মামা-ভাগ্নে যেখানে বিপদ নেই সেখানে

বিনোদন বাজার ॥ ঈদের বর্ণিল সব আয়োজন নিয়ে হাজির হচ্ছে টিভি চ্যানেলগুলো। ইউটিউব চ্যানেলগুলোতেও দেখা যাবে নানা আমেজের নাটক-টেলিফিল্ম। সেখানে থাকবে অনেক ধারাবাহিকও। নানা প্রজন্মের তারকারা এগুলোতে অভিনয় করবেন। এদিকে ঈদে ৭ পর্বের ধারাবাহিক নিয়ে আসছেন জনপ্রিয় দুই তারকা মীর সাব্বির ও সাজু খাদেম। তাদের নাটকটির নাম ‘মামা-ভাগ্নে যেখানে বিপদ নেই সেখানে’। এ ধারাবাহিকটি রচনা করেছেন মহিন খান এবং পরিচালনা করেছেন কাজী সাইফ আহমেদ। এই প্রথম ঈদের কোন ৭ পর্বে কাজ করলেন ফারিয়া শাহরিন। তার বিপরীতে মীর সাব্বির। এছাড়াও অভিনয় করেছেন মীম চৌধুরী, তানভীর মাসুদ, শফিক খান দিলু, ইমু শিকদার, জান্নাত আক্তার, সঞ্জয় রাজ, মীর শহীদ, শেখ স্বপ্না প্রমুখ। পরিচালক জানান, ধারাবাহিকটি কমেডি ধাঁচের গ্রামীন পটভূমিতে লেখা। ই-ভ্যালি অনলাইন শপ নিবেদিত ধারাবাহিকটি এসজে মোশন পিকচার্স এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে। প্রযোজনা করেছেন কাজী সাইফুল ইসলাম সোহেল। গল্পটি মামা-ভাগ্নেকে নিয়ে। মামা-ভাগ্নে এক সাথেই চলে, খায় ও ঘুমায়। মামা-ভাগ্নে খুব দুষ্ট প্রকৃতির। গ্রামের মানুষদের খুব বিরক্ত করে। গ্রামের চেয়ারম্যানের মেয়ে লতা ও পাতার সাথে প্রেম করতে চায় মামা ও ভাগ্নে। চেয়ারম্যান সেটা মানতে পারেনা। এখানে লতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারিয়া শাহরিন। তার বিপরীতে মামা মীর সাব্বির। পাতা চরিত্রে মীম চৌধুরী। তার বিপরীতে ভাগ্নে সাজু খাদেম।

৩ লাখ মানুষকে চাকরি দিবেন সোনু

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ। পর্দায় তাকে খল অভিনেতা হিসেবেই বেশি দেখা যায়। কিন্তু করোনার এই সময়ে তিনি হয়ে উঠেছেন সবার হিরো। করোনা মহামারির এই সময়ে দুস্থদের খাবার ব্যবস্থা করেছেন সোনু সুদ। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিজের বিলাসবহুল হোটেল ছেড়ে দিয়েছেন। তবে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যে সকল শ্রমিক মুম্বাইয়ে আটকা পড়েছিলেন তাদের বাড়ি ফিরিয়ে সোনু সুদ সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ৩০ জুলাই সোনু সুদের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে করোনাকালে বেকার হয়ে পড়া মানুষের জন্য সুখবর দিলেন তিনি। ৩ লাখ মানুষকে চাকরির সুযোগ করে দিচ্ছেন এই অভিনেতা। মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘জন্মদিনের বিশেষ এই মুহূর্তে আমার প্রবাসী ভাইদের জন্য প্রবাসী রোজগার ডটকম। আমার কনট্রাক্টে ৩ লাখ চাকরি। সবগুলোতেই ভালো বেতন, পিএফ, ইএসআই এবং অন্য সুবিধা আছে। এইপিসি, সিআইটিআই, ট্রিডেন্ট, কুয়েস করপোরেশন, অ্যামাজন, সোডেক্স, আরবান কো, পোর্শিয়া এবং অন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’ জানা গেছে ‘প্রবাসী রোজগার’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দুই কোটি মানুষকে চাকরির ব্যবস্থা করতে চান সোনু সুদ। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চাকরি প্রার্থীরা সরাসরি ভারতের বিভিন্ন স্থানে কাজের সন্ধান পাবেন। শুধু তাই নয়, চাকরি প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করছেন সোন্।ু

ঈদে এক ডজন নাটক নিয়ে আসছেন শামীম জামান

বিনোদন বাজার ॥ মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম জামান। অভিনয়ের পাশাপাশি টিভি নাটক পরিচালনা ও প্রযোজনা করছেন তিনি। প্রতিবছর ঈদে তার অভিনীত ও পরিচালিত একাধিক নাটক বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার হয়ে থাকে। এবারের ঈদে তার এক ডজন নাটক থাকছে। পরিচালনার পাশাপাশি এসব নাটকে অভিনয়ও করেছেন তিনি। ঈগল মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে ‘ঢাকাইয়া জিম’, ‘মামলাবাজ জামাই’ ও ‘পাবলিক ফিগার’। চ্যানেল নাইন-সিডি চয়েসে ‘সাইকেল মেকার’, দীপ্ত টিভি-সিডি চয়েসে ‘পেইনফুল’, শরৎ টেলিফিল্মে ‘ক্ষমতাবান’ ও ‘বুদ্বিমান চোর’, বাংলাভিশন- লাইভ টেকনোলজিসে ‘কন্ট্রাক’, এনটিভিতে ‘টাম কাড’, দীপ্ত টিভি-সিডি চয়েসে ‘প্রতিবেশীকে ভালোবাসো’, হিয়া মাল্টিমিডিয়ায় ‘শ্বশুর বাড়ি লকডাউন’, আরটিভিতে ‘ছোট মিয়া বড় মিয়া’ নাটকগুলো প্রচার করা হবে। শামীম জামান বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের কারণে রোজার ঈদে কাজ করতে পারিনি। এবারের ঈদের বেশকিছু নাটক টেলিফিল্মের কাজ করেছি। প্রত্যেকটি নাটকের গল্পে ভিন্নতা রয়েছে। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খুশি ছিলেন না সুশান্ত: অঙ্কিতা

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। গত ১৪ জুন নিজ ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেন এই অভিনেতা। মৃত্যুর আগে অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সম্পর্ক নিয়ে নাকি খুশি ছিলেন না। ইন্ডিয়াটিভিনিউজ ডটকম জানিয়েছে, সুশান্তের মৃত্যুর পর দুইবার এই অভিনেতার পাটনার বাড়িতে গিয়েছেন তার প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখান্ডে। সেখানে গিয়ে ‘কাই পো চে’ অভিনেতার বোন শ্বেতা সিং কৃর্তিকে এই কথা জানিয়েছেন তিনি।  সুশান্তের বোনের সঙ্গে অঙ্কিতার বেশ ভালো সম্পর্ক। ‘পবিত্র রিশতা’ অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তার প্রথম বলিউড সিনেমা ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’ মুক্তির সময় সুশান্তের সঙ্গে তার চ্যাটিং হয়। সেই সময় এই অভিনেতা তাকে জানান, রিয়া তাকে হয়রানি করে। অঙ্কিতার ভাষ্যমতে, সুশান্ত তাকে জানান, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে খুশি নন এবং এটি ইতি টানতে চান কারণ রিয়া তাকে হয়রানি করে।  মঙ্গলবার পাটনার রাজিব নগর থানায় রিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন সুশান্তের বাবা কৃষ্ণ কুমার সিং। ভারতীয় দ-বিধি ৩৪১ (অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া), ৩৪২ (অন্যায়ভাবে আটকে রাখা), ৩৮০ (বাসা বাড়িতে চুরি), ৪০৬ (প্রতারণা করে বিশ্বাস ভঙ্গ), ৪২০ (সম্পদের বিষয়ে প্রতারণা এবং অসততা) এবং ৩০৬ (আত্মহত্যার প্ররোচনা) ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়। এরপর এ বিষয়ে তদন্তে শুরু করেছেন বিহার পুলিশ। জানা গেছে, সুশান্ত প্রসঙ্গে সকল তথ্য বিহার পুলিশকে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। এ বিষয়ে পুলিশ তার জবানবন্দিও রেকর্ড করেছেন।  ‘পবিত্র রিশতা’ টিভি ধারাবাহিকের সেটে সুশান্ত ও অঙ্কিতার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ছয় বছর প্রেম করেন তারা। বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের ব্রেকআপ হয়। সর্বশেষ রিয়া চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান সুশান্ত। বলিপাড়ায় তাদের বিয়ের গুঞ্জনও শোনা যায়।

পরিবারসহ করোনায় আক্রান্ত এস এস রাজামৌলি

বিনোদন বাজার ॥ ‘বাহুবলি’ সিনেমাখ্যাত পরিচালক এস এস রাজামৌলি ও তার পরিবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। জানা গেছে, বুধবার তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে এস এস রাজামৌলি লিখেছেন, ‘কয়েকদিন আগে আমি ও আমার পরিবার সামান্য জ¦রে আক্রান্ত হই। এটি এমনিতেই সেরে যায় কিন্তু আমরা করোনা পরীক্ষা করাই। আজ পরীক্ষার রিপোর্টে কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। আমরা চিকিৎসাকের পরামর্শে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে আছি।’ এ নির্মাতা জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না। তবে তারা সবাই সতর্কতা অবলম্বন করছেন ও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলছেন। পাশাপাশি অ্যান্টিবডি তৈরি করে প্লাজমা দান করতে চান বলে জানান এই নির্মাতা। রাজামৌলি পরিচালিত পরবর্তী সিনেমা ‘রুদ্রম রণম রুধিরাম’ বা ‘ট্রিপল আর’। এই সিনেমার গল্প কামারাস ভীমা ও আলুরি সীতারামা রাজু নামের দুই বীর যোদ্ধাকে নিয়ে। চরিত্র দু’টিতে অভিনয় করছেন জুনিয়র এনটিআর ও রাম চরণ। সিনেমায় নায়িকা চরিত্রে আছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। এটি তার প্রথম দক্ষিণী সিনেমা। এ ছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন অজয় দেবগন। পাশাপাশি এতে রে স্টেভেনসন, অলিভিয়া মরিস, অ্যালিসন ডুডির মতো হলিউড তারকারা অভিনয় করছেন।

বিশ্বের সেরা ড্রিবলার নেইমার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ভক্তদের সঙ্গে ভার্চুয়াল আড্ডায় নানা প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দিলেন করিম বেনজেমা। সেখানেই বিশ্বের সেরা ড্রিবলারের প্রশ্নে নেইমারকে বেছে নিলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড। নেইমার বার্সেলোনায় থাকার সময় ‘ক্লাসিকোয়’ দুজন পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন নিয়মিত। মাঠে প্রতিপক্ষ হলেও, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের ড্রিবলিং এখনও চোখে লেগে আছে বেনজেমার। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বুধবারের আড্ডায়, এক ভক্ত বেনজেমাকে প্রশ্ন করেন তার দেখা সেরা পাঁচ ড্রিবলার কারা। জবাবে কেবল নেইমারের কথাই বলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। “নেইমার, এবং নেইমারই।” করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর দেওয়া হবে না বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। যে পুরস্কার জয়ের স্বপ্ন ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছেন বলে জানান বেনজেমা। “অবশ্যই আমি ব্যালন ডি’অর নিয়ে ভাবি। এই ভাবনা আমার ছোটবেলা থেকেই, তবে এর জন্য আমি ব্যাকুল নই। আমি এতে বুঁদ হয়ে নেই।”

মুশফিকদের একক অনুশীলন ঈদের পরও

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্রিকেটারদের একক অনুশীলন ঈদের পরও চলবে কিছুদিন। এরপর করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে ছোট ছোট গ্র“পে ভাগ করে অনুশীলন শুরু করা হবে, জানালেন বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান। করোনাভাইরাসের প্রকোপে চার মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৯ জুলাই থেকে দেশের চার ভেন্যুতে বিসিবির তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করার অনুমতি দেওয়া হয় ক্রিকেটারদের। সুনির্দিষ্ট সূচিতে আলাদা করে অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় ফিটনেস ট্রেনারও। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ফিটনেস নিয়ে কাজের পাশাপাশি ইনডোরে বোলিং মেশিনে ব্যাটিং করার সুযোগ ছিল। অন্য তিন ভেন্যুতে কেবলই ফিটনেস ট্রেনিং। ঈদের পরও অন্তত কিছুদিন এভাবেই চলবে,  জানালেন আকরাম খান। “ ঈদের পর ৮ বা ১০ অগাস্ট থেকে আবার শুরু করার কথা ভাবছি আমরা। আগের মতোই আগ্রহী ক্রিকেটারদের আমরা সূচি তৈরি করে দেব। আপাতত আমাদের ভাবনা, একক অনুশীলনই চলবে আরও অন্তত সপ্তাহখানেক। এরপর পরিস্থিতি যদি ভালো হয়, তাহলে ছোট গ্রুপে ৩ জন বা এরকম একসঙ্গে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবব আমরা।” দলগত অনুশীলন বা জাতীয় ক্রিকেটারদের ক্যাম্প শুরু করা নিয়ে এখনও সুনির্দিস্ট সময় ঠিক করা হয়নি বলে জানালেন আকরাম। জুলাই-অগাস্ট থেকে পিছিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর অক্টোবরে আয়োজনের আলোচনা চলছে। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জানালেন, পরিস্থিতি বুঝেই ক্যাম্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। “ এখনই আসলে লম্বা সময়ের পরিকল্পনা করার মতো পরিস্থিতি হয়নি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। টেস্টের সঙ্গে সীমিত ওভারের সিরিজ চাইব আমরা। ওরা কিছুদিন পর আমাদের সিরিজের তারিখ জানাবে। সিরিজের সবকিছু চূড়ান্ত হলে আমরা ক্যাম্পের সময় ঠিক করা নিয়ে ভাবব।” “ আমাদের ধারণা, ঈদের পর ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তার পর সেই সফরকে সামনে রেখে আমরা অনুশীলনের পরিকল্পনা সাজাব। এখানে তাড়াহুড়োর কিছু নেই। পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে সবকিছু।” হাই পারফরম্যান্স দলের সম্ভাব্য শ্রীলঙ্কা সফর, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্প, এসব নিয়েও ঈদের পর সভায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে জানালেন আকরাম।

ইংল্যান্ড সফরের অনুমতি পেলেন রউফ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় সেলফ-আইসোলেশনে থাকা পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফ অবশেষে করোনাভাইরাস মুক্ত হয়েছেন। টানা দুইবার পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসায় এবার অনুমতি পেলেন ইংল্যান্ড সফরে যাওয়ার। গত ২১ জুন, পিসিবির করা কোভিড-১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছিল রউফের। গত ২০ জুলাই পর্যন্ত আরও পাঁচবার পরীক্ষা করা হয় তার। কিন্তু এই সময়ে মাত্র একবার নেগেটিভ আসে এই পেসারের। নিয়ম অনুযায়ী, দলের সঙ্গে যোগ দিতে টানা দুইবার আসতে হবে নেগেটিভ ফলাফল। অবশেষে বৃহস্পতিবার সুসংবাদ পেলেন ২৬ বছর বয়সী রউফ। তার অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আমিরকে দলে নেয় পাকিস্তান। শুরুতে ব্যক্তিগত কারণে এই সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন আমির। রউফকে অবশ্য দল থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। পিসিবি বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর ব্যাপারে ভাবছে বোর্ড। গত শুক্রবার ইংল্যান্ডে যাওয়া আমির অনুমতি পেয়েছেন দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার। সেখানে গিয়ে দুইবার করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে তার। ইংল্যান্ডের মাটিতে তিনটি করে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। লাল বলের সিরিজটি শুরু হবে আগামী ৫ অগাস্ট আর সাদা বলের ২৮ অগাস্ট।

রোহিত শর্মার মধ্যে ধোনিকে খুজে পান রায়না

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নেতৃত্বের যে দিকগুলো মহেন্দ্র সিং ধোনিকে করে তুলেছে আলাদা, সেই গুণগুলো রোহিত শর্মার মধ্যেও দেখতে পান সুরেশ রায়না। ভারতের এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের মতে, রোহিতই হতে যাচ্ছেন ভারতীয় দলের পরবর্তী ধোনি। রোহিতের বয়স যদিও হয়ে গেছে ৩৩, ভারতের এখনকার অধিনায়ক বিরাট কোহলির বয়স ৩১। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের অসাধারণ ধারাবাহিকতা ও ভারতীয় ক্রিকেটে প্রভাব মিলিয়ে কোহলির নেতৃত্ব সহসা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই। তবে রায়না মুগ্ধ রোহিতের অধিনায়কত্ব দেখে। ‘দা সুপার ওভার পডকাস্ট’-এ রায়না বললেন, ভারতের সফলতম অধিনায়ক ধোনির ছায়া রোহিতের ভেতর দেখতে পান তিনি। “ আমি বলব, রোহিত ভারতীয় দলের পরবর্তী ধোনি। আমি রোহিতকে দেখেছি, সে খুবই শান্ত, সবার কথা শুনতে পছন্দ করে। সে অন্য ক্রিকেটারদের বিশ্বাস জোগাতে ভালোবাসে। সবকিছুর ওপরে, সে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করে। কোনো অধিনায়ক যখন সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় এবং একই সঙ্গে ড্রেসিং রুম আবহকেও সম্মান করে, তখন বুঝতে হবে তার মধ্যে সবকিছুই আছে।” “ সে মনে করে, দলের সবাই অধিনায়ক। আমি তাকে দেখেছি। বাংলাদেশে এশিয়া কাপ জয়ের সময় তার নেতৃত্বে খেলেছি। দেখেছি যে শার্দুল (ঠাকুর), ওয়াশিংটন সুন্দর ও (যুজবেন্দ্র) চেহেলদের মতো তরুণদের সে কতটা বিশ্বাস জোগায়।” রায়না এশিয়া কাপের কথা বললেও বাংলাদেশে এশিয়া কাপে রোহিত নেতৃত্ব দেননি। তিনি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন ২০১৮ নিদাহাস ট্রফির কথা। শ্রীলঙ্কায় সেই টুর্নামেন্টে রোহিতের নেতৃত্বে শিরোপা জিতেছিল ভারত। ওই বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপেও ভারত চ্যাম্পিয়ন হয় রোহিতের নেতৃত্বে। সব মিলিয়ে নানা সময়ে কোহলির অনুপস্থিতিতে ১০ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব নিয়েছেন রোহিত, ভারত জিতেছে ৮টিতেই, ১৯ টি-টোয়েন্টিতে জয় ১৫টিতে। এ ছাড়া আইপিএলেও রোহিত সফলতম অধিনায়ক। ৮ বছরের মধ্যে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ৪টি শিরোপা জিতেছে তার অধিনায়কত্বে। অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞই নেতৃত্বগুণে কোহলির চেয়ে এগিয়ে রাখেন রোহিতকে। সতীর্থরাও রোহিতের নেতৃত্বে খুব স্বচ্ছন্দ বলে শোনা গেছে নানা সময়। রায়নার কথায়ও সেটি ফুটে উঠল স্পষ্ট। “ ক্রিকেটাররা তার (রোহিত) ব্যক্তিত্ব উপভোগ করে, তার পাশে নিজেদের উজার করে দিতে ভালোবাসে। কারও ব্যক্তিত্ব যখন কেউ উপভোগ করে, তখন তা অবশ্যই দারুণ ইতিবাচক। এখানেই রোহিত খুব ভালো।” “ধোনি অসাধারণ ছিল। রোহিত ধোনির চেয়েও বেশি আইপিএল ট্রফি জিতেছে। দুজনই প্রায় একইরকম। দুজনই অধিনায়ক হিসেবে অন্যদেরটা শুনতে পছন্দ করে। অধিনায়ক যখন শুনতে পছন্দ করে, অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, বিশেষ করে অনেকের মানসিক সমস্যার। আমার চোখে, তারা দুজনই দুর্দান্ত।”

 

প্রেমিকের সঙ্গে বাগদান সারলেন অভিনেত্রী নীহারিকা

বিনোদন বাজার ॥ ভারতের দক্ষিণী সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা নাগা বাবুর কন্যা অভিনেত্রী নীহারিকা কোনিড়েলা। অন্ধ্র প্রদেশের চৈতন্যর সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে প্রেম করছেন নীহারিকা। অবশেষে প্রেমিক চৈতন্যর সঙ্গে বাগদান সারতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। আগামী ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাগদান সারবেন এই জুটি। নীহারিকার ভাই অভিনেতা বরুণ তেজ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেনÑআগামী মাসে নীহারিকার বাগদান। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরে হবে। নীহারিকার বিয়ে নিয়ে পরিবারের সবাই খুব উচ্ছ্বসিত। এখন বাগদানের অনুষ্ঠানের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। দক্ষিণী সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা চিরঞ্জীবী ও পবন কল্যাণ নীহারিকার চাচা। তারাও বাগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। টেলিভিশন শো উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন নীহারিকা। ২০১৬ সালে তেলেগু ভাষার ‘ওকা মানাসু’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে পা রাখেন তিনি। পরের বছরই তামিল সিনেমায় অভিষেক হয় তার। নীহারিকা অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘সাইরা নরসিমহা রেড্ডি’। গত বছরের ২ অক্টোবর মুক্তি পায় এটি। ১৮৪৭ সালে ভারতীয় বিপ্লবী নরসিমহা রেড্ডিকে ফাঁসি দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। এই বিপ্লবীর বায়োপিক এটি। ব্লকবাস্টার এ সিনেমা পরিচালনা করেন সুরেন্দ্র রেড্ডি।

সম্ভাবনাময় আঁশ ফসল কেনাফ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কেনাফ পাটের ন্যায় পরিবেশবান্ধব আঁশ জাতীয় ফসল। উষ্ণমন্ডলীয় ও অবউষ্ণ  দেশগুলোতে আঁশ উৎপাদনের জন্য ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, নরসিংদী, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গাজীপুর, চাঁদপুর ও গোপালগঞ্জ কেনাফ উৎপাদনকারী প্রধান প্রধান জেলা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছর দেশে ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে কেনাফ ও মেস্তা চাষ হয়েছে এবং ৩ লাখ ৩৭ হাজার  বেল আঁশ উৎপাদিত হয়েছে। যদিও আমাদের  দেশের অনেক এলাকাতেই কেনাফ আঞ্চলিক ভাষায় মেস্তা হিসেবে পরিচিত। চলতি ২০১৮-১৯ পাট উৎপাদন মৌসুমে ৮ লাখ ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাট ও কেনাফ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেসরকারি পর্যায়ে ভারত থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রত্যায়িত মানের ১০৫৩ টন কেনাফ বীজ আমদানি করা হয়েছে। দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত কেনাফ বীজ সঠিক সময়ে আবাদ করা সম্ভব হলে এ বছর কর্তিত জমির পরিমাণ ৮০ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে। মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে পাটের মতো কেনাফের গুরুত্বও অপরিসীম। কেনাফ ফসলের মূল মাটির ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি বা তার বেশি গভীরে প্রবেশ করে মাটির উপরিস্তরে সৃষ্ট শক্ত ‘প্লাউপ্যান’ ভেঙে দিয়ে এর নিচে তলিয়ে যাওয়া অজৈব খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে মাটির উপরের স্তরে মিশিয়ে দেয়। ফলে অন্যান্য অগভীরমূলী ফসলের পুষ্টি উপাদান গ্রহণ সহজ হয় এবং মাটির ভৌত অবস্থার উন্নয়ন ঘটে। মাটিতে পানি চলাচল সহজ ও স্বাভাবিক থাকে। এক সমীক্ষায়  দেখা গেছে, ১০০ দিন সময়ের মধ্যে প্রতি হেক্টর কেনাফ ফসল বাতাস থেকে প্রায় ১৪.৬৬ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং ১০.৬৬ টন অক্সিজেন নিঃসরণ করে বায়ুমন্ডলকে বিশুদ্ধ ও অক্সিজেন সমৃদ্ধ রাখে। কেনাফ আঁশ থেকে কাগজের পাল্প বা মন্ড তৈরি করে নিউজপ্রিন্ট মিলের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার, কেনাফ খড়ি হার্ডবোর্ড বা পার্টেক্স মিলের কাঁচামাল ও চারকোল তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। তা ছাড়া  কেনাফ খড়ি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার এবং বীজ থেকে ঔষধি গুণ সম্পন্ন তেল পাওয়া যায়। পৃথিবীর বহুদেশে কাগজের মন্ড ও উন্নতমানের কাগজ ছাড়াও বহু মূলবান দ্রব্যসামগ্রী কেনাফ থেকে উৎপাদিত হয়। কেনাফ আঁশ পৃথিবীর বহু দেশে শিল্পজাত দ্রব্য হিসেবে কাগজের মন্ড, বোর্ড, জিও টেক্সটাইল চট, কম্বল,  প্লেন পার্টস মোটর কার পার্টস, কম্পিউটার পার্টস, কুটির শিল্পজাত দ্রব্য- শিকা, মাদুর, জায়নামাজ, টুপি, স্যান্ডেল এবং কাপড় চোপড় জাতীয় সোফার কভার, পর্দার কাপড়, বেডশিট, কুশন কভার, সাটিং সুটিং, পাঞ্জাবি, সোয়েটার ছাড়াও বিভিন্ন কাজে ইনটেরিয়র ইনস্যুলেটর হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। বাস্তব প্রয়োজনে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে উর্বর জমি ব্যবহৃত হচ্ছে খাদ্যশস্য উৎপাদনে এবং পাট স্থানান্তরিত হচ্ছে প্রান্তিক ও অপ্রচলিত (লবণাক্ত, পাহাড়ি ও চরাঞ্চল) জমিতে। তা ছাড়া নগরায়ন, শিল্পায়ান ও বাড়তি জনসংখ্যার বসতবাড়ি নির্মাণে প্রতি বছর প্রায় ০.৭% হারে হ্রাস পাচ্ছে আবাদি জমি। কিন্তু দেশের দক্ষিণের খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল লবণাক্ততা ও খরা প্রবণ এলাকায় হাজার হাজার একর জমিতে পাট উৎপাদন মৌসুমে (মার্চ-জুলাই) কোনো ফসল থাকে না বললেই চলে। খুলনার কিছু কিছু এলাকায় তিল চাষ হলেও বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা বা খরার ঝুঁকি রয়েছে। উপকূলীয় লবণাক্ততা, খরা ও এক ফসলি আমন পরবর্তী পতিত জমিতে অথবা চর এলাকায় কেনাফ চাষের সম্ভাবনা ও উৎপাদিত বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত গবেষণা করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন বিভাগের গবেষক দল। বিজেআরআই উদ্ভাবিত এইচসি-২ ও এইচসি-৯৫  কেনাফ জাত নিয়ে গবেষণা শেষে রিপোর্টে বলা হয়েছে, যেখানে লবণাক্ততার জন্য পাট চাষ সম্ভব নয়, সেখানে অনায়াসেই কেনাফ চাষ সম্ভব এবং বীজের অঙ্কুরোদগম ও গাছ বৃদ্ধির সময় কেনাফ ৮ থেকে ১৪ ডিএস/মি. পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। গবেষণাগারে সফলভাবে কেনাফ খড়ি এবং আঁশ থেকে কাগজের মন্ড ও কাগজ এবং কেনাফ বীজ থেকে ৭ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত তেল পাওয়া যায় বলে দাবি করেছেন গবেষক দল। অনুরূপভাবে বিজেআরআইয়ের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে কেনাফ চাষের সফলতা  পেয়েছেন। লবণাক্ততা, খরা এবং অনাকাঙ্খিত বৃষ্টিপাত এই তিনটি পরিস্থিতি  মোকাবিলা করেই কেনাফ বেড়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উঁচু, মধ্যম, নিচু, হাওর এলাকা, পাহাড়ি এলাকার ঢালু জমি এবং উপকূলীয় ও চরাঞ্চল ফসলে উৎপাদনের উপযোগী নয় বা আউশ ফসলের জন্য লাভজনক নয় এমন অনুর্বর জমিতেও অল্প পরিচর্যায় কেনাফ চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। দেশে  যে সব এলাকায় সেচের ব্যবস্থা নেই সেখানে ধানের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি খরা ও জলাবদ্ধতা সহ্য ক্ষমতাসম্পন্ন কেনাফ চাষ কৃষকের প্রথম পছন্দ। তা ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ হেক্টর জমি আছে যেখানে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু পাট ও কেনাফ ছাড়া অন্য কোন ফসল চাষ সম্ভব নয়। পাটের চেয়ে  কেনাফের নিড়ানি ও পরিচর্যা কম লাগে এবং রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি।  দেশের কৃষি পরিবেশ ও কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় গত ১ ফেব্র“য়ারি ২০১৭ দ্রুত বর্ধনশীল, জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু, চরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে চাষাবাদ উপযোগী বিজেআরআই কেনাফ-৪ (লাল কেনাফ) জাতটি সারাদেশে চাষাবাদের নিমিত্তে ছাড়করণের অনুমোদন দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। জাতটি পাটের মতোই আঁশ উৎপাদনকারী এবং মালভেসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি উন্নত জাত। জাতটির কান্ড লাল রঙের এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, যা এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত জাতসমূহ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অধিক ফলনশীল ও বায়োমাস সম্পন্ন এ জাতটি কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারিত হলে অনাবাদি ও অনুর্বর জমিও চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং পাট চাষিরা অধিক লাভবান হবেন। ভারতীয় জাতের কেনাফ ফসলে পাতার মোজাইক  রোগ তুলনামূলকভাবে বেশি সংক্রমিত হওয়া এবং গাছের বৃদ্ধি ও ফলন কম হওয়ায় বর্তমানে বিজেআরআই উদ্ভাবিত এইচসি-২, এইচসি-৯৫ ও বিজেআরআই কেনাফ-৩ (বট কেনাফ) সারাদেশে উন্নত জাত হিসেবে কৃষকের কাছে অধিক সমাদৃত। কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও রংপুরের অঞ্চলের অগ্রগামী কৃষকরা কেনাফ ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বপন শুরু করেন- যাতে পরবর্তী সময়ে এ ফসল কেটে অনায়াসেই আমন ধান রোপন করা যায়। এ ক্ষেত্রে কিছু কিছু গাছে আগাম ফুল চলে এলেও কেনাফ ফসলের ক্ষেত্রে ফুল ঝরে পড়ে এবং ফলন ও আঁশের মান অপরিবর্তিত থাকে। অন্যদিকে টাঙ্গাইলসহ কিছু কিছু এলাকার কৃষকরা  বোরো ধান কেটে বৈশাখ মাসের শেষের দিকে কেনাফ চাষ করে থাকেন। কাজেই  কেনাফ ফসলের বপনকালীন সময় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি এবং কৃষকরা সুবিধাজনক সময়ে কেনাফকে শস্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। শতকরা আশি ভাগ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতাসম্পন্ন কেনাফ বীজ ১১ থেকে ১২ কেজি হেক্টরপ্রতি বপন করে ৪ মাসে ৩ থেকে ৩.৫ টন কেনাফ আঁশ পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশের বাজারে পাট ও  কেনাফ আঁশের দাম একই হওয়ায় কৃষকদের নিকট কম পরিচর্যায় অধিক ফলন প্রাপ্তিতে কেনাফের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ে উন্নতমানের দেশীয় জাতের কেনাফ বীজ। চলতি উৎপাদন মৌসুমে কিশোরগঞ্জ  জেলার কটিয়াদি উপজেলার গচিহাটা অ্যাকোয়াকালচার ফার্মস লিমিটেড তাদের কৃষি খামারে উৎপাদিত এইচসি-৯৫ জাতের ৬০০০ কেজি কেনাফ বীজ স্থানীয় কৃষকদের কাছে প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা হিসাবে বিক্রি করায় ৩৯ লাখ টাকা আয় করেছে। যদিও স্থানীয় বাজারে ভারতীয় কেনাফ বীজ ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়, তারপরও ভালো ফলনের জন্য অধিক মূল্য দিয়ে দেশীয় জাতের বীজ সংগ্রহ করছে কৃষকরা।  দেশীয় জাতের কেনাফের ফলন ও মান দুটোই ভালো এবং বীজের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে লাভজনক বীজ ফসল হিসেবে  কেনাফকে শস্য বিন্যাসে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে বীজের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে। উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকাসহ দেশে ফসল চাষের অনুপযোগী প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমি প্রতি বছর অনেকটাই পতিত পড়ে থাকছে। অথচ এসব জমিতে অল্প পরিচর্যা ও কম খরচে অধিক ফলনশীল কেনাফ চাষ করে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। বিদেশে প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ইনটেরিয়র কাজের ইনস্যুলেটর হিসেবে  কেনাফ আঁশের বিপুল চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়াও জুটেক্স ও জিওটেক্সটাইল  তৈরি এবং কেনাফ কাঠির ছাই থেকে চারকোল তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায়  কেনাফ চাষ করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দুয়ার খুলে যেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে বিপুল সম্ভাবনাময় এ আঁশ ফসল পতিত জমিতে আবাদ করতে পারলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, শ্রমশক্তি ব্যবহার এবং বনজসম্পদের ওপর চাপ কমবে। পতিত ও প্রান্তিক জমিতে কেনাফ চাষাবাদের মাধ্যমে একদিকে  যেমন পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। লেখক: কৃষিবিদ মো. আল-মামুন, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রজনন বিভাগ, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।

আমার নামাজ, কোরবানি, জীবন-মরণ হে আল্লাহ একমাত্র তোমারই জন্য

এবারের হজ্ব ও কোরবানী হাজির হয়েছে এক মহাসঙ্কটকালে। বিশ্বব্যাপী চলছে করোনাভাইরাসের প্রচন্ড তান্ডব। পবিত্র শহর মক্কা, মদীনা এবং  গোটা সৌদি আরবেও ঘটেছে এর প্রাদুর্ভাব। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে সেখানে বহির্দেশীয়দের আগমন। সে দেশে অবস্থানরত  কেবলমাত্র সীমিত সংখ্যক লোকেরাই পালন করতে পারবেন পবিত্র হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের জন্য মসজিদুল হারাম (মক্কা), মসজিদে নবুবীতে (মদীনা) সালাত আদায় ও জিয়ারতের ক্ষেত্রেও আরোপিত ছিল নানা বাধা নিষেধ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এখনো বিশ্বজুড়ে। একমাত্র সর্বক্ষমতার মালিক আল্লাহই জানেন, কোন দিন এই ধ্বংসাত্মক মহামারির কবল থেকে মানব জাতি মুক্তি লাভ করবে। মক্কা, পবিত্র কাবা, মসজিদুল হারাম, রওজা মুবারক, মসজিদে নবুবী ও মদীনা মুনাওয়ারার সাথে মুসলমানদের সম্পর্ক, ঈমানের, হৃদয়ের। এর প্রতি ভালবাসা, আবেগ, অনুভূতি কেবলমাত্র অনুভব করা যায়, কোনো ভাষা দিয়ে ব্যক্ত করা যায় না। জীবনে একবার হলেও হজে¦ বাইতুল্লাহ ও জিয়ারতে মদীনা মুসলমান মাত্রেরই লালিত স্বপ্ন। হজ্বে মৌসুম এলেই আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে এই দিলি তামান্না। এ বছরের এই মহাসঙ্কটে হতাশ হৃদয়ে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে সেই না পাওয়া বেদনা। স্মৃতিচারণ, আর দয়াময় আল্লাহর দরবারে দোয়া মুনাজাত এখন একমাত্র দাওয়াই। এই যে মনের আকুলি-বিকুলি, হৃদয়ের গভীর আকর্ষণ ও মোহাব্বত, প্রাপ্তি-আকাঙ্খা, হায় আফসোস, অশ্রুবিসর্জন এর অনেক মূল্য আল্লাহর কাছে। এর সওয়াব অপরিমেয়। অনেক ক্ষেত্রে সোয়াব ও গুনাহ প্রাপ্তির ব্যাপারটা মনের আকর্ষণ-বিকর্ষণ, অনুরাগ-বিরাগের উপর নির্ভর করে। একটা মানুষ নেককার কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে পাপানুষ্ঠানে যোগদান করতে বাধ্য হয়েছে, এছাড়া তার গত্যান্তর ছিল না। সেখানে অবস্থান করেও লোকটির মন পড়ে থাকে যদি জিকির ও ইবাদতের মজলিসের প্রতি, পাপানুষ্ঠানে থাকা সত্ত্বেও ঐ লোকটির আমলনামায় নেক মজলিসে যোগদানের সওয়াব লেখা হবে। ঠিক এর বিপরীত, অপর একটি লোক একান্ত অপারগ হয়ে কোনো নেক মজলিসে যদি যোগদান করে কিন্তু তার মন পড়ে থাকে যদি পাপানুষ্ঠানের মাঝে, বারবার জাগ্রত হতে থাকে যদি ঐ মজলিসের অনুষ্ঠানাদি- নেক মজলিসে অবস্থান করা সত্ত্বেও তার আমলনামায় ঐ পাপ-অনুষ্ঠানের গুনাহ লেখা হবে। এ কিতাবেরই কথা। আসলে নেক-বদের কেন্দ্রস্থল তো মানুষের মন বা আত্মা। এ জন্যই আত্মার পরিশুদ্ধির ওপর ইসলাম দিয়েছে এতো গুরুত্ব। রাসুলে পাক (স.) বলেন, দেহের মধ্যে আছে একটি মাংসপিন্ড সেটি যখন পরিশুদ্ধ হয়ে যায় সর্বদেহ তখন পরিশুদ্ধ হয়ে যায়। সেটি যখন ক্লেদাক্ত হয়ে যায়, সর্বদেহই তখন ক্লেদাক্ত হয়ে যায়। এর নাম হচ্ছে ক্বালব বা মন। তাই একান্ত অপারগতার কারণে কাবাশরীফে, মসজিদুল হারামে, সাফা-মারওয়ায়, আরাফাতে, মিনা মুজদালিফায় কিংবা মদীনা মুনাওয়ারায়, মসজিদে নবুবীতে, রওজায়ে আতহারে হাজিরি দিতে অসমর্থ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের মনকে নিয়ে যেতে পারি যদি সেখানে, সে স্থানগুলোর ইতিহাস ও স্মৃতিসমূহ চারণ করে, জাগ্রত করতে পারি যদি তীব্র আকর্ষণ ও অনুভূতি, আল্লাহ রাববুল আলামীনের দরবারে যদি জানাতে পারি প্রাণঢালা ফরিয়াদ এবং গ্রহণ করতে পারি যদি তার থেকে শিক্ষা, তবে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবো না। অবশ্য যার উপর হজ্জ্ব ফরয তাকে সুযোগ এলে তা আদায় করে নিতে হবে। ঐ ঐতিহাসিক স্থানসমূহ দর্শন, যথাস্থানে, যথাসময়ে অনুষ্ঠানাদি পালনের মধ্যে অনেক শিক্ষাও রয়েছে। বস্তুত: হযরত ইবরাহীম (আ.), ইসমাঈল (আ.) ও মা হাজেরা (আ.)কে উপলক্ষ করেই কাবাকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানাদির প্রবর্তন। সে সব আমরা বিশেষভাবে স্মরণ করতে পারি এবং তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। যেমন, হযরত ইবরাহীম (আ.) চার সহস্রাধিক বছর পূর্বে ফিলিস্তিন থেকে মা হাজেরা ও শিশু ইসমাঈল (আ.)-কে সহস্রাধিক মাইল দূরে, খাদ্য-পানি হীন বিজন উষর পার্বত্য মরুউপত্যকায় নির্বাসন দিয়ে যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন অসহায়া হাজেরা (আ.) স্বামীর জামার আস্তিন টেনে ধরে সাশ্রুলোচনে জিজ্ঞাসা করেন, এমন এক স্থানে আমাদেরকে কেন রেখে যাচ্ছেন আপনি? হযরত ইবরাহীম (আ.) ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বললেন, ধৈর্য ধর হাজেরা! এ আল্লার ইচ্ছা। সংযত হয়ে মা হাজেরা (আ.) বললেন: আলহামদুলিল্লাহ! এ যদি আল্লাহর ইচ্ছা হয়ে থাকে তবে তা-ই হোক। আমরা কখনো কখনো কঠোর কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হই। তখন যদি মা হাজেরা (আ.)-এর ধৈর্য এবং আল্লাহর উপর নির্ভরতার কথা স্মরণ করে সবক গ্রহণ করতে পারি, তবে লাভ করতে পারব মনে সান্ত¦না। শোচনীয়, নৈরাশ্যজনক উপায় হীনতার মাঝেও আল্লাহই যে উপায় করে দিতে পারেন, জমজম কূপ কি তার নিদর্শন হয়ে বিরাজ করছে না? আর আল্লাহপাক যে তার প্রিয় বান্দা-বান্দীর কাজকে চিরস্মরণীয় করে রাখেন সাফা-মারওয়ার সায়ী কি তার জ্বলন্ত উদাহরণ নয়? শিশু ইসমাঈল (আ.) তৃষ্ণায় মৃত্যুদ্বারে, মা হাজেরা (আ.) অধীর ব্যাকুল হয়ে ৭ বার দৌড়ালেন সাফা ও মারওয়ায় পানির খোঁজে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তা চির স্মরণীয় করে রাখলেন হজ্জ্ব ও ওমরাকারীদের জন্য সাফা মারওয়ায় সাতবার দৌড়ানো ওয়াজিব করে দেয়ার মাধ্যমে। দুগ্ধ পোষ্য শিশু ইসমাঈলের কচি পায়ের আঘাতে কঠিন শিলা থেকে যে পবিত্র পানির ধারা বের হতে থাকল, হাজার হাজার বছর ধরে, বিশ্ব মুসলিম তা পরম ভক্তিভরে পান করে আসছে, পান করতে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। আল্লাহ বলেন, এখানে (মক্কা শহর এবং তার চতুর্দিকে) রয়েছে এমনি বহু সুষ্পষ্ট নিদর্শন এবং মাকামে ইবরাহীম। আমাদের দৃষ্টি, জ্ঞান সীমাবদ্ধ। ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা আমাদের নেই। মা হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাঈল (আ.)-এর এই নির্বাসন আপাত দৃষ্টিতে বড় নির্মম মনে হয়, কিন্তু তা যে ছিল আল্লাহর মাস্টারপ্লান কার্যকর করণের সূচনা পর্ব, পরবর্তী ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুননির্মিত হয় সুপ্ত বায়তুল্লাহ- কাবা; প্রবর্তিত হয় হজ¦ ওমরার ইবাদত; গড়ে ওঠে মক্কা শহর, সেখানে আবির্ভূত হন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর মনোনীত দ্বীন ইসলাম। আরাফা, মিনা, মুজদালিফা চিরস্থায়ীভাবে পরিণত হয় বিশ্ব মুসলিমের মহামিলন মেলায়। বস্তুত: মহাহাকিম আল্লাহর কোনো কাজই হিকমত থেকে খালি নয়। কোরবানী আমরা করে থাকি এবং করব। কিন্তু আল্লাহর কি প্রয়োজন আছে রক্তের কিংবা গোস্তের? না। আল্লাহ বলেন, ‘জবেহকৃত এ পশুর গোশত, রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, পৌঁছে তোমাদের মনের তাকোয়া’ (২২:৩৮)। আল্লাহর জন্য আমাদের জান-প্রাণ সবকিছু উৎসর্গ করতে পারি কিনা, আল্লাহ তাই দেখতে চান। আল্লাহ কি হযরত ইবরাহীমের নিকট বাস্তবেই চেয়ে ছিলেন তাঁর ছেলে ইসমাঈলের কল্লা ও রক্ত? যদি চাইতেনই তবে তো ইবরাহীম (আ.) ইসমাঈল (আ.) এর গলায় তীক্ষèধার ছুরি চালিয়েই দিয়েছিলেন, সেতো জবেহ হয়েই যেতো। না, আল্লাহ তা চান নি। আল্লাহ দেখতে চেয়েছেন, তাঁর খুশির জন্য নিঃসঙ্কোচে পুত্রকে জবেহ করতে পারেন কিনা। সে মহাপরীক্ষায় হযরত ইবরাহীম (আ.) উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি মিনা ময়দানে নিয়ে গিয়ে পুত্রকে উপুড় করে ফেলে তীক্ষ্ণধার ছুরি তার গলায় চালিয়ে দিয়েছিলেন। তার পূর্বক্ষণে ইসমাঈলকে যখন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন তোমাকে জবাই করতে, তোমার মতামত কী? বাপের যোগ্য বেটা ইসমাঈল তখন অকম্পিত কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন: পিতাঃ, আমাকে জবেহ করার যে নির্দেশ আপনি পেয়েছেন তা কার্যকর করুন, আমাকে জবেহ করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন। পুত্র গলা পেতে দিলেন, পিতা তাতে ছুরি চালিয়ে দিলেন। আল্লাহর এরশাদ: ‘বল আমার নামাজ, আমার কোরবানী, আমার জীবন-মরণ সবকিছু হে আল্লাহ একমাত্র তোমারই জন্য।’ (৬:১৬২) আল্লাহই মুমিন বান্দার সব। এ কেবল কথায় নয়, জায়গা, জমি, ধন-সম্পদ, মা-বাপ, স্ত্রী-সন্তান, এমন কি নিজের প্রাণের চেয়েও আল্লাহকে যখন বেশি প্রিয় বানাতে পারবে, ভালবাসতে পারবে তখনই হতে পারবে খাঁটি মোমিন। তখন গর্দানে তলোয়ার মেরেও তাকে ঈমানচ্যুৎ করা যাবে না। তখন সে নিজের জন্মভূমির মায়া পরিত্যাগ করে হিযরত করতে দ্বিধা করবে না। লড়াইয়ের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শহীদ হতেও পিছপা হবে না। বরং তা পরম গৌরবের মনে করবে। আল্লাহর খুশির জন্য অকাতরে নিজের টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ নিরন্ন, অসহায়, দুর্গত, দুস্থ মানুষকে বিলিয়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা করবে না। লোকের বাহবা পাওয়া নয়, যশঃ কিংবা খ্যাতির মোহে নয়। কেবল আল্লাহর খুশির জন্য। আল্লাহর খুশি যদি একমাত্র লক্ষ্য না হয়, তবে তো যেখানে মানুষ দেখবে না, জানবে না, দাতাগিরি জাহির করার সুযোগ অনুপস্থিত থাকবে, প্রয়োজন তীব্র থাকলেও সেখানে দানের হস্ত প্রসারিত হবে না। তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, কোরবানীর প্রকৃত শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আর এর প্রয়োজন এখন সব চেয়ে বেশি। লাখো মানুষ এখন করোনা আক্রান্ত; লাখো লাখো লোক এখন কর্মহীন, বেকার, রোজগারের কোনো ব্যবস্থা নেই। এই মহামারীর দুর্যোগের উপর মরার উপর খাড়ার ঘার মতো প্রাদুর্ভাব ঘটেছে মহাপ্লাবনের। দেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে আছে পানির নিচে। তিস্তা, পদ্মা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র, ধলেশ্বরী, আড়িয়াল খাঁসহ অধিকাংশ নদ নদীর পানি বইছে বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে। ফসল তলিয়ে গেছে পানির তলায়, ভাঙনে জায়গা জমি বসতবাটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী-গর্ভে। করোনার ছোবলে পর্যুদস্ত বন্যাকবলিত এসব গৃহহীন আশ্রয়হীন অসহায় মানুষদের কী যে করুণ অবস্থা তা ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। এদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে সর্বোতভাবে আত্মনিয়োগ করতে হবে। কোরবানীর মহাত্যাগের শিক্ষা সরে জমিনে প্রয়োগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। পরকালীন নাজাত ও জান্নাত লাভের এ সুযোগ গ্রহণ করতে হবে। আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অবশ্যই চাই। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেন: ‘তোমরা যা ভালবাস তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত কখনো পুন্য লাভ করতে পারবে না। তোমরা যা কিছু ব্যয় কর আল্লাহ অবশ্যই সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।’ (৩:৯২) জান্নাতী লোকদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেন: ‘আহার্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে।’ (৭৬:৮) অর্থাৎ- তারা শুধু নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহার্যই দরিদ্রদেরকে দান করে না; বরং নিজেদের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও দান করে। আল্লাহপাক কুরআনুল কারীমের আর এক জায়গায় বলেন: ‘তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক।’ (৫১:১৯) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন: ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি দান করতে থাক, আমিও তোমাকে দান করব।’ (বুখারী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘ঐ ব্যক্তি ঈমানদার নয়, যে পেটভরে খায়, অথচ তার পাশেই রয়েছে প্রতিবেশি ক্ষুধার্ত-অভুক্ত।’ (বায়হাকী) আল্লাহ হলেন রাব্বুল আলামীন- বিশ্বজগতের প্রতিপালক। আর মানুষ হলো এই জমিনে আল্লাহর প্রতিনিধি। প্রতিনিধি হিসেবে তার অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে সৃষ্টির লালন-পালন। তাই আসুন, ত্যাগ ও কোরবানীর শিক্ষা অনুসরণ করে আমরা এই মহান দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে ব্রতী হই।

 

গণমাধ্যমের ক্রান্তিকাল

গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের মাধ্যমেই দেশব্যাপী ঘটা অপরাধজনক কর্মকা  ও সম্ভাবনাসহ সব খবর জানতে পারে নাগরিক সমাজ। সামাজিক অপরাধরোধে গণমাধ্যম সবসময়েই অগ্রণী ভূমিকা  রেখে এসেছে এবং এখনো রাখছে। তবে কোভিড-১৯ এর প্রভাবে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত দেশ, তার প্রভাব পড়েছে গণমাধ্যমেও। ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও করোনার প্রভাবে খারাপ সময় চললেও বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়া করোনাকালে ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনার হানায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বহু পত্রিকা তাদের প্রকাশনা বন্ধ রেখেছে। বহুল প্রচারিত অনেক পত্রিকাও নিয়মিত যত পাতায় পত্রিকা প্রকাশ করত, করোনাকালে পাতা কমিয়ে এনে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশে বাধ্য হয়েছে। সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক। করোনার ক্রান্তিকালে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিজ্ঞাপন না পাওয়াই প্রকাশনা বন্ধের অন্যতম কারণ। এই সময়ে হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা ব্যতীত অন্যান্য পত্রিকার সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও ঠিকমতো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এই অচলাবস্থা এখনো বিদ্যমান আছে। লকডাউন তোলে দেয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকলেও প্রিন্ট মিডিয়ার অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদপত্র দাঁড়িয়ে আছে নানা সহায়ক শক্তির ওপর। প্রচারসংখ্যা ও বিজ্ঞাপনের ওপরই মূলত নির্ভর করে গণমাধ্যমের উঠে দাঁড়ানো এবং টিকে থাকে। কিন্তু করোনাকালে অর্থনৈতিক মন্দায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। গণমাধ্যমের ক্রান্তিকালের সুযোগটা নিচ্ছে অপরাধীরা। বিভাগীয় শহর কিংবা জেলাভিত্তিক পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা বন্ধ থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে সেসব পত্রিকায় কাজ করা সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করছেন না। এছাড়াও বহুল প্রচারিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে অনেক পত্রিকা পৃষ্ঠা কমিয়ে প্রকাশ করছে। ফলে সমাজভিত্তিক অপরাধজনক ঘটনাগুলোর অধিকাংশই আড়ালে থাকছে। বাংলাদেশে দৈনন্দিন বহু অপরাধজনক ঘটনা ঘটছে, যেসব মিডিয়ায় প্রকাশের পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এছাড়াও সমাজে ঘটে যাওয়া ভালো-মন্দ ঘটনা, সম্ভাবনাসহ সব সংবাদই মিডিয়ায় প্রচারের পর আলোচনায় আসে, প্রতিকার পায় ভুক্তভোগী, প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা হয়। প্রতিভাবান ব্যক্তিরাও মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের কাজগুলো তুলে ধরতে পারেন। তবে আশার কথা করোনার প্রকোপ এখনো না কমলেও মানুষজন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হচ্ছে। মহামারির কাছে হেরে না গিয়ে কর্মমুখর হচ্ছে প্রতিটি মাধ্যম। দেশের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে মত্ত। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে গণমাধ্যম এর কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হবে, সেই প্রত্যাশা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চযাত্রা নিরাপদ করার চেষ্টা চলছে – নৌ-প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে লঞ্চের ডেকে যাত্রীদের মার্কিং মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের দেশে লঞ্চের স্বাভাবিক নকশা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এজন্য করোনা এবং বন্যার মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চযাত্রা স্বস্তিদায়ক এবং নিরাপদ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দপ্তর ও সংস্থাসমূহের মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিপত্র (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। লঞ্চে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরাতো কখনও কল্পনা করিনি এ ধরনের ছোঁয়াচে রোগ আসবে। এখন বিভিন্ন লঞ্চ টার্মিনালে আমরা জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করেছি, যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লঞ্চ মালিকরাও বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে সব থেকে বড় কথা হচ্ছে আমাদের লঞ্চগুলোর নকশা করোনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ভবিষ্যতে যখন নতুন লঞ্চের অনুমোদন দেওয়া হবে তখন এ বিষয়গুলো দেখা হবে। আমরা যাত্রীদের বিনীত অনুরোধ করবো, বিশেষ করে ডেকের যাত্রীদের জন্য যে মার্কিং করে দেওয়া হবে, তারা যেন সেটা মেনে চলেন। বন্যা আরও বেশি হলে নৌ চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যত বেশি পানি হবে নৌকা তত ভাসবে। তবে তীর ভাঙা বা কোনো কারণে ফেরি চলাচলে সাময়িক অসুবিধা হলে তা দ্রুত ঠিক করা হবে।

দেশকে গরু-ছাগলের খোঁয়াড়ের মতো বানানো হয়েছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেছেন, সারাদেশকে গরু-ছাগলের খোঁয়াড়ের মতো বানানো হয়েছে, যেন কেউ প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে না পারে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২০ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সকালে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরের আড়িয়াল বিলে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল মুন্সিগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে মৎস্য অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা করে, যা সে লিখে বা বলে প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশের মানুষকে গরু-ছাগলের খোঁয়াড়ে পরিণত করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন, এই ঘরের মধ্যে মানুষ বন্দি থাকলে আমার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলবে না। তিনি দিনের ভোট রাতে করেন। তিনি জনপ্রতিনিধি কাকে বানাবেন, সেটা আগেই ঠিক করে রাখেন। নির্বাচনের নামে সেটি ঘোষণা দেন মাত্র। প্রকৃত ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। সরকারের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম করছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করছে। এটি আজকে বর্তমান সরকার কেড়ে নিয়েছে। আজকে যদি আপনারা মতপ্রকাশের জন্য ফেসবুকে কিছু লেখেন, দিনে রাতে যে কোনো সময় সাদা পোশাকধারীরা আপনাকে তুলে নিয়ে যাবে। আজকে ভোটের অধিকার নেই। আজকে কথা বলার অধিকার নেই। মানুষের গণতান্ত্রিক যে অধিকারগুলো রয়েছে, সব কেড়ে নেয়া হয়েছে। সেটি ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে লড়াই করছি। এই লড়াই করতে গিয়ে আমি আপনিই শুধু কারাগারে যাইনি। দেশের কোটি কোটি মানুষের যিনি আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় দুই বছরের অধিককাল কারাগারে বন্দী করে রেখেছিলো। সরকারের রোষানলে পড়ে আজকে দেশছাড়া হয়েছেন সারাদেশে কোটি মানুষের নয়নের মণি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কথা বলেছেন বলেই তিনি আসলে দেশ ছাড়া। রিজভী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন আজকে যারা ক্ষমতায় আছেন তাদেরই পূর্বপুরুষেরা। তারা সেই সময়ে এই কাজগুলো করেছিলেন। সংবাদপত্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা। কয়েকটি পত্রিকা ছাড়া কোনো পত্রিকা চলতে দেননি। কথা বলা যাবে না। এক দল এক নেতা। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে এগুলো চালু করে দিয়েছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। বিএনপির এ সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমানের আরও একটি কাজ ছিল উন্নয়ন এবং উৎপাদনের রাজনীতি। দুই-একটা ফ্লাইওভার করে আওয়ামী লীগের নেতারা পকেট ভারী করে কানাডায় বাড়ি বানাবেন, সেকেন্ড হোম করবেন মালয়েশিয়ায়, এটা জিয়াউর রহমানের নীতি ছিল না। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মৎসজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাব, সদস্য সচিব আবদুর রহিম, মৎস্যজীবী দল মুন্সিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন সামি প্রমুখ।

সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানের হবে শাহজালাল বিমানবন্দর – কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানের একটা বিমানবন্দর করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল ভবনের ফাউন্ডেশনের স্টিল পাইলের পরিবর্তে বোর্ড পাইলস ব্যবহারের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি নির্মাণ হলে সারা বিশ্বের কাছে বলতে পারবো আমাদেরও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর আছে। গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ-সংক্রান্ত দুটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের বাইরে থাকায় সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে জুম প্লাটফর্মের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দুইটি প্রস্তাবের মধ্যে একটি হলো, কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের লক্ষ্যে ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবটি অনেক বড় একটি প্রস্তাব। আমাদের প্রাধিকার প্রকল্পের একটি। প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তর করে পর্যটকদের আকষর্ণের স্থান হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য ১৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫০ টাকার একটি প্রকল্পে সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ঠিকাদারির কাজটি পেয়েছে চায়নার সিআরসি কোম্পানি। বৈঠকে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হচ্ছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৩য় টার্মিনাল ভবনের ফাউন্ডেশনের স্টিল পাইলের পরিবর্তে বোর্ড পাইলস ব্যবহারের ভেরিয়েশন বা কার্যবিধি পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের অহংকারের একটি প্রকল্প। আমরা চাচ্ছি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানের একটা বিমানবন্দর হোক। এই বিমান বন্দরটির ৩য় টার্মিনালটি নির্মাণ হলে সারা বিশ্বের কাছে বলতে পারবো আমাদেরও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর রয়েছে। জানা গেছে, ২০১৫ সালে শাহজালাল বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টার প্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যায়। ২০১৭ সালে ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। নির্মাণ কাজে অর্থায়ন করবে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এ ছাড়া সব ধরনের সাপোর্ট দেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ৪ বছর। থার্ড টার্মিনালের ভবন হবে তিন তলা। ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই ভবনটির নকশা করেছেন স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনি এনওসিডি-জেভি জয়েন্ট বেঞ্চার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন (প্রাইভেট) লিমিটেডের (সিঙ্গাপুর) স্থপতি। থার্ড টার্মিনালের বহির্গমনের জন্য ১৫টি সেলফ সার্ভিস (স্ব-সেবা) চেক ইন কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার থাকবে। এছাড়া, ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ মোট ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে। আগমনীর ক্ষেত্রে ৫টি স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট এবং ১৯টি চেক-ইন অ্যারাইভেল কাউন্টার থাকবে। টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে। অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য ৪টি পৃথক বেল্ট স্থাপন করা হবে। তৃতীয় টার্মিনালে সঙ্গে বর্তমান টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে প্রকল্পের প্রথম ধাপে কোনও যোগযোগ ব্যবস্থা থাকবে না। তবে প্রকল্পের ২য় ধাপে কানেকটিং কোরিডোরের মাধ্যমে পুরোনো টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তৃতীয় টার্মিনালে সঙ্গে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং বিল্ডিং ভবন নির্মাণ করা হবে, সেখানে ১ হাজার ৪৪টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে ভিভিআইপিদের জন্য শাহজালালে পৃথক ভিভিআইপি কমপ্লেক্স রয়েছে, সেটি ভেঙে ফেলা হবে। তবে, তৃতীয় টার্মিনালে পৃথকভাবে স্বতন্ত্র কোনো ভিভিআইপি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে না। তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের অভ্যন্তরে দক্ষিণ পাশে সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ভিভিআইপি স্পেস থাকবে।

সুন্দরবন রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণের বিকল্প নেই – পরিবেশমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বাঘ সুন্দরবনের রক্ষক। এই বাঘের উপস্থিতির কারণেই সুন্দরবন এত বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয়। সুন্দরবনে বাঘ না থাকলে সেখানকার সামগ্রিক ইকোসিস্টেম ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা তথা ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে দেশকে বাঁচাতে সুন্দরবনের বিকল্প নেই। কাজেই সুন্দরবন তথা বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে বাঘ সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সুন্দরবনে বাঘের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার ‘বাঘ বাড়াতে করি পণ, রক্ষা করি সুন্দরবন’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২০ উপলক্ষে অনলাইন আলোচনা সভায় সরকারি বাসভবন হতে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে প্রায় ১১৪টি বাঘ রয়েছে। বন উজাড় ও অবৈধ শিকারের ফলে বাঘ বিশ্বে ‘বিপদাপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রকৃতিতে বিদ্যমান বাঘের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৮৯০টি। বাঘ বিশেষজ্ঞদেরর মতে, বাঘের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার এই প্রবণতা চলমান থাকলে আগামী কয়েক দশকে পৃথিবী থেকে বাঘ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবাসস্থলের উন্নয়ন ও নিয়মিত টহল প্রদান করে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যথোপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার বাঘের আবাসস্থল উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে সুন্দরবনের প্রায় ৫২% এলাকা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উভয় সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ, বাঘ ও শিকারী প্রাণী পাচার বন্ধ, দক্ষতা বৃদ্ধি, মনিটরিং ইত্যাদির জন্য ২০১১ সালে একটি সমঝোতা স্মারক এবং একটি প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী বাঘ ও হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর শিকারীদের শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে। সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে টাইগার কোঅর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণে জানমালের ক্ষতিগ্রস্ত ৫৯টি পরিবারের মধ্যে ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। শাহাব উদ্দিন বলেন, বাঘ সংরক্ষণের জন্য দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৮-২০২৭ প্রণয়ন করেছে। লোকালয়ে বাঘ আসামাত্র খবরাখবর আদান-প্রদান ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুন্দরবনের চারপাশের গ্রামগুলোতে বনবিভাগ ও স্থানীয় জনসাধারনের সমন্বয়ে টাইগার রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে নিয়মিত স্মার্ট প্যাট্রোলিং কার্যক্রম চলছে। বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনলাইন সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. মো. বিল্লাল হোসেন। উল্লেখ্য, বাঘ টিকে আছে বিশ্বে এমন ১৩টি দেশে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে গত ৩ বছরে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে ১১৪টি হয়েছে। অর্থাৎ ৩ বছরে সুন্দরবনের বাঘ বেড়েছে ৮টি। গত বছরের ২২ মে সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে ১১৪টি বাঘ রয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাকিং জরিপের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হয় বন বিভাগ। বিগত সময়ের থেকে বর্তমানে সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য কমে যাওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি তাদের। বাংলাদেশে বাঘের একমাত্র আবাসস্থল সুন্দরবনকে দিনের পর দিন অরক্ষিত করে ফেলায় চরম হুমকির মধ্যে ছিল দেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার। যদিও বর্তমানে এই অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অথচ রাশিয়ার সেন্টপিটার্সবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব বাঘ সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে প্রেক্ষিতে সুন্দরবন সন্নিহিত জেলা বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্গত সুন্দরবনে বসবাসকারী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা তেমনটি বাড়েনি। সর্বশেষ বাঘ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে ১১৪টি বাঘ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সুন্দরবনের ঘনত্ব অনুযায়ী কমপক্ষে ২০০টি বাঘ থাকার কথা। মানুষের তৎপরতা তথা অবৈধ শিকার, খাবারের অভাব ও প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগসহ সুন্দরবনের ভেতরে নদীতে নৌযান চলাচল এবং বনের পাশে শিল্প অবকাঠামো নির্মাণ বাঘের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ‘বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই প্রকাশিত ক্যামেরা পদ্ধতীতে বাঘ গণনার জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ওই সময় ভারত-বাংলাদেশ মিলে পুরো সুন্দরবন জুড়ে বাঘের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছিল ১৭০টি যা এর আগের শুমারি থেকে ২৭০টি কম। অথচ ২০০৪ সালে বন বিভাগ এনএনডিপির সহায়তায় প্রথমবারের মতো বাঘের পায়ের ছাপ গুণে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করেছিল ৪৪০টি। দু’বছর পর ২০০৬ সালে ক্যামেরা পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করে এর সংখ্যা নির্ধারণ করে ২০০টি। ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। গত বছরের ২২ মে সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে ১০৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বন বিভাগের হিসেবে ৫৩টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে মাত্র ১৫টি। লোকালয়ে ঢুকে পড়া ১৪টি বাঘকে পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা, একটি নিহত হয়েছে ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে ও বাকি ২৫টি বাঘ হত্যা করেছে চোরা শিকারিরা। অধিক মুনাফার আশায় বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, চামড়া, হাড়, দাঁত, নখ পাচার ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। আর এটি দেশ ও দেশের বাইরে চলে যেত চোরকারবারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। তবে আশার খবর হচ্ছে সুন্দরবনে একের পর এক বনদস্যুদের আত্মসমর্পণে বাঘ নিধন কমে এসেছে। সুন্দরবনে চোরা শিকারির পাশাপাশি বাঘের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে বাঘ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এ অবস্থায় হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ২০৭০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বাঘের জন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা থাকবে না। কেননা বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধিসহ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সুন্দরবনে টিকে থাকা কয়েকশ বাঘ বিলীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই অবস্থায় সুন্দরবনে বাঘের আবাসভূমি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

জনগণ বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল থেকে পরিত্রাণ চায় – ন্যাপ

ঢাকা অফিস ॥ বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে ধরনা দিয়েও গ্রাহকরা ভুতুড়ে বিলের বিষয়ে সঠিক সমাধান পাচ্ছেন না। ফলে দুর্ভোগ তাদের পিছু ছাড়ছে না। জনগণ বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল থেকে পরিত্রাণ চায়। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন। নেতৃদ্বয় বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভোগান্তি চলছে করোনাকাল শুরুর পর থেকে। পরপর দুই মাস বিদ্যুতের মিটার রিডাররা গ্রাহকদের বাসায় যাননি। ঘরে বসেই আনুমানিক বিল করেছেন। অবশ্য পরে এগুলো সমন্বয় করা হলেও আবারও বহু গ্রাহক নতুন করে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তারা বলেন, সরকারের নানা ঘোষণা, তদন্ত কমিটি, গণশুনানি কোনো কিছুতেই ভুতুড়ে বিল থেকে নিস্তার মিলছে না। অভিযোগের পর বিতরণ কোম্পানি কিছু গ্রাহকের বিল সমন্বয় করলেও দুর্ভোগের শেষ নেই। সারাদেশে বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের ওপর মনগড়া ভুতুড়ে বিল চাপিয়ে দেয়ায় মধ্য দিয়ে জনগণকে দুঃসহ কষ্টের মধ্যে নিপতিত করছে। নেতৃদ্বয় বলেন, করোনাকালে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ প্রায় আয়হীন। অনেক চাকরিজীবী তাদের কর্ম হারিয়েছেন নতুবা পূর্বের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অধিকাংশ মানুষের সাধারণ জীবনযাপনেও নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর অব্যাহত এ আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়।

আলমডাঙ্গায় নেতাকর্মিদের মতবিনিময় সভায় এমপি ছেলুন

প্রত্যেক ইউনিয়ন নেতাকর্মিদের মাঝে মাস্ক ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরণ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন আলমডাঙ্গা উপজেলা ও  পৌর আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। গতকাল  বেলা ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনুর  সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছেলুন এমপি বলেন- দেশে দিনকে দিন করোনার প্রকোপ বেড়েই চলেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরসহ সকল উপজেলা রেড জোন ঘোষনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বৃহত্তর আলমডাঙ্গা উপজেলায় করোনা সংক্রমন বেড়েই চলেছে, এরই মাঝে প্রায় ৫/৬ জন মৃত্যুবরন করেছে, সরকার করোনা মোকাবেলায় সবদিক দিয়ে প্রস্তুত আছে। যারা ইতোমধ্যে মৃত্যুবরন করেছেন, তাদের আত্বার শান্তি কামনা করছি। প্রায় সাড়ে চার মাস আমাদের সকলে করোনার কারনে অস্বাভাবিক জীবন কাটাতে হচ্ছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা সকলে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলুন, মুখে মাস্ক ব্যবহার করবেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচক্ষনতার সাথে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন। সামনে পবিত্র কোরবানীর ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে বহু মানুষ গরু, ছাগল ক্রয় করতে পশু হাটে যাবেন, সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হবে,তাই সকলকে সাবধান থাকতে হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জেলায় অনলাইনের মাধ্যমে গরু বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়াও পশু হাট খোলা থাকলে আপনারা বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন। সভায় প্রধান অতিথি এমপি ছেলুন উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি, সম্পাদকদের হাতে ৫শ’ মাস্ক ও ১ শ করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করেন। সভায় বিশেষ অতিথি অতিথি ছিলেন,  জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যাবসায়ি আলহাজ্ব লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, খন্দকার শাহ আলম মন্টু, হামিদুল ইসলাম, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, কাজী খালেদুর রহমান, আতিয়ার রহমান, পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য আবু মুছা, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, আবু হোসেন আবু, মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু, জেলা পরিষদ সদস্য আসাবুল হক ঠান্ডু, মকবুল হোসেন মাষ্টার, মাসুদ রানা তুহিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা দিদার আলী, রাহাব আলী, আব্দুর রাজ্জাক, ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ পিন্টু, আসিকুর রহমান ওল্টু, তরিকুল ইসলাম, শামিম আহম্মদ, হাফিজুর রহমান বাবলু, ডাঃ অমল কুমার বিশ্বাস, নুরুল ইসলাম দিপু, সোনা উল্লাহ, খন্দকার মজিবুল, আক্তারুজ্জামান ঠান্ডু, আব্দুল হান্নান, মাসুদ রানা তুহিন, এমদাদ  হোসেন, মাহমুদ হাসান চঞ্চল, কামাল উদ্দিন, পরিমল কুমার ঘোষ, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ  নেতা, জয়নাল আবেদিন, পৌর আওয়ামীলীগের, ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল হক তবা, সাংবাদিক, প্রশান্ত বিশ্বাস, শরিফুল, ছাত্রলীগ নেতা মিজান, সাকিব, হাসান, রকি, বাদশা প্রমুখ।

মেহেরপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু – যুবক আহত

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের মাঠে বজ্রপাতে একরামুল হক (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় পলাশ হোসেন (২৫) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। নিহত একরামুল রাজনগর গ্রামের এনার আলীর ছেলে। আহত পলাশ একই গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজনগর গ্রামের বেলের মাঠে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।  স্থানীয়রা জানান বিকেলে আকাশে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সময় একরামুল তার মরিচের ক্ষেতে কীটনাশক (বিষ) দিচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি বজ্রপাত তার শরীরে আঘাত করলে, সে গুরুতরভাবে আহত হন। ওই সময়ে পাশের ক্ষেতে পলাশ নামের এক যুবক কাজ করার সময় বজ্রপাতে সেও আহত হয়। মাঠের অন্যান্য কৃষকরা আহত দু’জনকে উদ্ধার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে,কর্তব্যরত চিকিৎসক একরামুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পলাশ হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন। মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

করোনাকালীন শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে সেনাবাহিনী

করোনাকালীন কোন জনসমাগম নয়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন গৃহবন্দী জীবন যাপনে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২৯ জুলাই সেনাসদস্যরা নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্থানীয় বাজার/বিপনী বিতানগুলোতে মাইকিং এর মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। শেষ মুহুর্তে কোরবানির পশুর হাটে জনসমাগম বেশি হওয়ায়  সেনাসদস্যরা সেখানেও তাদের নজরদারি বৃদ্ধি এবং হাঁটে আসা ক্রেতা/বিক্রেতাদেরকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড  গ্লোবস এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও গণপরিবহন মনিটারিং, অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ, নগদ আর্থিক সহায়তা ও বীজ বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত  রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ নানাবিধ জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। যশোর সেনানিবাস সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় নয়, জাতীয় যে কোন দুর্যোগ  মোকাবেলায় সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে মানবিক হৃদয় দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি