২০১৯-২০ অর্থবছরে বাড়তি ছিল মূল্যস্ফীতি

ঢাকা অফিস ॥ করোনা মহামারির মধ্যেই বিদায় নিয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছর। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতির অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়েছে। এ অর্থবছরে (২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০-এর জুন পর্যন্ত) গড় মূল্যস্ফীতির হার নিরূপিত হয়েছে শতকরা ৫ দশমিক ৫৬ ভাগ। তার আগে একই সময়ে (২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত) গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল শতকরা ৫ দশমিক ৪৮ ভাগ। অর্থাৎ বিদায়ী অর্থবছরে গড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে দশমিক শূন্য আট ভাগ। গতকাল সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বিবিএসের তথ্যমতে, জুনে অনেক বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হার। জুনে মূল্যস্ফীতির হার জাতীয় পর্যায়ে হয়েছে ৬ দশমিক ০২ ভাগ, যা মে মাসে ছিল শতকরা ৫ দশমিক ৩৫ ভাগ। ২০১৯ সালের জুনে ছিল শতকরা ৫ দশমিক ৫২ ভাগ। চলতি জুনে খাদ্য ও খাদ্যবর্হিভূত উপখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে যথাক্রমে শতকরা ৬ দশমিক ৫৪ ও ৫ দশমিক ২২ ভাগ, যা চলতি বছরের মে মাসে ছিল যথাক্রমে শতকরা ৫ দশমিক ০৯ ও ৫ দশমিক ৭৫ ভাগ। গ্রামীণ পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি হয়েছে শতকরা ৬ দশমিক ০২ ভাগ, যা মে মাসে ছিল শতকরা ৫ দশমিক ৬৫ ভাগ। শহর পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ০৩ ভাগ, যা মে মাসে ছিল ৪ দশমিক ৮১ ভাগ। জুনের মূল্যস্ফীতি হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চাল, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, শাকসবজি (আলু, পটল, বেগুন, বরবটি, ঢেঁড়স, করলা, টমেটো, গাজর, পেঁপে ইত্যাদি), মসলার (শুকনা মরিচ, আদা, রসুন ইত্যাদি) মূল্য মে মাসের তুলনায় জুনে বেড়েছে। মজুরির হারও বেড়েছে জুনে। জাতীয় পর্যায়ে জুনে মজুরি হার হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ভাগ, যা মে মাসে ছিল ৫ দশমিক ৮৯ ভাগ। জুনে তিনটি বৃহৎ খাত (কৃষি, শিল্প ও সেবা) মজুরি হার যথাক্রমে ৬ দশমিক ১৮, ৫ দশমিক ৩১ ও ৫ দশমিক ৭৮ ভাগ, যা মে মাসে ছিল ৬ দশমিক ১৬, ৫ দশমিক ২৯ ও ৫ দশমিক ৭৫ ভাগ।

করোনার শেষের শুরু’, ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নিয়ে বড়সড় দাবি বিজ্ঞানমন্ত্রকের

ঢাকা অফিস ॥ দেশে করোনার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হওয়া মানেই এই মহামারীর ‘শেষের শুরু’। রোববার এমনটাই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞানমন্ত্রক। খুব শীঘ্রই দেশে করোনার দুটি ভ্যাকসিন অর্থাৎ কোভ্যাক্সিন এবং জাইকভ ডি’র ট্রায়াল শুরু হবে। আর সেটা শুরু হওয়া মানেই এই মরণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটা বড়সড় হাতিয়ার পেয়ে যাবে দেশ। অন্তত কেন্দ্রীয় বিজ্ঞানমন্ত্রকের এমনটাই দাবি। বিজ্ঞানমন্ত্রকের পোর্টাল বিজ্ঞান প্রসার এবং প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর ওয়েবসাইটে রোববার মন্ত্রকের তরফে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। যাতে বিজ্ঞানমন্ত্রকে কর্মরত এক বিজ্ঞানী দাবি করেছেন,”ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া ও সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের অনুমতি পাওয়ার পরেই ভারতে কোভ্যাক্সিন ও জাইকভ ডি’র ট্রায়াল শুরু হচ্ছে। আর ট্রায়াল শুরু হওয়া মানেই করোনার শেষের শুরু। এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ১০০’র বেশি ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে। তার মধ্যে ১১টি ভ্যাকসিনের মানবদেহে ট্রায়াল শুরু হয়েছে। ছটি ভারতীয় সংস্থা ঈঙঠওউ-১৯-এর ভ্যাকসিন তৈরি করছে। ঈঙঠঅঢওঘ এবং তুঈড়া-উ-সহ মোট এগারোটি করোনার টিকা মানব দেহে প্রয়োগের অপেক্ষায়। এই ট্রায়াল শুরু হওয়া মানেই করোনার বিদায়ের দিন এগিয়ে আসবে।” ওই প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তেই করোনার টিকা তৈরি হতে পারে। কিন্তু যতদিন না ভারতে এই ভ্যাকসিন উৎপাদনের পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে, ততদিন আমরা সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছতে পারব না। বিজ্ঞানমন্ত্রকের ওই প্রতিবেদনে ঘোষণা করা হয়েছে, ভারত ভ্যাকসিন তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই দুটি বড় বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ব্রিটেনের আস্ট্রাজেনেকা ও আমেরিকার মোডের্নার ভারতে প্রতিষেধকটি উৎপাদনে রাজিও হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের। বিজ্ঞানমন্ত্রকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভ্যাকসিন যত শীঘ্রই আবিষ্কার হোক না কেন, দেশে পুরোদমে করোনার প্রতিষেধক তৈরি হতে আরও ১৫ থেকে ১৮ মাস সময় লাগবে।

 

প্রাথমিকে নিয়োগে নারীদের জন্যও স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ সারাদেশে ২৬ হাজার প্রাক-প্রাথমিক ও ১৪ হাজার সহকারিসহ মোট ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আগামী আগস্ট মাসে এ নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এবার নারী-পুরুষ উভয় আবেদনকারীর ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়, যা আগে পুরুষের ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রি এবং নারীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি বা সমমান পাস ছিল। পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে এ বিষয়টি পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফসিউল্লাহ। মহাপরিচালক বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়ে কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আগামী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তা সম্ভব না হলে স্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। যেহেতু বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগের জন্য আবেদন করেন, সে কারণে সার্বিক সবকিছু বিবেচনা করে প্রার্থীরা যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়েন, সেসব কিছু বিবেচনা করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আগের চেয়ে বাড়ানো হচ্ছে। এইচএসসি পাস থেকে বাড়িয়ে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। নতুন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকে স্তর অনুমোদন হওয়ায় প্রথম ধাপে ২৬ হাজার বিদ্যালয়ে একজন করে এ স্তরে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এ ছাড়া সারাদেশে শূন্য হওয়া বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। দুই ধাপে একই সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে’, যোগ করেন মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফসিউল্লাহ। জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিকের সময়সীমা দুই বছর ও ভর্তির ক্ষেত্রে চার বছর বয়সসীমা করে গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক স্তর পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এ স্তরে অর্জিত সাফল্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনে চার বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য দুই বছর মেয়াদি করতে একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এ স্তরে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, প্রাক-প্রাথমিকের ভর্তিতে শিশুদের বয়স চার ও মেয়াদকাল দুই বছর করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে এ স্তরে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। সব মিলিয়ে একত্রে ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে (ডিপিই) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে নতুন ২৬ হাজার শিক্ষকের পদ সৃজন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। ক্যাবিনেট সভায় এটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 

পুলিশ এখন জনগণের শতভাগ আস্থা অর্জন করতে পেরেছে – খাদ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে জনবান্ধব হিসেবে শতভাগ আস্থা অর্জন করতে পেরেছে পুলিশ। অপরাধ দমনে পুলিশ বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় শিবপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। স্থানীয়দের প্রতি পুলিশের কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ তদন্ত কেন্দ্র চালুর মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত এ এলাকায় অপরাধ কমে আসবে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ীদের দমনে কাজ করবে পুলিশ নওগাঁর পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এ কে এম হাফিজ আক্তার, নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা হোসেন, নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়া মারিয়া পেরেরা

দিনাজপুরের বিরল রেলবন্দর হবে দেশসেরা – রেলমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, দিনাজপুরের বিরল রেলবন্দরকে দেশের এক নম্বর রেলবন্দর হিসেবে রূপান্তর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। উত্তরাঞ্চলকে কেউ আর এখন মঙ্গা এলাকা বলবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত থেকে আনা মালামাল খালাসের জন্য বিরল রেলবন্দরে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে মেইন রেল লাইনের পাশে আরও তিন/চারটি রেল লাইন নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার দুপুরে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার পাকুড়া রেল বন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শন শেষে এক সুধী সমাবেশে তিনি একথা বলেন। বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিরল পৌরসভার মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা আমাদের যোগ্য নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই হাত ধরে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। পুরো বিশ্ব ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। একসময় বাংলাদেশে খাদ্যের অভাব ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৫ লাখ মেট্রিকটন চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে খাদ্য উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৯৯ লাখ মেট্রিক টন। ২৪ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য বাংলাদেশে উদ্বৃত্ত আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। বিএনপির আমলে রেলকে সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে রেলকে আলাদা মন্ত্রণালয় করে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরল তথা দিনাজপুরবাসীকে এই রেলবন্দর উপহার দিয়েছেন। এ বন্দর দিয়ে ভবিষ্যতে ভারতে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারবে। ভবিষ্যতে এ বন্দর দিয়ে নেপালেও মালামাল পরিবহন করা হবে। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মিলিত প্রয়াসই মহামারি থেকে বাঁচাতে পারে – ২০ দল

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাস মহামারির বিদ্যমান সংকট নিরসনে দেশের সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশা সংগঠন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত ও সক্রিয় প্রয়াসই শুধু দেশবাসীকে মহামারির ভয়াল প্রকোপ থেকে বাঁচাতে পারে বলে জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোটের নেতারা। গত রোববার ২০ দলীয় জোটের ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের পর গতকাল সোমবার দুপুরে জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নিজ বাসা থেকে ভিডিও বার্তায় এ কথা জানান। লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারে মন্ত্রী, আমলা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বাগাড়ম্বর করোনা প্রতিরোধে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি বরং মহামারি বিস্তারে সহযোগীতা করেছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদের রোগ প্রতিরোধে অমনোযোগী করে জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং মহামারি নিয়ন্ত্রণে সফল অভিজ্ঞতা যথাসময়ে আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতি রোধ করা সম্ভব হতো বলেও মনে করে ২০ দল। বিএনপির এ প্রবীণ নেতা বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের টেস্টিং কিট নিয়ে অহেতুক সময়ক্ষেপণ, বিদেশ থেকে নিম্ন মানের কিট, মাস্ক, পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী আমদানিতে সীমাহীন দুর্নীতি এবং নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে অসংখ্য রোগী এবং ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যসেবীদের বহু জনের অকাল মৃত্যুর কারণ বলে জানা গেছে। এটা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, ক্ষমাহীন অপরাধ যার তদন্ত ও শাস্তি হওয়া দরকার বলে দাবি করে ২০ দল। তিনি বলেন, ২০ দল সারা বিশ্বের অভিজ্ঞতার আলোকে বিলম্বে বাস্তবায়ন সম্ভব এমন সব মেগা প্রকল্প স্থগিত করে সেই অর্থে করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের এবং যতদূত সম্ভব উপজেলা পর্যায়ে দৈনিক কমপক্ষে ৬০ হাজার করোনা টেস্ট, মালিকানা নির্বিশেষে সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসা কেন্দ্র আইসিইউ, ভেল্টিলেশন, আইসোলেশন ও পর্যাপ্ত ওষুধ, প্রশিক্ষিত ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে করোনা চিকিৎসার উপযোগী করার জোর দাবি জানায়। বাজেটকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০ দল দেশবাসীর সঙ্গে অবাক বিস্ময় লক্ষ্য করছে যে এমন এক সংকটকালে পাঁচ লাখ কোটি টাকারও বেশি টাকা জাতীয় বাজেটে পাস করা হয়েছে মাত্র একদিনের আলোচনায়। এমন হঠকারী ও অস্বাভাবিক ঘটনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার, রাজস্ব আদায়, রপ্তানি ও আমদানি প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স বাড়ানো, মুদ্রাস্ফীতির হার ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাল্পনিক পরিমাণ নির্ধারণ করে বাজেটের আয়-ব্যয় অঙ্ক মেলানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০ দল মনে করে যে, থাইল্যান্ডে প্রয়াত রাজা, সিঙ্গাপুর ও মালোয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো আমাদের দেশের মন্ত্রী, এমপি, জনপ্রতিনিধি, জননেতা, ঊর্ধ্বতন আমলারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি হতো। সভায় সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান যথা বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল পরিশোধে বিপন্ন জনগণকে বাধ্য করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এসব বিল আদায় স্থগিত ঘোষণার এবং কর্মহীন ও দরিদ্র মানুষদের বিল মওকুফ করার দাবি করা হয়। ২০ দল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, দেশ ও জনগণ যখন করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত, আত্মরক্ষা এবং জনগণের জন্য ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত তখন নির্বাচন কমিশন বহুল প্রচারিত কয়েকটি ইংলিশ শব্দ পরিবর্তনের জন্য আরপিওর একটি অধ্যায়কে ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন-২০২০’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগী হয়েছে- যা অসমযোপযোগী, অপ্রয়োজনীয় এবং অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক বিষয়। ২০ দল নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এ ফরমায়েশি কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য জোর দাবি জানায়। সভায় ২০ দলীয় জোটের শরীক দলগুলো ইতোমধ্যেই সারাদেশে যে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন তা আরো বিস্তৃত করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ৫ জুলাই বেলা ১১টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের ভার্চ্যুয়াল এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) সভাপতি সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ।

অধীনস্থ দপ্তরের কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটরিংয় করা হবে – সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। যেহেতু, অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রম ও সাফল্যের মাঝেই মন্ত্রণালয়ের মূল সাফল্য নিহিত, সেজন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং করা হবে। গতকাল সোমবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ে যোগ দেয়া নতুন সচিবকে অভ্যর্থনা প্রদান এবং বদলি সচিবের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কে এম খালিদ বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি ছিলেন একজন মেধাবী, সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা। তিনি তার যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম গতিশীল ও দৃশ্যমান করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হিসাবে তার ব্যবহার, সেবার মানসিকতা, আন্তরিকতা, নিয়মানুবর্তিতাসহ মানবীয় গুণাবলি ও কর্মোদ্যোগ অন্যান্যের জন্য শিক্ষণীয়। প্রতিমন্ত্রী এ সময় মন্ত্রণালয়ের গতিশীলতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে নবাগত সচিব সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, পদোন্নতি পেয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব হিসাবে যোগ দিয়েছেন খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক এম বদরুল আরেফিন। অন্যদিকে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলি হয়েছেন।

মাঠে নয়, বিএনপি শুধু টিভিতেই – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সারা দেশের মানুষ দেখছে করোনা পরিস্থিতিতে বিএনপি মানুষের পাশে মাঠে না গিয়ে আইসোলেশনে থেকে টিভিতেই বক্তব্য দিয়েছে। ‘আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপিই মাঠে আছে, ত্রাণ দিচ্ছে’Ñবিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে একথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। বিএনপি নেতা রিজভীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তথমন্ত্রী বলেন, আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে চাই না এবং তা উচিতও নয়। দেশের মানুষের চোখ-কান আছে, তারা দেখতে পাচ্ছেন, কারা মাঠে আছে, কারা ত্রাণ দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১ কোটি ২৫ লাখের বেশি পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৭ কোটি মানুষ ত্রাণ এবং অন্যান্য সহায়তার আওতায় এসেছে। এগুলো দিবালোকের মতো স্পষ্ট। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ ঘরে বসে বসে ভিডিও কনফারেন্স করে দুনিয়ার কথা বলেন, সেটা টেলিভিশনেই দেখা যায়। অপরদিকে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছে বিধায় অনেক এমপিসহ বহু নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, অনেক নেতা ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, তারা সবাই মাঠে ছিলেন। সুতরাং আমরা যে কথাগুলো বলেছি সেটি যে সত্য, তা দেশের মানুষ বুঝতে পারে। আর মিথ্যা বলাই যাদের রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য, তারা ক্রমাগত মিথ্যাই বলবে, এটিই স্বাভাবিক। এখনো চিকিৎসার জন্য মানুষকে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে-এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য। সেখান থেকে রোগী ফেরত দেয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়। চিকিৎসা দিতে না পারলে তারা রোগীকে পরামর্শ দিতে পারে, অন্য হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরত দেয়াকে এ পরিস্থিতিতে আমি মনে করি অপরাধ এবং এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াতে দৌড়াতে রোগীর মৃত্যুর দায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। করোনা পরিস্থিতিতে বগুড়া ও যশোরের দু’টি আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, তারা স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এর ভালো ব্যাখ্যা তারাই দিতে পারবে। যদিও ঢাকা আর বগুড়া কিংবা যশোরের পরিস্থিতি এক নয়, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে মানুষ যে কিছুটা উদ্বিগ্ন সেটাও ঠিক। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়ও আছে। সে কারণেই তারা নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এ প্রেক্ষাপটে আরো কী করা যেতে পারে, কী করা প্রয়োজন সেটি নির্বাচন কমিশনই ভালো বলতে পারবে।

 

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে চট্টগ্রামে যুবক গ্রেফতার

ঢাকা অফিস ॥ ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিতকরে কটূক্তি করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আবদুল কাইয়ুম ফতেপুরী নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর গতকাল সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার আবদুল কাইয়ুম ফতেপুরীর বাড়ি হাটহাজারী থানাধীন ফতেপুর এলাকায়। হাটহাজারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা বলেন, আবদুল কাইয়ুম ফতেপুরী নামে একজনকে খাগড়াছড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ফেসবুকে কটূক্তির দায়ে অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে রাসেল নামে একজন মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক ছিলেন। আবদুল কাইয়ুম ফতেপুরীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফেসবুকে আবদুল কাইয়ুম ফতেপুরী নামের ওই যুবক লিখেছিলেন, ‘আবুল তাবোল উইকেট পড়তেছে, আমরা সরাসরি জননীর আশায় আছি।’ এ ঘটনায় ১৯ জুন রাসেল নামে এক ছাত্রলীগ নেতা হাটহাজারী থানায় আবদুল কাইয়ুম ফতেপুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমান আদালতের ৬ ক্লিনিকে ৩২ হাজার টাকা জরিমানা

২জনের করোনা পজেটিভ থাকায় শেফা ক্লিনিক লকডাউন ঘোষনা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী আলমডাঙ্গার ৬টি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসম্মত না থাকায় ৬টি ক্লিনিকে ৩২হাজার টাকা জরিমানা করেছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ইউনাইটেড ক্লিনিকে অভিযান চালান। ইতিপুর্বে এই ক্লিনিকের ভিতরে স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবস্থা না থাকা,সার্বক্ষনিক চিকিৎসক না থাকায় জরিমানা করেছিল গতকালও একই কারনে এই ক্লিনিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর কালিদাস বাজারের একটি ক্লিনিকে একই অপরাধে ৫ হাজার টাকা, মা ক্লিনিককে ৬ হাজার টাকা, একতা ক্লিনিককে ২ হাজার টাকা, লোকমান ক্লিনিককে ৩ হাজার টাকা ও  গোবিন্দপুর সোহাগ মোড়ে নিউ এ্যাপোলো ক্লিনিকে ৫ হাজার টাকা। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার  ৬ টি ক্লিনিকে মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য প,প,কর্মকর্তা ডাঃ হাদী জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ। এরপর আলমডাঙ্গা শেফা ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকের মালিকসহ ২ জনের করোনা পজেটিভ থাকায় ক্লিনিকটি লকডাউন ঘোষনা করে সাময়িকভাবে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো লিটন আলী।

রাজবাড়ীতে সেনাবাহিনী কর্তৃক গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে চিকিতসা সেবা প্রদান

করোনাকালীন সময়ে ঘরবন্দী অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল ৬ জুলাই সোমবার রাজবাড়ী সদর উপজেলার রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ১০ জন সামরিক ও বেসামরিক  বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সমন্বয়ে গরীব ও অসহায় গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা। দিনব্যাপী পরিচালিত এই ক্যাম্পে প্রায় ৩৫০ জন গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, ওষুধ বিতরণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণসহ স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন সেনা সদস্যরা। সকাল ১১টা থেকে পরিচালিত এই ক্যাম্পের উদ্ধোধন করেন যশোর সেনানিবাসের ২১ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার। এ সময় তিনি সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় ও প্রয়োজনীয় উপদেশমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও করোনা প্রতিরোধে ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল তদারকি, সাধারণ মানুষকে মাইকিং করে নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিবিধ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় ত্রাণ তৎপরতা ও ঘরবাড়ী মেরামতের পাশাপাশি বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। এছাড়া পানিবন্দী মানুষদেরকে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য  রোগের প্রাদুর্ভাব হতে রক্ষা করতে জরুরী চিকিৎসা সেবা ও সুপেয় পানি বিতরণসহ অন্যান্য জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

নগদ সহায়তা গ্রহীতাদের মোবাইল না থাকলে ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়ার নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু অনেকের মোবাইলফোন না থাকায় সহায়তার অর্থ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যেসব উপকারভোগীর মোবাইল নেই, তাদের ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট’ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করে। তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো নির্দেশনা বলা হয়েছে, মুজিববর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ প্রদানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেয় হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব উপকারভোগীর মোবাইলফোন নেই অথবা যাদের পক্ষে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাব খোলা সম্ভব নয়, তাদের অনুকূলে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডের তথ্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যয়নের ভিত্তিতে ১০ টাকা আমানত সম্বলিত ব্যাংক হিসাব খোলা। চেকবই না থাকলে ডেবিট ভাউচারের মাধ্যমে উপকারভোগীকে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোনো উপকারভোগী আগে থেকে কোনো ব্যাংকের হিসাবধারী হলে, তার অনুকূলে নতুন করে ব্যাংক হিসাব খোলার প্রয়োজন নেই বল জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জানা গেছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চলমান অচলাবস্থায় সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে দেবে সরকার। যার এক হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটির সঙ্গে জড়িত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে স্থানীয় সরকার অর্থাৎ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সাহায্যে। তালিকায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকসহ পরিবহন শ্রমিক, হকারসহ নানা পেশার মানুষকে রাখা হয়েছে। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সহায়তায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী বর্তমানে যেসব সহায়তা পাচ্ছে, এ তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

এবারের হজে কাবা স্পর্শ করা নিষিদ্ধ

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ এড়াতে চলতি বছরে খুবই সীমিত পরিসরে হজের অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির মাত্র এক হাজার জন এবারের হজে অংশ নিতে পারবেন। এই প্রথমবারের মতো বিদেশি মুসলিমদের জন্য হজ নিষিদ্ধ করেছে সৌদি। এবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানাল, ইসলামের পবিত্র নির্দশন কাবা স্পর্শ করা যাবে না এবারের হজে। শুধু তাই নয়; নামাজের সময় এমনকি কাবা শরিফ তাওয়াফের সময়ও দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে হাজিদের। হজের বিষয়ে এক স্বাস্থ্য নির্দেশনায় এসব জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইটস টাইমস। সোমবার সৌদির রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, চলতি বছরে হজ চলাকালীন কাবা শরিফ স্পর্শ করা যাবে না। অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সময় যেমন-নামাজ ও কাবা শরিফ তাওয়াফ করার সময় সামাজিক দূরত্ব (এক হাজি থেকে আরেক হাজির মধ্যকার দূরত্ব দেড় মিটার হবে) বজায় রাখতে হবে। সীমিত সংখ্যক হাজি মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। এবারের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১৯ জুলাই থেকে। চলবে ২ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়ে হাজি ও আয়োজকদের প্রত্যেকের জন্য সর্বদা মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে অনেক জল্পনা-কল্পনার পর গত জুনে অভ্যন্তরীণ এক হাজার সৌদি নাগরিককে হজের অনুমতি দেয় সৌদি।

ভার্চুয়াল শুনানিতে হাইকোর্টে আরও দুই বেঞ্চ গঠন

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আদালত বন্ধ থাকায় ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জরুরি মামলা শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আরও দুইটি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। নতুন দুই বেঞ্চের বিচারপতিরা হলেন-বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান। এ দুটি বেঞ্চের একটিকে জামিন আবেদনসহ ফৌজদারি মামলা এবং আরেকটিকে দেওয়ানি মামলা শুনানির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। গত রোববার) এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রশাসন শাখা। এর আগে ১৫ জুন আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ১৩টি বেঞ্চ গঠন করার কথা জানানো হয়েছিল। তারও আগে ১১টি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটিতে আদালত বন্ধ রেখে গত ২৬ এপ্রিল ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য সুপ্রিম কোর্টের রুলস কমিটি পুনরায় গঠন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেদিন প্রথমবারের মতো ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে ফুলকোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের ৮৮ জন বিচারপতি। এ অবস্থায় গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। দুইদিন পর ৯ মে ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বা ক্ষেত্রমত হাইকোর্ট বিভাগ সময় সময় প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) জারি করতে পারবে। পরে ১০ মে ভিডিও কনফারেন্সে সব বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি চেম্বার কোর্ট এবং হাইকোর্ট বিভাগে কয়েকটি বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি আদেশের সঙ্গে মিল রেখে আদালত অঙ্গনেও সাধারণ ছুটি ছিল। পরে দফায় দফায় সাধারণ ছুটিরও মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ১৬ মে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে সরকার ৩০ মের পর সাধারণ ছুটি আর বাড়ায়নি। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল আদালত চলবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।

অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রিজার্ভ থেকে প্রকল্পের জন্য ঋণ নেয়ার প্রস্তাব

ঢাকা অফিস ॥ দেশে বর্তমান রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার, যা সর্বকালের রেকর্ড। তিন মাসের আমদানি খরচ হাতে রেখে রিজার্ভ থেকে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টির প্রভাব ও সম্ভাবনা যাচাই-বাছাই করে দেখতে বলেছেন তিনি। গতকাল সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এমন প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় প্রতি একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী কিছু মন্তব্য, প্রস্তাব, নির্দেশনা দেন। সভা শেষে সেসব সংবাদকর্মীর সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। একনেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। সর্বকালের রেকর্ড এটা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিদেশ থেকে ডলারে ঋণ নিই। আমরা নিজেদের টাকা তো নিজেরাই ঋণ দিতে পারি। সরকার নিজেই ঋণ নিতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের পক্ষে, জনগণের পক্ষে এই টাকা সংরক্ষণ করে। রিজার্ভ তাদের আয়ত্তেই আছে। ওখান থেকে আমরা প্রকল্পের জন্য ঋণ নিতে পারি। এম এ মান্নান আরও বলেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশনা হলো যে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিন্তাভাবনা করে খুঁটিনাটি দেখবে। অর্থনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে। যেমন প্রধানমন্ত্রীর ধারণা, সাধারণ তিন মাসের আমদানি ব্যয় হাতে রাখা নিরাপদ। তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ বিদেশি টাকা যদি হাতে থাকে, তাহলে স্বস্তিদায়ক মনে করা হয়। সুতরাং তিনি মনে করেন যে, আমদানি ব্যয়ের যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ হাতে রিজার্ভ রেখে বাকিটা অভ্যন্তরীণ নিজেদের অর্থে নিজেরাই ঋণ নিতে পারি এবং তুলে দিতে পারি। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রীকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, রিজার্ভ আমাদের একমাত্র ব্যাকআপ। রিজার্ভ থেকে প্রকল্পের জন্য ঋণ নেয়াটাকে আপনি যৌক্তিক মনে করেন? জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে আমি এটা মনে করি। আমি সমর্থন করি দুটো কারণে। একটা হলো আমাদের নিজস্ব টাকা ডান হাত থেকে বাম হাতে আনলাম। আবার ডান হাতে ফেরত দেব। এটা আগে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফেরত যায়। এটা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বিতীয়ত, বিদেশ থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক শর্ত থাকে, এটা-সেটা থাকে, সেগুলো মানতে হয়। মানতে গিয়ে ব্যয় বেড়ে যায়। ঋণচুক্তি সই করার পরে প্রক্রিয়া করতে অনেক সময় দেখা যায়, এক থেকে দেড় বছর পার হয়ে যায়। তখন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। ডলারের মান বেড়ে যায়, টাকার মান কমে যায়। আমাদের নিজেদের টাকা হলে নিজেরাই খরচ করবো। ভয়ের কারণটা হলো যে ডলারটা দেব, তা ফেরত আসতে হবে। এখানে যদি ওই ধরনের কোনো ভীতি থাকে, যেটা ব্যাংকে আমাদের নন-পারফর্মিং (ঋণখেলাপি) ঋণের ক্ষেত্রে দেখেন। তাহলে আমি হাত দেব না। ওটা নিশ্চিত হয়ে আমি করতে রাজি আছি। আমি মনে করি, এটা সম্ভব। আরেক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এটা তার অর্ডার নয়। তিনি একটা আইডিয়া তুলে ধরেছেন আলোচনার জন্য। তারপর আমরা সিদ্ধান্তে আসবো। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আল্টিমেটলি জনগণের সঞ্চয় জনগণ ব্যয় করবে তাদের কল্যাণে। এজন্য নিয়ম-কানুন, নীতিমালা, চিন্তা-ভাবনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আমাদের অন্যান্য যেসব অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভাগ আছে, তারা ঠিক করবে। আমরাও পরিকল্পনা বিভাগ থেকে অবশ্যই সহায়তা দেব। এটা একটা যুগান্তকারী প্রস্তাব এসেছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। অত্যন্ত আনন্দিত যে, এখানে আমি ছিলাম এবং অবশ্যই সমর্থন করি।

অ্যান্টিবডি কিটের অস্থায়ী নিবন্ধন চেয়ে আবেদন গণস্বাস্থ্যের

ঢাকা অফিস ॥ অ্যান্টিবডি কিটের ইন্টারনাল ভ্যালিডেশন রিপোর্ট আমলে নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে অস্থায়ী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গতকাল সোমবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল (উপাধ্যক্ষ) ও কোভিড-১৯ ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৫ জুলাই ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক আমাদের কথা ইতিবাচকভাবে শুনেছেন এবং সর্বাত্মক সহায়তা করতে চেয়েছেন। অনুষ্ঠানে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর এবং উপপরিচালক সালাহউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। আমরা অ্যান্টিবডি কিটের উন্নত সংস্করণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করে আমাদের ইন্টারনাল ভ্যালিডেশন রিপোর্ট সারাংশ এবং অ্যান্টিবডি ডিজাইন ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বরাবর জমা দিয়েছি। আমরা আমাদের ইন্টারনাল ভ্যালিডেশন রিপোর্টকে আমলে এনে অস্থায়ী নিবন্ধনের আবেদন করেছি। এতে আরও বলা হয়, ওষুধ প্রশাসন অ্যান্টিবডি কিটের উন্নত সংস্করণ বিষয়ে বিদ্যমান সরকারি নিয়মে আবার কন্ট্রাক্ট রিসার্চ সংগঠনের (সিআরও) মাধ্যমে এফডিএ আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করে এক্সটারনাল ভ্যালিডেশন করতে বলেছেন। সেই নিয়মে পরীক্ষা করার জন্য আমরা বর্তমান সিআরও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএসএমএমইউ) জানাব। বিএসএমএমইউ না করতে পারলে আমরা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) যাব। মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলেন, অ্যান্টিজেন্ট বিষয়ে বর্তমানে কোনো নীতিমালা নেই। ৮ জুলাই নীতিমালা ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওষুধ প্রশাসন আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসনের মতো একটি ফরমেট পাঠাবে। ওটা অনুযায়ী প্রটোকল আপডেট করে জমা দিতে বলেছে। সার্বিক সহায়তার জন্য ওষুধ প্রশাসনকে ধন্যবাদ।

শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট দিতে আলোচনা চলছে – শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষা কার্যক্রমকে চালিয়ে নিতে আমরা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করছি। ইতোমধ্যে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন শিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই ইন্টারনেটের ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্রদান অথবা স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ দেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজনে ‘বর্তমান বৈশ্বিক সংকটকালে শিক্ষা বিষয়ে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে এবং আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপার সঞ্চালনায় এই অনলাইন সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। আলোচক হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মাকসুদ কামাল এবং দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক শ্যামল দত্তসহ অনেকেই। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সংকটই আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দেয়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তাই আমাদের হয়তো কিছুদিনের মধ্যে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমে যেতে হতো। করোনা আমাদের এ ক্ষেত্রে এগিয়ে দিয়েছে। আমরা এখন অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমসহ অফিস-আদালতে বিভিন্ন মিটিং এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, সীমাবদ্ধ থাকবে। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে নতুন এই বাস্তবতার সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠব। করোনাপরবর্তী সময়ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকবে। শিক্ষার্থীদের স্বল্প ব্যয় বা বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ সুবিধা দেয়া যায় কিনা তা নিয়ে মোবাইল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, শিক্ষার বিস্তার এবং মেধাবি জাঁতি তৈরিতে ইন্টারনেটকে ব্যয় নয়, এটিকে রাষ্ট্রের বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। ভবিষ্যৎ শিক্ষার ক্ষেত্র কেবল ক্লাসরুম-কেন্দ্রিক হবে না। প্রচিলিত চক-ডাস্টার পদ্ধতির সাথে ক্লাসরুম ব্যবস্থা ডিজিটাল করতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য মানবসম্পদ তৈরি করতে পারব না। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে আইটিইউয়ের সদস্যপদ অর্জন এবং ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের বীজবপন করে গেছেন। তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিগত ১৬ বছরে ডিজিটাল দুনিয়ায় মহীরুহে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিকনির্দেশনায় মহাকাশে আজ বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। বাংলাদেশ ২০২১ সালে ফাইভ-জি যুগে প্রবেশ করবে। তিন হাজার ৮০০ ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া হয়েছে, ৭৭৭টি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়েছে। দেশের হাওর, দুর্গম দ্বীপ ও চরাঞ্চলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে ডিজিটাল শিক্ষাপদ্ধতি প্রবর্তন এবং পেশাদারদের মাধ্যমে তৈরি মানসম্মত ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠ প্রদান সময়ের চাহিদা বলে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ডিজিটাল শিক্ষা কনটেন্ট তৈরি এবং কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদান অপরিহার্য। শিক্ষাবিস্তারের স্বার্থে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা সহজলভ্য করতে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন কম্পিউটারে বাংলা সফটওয়্যারের জনক মোস্তাফা জব্বার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ের টিউশন ফি প্রদানের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একেবারে টিউশন ফি না দিলে প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষকদের বেতন দিতে পারবে না। তাই দুই পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিয়ে মানবিক হতে হবে।

চাপ সৃষ্টিসহ দেয়া হচ্ছে অর্থের প্রলোভন

ইবি প্রশাসনের অনিয়ম দুর্নীতির নিউজ ধামাচাপা দিতে মিডিয়া কর্মিদের ম্যানেজ করতে মাঠে নেমেছেন মাখন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সাবেক প্রক্টরসহ অন্যদের নানা অপকর্ম ধামাচাপা দিতে ও সংবাদ কর্মিদের ম্যানেজ করতে মাঠে নেমেছেন আসাদুজ্জামান মাখন নামের এক কর্মকর্তা। তিনি বিভিন্ন সংবাদকর্মিদের কাছে ধরনা দিয়ে অর্থের লোভ দেখিয়ে কোন সংবাদ না করতে চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিউজ না করলে মোটা অঙ্কের অর্থ দেয়ার অফারও দিচ্ছেন। ক্যাম্পাসের বেশির ভাগ সংবাদ কর্মি ভয়ে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে ভয় পাচ্ছে এ সিন্ডিকেটের কারনে। তাদেরকে ভয়ভীতিসহ নানা লোভনীয় অফার দেয়া হচ্ছে।

অনেকটা গায়ে মানে না আপনি মোড়লের মত অবস্থা। এ প্রবাদ বাক্যটি যথার্থ প্রয়োগ হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার উপর। তার নাম মোঃ আসাদুজ্জামান (মাখন)। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১০ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি অর্থ ও হিসাব বিভাগে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত। তিনি এখন প্রায় জায়গায় ভিসির পিএস পরিচয় দিয়ে কথা বলেন। সবখানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আছে নানা অভিযোগ। মেগা প্রকল্প থেকে কমিশন আদায়, ডে-লেবারে নিজের কাছের কয়েকজন লোককে নিয়োগ দিয়ে তাদের স্থায়ী করনের চেষ্টা করারমত অভিযোগ উঠেছে।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিটি কাজে অযাচিত তদারকি করে থাকেন। মাখন বোঝাতে চান যে, তিনি ভিসির অত্যন্ত আস্তাভাজন এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। করোনার ভয়াবহতায় ৬ আগস্ট পর্যন্ত অফিসসমূহ বন্ধ থাকায় ভিসির পিএসসহ ভিসি অফিসের অধিকাংশ কর্মকর্তা, কর্মচারী অফিসে না আসলেও মাখন প্রতিদিন নিয়মিত ভিসি অফিসে উপস্থিত থাকেন। এছাড়া তিনি ভিসির নিকট বিভিন্ন ফাইলের তদবির করে থাকেন বলেও শোনা যায়। আর তার সাথে মানিক জোড় বেঁধেছেন পরিবহন অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মওদুদ আহমেদ পরাগ। পরাগ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। তাদের পরিবার আজও বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়। পরাগ নিজেকে ভিসির আস্তাভাজন বলে ক্যাম্পাসে পরিচয় দিয়ে থাকেন। আর এ সুযোগে তিনি দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছেন। বেশ কিছুদিন আগে পরিবহন অফিসের গাড়ীর টায়ার ক্রয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ক্রয় কমিটির সদস্য থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এদিকে মাখন ও পরাগ মানিক জোড়  বেঁধে বর্তমানে বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছেন। তারা অবৈধ অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে এস্টেট অফিসের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব লোক বলে পরিচয় দিয়ে কয়েকজনকে ডে-লেবার হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এছাড়া ভিসি, সাবেক প্রক্টরসহ তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে যখন নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে তখন মিডিয়া কর্মিদের ম্যানেজের নামে অর্থ নিয়ে মাঠে নেমেছেন মাখন। সাবেক প্রক্টর মাহবুবর রহমান তাকে মাঠে নামিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। জেলার বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মিকে মোটা অঙ্গের অর্থ দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা করেন মাখন। এছাড়া ইবি ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটির সাধারন সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাবেক প্রক্টরও বিভিন্ন সংবাদ কর্মিদের চাপ সৃস্টি করছেন নিউজ না করার জন্য। এ জন্য মোটা অঙ্কের আর্থিক প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মিডিয়া হাউজে নিউজ বন্ধের জন্য তদ্ববিরে নেমেছেন সাবেক প্রক্টর ও ভিসি।

শিক্ষক ও কর্মকতাদের অভিযোগ, ভিসি ও সাবেক প্রক্টরসহ অন্যরা যদি অপকর্ম নাই করবে তাহলে মিডিয়া কর্মিদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে কেন? এতে প্রতীয়মান হয়ে তারা ৪ বছরে ভরিভরি অপকর্ম করেছেন। এখন মিডিয়া কর্মিরা যখন সত্য সামনে আনছেন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অর্থ দিয়ে তাদের কেনার চেষ্টা হচ্ছে। এটা মিডিয়ার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার একজন মিডিয়া কর্মি বলেন,‘ মাখন আমাকে ইবির বিষয়ে নিউজ না করার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি ও অনুরোধ জানান। নিউজ না করলে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখান। এছাড়া ইবি ছাত্রলীগের রাকিব ও একজন বিতর্কিত শিক্ষকও কয়েকজন সাংবাদ কর্মিকে নিউজ না করার জন্য বলেন। এ জন্য অর্থ দেয়ার কথা বলা হয় তাদের।’ এদিকে মাখনের বাড়ি শৈলকুপা উপজেলা মথুরাপুর গ্রামে। তার স্ত্রী লাবনী শারমিন কুষ্টিয়া চৌড়হাস সরকারী শিশু পরিবার (বালিকা) ম্যাট্রন কাম নার্স পদে চাকুরী করার সুবাধে মাখন স্বপরিবারে সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তিনি স্বপরিবারে মহিলা এতিমখানা চত্বরে বসবাস করতে পারেন কি না তা নিয়ে নানা মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আর এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকসহ এতিমখানা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বিএনপির মুখে দুর্নীতির কথা হাস্যকর – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির মুখে দুর্নীতির কথা বলা হাস্যকর। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত তার সরকারি বাসভবন থেকে গতকাল সোমবার দেয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল। লুটপাটের জন্য নির্বাচনে জনগণের কাছে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। দুর্নীতি আর বিএনপি সমার্থক বলেই মানুষ মনে করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং তার ব্যক্তিগত সততা দেশে-বিদেশে সমাদৃত, প্রশংসিত। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ যেই হোক, দলীয় পরিচয়ের হলেও তাকেও ছাড় দেয়া হচ্ছে না- এটা হলো বাস্তবতা। এই করোনা সংকটে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করে বিএনপি তাদের চিরাচরিত নালিশের রাজনীতি আঁকড়ে ধরেছে এবং এই করোনাকালে আজগুবি সব তথ্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছে অবিরাম। এই বিএনপির কথা শুনে মনে হয় পূর্ণিমার রাতেও তারা অমাবস্যার অন্ধকার দেখতে পায়। এসময় বিএনপিকে বিভাজন ও বৈরিতার রাজনীতি পরিহার করে মানুষ বাঁচানো ও করোনা প্রতিরোধের লড়াইয়ে সহযোগিতার জন্য আবারও আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, বৈশ্বিক করোনা সংকটের শুরু থেকে সরকার সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এখন প্রায় ৭৩টি কেন্দ্রে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে, দিন দিন সক্ষমতা বাড়ছে। কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যন্ত পরীক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে কোভিড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও প্রস্তুতি রয়েছে। সরকার যদি অদক্ষ, অযোগ্য হতো তবে এ সময়ে কি এই ধরনের প্রস্তুতি নিতে পারত? তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৬৫২ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। সুস্থতার হার শতকরা ৪৪ দশমিক ৭২ ভাগ এবং মৃত্যুর হার শতকরা ১ দশমিক ২৬। মৃত্যুর হার যেকোনো দেশের তুলনায় কম। ইউরোপ-আমেরিকা এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও এখানে অনেক কম। যদিও সরকার একটিও মৃত্যু প্রত্যাশা করে না। কিন্তু বিএনপি শুধু মৃত্যুর সংখ্যা দেখে। অথচ এতসংখ্যক লোক সুস্থ হচ্ছে সেটা তাদের চোখে পড়ছে না। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি যে নেতিবাচক এটাই তার প্রমাণ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইতোমধ্যে ২ হাজার ডাক্তার, ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৫ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্র দিন দিন বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও এখন পরীক্ষা করানো হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশই নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। বহু দেশ নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাদের স্বাস্থ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার সীমাবদ্ধতা নিয়েও করোনা সংকট মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, দিন দিন শেখ হাসিনার সরকার সুরক্ষা সামগ্রী বাড়াচ্ছে। ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, ডাক্তার সংখ্যা বাড়িছে। সরকারের সমন্বিত দক্ষতার কারণেই এসব করা সম্ভব হচ্ছে। অথচ বিএনপির কার্যক্রম শুধু বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

 

জেলায় কোভিড রোগীর সংখ্যা ৭৮৯ ॥ মৃত্যু ঘটেছে ১৪ জনের

কুষ্টিয়ায় পুলিশ, ব্যাংকারসহ একদিনে সর্বোচ্চ ৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় পুলিশ, ব্যাংকারসহ একদিনে সর্বোচ্চ ৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৯ জন  কোভিড রোগী সনাক্ত হলো। গতকাল কুষ্টিয়া শহরের কাস্টম মোড়ের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়স্ক একজন পুরুষ রোগী মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ১৪ জন। গতকাল ৬ জুলাই সোমবার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস থেকে কোভিড ১৯ আপডেটে জানানো হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৬ জুলাই  ৩২৯ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ১৪০টি নমুনা ছিল।

কুষ্টিয়ায় সোমবার  নতুন করে ৪৪ জনকে আক্রান্ত বলে সনাক্ত করা হয়েছে । এছাড়া কুমারখালীর  ১টি  ও সদরের ১ টি নমুনার রিপোর্ট ফলোয়াপ পজেটিভ। এদিকে রবিবার সনাক্ত হওয়া সদরের একজন  রোগী ফলোআপ পজেটিভ হয়। নতুন আক্রান্তের মধ্যে দৌলতপুরে ৭ জন , সদরে ২৯ জন, কুমারখালীতে ৫ জন ও মিরপুরে ৩ জন ।

সদর উপজেলায় আক্রান্ত ২৯ জনের ঠিকানা হরিপুরে ২ জন, রাজু আহমেদ সড়ক ১ জন, পূর্ব মজমপুর ১ জন, কালিশংকরপুর ৩ জন, উজানগ্রাম ১জন, কমলাপুর ১ জন, বেলঘড়িয়া ১ জন, লুতফুর মঞ্জিল  রোড ১ জন, চৌড়হাস ১ জন, বাড়াদি ১ জন, কুমারগাড়া ২ জন, মিনাপাড়া ১ জন, বড় আইলচারা ১ জন, ঢাকা ঝালুপাড়া ১ জন, হাউজিং ব¬ক বি ১ জন,  আড়ুয়াপাড়া ১ জন, এনএস রোড ১ জন, গোসালা রোড ৩ জন, কোর্টপাড়া ২ জন ও সকাল সন্ধ্যা গলি ৩ জন। দৌলতপুর উপজেলায় আক্রান্ত ৭ জনের ঠিকানা আল¬ারদরগা ১ জন, মহিষকুন্ডি ১ জন, পুলিশ ক্যাম্প খলিশাকুন্ডি ৫ জন। কুমারখালী উপজেলায় আক্রান্ত ৫ জনের ঠিকানা অগ্রণী ব্যাংক ১ জন, কুশলিবাস ১ জন, শিলাইদহ ১ জন, বাঁশগ্রাম ১ জন, হাউজিং ব¬ক ডি ১ জন (অবস্থান কুমারখালী)। মিরপুর উপজেলায় আক্রান্ত ৩ জনের ঠিকানা কল্যাণপুর ১ জন, নওয়াপাড়া ২ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ৩৪ জন, মহিলা ১০ জন। কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৭৮৯ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হল (বহিরাগত বাদে)। উপজেলা ভিত্তিক রোগী সনাক্তের মধ্যে দৌলতপুর ১০৫, ভেড়ামারা ৮৭, মিরপুর ৪৭, সদর ৪২৩, কুমারখালী ১০০ ও খোকসা ২৭ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ৫৭৯ ও নারী ২১০ জন। সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন মোট ৩৬৯ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ৩৬৭ জন (দৌলতপুর ৫৫, ভেড়ামারা ৫৮, মিরপুর ২৬, সদর ১৬৮, কুমারখালী ৪৪, খোকসা ১৬) বহিরাগত সুস্থ ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩৭২ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৪ জন। মৃত ১৪ জন (কুমারখালী-৩,  দৌলতপুর-১, ভেড়ামারা-১, কুষ্টিয়া সদর-৯ )। গতকাল কুষ্টিয়া সদরের কাস্টম মোড়ের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়স্ক একজন পুরুষ রোগী মৃত্যুবরণ করেন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন ও মহিলা ১ জন।

সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ করে সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আতংকিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন। ঘরে থাকুন, বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হবেন না। বার বার সাবান দিয়ে হাত ধৌত করুন। যত্রতত্র কফ, থুতু ফেলবেন না। হাঁচি, কাশি দেয়ার সময় টিস্যু পেপার, রুমাল, বাহুর ভাঁজ ব্যবহার করুন ও ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। একে অপরের থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন ও মাস্ক ব্যবহার করুন।

 

ভ্রাম্যমান আদালতে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

কুষ্টিয়ায় বিপুল পরিমান নকল ও অনুমোদনবিহীন হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ও স্যাভলন জব্দ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বিপুল পরিমান নকল ও অনুমোদনবিহীন হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ও স্যাভলন জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে নকল হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও নকল স্যাভলন সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।  গতকাল ৬ জুলাই সোমবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের  চৌড়হাস মোড়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সবুজ হাসানের নেতৃত্বে এ  মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়৷ এ সময় ওষুধ ফার্মেসির মালিক ও একজন হ্যান্ড-স্যানিটাইজার পরিবেশককে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের শাস্তি প্রদান করা হয়৷ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সবুজ হাসান জানান,  ওষুধ আইন ১৯৪০ এর ১৮(ক) ধারা লঙ্ঘন করায় একই আইনের ২৭ ধারায় বর্ণিত শাস্তির আওতায় একটি ওষুধ ফার্মেসির মালিক ও একজন হ্যান্ড-স্যানিটাইজার পরিবেশককে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের শাস্তি প্রদান করা হয়েছে৷ অভিযান পরিচালনাকালে উক্ত ওষুধ ফার্মেসি ও পরিবেশকের নিকট থেকে বিপুল পরিমান নকল ও অনুমোদনবিহীন হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ও স্যাভলন জব্দ করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে কুষ্টিয়া  জেলা পুলিশ ও প্রসিকিউটর হিসেবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন সহায়তা প্রদান করেন।