দৌলতপুরে রেকাত মাষ্টারের দাফন সম্পন্ন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চরমাজদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ সিদ্দিকী রেকাত মাষ্টারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় ফিলিপনগর দফাদার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাযা নামাজ শেষে বিদ্যালয় সংলগ্ন কবরস্থানে তার সম্পন্ন করা হয়। জানাযা নামাজে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. এ. সরওয়ার জাহান বাদশা, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন, মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী, দৌলতপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নান্নু মাষ্টার, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুর রহমান, ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল হক কবিরাজ, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সরদার আতিয়ার রহমান, প্রকৌশলী সাকিল খাঁন, সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা ফিরোজ খাঁন নুন ও রেজাউল হক মাষ্টারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগন। আশরাফ সিদ্দিকী রেকাত মাষ্টার সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ – গণফোরাম

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে গণফোরাম। গতকাল মঙ্গলবার গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিলম্বে ও শিথিলতার মধ্য দিয়ে যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল তার প্রভাবে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এলেও সরকার ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। যারা রাষ্ট্রের ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিয়েছেন তাদের ক্রমাগত ব্যর্থতার জন্য একদিন জনগণের কাছে তাদের জবাব দিতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সরকারকে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বানও জানান গণফোরামের দ্ইু শীর্ষ নেতা। সাধারণ ছুটি প্রত্যাহারে সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিবৃতিতে তারা বলেন, যখন সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে- এরকম একটি পরিস্থিতিতে জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে সরকারি ছুটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকন্ঠা সৃষ্টি করেছে। পর্যাপ্ত পরীক্ষার অভাব এবং স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনার ফলে পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত খারাপের দিকে যাচ্ছে। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ সুরক্ষা উপকরণ প্রদানের ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে যথা শিগগিরই বেরিয়ে আসতে হবে। সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্য খাতের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হবে সরকার সেটি কীভাবে মোকাবিলা করবে জনগণ জনতে চায়, বলা হয় বিবৃতিতে। করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকারের দেয়া তথ্যে জনগণের কোনো আস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন দুই নেতা। করোনাভাইরাস সঙ্কটে সরকারি ত্রাণের সামান্য অংশই দুস্থদের কাছে পৌঁছাচ্ছে অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। দুর্নীতি ও অদক্ষতার ফলে সরকারি সাহায্যের সামান্য অংশই গরীব ও ঝুঁকিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছেছে।

সময় যত কঠিনই হোক দুর্নীতি ঘটলেই আইনি ব্যবস্থা – দুদক চেয়ারম্যান

ঢাকা অফিস ॥ সময় যত কঠিনই হোক না কেন দুর্নীতির ঘটনা ঘটলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কোনও বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণসহ খাদ্য সামগ্রী আত্মসাতের ঘটনাগুলোর সর্বশেষ অগ্রগতি জানার পর গতকাল মঙ্গলববার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এ হুঁশিয়ারি জানান। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি, খাদ্য গুদামের খাদ্যসামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রি, কতিপয় ডিলারের খাদ্য সামগ্রী আত্মসাৎসহ এ জাতীয় অভিযোগে কমিশন থেকে নেওয়া আইনি কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সরকারি ছুটি চলাকালে ত্রাণ বিতরণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের ও আসামি গ্রেফতার করায় কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর সকল চ্যানেল খোলা রয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম, দুদকের গোয়েন্দা তথ্যসহ সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিয়মিত বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ কেউ পাবে না। প্রতিটি অভিযোগ বিচার-বিশ্লেষণ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি করে কেউ যেন শান্তিতে থাকতে না পারে, সে ব্যবস্থা কমিশন করবে। অতি লোভী ঘৃণ্য এসব অপরাধীকে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস পরিচালনার বিষয়ে কমিশন ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে। টিমের কার্যক্রম বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই থার্মাল স্ক্যানার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহসহ বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তারপরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে কমিশনের দুইজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দুদক চেয়ারম্যান তাদের মৃত্যুতে পুনরায় শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। আর যারা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্বসহ সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অফিস পরিচালনা করতে হবে। ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ই-ফাইলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে সকল প্রকার যোগাযোগ সম্পন্ন করা হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর লকডাউন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনায় ১৯টি মামলা দায়ের করা হয় এবং এসব মামলায় অধিকাংশ আসামি গ্রেফতার হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

বিক্ষোভ দমাতে সেনা মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের

ঢাকা অফিস ॥ শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ডের জেরে ফুঁসে উঠেছে পুরো যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জনসাধারণের বিক্ষোভে ভীত হয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাইতো বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প জানান, শহর ও রাজ্যগুলোতে যদি বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী পাঠানো হবে ও সমস্যার সমাধান করা হবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘দাঙ্গা, লুটপাট, ভাঙচুর, হামলা এবং সম্পত্তির অযথা ধ্বংস বন্ধে হাজার হাজার ও ভারী সশস্ত্র সৈন্য, সামরিক কর্মী এবং আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের পাঠাচ্ছি।’ এর আগে গত ২৫ মে মিনেয়াপোলিসে ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড স্থানীয় পুলিশের হাতে নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সহিংসতা শুরু হয়। যেখানে সাত দিন থেকে চলতে থাকা এই বিক্ষোভের কারণে বড় বড় সব শহরেই কারফিউ জারি করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিউ ইয়র্ক সিটিতে লকডাউন দেয়া হয়। আর ওয়াশিংটন ডিসি লকডাউনের সময়সীমা আরও দুই রাত বাড়িয়ে দেয়। তবে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সহসাই এই আন্দোলন থামছে না। মূলত রাস্তায় ফ্লয়েডকে আটক করে তার ঘাড়ে পুলিশ হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে রাখার ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পরই আন্দোলন শুরু হয়। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডেরেক শাওভিনের ওপর ইতোমধ্যে তৃতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে আগামী সপ্তাহে আদালতে ওঠানো হবে। এ ছাড়া অভিযুক্ত আরও তিন পুলিশ অফিসারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবারই অবশ্য অফিসিয়াল ময়না তদন্তে নিশ্চিত করা হয়, ফ্লয়েডকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, শুক্রবার রাতে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বাঙ্কারে অবস্থান করেন ট্রাম্প। দেশব্যাপী বিক্ষোভের জেরে শনিবার (৩০ মে) রাতেও প্রেসিডেন্টকে বাঙ্কারে নেওয়া হয় কিনা, সে ব্যাপারে প্রতিবেদনে কিছু জানানো হয়নি। জর্জ ফ্লয়েড নিহতের ঘটনায় শনিবারেই সবচেয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

নৌপরিবহনে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের কারণে টানা দুই মাস বন্ধ থাকার পর গত রোববার থেকে সারা দেশে নৌপথে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ পরিচালনার নির্দেশনা থাকলেও তা পুরোপুরি পালন করতে দেখা যায়নি লঞ্চ মালিক ও যাত্রীদের। মাস্কের সঠিক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি অর্ধেকের বেশি যাত্রীকে। লঞ্চের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর যাত্রীরা শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও ব্যতিক্রম দেখা গেছে ডেকের তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রীদের। তারা শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই যাতায়াত করেছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও লঞ্চ মালিকদের শারীরিক দূরত্ব মানাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ কার্যক্রমে অবহেলা করায় বিআইডব্লিউটিএ’র চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অপরাধে সুন্দরবন-৮ লঞ্চকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নৌপ্রতিমন্ত্রী। সদরঘাটে দেখা যায়, ঘাটের প্রবেশ মুখে বসানো হয়েছে জীবাণুনাশক টানেল। তবে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু লঞ্চ থেকে নেমে যাত্রীদের টার্মিনালের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব দূরে থাক করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে কোনো বিধিই মানতে দেখা যায়নি। বেশিরভাগেরই মাস্ক থাকলেও সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চে যাত্রী চলাচলে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মানতে যাত্রী, লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে তারা। বিআইডব্লিউটিএ বারবার শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের জন্য মাইকিং করলেও তা মানতে দেখা যায়নি যাত্রীদের। এদিকে দূরপাল্লার লঞ্চ সন্ধ্যার থেকেই সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায়। বিকেল হতেই সদরঘাটে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। তবে সকাল থেকেই যাত্রীরা সদরঘাটে আসতে থাকেন। যেসব যাত্রীর মুখে মাস্ক ছিল না তাদের সদরঘাটে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। বন্দরের ভেতরে জীবাণুনাশক ট্যানেল থাকলেও অনেক যাত্রী তা ব্যবহারে অনীহা দেখা গেছে। এ ছাড়া হাত ধোয়ার জন্য বেশ কয়েকটি বেসিন বসানো হয়েছে। অনেক যাত্রী আগ্রহ দেখালেও বেশিরভাগ যাত্রী হাত না ধুয়েই লঞ্চে ওঠেন। সকালে যে লঞ্চ ছেড়ে গেছে সেখানে লঞ্চের ডেকে গাদাগাদি করে যাত্রীদের বসতে দেখা গেছে। বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা এমভি পূবালী-৯ এর যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, লঞ্চে ওঠার সময় স্যানিটাইজার করাসহ মাস্ক পড়া নিশ্চিত করলেও পরবর্তিতে আর কোনো কিছু লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শারীরিক দুরত্বের জন্য এক মিটার দুরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও লঞ্চের ভেতর সেটা কেউ মানছেন না। যেমন আমি আমার পরিবার নিয়ে আসছি। এখন তাদের সঙ্গে আমি কীভাবে দুরত্ব বজায় রাখবো। তিনি বলেন, কেবিনে যারা আসছেন তারা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। কিন্তু আমার মতো যারা ডেকে বসে আসছেন তাদের এ দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। এ ছাড়া প্রশাসনের ভয়ে ঘাট থেকে যাত্রী কম নিয়ে ছাড়লেও বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী নামানো ও ওঠানো হয়। ফলে প্রথমে দূরত্ব বজায় থাকলেও পড়ে সেটা আর মানা সম্ভব হয় না। বরিশাল রুটের পয়সারহাট থেকে ছেড়ে আসা এমভি পূবালী-৯ এর সুপারভাইজার সজল আহমেদ বলেন, লঞ্চ চলাচলে আমরা সরকারের সব নির্দেশনা মেনে যাত্রী পরিবহন করছি। যাত্রী ওঠার সময় যাদের মাস্ক নেই তাদের লঞ্চে উঠতে দিচ্ছি না। নিয়মিত ডিটাজেন দিয়ে ধোয়া-মোছা হচ্ছে লঞ্চ। পাশাপাশি স্যানিটাইজার করা হচ্ছে প্রত্যেক যাত্রীকে। সরকারের নির্দেশ মতো অর্ধেক যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করছি এর আগে আমরা প্রায় ৪০০ যাত্রী আনা নেয়া করলেও এখন মাত্র ১৮০ জনের বেশি যাত্রী বহন করছি না। তবে নিয়ে যাচ্ছি মাত্র ৮০ থেকে ৯০ জন যাত্রী। শারীরিক দূরত্ব মান হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা লঞ্চের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট করে দাগ টেনে দিয়েছি। কিন্তু যাত্রীদের মানাতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। তাদের বার বার বললেও শোনে না। কেউ বলে আমরা একই পরিবারের। কোনো সমস্যা হবে না। ঘাট থেকে ছাড়ার পর শুধু যাত্রী নামান হয়, কোথাও থেকে যাত্রী উঠানো হয় না বলেও জানান তিনি। চাঁদপুর থেকে আসা রফ রফ-৭ এর যাত্রী রায়হান বলেন, মানুষকে সচেতন করা অনেক কষ্ট। আমি প্রথম শ্রেণীতে এসেছি। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও ডেকে কোনো যাত্রীকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। মাস্ক থাকলেও অনেকে তা পরছেন না। একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে বসে আছেন।

 

দেশে ৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য কোয়ারেন্টিনে

ঢাকা অফিস ॥ সারাদেশে ৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আর করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যাও ইতোমধ্যে ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। একইসঙ্গে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজারের বেশি সদস্য। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা যায় এসব তথ্য। সুত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলববার সকালের হিসাব অনুযায়ী করোনায় সারাদেশে ৫ হাজার ৩৩৩ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। রোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলোশনে আছেন একহাজার ৩২২ জন পুলিশ সদস্য। কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫ হাজার ৩১২ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৯৩ জন। সুস্থ হয়ে অনেকেই কাজে ফিরেছেন। গতকাল মঙ্গলববার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৭০৬ জন। আর এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৫ জন সদস্য।

 

মোবাইলে কথা বলার খরচ আরও ৫ শতাংশ বাড়তে পারে

ঢাকা অফিস ॥ ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইলে কথা বলার ওপর সম্পূরক শুল্ক পাঁচ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে তামাকজাত পণ্যের শুল্কও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। আগামী ১১ জুন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার কথা রয়েছে। যদি সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়, তবে তা ঘোষণার দিন থেকেই এটা কার্যকর হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাজেটে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি ও তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর দাবির মুখে এ দুটি খাতে সম্পূরক শুল্ক বাড়াতে চায় এনবিআর। ইতোমধ্যে এনবিআর থেকে প্রস্তুতকৃত বাজেট প্রস্তাবনায় এমন প্রস্তাব যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাজেট প্রস্তাবের প্রকৃত সিদ্ধান্ত নেবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে যেসব খাতে ক্ষতি কম হয়েছে ওইসব খাত থেকে সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে। সরকার চাচ্ছে জনজীবনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন উৎসে করের বোঝা না চাপাতে। টেলিকম ও তামাক খাতসহ বেশকিছু খাতে করোনায় খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। এসব বিবেচনায় এই খাতে সম্পূরক শুল্ক-কর কিছুটা বাড়ানোর চিন্তা করছে। সূত্র জানায়, আসছে বাজেটে মোবাইল কল রেটে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। অর্থাৎ নতুন করে ৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে এছাড়াও মোবাইল ব্যবহারকারীরা টকটাইম এবং ক্ষুদে বার্তায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও এক শতাংশ সারচার্জ রয়েছে। আর মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ভ্যাট প্রযোজ্য আছে ৫ শতাংশ। অর্থাৎ সম্পূরক শুল্ক বাড়লে মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও বেড়ে যাবে। এক্ষেত্রে এনবিআরের যুক্তি হচ্ছে, সরকার করোনাভাইরাসের কারণে সাধারণ ছুটি আরোপের পর মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই হিসাবে এখান থেকে বড় আয় হতে পারে। অন্যদিকে সিগারেট, বিড়ি, গুল ও জর্দাসহ তামাকজাত সামগ্রীর ওপর সম্পূরক শুল্ক বিভিন্ন ধাপে হতে পারে। বেশি রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এনবিআর সিগারেটের দামের স্ল্যাবগুলোও সংশোধন করতে পারে। তামাকবিরোধী সংস্থাগুলো স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব বিবেচনা করে তামাকজাত পণ্যের জন্য অতিরিক্ত শুল্কের দাবি করে আসছে। এনবিআরের কাছে বাজেট প্রস্তাবগুলোতে সংগঠনগুলো অনুমান করেছিল যে, বাজেটে সিগারেটের জন্য নির্দিষ্ট কর এবং দ্বি-স্তরের মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থার মাধ্যমে এনবিআর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। বর্তমান দেশে মোট তামাক ব্যবহারকারী মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৭৮ লাখের বেশি, যা মোট জনগোষ্ঠীর (১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব) ৩৫.৩ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার করে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এ ছাড়া ৪ কোটির বেশি মানুষেও ওপর ধূমপায়ীদের প্রভাব পড়ে।

সরকার গণপরিবহনের সিন্ডিকেটের কাছেই আত্মসমর্পণ করেছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ সরকার গণপরিবহনের সিন্ডিকেটের কাছেই আত্মসমর্পণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিঙে তিনি বলেন, সরকারের শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চালুর কথা থাকলেও সেটি কোনোক্রমেই বাস্তবায়িত হয়নি। দেখা যাচ্ছে বাস, লঞ্চ, টেম্পো, অটোরিকশাসহ সব ধরনের গণপরিবহনেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসগুলোতে ঠেলাঠেলি করে মানুষ ভেতরে ঢুকছে। কোনো কোনো বাসের ছাদের উপরেও যাত্রী তোলা হয়েছে। লঞ্চে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকা দূরে থাক, সেখানে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। আসলে সরকার সিন্ডিকেটের কাছেই আত্মসমর্পণ করেছে। রিজভী বলেন, সরকার যা কিছু করছে, তা নিজেদের সিন্ডিকেটের স্বার্থকে রক্ষা করতে। তারা জনস্বার্থে সফল নয়, কিন্তু দুষ্কর্মের সাথী হতে খুবই দক্ষ। আসলে সরকার দুর্যোগ, মহামারী, দুর্ভিক্ষ এবং জনসাধারণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে কোনো কোনো বাসে অর্ধেক যাত্রী তোলা হলেও ঢাকার বাইরে গিয়ে বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাসে ৬০ শতাংশ ভাড়া নেয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও ৮০ শতাংশ অথবা এরও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এগুলো সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতারই নির্দশন। তারা শুধুমাত্র বিরোধী দল ও মতকে নিষ্পেষন ও নির্যাতনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। জনগণের জীবনের কথা চিন্তা না করে সরকার শুধুমাত্র জীবিকার অজুহাতে সবকিছু খুলে দিয়ে অপরাধীদের পৃষ্ঠপাষকতা করছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। সম্প্রতি এক্সিম ব্যাংকের এমডি-ডিএমডিকে গুলি করার হুমকি ও নির্যাতন করার মামলায় অভিযুক্ত সিকদার গ্রুপের দুই ভাইয়ের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশত্যাগের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সন্ত্রাসী কায়দায় ব্যাংক লুটপাটকারীদের পালাতে সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। এটি সম্পূর্ণরূপে স্টেট টেরোরিজম। দুইজন দুরন্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। অতীতেও এই সরকার ব্যাংক লুটপাটকারীদের নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে নিরাপদ করেছিল, এই ঘটনা তার আরেকটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে প্রাথমিক বিদ্যালয়

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হতে পারে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আংশিকভাবে খুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছেÑ এমন তথ্য পাওয়া গেলেও সে চিন্তা থেকে সরে এসেছে অধিদফতর। বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রশাসনিক কাজের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা হবে না, বরং করোনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এগুলো বন্ধ রাখা হবে। এদিকে, গত সোমবার ছাত্রভর্তি, বিজ্ঞানাগার, পাঠাগার, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মতো প্রশাসনিক কাজে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস সীমিত আকারে খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে অসুস্থ ও গর্ভবতী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনও জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এমন অবস্থায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই পরীক্ষা দেবেÑ এমন চিন্তাও সরকারের রয়েছে। বর্তমান করোনা-পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নানাভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। টেলিভিশনে পাঠদান সম্প্রচার নিয়ে প্রতিদিন শিক্ষকদের মনিটরিং করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ কারণে নতুন কোনো কাজে শিক্ষকদের যুক্ত করতে রাজি নয় প্রাথমিক শিক্ষার নীতিনির্ধারকরা। এ বিষয়ে ডিপিই’র মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ গতকাল মঙ্গলবার বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরিক গুরুত্বপূর্ণ তেমন কোনো কাজ থাকে না। প্রতিষ্ঠান খোলার প্রয়োজনও পড়ছে না। আংশিক খোলার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হলেও তা বাতিল করা হয়েছে। করোনার এমন পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাঠে থেকে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মনিটরিং করছেন, তাই নতুন করে শিক্ষকদের কোনো দায়িত্ব দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, ঈদুল ফিতরের জন্য আগামী ৬ জুন পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটি রয়েছে। অন্যদিকে সরকারিভাবে ১৫ জুন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। তবে ১৫ জুনের মধ্যে করোনা মহামারি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো নমুনা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ও খোলা হবে না। এজন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ রাখার চিন্তা-ভাবনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে ছুটি বৃদ্ধি করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হবে। সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার জন্য বলা হতে পারে বলেও জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সংসদ টেলিভিশনে শ্রেণিপাঠ সম্প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন শিক্ষকরা বাসার কাজ দিচ্ছেন। বাসায় বসে অভিভাবকদের সহায়তায় সাময়িক পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই করোনার পরিস্থিতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের ওপর তার প্রভাব পড়বে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, আমাদের মূল কাজ বাচ্চাদের পড়াশোনা করানো। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় বাচ্চাদের পড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠান খোলার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে উপবৃত্তির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে চলছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি এবং কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটিও জানা যাচ্ছে না। তাই আমরা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এ বিষয়ে অধিদফতর সিদ্ধান্ত নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

বীজবিস্তার ফাউন্ডেশানের উদ্যোগে কুমারখালী বাজারে জীবানুনাশক ঔষধ ছিটানো

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাজারের প্রধান সড়ক, কাঁচাবাজার সহ মাছ-মাংস ও জীবন্ত মুরগীর বাজারে জীবানু নাশক ¯েপ্র করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বীজবিস্তার ফাউন্ডেশানের উদ্যোগে এই জীবানু নাশক ¯েপ্র করা হয়। এ সময় বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়ক ডলি ভদ্র ও ফিল্ড অফিসার পরেশ মন্ডল সহ স্থানীয় ভোক্তা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কুমারখালী পৌর বাজারে জীবানুনাশক ¯েপ্র শেষে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগর বাজারে জীবানু নাশক ¯েপ্র করা হয়েছে। বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশানের প্রকল্প সমন্বয়ক ডলি ভদ্র জানান, বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশানের সহযোগীতায় কুমারখালী পৌর কাঁচা বাজার সংলগ্ন জীবন্ত মুরগীর বাজারে সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ জীবানুনাশক ¯েপ্র করার উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগর বাজারে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা সহ জীবানু নাশক ¯েপ্র করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে যদুবয়রা ইউনিয়নের বাজারেও জীবনু নাশক ¯েপ্র করা হবে।

 

মানবিক মূল্যবোধ থেকেই মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দেশপ্রেম আর মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদেরকে অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রতিটি সদস্য। নিজের জীবন বিপন্ন করে রাত-দিন সড়কে সড়কে টহল দিচ্ছে। করোনার মহাপ্রলয়ের সময়েও নির্ভীক সেনাসদস্যরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি করোনা ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হতে দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিনিয়ত রাস্তায় জীবাণুনাশক ¯েপ্র ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। এছাড়াও সরকার প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যবসায়ী এবং গণপরিবহন কর্মীদের সচেতনতামূলক উপদেশ প্রদান অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে আম্পানের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঘরবাড়ী ও রাস্তা মেরামত, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহসহ নানাবিধ জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে জনগণকে সচেতনের মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবে যশোর সেনানিবাসের প্রতিটি  সেনাসদস্য। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফিরিয়ে দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে রোগী ফিরিয়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে -এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, যারা এ সময়ে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছপা হচ্ছে এবং তাদের অবহেলার কারণে রোগীরা মৃত্যুবরণ করছে, তারা আসলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করছে। আমি আশা করবো যে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোসহ কোনো হাসপাতালই এ ধরনের আচরণ করবে না। এখনই সময় আর্তমানবতার সেবায় হাতকে প্রসারিত করা। তবে অনেক ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা এ পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের জীবনকে বিপন্ন করে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানাই, তারা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন’ বলেন তথ্যমন্ত্রী। তথ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয় মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য, মানুষকে সেবা না দিয়ে হাসপাতাল যদি হাত গুটিয়ে নেয়, সেটিকে তখন আর হাসপাতাল বলা যায় না। আমি নিজেও ব্যথিত যে, প্রায়ই আমরা সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি- বিভিন্ন রোগী একটার পর আরেকটা হাসপাতালে যাচ্ছেন, কিন্তু হাসপাতাল ভর্তি নিচ্ছে না। আজকেও কাগজে দেখলাম, সিলেটে একে একে ছয়টি প্রাইভেট হাসপাতালে একজন রোগী গেছেন, তাকে কোনো হাসপাতালে ভর্তি নেয়নি। সেই রোগী শেষে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক ও প্রাইভেট বা যেকোন হাসপাতালের এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এগুলো পর্যবেক্ষণ করছে, ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, কেউ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে অবহেলা করলে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত হুঁশিয়ারির মাধ্যমে তাদের সেবামুখী করার চেষ্টা করা হলেও অবহেলার ঘটনা ক্রমাগত ঘটতে থাকলে অতি শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। সম্প্রতি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকা-ে হতাহতের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হাছান মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিক তদন্তে বলেছে, ইউনাইটেড হাসপাতালের গাফিলতি ছিল। সুতরাং হাসপাতালটিতে যে পাঁচজন মারা গেছেন, তাদের মৃত্যুর দায় কোনভাবেই ইউনাইটেড হাসপাতাল এড়াতে পারে বলে আমি মনে করি না।

ভারতীয় সীমান্তে সৈন্য জড়ো করছে চীন – মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ভারতীয় সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চীন অতিরিক্ত সৈন্য জড়ো করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃত্বাধীন শাসকগোষ্ঠীকে ‘স্বৈরাচারী’ উল্লেখ করে উত্তর ভারতীয় সীমান্তে বেইজিংয়ের সৈন্য মোতায়েনের এই খবর দিয়েছেন তিনি। লাদাখ এবং নর্থ সিকিম সীমান্তের বেশ কিছু এলাকায় সম্প্রতি সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশি চীন-ভারত। দুই সপ্তাহ আগে উভয় দেশের সৈন্যদের মধ্যে অন্তত দু’বার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে; তারপর থেকে দুই দেশের উত্তেজনা ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এইআইয়ের হোয়াট দ্য হেল ইজ গোয়িং অন পডকাস্টে অংশ নিয়ে মাইক পম্পেও বলেন, এমনকি আমরা আজও উত্তর ভারতের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর চীনের সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে দেখছি; যেখানে ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে। তিনি বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি উহানের করোনাভাইরাস মহামারি শুরু থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে এবং বৈশ্বিক পরিসরে এটি মোকাবিলার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেছে। মাইক পম্পেও বলেন, হংকংয়ের জনগণের চমকপ্রদ স্বাধীনতা গুঁড়িয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। এগুলো চীনের কমিউনিস্ট পার্টির স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর দু’টি বৈশিষ্ট্য মাত্র। চীনা শাসকগোষ্ঠীর এসব কর্তৃত্ববাদী শাসনের বাস্তব প্রভাব রয়েছে; এটা শুধুমাত্র চীনা জনগণের ওপর কিংবা হংকংয়ের জনগণের পড়ছে না, বরং সারা বিশ্বের মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে কুমারখালীতে মসজিদে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে  কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ৩৯০টি মসজিদের অনুকুলে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুমারখালীর আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। এ সময় কুমারখালী পৌরসভার মেয়র মো. সামছুজ্জামান অরুণ সহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে মসজিদের ইমামদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

 

কুষ্টিয়ায় স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষার্থীকে বাসা ছাড়ার হুমকি, ব্যবস্থা নিলো প্রশাসন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মী ও শিক্ষার্থীদের  জোরপূর্বক বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন দুটি অভিযান পরিচালনা করেছে ৷ গতকাল মঙ্গলবার  জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট মাহেরা নাজনীন ও সবুজ হাসান অভিযান দুটির নেতৃত্ব দেন৷ জেলা প্রশাসনের এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়, স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত থাকায় একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে বাসায় ঢুকতে বাসার মালিক বাধা প্রদান করে। একই সাথে বাসায় মেস করে থাকা প্রায় ত্রিশজন শিক্ষার্থীকে বাসা ছেড়ে দিতে বাসার মালিক চাপ দিয়ে আসছিলো। তাছাড়া বিভিন্ন রুমে শিক্ষার্থীদের জিনিসপত্র আটকে রেখে   অযৌক্তিক মেস ভাড়া পরিশোধের জন্য বিভিন্ন চাপ ও দুর্ব্যবহার করে আসছিলো মর্মে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। অবশেষে  জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়ের পর পর দুটি অভিযানের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষে অনুরোধের ফলে শিক্ষার্থীদের এক মাসের ভাড়া মওকুফ ও অন্যান্য মাসগুলোর ভাড়া ৫০ শতাংশ কম  নেওয়ার প্রতিশ্র“তি দেন। সেই সাথে করোনাকালীন সময়ে জরুরী স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মী একই পরিমান ভাড়ার আওতায় বাসায় অবস্থান করতে পারবেন বলেও আশ্বাস দেন। স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সাথে ভবিষ্যতে শালীন ব্যবহার করতে ও  যৌক্তিকভাবে মেস ভাড়া গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতির ভবিষ্যত শিক্ষার্থী সমাজ ও করোনাকালীন সময়ে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে যে কোনো ধরনের অমানবিক ও শিষ্ঠাচার বহির্ভূত আচরণ করলে  প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

দৌলতপুরে করোনায় কর্মহীনদের মাঝে এমপি সরওয়ার জাহান বাদশার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

শরীফুল ইসলাম ॥ ‘করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক হোন’ এই স্লোগানে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি এ্যাড. আ. ক. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা করোনায় কর্মহীন ও অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ২১৫ জনের মাঝে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ভাগজোত এলাকার রহমতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দিন মাষ্টার, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার তৌহিদুল ইসলাম, রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল, দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক টিপু নেওয়াজ, শহিদুল হালসানাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃৃন্দ। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল ও একটি করে সাবান। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ পূর্ব বক্তব্যে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি এ্যাড. আ. ক. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা বলেন, সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠনের ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনাকালীন সময়ে দৌলতপুরে কর্মহীন ও অসহায়দের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। তিনি ভাগজোতের নীচে পদ্মা নদীতে চরের সাথে সংযোগ সেতু নির্মানের প্রতিশ্র“তি দিয়ে বলেন, চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ চলছে। যতদ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। এছাড়াও চরবাসীর উন্নয়নে সবধরণের সহায়তা করা হবে বলে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

করোনা বিশ্বকে বদলে দিলেও বিএনপিকে বদলাতে পারেনি – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির মনে নেতিবাচকতার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, একটি দল সংক্রমণের শুরু থেকেই একই বক্তব্য দিয়ে আসছে। অনবরত সমালোচনার ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছে। অন্ধ সমালোচনা, নেতিবাচকতা আর মিথ্যাচারের বৃত্ত থেকে তারা বের হতে পারছে না। প্রাণঘাতী করোনা বদলে দিচ্ছে বিশ্ব, বদলে দিচ্ছে পরিবেশ শিষ্টাচার। কিন্তু এ দলটিকে বদলাতে পারেনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা নিজেদের মধ্যকার সমন্বয়হীনতা না দেখে অন্যত্র সমন্বয় আছে কিনা সেটা খুঁজে বেড়ায়। নেতিবাচক ও দায়িত্বহীন রাজনীতির কারণে ইতোমধ্যে তারা রাজনীতির আইসোলেশনে পৌঁছে গেছে। বিষোদগারের ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি সরকারের ভালো কাজ দেখতে পায় না। তাদের মনে ছড়িয়ে পড়েছে নেতিবাচকতার সংক্রমণ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব বলেছেন- সরকার নাকি কানে তুলো দিয়েছে। আমি বলতে চাই সরকারের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সক্রিয় আছে। বরং আপনারাই দেখতে পাচ্ছেন না অসহায়-কর্মহীন মানুষের কষ্ট। সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির নিরলস প্রয়াস চোখ বন্ধ রাখলে দেখতে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, চোখের সামনে থেকে মরচে ধরা চশমা সরিয়ে ফেলুন তবে সরকারের কার্যক্রম দেখতে পাবেন। বিএনপির দৃষ্টিসীমায় অবৈধ ক্ষমতার মসনদ আর দুর্নীতির পাহাড়। তাই তারা সরকারের ইতিবাচক কিছু দেখতে পায় না। গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ: গণপরিবহনে মালিক-শ্রমিক ও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মানার অনুরোধ জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশবাসী এ কথা জানেন গতকাল (গত সোমবার) থেকে শর্তসাপেক্ষে সারাদেশে গণপরিবহন চলছে। প্রথম দিনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়েছে। অর্ধেক বা তার চেয়ে কম যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলছে। অনেকের ভাড়া সমন্বয়ের শঙ্কা ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনগণের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সংকটে ইতিবাচক সাড়া দেয়ায় আমি মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, পাশাপাশি এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছি, অনেকে মনে করছেন যাত্রী সংখ্যা বাড়লে পরিবহনগুলো অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্ত মানবে না। জনগণের এই আশঙ্কা থেকে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নিজেদের মুক্ত রাখতে হবে। আমি গাড়িতে ওঠার আগে, গাড়িতে এবং নামতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরন্ত মেনে চলার অনুরোধ করছি। আপনারা সচেতন থাকলেই কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধ সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস। মন্ত্রী বলেন, করোনা যাত্রী, মালিক-শ্রমিক আলাদা করে চিনবে না। ছাড় দেবে না কাউকে। তাই নিজেদের স্বার্থেই সচেতনতা জরুরি। সংক্রমণের বিস্তার রোধে সবাইকে মনোবল নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতনতার প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে। সচেতনতার প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে আপন কর্ম ক্ষেত্রেও।

রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বিধান উঠে যাচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বিধান তুলে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। ২০২০ সালের মধ্যে এই শর্ত পালন করার জন্য ইসি এর আগে আইন করলেও এখন নিজেরাই তা পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেই এই আইন করা হয়েছিল। কোনো আইন পরিবর্তন করতে হলে এর আগে মতামত নেয়া হলেও এবার চলছে গোপনীয়তা। তবে ইসি সচিব দাবি করছেন আইন চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেয়া হবে। জানা গেছে, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন গত সোমবার কমিশন বৈঠক করেছে। বৈঠকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এর এ-সংক্রান্ত খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এছাড়াও আরপিও বাংলায় করা হবে। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা নিজেই নতুন আইনের খসড়া তৈরি করেছেন। আর এটি শুধু কমিশনারদের দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইসির কোনো আইন কর্মকর্তা পাননি। জানা যায়, ২০০৮ সালে নিবন্ধনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী নেতৃত্বের সর্বোচ্চ হার ছিল ১০ শতাংশ। আইনে গত ১২ বছরে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বাড়ার হার ১০ ভাগেরও নিচে। ফলে ইসির বেধে দেয়া বাকি সময়ের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব অনিশ্চিত। এজন্য আইনের ধারাটি বহাল থাকলে শর্ত ভঙ্গের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ বেশিরভাগ দলের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। আওয়ামী লীগ তাদের সর্বশেষ সম্মেলনে ২০২০ সালের মধ্যে কমিটির সর্বস্তরে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার শর্ত শিথিল করেছে। তাই আইনটি পরিবর্তন করছে ইসি। এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, আলোচনা করে নতুন আইনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন শর্তাবলী সংযোজন বা বিয়োজন হবে। আগামীতে পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। সরাসরি বা চিঠি দিয়ে কিংবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কীভাবে সংলাপ হবে তা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার আসামি জিয়নের জামিন নাকচ

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেফতাহুল ইসলাম জিয়নের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন ঢাকার একটি আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ভার্চ্যুয়াল কোর্টের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামি জিয়নের পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ। রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে আদেশ দেন। গত ২২ মার্চ ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার নথি পৌঁছালে বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান অভিযোগ গঠনের জন্য ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অভিযোগ গঠন শুনানি এখনো হয়নি। গত বছর ১৩ নভেম্বর মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশ। মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন ও এজাহার বহির্ভূত ৬ জন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত চলাকালে মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২১ জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, বুয়েট ছাত্র মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশাররফ, অমিত সাহা, মুনতাসির আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, নিহত আবরারের রমমেট মিজানুর রহমান মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত ও এস এম মাহমুদ সেতু। এছাড়া মোর্শেদ অমত্য ইসলাম নামে পলাতক এক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এস এম মাহমুদ সেতু ছাড়া বাকি সবাই এজাহারভুক্ত আসামি। এরমধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা হলেন- ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মনিরুজ্জামান মনির ও এএসএম নাজমুস সাদাত। এখন পলাতক রয়েছেন আরও তিন আসামি। তারা হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। এরমধ্যে মোস্তবা রাফিদের নাম এজাহারে ছিল না। গত বছর ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রের হাতে নির্দয় নির্মম ও বর্বরোচিত পিটুনি নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ। এ ঘটনায় পরদিন নিহত আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন।

দেশের প্রথম ভার্চুয়াল একনেক বৈঠকে ১৬২৭৬ কোটি খরচে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ দেশের ইতিহাসে প্রথম ভার্চুয়াল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ হাজার ২৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা খরচে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত টাকার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১৪ হাজার ৪০১ কোটি ৫২ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ ১ হাজার ৮৮১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘কোভিড-১৯ এমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডামিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্প ও ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স এমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স’ প্রকল্প; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্প; ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (সপ্তম পর্যায়)’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ¦ালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুদায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প ও ‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প; কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘কৃষি যন্ত্রপাতি ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাকে অধিকতর লাভজনক করা’ প্রকল্প ও ‘মানসম্পন্ন মশলা বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ’ প্রকল্প; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার ১, ২, ৬-৮, এবং ৬-৮ (এক্সটেনশন) এর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

বেসরকারি খাতে ৬৪১৭ কোটি বিনিয়োগ করবে এডিবি

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতেও বিনিয়োগ করে আসছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তারা ট্রেড ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের (টিএফপি) আওতায় এ বিনিয়োগ করে। টিএফপি সম্প্রসারিত করেছে এডিবি। এবার তারা বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বাড়তি দুই হাজার ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা (২৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করবে। টিএফপির আওতায় গত বছর বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে এডিবির বিনিয়োগ ছিল চার হাজার ৪০৩ কোটি টাকা (৫১৮ মিলিয়ন ডলার)। এবার তা বাড়িয়ে ছয় হাজার ৪১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা (৭৫৫ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করছে এডিবি। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর দুই হাজার ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ বাড়াল তারা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এডিবির ঢাকা অফিস বাংলাদেশে টিএফপির অর্থায়ন বাড়ানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা বলেছে, এডিবি বাংলাদেশের ১২টি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতকে ঋণ দিতে এই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে অর্থ ছাড় করছে তারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে বাংলাদেশ যেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন ধরে রাখতে পারে, আমদানি-রফতানি বাড়াতে পারে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে-এসব কারণে আমরা এবার অর্থায়নের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছি। যেসব দেশে এএফপির কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে উল্লেখ করেন মনমোহন প্রকাশ। তিনি জানান, অর্থ ছাড় শুরুর ১৮০ দিনের মধ্যে এর কার্যক্রম শেষ করা হয়। ফলে যেদিন অর্থ ছাড় শুরু করব, তার ১৮০ দিনের মধ্যে ৭৫৫ মিলিয়ন ডলার সম্পন্ন করা হবে। মনমোহন প্রকাশ আরও বলেন, আমরা যে ঋণ দিচ্ছি, তাতে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) সুবিধা পাবেন। আমরা যে অর্থায়ন বাড়ালাম, তাতে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাসহ ব্যবসায়ীরা উপকার পাবেন। এডিবির এই টিএফপি বিশ্বের ২১টি দেশের ২৪০টি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ২৪০টি ব্যাংকের মাধ্যমে সেসব দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করছে এডিবি।