জেলায় কোভিড রোগী সনাক্ত ৫৯৮ জন, প্রাণহানি-৯

কুষ্টিয়ায় নতুন করে ২১ জন আক্রান্ত; আরো ১ জনের মৃত্যু

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া নতুন করে আরো ২১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।  এই নিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৯৮ জন  কোভিড রোগী সনাক্ত হল। করোনায় এ পর্যন্ত জেলায় মারা গেছে ৯ জন। গতকাল সোমবার রাত ১০টার পর কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।  কোভিড-১৯ আপডেটে জানানো হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৯ জুন মোট ২৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার ১৪৪ টি নমুনা ছিল। কুষ্টিয়া  জেলায় সোমবার  নতুন করে আরো ২১ জন আক্রান্ত বলে সনাক্ত করা হয়েছে (এবং ২ টি ফলোয়াপ পজেটিভ)। নতুন আক্রান্তের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার  দৌলতপুরে ১ জন, ভেড়ামারায় ১ জন, মিরপুরে ১ জন, সদরে ১৬ জন, কুমারখালীতে ১ জন ও খোকসায় ১ জন।

কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১৬ জনের ঠিকানা  কেজিএইচ কোয়ার্টার ২ জন, বৈদ্যনাথপুর ১ জন, পুর্ব মজমপুরে ২ জন, হরিশংকরপুর ১ জন, বড়বাজার ১ জন, হরিপুর ১ জন, আড়ুয়াপাড়ায় ৩ জন, কুমারগাড়া ১ জন, ফায়ার সার্ভিসের ১ জন ও জুগিয়া স্কুলপাড়ায় ৩ জন।  ভেড়ামারা উপজেলায় আক্রান্ত ব্যাক্তির ঠিকানা ভেড়ামারা  পৌরসভা। কুমারখালী উপজেলায় আক্রান্ত জনের ঠিকানা জয়নাবাদ (চাপড়া)। মিরপুর উপজেলায় আক্রান্ত জনের ঠিকানা সুলতানপুর।  দৌলতপুর উপজেলায় আক্রান্ত  জনের ঠিকানা তারাগুনিয়া।  খোকসা উপজেলায় আক্রান্তদের ঠিকানা একতারপুর ও জানিপুর। নতুন আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ১৫ জন, মহিলা ৬ জন। এই নিয়ে কুষ্টিয়ায় সোমবার পর্যন্ত ৫৯৮ জন কোভিড রোগী সনাক্ত হল। (বহিরাগত বাদে)। উপজেলা ভিত্তিক রোগী সনাক্তের মধ্যে দৌলতপুর ৮০, ভেড়ামারা ৭৫, মিরপুর ৪২, সদর ৩০১, কুমারখালী ৭৭ ও খোকসা উপজেলায় ২১ জন। মোট পুরুষ রোগী ৪৪৪ ও  নারী ১৫৪ জন। সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন মোট ২০৬ জন। উপজেলা ভিত্তিক সুস্থ ২০৪ জন।

(দৌলতপুর ২৬, ভেড়ামারা ৩৬, মিরপুর-১৫, সদর৮৫, কুমারখালী ৩১ ও খোকসা ১১)। বহিরাগত সুস্থ ২ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৩২৮ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ জন। মৃত – ৯ জন (কুমারখালী -২,  দৌলতপুর-১, ভেড়ামারা-১ ও কুষ্টিয়া সদরে ৫ জন )। গতকাল সনাক্ত হওয়া কুষ্টিয়া সদরের হরিশঙ্করপুরের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়স্ক একজন পুরুষ রোগী মৃত্যুবরণ করেন। মৃত পুরুষ ৮ ও মহিলা ১ জন।

মৃত্যু আরও ৪৫ জনের

করোনায় নতুন আক্রান্ত ৪০১৪

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছেন আরও ৪৫ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো ১ হাজার ৭৮৩ জনের। একই সময় দেশে আরও ৪ হাজার ১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৫৩ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়েছেন মোট ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি ৬৫টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ হাজার ৪১৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের সংগ্রহ করাসহ মোট পরীক্ষা করা হয় ১৭ হাজার ৮৩৭টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো সাত লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি। তিনি জানান, নতুন করে যে ৪৫ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৬ ও নারী ৯ জন। এ নিয়ে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট মারা গেলেন এক হাজার ৭৮৩ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৫৩ জন। সব মিলিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা এখন ৫৭ হাজার ৭৮০। সুস্থতার হার ৪০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়- ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুজন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব সাতজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১১ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৪ জন, সত্তরোর্ধ্ব ছয়জন, ৮০ ও ৯০ বছরের বেশি বয়সী একজন। তাদের মধ্যে ২২ জন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, পাঁচজন খুলনা বিভাগের, তিনজন বরিশাল বিভাগের ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন। যে ৪৫ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৩০ জন হাসপাতালে এবং ১৪ জন বাসায়। এ ছাড়া হাসপাতালে আনার পর একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ১ হাজার ২৮ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৮৩৮ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬০৯ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৯৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৪ হাজার ৯৪২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৫৩ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে মোট তিন লাখ ৬১ হাজার ২২৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৬৯২ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৯৭ হাজার ৩৬৫ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৫ হাজার ৯৫৯জন। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৯ লাখের বেশি। মৃতের সংখ্যাও ৫ লাখ ছুঁই ছুঁই। তবে ৫৩ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

কানাডা থেকে জুম কানেক্ট হয়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় হানিফ

যেকোন উপায়ে এবং যে পদক্ষেপ নিলে কুষ্টিয়ায় করোনা সংক্রমণরোধ করা যায় সেগুলো যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় গত দুই সপ্তাহে অন্তত ২৫০ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন অন্তত ৬জন। দ্রুত সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য সংশি¬ষ্ট চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি মতবিনিময় সভা করেন।

কানাডা থেকে তিনি জুম কানেক্ট হয়ে এ মতবিনিময় সভা করেন। তিনি জানান, যেকোন উপায়ে এবং যে পদক্ষেপ নিলে জেলা করোনা সংক্রমণরোধ করা যায় সেগুলো যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়। এজন্য যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে।

সভায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে তত্বাবধায়ক নুরুন্নাহার বেগ, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার, জেষ্ঠ্য মেডিসিন কর্মকর্তা এ এস এম মুসা কবির, সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে অধ্যক্ষ আশরাফ উল হক এবং কুষ্টিয়া শহরের বাড়ি থেকে বিএমএর জেলা সভাপতি ও মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এসএম মুসতানজীদ, জেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান আতাউর রহমান যুক্ত হন ।

সকাল সাড়ে নয়টায় সভা শুরু হয়ে দেড় ঘন্টাব্যাপী চলে। বেলা এগারটায় শেষ হয়। সভায় সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ঈদের আগের দুইদিন জেলা শহরে এক টানা ৪৮ ঘন্টা সকল মার্কেট খোলা ছিল। সেসময় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ কেনাকাটা করতে এসে সংক্রমণকে ছড়িয়ে দেয়। যার মাশুল এখন দিতে হচ্ছে।

আলোচনায়, কুষ্টিয়া ও ভেড়ামারা পৌরসভায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। রেডজোন এলাকা হওয়ায় এসব জায়গায় কিভাবে লকডাউন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সে ব্যাপারে কঠোর হবার নির্দেশ দেন সদর সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ।

উপজেলা ভিত্তিক আক্রান্ত কোভিড রোগীদের জেলা হাসপাতালে না নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে সঠিক সেবা দেবার জন্য সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১০ বেডের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন। একই সাথে সেখানে আইসিইউ চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ চলছে বলে জানান।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে কোনভাবেই যেন অক্সিজেনের ঘাটতি না হয় সেই দিকে নজর দিতে বলেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সরা আক্রান্ত হলে তাদের চিকিৎসার যেন বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। তিনি করোনাকালে চারবার কুষ্টিয়ায় এসেছিলেন। চারবারই হাসপাতালে গিয়ে তিনি চিকিৎসক ও নার্সদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন। জেলায় গতকাল পর্যন্ত কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৭৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৭৭ জন। মারা গেছেন ৮জন।

 

এটি দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত – নৌ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত, একটি হত্যাকান্ড। এ ক্ষেত্রে লঞ্চ মালিকদের গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। গতকাল সোমবার সদরঘাটে যাত্রীবাহী লঞ্চ দুর্ঘটনার স্থান এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে একথা বলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ দুর্যোগ তহবিল থেকে লঞ্চ দুর্ঘটনায় মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। তাৎক্ষণিকভাবে দাফনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে টাকা এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। এসময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এবং নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বুড়িগঙ্গায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবি

৮ নারী ও ৩ শিশুসহ ৩২ জনের লাশ উদ্ধার

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে গতকাল সোমবার সকালে যাত্রীবাহী একটি লঞ্চ ডুবে গেছে। এ ঘটনায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৩২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার জানান, গতকাল সোমবার সকালে আরেকটি লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে লঞ্চটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার রাত আটটায় এ প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত ৮ নারী ও ৩ শিশুসহ ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মীরাও উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। সদরঘাট নৌ থানার ওসি রেজাউল করিম ভূঁইয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশগুলোর ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতলে নেওয়া হয়। গতকাল সোমবার সকালের এ দুর্ঘটনায় পরিচয় মিলেছে ৩০ মরদেহের। তারা হলেন- ১. সত্যরঞ্জন বনিক (৬৫), ২. মিজানুর রহমান (৩২), ৩. শহিদুল (৬১), ৪. সুফিয়া বেগম (৫০), ৫. মনিরুজ্জামান (৪২), ৬. সুবর্ণা আক্তার (২৮), ৭. মুক্তা (১২), ৮. গোলাম হোসেন ভুইয়া (৫০), ৯. আফজাল শেখ (৪৮), ১০. বিউটি (৩৮), ১১. ছানা (৩৫), ১২. আমির হোসেন (৫৫), ১৩. মো. মহিম (১৭), ১৪. শাহাদাৎ (৪৪), ১৫. শামীম ব্যাপারী (৪৭), ১৬. মিল্লাত (৩৫), ১৭. আবু তাহের (৫৮), ১৮. দিদার হোসেন (৪৫), ১৯. হাফেজ খাতুন (৩৮), ২০. সুমন তালুকদার (৩৫), ২১. আয়শা বেগম (৩৫), ২২. হাসিনা রহমান (৪০), ২৩. আলম বেপারী (৩৮), ২৪. মোসা. মারুফা (২৮), ২৫. শহিদুল হোসেন (৪০), ২৬. তালহা (২), ২৭. ইসমাইল শরীফ (৩৫), ২৮. সাইফুল ইলাম (৪২), ২৯. তামিম ও ৩০. সুমনা আক্তার। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চটির নাম মর্নিং বার্ড। এটি একটি ছোট আকারের লঞ্চ। ময়ূর-২ নামে আরেকটি লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সেটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চ মর্নিং বার্ড ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচল করতো। ডুবে যাওয়ার সময় লঞ্চটিতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে ছেড়ে আসা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাটে নোঙর করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই সময় ঘাটে নোঙর করে থাকা ময়ূর-২ নামের আরেকটি লঞ্চ ঘুরানোর সময় সেটি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে মার্নিং বার্ড ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রীদের কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। স্বজনের আহাজারিতে ভারী বাতাস: লঞ্চডুবিতে স্বজন হারানো মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম ঘাটের পরিবেশ। দুর্ঘটনার পর স্বজনরা মিরকাদিম ঘাট এলাকায় ভিড় জমান। কেউ আসেন স্বজনের লাশ নিতে; কেউ আসেন নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে। তাদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সাঁতরে কূলে আসা কয়েকজন মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম ফিরে এসেছেন বলে শোনা গেলেও তাদের পরিচয় কিংবা সংখ্যা জানা যায়নি। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আমরা শুনেছি লঞ্চে ৬০ থেকে ৭০ জন যাত্রী ছিল। উদ্ধার কাজ চলছে। মারা যাওয়া যাত্রীদের অধিকাংশই মুন্সীগঞ্জের। দেড় লাখ টাকা করে পাবে মৃতদের পরিবার: বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় মৃত পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেয়া হবে। লঞ্চডুবির ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘোষণা দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এ ছাড়া লাশ দাফনের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি: লঞ্চডুবির ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কমিটির প্রধান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন ও পিপিপি সেল) মো. রফিকুল ইসলাম খান। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব। বিআইডব্লিউটিএ’র তদন্ত কমিটি: এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। গতকাল সোমবার বিআইডব্লিউটিএ’র একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বিষয়টি জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক: লঞ্চডুবিতে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার পৃথক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন। এ ছাড়া নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, উদ্ধার কাজের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

দিব্যা ভারতীর রহস্যময় মৃত্যু, কারন কি ছিলো?

বিনোদন বাজার ॥ দিব্যা ভারতী ক্ষণিকের তারা হয়ে এসেছিলেন বলিউডের আকাশে। নব্বই দশকে মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে কোটি কোটি ভক্তের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। ‘দিওয়ানা’ সিনেমায় অভিনয় করে সেরা নবাগতা হিসেবে জিতেছিলেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। এত অল্প সময়ে এত খ্যাতি অনেকের কাছেই ছিলো স্বপ্নের মতো! কিন্তু মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এই অভিনেত্রীর জীবন প্রদীপ নিভে যায়। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল দিব্যা মারা যান। তার মৃত্যু বলিউডে আজও এক রহস্য! এটি কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যা? জানা যায়, দিব্যার মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন ডিজাইনার নীতা লুলা ও তার স্বামী ডা. শ্যাম লুলা। ওই দিন দিব্যার বাড়িতে এসেছিলেন তারা। সে সময় দিব্যার স্বামী প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা বাড়িতে ছিলেন না। বিষণœ দিব্যা সেদিন মদ পান করেছিলেন। লুলা দম্পতির সঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি রান্না ঘরে যান, এরপর হল রুমে ফিরে আসেন। এরপর টিভি চালু করে ব্যালকনির উপরের অংশে বসেন। তিনি প্রায়ই সেখানে বসতেন। কিন্তু সেদিন দুর্ভাগ্যক্রমে পিছলে নিচে পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু দিব্যা ভক্তরা একে দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। তাদের মতে এটি পরিকল্পিত হত্যা। এর কিছু কারণও আছে। ২০১১ সালে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেই দিব্যা ভারতীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। ‘দিব্যাকে গুলি করে মারা হয়েছে’Ñ হঠাৎ এই খবরে অনেকেই হতবাক হয়ে পড়েন! বলা হয়েছিল, আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগসূত্র রয়েছে এই ঘটনায়। কিন্তু খবরটি গুজব জানার কয়েক ঘণ্টা পরেই নতুন করে জানা যায় সত্যি সত্যি দিব্যা ভারতী আর এই পৃথিবীতে নেই! সেই সময় দিব্যার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ‘স্টারডাস্ট’কে বলেন, ‘মৃত্যুর আগে দিব্যা অনেক বিষণ্ণ ছিল। মৃত্যুর আগের রাতে পার্টি থেকে কিছুটা মদ্যপ অবস্থায় ফেরেন এবং এরপর সাজিদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। কারণ বাড়িতে তখন সাজিদ ছিলেন না। দিব্যা ফোনে তাকে বলেছিলেন, ‘যদি দশ মিনিটের মধ্যে না ফেরো তাহলে আমাকে আর দেখতে পাবে না।’ কিন্তু সাজিদ স্ত্রীর কথার গুরুত্ব দেননি।’ ‘স্টারডাস্ট’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ে নিয়ে দিব্যা ও সাজিদের মধ্যে সমস্যা চলছিল। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সাজিদের মেলামেশা দিব্যা পছন্দ করেননি। আবার অনেকে বলেন, বিয়ের বিষয়টি আর গোপন করতে চাইছিলেন না এই অভিনেত্রী। অথচ শাকিব খানের মতো সাজিদ চাইছিলেন না বিয়ের খবর এখনই সবাই জানুক। আবার এ-ও শোনা যায়, প্রযোজক ভিকি ও নায়ক কমল সাদানার সঙ্গে দিব্যার ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারছিলেন না সাজিদ। যদিও এক সাক্ষাৎকারে দিব্যার বাবা ওম প্রকাশ ভারতী জানিয়েছিলেন, ‘আমি জানি না আধ ঘণ্টায় মানুষ কতটা মদ খেতে পারে? তবে বিষণœ হওয়ার মতো মেয়ে দিব্যা ছিলো না। সে ব্যালকনির রেলিংয়ে বসেছিল, ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। অন্যদিন নিচে গাড়ি থাকত কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেদিন ছিলো না। সে সরাসরি মাটিতে গিয়ে পড়ে এবং মারা যায়। এই সত্য আমাদের মেনে নিতে হবে।’ কিন্তু এর জল গড়ায় বহুদূর। বিশেষ করে সাজিদের কিছু মন্তব্য, দিব্যাকে বিয়ের কথা অস্বীকার ভক্তদের মনে সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। এমনকি দিব্যার শেষকৃত্য মুসলিম নাকি হিন্দু রীতিতে হবে এ নিয়েও অনেক জল ঘোলা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত হিন্দু রীতিতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এরপর অনেকদিন দিব্যার মৃত্যুর তদন্ত হয়। ১৯৯৮ সালে মুম্বাই পুলিশ হঠাৎ করেই দিব্যার মৃত্যু ‘দুর্ঘটনাজনিত’ বলে ফাইলটি বন্ধ করে দেয়।

হায়দরাবাদে শুটিং হবে ইউরোপে নয়

বিনোদন বাজার ॥ দক্ষিণী সিনেমার দর্শকপ্রিয় অভিনেতা প্রভাসের পরবর্তী সিনেমা ‘জান’। রাধা কৃষ্ণা পরিচালিত এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করছেন পূজা হেগড়ে। করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে ইউরোপসহ বিভিন্ন স্থানে সিনেমাটির বড় অংশের শুটিং করেছেন। ইউরোপে শুটিং চলাকালে করোনার তা-ব শুরু হয়। এরপর শুটিং টিম ভারতে ফিরতে বাধ্য হয়। এদিকে ভারতে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিচালক সিদ্ধান্ত নিয়েছেনÑদেশেই সেট তৈরি করে শিগগির শুটিং শুরু করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। প্রোডাকশন ডিজাইনার আর রবীন্দ্র রেড্ডির বরাত দিয়ে পিংকভিলা জানিয়েছে, হায়দরাবাদের বড় একটি ফিল্ম স্টুডিওতে হাসপাতাল, ইউরোপের বিভিন্ন রাস্তা এবং বড় একটি জাহাজ তৈরি করা হয়েছে। আগামী আগস্টে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। তেলেগু, তামিল ও হিন্দি ভাষায় নির্মিত হচ্ছে ‘জান’ সিনেমা। এর সংগীত পরিচালনা করছেন অমিত ত্রিদেবী। চিত্রগ্রহণে রয়েছেন মনোজ পরমহংসা। প্রভাস অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘সাহো’। ৪০০ কোটি রুপির উপরে আয় করেছে এটি। হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মালায়ালাম ভাষায় নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। পরিচালনা করেছেন সুজিত। প্রভাস ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑশ্রদ্ধা কাপুর, নীল নীতিন মুকেশ, জ্যাকি শ্রফ, চাংকি পান্ডে, এভেলিন শর্মা, মহেশ মাঞ্জরেকর, ভেনেলা কিশোর প্রমুখ।

সালমান শাহকে চুমু খেতে দেখে ফেলেছিলাম: সামিরা

বিনোদন বাজার ॥ নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। অল্প সময়ে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান এই নায়ক। অনেক সিনেমায় তার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন শাবনূর। এ সময় তাদেরকে জড়িয়ে প্রেমের গুঞ্জন চাউর হয়েছিল। সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে সালমান শাহর পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সন্দেহের আঙুল ওঠে স্ত্রী সামিরার দিকে। মৃত্যুর আগেরদিনও শাবনূরের সঙ্গে সিনেমার ডাবিং করেন সালমান শাহ। সেদিন ডাবিং সেটে স্ত্রী সামিরাও ছিলেন। সেখানে শাবনূরকে নিয়ে সালমান শাহর সঙ্গে মনোমালিন্য হয় বলে জানান সামিরা। সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে সামিরা  বলেনÑ৫ সেপ্টেম্বর বিকালে ইমনের (সালমান শাহ) সঙ্গে এফডিসিতে ডাবিং দেখতে যাই। ইমন তখন রেজা হাসমতের ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং করছিল। এতে ইমনের বিপরীতে ছিল শাবনূর। ডাবিংয়ের মধ্যেই শাবনূর বার বার ইমনের সঙ্গে কানে কানে কথা বলার চেষ্টা করছিল। সে সালমান শাহকে জড়িয়ে চুমু খাচ্ছিল এটা আমি দেখে ফেলি। এগুলো দেখে আমার ভালো লাগেনি। বিষয়টি আমি আব্বাকে (সালমান শাহর বাবা) প্রথমে জানাই। আব্বার সঙ্গে আমি খুব ফ্রি ছিলাম। আমি তাকে বললাম, আমি আর এক মুহূর্তও এখানে থাকব না। ডাবিং সেট থেকে ওঠে যায় সামিরা। এটা টের পান সালমান শাহ। সামিরা বলেনÑইমন আমার পেছন পেছন আসছিল আর বলছিল, কী হয়েছে? কী হয়েছে? আমি অন্য কিছু না বলে ‘বাসায় যাব’ বলে গাড়িতে ওঠে বসি। ইমন শরীর খারাপের কথা বলে ডাবিং প্যাকআপ করেন। সেদিন ইমন শাবনূরের কাছ থেকে বিদায় না নিয়েই আমাদের সঙ্গে দ্রুত গাড়িতে ওঠে। আমি রেগে গিয়েছি বুঝতে পেরে ইমন পরিচালক বাদল ভাইকেও সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে ওঠে। গাড়িতে বাঁ দিকে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। ইমন বার বার বলছিল, বাদল ভাই আমার বউটা রাগ করে ফেলল! বাদল ভাই সান্ত¡না দিচ্ছিল, আরে না ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্মী ভাবী। ইমন আমাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিল। তার পরে আমরা বাসায় চলে আসি। ইমন বলেছিল, আর শাবনূরের সঙ্গে সিনেমা করবে না। চলচ্চিত্রে আসার আগেই ভালোবেসে সামিরাকে বিয়ে করেন সালমান শাহ। ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।

করোনাভাইরাস ঃ পিছিয়ে গেল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এ বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন নিয়ে শঙ্কা ছিল। সেটিই শেষ পর্যন্ত হলো সত্যি। পিছিয়ে গেল দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শীর্ষ এই প্রতিযোগিতা। টুর্নামেন্টটি হবে আগামী বছর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। আগামী ১৯ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল এই টুর্নামেন্ট। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত মার্চে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও খেলাধুলা স্থগিত হয়ে যায়। থমকে যায় ফিফা ও এএফসির বাছাইপর্বের খেলাগুলোও। সাফের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল তখনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ পিছিয়ে যাওয়ার। সাফের দেশগুলোর প্রতিনিধি, বিভিন্ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকরা সোমবার অনলাইন বৈঠক করেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে ২০২০ সালের প্রতিযোগিতা ২০২১ সালে আয়োজনের। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় হেলাল জানান, পরের সভায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। “আমরা আজ সাফের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সাফের এ বছরের বর্ষপঞ্জি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ বছর সেপ্টেম্বরে ঢাকায় যে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়ার কথা ছিল, সেটা আগামী বছর পর্যন্ত বাতিল করা হলো। আগামী বছর টুর্নামেন্ট কখন হবে, আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নির্দিষ্ট তারিখ কদিনের মধ্যে জানাব।” “বয়সভিত্তিক যে টুর্নামেন্টগুলো হওয়ার কথা ছিল, এগুলো নিয়ে আমরা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আবার বসব। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যদি দেখা যায় যে, একটি বা দুটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব, তাহলে ডিসেম্বরে সেটা করব। তা না হলে, এগুলোও বাতিল করা হবে পরবর্তী বছর পর্যন্ত।”

কৃষিকাজে ব্যস্ত অভিনেতা সনি

বিনোদন বাজার ॥ করোনা সংক্রমণ রোধে দীর্ঘ তিন মাস চলচ্চিত্রের শুটিং বন্ধ ছিল। শুটিংয়ের অনুমতি পেলেও শুটিংয়ে ফিরছেন না শিল্পীরা। দীর্ঘদিন ধরে বেকার সময় পার করছেন শিল্পীরা। অলস এই সময়ে নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন তারা। অভিনেতা সনি রহমান করোনা প্রকোপের শুরু থেকে নিজ গ্রামে অবস্থান করছেন। সেখানে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অলস এই সময়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হাঁস-মুরগী, গরুর খামার ও ফলের চাষ করছেন তিনি। সনি রহমান  বলেন, হাঁস-মুরগী, কবুতর, গরু ও মাছের খামারের প্রজেক্ট শুরু করেছি। এ ছাড়া ফলের বাগান করেছি। ফলের মধ্যে রয়েছে কমলা, মাল্টা, পেঁপে আর ড্রাগন। ঢাকা যাওয়ার আগে প্রজেক্টের কাজগুলো গুছিয়ে ফেলতে চাই। পরে কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসে দেখে যেতে পারব। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সিনেমার কাজ শুরু করা যাবে না। তাই অলস এই সময়টা খামারে সময় দিচ্ছি। বলতে পারেন শখের বসেই এই কাজগুলো করছি। তিনি আরো বলেনÑকরোনা পরিস্থিতি কবে ঠিক হয় তার কোনো ঠিক নেই। এই পরিস্থিতিতে অনেক পেশার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকা মানেই জীবনের চাকা থেমে যাওয়া। তাছাড়া এই পরিস্থিতিতে সব ধরনের কাজ বা ব্যবসা করা সম্ভব না। কারণ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে গ্রামের বাড়িতে আমরা যারা অবস্থান করছি তারা সময়টাকে অন্যভাবে কাজে লাগাতে পারি। তাই নিজ গ্রামে খোলামেলা জায়গায় কিছু প্রজেক্টের কাজ শুরু করলাম। সনি রহমানের হাতে দুটি সিনেমার কাজ রয়েছে। মিজান আফসারি পরিচালিত ‘তোলপাড়’ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা শাকিবা। একই নির্মাতার ‘রাগী’ সিনেমায় সনি রহমানের বিপরীতে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা আঁচল আঁখি। চলচ্চিত্রে আসার আগে সনি রহমান নাটকে অভিনয় করেন। তার অভিনীত অসংখ্য নাটক রয়েছে।

করোনা নেগেটিভ হয়েও আইসোলেশনে সিমন্স!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ‘জীবাণু সুরক্ষিত’ পরিবেশ থেকে দলছুট হয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ফিল সিমন্স। পারিবারিক এক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার জন্য এমনটি করেছিলেন। এখন স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে থাকলেও জানা গেছে, ফেরার পর দুবারই করোনা নেগেটিভ হয়েছিলেন ক্যারিবীয় এই কোচ। তাহলে কেন এমন আইসোলেশন? ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ড জানিয়েছে এটা পূর্ব পরিকল্পনারই অংশ ছিল। শুক্রবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিয়ে সেদিনই ফিরে আসেন সিমন্স। বোর্ডের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে তিনি জীবাণু সুরক্ষিত পরিবেশ ছাড়ার অনুমতি নিয়েছিলেন। এই সময়ে তাদের পরিকল্পনার অংশই ছিল, ফেরার পর সিমন্স যেন দল থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়েই থাকেন। আর পুরো বিষয়টিই দেখভাল করেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিক্যাল টিম। তবে ফেরার পর সিমন্সের দু’বার করোনা পরীক্ষা করা হয় বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে, ‘শুক্রবার তার ফেরার পর দু’বার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। দুবারই সে নেগেটিভ এসেছে। বুধবার তার আরেকটি পরীক্ষা করা হবে। তখন নেগেটিভ আসার পর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কোচ ছাড়াই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে ৮ জুলাই। সাউদাম্পটনের এই ভেন্যুটিও থাকবে জীবাণু সুরক্ষিত। একই সঙ্গে সব ম্যাচই হবে রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে।

॥ মীর আব্দুল আলীম ॥ 

চিকিতসক ও রোগীর সম্পর্ক

দেশের চিকিতসাসেবার মানোন্নয়নে এ পেশাকে আগলে রাখতে হবে- কারণ চিকিতসাসেবা আমাদের জন্য জরুরি বিষয়। চিকিতসকের সেবার সঙ্গে মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি জড়িত। জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনো অধিকার নেই কারও। চিকিতসকরা প্রায়শই রোগীর স্বজনদের হাতে লাঞ্ছিত হন।  দেশে চিকিতসক হত্যার ঘটনাও ঘটে মাঝেমধ্যে। সর্বশেষ পত্রিকান্তে দেখলাম, ভুল চিকিতসার অভিযোগ এনে ১৬ জুন খুলনায় ডা. রকিব নামে এক চিকিতসককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এক অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সন্তান প্রসবে চেষ্টা করেন আনাড়ি দাই। তারপর তাকে নগরীর রাইসা ক্লিনিকে নেওয়া হলে দ্রুত সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন শিউলি বেগম রাইসা। শিউলি বেগমের রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়। ভুল চিকিতসায় শিউলি বেগমের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের লোকজন। এ জন্য ডা. রকিবকে দায়ী করে তার ওপর হামলা চালায় রোগীর স্বজনরা। এ ঘটনায় ডা. রকিব মারা গেলে পরিবারের লোকজন খুলনা সদর থানায় একটি মামলা করেন। বরাবরই লক্ষণীয়, বিলম্বিত চিকিতসা গ্রহণ, আনাড়ি দাইয়ের  দোষের দায় চাপানো হয় চিকিতসকের ওপর। সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থা, চিকিতসা সরঞ্জাম এবং লোকবলের অপ্রতুলতার দ্বায় চাপে চিকিৎসকদের ওপর। প্রয়োজনীয় চিকিতসাসামগ্রী না দিয়ে করোনাকালীন চিকিৎসা করতে গিয়ে আমাদের অনেক চিকিৎসক প্রাণ দিয়েছেন। এরপরও চিকিৎসা সংকটের দায় যেন কেবল চিকিৎসকের। এ দেশে সাধারণ একটি বিষয় হলো- রোগীর মৃত্যু হলে বলা হয় ভুল চিকিৎসার কথা। ভুল চিকিৎসার বিষয়টি তাৎক্ষণিক নির্ণয় করেন রোগীর স্বজন কিংবা সাংবাদিক সাহেবরা। তারপর যা হওয়ার তাই হয়; চিকিৎসক লাঞ্ছনা কিংবা আহত-নিহতের ঘটনা। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা আর মানুষ মেরে  ফেলার এমন অভিযোগ ওঠে মাঝেমধ্যেই। হাসপাতালে  রোগী মারা গেলে সোজা খুনের দায় চাপে ডাক্তারের ওপর। কথায় কথায় বলা হয় ভুল চিকিৎসার কথা। পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হয় ‘অমুক হাসপাতালের অমুক ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু’। ভুল চিকিৎসার নিশ্চিত কীভাবে হন একজন সাংবাদিক কিংবা রোগীর স্বজন। এটাইতো প্রমাণ সাপেক্ষের বিষয়। অসুস্থ মানুষই ডাক্তারের কাছে কিংবা হাসপাতালে আসেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা মুমূর্ষু রোগীদের আনা হয় হাসপাতালে। সৃষ্টিকর্তাই জীবনের মালিক। মানুষ কেবল চেষ্টা করে মাত্র। প্রায় ক্ষেত্রেই অসুস্থ মানুষটি মারা গেলে বলা হয় ভুল চিকিসৎসার কথা। ব্রেইন  স্ট্রোক, হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষতো সব সময়ই মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকেন। হাজারো সমস্যার বাংলাদেশে ভুল চিকিৎসা, অপচিকিৎসা নেই তা কিন্তু না। কোনো কোনো ডাক্তারও অবহেলা করেন, রোগীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন। এমন অনেক হচ্ছে। তবে সব ডাক্তার কি এমন বাজে কাজগুলোর সঙ্গে জড়িত? ভালো গুণের এবং মানবিকতা সম্পন্ন ডাক্তারের সংখ্যাই এখনো অনেক বেশি। এ দেশে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। উন্নত বিশ্বেও ভুল চিকিৎসার বহু উদাহরণ রয়েছে। তাই বলে সব ঘটনাকেই ভুল চিকিৎসা বলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা সঠিক নয়। তাতে চিকিৎসক রোগীর সম্পর্কের অবনতি ঘটবে বৈকি! চিকিৎসকরা এ ক্ষেত্রে  রোগীদের জন্য আর ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। চিকিৎসায় ঝুঁকি নিতেই হয়, নইলে রোগীর জীবন বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা  তৈরি হয়। কথায় কথায় চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করা, হত্যা করা এমন ঘটনায় ডাক্তাররা রোগীর চিকিৎসা দিতে অনুৎসাহিত হবেন। যা রোগীদের জন্য সুখকর সংবাদ নয়। এমন বাজে অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেক  মেধাবী চিকিৎসক এখন দেশ ছাড়ছেন এমন খবরও আমাদের কাছে আছে। এটাও অনেক বড় দুঃসংবাদ বটে!  সেবার শপথ নিয়েই চিকিৎসকদের চিকিৎসা পেশায় প্রবেশ করতে হয়। এ পেশাটি রাষ্ট্রের অন্যান্য পেশার তুলনায় অনেক বেশি সম্মানের। এটা পেশা হলেও চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন বলে এটি মানবসেবার একটি অংশও। এটা অনেকটা নির্দ্বিধায় বলতে হয়, আজকাল এ পেশার কিছু চিকিৎসকের কারণে মানবিক চিকিৎসকরাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন। অনেক চিকিৎসক তো যারা কখনো রাজনৈতিক, কখনো বা অমানবিক আচরণও করে গোটা চিকিৎসক সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। করোনাভাইরাসের এমন সংকটের মধ্যেও হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকরা যাচ্ছেন না, চেম্বার করছেন না এমন অভিযোগ ডাক্তারদের বিরুদ্ধে। যা অমানুষিক বটে! আবার বহু চিকিৎসক দেশের এই সংকটময় সময়ে রাত-দিন রোগীদের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়ে চিকিৎসাপেশা যে মহান তার স্বাক্ষর রাখছেন। জীবন বাজি রেখে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই জীবন বিপন্ন করেছেন। রাত-দিন একজন ডাক্তারকে পরিশ্রম করতে হয়।  রোগীর ডাক পড়লেই তার ঘুম হারাম। আর তাকে যদি কথায় কথায় অপচিকিৎসা কিংবা খুনের অপবাদ কাঁধে নিয়ে চলতে হয় তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ায়? ভালো কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে তো মানুষ। প্লিজ অপবাদ দেবেন না। অভিযোগ করতে হলে ভেবে করবেন। সঠিকটা করবেন। এ কথা কিন্তু সত্য; আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছাড়া আমাদের ডাক্তাররা যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তা কম নয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু এখনও সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে ঘরে ফিরছেন। সিট সংকুলান না হলে সেখানে ডাক্তারের দোষ কোথায়। যারা বারান্দায় থাকেন তারাও কিন্তু চিকিৎসা পান। এখনো আস্থার জায়গা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হুজুগে বাঙালি আমরা, বুঝেও লড়ি, না বুঝেও লড়ি। কথা বলতে তো সীমা পরিসীমা হারিয়ে ফেলতে ওস্তাদ সবাই। পাঠক বলেন তো, কত জন মানুষের জন্য কত জন ডাক্তার নিয়োজিত আছেন এ দেশে। কত রোগীর চিকিৎসার সঙ্গতি আছে এ দেশের হাসপাতালগুলোর। ঢাল-তলোয়ার (ডাক্তার ওষুধ) না দিয়ে চিকিৎসা করতে বলবেন- তা কি করে হয়? এক পরিসংখ্যানে এভাবেই উল্লেখ আছে- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ডিপার্টমেন্টে প্রায় সব ধরনের সার্জারি হয়। মোট ডাক্তারের সংখ্যা ১০০ জন। গত এক বছরে অপারেশন হয়েছে ৬৮০০০ এর মতো। ছুটি বাদ দিয়ে ২৭০ দিন কর্মদিবস থাকলে প্রতিদিন অপারেশন হয়েছে প্রায় ২৫০টি। তার মানে, প্রতিটা সার্জন দিনে অপারেশন করেছেন ২.৫টার মতো। অন্যদিকে সার্জারির আউটডোরে মোট রোগী  দেখা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ। প্রতিদিন প্রায় ২২০০’র মতো। একজন ডাক্তার দেখেছেন প্রতিদিন ২২টা রোগী। লাখ লাখ গরিব মানুষকে সুচিকিৎসা দিয়ে তারা তাদের আয়ের মাত্র ১০ শতাংশ পান বেতন হিসেবে। আর এত ঝুঁকি নিয়ে ইনফেকশনের মধ্যেও কাজ করেন, তবুও তারা ঝুঁকি ভাতা পান না। অথচ লোকজন কিছু ঘটলেই ডাক্তারদের গায়ে হাত  তোলে, হাসপাতাল ভাঙচুর করে। অথচ পরিসংখ্যান বলে  যে, ৯৯% সুচিকিৎসা হলেও বছরে প্রায় ১০০০ জন রোগী ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু ২-৪ জন মারা  গেলেই শুরু হয়ে যায় আমাদের দানবীয় তান্ডব। অথচ আমরা একবারও ভাবি না যে, একজন ডাক্তার ৭ দিন অসুস্থ থাকলে তিনি প্রায় ১৪০ জন রোগীর চিকিৎসা ও ১৫ জন  রোগীর অপারেশন করতে পারবেন না। স্কুল-কলেজে যিনি  মেধাবী ছাত্র ছিলেন তারাই একদিন ডাক্তার হয়ে আসেন। সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রটিই আজ সমাজে সম্মান পাচ্ছেন কম। বিবিএস করা একজন চিকিৎসক যে মর্যাদা পান কম  মেধাবীসম্পন্ন বিসিএস অন্য প্রশাসনের লোক অনেক বেশি মর্যাদা পান। ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজ করেও অসম্মানীত হন একজন ডাক্তার। এভাবে চলতে থাকলে ডাক্তাররা আর ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। চিকিৎসাসেবায় ঝুঁকি নিতে হয়। ঝুঁকি না নিলে মুমূর্ষু রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়। কথায় কথায় গায়ে হাত তুললে, মামলা হামলা করলে, ভুল চিকিৎসার অপবাদ দিলে ডাক্তাররা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এটা রোগী কিংবা রোগীর পরিবারের জন্য দুঃসংবাদ বটে! ডাক্তারদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা কি সত্যি? কতটা সত্যি? ডাক্তারদের বিরুদ্ধে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার যে ঢালাও অভিযোগ, তা ষোলোআনা সত্যি নয়। একেবারেই সত্যতা নেই, তা বলছি না। বলছি, অভিযোগের অনেকটাই অসত্য। তবে রোগীর পেটে ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে  দেওয়াসহ নানা রকমের ভুল চিকিৎসার সংবাদ মাঝেমধ্যেই জানা যায়। সংবাদগুলো মিথ্যা নয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা  নেওয়া উচিত। দেশে অনেক ডাক্তার আছেন দেবতুল্যের মতো। ডাক্তার ধর্ম পালনের মতো করে মনপ্রাণ দিয়ে রোগীর  সেবা করেন। এমন সব ডাক্তারকেও যখন আশঙ্কায় থাকতে হয়,  রোগী মারা গেলে তার ওপর আক্রমণ হতে পারে, হতে পারে হাসপাতাল ভাঙচুর। মস্তিষ্ক, হৃদরোগসহ জটিল অপারেশনে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা, ইউরোপ সব জায়গায়  রোগী মারা যায়। আমাদের ডাক্তারদের সাফল্যের হার অন্য  যে কোনো দেশের ডাক্তারের চেয়ে কম নয়। তাহলে আমাদের ডাক্তারের ক্ষেত্রে কেন শারীরিক আক্রমণের আশঙ্কা  তৈরি হবে? ভুল চিকিৎসার দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে কেন আমাদের চিকিৎসকদের? বাংলাদেশে অনেক ডাক্তার ভালো চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাতে তাদের সুনাম শোনা যায় না কখনো। অনেক ভালো, মানবিক ডাক্তার আছেন সারাদেশে। কিছু খারাপ ডাক্তার যারা অনৈতিক বাণিজ্য করছেন তাদের তুলনায় ভালো ও নৈতিকতাসম্পন্ন ডাক্তারের সংখ্যা অনেক অনেক গুণ বেশি। মন্দের জন্য ঘৃণা করেন, সাজার ব্যবস্থা করেন এটা সমর্থন করি। ভালো যারা করছেন তাদের গুণকীর্তনও কিন্তু করা দরকার। পরিশেষে এটাই বলব, চিকিৎসকের এ মহান পেশাটা যেন কোনোভাবে কলুষিত না হয়। দেশের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে এ পেশাকে আগলে রাখতে হবে- কারণ চিকিৎসাসেবা আমাদের জন্য জরুরি বিষয়। চিকিৎসকের সেবার সঙ্গে মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টি জড়িত। জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনো অধিকার নেই কারও। চিকিৎসকদের মাঝে নীতিনিষ্ঠা, মানবিকতা, সদাচার, কর্তব্যপরায়ণতা- এসবগুণের বেশি পূজারী হওয়ার কথা। অনেক চিকিৎসক এমনটাই। এ জন্য অবশ্য আপনাদের ক’জন ডাক্তারকে সম্প্রতি করোনা সংকটকালীন সময়ে জীবনও দিতে হয়েছে। চিকিৎসাপেশাটা তো এমনই। আর এমনটা হওয়াই উচিত। রোগী এবং রোগীর স্বজন,  ক্ষেত্রভেদে চিকিৎসকদের কারণে ডাক্তার-রোগীর মধ্যে দূরত্ব  তৈরি হয়েছে। এ দূরত্ব কমিয়ে চিকিৎসক-রোগীর মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান রাখা দরকার। চিকিৎসক, রাগী এবং রোগীর স্বজনরাই তা করবেন। রোগী-ডাক্তার সম্পর্ক অটুট থাকবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলাম লেখক

 

মনোবিদের দুয়ারে ব্রড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চাপ যখন প্রবল, স্টুয়ার্ট ব্রড সেরাটা মেলে ধরেন তখনই। দর্শকের সমর্থন হোক বা দুয়ো, দুটিই জাগিয়ে তোলে তাকে। ক্যারিয়ারে অনেকবারই এটির প্রমাণ দিয়েছেন ইংলিশ পেসার। এবার তাকে খেলতে হবে দর্শকশূন্য মাঠে। মানসিক এই পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরি করতে ক্রীড়া মনোবিদের পরামর্শ নিয়েছেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ পেসার। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এবার ইংলিশ গ্রীষ্মের সব ম্যাচ হবে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। ক্রিকেটের বাস্তবতা যদিও অন্য অনেক খেলার মতো নয়, তার পরও ক্রিকেটারদের জন্য এটি হবে বড় পরীক্ষা, সাউথ্যাম্পটনে রোববার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বললেন ব্রড। “ ফুটবল বা রাগবির চেয়ে ক্রিকেট একটু আলাদা। ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন লাল বলের ম্যাচ খেলি আমরা, অনেক সময়ই খুব কম দর্শকের সামনে খেলতে হয়। কাজেই শুধু দর্শকের উৎসাহই যে আমাদের ধাবিত করে বা ওই আবহের ওপর সব নির্ভর করে, তা নয়।” “ তবে দর্শক ছাড়া খেলাটাকে অবশ্যই ভিন্ন কিছু মনে হবে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিশ্চিতভাবেই হবে মানসিক পরীক্ষা, প্রতিটি ক্রিকেটারকে এই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সেটি নিয়ে আমি খুবই সচেতন এবং এর মধ্যেই আমাদের ক্রীড়া মনোবিদের সঙ্গে কথা বলেছি যেন নিজের সেরাটা দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় থাকতে পারি।” নিজেকে খুব ভালো করে চেনেন বলেই দর্শকশূন্য মাঠের চ্যালেঞ্জের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, জানালেন টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সফলতম পেসার (৪৮৫ উইকেট) ব্রড। “ আমাকে অ্যাশেজের কোনো ম্যাচ খেলতে বলুন আর কোনো প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচ, আমি জানি কোন ম্যাচে বেশি ভালো পারফর্ম করব। তাই টেস্ট ম্যাচের জন্য যে মানসিকতা থাকা উচিত, তা নিশ্চিত করতে হবে আমাকে এবং জুনের শুরুতে থেকেই এটি নিয়ে কাজ করছি।” “ আমার জন্য ব্যাপারটি দুর্ভাবনার, কারণ আমি জানি, ক্রিকেটার হিসেবে আমার সেরা পারফরম্যান্সটা আসে যখন চাপে থাকি, খেলায় যখন উত্তেজনা প্রবল এবং পার্থক্য গড়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এটাও জানি, কিছুকিছু পরিস্থিতিতে আমার সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্সও বেরিয়ে আসে। সেই দোলাচলেই এখন আছি।” ৩৪ বছর বয়সী পেসার জানালেন, খেলার নির্ভেজাল আনন্দটা খুঁজে পেতে দারুণ এক পরামর্শ পেয়েছেন তার মায়ের কাছ থেকে। “ এখানে আসার আগে মা আমাকে বলেছেন, ‘১২ বছর বয়সে ফিরে যাও, যখন যে কোনো জায়গায় ক্রিকেট খেলতে চাইতে।’ সেই মানসিকতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছি। অবশ্যই আমরা এখন ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলছি। কিন্তু ১২ বছর বয়সে যে ব্যাপারটি ছিল, যে কোনো মূল্যে শুধু খেলতে চাইতাম। ছুটির দিন সকালে জানালার পর্দাটা সরিয়ে যদি দেখতাম বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, মনটাই খারাপ হয়ে যেত। ক্রিকেটের সেই রোমাঞ্চ ও আনন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি। এভাবে ভাবলে ভেতরে প্রাণশক্তি অনুভব করা যায়।” আগামী ৮ জুলাই থেকে শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজ। তার আগে নিজেদের মধ্যে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ইংলিশরা। এই ম্যাচে স্কিলের ঝালাই নিয়ে যতটা ভাবনা, ব্রড তার চেয়ে বেশি ভাবছেন মানসিক প্রস্তুতি নিতে। “ এমন একটি মানসিকতা আমার গড়ে তুলতে হবে, যেন মনে না হয় যে ‘কিছুই হচ্ছে না এখানে, কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।’ আমার মস্তিষ্ককে টেস্ট ম্যাচের আবহে নিয়ে আসতে হবে। এটা বলছি না যে এখনই তা পুরোপুরি হয়ে গেছে, এখনও অনুশীলনে এটা নিয়ে কাজ করছি। তবে অনুশীলনের সময় তো এমনিতেও দর্শক থাকে না, এভাবেই সবসময় অনুশীলন করে আসছি।” “মূলত ম্যাচের সময়ই অদ্ভূত লাগতে পারে দর্শক ছাড়া। এজন্য তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের মন ও শরীরকে ম্যাচের মতো করে তৈরি করতে হবে, যেন ৮ জুলাই মাঠে নামার পর অস্বস্তি না থাকে।”

 

 

যেভাবে ক্যাপ্টেন কুল হলেন ধোনি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য মহেন্দ্র সিং ধোনিকে বলা হয় ‘ক্যাপ্টেন কুল।’ অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই কি এতটা শান্ত ছিলেন তিনি? ইরফান পাঠান জানালেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পাল্টে ধীর-স্থির হয়েছেন ধোনি। ২০০৭ সালে প্রথমবার ভারতের অধিনায়কত্ব পান ধোনি। ওই বছর তার নেতৃত্বে জেতা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেন ইরফান। ২০১৩ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের সদস্যও ছিলেন এই পেস অলরাউন্ডার। খুব কাছ থেকেই অধিনায়ক ধোনির পরিবর্তনগুলো দেখেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে রোববার স্টার স্পোর্টসের এক অনুষ্ঠানে ২০০৭ ও ২০১৩ সালের ধোনির অধিনায়কত্বের পার্থক্য তুলে ধরেন ইরফান। “২০০৭ সালে ধোনি প্রথম যখন নেতৃত্ব পায়, তখন কিছু বিষয়ে সে বেশ উত্তেজিত ছিল, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বড় দায়িত্ব পেলে এমনটা হতেই পারে। ২০০৭ সালের মতো ২০১৩ সালেও টিম মিটিংগুলো হতো খুব ছোট, পাঁচ মিনিটের বেশি নয়।” “অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে ধোনির মধ্যে একটা জিনিসের পরিবর্তন ঘটে। ২০০৭ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর ধোনি উত্তেজনার বশে কিপারের জায়গা থেকে বোলারের কাছে ছুটে যেত, বোলারকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করত। তবে ২০১৩ সালে সে তা করত না, তখন বরং বোলারদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করার স্বাধীনতা দিত। ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় সে খুব শান্ত ছিল।” ধোনির মানসিকতা পরিবর্তনের আরেকটি উদাহরণ দিলেন ইরফান। জানালেন, কীভাবে স্পিনারদের ওপর আস্থা তৈরি হয় ধোনির। “ধোনির অধিনায়কত্ব পাওয়ার সময় থেকে ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-এই সময়ের মধ্যে সে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছিল, স্পিনারদের ওপর ভরসা রাখতে শুরু করেছিল। সে সবসময় স্পিনারদের ওপর আস্থা রাখত। ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় সে স্পষ্টই বুঝতে পেরেছিল, ম্যাচ জিততে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্পিনারদেরই দরকার।”

করোনায় মৃতদের শেষকৃত্য

দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে অনিশ্চয়তার  বোধ বেড়েই চলেছে। এর চিকিৎসা এবং এই পরিস্থিতির অবসান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত ধারণা কেউ দিতে পারছেন না। ফলে মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে। সেটি এমন পর্যায়ে  পৌঁছেছে যে, করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজের আপনজনের মৃত্যু হলে তাকেও অনেকে ফেলে রাখছেন। শেষকৃত্যের ব্যাপারে নিজের দায়িত্ব পালনে বিমুখ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। এ অবস্থায় করোনায় মৃতদের শেষকৃত্য পালনে সহযোগিতার জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উদ্যোগী হয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে আল-মারকুজুল ইসলাম ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন অন্যতম। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন। তারা কারও আর্থিক সহযোগিতার অপেক্ষায় থাকেননি। যেসব প্রতিষ্ঠান বিশেষ দায়িত্ব হিসেবে নিজেদের কর্মীদের দিয়ে এ কাজ করাচ্ছে, তাদের এ ব্যাপারে কিছু ব্যয় রয়েছে। অনেকেই বলছেন, এ কাজে সরকারি সাহায্য ছিল অপ্রতুল। ফলে গত তিন মাসের কাজের পর তারা অর্থসংকটে ভুগছেন। এ বিষয়ে সরকার ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি তারা সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী করোনার সময়ে মানবিক মূল্যবোধ  থেকে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে নিজের পিতা-মাতা, সন্তান বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের প্রতি কর্তব্য পালনে সবাইকে নিষ্ঠাবান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পত্রিকায় এমন অনেক খবর প্রকাশিত হয়েছেÑ যাতে দেখা গেছে, সন্তান করোনা আক্রান্ত পিতা-মাতার লাশ হাসপাতালে ফেলে এসেছে অথবা তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ি থেকে বাইরে রাস্তায় রেখে এসেছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেশে অনেকটি হয়েছে। এই সংকটকাল কাটাতে মানুষের মানবিক চেতনার বলিষ্ঠ ভূমিকা জরুরি। অথচ আমরা দেখছি, অনেক ক্ষেত্রে সংকীর্ণ স্বার্থচিন্তা থেকে চরম অমানবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। এটি সামাজিক অবক্ষয়ের একটি বড় প্রমাণ। আমরা মনে করি, যে  কোনো অবস্থাতেই মৃতদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন মানুষ মাত্রের কর্তব্যÑ এ কথা সব ধর্মের ক্ষেত্রেই খাটে। ফলে সামাজিকভাবেই সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। বাস্তব অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সরকার ও সমাজÑ উভয়ই এক ধরনের দিশাহীনতায় ভুগছে। সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও এর মধ্যে সমন্বয় ও দক্ষতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিকে যে সমাজ সব বিষয়ে উৎসাহের সঙ্গে সেবা দিয়ে থাকে, ওই সমাজকে করোনার ব্যাপারে নিষ্কিয় দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থা শেখ হাসিনার সরকার বা বাংলাদেশের সমাজের জন্য স্বাভাবিক নয়। পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক, আমাদের নিজ নিজ ঐতিহ্যগত শিক্ষা ও বৈশিষ্ট্য যেন হারিয়ে না যায়। করোনা যদি এখানেও থাবা দেয়, তা হলে একটি বড় ধরনের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবার গুরুত্বসহ বিবেচনা দাবি করে।

প্রেম নিয়ে মুখ খুললেন এরিকা

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। বেশ কিছু দিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে, সহ-অভিনেতা পার্থ সামথানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে এতদিন মুখে কুলপ এঁটে থাকলেও, এবার জানালেন, তিনি প্রেম করছেন কিন্তু পার্থর সঙ্গে নয়। মিড-ডে এ খবর প্রকাশ করেছে। এরিকা বলেনÑআমি সিঙ্গেল নই, সম্পর্কে রয়েছি। কিন্তু ছেলেটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কেউ নয়। তিনি আরো বলেনÑআমরা তিন বছর ধরে প্রেম করছি। আমরা খুব ভালো বন্ধু। পরস্পরের সঙ্গে সব ধরনের কথা বলি। পর্দায় অন্য কারো সঙ্গে রোমান্স করতে দেখতে পছন্দ করে না সে। সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে পা রাখেন এরিকা। পরবর্তীতে নাম লেখান তামিল ভাষার সিনেমায়। এরপর তেলেগু, কন্নড় ও বলিউডের বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। কাজ করেছেন টিভি ধারাবাহিকেও।

কৈ মাছের কৃত্রিম প্রজনন

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কৈ মাছের কৃত্রিম প্রজননের জন্য এমন একটি কৌশলের কথা উল্লেখ করছি যেখানে কৈ মাছের প্রজননের জন্য কোন ওভারহেড ট্যাংক এর প্রয়োজন পড়বে না বা কোন হাউজ বা সিস্টার্নেও প্রয়োজন পড়বে না। শুধুমাত্র একটি হাপা হলেই এই মাছের প্রজনন করা সম্ভব। চাহিদামত বা ইচ্ছানুযায়ী লক্ষ লক্ষ রেনু এবং পোনা উৎপাদন করা যাবে। যার ফলে একজন মৎস্যচাষী অন্ততপক্ষে পোনা কেনা থেকে অনেক টাকা বাচাতে পারবেন। পুকুর প্রস্তুতকরণ ঃ যে পুকুরে কৈ মাছকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হবে  সেই পুকুরটিকে প্রথমেই ভালভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। পুকুরের ভেতরের চারপাশের যাবতীয় ঘাস বা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। তারপর পুকুরের চারপাশ দিয়ে ভালভাবে জাল দিয়ে বেড়া দিতে হবে যাতে বাইরে থেকে কোন ব্যাঙ বা সাপ পুকুরের ভেতর না ঢুকতে পারে। তারপর যেদিন কৈ মাছকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হবে ঠিক সেদিনই পুকুরে পানি ঢুকাতে হবে। অন্যথায় পুকুরে পানি  তোলার পর ২/৩ দিন দেরি হয়ে গেলে ওই পানিতে প্রাণী প্লাংটন জন্মাবে। যার কারণে কাঙ্খিত পরিমাণে পোনা উৎপাদন সম্ভব হবে না। অর্থাৎ প্রাণী প্লাংটনে কৈ মাছের রেনু ছোট হওয়ার কারণে রেনুগুলোকে সহজেই নষ্ট করতে পারে। হাপা সেটিং ও প্রজনন কৌশল ঃ পানি উচ্চতা ২ ফুট হলে ওই দিনই পুকুরে হাপা  সেট করতে হবে। পুকুরে হাপা সেটিং করার পর বিকেলের দিকে অর্থাৎ তিনটা চারটার দিকে হাপা পুকুরে স্থাপন করে কৈ মাছগুলোকে ইঞ্জেকশনের জন্য বড় পাতিল করে পুকুরের কাছে আনতে হবে। এরপর পুকুরে স্থাপিত হাপায় মাছগুলোকে ইঞ্জেকশন করে হাপায় ভরতে হবে। ইঞ্জেকশন প্রয়োগ পদ্ধতি ঃ প্রতি কেজি স্ত্রী কৈ মাছকে ৭/৮ মি:গ্রা: পিজি দিয়ে ইঞ্জেকশন করতে হবে। প্রথমে ১ মি:লি: এর একটি ইনসুলিন সিরিঞ্জ নিতে হবে যে সিরিঞ্জে ৫০টি দাগ থাকতে হবে। বাজারে ১০০ দাগ সম্পন্ন পর্যন্ত ইনসুলিন সিরিঞ্জ পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ৫০ দাগ মাত্রার সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত কৈ মাছের ক্ষেত্রে ১ কেজি মাছের জন্য ০.৫ মি: লি: পানি ব্যবহার করা যায়। সেক্ষেত্রে প্রথমে ১ কেজি মাছের জন্য ৮ মি: গ্রা: পিজি একটি কাচের বাটিতে ভালভাবে পিষিয়ে তারপর ধীরে ধীরে ওই ১ মি:লি: পানি মেশাতে হবে। এভাবে ১ কেজি স্ত্রী  কৈ মাছের ইঞ্জেকশনের জন্য দ্রবণ প্রস্তুত হয়ে গেল। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি  যে সিরিঞ্জে দাগ থাকবে ৫০টি। তা হলে প্রতিটি দাগের জন্য আমরা ২০ গ্রাম ওজনের মাছকে ইঞ্জেকশন করতে পারবো। যদি কোন মাছের ওজন ১০০ গ্রাম হয় তাহলে ৫ দাগ ওষুধ মিশ্রিত দ্রবণ ব্যবহার করতে হবে। এই হিসেবে সবগুলো স্ত্রী মাছকে ইঞ্জেকশন করে তারপর পুরুষ মাছকে ইঞ্জেকশন করতে হবে। ইঞ্জেকশন করে তারপর পুরুষ মাছকে ইঞ্জেকশন করতে হবে। পুরুষ মাছের ক্ষেত্রে ১ কেজি মাছের জন্য মাত্র ৫ মি: গ্রা: পিজি মিশিয়ে উপরোউল্লেখিতভাবে প্রয়োগ করে সবগুলো স্ত্রী এবং পুরুষ মাছকে একসাথে হাপায় ভরতে হবে। এই পদ্ধতিতে রেনু উৎপাদনের জন্য থাই জাল (পলিথিন জাতীয়) দিয়ে একটি হাপা  তৈরি করতে হবে। হাপার মাফ হবে দৈর্ঘ্যে দেড় মিটার প্রস্থে ছয় মিটার। হাপাটি সব দিক থেকেই একই নেট দিয়ে আবদ্ধ থাকতে হবে। আর তা না হলে প্রজননের সময় মাছ বেরিয়ে যেতে পারে। প্রথমে এই হাপাটি তৈরি করার পর পুকুরে ১.৫/২ ফুট পানিতে করতে হবে। যাতে হাপাতে কমপক্ষে ১ ফুট পানি থাকে। হাপার উপরের অংশের এক কোণায় সামান্য খোলা রেখে মাছগুলোকে পি.জি. হরমোন দিয়ে ইঞ্জেকশন করার পর হাপার এক কোণার খোলা অংশ দিয়ে হাপাতে মাছগুলোকে  ছেড়ে দিতে হবে। সাধারণত বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে মাছগুলোকে ইঞ্জেকশন দিয়ে হাপাতে ছাড়তে হবে। অর্থাৎ ৭/৮ঘন্টা পর অর্থাৎ গভীর রাতে মাছগুলো যাতে ডিম পাড়ার সময় হয়। এরপর সন্ধ্যার পর  থেকে পুকুরের পাশে যে কোন শ্যালো দিয়ে ওই হাপার আশপাশ দিয়ে পানির প্রবাহ দিতে হবে। এভাবে ৫/৬ ঘন্টা পানি দিলেই ওই হাপাতে কৈ মাছ ডিম পারবে। কৈ মাছের ডিমগুলো ভাসমান বিধায় ওই ডিমগুলো হাপার জালের ফাঁক দিয়ে অনায়াসে পুকুরে চলে যাবে। সকালের দিকে ডিমপাড়া শেষ হলে কৈ মাছসহ হাপাটিকে পানি থেকে উঠিয়ে ফেলতে হবে। পুকুরে শুধুমাত্র ভাসমান অবস্থায় ডিমগুলো থেকে যাবে। ডিম দেওয়ার ২০ ঘন্টার মধ্যে ডিম  থেকে বাচ্চা বের হবে। বাচ্চা বের হওয়ার ৭২ ঘন্টা পর থেকে ডিম সিদ্ধ করে গ্লাস নাইলন কাপড় দিয়ে ছেঁকে রেনু পোনাকে খাবার দিতে হবে দিনে অন্তত ৩ বার। এবাবে ১ সপ্তাহ ডিমের কুসুম খাওয়ানোর পর নার্সারি ফিড দিতে হবে আরও ১৫ দিন।  রেনু ফোটা থেকে ২২ দিনের মধ্যে পোনা তৈরি হয়ে যাবে। এভাবে পুকুরে হাপাতে কৈ মাছের ব্র“ড মাছকে ইঞ্জেকশন দিয়ে অনায়াসে ইচ্ছানুযায়ী রেনু এবং  পোনা উৎপাদন করা সম্ভব।

 

তুমি আমার জীবন নিয়ে বিপাকে শাকিব খান

বিনোদন বাজার ॥ ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। তবে গত কয়েক বছর ধরে সমালোচনা তার পিছু ছাড়ছে না। কোনো না কোনো বিতর্কে জড়িয়ে খবরের শিরোনাম হচ্ছেন এই নায়ক। ‘পাগল মন’ গানটি নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন তিনি। অনুমতি ছাড়া গানটি তার সিনেমায় ব্যবহার করার কারণে শাকিবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ দায়ের করেছেন সংগীতশিল্পী দিলরুবা খান। এখনো বিষয়টি মীমাংসা হয়নি। তবে শাকিব ২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন। শাকিব খানও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জনপ্রিয় গানের অংশ বিশেষ নেওয়া শাকিব খানের নতুন কোনো ঘটনা নয়। তার প্রযোজিত ও অভিনীত ‘বীর’ সিনেমায় ‘তুমি আমার জীবন’ নামের গানটির অংশ বিশেষ ব্যবহার করা হয়। এই সিনেমায় গানের শিরোনামও রাখা হয় ‘তুমি আমার জীবন’। অনুমতি নিয়ে এই গান ব্যবহার করা হয়েছে কিনা সেটাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ১৯৮৯ সালে ‘অবুঝ হৃদয়’ সিনেমা মুক্তি পায়। জাফর ইকবাল-ববিতা জুটির এই সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় গান ‘তুমি আমার জীবন’। মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেন মোহাম্মদ হোসেন। শাকিব খান প্রযোজিত ‘বীর’ সিনেমায় ব্যবহৃত গানটির মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেনের কাছ থেকে। তবে এই গান অন্য কোথাও বিক্রি করলে আপত্তি জানাবেন বলে জানান এই প্রযোজক। মোহাম্মদ হোসেন  বলেনÑ‘বীর’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় আমার কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন এই গানের জন্য। তবে কোনো লিখিত হয়নি। এই গান অন্য কোথাও বিক্রি করলে আমরা বিষয়টি দেখব। অন্য কোথাও বিক্রি করতে পারবেন না। তাদের ব্যবহার করতে দিয়েছি। কিন্তু বিক্রি করার অনুমতি দেইনি। সেক্ষেত্রে আমার লিখিত অনুমতি লাগবে। এদিকে ‘অবুঝ হৃদয়’ সিনেমার ‘তুমি আমার জীবন’ গানটি অনুপম কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে তাদের অনুমতি প্রয়োজন। এই বিষয়ে জানতে অনুপম কোম্পানির ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে পুরো সিনেমাটি এনটিভির ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এনটিভি ডিজিটাল সত্ত্ব কিনেছে, এখন তাদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না সেটাও দেখার বিষয়। ‘তুমি আমার জীবন’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। এর কথা ও সুর করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ‘তুমি আমার জীবন’ গানের কিছু অংশ নিয়ে ‘বীর’ সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছন ইমরান- কোনাল। কাজী হায়াৎ পরিচালিত সিনেমাটি চলতি বছরের শুরুতে মুক্তি পায়।

 

 

গ্রামীণ কল্যান সংস্থা খাদ্য সহায়তা নিয়ে হালসায় শতাধিক পরিবারের পাশে

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা গ্রামীণ কল্যান অফিসের উদ্দোগে এলাকার দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধি, বিধবা, ঘরবন্দি মানুষের মাঝে  ১মাসের খাদ্য সহায়তা, মাস্ক, হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরন করা হয়। এছাড়াও আমবাড়ীয়া ইউনিয়নে দরিদ্র জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সব সময় একজন চিকিৎসক সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের প্রকোপর পর থেকে প্রায় ১০০ পরিবারের খাদ্য সহায়তা ৪০০ পরিবারকে সাবান, সোড়া, মাস্ক, হ্যান্ডস্যানিটাইজার ১০০০ পরিবারের সচেতনতা মুলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। গ্রামীন কল্যান সংস্থার হালসা অফিসের কডিনেটর ডাঃ ফয়সাল মাহমুদ বলেন- আমার গ্রামীন কল্যান সংস্থার মাধ্যমে এই করোনা ভাইরাসের সংকটকালে অসহায়, দরিদ্র, নিরন্ন, ঘরবন্দী প্রতি পরিবারের মাঝে ১৪ কেজি চাল,  ৩ কেজি ডাল, ৩ কেজি আলু, ৩ কেজি আটা, ৩ কেজি পেয়াজ, দেড় কেজি লবন, ১ কেজি ছোলা সহকারে একটি খাদ্য সহায়তা প্যাকেট প্রদান করেছি এবং এই এলাকার সর্বসাধারনের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সংস্থার খাদ্য সহায়তা  একটি দরিদ্র পরিবার আপাতত ২০দিন খাদ্য সহায়তা নিয়ে সংসার কোনমতে চালিয়ে নিতে পারে। খাদ্য সহায়তা বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন ল্যাব টেকনিশিয়ান নুর আলম, স্বাস্থ্যকর্মী কানিজ ফাতেমা।

অজ্ঞানের ডাক্তার সিজার করায় ঝিনাইদহ কেয়ার হাসপাতালে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

মেহেদী হাসান কনক ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগর বাতান গ্রামের সাইফুলের স্ত্রী ইয়াসমিনের প্রসব বেদনা শুরু হলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রসূতি মায়ের সিজার হবে না এই মর্মে সরকারি হাসপাতালের ক্লিনিকের দালালের সহযোগিতায় ঝিনাইদহ ট্রাক টার্মিনালের পূর্ব পাঁশে অবস্থিত কেয়ার হাসপাতালে ২৫ হাজার টাকার চুক্তিতে ভর্তি করে। এই মর্মে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অপূর্ব কুমারের সহযোগিতায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সাবেক সুপারিন্টন অজ্ঞানের ডাঃ আয়ুব আলী ২৭ জুন বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে কেয়ার হাসপাতালে সিজার করে দুটি জমজ সন্তান প্রসব করায়। রুগীর স্বজনদের অভিযোগ ইয়াসমিন সিজারের সময় অপারেশন থিয়েটারেই মারা যায়। বিষয়টা গোপন করে রুগীকে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে যশোর পাঠায়। যাতে তার বলতে পারে যে রুগী উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানর সময় মাঝ পথে মারা গিয়াছে। প্রসূতি মায়ের দুটি জমজ সন্তান একটি মেয়ে ও একটি ছেলে। তারা সুস্থ আছে। জানা যায় ৪ বছর আগে ঝিনাইদহ সুরাট ইউনিয়নের হামদহ ডাঙ্গা গ্রামের ইসলাম মিয়ার মেয়ে ইয়াসমিনের বিয়ে হয় নগর বাতান গ্রামের সাইফুলের সাথে। উল্লেখ্য কেয়ার হাসপাতালের মালিক ডাঃ অপূর্ব কুমার ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার। যার কারনে প্রতিদিন হাসপাতাল চলাকালিন সময়ে তাকে হাসপাতাল থেকে ৪/ ৫ বার কেয়ার হাসপাতালে ছুটতে দেখা যায়। তাছাড়া কেয়ার হাসপাতালের ম্যানেজার ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে বহিঃবিভাগের টিকিট সেল করে থাকে। জানা যায় এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালে কোর্টপাড়ার নুর আলমের স্ত্রী বিথি খাতুনকে সিজার করাতে ঝিনাইদহ কেয়ার হসপিটালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সিজার করার পরে দুই দিন ধরে ব্লিডিং হতে থাকে এই অবস্থায় রোগিকে ডায়াবেটিকস হসপিটাল থেকে ডায়ালাইসিস করানোর চেষ্টা করে। অবশেষে রোগির কোন পরিবর্তন না হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন এবং খরচ বাবদ ডাক্তার রুগীকে ১৫হাজার টাকা দেয়। রুগীর অবস্থা বেশি খারাপ দেখা দিলে ফরিূপুর থেকে রুগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলে কিন্তু রুগীর সামর্থ না থাকায় তারা রুগীকে খুলনা গাজি প্রাঃ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে থাকেন। এভাবে দীর্ঘ ১মাস যাবৎ চিকিৎসা চলার পরে রুগীর মৃত্যু হয়। পূর্বের ঘটনার মত ইয়াসমিন মারা যাওয়ার পর এই ঘটনা ধামা চাপা দেওয়ার জন্য ঝিনাইদহে প্রভাবশালীদের ধরপাকর করছে বলে জানা গেছে।

এই প্রসঙ্গে ডাঃ আয়ুব আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন-আমি যখন হরিনাকুন্ডুতে ছিলাম সেই সময়ে গাইনী হিসাবে কাজ করতাম। তাছাড়া আমার ১ বছরের গাইনি কোর্স করা আছে। ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন প্রসুতি সিজার করে থাকি। যাহা খোঁজ করলেই জানা যাবে। ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগম বলেন যে আমি জানি আয়ুর আলী অজ্ঞানের ডাক্তার সে কিভাবে সিজার করছে তা আমার জানা নেই। আমি ভাল ভাবে জেনে বিষয়টা আপনাদের অবগত করব। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন যে আমি শুনেছি যে ঝিনাইদহের কেয়ার হাসপাতালে একজন প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। যদি অভিযোগ আসে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক লাখের বেশি কারিগরি শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি যাবে বিকাশে

ঢাকা অফিস ॥ সারাদেশের ১৫৭টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক লাখ ১৪ হাজার ৬৯৭ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয় সহায়তার অর্থ পৌঁছে যাবে বিকাশে। গতকাল রোববার এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংযুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিকাশ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে আরো যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সানোয়ার হোসেন, মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমেদ, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এ উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রমের ব্যাংকিং অংশীদ্বার অগ্রণী ব্যাংক। এ কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীরা প্রতি ছয় মাসে উপবৃত্তি বাবদ তিন হাজার টাকা এবং শিক্ষা উপকরণ ক্রয় বাবদ এক হাজার টাকা করে পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উপবৃত্তি কার্যক্রম অগ্রণী ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে ডিজিটালাইজড হওয়ায় এবং সফলতার সঙ্গে তা বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দু’টির প্রশংসা করেন। ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের উৎসাহিত করাসহ সার্বিক উন্নয়নে প্রথমবারের মতো কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য এ উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষার্থীরা এ তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হবে। সব মেয়ে ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রমের সুবিধাভোগীর তালিকায় থাকবে। বিকাশে পাওয়া উপবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণের টাকা শিক্ষার্থীরা কোনো খরচ ছাড়াই বাড়ির পাশের বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে খুব সহজেই ক্যাশআউট করে নিতে পারবেন। স্কুল শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালিত মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রকল্পটি সবচেয়ে বড় উপবৃত্তি প্রকল্প। উল্লেখ্য, ৪০ লাখ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরের সমন্বিত উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় বিকাশে মাধ্যমে খুব সহজেই কম সময়ের মধ্যে উপবৃত্তি পেয়েছেন।