মিরপুরের আসাননগরে শক্রতা করে বাগানের ৪৫০টি গাছ কর্তন; ক্ষতি প্রায় ৩ লক্ষ টাকা

শাহ আলম মন্টু ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের আসান নগর গ্রামের মাঠ পাড়ায় পূর্বশক্রতার জের ধরে মৃত আকবার আলীর ছেলে জিয়াউদ্দিন জিয়ার আড়াই বিঘা জমির ৪৫০টি কমলা, পেঁয়ারা ও মালটা ফলের গাছ রাতের অন্ধকারে কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মিরপুর উপজেলার আসান নগর গ্রামের মাঠপাড়ায়। জিয়াউদ্দীন জানান ৯ মাস আগে পেঁয়ারা ও মালটার চারা লাগায়। গতকাল শুক্রবার সকালে এক কৃষক কাজের জন্য ঐ কমলা, পেঁয়ারা ও মালটা ফল বাগানের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে আড়াই বিঘা প্ঁেয়ারা ও মালটা গাছ কাটা দেখতে পাই। এ ঘটনা জমির মালিক জিয়াকে সংবাদ দেয়।  জিয়া এসে দেখে তার তিল তিল করে  গড়া বাগানের গাছ দুর্বৃত্তরা কেটে দিয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মালিক জিয়া মালিহাদ পুলিশ ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে মালিক জিয়া বলেন গ্রামের মাঠে আড়াই বিঘা জমিতে ৬ শতটি কমলা, পেঁয়ারা ও মালটা গাছ লাগিয়েছিলাম কিন্তু দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে কেটে দিয়েছে। এ যাবৎ তার খরচ হয়েছে ১ লক্ষ টাকা কিন্তু ফলনসহ ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ১৫০ টি গাছ অক্ষত আছে বাকি সব গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়রা জানান প্রান্তিক চাষিরা এই কাজ করে থাকতে পারে তার কারণ জিয়া গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের উজ্জ্বল মাষ্টারের একই দাগে ২২ বিঘা জমি জিয়া লিজের জন্য বন্দবস্ত করেন মালটা বাগান করার জন্য। ধারণা করা হচ্ছে ২২ বিঘা জমি যারা চাষ আবাদ করতেন যারা তারা  তো এখন থেকে ঐ জমি ছেড়ে দিতে হবে। তাই সন্দেহের তীর ঐ দিকে তবে মালিক জিয়া বলেন রাতের অন্ধকারে কে বা কারা কেটেছে এই মূহুর্তে বলতে পারছিনা। মিরপুর থানার ওসি ও মালিহাদ ক্যাম্প ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন  মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ সভাপতি আকরাম হোসেন, ২ নং ওয়ার্ড সদস্য নবাব আলী, ডাঃ রাজু আহমেদ ও স্থানীয় জনসাধারণ। আকরাম হোসেন বলেন এই কাজ যেই করুক না কেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সমাধান ও বিচার করা হবে। তবে গ্রামের সবাই স্বীকার করে বলেন জিয়ার প্রায় ৩ লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে যা অপূরনীয়। ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে প্রশাসনের সুদূষ্টি কামনা করেছে এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল।

বন্যা পরিস্থিতি ও সহায়তা তদারকির দায়িত্বে ১০ কর্মকর্তা

ঢাকা অফিস ॥ দেশের ১০ জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং ও জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকির জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১০ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত ১ জুলাই আদেশ জারি করা হয়। দেশের ভেতরে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ মোহাম্মদ নাছিমকে রংপুর, অতিরিক্ত সচিব রঞ্জিৎ কুমার সেনকে লালমনিরহাট, অতিরিক্ত সচিব মো. আকরাম হোসেনকে নীলফামারী, অতিরিক্ত সচিব শামীমা হককে সুনামগঞ্জ, অতিরিক্ত সচিব আলী রেজা মজিদকে বগুড়া, অতিরিক্ত সচিব মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে সিরাজগঞ্জ, অতিরিক্ত সচিব রওশন আরা বেগমকে কুড়িগ্রাম, যুগ্মসচিব আবদুল বায়েছ মিয়াকে গাইবান্ধা, যুগ্মসচিব মোমেনা খাতুনকে জামালপুর এবং যুগ্মসচিব শিখা সরকারকে রাজবাড়ীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে অতিরিক্ত সচিব (জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র-এনডিআরসিসি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব জেএসডি’র

ঢাকা অফিস ॥ চিকিৎসা বিজ্ঞানে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ‘চিকিৎসা বিজ্ঞান টাস্কফোর্স’ (টিএইচএস) গঠনসহ তিন দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। গতকাল শুক্রবার দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশে দেশীয় গবেষকদের দ্বারা কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, টিকা ও অন্যান্য ওষুধ আবিষ্কারে চিকিৎসা বিজ্ঞানে যে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে তা এগিয়ে নেয়া আমাদের মৌলিক জাতীয় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময় এসেছে রাষ্ট্রের উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণের। এসব গবেষণা কর্মে নিয়োজিত গবেষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানাই। তারা বলেন, ইতোমধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং গ্লোব বায়োটিক লিমিটেডের এসব উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ওষুধ আবিষ্কারে অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্রও স্থাপিত হয়েছে। আরও প্রতিষ্ঠান দেশে অনুরূপ গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে বিশ্বমানের ওষুধ প্রস্তুতকারী অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিছুকিছু দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ উৎপাদনে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে লন্ডভন্ড অবস্থার মধ্যেও এসব সংবাদ খুবই আশাবাদের জন্ম দিচ্ছে। জেএসডি নেতারা বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কোনো অবদান স্বীকৃতি লাভ করলে বিশ্বব্যাপী বাঙালি জাতির মর্যাদা উচ্চতর পর্যায়ে উপনীত হবে, যা হবে যুগান্তকারী ঘটনা। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নই হবে জাতির আত্মমর্যাদার উন্নয়ন। এর কোনো বিকল্প নেই। তারা বলেন, এসব চিকিৎসা বিজ্ঞানীর গবেষণা কাজকে উৎসাহিত করতে সমর্থন জোগাতে সরকার এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জোরালো ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের গবেষণা কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সমর্থন অব্যাহত থাকলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় ধরনের অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। জেএসডির তিন দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- চিকিৎসা বিজ্ঞানী, কেমিস্ট, গবেষক,ফার্মাসিস্ট ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের নিয়ে ‘চিকিৎসা বিজ্ঞান টাস্কফোর্স’ (টিএইচএস) গঠন করা; স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক ক্ষেত্রে চিকিৎসা গবেষণার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করা; স্থায়ী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণার প্রয়োজনে চিকিৎসা বিজ্ঞান একাডেমি (এইচএসএ) প্রতিষ্ঠা করা।

বিএসএমএমইউতে চালু হচ্ছে ৩৭০ শয্যার ‘করোনা সেন্টার’

ঢাকা অফিস ॥ করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আজ শনিবার চালু হচ্ছে ৩৭০ শয্যার ‘করোনা সেন্টার’। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৩৭০ শয্যার মধ্যে ‘কেবিন ব্লকে’ শয্যার সংখ্যা ২৫০টি এবং ‘বেতার ভবনে’ শয্যার সংখ্যা ১২০টি রাখা হয়েছে। ‘কেবিন ব্লকে’ ২৫০ শয্যার মধ্যে ইমার্জেন্সি রোগীদের জন্য রয়েছে ২৪টি শয্যা এবং আইসিইউতে রাখা হয়েছে ১৫টি। কেবিন ব্লকে ‘সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া হাইফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা, নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেটর- সি-প্যাপ, অক্সিজেন কনসানট্রেটর স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রতিটি শয্যায় রয়েছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপোর্টসহ অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধাসমূহ। মূলত গুরুতর অসুস্থ রোগীরাই এখানে ভর্তি হবেন। বেতার ভবনের ১২০ শয্যায় ভর্তি হবেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মডারেট রোগাক্রান্ত রোগীরা। ইতোমধ্যে ‘কেবিন ব্লক’ ও ‘বেতার ভবনে’ করোনা সেন্টার চালুর জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়-য়ার সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডাক্তার ও নার্সসহ সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভাসমূহে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সভায় বিএসএমএমইউয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 

মেক্সিকোয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ২৪

ঢাকা অফিস ॥ মেক্সিকোর একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন। আহত আরও অন্তত সাতজন, এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যের ইরাপুয়াতো শহরে ঘটেছে এ ভয়াবহ ঘটনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, একদল বন্দুকধারী অনিবন্ধিত ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো শুরু করে। এতে কেন্দ্রের বাসিন্দাসহ আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ২৪ জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটিতে কারা এমন তা-ব চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে পুলিশের বিশ্বাস, এর পেছনে স্থানীয় মাফিয়া ও মাদক পাচারকারী চক্র জড়িত থাকতে পারে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকার একটি স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে মেক্সিকোর সবচেয়ে ক্ষমতাধর মাফিয়া গ্রুপ জেলিসকো কার্টেলের লড়াই চলছে। মাদক নিয়েও এ দু’দলের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। সেক্ষেত্রে, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটিও কোনওভাবে তাদের দ্বন্দ্বের শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা-গ্রেফতারের ঘটনায় আর্টিকেল নাইনটিন’র উদ্বেগ

ঢাকা অফিস ॥ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে মত প্রকাশের জের ধরে দেশজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যাপকহারে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আর্টিকেল নাইনটিন। গতকাল শুক্রবার সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্কুলছাত্র থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, লেখক, সাংবাদিক ও কার্টুনিস্টের গ্রেফতার চলমান কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার সংকটকেই আরও প্রকট করে তুলেছে। আর্টিকেল নাইনটিন এসব গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানায় এবং একইসঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি ও দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। আর্টিকেল নাইনটিনের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল শুরু থেকেই। নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে তৃণমূলে ত্রাণ বিতরণ পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা, অস্বচ্ছতা ও অব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো দিনে দিনে স্পষ্ট হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, সরকার এসব দুর্বলতা কাটানোর প্রতি মনোযোগী হবে। অথচ এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিন্নমত ও সমালোচনা দমনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় নবম শ্রেণির কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও তাকে গ্রেফতারের ঘটনা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত। মোবাইলে কথা বলার ওপর কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনায় ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ২০ জুন ময়মনসিংহের ভালুকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রকে গ্রেফতারের পর কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কেবল মত প্রকাশের কারণে সম্প্রতি লেখক, কার্টুনিস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক-সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ফারুখ ফয়সল বলেন, অন্যান্য আইনে দায়েরকৃত মামলার তুলনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সম্প্রতি রংপুর ও রাজশাহীতে দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে, যাদের একজন নারী, মামলা দায়েরের পর পরই কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়। অথচ হত্যাচেষ্টা ও দুর্নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামিরা চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশত্যাগ করেছেন; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিষয়ে কোনো তৎপরতা দেখায়নি। আইন প্রয়োগের এই বৈষম্যমূলক প্রবণতা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি বিরাট হুমকি হয়ে উঠেছে। স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থেই স্বাধীন মতপ্রকাশের চর্চা নির্বিঘœ হওয়া প্রয়োজন। অথচ জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের দেওয়া এ-সংক্রান্ত প্রতিশ্র“তিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন প্রয়োগের নিয়মিত আহ্বান সত্ত্বেও, সরকার বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সংশোধন করতে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। আর্টিকেল নাইনটিন মতপ্রকাশজনিত অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করে। মতপ্রকাশজনিত ঘটনায় ২০১৮ সালে ৭১টি ও ২০১৯ সালে ৬৩টি মামলা রেকর্ড করে আর্টিকেল নাইনটিন। অথচ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সংস্থাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া ১১৩টি মামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে। কেবল মত প্রকাশের কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২০৮ জন ব্যক্তি এসব মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৩ জনই সাংবাদিক। অভিযুক্তদের মধ্যে ১১৪ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই এখনো জামিনের প্রতীক্ষায় আছেন। এ প্রসঙ্গে ফারুখ ফয়সল বলেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কারাবন্দিদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। ভার্চুয়াল আদালতে ৩০ দিনে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ৪৫ হাজার ব্যক্তির জামিন হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযুক্তরা খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো ভয়ঙ্কর কোনো মামলার আসামি নন। তবুও তাদের জামিন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পক্ষকাল ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের জামিন আবেদন এ পর্যন্ত আটবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে; যা তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত হতাশার। আমরা কাজল ও ওই স্কুলছাত্রসহ মতপ্রকাশের কারণে এই আইনে গ্রেফতার অন্য অভিযুক্তদের অবিলম্বে মুক্তি ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই।

অক্টোবর থেকে ঢাকা-কানাডা ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান

ঢাকা অফিস ॥ চলতি বছরের অক্টোবরে ঢাকা থেকে কানাডায় ফ্লাইট পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশ। দেশটির টরোন্টো শহরে যাবে বিমানের এই ফ্লাইট। এ ছাড়া ফ্লাইটটিতে নিউইয়র্ক বা যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো রুটের যাত্রীরাও যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশের হয়ে যাত্রীদের নিউইয়র্ক পৌঁছে দেবে এয়ার কানাডা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোকাব্বির হোসেন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কানাডার সাথে আমাদের এয়ার এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী উইন্টার শিডিউলে (অক্টোবর) টরেন্টোতে ফ্লাইট চালু করা হবে। বাংলাদেশ থেকে কোনো যাত্রী নিউইয়র্ক বা আমেরিকার যেকোনো জায়গায় যেতে চাইলে টরেন্টো হয়ে যেতে পারবেন। এয়ার কানাডার চুক্তি অনুসারে তারা টরেন্টো থেকে নিউইয়র্ক বা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ডেস্টিনেশনে নিয়ে যাবে। আমরা শুধু ঢাকা থেকে টরেন্টো পর্যন্ত যাত্রী পৌঁছে দেব। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইটের টাকা বিমানের কাছেই একবারে পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুহিবুল হক সাংবাদিকদের জানান, ১৫ অক্টোবরের পর থেকে এই ফ্লাইট শুরু হতে পারে। এ ছাড়া জাপানের ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

আগস্টেই বাজারে আসতে পারে ভারতের ভ্যাকসিন

ঢাকা অফিস ॥ বর্তমান বিশ্বে ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। লাখ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। মানবজাতি এই ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচাতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে সম্প্রতি নিজেদের নাম লিখিয়েছে ভারত। দেশটিতে বানানো করোনার প্রথম ভ্যাকসিন দেশটির স্বাধীনতা দিবসের আগেই বাজারে আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (বিবিআইএল)-এর সহযোগিতায় কোভ্যাক্সিন নামের করোনার ভ্যাকসিনটি বাজারে আনতে যাচ্ছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। তবে বাজারে আনার আগে মানবদেহে এই ভ্যাকসিন উপর প্রয়োগ করে দেখার জন্য দেশের অন্তত ১২টি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইসিএমআর। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য বিশাখাপত্তনম, রোহতক, দিল্লি, পটনা, বেলগাঁও (কর্নাটক), নাগপুর, গোরখপুর, হায়দরাবাদ, গোয়া, আর্য নগর, কানপুর ও কাট্টানকুলাথুরের (তামিলনাড়ু) প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢালাও ভাবে ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরুর জন্য দেশের ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে আইসিএমআর। এতে লেখা হয়েছে, ভ্যাকসিন বানানোর জন্য সার্স-কভ-২ ভাইরাসের স্ট্রেন সংগ্রহ করা হয়েছিল আইসিএমআর-এর অধীনে থাকা পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি থেকে। ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরুর আগে যা যা করণীয় বিবিআইএল-এর সহযোগিতায় সবই করে চলেছে আইসিএমআর। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব দেরি হলেও যেন ১৫ আগস্টের মধ্যেই এই ভ্যাকসিন সবার ব্যবহারের জন্য বাজারে নিয়ে আসা যায় সেজন্য সব ধরনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠানকে। ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালানোর জন্য সরকারি অনুমোদনের জন্য আবেদন করতেও বলা হয়েছে।

মেহেরপুরে নতুন করে স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৪জন করোনা আক্রান্ত

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলায় নতুন করে ৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্য রয়েছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার মল্লিকপাড়ার এক যুবক, মেহেরপুর শহরের মিশন পাড়ার ৫৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ, শ্যামপুর কলোনীপাড়ার ৭০ বছর বয়সী এক নারী ও ৪৫ বছর বয়সী গাংনী উপজেলার সাহারবাটী ইউনিয়ন (নারী) স্বাস্থ্যকর্মী। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর সিভিল সার্জন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসির উদ্দীন জানান করোনা ভাইরাস সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ শেষে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে যে কয়টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্য ২৪জনের রিপোর্ট এসেছে। যার মধ্য ৪ জনের পজেটিভ। এবং বাকীগুলো নেগেটিভ। আক্রান্তকারীরাসহ তাদের পরিবারের সকলকে লকডাউনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এনিয়ে মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলায় নমুনা পরীক্ষা করা ১ হাজার ৯১২জনের মধ্য ৯১টি পজেটিভ, ৩৩জন সুস্থ্য এবং ৫জনের মৃত্যু হয়েছে।

আলমডাঙ্গার রেলস্টেশনমুখী রাস্তার পীচকরণ কাজের উদ্বোধন 

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার রেল স্টেশনে যাওয়ার প্রধান রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র হাসান কাদির গনু এ কাজের উদ্বোধন করেন। গতকাল শুক্রবার অতি জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তার পিচকরণ কাজ শুরু হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর উন্নয়ন অবকাঠামো ২ পর্যায়ের বেশ কয়েকটি রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। কয়েকটি রাস্তার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বাকি কাজ বন্ধ থাকলে জন দুর্ভোগ শুরু হয়। পরে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আবারো নতুন করে রাস্তার পিচকরণ কাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার ৬০ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে রেল স্টেশনে যাবার রাস্তাটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। একই সাথে বাকি রাস্তার কাজগুলোও সম্পন্ন করা হবে। নির্মাণ কাজের উদ্বোধনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলাল উদ্দিন, খাসকররা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিবার রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, ঠিকাদার ইয়াকুব আলী, আজাদুর রহমান, ঠিকাদার বাবুল হোসেন, মুস্তাক  আহম্মেদ, সুজন, পাপ্পু প্রমুখ।

করোনা এবং আম্পান মোকাবেলায় আন্তরিকতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মহান প্রচেষ্টায় যশোর সেনানিবাস

প্রাণঘাতী করোনা এবং আম্পান মোকাবেলায় আন্তরিক মনোভাব  দেখিয়ে জনগণকে সচেতন করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ  চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা ও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে জনগণের পাশে থেকে  কাঁধে করে খাদ্য সহায়তা নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়েছে সেনা সদস্যরা। পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে লকডাউন কার্যকর ও চিকিৎসা কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছে সেনাবাহিনী। এছাড়াও সরকারী সকল নির্দেশনা বাস্তবায়ন, গণপরিবহন মনিটারিং, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি জনস্বার্থে সকল কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং খুলনার কয়রায় দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামতের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের মাঝে সুপেয় পানি বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং ঘর-বাড়ী মেরামতসহ নানামূখী জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। মহামারী এই করোনায় প্রথম সারির  যোদ্ধা হিসেবে সেবা ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের উপর অর্পিত এই দায়িত্ব পালন করে যাবে প্রতিটি সেনাসদস্য। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

অধস্তন আদালতে ভার্চুয়ালি ৪৯ হাজার ৭৫০ আসামির জামিন

ঢাকা অফিস ॥ সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে সারাদেশে অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানি শেষে ৩৫ কার্যদিবসে ৪৯ হাজার ৭৫০ জন আসামির জামিন মঞ্জুর হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান গতকাল শুক্রবার এ কথা জানান। তিনি জানান, এর মধ্যে গত ২৮ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানিতে ১০ হাজার ৮৬৬ টি জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি এবং ৪ হাজার ৯৬০ জন আসামির জামিন মঞ্জুর হয়েছে। তিনি জানান, ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর পর অধস্তন আদালতে গত ১১ মে থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত মোট ৩৫ কার্যদিবসে সারাদেশে মোট ৯৫ হাজার ৫২৩ টি জামিন-দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৭৫০ জন আসামির জামিন মঞ্জুর হয়েছে। তিনি জানান, এ সময়ের মধ্যে ভার্চুয়াল শুনানিতে মোট জামিন প্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৬০৮ জন। এ পর্যন্ত সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ’র সহায়তায় আভিভাবকের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে জামিন প্রাপ্ত ৫৮৩ জন শিশুকে। করোনার সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৯ মে ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ শিরোনামে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। ফলে অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়। অধ্যাদেশ জারির পর সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে ১০ মে প্র্যাকটিস নির্দেশনা (ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা) জারি করা হয়। সে অনুযায়ী গত ১১ মে থেকে আদালতে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে কার্যক্রম শুরু হয়, যার মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হয়।

লাদাখে মোদীর আচমকা সফর

ঢাকা অফিস ॥ গালওয়ান উপত্যকা ঘিরে চীন-ভারত সংঘর্ষের দুই সপ্তাহ পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আচমকা এক সফরে লাদাখে গিয়ে সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত সেনা সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোরেই মোদী লাদাখ পৌঁছান বলে তার কার্যালয়ের দেয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। লাদাখের লেহ ও সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ফরওয়ার্ড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড নিমুতে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামার বিষয়টি ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে। সফরে মোদীর সঙ্গে ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানেও আছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জুনের মাঝামাঝি গালওয়ানে ওই সংঘর্ষে দুই পক্ষই পাথর, রড ও লাঠি ব্যবহার করেছিল বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নয়া দিল্লি। বেইজিং তাদের দিককার কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায়নি। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ঘিরে পাঁচ দশকের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষের পর পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের সেনা কমান্ডাররা দফায় দফায় বৈঠক করলেও সীমান্তে থমথমে ভাব কাটেনি। উভয় দেশ লাদাখের আশপাশে শক্তি বাড়াচ্ছে বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে। শুক্রবার মোদী এলএসির বিভিন্ন সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের লাদাখ যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। কী কারণে রাজনাথের সফর বাতিল হয়েছে, তা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা থাকলেও পরদিন যে খোদ প্রধানমন্ত্রীই সীমান্তে সেনাদের ‘মনোবল চাঙা’ করতে যাচ্ছেন, ঘুণাক্ষরেও তার আভাস পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তার খাতিরেই প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের বিষয়টি জানানো হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হলেও মোদীর আচমকা লাদাখ সফরকে ‘চীনের জন্য বড় বার্তা’ হিসেবে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর না হলে বা খুব বড় পদক্ষেপের কথা ভাবা না হলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে সচরাচর সীমান্ত চৌকিতে যেতে দেখা যায় না, বলছেন তারা। ১৫ জুনের সংঘর্ষে ভারত চীনকে ‘উপযুক্ত জবাব দিয়েছে’ বলে গত সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে মোদী মন্তব্য করেছিলেন। “যারা লাদাখে ভারতীয় ভূখ-ের দিকে তাকানোর সাহস দেখিয়েছে, তাদের যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছে। কী ভাবে বন্ধুত্ব রাখতে হয়, সেটা যেমন ভারত জানে, তেমনই কী ভাবে কারও সঙ্গে যুঝতে হয় এবং জবাব দিতে হয়, তাও আমাদের জানা রয়েছে,” বলেছিলেন তিনি।

ফজলে করীম খোকার অর্থায়নে নির্মিত কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মিলপাড়ায় সংযোগ সাঁকোর উদ্বোধন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের ১০নং ওয়ার্ডের বিশিষ্ট সমাজসেবক ফজলে করীম খোকার নিজ অর্থায়নে নির্মিত পূর্ব মিলপাড়ায় সংযোগ সাঁকো প্রধান অতিথি হিসেবে শুভ উদ্বোধন করেছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

গতকাল শুক্রবার বিকেল সমাজসেবক ফজলে করীম খোকার সভাপতিত্বে সাঁকো উদ্বোধন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব মিলপাড়ার মহাশ্বশ্মান বাধ সংলগ্ন প্রায় ১০০টির বেশি পরিবারের মানুষের চলাচলের জন্য একমাত্র রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে পানিতে প্লাবিত হবার কারনে খুব মানবেতরভাবে জীবন যাপন করছিলো। শুধু মিলপাড়া নয় কুমারখালী উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেঁঊড়িয়া মন্ডলপাড়া গ্রামের চর এলাকার একাংশ মানুষ যাতায়াত করতো একই রাস্তা দিয়ে। অনেকের পরিবারে  ছোট বাচ্চা থাকার কারনে পানিতে পারাপার হতেও পোহাতে হতো চরম দূর্ভোগ। তাই তাদের দুঃখ কষ্ট দেখে মিলপাড়া এলাকার কৃতিসন্তান দানবীর ফজলে করীম খোকা তার নিজ অর্থায়নে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে মিলপাড়া পূর্ব অঞ্চলের চরের মানুষের জন্য নির্মাণ করে দিলেন চলাচলের উপযোগী পূর্ব মিলপাড়া সংযোগ সাঁকোটি। শুধু সাঁকো নির্মানই নয় মহামারী করোনা ভাইরাসের দূর্যোগের মধ্যে গত ৫ এপ্রিল মিলপাড়া এলাকার প্রায় ২ হাজার অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। সাঁকো উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি আতাউর রহমান আতা বলেন-করোনা ভাইরাস এক ধরনের সংক্রামক ভাইরাস। এই ভাইরাস খালি চোখে দেখা যায়না এটা একজনের শরীরের সংস্পর্শে আরেকজনের শরীরে প্রবেশ করে তাই সবাইকে সচেতনতা অবলম্বন করে স্বাস্থ্যবিধী মেনে চলার আহবান জানান তিনি ৷ এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা লাবলু, ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও কাউন্সিলর আনিস কোরায়েশী,  যুবলীগ নেতা কিশোর কুমার জগো, কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুর মোহাম্মদ পুকারীসহ ইসলাম, কুরমান, মামুন  প্রমুখ।

মিরপুরে ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের নওদাপাড়া ব্রীজের নিকট পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ মহন (২৩) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। সে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামন্দী কল্যাণপুর গ্রামের মৃত মজনু মিয়া ছেলে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে। মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পাটকল শ্রমিকরা ঠকবেন না – পাটমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পাটকল শ্রমিকদের ঠকানো হবে না। তাদের দুই ধাপে টাকা দেওয়া হবে। অর্ধেক দেওয়া হবে ক্যাশে, বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। পাশাপাশি শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা হবে। গতকাল শুক্রবার সকালে শ্রমিকদের ‘শতভাগ’ পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাটকল শ্রমিক। তাদের ঠকানো হবে না। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২৬ এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নোটিশ মেয়াদের অর্থাৎ, ৬০ দিনের মজুরি, চাকরির পাপ্য অনুযায়ী গ্রাচ্যুইটি, পিএফ তহবিলের জমা সমুদয় অর্থ এবং নির্ধারিত হারে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধা পাবেন তারা। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শ্রমিকদের (৮ হাজার ৯৫৬ জন) পাওনা একত্রে পরিশোধ করা হবে। কেবল তাই নয়, তাদের দুই ধাপে টাকা দেওয়া হবে। অর্ধেক দেওয়া হবে ক্যাশে, বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। এতে তারা প্রতি তিনমাস পরপর একপ্রকার বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন। এতে শ্রমিকদের বাড়তি আর্থিক সুরক্ষা তৈরি হবে। ২০২০ সালের জুন মাসের মজুরি আগামী সপ্তাহে দেওয়া হবে। নোটিশ মেয়াদ অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট মাসের ৬০ দিনের মজুরিও উভয় মাসে যথারীতি পরিশোধ করা হবে। সব ক্ষেত্রে মজুরি কমিশন-২০১৫ এর ভিত্তিতে পাওনা হিসাব করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) পাটকল চালু হলে পুরনো শ্রমিকরা সেখানে অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, পাট আমাদের অর্থকরী ফসল, এর উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন জড়িত। আমরা শ্রমিকের অবজ্ঞা চাই না, তাদের পুনর্বাসন চাই। গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বছরের পর বছর লোকসান গুণতে হতো পাটকলে। এসব কলের ৬০ বছরের পুরনো মেশিন দিয়ে উৎপাদন হতো না। পাট শিল্পের আধুনিকায়নে আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী পাট শিল্পের উন্নয়নে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে টেক্সটাইল লোকসানে ছিল, পিপিপির আওতায় দেওয়ার পর সেগুলো লাভে আছে। পাটকলগুলোও পিপিপি করা হচ্ছে সেই আলোকে। তিনি বলেন, আমরা পিপিপি করছি মানে মালিকানা চলে যাবে না। এখানে অংশীদারিত্ব থাকবে, বাইরের কোন মালিকানা থাকবে না। আমরা ৬০ বছরের পুরনো মেশিনের স্থলে নতুন মেশিন বসাতে চাই, যার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে। সেখানে আমাদের পুরনো শ্রমিকরা অগ্রাধিকার পাবেন, যারা কাজ করতে চান। মন্ত্রী আরও বলেন, বাজেট থেকে বরাদ্দ শুরু হলেই শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুত সময়ে অর্থ দেওয়া যায়। শ্রমিকদের দুই ধাপে টাকা দেওয়া হবে। অর্ধেক দেওয়া হবে ক্যাশে, বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। পাশাপাশি শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা হবে। তিনি বলেন, ২০২০ সালের জুন মাসের মজুরি আগামী সপ্তাহে দেওয়া হবে। নোটিশ মেয়াদ অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট মাসের ৬০ দিনের মজুরিও উভয় মাসে যথারীতি পরিশোধ করা হবে। সব ক্ষেত্রে মজুরি কমিশন, ২০১৫-এর ভিত্তিতে পাওনা হিসাব করা হবে। পিএফ, গ্রাচ্যুইটি ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধাসহ অবশিষ্ট সকল পাওনার ৫০ শতাংশ স্ব স্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং বাকি ৫০ শতাংশ স্ব স্ব সঞ্চয়পত্র আকারে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।

পাটকল শ্রমিকরা ঠকবেন না – পাটমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পাটকল শ্রমিকদের ঠকানো হবে না। তাদের দুই ধাপে টাকা দেওয়া হবে। অর্ধেক দেওয়া হবে ক্যাশে, বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। পাশাপাশি শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা হবে। গতকাল শুক্রবার সকালে শ্রমিকদের ‘শতভাগ’ পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাটকল শ্রমিক। তাদের ঠকানো হবে না। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২৬ এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নোটিশ মেয়াদের অর্থাৎ, ৬০ দিনের মজুরি, চাকরির পাপ্য অনুযায়ী গ্রাচ্যুইটি, পিএফ তহবিলের জমা সমুদয় অর্থ এবং নির্ধারিত হারে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধা পাবেন তারা। তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শ্রমিকদের (৮ হাজার ৯৫৬ জন) পাওনা একত্রে পরিশোধ করা হবে। কেবল তাই নয়, তাদের দুই ধাপে টাকা দেওয়া হবে। অর্ধেক দেওয়া হবে ক্যাশে, বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। এতে তারা প্রতি তিনমাস পরপর একপ্রকার বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন। এতে শ্রমিকদের বাড়তি আর্থিক সুরক্ষা তৈরি হবে। ২০২০ সালের জুন মাসের মজুরি আগামী সপ্তাহে দেওয়া হবে। নোটিশ মেয়াদ অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট মাসের ৬০ দিনের মজুরিও উভয় মাসে যথারীতি পরিশোধ করা হবে। সব ক্ষেত্রে মজুরি কমিশন-২০১৫ এর ভিত্তিতে পাওনা হিসাব করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) পাটকল চালু হলে পুরনো শ্রমিকরা সেখানে অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, পাট আমাদের অর্থকরী ফসল, এর উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন জড়িত। আমরা শ্রমিকের অবজ্ঞা চাই না, তাদের পুনর্বাসন চাই। গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বছরের পর বছর লোকসান গুণতে হতো পাটকলে। এসব কলের ৬০ বছরের পুরনো মেশিন দিয়ে উৎপাদন হতো না। পাট শিল্পের আধুনিকায়নে আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী পাট শিল্পের উন্নয়নে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে টেক্সটাইল লোকসানে ছিল, পিপিপির আওতায় দেওয়ার পর সেগুলো লাভে আছে। পাটকলগুলোও পিপিপি করা হচ্ছে সেই আলোকে। তিনি বলেন, আমরা পিপিপি করছি মানে মালিকানা চলে যাবে না। এখানে অংশীদারিত্ব থাকবে, বাইরের কোন মালিকানা থাকবে না। আমরা ৬০ বছরের পুরনো মেশিনের স্থলে নতুন মেশিন বসাতে চাই, যার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে। সেখানে আমাদের পুরনো শ্রমিকরা অগ্রাধিকার পাবেন, যারা কাজ করতে চান। মন্ত্রী আরও বলেন, বাজেট থেকে বরাদ্দ শুরু হলেই শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ শুরু হবে। আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুত সময়ে অর্থ দেওয়া যায়। শ্রমিকদের দুই ধাপে টাকা দেওয়া হবে। অর্ধেক দেওয়া হবে ক্যাশে, বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। পাশাপাশি শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা হবে। তিনি বলেন, ২০২০ সালের জুন মাসের মজুরি আগামী সপ্তাহে দেওয়া হবে। নোটিশ মেয়াদ অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট মাসের ৬০ দিনের মজুরিও উভয় মাসে যথারীতি পরিশোধ করা হবে। সব ক্ষেত্রে মজুরি কমিশন, ২০১৫-এর ভিত্তিতে পাওনা হিসাব করা হবে। পিএফ, গ্রাচ্যুইটি ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধাসহ অবশিষ্ট সকল পাওনার ৫০ শতাংশ স্ব স্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং বাকি ৫০ শতাংশ স্ব স্ব সঞ্চয়পত্র আকারে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।

সোমবার থাইল্যান্ডে নেওয়া হচ্ছে সাহারা খাতুনকে

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনকে সোমবার থাইল্যান্ড নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তাকে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। এদিকে আইসিইউতে সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাহারা খাতুনের ভাগিনা মজিবর রহমান এ তথ্য জানান। সাহারা খাতুন দীর্ঘ দিন ধরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপতালে চকিৎসাধীন। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি৷ তিনি গত ২৬ জুন থেকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার মজিবর রহমান আরও জানান, ওঁর চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার নেওয়ার জন্য সেখান থেকে অনুমতি পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে থাইল্যান্ড নেওয়া হবে। তিনি আইসিইউতেই আছেন, মাঝে মধ্যে তাকাচ্ছেন। তবে কথা বলতে পারেন না। জ¦র, এ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় গত ২ জুন সাহারা খাতুন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯ জুন সকালে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিলো।

করোনা মোকাবিলায় স্বল্প-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়ার সুপারিশ

ঢাকা অফিস ॥ করোনা পরিস্থিতি ও পরবর্তী সময়ের জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন সাবেক কূটনীতিকরা। করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের করণীয় নির্ধারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তারা এই সুপারিশ করেন। আলোচকরা ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের ওপর করোনা মহামারির সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন তারা। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই আলোচনা সভায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার পরও যেন বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে কোটামুক্ত সুবিধা পেতে পারে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন কূটনীতিকরা। সম্প্রতি বাংলাদেশের কোটামুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির প্রশংসা করেন তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক সংস্থার ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারকরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার পরও যেন বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে কোটামুক্ত সুবিধা পেতে পারে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন সাবেক কূটনীতিকরা। সভায় আলোচকরা ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোকপাত করেন। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতি ও করোনা-পরবর্তী সময়ের জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেন সাবেক এসব কূটনীতিকরা। বাংলাদেশের ওপর করোনা মহামারির সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন তারা। বক্তারা করোনার টিকা আবিষ্কৃত হলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশসমূহ যাতে উন্নত বিশ্বের মতো একইভাবে উপকৃত হতে পারে সে বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন আয়োজিত কোভিড-১৯ তহবিল গঠনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়। এ ছাড়া গ্লোবাল ভ্যাকসিনেশন সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন সাবেক কূটর্নীতিকরা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আবদুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ ভার্চুয়াল সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন। ভার্চুয়াল এ সভায় সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে সংযুক্ত ছিলেন এম আর ওসমানী, ফারুক সোবহান, সি এম শফি সামি, শমসের মোবিন চৌধুরী, এ কে এম আতিকুর রহমান, মো. শহিদুল হক, মো. আবদুল হান্নান, হুমায়ুন কবির, আহমদ তারিক করিম ও মহসীন আলী খান। পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে সাবেক এসব কূটনৈতিকদের সুপারিশসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এ সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশে থাকায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাবেক এ কূটনীতিকদের ধন্যবাদ জানান ড. মোমেন। পাশাপাশি এ ধরনের আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এর আগে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনসমূহে কর্মরত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফাঁকা পড়ে আছে দেশের করোনা হাসপাতাগুলোর বেশিরভাগ শয্যা

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ ও আইসিইউ- এই দুই ধরনের মিলিয়ে মোট ১৫ হাজারেরও বেশি শয্যা থাকলেও অধিকাংশ শয্যায় রোগী ভর্তি হচ্ছে না। বর্তমানে হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যায় ৪ হাজার ৬২৮ জন এবং আইসিইউতে ২১০ জনসহ মোট ৪ হাজার ৮৩৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ফলে ফাঁকা রয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি শয্যা। কাগজে-কলমে হাসপাতালে হাজারে হাজারে শয্যা খালি থাকলেও বাস্তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত করোনা আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। নানা অজুহাতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি না করে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা না পেয়ে সুচিকিৎসার অভাবে অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, শয্যা না পেয়ে সুচিকিৎসার অভাবে অনেক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তাদের কানেও এসেছে। এ কারণে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে প্রতিদিন সারাদেশের কোন হাসপাতালে কত সংখ্যক সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা রয়েছে, সেখানে কত রোগী ভর্তি আছে, কত রোগী ছাড় পেয়েছে ইত্যাদি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতাল ওয়ারী পরিসংখ্যান দেয়ার ব্যাপারটিও তারা চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী ভর্তির সংখ্যার চেয়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা বেশি। গত একদিনে ৫১৮ জন আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৩৬ জন। করোনা হাসপাতালের শয্যাসহ কী কী সুবিধা রয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, রাজধানীসহ সারাদেশে মোট ১৪ হাজার ৭৭৫টি সাধারণ শয্যা, ৩৯২টি আইসিইউ শয্যা, ৩৩৩টি ভেন্টিলেটর, ১১ হাজার ১৪১টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ২০৭টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও ৯৮টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর রয়েছে। তিনি আরও জানান, সারাদেশের ১৪ হাজার ৭৭৫টি সাধারণ শয্যার মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৬ হাজার ৭৫টি, ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৮৩০টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮০টি, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৭০৩টি, রাজশাহী বিভাগে ১ হাজার ৬২০টি, রংপুর বিভাগে ৭৫টি, খুলনা বিভাগে ৭৫৫টি, বরিশাল বিভাগে ৪৪৩টি ও সিলেট বিভাগে ৩৯৫টি রয়েছে। এসব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে যথাক্রমে ১৪৫, ৮২, ১৭, ৩৯, ২২, ২৩, ২০, ১৮, ১০ ও ১৬টি। সাধারণ শয্যার মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪ হাজার ৬২৮টি শয্যায় রোগী রয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ২ হাজার ৩৬১টি, ঢাকা বিভাগে ৪৪৪টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২টি, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৪১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৯৯টি, রাজশাহী বিভাগে ১৮৩টি, রংপুর বিভাগে ৭৭টি, খুলনা বিভাগে ২২৯টি, বরিশাল বিভাগে ২৮৪টি ও সিলেট বিভাগে ১৫২টি শয্যায় বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে। এসব হাসপাতালে বর্তমানে আইসিইউতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা যথাক্রমে ১০৭, ২৬, ২, ২২, ১১, ১০, ৪, ৭, ১০ ও ১১ জন। এদিকে দেশে করোনার সংক্রমণ ও এতে মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও তিন হাজার ১১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৩৯১ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪২ জন। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল এক হাজার ৯৬৮ জনে।

করোনায় মুক্তিযোদ্ধা খুরশিদ আলমের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ও ফরিদপুর জেলা জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন এ জি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ৭টা ২০ মিনিটে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক শোকবার্তায় খুরশিদ আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সহযোদ্ধাদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। খুরশিদ আলমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাসদ সভাপতি বলেন, জাতীয় বীর ক্যাপ্টেন এ জি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন। তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে চুপ করে বসে থাকেননি। যেকোনো মূল্যে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক পথে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।