করোনা রোগি বাড়লেও উঠে গেল লকডাউন

হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ড এখন রোগিতে ঠাসা

আজ থেকে খুলছে কুষ্টিয়া শহরের দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

নিজ সংবাদ ॥ করোনা রোগি আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকলেও তুলে নেওয়া হল কুষ্টিয়া শহরের লকডাউন। টানা ১৫ দিন পর এ লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ বুধবার থেকে শহরের সমস্ত দোকানপাট-বিপনী বিতান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কুষ্টিয়া শহরের করোনা রোগির সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে গত ২৪ জুন গোটা পৌর এলাকাকে রেডজোন ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে জেলা প্রশাসনকে চিঠি পাঠানো হয়। পরদিন ২৫ জুন থেকে কুষ্টিয়া শহর তথা পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। বিধি অনুযায়ী ওষুধসহ কিছু নিত্যপণ্যের দোকান সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শহরের মোড়ে মোড়ে চেকপোষ্ট বসিয়ে পুলিশ প্রশাসন শহরে যানবাহন প্রবেশ সীমিত করে দেয়। টানা ১৫ দিন লকডাউন চলার পর গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ভার্চ্যুয়াল জরুরী বৈঠক করে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক  মোঃ আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন ডা, এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়া চেম্বারের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও কুষ্টিয়া  জেনারেল হাসপাতালের জেষ্ঠ্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. মুসা কবির। দীর্ঘ  দেড় ঘন্টার আলোচনা শেষে করোনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন- এই আলোচনার বিষয়টি কানাডায় অবস্থানরত কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের সাথে কথা বলে সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহরের লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন। রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আজ বুধবার থেকে শহরের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দোকানপাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া যেসব বাড়িতে করোনা রোগি রয়েছে  শুধুমাত্র সেসব বাড়ি আগের মতই লকডাউন থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে ১৫ দিন ধরে চলা এ লকডাউন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ লকডাউন চলাকালে করোনা রোগি কমার চেয়ে বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। গত ২৫ জুন থেকে গতকাল ৭ জুলা পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরে ১৫৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ হার লকডাউন শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ড এখন রোগিতে ঠাসা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা ওয়ার্ডে আর মাত্র ৩টি শয্যা খালি আছে। যে হারে রোগির সংখ্যা বাড়ছে তাতে আগামীতে তাদের চিকিৎসা দেওয়ায় মুসকিল হয়ে পড়বে। এ দিকে লকডাউন চলাকালে শহরের মারা গেছে বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগি। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতেই ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে লকডাউন প্রত্যাহার করায় শহরে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে মনে করছে সচেতন মহল।

কারসাজি ঠেকাতেই শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সুযোগ – খাদ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ দেশে চাল উদ্বৃত্ত থাকলেও শুল্ক কমিয়ে আমদানির সুযোগ দিচ্ছে সরকার। ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ করে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সুমন মেহেদি গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেছেন, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থেই আমদানি শুল্ক কমিয়ে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে। এর আগে গত ১ জুলাই খাদ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, অপচেষ্টার মাধ্যমে চালের বাজার অস্থিতিশীল করা হলে কঠোর অবস্থানে যাবে সরকার। প্রয়োজনে চাল আমদানি করা হবে। চালকল মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ওই দিন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছিলেন, এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে; এই ভরা মৌসুমে চালের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কোনও কারণ নেই। যদি কেউ অপচেষ্টার মাধ্যমে চালের মূল্য বৃদ্ধি করার চেষ্টা করে তাহলে কঠোর অবস্থানে যাবে সরকার। চালকল মালিকদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখেন, সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করেন; যদি তা না করেন তবে সরকার চাল আমদানিতে যেতে বাধ্য হবে। কিন্তু সরকার আমদানিতে যেতে চায় না; গেলে মিলারদের লোকসান হবে এবং যে সমস্ত কৃষক ধান ধরে রেখেছে তারাও লোকসানে পড়বে। এই সময়ে যে সমস্ত মিল এগিয়ে আসবে তাদের ‘এ’ ‘বি’ ‘সি’ ক্যাটাগরিসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করার জন্য ইতোমধ্যেই খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেসব মিলকে পরবর্তীতে সেভাবে মূল্যায়ন করা হবে। মন্ত্রীর এই আহ্বানের পরও বাজারে চালের দাম বাড়তে থাকে। ছোট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ মিল মালিক ও বড় ব্যবসায়ীরা তাদের কারসাজি চালিয়ে যাচ্ছেন, চালের দাম বেড়েছে সে কারণেই। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে হাওরে বন্যার সময় সরকারিভাবে চালের সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হলে সরকার চাল আমদানির ওপর ট্যাক্স ফ্রি করে দিয়েছিল। ফলে ৪০ লাখ মেট্রিক টন চাল বিভিন্নভাবে আমদানি করা হয়। এতে ওই বছর মিলমালিকরা এবং কৃষক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায় এবারও ধান-চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে।

গাংনীতে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের জন্য অনুদান ও ঋণের দাবীতে মানববন্ধন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে করোনা মহামারীর মহাদুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক অনুদান ও সহজশর্তে ঋণের দাবীতে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করা হয়েছে।  গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও মানববন্ধন করা হয়। কর্মসূচি ও মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের গাংনী উপজেলা শাখা। অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন গাংনী প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দীন, গাংনী ফজলুল হক আইডিয়াল একাডেমীর প্রধান শিক্ষক খাইরুল ইসলাম, হেমায়েতপুর মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইমরান হোসেনসহ গাংনী উপজেলার বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন-এর শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

করোনা ও বন্যা পরিস্থিতিতে দুই আসনের উপনির্বাচন অগ্রহণযোগ্য – বিএনপি

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস (কোভিট-১৯) মহামারি ও উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই দুই সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য দাবি করেছে বিএনপি। এজন্য দু’টি উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাত করে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়। এ সময় দলটির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও বগুড়া-৪ আসনের এমপি মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৪ জুলাই অনুষ্ঠেয় বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনে উপনির্বাচনে তারা অংশ নেবে না বলেই জানিয়ে দেয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লেখা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন আগামী ১৪ জুলাই বগুড়া-১ ও যশোর-৩ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু আপনি অবহিত আছেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস (কোভিড়-১৯) মহামারি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া দেশের উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিভি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জাতীয় সংসদের দু’টি আসনে আগামী ১৪ জুলাই এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণায় বিএনপি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত। আমরা নির্বাচন কমিশনের উল্লিখিত উপ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের এ সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও চরম হুমকি স্বরূপ। সে কারণে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা এ দু’টি উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্ণিত অবস্থায়, জনস্বার্থ বিবেচনায় কমিশনের সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার জন্য আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রসঙ্গত, ওই দুই সংসদীয় আসনে ২৯ মার্চ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত করা হয়। আর এখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে এই নির্বাচন করছে ইসি। ১৫ জুলাই বগুড়া-১ আসনের এবং ১৮ জুলাই যশোর-৬ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধান নির্ধারিত ১৮০ দিন শেষ হতে যাচ্ছে।

প্রমাণিত হলে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় হত্যা মামলা হবে – নৌপ্রতিমন্ত্রী

 

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর শ্যামবাজার সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চ মর্নিং বার্ড দুর্ঘটনায় ৩৪ জনের মারা যাওয়ার বিষয়টি হত্যাকান্ড হিসেবে প্রমাণিত হলে এ-সংক্রান্ত অবহেলাজনিত মামলাটি ‘হত্যা মামলা’ (ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০২ ধারা) হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। গত ২৯ জুন সকালে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। পরে ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কমিটির প্রধান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন ও পিপিপি সেল) মো. রফিকুল ইসলাম খান। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি/সংস্থাকে শনাক্তকরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিতে বলা হয়। কমিটি গত সোমবার রাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কী কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কাদেরকে দায়ী করা হয়েছে, সেই বিষয়ে কিছু জানাননি প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদপত্রের বকেয়া বিল পরিশোধে তাগিদ দেয়া হবে – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সংবাদপত্রগুলোর বিক্রি ও ছাপা সংখ্যা দুটিই কমেছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এ অবস্থা লক্ষ্য করেই আমি নিজে অনুরোধ করে মন্ত্রিপরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম, যাতে তারা সংবাদপত্রের বকেয়াগুলো পরিশোধ করে। এতে অনেকটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং প্রয়োজনে আবার তাগিদ দেয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব পরিচালনা পর্ষদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ, ভয়াবহতা ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে মানুষ যেন ঠিকভাবে জানতে পারে এবং একই সঙ্গে এ সময় যারা কর্মে নিয়োজিত, তারা যাতে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেজন্য এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ ছিল তারা যেন গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে ও গণমাধ্যম যাতে চালু থাকে এবং আমরা দেখছি, সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গণমাধ্যম চালু আছে। মন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে করোনা এবং করোনা উপসর্গ মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের প্রত্যেক পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে ৬টি পরিবারকে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনাকালে অসুবিধায় নিপতিত সাংবাদিকদের এককালীন ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেসক্লাব ও ডিসি অফিস এ কাজে সহায়তা করছে। প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম উত্থাপিত ‘প্রেসক্লাবের মূল আয় হল ভাড়া বন্ধ থাকা কারণে প্রেসক্লাব কিছুটা আর্থিক সংকটে পড়েছে’- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি নিয়ে আরও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ এখন কোন পর্যায়ে, সেটি বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে কয়েকটি পত্রিকায় দেখেছি প্রকোপটা কমতির দিকে। জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সবকিছু যখন আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে, প্রেসক্লাবও সেক্ষেত্রে সীমিত আকারে খুলে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলমের নেতৃত্বে সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক মাইনুল আলম, নির্বাহী সদস্য কুদ্দুস আফ্রাদ, আবদাল আহমেদ ও জাহিদুজ্জামান ফারুক সভায় করোনাকালে গণমাধ্যম ও প্রেসক্লাব বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন। করোনা সংকট মোকাবিলায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও মানুষকে আশাবাদী করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করলে সবাই একমত পোষণ করেন।

ব্যর্থতার সমালোচনাকে অন্ধকার বলে মনে করছে আ.লীগ – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, দুর্নীতি ও লুটপাটই হচ্ছে ওবায়দুল কাদের সাহেবদের কাছে পূর্ণিমার আলো। তাদের ব্যর্থতার সমালোচনা শুনলেই সেটিকে তারা অন্ধকার বলে মনে করছেন। তিনি আরও বলেন, নিষ্কর্মার ঢেঁকি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অযোগ্যতা ও তার আত্মীয়স্বজন এবং ক্ষমতাসীনদের সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্য সেক্টর ভেঙে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, করোনার এই সংকটেও আজগুবি তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে বিএনপি। পূর্ণিমার রাতেও বিএনপি অমাবস্যার অন্ধকার দেখতে পায়। বিএনপি জাতিকে বিভ্রান্ত করছে না বরং জাতির সামনে প্রতিনিয়ত সঠিক তথ্য তুলে ধরছে বিএনপি। নিষ্কর্মার ঢেঁকি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অযোগ্যতা ও তার আত্মীয়স্বজন এবং ক্ষমতাসীনদের সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্য সেক্টর ভেঙে পড়েছে। করোনাসহ কোনো রোগেরই চিকিৎসা পাচ্ছে না মানুষ। করোনার টেস্ট না করিয়েই দেয়া হচ্ছে করোনার রিপোর্ট। বিনা চিকিৎসায় পথে ঘাটে মারা যাচ্ছে মানুষ। কবরস্থানে লাশ দাফনের জায়গা নেই। এখনো সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসায় ১০০ টাকার মধ্যে ব্যক্তির পকেট থেকে ব্যয় হয় ৬৬ টাকা। আর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে তো ঘটি-বাটি, সহায়-সম্পদ সব খোয়াতে হয়। তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসার মতো মানুষের একটি মৌলিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করে মেগা প্রজেক্ট নিয়েই ব্যস্ত আছে। মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্নটি সরকারের কাছে কোনো মূল্য নেই। যারা জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে তারা জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলোকে কখনই আমলে নেবে না। তারা কালাকানুন দিয়েই জনগণকে বন্দী রেখে এক মনুষ্যত্বহীন কর্তৃত্ববাদী শাসনকে টিকিয়ে রাখতে চাইবে। অভাবের তাড়নায় লাইন ধরে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। ধারদেনা করে কোনোরকমে জীবনযাপন করছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের মানুষরা। ব্যাংকগুলো লুট করে খালি করে দেয়া হয়েছে। এবারের কাল্পনিক বাজেটেও সরকারের টার্গেট হচ্ছে ব্যাংক থেকে ব্যাপক পরিমাণে ঋণ নেয়। এই ঋণ জনকল্যাণের কাজে ব্যবহৃত হবে না, এই ঋণ মেগা প্রজেক্টের নামে লুটপাটেই শেষ হয়ে যাবে। আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সকল সেক্টর। প্রতিদিন এসব খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। দুর্নীতি ও লুটপাটই হচ্ছে ওবায়দুল কাদের সাহেবদের কাছে পূর্ণিমার আলো। তাই তাদের ব্যর্থতার সমালোচনা শুনলেই সেটিকে তারা অন্ধকার বলে মনে করছে’-বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমেদ। রিজভী বলেন, করোনাকালে সরকার গণমাধ্যমের গলায় ফাঁস পরিয়ে রাখলেও তারপরেও যতটুকু সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে তাতে সরকারি দলের লোকদের দুর্নীতির কাহিনি শুনলে গা শিউরে ওঠে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার রিজেন্ট হাসপাতালে করোনার সঠিক পরীক্ষা না করে হাজার হাজার মানুষদের দেয়া হয়েছে করোনার পরীক্ষার ভুল রিপোর্ট। যার পজিটিভ তাকে দেয়া হয়েছে নেগেটিভ আর যার নেগেটিভ তাকে দেয়া হয়েছে পজিটিভ রিপোর্ট। এইভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই হাসপাতালটি। এতে কত মানুষের জীবন নিয়ে সর্বনাশা খেলা করা হয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, এখন করোনার নমুনা পরীক্ষাও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। করোনার এই উচ্চ সংক্রমণেরও সময়ও কেন করোনা পরীক্ষা কমে গেল তার কি কোনো উত্তর দিতে পারবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? কয়েকদিন আগে ১৫-১৬ হাজার জনের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এখন তা ১১-১২ হাজারে নেমে এসেছে, প্রায় ৪-৫ হাজার কমে গেছে। এর অর্থ সরকার জবরদস্তিমূলকভাবে করোনার সংক্রমণ কম-এটি জনগণকে দেখানোর জন্য করোনার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করছে।

 

শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানি করবে সরকার

ঢাকা অফিস ॥ চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিদেশ থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুমন মেহেদী এ তথ্য জানান। দেশে বোরোর বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে চালের দাম না কমলে একাধিকবার চাল আমদানির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে। চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ৮ লাখ টন ধান এবং ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল ও দেড় লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। কৃষকের কাছ থেকে বোরো ধান কেনা গত ২৬ এপ্রিল শুরু হয়েছে। ৭ মে থেকে শুরু হয় চাল সংগ্রহ। ধান-চাল সংগ্রহ শেষ হবে ৩১ আগস্ট। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৩৬ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল, ৩৫ টাকা কেজি দরে আতপ চাল কেনা হচ্ছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী চালকল মালিকরা (মিলার) সরকারকে চাল দিচ্ছে না। অনেক মিলার অবৈধ মজুত গড়ে তুলেছে বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। চালকল মালিকরা সরকারিভাবে চালের সংগ্রহ মূল্য বাড়ানোর দাবি তুলেছে। তবে মিল মালিকদের দাবি নাকচ করে দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী মিলমালিকরা সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইভাবে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার চাল আমদানি করবে। চাল আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে মোট ৫৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এরমধ্যে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ। সরকার আমদানি শুল্ক কমিয়ে বেসরকারিভাবেও চাল আমদানিও উন্মুক্ত করে দিতে চাচ্ছে।

করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় দেশবাসীকে সুরক্ষার কাজে  সেনাবাহিনী

সারা বিশ্বের মতোই করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্থবির বাংলাদেশও। করোনা মোকাবেলাকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীর হাতে এক মহান দায়িত্ব অর্পন করেছেন, যা পালনের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন।

এরই ধারাবাহিকতায় সেনাসদস্যরা করোনার বিরুদ্ধে এক নতুন যুদ্ধে নেমে দেশের মানুষকে সুরক্ষার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ২৫ মার্চ থেকে মাঠ পর্যায়ে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে নিজেদেরকে সামিল করে এখনও পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেনাসদস্যরা। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা সম্পর্কে সচেতনতা  তৈরি, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, চিকিৎসা সেবা প্রদান ও লকডাউন কার্যকর করার পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায়দের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করে যাচ্ছে। এছাড়াও গণপরিবহন মনিটারিং, স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা, খাদ্য সংকট মেটাতে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ বিতরণ, গর্ভবতী মায়েদের মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সকল প্রকার জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা।

অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় প্রতিনিয়ত নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ঘর-বাড়ী মেরামত ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ, উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাঘাট মেরামত এবং পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণসহ ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামতের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

করোনার নমুনা সংগ্রহে অভিন্ন ফরম ব্যবহারের নির্দেশনা

ঢাকা অফিস ॥ সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৈরি অভিন্ন ফরম ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত সোমবার অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, এখন থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত করোনা ল্যাবরেটরিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যব্যবস্থাপনা, গণযোগাযোগ ও কমিউনিটি মোবিলাইজেশন কমিটির পরামর্শে তৈরিকৃত নমুনা ফরম ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, কোভিড-১৯ এর নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ফরম ব্যবহার করায় নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরির নামে ফরম ছাপিয়ে ওই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা না করিয়ে ভুয়া রিপোর্টও প্রদান করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গত সোমবার রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। রোগীদের কাছ থেকে করোনার নমুনা নিয়ে সেগুলো টেস্ট না করেই মনগড়া রিপোর্ট দিত রিজেন্ট হাসপাতাল অভিযানে এমন প্রমাণ পায় র‌্যাব।

 

বৈশ্বিক যুদ্ধবিরতির যৌথ বিবৃতি জাতিসংঘে হস্তান্তর করলো বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ ‘বিশ্বের সব সংঘাতপূর্ণ এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ থামাতে এই যৌথ বিবৃতি নিশ্চয়ই আপনার হাতকে আরও শক্তিশালী করবে’- জাতিসংঘ মহাসচিবকে এ কথা বলেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বৈশ্বিক যুদ্ধবিরতির আবেদনে সাড়া দিয়ে যৌথ বিবৃতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। গত সোমবার বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের (ইকুয়েডর, মিশর, জ্যামাইকা, জাপান, মালয়েশিয়া, ওমান, সেনেগাল, সোভেনিয়া, সুইডেন ও বাংলাদেশ) স্থায়ী প্রতিনিধিরা এ যৌথ বিবৃতি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উল্লেখ্য, ১০টি দেশের সহ-উদ্যোগে প্রণীত এই যৌথ বিবৃতিটি গত ২২ জুন প্রকাশ করা হয়। এটি জাতিসংঘের ১৭২টি সদস্য দেশ ও পর্যবেক্ষক সদস্যগুলো সমর্থন করে। মহাসচিবের আবেদনে এ পর্যন্ত এটিই ছিল সদস্য দেশগুলোর সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সমর্থন। কোভিড-১৯ এর সময়ে যুদ্ধ ও বৈরিতার প্রভাবে বিপর্যস্ত মানবতার জন্য এই বিবৃতিটি বৈশ্বিক সংহতি ও মমত্ববোধের এক শক্তিশালী ও স্পষ্ট বার্তা বহন করে এনেছে। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটির আলোচনায় কোভিড-১৯ মোকাবিলার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাগুলো এগিয়ে নিতে বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এটি মোকাবিলার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ মহাসচিবের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘সংঘাতপূর্ণ অনেক পরিস্থিতিতে শান্তি আনতে আপনার আবেদন সফলকাম হয়েছে, যদিও এখনও অনেকেই এতে এগিয়ে আসেনি এবং কেউ কেউ এর সঠিক প্রয়োগ করছে না’। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ যে অবদান রেখে যাচ্ছে তা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। জাতিসংঘ মহাসচিব তার প্রতিক্রিয়ায় যৌথ বিবৃতিটিকে ‘তার আবেদনের সপক্ষে সেরা ও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এজন্য সব সহ-উদ্যোক্তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিব তার যুদ্ধবিরতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সফল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব তুলে ধরার পাশাপাশি আরও অনেক কিছু করা বাকি রয়ে গেছে মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এটির বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি বৈশ্বিক সংহতি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন এবং এই সংহতি অন্যান্য ক্ষেত্রেও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। বিবৃতিটির সহ-উদোক্তারা মহাসচিবের সাথে একমত পোষণ করেন। কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরতির পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে এ আবেদনটি ছিল মহাসচিবের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা। উল্লেখ্য, ২৩ মার্চ মহাসচিবের এই আবেদন প্রকাশের পরপরই যেসব দেশ এতে সমর্থন জানিয়েছিল বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১ লাখ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

ঢাকা অফিস ॥ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক লাখ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। বন্যাকবলিত এবং অন্যান্য দুর্যোগ আক্রান্ত, দুস্থ হতদরিদ্র ব্যক্তি এবং পরিবারের জন্য উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে এ বিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মসূচি-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব (ত্রাণ-১) মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ৬৪ জেলার ৪৯২ উপজেলা এবং ৩২৮ পৌরসভার অতি দরিদ্র ও অসহায় দুস্থ পরিবারের জন্য পরিবার প্রতি ১০ কেজি হারে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তার লক্ষ্যে উপজেলার জন্য ৮৭ লাখ ৭৯ হাজার ২০৩টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ৮৭ হাজার ৭৯২ দশমিক ০৩০ মেট্রিক টন এবং পৌরসভার জন্য ১২ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৬টি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১২ হাজার ২৭৬ দশমিক ৬৬০ মেট্রিক টন সর্বমোট এক লাখ ছয় হাজার ৮৬৯টি কার্ডের বিপরীতে এক লাখ ৬৮ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। এসব চাল আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তোলন করতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ভিজিএফ বরাদ্দের বিষয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যকে অবহিত করবেন। ভিজিএফ উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তাবলী অনুসরণ করতে হবে- আদমশুমারি ২০১১ এর জনসংখ্যা অনুযায়ী ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড সংখ্যা পূর্ণ বিভাজন করে তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। দুস্থ, অতি দরিদ্র ব্যক্তির পরিবারকে সহায়তা দেয়া হবে। তবে সম্প্রতি বন্যাকবলিত এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্রদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করা ব্যক্তি পরিবার দুস্থ ও অতিদরিদ্র বলে গণ্য হবেন: যে পরিবারের মালিকানা কোনো জমি নেই বা ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনো জমি নেই। যে পরিবার দিন মজুরের উপর নির্ভরশীল, যে পরিবার মহিলা শ্রমিকের আয় বা ভিক্ষাবৃত্তির উপর নির্ভরশীল, যে পরিবারের উপার্জনক্ষম পূর্ণবয়স্ক কোনো পুরুষ সদস্য নেই, যে পরিবারে স্কুলগামী শিশুকে উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয়, যে পরিবার উপার্জনশীল কোনো ব্যক্তি নেই, যে পরিবারের প্রধান স্বামী পরিত্যক্তা বিচ্ছিন্ন বা তালাকপ্রাপ্ত মহিলা রয়েছেন, যে পরিবারের প্রধান অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, যে পরিবারের প্রধান অসচ্ছল ও অক্ষম প্রতিবন্ধী, যে পরিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে চরম খাদ্য, অর্থসংকটে পড়েছে এবং যে পরিবারের সদস্যরা বছরের অধিকাংশ সময় দুই বেলা খাবার পায় না।

দৌলতপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সবজি বীজ বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় দৌলতপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সবজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। দৌলতপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সবজি বীজ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. এ. সরওয়ার জাহান বাদশা। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়া ও দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান। দৌলতপুরে ১৪ ইউনিয়নের ৪৪৮জন কৃষককে বিভিন্ন ধরণের সবজি বীজ দেওয়া হয়। এরআগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষ্যে দৌলতপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি ফলজ বৃক্ষের চারা রোপন করেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. এ. সরওয়ার জাহান বাদশা। প্রতি উপজেলায় ১০০টি ফলজ বৃক্ষের চারা রোপন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দৌলতপুরেও এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়।

মিরপুরে ‘আলোকিত আমলা’ সংগঠনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

আমলা অফিস ॥ “সবুজে সজ্জিত হোক আঙিনা” এই শ্লোগানে কুষ্টিয়ার মিরপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়ার মিরপুরের “আলোকিত আমলা” সংগঠনের পক্ষ থেকে আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের ক্যাম্পাসে ফলদ ও ঔষুধি গাছের চারা  রোপনের মধ্যদিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর ও মোটিভেশনাল স্পিকার নাজমুল হুদার পর্যবেক্ষণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাঁতার প্রশিক্ষক আমিরুল ইসলাম, আব্দুর রাফেত বিশ্বাস কলেজের প্রভাষক হামিদুল ইসলাম, নওদা আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, বিশিষ্ট সাংবাদিক কাঞ্চন কুমার হালদার, জাহিদ হাসান, কাকিলাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সাইফুজ্জামান হীরা, নওদা  আজমপুর প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেরেবুল ইসলাম মিলন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মিল্টন মালিথা, পিডিবি প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম মিল্টন, কুশাবড়ীয়া-চরপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস করণিক মোবারক হোসেন, এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি শিক্ষক হাফিজ-আল-আসাদ সোহাগ, বুরাপাড়া-মিটন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শিহাব উদ্দিন, আলোকীত আমলা সংগঠনের সংগঠক হুসাইন আল মামুন, সজল হোসেন, শওকত হোসেনসহ আলোকিত আমলা সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা। বিএটিবির সহযোগিতায় ১২শ গাছের চারাগাছ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মক্তবসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাগানোর জন্য আলোকিত আমলার সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণ ও  রোপন করা হবে। চারা গাছের মধ্যে রয়েছে কাঁঠাল ১৫০টি, পেঁয়ারা ২০০টি, আমলকি ২০০টি, ডালিম ৫০টি, লেবু ২০০টি, বকাইনিম ২০০টি ও জাম ২০০টি।

এন্ড্রু কিশোর সমাহিত হবেন ১৫ জুলাই

ঢাকা অফিস ॥ স্বাধীনতার পর এই দেশের সংগীতে বিরাট এক প্রাপ্তির নাম এন্ড্রু কিশোর। বিশেষ করে এদেশের চলচ্চিত্রে এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠ ছিলো রাজতিলকের মতো। বহু গান তিনি উপহার দিয়েছেন। মুগ্ধ করে রেখেছিলেন কয়েক প্রজন্ম। সেই প্রিয় শিল্পী ৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তার প্রস্থান শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে সংগীতের অনুরাগীদের। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নানা বয়স-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন। এদিকে শিল্পীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৫ জুলাই সমাহিত করা হবে তাকে। কারণ তার দুই সন্তান সপ্তক ও সংজ্ঞা এখন অস্ট্রেলিয়াতে রয়েছেন। তারা দেশে না ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। করোনা পরিস্থিতিতে সপ্তক ও সংজ্ঞার দেশে ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন এন্ড্রু কিশোরের পরিবার। আপাতত গোসল সম্পন্ন করে সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে এন্ড্রু কিশোরের লাশ রাখা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হিমাঘরে। ১৫ জুলাই অব্দি সেখানেই থাকবেন বাংলা গানের মহারাজ। এন্ড্রু কিশোরের ভগ্নিপতি জানান, মৃত্যুর আগে এন্ড্রু কিশোর বলে গিয়েছেন তাকে যেন মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়। সেই ইচ্ছানুযায়ী মায়ের পাশেই তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গেল বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্যান্সারে (নন-হজকিন লিম্ফোমা) আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন এন্ড্রু কিশোর। ৯ মাস পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন এন্ড্রু কিশোর ১১ জুন রাত আড়াইটার একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেন। তারপর ঢাকার বাসায় বেশকিছু দিন অবস্থান করে শরীরের অবস্থা বিবেচনায় ও কোলাহলমুক্ত থাকতে তিনি গ্রামের বাড়ি রাজশাহী চলে যান। তারপর থেকে সেখানে তার বোনের বাসা সংলগ্ন ক্লিনিকেই ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় পদ্মায় নৌকা ডুবি, ৪ দিনমজুর নিখোঁজ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পদ্মা নদীতে দুইটি  ডোঙা নৌকা ডুবিতে ৪ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নৌকায় থাকা অপর ৯ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সাদিপুর ইউনিয়নের ঘোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- জেলার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের হারান শেখের ছেলে জুয়েল (৩০), নজু’র ছেলে জাকির (২৫), জলিলের ছেলে শরিফুল (৩১) ও রঞ্জিতের ছেলে জুবা (৩২)। এদের সবার পেশায় দিনমজুর।

জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার ১৩ জন দিনমজুর দুইটি ডোঙা নৌকায় পদ্মা নদীর চরে উলু ঘাস কাটাতে যাচ্ছিলেন। একটি নৌকায় ছিল ৯ জন ও অপর নৌকায় ৪ জন। নদীর তীর থেকে একটু দুরে যেতেই নদীর প্রবল স্রোতে নৌকা দুটি ডুবে যায়। এরপর ৯ জন সাঁতার দিয়ে নদীর কুলে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৪ জন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, করিম গাড়িতে এসে ডোঙা  নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে চরে উলু ঘাস কাটতে যাওয়ার সময় দুইটি  নৌকা ডুবে যায়। এরপর সাঁতার কেটে ৯ জন নদীর কুলে এসে অসুস্থ হয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ায় সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং এরা সবাই ভেড়ামারা উপজেলার জামালপুরের লোক। তিনি আরো জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েও কাউকে উদ্ধার করেতে পারেনি। আজ (বুধবার) আবারও উদ্ধার অভিযান চলবে।

এ বিষয়ে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা অমিয় কুমার বিশ্বাস জানান, সাদিপুর একটি রিমোর্ট এলাকা হওয়ায় আমরা এখনও ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারিনি, তবে পাবনার ফায়ার সার্ভিস দল কাজ করছে।

গাংনীতে উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু, পরিবারের ৩জন করোনায় আক্রান্ত

মেহেরপুর অফিস ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে জোবাইদা খাতুন (৭২) নামের এক বৃদ্ধার মারা গেছেন। এছাড়াও তার মেজো ছেলে ও  ছেলে স্ত্রী এবং নাতনী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বৃদ্ধা জোবাইদা গাংনী উপজেলা শহরের পশু হাসপাতাল পাড়ার মৃত আব্দুল গনির স্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বৃদ্ধা জোবাইদা নিজ বাড়িতে মারা যান।  গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রিয়াজুল আলম জানান গত কয়েকদিন আগে জোবাইদা খাতুনের মেজো ছেলে আক্তারুজ্জামান চঞ্চল, বড় ছেলে বাচ্চুর স্ত্রী স্বাস্থ্যকর্মী ফারহানা ও মেয়ে নুসরাতের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা শেষে পজেটিভ দেখা দেয়। মারা যাওয়া জোবাইদার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর  কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে তাদের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান যেহেতু করোনা উপসর্গ নিয়ে জোবাইদা খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। সেহেতু তাকে ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মীরা সরকারী ও ইসলামী বিধি অনুযায়ী দাফন করবে।

জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে; পজেটিভ ৮১৬

কুষ্টিয়ায় পুলিশসহ নতুন করে আরো ২৭ জন করোনায় আক্রান্ত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার নতুন করে আরো ২৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৮১৬ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হল। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ জনের। তবে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আরো ২ জন মহিলা করোনা রোগীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। ৭ জুলাই মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস থেকে কোভিড ১৯ আপডেটে জানানো হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে মঙ্গলবার মোট ২৫০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ১০১ টি, মেহেরপুরের ১৪ টি, চুয়াডাঙ্গার ৪৯ টি, নড়াইল ৪৭ টি এবং ঝিনাইদহের ৩৯ টি নমুনা ছিল। কুষ্টিয়া জেলায় ৭ জুলাই মঙ্গলবার নতুন করে ২৭ জনকে করোনা পজিটিভ বলে সনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কুমারখালীর ১ টি নমুনার ফলোআপ রিপোর্ট পজিটিভ। নতুন আক্রান্তের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার সদরে ১৮ জন, কুমারখালীতে ৬ জন, মিরপুরে ১ জন, খোকসায় ২ জন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১৮ জনের ঠিকানা পূর্ব মজমপুর ১ জন, চৌড়হাস ৩ জন, কুমারগাড়া ১ জন, হাউজিং ব্লক ডি ১ জন, আড়ুয়াপাড়া ১ জন, কোর্টপাড়া ২ জন, উদিবাড়িয়া ১ জন,  কেজিএইচ ২ জন, থানাপাড়া ২ জন, পিয়ারাতলা ১ জন, পুলিশ লাইন ১ জন, কাস্টমস মোড় ১ জন, মঙ্গলবাড়িয়া ১ জন। কুমারখালী উপজেলায় আক্রান্ত ৬ জনের ঠিকানা কুণ্ডপাড়া ১ জন, খয়েরচারা ১ জন, উত্তর কয়া ১ জন, বানিয়াপাড়া ১ জন, ছেউড়িয়া ১ জন, সারকান্দি ১ জন। মিরপুর উপজেলায় আক্রান্ত ১ জনের ঠিকানা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। খোকসা উপজেলায় আক্রান্ত ২ জনের ঠিকানা আমবাড়িয়া। নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ১৫ জন, মহিলা ১২ জন। কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৮১৬ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হল (বহিরাগত বাদে)। উপজেলা ভিত্তিক রোগী সনাক্তের মধ্যে, দৌলতপুর ১০৫, ভেড়ামারা ৮৭, মিরপুর ৪৮, সদর ৪৪১, কুমারখালী ১০৬, খোকসা ২৯ জন। মোট পুরুষ রোগী ৫৯৪ জন ও নারী রোগী ২২২ জন। সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন মোট ৩৮৩ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ৩৮১ জন (দৌলতপুর ৫৫,  ভেড়ামারা ৬৩, মিরপুর ২৮, সদর ১৬৮, কুমারখালী ৫১, খোকসা ১৬)। বহিরাগত সুস্থ ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩৭৮ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪০ জন। মৃত- ১৫ জন (কুমারখালী-৪, দৌলতপুর-১, ভেড়ামারা-১, কুষ্টিয়া সদর ৯ )।  সোমবার কুমারখালীর কুন্ডুপাড়ার বাসিন্দা ৭২ বছর বয়স্ক একজন পুরুষ রোগী মৃত্যুবরণ করেন। মৃত পুরুষ ১৪ জন ও মহিলা ১ জন। সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ করে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আতংকিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন। ঘরে থাকুন, বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হবেন না। বার বার সাবান দিয়ে হাত ধৌত করুন। যত্রতত্র কফ, থুতু ফেলবেন না। হাঁচি, কাশি দেয়ার সময় টিস্যু পেপার, রুমাল, বাহুর ভাঁজ ব্যবহার করুন ও ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। একে অপরের থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন ও মাস্ক ব্যবহার করুন।

কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সে এটিএম বুথ’র উদ্বোধনকালে এসপি তানভীর আরাফাত

দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স চেক পোষ্ট স্থানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল ৭ জুলাই মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ এটিএম বুথ এর শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার)। পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের এ অভিযাত্রায় শামিল হয়ে বাংলাদেশ পুলিশও কাজ করে চলেছে। করোনাকালে এই অভিযাত্রায় বাংলাদেশ পুলিশ অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি বলেন, মানুষকে নির্মোহভাবে ভালোবাসতে হবে, মানুষকে কোনো প্রকার নির্যাতন ও নিপীড়ন করা যাবে না। সব উপায়ে সর্বোতোভাবে মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। মাদকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আসুন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি। করোনা সংক্রমণ রোধে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এই পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। এটিএম বুথের উদ্বোধনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আজাদ রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু সহ জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, অন্যান্য অফিসার-ফোর্স ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, “কমিউনিটি ব্যাংক” বাংলাদেশ লিঃ, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট এর মালিকানাধীন একটি তালিকাভুক্ত ব্যাংক। এ ব্যাংকে সাধারণ জনগণ একাউন্ট খোলা, লেনদেনসহ সর্বপ্রকার ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

৬ পুলিশের করোনা

দৌলতপুরের খলিশাকুন্ডি ক্যাম্প লকডাউন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে খলিশাকুন্ডি ক্যাম্পের ইনচার্জসহ ৬ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় খলিশাকুন্ডি পুলিশ ক্যাম্পকে লকডাউন করা হয়েছে। সোমবার রাতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ক্যাম্প লকডাউন ঘোষণা করা হয়। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান খলিশাকুন্ডি পুলিশ ক্যাম্প লকডাউন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খলিশাকুন্ডি ক্যাম্পে মোট ১৩ জন পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। একজন ছুটিতে থাকায় ক্যাম্পে ১২জন ডিউটি করছিল। ক্যাম্পের এক পুলিশ সদস্যের শরীরে করানোর উপসর্গ দেখা দিলে তার নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। গত শুক্রবার ওই পুলিশ সদস্যের করোনা শনাক্ত হলে পরদিন ওই ক্যাম্পের সকল সদস্যের করোনা নমুমা নিয়ে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সোমবার রাতে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাব থেকে প্রেরিত রিপোর্টে খলিশাকুন্ডি ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই খোরশেদ আলমসহ আরও ৫পুলিশ সদস্যের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওই রাতেই ওই পুলিশ ক্যাম্প লকডাউন করা হয়েছে। তবে ক্যাম্প লকডাউন করা হলেও ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে জানান ওসি এস এম আরিফুর রহমান।

বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ হবে আরও দুই হাজার চিকিতসক

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে সরকার। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেবে। এরপর এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে শুধুমাত্র চিকিৎসক নিয়োগ দিতে ৩৯তম বিশেষ বিসিএস নেয় সরকার। এই বিসিএসের মাধ্যমে চার হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন এবং ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগ পান। ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও পদ না থাকায় ৮ হাজার ১০৭ জন নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাননি। করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় তাদের মধ্য থেকে গত ৪ মে দুই হাজার জনকে সহকারী সার্জন পদে নিয়োগ দেয়া হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আরো ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি মার্কেটকে আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে। সারা দেশে এ রোগের চিকিৎসা দিতে পারে এমন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বেসরকারি ক্লিনিকের ম্যাপিং করা হচ্ছে। এসব হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে আরও চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন হবে। জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বলছে, প্রয়োজনে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পরে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদনসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।