সারাদেশে অক্সিজেন সহায়তা এবং করোনা টেস্ট বাড়াতে হবে – জিএম কাদের

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বাঁচাতে অক্সিজেন সহায়তা এবং সংক্রমণ রোধে টেস্ট বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি। তিনি বলেন, ‘করোনা রোগীদের মৃত্যু হয় শ্বাসকষ্টে। তাই শ্বাসকষ্ট হলে প্রথমে স্বাভাবিক অক্সিজেন, আন্ডার প্রেসার অক্সিজেন এবং প্রয়োজন হলে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে লাইফ সাপোর্ট দিতে হয়। ঢাকার কিছু হাসপাতাল ছাড়া দেশের বেশির ভাগ জায়গায় এই সহায়তা নেই। তাই যত দ্রুত সম্ভব সরকারকে সারাদেশে অক্সিজেন সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অক্সিজেন ও ভ্যান্টিলেশন-এর সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশে করোনায় মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে যাবে।’ গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। জিএম কাদের বলেন, ‘সংক্রমণ কমাতে হলে শনাক্ত করার বিষয়ে আরও জোর দিতে হবে। প্রতিটি জেলা পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাতে করে মানুষ নিজেদের প্রচেষ্টায় আইসোলেশনে যেতে পারবে। এতে সংক্রমণ কমে আসবে।’ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন জাপার আগামী ১৪ জুলাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী। তিনি জানান, ১৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিমানযোগে রংপুরে যাবেন। সেখানে সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুরে পল্লীবন্ধুর সমাধিস্থলে পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে যোগ দেবেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান। বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় পার্টি বনানী অফিসে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেবেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান। ওই দিন সকাল থেকে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়-কাকরাইলে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। সকালে সারাদেশে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেনÑজাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী ও দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ।

সরকার সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ করতে পারে না – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এতোই নতজানু যে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ করতে পারে না।’ গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রীরা ঘরে বসে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে দেশ চালাচ্ছেন। বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছেন। করোনায় সয়লাব জনগণ কী মরণদশায় ভুগছে এগুলো উপলব্ধি করার ক্ষমতা তাদের নেই। যদি থাকতো তাহলে করোনা পরীক্ষার ওপর ২০০ টাকা ফি ধার্য করতো না। এ মহামারির মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ¦ালানি তেলের দাম বাড়াতো না। বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের দাপটে সাধারণ মানুষের দম বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতো না। পাটকল বন্ধ ও পাটশ্রমিকদের ছাঁটাই করতো না।’ ‘বিএনপি নেতারা আইসোলেশন থেকে শুধু সংবাদ সম্মেলন করে’ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই-আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা কে মাঠে আছেন, কে জনগণের পাশে আছেন? আমরা তো দেখছি-আপনাদের এমপি মানবপাচারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে গ্রেফতার হচ্ছেন। অবশ্য জনগণ দেখছে-আপনাদের জনপ্রতিনিধিদের খাটের নিচ থেকে, মাটির নিচ থেকে, গ্যারেজের ভেতর থেকে শুধু চালের বস্তা, তেলের বস্তা বের হচ্ছে। এগুলো জনগণের টাকায় সরকারি ত্রাণ। আর আপনাদের দেখছি-সেলফ লকডাউনে থেকে বিরোধীদল ও মতের মানুষদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে। আপনাদের মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীরা এ দুঃসময়ে বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে কোটি কোটি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সীমান্তে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশিদের হত্যা করছে বিএসএফ। বাংলাদেশের ভেতর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনও চালায় বিএসএফ। গত তিন মাসে তারা ২৫ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে। গত ২ জুলাইও তারা একজনকে হত্যা করেছে। ৪ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মানসিক ভারসাম্যহীন জাহাঙ্গীর আলমকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ভয়ঙ্কর অমানবিক মনুষ্যত্বহীন ঘটনা দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার টু শব্দটি পর্যন্ত করে না। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী চুপ কেন? সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই।’ ‘নতজানু সরকার কোনো প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এ একপেশে হত্যাকা-ের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশিরা। বর্তমান সরকার কতটুকু নতজানু যে এর আগে আমরা দেখেছি-বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বিএসএফ’র হত্যাকা-ের কোনো প্রতিবাদ না করে বরং তাদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদেরই অভিযুক্ত করেছে। গত তিন মাসে বিএসএফ কর্তৃক সব হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকা শহরে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া খুঁজে পাচ্ছে না। সবাই ঢাকা ছেড়ে গ্রামমুখী হচ্ছে। স্বল্পআয়ের মানুষ করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর ওপর বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জালানি তেলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের জীবন ওষ্ঠাগত। শ্রমিক ছাঁটাই আর চাকরিচ্যুতির হিড়িক পড়ে গেছে দেশব্যাপী। চাকরি হারিয়ে আত্মহত্যা করছে মানুষ। এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে পড়েছে মধ্য ও স্বল্পআয়ের মানুষ। সরকারের লোকেরা এ সংকটগুলোর নজর না দিয়ে জনদৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিরোধীদলের ওপর ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ শুরু করেছে। সেখানে শুধু মিথ্যা কথার ফুলঝুরি নয়, চলছে গুম, মিথ্যা মামলা, হামলা ও গ্রেফতারের হিড়িক।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আবারও আপনাদের জানাচ্ছি-আমার নামে কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। আমি কোনো ফেসবুক পরিচালনা করি না। কিন্তু কতিপয় অসাধু ও প্রতারক ব্যক্তি আমার নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।’

 

যশোরের চৌগাছায় গর্ভবতী মায়েদের চিকিতসায় সেনাবাহিনী

দেশে চলছে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর মহামারীর তান্ডব। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় ও মহামারী কাটিয়ে সাধারণ মানুষদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেয়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় আর অদম্য সাহস নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর প্রতিটি সেনাসদস্য। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোরে গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। গতকাল ৫ জুলাই রবিবার যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার চৌগাছা ডিগ্রী কলেজে সর্বমোট ৯ জন সামরিক ও বেসামরিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সমন্বয়ে ৪১৫ জন গর্ভবতী মায়েদের মাঝে  এ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। দিনভর এই স্বাস্থ্যসেবায় গর্ভবতী মায়েদের রক্তের পরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র প্রদান ও বিনামূল্যে ঔষুধ প্রদান করা হয়। এছাড়াও চিকিৎসাসেবা নিতে আগত মায়েদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। যশোর সেনানিবাস সূত্রে জানা যায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাননীয় সেনা প্রধান দেশের সকল জেলায় গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির নির্দেশে এই স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। তিনি আরো  জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে কোনো পরিস্থিতিতে দেশের উন্নতির জন্য সব ধরনের কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও করোনা মোকাবেলায় ত্রাণ বিতরণসহ গণপরিবহন মনিটরিং, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি মূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঘরবাড়ী মেরামত, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও ত্রাণ বিতরণসহ নানাবিধ জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

লাদাখ সীমান্তে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে মিলিটারি হেলিকপ্টার-যুদ্ধবিমান

ঢাকা অফিস ॥ সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারতের সেনা সদস্যদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছেই। দু’দেশই সমানভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে লাদাখ সীমান্তে উড়ল একের পর এক যুদ্ধবিমান। উড়ল মিলিটারি হেলিকপ্টারও।  শনিবার প্রকাশ্যে এসেছে সেই ছবি। ছবিতে দেখা যায়, একের পর এক যুদ্ধবিমান উড়ছে চীন সীমান্তের আকাশে। উড়ছে ভারতের মিগ, সুখোই মডেলের ভয়ঙ্কর যুদ্ধবিমান। অ্যাপাচি হেলিকপ্টারও উড়তে দেখা গেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক স্কোয়াড্রন লিডার জানান, দেশজুড়ে সব বিমানবাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ট্রেনিং নিয়েছে বিমানবাহিনীর সদস্যরা। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের জোশ সব সময় হাই।’ অন্যদিকে লাদাখে চীনের সঙ্গে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে সংঘর্ষের মাঝেই পাকিস্তানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমানায় নজরদারি বাড়াল ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পেট্রোলিং। পাকিস্তানকে রুখতে বদ্ধপরিকর দেশটির বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। জুনের ২০ তারিখ জম্মুর কাঠুয়া জেলায় আন্তর্জাতিক সীমানার কাছে অস্ত্রভর্তি পাকিস্তানি ড্রোনকে আটকে দেয় বিএসএফ। সেখানে আমেরিকান রাইফেল, সাতটি গ্রেনেড এবং দুটি ম্যাগাজিন রাইফেল পাওয়া যায়।

 

এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি

ঢাকা অফিস ॥ ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নয় মাস ধরে চিকিৎসা নিয়ে মাসখানেক আগে দেশে ফিরে জন্মস্থান রাজশাহীতে বোনের বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন এ কণ্ঠশিল্পী। এর মধ্যেই গতকাল রোববার ফেইসবুকে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। সাঈদ  বলেন, সাড়ে ৪টার দিকে এন্ড্রু কিশোরের ভাগনির সঙ্গে কথা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার এখন আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে। তাকে নিয়ে কোনো গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করেছে তার পরিবার। এন্ড্রু কিশোরের ভগ্নিপতি একজন ক্যানসারের চিকিৎসক। তার তত্বাবধানে বাসাতেই তার চিকিৎসা চলছে বলে জানান সাঈদ। স্ত্রী লিপিকাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তার দেখভাল করছেন। গত বছরের ৯ সেপ্টেস্বর শরীরের নানা জটিলতা নিয়ে সিঙ্গাপুর চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন তিনি। সে যাত্রায় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু ও ঘনিষ্টজন জাহাঙ্গীর সাঈদ।  শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার শরীরে ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। ছয়টি ধাপে তাকে মোট ২৪টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সেখানে কয়েক মাস আটকে থাকার পর ১১ জুন রাতে একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হয়েছে তাকে। ঢাকায় ফেরার দুইদিন পরই রাজশাহীতে চলে যান তিনি। প্রথম দফার চিকিৎসা শেষ হলেও চেকআপের জন্য তিন মাস পর পর তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে যেতে হবে। তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা সহায়তা করেছিলেন। ১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্লেব্যাকে যাত্রা শুরু করা এন্ড্রু কিশোর আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেও গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা গান উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের।

দুই বছর নিষিদ্ধ এনআরবিসির সাবেক চেয়ারম্যান ফরাছত আলী

ঢাকা অফিস ॥ অনিয়ম, দুর্নীতির ও নানা জালিয়াতির ঘটনায় জর্জরিত এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের পদত্যাগ করা সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলীকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ছিল। দীর্ঘদিন তা যাচাই-বাছাই করে তার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে দুই বছর যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদ থেকে তাকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২১ জুন থেকে আগামী দুই বছর নিষিদ্ধ থাকবেন তিনি।’ জানা গেছে, ফরাছত আলী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক এক পরিচালককে বেনামে ঋণ দেয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ওই পরিচালক এনআরবিসি ব্যাংকের পরিচালক না হয়েও পর্ষদ সভায় অংশ নিয়েছেন। ফরাছত আলী তাকে এসব কাজে সহায়তা করেছেন। এসব কারণে ফরাছত আলীকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্যদিকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের যে পরিচালককে ফরাছত আলী বেআইনি সুবিধা দিয়েছেন, তাকে গত জানুয়ারিতে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হয় ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে। অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ মাথায় নিয়ে ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। পরে পর্ষদের সব কমিটি নতুনভাবে গঠন করা হয়। এ ছাড়া ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলীকে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেয়া হয় তমাল এসএম পারভেজকে। একই বছরের ৬ ডিসেম্বর অনিয়ম ও দুর্নীতির ১০টি গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নতুন প্রজন্মের এ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেওয়ান মুজিবুর রহমানকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরেই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়।

ব্যাংক খাতে আমানত কমেছে

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষজন ব্যাংকে সঞ্চয় করা কমিয়ে দিয়েছেন। বেশিরভাগ মানুষ নগদ অর্থ হাতে রাখতে শুরু করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিল শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে মানুষের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন মতে বড় অংকের আমানত কমেছে ব্যাংক খাতে। এপ্রিল শেষে দেশের ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। জানুয়ারি শেষেও আমানতের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। অথচ প্রতি মাসে দেশের ব্যাংক খাতে আমানতের গড় প্রবৃদ্ধি হয় ১০ শতাংশ হারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে এপ্রিল শেষে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে মানে জনগণের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। আগের বছরের (২০১৯) একই সময়ে মানুষের হাতে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা বা ২৩ শতাংশের বেশি। হিসাব বলছে, সরকারের সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের পরিমাণ কমেছে ৭৫ শতাংশের মতো। সুদের হার বেশি হওয়ার কারণে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের বড় আস্থার নাম সঞ্চয়পত্র। পরিবার, পেনশনারসহ দশটিরও বেশি স্কিমে আমানত রাখা যায় সঞ্চয়পত্রে। হিসাব বলছে, চলতি বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ হয়েছে ২ হাজার ২শ’ ৪০ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৯শ’ ৯২ কোটি টাকা, মার্চে ১ হাজার ৫শ’ ৩৬ কোটি টাকা, এপ্রিলে ৬২১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। আগের বছরের (২০১৮-১৯) একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমেছে ৭৫ শতাংশের মতো। এ বিষয়ে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামছুন্নাহার বেগম বলেন, সঞ্চয়পত্রের সব ধরনের স্কিম মিলে এখন একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ চাইলেও ৫০ লাখ টাকার বেশি কিনতে পারবেন না। টিআইএন সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব কারণে বিক্রি কমেছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সার্বিকভাবে সঞ্চয় কমে গেছে। আয় কমা এবং বেকারত্ব বাড়ার ফলে ব্যক্তিগত সঞ্চয় কমেছে। অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো না চলায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও সঞ্চয় কমেছে। সঞ্চয় কমার আরও একটি কারণ হলো নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অনিয়শ্চতা। চলমান করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে শুধু সরকারের সঞ্চয়পত্রে নয়, এই সময় ব্যাংকে টান পড়েছে আমানতেরও। এপ্রিল শেষে দেশের ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। জানুয়ারি শেষেও আমানতের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। অথচ প্রতিমাসে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতের গড় প্রবৃদ্ধি হয় ১০ শতাংশ হারে। বেসরকারি ব্যাংক এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অনেক মানুষের চাকরি চলে গেছে অথবা বেতন কমে গেছে। আর তা না হলে বেতন পেতে একটু দেরি হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মানুষের সঞ্চয়ের ওপরেই চাপটা পড়েছে। আমরা ডিপোজিট কমে যাওয়ার আভাস পাচ্ছি। প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাহেল আহমেদ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের মধ্যে সরকারি আমানত আগের চেয়ে কিছুটা কমে গেছে। সার্বিকভাবে আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তি আমানতকারীরা ব্যাংকের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই টাকা জমা রাখছেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, তিনমাসে ৬৫ হাজার কোটি টাকার আমানতের পতন আমরা দেখতে পাচ্ছি, এটা কিন্তু শুভ লক্ষণ নয়। এটা সবাইকে চিন্তা করতে হবেÑব্যাংকিং খাতের আমানত কমে গেলে অর্থনীতি ভালো থাকতে পারে না। ব্যাংকিং খাতের সামর্থ্য কমে যাচ্ছে ও ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এটা অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ।

ভারতে একদিনেই করোনা আক্রান্ত প্রায় ২৫ হাজার

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়েছে ভারতে। রোববার সকালে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার সকাল আটটা থেকে শুরু করে ২৪ ঘণ্টায় ২৪ হাজার ৮৫০ জনের মধ্যে নতুন সংক্রমণ ঘটেছে। আর মোট করোনা সংক্রমণের সংখ্যা এখন ৬ লাখ ৭৩ হাজার ১৬৫ জন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনা রোগে মৃত্যু হয়েছে ৬১৩ জনের এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৯ হাজার ২৬৮টি। আর সেরে যাওয়া রোগীদের সংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ৮৩ হস। এ নিয়ে টানা নবম দিন ভারতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ১৮ হাজারের বেশি বেড়েছে প্রতিদিন।  করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউটস অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস’র (এআইআইএমএস) পরিচালক ডা. রণদীপ গুলেরিয়া বলেছেন, ভারতে কোভিড-১৯’র সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।  শনিবারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের রেকর্ড বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখ ১২ হাজার ২৩৬টি নতুন সংক্রমণের কথা জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল এবং ভারতেই। ভারতের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্য মহারাষ্ট্রে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ হাজার ৭৪ নতুন সংক্রমণের ফলে দুই লাখ ছাড়িয়েছে। এরাজ্যেই ভারতের সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ সংক্রমণ হয়েছে, তারপরেই রয়েছে তামিলনাড়ু, দিল্লি এবং গুজরাট।  এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে শনিবার একদিনে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। একদিনে প্রাণঘাতী করোনায় ১৯ জন মারা গেছেন এবং আরও ৭৪৩ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ। রাজ্যটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭৩৬ জন, সংক্রমণের সংখ্যা ২১ হাজার ২৩১। উত্তর-পূর্ব ভারতেও কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শনিবারে আসামে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক সংক্রমণ ঘটেছে। ১ হাজার ২০২টি নতুন সংক্রমণের ফলে আসামে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। এদিন রিপোর্ট হওয়া নতুন সংক্রমণের ৭৭৭টিই শুধু গুয়াহাটি থেকে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম শহর গুয়াহাটিতে গত ১০ দিনে প্রায় ৩ হাজার সংক্রমণ ঘটেছে। এ মুহূর্তে সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্থ দেশ রাশিয়ার চেয়ে মাত্র ৮০০ সংক্রমণ দূরে আছে ভারত।

কুষ্টিয়া শহরতলীর রাহিনী এলাকায় ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরতলীর রাহিনী চারা বটতলা এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের পাশে ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও স্থাপনা নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিয়েছে, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ গায়ের জোরে স্থাপনা নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান ও অভিযুক্ত আলতাফুর রহমান (কুমারখালী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার) ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাহিনী মৌজার আর, এস ২৭০ খতিয়ানের আর, এস ২৪৯ নং দাগের একই দলিলে ৩.৩০ শতাংশ এবং আলতাফুর রহমানের ৩.৩৬ শতাংশ জায়গা ৯৫১৭/২০১৩ নম্বর দলিলে গোলাম কুদ্দুস নামের এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ক্রয় করেন। এই জমি বিক্রেতা আলফাতুরের আপন চাচা। আলতাফুর রহমান রাহিনী এলাকার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে। এই জমি ক্রয়ের পর থেকে আলতাফুর রহমান বিভিন্ন সময় তালবাহানা শুরু করেন পুরো জমিটি দখলে নেওয়ার জন্য। জমিটি ক্রয় করার সময় জিয়াউর ও আলতাফুর এই জমির ওপর টিনসেটের স্থাপনাসহ ক্রয় করেন। কিন্তু জমি ক্রয়ের পর থেকে আলতাফুর বিভিন্ন সময় এই জমি একক ভাবে দখলের চেষ্টা করে আসছে। ভুক্তভোগী জিয়াউর প্রথম দিকে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে বুঝতে পারায় চতুর আলতাফুর জিয়াউরকে তার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সামাজিকভাবে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় সমাধান করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে আলতাফুর এই জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করেন। স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করলে জিয়াউর ২০১৯ সালের ১লা মার্চ পৌরসভার মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারন করেন। এর আগে ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউলের ছোট ভাই হাজী মফিদুল ইসলামসহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ ও পাশের জমির মালিকদের উপস্থিত মাপজোক সম্পন্ন করলে ৯ ফুট জায়গা বেধে গেলে ঐদিন আলতাফুর রহমান এক সপ্তাহের সময় নিয়ে একটা কাগজ তোলার কথা বলে এড়িয়ে যান । তারপর আবার টালবাহনা শুরু করেন।। এরপরেও স্থাপনার কাজ চলমান রাখলে জিয়াউর রহমান তার মালিকানা জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক বরাবর তিনি তার সম্পত্তি ফিরে পেতে একটি আবেদন করেন। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর পার্থ প্রতীম শীল কুষ্টিয়া সদর এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি করেন। চিঠি পাওয়ার পর তৎকালীন কুষ্টিয়া সদর এসিল্যান্ড ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট ভুক্তভোগি জিয়াউর  ও অভিযুক্ত আলতাফুরকে ডেকে জায়গাটি পরিমাপের জন্য গেলে আলফাতুর ঐদিন অনুপস্থিত ছিলেন। তারপর ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া সদর এ্যাসিল্যান্ড অফিসে আসতে বললে সে ঐদিন আসে এবং নতুন অযুহাত তৈরী বলে এ বিষয়ে কোর্টে মামলা আছে। পরে কুষ্টিয়া সদর এ্যাসিল্যান্ড ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিরোধকৃত জায়গায় উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ করলে ঐদিনও আলফাতুর অনুপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর বিরোধপূর্ন জায়গায় কোর্টের মামলা উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। পরে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর আলতাফুরের নিকটাত্বীয়  একরামুল হকসহ কয়েকজন মজমপুর ভূমি অফিসে বসে সমাধানের চেষ্টা করলে ঐদিনও আলফাতুর অনুপস্থিত থাকে। বিষয়টি সমাধানের শুধু তাই নয় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হলেও আলতাফুর সাড়া দেয়নি। পৌরসভার আমিন নিয়ে জায়গাটি মাপ-জোকের সময়েও আলতাফুর আসেননি। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে উল্টো ভুক্তভোগি জিয়াউরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। বর্তমানে ওই জায়গার মালিকানা বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া সত্বেও আলতাফুর ওই জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলতাফুরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগি জিয়াউর রহমান জানান, আমি ঢাকায় থাকার কারনে আলতাফুরকে সরল মনে বিশ^াস করে তার মাধ্যমে ওই জায়গা ক্রয় করেছিলাম। আমি বুঝতে পারিনি সে আমাকে এভাবে ঠকাবে। সে কোন আইন, শালিস, বিচার মানেনা। আমি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে বার বার বললেও সে কোন কর্ণপাত করছে না। শুধু তাই নয় আমাকে অহেতুক হয়রানী করার জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করেন এবং আদালত মামলা কোটে উঠার দিনই সকল কিছু বিবেচনা করে মামলাটি খারিজ করে দেন। শুধু তাই নয় ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল আমার জায়গা থেকে মাটি তুলে জায়গাটি গর্ত করে ফেলেন। আমি ঢাকায় থাকায় আমি সদর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করলে আমার ছোট ভাই থানায় মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। করোনা ভাইরাসের কারনে সবকিছু যখন বন্ধ তখন লোকচক্ষুর অন্তরালে আলফাতুর আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে নির্মান কাজ করছে, প্রতিবাদ করায় হুমকী ধামকী অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও চলতি বছরের ১ মার্চ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের কাছে সকল কাগজপত্র জমা প্রদান সাপেক্ষে সমাধানের অনুরোধও জানিয়েছিলাম। আমি সঠিক বিচার চাই।

 

মেহেরপুরে জন্মদিনে মা-বাবার কবরের পাশে যুবকের বিষপান – অবশেষে মৃত্যু

সাহাজুল সাজু  ॥ মেহেরপুরে নিজের  জন্মদিনে মা-বাবার কবরের পাশে বিষপান করেন আকাশ হোসেন নামের এক যুবক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যুবক আকাশ মেহেরপুর জেলা শহরের বেড়পাড়ার মৃত মঈন উদ্দীনের ছেলে। আকাশ দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রকৌশলী হিসাবে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গতকাল রোববার ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে আকাশ হোসেনের মা-বাবা কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছেন। একমাত্র ছোট বোনকে নিয়ে অতি কষ্টে তার সংসার চলছিল। শনিবার সাংসারিক কাজ-কর্ম নিয়ে ভাই- বোনের মধ্য ঝগড়া হয়। এ নিয়ে আকাশ অভিমান করে শনিবার সন্ধ্যায় মা-বাবার কবরের কাছে যান। এসময় সে মা-বাবার কবর পরিস্কার করেন। এক পর্যায়ে বিষপান করেন। বিষক্রিয়ায় যখন তার শরীর দূর্বল হয়ে পড়ে তখন সে দৌড়ে জনসম্মুখে এসে বিষপান করার বিষয়টি চিৎকার করে জানান এবং তার ছোট বোনকে শেষ বারের মতো দেখার অনুরোধ করেন। স্থানীয়রা তাকে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে রোববার ভোরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এদিকে আকাশের একমাত্র বোন পরিবারের সবাইকে একে একে হারিয়ে যেনো বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পরিবার-পরিজন হারিয়ে কাঁদতে-কাঁদতে তার হৃদয় এখন পাথর প্রায়। কে দেবে তাকে আশ্রয় কে দেবে শান্তনা এমনই ভাবনা এখন সবার মনে।

 

গাংনীতে পুলিশের অভিযানে ১০ মাদক কারবারী আটক

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ১০জন মাদক কারবারীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন-গাংনী উপজেলার কড়ুইগাছি গ্রামের মফের উদ্দীনের ছেলে জনিরুদ্দীন (২৪), কাথুলী গ্রামের নওশাদ আলীর ছেলে আবুল বাসার (২০), কাজীপুর গ্রামের শফিরুলের ছেলে মোহন আলী (২১), আব্দুল হকের ছেলে সোনারুল ইসলাম (১৯), মৃত সামাদ আলীর ছেলে নয়ন আলী (২১), আজিমুদ্দীনের ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৪), একই গ্রামের পোষ্ট অফিসপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে মিলন হোসেন (২৫), বর্ডারপাড়ার মিরাজুল ইসলামের ছেলে আরজ আলী (২৩), বৈরাগী পাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৩) ও  কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে আল- হাসান (৩৫)। গত শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত গাংনী থানা ও পীরতলা পুলিশের কয়েকটি দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০জনকে আটক করে। এসময় কিছু পরিমাণ গাঁজা ও গাঁজা কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর রহমান জানান মেহেরপুর পুলিশ সুপার মুরাদ আলী মহোদয়ের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে ১০জন মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের নামে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা শেষে রোববার দুপুরে মেহেরপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) শওকত আলী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত

ঢাকা অফিস ॥ মুক্তিযুদ্ধের এক নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) শওকত আলী (৬৮) বীর প্রতীককে নগরীর গরিব উল্লাহ শাহ মাজারে জানাজা শেষে সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বাদ জোহর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। শওকত আলীর ছেলে মো. ইমরান মোরশেদ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে শনিবার বিকাল পাঁচটা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়। মো. ইমরান মোরশেদ আলীবলেন, বাবা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিসহ নানান রোগে ভুগছিলেন। গত ১০ দিন আগে তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তিনি মারা যান। গতকাল বাদ জহুর নগরীর গরিব উল্লাহ শাহ মাজারে জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। তাঁর বাবার নাম এম আশরাফ আলী, মা শিরীন আরা বেগম, স্ত্রী নাসিমা বেগম। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। পৈতৃক বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামে। তাঁর বাবা রেলওয়ের চিফ ট্রাফিক ব্যবস্থাপক ছিলেন।   ১৯৬৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করে শওকত আলী ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। ১৯৭০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মার্চের মাঝামাঝি চট্টগ্রাম ফিরে এসে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একাংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করেন। ১১ এপ্রিল কালুরঘাটে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁদের আক্রমণ করে। এ সময় সেতুর পশ্চিম প্রান্তে বাম দিকে তিনি ও আরও কয়েকজন গণযোদ্ধা প্রতিরক্ষা অবস্থানে ছিলেন। এরপর ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে তাঁরা অবস্থান নেন রাঙামাটির নানিয়ারচর থানার বুড়িরহাটে। ১৮ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটালিয়ন তাঁদের অবস্থানে আক্রমণ করে। সেখানেও তাঁরা দীর্ঘক্ষণ যুদ্ধ করেন। বুড়িরহাট থেকে সরে গিয়ে তাঁরা অবস্থান নেন খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে। ২৭ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল স্থানীয় মিজোদের সঙ্গে নিয়ে তাঁদের ওপর আক্রমণ করে। সেখানেও অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে যান। শওকত আলী এরপর ভারতে যান। পরে যোগ দেন প্রথম বাংলাদেশ ওয়ারকোর্সে। প্রশিক্ষণ শেষে ১ নম্বর সেক্টরের মনুঘাট সাবসেক্টরে মুক্তিবাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে যোগ দেন। ফটিকছড়িতে যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক অফিসারসহ বিপুলসংখ্যক সেনা তাঁদের হাতে নিহত হয়। পরে হেঁয়াকো-নাজিরহাটে তাঁরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে কিছু এলাকা মুক্ত করে সেখানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য শওকত আলীকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘উগ্র বামদের’ হারানোর প্রতিশ্র“তি ট্রাম্পের

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘উগ্র বামদের’ পরাজিত করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। শনিবারের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্মারক ও ভাস্কর্যর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে তিনি একে যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কোনো প্রমাণ বা তথ্য-উপাত্ত না দিয়ে রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৯৯ শতাংশের রোগই ‘মামুলি’। মহামারী মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ‘অদক্ষতায়’ বিরোধিদের চরম সমালোচনার মুখে পড়া ট্রাম্প তার ৪ জুলাইয়ের (স্বাধীনতা দিবস) ভাষণে নতুন করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য চীনকে ‘অবশ্যই জবাবদিহি’ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প যেখানে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছেন তার কয়েক গজ দূরে সড়ক আটকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা। হোয়াইট হাউসের সামনের ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার প্লাজা ও পাশের লিংকন মেমোরিয়ালের আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তারা। এসব স্থানে ট্রাম্প সমর্থকরা ‘যুক্তরাষ্ট্র’, ‘যুক্তরাষ্ট্র’ স্লোগানে পাল্টা বিক্ষোভ দেখালেও দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। মে’র শেষ সপ্তাহে মিনিয়াপোলিসে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পুলিশি নির্যাতন ও বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে দেশটির লাখ লাখ নাগরিক অংশ নিচ্ছেন।কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে দাস নির্যাতনের ইতিহাস বহন করা বিভিন্ন ভাস্কর্য ও প্রতীক উপড়ে ফেলেছে। এমনকী হোয়াইট হাউসের কাছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের ঘোড়ায় চড়া মূর্তিটিও ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিল তারা। “সবসময় এমন কিছু মানুষ ছিল যারা ক্ষমতা অর্জনের জন্য অতীত সম্বন্ধে মিথ্যা বলে এসেছে। তারা আমাদের ইতিহাস নিয়ে মিথ্যা বলছে, তারা চাইছে আমরা আজ যা, তার জন্য যেন লজ্জিত হই। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ধ্বংস,” স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বলেন ট্রাম্প। আগের রাতে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে দেয়া এক বক্তৃতায় রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট ‘ক্রুদ্ধ দুস্কৃতিকারীরা’ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। উগ্র বামপন্থা মোকাবেলায় নিজেকে ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবেও চিত্রিত করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের ভাষণের পর শনিবার রাতে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের আকাশে আতশবাজির প্রদর্শনী করে মার্কিন প্রশাসন। ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউজারের সতর্কতা উপেক্ষা করেই এ আতশবাজি প্রদর্শনী হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক দর্শক সমাগম হলে, সেখানে সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য কর্মীদের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে সতর্ক করেছিলেন বাউজার। আসছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর প্রায় চার মাস আগে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দী জো বাইডেনের চেয়ে খানিকটা পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। এ পরিস্থিতিতে তিনি  সাম্প্রতিক বিভিন্ন ভাষণ ও নির্বাচনী প্রচার সমাবেশগুলোতে উগ্র জাতীয়তবাদকে উসকে দিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন বলে মত পর্যবেক্ষকদের।

ফায়ার সার্ভিসে করোনা আক্রান্ত ২০২ জন

ঢাকা অফিস ॥ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২০২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তার মধ্যে ১৫৬ জন কর্মী সুস্থ হয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। এখনও আক্রান্ত আছেন এমন ৪৬ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফায়ার সার্ভিস জানায়, করোনা মোট আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ জন সদর দফতর সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের, ১৯ জন তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের, ৩৮ জন অধিদফতরের বিভিন্ন শাখার, ১০ জন সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের, ১২ জন হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশনের, ১০ জন ঢাকা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের, ১২ জন ডি.ই.পি.জেড ফায়ার স্টেশনের (সাভার), ৯ জন সাভার ফায়ার স্টেশনের, ১ জন লালবাগ ফায়ার স্টেশনের, ১ জন মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের, ২ জন মানিকগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের, ৩ জন ডেমরা ফায়ার স্টেশনের, ৪ জন খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের, ১ জন সোনারগাঁও ফায়ার স্টেশনের, ৭ জন মুন্সিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের, ১ জন পলাশী ফায়ার স্টেশনের, ৬ জন সিলেট ফায়ার স্টেশনের, ১ জন বড়লেখা ও ১ জন কুলাউড়া ফায়ার স্টেশনের (সিলেট), ১ জন কেরানীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের, ২ জন গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের, ১ জন টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের, ১ জন বাজিতপুর ফায়ার স্টেশনের (কিশোরগঞ্জ), ১ জন নড়াইল ফায়ার স্টেশনের, ১ জন বেনাপোল ফায়ার স্টেশনের, ১ জন মাগুরা ফায়ার স্টেশনের, ১ জন হরিনাকুন্ড ফায়ার স্টেশনের (ঝিনাইদা), ৫ জন ফুলপুর ফায়ার স্টেশনের, ১ জন টাঙ্গাইল ফায়ার স্টেশনের, ১ জন সালতা ফায়ার স্টেশনের (ফরিদপুর), ৪ জন রংপুর কন্ট্রোল রুমের, ১ জন ধনুট ফায়ার স্টেশনের (বগুড়া), ১ জন সৈয়দপুর ফায়ার স্টেশনের (নীলফামারী), ১ জন পটিয়া ফায়ার স্টেশনের, ১ জন লক্ষ্মীপুর ফায়ার স্টেশনের, ১ জন মাটিরাঙ্গা ফায়ার স্টেশনের, ২ জন কুষ্টিয়া ফায়ার স্টেশনের, ৩ জন বারিধারা ফায়ার স্টেশনের, ২ জন পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশনের এবং ৭ জন চট্টগ্রাম ফায়ার স্টেশনের কর্মী। আক্রান্তদের পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ফায়ার সার্ভিস সেন্টার ও রূপগঞ্জের ইউসুফগঞ্জ স্কুল (নারায়ণগঞ্জ)-সহ বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। এখনো যারা করোনা আক্রান্ত আছেন তাদের সকলেই ভালো আছেন। এদের মধ্যে ১৫৬ জনের পর পর দুইবার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়ায় তাদের সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে। আক্রান্ত অন্যান্যের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখা হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলে বা অবনতি হলে প্রয়োজনে তাদের আইসোলেশনে রাখা হবে বা হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ভুতুড়ে বিদ্যুত বিলের দায়ে ২৯০ জনকে চিহ্নিত

ঢাকা অফিস ॥ ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের দায়ে ২৯০ জনকে চিহ্নিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল রোববার দুপুরে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ এ তথ্য জানান। জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে মাসুল ছাড়া বিল দেওয়ায় ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। তবে সেটি শুধুই আবাসিকের ক্ষেত্রে দেওয়া হতে পারে বলে সচিব জানান। বিদ্যুৎ বিভাগের টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন নিয়ে গতকাল রোববার  আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সব মিলিয়ে ৬২ হাজার ৯৬ বিলে অসঙ্গতি পেয়েছে তারা। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) দুই কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৩৪ হাজার ৬১১ জনের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ জন গ্রাহকের মধ্যে ১৫ হাজার ২৬৬ জন, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির  (ডেসকো) ১০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৫ হাজার ৬৫৭ জন, নর্দান ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির  (নেসকো) ১৫ লাখ ৪৮ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ২ হাজার ৫২৪ জন, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এর ১২ লাখ ১৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৫৫৬ জন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ৫৮২ জন অতিরিক্ত বিলের শিকার হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের জন্য গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আমরা সব সময়ই গ্রাহকবান্ধব। আমরা যে আস্থা হারিয়েছি আশা করছি তা শিগগিরই পুনরুদ্ধার করতে পারবো। ভবিষ্যতে বিতরণ কোম্পানিগুলো এ ধরনের সংকট সমাধানে শতভাগ মিটার রিডিং নিয়ে বিল করবে।’ সচিব বলেন, ‘করোনার মধ্যে আমাদের মিটার রিডাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং করতে পারেনি। এজন্য এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। করোনার মধ্যে ৬০১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এরমধ্যে ১২ জন বিদ্যুৎকর্মী মারা গেছেন।’ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে জানানো হয়, আরইবি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে, তারা খুঁজে বের করছে কারা এজন্য দায়ী। চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করার কাজ চলছে। আরইবি তাদের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ডিপিডিসি অতিরিক্ত বিলের অভিযোগে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চার জনকে সাময়িক বরখাস্ত, ৩৬টি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৩ জন মিটার রিডার এবং ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটরসহ মোট ১৪ জনকে চুক্তিভিত্তিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নেসকো ২ জন মিটার রিডারকে বরখাস্ত করেছে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করেছে। ওজোপাডিকো ২২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।  সচিব বলেন, যাদেরই অতিরিক্ত বিল এসেছে তার সবগুলো সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এক দিনের নয়। কাজেই কোনও গ্রাহক যদি এখনও মনে করে তার বিল বেশি এসেছে, তার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা তার বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ব্যবস্থা নেবো। যাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাদের সবার বিষয়ে তদন্ত হবে। কোনও গাফিলতি পাওয়া গেলে চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ভুল যাতে না হয় সেজন্য শতভাগ মিটার দেখে বিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে ৪ হাজার ৩৩০টি বিলের অভিযোগ এসেছিল। কিন্তু আমরা নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখেছি ১৫ হাজার গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। তাদের সবার বিল সমন্বয় করা হয়েছে। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

করোনা মোকাবিলা করেই উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে হবে – স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বাধা অতিক্রম করে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা অনুসরণ করে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গতকাল রোববার মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে পরিবেশ সুরক্ষায় ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩ এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের থেমে থাকলে হবে না, বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশে কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছে, তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকা- চালু রাখা প্রয়োজন।’ রাজধানীর মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিতে ওয়াসা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে লকডাউন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পরও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এবং এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ এ সময় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, ‘বর্তমানে সায়দাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-১ এবং ২ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হচ্ছে।’ তিনি জানান, খুব শিগগিরই ফেজ-৩ এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। ফেজ-৩ এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানি। উল্লেখ্য, এই পানি শোধনাগারে প্রাথমিকভাবে ৫০০ গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ভার্চুয়াল কোর্ট বিষয়ে বিচারক-আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে – আইনমন্ত্রী 

ঢাকা অফিস ॥ ভার্চুয়াল কোর্ট সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য বিচারকদের পাশাপাশি আইনজীবীদেরকেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ  দেওয়া  করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবন মিলনায়তনে সহকারী জজদের  অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। আনিসুল হক বলেন, ‘তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর এই পৃথিবীতে ভার্চুয়াল কোর্ট প্রথা চালু হবে এটাই সাভাবিক। কিন্তু এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভার্চুয়াল কোর্ট সাভাবিক বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলিয়ে বিকল্প হিসেবে কাজ করার জন্য নয়। সংবিধান, সিআরপিসি (ফৌজদারি কার্যবিধি), সিপিসি (দেওয়ানি কার্যবিধি) এবং সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী আদালতের কাজ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হয়, সেটাই বলবৎ থাকবে। শুধু অস্বাভাবিক বা বিশেষ কোনও পরিস্থিতির জন্য ভার্চুয়াল কোর্ট প্রথা অবলম্বন করা হবে। ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি  স্থায়ী আইনে পরিণত হলেও সেটার ব্যবহার হবে বিশেষ পরিস্থিতিতে।’ আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি সেবার সঙ্গে বিচারক ও বিচার বিভাগের  কর্মকর্তাদের সমান তালে এগিয়ে নিতে চায় এবং সরকারি আইনি সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সব মানুষ তার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় সেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।’ মন্ত্রী বলেন, ‘সে কারণে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় পর বিচার কার্যক্রমকে সচল রাখার লক্ষ্যে সরকার দ্রুততম সময়ে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ তথা ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা আইন প্রণয়ন করে, যা বিচার বিভাগকে আধুনিক ও গতিশীল করার জন্য একটি যুগান্তকারী আইন।’ তিনি বলেন, ‘এই আইন দেশের বিচার বিভাগকে নতুন যুগে প্রবেশ করিয়েছে। সরকার গত ৯ মে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির পরের দিনই ভার্চুয়াল আদালত গঠন করা হয় এবং গত ১১ মে থেকে সীমিত পরিসরে বিচার কার্যক্রম চালু করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মে থেকে গত ২ জুলাই পর্যন্ত ৩৫ কার্যদিবসে সারাদেশের অধস্তন আদালতের বিচারকরা ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে মোট ৯৫ হাজার ৫২৩টি জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন এবং একই সময়ে ৪৯ হাজার ৭৬২ জন আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন। এটি সম্ভব হয়েছে  প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে। এটি সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ সহযোগিতার কারণে।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। সভাপতিত্ব করেন বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সহকারী জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে চার মাস মেয়াদি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু করা হয়। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৩ মার্চ কোর্সটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। অনলাইনের মাধ্যমে সেই কোর্স সম্পন্ন করতে গতকাল রোববার পুনরায় তা উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী।

প্রতিকূলতার মধ্যেও মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ পুরোদমে চলছে – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে দেশে উন্নয়ন কাজে কিছুটা বাধা এলেও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চলমান মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ফিরেছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘শত প্রতিকূলতার মাঝেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল রুট-৬, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে।’ তিনি গতকাল রোববার তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এদিন তিনি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার উন্নয়নমুখী সরকার। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় চলমান উন্নয়ন প্রবাহ ধরে রেখেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সচেষ্ট। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক এবং চলমান প্রক্রিয়া। গত দুই-তিন মাসে কিছু প্রকল্পের সীমিত আকারে কাজ হয়েছে। এখন সব কাজ চলছে পুরোদমে।’ মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শত প্রতিকূলতার মাঝেও থেমে থাকেনি। ইতোমধ্যে ৩১টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, দৃশ্যমান হয়েছে চার হাজার ৬৫০ মিটার।৩০ জুন পর্যন্ত মূল সেতুর শতকরা ৮৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নদীশাসন কাজ শেষ হয়েছে শতকরা ৭৩ ভাগ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ। জাইকার অর্থায়নে নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেল রুট-৬-এর কাজ এগিয়ে চলেছে বলে উল্লেখ করেন কাদের। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পে কর্মরত জনবলের কোভিড-১৯ পরীক্ষা শেষে কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় অবস্থান নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসিক স্থাপনা। ইতোমধ্যে দুটি ফিল্ড হসপিটাল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে বারো কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে রেললাইন। একসেট ট্রেন নির্মাণকাজ জাপানের কারখানায় সম্পন্ন হয়েছে। আরও চার সেট নির্মাণ করা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে জাপান থেকে জলপথে ট্রেনগুলো নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যেই স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। করোনার শুরুর দিকে কিছুটা থমকে গেলেও এখন পুরোদমে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তল দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। করোনাকালে থেমে থাকেনি নদীর খননকাজ। ইতোমধ্যে দুই দশমিক পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি টিউবের দুই দশমিক তিন কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। সম্প্রতি টানেলের অন্যান্য কাজেও পূর্ণ গতি ফিরে এসেছে। এ প্রকল্পের এখন পর্যন্ত অগ্রগতি শতকরা ৫৬ ভাগ।’ তিনি দাবি করেন, ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা টু চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ গতি ফিরে পেয়েছে। করোনার আঘাতে প্রথমদিকে কাজ সীমিত পর্যায়ে চললেও এখন গতি পেয়েছে। ইতোমধ্যেই এ প্রকল্পের ফান্ড সংকট দূর হয়েছে।’ গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের কাজ চলমান বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘তা সীমিত পরিসরে চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর-ঢাকা করিডোরের দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করা হয়েছে।’ এছাড়া ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের চার লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্পে এডিবি অর্থায়নে চূড়ান্ত সম্মতি জ্ঞাপন করেছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এডিবির নিজস্ব বাজেটে অর্থায়ন অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে নকশা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। শিগগিরই প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে।’ এদিকে ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান বলে দেশবাসীকে জানান তিনি। তিনটি প্যাকেজে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। এর মধ্যে দুটি প্যাকেজের কাজ চলছে। অপর প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি সংযোগ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজও জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে আবার শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি ২৪ শতাংশ।’

গণস্বাস্থ্যের ডট ব্লট কিট নিয়ে ওষুধ প্রশাসন পজিটিভ – ডা. মুহিব

ঢাকা অফিস ॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আলোচনা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে পজিটিভ। গতকাল রোববার দুপুরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার একথা বলেন। ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘পুনরায় এক্সটার্নাল ভেরিফিকেশন করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তারা পজিটিভ। ওনারা বলেছেন,যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, সমাধান করে দেবেন। আমরাও আশাবাদী।’ এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার ও কিট উন্নয়ন দলের কয়েকজন বিজ্ঞানী ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজিডিএ) সঙ্গে কথা বলেন। ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘ডিজিডিএ আমাদের কথা ইতিবাচকভাবে শুনেছেন। অ্যান্টিবডির বিষয়ে ইন্টারনাল ভ্যালিডেশন রিপোর্টকে আমলে এনে নিবন্ধনের অনুরোধ করেছিলাম। ডিজিডিএ বিদ্যমান সরকারি নিয়মে আবার সিআরওর মাধ্যমে ইউএস এফডিএ (ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) আমব্রেলা গাইডলাইন্স এক্সটারনাল ভ্যালিডেশন করতে বলেছেন। এজন্য আমাদের আবেদিত রি-এজেন্টের (কিট) জন্য এনওসি দেবেন। অ্যান্টিজেনের নীতিমালা আগামী বুধবার চূড়ান্ত হবে। একটা ফরম্যাট পাঠাবেন। ওটা অনুযায়ী প্রটোকল আপডেট করে জমা দিতে বলেছেন।’ এর আগে শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক  সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বরাত দিয়ে বলা হয়, ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক গতকাল রোববার জিকের (গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র) আপডেটেড অ্যান্টিবডি কিটের তথ্য-উপাত্ত জানতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ডেকেছেন।

নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি বাদশা

করোনা দুর্যোগকালীন সময়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার দিকে নজর রাখতে হবে

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা করোনা দূর্যোগকালীন সময়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শুধু ঘরে বসে থেকে সময় নষ্ট না করে লেখা-পড়ায় মনোনিবেশ করতে হবে। প্রত্যেক অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিজ সন্তান ও শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের প্রতি ভালবাসা ও দায়িত্ববোধ রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সেই দায়িত্ববোধ ও সতর্কতার সাথে করোনার মত পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন তিনি। নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিও হয়েছে, কারো পিছে দৌড়াতে হয়নি। আর এমপিও করানোর জন্য কারো পিছে দৌড়ানোরও দরকার নেই। পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে যোগ্যতার প্রমান দিন আপনার প্রতিষ্ঠান যোগ্যতার ভিত্তিতেই এমপিও হবে। এমপি বাদশা ননএমপিও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন- এই দূর্যোগকালীন সময়ে ননএমপিও শিক্ষকদের জীবনযাত্রা সহজ ও স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। একমাত্র নেতা শেখ হাসিনা তিনি যা বলেন সে কাজটিও তিনি করেন। তাই আপনাদেরও নিজ দায়িত্বে নিজ নিজ কাজটি সততা ও দক্ষতার সাথে করতে হবে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে করোনা ভাইরাসের কারনে নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুকুলে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দের অর্থের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি বাদশাহ এসব কথা বলেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা। চেক বিতরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দৌলতপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সর্দার মো. আবু সালেক। দৌলতপুর উপজেলার ৫৫১জন নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুকুলে ৬৬ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চীনের সঙ্গে ৯০০ কোটি রুপির ব্যবসা বাতিল হিরোর

ঢাকা অফিস ॥ এবার চীনা সঙ্গ ত্যাগ করেছে ভারতের বিখ্যাত সাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিরো। চীনের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কোটি রুপির আসন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। হিরো সাইকেলসের চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর পঙ্কজ মুঞ্জল নিজেই এ ঘোষণা করেছেন। শনিবার পঙ্কজ মুঞ্জল জানিয়েছেন, ‘আগামী তিন মাসে চীনের সঙ্গে আমাদের ৯০০ কোটি রুপির ব্যবসা করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা সব পরিকল্পনা বাতিল করেছি। কারণ চীনা পণ্য বয়কট করতে আমরাও অঙ্গীকারবদ্ধ।’ পঙ্কজ মুঞ্জল আরও জানিয়েছেন, চীনের বিকল্প হিসেবে জার্মানির দিকে এগোচ্ছে তারা। পাশাপাশি জার্মানিতে কারখানা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে হিরো সাইকেলের। ফলে ইউরোপের বাজারে নিজেদের মেলে ধরতে পারবেন বলে মনে করছেন সংস্থাটির ডিরেক্টর। মুঞ্জল এও জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মহামারিতে গত কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে বাইসাইকেলের চাহিদা বেড়েছে। সেই জোয়ারে হিরো সাইকেলের চাহিদাও বাড়ছে। চীনা প্রতিষ্ঠান ‘হাইঅ্যান্ড বাইসাইকেল’এর যন্ত্রাংশ আমদানি করত হিরো সাইকেলস। এ ছাড়া জানা যাচ্ছে, সংস্থাটি বাইসাইকেলের পর খুব শিগগির হিরোর মোটর সাইকেলের চীনা যন্ত্রাংশও বাতিল করতে যাচ্ছে। এক্ষেতেও আবার জাপানের দিকে ঝুঁকতে পারে হিরো। এর আগে সরকারিভাবে ভারতে টিকটক, ভিগোসহ ৫৯টি চীনা অ্যাপস বাতিল করা হয়েছিল। সম্প্রতি সরকারিভাবে বাতিল করা হয়েছে কয়েকটি বড় মাপের চীনা টেন্ডারও। তবে বেসরকারিভাবে হিরোই প্রথম এই পদক্ষেপ নিয়েছে।