‘কান্না’ শিরোনামে নতুন গান নিয়ে আরমান আলিফ

বিনোদন বাজার ॥ তরুণ কণ্ঠশিল্পী আরমান আলিফ। দেশীয় সংগীতশিল্পীদের মধ্যে ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত গানের শিল্পী তিনি। তার গাওয়া ‘অপরাধী’ গানটি দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। এরপর নিয়মিত নতুন নতুন গান উপহার দিয়ে আসছেন। তবে সেই আলোচনায় অনেকটা ভাঁটা পড়েছে। এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন আরমান আলিফ। ‘কান্না’ শিরোনামে নতুন গানটি কয়েকদিন আগে জি সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে। বরাবরের মতো এবারো গানটির কথা, সুর করেছেন আরমান আলিফ। সংগীতায়োজন করেছেন মুশফিক লিটু। গানটি নিয়ে একটি ভিডিও নির্মিত হয়েছে। লকডাউনের সময়ে বাড়িতেই এটি নির্মাণ করেছেন পরিচালক মো. রাসেল। গান প্রসঙ্গে আরমান আলিফ বলেনÑঈদ মানেই আনন্দের উৎসব। কিন্তু এবারের ঈদে আনন্দের চেয়ে হতাশা আর আতঙ্কই বেশি। কাকতালীয়ভাবে আমার গানের নামেও রয়েছে বিষাদের শব্দ। ‘কান্না’ গানটি আমার কাছে অনেক প্রিয়। আশা করছি, শ্রোতাদের কাছে থেকেও এটি ভালোবাসা পাবে।

সংগীতজ্ঞ সুজেয় শ্যাম করোনায় আক্রান্ত

বিনোদন বাজার ॥ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রখ্যাত কণ্ঠযোদ্ধা ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম। নগরীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। সুজেয় শ্যামের মেয়ে লিজা শ্যাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। লিজা শ্যাম বলেনÑবাবার শ্বাসকষ্টের সমস্যার কারণে ধারণা করা হচ্ছিল তিনি করোনায় আক্রান্ত। এই উদ্বেগ থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়। শনিবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে করোনা পজেটিভ রেজাল্ট পাওয়া গেছে। এরপর সেখানেই বাবাকে ভর্তি করানো হয়েছে। বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। তিনি যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। এর আগে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সুজেয় শ্যামকে। তবে সুস্থবোধ করায় গত বুধবার রাতে তাঁকে বাসায় পাঠিয়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দেশের চলচ্চিত্রের গানে অসাধারণ অবদান রেখে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে এ পর্যন্ত ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন সুজেয় শ্যাম। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রচারিত তাঁর সুর করা গানগুলোর মধ্যে ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’, ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি, বাংলাদেশের নাম’, ‘আজ রণ সাজে বাজিয়ে বিষাণ’, ‘মুক্তির একই পথ সংগ্রাম’, ‘ওরে আয়রে তোরা শোন’, ‘আয়রে চাষী মজুর কুলি’, ‘রক্ত চাই, রক্ত চাই’, ‘আহা ধন্য আমার’ উল্লেখযোগ্য।

তিন পরিচালকের এক ছবি!

বিনোদন বাজার ॥ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ত্রিভুজ’। যা পরিচালনা করছেন দেশের আলোচিত তিন নির্মাতা। তারা হলেন, ‘ঢাকা অ্যাটাক’-খ্যাত দীপংকর দীপন, ‘আবার বসন্ত’ নির্মাতা অনন্য মামুন এবং ‘দেশা দ্য লিডার’ দিয়ে আলোচিত সৈকত নাসির। সবকিছু চূড়ান্ত। ‘ত্রিভুজ’ নির্মাণ শুরু হবে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে।

পরিচালক দীপংকর দীপনবলেন, ‘যে জীবনগুলো আমাদের পর্দায় সেভাবে আসে না, এগুলো নিয়েই চলচ্চিত্রটি। প্রায় এক মাস ধরে ছবিটি নিয়ে আমাদের কথাবার্তা চলছিল। অবশেষে আমাদের পা-ুলিপি চূড়ান্ত করতে পেরেছি।’ সাধারণত যৌথ পরিচালিত ছবিতে দুজন নির্মাতাকে পাওয়া যায়। তিনজন একসঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে দীপন বলেন, ‘ছবিতে তিন বাহু। মূলত ত্রিভুজের তিন বাহু নিয়ে আমরা কাজ করেছি। তাই তিন জন। গত কয়েকদিন এটাই মেলানোর চেষ্টা চলছিল। তবে গল্প একটাই। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হবে। প্রি-প্রডাকশনের বেশিরভাগ কাজ আমরা অনলাইনে বসে করছি। আর শুটিং করবো জুনে। পুরো বিষয়টি শতভাগ পরিকল্পনা করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যধারণ শেষ হবে। ইচ্ছে আছে কোরবানির ঈদে ইউটিউবে এর মুক্তি দেওয়ার।’ এদিকে অনন্য মামুন জানান, এখন চলছে ছবিটির শিল্পী চূড়ান্তের কাজ। সেটা শেষ হলেই শুটিং। আর ছবিটি প্রযোজনা করছে সেলিব্রেটি প্রডাকশন। বলে রাখা দরকার, তিন নির্মাতার হাতেই রয়েছে অন্তত দুটি করে ছয়টি ছবি। যার সবক’টি স্থগিত রয়েছে চলমান মহামারির কারণে।

শুটিং থেকে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বাদ!

বিনোদন বাজার ॥ করোনায় সরকারি বিধিনিষেধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুটিংয়ে ফিরতে যাচ্ছে টেলিভিশনের ১৫টি সংগঠন। সংগঠনগুলোর সমন্বয়ক প্ল্যাটফর্ম এফটিপিও’র সভাপতি নাট্যজন মামুনুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এতে বলা হয়, ১ জুন থেকে শুটিং শুরু করা যাবে। তবে পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী ও নাট্যকারদের কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যারমধ্যে অন্যতম শর্ত, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কোনোভাবেই গল্পে রাখা যাবে না! তবে এই ‘ঘনিষ্ঠ দৃশ্য’ কতোটা বা কেমন ‘ঘনিষ্ঠ’, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্টদের কাছে। বেঁধে দেওয়া শর্তগুলো এমন- জনসমাগম হয় এমন স্থানে শুটিং করা যাবে না। একটি দৃশ্যে তিনজনের বেশি সংখ্যক শিল্পীর সমাগম ঘটানো যাবে না। অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে মাস্টার শট নিতে হবে এবং ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কোনোভাবেই গল্পে রাখা যাবে না। এছাড়াও পা-ুলিপিহীন কোনও নাটক নির্মাণ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শর্তের বিষয়গুলো ডিরেক্টরস গিল্ড ও অভিনয়শিল্পী সংঘ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংগঠন দুটির সাধারণ সম্পাদক এসএ হক অলিক ও আহসান হাবিব নাসিম জানান, সংক্রমণ এড়াতে জীবাণুনাশক ব্যবহার ও গাড়ি ব্যবহারের সাবধান হতে হবে। এমনকি শুটিংয়ে যাওয়ার আগে শিল্পীকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এ ছাড়া অভিনয়শিল্পীদের নিজ দায়িত্বে মেকআপ করে আসতে হবে। আর সবাইকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। তারা বলেন, ‘সরকারের দেওয়া নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুটিংয়ের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। উপর্যুক্ত নির্দেশাবলীর যেকোনও বিষয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের ঘোষণার সাথে সমন্বয় করে আন্তঃসংগঠনের নেতারা সংযোজন ও বিয়োজন করতে পারবে।’ বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ষাটোর্ধ্ব শিল্পী কলাকুশলীদের অংশগ্রহণ করালে তাদের বিষয়ে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। শিশু/কিশোর শিল্পীদের আপাতত কোনও নাটকে অংশগ্রহণ করানো যাবে না। শুটিং আরম্ভ হওয়ার পূর্বে যদি সম্ভব হয়, কলাকুশলীবৃন্দ পিপিই পরিধান করে কাজে অংশগ্রহণ করবেন। বিশ্বের বহুদেশের নীতিতে এটা রাখা। এবং শুটিং শুরুর আগে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে হবে সবার। এর আগে ২২ মার্চ থেকে দেশের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় টিভি নাটকের শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় টিভি নাটকের আন্তঃসংগঠনগুলো। এরমধ্যে একবার শুটিংয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েও নানা সমালোচনার চাপে সেটি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাতিল করা হয়। তবে এবারের সিদ্ধান্ত আপাতত বাতিল হওয়ার কারণ নেই বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

 

লুকিয়ে করোনা আক্রান্তদের সাহায্য করতেন ইরফান

বিনোদন বাজার ॥ দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে সম্প্রতি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইরফান খান। তার অকাল প্রয়াণে শোকে কাতর হয়ে আছে ভারতীয় সিনেমা জগত। দারুণ একজন অভিনেতার পাশাপাশি উঁচু মনের মানুষ হিসেবেও সমাদৃত ছিলেন ইরফান। তার মৃত্যুর পর বেরিয়ে আসছে মানবিকতার অনেক গল্প। দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইরফান খানের স্বভাব ছিল। বহু দুস্থ মানুষের উপকার করেছেন তিনি। তার প্রতি কৃতজ্ঞতায় একটি গোটা গ্রামের মানুষ গ্রামের নাম বদলে ফেলেছেন। করোনা আক্রান্তদের পাশেও ছিলেন এ অভিনেতা। কিন্তু অন্য অনেক তারকার মতো ঢাকঢোল পিটিয়ে তিনি সাহায্যের খবর প্রচার করেননি। করোনা আবহে চুপচাপ সাহায্য করে গিয়েছেন তিনি। অভিনেতার বন্ধু সম্প্রতি এই খবর প্রকাশ্যে এনেছেন। অভিনেতার সেই বন্ধুর নাম জিয়াউল্লা। তিনি জানিয়েছেন, ইরফান প্রায়ই মানুষকে সাহায্য করতেন। কিন্তু সবসময় খেয়াল রাখতেন যাতে এ নিয়ে কোনো খবর কখনো মিডিয়ায় প্রকাশিত না হয়। এমনকি করোনা আক্রান্তদেরও অনুদানও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেউ যেন এই ব্যাপারে মিডিয়াকে কথা না বলে সেজন্য না করেছিলেন তিনি। জিয়াউল্লাহ জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে সাহায্য করার কথা ভেবেছিলেন তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধু। ইরফান যখন সেকথা জানতে পারেন, তিনিও এগিয়ে আসেন। দরিদ্র মানুষদের সাহায্যার্থে তৈরি সেই তহবিলে ইরফান নিজে অর্থদান করেছিলেন। তার একটি মাত্র শর্ত ছিল। এই সাহায্যের কথা যেন কেউ জানতে না পারে। তিনি বিশ্বাস করতেন, বাম হাত কী দিয়েছে, তা ডান হাতের জানা উচিত নয়। তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল মানুষের শান্তি। জিয়াউল্লাহ আরও বলেছেন, ‘ছোটবেলায় যখন ও ঘুমোতো, তখন বিছানার পাশে ঘুড়ি নিয়ে ঘুমোত। যখনই আসত, গোটা এলাকা পজিটিভিটিতে ভরে যেত। ও ওর মায়ের খুব কাছের মানুষ ছিল। মায়ের অসুস্থতার কথা শুনলে ছুটে আসত। খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও ইরফান আসত। কিন্তু মায়ের সঙ্গে দেখা করা কোনোভাবেই মিস করত না।’ মায়ের মৃত্যুতে প্রচ- ভেঙে পড়েছিলেন ইরফান খান। সেকথাও জানান জিয়াউল্লাহ। হয়তো সেই ধাক্কাই তাকে মন থেকে দুর্বল করে দিয়েছিল। তাই আর ক্যানসারের সঙ্গে লড়তে পারেননি ইরফান।

সিনেমার গল্পই বাস্তবে রূপ নিয়েছে!

বিনোদন বাজার ॥ একেতো করোনা, তার উপরে পঙ্গপালের হানা। এ যেন ভারতবাসীর কাছেÑগোদের উপর বিষফোঁড়া। পাকিস্তানে কৃষকের ফসল উজাড় করার পর ভারতের রাজস্থানের জয়সলমিরে ঢুকে পঙ্গপাল। তারপর মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশে ঢুকে পড়েছে। ফসল ক্ষতির আশঙ্কায় ভীত স্থানীয় কৃষক। এর মধ্যে নেটিজেনদের মনে পড়েছে কয়েকটি সিনেমার কথা। হলিউড সিনেমার পাশাপাশি ভারতের দক্ষিণী সিনেমায়ও পঙ্গপালের আক্রমণের বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গত বছর তেলেগু ভাষার ‘কাপ্পান’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেন কে ভি আনন্দ। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন সুরিয়া ও মোহনলাল। কৃষকের ফসলি জমিতে পঙ্গপালের হানার বিষয়টি এতে দেখানো হয়। সেই দৃশ্যই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চলছে জোর আলোচনা। অনেকে বলছেনÑ‘কাপ্পান’ সিনেমার সেই দৃশ্যই বাস্তবে রূপ নিয়েছে! বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন সিনেমাটির পরিচালক কে ভি আনন্দ। তিনি বলেনÑকাপ্পান সিনেমায় পঙ্গপালের দৃশ্য থাকায় অনেকেই ফোন করছেন। যদিও সাম্প্রতিক পঙ্গপাল হানার খবরে আমার খারাপ লাগছে। মাদাগাস্করে সিনেমাটির লোকেশন দেখতে গিয়ে আমরাও পঙ্গপালের মধ্যে পড়েছিলাম। গাড়ি চালানো যাচ্ছিল না। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর পঙ্গপালবাহিনী চলে যায়। এরপরই আমি কাপ্পান সিনেমায় পঙ্গপালের দৃশ্য রাখার কথা ভাবি। ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য রিপিং’ সিনেমায় পঙ্গপাল দেখানো হয়েছে। এটি পরিচালনা করেন স্টিফেন হকিংস। সিনেমার বিখ্যাত দৃশ্য দ্য কুইন অব লোকাস্টস। সেখানে দেখানো হয়, কীভাবে পঙ্গপাল এসে খুনের চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে দেয়।

প্রকৃতি বনাম মানব লড়াই

মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কটা মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই। তবে প্রকৃতি বনাম মানুষের লড়াইটা শুরু হয়েছিল তখনই, যখন মানুষ গাছ কেটে ঘর-বাড়ি; পাহাড়  কেটে রাস্তা; কিংবা নদীতে বাঁধ বানিয়ে নতুন নতুন সভ্যতার সূচনা করেছিল। তবে সে লড়াইটা ছিল টিকে থাকার লড়াই; বেঁচে থাকার লড়াই। তাই হয়তো নির্মল ধরিত্রীও তা মেনে নিয়েছিল  কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া ছাড়াই। এটা তখনই সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, যখন মানুষ বনাঞ্চল উজাড় করে; শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে কয়লা পুড়িয়ে বায়ুমন্ডলে কার্বনের অদৃশ্য ছাদ তৈরি করেছে। আর তাতে সূর্যের তাপ (অতিবেগুনি রশ্মি) আটকে রেখে ধরিত্রীকে করে তুলেছে উষ্ণ থেকে উষ্ণতর। তাই ধরিত্রীও হিমালয় কিংবা আটলান্টিকের বরফ গলিয়ে তার প্রতিশোধ নিচ্ছে বরাবর। কেননা ধরিত্রীও তো আর সর্বংসহা নয়। কথায় আছে বিপদ ঘাড়ে না চাপলে অনেকেরই টনক নড়ে না। তাই বিপদ এবার গায়ে জুড়ে বসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল নিয়ে বহুবছর ধরে আলোচনা চললেও এবছর এর চরম প্রভাব লক্ষ্য করেছে বিশ্ব। কুয়েতের তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এমনকি শীতপ্রধান ইউরোপের দেশ ফ্রান্সেও গত পহেলা জুলাই তাপমাত্রা ছিল ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস; চালু করা হয়েছিল রেড অ্যালার্ট। এ তো হলো ভিনদেশের খবর। খোদ বাংলাদেশের তাপমাত্রাও এবছর আগের সব রেকর্ড ভেঙে  পৌঁছে গেছে ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রকৃতি বনাম মানুষের এ লড়াইটা প্রথম খেয়াল করেছিল বিজ্ঞানীরা ১৯৫০ সালে। ‘পৃথিবীর গতিশীল উষ্ণায়নের ফলে আটলান্টিকের বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়বে; সমুদ্র তটবর্তী শহরগুলো ডুবে যাবে; এবং গ্রীষ্মকালে তাপদাহ প্রচন্ডরকম বাড়বে।’ এমন সব আশঙ্কার কথা তারা তখনই জানিয়েছিল; বলেছিল এর কারণ এবং সমাধানের কথাও। গবেষকরা গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ এবং বন উজাড়করণকেই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হিসেবে উলে¬খ করেছিল। তবুও বিংশ শতাব্দীতে জলবায়ু মোকাবিলায় সফল কোনো উদ্যোগ তো  নেওয়াই হয়নি বরং একবিংশ শতাব্দীতে এসে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে কার্বন নিঃসরণ এবং বন উজাড়করণ  বেড়ে চলছে জ্যামিতিক হারে। উন্নত দেশগুলোর এ নিয়ে মাথাব্যথা না থাকাটাই স্বাভাবিক। কেননা এর সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক বিষয়টি জড়িত। পুরো বিশ্বকে ডুবিয়ে হলেও তারা তাদের অর্থনৈতিক লাভটাকেই বেছে নেবে। তবে বাংলাদেশের মতো ভুক্তভোগী দেশকে এ বিষয়ে ভাবতেই হবে। কেননা বিশ্ব জলবায়ু ঝুঁকি সূচক ২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশ ষষ্ঠ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই এ অবস্থায় সরকারের বনভূমি রক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখা দরকার। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের ৭০% বনভূমি নিধন হয় সরকারি নানান প্রকল্প এবং অনুমোদন নিয়ে। ফলে বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ কমতে কমতে ১১.২%  নেমেছে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী যা কিনা ২৫% থাকা দরকার। এমন পরিস্থিতিতেও সরকার বনাঞ্চল বিধ্বংসী নতুন নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। একে তো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে সুন্দরবনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে  গেছে, তার ওপর আবার সুন্দরবনের পাশে আরও পাঁচটি সিমেন্ট কারখানাসহ অসংখ্য কারখানা স্থাপনের বনবিধ্বংসী প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছে। বিষয়টি ভাইরাল হয়নি বলেই হয়তো এ বিষয়ে এখনো কেউ মুখ খুলছে না। এই তীব্র তাপদাহে মানুষ যখন হাঁসফাঁস করছে, তখন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় বসে আরও দু-চারটে রামপাল স্থাপনের অনুমোদন হয়তো সরকার দিতেই পারে। তবে তা যেন  কোনোভাবেই দেশের কিংবা প্রকৃতির ক্ষতির কারণ না হয় সেটা ভাবতে হবে। তাই এসব প্রকল্প সংরক্ষিত বনভূমি বা তার পাশে না করে বরং বিভিন্ন খাস জমি কিংবা অব্যবহৃত জমিতে করা যেত। তাতে যেমনি প্রকৃতিও ভালো থাকত;  তেমনি ভালো থাকত আমাদের আগামী। মনে রাখা দরকার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ কিংবা গাড়ির গ¬াস দিয়ে বাইরের পৃথিবীটা দেখা যায় বটে; অনুভব করা যায় না। তাই নীতি-নির্ধারকদেরও কেবল দেখলেই নয় বরং প্রকৃতিকে অনুভব করতে হবে; প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই না করে বরং প্রকৃতিতে আরও সবুজায়ন করতে হবে; সুন্দর করতে হবে। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী আমাদেরই  রেখে যেতে হবে।

 

 ॥ গোলাম মোহাম্মদ কাদের ॥

লকডাউন সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশে কতটুকু কার্যকর

রোগ যদি সংক্রামক হয়, প্রাণঘাতী হয় ও প্রতিষেধক আবিষ্কার না হয় তবে মহামারী রূপে আবির্ভূত হয়। বর্তমানে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এ ধরনের একটি রোগ।  কোয়ারেন্টিন করে এ ধরনের রোগ বিস্তার ঠেকানো হল আদিকাল থেকে প্রচলিত বিজ্ঞানসম্মত বিশ্বস্বীকৃত পদ্ধতি।  রোগী/সম্ভাব্য রোগীকে আলাদা রেখে রোগকে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জায়গায় স্থির রাখা; চিকিৎসায় রোগকে ধ্বংস করা অথবা রোগের কারণে রোগীর মৃত্যু হলে তাতেও  রোগের বিনাশ হয়, সংক্রমণ থেমে যায়- এটাই হল  কোয়ারেন্টিন পদ্ধতিতে সংক্রমণ বিস্তার রোধের কৌশল।

রোগীর সঙ্গে রোগকে এক স্থানে আটকে রেখে বিনাশ করার জন্য, রোগীর সঙ্গে সম্ভাব্য রোগী হিসেবে একত্রে বসবাসরত  রোগীর পরিবার ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার জন্য রোগী যে মহল¬ায় বসবাস করেন সেখানকার বাসিন্দাদেরও একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। তাদের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার ব্যক্তিগত পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা আবশ্যক হয়। সে উদ্দেশ্যে লকডাউন করা হয়। এর অর্থ হল ওই চিহ্নিত এলাকার কোনো ব্যক্তি বাইরের অন্য কোনো এলাকায়  যেতে পারবে না। বাইরের কেউ চিহ্নিত এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না।

আমাদের দেশে এ পদ্ধতি বা কৌশল সফল হওয়া প্রায় অসম্ভব। সফল না হওয়ার কিছু আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা আছে। আর্থ-সামাজিক কারণগুলো ছাড়া আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে আর একটি বিষয় উলে¬খ করা বাঞ্ছনীয়, যা লকডাউন ব্যর্থতায় কাজ করছে। বিষয়টি হল যথেষ্ট পরিমাণ ‘রোগ নির্ণয় পরীক্ষা’ না হওয়া।

পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত করা, এরপর তাকে ও তার মাধ্যমে পারিপার্শ্বিক সম্ভাব্য রোগ বিস্তার এলাকা নির্ণয় করে লকডাউন করা জরুরি। যত বেশি রোগী শনাক্ত করা যায় ও সে হিসাবে তাদের ঘিরে লকডাউন দেয়া যায়, তত বেশি তা রোগ বিস্তার রোধে সহায়ক হয়। রোগ বিস্তারের গতি শ¬থ হয়। উলে¬খযোগ্যসংখ্যক রোগী যদি শনাক্তকরণের বাইরে থাকে তারা রোগ বিস্তার করতে থাকবে ও সে ক্ষেত্রে লকডাউন কার্যকর হবে না। বাংলাদেশের রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে। দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা ও ফলাফল পাওয়ার জন্য ‘কুইক টেস্টিং কিট’-এর অধিকতর ব্যবহার জরুরি। এতে শতকরা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত ফলাফল হয়তো না-ও আসতে পারে। তবে, আমাদের বুঝতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শতভাগ নিশ্চিত শনাক্তকরণ পদ্ধতি, নমুনা সংগ্রহ ও ল্যাব  টেকনিশিয়ানদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাবে বা মনুষ্যজনিত স্বাভাবিক ভুলের কারণে শতভাগ সঠিক ফলাফল আসে না। ফলে, অন্তত বিকল্প পদ্ধতি হিসাবে ক্রস চেকের জন্য হলেও কুইক টেস্টিং কিটের ব্যবহার অত্যাবশ্যক। তাছাড়া, দ্রুততার সঙ্গে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তকরণ বিভিন্ন কারণে জরুরি, যেমন- রোগীকে পরিবারের সদস্যদের  থেকে আলাদা করে আইসোলেশন/কোয়ারেন্টিনে (এমনকি দরকার হলে এলাকাটি লকডাউন) রাখা, হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজনে করোনা হাসপাতাল/ইউনিটে ভর্তি ইত্যাদি। সে জন্য কুইক টেস্টিং কিটের ব্যবহার সুবিধাজনক। তাছাড়া বিমান ভ্রমণ, গণপরিবহন ও বিশেষ কোনো সমাবেশস্থলে  যোগদানের জন্য এই টেস্ট কিটের ব্যবহার অনেক সমস্যাকে সহজতর করতে সাহায্য করবে। আমাদের দেশে লকডাউন সফল না হওয়ার আর্থ-সামাজিক বাস্তবতাগুলো নিম্নরূপ-

(ক) বিশাল জনসংখ্যা/ঘনবসতির দেশ; একই ঘরে অনেকের বসবাস, একই টয়লেট ও রান্নাঘর বহু মানুষের জন্য ব্যবহার হওয়া। পরিবারগুলোর খুব কাছাকাছি অবস্থান। জনসংখ্যার তুলনায় সুবিধাদি অপ্রতুল সে কারণে রাস্তাঘাট, ফেরি, যানবাহন, দোকানপাটে সবসময় উপচেপড়া ভিড় থাকে।

লকডাউনের মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বা ঘনিষ্ঠ  যোগাযোগ এড়িয়ে চলার উপায় থাকে না। (খ) বিশাল জনগোষ্ঠীর দরিদ্র ও অর্থনৈতিকভাবে অনিশ্চিত অবস্থান; অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরে চাকরির উপর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের সঙ্গে বিশাল সংখ্যার মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। তাদের আয় যথেষ্ট নয় ও চাকরির/জীবিকার নিশ্চয়তা থাকে না। জীবিকা হারালে, অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাতে হয়। এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটির মতো। লকডাউনের ফলে এদের প্রায় সবারই জীবিকা বঞ্চিত হয় ও যে  কোনোভাবে  বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়। সে কারণে লকডাউন করে তাদের ঘরে ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে, বাংলাদেশে লকডাউন কঠোর থেকে কঠোরতর করেও মানুষকে ঘরে ধরে রাখা ও মানুষে মানুষে সামাজিক  যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয় না, এটাই বাস্তবতা। লকডাউনের কারণে, জীবিকা হারিয়ে বিশাল সংখ্যার সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বৃদ্ধি হয় নিশ্চিতভাবে। দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেটা বলাই বাহুল্য। তবে রোগ সংক্রমণের গতিরোধে এ কৌশল তেমন  কোনো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে নিশ্চিত করে বলা যায় না। সেকারণে, আমাদের উচিত অসম্ভবের পেছনে না ছুটে, বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা। লকডাউন করে সংক্রমণের গতিরোধ করার প্রচেষ্টার চেয়ে রোগাক্রান্তদের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের দিকে অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি। ধারণা করা হয়, এ উদ্যোগ তুলনামূলকভাবে জীবন রক্ষায় অধিক ফলপ্রসূ হবে। সে লক্ষ্যে, সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে, প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে, যতটা সম্ভব সম্পূর্ণ সুবিধাসহ আলাদা করোনা বিভাগ স্থাপন করতে হবে। প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলাদা করোনা বিভাগ চালু করতে নির্দেশ দিতে হবে। না করতে পারলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রেখে প্রয়োজনে অধ্যাদেশ/আইন তৈরি করতে হবে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের নিশ্চিত বিশ্বাস, লকডাউন শিথিল করলে করোন সংক্রমণ হুলস্থূলভাবে বাড়তে থাকবে। হয়তো কথাটা সত্যিও হতে পারে। কেননা বিশ্বের অনেক দেশে এটা ঘটেছে। তবে, লকডাউনের ভেতর যে সংক্রমণ তীব্র গতিতে বাড়ছে না সেটা কি আমরা নিশ্চিত? স্বাস্থ্য অধিদফতরের  ঘোষণায় আক্রান্তের যে হিসাব দেয়া হচ্ছে প্রতিদিন সেটা  মোট জনসংখ্যার খুব সামান্য একটি ভগ্নাংশের পরীক্ষার হিসাব। ১৬ থেকে ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে এখন পর্যন্ত (১৯ মে, ২০২০) আমরা মোট শনাক্তকরণ পরীক্ষা করেছি ১,৯৩,৬৪৫ সংখ্যক। দৈনিক সর্বোচ্চ ১০২০৭ সংখ্যক পরীক্ষা করা হয়েছে এখন পর্যন্ত (২০ মে, ২০২০ তারিখে)। কোভিড-১৯ উপসর্গসহ মৃত্যুর খবর প্রতিদিন সংবাদ মাধ্যমে আসছে। ফলে, শনাক্ত হয়নি কিন্তু উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন নিশ্চিতভাবে অনেক। তাদের হিসাবে বিশেষ করে এ ধরনের রোগীর প্রতিদিনের বৃদ্ধির হিসাব কি আমরা জানতে পারছি? লকডাউনের মধ্যে যেদিন পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে  সেদিন আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, লকডাউন থাকা অবস্থায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। বাস্তবে কতটা বাড়ছে তা নিশ্চিত নয়। কেননা যথেষ্ট পরিমাণ শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। লকডাউন তুলে নিলেও পরিস্থিতি একই ধরনের হতে পারে। অর্থাৎ রোগের বিস্তার একই পর্যায়ে থাকতে পারে। কেননা লকডাউন বাংলাদেশে সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না এটা সুস্পষ্ট। ফলে লকডাউন কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলা যায়। তাছাড়া আর একটি ঘটনার দিকেও আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, তা হল- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আল¬ামা জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় বিশাল সংখ্যক মানুষের ঢল। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করে, এ সমাবেশে যোগদানের ফলে, দেশে নতুন করে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হবে। বাস্তবে তা ঘটেনি। লেখক ঃ এমপি, চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টি।

 

ইদ্রিস হায়দারের পরিচালনায় টেলিফিল্ম ‘জমজ জামাই’

বিনোদন বাজার ॥ রঞ্জু ও মঞ্জু জমজ ভাই। মঞ্জুর বন্ধু আকাশ। তারা দু’জন বিদেশে থাকে। আকাশের বোন জলকে বিয়ে করে মঞ্জু। দুই বন্ধুর মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক থাকলেও বিয়ের পর তাদের মধ্যে রীতিমতো শত্রুতা তৈরি হয়। বিদেশে থাকাকালীন দু’জনে মারামারি করে আহত হয়। আকাশ সুস্থ হয়ে উঠলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঞ্জু মারা যায়। আদালতের বিচার অনুযায়ী, মঞ্জুর পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আকাশকে। কিন্তু এক কোটি টাকার চেক নিয়ে পরিবারের মধ্যে তুলকালাম কা- তৈরি হয়। মঞ্জুর পরিবারে তার বড় ভাবী চম্পাই সবকিছু। অন্যদিকে জল সনাতন ধর্মের। অনেক হট্টগোলের পর বিচারে সিদ্ধান্ত হয় মঞ্জুর স্ত্রী জলই পাবে সব টাকা। কিন্তু চম্পা বিচারে হট্টগোল বাধিয়ে দেয়। সে জলকে বলে তার বাবার বাড়ি চলে যেতে। তখন রঞ্জু এসে বলে না জল যাবে না, সে জলকে বিয়ে করবে। তারপর গল্পে আসে নতুন মোড়। এমন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে টেলিফিল্ম ‘জমজ জামাই’। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন ইদ্রিস হায়দার। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑমারজুক রাসেল, ফারহানা মিলি, মুকিত জাকারিয়া প্রমুখ। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচার হবে এটি।