প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ৬০ ভাগ বাড়িভাড়া মওকুফের আবেদন

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত চলমান সাধারণ ছুটিতে প্রতি মাসের বাড়িভাড়া ৬০ শতাংশ কম নিতে বাড়ির মালিকদের প্রতি নির্বাহী আদেশ জারি করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। গতকাল রোববার  প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সারাদেশ সরকার ঘোষিত ছুটিতে লকডাউনে থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় আপনার নির্বাহী আদেশে প্রতিমাসের বাসাভাড়ার শতকরা ৬০ ভাগ মওকুফ করার আবেদন জানাচ্ছি। আইনজীবীর করা আবেদনে আরও বলা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বাংলাদেশের প্রধান অভিভাবক। দেশের মানুষ আজ মারাত্মক সংকটে। করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন সরকারি সাধারণ ছুটি থাকায় মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন-জীবিকা নির্বাহ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়ার জন্য সমাজের অনেক ভদ্র পেশাজীবীদের বাড়িওয়ালা কর্তৃক প্রতিনিয়ত অপমানের শিকার হতে হচ্ছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় বাড়ি ভাড়া না দিতে পারায় এক নারীকে আগুন ধরিয়ে দেন বাড়িওয়ালার ছেলে। এদিকে আবার ঢাকায় বাড়ির মালিক তার ভাড়াটিয়াকে রাতের বেলায় বের করে দেন রাস্তায়। কবে দেশ ও জাঁতি এই করোনার মহামারি থেকে রক্ষা পাবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমরা মধ্যবিত্ত পেশাজীবীরা নিজের অভাবের কথা লোক লজ্জায় কাউকে বলতেও পারি না, আবার কষ্টও সহ্য করা যাচ্ছে না। অতএব দেশের প্রধান অভিভাবক হিসেবে আপনার নিকট আমাদের আবেদন করোনার এই ভয়াল পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় সাধারণ পেশাজীবীদের এপ্রিল মাস থেকে বাসাভাড়ার শতকরা ৬০ ভাগ মওকুফ করার জন্য সরকারের প্রধান হিসেবে আপনার নির্বাহী আদেশ প্রার্থনা করছি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়ার উদ্দ্যোগে কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে বারি উদ্ভাবিত উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ

নিয়ামুল হক ॥ কুষ্টিয়ায় করোনা পরবর্তী দূর্যোগ মোকাবেলা ও পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটাতে কৃষকের বসত বাড়ির পতিতো জায়গায় শাক-সবজি উৎপাদনের লক্ষে বিনা মূল্যে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়া অফিস। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানের প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সরেজমিন বিভাগ বিএআরআই’র সৌজন্যে বারি উদ্ভাবিত গ্রীস্মকালীন টমেটো ও বিশ প্রকার উন্নত জাতের শাক-সবজির বীজ বিতরণ করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়ার উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বারি কুষ্টিয়ার ড. জাহান আল মাহমুদ। ড. জাহান আল মাহমুদ জানান, মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের সবজি চাহিদা মেটাতে বসত বাড়ীর পতিতো জায়গায় চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকরা যাতে করে নিজেদের চাহিদা নিজেরাই মেটাতে পারে সেই লক্ষে শতাধিক কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন জাতের উন্নত মানের শাক-সবজির বীজ বিতরণ করছি। বসত বাড়ির বাড়তি জায়গা চাষাবাদের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে কিছুটা বাজারে বিক্রি করতে পারবে, এতে কৃষকরা উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।

প্রাণঘাতী করোনা যুদ্ধে মানবিক সেবায় যশোর সেনানিবাস

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে খুলনা-যশোর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলছে সীমিত পরিসরে লকডাউন। এই অঞ্চলের মোট ১০ টি জেলা করোনামুক্ত রাখতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর গ্রামের শালনগর ইউনাইটেড একাডেমিতে যশোর  সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। স্থাপনকৃত এই ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গরিব ও দুস্থ নারী-পুরুষদেরকে মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। রবিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর এই চিকিৎসা সেবা পরিদর্শন করতে আসেন যশোর সেনানিবাসের আর্টিলারি ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আই.কে.এম মোস্তাহসেনুল বাকী। তিনি বলেন, জাতির এই দুঃসময়ে সাধারন জনগনের জন্য চিকিৎসা সেবাসহ সব ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম সেনাবাহিনী অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি তারা প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে ন্যায্যমূল্যে সবজি ক্রয় করে চাষীদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত  রেখেছে। এই ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

৩০০ মানুষকে রান্না করা খাবার দিলেন অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন

তিন শতাধিক ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। কুষ্টিয়া শহর বিএনপি’র উদ্যোগে রান্না করা খাবার শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া শহর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক একে বিশ্বাস বাবু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শহর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, কুষ্টিয়া পৌর ১ নং ওয়ার্ডের সভাপতি হাজী আলী আফসার মল্লিক পিন্টু, ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, ১নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন পাভেল, সহ-সভাপতি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল টিটু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাব্বি, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম রুপল, জেলা শ্রমিক দলের সদস্য শামসুল হোসেন। চীনে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের  ছোবল থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি বাংলাদেশ। একটু দেরিতে হলেও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস দিন দিন বাংলাদেশেও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এই ভাইরাসের কারণে কুষ্টিয়াসহ দেশের প্রায় সর্বত্রই লকডাউন চলছে। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। এসব অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন শহর বিএনপি। শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন রান্না করা খাবার। অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

দ্রুত পাঁচ হাজার টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এফএনএস: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে দুই হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা খাতকে আরো শক্তিশালী করতে নতুন অন্তত পাঁচ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই এই টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ দেওয়া হবে। গতকাল রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে করোনা মোকাবিলায় দুই হাজার বেডের অস্থায়ী হাসপাতাল উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বসুন্ধরা করোনা ডেডিকেটেড অস্থায়ী হাসপাতালটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোভিড হাসপাতাল উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মাত্র ২০ দিনের মধ্যে এই হাসপাতালটি (বসুন্ধরা অস্থায়ী কোভিড হাসপাতাল) সরকার প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছে। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল। এখানে অত্যাধুনিক মোট ২ হাজার ১৩টি আইসোলেটেড শয্যা রয়েছে, যার মধ্যে ৭১টির সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার যুক্ত করা রয়েছে। এ ছাড়া এখানে আরো অন্তত ৪০০টি পোর্টেবল অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। আইসিইউ ব্যবস্থাসহ এই হাসপাতালটি উন্নত দেশের কোভিড অস্থায়ী হাসপাতাল থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।’ জাহিদ মালেক বলেন, একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় দেশে এখন প্লাজমা থেরাপির কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আমেরিকার উৎপাদিত ওষুধ রেমডেসিভির এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে এবং সরকারের কাছে এই ওষুধ মজুদ করা হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া নন কোভিড হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের বাধ্যতামূলক চিকিৎসার জন্য সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে মানুষ যেন করোনার লক্ষ্মণ থাকলে তার তথ্য গোপন না করেন সে ব্যাপারেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সবার কাছে অনুরোধ করেন। লকডাউন শিথিল করা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, সরকার প্রথম থেকেই একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় কাজ করেছে। যখন লকডাউন জরুরি ছিল তখনই লকডাউন করা হয়েছে, যখন শিথিল করা প্রয়োজন তখন স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা সাপেক্ষে শিথিল করা হয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে সরকার যা কিছু করছে তা ভেবেচিন্তেই করছে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারলে করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি দেশ অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রেহাই পাবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান,স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজামসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

সরকার আমাদের দেখলে গ্রেপ্তার করে এ অবস্থায় ত্রাণ নিয়ে ছুটছি – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকার আমাদের রাস্তায় দেখলে গ্রেপ্তার বা গুম করে। সে অবস্থার মধ্যে অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যাচ্ছি। আর জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ সরকারি দলের লোকজন চুরি ও আত্মসাৎ করছে।’ ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ডুবাইলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গতকাল রোববার সকালে দুস্থ, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে এ কথা বলেন রিজভী। ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাখারুল ইসলাম রানার উদ্যোগে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় রিজভী বলেন, ‘চারদিকে দুর্ভিক্ষের ছায়া নেমে এসেছে। মানুষ না খেয়ে মরছে। সরকারি দলের লোকজনের ঘরের ভেতর অথবা মাটির নিচে ত্রাণের চাল পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের লোকজন ৫০০ টাকা করে নিয়ে তালিকা করছে, পত্র-পত্রিকায় খবর এসেছে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শেখ মোহাম্মদ ইসহাক, রসির আহাম্মেদ, আবদুল গফুর, মাহাবুব রহমান ফোরকান প্রমুখ।

 

কুমারখালীতে গরীব ও দুস্থদের পাশে ব্যাচ ৯৬’র সতীর্থরা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্যাচ ৯৬’র সতীর্থদের উদ্যোগে ২২০ জন কর্মহীন অসহায়. গরীব ও দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। গত শনিবার ও রবিবার পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরীব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী (মিনিকেট চাল ৫ কেজি, মসুর ডাল ১ কেজি, আলু ২ কেজি, তৈল ১ লিটার, পিয়াজ ১ কেজি, সেমাই ১ প্যাকেট ও চিনি ১ কেজি) বিতরণ করা হয়। ব্যাচ ৯৬’র সতীর্থদের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পরিচালক সুজয় চাকী জানান, ব্যাচ ৯৬’র সতীর্থদের সমন্বিত উদ্যোগে এ পর্যন্ত ২২০ জন গরীব অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তিকে ত্রাণ সামগ্রী করা হয়েছে। এ ছাড়াও কুমারখালীর জিজা বাগান এতিম খানায় ৯ হাজার টাকা, ৫ জন দুস্থকে ২৫ হাজার টাকা, ৮ জনকে ২০ হাজার টাকা ও ১৪ জনকে ১৪ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। গত শনিবার ও রবিবার সুজয় চাকী, ডা. শোয়েবুর রশীদ পলাশ, শিমুল মালিথা, আলমগীর হোসেন ও মেহেদী হাসান উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরীব ও দুস্থ ব্যক্তিদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী ও নাগদ টাকা তুলে দিয়েছেন। এ সময় তারা বলেছেন, কর্মহীন, গরীব ও দুস্থ মানুষের সহায়তায় ব্যাচ ৯৬’র সতীর্থদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

গাংনীতে অস্বচ্ছলদের ত্রাণ তালিকায় স¦চ্ছলদের নাম

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউপির (৭ নং ওয়ার্ড) লক্ষ্মীনারায়ণপুর ধলা গ্রামের মেম্বর টুটুলের বিরুদ্ধে সরকারী ত্রাণের মাষ্টাররোল জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে অস্বচ্ছল, অসহায়, কর্মহীন পরিবারের জন্য  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী  ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট মেম্বরের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরীতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসাধু মেম্বর টুটুল তার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে স্বজনপ্রীতি-আত্মীয়করণ করে অস¦চ্ছলদের বাদ দিয়ে স¦চ্ছলদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে চাউল আত্মসাত করেছেন। তালিকাভূক্ত উপকারভোগীদের চাউল না প্রদান করে জালিয়াতির মাধ্যমে সেই চাল আত্মসাত করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ে সকল ইউনিয়নে গরীব, দুঃস্থ অসহায় জন্য তালিকা প্রণয়ন করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। ৭নং লক্ষ্মীনারায়ণপুর ধলা গ্রামে ১৪৮ জনের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। উক্ত তালিকায় অনেক স¦চ্ছল ব্যক্তি যাদের পাকা বাড়ি, গাড়ি ও অনেক জমিজমা রয়েছে তাদের নামও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। চাউল বিতরণ শেষে মাত্র ৩১ জনের মাষ্টার রোল যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, লক্ষ্মীনারায়নপুর ধলা গ্রামের  কাবাতুল্লাহর ছেলে কিবরিয়া (যার সিরিয়াল নং-৫০৬), মৃত বাদল মন্ডলের ছেলে হেলাল (যার সিরিয়াল নং- ৫০৭),ফরমান মন্ডলের ছেলে নেহার (যার সিরিয়াল নং- ৫৩৮), একরামুলের ছেলে শাহজাহান (যার সিরিয়াল নং- ১৩৪), মুনকের এর ছেলে লালচাঁদ (যার সিরিয়াল নং- ১২৪), আতিয়ারের ছেলে সোহেল (যার সিরিয়াল নং-১২৯), আক্কাছ আলীর ছেলে জুবায়ের হোসেন, এরা কেউ চাউল উত্তোলন না করলেও মাষ্টার রোলে এদের টিপসহি বা স্বাক্ষর রয়েছে। এখানে প্রতীয়মান হয়  যে, মেম্বর টুটুল পরিকল্পিতভাবে ভূয়া নাম তালিকাভুক্ত করে ত্রাণের চাউল আত্মসাত করেছেন। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে  উপকার ভোগীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিলে তারা জানাই আমরা ত্রাণের চাউল পাইনি। শুনছি মেম্বর টুটুল তার নিজস্ব লোক দিয়ে টিপসহি দিয়ে চাউল উত্তালন করেছেন। ধলা গ্রামের সাবেক মেম্বর ও উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমানসহ গ্রামের অনেকেই অভিযোগ তুলে জানান, টুটুল মেম্বর ভূয়া তালিকা করে শুধু চাল আত্মসাত করেনি। সরকারীভাবে ভর্তূকির সার, বিধবাভাতা, বয়স্কভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি কার্ড বিতরণেও অনেক টাকা পয়সা  নিয়েছেন। ত্রাণের তালিকা সঠিক ভাবে যাচাই-বাছাই করলে আরও অনেক ভূয়া নাম পাওয়া যাবে বলে তিনি পুণরায় যাচাই করার আবেদন জানান। এনিয়ে অভিযুক্ত মেম্বর টুটুলের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, তালিকানুযায়ী  সকলেই চাল গ্রহণ করেছে। আমার কাছে চাউল বিতরণের ভিডিও রয়েছে। আমি সব দেখাতে পারবো। অভিযোগ খন্ডনে তিনি বলেন, কিবরিয়ার চাউল পরিবর্তে তার ভাই বকর উত্তোলন করেছে। হেলালের পরিবর্তে তার ছোট মা মিনা উত্তোলন করেছে। শাহজাহানের নামের তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া জুবায়ের ও লালচাঁদের নাম কোন তালিকাতে নেই। এদের নাম পরিবর্তন করে অন্যদের দেয়া হয়েছে।  তবে মাষ্টার রোলে তাদের টিপসহি কিভাবে দেয়া হলো এর জবাব তিনি দেননি। এ ব্যাপারে কাথুলী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা জানান, আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ত্রাণের মালামাল বিতরণ করেছ্।ি মানুষ ভূলের উর্দ্ধে নয়। দু’একটি ভূল হতেই পারে। তালিকাভূক্ত একজনের ত্রাণ  তার নিকটাত্মীয় তার ভাই, মা, বোন নিয়ে যেতে পারে। দু’জন ট্যাগ অফিসারের সাক্ষাতে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া তালিকার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে চেয়ারম্যান আরও বলেন, একজনের  পাকা বাড়ি রয়েছে কিন্তু কর্মহীন হয়ে পড়ায় তার পরিবারে খাবার নেই। সে ক্ষেত্রে তার নামটা দেয়া হয়েছে। এটা অপরাধের কিছু না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট মেম্বরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, গ্রামে প্রতিপক্ষ থাকে। আপনারা জাতির বিবেক, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে যেন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান জানান, ত্রাণ বিতরণে কোনরকম অনিয়ম করা যাবে না। যদি অনিয়ম হয়ে থাকে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কার্যকর পদক্ষেপেই দেশ করোনায় কিছুটা ভালো অবস্থানে – ওবায়দুল কাদের  

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, করোনা সংকটের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেই বাংলাদেশ এখনো বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এই সংক্রমণ থেকে কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে। গতকাল রোববার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস এবং বিভিন্ন সংগঠনের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসাসরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এসেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা,নিষ্ঠা, মেধামনন, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এক সময়ের দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত বাংলাদেশ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক,আবদুর রহমান,উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য একেএম রহমতুল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী,দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস,উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কুমারখালীতে সমাজ সেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ৪৫৫ জনকে ত্রাণ সহায়তা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে দুস্থ্য প্রতিবন্ধীসহ ৪৫৫ জনকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান ৫৫ জন দুস্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে ঈদ সামগ্রী হিসাবে সেমাই, চিনি, পলাও’র চাল, সাবান, তেল ও ডিটারজেন্ট পাউডার তুলে দেন। এ ছাড়াও ৪০০ জন গরীব ও দুস্থ ব্যক্তির হাতে ১০ কেজি চাল ও ২ কেজি আলু তুলে দেন। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ৪ প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। গতকাল রবিবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দু’টি পোষাকের দোকান, একটি হার্ডওয়ার ও একটি ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, সরকারী আদেশ অমান্য করে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অপরাধে দু’টি পোষাকের দোকানে ১৮৬০ সনের দন্ডবিধি ২৬৯ ধারায় ৬ হাজার টাকা, একই অপরাধে একটি সিমেন্ট ও হার্ডওয়ারের দোকানে ১০ হাজার টাকা এবং একটি ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী। এসময় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকলকে সরকারী আদেশ মেনে চলার নির্দেশনা দেন দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী।

যুবলীগ নেতা জেড এম সম্রাট কণ্যা সন্তানের বাবা হলেন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক জেড এম সম্রাট কণ্যা সন্তানের বাবা হলেন। মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছে। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার বেলা ৩টার সময় জেড এম সম্রাটের সহধর্মিণী পাপিয়া সুলতানাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। পরে অপারেশনের মাধ্যমে একটি ফুটফুটে কণ্যা সন্তান, সুস্থ অবস্থায় সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখতে পাই। সংবাদটি মুহুর্তে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, এতে জেড এম সম্রাটের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে জেড এম সায়াদ। আল্লাহ আমার মনের আশা পুর্ন করেছেন, আজ একটি কণ্যা সন্তান হয়েছে নাম রেখেছি আফ্রা আইদা শ্রেয়া। সকলের কাছে তিনি দোয়া চেয়েছেন।

মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে আড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ¬ব। গতকাল রবিবার দুপুরে আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে তার প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ¬ব উলে¬খ করেন, ‘দৌলতপুরের আড়িয়া ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ডে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ’ শিরনামে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আড়িয়া ইউনিয়নে কোন স্বচ্ছল ব্যক্তিকে ভিজিডি কার্ড দেওয়া হয়নি এবং ট্রাক মালিকের মেয়েকে কার্ড দেওয়া হয়েছে এ কথারও কোন ভিত্তি নাই উলে¬খ করে তিনি ওইসব গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এছাড়াও তিনি কিছু প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এবং সুনাম নষ্ট করার জন্য সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কাশ্মীরে ‘গোলাগুলিতে’ ভারতীয় সেনা নিহত

ঢাকা অফিস ॥ ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে ফের সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। এতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার সকালের এ সংঘর্ষে হিজবুল মুজাহিদিনের এক সদস্য নিহত ও আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন; যাদের ‘জঙ্গি’ বলে দাবি করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনও দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলছে বলে জানা গেছে। কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা সূত্রে জানা গেছে, উপত্যকার ডোডা এলাকায় হিজবুল মুজাহিদিন সদস্যরা লুকিয়ে রয়েছে বলে শনিবার রাতে গোপন সূত্রে জানতে পারে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এরপর রাতেই তল্লাশি অভিযান শুরু করে। রাতভর তল্লাশির পর রোববার সকালে ওই এলাকার একটি বাড়িতে হিজবুল মুজাহিদিন সদস্যদের সন্ধান পায় সেনারা। ভারতীয় সেনারা ওই বাড়ির কাছে পৌঁছতেই এলোপাথাড়ি গুলি শুরু করেন তারা। পাল্টা গুলি চালায় ভারতীয় সেনারাও। দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে এক সেনা প্রাণ হারান। আর হিজবুল মুজাহিদিনের এক সদস্য নিহত ও আরেকজন গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে গত ৭ মে সেনার সঙ্গে গুলিতে মৃত্যু হয় উপত্যকায় হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান রিয়াজ নাইকুর। তারও আগে গত ১৭ এপ্রিল নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারায় হিজবুল মুজাহিদিনের ২ সদস্য।

রমজানে গরীবদের হক সদকাতুল ফিতর

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ সদকাতুল ফিতর একটি ইসলামী পরিভাষা। দু’টি শব্দের সমষ্টি তথা ‘সদকাহ’ ও ‘আল-ফিতর’। ‘সদকাহ’ অর্থাৎ দান, যা একজন অধিক সামর্থ্যবান ব্যক্তি কোনো অভাবী দরিদ্রকে  প্রদান করে থাকেন। ‘আল-ফিতর’ অর্থাৎ রোজা ভঙ্গ করা। অতএব, এর অর্থ দাঁড়ায়; এটা এমন এক সদকাহ যা একজন রোজাদার রমজান মাসে সিয়ামের নির্দেশ পালন করার পর ১ শাওয়াল যেদিন প্রথম রোজা রাখা বন্ধ করবেন  সেদিন যে সদকাহ দিয়ে থাকেন তাই সদকাতুল ফিতর। আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশে পুণ্যের উদ্দেশ্যে যে বাধ্যতামূলক বা ঐচ্ছিক ‘দান’ সম্পাদন করা হয়, তা-ই সদকাহ। এখানে এ সদকাহ  যেহেতু রাসূল করিমের  প্রত্যক্ষ নির্দেশে সম্পাদিত হয় তাই ওয়াজিব। সদকাতুল ফিতরকে হাদিস শরিফে জাকাতুল ফিতর নামেও অভিহিত করা হয়েছে। এ সদকাহটি আমাদের দেশে ‘ফিতরা’ নামে অভিহিত। ইমাম নাওয়াভি এ পরিভাষাটির উলে¬খ করে মন্তব্য করেছেন, এটি মূলত আরবি পরিভাষা না হলেও  ফোকাহাদের মধ্যে এর ব্যাপক প্রচলন, একে ‘জাকাত’ ও ‘সালাত’-এর অনুরূপ একটি স্বতন্ত্র পরিভাষার মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ‘সদকাতুল ফিতর’-এর যৌক্তিকতা : এ সদকাহর প্রধান কারণ হচ্ছে ঈদের দিনে ফকির-মিসকিনদের  প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং তাদের ঈদের আনন্দে শরিক করা। যাতে করে এ উৎসবের দিনে খাবারের জন্য তাদের কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগতে না হয়। এর আরো একটি উদ্দেশ্য হলোÑ রমজানের রোজা রাখতে গিয়ে আমাদের যেসব ক্রটি-বিচ্যুতি হয়ে গেল তার প্রতিবিধান। এ প্রসঙ্গে হজরত ইবনে আব্বাস রা: বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দেয়া যায়। তিনি বলেছেন, আল¬াহর রাসূল সা: জাকাতুল ফিতর বাধ্যতামূলক করেছেন। সদকাতুল ফিতর’ কার ওপর ওয়াজিব এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার এখানে সুযোগ নেই। তবে সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায়, প্রত্যেক স্বাধীন মুসলিম নর-নারী যিনি ঈদের দিনে নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী তার ওপর বাধ্যতামূলক। তিনি নিজের পক্ষে, তার স্ত্রী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান-সন্তানাদিদের পক্ষে এ সদকাহ আদায় করবেন। ইমামদের অনেকেই নিসাবের অধিকারী হওয়ার শর্ত করেননি। তাদের মতে, যদি কেউ সদকাতুল ফিতর আদায় করার সামর্থ্য রাখে তাকেও এ সদকাহ আদায় করতে হবে। চাই তিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী না হবেন। ‘সদকাতুল ফিতর’-এর পরিমাণ  প্রসঙ্গ : ‘সদকাতুল ফিতর’-এর পরিমাণ সংক্রান্ত বিষয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে নিম্নোক্ত হাদিসগুলোর উলে¬খ করা যায় : ১. হজরত ইবনে উমর রা: বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন, আল¬াহর রাসূল সা: (মুসলিম) জনতার ওপর ‘সদকাতুল ফিতর’ বাধ্যতামূলক করেছেন, (যার পরিমাণ হলো) এক সা খেজুর অথবা এক সা জব। এটা স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে  প্রত্যেক স্বাধীন মুসলিম অথবা দাসের ওপর  প্রযোজ্য। বুখারি (৩/৩৬৭), মুসলিম (২/৬৭৭)। পর্যালোচনা : গরিবদের স্বার্থ সংরক্ষণের খাতিরে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নরূপ পলিসি গ্রহণ বাঞ্ছনীয়Ñ ক. ধনীদের জন্য এসব বস্তুর মধ্যে যার মূল্য সর্বোচ্চ তার এক সা পরিমাণ। যেমনÑ কিশমিশ। খ. উচ্চ-মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে যে বস্তুর মূল্য মাঝামাঝি তার এক সা পরিমাণ। যেমনÑ খেজুর। গ. নিম্ন মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে যে বস্তুর মূল্য সর্বনিম্ন তার এক সা পরিমাণ। যেমনÑ গম বা জব হবে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণের ভিত্তি। সদকাতুল ফিতরের নিসাব নির্ধারণের  ক্ষেত্রে উপরি উক্ত নীতিমালা অবলম্বনই শরিয়াহর মূল স্পিরিটের সাথে অধিকতর সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করি। কারণ একজন ব্যক্তি যিনি কোটি টাকার মালিক এবং হয়তো লক্ষাধিক টাকা জাকাত বাবদ আদায় করে থাকেন, তার উচিত হবে না সর্বনিম্ন বস্তুর দামে সদকাতুল ফিতর আদায় করা। পক্ষান্তরে একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত যিনি ঐচ্ছিকভাবেই সদকাতুল ফিতর আদায় করছেন তাকেও সর্বোচ্চ মূল্যের বস্তুর বাজার দরে সদকা দিতে বাধ্য করাও সমীচীন হবে না। আধুনিক যুগের প্রখ্যাত ফকিহ সাইয়িদ সাবিক সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ বিষয়ে উলে¬খ করেছেন, সদকাতুল ফিতরের ওয়াজিব পরিমাণ হচ্ছে এক সা গম অথবা জব অথবা খেজুর অথবা কিশমিশ অথবা পনির অথবা চাল অথবা ভুট্টা ইত্যাদি। (ফিকহুস সুন্নাহ ১/৩৬৪)। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে বরং এক সা পরিমাণ খেজুর বা কিসমিসের মূল্যই কমপে দুই সা পরিমাণ গমের মূল্যের  চেয়েও অধিক। অতএব অর্ধ সা পরিমাণ গমকে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হিসেবে চিহ্নিত করা মোটেই যুক্তিযুক্ত হবে না বরং উপরিউক্ত দ্রব্যগুলোর প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে এক সা হবে স্ট্যান্ডার্ড। তা ছাড়া এগুলোর কোনটিকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে তা নির্ধারিত হবে দাতার সামর্থ্যরে বিচারে। প্রসঙ্গত এখানে আরো একটি বিষয় উলে¬খ করা সমীচীন মনে করি, হজরত আবু সাইদ খুদরি বর্ণিত হাদিসে ‘অথবা এক সা পরিমাণ খাবার’ এর আলোকে আমাদের দেশের জন্য গম, খেজুর, জব বা কিশমিশের বিকল্প হিসেবে এক সা পরিমাণ (৩.৩ কেজি) চাল অথবা এর দামও সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমনটি সাইয়িদ সাবিক উলে¬খ করেছেন। এতদ সংক্রান্ত বিষয়ে উলি¬খিত হাদিসগুলো ও ইসলামের স্পিরিট অনুযায়ী আমাদের দেশের বাজার দরের আলোকে সদকাতুল ফিতরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হবে এক সা গমের দাম যা নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য প্রযোজ্য। মধ্যম নিসাব হবে এক সা খেজুরের দাম বা ২০০ থেকে ৪০০ টাকা যা উচ্চ-মধ্যবিত্তের জন্য  প্রযোজ্য এবং উচ্চতর নিসাব হবে ৫০০  থেকে ৬৬০ টাকা যা উচ্চবিত্তদের জন্য প্রযোজ্য। এখানে আরো উলে¬খ্য, বাজারে যেসব দ্রব্যের মান ও মূল্যমানে অনেক তফাত বিদ্যমান তার কোনটিকে ভিত্তি করা হবে তা-ও নির্ধারিত হবে দাতার ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহারের অগ্রাধিকারের আলোকে। যেমন  কেউ ব্যক্তি পর্যায়ে ২০০ টাকা দামের কিশমিশ ব্যবহার করলে তিনি ২০০ টাকা হিসেবে এক সা কিশমিশের দাম দেবেন ৬৬০ টাকা। অন্যজন ৬০ টাকা দামের খেজুর ব্যবহার করলে তিনি ৬০ হিসেবে এক সা খেজুরকে ভিত্তি ধরবেন। চালের ক্ষেত্রেও অভিন্ন পলিসি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

খোকসায় সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালী

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে ভাতাভোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখার অভিযোগ

খোকসা প্রতিনিধি ॥ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীতে বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধি ভাতা ভোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে ভাতাভোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের কয়েক’শ বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধি সোনালী ব্যাংক খোকসা শাখায় আসেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভাতা ভোগীদের ভীড় বাড়তে থাকে। খোকসা বাজারের ব্যাংক এলাকার প্রধান সড়কে মানবজটের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের নজরে এলে প্রায় ৫শ ভাতাভোগীকে রাস্তা থেকে সড়িয়ে পান বাজারের একটি ছাপড়া ঘরে নিয়ে যাওয় হয়। কিন্তু সেখানেও আবার মানবজটের সৃষ্টি হয়। কয়েক ঘন্টা তাদের গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখা হয়। অবশেষে দুপুর গড়িয়ে গেলে এক এক করে ভাতা ভোগীদের টাকা দেওয়া শেষ হয়। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহল। তারা বলছে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যাপক কর্মযোগ্যে চলছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বকে পাত্তা না দিয়ে সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক খামখেয়ালী করে বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধিদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলেছে। উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা মিলিয়ে ৪ হাজার ৪৪৭ জন বয়স্ক, ৩ হাজার ১শ বিধবা ও ১ হাজার ৬৭ জন ভাতা ভোগী প্রতিবন্ধি রয়েছেন। সোনালী ব্যাংকের ৩টি শাখা, জনতা ব্যাংকের একটি ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি শাখার মাধ্যমে ভাতাভোগীদের টাকা পরিশোধ করা হয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারনে ভাতাভোগীদের চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের টাকা ছাড় করা হয়। অন্যান্য ব্যাংকের শাখাগুলো গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে সুবিধাভোগীদের টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু এ পদ্ধতিতে সুবিধাভোগীদের টাকা পরিশোধে বাদ সাধেন সোনালী ব্যাংক খোকসা শাখার ব্যবস্থাপক। চরম করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আগের নিয়মেই সুবিধাভোগীর খবর জানিয়ে দেওয়া হয় ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা গ্রহনের জন্য। রবিবার সকালে ব্যাংকে ভিড় করে ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার প্রায় ৫শ ভাতাভোগী। প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে তারা ব্যাংকের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের পান হাটায় স্থানান্তর করা হয়। উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার যুথি বলেন, করোনা ও ঈদের কারনে এবার একটু আগেই বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধিদের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে স্বস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গ্রামে ক্যাম্প করে সুবিধা ভোগীদের টাকা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। দুই একটি ব্যাংক নিয়ম মানছেনা বলেও তিনি স্বীকার করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের এএসআই তারিকুল বলেন, অন্য ব্যাংকগুলো গ্রামের স্কুলে স্কুলে ক্যাম্প করে ভাতা  ভোগীদের টাকা দিয়েছে। শুধু সোনালী ব্যাংকই এক সাথে এতো লোক এক জায়গায় গাদাগাদি করেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, বাজারগুলোতে জনারণ্য রোধ করতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহন করেছে। সাধারণ মানুষ তা গ্রহন করেছেন। কিন্তু সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার খামখেয়ালী করে বৃদ্ধ প্রতিবন্ধি ও বিধবাদের স্বাস্থ্য ঝুকিতে ফেলেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও তিনি মনে করেন। সোনালী ব্যাংক খোকসা শাখার ব্যবস্থাপক মহাতেকূল ইসলাম বলেন, তারা শুধু ওসমানপুর ইউনিয়নের ৮শ ভাতাভোগীদের মধ্যে টাকা বিতরণ করেছে। ব্যাংক খোলার আগেই ভাতাভোগীরা এসে ব্যাংকের সামনে জটলা করেছিল। পরে তাদের পান বাজারে নিয়ে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে টাকা দেওয়া হয়েছে।

দৌলতপুরে করোনা আক্রান্ত পুলিশসহ দু’জনের বাড়ি লকডাউন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নতুন করে করোনা আক্রান্ত এক পুলিশসহ দু’জনের বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন। শনিবার রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঢাকা থেকে আসা করোনা আক্রান্ত এক পুলিশের বাড়ি লকডাউন করেছে। উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের সাদীপুর এলাকার ইনু মলি¬কের ছেলে এনামুল হকের (৪৫) করোনা পজেটিভ সংবাদ শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস সূত্র নিশ্চিত করার পরই তার বাড়ি লকডাউন করে দেয় প্রশাসন। ঢাকায় পুলিশে কর্মরত এনামুল হক দু’দিন আগে বাড়ি আসলে তার করোনা নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া ল্যাবে পাঠানো হয়। শনিবার সন্ধ্যায় তার করোনা পজেটিভ সংবাদ দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনকে নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়। এদিকে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড় গ্রামের রনি (২৫) নামে এক যুবকের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হলে তার বাড়িও লকডাউন করেছেন দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন। এনিয়ে জেলায় মোট ২৬ জন করোনা আক্রান্ত হলে তারমধ্যে দৌলতপুরেই রয়েছে দুই পুলিশসহ ১১জন।

 

দৌলতপুরে ইয়াবাসহ শিক্ষক ও তার সহযোগি আটক     

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মিনহাজ উদ্দিন (৪৫) নামে এক স্কুল শিক্ষক ও তার সহযোগি রকিবুল ইসলাম রকি (২৬) কে আটক করেছে বিজিবি। শনিবার রাতে উপজেলার মহিষকুন্ডি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় ১৭ পিস ইয়াবা। দৌলতপুর থানা পুলিশ জানায়, স্কুল শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন ও তার সহযোগি রকিবুল ইসলাম রকি মাদক ক্রয় বিক্রয় করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে মহিষকুন্ডি বিজিবি’র টহল দল মহিষকুন্ডি পুরাতন কাষ্টম মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় একটি হোন্ডা মোটরসাইকেলসহ ইনসাফনগর হাইস্কুলের শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন ও তার সহযোগি রকিবুল ইসলাম রকিকে আটক করে। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১৭পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মাদক আইনে মামলা দিয়ে শনিবার রাত ১১টার দিকে স্কুল শিক্ষকসহ ২জনকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করেছে বিজিবি। গতকাল রবিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

লালন মাজারের দান বাক্সের তালা ভেঙ্গে চুরির প্রচেষ্টা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্ এর মাজারের অস্থায়ী (কাঠের) দান বাক্সের তালা ভেঙ্গে চুরির প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। রবিবার সকালে মাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদেম (প্রধান খাদেমের ছেলে) রিপন ৩টি দান বাক্সের তালা ভাঙ্গা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক সবাইকে জানান। খবর পেয়ে লালন মাজার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন এবং মাজার কমিটির সদস্য সচিব ও এনডিসি মোছাব্বেরুল ইসলাম মাজার পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় মাজার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হবে বলে জানা গেছে।  কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে মাজারের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দান বাক্স (কাঠের তৈরী) স্থাপন করা হয়। আর অনুষ্ঠান শেষে সেগুলো সরিয়ে মাজারের নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়। এই দানবাক্সগুলোর মধ্যে ৩টি দানবাক্সের তালা ভাঙ্গা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো দেখে পরিত্যাক্ত মনে হচ্ছে এবং এতে কোন টাকা পয়সা ছিলনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। লালন মাজারের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও আহবায়ক কমিটির সদস্য সেলিম হক জানান, রবিবার সকালে মাজারের প্রধান খাদেমের ছেলে রিপন কাঠের তৈরী দান বাক্সগুলোর মধ্যে তিনটি দান বাক্সের তালা ভাঙ্গা দেখতে পান। দানবাক্সের তালা ভেঙ্গে চুরির খবর পেয়ে মাজার কমিটির আহবায়ক ও জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, মাজার কমিটির সদস্য সচিব ও এনডিসি মোছাব্বেরুল ইসলাম মাজার পরিদর্শন করেছেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে মাজারের মুল সিন্দুকের (আয়রণ) তালা খুলে দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।

মাত্র ১১ মন্ত্রীকে ডাকা হচ্ছে বাজেটের মন্ত্রিসভার বৈঠকে

ঢাকা অফিস ॥ আসছে বাজেট উপলক্ষে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ৪৭ জন মন্ত্রীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১১ জন মন্ত্রীকে ডাকা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ১০ জন সচিব ও সিনিয়র সচিব উপস্থিত থাকবেন। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ সচিবালয়। জাতীয় সংসদের উপসচিব মনিরা বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়। মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী রয়েছেন। কিন্তু দেশে করোনা মহামারি চলায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বৈঠকে। এ ছাড়া বাজেট পেশ হবে সীমিত পরিসরে। আগামী ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) সংসদে বাজেট পেশ করা হবে। এ উপলক্ষে বাজেট পেশের আগে বরাবরের মতো সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য দুপুর ১২টায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য সংসদের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর সাধারণ ছুটির মধ্যেই কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ ১০ জন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ১০ জন সচিব ও সিনিয়র সচিব উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বৈঠককালে সহায়তা প্রদানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিসভা-বৈঠক সংশ্লিষ্ট চারজন, অর্থ বিভাগের দু-তিনজন এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ২৩ জন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকটি সুষ্ঠুভাবে শেষ করার জন্য সংসদ ভবনে অবস্থিত মন্ত্রিসভাকক্ষে আসবাবপত্র, বিদ্যুৎব্যবস্থা, মাইক্রোফোন, পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন সরঞ্জাম এবং আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার জন্য চিঠিতে বলা হয়েছে। সংসদের একটি সূত্র জানায়, এই বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছাড়াও স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী থাকতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া  বলেন, ‘করোনার কারণে এবারের বাজেট অধিবেশন হবে স্বল্প পরিসরে। তাই মন্ত্রিসভার বৈঠকও হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে। এ ছাড়া সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সভায় উপস্থিত থাকতে হবে। সংসদে প্রবেশের আগে সবার তাপমাত্রা মাপা হবে। থাকবে স্যানিটাইজারও।’ জানা গেছে, আসন্ন (২০২০-২১) অর্থবছরের বাজেটের মূল আকার দাঁড়াতে পারে সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার খসড়া প্রস্তাব ইতোমধ্যেই অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা কমিশন, যা চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের এডিপির তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। উন্নয়ন বরাদ্দের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থ থেকে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরায় দাঁড় করানোর কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোয়।

দৌলতপুরে ভন্ড ফকিরের আস্তানা ভাঙ্গা নিয়ে ফের উত্তেজনা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভন্ড ফকিরের আস্তানা ভাঙ্গা নিয়ে এলাকায় আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ফিলিপনগর গোলাবাড়ি এলাকাবাসী ও ভন্ড ফকিরের আস্তানার মাদক সেবীদের মধ্যে আস্তানা ভাঙ্গা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকায় আল আমিন নামে এক ভন্ড ফকির আস্তানা গড়ে তুলে। সেখানে নিয়মিত মাদক সেবনের আসর বসলে এলাকার উঠতি বয়সীরাসহ বিভিন্ন বয়সীরা যাতায়াত শুরু করে। ফলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হতে থাকে। ভন্ড ফকিরের আস্তানার মাদক সেবনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ হলে দৌলতপুর থানা পুলিশ গত শুক্রবার সকালে ভন্ড ফকিরের আস্তানা ভেঙ্গে দেয় এবং তাড়িয়ে দেয় ভন্ড ফকিরকে। এতকরে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়ে। পরে আস্তানার সাথে জড়িত মামুন, বাবু, ও জামিরুলসহ ১৫-১৬জন পরিকল্পিতভাবে শনিবার বিকেলে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে ভন্ড ফকির আল আমিনকে এলাকায় নিয়ে আবারও আস্তানা গাড়ার চেষ্টা করে। এসময় এলাকাবাসী আস্তানা গাড়ার প্রতিবাদ করলে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আস্তানার সাথে জড়িতরা পালিয়ে যায়। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ভেঙ্গে দেওয়া আস্তানা নতুন করে কেউ গড়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষনা দিলে এলাকার উত্তেজনাকর পরিবেশ স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ফকিরের আস্তানা নিয়ে এলাকাবাসী ও আস্তানার সাথে জড়িতদের মধ্যে তর্কতর্কি হলে আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। বর্তমানে সেখানকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।