প্রাণঘাতী করোনা যুদ্ধে মানবিক সেবায় যশোর সেনানিবাস

“করোনার যুদ্ধ করবো জয়, ঘরের বাইরে আর নয়”। “আতঙ্ক না ছড়াই, সতর্ক থাকি”। “ঘন ঘন হাত ধুই, করোনা থেকে নিরাপদ রই”। করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতেই এমন নানা ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অদৃশ্য এই শক্রর মোকাবিলায় যশোর অঞ্চলের জনগণকে সচেতন করে তুলছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। তাদের নিয়মিত টহল গাড়িতেও দেখা মিলছে ‘পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করুন’ লেখা সম্বলিত স্টিকার। করোনা সংক্রমন বিস্তার ঠেঁকাতে এভাবে প্রতিনিয়ত সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, মানুষের মাঝে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ এবং ঈদকে সামনে রেখে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্কেট/আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত করনীয় এবং বর্জনীয় লিফলেট লাগিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। এছাড়াও অসহায় ও হত দরিদ্রদের মাঝে ফ্রী চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ, বিনা প্রয়োজনে মানুষ যাতে যত্রতত্র ঘোরাফেরা না করতে পারে সে দিকে নজরদারি বৃদ্ধি এবং রমজান মাসে নিয়মিত বাজার মনিটারিং করার কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি খেটে খাওয়া, অসহায় এবং ভ্রাম্যমান মানুষদের হাতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয় এবং বীজ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনের পিতার দাফন সম্পন্ন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপিনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন মইনুল-এর পিতা রুহুল আমীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়। মরহুমের জানাযায় অংশ নেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ্, ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল হক কবিরাজ ও মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলীসহ স্থানীয় সুধীজন ও মুসল্লিগণ। রবিবার সন্ধ্যায় রুহুল আলীম (৮২) বার্ধক্যজনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেন।

৮ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে তাপপ্রবাহ

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে অতি প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। তবে এর প্রভাব এখনও বাংলাদেশের ভূখন্ডে পড়েনি। ফলে দেশে স্বাভাবিক ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের কিছু অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। ঢাকাসহ দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা) বয়ে যাচ্ছে।  গতকাল সোমবার সকাল ৯টা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তাতে বলা হয়, ঢাকা, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এদিকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছুকিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। গতকাল সকাল ৬টায় আম্ফানের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ’আম্ফান’ অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯ মে শেষরাত হতে ২০ মে বিকেল অথবা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

 

 

ছিন্নমূল মানুষের মাঝে কুষ্টিয়া নাগরিক পরিষদের খাবার বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ পবিত্র রমজানের শুরুতে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে প্রতনিয়ত খাদ্য সামগ্রীসহ রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া নাগরিক পরিষদের সভাপতি সাইফুদ দৌলা তরুণের উদ্যোগে শহরের কোর্টপাড়া আদর্শ লাইব্রেরী চত্বরে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক পরিষদের মোহাম্মদ আলী নিশান, বাবু, ইমরান খান পলাশ ও  কোর্টপাড়ার নাহিদ মজুমদার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রঞ্জন এবং যুবলীগ নেতা হান্নান বিশ্বাস। এক সাক্ষাৎকারে সাইফুদ  দৌলা তরুণ বলেন-কোভিড-১৯ সংক্রমনে মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। বেশি সমস্যায় পড়ছে ছিন্নমূল মানুষ, দিনমজুর খেটে খাওয়া অসহায় মানুষগুলো। তিনি আরো বলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জননেতা আতাউর রহমান আতা ভাইয়ের নির্দেশে প্রতিনিয়নত আমার পথ চলা। শহরের এসব মানুষের কষ্টের কথা  ভেবে, তাদের পাশে দাড়িয়েছি। প্রতিনিয়ত সংগঠনের  নেতৃবৃন্দদের সার্বিক সহযোগিতায় ছিন্নমূল রোজাদার ব্যক্তিসহ ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। আমার সাধ্যমত এসব মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি।

রাস্তায় পরিবহন চলাচল ও মানুষের অবাধ ঘোরাফেরা বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার

ঢাকা অফিস ॥ দিন দিন দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু ঈদকে সামনে রেখে রাস্তায় পরিবহন চলাচল ও মানুষের অবাধ ঘোরাফেরা বেড়ে গেছে। ফলে আরো ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় পরিবহন চলাচল ও মানুষের অবাধ ঘোরাফেরা বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার। সেই প্রেক্ষিতে ঈদের আগে গণপরিবহন চালুর কোনো সম্ভাবনাও নেই। চলতি মাসে দেশজুড়ে নৌ, সড়ক ও রেলপথ থেকে শুরু করে আকাশপথেও যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে যানবাহন চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। মূলত বিশে^র বিভিন্ন দেশের মতো লকডাউন শিথিল করতে গিয়েই সর্বোচ্চ আক্রান্তের দেশগুলোর দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আবারো কঠোর হওয়ার পথে হাঁটার কথা ভাবছে। সেজন্যই ঈদের ছুটিতে গণপরিবহন বন্ধের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যান চলাচলেও কঠোর হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অর্থাৎ সামনের দিনগুলোতে রাস্তা পুরোপুরি ফাঁকা রেখে মানুষকে ঘরে রাখার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শই হলো করোনা নির্মূল করতে হলে ঘরে থাকার বিকল্প নেই। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ঈদকে সামনে রেখে সীমিত পর্যায়ে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ওই লক্ষ্যে পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে বেশ কয়েকদফা দেন দরবারও করা হয়। কিন্তু ১০ মে থেকে দোকানপাট, শপিংমল, মার্কেট খুলে দেয়ায় দেদার করোনার রোগী বাড়ছে। রাস্তায় বেড়েছে যান ও মানুষের ভিড়। সড়ক, মহাসড়ক থেকে শুরু করে ফেরিঘাটে ঢাকামুখি মানুষের ভিড়ে বেড়েছে মৃত্যুর পরিমাণও। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সরকারের সামনে কঠোর হওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। ফলে মানুষের অবাধ ঘোরাফেরা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে স্থানীয় প্রশাসন মার্কেট বন্ধ করে দিয়েছে। যে কোন সময় রাজধানী ঢাকাতেও ফের মার্কেট বন্ধের ঘোষণা আসতে পারে।  সূত্র আরো জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঈদের আগে লঞ্চ না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে নৌযান মালিকরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঈদের আগে নৌযান চালাবেন না। তবে অনুমতি পেলে বাস মালিকরা তাদের বাস চালাতে রাজি থাকলেও এখন বলছেন, যেহেতু সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণপরিবহন চলবে না, তারাও সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে এ সময় গণপরিবহন চালাবেন না। আর সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, যেহেতু আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাধারণ ছুটিকালীন জনসাধারণের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সেহেতু গণপরিবহন চলার অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই আসে না।  সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আর পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী পরিবহন না করতে বলা হয়েছে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালানো সম্ভব হবে বলে লঞ্চ মালিকরাও লঞ্চ চালাতে রাজি নয়। তাছাড়া সরকার সাধারণ ছুটিকালীন মানুষের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এদিকে এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, যেহেতু সরকার সব ধরনের যাত্রী পরিবহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, সেহেতু রেল চলছে না। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ঈদের আগের ৪ দিন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরের ২ দিন- এই ৭ দিন সব ধরনের যানবাহন চলাচলে কঠোরতা অবলম্বন করা হবে। এই ৭ দিন প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহনও চলাচল করতে দেয়া হবে না। যে যেখানে অবস্থান করছেন, এবার সেখানেই তাকে ঈদ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, সাধারণ ছুটি/চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না।

ভেড়ামারায় ৫৯ গ্রাম পুলিশের মাঝে পিপিই ও হ্যান্ডগ্লাভস বিতরণ

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ গতকাল সোমবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা চত্বরে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৯ জন গ্রাম পুলিশের সদস্যেদের মাঝে উপজেলা পরিষদ থেকে পারসোনাল  প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)  ও হ্যান্ডগ্লাভস বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান মিঠু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ, ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমুল ইসলাম ছানা, বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান ছবি, ধরমপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম লালু, মোকারিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, বাহিরচর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রওশন আরা সিদ্দিক প্রমুখ। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের সাথে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।

প্রস্তুত ১২ হাজার আশ্রয় কেন্দ্র

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। মঙ্গলবার শেষ রাতের দিকে বা বুধবার (২০ মে) সকালে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য উপকূলের ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের জন্য ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি মানুষও যাতে প্রাণ না হারায় সে ব্যাপারে সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি। যেসব মানুষ ঝুঁকিতে আছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগেই তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হবে। অন্য যেকোনও দুর্যোগের থেকে এবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কোনও বাঁধ ভেঙে গেলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে তা নির্মাণ করবে। আগামীকাল সকাল থেকে মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার কাজ শুরু হবে। তবে গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত দুই হাজার ৫৬০ জন আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে প্রায় ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১৪৪ জনকে আশ্রয় দেওয়ার মতো সক্ষমতা রয়েছে। প্রত্যেকটি আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বলেছি। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসবেন তাদের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার জন্য বলা হয়েছে। এ কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কাজ করবে। কেন্দ্রে যারা আশ্রয় নেবেন তাদের জন্য তিন হাজার ১০০ টন চাল, ৫০ লাখ নগদ টাকা, শিশুখাদ্য কিনতে ৩১ লাখ টাকা, গো-খাদ্য কিনতে ২৮ লাখ টাকা এবং চার হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানান প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধসহ টিম প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ গেলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বিএনপির করোনা সেলের সংবাদ সম্মেলন আজ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিএনপির কেন্দ্রীয় করোনা সেলের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আজ মঙ্গলবার। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবীর খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সেলের আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ জন মারা গেছেন। এটি একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৩৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৬০২ জন। এটিও একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩ হাজার ৮৭০ জনে। সোমবার  দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

মিরপুরে হাজ্বী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে হাজ্বী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে মিরপুর উপজেলা মসজিদ চত্ত্বর থেকে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণের শুভ উদ্বোধন করেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কামারুল আরেফিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান, মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, সাধারন সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন,  উপজেলা হাজী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হাজী আব্দুল্লাহেল কাফি, সেক্রেটারি হাজী আঃ ছালাম, প্রচার সম্পাদক হাজী আছাদুর রহমান বাবু, হাজী মুশফিকুর রহমান কালু গাজি, হাজী মাওঃ আব্দুল মান্নান, হাজী বাস্তল্লাহ, হাজী আশরাপ আলী খান, হাজী কল্যান পরিষদের উপদেষ্টা হাজী ফজলুল হক মাষ্টার, সহ-সভাপতি হাজী হাফেজ আব্দুল মতিন প্রমুখ। উদ্বোধনের আগে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে এবং দেশ ও জাতীর কল্যাণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। উপজেলার প্রায় ২০০ অসহায় পরিবারের মাঝে এসব বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মিরপুর উপজেলা হাজ্বী কল্যাণ পরিষদ।

গাংনীতে ভাড়াটে লাঠিয়াল দিয়ে জমি জবরদখলের অভিযোগ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনীতে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বেআইনীভাবে নিজ নামীয় জমি কাগজপত্র ছাড়াই ভাড়াটে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গাংনী উপজেলার ভোলাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ মৃত তাইজেল আলীর ছেলে আনারুল, মৃত হিদায়েত আলীর ছেলে হক সাহেব ও মৃত রফজেল আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন ভাড়াটে সন্ত্রাস বাহিনী নিয়ে কোদাইলকাটি  গ্রামের মৃত আতর আলী ও মৃত কায়েমউদ্দীনের ওয়ারিশ শামসুল আলম ও আব্দুস সালাম দিং বিনিময় কালীন হিন্দুদের ক্রয়কৃত জমি জবর দখলের ঘটনা ঘটেছে। বেআইনীভাবে কোন রকম মালিকানা না থাকলেও ইজারাদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন পূর্বের  কোদাইলকাটি মৌজার জমি সিএস, খতিয়ান নং-৪৪৩,  এসএ,খতিয়ানের ১৭৬০, ১৭৬১ ও ১৭৬৫ দাগ যাহা  ও আরএস খতিয়ান ৮০ এর দাগ নং ২৭১২,২৭১৩ ও ২৭১৪ খোশকবলা দলীল মূলে  রেজিষ্ট্রী ও রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে খারিজ-খাজনা চলমান রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ  মিমাংসা করতে সম্প্রতি কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পে উভয় পক্ষকে নিয়ে সামাজিক শৃংখলা রক্ষায় মুচলেকা নেয়া হয়েছে। তারপরও প্রতিপক্ষ হক সাহেব , আনারুল  ও দেলোয়ার  নামের কতিপয় ব্যক্তি আইন অমান্য করে লোকজন নিয়ে ২৭১২ দাগে ৪০ শতক, ২৭১৩ দাগে ৪৬ শতক ও ২৭১৪ দাগে ৫০ শতক  জমি জবরদখল করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার  কোদাইল কাটি গ্রামের মৃত আতর আলী ও মৃত কায়েমউদ্দীন বিশ্বাস  ৫০ এর দশকে হিন্দু সম্পত্তি তৎকালীন মধূসুদন এর নিকট থেকে ১৭.৩১ শতক জমি ক্রয় করেন। পাশাপাশি মধূসুদনের অন্য শরীক সীতানাথ বিশ্বাস ও রশিকনাথ বিশ্বাসদের অংশ থেকে বিবাদীগণের বাপ-চাচারা ২.৬৭ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সেই ক্রয়কৃত ২.৬৭ শতক জমি বিক্রয় করে দেয়। ফলে উক্ত জমিতে তাদের আর কোন শর্ত অবশিষ্ট থাকে না।  তারপরেও গায়ের জোরে জমি জবরদখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন জমি আতর আলী ও কায়েমউদ্দীনের ওয়ারিশদের দখলে থাকলেও  বিবাদীরা তার ভাড়াটে দাঙ্গাবাজ,লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে  সম্প্রতি মাঠে মহড়া দিয়ে জমি জবরদখল করেছে। এদের বিরুদ্ধে নানাভাবে হয়রানি করাসহ জমি-জমা জবরদখলের  আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে  আব্দুস সালাম ও শামসুল আলম জানান, আমার বাবা আতর আলী ও কায়েমউদ্দীন বিশ্বাস  হিন্দুদের সম্পত্তি ক্রয় সূত্রে দলিল করে ভোগ দখল করে আসছে। আমরা দলিল মোতাবেক খারিজ করে খাজনা দিয়ে আসছি। পক্ষান্তরে  ভোলাডাঙ্গা গ্রামের একদল ভূমি গ্রাসী আমাদের জমি জবর দখল করেছে। তাদের কোন  বৈধ কাগজপত্র নাই। দাঙ্গাবাজরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমাদের জমির ইজারাদারদের নিয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। প্রতিপক্ষ আনারুল ইসলাম জানান, আমার বাপ-চাচারা হিন্দদের সাথে ২ একর ৬৭ শতক জমি ক্রয় করেছিলেন।  সে সময় আমাদের বাদ বাকী জমি রক্ষনাবেক্ষণের জন্য দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। সে ব্যাপারে আমাদের তৎকালীন দলিলে উল্লেখ রয়েছে। সে কারণে উইল মোতাবেক আমরা জমি বুঝে নিতে চাই। তবে আমাদের কোন কাগজপত্র নাই। তবে আমাদের নামে আরএস রেকর্ড বা খারিজ-খাজনা হয়নি। আমরা শুনেছি এ ব্যাপারে গাংনী থানায় একটি এজাহার করা হয়েছে। আমরা থানায় কাগজ পত্র দেখাবো।  এ ব্যাপারে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, কোদাইলকাটি গ্রামের  পক্ষ থেকে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে  উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে সুষ্ঠু সমাধান দেয়া হবে।

জন্মদিনে বৃদ্ধাশ্রমে অপ্সরা সুহি

নিজ সংবাদ ॥ এ সময়ের প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী কুষ্টিয়ার মেয়ে অপ্সরা সুহির গতকাল ছিল জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে সুহি একটি বৃদ্ধাশ্রমে মায়েদের সাথে কিছু সময় কাটান এবং বৃদ্ধা মায়েদের জন্য বাসা থেকে কিছু খাবার সামগ্রী রান্না করে নিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে অপ্সরা সুহি বলেন, ‘আমি প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই আমার সকল শুভাকাঙ্খীদের যারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, আর বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ার পরিকল্পনা  আগে থেকেই ছিল  তাই আমার জন্মদিনের দিনই এই উদ্যোগটি নিলাম। বৃদ্ধাশ্রমে মায়েদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো অসম্ভব সুন্দর ছিল। বৃদ্ধাশ্রমে মায়েদের ভালোবাসা আমাকে বার বার তাদের কাছে টানে। যেহেতু করোনা  মহামারীতে বাইরের পরিস্থিতি অনেক খারাপ তাই আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।” আমি ধন্যবাদ দিতে চাই মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়া  জেলা শাখার সদস্য (সজীবুল ইসলাম, উসাঈদ অর্ক, ওবায়দুল, আকিব, রিফাত)-কে। এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই ফজলে রাব্বি ও অশোক আগারওয়ালকে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন এবং সবাই নিরাপদে থাকুন ও সুস্থ থাকুন ।

সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে গভীর রাতে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের সেহরি বিতরণ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে বাসায় থাকার কথা বলা হলেও কুষ্টিয়া শহরের অনেকেরই থাকার জায়গা নেই। এ শহরেই আছে ভাসমান, ছিন্নমূল মানুষ। আছে অসংখ্য পথশিশু। তাদের কেউ ফুটপাতে ঘুমান, কারও কারও বসবাস যাত্রী ছাউনিতে, আবার কেউ কেউ বাস ও  রেলস্টেশনের খোলা জায়গায় থাকেন। এসব মানুষের খাবারের জোগান দিতে গভীর রাতে বেরিয়ে পড়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ  সোহরাব উদ্দিন। রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার সময় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন সেহরি বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সিনিঃ যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাব্বি, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ নাহিদুল ইসলাম রুপল, সরকারি কলেজ ছাত্রদল  নেতা হাসিবুল ইসলাম উদয়, বিল্লাল হোসেন, শহর ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুজ্জামান অন্তর, শহর ছাত্রদল নেতা দেবউত্তম বিশ্বাস ও কর্নেল ইসলাম সুমন প্রমুখ।

গাংনীতে বিএনপি নেতা মিল্টনের উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মেহেরপুরের গাংনীতে কর্মহীন ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মেহেরপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য লকডাউনে থাকা কর্মহীন ও অসহায় পরিবারকে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। গতকাল সোমবার সকালের দিকে গাংনী উপজেলার রাইপুর ও ষোলটাকা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কর্মহীন এবং অসহায় ৪শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুন,  জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান গাড্ডু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম নাসির, বিএনপি নেতা আলফাজ উদ্দীন, আক্তারুজ্জামান, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দাল হক, সাধারণ সম্পাদক কাউছার আলী, গাংনী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল মালেক চপল বিশ্বাস, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা কামরুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান প্রমুখ।

 

ভারতে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ জামিয়া মিলিয়ার ছাত্র গ্রেফতার

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের বহুল বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেয়ার অভিযোগে এক ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার এ তথ্য জানিয়েেেছ এক প্রতিবেদন। ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতে পাস হয় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)। এই আইনকে বৈষম্যমূলক আখ্যায়িত করে ভারতজুড়ে শুরু বিক্ষোভ। দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভ। এমনকি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও স্টুডেন্ট ইসলামিক অর্গানাইজেশনের (এসআইও) সদস্য আসিফ একবাল তানহা নামের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি দিল্লির শাহীনবাগের বাসিন্দা। আসিফ ইকবাল তানহা জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ফারসি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনায় জামিয়া পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা দায়ের করা হয় গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর। ওই মামলার আসামি আসিফ ইকবাল। পুলিশ আরও জানায়, সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়ার পার্শ্ববর্তী নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে চারটি গণপরিবহন ও দুটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য আসিফ। একই সঙ্গে, বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া ওমর খালিদ, শারজিল ইমাম, মিরান হায়দার ও সাফুরা জারগারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারের পর আসিফকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করা হয়। তাকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত বিচারিক হেফাজতে রেখে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রমজানে গরীবদের হক সদকাতুল ফিতর

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ সদকাতুল ফিতর একটি ইসলামী পরিভাষা। দু’টি শব্দের সমষ্টি তথা ‘সদকাহ’ ও ‘আল-ফিতর’। ‘সদকাহ’ অর্থাৎ দান, যা একজন অধিক সামর্থ্যবান ব্যক্তি কোনো অভাবী দরিদ্রকে  প্রদান করে থাকেন। ‘আল-ফিতর’ অর্থাৎ রোজা ভঙ্গ করা। অতএব, এর অর্থ দাঁড়ায়; এটা এমন এক সদকাহ যা একজন রোজাদার রমজান মাসে সিয়ামের নির্দেশ পালন করার পর ১ শাওয়াল যেদিন প্রথম রোজা রাখা বন্ধ করবেন সেদিন যে সদকাহ দিয়ে থাকেন তাই সদকাতুল ফিতর। আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশে পুণ্যের উদ্দেশ্যে যে বাধ্যতামূলক বা ঐচ্ছিক ‘দান’ সম্পাদন করা হয়, তা-ই সদকাহ। এখানে এ সদকাহ  যেহেতু রাসূল করিমের  প্রত্যক্ষ নির্দেশে সম্পাদিত হয় তাই ওয়াজিব। সদকাতুল ফিতরকে হাদিস শরিফে জাকাতুল ফিতর নামেও অভিহিত করা হয়েছে। এ সদকাহটি আমাদের দেশে ‘ফিতরা’ নামে অভিহিত। ইমাম নাওয়াভি এ পরিভাষাটির উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন, এটি মূলত আরবি পরিভাষা না হলেও  ফোকাহাদের মধ্যে এর ব্যাপক প্রচলন, একে ‘জাকাত’ ও ‘সালাত’-এর অনুরূপ একটি স্বতন্ত্র পরিভাষার মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ‘সদকাতুল ফিতর’-এর যৌক্তিকতা : এ সদকাহর প্রধান কারণ হচ্ছে ঈদের দিনে ফকির-মিসকিনদের প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং তাদের ঈদের আনন্দে শরিক করা। যাতে করে এ উৎসবের দিনে খাবারের জন্য তাদের কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগতে না হয়। এর আরো একটি উদ্দেশ্য হলোÑ রমজানের রোজা রাখতে গিয়ে আমাদের যেসব ক্রটি-বিচ্যুতি হয়ে গেল তার প্রতিবিধান। এ প্রসঙ্গে হজরত ইবনে আব্বাস রা: বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দেয়া যায়। তিনি বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সা: জাকাতুল ফিতর বাধ্যতামূলক করেছেন। সদকাতুল ফিতর’ কার ওপর ওয়াজিব এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার এখানে সুযোগ নেই। তবে সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায়, প্রত্যেক স্বাধীন মুসলিম নর-নারী যিনি ঈদের দিনে নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী তার ওপর বাধ্যতামূলক। তিনি নিজের পক্ষে, তার স্ত্রী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান-সন্তানাদিদের পক্ষে এ সদকাহ আদায় করবেন। ইমামদের অনেকেই নিসাবের অধিকারী হওয়ার শর্ত করেননি। তাদের মতে, যদি কেউ সদকাতুল ফিতর আদায় করার সামর্থ্য রাখে তাকেও এ সদকাহ আদায় করতে হবে। চাই তিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী না হবেন। ‘সদকাতুল ফিতর’-এর পরিমাণ  প্রসঙ্গ : ‘সদকাতুল ফিতর’-এর পরিমাণ সংক্রান্ত বিষয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে নিম্নোক্ত হাদিসগুলোর উল্লেখ করা যায় : ১. হজরত ইবনে উমর রা: বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সা: (মুসলিম) জনতার ওপর ‘সদকাতুল ফিতর’ বাধ্যতামূলক করেছেন, (যার পরিমাণ হলো) এক সা খেজুর অথবা এক সা জব। এটা স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে  প্রত্যেক স্বাধীন মুসলিম অথবা দাসের ওপর  প্রযোজ্য। বুখারি (৩/৩৬৭), মুসলিম (২/৬৭৭)। পর্যালোচনা : গরিবদের স্বার্থ সংরক্ষণের খাতিরে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ নির্ধারণের  ক্ষেত্রে নিম্নরূপ পলিসি গ্রহণ বাঞ্ছনীয়Ñ ক. ধনীদের জন্য এসব বস্তুর মধ্যে যার মূল্য সর্বোচ্চ তার এক সা পরিমাণ। যেমনÑ কিশমিশ। খ. উচ্চ-মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে যে বস্তুর মূল্য মাঝামাঝি তার এক সা পরিমাণ। যেমনÑ খেজুর। গ. নিম্ন মধ্যবিত্তদের  ক্ষেত্রে যে বস্তুর মূল্য সর্বনিম্ন তার এক সা পরিমাণ। যেমনÑ গম বা জব হবে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণের ভিত্তি। সদকাতুল ফিতরের নিসাব নির্ধারণের  ক্ষেত্রে উপরি উক্ত নীতিমালা অবলম্বনই শরিয়াহর মূল স্পিরিটের সাথে অধিকতর সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করি। কারণ একজন ব্যক্তি যিনি কোটি টাকার মালিক এবং হয়তো লক্ষাধিক টাকা জাকাত বাবদ আদায় করে থাকেন, তার উচিত হবে না সর্বনিম্ন বস্তুর দামে সদকাতুল ফিতর আদায় করা। পক্ষান্তরে একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত যিনি ঐচ্ছিকভাবেই সদকাতুল ফিতর আদায় করছেন তাকেও সর্বোচ্চ মূল্যের বস্তুর বাজার দরে সদকা দিতে বাধ্য করাও সমীচীন হবে না। আধুনিক যুগের প্রখ্যাত ফকিহ সাইয়িদ সাবিক সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন, সদকাতুল ফিতরের ওয়াজিব পরিমাণ হচ্ছে এক সা গম অথবা জব অথবা  খেজুর অথবা কিশমিশ অথবা পনির অথবা চাল অথবা ভুট্টা ইত্যাদি। (ফিকহুস সুন্নাহ ১/৩৬৪)। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে বরং এক সা পরিমাণ খেজুর বা কিসমিসের মূল্যই কমপক্ষে দুই সা পরিমাণ গমের মূল্যের  চেয়েও অধিক। অতএব অর্ধ সা পরিমাণ গমকে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হিসেবে চিহ্নিত করা মোটেই যুক্তিযুক্ত হবে না বরং উপরিউক্ত দ্রব্যগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে এক সা হবে স্ট্যান্ডার্ড। তা ছাড়া এগুলোর  কোনটিকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে তা নির্ধারিত হবে দাতার সামর্থ্যরে বিচারে। প্রসঙ্গত এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা সমীচীন মনে করি, হজরত আবু সাইদ খুদরি বর্ণিত হাদিসে ‘অথবা এক সা পরিমাণ খাবার’ এর আলোকে আমাদের  দেশের জন্য গম, খেজুর, জব বা কিশমিশের বিকল্প হিসেবে এক সা পরিমাণ (৩.৩ কেজি) চাল অথবা এর দামও সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমনটি সাইয়িদ সাবিক উল্লেখ করেছেন। এতদ সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লিখিত হাদিসগুলো ও ইসলামের স্পিরিট অনুযায়ী আমাদের দেশের বাজার দরের আলোকে সদকাতুল ফিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হবে এক সা গমের দাম যা নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য প্রযোজ্য। মধ্যম নিসাব হবে এক সা খেজুরের দাম বা ২০০ থেকে ৪০০ টাকা যা উচ্চ-মধ্যবিত্তের জন্য  প্রযোজ্য এবং উচ্চতর নিসাব হবে ৫০০  থেকে ৬৬০ টাকা যা উচ্চবিত্তদের জন্য প্রযোজ্য। এখানে আরো উল্লেখ্য, বাজারে যেসব দ্রব্যের মান ও মূল্যমানে অনেক তফাত বিদ্যমান তার কোনটিকে ভিত্তি করা হবে তা-ও নির্ধারিত হবে দাতার ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহারের অগ্রাধিকারের আলোকে। যেমন  কেউ ব্যক্তি পর্যায়ে ২০০ টাকা দামের কিশমিশ ব্যবহার করলে তিনি ২০০ টাকা হিসেবে এক সা কিশমিশের দাম দেবেন ৬৬০ টাকা। অন্যজন ৬০ টাকা দামের খেজুর ব্যবহার করলে তিনি ৬০ হিসেবে এক সা খেজুরকে ভিত্তি ধরবেন। চালের ক্ষেত্রেও অভিন্ন পলিসি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নীরব

দৌলতপুরে আবারো গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে অভিনব কায়দায় মুক্তিযোদ্ধার ১২ হাজার টাকা ছিনতাই

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে অভিনব কায়দায় আবারো এক মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ১২ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়েছে একটি চক্র। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর শাখা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ১২ হাজার টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকের বাইরে বের হলে স্থানীয় একটি ছিনতাইকারী চক্র কৌশলে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীর গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে তা পরিস্কার করার জন্য বলে। এসময় মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীকে ময়লা বা নোংরা পরিস্কার করার জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরের মসজিদে নিয়ে যায় ওই ছিনতাইকারীচক্রের এক সদস্য। সেখানে টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনতাইকারী চক্রের ওই সদস্য হাতে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীকে মসজিদের ট্যাপে গিয়ে পোষাকে লেগে থাকা নোংরা পরিস্কার করতে বলে। মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলী ছিনতাইকারী চক্রের ওই সদস্যের মিষ্টি কথায় কিছু না বুঝেই টাকা ভর্তি ব্যাগটি তার হাতে দিয়ে মসজিদের ট্যাপের পানি দিয়ে পোষাকে লাগানো নোংরা পরিস্কার করতে গেলে ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী চক্রের ওই সদস্য। নোংরা পরিস্কার করে এসে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলী টাকাসহ ওই ছেলেকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীর কান্না শুনে স্থানীয়রা ছুটে গেলে কান্নাজড়িত কন্ঠে মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলী টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি তাদের জানায়। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার বিষয়টি দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারকে জানানোর জন্য বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীকে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষনিক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। গত ৩ মে সিরাজনগর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ৩০ হাজার টাকা একই কায়দায় ছিনতাই করে নেয় ওই চক্রটি। গতকাল সোমবার মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীর ১২ হাজার টাকা একইভাবে ছিনতাই করে নেয় একই চক্র। একইভাবে এরআগে এক মুক্তিযোদ্ধাসহ আরো ৮জন ব্যক্তির টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। একের পর এক টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নীরব রয়েছে। এছাড়াও এ বিষয় নিয়ে উপজেলা পরিষদের আইন শৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার আলোচনা করা হলেও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে আর অর্থ হারিয়ে প্রতারিত হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষ। বিষয়টি দেখার জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগীসহ সর্বসাধারণ। টাকা ছিনতাই হওয়া মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজ আলীর বাড়ি উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের আমদহ গ্রামে। এবিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, আমার কাছে টাকা ছিনতাইয়ের বিষয়ে কেউ জানায়নি। তবে আমি দৌলতপুর থানার ওসিকে অবহিত করেছি বিষয়টি দেখার জন্য।

আওয়ামীলীগ নেতাসহ আহত ৩, আটক -১

কুষ্টিয়া শহরে লকডাউনকে কেন্দ্র করে দু’গ্র“পের সংঘর্ষ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়ীা এলাকায় লকডাউনকে  কেন্দ্র করে দু’গ্র“পের সংঘর্ষে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আলিম সহ ৩ জন  আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সাইদুল  হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়িয়ার মসজিদপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, রবিবার মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকায় আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি করোনা পজেটিভ হওয়ায় তার বাড়ী লকডাউন করেন উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু আজ (সোমবার) সকালে লকডাউন অমান্য করে ওই বাড়ির লোকজন বাইরে বের হলে স্থানীয়রা বাধা  দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুলের স্বজনরা হামলা চালালে আলিমের লোকজনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় আশরাফুলের স্বজনরা আব্দুল আলিম সহ তিন জনকে কুপিয়ে যখম করে। পরে স্থানিয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ  মোতায়েন রাখা হয়েছে।

বিএনপি’র ক্রমাগত মিথ্যাচার ফৌজদারি অপরাধের শামিল – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির ক্রমাগত জঘন্য মিথ্যাচার ফৌজদারি অপরাধের শামিল। গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ দফতরে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির সাম্প্রতিক নানা মন্তব্যের প্রতি সাংবাদিকরা তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি একথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘করোনা দুর্যোগে মানুষের জীবন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনার মধ্যে একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। ছয় কোটিরও বেশি মানুষ আজ সরকারের ত্রাণ ও সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায়। পাশাপাশি আরও এক কোটির বেশি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি মাঝে মধ্যে ঢাকা ও আশপাশে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে ফটোসেশন করে দুই-তিনশ’ মানুষকে ত্রাণ দিতে গিয়ে বিষোদগার করছে। যারা জেগেও ঘুমায়, তাদের ঘুম ভাঙানো যায় না। প্রকৃতপক্ষে সরকার যেভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে, এতে বিএনপি প্রচ- হতাশ। সেই হতাশা থেকেই তারা মিথ্যা বক্তব্যগুলো রাখছে।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি, বিশেষ করে দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যেভাবে মিথ্যাচার করছেন, তার এই মিথ্যাচার ফৌজদারি অপরাধের শামিল।’ ত্রাণ বিতরণ অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ বিতরণে সব দলের মানুষকে আনা হয়েছে। যারা অন্য দল করে তারাও আছে, যারা আওয়ামী লীগকে গালি দেয়Ñএমনকি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিষোদগার করে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তারাও এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। ৬৪ হাজারের বেশি স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির মধ্যে দুর্নীতিতে ৫৫ জন অভিযুক্ত, যা ০.০৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক হাজারে একজনও নয়। ত্রাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির ফলেই এরা শনাক্ত হয়েছে।’ ৫০ লাখ পরিবারকে এককালীন ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরির অবকাশ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তিন স্তরের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে এটি সরাসরি গ্রহীতার কাছে যাচ্ছে, কোনও মাধ্যমে না। জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ভোটার আইডি নম্বর, নাম, ঠিকানা, পিতার নাম ও মোবাইল নম্বর না মিললে যাচ্ছে না। কেউ তালিকা দিলেই পাবেন, তা নয়, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই করেই দেওয়া হচ্ছে।’

সিরিয়া ও ইরাকে মার্কিন সেনারা থাকতে পারবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা

ঢাকা অফিস ॥ আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন বিশ্বব্যাপী মার্কিন সরকারকে ঘৃণিত করে তুলেছে। ইরাক বা সিরিয়ায় মার্কিন সেনারা থাকতে পারবে না। তাদেরকে চলে যেতে হবে। তাদেরকে এসব দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ উজমা খামেনি এ কথা  বলেছেন। রোববার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দেয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন।  তিনি বলেন, বিশ্বের বহু দেশে এমনকি আমেরিকার ভেতরেও মার্কিন পতাকায় অগ্নিসংযোগ করা হয়; আর এ ঘটনা বিশ্ববাসীর অন্তরে আমেরিকার প্রতি ঘৃণার মাত্রা তুলে ধরে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, শুধু সাধারণ মানুষ নয় আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরাও নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতার সময় মার্কিন নেতৃবৃন্দের প্রতি বিতৃষ্ণা ও ঘৃণা উগড়ে দেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের প্রতি বিশ্ব জনমতের ঘৃণার প্রধান কারণ, সেদেশের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেপরোয়া ও যুক্তিহীন আচরণ এবং বাগাড়ম্বর। অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকা বিশ্বব্যাপী গণহত্যা, অপরাধযজ্ঞ, অন্যায় আচরণ, সন্ত্রাসবাদ লালন, স্বৈরাচারী ও গণধিকৃত সরকারগুলোর প্রতি সমর্থন এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের কারণে নিন্দিত ও ঘৃণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতি ও করোনাভাইরাস সামাল দিতে না পারার কারণে আমেরিকার অভ্যন্তরে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। খামেনি বলেন, আমেরিকার বলদর্পিতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার কারণেই বিশ্বব্যাপী ইরান সুখ্যাতি ও সম্মান অর্জন করেছে। তবে ইরানি জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি এবং ইরানের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার কাজে এখনো আমেরিকা হাল ছাড়েনি। কিন্তু আল্লাহতায়ালা শত্র“র এ অপচেষ্টার উল্টো ফল দিয়েছেন।

 

নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই বিএনপির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ করোনা সংকটে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন না করে এবং জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এমন অভিযোগ করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই বিএনপির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সংকটের পরীক্ষিত নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে চলমান দুর্দিন কেটে যাবে এবং সংকটের রাত যত গভীর হবে সম্ভাবনার সুবর্ণ সকাল ততই ঘনিয়ে আসবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদকে সামনে রেখে দলে দলে মানুষ গ্রামের দিকে যাচ্ছে, এছাড়াও কেনাকাটার নামে শপিংমলে অতিরিক্ত ভিড় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই সকলকে যার যার অবস্থানে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের ছুটি কাটানোর অনুরোধ করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংকটের শুরু থেকেই অসহায় মানুষের পাশে রয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসন্ন ঈদে কর্মহীন বেকার ভাসমান মানুষের পাশে থাকারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, করোনাযুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে যারা যুদ্ধ করছেন তাদের মনোবল ও হতাশ না হয়ে সাহসের সাথে কাজ করতে হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই যুদ্ধে জয় হবো ইনশাআল্লাহ।

প্রতিহিংসায় মরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘করোনা মহাদুর্যোগে বিএনপি মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, কাজ করছে। এই প্রতিহিংসায় মরে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির শঙ্করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এ কথা বলেন। এতে বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রিজভী বলেন, ‘বিএনপি সারাদেশের অসহায় দুস্থ কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিহিংসায় ভুগছে সরকার। এ কারণে আমাদের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গুম করা হচ্ছে। এটা কোনো সরকারের নিদর্শন হতে পারে না। যারা ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচার, মানুষের কথা শুনতে পারে না, তারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ লাখ মানুষকে আর্থিক সহায়তা করবেন। এখানেও চলছে বাটপারি। ৪০ জনের টাকা যাবে একজনার বিকাশ নম্বরে। এবং সেটা মেম্বারের একজন লোকের। তাতে তো দেখা যাচ্ছে গরিব মানুষের নাম নেই। এখনেও গরিব, অসহায় মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। সব তাদের আত্মীয়-স্বজনের নাম। তাহলে যারা গরিব মানুষের টাকা চুরি করে আত্মসাৎ করে, এরা কি মানুষ? এদের মানুষের প্রতি কোনো দরদ নেই বলেই আজকে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। অথচ জনগণের টাকা নিয়ে নয়ছয় করছে সরকার। শুধু আওয়ামী লীগের লোকেরাই ত্রাণ আত্মসাৎ করছে না, প্রশাসনের লোকও জড়িত। তারা মনে করে সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি আমরা। আমরা যত চুরি করি, ডাকাতি করি, অন্যায় করি, সরকার আমাদের কিছু বলতে পারবে না। জনগণের ত্রাণ আওয়ামী লীগের তথাকথিত মেম্বার চেয়ারম্যান ও দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে। এই হলো সরকারের মানবতা।’ চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘চিকিৎসার অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। রাস্তাঘাটে লাশ পড়ে থাকছে। ৯০ পার্সেন্ট হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য তারা করেছে ফ্লাইওভার। তারা তৈরি করেছে ক্যাসিনো। তাদের দলের নেতাদের অফিসে পাওয়া যায় হাজার হাজার কোটি টাকা। আর এসব হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা।’

কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে পিপিই দিলেন অধ্যক্ষ মোফাজ্জেল হক

নিজ সংবাদ  ॥ কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন কাজে নিয়োজিতদের মধ্যে পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেছেন আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সাবেক সদস্য এবং  বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা  শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ মোফাজ্জেল হক। গতকাল সোমবার দুপুরে পৌর গোরস্থানে তিনি এ পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেন। দাফন কাজে নিয়োজিতদের পক্ষে মধু  পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ মোফাজ্জেল হক বলেন, দাফন কাজে নিয়োজিতরা যেন করোনায় আক্রান্ত না হয়, সেই কারণেই আমার এ পিপিই বিতরণ। এ সময় তিনি দাফনকাজে নিয়েজিতদের উদ্দেশ্যে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফনের আহবান জানান। পিপিই বিতরণকালে এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ জেলা শাখার সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম সিদ্দিক কচি, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন, যুুুুবলীগ নেতা আলী নিশানসহ অন্যান্য  নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ  মোফাজ্জেল হক করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় প্রতিরোধে বহুমুখী সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে চলেছেন।  এর আগে তিনি কুষ্টিয়া মহাশশ্মানে পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেন।