কুমারখালী উপজেলা কৃষক লীগের দিনব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসূচী

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ প্রতিপালনে তৃণমুল পর্যায়ে বৃক্ষরোপন অভিযান শুরু করেছে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা কৃষক লীগ। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কুমারখালী উপজেলা কৃষক লীগের উদ্যোগে উপজেলার চাপড়া, বাগুলাট, পান্টি ও যদুবয়রা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। এ সময় কুমারখালী উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আবু হানিফ ও সাধারন সম্পাদক মুন্সী ইকবাল, চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হাসান রিন্টু, জেলা কৃষক লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. কফিল উদ্দিন, উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও চাপড়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাগুলাট ইউনিয়ন কৃষক লীগের সহ সভাপতি মো. লোকমান হোসেন, সাধারন সম্পাদক মো. মিরাজ উদ্দিন, পান্টি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি মো. আসলাম  হোসেন, সাধারন সম্পাদক মো. হাফিজ উদ্দিন, যদুবয়রা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার মুন্সী, সাধারন সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত মঙ্গলবার নন্দলালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর- বুজরুক বাঁখই সড়ক এলাকায় ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপন করেন কৃষক লীগ নেতারা।  বৃক্ষরোপন অভিযান পরিচালনাকালে কুমারখালী উপজেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক মুন্সী ইকবাল জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বরে বৃক্ষ রোপন অভিযান শুরু করা হয়েছে।

পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক হাজী আজিজুল হকের ইন্তেকাল 

হালসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির ১নং যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজ সেবক রমজানপুরের কৃতি সন্তান হাজ¦ী আজিজুল হক (৫৫) বুধবার দিবাগত রাত ৩টার সময় ব্রেনষ্ট্রোক করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যু কালে ৩ ছেলে, স্ত্রী, মা-ভাই বোনসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময় খেজুরতলা হজরতপাড়া রমজানপুর কবরস্থানে মাওলানা আবু সুফিয়ান শাওনের ইমামতিত্বে জানাযা শেষে দাফন করা হয়। মরহুম আজিজুল হকের ছোট ভাই হালসা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহেবুল মেম্বর তার ভাইয়ের জন্য সকলের নিকট দোয়া চাই। পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি  সেলিম রেজা ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল খালেক, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক  দাউদ মেম্বর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, যুবদলের সাধারন সম্পাদক মাসুদ বলেন, বিএনপির ত্যাগী সংগঠক সমাজ সেবক ও হজরতপাড়ার কৃতি সন্তান হাজ¦ী আজিজুলের হকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিএনপির একজন আত্মত্যাগী সংগঠক হারালো। তার বিদেহী আত্মার পরকালীন জান্নাত ও শোকাহত পরিবারকে সমাবেদনা জ্ঞাপন করছি।  মরহুম আজিজুল হকের জানাযায় উপস্থিত ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ। মোনাজাতের পূর্বে পিতার আত্মার শান্তির জন্য সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন মরহুমের ছেলে সুমন।

করোনা আক্রান্ত বন্ধু রনোকে দেখতে গেলেন ডা. জাফরুল্লাহ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিপ্লবী মার্কসবাদী নেতা ও সিপিপির প্রেসিডিয়াম মেম্বার হায়দার আকবর খান রনোকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ে আইসিও কার্ডিওলজি কেবিনে দেখতে যান তিনি। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বন্ধু রনোর হাত ধরে নীরবে বাকরুদ্ধ অবস্থায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি রনোকে বলেন, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি যেকোনো আর্থিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। হায়দার আকবর খান রনোর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘তুমি বাংলাদেশের জীবিত শেষ বিপ্লবী মার্কসবাদী নেতা। দেশের ক্রান্তিকালে আমাদের জনগণের মুক্তির আন্দোলনে তোমাকে বেচেঁ থাকতে হবে। এ সময় উপস্থিত চিকিৎসকদের কাছে হায়দার আকবর খান রনোর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার সর্বশেষ খবর নেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাথে ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক ডা. নজীব মোহাম্মদ, রেডিওলজি প্রধান অধ্যাপক ডা. মতিন খান, অধ্যাপক ডা. শওকত আরমান এবং ঢামেক হাসপাতালের আইসিও কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং চিকিৎসকরা।

গ্রাম পুলিশকে চতুর্থ শ্রেণির মর্যাদা দেয়ার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ

ঢাকা অফিস ॥ দেশের গ্রাম পুলিশকে সরকারি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদমর্যাদা দিতে এবং সে অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে তা প্রদান করতে নির্দেশ দিয়ে ঘোষণা করা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয়ের মতো প্রজাতন্ত্রের ৭০ প্রকার কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকেন গ্রাম পুলিশ ও মহল্লাদার। গ্রাম পুলিশের মহল্লাদারদের জাতীয় বেতন স্কেলের ২০তম গ্রেডে এবং দফাদারদের ১৯তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি বেতন স্কেল অনুসারে ২০১১ সালের ২ জুন থেকে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব ১৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর ৪৭ হাজার সদস্যকে জাতীয়করণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের স্বাক্ষরের পর রায়টি প্রকাশিত হয়। রায়ে মহল্লাদারদে কে জাতীয় বেতন স্কেলের ২০তম গ্রেড এবং গ্রাম পুলিশদের ১৯তম গ্রেডে ২০১১ সালের ২ জুন থেকে সকল বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে হাইকোর্ট বলেন, এটা কাঁচের মতো স্পষ্ট যে, গ্রাম পুলিশ ও মহল্লাদাররা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ পেয়ে প্রজাতন্ত্রের ৭০ প্রকার কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকেন। সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয়ের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে তারা নিয়োজিত। আদালত বলেন, ঝড়-বৃষ্টি, বিপদ-আপদ উপেক্ষা করে তারা বাংলার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্য থাকেন। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কাকে বলে এরা জানে না। হাইকোর্ট রায়ে আরও উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু বলেছেন, দুনিয়া দুইভাগে বিভক্ত, নিপীড়িত ও অত্যাচারী। আমি নিপীড়িতের সাথে আছি। সুপ্রিম কোর্ট বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ মোতাবেক নিপীড়িতের পক্ষে। ২০১৯ সালের ১৫ ও ১৭ ডিসেম্বর এই রায় ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। সম্প্রতি এই রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের অধীনে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা তৈরি করা হয়। কিন্তু এ বিধিতে তাদের কোনো শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে এক দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গ্রাম পুলিশদের ৪র্থ শ্রেণির স্কেল নির্ধারণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেন। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত তারা না নেয়ায় হাইকোর্টে রিট করা হয়। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হুমায়ন কবির, মো. মোজম্মেল হক, মোহাম্মদ কাওসার, মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের ও নূর আলম সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইলিন ইমন সাহা, শায়রা ফিরোজ ও মাহফুজুর রহমান লিখন। রায়ে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ মোতাবেক আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে তথা ন্যায্য প্রাপ্যতা থেকে তথা ন্যায্য প্রত্যাশা থেকে তথা আইনসম্মত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। বর্তমান মোকাদ্দামায় দরখাস্তকারীরাসহ সব মহল্লাদার ও দফাদারদের ন্যায্য অধিকার বিধিমালা ২০১১ অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পাওয়া কথা। কিন্তু প্রতিপক্ষরা দরখাস্তকারীরাসহ সব মহল্লাদার ও দফাদারদের ন্যায্য অধিকার থেকে বেআইনিভাবে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করে আসছে। রায়ের আদেশ অংশে বলা হয়, ২০১১ সালের ২ জুন থেকে মহল্লাদারদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ (বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫) এর ২০তম গ্রেডে বেতন-ভাতাদি দিতে এবং দফাদারদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫) এর ১৯তম গ্রেডে বেতন-ভাতাদি দিতে প্রতিপক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হলো। আরও বলা হয়, ২০১১ সালের ২ জুনের পর থেকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০১১ বহির্ভূতভাবে মহল্লাদার ও দফাদারের যেকোনো নিয়োগ অবৈধ ও বেআইনি মর্মে গণ্য হবে। ২ জুনের পর থেকে বিধিমালা ২০১১ বহির্ভূত যেকোনো নিয়োগ আপনা আপনি বাতিল হবে। এর আগে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ৪র্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের স্কেলের সমপরিমাণ বেতন কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের টুপিরবাড়ীর হাটকুশারা এলাকার বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ লাল মিয়াসহ ৩৫৫ জন গ্রাম পুলিশ এ রিট দায়ের করেন। বর্তমানে প্রায় ৪৬ হাজার গ্রাম পুলিশের একজন দফাদার বেতন পান ৩ হাজার ৪শ এবং মহালদার পান ৩ হাজার টাকা। পরে আইনজীবী হুমায়ুন কবির বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এ বাহিনী বিভিন্ন আইনের অধীনে কাজ করে আসছে।

প্রাথমিকে ৫৭ হাজার নিয়োগ প্রার্থীর প্যানেল দাবি, নতুন বিজ্ঞপ্তি দিতে চায় মন্ত্রণালয়

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত দুটি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫৬ হাজার ৯৩৬ প্রার্থী গত এক বছর ধরে প্যানেল শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের দাবি করে আসছেন। তাদের অনেকের চাকরির বয়স পেরিয়ে গেছে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, আর কোনও প্যানেল করা হবে না। নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। ২০১৪ সালে স্থগিতের পর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৯ হাজার ৭৮৮ জন এবং ২০১৮ সালে নিয়মিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার ১৪৮ জন প্যানেলভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, আমরা নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেবো। ২৬ হাজারের বেশি শূন্য পদ রয়েছে। আমি মহাপরিচালককে বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করতে বলেছি। কোনও প্যানেল হবে না। প্যানেল করার সুযোগ নেই। আগে উত্তীর্ণদের প্যানেল করা হতো, এখন কেন হবে না জানতে চাইলে সচিব বলেন, ২০১৪ সালের আগের যাদের প্যানেল করা হয়েছিল, তাদের মামলা শেষ হওয়ার পর সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ২০১০ ও ২০১১ সালের পুল ও প্যানেলভুক্ত প্রার্থীরা তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে উচ্চ আদালতে ৪৯০টি রিট আবেদন করেন। প্যানেলভুক্ত ছিলেন ৪২ হাজার ৬১১ জন উত্তীর্ণ প্রার্থী। আবেদনে পুল ও প্যানেলভুক্ত নিয়োগের অপেক্ষায় থাকাদের নিয়োগ নিশ্চিত না করে কেন নতুন করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়। রিট আবেদনের পর ২০১৪ সালের নিয়োগ স্থগিত করে মন্ত্রণালয়। রিট আবেদন শেষ হতে চার বছর সময় লাগে। চার বছর পর ২০১৮ সালে রিট নিষ্পত্তি হলে আবেদন করা প্রার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ লাখ। শেষ পর্যন্ত মোট উত্তীর্ণ হন ২৯ হাজার ৫৫৫ প্রার্থী। নিয়োগ দেওয়া হয় ৯ হাজার ৭৬৭ জনকে। উত্তীর্ণ ১৯ হাজার ৭৮৮ জন প্যানেলভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। একই বছর (২০১৮ সাল) আবার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নিয়মিত ওই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে আবেদন করেন ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৭ জন। পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হন ৫৫ হাজার ২৯৫ জন। নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে। উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার ১৪৮ জন পুল বা প্যানেলভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। রিট নিষ্পত্তির পর ২০১৪ সালের স্থগিত হওয়া ২০১৮ সালে উত্তীর্ণ ১৯ হাজার ৭৮৮ জন এবং ২০১৮ সালের বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ৩৭ হাজার ১৪৮ জন প্যানেলভুক্তির প্রত্যাশায় থাকলেও সরকার প্যানেল করেনি। ২০১৪ সালে স্থগিত হওয়া এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্যানেলভুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের পক্ষে প্যানেলভুক্তির দাবিতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন সালেহা আক্তার। তিনিবলেন, ‘মামলার কারণে চার বছর অপেক্ষার পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বাদ পড়া প্রার্থীদের প্যানেল করা হয়নি। ২০১০-২০১১ সালে উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে সরাসরি এবং প্যানেলভুক্ত করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার বছর অপেক্ষার পর আমরা প্যানেলভুক্ত হতে পারছি না। আমরা ২০১৮ সালের নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি বয়স না থাকার কারণে। প্যানেলের অপেক্ষায় থাকা আমরা ৯০ শতাংশ প্রার্থী অংশ নিতে পারিনি। স্থগিত পরীক্ষাটি ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হলে মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়। ২০ হাজার শূন্য পদ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় মাত্র ৯ হাজার ৭৬৭ জন। আমরা আশা করেছিলাম প্যানেল করে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে। এখন প্যানেল হচ্ছে না। বয়স চলে গেছে প্রায় সবার। মেধা তালিকায় থাকা এসব প্রার্থীর কী হবে? প্যানেল প্রত্যাশী চাঁদপুরের হাইমচরের আমেনা আক্তার বলেন, ২০১৪ সালে স্থগিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক প্যানেল চাই। কারণ স্থগিত হওয়ার চার বছর পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আগে উত্তীর্ণ সবাই প্যানেলভুক্ত হয়েছেন, নিয়োগও পেয়েছেন। তাহলে আমরা পবো না কেন?

৯৭ ভাগ মানুষ বিদ্যুত সুবিধা পাচ্ছে – প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, তরুণদের আগ্রহ ও সচেতনতাই বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতকে আরও সুসংহত করবে। বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া আবশ্যক। সচেতনতাই বিদ্যুৎ ও জ¦ালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করবে। দেশে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী এখন শতকরা ৯৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী গত বুধবার রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল রিসার্চ গ্র“পের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের জ¦ালানি খাতের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক লাইভ ওয়েবিনারে তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। তিনি এ সময় বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন। বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান (পিএসএমপি) ব্যাখ্যাকালে বলেন, জাইকা বাংলাদেশের মানুষের আয়, বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রবৃদ্ধি, জ¦ালানির ব্যবহার শৈলি ইত্যাদি দীর্ঘ সময় গবেষণা করে পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান (পিএসএমপি)-২০১০ প্রণয়ন করেছে। সময়ের প্রয়োজনে তা পর্যালোচনা করে পিএসএমপি-২০১৬ গৃহীত হয়েছে। ২০৪১ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ¦ালানি মিশ্রণ কী হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সাশ্রয়ি ব্যবহার প্রভৃতি সুচারুভাবে পিএসএমপি তে বলা হয়েছে। এই উপখাত সমূহের স্বল্প মেয়াদী, মধ্য মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনাও দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ২৩ হাজার ৪৩৬ (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ¦ালানিসহ) মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী শতকরা ৯৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে। ৫৮ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে অফ-গ্রিড এলাকার মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জমির প্রাপ্যতা, জ¦ালানি পরিবহন সুবিধা এবং লোড সেন্টার বিবেচনায় পায়রা, মহেশখালী ও মাতারবাড়ি এলাকাকে ‘পাওয়ার হাব’ হিসেবে চিহ্নিত করে মেগাপ্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল প্রজেক্ট, মাতারবাড়ি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল প্রজেক্ট এবং পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প স্থাপনের কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। অনলাইন সেমিনারটিতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ¦ালানি থেকে প্রায় ৬২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০% নবায়নযোগ্য জ¦ালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বেসরকারি পর্যায়ে বিল্ডিংয়ের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনকে জনপ্রিয় করার জন্য ‘নেট মিটারিং গাইডলাইন’ প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের জ¦ালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও টেকসই জ¦ালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ জ¦ালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। নেপালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং একটি আইপিপি থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলোচনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে ত্রিদেশীয় সমঝোতা স্বাক্ষর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ওয়েবিনারটিতে বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যিক জ¦ালানির অধিকাংশ পূরণ করে। দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রের সংখ্যা ২৭টি, যার মধ্যে ২০টি বর্তমানে উৎপাদনে আছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে গ্যাসের উৎপাদন ছিল দৈনিক ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি দৈনিক প্রায় ৬০০মিলিয়ন ঘনফুট আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক, দ্বিতীয় প্রেক্ষিত ও ব-দ্বীপ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সাশ্রয়িমূল্যে নিরবচ্ছিন্ন আধুনিক জ¦ালানি সরবরাহের লক্ষ্যে দেশজ গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য অফশোর ও অনশোরে সিসমিক জরিপ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এছাড়া, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপ্রচলিত পদ্ধতির মাধ্যমে তেল/গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তেল/গ্যাস আমদানির মাধ্যমে জ¦ালানির বর্ধিষ্ণু চাহিদা পূরণের জন্য এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, গভীর সমুদ্র থেকে তেল সরাসরি পাইপের মাধ্যমে গ্রহণ, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপ লাইনে তেল সরবরাহের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সময় তিনি কয়লা, কঠিন শিলা, খনিজ বালিসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা করেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ কুমার সাহা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

ঢাকা মেডিকেলে কোনো অনিয়ম হলে তদন্তে বেরিয়ে আসবে – স্বাস্থ্যসচিব

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় তদন্ত করে দেখা হবে। এখনও পর্যন্ত হোটেল থাকা-খাওয়া অন্যান্য বিল ভাউচার মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেনি। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় প্রথমবারের মতো ঢামেক হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব পদে নিয়োগের পর এটাই তার প্রথম ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শন। গণমাধ্যমকর্মীরা পরিদর্শনে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে হাসপাতালে রোগীরা কেমন আছে, চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কেমন আছেন, তা সরেজমিনে এসে দেখা এবং জানাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনসহ চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলে তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কী কী সমস্যা হয়েছে এবং উত্তরণের পথ জেনে নেন। উল্লেখ্য, ঢামেক হাসপাতালে গত দুই মাসে হোটেল ভাড়া, খাবার-দাবার ও যাতায়াত বাবদ ২০ কোটি টাকার বিলের চাহিদাপত্র পাঠানো হলে এত বিপুল অঙ্কের টাকা সঠিকভাবে খরচ হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। তবে গত বুধবার ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে করোনাকালীন সময়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য এ টাকা খরচ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

গাংনীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলা পাটবীজ খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চিৎলা পাটবীজ খামার এলাকায় মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। উল্লেখ্য, গাংনীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষে সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ একটি মতামত চেয়েছে।

দৌলতপুরে শক্রতামূলকভাবে কৃষকের পাট ও পেপে ক্ষেত কর্তন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শক্রতামূলকভাবে দুই কৃষকের পাট ও পেঁপে ক্ষেত কর্তন করেছে দূবৃর্ত্তরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া আপাগাড়ির মাঠে জাহাঙ্গীর মোল্লা ও আশরাফুল মোল্লার ক্ষেতের পাট ও বাগানের পেঁপে গাছ কর্তন করে দূবৃর্ত্তরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, ওইদিন রাতে শক্রতামূলকভাবে কে বা কারা তাদের দুই বিঘা জমির পাটক্ষেত ও সোয়া বিঘা জমির পেঁপে বাগানের পেঁপে গাছ কেটে ভূমিষ্মাৎ করে। বুধবার সকালে মাঠে গিয়ে তারা কর্তনকরা পাট ও পেঁপে গাছ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে মাঠের লোকজনদের জানায়। এতে তাদের প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কৃষক জাহাঙ্গীর মোল্লা দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষিজ উতপাদন অব্যাহত রাখতে কাজ করছে সেনাবাহিনী

মহামারী করোনা এবং ঘুর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষিজ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। এরই ধারাবাহিকতায় করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষিজ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সেনাসদস্যরা  বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন নানা জাতের উন্নতমানের সবজির বীজ। করোনায় পুরো দেশ থমকে দাঁড়ালেও কৃষিকাজ যেন থমকে না দাঁড়ায়,  সে জন্য ফসলের মাঠের আসল নায়ক কৃষকের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে মনোবল সুদৃঢ় করে তাদের জন্য নিজেদের খরচে প্রয়োজনীয় উপকরণও সরবরাহ করছেন সেনাসদস্যরা। কখনও কখনও হত দরিদ্রদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে নগদ আর্থিক সুবিধা। এছাড়াও গণপরিবহন মনিটারিং, স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা, খাদ্য সংকট  মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ, মাস্ক ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করাসহ সকল প্রকার জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার অংশ হিসেবে ঝড়ের তান্ডবে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, শুকনা খবার বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, খাবার স্যালাইন ও নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। বিশেষ করে আম্পানের তান্ডবে উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও খুলনার কয়রায় ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ যশোর সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

করোনার পাদুর্ভাবের মানবতার জীবন যাপন করছে শিক্ষকবৃন্দ

২২ বছর বয়সে কেজি স্কুল করে সাফল্য দেখিয়েছিল উদীয়মান যুবক সাকিব

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ডাবিরাভিটা গ্রামের রবিউল ইসলামের শিক্ষানুরাগী ছেলে বিএ শিক্ষার্থী  খেজুরতলা ও ডাবিরাভিটা গ্রামে আধুনিক শিক্ষারমান সম্প্রসারন করার জন্য নিজ অর্থায়নে খেজুরতলা প্রভাতী ক্যাডেট স্কুল স্থাপন করেন ২০১৮ সালে। উদীয়মান শিক্ষার্থী সাকিবের ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন ছিল একটি আধুনিকমানের ক্যাডেট স্কুল প্রতিষ্ঠা করে অল্প খরচে গ্রামের স্বল্প আয়ের কৃষক শ্রেনী মানুষের সন্তানদের শিক্ষাদানে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা। তারই ফলশ্র“তিতে প্রভাতী ক্যাডেট স্কুলটি প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই অন্যান্য কেজি স্কুল ও সরকারী স্কুলগুলোকে ছাড়িয়ে তুলনামুলক ভালো ফলাফল করাই ২০২০ সালে এসে এই স্কুলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। সচেতন অভিভাবকেরা নব্যপ্রতিষ্ঠিত এই স্কুলের শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা ও শিক্ষার গুনগতমান ভালো দেখে তাদের সন্তানদের এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেন। কিন্তুু বৈশিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে  স্কুলটির শিক্ষার পরিবেশ থুবড়ে পড়ে। আকাশ ভেঙ্গে পড়ে স্কুলটির পরিচালক সাকিবের। মানবতার জীবন যাপন করছে অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ। এ ব্যাপারে সাকিব বলেন মহান আল্লাহ পাকের অশেষ কৃপাই আমার প্রতিষ্ঠানে প্লে- থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত আধুনিক শিক্ষার পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি কোরআন হাদিসের শিক্ষা বাধ্যতামুলক করা হয়।

ভারতসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে চীন, এটিই কম্যুনিস্ট দলের স্বভাব’

ঢাকা অফিস ॥ ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে বর্তমানে চীনের আক্রমণাত্মক অবস্থানই চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির ‘প্রকৃত স্বভাব’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাত দিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব কেইলি ম্যাকেনানি এ কথা জানিয়েছেন।  সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে ভারতের মুখোমুখি অবস্থান ও তার জেরে ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ জানিয়ে কেইলি ম্যাকেনানি জানান, আমরা গভীরভাবে লাদাখ সীমান্ত নিয়ে চীন ও ভারতের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছি। ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহল। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে চীনের বিরোধ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যাপারে বেইজিংয়ের আগ্রাসী অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের এসব কর্মকান্ড মূলত চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির প্রকৃত চরিত্রকেই তুলে ধরে।’ যুক্তরাষ্ট্র চীন-ভারতের সীমান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় বলে জানান হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব।

আজ সাংবাদিক নুর আলম দুলালের পিতা-মাতার স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত

কুষ্টিয়ার কাগজ’র সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজ’র স্টাফ রিপোর্টার, বাসস, এস এ টিভি কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক নুর আলম দুলালের পিতা আব্দুস ছাত্তারের ১৩তম ও  মাতা নুর জাহান বেগমের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বাদ জুম্মা কুষ্টিয়া পশ্চিম মজমপুর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৩ জুলাই রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার হাসপাতালে মরহুম আব্দুস ছাত্তার ও ২০১৫ সালের ৮ই মে মরহুমা নুরজাহান বেগম পশ্চিম মজমপুরস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম আব্দুস ছাত্তার ও মরহুমা নুরজাহান বেগমের জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মিরপুর পৌরসভায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিরপুর পৌরসভা সেক্টরের সামনে সহ বেশ কয়েক জায়গাতে ড্রেন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে পৌরসভার বাসিন্দারা ক্ষুব্দ হলেও প্রভাবশালী মেয়র হাজী এনামুল হকের কারণে তারা কিছুই বলতে পারছেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুর পৌরসভাধীন সেক্টরের সামনে মাঠের মধ্যে  ড্রেন নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালি ব্যবহার করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মেসার্স তামান্না এন্টারপ্রাইজ। তামান্না এন্টারপ্রাইজের হয়ে মেয়র নিজেই এ ড্রেন নির্মানের কাজ করছেন বলে জনশ্র“তি রয়েছে। কাজের দেখভাল করছেন মেয়রের একান্ত অনুগত উপসহকারী প্রকৌশলী মো: আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও ড্রেন নির্মাণ কাজে পৌরসভার গাড়ী ও স্টাফদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।  এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেক্টরের সামনে ড্রেনটি যেভাবে করার কথা রয়েছে  সে অনুযায়ী করা হচ্ছে না। ড্রেন নির্মাণে যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে তা এতটাই নিম্নমানের যে কাজ করার সময়ই তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। রাস্তা থেকে ড্রেনটি বেশ নিচু হচ্ছে ফলে ড্রেনের পানি ড্রেনেতেই থেকে যাবে। কাজের মান অত্যন্ত খারাপ হলেও আমরা কোন কিছুই বলতে পারি না। মেয়র তার ইচ্ছে মতো কাজ করছে। আর এই ড্রেন নির্মাণের ফলে কৃষকরা মাঠে যাওয়া আসা করতে কোনভাবেই পারবে না। এটা সাধারন মানুষ এবং চাষীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

কোয়ারেন্টাইন নীতিতে অনিয়মে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ

ঢাকা অফিস ॥ কড়াকড়িভাবে সীমান্ত বন্ধ এবং কার্যকরী কোয়ারেন্টাইন নীতির কারণে নিউজিল্যান্ড বেশ সফল্যতার সঙ্গেই করোনাভাইরাস ‘নির্মূল’ করতে সফল হয়। জুনের শুরুর দিকে দেশটিকে করোনামুক্ত ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। তবে সম্প্রতি কোয়ারেন্টাইন বিধি লংঘনের একাধিক ঘটনার কারণে নিউজিল্যান্ডে নতুন করে সংক্রমণের আশঙ্কা দিয়েছে। এ নিয়ে বিতর্কে পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেভিড ক্লার্ক।  দায়িত্বে পালনে ব্যর্থ হয়ে পদ ছাড়েন ক্লার্ক। গতকাল বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা এটি নিশ্চিত করেছেন। বিবিসি জানায়, করোনাকালে লকডাউন ভেঙে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে বিতর্কিত হন নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেভিড ক্লার্ক। পাশাপাশি করোনাকালে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে। আইসোলেশনে থাকা দুই রোগী কোনো পরীক্ষা ছাড়াই তাদের বাবা মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যাওয়ার সুযোগ পান। পরে তাদের শরীরে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়। এতে দেশটি নতুন করে করোনা ঝুঁকির মুখে পড়ল। পদত্যাগের বিষয়ে ডেভিড ক্লার্ক বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় যে সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেগুলোর পুরো দায়ভার আমি নিচ্ছি। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন দেড় হাজারের কিছু বেশি লোক। এর মধ্যে মারা যান মাত্র ২২ জন। করোনার প্রকোপ একেবারে কমে আসায় মে মাস থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে শুরু করে নিউজিল্যান্ডবাসী। এরপর ধাপে ধাপে জুন মাসে লকডাউন পুরোপুরি তুলে নেয়া হয়।

 

চিকিতসা না দিয়ে রোগী ফেরত পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া যায়নি – স্বাস্থ্য অধিদফতর

ঢাকা অফিস ॥ চিকিতসা না দিয়ে সাধারণ রোগী ফেরত পাঠানোর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে রোগী ফেরত পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক মো. আমিনুল হাসানের স্বাক্ষরে হাইকোর্টকে দেয়া এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে প্রতিবেদন আসার বিষয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের সকল হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লক্ষ্য করছি এমন ঘটনার খবর প্রকাশ পাচ্ছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের খবরসমূহ নির্ধারিত তারিখে পরবর্তী শুনানির দিন মহামান্য আদালতে উপস্থাপন করব। প্রায় একই কথা বলেন রিটকারী অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ১১ জুন দেশের সকল সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহে কোভিড ও ননকোভিড রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। তাছাড়া অধিদফতরের হাসপাতাল শাখা থেকে ১৮ জুন দেশের সকল হাসপাতাল ক্লিনিকসমূহকে নির্ধারিত ফি’র (ইউজার ফি) বিনিময়ে (কোভিড-১৯) রোগীর চিকিৎসা অব্যাহত রাখার জন্য এবং ২৯ জুন সকল বেসরকারি হাসপাতালসমূহে সকল ধরনের রোগীদের (কোভিড/নকোভিড এরিয়া চিহ্নিত/বিভাজন পূর্বক) সকল ধরনের চিকিৎসা প্রদানের অনুমোদন প্রাপ্ত ওআরটি পিসিআরের সুবিধা সম্বলিত যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নিদিষ্ট ফি’র বিনিময়ে চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। এসব নির্দেশ পালনে অপারগতা প্রকাশকারী/ ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাদের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত/ বাতিলের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে স্মারকে উল্লেখ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি তাই কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে এ ধরনের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৫০ বা তার অধিক শয্যার বেসরকারি হাসপাতালে (যেমন-স্কয়ার, এভার কেয়ার, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল ইত্যাদি) নির্দেশনা মেনে কোভিড-১৯ ও নন কোভিড রোগীদের পৃথকভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চে এই প্রতিবেদন মঙ্গলবার দাখিল করা হয়। এই প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। তবে রিটকারী আইনজীবীরা এ বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন ওইদিন না পাওয়ায় তারা শুনানি করতে সময় নেন। তখন আদালত বিষয়টি নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেন। এ সময় শুনানিতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক, অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান, অ্যাডভোকেট এ এম জামিউল হক ফয়সাল, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান ও মাহফুজুর রহমান মিলন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কিনা বিষয়ে বলা হয়, কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ আইসিইউ-এ চিকিৎসাধীন কোভিড-১৯ রোগীর কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ফি আদায় না করতে পারে সে বিষয়ে মনিটরিং-এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এবং রি-ফিলিংয়ের মূল্য নির্ধারণ করার ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালককে (ভান্ডার ও সরবরাহ) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাইকোর্টে পৃথক পৃথক ৫টি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ১৫ জুন এক আদেশে চিকিৎসা না দিয়ে সাধারণ রোগীদের ফেরত পাঠানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। আদালত আদেশে অবহেলায় মৃত্যু, আইসিইউ বণ্টন, বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ, অক্সিজেন সরবরাহ ও ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকা লকডাউন নিয়ে মোট ১১ দফা নির্দেশনা ও অভিমত দেন। এসব নির্দেশনা ও অভিমতের মধ্যে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত পরের দিন ৭টি নির্দেশনা স্থগিত করে আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৬ জুন এই স্থগিতাদেশ দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের চেম্বার জজ আদালত। এর আগে ভিন্ন-ভিন্ন সময়ে ভার্চুয়াল হাইকোর্টে ৫টি রিট করা হয়। বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ অধিগ্রহণ ও ‘সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো’ স্থাপনার নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. আবদুল আল মামুন। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সাধারণ রোগীদের ফিরিয়ে দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন আইনজীবী এ এম জামিউল হক, মো. নাজমুল হুদা, মোহাম্মাদ মেহেদী হাসান এবং ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান। এছাড়া সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের নির্দেশনা চেয়ে জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে আর একটি রিট করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন। আর করোনা চিকিৎসায় সরকারি নির্দেশনার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করেন আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা। এ ছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রামণের প্রেক্ষাপটে ঢাকা শহরকে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা চেয়ে রিট করেন অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল ইসলাম।

 

 

শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইউল্যাবে সামার ওরিয়েন্টেশন

ঢাকা অফিস ॥ মহামারীর এই স্থবিরতার সময়েও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস্ বাংলাদেশ (ইউল্যাব) চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার। এর ধারাবাহিকতায় ইউল্যাব-এর সামার ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় হলো গত বুধবার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘ইউল্যাব ওয়ার্ল্ডস ইউনিভার্সিটিজ উইথ রিয়েল ইমপ্যাক্ট (ডব্লিউইউআরআই) র‌্যাংকিং ২০২০-এ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাপ্লিকেশন ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। কাজেই আমি মনে করি ইউল্যাবের এই সাফল্য আমাদের পুরো দেশকে, আমাদের শিক্ষাকে, শিক্ষাক্ষেত্রসহ সকলকেই গৌরবান্বিত করেছে। এই অর্জনে তিনি ইউল্যাবের উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান। নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনারা সৌভাগ্যবান যে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ যাত্রা শুরু করছেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক কায়সার হক, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক ইমরান রহমানের মতো দেশবরেণ্য শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব সংকটের মধ্যেই অনেক সম্ভাবনা থাকে, সেই সম্ভাবনাকে আমরা কতটুকু কাজে লাগাতে পারছি তার উপর নির্ভর করবে আমরা কতটা সফল হবো। পারিবারিক বন্ধনকে সমৃদ্ধ করতে আমরা এই সময়কে ব্যবহার করতে পারি, আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা করতে পারি। যারা অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে আছেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, শুধু ডিগ্রি আমাদেরকে সমাজ, জীবনে প্রতিষ্ঠা দেবে না। কর্ম আমাদের প্রতিষ্ঠা দেয়, পরিচিতি দেয়। ডিগ্রি হলো তার একটি উপকরণ। অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এবং জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইউল্যাবের উপাচার্য ড. এইচ এম জহিরুল হক। তিনি শিক্ষার্থীদের এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সুস্থতা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে তাগিদ দেন। তিনি ইউল্যাবের সকল শিক্ষার্থীকে একতাবদ্ধ থাকার বিষয়ে উৎসাহিত করেন।

সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ডের দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়াল

ঢাকা অফিস ॥ দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ এবং এতে মৃত্যু বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার হাজার ১৯ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৩৮ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো এক হাজার ৯২৬ জনের। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি নতুন একটিসহ মোট ৭০টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ হাজার ৯৪৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে ১৮ হাজার ৩৬২টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো আট লাখ দুই হাজার ৬৫৭টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও চার হাজার ১৯ জনের মধ্যে। ফলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৩৮ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৯২৬ জনের। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও চার হাজার ৩৩২ জন। এতে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৬৬ হাজার ৪৪০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩৮ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩২ এবং নারী ছয়জন। এদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব দুজন, চশ্লিশোর্ধ্ব দুজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৬ জন, ষাটোর্ধ্ব আটজন, সত্তরোর্ধ্ব সাতজন, ৮০ বছরের বেশি বয়সী দুজন। তাদের ১১ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, পাঁচজন রাজশাহী বিভাগের, পাঁচজন খুলনা বিভাগের, একজন রংপুর বিভাগের, দুজন সিলেট বিভাগের এবং দুজন বরিশাল বিভাগের। ৩৩ জন মারা গেছেন হাসপাতালে এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বাসায়। গত বুধবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগীদের মধ্যে আরও ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৭ হাজার ৮৭৫টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৭৭৫ জনের দেহে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও শনাক্তে হয়েছে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল চার হাজার ১৪ জনের। সে তথ্য জানানো হয় গত ২৯ জুনের বুলেটিনে। দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আছে ৬৪ জনের। সে তথ্য জানানো হয় ৩০ জুনের বুলেটিনে। বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৩৫ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৯৬০ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ২৮ হাজার ৫০২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৭৫ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৭৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৫ হাজার ৭৫৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৮৯৪ জনকে, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে তিন লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন হাজার ১৬৮ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন তিন লাখ পাঁচ হাজার ৫৮১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৩ হাজার ৬০৮ জন। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, কোনো ব্যক্তির করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। আর করোনার উপসর্গ চলে গেলে আরও ১৪ দিন কোয়ান্টাইনে থেকে কাজে ফেরা যাবে। তিনি বলেন, সুস্থ হওয়ার পর অনেকের কাজে ফিরতে অসুবিধা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে অবশ্যই ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকবেন। উপসর্গমুক্ত হলে তিনি আরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থেকে কাজে ফিরবেন। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সময়টিকে ১০ দিন বলেছে। তবুও অতিরিক্ত সতর্কতা বিবেচনায় আমরা লক্ষণ, উপসর্গমুক্ত হওয়ার পরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন থাকার জন্য বলছি। নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, যারা নিয়োগকারী আছেন, তারা এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আছেন, তাদেরকে কাজে ফিরতে সহায়তা করবেন। এ ক্ষেত্রে আর কোনো পরীক্ষার দরকার হবে না। ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা শনাক্তে বেসরকারি পর্যায়ে আরও একটি পরীক্ষাগার যুক্ত হয়েছে। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে পরীক্ষাগারটি স্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে করোনা পরীক্ষায় মোট পিসিআর পরীক্ষাগারের সংখ্যা দাঁড়াল ৭০টিতে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রত্যেক মাসে। মার্চ মাসে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল তিন হাজার ৬৫টি, এপ্রিলে ৬২ হাজার ৮২৬টি, মে’তে দুই লাখ ৪৩ হাজার ৩৯টি এবং জুনে চার লাখ ৫৭ হাজার ৫৩০টি। জুন পর্যন্ত সব মিলে সাত লাখ ৬৬ হাজার ৪৬০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ১ ও ২ জুলাইসহ এ পর্যন্ত আট লাখ দুই হাজার ৬৯৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ক্রমান্বয়ে আমরা নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়িয়ে চলছি। বুলেটিনে বরাবরের মতো করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেশবাসীর উদ্দেশে তুলে ধরা হয়। চীনের উহান শহর থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়ানো করোনাভাইরাসের ছোবলে গোটা বিশ্ব মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি আট লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৯ হাজারের বেশি। তবে ৬০ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

বাজেটকে অপরিণামদর্শী ও বাস্তবতাবিবর্জিত আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান বিএনপির

ঢাকা অফিস ॥ সংসদে পাস হওয়া ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটকে অপরিণামদর্শী ও বাস্তবতাবিবর্জিত গতানুগতিক বাজেট আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তরার বাসা থেকে অনলাইন প্রেস কনফারেন্সে বাজেট প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে, গত বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্যরা বাজেট প্রত্যাখ্যান করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট পাস হয়েছে, সেটা অপরিণামদর্শী ও বাস্তবতাবিবর্জিত গতানুগতিক বাজেট। যাকে অর্থনীতিবিদরা স্বপ্নবিলাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। জনগণের কাছে ন্যুনতম জবাবদিহিতাহীন, আমলাচালিত, ক্রোনি ক্যাপিটালিস্ট সরকারের কাছে এমন বাজেটই প্রত্যাশিত। এই বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি বলেন, করোনার কারণে সংক্ষিপ্ত করার খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে এবারের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে প্রত্যাশিত দীর্ঘ আলোচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি। মাত্র একদিন (২৩ জুন) বাজেটের সাধারণ আলোচনা করা হয়েছে যা অকল্পনীয়। অথচ ভার্চুয়াল অধিবেশন চালিয়ে হলেও বাজেট আলোচনা দীর্ঘায়িত করে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা যেত। বাজেটের সমালোচনা এড়াতেই তড়িঘড়ি করে বাজেট পাশ করেছে সরকার। সরকার বাংলাদেশকে একটি লুটেরা আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চলছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, লুটপাটকারী, ধনিক শ্রেণী ও আমলাতন্ত্র-নির্ভর অর্থনৈতিক দর্শনের আলোকে প্রস্তুত হয়েছে এবারের বাজেট। অর্থনীতিবিদরা নানাভাবে সরকারকে পথ দেখাতে চেষ্টা করেছেন। বিএনপি করোনা সংকট মোকাবিলায় যেমন ৮৭ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ প্রস্তাবনা দিয়েছিল, একইভাবে এবারের বাজেট কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে গত ৯ জুন সুনির্দিষ্ট পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সমৃদ্ধ তিন বছরের একটি মধ্য মেয়াদী বাজেটের রূপরেখা দিয়েছিল। কিন্তু সরকার বিএনপির সুপারিশ ও অর্থনীতিবিদদের মতামত উপেক্ষা করে একটি গতানুগতিক অবাস্তব বাজেট পাশ করলো, বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরো ২৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৭৮ জন কোভিড  রোগী সনাক্ত হলো। আর এ পর্যন্ত জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

গতকাল ২ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস  থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কোভিড ১৯ আপডেটে জানানো হয়-কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে বৃহস্পতিবার  ৩৬৭ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ১৩৯ টি নমুনা ছিল। তাতে জেলায় নতুন করে ২৬ জনকে আক্রান্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তের মধ্যে দৌলতপুর উপজেলায় ৩ জন, মিরপুরে ১ জন, সদরে ১৬ জন, কুমারখালীতে ৪ জন এবং খোকসায় ২ জন । সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১৬ জনের ঠিকানা শহরের পেয়ারাতলা ২ জন, হাউজিং ডি ব্লক ১ জন, উত্তর আমলাপাড়া ১ জন, হরিপুর ১ জন, পূর্ব মজমপুর ১ জন, আমলাপাড়া ১ জন , কুমারগাড়া ১ জন, মজমপুর ১ জন, র‌্যাবগলি ১ জন, ঈদগা পাড়া ১ জন, বড়িয়া ১ জন, থানাপাড়া ১ জন, মঙ্গলবাড়িয়া ১ জন, কালিশংকরপুর ২ জন। মিরপুর উপজেলায় আক্রান্ত ১ জনের ঠিকানা অঞ্জনগাছি। দৌলতপুর উপজেলায় আক্রান্ত ৩ জনের ঠিকানা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ জন, মালিপাড়া ১ জন, আল্লারদরগা ১ জন। কুমারখালী উপজেলায় আক্রান্ত ৪ জনের ঠিকানা সালঘরমাধুয়া ১ জন,  আলাউদ্দিন নগর ১ জন, বানিয়াপাড়া ১ জন ও পান্টিতে ১ জন। খোকসা উপজেলায় আক্রান্ত ২ জনের ঠিকানা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, মহিলা ৮ জন। এই নিয়ে কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৬৭৮ জন কোভিড  রোগী সনাক্ত হল। (বহিরাগত বাদে)। উপজেলা ভিত্তিক  রোগী সনাক্তের মধ্যে দৌলতপুর ৯২, ভেড়ামারা ৮১, মিরপুর ৪৪, সদর ৩৫২, কুমারখালী ৮৪, খোকসা ২৫ জন। পুরুষ  রোগী ৪৯৬ ও নারী ১৮২ জন। সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ২৮৩ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ২৮১ জন। এর মধ্যে  দৌলতপুর ৩৫, ভেড়ামারা ৪৮, মিরপুর ১৮, সদর ১৩১, কুমারখালী ৩৬ ও খোকসায় ১৩ জন। বহিরাগত সুস্থ ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩৬৪ জন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩১ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যু  – ১১ জন (কুমারখালী-২, দৌলতপুর-১, ভেড়ামারা-১, কুষ্টিয়া সদর ৭)

মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১০ জন এবং মহিলা ১ জন।

সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ করে সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আপনারা আতংকিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন। ঘরে থাকুন, বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হবেন না। বার বার সাবান দিয়ে হাত  ধৌত করুন। যত্রতত্র কফ, থুতু ফেলবেন না। হাঁচি, কাশি  দেয়ার সময় টিস্যু পেপার, রুমাল, বাহুর ভাঁজ ব্যবহার করুন ও ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। একে অপরের থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন ও মাস্ক ব্যবহার করুন।

ইবি প্রশাসনকে শিক্ষক সমিতির ধন্যবাদ জ্ঞাপন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশানের সার্বিক কর্মকান্ডে সন্তুষ্টু হয়ে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। গত ২৯ জুন অনলাইনে শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। গতকাল ২ জুলাই শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কাজী আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত সেই ধন্যবাদ পত্র প্রশাসনের নিকট প্রদান করা হয়। প্রেরিত ধন্যবাদ পত্রে উলে¬খ করা হয় যে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন আগামী ২০ আগস্ট ২০২০ তারিখে ৪ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছে। বিগত ৪ বছরে একটি সুদক্ষ নেতৃত্বের অধীনে প্রশংসাযোগ্য কৃতিত্বের সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়েছে। এই মেয়াদকালে প্রশাসনিক-একাডেমিক স্তর থেকে শুরু করে আর্থিক ও অবকাঠামোগত পর্যায়ে শৃঙ্খলাপ্রতিষ্ঠাসহ যে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে, তার জন্য কর্তৃপক্ষ সাধুবাদ লাভের যোগ্য। এ সময় বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতিবাচক পরিচিতির পরিবর্তে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠত হয়েছে এবং একটি আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয় উন্নীত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই সকল অর্জনের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে মর্যাদাঋদ্ধ করার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বর্তমান প্রশাসনকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়। সেই সঙ্গে এমন চৌকস একটি প্রশাসন উপহার দেওয়ায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা  জানানো হয় মহামান্য চ্যান্সেলর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং ইউজিসিকে। বর্তামানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষাসহ সার্বিক পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টিপাতের জন্য  সংশি¬ষ্ট সকল মহলকে শিক্ষক সমিতি অনুরোধ জানায়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি