গাংনী পৌরসভার বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার ২০২০-২১ইং অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পৌর পরিষদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অধিবেশনের আয়োজন করে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কাউন্সিলবৃন্দ, ইঞ্জিনিয়ার শামীম রেজাসহ সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এবারে ২০২০-২১ অর্থ বছরের আয় ও ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৩ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের

ঢাকা অফিস ॥ করোনাকালীন দুঃসময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ, স্থায়ী ও অস্থায়ী ৫১ হাজার শ্রমিকের চাকরিচ্যুতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পাঠানো এক বিবৃততিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রীয় খাতের সবগুলো পাটকল সরকার বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাটকলগুলোয় বর্তমানে স্থায়ী শ্রমিক আছেন ২৪ হাজার ৮৮৬ জন। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত বদলি ও দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। অর্থাৎ ৫১ হাজার কর্মীর পরিবারের অন্তত আড়াই লাখ মানুষের জীবনে এক চরম বিপর্যয় তৈরি করা হচ্ছে। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, যখন করোনার ভয়ঙ্কর অভিঘাতের ফলে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ নেয়া দূরে থাকুক, সরকার বর্তমানে কর্মে নিযুক্ত মানুষকেও কর্মচ্যুত করছে। তারা বলেন, পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কারণ হিসেবে পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গত ৪৮ বছরে সরকারকে এই পাট খাতে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। আমরা বলতে চাই, পাট খাতে যে লোকসান হয় সেটার জন্য শ্রমিকরা কোনোভাবেই দায়ী নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য সব খাতের মতো প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অযোগ্যতার কারণেই এই শিল্পগুলোতে লোকসান হয়। সেই ব্যর্থতার মূল্য আজ দিতে হচ্ছে শ্রমিক ভাইদের। এই চাকুরিচ্যুতির আগেও দফায় দফায় শ্রমিকদেরকে রাস্তায় নামতে হয়েছে জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, তথাকথিত ‘উন্নয়নের রোল মডেল’রাষ্ট্রটি তার অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করা নাগরিকদের বেতন মাসের পর মাস বাকি রেখেছিল। যার জন্য তাদের বার বার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হয়েছে। এখন সেই শ্রমিকদের ওপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পাটকলগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় চলবে। সরকারের অতীত রেকর্ড থেকে এই আশঙ্কা করার খুবই যৌক্তিক কারণ আছে যে, শেষ পর্যন্ত এই পাটকল এবং এর সব সম্পত্তি সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হবে নামমাত্র মূল্যে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের পাটকল শিল্পকে ধ্বংস করে পশ্চিম বাংলার মৃতপ্রায় পাটকলগুলো চালু করার নীলনকশারও অংশবিশেষ বলে প্রতীয়মান হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি করছি। এই সিদ্ধান্ত রদ করার লক্ষ্যে পাটকলগুলোর শ্রমিক ভাইদের যেকোনো কর্মসূচির প্রতি আমরা সংহতি জানাই। ঐক্যফ্রন্টের বিবৃতিদাতারা হলেন, ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, ড. আবদুল মঈন খান, মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. রেজা কিবরিয়া ও অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী।

১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে বছরে ১৯-২০ লাখ করে বাড়ছে জনসংখ্যা

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে জনসংখ্যা যেন গাণিতিক মডেল বুঝে গেছে। সেটা অনুসরণ করেই প্রতিবছর জনসংখ্যা বাড়ছে। গত পাঁচ বছর ধরে ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে জনসংখ্যা বাড়ছে। এই সময়ে প্রতিবছর ১৯ থেকে ২০ লাখ করে মানুষ বেড়েছে। ২০১৫ সালে দেশে জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৮৯ লাখ। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে হয়েছে তা ১৬ কোটি ৬৫ লাখ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এমনটাই দাবি করছে। গতকাল মঙ্গলবার ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) ৩য় পর্যায়’ প্রকল্পের ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস-২০১৯’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৬৫ লাখ। তার মধ্যে পুরুষ আট কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার এবং নারী আট কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার। ২০১৫ সালে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৮৯ লাখ, ২০১৬-তে ১৬ কোটি আট লাখ, ২০১৭-তে ১৬ কোটি ২৭ লাখ, ২০১৮-তে ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। পাঁচ বছর ধরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার একই রয়েছে- ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সে হিসাবে পাঁচ বছরের দেশে জনসংখ্যা বেড়েছে ৭৬ লাখ। মোট জনসংখ্যার মধ্যে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী মানুষ রয়েছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৫ থেকে ৪৯ বয়সী ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ, ৫০ থেকে ৫৯ বয়সী ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি মানুষ রয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। পুরুষের মধ্যে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছর, ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছর, ৮ দশমিক ৮ শতাংশের বয়স ৫০ থেকে ৫৯ বছর এবং ৮ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের উপরে। নারীর মধ্যে ২৮ দশমিক ৩ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছর, ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছর, ৮ দশমিক ৬ শতাংশের বয়স ৫০ থেকে ৫৯ বছর এবং ৬০ বছরের বেশি রয়েছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। দেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশই অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তার মধ্যে গ্রামের ৫৫ শতাংশ এবং শহরে ৪৬ শতাংশ মানুষ নির্ভরশীল। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব এক হাজার ১২৫ জন।

ডা. জাফরুল্লাহর শারীরিক অবস্থার অবনতি

ঢাকা অফিস ॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার ফের অবনতি হয়েছে। তিনি করোনাভাইরাস পরবর্তী সেকেন্ডারি নিউমোনিয়ায় ভুগছেন। স্বরযন্ত্রে (কণ্ঠনালি) প্রদাহের কারণে বর্তমানে কথা বলা নিষেধ রয়েছে তার। পাশাপাশি গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত জিআর কোভিড-১৯ র‌্যাপিড এন্টিবডি কিট নিবন্ধন না পাওয়া তিনি খুবই বিষণœ। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জি আর কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে, গত ২৫ মে ডা. জাফরুল্লাহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে গত ১৩ মে তিনি করোনামুক্ত হন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ জুন জানা যায়, তার ফুসফুসে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ হয়েছে। এজন্য তাকে অক্সিজেন ও অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়েছিল। টানা বেশ কয়েকদিন অক্সিজেনেই ছিলেন তিনি। এরপরই ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও এখন আবার অবনতি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কোভিড-১৯ পরবর্তী সেকেন্ডারি নিউমোনিয়ায় ভুগছেন। সপ্তাহে ৩ বার ডায়ালাইসিস নির্ভর কিডনি রোগী হিসেবে দীর্ঘ একমাস রোগ ভোগের কারণে শরীর খুবই দুর্বল। স্বরযন্ত্রে প্রদাহের কারণে বর্তমানে কথা বলা নিষেধ। আল্লাহর রহমত, এ দেশের হাজারও মানুষের দোয়া এবং সীমাহীন মানসিক দৃঢ়তায় তিনি রোগের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ দেখে গিয়েছেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন এবং তার অবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে জানাতে বলেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মুহিব উল্লাহ খোন্দকার আরও বলেন, জিআর কোভিড-১৯ র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি কিট নিবন্ধন না পাওয়া জাফরুল্লাহ চৌধুরী খুবই বিষণœ। তবে ওষুধ প্রশাসন ও বিএসএমএমইউ কিটের উন্নয়নে সহায়তা করবে জানতে পেরে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গণস্বাস্থ্য আরএনএ বায়েটেক লিমিটেড কিটের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করেছে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই কিটটি নিবন্ধন পাবে এবং বিএসএমএমইউ দ্রুত অ্যান্টিজেন কিটের পরীক্ষার কাজও শুরু করবে। গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল করোনা রোগীদের জন্য শিগগিরই ১৫ শয্যার একটি আইসিইউ শয্যা চালু করতে যাচ্ছে। অসুস্থতার মধ্যেও অর্থ জোগাড় করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সার্বিক কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। জাফরুল্লাহ সবার দোয়া চেয়েছেন এবং তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের অবস্থাপন্নদের সহায়তা চেয়েছেন, যোগ করেন মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।

বেলজিয়ামে নতুন রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ

ঢাকা অফিস ॥ ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশনে কর্মরত মাহবুব হাসান সালেহকে বেলজিয়ামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিসিএস ফরেন সার্ভিসের ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা মাহবুব হাসান সালেহ বাংলাদেশের কলকাতা, সিউল ও ক্যানবেরা মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি দিল্লির বাংলাদেশ মিশনে ডেপুটি চিফ অব মিশন হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মাহবুব হাসান সালেহ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কূটনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন। তিনি কবি ও বক্তা হিসেবে সুপরিচিত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন মহাপরিচালক: সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রধান নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামসকে তিন বছরের জন্য চুক্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার এ নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। অপর আদেশে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োজিত মো. আজিজুর রহমার চৌধুরীর চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। ৩০ মে বা যোগদানের তারিখ থেকে এ মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ কার্যকর হবে। এছাড়া আশরাফুল আলম পপলুকে দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক পদে ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষকলীগের উদ্যোগে কুমারখালীতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপজেলা কৃষক লীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী শুরু করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নন্দলালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর- বুজরুক বাঁখই সড়ক এলাকায় ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপনের মধ্যদিয়ে এ কর্মসূচী উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কুমারখালী উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আবু হানিফ, সাধারন সম্পাদক মুন্সী ইকবাল, জেলা কৃষক লীগের সদস্য কফিল উদ্দিন সেখ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রেফুল করিম, মুন্সী রাব্বি প্রমূখ। উপজেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক মুন্সী ইকবাল জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উপজেলা কৃষক লীগের উদ্যোগে আমরা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়কে বৃক্ষরোপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যেই উপজেলা কৃষকলীগের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে নন্দলালপুর ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায় ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপন করা হয়েছে।

গড় আয়ু বেড়ে ৭২ দশমিক ৬ বছর

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু আরও কিছুটা বেড়ে ৭২ দশমিক ৬ বছর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস। পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) ৩য় পর্যায়’প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রকল্প পরিচালক একেএম আশরাফুল হক গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস এর সম্মেলন কক্ষে ওই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন। এর আগে ২০১৮ সালের জরিপে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু পাওয়া গিয়েছিল ৭২ দশমিক ০৫ বছর। আশরাফুল হক বলেন, এবারের জরিপে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়ে ৭১ দশমিক ১ বছর এবং নারীদের ৭৪ দশমিক ২ বছর হয়েছে। আগের জরিপে পুরুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ৬ বছর; আর নারীদের ৭৩ দশমিক ৫ বছর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ধারাবাহিকভাবেই বাড়ছে। শিশুমৃত্যুর হার কমে আসায় এবং দেশে জটিল রোগের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়াকে এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী এই জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ভয় দেখিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে বিরত রাখা যাবে না – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে বিরত রাখা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত সংসদে উত্থাপিত বিলের প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে সরকারের উদ্দেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে ‘বিদ্যুৎ-জ¦ালানির দাম বৃদ্ধি করা যাবে না’ শীর্ষক ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আর কত ভয় দেখাবেন? আর কত বিরোধী দল, বিরোধী মতের ওপর নির্যাতন করে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে কেড়ে নিয়ে হুমকি দেখাবেন? আমরা দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে, জনগণ রুখে দাঁড়াবে। আমরা আমাদের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হবো না। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। ত্রাণ দিতে গিয়েছি, ত্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এই ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষের ছায়া যখন নেমেছে। এর পরেও চলছে এই পরিস্থিতি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না, প্রতিবাদ করা যাবে না- এমন কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা জানি আমাদের ওপর আঘাত এসেছে, বছরের পর বছর কারাগারে থেকেছি। কিন্তু তারপরও আমাদের কণ্ঠকে রুদ্ধ করা যায়নি। বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিল পাস হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ভৌতিক বিল আসছে। অসহায় মধ্যবিত্ত মানুষ হাহাকার করছে। বলা হচ্ছে, চাহিদার চেয়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন করা হয়েছে। তাহলে এই যে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন করা হয়েছে, এর বেশিরভাগ রেন্টাল-কুইক রেন্টালের। অর্থাৎ এসব কেন্দ্রের ভাড়া দিতে হচ্ছে সরকারকে এবং বেশি দামে তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে সরকারকে। এই টাকা কে দিচ্ছে? এই টাকা জনগণের পকেট থেকে নিয়ে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। তাহলে কীসের উন্নয়ন? জনগণকে পিষ্ট করা হবে আর মানিকগঞ্জে খাবার না পেয়ে বাচ্চা বিক্রি করছে মা। এই হচ্ছে পরিস্থিতি, এটা চলতে পারে না। উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজুর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ জি এম শামসুল হকের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন নতুন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম নকি ও দফতর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক।

 

বৃষ্টি হলেই এক হাটু পানি ও কাঁদা

রাস্তা মেরামতে ভরসা শিক্ষার্থীরা!

হাবিবুর রহমান ॥ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মসজিদের যাওয়ার রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরেই বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দুই ধারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা পুকুরে মাছ চাষ করায় রাস্তাটির অধিকাংশ পুকুরের জন্যই ভেঙ্গে গেছে। সেই সাথে কদিনের বৃষ্টির পানি জমে একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে রাস্তাটি। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের নওদা কুর্শার এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে ঐ এলাকার প্রায় ৭০ পরিবারের মানুষ। তবে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথা জনপ্রতিনিধিদের কানে একাধিকার বাঁজলেও কোন ফল হয়নি। বৃষ্টির কারণে চলাচলের রাস্তা ডুবে যাওয়ায় স্থানীয়দের অর্থায়নে অর্ধ ভাঙ্গা ইট আনলেও দেওয়ার লোক নেই। এতে দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজিম উদ্দিনের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই রাস্তা সংস্কার করেছে। পারিশ্রমিক হিসাবে খুশি করে বাচ্চাদের নাস্তা করিয়েছেন ঐ শিক্ষক। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় একটু বৃষ্টি হলেই এক হাটু পানি ও কাঁদা জমে। বার বার মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও কোন কাজ হয়নি। তারা বার বার ঘুড়াই কিন্তু কাজের কাজ হয়না। জাহানারা খাতুন নামের এক নারীর অভিযোগ, ভোট নেওয়ার সময় ছাড়া, মেম্বার আর চেয়ারম্যানের দেখা নাই। আমরা যে পানির মধ্যে এত কষ্টে বসবাস করি, রাস্তা নেই বের হওয়ার, তা কেই দেখে না। লালটু হোসেন নামের একজন জানান, কাঁদায় গাড়ী তো দুরের কথা, পায়ে হেটেও চলাচল কষ্টকর। এমন রাস্তা মনে হয় আর কোথাও নেই। পাশের পাকা রাস্তাও হাটু পানির নিচে ডুবে গেছে। পানি বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় ঐ স্কুল শিক্ষক নাজিম উদ্দিন জানান, আমি স্থানীয়দের সহায়তায় ইট ফেলেছি। কিন্তু সেগুলো সমান করার জন্য কেউ রাজি হয়নি। যেহেতু এটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পানিতে পড়ে যায়। এজন্য আমি নিজে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে রোববার সারাদিন কাজ করে রাস্তাটা একটু চলাচলের উপযোগী করেছি।

ওয়ার্ড আওমীলীগের সভাপতি সাইদ মালিথা জানান, আমার পুকুর আছে তো কি করার আছে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। আর এগুলো মেরামত করার দায়িত্ব আমার নাকি? আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমার কথায় কোন কাজ হয় না। তবে রাস্তাটি সংস্কারের দাবীও জানান তিনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ টিক্কা জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আমি একাধিকবার চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। তবে কোন কাজ হয়নি। চেয়ারম্যান বরাদ্দ না দিলে আমি কিভাবে সংস্কার করবো। রাস্তাটি বর্তমানে প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বিশ্বাস জানান, স্বল্প বরাদ্দ হওয়ার কারণে অনেক রাস্তা করা হয়নি। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঐ গ্রামে আরো দুটি রাস্তা করা হয়েছে এবছর। আর ঐ রাস্তাটির জন্য একাধিকবার ডিও লেটার দিয়েছি।

গাংনীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাট বামন্দী গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে জয়নাল আবেদীন (৫৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।  জয়নাল আবেদীন বামন্দী শহরের খোদা বকসের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে নিজ বাড়িতে সে মারা যায়। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রিয়াজুল আলম জানান জয়নাল আবেদীনের সর্দি-কাশি ছিল। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল আসলে মারা যাওয়ার কারণ বলা সম্ভব হবে।

 

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলমডাঙ্গা উপজেলার আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক  সভা অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রথমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে সকলের করণীয় বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০ টারদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে  সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন।তিনি বলেন যে কোন সময়ের  চেয়ে বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল। আলমডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন-আপনারা সকলে যদি সচেতন না হন তাহলে করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। গ্রামের যে সমস্ত বাজার আছে  সেখানে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি কেউ মানছে না। এভাবে চলতে থাকলে আলমডাঙ্গা উপজেলাতে দ্রুত করোনার সংক্রমন ছড়িয়ে পড়বে। থানা অফিসার ইনচার্জের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ওসি তদন্ত। তিনি বলেন এলকার  দুর্নিতি, সন্ত্রাসের  বিরুদ্ধে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, কারন সমাজ থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে,। আমরা মাদকের সাথে কোন আপোষ করব না। গতমাসে তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। সভায় বিশেষ  অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন  উপজেলা স্বাস্থ্য ও প,প, কর্মকর্তা ডাঃ হাদী জিয়াউদ্দিন আহম্মদ, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরু,  এ্যাডঃ আব্দুল মালেক, আমিরুল ইসলাম মন্টু, নজরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম রোকন, সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম আজম, বাড়াদী ইউপি  চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ, পিআইও এনামুল হক, উপজেলা  মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল¬াহিল কাফি, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আব্দুল হালিম মন্ডল, আবু হোসেন আবু, মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম খন, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, জহুরুল হক প্রমুখ।

টাকার অভাবে অপারেশন করতে পারছে না

শিশু অজিলা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই

জাহিদ হাসান ॥ তিন বছরের শিশু ওজিলা খাতুন। মা-বাবা দুজনেই থাকে ঢাকায়। একমাত্র মেয়ে অজিলা থাকে তার নানা-নাতির কাছে। তিন বছর বয়সী এই শিশুটি আজো উঠে দাঁড়াতে পারে না। দিনের  বেশিরভাগ সময়ই বিছানায় শুয়ে, নানা-নানির কোলে এবং বসে কাটে। নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন নানা আয়ূব আলী। থাকেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ওয়াবদা কলোনীর সরকারী পরিত্যাক্ত ভবনে। অজিলা ছাড়াও তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে। একদিকে সংসারের খরচ তার উপরে অজিলার চিকিৎসার খরচ। রিতিমতো হিমসিম খেতে হয় আয়ূব আলীর। আয়ূব আলী জানান, জন্মের এক বছর পরেই অজিলাকে আমাদের কাছে রেখে ঢাকায় চলে যায় তার মা-বাবা। তার পরে মাঝে মাঝে এসে খোঁজ নেয়। ফুটফুটে এই বাচ্চাটা হাটতে পারে না। এমনকি উঠেও দাড়াতে পারে না। দুই পা-ই খুব চিকন। পায়ে কোন বল নেই। এছাড়া তার হাতের নখ, পায়ের নখ ও জিহবা কালো রঙ এর। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া, রাজশাহী সর্বশেষ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। ডাক্তাররা আশ্বাস দিয়েছে অপারেশন করতে হবে। যার খরচ হবে তিন লাখ টাকা। এত টাকা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব না। এমনিতেই এই করোনার সময়ে কাজ চলে না। ৫ সদস্যের পরিবার। কোনমতে দিন পার করি।  কোথায় পাবো এত টাকা। তিন লাখ টাকা হলে হয়তো অজিলা চলাফেরা করতে পারবো। অজিলার নানী খাদিজা খাতুন জানান, অজিলা খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে। জন্মের পর থেকেই দুই পায়ে জোর পায় না। ডাক্তার অপারেশন করতে বলেছে। এত টাকা তো নেই। এখন গ্রামের হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা চলছে। যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তিরা আমার নাতনিকে সাহায্য করেন তাহলে আমাদের খুবই উপকার হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সিদ্দিক আলী জানান, টাকার অভাবে বাচ্চাটার অপারেশন করতে পারছে না পরিবার। তিন বছরের বাচ্চা, উঠে দাড়াতেও পারে না। সমাজের ধনী ও দানশীল ব্যক্তিরা যদি এগিয়ে আসে তাহলে বাচ্চাটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। আমলা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা জানান, অজিলা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আমি ইতিপুর্বে সাহায্য করেছি। সমাজের দানশীল ব্যক্তিবর্গরা তাকে সাহায্য সহযোগিতা করে তাহলে চিকিৎসা করে ভাল হতে পারে। অজিলার পাশে দাঁড়াতে ০১৭৫৫৩২৭৭৭১ নম্বরে  যোগাযোগ কিংবা বিকাশ করা যাবে।

 

আবু মুছা সভাপতি ॥ হাসিবুল হক সম্পাদক

আলমডাঙ্গা জামজামি মধুপুর বাজার কমিটি গঠন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা জামজামি মধুপুর বাজার কমিটি গঠন করা হয়েছে। আবু মুছা সভাপতি ও হাসিবুল হক সম্পাদক নর্বাচিত হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মধুপুর বাজারে জামজামি ইউপির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য শ্রী তপন কুমার বিশ্বাস, জামজামি ক্যাম্পের আইসি আব্দুল হাকিম, ইউপি সদস্য  মোহাম্মদ আনিচসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ও বাজারের সকল ব্যাবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে আবু মুছাকে সভাপতি ও মোঃ হাসিবুল হক কে সাধারন সম্পাদক করে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট বাজার কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহ- সভাপতি মোঃ লিটন আলী, ওসমান আলী, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম, কোষাধ্যক্ষ ডাঃ মান্নান মোল¬া, সাংগঠনিক সম্পাদক কলম আলী, দপ্তর সম্পাদক টিপু সুলতান, প্রচার সম্পাদক  রেজাউল হক, আইনশৃঙ্খলা বিষযক সম্পাদক সোহাগ আলী, ধর্মিয় সম্পাদক আব্দুর রব লিটন, সদস্য ডাঃ মানোয়ার হোসেন সহ মোট ৩০ সদস্য কমিটি সকলের সমর্থনে গঠন করা হয়।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন ট্রাম্প!

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন বলে তার দলেরই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা জানিয়েছেন। ওই নেতাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের বিষয়ে জনগণের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকলে তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। রিপাবলিকান দলের ওই সদস্য অন্য নেতাদের কাছ থেকে এ ধরণের ইঙ্গিত পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিতে স্বীকার করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি বাইডেনের কাছে হেরেও যেতে পারেন। কয়েক মাস পর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প পরাজিত হতে পারেন, এমন সম্ভাবনা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের তুলনায় বাইডেন ১০-১৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। রিপাবলিকান নেতৃত্বে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। রিপাবলিকান দলীয় প্রভাবশালী সিনেটর চাক গ্রাসলি এক টুইটে নিজেকে শুধরে নেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে বাস্তবতা বুঝাতে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছেন। তবে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার টিমের মুখপাত্র টিম মুরটাগ বলেছেন, ট্রাম্পের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে যে খবর বেরিয়েছে তার পুরোটাই মিথ্যাচার।

তথ্যসূত্র : পার্সটুডে

কালের কণ্ঠ পত্রিকাকে তারেক রহমানের আইনি নোটিশ

ঢাকা অফিস ॥ প্রকাশিত সংবাদে অসত্য তথ্য তুলে ধরে মানহানির অভিযোগে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদককে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তারেক রহমানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ নোটিশ পাঠান। পত্রিকাটির সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনকে এ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়, গত ২৩ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠের অনলাইন ভার্সনে জনৈক ব্যক্তির রেফারেন্সে তারেক রহমান ও হাওয়া ভবনকে জড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানহানি এবং সুনাম ক্ষুণœ হয়েছে। নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পত্রিকাটিতে তারেক রহমান সম্পর্কে যা ছাপানো হয়েছে তা প্রমাণ করতে বলা হয়েছে। প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পত্রিকাটিতে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। তা না হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রকে নাগরিকের পাশে দাঁড়াতে হবে ঃ আ স ম রব

ঢাকা অফিস ॥ করোনা পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে মহা দুর্যোগের এই সময়ে রাষ্ট্রকে নাগরিকের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেন তালুকদার। গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা সরকারের কাছে এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, করোনা মহামারির শুরু থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে। দ্রুত পরীক্ষা করে শনাক্তকরণ যেখানে জরুরি সেখানে পরীক্ষার ওপর মূল্য বা ফি নির্ধারণ কর্মহীন বেকার অসহায় মানুষদের পরীক্ষা করতে নিরুৎসাহিত করবে। ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়বে। যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। নেতৃবৃন্দ বলেন, অর্থনীতিবিদরা বলছেন বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। ইউনিসেফ বলছে বাংলাদেশের বহু পরিবার এখন তিন বেলা খেতে পায় না। অন্যদিকে হাজার হাজার বন্যার্ত মানুষ আশ্রয়ের সন্ধান করছে। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মহামারির এই পরিস্থিতিতে মানুষের যখন উপার্জনের পথ বন্ধ, জীবিকা হুমকির মুখে সেই মুহূর্তে করোনা পরীক্ষায় সরকারি ফি নির্ধারণ সাধারণ জনগণের দুঃখ-দুর্দশার প্রতি উপহাসের নামান্তর। তারা বলেন, রোগ প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের। করোনা পরীক্ষা রোগ প্রতিরোধ কর্মকান্ডেরই অংশ। তাই করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে পরীক্ষার ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

পাকিস্তান আমলের মতো আইন করতে বলে সংসদে সমালোচনার মুখে বিএনপির হারুন

ঢাকা অফিস ॥ দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন নয় বলে মনে করেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তাই স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান আমলে যে লক্ষ্য নিয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল সেই লক্ষ্য পূরণ করার দাবি জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে আইন মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরী দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলেচনায় হারুনুর রশিদ বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে, আমি বিচার বিভাগকে স্বাধীন করবো কিনা। বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। বিচার বিভাগ এখনও নির্বাহী বিভাগের অধীন। বিচার বিভাগ, উচ্চ আদালতে বিভিন্ন নির্দেশে বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছে। এটি আমাদের সত্যিকার অর্থে ন্যায় ও সঠিক বিচারের অন্তরায়। দেশের স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পার হয়েছে, কিন্তু এখনও আমাদের দেশে বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে পারিনি। আজ বলতে দ্বিধা নাই, সারা বাংলাদেশে চিহ্নিত মাদকস¤্রাট, চিহ্নিত মাদকপাচারকারী, চিহ্নিত সরকারি সম্পদ আত্মসাৎকারীরা বিচারের আওতার বাইরে। আজ বিচার ব্যবস্থার যে দুরবস্থা, এই দুরবস্থা থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। মিথ্যা মামলায় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় ঘুরছেন। পুলিশ বাদী ও সাক্ষী হয়ে যেসব মামলা দিচ্ছে, সেই সব মামলায় বিরোধীদলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তা রাস্তায় ঘুরছেন, আদালতে ঘুরছেন, সুপ্রিমকোর্টে ঘুরছেন। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তির একমাত্র উপায় বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে। আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারি দলের বিপক্ষে রায় দেওয়ায় অনেক অধঃস্তন বিচারককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। আমি মনে করি বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে আমাদের স্বাধীনতার আগে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আমরা পূরণ করার জন্য আইন প্রণয়ন করবো। সেই হিসেবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এই সময় সরকারি দলের এমপিরা প্রতিবাদ করলে হারুন আরও জোর দিয়ে বলেন, হ্যাঁ পাকিস্তান আমলে। স্বাধীনতার পূর্বের কথা বলছি। এর জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আজ তার (হারুনর রশীদ) আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। তিনি শুধু পাকিস্তান যেতে চান না। সব কিছু নিয়ে পাকিস্তান যেতে চান। আমরা সেখানে যাব না। সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না। আমরা ন্যায় বিচার দিয়েছি। আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা কী দেখেছি সেটা তাকে জবাব দেওয়া দরকার। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আজ উনি সংসদে বলছেন ন্যায়বিচারের কথা! শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা শেষ করেছে। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এর আগে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান তার ছাঁটাই প্রস্তাবের বক্তব্যে বিচার বিভাগের বিষয়ে স্বাধীনতার আগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপির এমপি হারুনের প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমরা স্বাধীন দেশ। যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক তাদের বিচারে পরিচালিত হতে চাই না। পাকিস্তানি বিচার আমরা চাই না। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের বিচার ব্যবস্থায় পরিচালিত হতে চাই। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এদেশে বিচার বন্ধ করা হয়েছিল।

ফ্রান্সে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৪ বাংলাদেশির জয়

ঢাকা অফিস ॥ ফ্রান্সে স্থানীয় সরকার (মিউনিসিপ্যাল) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১২ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন বিজয়ী হয়েছেন। রোববার দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে তাদের মনোনয়নকারী প্যানেলগুলো নির্বাচিত হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতন ফ্রান্সের মূলধারার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ফ্রান্সের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীগণ মোট কাউন্সিলরের সংখ্যার চেয়ে অধিক সংখ্যক কাউন্সিলর প্যানেল ঘোষণা করে নির্বাচন করে। ফ্রান্সের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাররা শুধুমাত্র মেয়রকেই ভোট দিয়ে থাকেন অর্থাৎ মেয়র নির্বাচিত হলেই কাউন্সিলরগণ নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তবে বিরোধী দল থেকেও ভোটের প্রাপ্ত শতাংশ অনুসারে কাউন্সিলর নিতে হয় মেয়রকে। নির্বাচিত মেয়র তার পূর্ণ প্যানেল ঘোষণার পর অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা নির্বাচিতরা মেয়র ঘোষিত কাউন্সিলের কেউ পদত্যাগ করলে বা মারা গেলে কাউন্সিল হতে পারবে। এ বছর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১২ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক। দুই ধাপে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয় গত ১৫ ই মার্চ। তবে দ্বিতীয় দফায় ২২ শে মার্চ ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত করে ফরাসি সরকার। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্থগিত হওয়া নির্বাচন গত ২৮ শে জুন রোববার অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়া বাংলাদেশিরা হলেন- শারমিন হক আব্দুল্লাহ, সরুফ ছদিওল, মোঃ রেজাউল করিম ও রাব্বানী খাঁন। নির্বাচিত বাংলাদেশির মধ্যে শারমিন হক আব্দুল্লাহ এর নাম কাউন্সিলর হিসেবে চুড়ান্ত ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিন জনের প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। তবে তাদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। শারমিন হক আব্দুল্লাহ পিয়েরিফিট মিউনিসিপ্যাল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তার দলের মেয়র মিশেল ফোরকাড এর প্যানেল ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছে। শারমিন হকের নাম মেয়র ঘোষিত প্যানেলে প্রথম সারিতে থাকায় তার নাম কাউন্সিলর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেটের জকিগঞ্জের সরুফ ছদিওল সেন্ট ডেনিশ মিউনিসিপ্যালে সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তার দলের মেয়র মাতিউ হানাতা এর প্যানেল ৫৯ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। মোঃ রেজাউল করিম সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার সন্তান। তিনি সেভরান মিউনিসিপ্যাল থেকে নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তার দলের মেয়র স্টিফেন বলস এর প্যানেল ৪৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়ে সেভরান মিউনিসিপ্যাল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকার গাজীপুরের সন্তান এবং ফ্রঁসে আভেক রাব্বানী ইন্সটিটিউট এর সত্ত্বাধিকারী রাব্বানী খাঁন স্টেইনস মিউনিসিপ্যাল থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তার দলের মেয়র আজেদিন তায়েব ওই এলাকা থেকে প্রথম ধাপেই ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যদি কোন প্যানেল প্রথম বারেই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে যায় সেখানে আর ২য় বার নির্বাচন করতে হয় না। এদিকে ফ্রান্সে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে ৪ বাংলাদেশী কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিটিতে আনন্দের বন্যা বইছে। কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন ব্যক্তি বিজয়ীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

 

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভা

ঢাকা অফিস ॥ অতিবৃষ্টির কারণে সাম্প্রতিক সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ও মন্ত্রণালয়সমূহের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব, খাদ্য সচিব, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারসহ ১২টি জেলার জেলা প্রশাসকরা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে সংযুক্ত ছিলেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বন্যা পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব বরাদ্দকৃত ত্রাণসহ বন্যা মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা প্রদানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জেলা প্রশাসকদের র্নিদেশনা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ জেলার বন্যা পরিস্থিতি ও গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংরক্ষণ ও মেরামত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণর্পূবক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের জন্য ইউনিয়ন/ওর্য়াড কমিটিসমূহ র্সাবক্ষণিক কাজ করছে। বন্যাকবলিত ৯টি জেলায় এ পর্যন্ত ৬৬০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ৬৭ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের আহ্বান

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। দেশটির আইডিএফসি ফান্ডের আওতায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে ফোনে আলাপকালে ড. মোমেন এ আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্নতা আনতে চায় উল্লেখ করে অর্থনৈতিক জোনেও যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের হাইটেক পার্ক, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের সহজ লভ্যতার কারণে এ দেশে বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হবে। ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে দুই বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল করায় এ খাতে কর্মরত শ্রমিকরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে, যার অধিকাংশ নারী। মাইক পম্পে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাহায্যের জন্য ৪৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। তিনি করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এছাড়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্র আরও দৃঢ় ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন ড. মোমেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে চুক্তির বাস্তবায়নে মিয়ানমার সময় ক্ষেপণ করছে। সম্প্রতি রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ৮২০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। মানবপাচার রোধে টিআইপি রিপোর্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ধাপে উন্নয়নের প্রশংসা করেন মাইক পম্পেও। এ বিষয়ে ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রেকে ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত এনে তার শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাইক পম্পেওকে অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. মোমেন বলেন, করোনা মহামারি সারা বিশ্বে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। এ বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। টেলিফোনে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দেন তারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়ার দাবি সংসদে

ঢাকা অফিস ॥ দেশের স্বাস্থ্য খাতে দুরবস্থার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে। তার পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অন্য কাউকে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান। এক্ষেত্রে সাবেক কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন বিএনপি’র সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। গতকাল মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থ-বছরের বাজেটের ওপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা করোনাকালে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই আলোচনায় অংশ নেন- জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, পীর ফজলুর রহমান, মুজিবুর রহমান (চুন্নু), রওশন আরা মান্নান এবং বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ। আলোচনায় অংশ নিয়ে পীর ফজলুর রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত দুরবস্থার মধ্যে আছে। মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন। জনগণ মনে করেন, আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাকি মিনা কার্টুনের টিয়া পাখির দ্বারা চলছে। তিনি বলেন, আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরি। গ্রামের মানুষ আমাকে বলেছেন, আপনি তো সংসদে কথা বলতে পারেন। আপনি প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে দিতে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে দেয়ার কথা বলেছেন সাধারণ জনগণ। আমি প্রধানমন্ত্রীকে মানুষের এই কথাটি জানালাম। এর আগে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশীদ সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন। এই দাবি তুলে তিনি বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে চরম অব্যবস্থা-অনিয়ম চলছে। সরকারের লোকজন ও বিএমএ বলছে- করোনায় মৃত্যুর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের। এই দুঃসময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী করেছেন? ১০ দিন ধরে ফোন করে ও বার্তা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সাড়া মিলছে না। ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেন। কমিটমেন্ট আছে, এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেন।