ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়াল

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজার ১০৩ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে আরও ১০৬ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশটিতে করোনায় মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৬৪৯ জনে। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৭ হাজার ৯৭৭ জন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ভারতে তৃতীয় দফার লকডাউন চলছে। আগামী ১৭ মে এই দফার মেয়াদ শেষ হবে। দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে এবং সেই সঙ্গে করোনায় সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ইতোমধ্যে বেশকিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কেন্দ্রের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যও নানা পদক্ষেপ করছে। ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্র। করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা মহারাষ্ট্রে বেশি। দেশটিতে মোট করোনা আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশই মহারাষ্ট্রের। স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ে তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ৫২৪ জনেরও বেশি। মৃত্যুর দিক থেকেও দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে মহারাষ্ট্র। সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা ১০১৯। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৫৯ জন। করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। এ রাজ্যে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৬৭৪ জন। এর পরই রয়েছে গুজরাট। এ রাজ্যে মোট আক্রান্ত ৯৫৯১ জন। মৃত্যুর দিক থেকেও মহারাষ্ট্রের পর গুজরাট। এ রাজ্যে ৫৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুজরাটের পর রয়েছে দিল্লি। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার। আক্রান্তের দিক থেকে এরপর রয়েছে রাজস্থান ৪৫৩৪, মধ্যপ্রদেশে ৪৪২৬, উত্তরপ্রদেশে ৩৯০২ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ২২০৫। করোনার সংক্রমণ হাজার ছুঁতে চলেছে এমন রাজ্যের মধ্যে রয়েছে বিহার। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৯৪। এ ছাড়া কর্নাটকে ৯৮৭ ও জম্মু-কাশ্মীর ৯৮৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৭৭ জনেরও বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমিত হয়েছেন ৮৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ২১৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৭৬৮ জন। যদিও রাজ্য সরকারের হিসাব বলছে, করোনায় ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকার মানুষ বাঁচানোর কোনও কাজ করেনি – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘সরকার মানুষ বাঁচানোর কোনও কাজ করেনি। তথাকথিত উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পকেট ভারী করার কাজ করেছে। ক্যাসিনো দিয়ে এই টাকাকে বিদেশে পাচার করার ব্যবস্থা করেছে।‘ গতকাল শুক্রবার সকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলীতে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জনগণকে সহায়তা করার জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা এগিয়ে যাবে, সেখানেও সরকার বাধা দিচ্ছে। অর্থাৎ গরিব মানুষ, নিরন্ন মানুষ, ক্ষুধার্ত মানুষ বেঁচে থাক এটা সরকার চায় না। চায় না বলেই তাদের নিপীড়ন-নির্যাতন এই ভয়ংকর মহামারির মধ্যেও অব্যাহত রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ৭০/৭৫ ভাগ হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। মানুষ কীভাবে বাঁচবে? রোগীদের বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করেনি। উন্নতমানের স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় করেনি। যার মাধ্যমে প্রকৃত উন্নয়ন হবে সেটা করেনি। ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করে এখন মানুষ মরুক বা বাঁচুক তাতে সরকারের কোনও দায়িত্ব নেই। সরকার চাচ্ছে, যে বাঁচে বাঁচলো, যে মরে মরলো। তারা তো ঠিক আছে, তাদের নেতাকর্মীরাতো খেয়ে পরে ঠিক আছে।’ ত্রাণ বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস ধীরন, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম কানন, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেন মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল প্রমুখ।

 

১৩ দিনে ঢামেকের করোনা ইউনিটে ১৪৪ মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ গত ২ মে থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত বার্ন ইউনিটে ১৪৪ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল শুক্রবার ঢামেক হাসপাতাল মর্গের ওয়ার্ডমাস্টার আবদুল গফুর এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ১৩ দিনে করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ১৪৪ জন মারা গেছেন। জানা গেছে, গত ২ মে থেকে বার্ন ইউনিটে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভর্তি শুরু হয়। এরপর থেকেই সেখানে প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সে অনুযায়ী ১৫ মে পর্যন্ত মোট ১৪৪ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২৪ জন রোগী হচ্ছে করোনা পজিটিভ। ঢামেকের করোনা ইউনিটের ইনচার্জ দীপু জানান, বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন ২১০ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ১০ জন। ৯০ জন রোগী কোভিড-১৯ পজিটিভ। গত ২ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত রোগী ভর্তি হয়েছিল প্রায় এক হাজার ২৩৯ এর উপরে। অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে গেছেন। আবার অনেকেই কিছু না বলে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালে যেকোনো রোগী আসলেই সবাই করোনা ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের আগে আমাদের হাসপাতালে নরমালি প্রতিদিনই মৃত্যু হতো ২৫ থেকে ৩০ জনের। সেই হিসাবে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম।’ পরিচালক আরও বলেন, ‘ঢামেকের নতুন ভবন প্রস্তুত করে ফেলেছি। আজ শনিবার থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রায় ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ কোভিড-১৯ রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে পারবেন। ঢামেকের করোনা ইউনিটে-২ এর জন্য চিকিৎসক নার্স সবারই রোস্টার করা হয়েছে। ওয়ার্ডবয়রা প্রস্তুত। এ ছাড়া নতুন চিকিৎসকও আমরা পেয়েছি ১৯২ জন। নতুন নার্স পেয়েছি প্রায় ৫০০ জন। ডাক্তার, নার্স এবং ওয়ার্ডবয়- এখন আমাদের কোনো সংকট নেই।’ জানা যায়, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য প্রথম সরকার নির্ধারিত চিকিৎসা কেন্দ্র রাজধানী ঢাকার উত্তরার কুয়েত-মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল। পরবর্তী সময়ে কুর্মিটোলা, মহানগর জেনারেল হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। দেশের বড় হাসপাতালগুলোর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ২৯৮ জন মারা গেলেন। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ২০২ জন, যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬৫ জনে।

চিরনিদ্রায় শায়িত অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে শায়িত হলেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে বাবার কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি। তার ছেলে আনন্দ জামান জানান, আল মারকাজুল ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবীরা গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সিএমএইচ থেকে তার বাবার মৃতদেহ গ্রহণ করেন। পরে কোভিড-১৯ নীতিমালা অনুযায়ী সেখানেই গোসল-কাফনের ব্যবস্থা হয়। জানাজা শেষে সাড়ে ১০টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে বাবাকে সমাহিত করা হয়। দাফনের আগে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার কভিড-১৯ টেস্ট করে জানায়, তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। করোনার দহন দিনে টালমাটাল দেশ ও বিশ্ব বাস্তবতায় সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই ব্যক্তিত্বের নির্মম অনন্তযাত্রায় দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সব পর্যায়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ বিশিষ্টজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তে তার প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শোক প্রতিক্রিয়ায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ২৭ এপ্রিল হৃদরোগ সমস্যার পাশাপাশি কিডনি ও ফুসফুসে জটিলতা, পারকিনসন্স ডিজিজ এবং প্রোস্টেট ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যা নিয়ে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে রাজধানীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিফ কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক খন্দকার কামরুল ইসলামের অধীনে করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ৯ মে শনিবার তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৮৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এ ছাড়া জীবনজুড়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও পেয়েছেন অলক্ত পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার। এ ছাড়া রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৩ ও ২০১৭ সালে দু’বার আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃক প্রদত্ত আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা

ঢাকা অফিস ॥ দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে ওই এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তারা বলছে, গতকালই এটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নচাপটি গতকাল দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। নিম্নচাপের কেন্দ্রে ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটে সাগর উত্তাল রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এপ্রিলের শেষে ও মে মাসের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া অধিদফতর। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী আম্ফানের আবির্ভাব ও প্রভাব পড়েনি। তবে সেটিই এখন নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, এটি আজকে (গতকাল) নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নাম হবে আম্ফান। তবে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আগে বেশকিছু স্তর রয়েছে। লঘুচাপ, সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ, তারপরের রূপটি হলো ঘূর্ণিঝড়। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি। এটা সাগরে আছে। যদি ঘূর্ণিঝড় হয়, উপকূলীয় এলাকার দিকে আসে, তাহলে এটার প্রভাব পড়তে পারে। আর যদি ভারতের দিকে চলে যায়, তাহলে আমাদের এখানে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। এখনও ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়নি।’ এ দিকে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

করোনা সংক্রমন ঠেঁকাতে মার্কেট/শপিংমলগুলোতে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যদের ততপরতা অব্যাহত

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক দেশের প্রতিটি জেলায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে জনস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে চালুকৃত দোকানগুলোতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি  মেনে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কিনা তা তদারকিসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠে তৎপর রয়েছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা।  ইতোমধ্যে যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে চালুকৃত মার্কেটগুলোতে যশোর সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক লিফলেট লাগানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও বৃহত্তর যশোর অঞ্চলকে করোনামুক্ত করার লক্ষ্যে যশোর সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা এবং গোপালগঞ্জে জীবানুনাশক টানেল স্থাপন সম্পন্নকরণসহ করোনা প্রতিরোধে নানাবিধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেনা সদস্যরা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মেডিকেল টিম কর্তৃক অসহায় মানুষদের ফ্রী চিকিৎসা  সেবা এবং ঔষধ বিতরণের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ ছাড়াও গণপরিবহন চলাচল, ত্রাণ বিতরণ, অসহায় কৃষকদের ক্ষেত  থেকে সবজি ক্রয় এবং দুস্থ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শস্য/সবজি বীজ বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী আবদুল হালিম বাবুল (৫৫) স্ট্রোক করে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। বাবুলের ভাই সালাম বাহাদুর জানান, কয়েকদিন আগে বাবুল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা বলেন তার মস্তিস্কে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। সে অবস্থায় হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে রেখে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। তাকে কয়েদি আসামিদের কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ায় তার নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত পুলিশ ফোর্স থাকত। তাই তাকে সাধারণ সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি পুলিশি নিরাপত্তার কারণে তাকে প্রাইভেট হাসপাতালেও ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। গত বুধবার তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। সালাম বাহাদুরের অভিযোগ, বাবুলের সুচিকিৎসার জন্য জরুরিসেবা পেতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলে তিনি যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাননি। তাই সুচিকিৎসার অভাবে তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিলো না। পুলিশ প্রহরার কারণে তার সাধারণ জীবনযাপন ব্যাহত হয়েছে। এমনকি এই নিরাপত্তার কারণে তার উন্নত চিকিৎসাও করাতে পারি নাই।

আন্তর্জাতিক আইন-কানুনের তোয়াক্কা করে না ভারত – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে ভারত একতরফা নিজেদের অনুকূলে পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ বাস্তবায়িত হলে এবং তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পেলে বাংলাদেশকে আরেক প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সারা বাংলাদেশ একসময়ে নিষ্ফলা উশর ভূমি হয়ে উঠবে বলে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই অভিমত প্রকাশ করেছেন।’ ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেয়া বাণীতে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘১৬ মে ‘ফারাক্কা দিবস’ আমাদের জাতীয় আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজ থেকে ৪১ বছর আগে আফ্রো, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার অবিসংবাদিত মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে সারা দেশ থেকে লাখো জনতা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের সংগ্রামে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিলে অংশ নেয়। ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার শুরু করা হয়। যার ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল আজ প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ঐ এলাকায় পানিতে আর্সেনিকসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত মানকে বিবেচনা না করে এবং প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ভারতকে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়, কিন্তু ভারত সেই সুযোগ নিয়ে অব্যাহতভাবে আজ পর্যন্ত তা চালু রেখেছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে নির্লজ্জভাবে তা মেনে নিয়েছে, ফলে বাংলাদেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়।’ তিনি বলেন, ‘এই বঞ্চনা ও দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্দশার আশঙ্কায় প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করে ভারত সরকারের নিকট প্রতিবাদ করেন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিকট বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন থেকে ব্যাপক মানববিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফারাক্কা বাঁধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচিত হতে থাকে।’

 

করোনায় মৃত্যু নিয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য লুকোচুরির কাল্পনিক উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। মৃত্যুবরণ করেছে ঢালাওভাবে বলা হচ্ছে সবাই করোনায় মৃত্যু। গতকাল শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ত্রাণ উপকমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসেময় ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন. প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর পরে তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কারও পজিটিভ, আবার কারও নেগেটিভ  আসছে। মৃত্যুর পর যে পরীক্ষা করা হচ্ছে তা দেখেশুনে করা হচ্ছে। অনেকের নানা শারীরিক জটিলতায় স্বাভাবিক মৃত্যও হচ্ছে। এসব মৃত্যু নিয়েও মিথ্যাচার করা হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে টুইস্ট করে গুজব রটোচ্ছেন। অপরাধমূলক কাজে যারা উস্কানি দিচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বাধ্য হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আইনের জাতীয় অপপ্রয়োগ না হয় সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সজাগ রয়েছে। আমি আবারও বলছি, এ ক্ষেত্রে যদি কোথাও কোনো আইনের ব্যত্যয় বা অপপ্রয়োগ ঘটে তাহলে তার সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে জানানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারের ত্রাণ তৎপরতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন. প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এ ছাড়া এক কোটি মানুষের মধ্যে রেশন কার্ড করা হয়েছে। ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে নগদ সহায়তা কর্মসূচি চালু হয়েছে। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে এবং উদ্যোগ ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ওবাদুল কাদের বলেন, করোনা ভাইরাসজনিত কারণে সৃষ্ট সঙ্কটে ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সততা ও দক্ষতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ৭৫ পরবর্তী ইতিহাসে নজিরবিহীন। পরে ধানমন্ডির কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য একেএম রহমতুল্লাহ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রোকেয়া সুলতানা ও উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

রাজধানীতে করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ৮ হাজার ছাড়ালো

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৯৮ জনের মৃত্যু হলো। এ ছাড়া নতুন করে আরো এক হাজার ২০২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২০ হাজার ৬৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আট হাজার ৫৯৩ জনে পৌঁছেছে। যা দেশে মোট করোনা আক্রান্তের ৫৭ দশমিক ৮৯ ভাগ। এ ছাড়া ঢাকা জেলায় এ পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৫২ জন। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৭৫০ জন। যা সারাদেশে মোট আক্রান্তের ৭৯ দশমিক ১৬ ভাগ। গতকাল শুক্রবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আট হাজার ৫৮২ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলো ৯ হাজার ৫৩৯ জনের। এর মধ্য থেকে ১২০২ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নাসিমা সুলতানা বলেন, এ ছাড়া গতকালকে ৪১টি ল্যাব থেকে করেনার পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ২০টি এবং ঢাকার বাহিরে ২১টি। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ সাতজন ও নারী আটজন। এ ছাড়া মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৯০ বছরের উপরে দুজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আটজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন ও ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর পরে গত ১৪ এপ্রিল ৩৮ তম দিনে করোনা রোগীর সংখ্যা এক হাজারে দাঁড়ায়। বর্তমানে গতকাল দেশে ২০ হাজার ৬৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা দেশের মধ্যে গতকাল সর্বাধিক আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এই পর্যন্ত মোট এক লাখ ৬০ হাজার ৫১২ জনের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা ১৩ শত ৮৪ মেঃ টন

আলমডাঙ্গায় সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে লটারি

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা খাদ্যগুদামে সরকারি ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী প্রত্যেক ইউনিয়ের কৃষকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহবান করলে, তাদের দরখাস্ত মোতাবেক লটারির মাধ্যমে ক্রেতা নির্ধারন করার জন্য বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা কৃষি অফিসে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আইয়ুব  হোসেন। তিনি এসময় বলেন- সরকার সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের কাছ  থেকে ধান ক্রয়ের জন্য ঘোষনা দেন। সেই লক্ষে আমরা উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার কৃষকদের কাছ  থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করতে চাই। কিন্ত আমাদের লক্ষ্য মাত্রা ১ হাজার ৩ শত ৮৪ মেঃ টন। মানে প্রত্যেক কৃষক ১  মেঃ টন করে ধান বিক্রি করতে পারবে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় আজ আমরা লটারি মাধ্যমে বিক্রেতা সিলেকশন করে দেব। তারা নির্ধারিত সময়ে খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করবেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান কাদীর গনু, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন, উপজেলা কৃষি অফিসার, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক  ইয়াকুব আলী মাষ্টার, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোফাখাইরুল ইসলাম, গুদাম রক্ষক, মিয়াজান  হোসেন, খাদ্য পরিদর্শক রাবিবুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আফাজ উদ্দিন, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা এনামুল হক, ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ, আবু সাইদ পিন্টু, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদক মতিয়ার রহমান ফারুক, প্রেসক্লাবের সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, সহসভাপতি জামসিদুল হক মুনি, প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা মৎসজীবি লীগের সভাপতি শাহাবুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, সাইফুর রহমান পিন্টুসহ শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

 

ঈদের নতুন পোশাক বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন প্রবাসী জীবন রহমান মহন

আল-মাহাদী ॥ শিশুরা করোনা বোঝে না, ঈদ বোঝে। ঈদের আনন্দ বোঝে। আর ঈদ মানেই নতুন পোশাক। করোনা দূর্যোগে ঘরবন্দী শ্রমজীবি মানুষ কর্মহীন হয়ে যখন মানবেতর জীবন যাপন করছে, তখন শিশুদের নতুন পোশাক দেওয়ার কথা ভাবতেই পারছে না এসব শ্রমজীবি মানুষ। তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদের নতুন পোশাক বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন মালদ্বীপ প্রবাসী জীবন রহমান মহন। গতকাল দুপুরে মোকারিমপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ২২০ টি পরিবারের শিশুদের মাঝে তিনি এই নতুন পোশাক বিতরন করেন। নতুন পোশাক পেয়ে শিশু এবং শিশুর পিতা-মাতাদের মাঝেও হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। মুক্তমনা ফেসবুক এক্টিভেষ্ট হিসেবে পরিচিত জীবন রহমান মহন মালদ্বীপ প্রবাসী। তিনি ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের মরহুম আতিয়ার রহমানের পুত্র। তিনি বিদেশ থাকলেও গোলাপনগর ব্লাড ব্যাংক এবং হ্যালো মোকারিমপুর নামে দুটি সমাজসেবা মুলক সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষদের কল্যানে কাজ করে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ তিনি ২২০টি পরিবারের শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরন করেন। এ কাজে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন হ্যালো মোকারিমপুর এবং ব্লাড ব্যাংকের তরুন সমাজ কর্মীরা। হ্যালো মোকারিমপুর’র সদস্য রুবেল খান ও রওনক ইসলাম জানিয়েছেন, মালদ্বীপ প্রবাসী জীবন রহমান মহন এর আর্থিক সহযোগিতা ও দিক নির্দেশনায় ২২০টি পরিবারের শিশুদের জন্য ঈদের নতুন পোশাক কেনা হয়। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডেই হ্যালো মোকারিমপুরের সদস্যরা রয়েছে। তারা সর্বাধিক অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিতদের তালিকা তৈরী করেছে। সে অনুযায়ী শিশু ছেলে মেয়েদের ঈদের পোশাক হিসেবে নতুন জামা, ফতুয়া, জিন্স প্যান্ট, শার্ট, ফ্রগ ইত্যাদি ক্রয় করে অটোতে করে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এ পোশাক বিতরনে মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। জীবন রহমান মহন শিশুদের নতুন পোশাক বিতরনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, আজ আমার লাইফের শ্রেষ্ঠ আনন্দময় দিন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় ২২০ জন অসহায় ছোট-বড়দের মাঝে ঈদের পোশাক বিতরণ করতে পেরেছি। ঈদের নতুন পোশাক পেয়ে যে হাসি তাদের মুখে দেখেছি সে হাসিতে আমি বিমোহিত। এই হাসির মূল্য কোটি টাকা দিলেও কেন যাবেনা। আজ আমি সত্যিই আনন্দিত।

মেহেরপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম টিপু (৪৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত টিপু গাংনী উপজেলার কুমারীডাঙ্গা গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা ও আমঝুপির মাঠের সড়কে ইট বোঝাই ট্রলির সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে নিহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান টিপু বাড়ি থেকে মোটর সাইকেলযোগে মদনাডাঙ্গা গ্রাম থেকে আমঝুপি বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি ইট বোঝাই ট্রলিকে পাশ  কেটে যেতে গিয়ে ধাক্কা লাগে। ওই ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

করোনাঝড়ে বেসামাল যুক্তরাষ্ট্র, মৃত্যু ৮৭ হাজার ছুঁই ছুঁই

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মাঝখানে তিন দিন মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে আবারও প্রাণহানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা) ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ১,৭৫৪ জনের। তাতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৮৮৪ জন, যা একক দেশ হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ মৃত্যু। নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে অনেক। সাড়ে ২৬ হাজার ছাড়ানো আক্রান্ত নিয়ে মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৩৫০ জন, যা বিশ্বের মোট আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৪ জন। এদিকে কোভিড-১৯ এ প্রাণহানি ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান রাখা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াল্ডওমিটারের তথ্যে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৮৬ হাজার ৯১২ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়।আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯৩ জন।করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ২৭ জন।গুরুত্র অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসাধীন ৪ লাখ ৪ হাজার ৯৩৯ জন। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বে করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যু ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। আর আক্রান্ত ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ছুঁই ছুঁই। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের ২১৩ টি দেশ ও অঞ্চলে বিস্তার ঘটা এই ভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

রমজানে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় ইতেকাফ

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রহমত, মাগফিরাত ও মুক্তির সুমহান বার্তা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মাঝে মাহে রমজান আসে প্রতি বছর।  প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর জন্যই পবিত্র রমজানের পুরো মাস সিয়াম পালন করা ফরয। মাহে রমজানের মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে কদর রাত প্রাপ্তির সুনিশ্চিত প্রত্যাশায় সর্বোপরি মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভের জন্য রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফকে সুন্নাত করা হয়েছে। ইতিকাফ অর্থ : ইতিকাফ আরবি ‘আক্ফ’ মূল ধাতু  থেকে গঠিত একটি শব্দ। আক্ফ শব্দের অর্থ হলো অবস্থান করা। যেমন আল্লাহর বাণী ‘ওয়া আনতুম আ’কিফুনা ফিল মাসজিদি’ আর তোমরা সালাতের নির্দিষ্ট স্থানসমূহে অবস্থানরতÑ (সূরা বাকারা : ১৮৭)। আভিধানিকভাবে  কোনো বস্তুকে বাধ্যতামূলক ধারণ করা কিংবা কোনো বস্তুর ওপর নিজেকে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখার নাম ইতিকাফ। আল্লামা শামী র: স্ত্রী লোকদের জন্য নিজ নিজ ঘরে সালাতের নির্ধারিত স্থানে অবস্থানকে ইতিকাফ বলে অভিহিত করেছেন। শরিয়তের পরিভাষায় যেই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাআত সহকারে নিয়মিত আদায় করা হয় এমন মসজিদে মহান আল্লাহর ইবাদাতের উদ্দেশ্যে নিয়াত সহকারে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। মহানবী সা: নিজে ইতিকাফ করেছেন এবং ইতিকাফ করার জন্য সাহাবাদেরকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মসজিদ মুত্তাকিদের ঘর। যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করবে আল্লাহ তার প্রতি শান্তি ও রহমত নাজিল করবেন এবং পুলসিরাত পার-পূর্বক  বেহেশতে পৌঁছাবার জিম্মাদার হবেন।’

ইতিকাফের  প্রকরণঃ

সুন্নাত ইতিকাফÑ রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ। অর্থাৎ ২০ রমজানের সূর্য ডোবার  পুর্ব মুহূর্ত থেকে শাওয়াল মাসের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত মসজিদে ইতিকাফ করা। এ ধরনের ইতিকাফকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া বলা হয়। গ্রাম বা মহল্লাবাসীর পক্ষে কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তি এই ইতিকাফ করলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে। ওয়াজিব ইতিকাফÑ নজর বা মানতের ইতিকাফ ওয়াজিব।  যেমন কেউ বলল যে, আমার অমুক কাজ সমাধা হলে আমি এতদিন ইতিকাফ করবÑ অথবা কোনো কাজের শর্ত উল্লেখ না করেই বলল, আমি এত দিন অবশ্যই ইতিকাফ করব। যতদিন শর্ত করা হবে তত দিন ইতিকাফ করা ওয়াজিব। ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। কোনো সুন্নাত ইতিকাফ ভঙ্গ করলে তা পালন করা ওয়াজিব হয়ে যায়। নফল ইতিকাফÑ সাধারণভাবে যেকোনো সময় ইতিকাফ করা নফল। এর কোনো দিন কিংবা সময়ের পরিমাপ নেই। অল্প সময়ের জন্যও ইতিকাফ করা যেতে পারে। এ জন্য মসজিদে প্রবেশের আগে ইতিকাফের নিয়ত করে প্রবেশ করা ভালো। ইতিকাফের উদ্দেশ্য : রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির মাধ্যমে মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভ। ইতিকাফের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম র: বলেছেন, ‘আল্লাহর প্রতি মন নিবিষ্ট করা, তাঁর সাথে নির্জনে বাস করা এবং স্রষ্টার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি থেকে দূরে অবস্থান করা যাতে করে তার চিন্তা ও ভালোবাসা মনে স্থান করে নিতে পারে।’ আল্লামা হাফেজ ইবনে রজব র: বলেছেন, ‘ইতিকাফের উদ্দেশ্য হল সৃষ্টির সাথে সাময়িকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক কায়েম করা। আল্লাহর সাথে পরিচয় যত দৃঢ় হবে, সম্পর্ক ও ভালোবাসা ততো গভীর হবে এবং তা বান্দাকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে নিয়ে যাবে।’ ইতিকাফের ফজিলত : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, মহানবী সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে একদিন ইতিকাফ করে, আল্লাহ সেই ব্যক্তি ও দোজখের মধ্যে ৩ খন্দক পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করেন।’ (তাবরানি ও হাকেম) প্রত্যেক খন্দক পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের চেয়ে আরো বহু দূর। আলী বিন হোসাইন রা: নিজ পিতা থেকে বর্ণনা করেন, মহানবী সা: বলেছেন, ‘ যে ব্যক্তি রমজানে ১০ দিন ইতিকাফ করে, তা দুই হজ্জ ও দুই ওমরার সমান’ (বায়হাকী)। ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, মহানবী সা: বলেছেন, ‘ইতিকাফকারী গোনাহ থেকে বিরত থাকে। তাকে সকল নেক কাজের কর্মী বিবেচনা করে বহু সওয়াব দেয়া হবে’ (ইবনে মাজাহ)। ইতিকাফের শর্ত : ১.মুসলমান হওয়া ২. পাগল না হওয়া ৩. বালেগ হওয়া ৪. নিয়ত করা ৫. ফরজ গোসলসহ হায়েজ নেফাস থেকে পবিত্র হওয়া ৬. মসজিদে ইতিকাফ করা (ইমাম মালেক র:-এর মতে জামে মসজিদে ইতিকাফ করা উত্তম। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল র:-এর মতে, যে মসজিদে জামাআত সহকারে নামাজ হয় না, সে মসজিদে ইতিকাফ জায়েজ  নেই।) ৭. রোজা রাখা। মহিলাদের ইতিকাফ : ঘরের যে অংশে সাধারণত নামাজ পড়া হয় সেই রকম কোনো অংশকে ইতিকাফের জন্য নির্দিষ্ট করে দশ দিন কিংবা কম সময়ের জন্য ইতিকাফের নিয়ত করে সেই জায়গায় বসে ইবাদাত বন্দেগি শুরু করবেন। শরীয় কোনো ওজর ছাড়া সেখান  থেকে উঠে অন্যত্র না যাওয়া। (রাতে সেখানেই ঘুমাবেন)। ইতিকাফ অবস্থায় যদি মহিলাদের মাসিক শুরু হয়ে যায় তাহলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে ইতিকাফ করার মাধ্যমে তাঁর একান্ত সান্নিধ্য লাভের সুযোগ করে দিন। এই প্রত্যাশাই করছি।

হরিপুরে সাড়ে ৫শ মানুষকে ‘ফ্রি বাজার’ দিলেন প্রকৌশলী টুটুল

নিজ সংবাদ ॥ এলাকার কর্মহীন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে আবারও ‘ফ্রি বাজার’ দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুল। গতকাল শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে সাড়ে ৫শ মানুষকে ‘ফ্রি বাজার’ দেওয়া হয়। কর্মহীন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে  চাল, ডাল, আটা, তেল, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্য ও প্রায় ১৫-২০ পদের সবজি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল বলেন- করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে গৃহে আবদ্ধ অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ মুদি দোকান দিয়ে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তিনি জানান- হজ্বের জন্য জমানো টাকা  থেকে এ মানবসেবা শুরু করেছি। এ কাজে তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছে তারই হাতে গড়া সংগঠন ‘গ্রীন চাইল্ড’র ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী। সাধারণ মানুষকে বিগত একমাস ধরে নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ পর্যন্ত সাত হাজারের অধিক মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তিনি। তিনি আরোও জানান, আজ সকালে সাড়ে ৫শ  মানুষের মাঝে এসব ব্যাগ ভর্তি করে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আমার এলাকার মানুষের কষ্ট  দেখে তাদের কষ্ট কিছুটা কমানোর জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছি। ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা আলিমুজ্জামান টুটুলের। পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধ্যমতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

 

 পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর

দৌলতপুরে ভন্ড ফকিরের আস্তানা ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিশ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভন্ড ফকিরের আস্তানা ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় ‘দৌলতপুরে ভন্ড ফকিরের আস্তানায় মাদক সেবীদের অবাঁধ বিচরণ : বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে গতকাল শুক্রবার সকালে দৌলতপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফকিরের আস্তানা ভেঙ্গে দেয়। এসময় আল আমিন নামে ওই ভন্ড ফকিরকে আস্তানা থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে ভন্ড ফকিরের আস্তানা ভেঙ্গে দেওয়ায় ওই এলাকার মুসল্লি ও সাধারণ জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। এলাকাবাসী জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানের নির্দেশে দৌলতপুর থানা পুলিশ ফিলিপনগর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় ঘেষে গড়ে ওঠা ফকিরের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তা ভেঙ্গে দেয় এবং আস্তানার ভন্ড ফকিরকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ পেয়ে ভন্ড ফকির এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। উল্লেখ্য দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় ঘেষে হঠাৎ করেই কথিত এক ভন্ড ফকিরের আর্বিভাব হয়। রাতারাতি গড়ে তোলা হয় আস্তানা। সেখানে পিপড়ের লাইনের মত ভন্ড ভক্তদের সারি পড়ে যায়। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে সামাজিক দূরত্ব বজায় ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার সরকারী নির্দেশনা জারি করা হলেও ওই ফকিরের আস্তনায় এ বিধি নিষেধের কোনটিই মানা হচ্ছিলনা। সবসময়ই সেখানে মাস্কবিহীন নেশাখোর ভক্তদের পদচারনা চলছিল, সেখানে নিয়মিত বসানো হচ্ছিল গাঁজা সেবনের আসর। পবিত্র রমজান মাসে ভন্ড ফকিরের আস্তানায় অপবিত্র ও অশ্লীল কর্মকান্ড চলার কারনে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এরই সূত্র ধরে ভন্ড ফকিরের আস্তানার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশ আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তা ভেঙ্গে দেয়।

আজ ঢাকা দক্ষিণের দায়িত্ব নিচ্ছেন তাপস

ঢাকা অফিস ॥ আজ শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। গতকাল শুক্রবার ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার এ তথ্য জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে গত ১ ফেব্র“য়ারি ডিএসসিসি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে পরাজিত করেন মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে তিনি ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ডিএসসিসি নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এদিকে গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আতিকুল ইসলাম।

এবার শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত হবে না

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের ১৯৩তম ঈদ-উল-ফিতরের জামাত হচ্ছে না। ২০১৬ সালে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পরও ঈদের প্রতিটি জামাতে ছিল লাখো মুসল্লির সমাগম।  গতকাল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী। কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মিটিয়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছে উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত করা যাবে না। ১৮৪ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঈদের জামাত খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। তাই একই মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, শোলাকিয়ায় লাখো মুসল্লির সমাগম হয় বিধায় তাদের শারীরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবারের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। যেহেতু ঈদ-উল-ফিতরের জামাত তাই সকাল ৮টা থেকে এক ঘণ্টা পরপর একাধিক জামাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া মসজিদে জামাতের ক্ষেত্রেও কয়েকটি শর্ত রয়েছে। মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না, নামাজের জায়গা পরিষ্কার করে দিতে হবে। নামাজের সার্বিক বিষয় নিয়ে ঈদের কয়েকদিন আগে আলেমা ও মুসল্লিদের নিয়ে একটা মিটিংও করা হবে। প্রসঙ্গত, জনশ্রতি আছে ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এই মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

 

বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ছাড়ালো

ঢাকা অফিস ॥ করোনা সংক্রমণ শুরুর প্রায় সাড়ে চার মাসের মাথায় বিশ্বজুড়ে প্রায় তিন লাখ দুই হাজার আটশ ৮৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪৫ লাখ ১৬ হাজার তিনশ ৮৫ জন। শুক্রবার আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারস থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বিশ্বে করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ লাখ ১৬ হাজার তিনশ ৮৫ জন। এতে সংক্রমিত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩ লাখ দুই হাজার আটশ ৮৮ জন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনা ভাইরাস সম্ভবত কখনোই পুরোপুরি নির্মূল হবে না; একে সঙ্গে নিয়েই বেঁচে থাকা শিখতে হবে মানবজাতিকে। অবশ্য একটি স্বস্তির খবর দিয়েছে ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইউএমএ)।  সংস্থাটি বলেছে, আগামী এক বছরের মধ্যেই করোনা ভাইরাসের কয়েকটি টিকা (ভ্যাকসিন) হাতে চলে আসবে। এদিকে করোনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ‘রাজনীতি’ অব্যাহত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অভিযোগ তুলেছেন, করোনার টিকা তৈরির মার্কিন গবেষণাপত্র চুরির চেষ্টা করছে চীনের হ্যাকাররা। যদিও বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। করোনা সংক্রমণে বিশ্বের প্রায় তিন লাখ দুই হাজার আটশ ৮৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪৫ লাখ ১৬ হাজার তিনশ ৮৫ জন। দেশ হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অঞ্চল হিসাবে সবচেয়ে মৃত্যু হয়েছে ইউরোপে। সেখানে করোনায় প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর আছে উত্তর আমেরিকা। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৯৫ হাজার ৭৭০। এশিয়ায় মারা গেছে ২৩ হাজার ৪০৯ জনের। দক্ষিণ আমেরিকায় এই সংখ্যা ১৯ হাজার ১২১। আফ্রিকায় মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৫০৮ জনের। ওশেনিয়া অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে কম, ১১৯। গত দুই মাসের মধ্যে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে কম ছিল ১৫ মার্চ, ৬৯১ জন। সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ১৭ এপ্রিল, আট হাজার ৪২৯। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ১৭ হাজার আটশ ২২ জন। আর মারা গেছেন ২৬৯ জন।  গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে ভাইরাসটি বৈশ্বরি মহামারি আকারে বিশ্বের ১৯৬ দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

ভেড়ামারায় ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে দুস্থ্যদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস মহামারীতে দুস্থ্যদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া বাজারে এলাকার দুস্থ্য পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতাকালীন প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ধরমপুর ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি শামসুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু মোহাম্মদ সাঈদ চপল, ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নবাব, ইউপি যুুবলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ ও আওয়ামীলীগ নেতা মশিউর রহমান ঝন্টু। পরে সেখানে দুস্থ্যদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন প্রফেসর ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ ও ডাঃ জাহিদুল আলম খান।