বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে – নৌপ্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমা দেবে। এ ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মীদের করোনা চিকিৎসার জন্য ৬০ শয্যার বিশেষায়িত ইউনিটসহ নতুন হাসপাতাল ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা জানান। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দরে হাজারো লোকের আনাগোনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্দরের লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করেছেন। কিছু সহকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এরপরও অপারেশন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। বন্দরের সঙ্গে জড়িতদের সাহসী পদক্ষেপের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের লাইফ লাইন। চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। কোভিড-১৯ চিকিৎসায়ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকবে বন্দর। আমাদের লোকজনকে আমরা সেবা দিতে পারলে নগরের হাসপাতালে ভিড় কমবে, নগরবাসী উপকৃত হবেন। সভায় বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, এক লাখ বর্গফুটের ৬ তলা ভিত্তির ৪ তলা হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ফেব্র“য়ারিতে। সম্প্রতি কাজ সম্পন্ন হয়। ৫টি ব্লকে রেখে নির্মিত এই হাসপাতালে বর্তমানে ১৫০ শয্যা থাকলেও ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। চিকিৎসকের আলাদা কক্ষ, রোগীদের আলাদা ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। হাসপাতালের দুটি ব্লকে করোনা ইউনিট ও আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। ২৫ শয্যায় হাই ফ্লো অক্সিজেন সিস্টেম রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আইসিইউ ওয়ার্ড চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৫০ শয্যার করোনা ইউনিটে ১৩ জন চিকিৎসক, ৩৬ জন নার্সসহ ১৫৯ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ডা. জাফরুল্লাহর নিউমোনিয়া বাড়তির দিকে

ঢাকা অফিস ॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর গলা-ব্যথা ও নিউমোনিয়া বাড়তির দিকে। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জ¦র। করোনা সেরে যাওয়ার পর ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারলেও এখন কম খাচ্ছেন। অন্যদিকে তার সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য সিটি স্ক্যান করানো হবে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে এসব তথ্য জানান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ। তিনি বলেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নিউমোনিয়া রয়েছে, সাথে জ¦র যোগ হয়েছে, মাঝখানে খাওয়া-দাওয়া ভালোই করতে পারতেন, এখন কম খাচ্ছেন। আগে যে সমস্যাগুলো ছিলো, সেগুলো পুরোপুরি ভালো হয়নি। যতটুকু কমেছিল, এখন বাড়তির দিকে যাচ্ছে। মো. ফরহাদ আরও বলেন, আজ (গতকাল বুধবার) তার সিটিস্ক্যান করার কথা রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। ওখানে সিরিয়াল দেয়া আছে। তার ভেতরে যে ইনফেকশন, সেটা এক্সরেতে ভালো আসছে না। তাই সিটি স্ক্যান করানো হচ্ছে। ডা. জাফরুল্লাহ করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তার প্রতিষ্ঠিত নগর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। একপর্যায়ে তিনি করোনা জয় করেন। করোনা মুক্তির পর বেশকিছু দিন সময় পার হলেও তার গলা ব্যথা, নিউমোনিয়ার অবস্থার কাক্সিক্ষত উন্নতি হয়নি। গত মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থার আবার অবনতি হয়। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ দেখতে যান জাফরুল্লাহকে। তিনি প্রয়োনীয় পরামর্শ দিয়েছেন এবং তার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিতভাবে জানাতে বলেছেন।

সব দেশের স্বাস্থ্য খাতই সমালোচনার মুখে – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ কোনও দেশই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল না, ফলে সবখানেই পর্যদুস্ত অবস্থা এবং সব দেশের স্বাস্থ্য খাতই আলোচনা-সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে এবং হচ্ছে; বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোসহ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এবং তাদের অর্থনৈতিক সংগতি আমাদের চেয়ে অনেক ভালো থাকা সত্ত্বেও তারা করোনা মহামারি ঠিকভাবে সামাল দিতে পারেনি। কারণ এটার জন্য কেউই এমনকি চীনও প্রস্তুত ছিল না। চীনে যে চিকিৎসক করোনাভাইরাসের বিষয়ে প্রথম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ও তিনি পরে করোনা আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন। প্রত্যেক দেশেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিতে নানাভাবে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। নেদারল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো এই পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে নিজেই পদত্যাগ করেছেন। জার্মানির একজন প্রাদেশিক মন্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। আরো অনেক দেশেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দেশের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করা হচ্ছে -উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম দিকে যে সমস্ত অসুবিধা ছিল, সমন্বয়েও কিছুটা ঘাটতি ছিল, সেটি এখন আর নেই। এখন অনেক সমন্বিতভাবে করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং সে কারণে আমাদের দেশে মৃত্যুর হার পৃথিবীর যে ক’টি দেশে খুব কম তন্মধ্যে একটি। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সংসদে যে আলোচনা সমালোচনা হয়েছে, সেটিকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে যেভাবে আলোচনা হয়েছে, এটিই ‘বিউটি অফ দ্য ডেমোক্রেসি’। এভাবেই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। আমি মনে করি সংসদের আলোচনাটি দায়িত্ব পালনে এবং গণতন্ত্রকে সংহত করার ক্ষেত্রেও সহায়ক। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়ার প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কী করবেন সেটি প্রধানমন্ত্রীই বলতে পারবেন, অন্য কেউ বলার এখতিয়ার রাখে না, বলতে পারবেও না। ‘সরকার পাটখাত ধ্বংস করছে’ ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের এ বক্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপিই পাটখাত ধ্বংস করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল এবং প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। বিএনপি’র আমলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ’র পরামর্শ অনুযায়ী তারা আদমজীসহ অনেকগুলো জুট মিল বন্ধ করে দিয়েছিল, আবার অনেকগুলো শত শত কোটি টাকা মূল্যের জুট মিল কয়েক কোটি টাকায় ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। এটি শুধু খালেদা জিয়া করেছেন তা নয়, জিয়াউর রহমানের আমল থেকে সেটি শুরু হয়েছিল। ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোনো পাটকল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়নি বরং এই পাট কলগুলো ৪০ বছর ধরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লাভ করতে পারেনি এবং শ্রমিকরাও সঠিকভাবে বেতন পাচ্ছিল না। এই পাটখাতকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এবং এই পাটখাতে উন্নতির জন্য সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সমস্ত দেনা-পাওনা মিটিয়ে দিয়েই তাদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আওতায় আনা হচ্ছে।

ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অধস্তন আদালতে চলবে দেওয়ানি মামলা ঃ সুপ্রিম কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ করোনা মহামারির সময় নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভার্চুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করে দেশের অধস্তন আদালতে দেওয়ানি মামলার কার্যক্রম চলবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে অধস্তন দেওয়ানি আদালতের সংশ্লিষ্ট সেরেস্তায় মোকদ্দমা ও আপিল দায়ের করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতসমূহ স্ব-স্ব সেরেস্তায় শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য মোকদ্দমা ও আপিল দায়ের/ গ্রহণের প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করবে। দেওয়ানি মোকদ্দমা ও আপিল গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আদালত দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসরণ করে সমন জারি করবেন। সুপ্রিম কোর্টের ১৫ জুনের বিজ্ঞপ্তি মূলে প্রচারিত নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহ অতি জরুরি বিষয়সমূহ শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, করোনা সংক্রমণ রোধে বিচারক ও আইনজীবীসহ অন্যান্য সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে পরিচালিত আদালতের কার্যক্রম একটি সাময়িক ব্যবস্থা। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পূর্ব প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হবে। ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে পরিচালিত আদালতের কার্যক্রমকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানানো হয়।

 

চালের বাজার অস্থিতিশীল হলে কঠোর অবস্থানে যাবে সরকার – খাদ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভরা মৌসুমে চালের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কোনো কারণ নেই। যদি কেউ চালের মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করে তাহলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। প্রয়োজনে সরকারিভাবে চাল আমদানির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। গতকাল বুধবার ‘বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে আলোচনা’ শীর্ষক সভায় মন্ত্রীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন। সভার সমন্বয় ও সঞ্চালনা করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় চালকল মালিক সমিতির দুইজন করে প্রতিনিধি, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় উপস্থিত চালকল মালিকদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখেন, সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী গুদামে চাল সরবরাহ করেন, যদি তা না করেন তবে সরকার চাল আমদানিতে যেতে বাধ্য হবে। কিন্তু সরকার আমদানিতে যেতে চায় না, গেলে মিলারদের লস হবে এবং যেসব কৃষক ধান ধরে রেখেছে তারাও লোকসান করবে। এ সময় যেসব মিল এগিয়ে আসবে তাদেরকে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেসব মিলকে পরবর্তীতে সেভাবে মূল্যায়ন করা হবে- জানান মন্ত্রী। মন্ত্রী আরও বলেন, করোনাকালীন সময়ে সবাই বিপদগ্রস্ত। এবার না হয় লাভ একটু কম করলেন। প্রত্যেক বার লাভ সমান হয় না। এবার মানুষকে সেবা করার সুযোগ রয়েছে। সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসুন। ২০১৭ সালের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিল মালিকদের একটা আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৭ সালে হাওড়ে বন্যার সময় সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হলে সরকার চাল আমদানির উপর ট্যাক্স ফ্রি করে দিয়েছিল ফলে ৪০ লাখ মেট্রিক টন চাল বিভিন্নভাবে আমদানি করা হয়। সে কারণে সেই বছর মিল মালিক এবং কৃষক উভয় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, কৃষক বাঁচলে ধান উৎপাদিত হবে এবং আপনারা চালকল মালিকরা বেঁচে থাকবেন। কৃষক যাতে বিপাকে না পড়ে, বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষক যেন ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য এবার আট লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রী মিলগেট থেকে কোন ধান কত দামে বিক্রি হচ্ছে তা যাচাই এবং মনিটরিংয়ের জন্য উপস্থিত বিভাগীয় কমিশনারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। সঠিক সময়ে চাল দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা সাপ্তাহিক, পাক্ষিক একটা সিলিং করে নেন, কখন, কী পরিমাণ চাল সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করবেন। সরকার সব ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিচ্ছে, অতএব সেই প্রণোদনার অংশীদারিত্বের সুযোগ আপনারাও নিতে পারবেন বলে উপস্থিত মিল মালিকদের অবহিত করেন। এ সময় সরকারিভাবে চালের মূল্য বৃদ্ধি কোনোভাবেই হবে না বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, যেহেতু খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সঙ্গে আপনাদের ব্যবসা সবসময় করতে হবে, অতএব লাভ বেশি হলে চাল সরবরাহ করবেন, লাভ কম হলে চাল সরবরাহ করবেন না- এটা হতে পারে না। সভায় উপস্থিত বরিশাল বিভাগ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, গত বোরো মৌসুমের শেষ দিকে কৃষক ধান বিক্রি করে মণপ্রতি ভালো লাভ করেছিল, এবারও বেশিরভাগ কৃষক যে যতটুকু পারে সেই পরিমাণ ধান নিজেদের কাছে ধরে রেখেছে। তাদের আশা এবারও শেষ দিকে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পারবে। খাদ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা- কর্মচারী কঠোর পরিশ্রম করছেন- এজন্য মন্ত্রী তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। তবে সতর্ক করে বলেন, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ধান চাল সংগ্রহের সময় কৃষক বা মিলারের সঙ্গে অসদাচারণ করবেন না, দুর্নীতিতে জড়াবেন না।

থাইল্যান্ড নেয়া হতে পারে সাহারা খাতুনকে

ঢাকা অফিস ॥ উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড নেয়া হতে পারে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনকে। আজ বৃহস্পতিবার অথবা আগামীকাল শুক্রবার তাকে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে গতকাল বুধবার সাহারা খাতুনের ব্যক্তিগত সহকারী মজিবুর রহমান জানান। তিনি জানান, সাহারা খাতুনের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তাকে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মজিবুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতির বিষয়ে আলোচনা চলছে। অনুমতি পাওয়া গেলে আমরা নিয়ে যাব। জ¦র, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় সাহারা খাতুনকে কয়েক দিন আগে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। ২১ জুন জানা যায়, সাহারা খাতুন কথা বলছেন, নড়াচড়া করছেন। গত ২৬ জুন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফের তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

করোনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণ ‘শনাক্তকরণ পরীক্ষায়’ ফি নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পৃথিবীর কোনো দেশে আছে- এই মহামারির মধ্যে মানুষ না খেয়ে আছে, একমুঠো আহারের জন্য আজকে নিরন্ন অসহায় কর্মহীন মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। অথচ করোনা টেস্টের জন্য ২০০ টাকার করে নেয়া হচ্ছে। একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান সেখানেও করোনা টেস্টে ২০০ টাকা নেয়া হয় না। কত বড় গণবিরোধী, গণশত্র হতে পারে এই সরকার। তিনি বলেন, আজকে যদি একজন রিকশাওয়ালাকে তার করোনা টেস্ট করতে যেতে হয়, একজন ভ্যানওয়ালাকে করোনা টেস্ট করতে যেতে হয়, একজন মজুর, একজন কৃষি শ্রমিক তারা সারাদিন কাজ করার পর হয়ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা ইনকাম করতে পারেন, তাও পারে না, কারও ৬০/৭০ টাকা ইনকাম হয়। তিনি ২০০ টাকা দিয়ে করোনা টেস্ট করবে কী করে? আমরা করোনা টেস্টে ফি নির্ধারণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে গুম হওয়ার দুই পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দিতে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, দেশে যদি জনগনের সরকার থাকতো এটা (টেস্টের জন্য পরীক্ষার ফি নির্ধারণ) করতো না। সরকারি চিকিতসা পৃথিবীর বহু দেশে এমনকি বৃটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলেও সরকারি হাসপাতালে চিকিতসা অনেকটা ফ্রি ছিলো। আর উন্নত দেশগুলোতে প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, যখন এই মহামারির সময়ে মানুষকে খাদ্য দেয়া দরকার, মানুষের জিনিসপত্রের দাম কমানো দরকার ঠিক এই সময়ে তারা (সরকার) সুযোগ পেয়ে গেছে। করোনার সময়ে মানুষ আর মিছিল করতে পারবে না-এই সময়ে যত পারিস বাড়াও, বিদ্যুতের দাম, তেলের দাম বাড়াও, গ্যাসের দাম বাড়াও। কী পরিমাণ একটা জুলুমবাজ সরকার, রক্ত শোষণকারী সরকার ক্ষমতায় আছে। রিজভী বলেন, একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে জনগণকে টার্গেট করেছে ওরা। আমরা যে বলি গণদুশমনের সরকার। সেই গণদুশমন আক্ষরিকভাবে এটা সত্য। না হলে তো এখন গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম কমানো উচিত। সেটা না করে তারা আরও বৃদ্ধি করছে। এই মহামারির মধ্যে তো হাজার হাজার লোক নিয়ে নামতে পারবে না। অতএব এই সময়ে করে নাও। সরকারের এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। ‘গুম’ হওয়া পরিবারের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দের ভূমিকার প্রশংসা করেন রিজভী। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উত্তরের গাজী রেজওনুল হক রিয়াজ, আজিজুর রহমান মোছাব্বির, মিজানুর রহমান মিজান, রাসেল রহমান প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে ‘গুম’ হওয়া মীরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সগীর হোসেনের স্ত্রী ও তেজগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কাউসার আহমেদের স্ত্রীর হাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন রিজভী।

করোনায় তারা এখন ফল ব্যবসায়ী

জাহিদ হাসান ॥ এনামুল ইসলাম (৩৫)। পেশায় একজন মোটরশ্রমিক। মাইক্রোবাস চালায় প্রায় ১৫ বছর ধরে। বর্তমানে করোনায় চলছে না তার গাড়ীর চাকা। তাই পেশা পরিবর্তন করেছেন সে। মৌসুমী ফল আম কিনে বাজারে বিক্রি করছে এখন। এভাবে সংসার চালাচ্ছে এনামুল। শুধু এনামুলই না কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা বাজারে প্রায় অর্ধ শতাধিক মৌসুমী ফল ব্যবসায়ী হিসাবে কাজ করছেন। এরা প্রায় প্রত্যেকেই অন্য পেশায়। ছোট ছোট ঝুড়ি, ট্রে, কাটুনে করে আমসহ মৌসুমি ফল বিক্রি করে। মৌসুমী আনারস বিক্রেতা হাফিজ। কুষ্টিয়া থেকে আনারস কিনে এনে রাস্তার ধারে বসে বিক্রি করেন। প্রতিদিন ১-২ হাজার টাকা লাভও করেন। তিনি জানান, করোনার সময় কাজ নেই। তাই আনারস কিনে এনে বিক্রি করছি। প্রতিজোড়া আনারস ১০০-১২০ টাকা বিক্রি করছি। নতুন ফল হওয়ায় আনারসের চাহিদা বেশ ভালো। জামিল আহম্মেদ অটো রিক্সা চালানো বাদ দিয়ে আম বিক্রি শুরু করেছেন। অটো চালানোর চেয়ে হাটে আম বিক্রি করে বেশ ভালো লাভ করছেন তিনি। তিনি জানান, মঙ্গলবার ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি ৩-৫ টাকা লাভ থাকে। রাজমিস্ত্রি মিঠুন কাজ না থাকায় এখন রাজশাহী, নাটোর থেকে আম কিনে কুষ্টিয়ার বাজারে বিক্রি করছেন। আম বিক্রি করে বেশ খুশি মিঠুন। মিঠুন জানান, একটু রোদে পোড়া লাগে। তাছাড়া লাভ ভালোই হয়। প্রতি মৌসুমে আমি আমের ব্যবসা করি। পাখি ভ্যান চালক হামিদুল ইসলাম এখন আর পাখি ভ্যান চালায় না। গ্রাম থেকে জাম পেড়ে নিয়ে গিয়ে কুষ্টিয়ার শহরে বিক্রি করছে। হামিদুল জানান, এই জামের সময় আসলেই আমি শহরে জাম বিক্রি করতে আসি। গ্রামের গাছ থেকে চুক্তি ভিক্তিক জাম পেড়ে বাজারে বিক্রি করে। এতেই বেশ ভালো দিন হাজিরা হয়ে যায়। কুষ্টিয়া শহরের অলিতে গলিতে, জেলার প্রায় প্রতিটা মোড়ে মোড়েই মৌসুমী এসব ফল বিক্রেতার দেখা পাওয়া যাচ্ছে। এসব ফল বিক্রি করে করোনার মধ্যেও রোজগার করে সংসার চালাচ্ছে। সেই সাথে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পুরণ করছে এসব মৌসুমী ফল।

মেহেরপুরে পানিতে ডুবে দু’জমজ ভাই হতাহত 

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর সদর উপজেলার ময়ামারি গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে রনি আহমেদ (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় একই পুকুরে ডুবে যাওয়া তার জমজ ভাই জনিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার বরা হয়েছে। দু’জমজ ভাই ময়ামারি গ্রামের মুনসাদ আলীর  ছেলে।  গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে ময়ামারি গ্রামের একটি পুকুর থেকে হতাহত দু’জমজ ভাইকে উদ্ধার করে এলাকাবাসি। নিহত রনির চাচাতো ভাই এনামুল হক জানান রনি ও জনি জমজ দু’ভাই বাড়ির পাশে একটি পুকুর পাড়ে খেলা করছিল। অসাবধানবশত রনি পুকুরে পড়ে যায়। এসময় জনি তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও পড়ে যায়। পরে স্থানীয় কয়েকজন রনিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এবং জনিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আলমডাঙ্গায় করোনা প্রতিরোধে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সচেতন বৃদ্ধিতে আলোচনা সভা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় করোনা প্রতিরোধে  লোকমোর্চা ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির সচেতন বৃদ্ধিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে স্টেশনপাড়া মন্দিরের পাশে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা লোকমোর্চার সভাপতি  গোলাম ছরোয়ার। প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাজমুল হুসাইন, ওসি তদন্ত মাসুদুর রহমান, সমন্বয়কারি কিতাব উদ্দিন, উপ-সমন্বয়কারি কামরুজ্জামান যুদ্ধ, ডাঃ রাজিব আহম্মেদ, প্রোগ্রাম অফিসার কানিজ সুলতানা, লোকমোর্চার সম্পাদক ও প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম। কলেজিয়েট স্কুলের উপাধ্যক্ষ শামিম রেজার উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারি অধ্যাপক শেখ শফিউজ্জামান, মিরাজুল ইসলাম, রাজকুমার, শুভেন্দু সিংহ রায়, বিধান কুমার রায়, শাহাবুল হক, এমদাদ হোসেন, ডালিম বেদ প্রমুখ।

খুলনার দাকোপে মুজিব জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গর্ভবতী মায়েদের চিকিতসায় সেনাবাহিনী

মহামারী করোনায় প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে সেবা ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে প্রতিনিয়ত অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রতিটি সেনাসদস্য। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১ জুলাই (বুধবার) খুলনার জেলার দাকোপ উপজেলার বাজুয়া সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ১৯৭ জন গর্ভবতী নারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল থেকে দিনব্যাপী এই মেডিক্যাল ক্যাম্পে অন্তঃসত্ত্বাদের সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অস্থায়ী ল্যাবে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। মাতৃকালীন এই চিকিৎসাসেবা সেনাবাহিনীর দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ মহিলা চিকিৎসক দ্বারা সম্পন্ন করা হয়। এসময়ে গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ঔষুধ, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান এবং ত্রাণ বিতরনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন সেনা সদস্যরা। যশোর সেনানিবাসের এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এর নির্দেশনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গত ১০ জুন ২০২০ তারিখ হতে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়াও করোনা প্রতিরোধে ত্রান বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল তদারকি, সাধারণ মানুষকে মাইকিং করে নিয়মিত হাত  ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঘরবাড়ী মেরামত, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, সুপেয় পানি সরবরাহসহ নানাবিক জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আলমডাঙ্গার পারকুলায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায়  শ্লোগান সংবলিত গেঞ্জি ও মাস্ক বিতরণ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা কালিদাসপুর পারকুলা গ্রামের কৃতি সন্তান শেখ আশাদুল হক মিকা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায়  শ্লোগান সংবলিত গেঞ্জি ও মাস্ক বিতরণ করেছেন। গতকাল পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে কালিদাসপুর ইউনিয়নের সকল পাখি ভ্যান, আলমসাধু ও ইজি বাইক চালকদের মাঝে শ্লোগান সংবলিত গেঞ্জি ও মাস্ক বিতরণ করেন। মাস্ক বিতরণ অনুষ্ঠানে পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক অপারেশন স্বপন কুমার দাস, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, সহকারী প্রধান শিক্ষক মাসুদ। মেম্বার আব্দুল হান্নানের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন খন্দকার হাসানুজ্জামান বিপ্লব, শিক্ষক রুহুল আমীন, আব্দুর রশিদ বাবলু, লিংকন জোয়ার্দ্দার, আলম হোসেন, জিয়াউল হক, আনোয়ার, স্বপ্নের জগত শিশু পার্কের সত্তাধিকারী জামাল হোসেন, হাজী আরিফ, তোফা মন্ডল, শেখ জাকির হোসেন, সাদ আহমেদ, নজরুল ইসলাম।

গালওয়ানে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র আনল চীন

ঢাকা অফিস ॥ লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে চীন। এর আগে সেখানে টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছিল ভারত। জবাবে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এস-৩০০, এস-৪০০ আনল বেইজিং। এছাড়া চীন গালওয়ান নদী উপত্যকা, হট স্ক্রিং এবং প্যাঙ্গং সো এলাকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একটু একটু করে সমরসজ্জা বাড়িয়ে চলেছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ভারতীয় ভূখ-ের প্রায় ৪২৩ মিটার এলাকা পর্যন্ত ঢুকে এসেছে চীনা ফৌজ। প্যাঙ্গং রেঞ্জের ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এলাকার মাঝামাঝি চীনের মান্দারিন ভাষায় লেখা বিশেষ প্রতীক ও ম্যাপের চিত্র ধরা পড়েছে স্যাটেলাইট ছবিতে। খবর দ্য হিন্দু ও দ্য প্রিন্টের। গত কয়েক মাস ধরে চীনের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ভারতের। ৬ জুন উভয়পক্ষের প্রথম দফা বৈঠকে কোনো ফল আসেনি। ফলে ১৬ জুন চীন ও ভারতের সেনা সদস্যদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। এতে ২০ ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। কয়েকজন চীনা সেনাও নিহত হন। এরপর থেকেই গালওয়ানে শক্তি বাড়াচ্ছে উভয় দেশ। সীমান্তে আমেরিকা থেকে কেনা আল্ট্রা-লাইট হাউইৎজার কামান মোতায়েন করেছে ভারত। রাশিয়া থেকে কেনা অত্যাধুনিক টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক, কুইক রি-অ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল মোতায়েনের কাজ চলছে। চীনা গতিবিধি নজরে রাখতে টহল দিচ্ছে ভারতের লড়াকু বিমান সুখোই-৩০, মিগ-২৯ ফাইটার জেট, মিরাজ-২০০০ ফাইটার এয়ারক্রাফট। শক্তিশালী অ্যাটাক হেলিকপ্টার অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই, সিএইচ-৪৭এফ চিনুক মাল্টি-মিশন কপ্টার নামিয়েছে বিমানবাহিনী। উড়ানো হয়েছে ইসরাইল থেকে কেনা সশস্ত্র হেরন ড্রোন। জবাবে চীনও সীমান্তে শক্তি বাড়াচ্ছে। একটি সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার দ্য প্রিন্ট জানায়, রাশিয়া থেকে আনা আল্ট্রা-মডার্ন এস-৪০০, এস-৩০০, এলওয়াই-৮০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে বেইজিং। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অধিক উচ্চতা ও পাহাড়ের চূড়ায়ও কাজ করতে সক্ষম। এছাড়া বেইজিং জিনজিয়ান প্রদেশ থেকে চতুর্থ মোটর রাইফেল ডিভিশন এনেছে লাদাখে। এ ছাড়া গালওয়ানের বিতর্কিত এলাকায় মান্দারিন ভাষার প্রতীক ও ম্যাপ স্থাপনের ছবি দেখা গেছে উপগ্রহের চিত্রে। দেখা গেছে, ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ও ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ এলাকার মাঝামাঝি প্রায় ৮১ মিটার দীর্ঘ ও ২৫ মিটার প্রশস্ত এলাকায় চীনের সেনার তৎপরতা বেড়েছে। সেখানে কংক্রিটের বাঙ্কার তৈরি করেছে তারা। ওই এলাকাজুড়ে শতাধিক বুলডোজার, ট্রাক ও যুদ্ধাস্ত্র জড়ো করেছে চীনা ফৌজ। অন্তত ১৮৬টি অস্থায়ী ছাউনি, তাবু বানানোর কাজ চলছে।

প্রকাশিত সংবাদে কুষ্টিয়া সুগার মিলস্ কর্তৃপক্ষের বিবৃতি

গত ২৪-০৬-২০২০ খ্রিঃ তারিখে দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় “কুষ্টিয়া সুগার মিলে লোকসানের বোঝার সাথে পাল¬া দিয়ে বেড়েছে অনিয়ম দুর্নীতি” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদে উলে¬খিত অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক। এখানে যে বিষয়গুলি বর্ণিত হয়েছে তা সত্যাসত্য আদৌ নেই। কুষ্টিয়া সুগার মিলস্ লিঃ এর সমস্ত কর্মকান্ড নিয়মনীতি যথারিতি মেনে পরিচালিত হয়ে থাকে। নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটানোর কোন অবকাশ এখানে নাই এবং ঘটে নাই, যার তথ্য প্রমানক কুষ্টিয়া সুগার মিলস্ লিঃ এর দপ্তরে সংরক্ষিত থাকে। বিশেষ একটি মহল উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজস্বার্থ চরিতার্থ করার হীন মানসে এহেন ন্যাক্কারজনক বিষয়ে অবতারনা করেছেন মাত্র। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সুগার মিলস্ লিঃ এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উক্ত প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

স্বাঃ/=

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

কুষ্টিয়া সুগার মিলস্ লিঃ

জগতি, কুষ্টিয়া।

দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অর্থদন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে করোনা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এক দোকানদারসহ ৬জনের ৪ হাজার ৫০০টাকা অর্থদন্ড করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে এ অর্থদন্ড করেন। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, করোনা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় খলিশাকুন্ডি বাজারে ৫টি মামলায় ১৮৬০ সনের দন্ডবিধি ২৬৯ ধারায় ৫ জনকে ২৫০০ টাকা অর্থদন্ড করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আক্তার। একই সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় এক ব্যবসায়ীর ২০০০ টাকা অর্থদন্ড করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, করোনা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পৃথক ৬টি মামলায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। একইসাথে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রশংসা নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সুরক্ষা ও জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব কার্যক্রম ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, এসবের প্রশংসা করেছেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন। বৃহস্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত এ প্রশংসা করেন। সংসদের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে অর্জিত সিডসেল ব্লেকেনের অভিজ্ঞতা, বর্তমান সরকারের সাফল্য, করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ, দু’দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার নিয়ে আলোচনা করেন। শিরীন শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী।’ ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ সময় স্পিকার বিগত চার বছর রাষ্ট্রদূত হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সিডসেল ব্লেকেনের প্রশংসা করেন। স্পিকার বলেন, নরওয়ের তুলনায় ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও সরকারের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সময় বাংলাদেশে করোনা মহামারি মোকাবিলায় নরওয়ের সার্বক্ষণিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন সিডসেল ব্লেকেন। সিডসেল ব্লেকেন বাংলাদেশকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেশী দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ একজন গ্রেফতার

 

নিজ সংবাদ ॥ র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানাধীন শালঘর মধুয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামস্থ চাঁদ আলী জোয়াদ্দার এর বাড়ীর সামনের কাচা রাস্তার উপর’’ একটি মাদক অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ শালঘর মধুয়া পশ্চিমপাড়ার চাঁদ আলী জোয়ার্দ্দারের ছেলে মোঃ জিয়াউর রহমান (৩৬) কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে  ১টি মোবাইল ফোন, ১টি সীমকার্ড এবং নগদ ১৩শ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মাদক মামলা দায়ের করে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

জেলায়  মোট কোভিড পজেটিভ ৬৫২ জন ; মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১১

কুষ্টিয়ায় পুলিশসহ নতুন করে আরো ৩০জন করোনায় আক্রান্ত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় পুলিশসহ নতুন করে আরো ৩০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৬৫২ জন  কোভিড রোগী সনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ১ জুলাই বুধবার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।              কোভিড ১৯ আপডেটে জানানো হয়- কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১ জুলাই  ৩৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ১২৬ টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৩০ জনকে আক্রান্ত বলে সনাক্ত করা হয়েছে (এবং ৩টি ফলোয়াপ পজেটিভ)।

নতুন আক্রান্তের মধ্যে দৌলতপুরে ৯ জন, মিরপুরে ১ জন, সদরে ১৮ জন, কুমারখালীতে ১ জন ও খোকসায় ১ জন ।  সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে জুগিয়া ১জন, হাউজিং এস্টেট ১ জন, পশ্চিম মজমপুর ২ জন, পুলিশ লাইন ১ জন, থানাপাড়া ১ জন, উত্তর আমলাপাড়া ১ জন, পূর্ব মজমপুর ২ জন, সিএসবি  রোড, আমলাপাড়া ১ জন, এন এস রোড ১ জন, কাস্টমস মোড় ১ জন, চৌড়হাস ১ জন, বারখাদা ৪ জন ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ১ জন। মিরপুর উপজেলায় আক্রান্ত ব্যক্তির ঠিকানা মালিহাদ। দৌলতপুর উপজেলায় আক্রান্ত ৯ জনের ঠিকানা দফাদারপাড়া ৪ জন, মহেশকুন্ডি ৪ জন, আদাবাড়িয়া ১ জন। কুমারখালী উপজেলায় আক্রান্ত ১ জনের ঠিকানা তারাপুর।  খোকসা উপজেলায় আক্রান্ত ১ জনের ঠিকানা চড়পাড়া । নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ১৯ জন ও মহিলা ১১ জন। এই নিয়ে কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত ৬৫২ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হল। (বহিরাগত বাদে)।

উপজেলা ভিত্তিক রোগী সনাক্তের মধ্যে দৌলতপুর ৮৯, ভেড়ামারা ৮১, মিরপুর ৪৩, সদর ৩৩৬, কুমারখালী ৮০, খোকসা ২৩ জন।  মোট আক্রান্ত পুরুষ রোগী ৪৭৮ ও নারী ১৭৪ জন। গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন মোট ২৫৭ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ২৫৫ জন (দৌলতপুর ৩২, ভেড়ামারা ৪০, মিরপুর ১৮, সদর ১১৬, কুমারখালী-৩৬ ও খোকসা ১৩)। বহিরাগত সুস্থ ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩৬১ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৪ জন।

১ জুলাই পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে (কুমারখালী -২,  দৌলতপুর-১, ভেড়ামারা-১, কুষ্টিয়া সদর-৭)। কুষ্টিয়া শহরের  মোল¬াতেঘরিয়ার বাসিন্দা একজন পুরুষ রোগী যার বয়স ৪০ বছর তিনি গত ২১ জুন কোভিড পজেটিভ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ জুন রাতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১০ ও মহিলা ১ জন।

 

২২ দৌলতপুরে ব্যবসায়ীর অস্বাভাবিক মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আব্দুল মান্নান (৫২) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গড়–ড়া ঠাকুরপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। সে একই গ্রামের মৃত হারান মন্ডলের ছেলে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল মান্নানের সাথে তার ব্যবসায়িক পার্টনার ফকির মন্ডলের ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মতবিরোধ হয়। এনিয়ে গত ১১ জুন দু’জনের মধ্যে মারপিট ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে ফকির মন্ডল ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুল মান্নানের গলা চেয়ে ধরে শ^াসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসাসীর সহায়তায় আব্দুল মান্নানকে উদ্ধার করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সুস্থ হয়ে সে বাড়ি ফিরলে গতকাল সকালে তার আকষ্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। তবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারনা। এনিয়ে নিহতের পরিবার দৌলতপুর থানায় অভিযোগ করলে স্থানীয়দের মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়। মৃত আব্দুল মান্নানের পরিবারকে তার ব্যবসায়িক পার্টনার ফকির মন্ডল ১লক্ষ টাকা দিবে এমন সমঝোতা ও চুক্তিতে নিহতের দাফন সম্পন্ন করা হয়। বিষয়টি দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান অবগত আছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে নিহতের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন বা তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন কোন আলমত না থাকায় পরিবারের সম্মতিতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পশুর হাট সংক্রমণের হার আরও বাড়িয়ে দেবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোরবানির পশুরহাট সংক্রমণের হার আরও বাড়িয়ে দেয়ার আশঙ্কা থাকায় এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে কার্যকর গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। গতকাল বুধবার সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, যত্রতত্র পশুর হাটের অনুমতি দেয়া যাবে না, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না করলে কোরবানির পশুর হাট স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়ানক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আগেই করণীয় নির্ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। মহাসড়ক ও এর আশপাশে পশুর হাটের অনুমতি দেয়া যাবে না। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের ৯টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে, করোনার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আমফানের রেশ না কাটতেই বন্যার পানিতে ডুবে যাচ্ছে বসতবাড়ি, কৃষকের ফসল, মানুষের স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যা কবলিত জেলাসগুলোতে পাঠানো হচ্ছে ত্রাণ সহায়তা। আমাদের আস্থার প্রাচীর, মনোবলের আলোকশিখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি বিষয়ে নিবিড়ভাবে মনিটর করছেন। সকলকে ঐক্য এবং সাহসিকতার সাথে দুর্যোগ উত্তরনে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ যে সক্ষমতা দেখিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই ধারাবাহিকতায় এবারও অসহায় মানুষের পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।

 

স্বাস্থ্যখাতের ৫ ঠিকাদারকে দুদকে তলব

ঢাকা অফিস ॥ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সরকারের স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত পাঁচ ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য জানিয়েছেন। তলব পাওয়া পাঁচ ঠিকাদার হলেন, মেসার্স জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রাজ্জাক, তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেডের সমন্বয়কারী (মেডিকেল টিম) মো. মতিউর রহমান, এলান করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম আমিন, মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান ও লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। এরমধ্যে আবদুর রাজ্জাক, মতিউর রহমান ও আমিনুল ইসলাম আমিনকে ৮ জুলাই এবং হুমায়ন কবির ও মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে ৯ জুলাই দুদকে হাজির হয়ে রেকর্ডপত্রসহ বক্তব্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য করা হবে। দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর স্বাক্ষরিত জরুরি তলব নোটিশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার নিমিত্ত নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জামাদি কেনাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের নামে অন্যান্যের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বক্তব্য শোনা এবং গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।