আলমডাঙ্গা বনিক সমিতিসহ বিভিন্ন ব্যাবসায়ি সংগঠনের সাথে উপজেলা  চেয়ারম্যান, ইউএনওর সাথে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের হলরুমে আলমডাঙ্গা বাজারের সকল ব্যাবসায়ি সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে এক সৌজন্য মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব হোসেন।এ সময় তিনি ব্যাবসায়ি নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার ও দেশ চরম সংকটের মধ্যে অতিবাহিত করছে। বিশ্বের ১১২টি দেশ আজ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সমগ্র বিশ্ব আজ থমকে গেছে।  বৈশ্বিক এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির কথা ভেবে সরকার ১ জুন  থেকে ১৫ দিনের জন্য স্বল্প পরিসরে গনপরিবহন, ট্রেনসহ সকল অফিস খোলার সিদ্ধান্ত জনিয়ে গতকাল থেকে খুলে দিয়েছেন। আপনারা যারা ব্যাবসায়িগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন, আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা না করেন তাহলে আমরা করোনা সংক্রমন রোধ করতে সক্ষম হব না। তাই আপনাদের সরকারের  দেয়া সর্ত মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে, মুখে মাস্ক দিয়ে স্বল্প পরিসরে ব্যাবসা পরিচালনা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন আমরা সার্বক্ষনিক বাজার মনিটরিং করব। সরকার মাস্ক না পরলে সর্বোচ্চ ১লক্ষ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সকলের জন্য মুখে মাস্ক বাধ্যতামুলক। এছাড়াও প্রত্যেক দোকানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখবেন, অথবা হ্যান্টস্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। বাজার নিয়ন্ত্রনে বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মীর শফিকুল ইসলাম বলেন আমরা আপনাদের সার্বিক সহযোগীতা করতে প্রস্তুত। কিন্ত অহেতুক ব্যাবসায়িদের হয়রানি করবেন না। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনু, থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবির, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন, বনিক সমিতির সভাপতি হাজী মকবুল  হোসেন, কাপড় ব্যাবসায়ি সমিতির সভাপতি আবু মুছা, সম্পাদক হাজী গোলাম রহমান সিন্জুল, গার্মেন্টস ব্যাবসায়ি সমিতির সভাপতি সাজ্জাদুল, সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লা, হার্ডওয়ার ব্যাবসায়ি সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব লিয়াকত আলী লিপু  মোল্লা, ঔষধ ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি আকবার আলী আকু, সম্পাদক মতিয়ার রহমান, মুদি ব্যাবসায়ি সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন, আলম হোসেন, মাহমুদ হাসান চঞ্চল, সেলিম  হোসেন, আব্দুল মালেক, মিজানুর রহমান, শাহাবুদ্দিন, শাহরিয়ার হোসেন প্রমুখ।

 

২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে লিবিয়ার সরকার

ঢাকা অফিস ॥ লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির সরকার। লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় এ নিন্দা জানানো হয় বলে গতকাল সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ হত্যাকান্ডকে কাপুরুষোচিত কাজ উল্লেখ করে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনারও অঙ্গীকার করা হয়েছে শোক বার্তায়। এতে নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে লিবিয়া সরকার। এ হত্যাকান্ডের তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে লিবিয়ার সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হবে বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়। এর আগে এক বিবৃতিতে লিবিয়ান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৩০ জন অভিবাসীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিজদা শহরের নিরাপত্তা বিভাগকে দোষীদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় সবধরনের পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই গণহত্যার পেছনে উদ্দেশ্য যা-ই থাক, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অনুমতি কারোরই নেই। গত ২৮ মে লিবিয়া সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এতে আহত হয় আরও ১১ জন। বাংলাদেশিসহ ওই অভিবাসীদের মিজদা শহরের একটি জায়গায় টাকার জন্য জিম্মি রেখেছিল মানবপাচারকারী চক্র। এ নিয়ে একপর্যায়ে ওই চক্রের সঙ্গে মারামারি হয় অভিবাসী শ্রমিকদের। এতে এক মানবপাচারকারী নিহত হয়। তারই প্রতিশোধ হিসেবে সেই মানবপাচারকারীর লোকজন এ হত্যাকান্ড ঘটায়।

কুমারখালীতে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সোচ্চার ভ্রাম্যমান আদালত

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীতেও শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে চলাচল শুরু করেছে গণপরিবহন। গতকাল সোমবার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী একাধিক গণপরিবহন দুই সিটে এক যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে। তবে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গাড়ি ছাড়ার কারণে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক যাত্রীদের নিকট থেকে ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি নিতে বলা হলেও গত রবিবার রাত পর্যন্ত কিছু কিছু পরিবহনের স্থানীয় কাউন্টার থেকে ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে নিয়ে আগাম টিকেট বিক্রি করেছে। তবে গতকাল সোমবার ৬০ শতাংশের অতিরিক্ত নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তারা। এদিকে, কুমারখালীতে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণে সহকারি কমিশনার (ভুমি) কে প্রধান করে সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও গণপরিবহনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উপজেলা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত রবিবার দুপুরে মনিটরিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে সহকারি কমিশনারের (ভুমি) কার্যালয়ে বিশেষ জরুরী সভা করা হয়েছে। সভায় গণপরিবহনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে কমিটির সবাইকে আন্তরিকভাবে মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে গণপরিবহনের মালিক, চালক, সহকারি, পরিচালক ও যাত্রী সহ টিকেট কাউন্টারের সংশ্লিষ্টদের করণীয় সম্পর্কিত কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের একটি প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে কুমারখালী উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতর্কিত অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খান। এ সময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম, এ মুহাইমিন আল জিহান উপস্থিত ছিলেন। অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণপরিবহনের কাউন্টারগুলোতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের ব্যবস্থা ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। এ ছাড়াও সিএনজি, মাহেন্দ্র ও ব্যাটারি চালিত পরিবহনে অতিরিক্ত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচল করায় জরিমানা করাসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

 

উপপ্রেস সচিব খোকনের বাবার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনের বাবা আনোয়ার হোসেন (৭৯) মারা গেছেন। গতকাল সোমবার গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার নিজ বাসভবন তারাগঞ্জ গ্রামে বাধ্যকজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন আশরাফুল আলম খোকনের বাবা আনোয়ার হোসেন। মৃত্যুকালে দুই ছেলে দুই মেয়েসহ অসংখ্যগুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি খোকনের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এছাড়া খোকনের বাবার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও।

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ ২ যুবক গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার  পোড়াদহ নতুন বাজার হাইস্কুল এর পিছনে জনসেবা হোমিও হল এর পশ্চিম পাশের্^ পাঁকা রাস্তার উপর’’ একটি মাদক অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ১৩০ পিচ ইয়াব ট্যাবলেট, ২টি মোবাইল ফোন, ৩টি সীমকার্ড এবং নগদ ৭ হাজার টাকাসহ মোঃ জুয়েল রানা (২৭), পিতা- মোঃ আনোয়ার হোসেন, সাং-দক্ষিণ কাঠদহ এবং মোঃ মামুনুর রশিদ (২৬), পিতা-মোঃ আমিরুল ইসলাম, সাং-স্বরুপদহ হানিফপুর, উভয় থানা-মিরপুর, জেলা-কুষ্টিয়াদ্বয়’কে গ্রেফতার করে হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধেএকটি মাদক মামলা দায়ের করে মিরপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বীজ-সার-সেচ সংকটমুক্ত রাখতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে – কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, আউশ ও আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে আউশের জন্য বীজ, সার, সেচসহ বিভিন্ন প্রণোদনা কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আমন ও রবি মৌসুমে বীজ, সার, সেচ প্রভৃতিতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সংকট তৈরি না হয় সেজন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে। গতকাল সোমবার সকালে তার সরকারি বাসভবন থেকে আমন ও রবি শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সংস্থাপ্রধানদের সঙ্গে অনলাইন (জুম প্ল্যাটফর্মে) সভায় এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলা করতে হলে উৎপাদন আরও অনেক বাড়াতে হবে। দেশে খাদ্য উৎপাদনে যে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে এবং উৎপাদনের যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি চলমান রয়েছে সেখানে থেমে গেলে হবে না। সেজন্য তা আরও বেগবান ও ত্বরান্বিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মহামারি করোনার করাল গ্রাসে আজ পুরো পৃথিবী বিপর্যস্ত। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে কোনো কোনো দেশে খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষও হতে পারে। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে ও অন্যান্য ভিডিও কনফারেন্সে বার বার কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল ফলানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা অনুযায়ী করোনায় সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির বর্তমান ধারা শুধু অব্যাহত রাখা নয়, তা আরও বেগবান ও ত্বরান্বিত করতে কৃষি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে; যাতে করে দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি না হয়, দুর্ভিক্ষ না হয়। বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের সম্ভাব্য খাদ্য সংকটে আর্তমানবতার সেবায় বাংলাদেশ যাতে তার উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য নিয়ে সহযোগিতা করতে পারে। তিনি বলেন, আমন আবাদের এরিয়া বাড়ানোর সুযোগ খুব একটা নেই। তবে উন্নতমানের জাত ও মানসম্পন্ন পর্যাপ্ত বীজ সরবরাহ এবং গবেষণা পর্যায়ে বিভিন্ন জাতের ঘোষিত হেক্টর প্রতি ফলন ও কৃষকের মাঠে উৎপাদিত হেক্টর প্রতি ফলনের পার্থক্য কমিয়ে এনে উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। পাশাপাশি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যেখানে বছরে একটি মাত্র ফসল হয় সেখানে কীভাবে সারা বছর বিভিন্ন ফসল ফলানো যায়, এসব বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সভায় জানানো হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে আমন আবাদের প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৯ লাখ হেক্টর ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৫৪ লাখ টন চাল। আমন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কম ফলনশীল জাতের আবাদ কমিয়ে আধুনিক/উফশি জাতের সম্প্রসারণ ও হাইব্রিড জাতের এলাকা বৃদ্ধি করা হবে। উন্নত জাতের জাত, মানসম্পন্ন বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ, সুষম সারের নিশ্চয়তা, পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা, সেচ খরচ হ্রাসকরণসহ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রবি ফসল (গম, আলু, মিষ্টি আলু, শীতকালীন ভূট্টা, ডাল জাতীয় ফসল, তেল বীজ জাতীয় ফসল, মসলা ও সবজির) লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। সভায় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আরিফুর রহমান অপু, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) মো. মাহবুবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর, বাংলাদেশ কৃষি গবষেণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড. এম. সাহাব উদ্দিনসহ অন্যান্য সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক অধিকার ফোরাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

সাংবাদিক অধিকার ফোরাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল সন্ধায় সাংবাদিক অধিকার ফোরাম’র অস্থায়ী কার্যালয়ে ফোরামের সকল কার্যনির্বাহী ও সাধারণ সদস্যদের উপস্থিতিতে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফোরামের সভাপতি নুর আলম দুলালের সভাপতিত্বে সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও দি ডেইলী সানের জেলা প্রতিনিধি রেজাউল করিম রেজা, সাবেক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও পাখি পর্যবেক্ষক এস আই সোহেল, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ও কুষ্টিয়ার কাগজ’র স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংবাদিক মিজানুর রহমান ভিজা, দৈনিক সকাল বেলার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আকরামুজ্জামান আরিফ ও দৈনিক মুক্তমঞ্চের স্টাফ রিপোর্টার তাজনিহার বেগম তাজ। সভায় বক্তারা পুর্বের কমিটি বিলুপ্তি করে নতুন কমিটি গঠনের পরামর্শসহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনামুলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আলোচনা সভা শেষে নতুন কমিটি গঠনের সিন্ধান্ত গৃহিত হয়। সভার শুরুতে করোনায় নিহত সাংবাদিকসহ  সকলের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও  কুষ্টিয়া টেলিভিশন জার্ণালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হাসান আলীকে লাঞ্ছিতের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয়। সভায় সভাপতি করোনা সংকটে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনাসসহ সাংবাদিক অধিকার ফোরামের বিভিন্ন কর্মকান্ড তুলে ধরেন। সার্বিক সভাটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল নাইনের জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক খবর পত্রের জেলা প্রতিনিধি রেজা আহম্মেদ জয়, দৈনিক আমার সময়’র জেলা প্রতিনিধি এজে সুজন, দৈনিক মুক্ত মঞ্চের স্টাফ রিপোর্টার আল্পনা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়ার কাগজ’র স্টাফ রিপোর্টার রোকনুজ্জামান রাসেল, আব্দুল মোতালেব রাজু, দৈনিক আজকের আলোর স্টাফ রিপোর্টার হাফিজ আল আসাদ, দৈনিক মুক্ত মঞ্চের স্টাফ রিপোর্টার কোরবান আলী, কুষ্টিয়ার কাগজ’র স্টাফ রিপোর্টার ওয়ালিউল ইসলাম ওলি, ইজাবুল হক ও রিপন শেখ প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

ঝিনাইদহে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিষাক্ত সাপের কামড়ে জুলিয়া খাতুন (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সে মারা যায়। জুলিয়া খাতুন কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের ভাতঘরা দয়াপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে এবং ভাতঘরা দয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থী। জুলিয়ার চাচা নাসির উদ্দিন জানান, রাতে জুলিয়া তার মা-বাবার সাথে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। রাত ২টার দিকে বিষাক্ত সাপ তাকে দংশন করে। পরে তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

করোনা থেকে বাঁচতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, করোনা সংক্রমণমুক্ত থাকতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ২৩৪ জন জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফল বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ-খবর রাখেন এবং তাদের শুভেচ্ছা কামনা করেন। তিনি আপনাদের প্রতি তার শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে এই উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি করোনাকালীন কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে নগদ টাকা, চাল, ডাল, আলু, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার সরকারি মানবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে। সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন জনগণের পাশে আছে। বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হান্নান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান এবং বড়লেখা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আহাদ প্রমুখ উপস্থিত উপজেলার জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে লিচু, কলা, আনারস ও আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফল প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বিতরণ করেন।

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা

পাচারকারী চক্রের মূলহোতা কুষ্টিয়ার হাজী কামাল গ্রেফতার

ঢাকা অফিস ॥ গত ২৮ মে পাচারকালে লিবিয়ার মিজদাহ শহরে নৃশংসভাবে গুলি করে ২৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরও ১১ বাংলাদেশি আহত হয়। এ মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা হাজী কামাল। লিবিয়ায় নিহত ও আহতদের বেশিরভাগকে হাজী কামালই পাঠিয়েছেন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর নির্যাতন করে পাচারকারী চক্র পরিবারের কাছ থেকে যে মুক্তিপণের অর্থ আদায় করেছিল, তার সব টাকাই গেছে হাজী কামালের মাধ্যমে। গতকাল সোমবার দুপুর ২টায় রাজধানীর টিকাটুলি র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল রকিবুল হাসান। তিনি বলেন, লিবিয়ায় হত্যাকা-ের পর নিহত ও আহতদের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, সবাই হাজী কামালকে মুক্তিপণের টাকা দিয়েছে। এরপরও কেউ সন্তানদের ফেরত পাননি। হাজী কামালকে গ্রেফতারের সময় পাওয়া ডায়েরিতেও টাকা নেয়ার তথ্য রয়েছে। কামাল নিজেও স্বীকার করেছেন টাকা নেয়ার কথা। আর কামাল এসব টাকার একটি অংশ বিদেশে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠাত। র‌্যাব-৩ এর সিও বলেন, কামালের কাছে পাওয়া ডায়েরিতে অন্তত ৪০০ ভিকটিম ও তার পরিবারের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। যাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন। ওই ডায়েরিতে ১০ জন দালালের তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। যারা কামালের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। এই দালালরা ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, গোপালগঞ্জ, কলকাতা, মুম্বাই, দুবাই, মিশর ও লিবিয়াতে পাচারের কাজ করে থাকে। তাদের নাম ঠিকানা সব পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলা হচ্ছে না। লে. কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, হাজী কামাল প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় বাস করছেন। এর মধ্যে প্রায় এক যুগ ধরেই তিনি মানবপাচারে জড়িত। তার কাছ থেকে বিভিন্ন মানুষের ৩১টি পাসপোর্ট ও একাধিক ব্যাংকের চেক বই উদ্ধার করা হয়েছে। তার সম্পদের খোঁজ করা হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে কোথায় কোথায় টাকা গেছে, তা জানার পর মানি লন্ডারিংয়ের মামলাও হবে তার বিরুদ্ধে। এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, তার কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি নেই। তিনি মূলত একজন টাইলস কনট্রাক্টর। প্রচুর পরিমাণে টাইলস শ্রমিক তার সংস্পর্শে আসে। এ সুযোগে সে তাদেরকে প্রলুব্ধ করে যে, লিবিয়াতে টাইলস মিস্ত্রীদের অনেক চাহিদা। সেখানে গেলে দিনে ৫/৬ হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব। ইচ্ছুকদের কাছ থেকে মাত্র এক লাখ টাকা নিতেন, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর বাকি ৪/৫ লাখ টাকা পরিবারের কাছ থেকে শর্ত মতো আদায় করতেন বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লিবিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে যাওয়াদের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ লোকই কামালের মাধ্যমে গেছেন। কামালকে মাদারীপুর রাজৈর থানা ও কিশোরগঞ্জের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, অবৈধভাবে ইউরোপে প্রেরণকালে সম্প্রতি লিবিয়ার মিজদাহ শহরে গত ২৮ মে নৃশংস হত্যাকান্ডে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১১ বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে আহত হন। ওই ঘটনা দেশ বিদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তদন্তে উঠে আসে এই হাজী কামালের নাম। এরপর গতকাল সোমবার (১ জুন) ভোরে র‌্যাব-৩ এর একটি দল গুলশান থানাধীন শাহজাদপুরের বরইতলা বাজার খিলবাড়ীরটেক এলাকা থেকে হাজী কামালকে (৫৫) গ্রেফতার করে। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের  খোর্দ্দ আইলচারা গ্রামের জামাত আলী মন্ডলের ছেলে। শুধু লিবিয়া নয়, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও অবৈধ প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের পাঠিয়েছেন।

সরকারী নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এস.বি পরিবহনের যাত্রীসেবা

নিজ সংবাদ ॥ বর্তমানে সারা বিশ^ করনাভাইরাস প্রভাবে থমকে গেছে। এই করনাভাইরাসে বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার  মানুষ আক্রান্ত, প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৬৭২ জন। টানা ৮৮ দিন সরকারী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করাতে বন্ধ করে দেওয়া হয় সারা দেশ সাথে কর্মহীন হয়েপরে পরিবহন শ্রমিকরা। গত ১লা জুন থেকে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী চালুকরা হয় গণপরিবহন খাত। সেই সরকারী নির্দেশনা মান্যকরে গত ১ লা জুন হতে যাত্রীসেবা প্রদানে কুষ্টিয়ার একমাত্র অত্যাধুনিক বিলাশবহুল ঢাকাগামী এস.বি পরিবহন যাত্রী সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। তাই এস.বি পরিবহনের পক্ষথেকে গত ১লা জুন হতে ঢাকা অভিমুখ সকল বাসের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নানাবিধ পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনা মধ্যে অন্যতম হল বিভিন্ন রুটের কাউন্টারগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনিটাজেশনের আওতায় আনা। কোন যাত্রী সেনিটাইজেশনের ব্যবহার ছাড়া কোন প্রকারেই কাউন্টারে প্রবেশ করতে এবং কোন প্রকারের মালামাল স্পর্শ করতে পারবে না। গাড়ীতে ওঠার সময় সঠিক ভাবে হাত মুখ ওয়াশরুম থেকে দুই হাতে সেনিটাইজার ব্যবহার ও সারা শরীরে জবানুনাশক স্প্রে ব্যবহার করে গাড়ীতে প্রবেশ করতে হবে এবং করনাভাইরাস থেকে যাত্রী ও স্টাফদেরকে সুরক্ষা রাখতে কিছু সময় পর পর গাড়ীর ছিট, ফ্লোর ও স্পর্শকৃত স্থান বা বার বার স্পর্শ করা জায়গা জীবানু নাশক স্প্রে দ্বারা স্প্রে করা। গাড়ীর আসন ব্যবস্থা এক সিট পর পর বিন্যাস করা ও বাধ্যতা মূলক ভাবে সামাজিক দুরত্ব মেনেচলা । গড়ীর ভেতর কোন ভাবেই গা ঘেঁসে না দাঁড়ানো বা বসা। এস.বি পরিবহনের এক কর্মকর্তার সাথে কথাহলে তিনি বলেন আমাদের মূল লক্ষ্য হল যাত্রীসেবা। আমাদের পরিবহনের নিয়মিত ও অনিয়মিত সকল যাত্রীদের যাত্রাকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সকল প্রকার কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি যেন একজনও আমাদের পরিবহনে যাত্রাকালীন সময়ে কোন ধরনের সংক্রামকে আক্রান্ত না হতে পারে সেদিকে আমরা বিশেষ খেয়াল রাখছি, আমরা সবসময় যাত্রীসেবা দানে বদ্ধপরিকর ।

করোনা ও আম্পান মোকাবেলায় মানবিক হৃদয়ে যশোর সেনানিবাস

করোনা এবং আম্পানের প্রভাবে দেশের মানুষ এক কঠিন সংকটময় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। বাঙালি জাতির এমন সংকটময় মুহুর্তেও নিজেদের জীবনের কথা না ভেবে, অন্ধকারে আশার আলো জ্বালিয়ে  দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা। গতকাল সোমবারও বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাজার/মার্কেটগুলোতে সচেতনতামূলক মাইকিং করা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, ত্রাণ বিতরণ এবং দুস্থ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শস্য/সবজি বীজ বিতরণসহ নানাবিধ কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাস্তায় গণপরিবহণ চলাচল করছে কিনা তা তদারকিতে সদা তৎপর রয়েছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় উপকূলবর্তী সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রাসহ বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামতের জন্য প্রতিদিনই নিরন্তন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। এছাড়াও আম্পানে ভেসে যাওয়া হাজারও পানিবন্দী মানুষের বাড়ীতে নিয়মিত খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। যশোর সেনানিবাস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের যে কোন কঠিন দুর্যোগের সময় সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে যশোর সেনানিবাসের প্রতিটি সেনাসদস্য। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরের চরমাজদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেকাত মাষ্টারের মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আশরাফ ছিদ্দিকি রেকাত মাষ্টারের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চরমাজদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আশরাফ ছিদ্দিকি রেকাত মাষ্টারের আকষ্মিক মৃত্যুতে দৌলতপুর শিক্ষক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি হাসি খুশি ও স্পষ্টবাদী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। রেকাত মাষ্টারের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দফাদারপাড়া গ্রামে।

 

শুক্রবার প্রাণভয়ে বাঙ্কারে লুকান ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে নিহত হন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড। বর্ণবাদী এ ঘটনায় করোনা মহামারির মধ্যেও বর্তমানে দেশটিতে তুমুল বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা গত শুক্রবার ওয়াশিংটন শহর, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও বাসভবন হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সে সময় সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নেন বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। গত রোববার সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ বেশকিছু পত্রিকা জানায়, শুক্রবার ওয়াশিংটনে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউজে লকডাউন আরোপ করা হয়। সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন এ সময় সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঙ্কারে সরিয়ে নেয়।  সিএনএন’র প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাতে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বাঙ্কারে অবস্থান করেন ট্রাম্প। দেশব্যাপী বিক্ষোভের জেরে শনিবার রাতেও প্রেসিডেন্টকে বাঙ্কারে নেওয়া হয় কিনা, সে ব্যাপারে প্রতিবেদনে কিছু জানানো হয়নি। জর্জ ফ্লয়েড নিহতের ঘটনায় শনিবারেই সবচেয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ফ্লয়েড হত্যার জেরে টানা ৮ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ চলছে। এরই মাঝে এ ঘটনায় অন্তত ৭৫টি শহর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বলে খবরে প্রকাশ।  সিএনএন জানায়, নিরাপত্তার কথা ভেবে পেন্টাগনের অনুরোধে বর্তমানে হোয়াইট হাউসের আশপাশে সেনা মোতায়েন করা রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে হুঁশিয়ারি জানিয়ে ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার অপেক্ষায় আছে সিক্রেট সার্ভিস। যারাই হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা বলয় অতিক্রমের চেষ্টা করবে, তাদেরকে ভয়ঙ্কর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় ট্রলারের ধাক্কায় ডুবে নিহত রাহাত’র পরিবারকে ৫লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় ট্রলারের ধাক্কায় নৌকা ডুবে এক জেলে পুত্রের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম এর উপস্থিতিতে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা জেলে পরিবারের হাতে নগদ ৫ লক্ষ টাকা তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন  চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিলন মন্ডল, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম রুমি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের পাশ ঘেষে বয়ে চলা পদ্মা নদীতে গত ১৮ মে চরভবানীপুর ৯নং ওয়ার্ডের বাদশা পরামানিক (৩৮) ও তার ছেলে রাহাত (১২) পদ্মা নদীতে নৌকা নিয়ে মাছ ধরার সময় বালিবাহী ট্রলারের ধাক্কায় নিখোঁজ হয় জেলে পুত্র রাহাত। পরে রাহাতকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উক্ত ঘটনায় নদীতে বেশ কয়েকটি ট্রলার আটকিয়ে রাখে স্থানীয়রা। এদিকে হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এর সার্বিক তত্বাবধানে, ট্রলার (নৌকা) মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জেলে পরিবারকে ৫লক্ষ টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা জানালে গতকাল সোমবার উপজেলা কার্যালয়ে জেলে পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা জেলে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এটা একটি দুর্ঘটনা সে লক্ষ্যে পুত্রকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, নৌকা মালিক সমিতির সামর্থ অনুযায়ী আপনার পরিবারকে সহায়তা করা হলো।

দৌলতপুরে প্রতিবন্ধী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাকপ্রতিবন্ধী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া গ্রামে প্রতিবন্ধী ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী দৌলতপুর অটিজম ও প্রতিবন্ধী স্কুলের ছাত্রী (১৫)। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে একই এলাকার রবকুলের ছেলে তুহিন (৩০) বাকপ্রতিবন্ধীর ঘরে ঢুকে প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী তার পরিবারের লোকজনকে ধর্ষষের ঘটনা জানালে তারা প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে নিয়ে দৌলতপুর থানায় হাজির হয়। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় ওই রাতেই ধর্ষণের মামলা হয়েছে। যার নং-৩৬। এদিকে গতকাল সোমবার ধর্ষিতাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে। দৌলতপুর অটিজম ও প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সালে মজনুল কবীর পান্না জানান, প্রতিবন্ধী ওই মেয়েটি তার স্কুলের ছাত্রী। এমন অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। প্রতিবন্ধী ধর্ষণের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ধর্ষককে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে ধর্ষক তুহিনের পরিবার দাবি করে এটা সাজানো ঘটনা। মিথ্যাভাবে ফাঁসানোর জন্য এ নাটক সাজানো হয়েছে।

দৌলতপুরে কর্মহীনদের মাঝে এমপি বাদশার ত্রাণ বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি এ্যাড. আ. ক. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা করোনায় কর্মহীন, অস্বচ্ছল, দরিদ্র ও দিনমজুরদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ২২৫ জনের মাঝে ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়। পিয়ারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, পিয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু, দৌলতপুর আওয়ামীলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ডিএম সাইফুল ইসলাম শেলি, কৃষকলীগ নেতা শরিফ ডাক্তারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃৃন্দ। প্রতি প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল ১০ কেজি চাল ও একটি করে সাবান।

করোনা আক্রান্তের মাত্রা অনুযায়ী লাল-হলুদ-সবুজ জোনে ভাগ হবে দেশ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস আক্রান্তের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে দেশকে লাল, হলুদ ও সবুজ- এই তিন জোনে ভাগ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যান্যরা উপস্থিতি ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের টেস্টের হার বাড়ছে, টেস্টের সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের সংখ্যাও বাড়ছে। সেজন্য আমরা কয়েকটি জোন- রেড জোন, ইয়োলো জোন, গ্রিন জোন মার্কিং করেছি। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল যে, এই রেড জোনকে কীভাবে গ্রিন জোন করা যায়। সেটা নিয়েই আজকে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকে অনেক কথা বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এগুলো নোট করেছেন। উনি এগুলো ইমপ্লিমেন্ট (বাস্তাবায়ন) করবেন। ইনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) একটা প্রস্তাবনা দেবেন আমরা খুব শিগগিরই সেটা বাস্তবায়ন করব। পরে জোন করার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জোন এখনও করা হয়নি, করা হবে। যখন জোন করব আপনারা জানতে পারবেন। আপনারা জানেন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ইদানীং চট্টগ্রাম-এখানে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ। যদি কোনো জোন রেড হয়ে থাকে, তবে এগুলোই হয়তো রেড হবে। আর বাংলাদেশের অধিকাংশ উপজেলাগুলো এখনও অনেকাংশ ভালো আছে। আমরা সেটা ভালো রাখতে চাই। রাখার জন্যই আজকের এই সভা। তিনি বলেন, গত পরশুদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি দেখা করেছিলাম আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। উনি পরামর্শ দিয়েছেন, সেই পরামর্শ অনুযায়ী আজকে আমরা বসলাম। আমরা একটা প্ল্যান (পরিকল্পনা) তৈরি করে দেব। প্ল্যানটা এখানে নীতিগতভাবে আলোচনা হয়েছে। আমরা প্ল্যানটা আরও সুনির্দিষ্টভাবে করে দেব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেয়র মহোদয়, আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আমাদের স্থানীয় সরকারের এনারা এবং আমরাও থাকব- সবাই মিলে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। জোনিংটা কীভাবে করা হবে, বিশেষজ্ঞরা সেই পরিকল্পনাটা করবেন বলেও জানান জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, জোনিংয়ের মাধ্যমে যে জোনটায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হবে, যেমন ধরুন একটা ছোট্ট এলাকা আমরা বলব, এই এরিয়াটা বন্ধ থাকবে এই কয়দিনের জন্য। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেবেন সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ রেড জোনের মধ্যে পড়বে কিনা-জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটাতো বিশেষজ্ঞরা ফেলবেন। আমরা তো মনে করি এগুলো রেড জোন হওয়া উচিত। কারণ এখানে তো অনেক সংক্রমিত।

স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সরকার আরও কঠোর হবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণের অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকারকে বাধ্য হয়ে আবারও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গতকাল সোমবার সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন শিথিল করেছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে তবুও লকডাউন শিথিল করছে। কোথাও কোথাও তুলে নিয়েছে। পবিত্র মক্কা-মদিনা- মসজিদুল আকসাও ধীরে ধীরে মুসল্লিদের জন্য খোলে দেয়া হচ্ছে। জীবনের পাশাপাশি জীবিকা দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে জীবনের গতিপথ থেমে আসবে। নেমে আসবে স্তব্ধতা। অর্থনীতিও হয়ে পড়বে স্থবির। তাই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বেছে নিতেই হবে। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের অনিবার্য প্রয়োজন সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। নিজের সুরক্ষা প্রকারান্তরে পরিবার, সমাজ ও সহকর্মীদের সুরক্ষা দেবে। তাই প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে সচেতন ও সুরক্ষিত থাকি। ঘরকে গড়ে তুলি সুরক্ষার দুর্গ। এমন সংকটে সাহসী নেতৃত্ব আমাদের সকলের পাশে আছেন তিনি দেশরতœ শেখ হাসিনা। তার প্রতি আস্থা রাখুন, ভরসা রাখুন মহান ¯্রষ্টার প্রতি, এ নিদানকাল আমরা কাটিয়ে উঠব, ভোরের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে দশদিগন্ত, ইনশাআল্লাহ। গণপরিবহন চালু ও ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন খালি রেখে গাড়ি চালানো শুরু হয়েছে। সরকার বাস্তবতার প্রয়োজনে ভাড়া সমন্বয় করেছে এবং আজ থেকে শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চলছে। আমি মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি ও শর্ত মেনে গাড়ি চালানোয় অনুরোধ করছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ভিজিল্যান্স টিম, মোবাইল কোর্টসহ টার্মিনাল কর্তৃপক্ষকে অর্ধেক আসন খালি রাখা ও বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক পরার বিষয়ে তদারকি করার আহ্বান জানাচ্ছি। যাত্রী সাধারণকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা অতিরিক্ত যাত্রী হবেন না। অর্ধেক আসন খালি রাখুন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। সংক্রমণ থেকে বাঁচুন, অপরকে বাঁচান। হুড়োহুড়ি, বাড়তি যাত্রী হওয়া, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এ সংকটকে আরও আরও ঘনীভূত করতে পারে। মালিক-শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংকটে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের অসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয় এবং তা যদি জনস্বার্থের বিপরীতে চলে যায়, তাহলে সরকারকে বাধ্য হয়ে আবারও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংকটের শুরু থেকে সরকার সব দফতর ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করে সংক্রমণ রোধ, আক্রান্তদের চিকিৎসা, টেস্টিং ক্যাপাচিটি বৃদ্ধিসহ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আকস্মিক এ সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও আজ হিমশিম খাচ্ছে। আমরা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দিনদিন সংকট সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি। গড়ে তোলা হয়েছে সুসমন্বয়। কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যন্ত চিকিৎসা নেটওয়ার্ক সমন্বয় করাসহ সচেতনতা তৈরিতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে সরকার। খাদ্য সহায়তা, আর্থিক সহায়তাসহ নানা উদ্যোগের ফলে আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত মানুষ না খেয়ে মরেনি। বিশ্বব্যাপী শেখ হাসিনা সরকারের সংকট সমাধানের সাহসী ও মানবিক প্রয়াস প্রশংসিত হচ্ছে। আর বিএনপি খুঁজে পাচ্ছে সমন্বয়হীনতা। নিজেরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্লজ্জভাবে ব্যর্থ হয়ে দায়িত্বহীন বক্তব্য রাখছে। বিষোদগার করছে, যা প্রকারান্তরে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ও আক্রান্তদের মনোবল নষ্ট করছে। আমি সংকটে তাদের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম আর নির্বাচনে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে বিএনপি জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়। তাই জনগণ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গণমাধ্যমে চর্বিত চর্বণ করছে। দুর্যোগকালে অসহায় মানুষের পাশে না থেকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ থেকে দূরে অবস্থান করে নিজেদের জনরোষ থেকে বাঁচাতে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। এটা তাদের উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার, যা মানসিক বৈকল্য ছাড়া আর কিছুই নয়। দলের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় নেই। নিজেদের অফিসে নিজেরা আগুন দেয়। কর্মীরা নেতাকে পিটায়, যারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে পারে না, তারা আবার সমন্বয়ের কথা বলে? এ দেশে দুর্যোগে গণমানুষের পাশে সবার আগে আওয়ামী লীগ ছুটে যায়, এটাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকার অপচেষ্টা আর মিথ্যাচার বিএনপির ঐতিহ্য।

সরকারের ‘একলা চলো নীতি’ পুরোপুরিভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পরিস্থিতিতে সরকারের ‘একলা চলো নীতি’ পুরোপুরিভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এ অভিযোগ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কর্মসূচি ঘোষণা করতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের একলা চলো নীতি পুরোপুরিভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ দেয়া হবে, কোনো ইনসেনটিভ না। এটা কিন্তু একটা কৌশল। যে কৌশলে আপনি খুনোখুনিও হচ্ছে দেখছেন। এক ব্যাংকের ডিরেক্টর আরেক ব্যাংকের ডিরেক্টরকে ধরে নিয়ে আসছে বাসায়, তাকে বন্দুক ধরছে। তারা আবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশ থেকে চলেও যাচ্ছে। হোয়্যার ইজ গভর্নমেন্ট, সরকার কোথায়? আজকে এই কারণে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দিকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, কিছু বললেই তো বলে যে আমরা উসকানি দেয়ার চেষ্টা করছি, আমরা সমালোচনা করছি। একজন তো প্রায় বলেন যে, বিষোদগার করবেন না। আ রে বিষোদগার করে আপনারা যে অবৈধভাবে সরকার দখল করে আছেন সেটা তো বলছি না। আমরা বলছি যে, আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন, এটা পারছেন না করতে, এই জিনিসটা করা উচিত ছিল। এই জিনিসগুলোই আমরা বারবার করে বলছি। কিন্তু ওই যে, কানে দিয়েছি তুলো। যা খুশি বলেন আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা তো আছি। আমি বলি, থাকে না। জনগণের চাহিদা যদি পূরণ করা না যায়, জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা যদি পূরণ না করা যায়, আর যদি ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসে তাহলে কিন্তু থাকে না, চিরকাল থাকে না। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রয়াত শিল্পপতি আবদুল মোনেম, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল সৈয়দ, শিক্ষাবিদ আবদুল কাদের ভুঁইয়াসহ করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ফখরুল। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তার স্ত্রী শিরিন পারভিন হক, ছেলে বারিশ হাসান চৌধুরী, প্রবীণ আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান ও তার স্ত্রী এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের আশু রোগমুক্তি কামনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু, কৃষক দলের সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, সদস্য মেহেদী হাসান পলাশ, অধ্যাপক শামসুর রহমান শামস, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

আরও দুই সপ্তাহ ছুটি বাড়ানোর আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

ঢাকা অফিস ॥ দিন দিন দেশে বেড়ে চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। প্রতিদিনই ছাড়িয়ে যাচ্ছে পূর্বের দিনের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাকে। এমন ঝুঁকির মধ্যেও এ নিয়ে জনসাধারণের মাঝে পর্যাপ্ত সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। চলাফেরা করছেন অবাধে। সরকারও সাধারণ ছুটি আর বাড়ায়নি। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে আরও দুই সপ্তাহ সাধারণ ছুটি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন- একদিকে সচেতনতার অভাব, অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য উপকরণও সহজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে, সাধারণ ছুটি সম্পূর্ণভাবে তুলে নেয়া হয়েছে। এতে জনগণের মাঝে রোগের বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। তাই সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণের মাত্রা কমে এলে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসা যেতে পারে। গতকাল সোমবার ‘সাধারণ ছুটি-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে দেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞগণ এ মতামত প্রদান করেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ এই ভার্চুয়াল সংলাপের আয়োজন করে। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সংলাপে সূচনা বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, চলমান অতিমারিতে নানামুখী অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হলেও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব দেখা গিয়েছে। তবে সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি; নাগরিক সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে জনমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে হবে। এ ক্ষেত্রে, সাধারণ ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা যেতে পারে। সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত সংলাপে অংশ নিয়ে বলেন, সরকারের ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা আরও বৃদ্ধি করা জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতিমারিতে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী খুবই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। ওয়াটারএইড-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ড. মো. খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- এসডিজি প্ল্যাটফর্মের কোর গ্র“প সদস্য এবং ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের উপদেষ্টা ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী, সরকারের কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা (সিলেট বিভাগ) ডা. আবু জামিল ফয়সাল, আইসিডিডিআরবি-এর মিউকোসাল ইমিউনোলজি এবং ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের প্রধান ডা. ফেরদৌসী কাদরি, দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (ডিএসকে) নির্বাহী পরিচালক ড. দিবালোক সিংহ। এছাড়া ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক ডা. মোরশেদা চৌধুরী, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন এবং ডেভরেজোন্যান্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ নাজমি সাবিনা প্রমুখ সংলাপে অংশ নেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের অন্যান্য কোর গ্রুপ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং নিউ এজ গ্র“পের ভাইস-চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম। ভার্চুয়াল সংলাপের আলোচকরা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মাঝে সমন্বয়ের অভাবকে অতিমারি মোকাবিলায় একটি বড় বাধা বলে চিহ্নিত করেন। সেই সঙ্গে, মাস্ক ও স্যানিটাইজারের মতো স্বাস্থ্য উপকরণ বিনামূল্যে জনগণের মাঝে বিতরণের প্রস্তাব উঠে আসে। এক্ষেত্রে, বেসরকারি খাত সরকারকে সহায়তা করতে পারে। সংলাপের আলোচকরা মনে করেন- জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে আরও কঠোর ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে, সচেতনতা বৃদ্ধি ও ত্রাণ কার্যক্রমের বিস্তৃতি বাড়াতে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করা জরুরি। এ ভার্চুয়াল সংলাপে বরগুনা, গাইবান্ধা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাস্থ্যকর্মী, উন্নয়নকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।