আলোকিত আমলা’র ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলার স্থানীয়   পেশাজীবিদের প্লাটফর্ম “আলোকিত আমলা” পাশে আছি আমরা  স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে এ উপলক্ষে আমলাস্থ মা কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে বর্ষপূর্তির কেক কাটা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আলোকিত আমলার অন্যতম পৃষ্টপোষক জাতীয় সাঁতার প্রশিক্ষক আমিরুল ইসলাম, আব্দুর রাফেত বিশ্বাস কলেজের প্রভাষক হামিদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সচিব কাঞ্চন কুমার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিল্টন মালিথা, আজমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, আলোকিত আমলার সদস্য সাইফুজ্জামান হীরা, হাফিজ আল আসাদ, সোহাগ আহম্মেদ, শওকত হোসেন, রতন আহম্মেদ প্রমুখ। উল্লেখ্য, আলোকিত আমলা এলাকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজে সহায়তার পাশাপাশি করোনার এই পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের ৩০টি গ্রামের প্রায় ১৫০০টি পরিবারকে ফ্রি ভ্রাম্যমান বাজারের মাধ্যমে সবজি প্রদান করেছে। বর্তমানে ১৫০জন তরুণ-যুবক-যুবতী সংগঠনটির সাথে যুক্ত রয়েছেন। আলোকিত আমলার প্রথম বর্ষপূর্তিতে সকল সদস্য,  পৃষ্টপোষক ও শুভানুধ্যায়ীগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আলোকিত আমলার অন্যতম উদ্যোগতা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক নাজমুল হুদা।

ডিএমপি কমিশনারকে ‘ঘুষের প্রস্তাব’ যুগ্ম কমিশনারের

ঢাকা অফিস ॥  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামকে ‘পার্সেন্টেজ গ্রহণের প্রস্তাব’ দিয়েছেন খোদ তার অধীনস্ত কর্মকর্তা যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিকস) মো. ইমাম হোসেন। আর এ অভিযোগে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদকে চিঠি দিয়ে ওই কর্মকর্তাকে বদলি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। গত ৩০ মে আইজিপি বরাবর লেখা ডিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত চিঠিতে (স্মারক নম্বর- ডিএমপি (সঃদঃ)/প্রশাসন/এ-৫১-২০২০/১০০৮) এ অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে আইজিপির পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজির (অ্যাডমিন অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আইজিপির উদ্দেশে লেখা চিঠিতে ডিএমপি কমিশনার বলেন, উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস) মো. ইমাম হোসেন একজন দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা। ডিএমপির বিভিন্ন কেনাকাটায় তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তদুপরি তিনি ডিএমপির কেনাকাটায় স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের কাছে পার্সেন্টেজ গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। ফলে ওই কর্মকর্তাকে ডিএমপিতে কর্মরত রাখা সমীচীন নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। এমতাবস্থায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র বদলির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো। আইজিপির পাশাপাশি চিঠিতে পুলিশ সদরদফতরের ডিআইজিরও (অ্যাডমিন অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারের এই চিঠিটি পুলিশ সদরদফতরে পৌঁছানো মাত্র ‘যথাযথ গুরুত্ব ও যথানিয়মে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’ বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদরদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই নানা রকম অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ইস্যুজ থাকে। এসকল ইস্যু যথাযথ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এবং প্রফেশনাল ওয়েতে অ্যাড্রেস করা হয়ে থাকে। যে বিষয়টি উঠে এসেছে, এটিও একটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ইস্যু। এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো করেসপন্ডেন্স পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে পৌঁছেনি। পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে এ বিষয়টি পৌঁছানো এবং রিসিভড হওয়ার পরে অবশ্যই যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে ও যথানিয়মে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হিসেবে যোগ দেন ইমাম হোসেন। পরবর্তী সময়ে ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি-অর্থ) ও ডিসি-লজিস্টিকস পদে দায়িত্ব পালন করেন।

করোনাকালে স্বাস্থ্যবীমা ছাড়াই মাঠে ৭৬ শতাংশ গণমাধ্যমকর্মী

ঢাকা অফিস ॥  দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম থেকেই মাঠে কাজ করছেন সাংবাদিকরা। এর মধ্যে ৩২ শতাংশ সাংবাদিকের এখনও পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নেই। ২৭ শতাংশ নিজ খরচে পিপিই সংগ্রহ করেছেন। আর ৭৬ শতাংশ সাংবাদিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও রকম স্বাস্থ্যবীমা কিংবা চিকিৎসা ভাতা পান না। সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্ট (সাকমিড) এর জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির উদ্যোগে ‘প্রোমোটিং মিডিয়া লিটারেসি ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ জরিপ পরিচালিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাকমিড জানিয়েছে, মে মাসে ২০০ জন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর গবেষণাটি চালানো হয়। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ শহর এলাকায় কর্মরত এবং ১০ শতাংশ গ্রাম এলাকায় কর্মরত। সাংবাদিকদের সুরক্ষা বিষয় ছাড়াও গুজব, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং কোভিড-১৯ এর সময়ে চ্যালেঞ্জ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। ৪৫ শতাংশ সাংবাদিক জানান, তারা এই সময়টাতে যথেষ্ট অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতা করতে পারছেন না। ৩৫ শতাংশ সাংবাদিক জানান, গুজবের কারণে সংবাদের উৎস খুঁজতে অসুবিধায় পড়ছেন। ৩৮ শতাংশ সাংবাদিককে পরিবারের সুরক্ষার কথা ভেবে পরিবার থেকে আলাদা থাকতে হচ্ছে। ২০ শতাংশ সাংবাদিককে করোনা বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে সরকারি- বেসরকারি হুমকির শিকার হতে হয়েছে। ২৭.৫ শতাংশ চাকরি হারানোর শঙ্কা আছেন। ৩০.৫ শতাংশ সাংবাদিক সময়মতো বেতন পাননি। ৩৫.৫ শতাংশ করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ভয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। ৩৬ শতাংশ সাংবাদিক মনে করছেন, অতিরিক্ত গুজব ছড়িয়ে পড়ার একটি অন্যতম কারণ গণমাধ্যমগুলো সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ৮৪ শতাংশ সাংবাদিক মনে করেন সরকার করোনা বিষয়ে যে তথ্য দিচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। ৮৪ শতাংশ সাংবাদিক মনে করছেন, গ্রাম-শহর, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার কাছে তথ্য সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না। ৬৮ শতাংশ সাংবাদিক মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে ভুল তথ্য পৌঁছাচ্ছ। ৪১.৫ শতাংশ মনে করছেন, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌছানোর মাধ্যমের অপ্রতুলতার কারণে গুজব ছড়াচ্ছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও উত্তরণে সাংবাদিক ইউনিয়ন, মালিকদের সংগঠন এবং সরকারের দায়িত্বরত মন্ত্রণালয় কোনও উদ্যোগ নিয়েছে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে ৫৯ শতাংশ সাংবাদিক বলেছেন, ইউনিয়ন কিংবা মালিক সংগঠনথেকে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ২৯ শতাংশ বলেছেন, তাদের জানা নেই। ৬৩ শতাংশ বলেছেন, সরকার থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ৩৩ শতাংশ বলেছেন, তাদের জানা নেই।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বন্ধে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥  দেশব্যাপী বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে গ্রেফতারের হিড়িক চলছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নারী, পুরুষ সবাইকে নির্বিশেষে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে হয়রানির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কেউ যেন সমালোচনা বা টু শব্দও করতে না পারে। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে সাটুরিয়া থানাপুলিশ তিল্লি গ্রামের বিএনপি নেতার মেয়ে ও নেত্রী মাহমুদা পলি আক্তারকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়া গুজব ছড়ানোর মিথ্যা অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার চন্দনাইশ উপজেলার ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। সরকারের এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপির প্রবীণ এ নেতা বলেন, সরকার নিজের অবৈধ সত্তা নিয়ে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে আছে। তাই সমালোচনাকে যমের মতো ভয় পাচ্ছে। এক অজানা আতঙ্কের মধ্যে সরকার হাবুডুবু খাচ্ছে। চারদিকে সীমাহীন ব্যার্থতা, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বাঁধভাঙ্গা পানির ¯্রােতের মতো দেশের জনগণ আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুর সারি দীর্ঘ থেকে র্দীঘতর হচ্ছে। এ দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের কোনো চিকিৎসা নেই। হাসপাতালে করোনা রোগীদের ভর্তি যেন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। আইসিইউ ও অক্সিজেনের অভাবে আক্রান্ত রোগীরা অসহায়ভাবে কাতরাচ্ছে। রোগীর তুলনায় শয্যা একেবারেই অপ্রতুল। আক্রান্ত মানুষ এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে ছুটতে রাস্তার মধ্যেই মারা যাচ্ছে। দেশের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে এ নেতা আরও বলেন, চারদিকে ক্ষুধার জ¦ালায় কর্মহীন মানুষ হাহাকার করছে। সারাদেশে এক দুর্ভিক্ষের ঘন ছায়া বিস্তার লাভ করছে। এই কঠিন দুঃসময়কে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা না করে সরকার মিথ্যা অহমিকায় জনগণের কাছে সত্যের অপলাপ করছে। আর বিএনপিসহ বিরোধী দল ও মত যাতে মাথা চাড়া দিতে না পারে সে জন্য আগের মতোই রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগানো হচ্ছে নির্দয়-নিষ্ঠুরভাবে। পলির মতো একজন নারী নেত্রীও গ্রেফতারের হাত থেকে রেহাই পায়নি। এই করোনাকালেও পলি ও সাজ্জাদের মতো বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সরকারের এহেন কর্মকা- অমানবিক ও কাপুরুষোচিত। আমি অবিলম্বে মাহমুদা পলি আক্তার ও সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

রেড জোন চিহ্নিত করে আজ থেকে ঢাকায় লকডাউন

ঢাকা অফিস ॥  করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ঢাকাসহ সারা দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে এ বিষয়ে কর্মপন্থা গ্রহণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বেশি করোনা আক্রান্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে তা লকডাউন করে দেয়া হবে। করোনা মোকাবিলায় আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার থেকে জোনিং ব্যবস্থা পুরোদমে বাস্তবায়ন করবে সরকার। এজন্য একটি অ্যাপও তৈরি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্রম অবনতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত ১ জুন সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় বসেন। ওই সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা সংক্রমণের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন এলাকাকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করার কথা জানান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে- বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়েলো ও একেবারে কম আক্রান্ত বা মুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। রেড জোনকে লকডাউন করা হবে, ইয়েলো জোনে যেন আর সংক্রমণ না বাড়ে সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সতর্কতা থাকবে গ্রিন জোনেও। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ও করোনা সংক্রান্ত মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন এলাকা রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করার জন্য অ্যাপ করা হয়েছে। আগামীকাল (রোববার) নাগাদ ঢাকা শহরের একাধিক জায়গার রেড জোনে লকডাউনের মাধ্যমে পাইলটিং শুরু হবে। আর প্রত্যাশা করছি, সারা দেশে আগামী বুধবারের মধ্যে জোনিং করে কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, একটি এলাকা চিহ্নিত করে সেখানকার প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে কতজন মানুষ আক্রান্ত রয়েছে, সেই অনুযায়ী রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে সেটি পড়বে। অতিরিক্ত সচিব বলেন, যে এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে, সেই এলাকা সম্পূর্ণ ব্লক রাখা হবে। সেই এলাকায় কেউ ঢুকবেও না, কেউ বেরও হবে না। ওই এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিসের দরকার হবে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, খুব বড় এলাকায় হয়তো এটা করা যাবে না। শহরে ওয়ার্ড বা মহল্লাভিত্তিক রেড জোন ঘোষণা করে তা ব্লক করে দেয়া হবে। তাই ঢাকায় হয়তো বেশি আক্রান্ত থাকা অনেকগুলো এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে। হাবিবুর রহমান খান বলেন, গ্রামে হয়তো জোনিং বাস্তবায়ন কঠিন হবে না, সেখানে মানুষ কম। তবে এটি সফল করতে হলে কমিউনিটির সাপোর্ট লাগবে। স্থানীয় প্রশাসনগুলো কমিউনিটির সহায়তা নিয়েই এটা বাস্তবায়ন করবে। রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনের মধ্যে কোন কোন এলাকা পড়ছে তা মানুষ কীভাবে জানবে- এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, অ্যাপ নিয়ে যারা কাজ করছে, তারা জোনিংটা ইতোমধ্যে করে ফেলেছে, তবে তা প্রকাশ করা হয়নি। পরে হয়তো মিডিয়ায় যাবে, আর যে এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে, সেখানে মাইকিং হবে, বিভিন্নভাবে প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে জানানো হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি এক লাখে যদি ৩০ জন বা এর বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত থাকে তবে সেটাকে রেড জোন বলা হবে। ৩ জনের বেশি কিন্তু ৩০ জনের কম থাকলে তবে সেই এলাকাকে ইয়েলো জোন বলা হবে। এক বা দু’জন বা কেউ না থাকলে সেটাকে গ্রিন জোন বলা হবে। তবে জোন ঘোষণার ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। রেড জোন ঘোষণার ক্ষেত্রে এক লাখে আক্রান্তের সংখ্যা ২০, ৩০ ও ৪০- তিন ধরনেরই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানা গেছে, অ্যাপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা থাকবে কোন এলাকা রেড জোন, কোন এলাকা ইয়েলো জোন এবং কোনটি গ্রিন জোন। আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে গেলে, রোড জোন পর্যায়ক্রমে ইয়েলো ও গ্রিন হবে। প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজটি করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও এটুআই। আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) তথ্য সরবরাহ করবে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি মধ্যেই টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে গত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্দেশনা মানার সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধ থাকা গণপরিবহনও (বাস, লঞ্চ, ট্রেন) চালু হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি নেই।

পুরান ঢাকায় ফের কেমিক্যালের আগুনে দগ্ধ ২

ঢাকা অফিস ॥  রাজধানীর পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকায় ফের কেমিক্যালের আগুনে পুড়ে দুই জন গদ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে রায়সাহেব বাজারের লালচান মুকিম লেন এলাকার তিনটি গোডাউনে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিক তদন্তে আগুনের সূত্রপাত কেমিক্যাল থেকে হয়েছে বলে জানায়। গোডাউনে রাখা মরিচা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত কেমিক্যাল বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে পুড়ে যায় তিনটি গোডাউনের জিনিসপত্র। এই ঘটনায় দগ্ধ দুইজনের মধ্যে একজন রকি (২৮) তবে আরেকজনের নাম জানা যায়নি। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রাসেল শিকদার বলেন, রাযসাহেব বাজারের গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয় কেমিক্যাল থেকে। ওই গোডাউনে নাট পরিষ্কার করার এক ধরনের কেমিক্যাল ছিল। সেই কেমিক্যাল বিস্ফোরণে অগ্নিকা-ের ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রিপোর্ট দিয়েছেন। কম বেশি তিনটি গোডাউনে অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রসঙ্গত, এরআগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে অবৈধভাবে পরিচালিত কেমিক্যালের গুদামে আগুন লেগে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুরিহাট্টা এলাকায় ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়।

বাড়িতে চিকিতসাধীন করোনা রোগীর প্রাণ বাঁচাতে অনলাইনে অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার হিড়িক

ঢাকা অফিস ॥  বাড়িতে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীরা ব্যাপকভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করছে। সেজন্য বেশি দামে অনলাইনে অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার হিড়িক লেগেছে। আর প্রচুর চাহিদার কারণে ইতিমধ্যে রাতারাতি বেশ কিছু হোম সার্ভিসে অক্সিজেন ডেলিভারির প্রতিষ্ঠানও গজিয়ে উঠেছে। আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে একেকটি সিলিন্ডার। অনেকে কিনতে না পেরে স্বজন বাঁচাতে তড়িঘড়ি ভাড়ায় নিচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার। সেক্ষেত্রে ঘরে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখায় অগ্নিকা-ের ঝুঁকি ছাড়াও ব্যবহার বিধি না জানার বিপদকে তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাশাপাশি পোর্টেবল অক্সিজেন ক্যান, পোর্টেবল ভেন্টিলেটর ও দেহের অক্সিজেন লেভেল পরিমাপের জন্য পালস অক্সিমিটার নামের ছোট একটি যন্ত্রও অনলাইনে প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়াই অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারে প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রোগীরা কোভিড হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সঙ্কটের মুখোমুখি হচ্ছে। তীব্র শ্বাসকস্টের সময় হাইফ্লো অক্সিজেন দরকার হলেও বেশির ভাগ সময় হাসপাতালে তা মিলছে না। আর একসঙ্গে একাধিক রোগীর প্রয়োজন হওয়ায় কোভিড হাসপাতালগুলোতে রোগীদের রীতিমতো কাড়াকাড়ি করে অক্সিজেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির কারণেই দিন দিন অক্সিজেন সিলিন্ডারের হোম সার্ভিস চাহিদা বাড়ছে। কোভিড হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা খুবই নাজুক। কোনো কোনো হাসপাতালে একটি মাত্র সিলিন্ডার ওয়ার্ডের কোনো এক জায়গায় রাখা থাকে। শ্বাসকষ্টে থাকা রোগীদের পালা করে সেখানে গিয়ে অক্সিজেন মাস্ক পরতে হয়। ফলে ভিড় লেগে যাওয়ায় একজন বেশিক্ষণ নিতে পারে না। এমন অবস্থায় যেসব রোগী বিছানা ছেড়ে উঠতে পারে না তাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। আবার সিলিন্ডার ফুরিয়ে গেলে নতুন সিলিন্ডার আসতেও অনেক দেরি হয়। তাছাড়া হাসপাতালে দিনের বেশির ভাগ সময় ডাক্তার বা নার্সের দেখা মেলে না। হাসপাতালের এমন করুণ অভিজ্ঞতার কারণেই করোনা আক্রান্ত অনেকেই বাড়িতেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এমন অবস্থায় জীবন বাঁচানোর তাগিদে কেউ কেউ আগেই অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে বাসায় রাখছে। কারণ সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে গিয়েও লাভ হচ্ছে না।

পদোন্নতি পাওয়া যুগ্মসচিবদের যোগদান অনলাইনে

ঢাকা অফিস ॥  করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে যোগদানপত্র দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনলাইনে যোগদানপত্র পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, যুগ্মসচিব পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে যোগদানপত্র দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যোগদান পত্রটি ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। গত শুক্রবার ১২৩ জন উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়।

ভেজাল নারকেল তেল বিক্রির দায়ে কুমারখালীতে দুই জনের ১৫ দিনের কারাদন্ড

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ভেজাল প্যারাসুট নারকেল তেল বিক্রির দায়ে কুষ্টিয়ায় দুইজনের ১৫ দিনের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খান এই রায় দিয়েছেন। জানাগেছে, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভেজাল নারকেল তেল বাজারজাত করার সময় দুইজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯০  বোতল ভেজাল প্যারাসুট তেল জব্দ করা হয়েছে। আটকৃতরা ভ্রাম্যমান আদালতের নিকট স্বেচ্ছায় তাদের অপরাধ স্বীকার করায় ভেজাল পণ্য বিক্রি করার অপরাধে তাদের প্রত্যেককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণআইন ২০০৯ অনুযায়ী ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। কারাদন্ডাদেশ প্রাপ্ত দুইজনকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে ভেজাল প্যারাসুট নারকেল তেল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

গাংনীতে আবারো করোনা রোগী সনাক্ত 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনীতে আবারো এক ব্যক্তির করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী (পুরুষ) ওই ব্যক্তি গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ নিয়ে গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২জন। এদের মধ্যে নারী ও পুরুষ রয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় একজনের করোনা আক্রান্তের বিষয়টি  নিশ্চিত করেছে মেহেরপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসির উদ্দীন জানান গত শুক্রবার মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার ১৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ল্যাবের রিপোর্ট শেষে একজনের পজেটিভ দেয়া দেয়।

করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে  সেনাবাহিনী

দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর  থেকে মাননীয় সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশক্রমে কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, জীবাণুমুক্তকরণ ও জনসচেতনতা তৈরিসহ নানাবিধ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে যশোর সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এসময় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে উৎসাহ প্রদান করেন সেনা সদস্যরা। এছাড়াও রাস্তায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল তদারকি, মার্কেট/ দোকালগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং করোনা পরবর্তী  বৈশ্বিক মন্দা হতে খাদ্য সংকট মেটাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনে খাদ্য/শস্য/ফলজ বীজ।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী দূর্যোগ মোকাবেলার অংশ হিসেবে ঝড়ের তান্ডবে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি তৈরি, বেড়িবাঁধ সংস্কার, শুকনা খবার বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, খাবার স্যালাইন ও নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসে সদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করলেন এমপি বাদশা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেছেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. এ. সরওয়ার জাহান বাদশা। বৃটিশ এ্যামেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ আল্লারদর্গা লিফ রিজিয়নের উদ্যোগে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মুসলিমনগর-ইসলামনগর সড়কের পাশে বৃক্ষের চারা রোপন ও বিতরণ করে এ কর্মসূচীর উদ্ভোধন করে তিনি। এসময় বৃটিশ এ্যামেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ আল্লারদর্গা লিফ রিজিয়নের এরিয়া ম্যানেজার আসাদুল হক রিপন, প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার ও দৌলতপুর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক টিপু নেওয়াজসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরে হ্যান্ডকাফসহ মাদক ব্যবসায়ী পালানোর কয়েক ঘন্টা পর সমঝোতায় হ্যান্ডকাফ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হ্যান্ডকাফসহ আনোয়ার হোসেন (১৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর কয়েক ঘন্টা পর সমঝোতার মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করলেও মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মাদাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মাদাপুর গ্রামে দৌলতপুর থানার এসআই শাজাহান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে মোহন আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে ৪ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন পুলিশ হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফ নিয়ে পালিয়ে যায়। আনোয়ার হোসেনকে ধরতে এস আই শাজাহান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হলে এলাকাবাসীর স্মরণাপন্ন হোন তিনি। আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হবেনা এমন সমঝোতার ভিত্তিতে ডাংমড়কা এলাকা থেকে হ্যান্ডকাফসহ আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে এসআই শাজাহান-এর কাছে নিয়ে যায় এলাকাবাসী। পরে মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে হ্যান্ডকাফসহ আসামী পালানোর বিষয় অস্বীকার করে দৌলতপুর থানার এসআই শাজাহান বলেন, তেমন কিছুনা। এমন কোন ঘটনাও ঘটেনি। আসামী ধরতে গিয়েছিলাম আসামী পালিয়েছে। হ্যান্ডকাফসহ আসামী পালানোর কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। উল্লেখ্য মাদাপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাস্তানের ফেনসিডিল বহন করার সময় মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন পুলিশের হাতে আটক হয়।

ভেন্টিলেশন সাপোর্টে নাসিম, অবস্থা অপরিবর্তিত

ঢাকা অফিস ॥  রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভেন্টিলেশন সাপোর্টে চিকিৎসাধীন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে গত শুক্রবার ভোরে তার ব্রেন স্ট্রোকের ফলে মস্তিষ্কে বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়। পরে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তা সফল হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের নিউরোসার্জন অধ্যাপক রাজিউল হকের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার শেষে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, মস্তিষ্কে বড় ধরনের রক্তক্ষরণের কারণে গত শুক্রবার মাথায় অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাকে উচ্চমাত্রার ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি গভীর ঘুমে অচেতন রয়েছেন। আজ রোববার তার ভেন্টিলেশন সাপোর্ট খুলে দেয়া হতে পারে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। গত ১ জুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তার আগে শারীরিক ‘দুর্বলতা’ নিয়ে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান চৌধুরী গত শুক্রবার জানিয়েছিলেন, ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হবে। এ মুহূর্তে তিনি শঙ্কামুক্ত নন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় মোহাম্মদ নাসিমের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছেন। রোববার তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট খুলে দেয়া হতে পারে।

মোঃ মোফাজ্জেল হক

মোঃ মোফাজ্জেল হক

অবিস্মরনীয় এক ঐতিহাসিক দিন ৭ই জুন

পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে স্বৈরাচার আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্র“য়ারি লাহোরে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ডাকা “নিখিল পাকিস্তান জাতীয় সম্মেলনে” পূর্ব বাংলার জনগণের পক্ষে বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজক পক্ষ থেকে গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ছয় দফা উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধুর এই ৬ দফা দাবি প্রকাশের সাথে সাথেই সংঘবদ্ধ সুষ্ঠু ও কার্যকরী সংগ্রাম শুরু হয়।

এই ৬ দফা ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অধিবাসীদের শোষণ থেকে রক্ষাকল্পে গণমুক্তির মহাসনদ। বঙ্গবন্ধুর ভাষায় : ‘…পূর্ব পাকিস্তানবাসীর বাঁচার দাবিরূপে ছয় দফা কর্মসূচি … আমার প্রস্তাবিত ছয় দফা দাবিতে  যে পূর্ব পাকিস্তানের সাড় পাঁচ কোটি শোষিত-বঞ্চিত আদম সন্তানের কথাই প্রতিধ্বনিত হইয়াছে, তাতে আমার কোনো সন্দেহ নাই।’

সেদিন পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাশাসক জেনারেল আইয়ুব খান অস্ত্রের ভাষায় ছয় দফা মোকাবেলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শাসকগোষ্ঠী ভয়ভীতির সাহায্যে জনসাধারণের মাঝ থেকে ছয় দফা নিশ্চিহ্ন করে  দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। ১৯৬৬ সালের ৮ই মে পাকিস্তান দেশ রক্ষা আইনে বঙ্গবন্ধু সহ আওয়ামী লীগের বহু নেতাকে গ্রেফতার করে। করণ তারা বুঝতে পারে যে এই ৬ দফা বাস্তবায়িত হলে, পাঞ্জাব ও সিন্ধু জমিদারদের স্বার্থে আঘাত হানবে। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর ও সামরিক জান্তার সাথে পূর্বপাকিস্তানী মেহনতী মানুষের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে শাসকগোষ্ঠীর পরাজয় মেনে নিতে হতো। পূর্বপাকিস্থানের সম্পদ লুন্ঠন ও এখানকার আধিপত্য চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যেতো।

ছয় দফার সমর্থনে ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে  ১৯৬৬ সালের ১৩ মে আওয়ামী লীগ আয়োজিত পল্টনের জনসভায় ৭ জুন হরতাল কর্মসূচি  ঘোষণা করা হয়।

মাসব্যাপি ৬ দফা প্রচারে ব্যাপক কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। সামরিকজান্তার ১৪৪ ধারা, নির্যাতন, নিষ্পেষণ ও গুলিবর্ষণ উপেক্ষা করে  দেশব্যাপী ছয় দফা দাবিতে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, মজুরসহ আপামর জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত আন্দোলনে ও শ্রমিকনেতা মনু মিয়াসহ এগারো শহীদের রক্তে রঞ্জিত ৭ জুন অমরত্ব লাভ করল।

৭ই জুন আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এমনি একটি যুগান্তকারী মোড় পরিবর্তন। ৭ জুনকে এক অর্থে বলা যায় ৬ দফার দিবস। এই দিনে ৬ দফার দাবিতে বাঙ্গালী রক্ত দিতে শুরু করে। স্বাধিকারের এই আন্দোলনই ধাপে ধাপে রক্তনদী পেরিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে গিয়ে শেষ হয়েছে। কাজেই বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামে ৭ জুন অমর। অবিস্মরণীয় এক ঐতিহাসিক দিন ৭ জুন।

৬ দফা দিবসে সেই দূরদর্শী মহান ব্যক্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানাই যিনি সময়োপযোগী ছয় দফা কর্মসূচি দিয়ে এবং পরবর্তীকালে একাত্তরের ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাধীনতা অর্জনের অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে সবাইকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

লেখক ঃ সভাপতি, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা।

ভেড়ামারায় লকডাউনে পিকনিক

তিন মহিলা সহ চার জনকে অর্থদন্ড

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় লকডাউনে ঘর সাজিয়ে আলোকসজ্জাসহ জমকালো পিকনিক করায় তিন মহিলা সহ চার জনকে ১২ হাজার টাকা অর্থ দন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া দোকান খোলা রাখায় আরেক দোকান মালিককে ৩০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল শনিবার রাত ১০ টার দিকে ভেড়ামারা শহরে পরিচালিত এ সব ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ জানান, আজ  (শনিবার) রাতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যখন বাহাদুরপুর ইউনিয়নে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বাড়ি লকডাউনে ব্যস্ত সে সময় তার থানায় ফোর্স উপস্থিত শুধু জরুরি টিম। তাদেরকে নিয়ে রাত সাড়ে ৯টর দিকে চাঁদগ্রামে গিয়ে দেখি ঘর সাজিয়ে আলোকসজ্জাসহ জমকালো পিকনিক। এসময় ৩ জন মহিলা ও ১ জন পুরুষকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের প্রত্যেককে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ মোতাবেক ৩ হাজার টাকা করে মোট ১২হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। তিনি আরো বলেন, এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাত ১০টায় দোকান খোলা রাখার অপরাধে ঐ একই আইনে বিশাল সুইটসের মালিক বিশাল চন্দ্র কুন্ডুকে ৩০হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং একই সাথে ১০ দিন দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

 

দৌলতপুরে কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য বিতরণকালে এমপি বাদশা

যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়ে কর্মহীন ও অসহায়দের সাহায্যে এগিয়ে আসুন

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. ক. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা করোনাকালীন এই দূর্যোগ মুহুর্তে সরকারের পাশাপাশি যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়ে কর্মহীন ও অসহায়দের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রতি ইউনিয়নে করোনাকালীন কর্মহীন ও অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার প্রাগপুর ইউনিয়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে সমাজের বিত্তবানদের উদ্দেশ্যে এ আহ্বান জানান। যুবসমাজের উদ্দেশ্যে এমপি সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ বলেন, তোমাদের হাতকে কর্মীর হাতিয়ারে রূপান্তর কর, প্রত্যেককে কাজ করে খেতে হবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, অদক্ষ শ্রমিক হয়ে বিদেশে কাজে না গিয়ে দেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে কাজ করতে গেলে মূল্যায়ন পাবে এবং দেশ ও পরিবারের জন্য অধিক অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হবে। গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বাঁধের বাজার এলাকায় মহামারী করোনায় কর্মহীন ও অসহায়দের মাঝে এমপি বাদশাহ’র নিজ অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের সভাপতিত্বে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার, দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম, দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামান খান সুমন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক টিপু নেওয়াজ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম হালসানা ও দৌলতপুর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। ‘করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক হোন’ এই স্লোগানে ২৩০ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল ও একটি করে সাবান বিতরণ করেন এমপি সরওয়ার জাহান বাদশা।

কুষ্টিয়ায় অস্বচ্ছল সংস্কৃতিসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে চেক প্রদান

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় অস্বচ্ছল সংস্কৃতি সেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে ২০১৯ -২০২০ অর্থ বছরের আর্থিক অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ চেক প্রদান করা হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি’র  আয়োজনে  সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রদত্ত চেক প্রদান অনুষ্ঠান জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হয়।  এতে মোট ১৩৪ জনকে ১৪ হাজার ৪শত টাকা থেকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অংকের অর্থের চেক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, সহকারী কমিশনার আবু রাসেল, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান ও বিভিন্ন ধারার সংস্কৃতিসেবীগণ।

চীনা বিশেষজ্ঞ দল আসছে কাল, সহায়তা দেবেন একজন পুলিশ সুপার

ঢাকা অফিস ॥  আগামীকাল সোমবার চীন থেকে বাংলাদেশে আসা ১০ সদস্যের কোভিড-১৯ বিশেষজ্ঞ দলের সহায়ক হিসেবে একজন পুলিশ সুপারকে (এসপি) দায়িত্ব দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপি এই বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে সব জায়গায় যাবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হচ্ছেন রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পুলিশ সুপার (এইচআর) এস এম শহীদুল ইসলাম। সম্প্রতি এক চিঠিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮ জুন (সোমবার) চীন থেকে ১০ সদস্যের কোভিড-১৯ বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশ সফর করবে। বিশেষজ্ঞ দলের বাংলাদেশে অবস্থানকালীন সময়ে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পুলিশ সুপার (এইচআর) এস এম শহীদুল ইসলামকে সহায়ক হিসেবে সংযুক্ত প্রদানের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে অনুরোধ করা হলো। চিঠিটি আইজিপি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। ৮ জুন বাংলাদেশে আসা ১০ সদস্যদের টিমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স এবং প্রযুক্তিবিদ থাকবেন। এই টিম বাংলাদেশে দুই সপ্তাহ অবস্থান করবে। এ সময় তারা করোনা আক্রান্ত রোগী পরিদর্শন করবেন এবং মনোনীত হাসপাতাল, কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ও পরীক্ষাকরণ কেন্দ্রগুলোতে কাজ করবেন। এমনকি করোনা মহামারি নিয়ে আলোচনা করবেন ও নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসার জন্য নির্দেশনা এবং প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেবেন। এর আগে ২০ মে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করেন। দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল চীন। সেই সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তারা এই মেডিকেল টিম পাঠাচ্ছে।

হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরত দেওয়া মানবতাবিরোধী কাজ – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥  তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে রোগীরা অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যুবরণ করছে। যা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরত দেওয়া মানবতাবিরোধী কাজ। বিষয়গুলো সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। সময়মতো তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে আগ্রাবাদের বেসরকারি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এতে টেলিকনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ। ডাক্তার এবং নার্সদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা হলো সম্মুখযোদ্ধা। তাদের যদি পলায়নপর মনোবৃত্তি হয় তা যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে আসার মতো। এসময় করোনা মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন বক্তারা। তা ছাড়া সেবা পেতে রোগীদের যাতে ভোগান্তিতে পড়তে না হয় তা খেয়াল রাখার অনুরোধও জানান তারা। এ বিষয়ে মা ও শিশু হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য ১০টি আইসিইউ সুবিধা নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। গতকাল শনিবার তথ্যমন্ত্রী এ ওয়ার্ডের উদ্বোধন করেন। এ সময় ভূমিমন্ত্রী, শিক্ষা উপ মন্ত্রী, সিটি মেয়র, বিভাগীয় কমিশনার টেলিকনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। আজ রোববার থেকে রোগী ভর্তি করানো যাবে। এ সময় হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। করোনা চিকিৎসায় ১০টি ভেন্টিলেটরযুক্ত আইসিইউসহ ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে হাসপাতালটিতে।

 

 

করোনা আক্রান্ত কুষ্টিয়ার ডিসির সুস্থতা কামনায় ইবি ট্রেজারার

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সুস্থতা কামনা করেছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা। তিনি এক বার্তায় জানান করোনা সংক্রমনের শুরু থেকেই ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধা হিসেবে মানুষের পাশে ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ, করোনা সংক্রমন রোধে কার্যকর পদক্ষেপসহ সব মিলিয়ে কুষ্টিয়াবাসিকে নিরাপদ রাখতে প্রানান্তর চেষ্টা ছিল তাঁর। কিন্তু এই সংকটময় মুহুর্তে তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় কিছুটা হলেও সংকটে পতিত হলো জেলাবাসী। তবে করোনা সংক্রমন কাটিয়ে তিনি দ্রুত কুষ্টিয়ার মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এমনটিই প্রত্যাশা করেন ড. সেলিম তোহা। একই সাথে তিনি করোনা সংক্রমন দ্রুত কাটিয়ে উঠবেন বলেও প্রত্যাশা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি