ত্রটিপূর্ণ বিদ্যুত বিল সংশোধন হচ্ছে – সংসদে প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ত্র“টিপূর্ণ বিল দ্রুত সংশোধনসহ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে ছয় দফা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। চট্টগ্রাম-৩ আসনের মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ায় সরকার করোনা সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং এলাকাভিত্তিক লকডাউন কার্যকর করায়, গ্রাহকদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে আবাসিক গ্রাহকদের ফেব্র“য়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বিদ্যুৎ বিল সারচার্জ ছাড়া ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়। ফলে অধিকাংশ গ্রাহক বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকায় বিপুল পরিমাণে বকেয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো, কয়েক মাসের ইউনিট একত্র করে একসঙ্গে অধিক ইউনিটের বিল না করা, মাসভিত্তিক পৃথক পৃথক বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা, একসঙ্গে অধিক ইউনিটের বিল করে উচ্চ ট্যারিফ চার্জ না করা, ত্র“টিপূর্ণ বা অতিরিক্ত বিল দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা করা, মে মাসের বিদ্যুৎ বিল (যা জুন মাসে তৈরি হচ্ছে) মিটার দেখে সঠিকভাবে প্রস্তুত করা এবং মোবাইল, বিকাশ, জি-পে, রবিক্যাশ, অনলাইনে ঘরে বসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি। ভোলার এমপি নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ২৭টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে বর্তমানে ২০টি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হবে। প্রসেস প্ল্য্ন স্থাপন করে ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। রূপগঞ্জ এবং সাঙ্গু গ্যাসে ক্ষেত্রের গ্যাস নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। বাকি ৪টি গ্যাসক্ষেত্রের সীমিত গ্যাস মজুত, কমার্শিয়াল ভায়াবিলিটি, আইনগত জটিলতা ইত্যাদি বিবেচনায় গ্যাস উত্তোলনের বিষয়টি পুনঃমূল্যায়ন প্রয়োজন। বিগত ৫ বছরে (২০১৫ সাল হতে বর্তমান পর্যন্ত) খননকৃত নতুন কূপের সংখ্যা ২৫টি।

এমপি শিখরের মায়ের মৃত্যুতে মোফাজ্জেল হকের শোক প্রকাশ

বীর মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড. আছাদুজ্জমানের সহধর্মিনী ও মাগুরা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস এ্যাডঃ সাইফুজ্জামান শিখরের মা মনোয়ারা জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি  এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সাবেক  সদস্য  ও বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি মোঃ মোফাজ্জেল হক। তিনি  মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন বলেন আল্লাহতালা উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক-আমিন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মেছো বাঘটিকে পিটিয়ে মারলো এলাকাবাসী

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার দরবেশপুরে একটি মেছোবাঘকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের মাঠে মেছোবাঘটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, সকালে মাঠের মধ্যে দুটি মেছো বাঘ দেখে স্থানীয় কিছু ছেলেরা। পরে তারা বাঘ দুটিকে তাড়া করে। এসময় তারা একটি মেছোবাঘকে আটক করে পিটিয়ে মেরে ফেলে। অপর মেছো বাঘটি কোন মতে পালিয়ে বাঁচে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মুন্সি কোরবান আলী জানান, সকালে স্থানীয়রা মাঠের মধ্যে থেকে একটি মেছো বাঘকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। পরে সেটাকে মাটিতে পুতে ফেলেছে তারা। তিনি আরো জানান, এ ধরণের প্রাণিগুলো বিলুপ্তির পথে। এগুলোকে এভাবে হত্যা করা উচিৎ না। এদের সংরক্ষণ করা দরকার। তা না হলে এই প্রাণিগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ ধরনের প্রাণি হত্যা করা উচিৎ না। বিষয়টি  খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

আলমডাঙ্গায় বিয়ে করার কথা বলে প্রতারণা; থানায় অভিযোগ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের বন্দরভিটা গ্রামের প্রতারক রাসেল, ঝুমুরকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখিয়ে স্বামীর ঘর  ভেঙ্গে দেয়। এখন সে বিয়ে না করে প্রতারণা করছে। এ ব্যাপারে তার পিতা বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবিরের অফিস কক্ষে ঝুমুরের পিতা আসকার আলী মামলার কাগজ তুলে  দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ্যাডঃ খন্দকার  অহিদুল আলম মানি, এ্যাডঃ কাইজার হোসেন জোয়ার্দার, এ্যাডঃ জিল্লুর রহমান, এ্যাডঃ নওশের আলী, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, এসআই রফিকুল ইসলাম, এসআই জামাল হোসেন প্রমুখ। এ সময়  ওসি আলমগীর কবির তাৎক্ষনিক থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব  দেন বিষয়টি তদন্ত পুর্বক সুষ্ঠু বিচার করার জন্য। উল্লেখ্য আসকার আলী লিখিত অভিযোগে বলেন আমার মেয়ে ঝুমুর খাতুন গত দেড় বছর পুর্বে ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের গাংপাড়ার আশাদুল মালিথার  ছেলে উজ্জলের সাথে বিয়ে হয়। মেয়ে ঝুমুরের সুখের সংসার ভালই চলছিল। কিন্ত বন্দর ভিটা গ্রামের ঠান্ডুর ছেলে রাসেল আমার মেয়ে ঝুমুরকে নানা ভাবে উত্যক্ত করতো, এক পর্যায়ে মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। রাসেল আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ১১ জুন বিকেল ৪ টার দিকে তার স্বামীর বাড়ী থেকে নিজ বাড়ী বন্দর ভিটায় নিয়ে যায়। ঐ দিন রাসেল আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন  দেখিয়ে ধর্ষন করে। পরদিন আমার মেয়ে ঝুমুর কাবিন করে বিয়ের কথা বললে রাসেল গভীর রাতে আমার মেয়ে ঝুমুরকে তার বাড়ী থেকে বের করে  দেয়। ঝুমুরের পিতা আসকার খবর পেয়ে তার মেয়েকে বাড়ীতে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে এলকার মাতব্বরগন শালিসের কথা বলে থানায় আসতে দেয়নি। পরে আসকার আলী ও তার মেয়ে ঝুমুর আলমডাঙ্গা থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনার কারনে ঝুমুরের স্বামী উজ্জল গত ১৪ জুন তাকে তালাক দিয়ে দেয়। আসকার আলী জানান আমার  মেয়ের স্বামীর ঘরও গেল, এখন রাসেলও তাকে বিয়ে করছে না। অথচ তার মেয়ে ঝুমুরকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন করেছে। এখন ঝুমুর বিচারের দাবিতে পথে পথে ঘুরছে। ওসি বিষয়টি তদন্ত পুর্বক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

 

আ. লীগের ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’র ৮ম পর্ব আজ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাকাল ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিশেষ ওয়েবিনার বা ওয়েব সেমিনার ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’র অষ্টম পর্ব আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। এবারের বিষয় ‘তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি : আগামীর কৌশল নির্ধারণ’। অনুষ্ঠানটি রাত সাড়ে ৮টায় বরাবরের মতোই সরাসরি প্রচারিত হবে আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে। একই সঙ্গে দেখা যাবে বিজয় টিভির পর্দায় এবং ইত্তেফাক, সমকাল, যুগান্তর, ভোরের কাগজ, বিডিনিউজ২৪, বাংলানিউজ২৪, জাগো নিউজ২৪, সময় টিভি, বার্তা ২৪ ও সারা বাংলার ফেসবুক পেজে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের পরিচালনায় এতে আলোচক হিসেবে থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি ও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর, গুরুকুল অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং দৈনিক জনকণ্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক বিভাষ বাড়ৈ। অনুষ্ঠানে দর্শকেরা সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানের আগে দলের ফেসবুক পেজের পোস্টেও প্রশ্ন করা যাবে। করোনাকালীন সংকট নিয়ে বিশেষ ওয়েবিনার ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’-এর সাতটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ পর্বটি প্রচারিত হয়েছে গত ২৭ জুন। এই পর্বে ‘জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার’ শিরোনামে আলোচক ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা এই সংকটে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি, স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদ্বুদ্ধ করা, জলাবদ্ধতা নিরসন, জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।

সংকটে মানবিকতার হাত বাড়ানোই আ. লীগের ঐতিহ্য – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যে কোন সংকটে অসহায় মানুষের পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। গতকাল সোমবার দুপুরে টিএসসিতে ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও করোনার এই দুর্যোগে গত ১০০ দিন ধরে অসহায় ভাসমান মানুষকে প্রতিদিন ২ বেলা খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে মন্ত্রী নিজের বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা জানেন, দুর্যোগে সবার আগে আসহায় মানুরে পাশে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। জন্ম লগ্ন থেকে আজ অবধি বিগত ৭০ বছর মানুষের পাশে থেকে আস্থা অর্জন করেছে মাটি ও মানুষের দল আওয়ামী লীগ। সংকটে মানুষের পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয়াই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। তিনি বলেন, সংকটে সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন রাত পরিশ্রম করছেন। সংকটকালে মানুষের জীবন এবং জীবিকার সুরক্ষায় বিশেষগুরুত্বের সাথে কথা বলে, মতামত নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, করছেন সমন্বয়। তিনি আমাদের আশার বাতিঘর। তাঁর নেতৃত্বে সকলের সহযোগীতায় আমরা এ সংকট কাটিয়ে উঠব ইনশাাল্লাহ। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করোনা কালে জীবনের মায়াকে তুচ্ছ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এজন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অধিক সংখ্যক করোনায় আক্রন্ত হয়েছে। একই সাথে কেন্দ্রীয় কমিটির ৬ জন নেতা, মন্ত্রীসভার সদস্য, দলীয় সংসদ সদস্যসহ দেশে বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী আক্রন্ত হয়েছে এবেং কয়েকজনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধিরা এ পর্যন্ত ১ কোটি ২৫ লাখেরও বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি ১০ কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। এছাড়াও করোনা প্রতিরোধে চশমা,মাস্ক,পিপিই,সাবান, সেনিটাইজার, স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় জীবনে যে কোন ত্যাগে তরুণরাই এগিয়ে আসে। তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা মানুষের মধ্যে সাহস যোগাবে। আমি তরুণ, যুবক, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে জন মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানাচ্ছি। কর্মহীন হয়ে পরা ঢাকা শহরের ভাসমান মানুষের জন্য নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আজকে ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দেওয়া কথা বলা হয়, কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছে যাদের কোন ঘর নেই। সামনের দিন গুলোতে এই শহরে খোলা আকাশের নিচে বাস করে,যারা ফুটাপাতে বাস করে, যাদের বসবাস রেলস্টেশনে, টার্মিনালে, ফ্লাই ওভারের নিচে এই ভাসমান মানুষদের সাহায্যে ছাত্রলীগের এই তরুণরা এগিয়ে আসবে বলে আশা রাখছি। এদের কোন তালিকা নেই। এদের তালিকা আপনাদেরই তৈরি করতে হবে। ১০০ দিন শেষ হবার পরেও এই ভাসমান মানুষদের সাহায্যার্থে আপনারা নতুন কর্মসূচি নেবেন। চিকিৎসা ব্যবস্থায় সমন্বয় গড়ে তোলার আহাবান জানিয়ে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোর মাঝে সমন্বয় গড়ে তুলার কথা বলছি। অসহায় মানুষ রোগী নিয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়, কোথাও ঠাই পায় না। স্বাস্থ্য বিভাগকে আমি আবারও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। হাসপাতালে হাসপাতালে ছোটাছোটি করতে করতে অনেক রোগী পথিমধ্যেই মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। এটা অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক বিষয়।

রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত গণবিরোধী – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের ভ্রান্তনীতি ও অব্যবস্থাপনায় দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এমন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার ফলে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে প্রায় ৫৫-৬০ হাজার শ্রমিক কাজ হারাবেন। তাদের পরিবার এবং ৪০ লাখ পাটচাষি ও তাদের পরিবার, পাট ব্যবসায়ী মিলে মোট প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ চরম বিপাকে পড়বেন। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন পাটকলগুলো বন্ধের পরিকল্পনা করেছে সরকার। গত রোববার বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) কার্যক্রম পর্যালোচনা বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বলেন, বিজেএমসির ক্রমবর্ধমান লোকসানের কারণে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে বিদায় দেওয়া হবে। যাদের চাকরি স্থায়ী তারাই কেবল এ সুবিধা পাবে। মাস্টাররোল ভিত্তিক কর্মচারীরা এ সুবিধা পাবে না। রিজভী বলেন, সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, ভুলনীতি এবং মাথাভারী ও অদক্ষ প্রশাসন লোকসানের জন্য দায়ী, শ্রমিকরা নয়। কারণ মৌসুমে জুলাই-আগস্ট মাসে পাটের দাম যখন ১০০০-১২০০ টাকা থাকে তখন পাট না কিনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যখন পাটের দাম ২০০০-২২০০ টাকা হয় তখন পাট কেনা হয় এবং চাহিদার চেয়ে কম পাট ক্রয় করা হয়। বিদেশে বাজার খোঁজা, পণ্যের বহুমুখীকরণ এসবই মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসিসহ প্রশাসনের কাজ। ফলে লোকসানের দায় কোনোভাবেই শ্রমিকরা নেবে না। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, করোনা ভাইরাস বিস্তারের পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। পাটশ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে আমরা এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি। রিজভী বলেন, করোনা নিয়ে সরকার প্রকৃত কোনো তথ্যই জনগণকে অবহিত করে না। আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিষয়ে সরকারিভাবে যেটি বলা হচ্ছে তা দেশ-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকার সত্যকে নিয়েই তাদের যত ভয়। কারণ সত্য প্রতিষ্ঠিত হলে অগণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী সরকারের মসনদ নড়ে যাবে। তাই তারা সত্যকে আতঙ্ক মনে করে। জবাবদিহিহীন সরকারের আমলে তাদের লোকেরা করোনা নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে।

বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষম হবো – অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস মহামারীকালে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরে আগামী অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে দেশের সব মানুষ এগিয়ে আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ও সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। এই বাজেটটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে আমাদের দেশের সকল মানুষ, যারা আমাদের প্রাণশক্তি। করোনাভাইরাস মহামারীর নজিরবিহীন সঙ্কটের মধ্যে ১১ জুন অর্থমন্ত্রী মোট পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন তাতে ৬৬ শতাংশ অর্থ রাজস্ব আয় থেকে যোগানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বরাবরই অনেক পিছিয়ে থাকে। মহামারীর কারণে তিন মাস ধরে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড প্রায় বন্ধ থাকার পাশাপাশি আগামী দিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিপুল এই রাজস্ব আয়ের বড় লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রচন্ড সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তিন মাস ধরেই ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির, শিল্প উৎপাদনও গতিহারা। আমদানি-রপ্তানি, রেমিটেন্সসহ অর্থনীতির সব সূচকই বাজে অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিদায়ী অর্থবছরেও রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যের চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে এনবিআর। তারপরও অর্থমন্ত্রী বাজেটের পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় নির্বাহের জন্য ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হিসেবে আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন, যার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের সেই সংশয় যে অমূলক নয় তা এরইমধ্যে অর্থমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট হয়েছে; আদতে বাস্তবতা মাথায় রেখে বিপুল রাজস্ব আদায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে অর্থমন্ত্রী বাজেটকে ‘মানুষ রক্ষা করার’ বাজেট হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সেই চিন্তা থেকেই আমরা প্রথমে টাকা খরচ করব; পরে আয় করব। আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে। তারপর টাকা জোগাড় করব। বাজেট বাস্তবায়নে আশাবাদী হওয়ার যুক্তি তুলে ধরে গতকাল সোমবার অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে আমরা বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম, আমাদের প্রকৃত অর্জন প্রতি বছরই তার চাইতে বেশি ছিল। বিগত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ যা বিশ্বে সকলের উপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চায়না ১৭৭ শতাংশ নিয়ে এবং ভারত ১১৭ শতাংশ। গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে ৩ গুণ। দ্য ইকোনমিস্ট ২ মে ২০২০ তারিখে গবেষণামূলক একটি প্রতিবেদনে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে বাংলাদেশ রয়েছে নবম শক্তিশালী অবস্থানে। গত ১১ জুন এই মহান জাতীয় সংসদে আমরা বাজেট ২০২০-২০২১ উপস্থাপন করেছি, এর মাত্র সাত দিনের মাথায় গত ১৮ জুন ২০২০ তারিখে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশের একেবারে কাছাকাছি। এতেই প্রতীয়মান হয় আমরা বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। গতকাল সোমবার সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিডের কারণে যারা কাজ হারিয়েছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক, শ্রমিক, মজুর, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি, বেদে, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যান চালক, রিকশাওয়ালাসহ সব পেশার মানুষ, পান দোকান, চা দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র, কুটির ও ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ী, সকল শ্রেণি ও নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ, যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্য এ বাজেট। তিনি বলেন, কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত, ছোট রাখা যেত বাজেট ঘাটতিও। তবে আমাদের শিকড় হলো আমাদের কৃষি, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এজন্য কৃষি খাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভুত বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এ ক্রান্তিলগ্নে প্রাধিকার পেয়েছে দেশের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী এরই মাঝে তাদের জন্য লক্ষাধিক কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এবারের বাজেটে সঙ্গত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতকে। স্বাস্থ্যখাতে আগামী অর্থবছরে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট প্রণয়নের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের শিকড়ের সন্ধানে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের শিকড় হলো আমাদের কৃষি, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এজন্য কৃষি খাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যেখান থেকে এখনও আমাদের শতকরা ৪০ ভাগের মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এই কৃষি খাতই হতে পারে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক মৌলিক এলাকা। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অনেকের খাদ্যের যোগান দিতেও সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কিন্তু আমরা বাজেট বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে আমরা বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম আমাদের প্রকৃত অর্জন প্রতি বছরই তার চাইতে বেশি ছিল। গত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ যা বিশ্বে সকলের উপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চায়না ১৭৭ শতাংশ নিয়ে এবং ভারত ১১৭ শতাংশ। গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপি’র আকার বেড়েছে ৩ গুণ। মুস্তফা কামাল বলেন, দ্যা ইকোনমিস্টের গবেষণামূলক একটি প্রতিবেদনে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে বাংলাদেশ রয়েছে ৯ম শক্তিশালী অবস্থানে। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছে ৭.৫ শতাংশ যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮.২ শতাংশের একেবারে কাছাকাছি। এতে প্রতীয়মান হয় আমরা বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। অর্থমন্ত্রীর আগে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাজেটের ওপর বক্তৃতায় আর্থিক প্রস্তাবে পবির্তন আনার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রধানমন্ত্রী কিছু বিষয় বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। পরে সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে কিছু পরিবর্তন আসে। তবে এবার তা ঘটেনি।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিরক্ষা সচিবের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান তিনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিনা হক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অতিরিক্ত সচিব বলেন, তিনি (প্রতিরক্ষা সচিব) করোনা আক্রান্ত হয়ে অনেকদিন ধরে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী স্ত্রী এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ও কবি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর ছোট ভাই। আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীকে গতকাল সোমবার বাদ আসর বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গত ২৯ মে করোনা পজিটিভ নিয়ে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি হন প্রতিরক্ষা সচিব মোহসীন। এরপর ৬ জুন ওই হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেওয়া হয় তাকে। ১৮ জুন থেকে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়। আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর ছোট ভাই।

রাষ্ট্রপতির শোক: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় তিনি মোহসীন চৌধুরীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধান বিচারপতির শোক: করোনায় আক্রান্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। গতকাল সোমবার এক শোকবার্তায় প্রধান বিচারপতি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

প্রতিমন্ত্রীদের শোক: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে। গতকাল সোমবার পৃথক পৃথক শোকবার্তায় সিনিয়র সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন ও সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

কুষ্টিয়ায় মোবাইল ব্যবসায়ী খলিলকে প্রাননাশের হুমকি, থানায় জিডি

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার এনএস রোডস্থ মোবাইল  ফোন ব্যবসায়ী জুসি এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল খলিল মলি¬ককে একদল ভুমি দস্যু হত্যার হুমকি দিয়েছে।  হুমকির ঘটনায়  ওই ব্যবসায়ী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। ডায়েরী নং -১৫৭৫ তাং ২৮/৬/২০২০ ইং। জিডি সূত্রে জানাযায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মাগুরা মৌজায় পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে একটি পুকুরসহ ৩৩ শতক জমির মালিক ব্যবসায়ী আব্দুল খলিল। ব্যবসায়িক ও পারিবারিক কারণে তিনি বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরে বসবাস করেন। তার সত্ত্বদখলীয় ও ভোগকৃত জমির উপর দৃষ্টি পড়ে তার আপন ভাইসহ একদল ভূমি দস্যুর। ওই ভূমির জবর দখল নিতে মিরপুর আজমপুর গ্রামের আব্দুল ওহাব, পিতা মৃত সামসুদ্দিন, মজিবর মলি¬ক পিতা মৃত মকবুল মলি¬ক ও মেহেদী হাসান পিতা মৃত ফইজুদ্দিন চৌধুরী নানা অপচেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে তারা জমির মালিক আব্দুল খলিলকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন,জমিতে আসতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এছাড়া জমির উপর আসলে হাত-পা ভেঙ্গে প্রাননাশের হুমকিও দেয়া হয়। এরআগে চলতি বছরের গত ২৯ মে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে খলিলের পুকুরে বিষাক্ত বিষ ঢেলে দিয়ে মাছ নিধন করে। মোবাইল ফোনের ০১৭৩২৬১১৯৯৭ নম্বর থেকে কল করে আব্দুল খলিলকে হুমকি দেয়া হয় বলে জিডিতে উলে¬খ করা হয়। এতে মোবাইল ব্যবসায়ী খলিল ও তার পরিবারের সদস্যরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনসহ প্রতিকার চেয়ে আব্দুল খলিল মিরপুর থানায় জিডি করেন। মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, জিডি গ্রহনের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কেউ রেহাই পাবে না বলে ওসি জানান।

চুয়াডাঙ্গায় মুজিব জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গর্ভবতী মায়েদের চিকিতসায় সেনাবাহিনী

করোনা মোকাবেলায় শুরু থেকেই মানবতার মহান ব্রত নিয়ে অসহায়, দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে  দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও ত্রাণ বিতরণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। গতকাল ২৯ জুন সোমবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের চিকিৎসক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এর নির্দেশনায় গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা নিতে আগত গর্ভবতী মায়েদের মাঝে বিনামূল্যে শুকনো খাবার, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করেন সেনা সদস্যরা। ক্যাম্পেইন পরিচালনাকারী যশোর সেনানিবাসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, উন্নত জাতি গঠনে সুস্থ্য মা প্রয়োজন। তাই মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই আয়োজন। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা নিতে  বেগ পেতে হচ্ছে। তাই এই মূহুর্তে গর্ভবতী মায়েদের করনীয় কী, পরিবার পরিকল্পনা পরামর্শ এবং কি কি সচেতনতা তাদের অবলম্বন করা প্রয়োজন এই সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য আমরা তাদেরকে জানানোর চেষ্টা করছি। আমাদের বিশ্বাস এই যৌথ চিকিৎসা সেবায় গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা হলেও মিটবে। আর তাতেই মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর এই আয়োজন সফল হবে। এছাড়াও করোনা প্রতিরোধে ত্রান বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি  মেনে গণপরিবহন চলাচল তদারকি, সাধারণ মানুষকে মাইকিং করে নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিবিধ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। অন্যদিকে আম্পান মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি এবং খুলনার কয়রার উপকূলীয় এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বাঁধ নির্মানের কাজ। আম্পানের প্রভাবে উপকূলীয় সাতক্ষীরা এবং খুলনায় পানিবন্দী শত শত অসহায় মানুষের মাঝে সুপেয় পানি ও ত্রান সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থদের ঘরবাড়ী মেরামতসহ সিমেন্ট সীট বিতরণ, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা প্রদানসহ নানাবিধ জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা।

প্রকাশিত সংবাদে তালবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিবৃতি

কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় গত ২৯ জুন ২০২০ইং তারিখে প্রথম পৃষ্ঠায় “অনিয়ম-দুর্নীতির কারখানা তালবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ভাতা কার্ডের ৬০ হাজার টাকা সচিব ও চেয়ারম্যানের পকেটে” প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদে উলে¬খিত কোন ঘটনা সত্য নয়, বানোয়াটে এবং অনৈতিক দাবী আদায়ে ব্যর্থ গুটি কয়েক মেম্বরের দেয়া মনগড়া বিভ্রান্তকর তথ্য। আমাকে সমাজে ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। এতে করে শুধুমাত্র আমার নয় মিরপুর উপজেলার সেরা ইউনিয়নখ্যাত তালবাড়ীয়াকেও হেয় করা হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের কাছ থেকে ব্যাংক একাউন্টের নামে তিনশত টাকা করে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা উলে¬খ করা হয়েছে তা শুধুমাত্র বিভ্রান্তকর ছাড়া আর কিছুই না। কোন ভুয়া তালিকা ও নিজের লোক অন্তভূক্ত করা হয়নি। সংবাদে যেসব মেম্বরের বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে তারাই এধরনের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। সচিব ও আমি জড়িত নয়, এমনকি এসব ঘটনা আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন কোনদিনই ঘটেনি। আমি ইউনিয়নের দুস্থ, অসুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের কন্যা দায় এবং বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়মিতভাবে আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অনুদান ও সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে আসছি। করোনার শুরু থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত হতদরিদ্র ও কর্মহীন ১৪শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও ঈদে ১ হাজার পরিবারের মাঝে আমি ব্যক্তিগতভাবে বস্ত্র বিতরণ করেছি।  এ কারণে সংবাদে উলে¬খিত টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স¤পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অপ্রাসাঙ্গিক। নিয়মিতভাবেই মেম্বররা তাদের সম্মানী ভাতা পেয়ে আসছেন। ইউনিয়নের কোন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং সাহায্য সহযোগিতা প্রদান মেম্বরদের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন দিনই হয়নি। কেউ কেউ তাদের অনৈতিক দাবী আদায় না করতে পরে সাংবাদিকদের কাছে আমার বিরুদ্ধাচারণ ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছে। আমি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মোঃ হান্নান মন্ডল

চেয়ারম্যান

৩নং তালবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ

মিরপুর, কুষ্টিয়া।

কুমারখালীতে পদ্মার ভাঙনে হুমকীর মুখে রবীন্দ্র কুঠিবাড়িসহ কয়েকটি গ্রাম

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এবার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আর এই নদী ভাঙনে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ীসহ কয়েকটি গ্রাম। রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী ও পার্শ্ববর্তী এলাকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প’ নামে  প্রায় দুইশো কোটি টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এরপরও রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী ভাঙন ঝুঁকিতেই রয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, পদ্মা নদীর ভাঙনে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ ফাঁকা রেখে নির্মাণ করা হয়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধ। এবার বর্ষার শুরুতেই পদ্মা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় ওই প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়েই  দেখা দিয়েছে ভাঙন। কোমরকান্দি গ্রামের গ্রামের জালাল সর্দারের বাড়ি থেকে জলা প্রামাণিকের বাড়ি পর্যন্ত বাঁধ নদীতে ধ্বসে পড়ছে। একরণে ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছে এলাকাবাসী।  কোমরকান্দি গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা তজিমদ্দিন (৮০) জানান, পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে এই জীবনে বেশ কয়েকবার বসতবাড়ি স্থানান্তর করেছি। কিন্তু জীবনের এই শেষ সময়ে এসে নদী ভাঙন নিয়ে খুবই আশঙ্কায় আছি। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধ নির্মাণ করা না হলে সাধারণ মানুষের বড়িঘর সহ ফসলি জমি ও এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নদীতে চলে যাবে।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, শুধু বর্ষা মৌসুম এলেই নদী ভাঙন নিয়ে দৌড়াদৌড়ি না করে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত শুষ্ক মৌসুমে এ বিষয়ে পরিকল্পনা সহ প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি আরো বলেন, এখানে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি সুরক্ষায় বৃহৎ একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও কুঠিবাড়িটি অরক্ষিত রয়েই গেছে। আর এ বিষয়ে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান মো: সালাহ্উদ্দিন খান তারেক জানান, নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরীভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া না হলে অচিরেই শিলাইদহের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়িসহ ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিনের আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে রবীন্দ্র কুঠিবাড়ীও ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান, রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি রক্ষা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা রক্ষায় পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণে বিপুল অংকের টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও শিলাইদহের কোমরকান্দি এলাকার দেড় কিলোমিটার অংশে বাঁঁধ নির্মাণ করা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীবুল ইসলাম খান জানান, পদ্মার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন সহ ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয়ের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে প্রয়োজনে অন্যত্র সরিয়ে নিতে ইউনিয়ন পরিষদকে বলা হয়েছে। এদিকে, কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, শিলাইদহের কোমরকান্দি এলাকা নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেই সাথে ভাঙন প্রতিরোধে নেয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী।

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ যুবক গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥  র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল গতকাল ২৯ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার সময় কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর বাহউদ্দিন সড়ক গ্যাদা পট্টি কমলকৃঞ্চ পোদ্দারের বাড়ীর সামনে ইটের সলিং রাস্তার উপর’’ একটি মাদক অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ২৪ বোতল ফেন্সিডিল, ১টি মোবাইল ফোন, ১টি সীমকার্ডসহ রাতুল মন্ডল (১৯) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। রাতুল মন্ডল  পূর্ব মজমপুর বাহউদ্দিন সড়ক গ্যাদা পট্টির মহিদুল মন্ডলের ছেলে। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ  গ্রেফতারকৃত রাতুল মন্ডলের বিরুদ্ধে মডেল থানায় মাদক মামলা দায়ের করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

দৌলতপুরে সরকারী দপ্তরে হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব করোনা প্রতিরোধক সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও টিস্যুবক্স বিতরণ করেন দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। এসময় দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী, দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার উদ্দিন জোয়ার্দ্দারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যেকোনও সংকট শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে

ঢাকা অফিস ॥ আগামীতে দেশের সামনে যে সংকটই আসুক না কেন আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ভাষণ দেওয়ার সময় এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। এসময় করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে দেশের সামনে যে সংকটই আসুক না কেন আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করবে। দেশে কোনো সংকট হতে দেবে না। আমরা বাজেট বাস্তবায়নে অতীতে ব্যর্থ হইনি, ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবো না। আমরা কখনও হতাশায় ভুগি না। যে বাজেট দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে আমরা সক্ষম হবো। সংসদ নেতা বলেন, অনেকে বলছেন বাজেট একটু বেশি আশাবাদি, বা উচ্চাভিলাষি। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, সবসময় আমাদের একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। আজকে কোভিড-১৯ এর জন্য সবকিছু স্থবির। তবে, আমরা আশাবাদী যে, এ অবস্থা থাকবেনা। এর থেকে উত্তরণ ঘটবে। আজকে যদি হঠাৎ সে অবস্থার উত্তরণ ঘটে যায়, তাহলে আগামীতে আমরা কি করবো, সেটা চিন্তা করেই এই পদক্ষেপটা আমরা নিয়েছি। দেশে পর্যাপ্ত চালের মওজুদ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সে সংকটই আসুক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে বলেও এ সময় দেশবাসীকে আশ^স্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যে সাময়িক প্রয়োজন উদ্ভূত হয়েছে তা মেটানো এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়-ক্ষতি সৃষ্টি হবে তা পুনরুদ্ধারের কৌশল বিবেচনায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭তম এবং বর্তমান মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সরকার পরিচালনা করেছিলেন সেখানে তিনটি বাজেট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সে হিসেবে এটি আওয়ামী লীগের ২০তম বাজেট। যেটি আওয়ামী লীগ সরকার এদেশকে উপহার দিয়েছে। তিনি বলেন, এ বাজেটে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জীবন ও জীবিকা রক্ষার উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসৃজন ও সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-৪১) অনুমোদন করেছে। যার মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উত্তরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, আমরা আগামী অর্থবছর হতে ৫ বছর মেয়াদি ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো যার মূল প্রতিপাদ্য হবে দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য কমিয়ে এনে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। শেখ হাসিনা বলেন, হয়তো তখন আমরা বেঁচে থাকবো না, কিন্তু কাজ আমরা করে যাচ্ছি, কর্মপন্থা দিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে যারা আসবে তারা যেন এটা অনুসরণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ বিগত ১২ বছরে গড়ে ১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য বিমোচনে সক্ষম হলেও কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে চলতি অর্থবছরে এ ধারায় কিছুটা হয়তো ছন্দপতন হতে পারে। তিনি বলেন, এ মহামারির কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম থমকে যাওয়ার প্রভাবে আমাদের দেশে দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাসকারি মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকে করেছেন। তিনি বলেন, কিন্তু অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আমরা যে সুবিশাল আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করে বাস্তবায়ন শুরু করেছি, তার মাধ্যমে আমরা এ সম্ভাবনাকে অনেকটাই রোধ করতে সক্ষম হবো বলে আমি বিশ^াস করি। চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ১১ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৮ লক্ষ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে যা গত বোরো মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশবাসীকে এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই যে, সামনে যে সংকটই আসুক না কেন, আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবেলা করবে এবং দেশের কোন মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেবে না। কারণ আমাদের খাদ্য চাহিদা ৩ কোটি ৭৫ লাখ মেট্রিক টন সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৯৯ লাখ মেট্রিক টন। ২৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত রয়েছে এবং এই উৎপাদন আমরা অব্যাহত রাখবো। কাজেই আল্লাহর রহমতে আমাদের কোন অসুবিধা হবেনা, যোগ করেন তিনি। বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এবং সরকার দলীয় জেষ্ঠ্য সাংসদ বেগম মতিয়া চৌধুরীও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলা এবং এর অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা গতানুগতিক বাজেট হতে সরে এসে সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। স্বাস্থ্য খাতকে এবার সর্বাপেক্ষা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, এবং করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে জনজীবনকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস এ- রেসপন্স প্ল্যান প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন আরম্ভ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জরুরি চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বরাদ্দের দিক দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অবস্থান পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে যা গত অর্থবছরে ছিল অষ্টম স্থানে, যোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত অল্প সময়ে ২ হাজার ডাক্তার ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছে। আরও ২ হাজার ডাক্তার ও ৪ হাজার নার্সের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাদের শীঘ্রই নিয়োগ দেওয়া হবে। হেল্থ টেকনোলজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার এবং ল্যাব এটেনডেন্টের ৩ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এ পর্যন্ত তার সরকার ঘোষিত প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজের পুনরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখারও দৃঢ় প্রত্যয় পুণর্ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতার বক্তৃতার সঙ্গে একমত পোষণ করে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা কি করে হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখানে বিরোধী দলের উপনেতা ঠিকই বলেছেন, থাকা-খাওয়া বাবদ মেডিকেল কলেজের হিসেব অনুযায়ী ২০ কোটি টাকা ব্যয় একটু বেশিই মনে হচ্ছে। তবে, এটা আমরা তদন্ত করে দেখছি, এত অস্বাভাবিক কেন হবে। এখানে কোন অনিয়ম হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

দৌলতপুরে সরকারী আদেশ না মানায় ৩ দোকানদারের  অর্থদন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে করোনা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং সরকারী আদেশ অমান্য করায় ৩ দোকানদারকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদন্ড করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল সোমবার বিকেলে দৌলতপুর থানা বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে এ অর্থদন্ড করেন। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, সরকারী আদেশ অমান্য করে দৌলতপুর থানা বাজারে দোকান খোলা রাখার দায়ে মুদি দোকানসহ ৩ দোকানদারকে ১৮৬০ সনের দন্ডবিধি ২৬৯ ধারায় অর্থদন্ড করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আক্তার। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, সরকারী আদেশ না মেনে বিকেল ৫টার পরও দোকান খোলা রাখার অপরাধে ৩টি মামলায় ৫হাজার ৫০০ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। একইসাথে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরেছেন করোনা জয়ী কুষ্টিয়ার ডিসি আসলাম হোসেন

নিজ সংবাদ  ॥ সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরেছেন করোনা জয়ী কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। দীর্ঘ ২৩দিন সংগ্রাম করে করোনাযুদ্ধে জয়ী হয়ে নিজ কর্মস্থলে ফিরেছেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। গতকাল ২৯ জুন  সোমবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তিনি নিজ অফিস কক্ষে আসেন। এ সময় সহকর্মী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ খুশিতে ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে  বরণ করে  নেন। যদিও আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় তিনি অফিসিয়াল কাজে শারিরীকভাবে উপস্থিত না থাকলেও ভার্চুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বসময় সহকর্মীদের সাথে থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

করোনাজয়ী জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন তার করোনা জয়ের অনুভুতি প্রকাশ করে বলেন, গত ৬ জুন হঠাৎ অসুস্থ্য বোধ করায় তাৎক্ষনিক পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করলে কোভিড-১৯ সনাক্তের ফলাফল পজেটিভ আসে। সে দিনই তিনি নিজ সরকারী বাসভবনে আইসোলেটেড কক্ষে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ শুরু করেন। পরে নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসায় চিকিৎসকরা তাকে করোনমুক্ত  ঘোষণা করেন। এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে তিনি মহান আল¬াহর উপর ভরসা রাখেন এবং  কঠোর মনোবল শক্তি বজায় রেখে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরন করেন। পাশাপাশি ঘরোয়া মসলা জাতীয় উপাদানসহ গরম পানির উষ্ণতা নেয়ায় সুফল পেয়েছেন।

তিনি তার সহকর্মী সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমার সহকর্মীরা প্রকৃত অর্থেই ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কাজ করছেন। করোনা সংকট মোকাবিলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্রশাসনিক নানাবিধ কাজকর্ম, সর্বক্ষনিক মনিটরিং ছাড়াও মৃতদের লাশ দাফনের কাজও তাদের করতে হচ্ছে। তবুও বলি আতংকিত হবার দরকার নেই, আমরা যেহেতু ধর্ম মানি, সে কারণে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা রেখে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষের আয়ু যেহেতু আল¬াহ তায়ালা নির্ধারন করেছেন, সেটা মাথায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে কাজকর্ম করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কিছু চিকিৎসাগত বিষয় আছে সেটি গ্রহণ করবেন। এছাড়া চিকিৎসার বাইরেও কিছু নিজস্ব চিকিৎসা আছে যেমন গরম পানির ভাপ নেয়া, ফুসফুসের এক্সাসাইজ করা, রোদে থাকা, কিছু মসলা জাতীয় জিনিস দিয়ে গরগরা করা। এরকম কিছু টোটকা ব্যবস্থা এর থেকে উপসমে বেশ ফলপ্রসু মনে হয়েছে। তবে দৃঢ় মনোবল বজায় রাখাটা অতি জরুরী। সেই সাথে প্রয়োজনীয় ক্যালরী বা পুষ্টির যোগানে খাওয়া-দাওয়াটা সঠিক নিয়মে করতে হবে। বিশেষ করে  প্রোটিন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাদ্যসহ টাটকা ও গরম খাবার গ্রহন করতে হবে। এই ভাইরাস আক্রান্তদের যদি মারাত্বক শ্বাসকষ্ট না থাকে তাহলে এর থেকে পরিত্রানে খুব বেশী উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জেলা প্রশাসক মো: আসলাম  হোসেন কুষ্টিয়া জেলার করোনা প্রাদুর্ভাব ও আক্রান্ত  রোগীদের বিষয়ে বলেন, জেলায় যারা আক্রান্ত রোগী আছে তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় যথাযথ কাউন্সেলিং না থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলা তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে।  সেজন্য জেলা প্রশাসন চিন্তা করছে একটা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করতে চাই। তারা যাতে ডাক্তারদের পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসাই কি কি করা লাগতে পারে এসব বিষয় সহজবোধ্য করে বিশদভাবে তাদের বুঝিয়ে দেবেন। যদিও  দেশের আরও অন্যান্য জেলার তুলনায় হয়ত আক্রান্তে তুলনামুলকভাবে কম তবুও আমাদের আত্মতুষ্ট হওয়ার কোন কারণ নেই। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো এটিকে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসা। সেজন্য যে যেখানে আছেন সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি  মেনে চলুন, ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন।

করোনায় দেড় হাজার সাংবাদিককে অনুদান দেয়া হচ্ছে – সংসদে তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করা সাংবাদিকদের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার তার বর্ণণা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তথ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে একহাজার পাঁচশত সাংবাদিককে এককালীন দশ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে শহীদুজ্জামান সরকারের (নওগাঁ-২) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এর আগে বেলা ১১টা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের মুলতবি বৈঠক শুরু হয়। পরে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপন করা হয়। হাছান মাহমুদ আরও বলেন, পরবর্তী পর্যায়ে আরও সাংবাদিককে এ অনুদান দেয়া হবে। এছাড়া, এই ট্রাস্টের মাধ্যমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের মাঝে তিন কোটি দশ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া হয়েছে। মহামারি করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য স্থাপিত গণমাধ্যম কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী যথা-হ্যান্ড ওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিস্যু পেপার ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যাতে অগ্রাধিকাভিত্তিতে করোনা টেস্ট করতে পারেন সেজন্যও নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সাংবাদিকরা যাতে অগ্রাধিকারভিক্তিতে চিকিৎসা সেবা পান সেজন্যও নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আনোয়ারুল আবেদীন খানের (ময়মনসিংহ-৯) প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ৪৫টি। বর্তমানে ৩০টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সম্প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। নতুন লাইসেন্সের ব্যাপারে প্রয়োজনের নিরিখে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

কালো টাকা সাদা করার বিধান রেখে সংসদে অর্থ বিল-২০২০ পাস

ঢাকা অফিস ॥ কালো টাকা সাদা অর্থাৎ অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিধান রেখে অর্থবিল-২০২০ পাস হয়েছে সংসদে। আগে কালো টাকা তিন বছর বাজারে রাখার যে শর্ত ছিল এটি এবার এক বছরে কমিয়ে আনা হয়েছে। কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, দালান নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ গত অর্থবছরই ছিল। কিন্তু এবার এর ক্ষেত্র আরো বাড়ানো হয়েছে। তবে বরাবরের মতোই এসবের জন্য নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হবে। গতকাল সোমবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ ছাড়া বিলে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অর্থাৎ বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২০ পাস হয়েছে। প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি, তাই অর্থ বিলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। এই প্রথম প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো রকম পরিবর্তনের ঘোষণা না দিয়েই অর্থ বিল জাতীয় সংসদে পাসের জন্য অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল সোমবার সকালে সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হলে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। পরবর্তীসময়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন। এর আগে জাতীয় সংসদের সরকারি ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা অর্থ বিলের বিভিন্ন অংশের সংশোধনী প্রস্তাব এনে বক্তব্য রাখেন। সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশিদ, মুজিবুল হক, আবুল হাছান মাহমুদ আলী, আলী আশরাফ, মশিউর রহমান রাঙার অর্থ বিলের ওপর আনা কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী। আজ মঙ্গলবার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে। এবং আগামীকাল ১ জুলাই, বুধবার থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা অনেক স্ট্যাডি করে অর্থ বিল-২০২০ এর উপর বিভিন্ন সংশোধনী এনেছেন। আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। যে সংশোধনীগুলো গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো হলো- সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান অর্থ বিলের দফা-৮, ১৬ এবং ৫৪ এর সংশোধনী প্রস্তাব। সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ অর্থবিলের দফা- ৮, ১৬, ১৮, ৫৪ এর সব সংশোধনী প্রস্তাব। এছাড়া সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক অর্থ বিলের দফা-১৭, ১৮, ৩৯, ৪৩ এবং তফসিল ২ এ যে সব সংশোধনী প্রস্তাব। সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলীর অর্থ বিলের দফা-১৮ এবং ৫১। সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ অর্থ বিলের দফা-৫৪, ৬২, ৭০, ৭১ এবং সংসদ সদস্য মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা অর্থ বিলের দফা-১৫, ৭৩, ৭৬, ৮০, ৮১ তে যে সব সংশোধনী এনেছেন সেগুলো গ্রহণ করেছি। পরবর্তীসময়ে এগুলো ভোটে দিলে তাও কণ্ঠভোটে পাস হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে সারা বিশ্ব একটি ক্রান্তিকাল পার করছে যেখান থেকে আমরাও পরিত্রাণ পাইনি। পৃথিবীর অর্থনৈতিক এলাকায় সময়টি একটি অস্বাভাবিক সময়। স্বাভাবিক সময় হলে আমরা সদস্যদের প্রস্তাবনার অনেক কিছু বিবেচনা করতে পারতাম। কিন্তু এবারের পরিস্থিতির সার্বিক বিবেচেনায় সদস্যদের আনা বাকি সংশোধনী প্রস্তাবগুলি গ্রহণ করতে পারলাম না বলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এবারের বাজেট মানুষের জন্য, তাই সব জেনেশুনেই আমরা কঠিনকে ভালোবেসেছি। আমরা বিশ্বাস করি এবারের বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষম হবো। তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন কিছু নয়। অতীতের সব বাজেটই বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এবারের বাজেটও সরকার বাস্তবায়নে সক্ষম হবে। গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপির ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন- জিডিপিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ। রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ শতাংশ।

 

প্রথম দিকে ভেঙ্গে পড়লেও এখন মনোবল চাঙ্গা

কুষ্টিয়ায় পুলিশের আক্রান্ত ৩৪ সদস্যের মধ্যে ২৬জন সুস্থ হয়ে কাজে ফিরছেন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় গত মাসে মিরপুর উপজেলার একটি ক্যাম্পের এক সদস্যের করোনা ধরা পড়ে। এরপর তিনি হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হয়ে কয়েকদিন পরেই সুস্থ হয়ে কাজে যোগদেন। এরপর এক সাথে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে ১৩ সদস্যের করোনা সনাক্ত হয়। এরপর পুলিশ সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি অফিসাররাও চিন্তাই পড়ে যান। এ অবস্থায় পুরো টিমকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে ফেলা হয়। এরপর সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪জন সদস্য করোনা আক্রান্ত হলেও ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৬জন। এ অবস্থায় সবার মধ্যে মনোবল ফিরে এসেছে। আক্রান্ত আগের থেকে কমে গেছে।

গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে সুস্থ হওয়ায় ১৭ সদস্যকে ফুল দিয়ে উপহার জানান পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। তিনি ধৈর্র্য ধরে চিকিৎসা নেয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান। সুস্থ হওয়া সদস্যরা আপাতত আরো ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের কাছে কিছুদিন কাটিয়ে কাজে যোগ দিবেন। এ সময়টাতে সাবধান থাকাসহ ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য সামগ্রী খাওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, আজাদ রহমান ও আতিকুর রহমান আতিক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বলেন,‘  এক সাথে ১৩ সদস্যের করোনা সনাক্ত হওয়ার পর কিছুটা উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। এরপর চলাফেরা ও থাকার বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হয়। এরপর আল্লাহর রহমতে আক্রান্ত কমে এসেছে। এখন ২৬জন স্স্থু হয়েছেন। আর আইসোলেশনে আছেন ৮জন। এর মধ্যে ২জন এসআই, ৫জন এএসআই, বাকিরা কনেস্টবল। এর মধ্যে দুই নারী সদস্য আগেই সুস্থ হয়েছে।

প্রথম ৯ সুস্থ হওয়ার এক যোগে ১৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি সবার মধ্যে মনোবল বাড়িয়েছে। সবাইকে আপাতত কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ কুষ্টিয়া পুলিশের যেসব সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের জন্য হাসপাতালেই উন্নত পরিবেশে রাখা হয়েছিল। তাদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। মনোবল যাতে না ভেঙ্গে পড়ে যে বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত আমরা তাদের গাইড লাইন দিয়ে এসেছি। তাদের কোন অভাব বুঝতে দেয়নি। আলহামদুলিল্লাহ, ২৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে। বাকিরাও সুস্থ হওয়ার পথে। আর আক্রান্ত যাতে না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন আক্রান্ত নেই বললেই চলে।