মাস্ক পরা দেখে সাংবাদিকরা মজা নিক, চান না ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারির চরম হানা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই ছিলেন মাস্ক পরার বিরোধী। শেষপর্যন্ত কাছের মানুষজন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় কিছুটা ‘সোজা হয়েছিলেন’ তিনি। হোয়াইট হাউসে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করেছিলেন মাস্ক ব্যবহার। তবে সময়ে সময়ে সেই বাধ্যবাধকতা মানছেন না নিজেই। বৃহস্পতিবার মিশিগানে সাংবাদিকদের সামনে গিয়ে মাস্ক খুলে ফেলেন ট্রাম্প। জানালেন, মুখ ঢেকে এভাবে ছবি তোলা পছন্দ নয় তারা। এ ছাড়া মাস্ক পরা দেখে সাংবাদিকরা মজা নিক, তাও চান না তিনি। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির। বৃহস্পতিবার মিশিগানে গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফোর্ডের কারখানা পরিদর্শনে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফোর্ডের এ কারখানায় এখন করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ব্যবহার হবে এমন ভেন্টিলেটর তৈরি করছেন শ্রমিকরা। কারখানাটি পরিদর্শনের সময়ে ট্রাম্প মাস্ক পরলেও সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাস্ক খুলে হাতে নেন তিনি। সাংবাদিকেরা তার মুখে মাস্ক না থাকার কারণ জানতে চাইলে প্রকাশ্যে এই মাস্ক ব্যবহারের পেছনে আজব যুক্তি দেখান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি এটা পরেছিলাম। পেছনের জায়গাগুলো ঘুরে দেখা সময় পরেছিলাম।’ ট্রাম্প বলেন, ‘করোনাভাইরাস ঠেকাতে অবশেষে আমি মাস্ক বিদ্বেষ কাটিয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু আমি মাস্ক পরে মিডিয়ার সামনে যেতে চাই না। ছবি তুলতে চাই না। আমি চাইনি সাংবাদিকরা এটি পরা দেখে মজা নিক।’ এ সময় নিজের হাতে থাকা কালো রঙের একটি মাস্ক  সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে আমার মাস্ক। এটি আমি বেশ পছন্দ করেছি। সত্যি বলতে কি, আমি মনে করি মাস্ক পরলে আমাকে আরও ভালো দেখায়। তবে আমি এখন যেহেতু মিডিয়ার সামনে কথা বলতে এসেছি, তাই এটা পরিনি। আমার ধারণা, আপনারা অনেকে এর ছবিও তুলেছেন।’ এই পরিদর্শনে আসার আগে অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাম্পকে মাস্ক পরতে অনুরোধ করেছিলেন। তাছাড়া ফোর্ডের চেয়ারম্যান বিল ফোর্ডও তাকে কারখানার ভেতরে জোরাজুরি করে মাস্ক পরিয়েছেন। বিষয়টি স্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে এটি পরতে বলা হয়েছিল। আমি এটি পরেও ছিলাম। মাস্ক বেশ ভালো। পরা থাকলেও ভালো লাগে।’ প্রসঙ্গত, হোয়াইট হাউসে করোনা নিয়ে ব্রিফিংয়ের সময়ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাস্ক পরেন না। তাকে সমর্থনকারী কট্টরপন্থী আমেরিকানরাও ট্রাম্পের দেখাদেখি মাস্ক পরতে অনীহা দেখান। করোনায় বিশ্বে শীর্ষ আক্রান্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত এবং ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

 

তালবাড়িয়ায় দুঃস্থদের মাঝে আরিফুল ইসলামের উদ্দ্যোগে বস্ত্র বিতরণ

নিয়ামুল হক ॥ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দুস্থ গরিব অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও তালবাড়িয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তালবাড়িয়ার নিজস্ব বাসভবনের সামনে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৩শতাধিক দুস্থ গরিব অসহায় পরিবারের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। সমাজসেবক আরিফুল ইসলাম জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরে সবাই আসা করে নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদ করতে তাই কিছু অসহায় মানুষের বস্ত্রের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। এর আগে করোনা পরিস্থিতে না খাওয়া প্রায় ১২শত মানুষের মাঝে ৪র্থ দফায় খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। এরপরেও সামর্থ অনুযায়ী মানুষের সেবাই থাকব ইনশাআল্লাহ। বস্ত্র বিতরণের সময় সমাজ সেবক ময়েন সর্দ্দার, আমতুল সর্দ্দারসহ সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বেঁচে থাকলে ঈদ উদযাপনের অনেক সুযোগ আসবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ ঈদ উদযাপনের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে অসহায় গরিব মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণের আগে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে একথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার এক ভিন্ন বাস্তবতায় ঈদ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঈদ উদযাপনের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে আমরা সবাই ঈদ উদযাপনের অনেক সুযোগ পাবো। তিনি বলেন, করোনাবিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন করি, স্থানান্তর না করি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে চলছে ঘূর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্বাসন কাজ। দুর্যোগ মোকাবিলায় অতীতের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষতার সাথে সাফল্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কোনও দুর্যোগে থেমে থাকেনি বাংলাদেশ, প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে মর্যাদার সাথে মাথা তুলে দাঁড়ানো এক দেশ বাংলাদেশ। করোনা সংকটে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ত্রাণ তৎপরতায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাটি ও মানুষের এ দল অতীতেও মানুষের সাথে ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। পরে অসহায় গরীবদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

করোনায় এক অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ ব্যাচের ছাত্র, অতিরিক্ত সচিব (পিআরএল ভোগরত) কৃষিবিদ তৌফিকুল আলম (৫৯) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের মহাসচিব কৃষিবিদ মো. খায়রুল আলম প্রিন্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এছাড়াও সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ জন মারা গেছেন। ফলে করোনায় মোট ৪৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৬৯৪ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০ হাজার ২০৫ জনে।

ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যাকারী পসির উদ্দিনের পরিবারের পাশে ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যাকারী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পসির উদ্দিনের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার ওই পরিবরাকে ঈদ উপহার ও আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফায়েল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর (দেহন) এলাকার হতদরিদ্র পসির উদ্দিন ঋণের টাকা শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন। সেই খবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দৃষ্টিগোচর হলে এই আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

কুষ্টিয়ায় ১০০ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে কালের কন্ঠ শুভসংঘের ঈদ উপহার বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুরে শহীদ মাহামুদ হোসেন সাচ্চু অটিজম-প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া শহরের হাউজিংএ কুষ্টিয়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়ের ১০০ ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে কালের কন্ঠ শুভসংঘ কুষ্টিয়ার উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকালে ঈদের উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়। এই উপহার সাগ্রীর মধ্যে ছিল চিনি, সেমাই, দুধ ও সাবান। কালের কণ্ঠের কুষ্টিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক তারিকুল হক তারিকের তত্বাবধানে এই ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণের সময় শুভসংঘ জেলা কমিটির সভাপতি নীলিমা বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শম্পা আফরিন, নারী বিষয়ক সম্পাদক মর্জিনা খাতুন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক যুথিকা রানী বিশ্বাসসহ শুভসংঘের অন্যান্য সদস্য এবং বিদ্যালয় দুটির প্রধান শিক্ষক যথাক্রমে লিখন আহম্মেদ ও আসমা মিরু ও হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সম্পা মাহামুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে শুভসংঘের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত এসব প্রতিবন্ধী ছেলেমেরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে দারুনভাবে উচ্ছসিত হয়। তারা শুভসংঘের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়।

মিরপুরে তফসির রিজিয়া সুলতানা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ তফসির রিজিয়া সুলতানা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মিরপুর উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া গ্রামে  করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে দীর্ঘদিন কর্মহীন হয়েপড়া গরীব, অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঈদ সামগ্রী বিতরনের উদ্বোধন করেন, মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তফসির রিজিয়া সুলতানা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান (ফরিদ), প্রধান উপদেষ্টা  মোঃ সুলতানুল ইসলাম। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মোঃ  তৌহিদুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, সাদিদুল ইসলাম,  হাবিবুল, সাদ্দাম, বাশার, শাহীন, ইকরাম, জনিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। বিতরণকালে মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন- বর্তমানে আমরা এক অচেনা শত্র“র (করোনা ভাইরাসের) সাথে যুদ্ধ করছি। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন কাজকর্ম না থাকায় গরীব ও অসহায় মানুষ খুবই কষ্টের  মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ দূর্যোগ মুহুর্তে গরীব ও অসহায় মানুষে মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরন একটি মহৎ উদ্যোগ। তফসির রিজিয়া সুলতানা ফাউন্ডেশনের এ মহতি উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানান। গরীব ও অসহায় মানুষে মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহন করায় আমি তফসির রিজিয়া সুলতানা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান (ফরিদ) ও প্রধান উপদেষ্টা সমাজ সেবক  মোঃ সুলতানুল ইসলামকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানায়। আমি আশা করব আগামীতে তফসির রিজিয়া সুলতানা ফাউন্ডেশন সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন মুলক কাজ করবে। আমি তফসির রিজিয়া সুলতানা ফাউন্ডেশনের উত্তোরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। তফসির রিজিয়া সুলতানা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্ট সমাজ সেবক মোঃ সুলতানুল ইসলাম বলেন, আমি ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করব। যুবক বয়সে জাতীয় তরুণ সংঘের সাথে যুক্ত হয়ে যুবকদের নিয়ে গণশিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমুলক কাজ করেছি। সরকারী চাকরী করার কারণে দীর্ঘদিন স্বাধীনভাবে অনেক কাজই করার সুযোগ করতে পারেনি। এখন অবসর জীবনে আমার কাছে মনে হচ্ছে জীবনের বাকী সময়টুকু আমি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণের জন্য ব্যয় করব যা আমি ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম। এ কাজের জন্য আমি সকলের নিকট দোয় প্রার্থী।

করোনায় আক্রান্ত আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল জানান, শরীরে জ¦র থাকায় গত বুধবার নাদেল নমুনা পরীক্ষার জন্য শামসুদ্দিন হাসপাতালে আসেন। পরীক্ষার পর তার কোভিড-১৯ পজেটিভ আসে। তবে তিনি সুস্থ আছেন এবং তার বাসায় আইসোলেশনে আছেন। শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল জানান, গত ৩/৪ দিন থেকে তার হালকা জ¦র ও কাশি ছিল। এর প্রেক্ষিতে নমুনা পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে শারীরিকভাবে তিনি অনেকটা সুস্থ বলে জানিয়েছেন তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কানণে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই আমপানে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির পক্ষে সাংবাদিকদের মাঝে করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ সভায় একথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, যখনই দেশে কোনো দুর্যোগ আসে জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্ঘুম রাত কাটান। আম্পানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। সারারাত তিনি মনিটরিং করেছেন এবং তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। এর আগেও তিনি যেভাবে সবাইকে নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন, তা পৃথিবীর সামনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এক অনন্য উদাহরণে পরিণত করেছে, বলেন তিনি। অপরদিকে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে বিএনপি’র শুধু সিদ্ধান্তের অভাবে এক ডজন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল, যেগুলো ঝড়ের আগে উড়িয়ে ঢাকা বা যশোরে আনলেই রক্ষা পেতো’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, সইসাথে অনেকগুলো জাহাজ শুধু আরো উজানে নোঙর না করার কারণে নোঙর ছিঁড়ে ডাঙায় উঠে এসেছিল। আর লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর পর সংসদে দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন- যত মানুষ মারা যাওয়ার কথা, তত প্রাণহানি হয়নি। দলের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল, বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ সভায় বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রী এ সময় নানা গুজবের বিরুদ্ধে মূলধারার সাংবাদিকরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনলাইন নিউজপোর্টালের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় যে কাজ শুরু করেছিল, তা দ্রততার সাথে করা হবে। একইসাথে ঈদের পরপরই গুজব রটনাকারী ভুয়া অনলাইন পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। করোনায় সাংবাদিকরা সম্মুখযোদ্ধা এবং সারাদেশে ছুটি হলেও সাংবাদিকদের কোনো ছুটি নেই উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সাংবাদিকদের সাথে রয়েছে, সবসময় ছিলো এবং থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনায় সংকটে পড়া সাংবাদিকদের এককালীন জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দেবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন ড. হাছান। এটি ঈদের পর শুরু হবে এবং এ সহায়তা কারা পাবেন, সাংবাদিক ইউনিয়নই তা ঠিক করবে, বলেন মন্ত্রী। আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম তার বক্তব্যে বলেন, অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের বেতন দিতে কার্পণ্য করে, এটা ঠিক নয়। সুজিত রায় নন্দী আওয়ামী লীগকে গণমাধ্যমবান্ধব দল হিসেবে বর্ণনা করেন। মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, করোনায় সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি নজরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, দৈনিক বর্তমানের প্রধান প্রতিবেদক মোতাহার হোসেন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘুর্ণিঝড় আম্পান ও করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

ঘুর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী দুর্যোগ ও করোনা মোকাবেলায়  বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের আওতাধীন ১০টি  জেলা পরিদর্শন করে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নিরুপন করেন। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরা, যশোর এবং খুলনাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ইতিমধ্যে  সেনাবাহিনীর ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান কবলিত এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি তারা সেখানে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ির উপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে রাস্তাঘাট চলাচল উপযোগী এবং ঘরবাড়ি মেরামতের কাজে সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়াও আম্পানের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ মসজিদ, বেড়িবাঁধ এবং মাছের খামার মেরামত ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়মিত টহল ও বিভিন্ন জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মুজিব বর্ষে এতিম ও দুস্থ শিশুদের জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার তুলে দিচ্ছে যশোর  সেনানিবাসের সদস্যরা। ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র থেকে জানা যায় যে, “চলমান করোনা পরিস্থিতি এবং সাইক্লোন আম্পান এর ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবেলায় বাংলাদেশ  সেনাবাহিনী সচ্ছতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের এই কাজের ধারা অব্যাহত থাকবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গাংনীতে ২জন করোনায় আক্রান্ত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে নতুন করে আবারো দু’জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা হলেন-গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব ও সাহারবাটী গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসির উদ্দীন। সিভিল সার্জন ডাক্তার নাসির উদ্দীন জানান, গাঁড়াডোব গ্রামের পোড়ার একজন ব্যক্তি লিচু বিক্রি করতে ১০দিন পূর্বে ঢাকায় গিয়েছিলেন। পরে সর্দি-জ্বর নিয়ে বাড়ি ফিরে আসলে তাকে হোম কোয়ারিন্টিনে রাখা হয়। এছাড়াও ঢাকা ফেরত সাহারবাটী গ্রামের আরেক ব্যক্তির একই আলামত দেখা দিলে, হোম কোয়াারেন্টিনে রাখা হয়। পরে তাদের নমুনা পরীক্ষার পর করোনা সনাক্ত করা হয়েছে। তবে আক্রান্তদের নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের বাড়িসহ পার্শবর্তি কয়েকটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ৫জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ রোগে উপজেলার কেউ এখনও মারা যায়নি।

 

কুষ্টিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে সন্ধানীর ঈদবস্ত্র প্রদান

গত ২২ মে শুক্রবার সন্ধানী কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ইউনিটের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ করা হয়। কুষ্টিয়া শহরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে ২৫ জন অসহায় মায়েদের জন্য  সংগঠনটির পক্ষ থেকে শাড়ি প্রদান করা হয় ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সন্ধানী কুষমেক ইউনিটের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সাকিব মাহমুদ, উপদেষ্টা ডাঃ আবু সুফিয়ান স্বজন, উপদেষ্টা ডাঃ শ্রেয়সী দত্ত সরকার শ্রেয়া, ডাঃ শামিমা নাসরিন, ডাঃ মনিকা ইসলাম, ডাঃ সানজিদা পারভীন। উদয় মা ও শিশু পূণর্বাসন কেন্দ্র নামের এই বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক আফরোজা ইসলাম মিষ্টি এই দূর্যোগকালীন সময়ে বৃদ্ধা মায়েদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সন্ধানীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সন্ধানী কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ইউনিটের সভাপতি আতিক রাব্বানী রাশা নিলয় জানান,  “আর্ত মানবতার  সবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত সংগঠন সন্ধানী, তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২২ শে মে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সন্ধানী কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ইউনিট ৷ করোনা পরিস্থিতির কারনে এবার সীমিত আকারে ৫ম বর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানের মত ভবিষ্যতেও সন্ধানী কুষমেক ইউনিট কুষ্টিয়াবাসীর জন্য কাজ করে যাবে৷” সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাওনুজ্জামান শাওন জানান, বৃদ্ধাশ্রমে শাড়ি প্রদান ছাড়াও তারা বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের এই সেবামূলক কাজে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবান জানান তিনি । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উদ্দ্যোগে শতাধিক দুস্থ্য গর্ভবতী মায়েদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিয়ামুল হক ॥ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উদ্দ্যোগে জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রমের আওতায় শতাধিক দুস্থ্য গর্ভবতী মায়েদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোনিয়া কাওকাবী এর সভাপতিত্বে এ খাদ্য সহায়তা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ারুজ্জামান, স্বাস্থ্য পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যরা পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোনিয়া কাওকাবী জানান, বর্তমান করোনা ভাইরাস দুর্যোগ সময়ে গর্ভবতী মায়েরা বেশি ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। এ সময়ে গর্ভবতী মায়েদের বেশি বেশি পুষ্টিগুন সম্মৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। যে সমস্ত দুস্থ্য গর্ভবতী মায়েরা এই দুর্যোগ সময়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন তাদেরকে সহায়তা দেবার জন্যই পুষ্টিকর খাদ্য উপকরন হিসেবে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ৫ কেজি আলু, ১ লিটার তেল, ১ কেজি লবন, ১ কেজি পেঁয়াজসহ নানা উপকরন বিতরণ প্রদান করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গায় ৪৭৭টি মসজিদে সরকার কর্তৃক ৫ হাজার টাকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা পৌরসভাসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ৪৭৭ টি মসজিদে সরকার কর্তৃক ৫ হাজার টাকার  চেক প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলী। গতকাল বেলা ১১ টায় উপজেলা চত্বরে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইমামদের উপস্থিতিতে এই চেক প্রদান করা হয়। চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকার এই টাকা বরাদ্দ করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন আলমডাঙ্গার ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ আক্তারুজ্জামান, ফিল্ড সুপার ভাইজার হাফেজ ওমর ফারুক, উপজেলা মসজিদের ইমাম মাসুদ কামাল, এরশাদপুর মসজিদ কমিটির ইমাম মওঃ আব্দুল কালাম, দারুস সালাম জামে মসজিদের খাদেম আব্দুস সাত্তার তরফদার সহ বিভিন্ন মসজিদ কমিটির সদস্য, ইমামবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলার  ৪৭৭টি মসজিদ কমিটির হাতে ৫ হাজার করে প্রদান করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হলে চীন গুটিয়ে থাকবে না’

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো উত্তেজনায় চীন গুটিয়ে থাকবে না। কিন্তু অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পুনরুদ্ধার অগ্রাধিকারে থাকবে। বৃহস্পতিবার চীন সরকারের এক কর্মকর্তা এমন দাবি করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমন তথ্য মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দুই পরাশক্তির মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা চলছে। গত বছরের শেষ দিনে উহানের একটি সামুদ্রিক প্রাণীর বাজার থেকে করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর সেই তিক্ততা আরও বেড়ে গেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীন সঠ্কিভাবে মোকাবেলা করেনি। এ ছাড়া মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য চীনকে দায়ী করা হচ্ছে। চায়না পার্লামেন্টের মুখপাত্র জিয়াং ইয়াসুই বলেন, চীন কোনো সমস্যা তৈরি করবে না। তাই বলে সংকটের মুখে পিছিয়েও থাকবে না। শুক্রবার বার্ষিক পার্লামেন্টারি অধিবেশনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এই চীনা কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক কিছু হারাতে হবে। কাজেই সহযোগিতাই হচ্ছে বিজ্ঞ সিদ্ধান্ত। সহযোগিতার মধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষেরই লাভ রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, লড়াইয়ে দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সহযোগিতাই একমাত্র সঠিক সিদ্ধান্ত।

ছুটির নোটিশ

আগামীকাল সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে আজ ২৪ মে – রবিবার থেকে আগামী ৩০মে শনিবার পর্যন্ত দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সকাল বিভাগ বন্ধ থাকবে।  ৩১মে রবিবার থেকে যথারীতি  পত্রিকা ও অনলাইন প্রকাশিত হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সকল পাঠক, গ্রাহক, পরিবেশক, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভাকাঙ্খীদের জানায় ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক

আনিসুজ্জামান ডাবলু

সম্পাদক ও প্রকাশক

কুষ্টিয়া শহরের বাড়াদিতে বস্ত্র, খাদ্য ও নগদ অর্থ বিতরণকালে আতাউর রহমান আতা

যুবলীগ নেতা সঞ্জু গরীব দুঃখি মানুষের কথা চিন্তা করে বস্ত্র, খাদ্য ও নগদ অর্থ বিতরণ করে এক মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট সংকটে সরকারের পাশাপাশি অনেক সুহৃদয় ও বিত্তবান মানুষেরা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী মানুষের মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া শহরের বাড়াদী বাজার এলাকার বাড়াদি গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, জাতীয় সংসদ ভবনের ঠিকাদার, যুবলীগ নেতা আবু জাহিদ সঞ্জু নিজ অর্থায়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৌর ১৬ নং ওয়ার্ডের দুস্থ্য মানুষের মাঝে বস্ত্র, খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরকালে তিনি এ কথা বলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছার ফলে দেশে এখনও পর্যন্ত না খেয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা দেশের কোথাও ঘটেনি। আগামীতেও এ ধরনের কোন খবর শোনা যাবে না কেনননা সরকারের সদিচ্ছার কারনেই সুষ্ঠুভাবে ত্রান সামগ্রী এবং খাদ্য সামগ্রী দেশব্যাপী বিতরন করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসে আজ সারা বিশ^ময় এক বিভিষিকাময় অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বৈশি^ক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছেন। তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় বহু সংখ্যক মানুষেরা সরকারের দেয়া  সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে নিজেদের স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। সামনের দিনগুলোতে এভাবে সুন্দর একটি সময় অতিবাহিত করতে পারবেন। আতাউর রহমান আতা বলেন- যুবলীগ নেতা আবু জাহিদ সঞ্জু প্রতিবারের ন্যায় এবারও তার এলাকার গরীব দুঃখি মানুষের কথা চিন্তা করে ঈদ সামগ্রী, বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ করে এক মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। করোনার শুরুর থেকে এলাকার মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরন, হ্যান্ডসেনিটাইজার ও সাবান এবং চাল, ডাল, তেল আটা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘরের রাখা কাজ করে চলেছেন। একজন জনদরদী মানুষ না হলে এই দির্ঘ সময় নিজ অর্থায়নে গরীব দুঃখিদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হতো না।  আতাউর রহমান আতা বলেন-সমাজে অনেক বিত্তবান মানুষ থাকলেও সেবা মানুষিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার তৌফিক সকলকে দেন না সৃষ্টিকর্তা। যা এই বাড়াদী অঞ্চলের কৃতিসন্তান, ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা আবু জাহিদ সঞ্জু পেয়েছেন। তিনি সমাজের বৃত্তবানদের করোনা মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল হক, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবু, কুষ্টিয়া নাগরিক পরিষদের সভাপতি সাইফ-উদ দৌল¬া তরুন, আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক আহমেদ খোকন।

যুবলীগ নেতা আবু জাহিদ সঞ্জু বলেন, আমি সব সময় এলাকার মানুষের কল্যানে কিছু করার চেষ্টা অব্যাহত রাখি। প্রতিবছরই ঈদে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াই। আজো তারই ধারাবাহিকতায় এই সামান্য ঈদ উপহার হিসেবে এলাকার ৭শ’ গবীর অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র, ২শ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী এবং ১শ মানুষের হাতে নগদ টাকা তুলে দিতে পেরে আত্মতৃপ্ত হচ্ছি। আগামীতে এই ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং যে কোন অভাবী ও দুস্থ্য মানুষের প্রয়োজনে আমি তাদের পাশে দাঁড়াবো।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ময়েন উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা ও ইসলামিয়া কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রাজু আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল¬াহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, ১৬ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তনজু আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন, আবু শাহেদ রঞ্জু, মনজু আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, শফি বিশ্বাস, বিশিষ্ট ব্যবসায় নাসির উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, বাবুল মন্ডল ও সোহেল রানা প্রমুখ।

আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমানসহ অতিথিবৃন্দ দুস্থ্যদের মাঝে বস্ত্র, খাদ্য ও নগদ অর্থ বিতরন করেন।

ঈদুল ফিতর মুসলিম সমাজের অনন্য একটি শিক্ষা

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। সেই ঈদের দিন আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। পুরো রোজার মাস শেষে মুসলিম সমাজে ঈদের আগমন অন্য রকমের একতটি অনুভুতি ও শিক্ষা দিয়ে যায়। এই অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে ঈদের শিক্ষায় আমরা যদি আমাদের জীবন সত্যিকারের মুল্যায়িত করতে পারি তাহলে আমাদের সমাজ এই বিশ্ব পরিমন্ডল সব কিছুই সরল গতিইে এগিয়ে যেত। থাকতো কোন ভেদাভেদ, কোন মনোমলিন্য ও দুঃখ কষ্টে বালাই।

ঈদ ইসলামের দু’টি প্রধান অনুষ্ঠান। ঈদের শুরু কিভাবে হয়েছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দু’টি ঈদের শুরু হলো এভাবে- যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় গেলেন, তখন তিনি দেখলেন যে তারা দু’টি অনুষ্ঠান পালন করে। সেই দু’টি অনুষ্ঠান বদলে দিয়ে তিনি এ দু’টি ঈদের ব্যবস্থা করলেন। একটি হলো সফলভাবে রোজা শেষ করার আনন্দ। আরেকটি হচ্ছে হজের যে অনুষ্ঠান, যাতে বিশ্ব মুসলিম শরিক হচ্ছে মক্কায় তারই পাশাপাশি সারা বিশ্বের মুসলিমদের যুগপৎভাবে ঈদ পালন। অর্থাৎ মক্কায় হজ হচ্ছে এবং সারা দুনিয়ায় ঈদ উৎসব হচ্ছে। আবার এর সাথে ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে। হজরত ইব্রাহিম আ: কে তার ছেলেকে কোরবানি করতে বলে আল্লাহ তায়ালা যে মহা পরীক্ষা করেছিলেন, সেই পরীক্ষায় তাঁর যে বিজয়, সেটাকে সামনে রেখে এ ঈদের ও হজের অনুষ্ঠান করা হলো।

অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, রাসূল সাঃ ওই দু’টি অনুষ্ঠান বদলে দিলেন  কেন? আগের অনুষ্ঠানগুলোর ভিত্তি ছিল পারস্যের অনুকরণে। পারস্য তৎকালীন অন্যতম সুপার পাওয়ার ছিল। তাদের জাতির মধ্যে ওই অনুষ্ঠানগুলো ছিল। এসব অনুষ্ঠান মূলত কিছুটা প্রকৃতি ভিত্তিক ছিল। সে কারণে রাসুল সাঃ এসব অনুষ্ঠান তেমন পছন্দ করেননি। এ অনুষ্ঠানগুলোতে প্রকৃতিকে বেশি সম্মান দেখানো হচ্ছিল। সে জন্য তিনি এ পরিবর্তনটি করলেন। এর থেকে আমাদের মনে রাখতে হবে যে মুসলিমদের যে অনুষ্ঠানমালা হবে, তাতে এ মূলনীতিই খেয়াল রাখা উচিত। ইসলাম আনন্দ উৎসবকে স্বীকার করেছে। যেমন রাসূল সাঃ এসব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে নতুন কোনো অনুষ্ঠান চালু নাও করতে পারতেন; কিন্তু তিনি তা না করে তাদের ওই দু’টি অনুষ্ঠানের পরিবর্তে বিকল্প দু’টি নতুন অনুষ্ঠান দিয়েছেন। এ থেকে আরেকটি নীতি পাওয়া যায়, তা হলো- মানুষের যে সত্যিকার প্রয়োজন সে প্রয়োজনকে উপলব্ধি করতে হবে, স্বীকার করতে হবে এবং মানতে হবে। তা করতে গিয়ে যদি  দেখা যায়, প্রচলিত পদ্ধতিগুলো ভালো নয়, তাহলে তার বিকল্প দিতে হবে। রাসূল সাঃ এ কার্য থেকে প্রমাণিত হয়, মানুষের স্বাভাবিক প্রয়োজন পূরণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে তার বিকল্পও দিতে হবে। এ বিষয়ে আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে। আজকে মানুষের মধ্যে আনন্দের যে প্রয়োজন রয়েছে, তা রাসূল সাঃ স্বীকার করেছিলেন। স্বীকার করেই তিনি এ দু’টি অনুষ্ঠান দেন এবং তার নাম রেখেছেন ‘ঈদ’ তথা আনন্দ, উৎসব। তিনি অন্য নাম রাখতে পারতেন। অথচ তিনি ঈদ নাম রাখলেন  কেন? একে আনন্দ উৎসবের সাথে সম্পর্ক করলেন কেন? সেটিও আরেক তাৎপর্যপূর্ণ দিক। এটি প্রমাণ করে, রাসূলু সাঃ বিখ্যাত হাদিস হচ্ছে, ইসলামে কোনো বৈরাগ্যবাদ নেই। এ ছাড়াও কুরআন মজিদে  বৈরাগ্যবাদকে নিন্দা করা হয়েছে। এবং ইসলাম বৈরাগ্যবাদের ধর্ম নয়।  বৈরাগ্যবাদ কোনো সুস্থ স্বাভাবিক জীবন নয়। এ থেকে আমরা বলতে পারি ইসলামি সংস্কৃতির শুরুটা কী রকম হবে, তা আমরা ঈদ থেকে পাই। রাসূল সাঃ যে ঈদের ব্যবস্থা করলেন, তাতে তিনি ঈদের দিনটি শুরু করলেন নামাজ দিয়ে। তিনি ঈদুল ফিতরের দিন খাওয়া-দাওয়া করতে বললেন, নতুন কাপড়-চোপড় পরতে বললেন, বেড়াতে উৎসাহিত করলেন। বেড়ানোকে ও দাওয়াত দেয়াকে উৎসাহিত করলেন। কিন্তু সাথে সাথে তিনি ঈদের দিনটি শুরু করতে হবে সালাত দিয়ে, এ ব্যবস্থা রাখলেন। আগের দিনে আরব দেশের আমাদের মতো এত  দেরিতে ঈদ হতো না। সেখানে ঈদ হয়ে যেত খুব ভোরে। তখন সূর্য ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যে ঈদের নামাজ পড়া হয়ে যেত। নামাজ পড়েই বাকি কাজে লেগে  যেত। এটাও ইসলামি সংস্কৃতির একটি বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে। এর বৈশিষ্ট্য হলো আমাদের আনন্দ অনুষ্ঠানের ভিত্তি হতে হবে আল্লাহকে স্মরণ করা  সেটা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা সালাত দিয়ে শুরু করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যান্য অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে আল্লাহর স্মরণে। তাই  যেকোনো সুন্দর অনুষ্ঠান যদি আমরা করি ও তার শুরু হওয়া উচিত আল্লাহকে মনে করার মধ্য দিয়ে। এ বৈশিষ্ট্য আরো প্রমাণ করে, রাসূল সাঃ যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তাতে কুসংস্কারের কোনো স্থান  নেই। এর মধ্যে কোনো অপসাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অবকাশ নেই।  সেখানে সব কিছুই সুন্দর। এর মধ্যে স্থান নেই কোনো ধরনের পূজার। তা মানুষেরই হোক বা প্রকৃতিরই। আমাদের দেশের ঈদ যেভাবে পালিত হচ্ছে সে বিষয়ে কিছু বলা দরকার। প্রথমত, ঈদে বেড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। খাওয়া- দাওয়া, পোশাক-আশাকে এসব ব্যাপার ঠিক আছে। কিš যেটুকু ঠিক নেই তা হলো, পাশ্চাত্যেরই  প্রভাবে আমাদের মধ্যে অনেক অশালীন পোশাকের প্রচলন হয়েছে। এটা দূর করা সহজ ব্যাপার নয়। এ প্রসঙ্গে একটি কথা এখানে বলা প্রয়োজন। দুনিয়ায়  যেকোনো সংশোধন দাওয়াত দিয়েই সম্ভব। মানুষের মন জয় করতে হবে। মনকে জয় করেই সংশোধন আনতে হবে। কারণ, একটি ইসলামি রাষ্ট্র হবে, সেই রাষ্ট্র আইন করে এগুলো করবে, সেটা যথেষ্ট জটিল প্রক্রিয়া। তা কতটা করতে পারবে, সে প্রশ্ন থেকে যায়। সেটা করতে পারলে ভালো। সংবিধান মোতাবেক একটি দল ক্ষমতায় এসে সংসদে আইনের মাধ্যমে এগুলো করতে পারলে ভালো। কিন্তু সেটাই করা কতটা সম্ভব হবে তা জানি না এবং এর জন্য অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন  নেই। মূল জিনিস হলো সমাজের সংশোধন। কল্যাণ করতে হবে দাওয়াতের মাধ্যমে। যদি মুসলিম জাতির ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা দাওয়াতে  বেশি সময় দেন, ইসলামের মূল ধারা, মূল্যবোধকে যদি তারা বুদ্ধিমানের মতো জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারেন বন্ধুবান্ধবের কাছে, নিজেদের আত্মীয়দের মধ্যে তাহলে এ সংস্কার সম্ভব বলে  মনে করি।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঈদ শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে হানিফ

রোগীদের সেবা প্রদানে চিকিতসকদের প্রস্তুত থাকতে হবে

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (অস্থায়ী ক্যাম্পাস) এর শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারীদের সাথে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বল্প পরিসরে গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় ঈদ শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার), সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ আশরাফুল হক দারা, সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ মোস্তানজিদ, আরএমও ডাঃ তাপস কুমার, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাসান মেহেদী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা প্রমূখ। এ সময় প্রধান অতিথি হানিফ বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমনে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রতিটি রোগীর চিকিৎসা  সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারন রোগী কোনভাবেই যেনো চিকিৎসা না পেয়ে চলে না যায়, এমন অভিযোগ শোনা গেলে প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। হানিফ আরো বলেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে সকল চিকিৎসককে প্রস্তুত থাকতে হবে, ঈদে মানুষ তার নিজ বাড়িতে একে অপরের সংস্পর্শে আসতে পারে সে লক্ষ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, সদর হাসপাতালে  ভেন্টিলেটর থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করতে হানিফ ঘোষণা দেন আর একটি ভেন্টিলেটর স্থাপন করা হবে।

ইবি সাধারণ কর্মচারী সমিতির ত্রাণ বিতরণ

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-ঊর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে করোনাকালীন দূর্যোগে দুঃস্থদের মাঝে গতকাল শনিবার ত্রাণ বিতরণ করেছে বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারণ কর্মচারী সমিতি। সকালে প্রশাসন ভবনের সামনের চত্বরে উপাচার্য এ ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। রেজিস্ট্রার এস. এম. আব্দুল লতিফ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আলীমুজ্জামান (টুটুল), সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্রাহাম লিংকন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জনি, সাধারণ কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিনুর ইসলামসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।  সামাজিক দূরত্ব মেনে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় সাধারণ কর্মচারী সমিতি’র উদ্যোগে চার শত দুঃস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মমতাকে ফোন করে আম্পানের ক্ষয়ক্ষতির খবর নিলেন শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস ॥ অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান বয়ে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে। আম্পানের কারণে বাংলাদেশের উপকূলের মতো পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি শহর তছনছ হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে খোঁজখবর এবং সহমর্মিতা জানাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে টেলিফোন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ফোন করেন। এ সময় তিনি ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে খোঁজখবর নেন এবং সহমর্মিতা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ১০ মিনিটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে টেলিফোন করেন এবং পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তার কাছে জানতে চান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আম্পানে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতিতে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রতি সমবেদনা জানান এবং অচিরেই রাজ্য সরকার এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সমর্থ হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম আরও বলেন, সমবেদনা জ্ঞাপন করায় মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য, বুধবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উপকূলবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক তা-ব চালিয়েছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। তান্ডবে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে, হাওড়া, হুগলী এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অনেক এলাকায়। হাজার হাজার কাঁচা বাড়ি ও গাছপালা ভেঙে গেছে আম্পানের ভয়াল থাবায়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন কলকাতায়। একই দিন বিকালে তীব্র ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টি ঝরিয়ে সাগর থেকে উপকূলে উঠে আসে আম্পান। তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন অংশের ওপর আঘাতের পর আম্পানের বাংলাদেশ অংশটি উঠে আসে স্থলভাগে। আম্পানের কারণে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে যশোরে ১২, সাতক্ষীরায় দুই, ভোলায় দুই, পিরোজপুরে দুই, পটুয়াখালীতে তিন এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, সিরাজগঞ্জ ও চাঁদপুরে একজন করে রয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই মারা গেছেন গাছচাপা পড়ে। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তা-বে দেশে মোট এক লাখ ৭৬ হাজার সাত হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেছেন, এসব জমিতে থাকা বিভিন্ন ফসলের ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে দেশের এক হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ, রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্টসহ অবকাঠামোর পাশাপাশি ঘরবাড়ি, কৃষি ও চিংড়ি ঘেরসহ মাছের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাতক্ষীরার চার উপজেলার কমপক্ষে ২৬টিরও বেশি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে ৮৪ হাজার ঘরবাড়ি। আম্পানের প্রভাবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের একাংশ নিয়ে গঠিত ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ২১ জেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।