্ণ হতো, আমাদের ১০ জুলাই উদ্বোধনের চেষ্টা ছিল, হয়তো সেদিনই করতে পারতাম। তার কারণেই হয়তো দেরি হচ্ছে। কোনো না কোনো উপায় বের করে চালু করা হবে আশা করি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার নতুন করে অবনতির ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান এই জনসংযোগ কর্মকর্তা। গত ৩০ জুন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ভাইস প্রিন্সিপাল (উপাধ্যক্ষ) ও কোভিড-১৯ ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেছিলেন, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য শিগগিরই ১৫ শয্যার একটি আইসিইউ চালু করতে যাচ্ছে। অসুস্থতার মধ্যেও অর্থ জোগাড়ের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং সার্বিক কর্মকান্ডের পর্যবেক্ষণও করছেন তিনি।

 

খোকসায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে রহস্য জনক আগুন, অভিযোগের তীর প্রতিপক্ষের দিকে। এ ঘটনায় পাল্টা হামলার অভিযোগ করোলো প্রতিপক্ষ। জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনগত গভীর রাতে উপজেলার শোমসপুর গ্রামে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আক্তার আলীর বাড়ির একটি পরিত্যাক্ত ঘরে রহস্যজনক আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও প্রতিবেশীরা চেষ্টা করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে মালামাল রাখার ঘরটি সম্পূর্ন ভস্মে পরিণত হয়। রক্ষা পায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের অন্যান্য বসত ঘর ও বাড়ির মানুষ। এ ঘটনার সূত্র ধরে বুধবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার ভাই আজমল সরদার গুরুতর আহত হয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর সকাল থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হামিদা বানু অভিযোগ করেন, বসত বাড়ির এক শতক জমি নিয়ে প্রতিবেশী সেনা সদস্য রফিকের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে সেনা সদস্য রফিক ও তার ছেলে সেনা সদস্য রাসেল তার বাড়িতে আগুন দিয়েছে। অগ্নিকান্ডের বাড়ির একটি বাঁশের পোয়া ভাঙ্গা নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে তাদের বিরোধ হয়েছিল। এ ঘটনার সূত্র ধরে গভীর রাতে প্রতিপক্ষরা তার বাড়ির ঘরে আগুন দিয়েছে। এ ছাড়া তার এক দেবরের উপর হামলা করেছে। তিনি এ বিষয়ে থানায় মামলা করবেন বলে জানান। ছুটিতে থাকা সেনা সদস্য রফিক জানান, তার বসত বাড়ির জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। সে মামলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরেও প্রতিপক্ষ তার বাড়ির একটি দেয়াল ভেঙ্গে দিয়েছে। তাকে বিপদে ফেলতে এবার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। রাতে অগ্নিকান্ডের সময় প্রতিপক্ষ (প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার) বাড়ির ভিতর ১৫ জন বহিরাগত পুরুষ লোক ছিল। কিন্তু তারা কেউ আগুন নেভাতে চেষ্টা করেনি। ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও প্রতিবেশীরা আগুন নিভিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত খোকসা থানা পুলিশের এসআই সিরাজুল ইসলাম জানান, অগ্নিকান্ডের পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বুধবার সকালে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনার পর দ্বিতীয় দফায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গাংনী সাব-রেজিষ্ট্রি  কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন এমপি খোকন 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী সাব রেজিস্ট্রার অফিস পরিদর্শন করেছেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন।গাংনী সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে তিনি গতকাল বুধবার দুপুরে সাব রেজিষ্ট্রি অফিস পরিদর্শন করেন। স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের ৯ ফেব্র“য়ারী সাবরেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানা গাংনীতে যোগদান করার পর থেকে নানা অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। অনিয়মের প্রতিবাদ করতে না পেরে দলিল লেখক থেকে শুরু করে অফিসের সদস্যদের চাপের মুখে রয়েছেন। ভূক্তভোগীরা জানান, সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানা দলিল জমা নেওয়ার নামে ৬শ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া হেবা দলিল রেজিষ্ট্রি করতে সরকারী ফিস ৬৫০ টাকা হলেও নেয়া হচ্ছে ১৫ শ’ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। নকল দলিল উঠাতেও ৪৫০ টাকার পরিবর্তে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এছাড়া রেজিষ্ট্রিটি ফি সরকার ১% কম নেওয়ার নির্দেশনা দিলেও অজ্ঞাত ক্ষমতার দাপটে সরকারী নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করেই পূর্বের মত রেজিষ্ট্রি ফি নেয়া হচ্ছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলেও দলিল লেখক থেকে শুরু করে কর্মচারীরাও সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানার রোষানলে পড়েন। এদিকে সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানা তার অপকর্ম আড়াল করতে সাংবাদিক, সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন মহলকে দিয়ে সাংবাদিককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলিল লেখক সমিতির এক নেতা জানান, সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানার হাতে তাদের রুটি রুজি। তার অনিয়মের প্রতিবাদ করলে হুমকির মুখে পড়তে হয়। জমি রেজিষ্ট্রি করতে আসা এক মহিলা জানান- তার সকল কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও ফাইলিংয়ের নামে ৯ শ’টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া মসজিদ উন্নয়নের নামেও টাকা নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  এক মহুরা জানান, হ্যান্ডমাইক ক্রয়ের জন্য সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানার নির্দেশে দলিল প্রতি ১৫০ টাকা হারে উত্তোলন করা হয়েছে। সম্প্রতি ২৮৫ জনের কাছ থেকে ১৫০ টাকা হারে উত্তোলন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, তিনি হ্যান্ড মাইক সাব রেজিষ্ট্রার অফিসকে উপহার দিয়েছেন। সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানা জানান, আমি কোন অনিয়ম করিনি। আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপান করা হয়েছে। তা সত্য নয়।  সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন- গাংনী সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সহ নানা অনিয়মের সংবাদ পেয়ে পরিদর্শন করি। এসময় ভূক্তভোগীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা সাবরেজিষ্টার মাহফুজ রানার সামনেই নানা অনিয়মের অভিযোগ করে। অনিয়মের বিষয়টি সাবরেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানার সাথে জানতে চাওয়া হলে, অনিয়মের বিষয়টি এড়িয়ে যান। এসময় এমপি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন- অনিয়ম না হলেই ভালো কথা। পরবর্তিতে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় তিনি সাব রেজিষ্ট্রার মাহফুজ রানাকে স্বচ্ছ ও সততার সাথে কাজ করার আহবান জানিয়ে দলিল রেজিষ্ট্রি খরচসহ সরকারী নানা নির্দেশনা সাইনবোর্ডে লিখতে নির্দেশনা দেন।

করোনাকালে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে যশোর সেনানিবাস

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত এক মহামারীর নাম করোনা ভাইরাস। মরণব্যাধি এই ভাইরাস হতে দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে বাঁচাতে সরকারের দেয়া দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় করোনার ভয়াবহতা বিবেচনায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা এবং  বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগীতা করার জন্য জনগনের আস্থার প্রতীক সেনাবাহিনীকে এই বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতিনিয়ত জনগনকে সচেতন করতে  সেনাসদস্যরা তাদের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।  গতকাল ৮ জুলাই বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সেনাসদস্যরা তাদের নিয়মিত টহল কার্যক্রমের পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। মার্কেট/শপিংমল, হাট-বাজার ও সকল প্রকার জনসমাগম এলাকাসমূহে সামাজিক দূরত্ব ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ত্রান বিতরণ, কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ বিতরণ, গণপরিবহন মনিটারিং, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়নসহ সকল প্রকার জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঘরবাড়ী মেরামত, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, সুপেয় পানি সরবরাহসহ নানাবিক জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মিরপুরে বিধবা, অস্বচ্ছল ও হতদরিদ্রদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ঐচ্ছিক ফান্ড থেকে বিধবা, অস্বচ্ছল ও হতদরিদ্রদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করেন মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী। বুধবার সকালে উপজেলা জাসদের দলীয় কার্যালয় থেকে এ অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এসময় উপজেলা জাসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মহাম্মদ শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দিন, কুর্শা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি জামিরুল ইসলাম মেম্বর, আমলা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি আজাম্মেল হক, পৌর জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন টোকন কমিশনার, নারী নেত্রী শেফালী খাতুন, লিপি খাতুন, রুমানা খাতুনর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এ্যাসোসিয়েশনের অবস্থান কর্মসূচী পালন

নিজ সংবাদ ॥ সারা বাংলাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা শাখা। করোনা মহামারির মহাদূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক অনুদান/সহজশর্তে ঋণের দাবীতে, গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সকল  নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে  প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

কোভিড-১৯

মস্তিষ্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা

ঢাকা অফিস ॥ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিপুল সংখ্যক মানুষের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কারও কারও মস্তিষ্কে প্রদাহ, মানসিক ব্যাধি ও প্রলাপের মতো মারাত্মক স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে- গবেষণায় এ-সংক্রান্ত তথ্যউপাত্ত পাওয়ার পর বুধবার বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসজনিত মস্তিষ্কে ক্ষয়ক্ষতির ‘সম্ভাব্য ঢেউ’ নিয়ে সতর্ক করেছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) ওই গবেষণায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ৪৩ রোগীর মস্তিষ্কের অস্থায়ী কর্মহীনতা, স্ট্রোকস, স্নায়ুর ক্ষয়ক্ষতি কিংবা আরও মস্তিষ্কে আরও গুরুতর কোনো সমস্যার উপস্থিতি মিলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নতুন করোনাভাইরাস মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে- এর আগেও বেশ কয়েকটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছিলেন। “হয়ত আমরা মহামারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রেইন ড্যামেজের একটি বড় ধরনের সংক্রমণ দেখবো- হতে পারে এটি ১৯১৮-র ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী পরবর্তীতে ১৯২০ ও ১৯৩০-র দশকে হওয়া এনসেফালিটিস লেথার্জিকের প্রাদুর্ভাবের মতো কিছু একটা,” বলেছেন ইউসিএলের গবেষক দলের সদস্য মাইকেল জান্ডি। নতুন করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ মূলত শ্বাসনালী ও ফুসফুসে আক্রমণ করলেও স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগটির কারণে আক্রান্ত অনেকের মস্তিষ্কে যে ধরনের প্রভাব পড়ার তথ্যউপাত্ত মিলছে তা উদ্বেগজনক। “আমার উদ্বেগ হচ্ছে, এখনই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মিলিয়ন মিলিয়ন রোগী আছে; এক বছরের মধ্যে কোটিখানেক সুস্থ লোকও পেয়ে যাবো আমরা, তাদের যদি সামান্য পরিমাণও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তা তাদের কাজ করার সক্ষমতা, দৈনন্দিন জীবনযাপনের সক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে,” রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্নায়ু বিশেষজ্ঞ আদ্রিয়ান ওয়েন। জার্নাল ব্রেইনে প্রকাশিত ইউসিএলের গবেষণায় মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত উপসর্গ থাকা ৯ রোগীর মধ্যে বিরল অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমেলিটিসের (এডিইএম) উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া এই এডিইএম করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।  ইউসিএলের গবেষকরা বলছেন, সাধারণত তারা তাদের লন্ডন ক্লিনিকে গড়ে প্রতি মাসে একজন করে প্রাপ্তবয়স্ক এডিইএম রোগী পেলেও গবেষণাকালীন সময়ে এ সংখ্যা প্রতি সপ্তাহে একজনে এসে দাঁড়িয়েছে। আগের তুলনায় এডিইএম রোগীর পরিমাণ চার গুণ বেড়ে যাওয়াকে গবেষকরা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। “কোভিড-১৯ মাত্র কয়েক মাস ধরে বিচরণ করছে; দীর্ঘমেয়াদে এটি কী ক্ষতি করতে পারে, তা আমরা এখনও জানি না। আক্রান্তদের স্নায়ুর উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে চিকিৎসকদের অবগত থাকা দরকার; যত আগে এ ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করা যাবে, রোগীর ভাল হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও তত বাড়বে,” বলেছেন গবেষক দলের সদস্য রস প্যাটারসন। কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ওয়েন বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে মস্তিষ্কে ক্ষয়ক্ষতির যেসব উপাত্ত মিলছে তাতে এ নিয়ে বড় ও বিস্তৃত গবেষণা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। এ স্নায়ু বিশেষজ্ঞ কোভিডব্রেইনস্টাডি ডটকম ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পও চালাচ্ছেন। সাইটটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা যুক্ত হয়ে সিরিজ মানসিক পরীক্ষার মাধ্যমে কোভিড-১৯ তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কিনা, তা জানতে পারছেন। “অসংখ্য মানুষ এই রোগে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন; এ কারণে এখনই এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে,” বলেছেন ওয়েন।

মিরপুর হাজরাহাটি যৌথ উচ্চ বিদ্যালয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে দপ্তরি নিয়োগের অভিযোগ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হাজরাহাটি যৌথ উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি ও প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর অবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সরকারী সকল নিয়ম নীতি লংঘন করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দপ্তরী নিয়োগ প্রদান ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে বিদ্যালয়ের  ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক বশির আহমেদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ এর আগেও একইভাবে সরকারী সকল নিয়ম নীতি লংঘন করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেন। পরে দুর্নীতির দায় স্বীকার করে আংশিক অর্থ ফেরৎ দেন প্রতিষ্ঠানকে।

এ ব্যাপারে কথা হলে সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন- দপ্তরি পদের জন্য আবেদন পরে  ৪টি, আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল তিনজন। তিনজনের মধ্যে একজনকে বর্তমান কমিটির পাঁচ সদস্য নিয়োগর জন্য সুপারিশ করেন। তিনি আরো দাবী করেন, তাদের পরীক্ষা নেওয়ার সময় উপস্থিত ছিল স্কুলের প্রধান শিক্ষক বশির আহমেদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার ও কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তারাও স্থানীয় প্রার্থী রুবিনা খাতুন এর জন্য সুপারিশ করেছেন। এদিকে একটি সুত্রে জানা যায়, জামাল, আয়নাল, ফজলুল হক বাবু ও জান মোহাম্মদ ওই নিয়োগ  বোর্ডের সদস্য ছিল।

শহিদুল ইসলাম দাবি করেন বাকি দুই প্রার্থীর থেকে রুবিনার  যোগ্যতা বেশি। তার নিজের যোগ্যতাবলেই এ পদে নিয়োগ  পেয়েছেন। ওই প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক এসব অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসে বরাবর অভিযোগ করার পরেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাত, নিয়োগ বাণিজ্য করে সভাপতি শহিদুল ইসলাম লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে।  এই নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জুলফিকার হায়দার জানান, আমাদের হাতে  নিয়োগ দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই, আমরা শুধু প্রার্থীর মৌখিক কথায় শুনে থাকি, নিয়োগ  দেওয়া না দেওয়ার ক্ষমতা পুরোটাই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির । আমরা শুধু একজন সদস্য হিসেবে  উপস্থিত থাকি।

এ ব্যাপারে হাজরাহাটি যৌথ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমেদকে স্কুলে যেয়ে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে বারবার  ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাজরাহাটি  যৌথ উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি নিয়োগের এক প্রার্থী জানান আমার সাথে স্কুল কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলামের প্রথমে পাঁচ লক্ষ পরে আবার একলক্ষ বেশি বললেও আমি ছয় লক্ষ টাকা দিতে রাজি  হয়েছিলাম কিন্তু রুবিনার স্বামী রতনের সাথে সাত লক্ষ টাকার বিনিময়ে চুক্তি হয়ে তাদের কেউ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।  স্কুলে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা স্কুল কমিটির এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির  বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। আরও জানা যায়, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম তার ছেলে রাজু আহমেদকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বিদ্যালয়ে ক্লার্ক পদে চাকুরী দিয়েছিলেন।

কানাডাকে বাংলাদেশ থেকে চাল আমদানির অনুরোধ কৃষিমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ কানাডাকে বাংলাদেশ থেকে চাল আমদানির অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুল রাজ্জাক। গতকাল বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিশেষ করে দানাদার জাতীয় খাদ্যে। চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। এজন্য বাংলাদেশ থেকে চাল আমদানি করতে কানাডার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি। সেই সঙ্গে সে দেশে আম রপ্তানিরও আগ্রহ প্রকাশ করেছি। গত মঙ্গলবার রাতে অনলাইনে (জুম প্লাটফর্মে) কানাডার কৃষি ও কৃষি-খাদ্যমন্ত্রী ম্যারি-ক্লদ বিবেউয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। এ সময় দু’দেশের কৃষিখাত, এগ্রো-প্রসেসিং এবং ট্রেড নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। ড. রাজ্জাক বলেন, কানাডা হচ্ছে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বজায় আছে। কানাডায় মৌসুমি কৃষিশ্রমিকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আর বাংলাদেশে রয়েছে কৃষি ডিপ্লোমাধারী প্রচুর দক্ষ জনশক্তি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মৌসুমি ও অস্থায়ী ভিত্তিতে এসব কর্মীকে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কানাডা নিতে পারে। এতে দুই দেশই উপকৃত হতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষকদের এবং টেকনিশিয়ানদের উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষিবান্ধব এ সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষপের ফলে কৃষিক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে, তা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকারের এখন মূল লক্ষ্য হলো কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ করে লাভবান খাতে পরিণত করা। আর এর জন্য প্রয়োজন এগ্রো-প্রসেসিং ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ এ দুই ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। সেজন্য এগ্রো-প্রসেসিং কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও পণ্য রপ্তানিতে কানাডা চাইলে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে কানাডার কৃষি ও কৃষি-খাদ্যমন্ত্রী ম্যারি ক্লদ বিবেউ বলেন, কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বজায় আছে। দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরো বাড়াতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কৃষিশ্রমিক নেওয়া, চাল ও আম আমদানির বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। এসময় তিনি এগ্রো-প্রসেসিং ও কৃষিপণ্যের বাজারজাতে প্রযুক্তিগত সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। বাংলাদেশকে কৃষি গবেষণা প্রশিক্ষণসহ কারিগরি সহায়তারও আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। এ অনলাইন বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোলসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থাপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

লকডাউনের মধ্যেই কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় রোগী বেড়েছে প্রায় দেড় শতাধিক

একদিনে ৪ জনের মৃত্যু  ॥ জুলাইয়ের ৯ দিনে ১০ জনের প্রাণহানী

১৫ দিনের টানা লকডাউনেও কুষ্টিয়ায় রেডজোন এলাকাগুলোতে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি

নিজ সংবাদ ॥ ১৫ দিনের টানা লকডাউনেও কুষ্টিয়ায় রেডজোন এলাকাগুলোতে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ভেড়ামারা পৌর এলাকার ৮টি ওয়ার্ডে আক্রান্ত কিছুটা কমলেও কুষ্টিয়া সদর পৌরসভায় এলাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লকডাউনের মধ্যেই রোগী আগের থেকে বেড়েছে প্রায় দেড় শতাধিক। আর গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছে ৪জন। এর মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ। এদিকে রোগী বাড়তে থাকলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইনোলেশন ওয়ার্ডে বেড ও রোগীর সংখ্যা সমান। রোগী বাড়লে অতিরিক্ত বেডের প্রয়োজন হবে।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় প্রতিদিন রোগী বাড়ছে। গত ২৫ জুন থেকে লকডাউন শুরুর পর ৭ জুলাই অর্থাৎ লকডাউনের শেষ দিনে রোগী বেড়েছে ১৫৩ জন। পৌর এলাকায় এই মুহুর্তে রোগী সংখ্যা প্রায় আড়াই শতাধিক। আর জেলায় রোগীর সংখ্যা ৯শ ধর ধর। এর মধ্যে জুন ও জুলাই মাসের রোগী বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় ১৮ জন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ৪ জন। এটাই একদিনে সর্বোচ্চ। রোগী বাড়তে থাকায় হাসপাতালে বেড ও অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে।

সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের দেয়া তথ্য মতে গত ২৪ ঘন্টায় পৌর এলাকায় ৪ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে নারী তিন জন ও পুরুষ একজন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শহরের ১নং ওয়ার্ড কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম রসুল নামের একজন মারা গেছেন। তার বয়স ৭০ বছর। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চৌড়হাস স্টেডিয়ামপাড়ার বাসিন্দা আলেয়া বেগম (৫৮) মারা গেছেন। আলেয়ার সন্তান  বিআরবি কর্মকর্তা আলি আহম্মেদ লিটন মারা যান এক সপ্তাহ আগে। ২৪ ঘন্টায় মারা যাওয়া অন্যরা হলেন হাসপাতালের চিকিৎসক হোসেন ইমামের মা ফাতেমা বেগম (৫৮)। ফাতেমা শহরের কালিশঙ্করপুর এলাকার বাসিন্দা। আর বারখাদা এলাকার বাসিন্দা মিনুকা বেগম (৩০) নামের এক নারী।

এর আগে গত পরশু দিন পল্লী চিকিৎসক বাদল মুখার্জি (৭৫) করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি ১৩দিন আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। এছাড়া বিআরবির আরেক কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জুয়েল (৩৫) করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সব মিলিয়ে চলতি জুলাই মাসের গত ৯ দিনেই মারা গেছেন ১০ জনের বেশি।  এ পর্যন্ত জেলায় সুস্থ হয়েছে ৩৮৩জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৩জন।

করোনা রোগি আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকলেও তুলে নেওয়া হল কুষ্টিয়া শহরের লকডাউন। টানা ১৫ দিন পর এ লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল বুধবার থেকে শহরের সমস্ত দোকানপাট-বিপনী বিতান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া শহরের করোনা রোগির সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে গত ২৪ জুন গোটা পৌর এলাকাকে রেডজোন ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে জেলা প্রশাসনকে চিঠি পাঠানো হয়। পরদিন ২৫ জুন থেকে কুষ্টিয়া শহর তথা পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। বিধি অনুযায়ী ওষুধসহ কিছু নিত্যপণ্যের দোকান সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শহরের মোড়ে মোড়ে চেকপোষ্ট বসিয়ে পুলিশ প্রশাসন শহরে যানবাহন প্রবেশ সীমিত করে দেয়। টানা ১৫ দিন লকডাউন চলার পর মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভার্চ্যুয়াল জরুরী বৈঠক করে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়া চেম্বারের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. মুসা কবির।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহরের লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গতকাল বুধবার থেকে শহরের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দোকানপাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া যেসব বাড়িতে করোনা রোগি রয়েছে  শুধুমাত্র সেসব বাড়ি আগের মতই লকডাউন থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে ১৫ দিন ধরে চলা এ লকডাউন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ লকডাউন চলাকালে করোনা রোগি কমার চেয়ে বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। গত ২৫ জুন থেকে গতকাল ৭ জুলা পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরে ১৫৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ হার লকডাউন শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ড এখন রোগিতে ঠাসা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা ওয়ার্ডে আর মাত্র ৩টি শয্যা খালি আছে। যে হারে রোগির সংখ্যা বাড়ছে তাতে আগামীতে তাদের চিকিৎসা দেওয়ায় মুসকিল হয়ে পড়বে।

সিভিল সার্জন ডা, এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,‘ লকডাউন দিলেও সাধারন মানুষ সচেতন না হওয়ায় প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যায়নি। বরং রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে মৃত্যু। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের সাথেও আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা করোনা প্রতিকার কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, লকডাউন দিয়েও প্রত্যাশিত ফলাফল আসেনি। তাই ঈদ সামনে রেখে মার্কেট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে বিশেষ করে কুষ্টিয়া পৌর এলাকা ও সদরের বিভিন্ন গ্রামে আক্রান্ত বেড়েছে। মানুষকে সচেতন করলেও কথা শুনছে না। আমরা তদারকিতে মাঠে আছি। পুলিশ প্রশাসন সব সময় মাঠে কাজ করছে। তারপরও রোগী কমছে না। বিষয়টি চিন্তার।’

 

দৌলতপুরে ২৫০ পরিবারের মাঝে এমপি বাদশার খাদ্য সহায়তা প্রদান

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় দৌলতপুরে ২৫০ জন পরিবারের মাঝে এমপি এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা নিজ অর্থায়নে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে দরিদ্র, দিনমজুর, কর্মহীন ও অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউল ইসলাম মহির সভাপতিত্বে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা। উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামান খান সুমন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়া, দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সরদার আতিয়ার রহমান আতিক ও দৌলতপুর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। দৌলতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গ্রামের ২৫০জন দরিদ্র, দিনমজুর, কর্মহীন ও অস্বচ্ছল পরিবারকে এমপি সরওয়ার জাহান বাদশা তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি করে চাল ও একটি করে সাবান তুলে দেন।

কুষ্টিয়ায় নৌকা ডুবির ঘটনায় তিন জনের মরদেহ উদ্ধার

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধার অভিযান চলাকালে একজনের ও দুপুর দেড়টায় ও সন্ধ্যায় আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন- শরিফুল (৩০), জুবায়ের (৩০) ও জাকির (২৫)। পাবনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ইউনিটের উপ পরিচালক মো. সাইফুজ্জামান জানান, নিখোঁজদের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহ তাদের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে  ভেড়ামারা উপজেলা থেকে কুমারখালী উপজেলার চরসাদীপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর এলাকায় পদ্মার জেগে থাকা চরে খড় কাটতে যাওয়ার সময়  নৌকা ডুবির ঘটনায় ৪ জন নিখোঁজ হন।

নাসিমের মৃত্যুতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে দীপংকর

ঢাকা অফিস ॥ সদ্য প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত একই দলের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারকে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন করে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এ প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। করোনায় আক্রান্ত মোহাম্মদ নাসিম গত ১৩ জুন মারা গেলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদটি শূন্য হয়। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারকে এ দায়িত্ব দেয়া হলো। এছাড়া শিল্প, স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এসব কমিটির সদস্য পদে কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কুষ্টিয়ায় মোবাইল কোর্টে ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কুষ্টিয়ায় মোবাইল  কোর্টে ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর বাজারে অবৈধ গুড়ের কারখানায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট  মোঃ ইসাহাক আলী এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট ইসাহাক আলী জানান, রাতে খবর পাই গুড়  তৈরির একটি কারখানায় পঁচা গুড়, চিনি, আটা ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান দিয়ে ভেজাল গুড় উৎপাদন করছে। রাতেই টিম প্রস্তুত করে সূর্যের আলো ফোটার আগেই টিম নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া শহর  থেকে বেশ খানিকটা দূরে হরিনারায়ণপুর বাজারে অবৈধ গুড়ের কারখানায় উপস্থিত হলাম। এটা নিছক গুড়ের কারখানা নয়!  মানুষকে ঠকানো এবং মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কারখানা বানিয়েছে তারা! গিয়েই দেখলাম সামনে চিনির বস্তা; কিন্তু জাল করছে গুড়। আর থরে থরে সাজানো পাটালিগুড়! অর্থাৎ বস্তা বস্তা চিনি হয়ে যাচ্ছে গুড়। বাজারে গুড়ের চেয়ে চিনির দাম কম। অধিক লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই কাজ করে। কারখানার পাশে গোপন  গোডাউনে গিয়ে চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা। গুড়ের কারখানায় চিনির গোডাউন।  ১২৫ বস্তা চিনি, ১৫ বস্তা আটা ও  ৩৪ কোলা গুড় একটি  ঘুটঘুটে অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়েছে। গুড়ের কোলা/মটকিতে লাইট মেরে উঁকি দিয়ে  দেখলাম সাদা পোকা কিলবিল করছে। কয়েকটি কোলাতে গুড়ের উপর  ফাঙগাস পড়ে গেছে। কারখানাটিতে এই সকল পঁচা গুড়, চিনি, আটা ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান যুক্ত করে জালিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল গুড়, যা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। কারখানাটির মালিককে ১ লাখ টাকার অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। পঁচা গুড় উপস্থিত জনসাধারণের সামনে প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়। চিনি ও  উৎপাদিত গুড় জব্দ করা হয়। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন স্যারের নির্দেশনায় ভেজাল বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অভিযানটিতে সহযোগিতা করেছেন প্রসিকিউটর হিসেবে কুষ্টিয়া সদর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুলতানা রেবেকা নাসরিন, র‌্যাব-১২ এবং জেলা আনসারের সদস্যগণ।